হজ, উমরাহ ও যিয়ারত সম্পর্কিত ফতোয়াসমূহ
এগুলো সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির ‘ফতোয়া সমগ্র’ থেকে বাছাই করা হয়েছে এবং প্রশ্নোত্তরগুলো সঙ্গতিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। প্রথমত: কতিপয় সাধারণ ফতোয়া প্রশ্ন: আমার পিতার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে উমরাহ করা কি জায়েয হবে? উত্তর: যে ব্যক্তি নিজে হজ বা উমরাহ করতে চায় বা অন্য কারো পক্ষ থেকে হজ বা উমরাহ করতে চায়, তার জন্য উচিত হল পবিত্র (হালাল) উপার্জন থেকে ব্যয় করা; কেননা মহান আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) বিষয়ই গ্রহণ করেন।
হজ, উমরাহ ও যিয়ারত সম্পর্কিত ফতোয়াসমূহ
যার প্রতি উমরাহ পালনকারীদের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।[১] এগুলো সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির ‘ফতোয়া সমগ্র’ থেকে বাছাই করা হয়েছে এবং প্রশ্নোত্তরগুলো সঙ্গতিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সংস্থার একাডেমিক কমিটি
প্রথমত: কতিপয় সাধারণ ফতোয়া
প্রশ্ন: আমার পিতার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে উমরাহ করা কি জায়েয হবে?
উত্তর: যে ব্যক্তি নিজে হজ বা উমরাহ করতে চায় বা অন্য কারো পক্ষ থেকে হজ বা উমরাহ করতে চায়, তার জন্য উচিত হল পবিত্র (হালাল) উপার্জন থেকে ব্যয় করা; কেননা মহান আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) বিষয়ই গ্রহণ করেন।
পক্ষান্তরে ব্যাংক বা অন্য কোথাও থেকে ফায়েদার ভিত্তিতে ঋণ নেওয়া বৈধ নয়; কারণ এটি সুদের অন্তর্ভুক্ত। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুদখোর, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক ও সুদের সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন এবং বলেছেন: 'এরা সবাই সমান।' আর হারাম ভক্ষণ করা দোয়া প্রত্যাখ্যানের এবং আমল অগ্রহণযোগ্য হওয়ার একটি অন্যতম কারণ। তবে যদি সুদবিহীন ঋণ হয়, তাহলে তাতে কোনো আপত্তি নেই।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৫৩)।
***
প্রশ্ন: এ কথা কি সঠিক যে, যদি কেউ মক্কা থেকে চল্লিশ দিন অনুপস্থিত থাকে, তাহলে তার উপর পুনরায় উমরাহ করা বাধ্যতামূলক, যদিও সে ইতিমধ্যে একাধিকবার উমরাহ পালন করে থাকে?
উত্তর: উমরাহ জীবনে একবারই প্রাপ্তবয়স্ক, সক্ষম মুসলিমের উপর ফরয। এর অতিরিক্ত যতবার করা হবে তা সুন্নাত। উমরাহ যে কোনো সময় করা যেতে পারে, এর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২০)।
***
প্রশ্ন: বছরের যেকোনো সময় কি উমরাহ পালন করা যায়?
উত্তর: উমরাহ বছরের যেকোনো দিনে পালন করা যায়, এমনকি হজের মাসগুলিতেও। যদি কেউ হজের মাসগুলোতে উমরাহ করে এবং একই বছরে হজ আদায় করে, তাহলে সে ‘তামাত্তু হজকারী’ হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি কেউ হজ ও উমরাহ একসাথে ইহরামের মাধ্যমে পালন করে, তবে সে ‘কিরান হজকারী’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তামাত্তু ও কিরান হজকারী— উভয়ের জন্য কুরবানির পশু (হাদী) কোরবানি করা ওয়াজিব, যদি তারা মসজিদুল হারামের আশেপাশের অধিবাসী না হয়। আর যদি কোনো হাজী জিলহজ মাসে, তাশরিকের দিনগুলো শেষ হওয়ার পর উমরাহ পালন করে, তবে তা বৈধ এবং তার জন্য কুরবানি লাগবে না।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩১৬)।
***
প্রশ্ন: ফরয হজ আদায় করার আগে কারো জন্য কি উমরাহ পালন করা বিশুদ্ধ হবে?
