হজ, ওমরাহ ও যিয়ারতের বিধি লঙ্ঘনসমূহ
ওমরাহ সংশ্লিষ্ট ভুল ও অনিয়মসমূহ প্রথমত: ইহরামের বিষয়ে মানুষের কতিপয় অনিয়ম ও ভুল ইহলাল (তালবিয়া উচ্চারণ) পরিত্যাগ করা, অর্থাৎ ইহরাম বাঁধার সময় উচ্চস্বরে নির্ধারিত ইবাদতের (ওমরাহর) নিয়ত প্রকাশ না করা। অথচ সুন্নাহ হলো: উঁচু আওয়াজে তালবিয়া উচ্চারণ করা।
হজ, ওমরাহ ও যিয়ারতের বিধি লঙ্ঘনসমূহ
বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষয়বস্তুর সেবা সংস্থার একাডেমিক কমিটি
ওমরাহ সংশ্লিষ্ট ভুল ও অনিয়মসমূহ
প্রথমত: ইহরামের বিষয়ে মানুষের কতিপয় অনিয়ম ও ভুল
ইহলাল (তালবিয়া উচ্চারণ) পরিত্যাগ করা, অর্থাৎ ইহরাম বাঁধার সময় উচ্চস্বরে নির্ধারিত ইবাদতের (ওমরাহর) নিয়ত প্রকাশ না করা।
অথচ সুন্নাহ হলো: উঁচু আওয়াজে তালবিয়া উচ্চারণ করা।
কিছু লোক মনে করে, ইহরাম হলো পোশাক (লুঙ্গি ও চাদর পরিধান করা)।
বস্তুত ইহরাম হলো: ইবাদতে (হজ্জ/ওমরাতে) প্রবেশ করার নিয়ত করা। এর আলামত হলো: উচ্চ স্বরে তালবিয়া পাঠ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি হজ্জ বা ওমরার নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করল সে মুহরিম হয়ে গেল।
কতক মানুষের ধারনা যে, ইহরামের জন্য গোসল করা ওয়াজিব।
বস্তত এটি একটি সুন্নাত, এটি ত্যাগ করায় কোন দোষ নেই।
কিছু লোকের ধারনা যে ইহরামের সময় দুই রাকাত সালাত আদায় করা ওয়াজিব, অথবা এটি একটি বিশেষ সুন্নত যা অবশ্যই আদায় করা উচিত, তাই তারা যেকোনো অবস্থাতেই এটি আদায় করেন।
অথচ সঠিক মত হলো ইহরামের পূর্বে সালাত আদায় করা বৈধ, কিন্তু তার জন্য নির্দিষ্ট সালাত নেই, যদি সে ফরয সালাত আদায় করে অথবা বৈধ যেকোনো সালাত আদায় করে, তাহলে তারপরে ইহরামের নিয়ত করা তার জন্য বৈধ।
কিছু লোক মনে করে যে, মিকাতে থেমে মসজিদে যাওয়া ওয়াজিব।
এটাও বাধ্যতামূলক নয়, যদি কেউ ইহরামের পোশাক পরে মিকাতের পাশ দিয়ে যায় এবং তালবিয়া পাঠ করে অথবা তার বরাবর জায়গায় গাড়িতে থাকা অবস্থায় পাঠ করে, তাহলে এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে, ঠিক যেমন বিমানে থাকা ব্যক্তি মিকাতের বরাবর হওয়ার সময় বা তার একটু আগে তালবিয়া পাঠ করবে যাতে সে মিকাত অতিক্রম না করে।
ইহরামের পোশাকে সুগন্ধি লাগানো।
সঠিক কথা হলো শরীরে সুগন্ধি মাখাকে যথেষ্ট মনে করা।
কিছু লোক মনে করে যে ইহরামের সময় যৌনাঙ্গের লোম কামানো, নখ কাটা এবং বগল কামানো ওয়াজিব, অথবা তারা মনে করে যে এটি ইহরামের সুন্নাত।
বস্তুত এটি প্রয়োজনের সময় একটি সাধারণ সুন্নাত।
মিকাতের আগে ইহরামের বাঁধা।
এটা সুন্নাহ পরিপন্থী, কিন্তু যে ব্যক্তি বিমানে থাকবে সে সামান্য আগে ইহরাম বাঁধতে পারবে যাতে বিমানের গতির কারণে সে বরাবর স্থান মিস না করে। একইভাবে, যদি সে আশঙ্কা করে যে সে ঘুমিয়ে পড়বে এবং বরাবর স্থান মিস করবে, তাহলে সে তার প্রয়োজন অনুসারে আগে থেকেই ইহরাম বাঁধতে পারবে।
যে ব্যক্তি এই ওমরাহ করতে ইচ্ছুক, তার ইহরাম না বেঁধেই মিকাত অতিক্রম করা, হয় অজ্ঞতাবশত, অথবা অবহেলার কারণে, অথবা বিমানে থাকার কারণে।
