Skip to content
উমরার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও বিধান

উমরার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও বিধান

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজগতের রব, আর আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর: এটি ওমরার বিবরণ, বিধান ও আদব সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। আমরা ওমরাকারীর জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ বিষয় এখানে পেশ করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি এটিকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য খালিস করে দিন এবং এর মাধ্যমে সমগ্র মুসলিমদের উপকৃত করুন।

Language: lang_bn
Prepared by: বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষয়বস্তুর সেবা সংস্থার একাডেমিক কমিটি
Version: 3.0

উমরার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও বিধান

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি বিশ্বজগতের রব, আর আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

এটি ওমরার বিবরণ, বিধান ও আদব সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা। আমরা ওমরাকারীর জন্য প্রয়োজনীয় অধিকাংশ বিষয় এখানে পেশ করার চেষ্টা করেছি।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি এটিকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য খালিস করে দিন এবং এর মাধ্যমে সমগ্র মুসলিমদের উপকৃত করুন।

বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষয়বস্তুর সেবা সংস্থার একাডেমিক কমিটি

ভূমিকা

প্রথমত: ইবাদাত কবুলের শর্তসমূহ:

দুটি শর্ত ব্যতীত ইবাদাত আল্লাহ তা‘আলার কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না:

ইখলাস, অর্থাৎ ইবাদাত দ্বারা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকাল উদ্দেশ্য করা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।”[১] [আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫] অর্থাৎ, আল্লাহর অভিমূখী হয়ে ও তাঁর ইবাদতে নিবেদিত থেকে এবং অন্য সব কিছু থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখে। (তাফসীরে সা’দী, পৃষ্ঠা: ৫৩৮)।

আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক মানুষের জন্য তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল রয়েছে।” [২] সহীহ বুখারী, হাদীস (১); সহীস মুসলিম, হাদীস (১৯০৭)।

ইবাদাত পালনে কথা ও কর্মে নবীর অনুসরণ করা। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনে নতুন কিছু আবিষ্কার করল যা তাতে নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।” সহীহ মুসলিমের অপর বর্ণনায় রয়েছে: “যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করলো যাতে আমাদের নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।” [৩] সহীহ বুখারী, হাদীস (২৬৯৭); সহীহ মুসলিম, হাদীস (১৭১৮)। [৪] সহীহ মুসলিম, হাদীস (১৭১৮)।

***

দ্বিতীয়ত: ওমরার পদ্ধতি ও এর বিধান শেখার হুকুম

যে ব্যক্তি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে চায়, তার উচিত সে ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনা শেখা; যাতে তার আমল সুন্নাহ অনুসারে হয়। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে তার অনুসরণ করার এবং তার নির্দেশনা দ্বারা পরিচালিত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করতেন। মালিক ইবন হুওয়াইরিস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় কর” [৫] সহীহ বুখারী, হাদীস (৬০০৮)

জাবির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি কুরবানীর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় পাথর নিক্ষেপ করতে দেখেছি এবং তিনি বলছিলেন: “আমার নিকট থেকে তোমরা হজের নিয়ম-কানুন শিখে নাও। কারণ আমি জানি না- হয়তো এ হজের পর আমি আর হজ করতে পারব না।” [৬] সহীহ মুসলিম, হাদীস [১২৯৭]।

***

তৃতীয়ত: উমরার ফজিলত

উমরার দু’টি ফজিলত রয়েছে: সাধারণ ও বিশেষ ফজিলত।

সাধারণ ফজিলত:

আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “এক উমরা অপর উমরার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারাহ। আর মাবরুর হজের জন্য জান্নাত ছাড়া কোনো প্রতিদান নেই”। [৭] সহীহ বুখারী, (১৭৭৩); সহীহ মুসলিম, হাদীস (১৩৪৯)।

আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা হজ ও উমরা একটির পর অপরটি করতে থাক। কেননা, এ দু’টি দারিদ্র্য ও গুনাহ দূর করে দেয়, যেমন কামারের হাপর লোহা, সোনা ও রূপার ময়লা দূর করে দেয়। আর মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া কিছুই নয়”। কামার ও স্বর্ণকারের আগুনের স্থান। আত-তামহীদ, ইবনু আব্দিল বার (১৫/১০২)। [৯] তিরমিযী, হাদীস (৮১০); নাসাঈ, হাদীস (২৬৩১)

বিশেষ ফজিলত হল রমযানে: ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "রমযানে উমরা আদায় করা আমার সাথে হজ আদায়ের সমতুল্য।"[3] অর্থাৎ: এটি আমার সাথে হজের সমতুল্য, যেমনটি অন্য বর্ণনায় এসেছে।

***

উমরার বিবরণ

প্রথমত: মীকাতের বিধানসমূহ:

"মীকাত" বলতে সেই স্থানগুলো বোঝায়, যেগুলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্ধারণ করেছেন যাতে হজ বা উমরা করতে ইচ্ছুক ব্যক্তি সেখান থেকে ইহরামের নিয়ত করতে পারেন।

কাজেই যে ব্যক্তি এসব স্থানের যেকোনো একটি দিয়ে হজ বা উমরা করার নিয়তে গমন করে, তার জন্য সেখান থেকে ইহরামের নিয়ত করা ওয়াজিব এবং ইহরাম ছাড়া ঐ স্থান অতিক্রম তার জন্য জায়েয নয়।

আর যে ব্যক্তি এসব মীকাতের চেয়ে মক্কার নিকটবর্তী স্থানে থাকে: তার মীকাত হল তার অবস্থানস্থল। কাজেই সে সেখান থেকে হজ ও উমরার জন্য ইহরামের নিয়ত করবে।

মক্কাবাসী এবং যারা সেখান থেকে ইহরামের নিয়ত করে: তারা হজের জন্য মক্কা থেকে ইহরামের নিয়ত করবেন। আর উমরার জন্য হিল-এ (হারামের বাইরে) বের হবেন এবং সেখান থেকে ইহরামের নিয়ত করবেন, যেমন তান'ঈম প্রভৃতি।

আর যিনি বিমানে রয়েছেন, তিনি মীকাতের বরাবর হলে ইহরামের নিয়ত করবেন। তিনি প্রস্তুত হবেন এবং মীকাতের বরাবর হওয়ার আগেই ইহরামের কাপড় পরিধান করবেন। যখন এর বরাবর হবেন তখন ইহরামের নিয়ত করবেন। বিমান বন্দরে অবতরণ করা পর্যন্ত বিলম্ব করা বৈধ হবে না। তবে, বিমান দ্রুত চলায়, সে মীকাতের আগে তালবিয়া উচ্চারণের মাধ্যমে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে, যেন তালবিয়া ছুটে না যায়।

দ্বিতীয়ত: ইহরামের বিবরণ ও বিধানসমূহ:

ইহরামে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য নিম্নের কাজগুলো বৈধ:

গোসল করা, এটি পুরুষ ও নারীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত, এমনকি হায়েজ ও নেফাসগ্রস্ত নারীর জন্যও।

সর্বোত্তম সুগন্ধি ব্যবহার করা, যেমন ঊদ বা অন্য কিছু যা সম্ভব হবে তা দিয়ে মাথায় ও দাড়িতে সুগন্ধি লাগানো। ইহরামের পরে তা অবশিষ্ট থাকলে কোনো সমস্যা নেই। তবে নারীর জন্য সুঘ্রাণযুক্ত সুগন্ধি ব্যবহার করা জায়েয নেই, যাতে অন্য পুরুষরা তা না শুঁকতে পারেন।