উত্তর: হ্যাঁ, কোন ব্যক্তি হজ করার আগে উমরাহ পালন করতে পারে; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ ফরয হজের আগেই উমরাহ করেছিলেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩১৮)।
***
প্রশ্ন: বছরে বারবার উমরা করার হুকুম কী?
উত্তর: সঠিক মত হলো, বছরে একাধিকবার উমরা করা জায়েয; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “এক উমরাহ থেকে অপর উমরাহ তার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারাহ স্বরূপ। আর মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া কিছু নয়।” সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩৩৪)।
***
প্রশ্ন: কিছু লোক হজ করতে আসে এবং তামাত্তুর উমরাহ সম্পন্ন করার পর সে তার বাবা-মায়ের একজনের পক্ষ থেকে উমরাহ করতে চায়। সে কীভাবে তা করবে?
উত্তর: যে ব্যক্তি উমরার ইহরাম বেঁধে তামাত্তু হজের নিয়তে এসেছে, তার জন্য উত্তম হলো উমরা শেষ করার পর হজের সময় আগমন পর্যন্ত মক্কায় অবস্থান করা। হজের সময় আসলে সে হজের ইহরাম বেঁধে হজ সম্পন্ন করবে এবং হজের আগে পুনরায় উমরাহ করবে না। তবে হজ শেষ করার পর তানয়ীম অথবা অন্য কোনো হিল (মক্কার হারাম সীমানার বাইরের) স্থান থেকে উমরাহ করাতে কোনো সমস্যা নেই। যদি সে হজের পর তার মৃত পিতা-মাতা, অথবা বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা কিংবা নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত পিতা-মাতা কিংবা এরূপ অবস্থার অন্য ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে উমরাহ করে, তাতে কোনো দোষ নেই; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-সাধারণভাবে বলেছেন: “এক উমরাহ থেকে অপর উমরাহ তার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারাহ স্বরূপ। আর মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া কিছু নয়।” সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১১৭)।
***
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি একাধিক উমরা করে এবং প্রতিবার উমরার জন্য তানয়ীমে গিয়ে ইহরাম বাঁধে, তার হুকুম কী?
উত্তর: যারা অল্প সময়ের জন্য মক্কায় আসে, তাদের জন্য একাধিক উমরা করা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদ্ধতি ছিল না এবং সাহাবাগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ও তা করেননি। যদি এটি উত্তম হতো, তবে তারাই এতে অগ্রগামী হতেন। মক্কায় আগতদের জন্য শরিয়তসম্মত হলো. তার হজ বা উমরাহ সম্পাদনের পর বেশি বেশি তাওয়াফ করা, কুরআন তিলাওয়াত, সালাত আদায়, সাদকা প্রদান এবং অন্যান্য ইবাদতে মনোনিবেশ করা। তবে কেউ যদি নিজের পক্ষ থেকে অথবা অন্যের পক্ষ থেকে—যেমন মৃত ব্যক্তি বা বার্ধক্যজনিত অক্ষমতা অথবা নিরাময়-অযোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে—উমরাহ করে তাতে কোনো সমস্যা নেই, যদি এতে তার বা অন্যদের (যেমন ভিড়ের সময়) কোনো কষ্ট না হয়; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “এক উমরাহ থেকে অপর উমরাহ তার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারাহ স্বরূপ। আর মাবরুর হজের প্রতিদান জান্নাত ছাড়া কিছু নয়।” তাছাড়া এটি প্রমাণিত যে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-কে হজ ও উমরা শেষ করার পর তানয়ীম থেকে উমরা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যখন তিনি এ বিষয়ে তার অনুমতি চেয়েছিলেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৫৫)।
***
দ্বিতীয়ত: মীকাত সম্পর্কিত ফতোয়া
প্রশ্ন: যদি কেউ হজ বা উমরা করতে চায় এবং বিমানে ইহরাম বাঁধা তার জন্য কষ্টসাধ্য হয়, পাশাপাশি সে মীকাতের সঠিক সীমা জানে না, তবে কি তার জন্য জেদ্দায় পৌঁছা পর্যন্ত ইহরাম বিলম্ব করা বৈধ হবে?