যদি সে ওমরাহ বা হজ্জের নিয়তে মীকাত অতিক্রম করে এবং সেখান থেকে ইহরাম না বাঁধে, তাহলে তার উপর ওয়াজিব হল: মিকাতে ফিরে আসা এবং সেখান থেকে ইহরাম বাঁধা। অতএব, যে ব্যক্তি জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং কোনও কারণে বিমানে ইহরাম বাঁধেনি, তাকে অবশ্যই সেখান থেকে ইহরাম বাঁধার জন্য যে কোনও একটি মিকাতে যেতে হবে। এর ব্যতিক্রম হল যারা মিকাতের মধ্য দিয়ে যান না বা মিকাতের বরাবর হন না,তারা জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধবেন। যেমন সুদানের লোকেরা যদি বিমান বা জাহাজে আসেন। যদি না তারা জানে যে তারা যে রাস্তা দিয়ে এসেছে, সেই রাস্তা দিয়ে তারা ইয়ালামলামের মিকাত অথবা আল-জুহফার মিকাতের বরাবর হচ্ছে।
সেলাই করা পোশাক বলতে সেলাই করা যেকোনো কিছুকে ধারণা করা ভুল, তাই অনেকেই সেলাই করা কোমরবন্ধ, বেল্ট বা জুতা পরা থেকে বিরত থাকে।
এটা ভুল। সেলাই করা পোশাক হলো এমন পোশাক যা শরীরের সাথে মানানসই করে সেলাই করা হয়, যেমন জামা ও ট্রাউজার; যদি সে তার স্বাভাবিক অবস্থায় এটি পরে।
নারীদের হাতমোজা, বোরকা অথবা নেকাব অথবা সম্পূর্ণ ঘোমটা পরিধান করা।
তার জন্য ওয়াজিব হল - যদি সে পর পুরুষদের উপস্থিতিতে থাকে - নেকাব এবং হাত মোজা ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে তার মুখ এবং হাত ঢেকে রাখা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় নারীদের এগুলো পরতে নিষেধ করেছেন।
কিছু লোক মনে করে যে মহিলাদের ইহরামের জন্য বিশেষ পোশাক আছে, কালো, সবুজ বা সাদা।
এটা সত্য নয়; ইহরামধারী মহিলা যেকোনো পোশাক পরতে পারেন, কোনও সাজসজ্জা প্রদর্শন না করে।
কিছু লোক মনে করে যে ইহরামের পোশাক পরিবর্তন করা বা খুলে ফেলা জায়েজ নয়।
অথচ সঠিক হলো, ইহরামধারী এটি পরিবর্তন করতে পারেন অথবা ধুয়ে আবার পরতে পারেন।
ইহরামের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইযতিবা করা।
সঠিক হলো, ইযতিবা কেবল ওমরার তাওয়াফ অথবা তাওয়াফে কুদূমের জন্য শরিয়তসম্মত।
কোন বৈধ কারণ ছাড়াই ইহরাম ত্যাগ করা এবং তা থেকে হালাল হওয়া।
ইহরামধারীকে তার ইবাদত পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকতে হবে যতক্ষণ না সে তার ইহরাম ভঙ্গের কোন বৈধ কারণ খুঁজে পায়, আর তা হল বাধাগ্রস্ত হওয়া। এই ক্ষেত্রে তার জন্য ইহরাম ভঙ্গ করা বৈধ রয়েছে। যদি সে ইহরামের নিয়ত করার সময় ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার শর্ত করে, তাহলে তার উপর কোন কিছু নেই। যদি সে শর্ত না করে থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই ফিদয়া জবাই করতে হবে ও চুল কামিয়ে ফেলতে হবে বা ছোট করতে হবে এবং তারপর ইহরাম ভঙ্গ করতে হবে।
***
দ্বিতীয়ত: তাওয়াফের সময় মানুষের লঙ্ঘন ও ভুল কাজ
মসজিদুল হারামে প্রবেশের সময় বা কাবা দেখার সময় যে দোয়াগুলো বর্ণিত হয়নি, সেগুলো পড়া আবশ্যক মনে করা।
সুন্নাত হলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।
তাওয়াফ শুরু করার আগে নিয়ত উচ্চারণ করা।
অথচ নিয়তের স্থান হল অন্তর, তাই মুখে তা উচ্চারণ করা জায়েয নেই।
সতর্কতা হিসেবে হাজরে আসওয়াদের (কালো পাথরের) আগে থেকেই তাওয়াফ শুরু করা।
এটা অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ির শামিল।
হাজরে আসওয়াদ অতিক্রম করার পর তাওয়াফ (প্রদক্ষিণ) শুরু করা এবং এটিকে প্রথম চক্কর হিসেবে বিবেচনা করা।
এটা ভুল, যদি সে এরূপ করে ফেলে তার পক্ষে সেই চক্করটি গণ্য করা ঠিক হবে না।