ইহরামের পোশাক পরিধান করা, তা হলো একটি লুঙ্গি এবং একটি চাদর। সুন্নত হলো, এগুলো সাদা, পরিষ্কার বা নতুন হওয়া। নারীরা ইচ্ছেমত যে কোনো পোশাক পরতে পারে, তবে সেগুলোতে কোনো সাজসজ্জা থাকা উচিত নয়। তারা নেকাব ও হাতমোজা পরিধান করবে না, তবে অন্য উপায়ে মুখ ও হাত ঢেকে রাখতে পারবে।

যেকোন শরয়ী নামাজের পর ইহরাম বাঁধা, তা ফরয হোক বা নফল, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়।

তারপর সে বলবে: (لبيك اللهم عمرة) “হে আল্লাহ, আমি উমরার জন্য হাজির।” যদি সে অন্য কারো পক্ষ থেকে উমরাকারী হয়, তাহলে বলবে: (لبيك اللهم عمرة عن فلان) “হে আল্লাহ, আমি অমুকের পক্ষ থেকে উমরার জন্য হাজির।”

যদি ইহরামের নিয়তকারী কোনো বাধার কারণে তার হজ বা উমরাহ সম্পূর্ণ না করতে পারার আশঙ্কা করে, তাহলে ইহরামের সময় তার শর্ত করা উচিত হবে এবং সে বলবে: (... وإن حبسني حابس فمحلي حيث حبستني) "হে আল্লাহ, আমি উমরার জন্য হাযির, যদি আমাকে কোনো বাধা আটকায়, তবে যেখানে বাধাপ্রাপ্ত হবো সেখানেই আমার হালাল হওয়ার স্থান হবে”। যখন সে শর্ত করল এবং তার উমরা থেকে নিষেধকারী কোনো বাধা পাওয়া গেল, তখন সে হালাল হয়ে যাবে এবং তার উপর কোনো কিছু নেই।

তারপর বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করে বলবে: «لبيك اللهم لبيك، لبيك لا شريك لك لبيك، إن الحمد والنعمة لك والملك لا شريك لك». অর্থ: “আমি হাযির হে আল্লাহ! আমি হাযির, আমি হাযির; আপনার কোনো অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও নিয়ামত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোনো অংশীদার নেই।”[৪] পুরুষ তার কণ্ঠ উঁচু করবে, তেমনি নারীও; যদি তারা অচেনা পুরুষদের সামনে না থাকে। মুহরিম ব্যক্তির বেশি বেশি তালবিয়া পাঠ করা উচিত, বিশেষত যখন অবস্থার বা সময়ের পরিবর্তন ঘটে, যেমন যখন সে উঁচু জায়গায় উঠে, বা নিচু জায়গায় নামে, অথবা রাত বা দিনের আগমন ঘটে। মানুষের "لبيك" (লাব্বাইক) বলার অর্থ হলো, "হে রব, আমি তোমার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছি," বারবার। এর মানে হলো, মানুষ কর্তৃক তার রবের আহ্বানে সাড়া দেয়া এবং নিজেকে তাঁর আনুগত্যে প্রতিষ্ঠিত করা। "إن الحمد والنعمة لك والملك" (ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক)– এখানে হামদ হলো সেই প্রশংসা, যা প্রশংসিত সত্ত্বাকে পূর্ণতার সাথে ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে করা হয়; যখন এটি বারবার করা হয়, তখন তা (ثناء) স্তুতি হিসেবে গণ্য হয়। আর নেয়ামত হলো আল্লাহ্ যা তার বান্দাদের উপর অনুগ্রহ করেন, যেমন তাদের প্রয়োজন পূর্ণ করা বা অপ্রিয় বিষয় থেকে রক্ষা করা। এবং "الملك" অর্থ হচ্ছে, "রাজত্ব শুধুমাত্র তোমারই"; কেননা আল্লাহই একমাত্র মালিক। এবং "لا شريك لك" অর্থ, "তোমার কোনো অংশীদার নেই," যার মানে হলো, আল্লাহর বিশেষ গুণাবলী, যেমন রাজত্ব, সৃষ্টি, ব্যবস্থাপনা এবং উপাসত্ব—এ সব কিছুতেই তিনি একক। (মাজমূ ফাতাওয়া ওয়া রসায়েল আল-উছাইমিন: ২২/৯৬, সংক্ষেপিত।)