উত্তর: যদি কেউ হজ বা উমরা করতে চায় এবং বিমানে থাকে, তবে তার জন্য বৈধ হলো নিজ বাড়িতে গোসল করা এবং ইচ্ছা করলে ইহরামের চাদর ও লুঙ্গি পরে ফেলা। যখন মীকাতে পৌঁছানোর সামান্য সময় বাকি থাকবে, তখন সে হজ বা উমরার যেকোনো একটির জন্য ইহরাম বাঁধবে। এতে কোনো কষ্ট নেই। যদি সে মীকাতের সঠিক সীমা না জানে, তবে সে বিমানচালক, সহকারী, ফ্লাইট অ্যাটেনড্যান্ট, অথবা কোনো অভিজ্ঞ যাত্রীর কাছ থেকে জিজ্ঞাসা করে নিবে, যাকে সে বিশ্বাস করে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৫৩)।
***
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি উমরাহ করতে চায় এবং বিমানে ভ্রমণ করে, তার কি ইহরামের কাপড় না পরে শুধুমাত্র উমরার নিয়ত করে তালবিয়া পাঠ করা জায়েয, যেহেতু সে জেদ্দায় কিছু কাজ সম্পন্ন করতে চায়? কাজ শেষ করার পর সে জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধবে এবং উমরাহ আদায় করতে যাবে। এ ক্ষেত্রে তার জন্য কী করা জরুরি?
উত্তর: যে কেউ ভ্রমণ শুরু করে হজ বা উমরার নিয়তে, তার জন্য নিয়ত অনুযায়ী ইহরাম বাঁধা ছাড়া মীকাত পার হওয়া অনুমোদিত নয়, তাকে সেলাই করা কাপড় পরা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ইহরামের নিষিদ্ধ কাজগুলো পরিহার করতে হবে।
অতএব: আপনার প্রশ্নে বর্ণিত কাজ করা বৈধ নয়, কারণ এটি শরিয়তের বিধানের পরিপন্থী। তবে আপনি ইহরাম ছাড়া জেদ্দায় গিয়ে আপনার প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে পারেন, তারপর মীকাতে ফিরে গিয়ে সেখান থেকে হজ বা উমরার ইহরাম বাঁধলে কোনো আপত্তি নেই।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৮১)।
***
প্রশ্ন: হজযাত্রী বা উমরাকারী কি মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত ‘আবয়ারে আলি’ (যুল-হুলাইফা) থেকে ইহরাম বাঁধতে পারবে?যদিও সে জেদ্দা বিমানবন্দরে নেমেছে, কিন্তু সে জেদ্দা থেকে মদিনায় যাবে, এরপর সেখানে ‘আবয়ারে আলি’ (যুল-হুলাইফা) থেকে ইহরাম বাঁধবে।
উত্তর: যদি কোনো হজযাত্রী জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং হজ আদায়ের আগে জেদ্দা থেকে মদিনায় যেতে চায়, তবে মদিনা সফর শেষ করে যখন সে হজ বা উমরাহ আদায়ের জন্য মক্কায় ফিরে আসবে, তখন তাকে মদিনাবাসীদের মীকাত "যুল-হুলাইফা" (যা "আবয়ারে আলি" নামে পরিচিত) থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে। কারণ তার বিধান মদিনাবাসীদের মতোই হবে। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মীকাত সম্পর্কে বলেছেন: "এগুলো (মীকাত) তাদের জন্য নির্ধারিত, এবং তাদের জন্যও, যারা এগুলোর পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, যদিও তারা সেসব অঞ্চলের বাসিন্দা না হয়, যদি তারা হজ বা উমরার ইচ্ছা করে।" সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৯৪)।
***
প্রশ্ন: যদি কেউ কোনো মাসের শুক্রবার উমরাহ করে, তারপর অন্য কোনো এলাকায় যায় এবং দুই-তিন দিন পর মক্কায় ফিরে আসে এবং আবার একটি উমরাহ করতে চায়, তাহলে কি তার জন্য ইহরামের কাপড় না পরে উমরাহ করা বৈধ?