কালো পাথরের বরাবর হওয়ার সময় দুই হাত তোলা, যেমনভাবে সালাতে উঠানো হয় অথবা তিনবার হাত তোলার পুনরাবৃত্তি করা।
সুন্নাত হলো ডান হাত দিয়ে তার দিকে একবার ইশারা করা।
হাজরে আসওয়াদ বরাবর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অবস্থান করা।
সুন্নাত হলো দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে না থাকা।
পাথরটিকে চুম্বন করার জন্য তীব্র ভীড় ও ধাক্কাধাক্কি করা।
সুন্নাত হলো ধাক্কাধাক্কি না করা; যদি ধাক্কাধাক্কি না করে তার কাছে পৌঁছতে সক্ষম হয়, তাহলে তা চুম্বন করবে, অন্যথায় সে তার দিকে কেবল ইশারা করবে।
তাকবীর না বলে হাজরে আসওয়াদ অতিক্রম করার পর ইশারা করা ও তাকবীর বলার জন্য ফিরে আসা অথবা অতিক্রম করার পর তাকবীর বলা।
এই সবই ভুল। এটি একটি সুন্নাত ছিল যার স্থান ছুটে গেছে; কাজেই এটি করার জন্য ফিরে আসা সুন্নাহ নয়। বস্তুত যে ব্যক্তি তাকবীর ভুলে গেল বা ইচ্ছাকৃতভাবে তা ছেড়ে দিল তার উপর কোন সমস্যা নেই।
প্রত্যেক চক্করকে নির্দিষ্ট দোয়া দ্বারা খাস করা।
এর উপর কোন দলিল নেই; সুন্নাত হলো তাওয়াফকারী ব্যক্তি দুনিয়া ও আখেরাতের যা খুশি তাই প্রার্থনা করবে [1], এবং যে কোন বৈধ যিকির দ্বারা আল্লাহর যিকির করবে, যেমন তাসবীহ অথবা তাহমীদ অথবা তাহলীল অথবা তাকবীর অথবা কুরআন পাঠ করা।
সকল চক্করে রমল করা।
সুন্নাত হলো, এটি কেবল প্রথম তিন চক্করে হবে।
বিনা ওজরে তাওয়াফের সময় কাবা ঘর বাম দিকে রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ না করা।
সুন্নাত হলো কাবা ঘর তার বাম দিকে থাকবে, তাই তার পক্ষে তা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোন শিথিলতা দেখানো উচিত নয়; যদি ভিড় বা অনুরূপ কারণে অপারগ হয়, তাহলে তার কোন দোষ নেই।
রুকনুল ইয়ামানী চুম্বন করা, অথবা চুম্বন করতে না পারলে তার দিকে ইশারা করা।
সুন্নাত হলো চুম্বন না করে কেবল হাত দিয়ে স্পর্শ করা; যদি সে স্পর্শ করতে অক্ষম হয়, তাহলে তার দিকে ইশারা করবে না।
কাবা ঘরের সকল কোণ অথবা তার দেয়াল স্পর্শ করা, চুম্বন করা এবং সেগুলো মাসাহ করা।
এটি সুন্নাহ পরিপন্থী, কারণ কেবল হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা এবং ইয়েমেনী কোণ স্পর্শ করা ছাড়া এরূপ করা জায়েয নয়।
মনে করা যে ইয়েমেনি কোণ এবং হাজরে আসওয়াদ বরকতের জন্য স্পর্শ করা হয়, ইবাদতের জন্য নয়।
এ সবই অজ্ঞতা ও পথভ্রষ্টতা, কারণ উপকার ও ক্ষতি একমাত্র আল্লাহর হাতে। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এসে তাতে চুম্বন করলেন এবং বললেন: "আমি অবশ্যই জানি তুমি এমন একটি পাথর যা ক্ষতি করতে পারে না, উপকারও করতে পারে না; আর যদি আমি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তাহলে আমি তোমাকে চুম্বন করতাম না।" [১] বুখারী, হাদীস (১৫৯৭)।
দোয়ার আওয়াজ এমনভাবে উঁচু করা যাতে অন্যান্য তাওয়াফকারীরা বিরক্ত হয়।
সুন্নাত হলো অনুচ্চস্বরে তার রবকে স্মরণ করবে ও দোয়া করবে, যাতে অন্যরা বিরুক্ত না হয়।
তাওয়াফের সময় ছবি তোলা বা কথা বলায় ব্যস্ত থাকা।
অথচ তাওয়াফকারী ব্যক্তির জন্য বৈধ হল বিনয়, আত্মসমর্পণ এবং মনোযোগের সাথে তার রবকে স্মরণ করা।
নিশ্চিতভাবে হাজরে আসওয়াদের নিকট পৌঁছানোর আগেই তাওয়াফ শেষ করা।
ওয়াজিব হল সপ্তম প্রদক্ষিণটি সম্পন্ন করা যতক্ষণ না সে নিশ্চিত হয় বা মনে করে যে সে হাজরে আসওয়াদের বরাবর পৌঁছেছে।