উমরায় ইহরামের নিয়ত করার সময় থেকে তাওয়াফ শুরু হওয়া পর্যন্ত তালবিয়া পড়া বৈধ।

মুহরিম ব্যক্তির ইহরাম থেকে হালাল না হওয়া পর্যন্ত ইহরামে নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকা ওয়াজিব।

তৃতীয়ত: তাওয়াফের বিবরণ

যখন মুহরিম ব্যক্তি মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করবে, তখন তার জন্য সুন্নত হলো প্রথমে ডান পা ভিতরে প্রবেশ করানো এবং মসজিদে প্রবেশের দোয়া পাঠ করা। এ বিষয়ে সবচেয়ে বিশুদ্ধ যে দোয়া এসেছে, তা হলো: (আল্লাহুম্মাফ তাহলী আবওয়াবা রহমাতিক) অর্থ: "হে আল্লাহ, আমার জন্য তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও।" এই দোয়া যে কোনো মসজিদে প্রবেশের সময় বলবে, এটি কেবল মসজিদ আল-হারামের জন্য নির্দিষ্ট নয়।

যখন সে তাওয়াফ শুরু করার ইচ্ছে করবে তখন তালবীয়া বন্ধ করবে এবং ইজতিবা করে নিবে। ইজতিবার বিবরণ হলো, সে তার চাদরের মধ্যভাগটি ডান বগলের ভেতরে আর দুই প্রান্ত বাম কাঁধের উপর রাখবে। তাওয়াফ শেষ হওয়ার পর চাদরটি তার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেবে; কারণ ইজতিবার স্থান শুধু তাওয়াফ।

তারপর হাজরে আসওয়াদের দিকে এগিয়ে গিয়ে ডান হাতে পাথরটি স্পর্শ করবে ও চুম্বন করবে। যদি চুম্বন করা সম্ভব না হয় হাত দিয়ে স্পর্শ করবে এবং তার হাতটি চুম্বন করবে। যদি হাতে স্পর্শ করা সম্ভব না হয়, তবে তার সাথে থাকা যেমন লাঠি ইত্যাদি দিয়ে পাথরটি স্পর্শ করবে এবং তাতে চুম্বন করবে। যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে পাথরের দিকে মুখ করে হাত দিয়েে একবার ইশারা করবে, কিন্তু তা চুম্বন করবে না। সবচেয়ে ভালো হলো, ভীড় বা ঠেলাঠেলি না করা, যাতে সে মানুষকে কষ্ট না দেয় এবং নিজেও তাদের দ্বারা কষ্ট না পায়।

পাথরটি স্পর্শ অথবা তার দিকে ইশারা করার সময় বলবে: "আল্লাহু আকবর"।

তারপর কাবা ঘরকে বাম পাশে রেখে ডান দিকে চলতে থাকবে। যখন রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছবে, চুম্বন করা ছাড়া তা স্পর্শ করবে। যদি তা সম্ভব না হয়, ভিড় করবে না এবং সেদিকে ইশারাও করবে না।

রুকনে ইয়ামেনী ও হাজরে আসওয়াদের মাঝে বলবে: ﴾رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ﴿ অর্থ: “হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন। আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”

যখন হাজরে আসওয়াদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, হাত দিয়ে সে দিকে ইশারা করবে এবং বলবে: "আল্লাহু আকবর"।

আর বাকি তাওয়াফগুলোতে তার পছন্দমত যিকির, দোয়া ও কুরআন পাঠ করতে পারবে।

সুন্নত হলো, প্রথম তিনটি চক্করে রমল (দ্রুত হাঁটা) করা। রমল হলো ঘন পদক্ষেপে দ্রুত হাঁটা। বাকি চার চক্করে রমল নেই, সেখানে তার স্বাভাবিক হাঁটা হাঁটবে।