উত্তর: যে কেউ উমরাহ করতে চায়, তার জন্য ইহরাম বাঁধা জরুরি সেই মীকাত থেকে, যা সে মক্কার উদ্দেশ্যে আসার পথে অতিক্রম করবে। ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করা বৈধ নয়, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই মীকাতগুলো নির্ধারণ করেছেন হজ বা উমরাহ করার ইচ্ছা পোষণকারী ব্যক্তিদের ইহরাম বাঁধার জন্য, তা প্রথমবারের উমরাহ হোক বা দ্বিতীয় কিংবা ততোধিকবারের উমরাহ হোক। আর যারা মীকাতের ভেতরে অবস্থান করে, তারা সেই স্থান থেকে ইহরাম বাঁধাবে, যেখান থেকে তারা উমরার নিয়ত করে। তবে যদি কেউ মক্কায় থাকে, তাহলে তাকে উমরার ইহরামের জন্য হারামের সীমানা ছেড়ে বেরিয়ে ‘হিল’ এলাকায় যেতে হবে, যেমনটি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশে করেছিলেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৫৪)।
***
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি প্রথমে নিজের জন্য উমরাহ করার পর তার পিতার জন্য উমরাহ করেছে এবং মক্কা নগরীর ইহরাম স্থল (তানয়ীম) থেকে তার পিতার উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছে, তার হুকুম কী?
উত্তর: যদি আপনি নিজের জন্য উমরাহ করেন, তারপর তা থেকে হালাল হয়ে যান এবং এরপর আপনার পিতার জন্য উমরাহ করতে চান; যদি তিনি মৃত বা অক্ষম হন, তবে আপনাকে হারামের সীমানা থেকে বেরিয়ে তানঈমের মতো কোনো ‘হিল’ এলাকায় যেতে হবে এবং সেখান থেকে উমরার ইহরাম বাঁধতে হবে। এ জন্য মীকাতে গিয়ে ইহরাম বাঁধা জরুরি নয়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৩৫)।
***
তৃতীয়ত: ইহরাম এবং এর নিষিদ্ধ বিষয়সংক্রান্ত ফতোয়া
প্রশ্ন: যদি কেউ উমরাহ বা হজের উদ্দেশ্যে ইহরাম পরার পর তা ভেঙে ফেলে, তবে তার ওপর কী করণীয়?
উত্তর: যদি কেউ ইহরামের কাপড় (ইজার ও রিদা) পরে কিন্তু হজ বা উমরার নিয়ত না করে এবং তালবিয়া পাঠ না করে, তাহলে সে তার ইচ্ছাধীন: চাইলে সে হজ বা উমরায় প্রবেশ করতে পারে, আবার চাইলে তা পরিত্যাগ করতেও পারে। এতে কোনো গুনাহ নেই, যদি সে ইতিমধ্যে ইসলামের ফরয হজ ও উমরা আদায় করে থাকে।
কিন্তু যদি সে হজ বা উমরায় প্রবেশের নিয়ত করে থাকে, তাহলে তার জন্য তা বাতিল করা এবং তা থেকে ফিরে আসা বৈধ নয়। বরং তার জন্য আবশ্যক যে, শরীয়তের নিয়ম অনুযায়ী সে যার জন্য ইহরাম বেঁধেছে, তা সম্পন্ন করা। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: “তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরা সম্পুর্ণ করো।”