বিশ্বাস করা যে তাওয়াফের দুই রাকাত মাকামে ইবরাহীমের ঠিক পিছনে অথবা তার কাছাকাছি আদায় করতে হবে, তাই তারা ভিড় করে এবং মৌসুমের দিনগুলোতে হাজীদের সমস্যায় ফেলে এবং তাদের তাওয়াফের বিচরণ ব্যাহত করে।
এই ধারণাটি ভুল। মসজিদের যেকোনো স্থানে তাওয়াফের পর দুই রাকাত যথেষ্ট হবে। মুসল্লির মাকামকে নিজের এবং কাবা ঘরের মাঝখানে রাখাই যথেষ্ট হবে - এমনকি যদি তিনি কাবা থেকে দূরেও থাকেন - মসজিদের উঠানে বা বারান্দায় পড়ে নিতে পারেন, ফলে ক্ষতি এড়াতে পারবেন এবং বিনয় ও প্রশান্তির সাথে সালাত আদায় করতে পারবেন।
তাওয়াফের দুই রাকাত দীর্ঘ করা এবং তার পরে দীর্ঘ সময় দুআ করা।
সুন্নাত হলো এটাকে সংক্ষিপ্ত করা এবং এর পরে কিছু দুআ না করা। কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়নি।
ইযতিবার হালতে তাওয়াফের দুই রাকাত সালাত আদায় করা।
তাওয়াফ শেষ করার সাথে সাথেই চাদর কাঁধে ফিরিয়ে দেওয়া সুন্নাত।
***
তৃতীয়ত: সাঈতে মানুষের শরীয়াহ পরিপন্থী কার্যকলাপ ও ভুলগুলো।
সাঈর সময় ইযতিবা করা।
পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইযতিবা কেবল তাওয়াফের সময়ই করতে হয়।
সাঈ শুরু করার আগে নিয়ত উচ্চারণ করা।
পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়তের স্থান হল অন্তর; মুখে উচ্চারণ করা বৈধ নয়।
মারওয়াহ থেকে সাঈ শুরু করা।
এটা ভুল এবং যে এটা করবে তার এই চক্কর সাঈ হিসেবে গণ্য হবে না।
কেউ কেউ মনে করেন, এক চক্কর হল যাওয়া ও আসার সমন্বয়ে, তাই তিনি চৌদ্দ চক্কর হাঁটেন।
এটা ভুল, কারণ সাফা থেকে মারওয়ায় যাওয়া এক চক্কর। আর মারওয়া থেকে সাফায় যাওয়া এক চক্কর। শুরু হবে সাফা থেকে এবং শেষ হবে মারওয়ায়।
সাফা পাহাড়ের চূড়ায় আরোহণ করা এই ভেবে যে এটা অনিবার্য।
এরূপ শর্ত করার উপর কোনও প্রমাণ নেই।
সালাতের তাকবীরের মতো হাত উঠানো এবং তা দিয়ে ইশারা করা।
সঠিক হলো কিবলার দিকে মুখ কর এবং যেসব দুআ উল্লিখিত হয়েছে তা দিয়ে দুআ করে সন্তুষ্ট থাকা।
নারীদের পুরুষদের মতোই দুটি সবুজ চিহ্নের মধ্যে দৌড়ে হাঁটা।
আলেমদের ঐক্যমত্য অনুসারে তার পর্দার সুরক্ষার স্বার্থে তার জন্য বৈধ হল কেবল হাঁটায় সীমাবদ্ধ থাকা।
সাঈর প্রতিটি চক্করের জন্য একটি নির্দিষ্ট দুআ বরাদ্দ করা।
এর কোন প্রমাণ নেই; বরং তার উচিত কোন কিছু নির্দিষ্ট না করে ইচ্ছামত দুআ করা[2]।
সাঈর স্থানে এমনভাবে কণ্ঠস্বর উঁচু করা যা মানুষকে বিরক্ত করে।
সুন্নাত হলো তার রবকে স্মরণ করা এবং নীরবে রবের মাঝে ও তার নিজের মাঝে তাকে আহ্বান করা, যাতে অন্যরা বিরক্ত না হয়।
প্রতিটি চক্করে সাফা ও মারওয়ার মধ্যে দ্রুত হাঁটা।
সুন্নাত হলো কেবল দুটি সবুজ চিহ্নের মাঝখানে দ্রুত গতিতে চলা।
সাঈ শেষ করার পর দুই রাকাত সালাত আদায় করা।
এর কোন প্রমাণ নেই, তাই এটি করা জায়েয নয়।
হজ্জ ও ওমরাহ ব্যতিরেকে নফল হিসাবে সাঈ করা।
নফল সাঈ বৈধ নয়।
***
চতুর্থত: চুল কামানো বা ছোট করার ক্ষেত্রে মানুষের ভুল ও লঙ্ঘনসমূহ।
পুরো মাথা থেকে চুল কামানো বা ছোট করার ক্ষেত্রে উদাসীনতা করা।
সুন্নাত হলো পুরো মাথার চুল মুণ্ডন বা ছোট করা।
মাসজিদুল হারামের ভেতরে চুল কামানো বা ছোট করা এবং তাতে চুল ফেলা।