তাওয়াফ সম্পন্ন করে মাকামে ইবরাহীমের দিকে এগিয়ে যাবে এবং বলবে: অর্থ “তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসাবে গ্রহণ কর”। [আল-বাকারাহ, আয়াত: ১২৫] তারপর সম্ভব হলে তার পিছনে দুই রাকাত সালাত পড়বে, অন্যথায় মসজিদের যেকোনো স্থানে দুই রাকাত সালাত পড়বে। প্রথম রাকাতে ফাতিহার পর পড়বে: অর্থ: “বলুন, হে কাফিররা!" [আল-কাফিরূন, আয়াত: ১] দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পড়বে: "বলুন, ‘তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়।" [আল-ইখলাস, আয়াত: ১]

চতুর্থত: সাঈর বিবরণ

যখন তাওয়াফ এবং তার দুই রাকাত সালাত সম্পন্ন করল, তখন সাঈ করার স্থানে (মাস‘আ) যাবে। আর সাফার নিকটবর্তী হলে বলবে: অর্থ: [নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।] [আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৫৮] তারপর বলবে: “আল্লাহ যেখান থেকে শুরু করেছেন আমিও সেখান থেকে শুরু করব।” “আল্লাহ যেটি দিয়ে শুরু করেছেন আমিও তা দিয়ে শুরু করব।”[১২] [১২] সহীহ মুসলিম, হাদীস (১২১৮)

এরপর সাফার ওপর উঠে কাবার দিকে তাকাবে অথবা তার দিকে মুখ করবে, তারপর আল্লাহর তাওহীদ ও বড়ত্ব ঘোষণা করবে এবং বলবে: (لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد، وهو على كل شيء قدير، لا إله إلا الله وحده، أنجز وعده، ونصر عبده، وهزم الأحزاب وحده) অর্থ: "আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁর এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সকল শত্রুদলকে পরাজিত করেছেন।" এটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করবে এবং এর মাঝে দোয়া করবে। উচ্চারণ: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শরীকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আব্দাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।” অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই দলবদ্ধ শত্রুদের পরাজিত করেছেন।“ এরপর তিনি এর মাঝে দোয়া করতেন। তিনি এরূপ তিনবার পাঠ করেছেন।[১৩]] [১৩] সহীহ মুসলিম, হাদীস (১২১৮)

তারপর সাফা থেকে মারওয়ার দিকে হেঁটে হেঁটে নামবে। যখন সবুজ চিহ্নে পৌঁছাবে দ্রুতগতিতে হাঁটবে। যখন দ্বিতীয় সবুজ চিহ্নে পৌঁছাবে তার স্বাভাবিক হাঁটা হাঁটবে। তবে নারীদের জন্য দ্রুত হাঁটা বিধিসম্মত নয়।

যখন মারওয়ায় পৌঁছবে, তখন সাফায় যা করেছে তা করাই তার জন্য বিধানসম্মত (প্যারা নং২)।

এরপর মারওয়া থেকে সাফার দিকে হেঁটে হেঁটে নামবে। যখন সবুজ চিহ্নে পৌঁছবে সাঈ (দ্রুত হাঁটবে) করবে। যখন দ্বিতীয় সবুজ চিহ্নে পৌঁছাবে তার স্বভাবসূলভ স্বাভাবিক হাঁটা হাঁটবে।

এভাবে সে সাতটি চক্কর সম্পন্ন করবে। সাফা থেকে মারওয়ায় যাওয়া এক চক্কর, আর মারওয়া থেকে সাফায় ফিরে আসা আরেক চক্কর।

সাঈ করার সময় নিজের পছন্দমতো যিকির, দোয়া ও কুরআন পাঠ করবে।

পঞ্চমত: মাথা ন্যাড়া ও চুল ছোট করার বিবরণ:

উমরাকারী যখন তার তাওয়াফ ও সাঈ সম্পূর্ণ করল, তখন তার উপর তার মাথা মুণ্ডন করা অথবা চুল ছোট করা ওয়াজিব, যদি সে পুরুষ হয়। সুন্নত হলো পুরো মাথার চুল মুণ্ডন বা ছোট করা।

তবে মাথা মুণ্ডন করা চুল ছোট করার চেয়ে উত্তম, তবে যদি হজের সময় কাছাকাছি হয় যে, মাথার চুল গাজানোর পর্যাপ্ত সময় নেই, তখন চুল ছোট করার উপর যথেষ্ট করাই হল উত্তম।

আর মহিলা তার চুলের প্রান্ত থেকে এক আঙ্গুল পরিমাণ কেটে নেবে।

ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ

ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো হলো:

শরীরের যেকোনো অংশ থেকে চুল কাটা, ছোট করা বা উপড়ে ফেলা।

দুই পা বা হাতের নখ সম্পূর্ণ বা আংশিক কাটা।

মাথায় লেগে থাকে এমন কিছু দিয়ে মাথা ঢাকা, যেমন: টুপি, গুতরা, পাগড়ি অথবা মাথায় চাদর, রুমাল, কম্বল বা কার্টুন অথবা এমন কিছু রাখা যা মাথা ঢাকার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। এটি পুরুষদের জন্য খাস, নারীদের জন্য নয়।

শরীরের আকার অনুযায়ী সাধারণ পোশাক সাধারণ হালতের মত পরিধান করা; যেমন: সেলাই করা কাপড়, প্যান্ট, শার্ট, মোজা বা হাতমোজা। এটি পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট, নারীদের জন্য নয়; কারণ নারীদের জন্য নিষেধ হলো:

নেকাব, বুরকা বা নেকাবের মতো মুখ ঢাকার কাপড় পরা। আর তার উপর ওয়াজিব হল পরপুরুষের সামনে চেহারা ঢাকার সাধারণ কাপড় দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখা; যদিও সেটি তার চেহারা স্পর্শ করে, তবে তার জন্য তার মাথায় কোনো বাঁধন বা এরকম কিছু পরা বৈধ নয়, যার উদ্দেশ্য হবে মুখ ঢাকার উপকরণটি মুখের সাথে স্পর্শ না করতে দেওয়া; কারণ এর বৈধতার উপর কোনো প্রমাণ নেই।

হাত মোজা পরা; তবে তার জন্য অচেনা পুরুষ ব্যক্তিদের সামনে তার হাত ঢেকে রাখা ওয়াজিব, সাধারণভাবে তার আবায়ার (বোরকা বা চাদর জাতীয় কিছুর) মধ্যে ঢুকিয়ে রেখে।

শরীরে বা ইহরামের কাপড়ে সুগন্ধি লাগানো।

স্থলের শিকার হত্যা করা, অথবা শিকার করা যদিও তা হত্যা না করা হয়।

নিজের জন্য বা অন্যের জন্য বিয়ের প্রস্তাব দেয়া।

বিয়ের আকদ করা।

যৌনাঙ্গের বাইরে সহবাস সম্পর্কিত কাজ, যেমন চুম্বন বা কামনাসহ স্পর্শ করা।

সহবাস, তথা যৌনাঙ্গে মিলন করা।

উমরার আমলসমূহের সারসংক্ষেপ (প্রচ্ছদ বা শেষ পৃষ্ঠায় হবে)

গোসল করা,

সুগন্ধি মাখা,

ইহরামের কাপড় পরিধান করা

ইহরাম বাঁধা, আর তা হল হজ-উমরায় প্রবেশ করার নিয়ত করা,

তালবীয়া পাঠ করা,

বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা,

মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করা,

সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সা‘ঈ করা,

মাথা মুণ্ডন বা চুল খাটো করা। আল্লাহই অধিক ভালো জানেন। তিনি আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর সালাত ও সালাম নাযিল করুন।