এ থেকে আপনার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে যায় যে, কোনো মুসলিম যদি হজ বা উমরার নিয়ত করে ইহরামে প্রবেশ করে, তবে তার জন্য তা বাতিল করা জায়েয নয়। বরং তাকে অবশ্যই তা সম্পূর্ণ করতে হবে, যা সে শুরু করেছে, উল্লেখিত আয়াতের ভিত্তিতে। তবে যদি কেউ ইহরামে প্রবেশের সময় শর্ত নির্ধারণ করে এবং সে আশঙ্কা করছিল এমন কোনো প্রতিবন্ধকতা সামনে আসে, তাহলে তার জন্য ইহরাম থেকে হালাল হওয়া জায়েয। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুবাআহ বিনতে যুবাইরকে বলেছেন, যখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আমি হজ করতে চাই, কিন্তু আমি অসুস্থ," তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তুমি হজ করো এবং শর্ত রাখো যে, যেখানে আমি বাধাগ্রস্ত হব, সেটিই হবে আমার হালাল হওয়ার স্থান।” সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৬৬)।
***
প্রশ্ন: জনৈক মহিলা উমরার জন্য ইহরাম বাঁধার পর তার হায়েয হয়ে যায়, ফলে সে তাওয়াফ এবং সায়ী করেনি। এরপর সে তার বাড়িতে ফিরে গিয়ে ইহরাম থেকে হালাল হয়েছে। এ অবস্থায় তার কোনো দায়িত্ব কি আছে? যদি সে ইহরাম থেকে হালাল না হয়, তবে কি তার জন্য কোনো করণীয় রয়েছে?
উত্তর: যে নারী উমরার ইহরাম বেঁধেছে, কিন্তু পরে হায়েয হয়ে গেছে এবং তাওয়াফ ও সায়ী করার আগে ইহরাম থেকে হালাল হয়ে গেছে, তবে সে যদি শরয়ী বিধান সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে এবং স্বামীর সঙ্গে সহবাস না করে থাকে, তাহলে তার জন্য ওয়াজিব হবে—হায়েয শেষ হওয়ার পর গোসল করবে, যেমনটি জানাবাতের গোসল করে, তারপর তাওয়াফ ও সায়ী সম্পন্ন করবে এবং মাথার চুল কেটে হালাল হবে। এতে তার ওপর আর কিছু লাগবে না।
আর যদি সহবাস করে ফেলে, তাহলে তার উমরাহ বাতিল হয়ে যাবে। তবে তাকে উমরার বাকি কার্যক্রম—তাওয়াফ, সায়ী ও চুল কাটা—সম্পন্ন করতে হবে। এরপর তার জন্য আবশ্যক হবে, পূর্বের উমরার পরিবর্তে নতুন একটি উমরা সম্পন্ন করা। সে উমরার জন্য সেই মিকাত থেকেই ইহরাম বাঁধতে হবে, যেখান থেকে সে প্রথমবার ইহরাম করেছিল। এছাড়া, তার ওপর একটি দম (কুরবানী) ওয়াজিব হবে—অর্থাৎ, ছয় মাস বা তার বেশি বয়সের একটি দুম্বা অথবা এক বছর বা তার বেশি বয়সের একটি ছাগল মক্কায় জবাই করতে হবে এবং তা মক্কার দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করতে হবে।
আর যদি সে এখনো উমরাহ থেকে হালাল না হয়ে থাকে, তবে তার অবশ্যই উমরার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে—তাওয়াফ করবে, সায়ী করবে এবং মাথার চুল সামান্য কেটে উমরা থেকে হালাল হবে। কোনো অবস্থাতেই হায়েযের কারণে উমরা বাতিল হবে না।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩২৩)।
***
প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত সাবান ব্যবহার করা কি জায়েয?