অথচ কর্তব্য হলো মাসজিদুল হারামকে সম্মান করা এবং এর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা।
চুল কামানো বা চুল ছোট করার ক্ষেত্রে এতো বেশী বিলম্ব করা যে তা ভুলে যাওয়া বা তা বাদ দেওয়ার পর্যায়ে নিয়ে যায়।
কর্তব্য হল তাওয়াফ এবং সা'ঈ সম্পন্ন করার পর দ্রুত এটি করে ফেলা।
চুল কামানো বা ছোট করার আগে ইহরামের নিষিদ্ধ কাজগুলো করা।
চুল কামানো বা ছোট করা ছাড়া ইহরামের নিষিদ্ধ কাজগুলোর কোনটিই না করা ওয়াজিব।
***
হজ্জ সম্পর্কিত ত্রুটি এবং লঙ্ঘনসমূহ
প্রথমত: তারবিয়ার দিনে (৮ তারিখ) মানুষের লঙ্ঘন ও ভুলসমূহ।
কিছু লোক মনে করে যে, তারবিয়ার দিন মাসজিদুল হারাম থেকে অথবা মীযাবের নীচ থেকে ইহরাম বাঁধা সুন্নতসম্মত।
অথচ সুন্নাত হলো, যেখানে আছেন সেখান থেকেই ইহরাম বাঁধা; সেটা মক্কা হোক বা মিনা।
যোহরের সালাতের পর পর্যন্ত ইহরাম বাঁধতে দেরি করা।
সুন্নত হলো, হজ্জের জন্য সকালে জোহরের সালাতের আগে ইহরাম বাঁধা।
সক্ষমতা থাকা সত্ত্বে মিনায় রাত্রি যাপন ত্যাগ করা।
সুন্নাত হলো সম্ভব হলে হাজীর জন্য মিনায় রাত কাটানো সুন্নত; নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের কারণে।
মিনায় সালাতগুলো জমা করে পড়া।
অথচ সুন্নাত হলো মিনায় কসর করে সালাত পড়বে, দুই সালাত একত্রিত করে নয়; নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে।
***
দ্বিতীয়ত: আরাফার দিনে মানুষের লঙ্ঘন ও ভুলসমূহ।
সতর্কতা হিসেবে অষ্টম দিনের কিছু সময় আরাফাতে অবস্থান করা।
এটি একটি অতিরঞ্জন এবং বাড়াবাড়ি যা নিষিদ্ধ।
অষ্টম দিন অথবা নবম দিন রাতে আরাফাতে যাওয়া এবং সেখানে রাত কাটানো।
এটি সুন্নাহের পরিপন্থী এবং এটি মিনায় রাত কাটানোর সুন্নাতকে বিনষ্ট করে।
আরাফার সীমানার বাইরে অবস্থান করা।
হাজীর উপর ওয়াজিব হল আরাফার সীমানার মধ্যে অবস্থান করার বিষয়টি নিশ্চিত করা।
নামিরাহ মসজিদে ইমামের সাথে সালাত পড়া আবশ্যক মনে করা এবং সেখানে অবস্থান করতে তীব্র ভিড় করা।
এটি আবশ্যক নয়, এবং এই কারণে ভিড় করা বৈধ নয়।
দুআ পড়ার সময় (ইলাল) পাহাড়ের দিকে মুখ করা।
সুন্নাত হলো কিবলামুখী হওয়া।
ইলাল পাহাড়ে আরোহণ করা ওয়াজিব অথবা এটি হজের একটি আমল অথবা আরাফাতের বাকি অংশের উপর এর কোন ফযীলত বা শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে বলে বিশ্বাস করা।
এর কোন প্রমাণ নেই, বরং এটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনার পরিপন্থী।
(ইলাল) পাহাড়কে জাবালে রহমত বা (জাবালে দোআ) নামকরণ করা।
বিশুদ্ধ হল এর নাম (ইলাল) এবং এটিকে জাবালে রহমত বা জাবালে দোআ বলার কোনও প্রমাণ নেই।
আরাফার পাহাড়ের গম্বুজে প্রবেশ করা, এটাকে আদমের গম্বুজ বলা, সেখানে সালাত পড়া এবং কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করার মতো করে তা প্রদক্ষিণ করা।
এ সবই নিষিদ্ধ বিদআত এবং কখনো তা শিরকের পরিণত হয়।
আরাফার জাবালে রহমতের উপর স্থাপিত স্তম্ভ থেকে বরকত হাসিল করা এবং তাতে নাম লেখা।
এ সবই নিষিদ্ধ বিদআত এবং কখনো তা শিরকে পরিণত হয়।
আরাফার পর্বত বা নূর পর্বতের ফাটলগুলিতে টাকা রাখা অথবা চুল, নখ, পোশাক ইত্যাদি রাখা; এই বিশ্বাসে যে এর ফলে তারা এই স্থানগুলিতে আবার ফিরে আসবে।
এ সবই নিষিদ্ধ বিদআত এবং কখনো তা শিরকে পরিণত হয়।
কিছু লোক মনে করে যে নবীর অবস্থানের স্থানে অবস্থান করা ওয়াজিব বা তা করার জন্য কষ্ট করা।