উত্তর: ইহরাম অবস্থায় পুরুষ বা মহিলা উভয়ের জন্যই সুগন্ধি ব্যবহার করা জায়েয নয় এবং এর মধ্যে সুগন্ধি সাবান ব্যবহারও অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে জেনেবুঝে সুগন্ধি স্পর্শ করবে, তাকে ফিদিয়া প্রদান করতে হবে। তবে, যদি কেউ অজ্ঞতা বা ভুলবশত সুগন্ধি স্পর্শ করে, তাহলে তার উপর কোনো দণ্ড নেই। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: “হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না।” তাছাড়া নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের ওপর ভুল, ভুলে যাওয়া এবং যা কিছু তারা বাধ্য হয়ে করেছে তা মাফ করা হয়েছে।"
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৩৭)।
***
প্রশ্ন: আমি হারামে প্রবেশের আগে বাথরুমে গিয়েছিলাম এবং ভুলবশত কিছুক্ষণ ইহরামের কাপড় মাথায় দিয়ে রেখেছিলাম। তারপর স্মরণ হলে আমি তা সরিয়ে নিয়েছি। প্রশ্ন হলো: এখন আমাকে কি কিছু করতে হবে?
উত্তর: যদি ইহরাম অবস্থায় কেউ ভুলবশত কোনো নিষিদ্ধ কাজ করে, তবে তার উপর কর্তব্য হলো তা স্মরণ হওয়ার সাথেসাথে তা থেকে বিরত হওয়া এবং এতে কোনো পাপ বা কাফফারা নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেন: “হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না।” তখন আল্লাহ তায়ালা বলেন: ঠিক আছে আমি তাই করবো। যেমনটি বিশুদ্ধ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে। এছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: “আমার উম্মতের ওপর ভুল, ভুলে যাওয়া এবং যা কিছু তারা বাধ্য হয়ে করেছে তা মাফ করা হয়েছে।”
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৪৯)।
***
প্রশ্ন: আমি, আমার স্ত্রী এবং আমার বোন রমযান মাসে উমরাহ করেছি, তবে আমি না জানার কারণে উমরাহ চলাকালে তাদের হাতমোজা পরতে বলেছিলাম। আমাদের এখন কী করতে হবে?
উত্তর: যদি কোনো মহিলা ইহরাম অবস্থায় অজ্ঞতাবশত হাতমোজা পরেন, তাহলে তার উপর কোনো কিছু বাধ্যতামূলক নয়। তবে, যদি তিনি ইহরাম অবস্থায় এর হুকুমটি জেনে যান, তাহলে তখনই হাতমোজা খুলে ফেলা তার জন্য আবশ্যক।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৫৬)।
***
প্রশ্ন: আমি ও আমার স্ত্রী উমরার জন্য ইহরাম বাঁধি। কিন্তু ইহরামের পর আমার স্ত্রীর মাসিক শুরু হয়। বিধান সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে আমি ইহরাম মুক্ত হয়ে যাই এবং ইহরামের পোশাক খুলে ফেলি, আর আমরা মক্কায় যাইনি। এরপর এ বছর রমযান মাসে, আল্লাহর অনুগ্রহে, আমরা উমরাহ সম্পন্ন করেছি। এখন শরিয়তের দৃষ্টিতে কী করণীয়? আমি এখন কী করতে পারি?
উত্তর: আপনার উচিত ছিল উমরাহ সম্পন্ন করা এবং তা বাতিল না করা। ইহরামের নিয়ত পরিত্যাগ করা এবং সাধারণ পোশাক পরা বাস্তবতা পরিবর্তন করে না, কারণ ইহরাম তখনো বহাল থাকে এবং বাতিল হয় না। সুতরাং, আপনার দ্বিতীয় উমরাহ মূলত প্রথম উমরারই একটি ধারাবাহিকতা হিসেবে গণ্য। তবে, যদি উমরাহ আদায়ের আগেই আপনাদের মাঝে সহবাস ঘটে থাকে, তাহলে আপনাকে আরেকটি উমরাহ আদায় করতে হবে, যা প্রথম উমরার ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি সেই মীকাত থেকে শুরু করতে হবে যেখান থেকে আপনি প্রথম উমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। এছাড়া, আপনাদেরকে ফিদিয়া দিতে হবে আর তা হল দুইজনের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কুরবানী করা, যা মক্কায় জবাই করে হারামের গরিবদের মাঝে বিতরণ করতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৮৪)।
***
প্রশ্ন: চামড়ার কোমরবন্ধনী (হিমিয়ান) পরার বিধান কী, যদি এতে সেলাই করা থাকে, অর্থাৎ মেশিন দ্বারা সেলাই করা হয়? একইভাবে, সেলাইযুক্ত জুতা পরার বিধান কী?