সঠিক মত হলো, এটি বাধ্যতামূলক নয় এবং এই কাজটি করা জায়েযও নয়।
সময় নষ্ট করা, দুআ ও যিকির অবহেলা করা এবং অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যস্ত থাকা।
সূর্যাস্তের কাছাকাছি অথবা দিনের শেষ সময় পর্যন্ত দুআ শুরু করতে বিলম্বিত করা।
দাঁড়িয়ে দুআ করার জন্য কষ্ট স্বীকার করা এবং এটাকে সুন্নাত মনে করা অথবা মনে করা যে, আরাফায় অবস্থান করার অর্থ হল দাঁড়িয়ে দুআ করা।
সঠিক মত হলো, আরাফাতে অবস্থান মানে এই সময়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা, বসে থাকা, আরোহণ করা বা হেঁটে যাওয়া।
সূর্যাস্তের আগেই আরাফা থেকে রওনা দেওয়া।
এটা নিষিদ্ধ। কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহের পরিপন্থী।
সূর্যাস্তের পর কোন অজুহাত ছাড়াই দেরিতে প্রস্থান করা।
কোন ওজর না থাকলে সূর্যাস্তের পরপরই চলে যাওয়া সুন্নাত।
কিছু লোক বিশ্বাস করে যে শুক্রবার আরাফার ময়দানে অবস্থান করা সত্তরটি হজ্জের সমতুল্য।
এর কোন প্রমাণ নেই।
***
তৃতীয়ত: মুজদালিফায় যাওয়া এবং সেখানে গিয়ে রাত কাটানোর ক্ষেত্রে মানুষের লঙ্ঘন ও ভুলসমূহ।
আরাফা থেকে প্রস্থানের সময় তাড়াহুড়ো করা এবং গাড়ি দিয়ে বিরক্ত করা।
সুন্নাত হলো শান্তভাবে ও গাম্ভীর্যতাসহ প্রস্থান করা এবং কাউকে কষ্ট না দেওয়া।
কিছু লোক মনে করে যে, মুজদালিফায় রাত কাটানোর আগে গোসল করা শরীয়ত সম্মত।
এর কোন প্রমাণ নেই।
কিছু লোক মনে করে যে, আরোহীর মুযদালিফায় প্রবেশ করার জন্য অবতরণ করা মুস্তাহাব।
এর কোন প্রমাণ নেই।
মুজদালিফার সীমানার মধ্যে আছে কিনা তা নিশ্চিত করার আগে কোন স্থানে অবতরণ করা।
মুজদালিফায় পৌঁছানোর পর প্রথমে সালাত পড়ার উদ্যোগ ত্যাগ করা।
সুন্নাত হল মুযদালিফায় পৌঁছার সাথে সাথেই সালাত আদায় করা।
মুযদালিফায় প্রবেশের শুরুতেই কংকর সংগ্রহে ব্যস্ত থাকা, এর প্রতি যত্নবান হওয়া এবং এটি শরীয়ত সম্মত মনে করা।
এর কোন প্রমাণ নেই।
মাগরিব ও এশার সালাত শেষ ওয়ার্ড তথা মধ্যরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করা।
মাগরিব ও এশার সালাত মধ্যরাতের আগে, এমনকি মুজদালিফায় পৌঁছানোর আগে হলেও আদায় করা আবশ্যক।
মুজদালিফার রাত্রি সালাত, ইবাদত অথবা মজা ও খেলাধুলার মাধ্যমে উদযাপন করা।
সুন্নাত হলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর আদর্শ অনুসরণ করে দ্রুত ঘুম ও বিশ্রামের উদ্যোগ নেওয়া, যাতে এটি ঈদের দিনে আমলসমূহ আঞ্জামদানে সহায়ক হয়।
দুর্বল ও তাদের সঙ্গীদের মধ্যরাতের আগে বের হওয়া।
ওয়াজিব হল মধ্যরাতের পর ছাড়া বের না হওয়া।
যে দুর্বল নয় এবং যার সাথে দুর্বল লোক নেই, তার ভোর হওয়ার আগে প্রস্থান করা।
অথচ আবশ্যক হল মুজদালিফায় ফজর পর্যন্ত অবস্থান করা।
সূর্যোদয় পর্যন্ত মুজদালিফা থেকে যাত্রা বিলম্বিত করা।
সুন্নাত হলো সূর্যোদয়ের আগে তা ত্যাগ করা।
***
চতুর্থত: কুরবানীর দিনের আমলসমূহে মানুষের লঙ্ঘন এবং ভুলসমূহ।
কেউ কেউ মনে করে যে পাথর নিক্ষেপের জন্য গোসল করা শরীয়ত সম্মত।
এর কোন প্রমাণ নেই।
জামারা নিক্ষেপের জন্য কংকর ধোয়া।
এর কোন প্রমাণ নেই।
বিশ্বাস করা যে, মুজদালিফা থেকে কঙ্কর না হলে পাথর নিক্ষেপ সহীহ হবে না।
এর কোন প্রমাণ নেই, তাই সে যেকোনো জায়গা থেকে এটি সংগ্রহ করতে পারে।
নুড়ি ছাড়া অন্য কোন পাথর নিক্ষেপ করা, অথবা বড় নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করা।
এটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নির্দেশনার পরিপন্থী।
কংকর ছুঁড়ে মারার সময় রাগ করা এবং বিশ্বাস করা যে যাকে পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছে সে হল শয়তান।
পাথর ছুঁড়তে গিয়ে দলে দলে জড়ো হওয়া এবং মানুষের ক্ষতি করা।
নিক্ষেপের সময় শরীয়ত সম্মত যিকির-এ বৃদ্ধি করা।
উত্তম হল তাকবীর পাঠে সীমাবদ্ধ থাকা।
একসাথে সাতটি পাথর নিক্ষেপ করা।
এই ক্ষেত্রে শুধুমাত্র একটিই গণ্য হবে। ওয়াজিব হল প্রতিটি পাথর আলাদাভাবে নিক্ষেপ করা।
নুড়িপাথরগুলো নিক্ষেপ না করে হাউজে রেখে দেওয়া।
এটি যথেষ্ট নয়; শরীয়ত সম্মত হল যেভাবে নিক্ষেপ করলে নূন্যতম নিক্ষেপ করা বলে সেভাবে নিক্ষেপ করা।
নিক্ষেপের সময় দন্ডায়মান প্রাচীরকে টার্গেট করা এবং এটিকে মূল উদ্দেশ্য মনে করা।
শরীয়ত সম্মত হল হাউজে নিক্ষিপ্ত হওয়া, যদিও তা খাম্বার গায়ে স্পর্শ না করে।
অনেক দূর থেকে নিক্ষেপ করা এবং লক্ষ্যবস্তুতে নুড়ি পাথর পড়ল কিনা তা নিশ্চিত না হওয়া।
জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর দুআ করার জন্য অবস্থান করা।
এটা বৈধ নয়; কারণ এর বৈধতার কোন প্রমাণ নেই।
কুরবানীর দিনের পূর্বেই তামাত্তু ও কিরানের পশু যবাই করা।
যে এটা করবে, তার পক্ষে তা বৈধ হবে না এবং তাকে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে পুনরায় যবাই করতে হবে, যা হল ঈদের দিন থেকে তাশরিকের শেষ দিন পর্যন্ত।
যবাই না করে তার মূল্য দান করার আগ্রহ।
যে ব্যক্তি এটা করবে, তার পক্ষে তা বৈধ হবে না এবং তাকে অবশ্যই যবাই করতে হবে।
মাথার কিছু অংশ কামানো বা ছোট করা।
সুন্নাত হলো পুরো মাথার চুল মুণ্ডন বা ছোট করা।
তাওয়াফে ইফাদার পরিবর্তে তাওয়াফে কুদুমকে যথেষ্ট মনে করা অথবা আরাফা ও মুজদালিফায় অবস্থান করার আগে তাওয়াফে ইফাদা সম্পন্ন করা।
যে এটা করবে তার পক্ষে তা জায়েয হবে না। কারণ তাওয়াফে ইফাদা হজের অন্যতম রুকন, এটি ছাড়া হজ শুদ্ধ হবে না এবং আরাফা ও মুজদালিফায় অবস্থান করা ছাড়া এটি করা জায়েয হবে না।
***
পঞ্চমত: মিনার দিনগুলো (তাশরিকের দিনগুলো)-এর আমলসমূহে মানুষের লঙ্ঘন ও ভুলসমূহ।
পাথর নিক্ষেপে প্রতিনিধি ও স্থলাভিষিক্ত নির্ধারণে শিথিলতা করা।
মূলনীতি হল হজযাত্রী নিজেই পাথর নিক্ষেপ করবেন, যদি না এমন কোনও বৈধ ওযর থাকে যার ফলে তিনি তার প্রতিনিধিত্ব করার জন্য কাউকে নিযুক্ত করতে পারেন।
নিজের পক্ষে পাথর নিক্ষেপের জন্য কাউকে স্থলাভিষিক্তকারীর হজের আনুষ্ঠানিকতা ও দিনগুলি শেষ হওয়ার আগেই সফর করা।
এটা ভুল; ওয়াজিব হল হজ্জের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে মিনায় অথবা যেখানে আছেন সেখানেই থাকতে হবে, তারপর বিদায়ী তাওয়াফ করে বের হবেন।
তাশরীকের দিনগুলিতে সূর্য ঢলে যাওয়ার আগে পাথর নিক্ষেপ করা।
সুন্নাত হলো দুপুরের পর পাথর নিক্ষেপ করা।
পাথর নিক্ষেপের ক্ষেত্রে তিনটি জামারাতে ক্রমানুসার রক্ষা না করা।
ওয়াজিব হল ক্রমানুসার রক্ষা করা, যেমন প্রথম জামারাহ, তারপর মাঝের জামারাহ, তারপর সবচেয়ে বড় জামারাহ, যা হল জামারাহ আকাবা। যে কেউ এর বিপরীত করল বা এর বিরোধিতা করল তাকে অবশ্যই ক্রমানুসারে তা পুনরায় করতে হবে, সবচেয়ে ছোটটি থেকে গণনা করবে, তারপর পরের গুলোতে নিক্ষেপ করবে।
জামরাতুল আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপের পর দোয়া করার জন্য অবস্থান করা।
সুন্নাত হলো প্রথম ও মধ্যবর্তী জামারার কংকর নিক্ষেপের পর দুআ করা।
***
ষষ্ঠত: বিদায় তাওয়াফের সময় মানুষের লঙ্ঘন এবং ভুলসমূহ।
শেষ দিনের পাথর নিক্ষেপের পূর্বে বিদায়ী তাওয়াফ করা; যাতে পাথর নিক্ষেপের পরপরই প্রস্থান করতে পারে।
এটা ভুল, যে এটা করল সে ভুল সময়ে তা করল, তাই এটা বৈধ হবে না এবং কঙ্কর নিক্ষেপের পর আবার তাকে এটা করতে হবে।
নিজের পক্ষ থেকে পাথর নিক্ষেপের জন্য কাউকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করা এবং প্রতিনিধির পাথর নিক্ষেপের আগেই তাওয়াফ করা।
অথচ সঠিক হলো, কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা এবং তারপর বিদায়ী তাওয়াফ করা।
কাবার দিকে পিঠ না করার ইচ্ছে করা, তাই কাবার প্রতি শ্রদ্ধা স্বরূপ উল্টো পিঠে ফিরে আসা।
এর বৈধতার পক্ষে কোন প্রমাণ নেই এবং সর্বোত্তম নির্দেশনা হল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা।
মাসজিদুল হারাম থেকে বের হওয়ার সময় দুআর জন্য দাঁড়ানো।
এর কোন প্রমাণ নেই।
বিদায় তাওয়াফের পর বৈধ ওযর ছাড়া দীর্ঘ সময় মক্কায় অবস্থান করা।
বিদায়ী তাওয়াফের পরপরই মক্কা ত্যাগ করা ওয়াজিব; তবে সঙ্গীদের জন্য অপেক্ষা করা অথবা সফরের জিনিসপত্র কেনা ইত্যাদির জন্য বিলম্ব হলে কোন দোষ নেই।
যদি সে কোন অজুহাত ছাড়াই দীর্ঘ সময় অবস্থান করে, তাহলে তাকে বিদায়ী তাওয়াফের পুনরাবৃত্তি করতে হবে।
মসজিদে নববী যিয়ারত সম্পর্কিত ভুল এবং লঙ্ঘনসমূহ।
বরকতের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবর যিয়ারতের সময় দেয়াল, লোহার দণ্ড স্পর্শ করা, জানালায় সুতা এবং অনুরূপ জিনিস বেঁধে রাখা।
আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা নির্ধারণ করেছেন, তাতেই বরকত রয়েছে, বিদআতে নয়।
উহুদ পাহাড়ের গুহায় যাওয়া, একইভাবে মক্কার হেরা গুহা ও সাওর গুহায় যাওয়া, সেখানে কাপড় বেঁধে রাখা এবং এমন দুআ করা যা আল্লাহ অনুমতি দেননি এবং তা করতে গিয়ে কষ্ট সহ্য করা।
এসবই বিদআত, পবিত্র শরীয়তে যার কোন ভিত্তি নেই।
কিছু স্থান পরিদর্শন করা যা তারা দাবি করে যে এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্মৃতি বিজড়িত স্থান, যেমন মাবরাকুন নাকাহ (উটনীর বসার স্থান), বীরে খাতাম, অথবা বীরে উসমান এবং বরকতের আশায় এই স্থানগুলো থেকে মাটি নেওয়া।
বাকি কবরস্থান ও উহুদের শহীদদের কবর যিয়ারত করার সময় মৃতদের নিকট দুআ করা এবং তাদের নৈকট্য লাভ ও তাদের দ্বারা বরকত হাসিল করার উদ্দেশ্যে সেখানে টাকা ছুঁড়ে মারা।
এগুলো গুরুতর ভুল। বরং, বড় শিরক, যেমন তা আলিমগণ উল্লেখ করেছেন এবং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ প্রমাণ করেছে; কারণ ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং এর কোন অংশ যেমন দুআ করা, কুরবানী করা, মানত করা ইত্যাদি তিনি ছাড়া কারো জন্য উৎসর্গ করা জায়েয নয়, দলীল আল্লাহ তায়ালার এই বাণী: “আর তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।” [আল-বায়্যিনাহ, আয়াত: ৫]
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর সালাত ও সালাম নাযিল করুন।