উত্তর: যে ব্যক্তি হজ বা উমরার জন্য ইহরাম বাঁধে, তার জন্য বেল্ট ও জুতা পরা জায়েয, যদিও তা মেশিন দ্বারা সেলাই করা হয়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৭০)।
***
প্রশ্ন: আমি যখন আবিয়ার আলী (যুল হুলায়ফা) থেকে ইহরাম বাঁধলাম এবং মক্কার পথে চলতে লাগলাম, তখন পথের ক্লান্তির কারণে আমার প্রচণ্ড জ্বর এল। ফলে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম এবং মাথা ঢেকে ফেললাম। এখন কি আমার কিছু করা আবশ্যক?
উত্তর: আপনার উপর ফিদয়া আবশ্যক, যা হলো— তিন দিন রোজা রাখা, বা ছয়জন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করা, অথবা হারাম এলাকায় একটি ছাগল জবাই করা।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৮১)।
***
প্রশ্ন: পায়ে মোজা পরার বিধান কী? মোজা পরা অবস্থায় তাওয়াফ করা জায়েয কি? এছাড়া, মোজা কি সেলাইযুক্ত পোশাকের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তর: হজ বা উমরার ইহরাম অবস্থায় পুরুষের জন্য মোজা পরা জায়েয নয়। তবে যদি কোনো অসুস্থতা বা অন্য কোন প্রয়োজনে মোজা পরতে হয়, তাহলে তা বৈধ, তবে এর জন্য ফিদয়া দেওয়া আবশ্যক। ফিদয়া হলো— তিন দিন রোজা রাখা, বা ছয়জন দরিদ্রকে খাদ্য প্রদান করা (প্রতি জনকে আধা সা’ খেজুর বা অনুরূপ খাবার), অথবা একটি ছাগল জবাই করা।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৮৩)।
***
প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় শরীর ঠাণ্ডা রাখতে সম্পূর্ণ শরীর ধোয়া কি জায়েয? যদি জায়েয হয়, তবে কেন?
উত্তর: যদি গরম অনুভূত হয়, তাহলে মুসলমানের জন্য শরীর ঠাণ্ডা করার উদ্দেশ্যে সম্পূর্ণ দেহ ধোয়া জায়েয। এটি তার জন্য এই ইবাদতে উদ্যম ও সতেজতা আনয়ন করবে। তবে গোসলের সময় সাবধান থাকতে হবে, যেন শরীরের কোনো চুল বা ত্বকের অংশ না ঝরে যায়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৮৪)।
***
প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় যদি কোনো ব্যক্তি তার গাড়ি দিয়ে কোনো গাছ বা ঘাসের ওপর দিয়ে চলে যায়, তবে কি তার ওপর কোনো বিধান প্রযোজ্য হবে?
উত্তর: যদি এটি হারাম এলাকার বাইরে ঘটে, তাহলে তার ওপর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে যদি এটি কারো মালিকানাধীন হয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া আবশ্যক। আর যদি হারাম এলাকায় কোনো গাছ বা ঘাস নষ্ট করে এবং তা কারো মালিকানাধীন হয়, তাহলেও মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু যদি তা কারো মালিকানাধীন না হয়, তাহলে তার ওপর কোনো দায় থাকবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে তা করা উচিত নয়, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ থেকে নিষেধ করেছেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৮৫)।
***
প্রশ্ন: ইহরাম অবস্থায় পুরুষ ও মহিলারা কি তাদের ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করতে পারে, হোক তা হজ বা উমরার সময়?
উত্তর: হজ বা উমরার ইহরামে থাকা ব্যক্তি তার ইহরাম পরিবর্তন করে অন্য ইহরামের পোশাক পরতে পারে, এবং এই পরিবর্তন তার হজ বা উমরার ইহরামের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৮৫)।
***
প্রশ্ন: কাবা শরিফের মুলতাজিমে শরীর লাগিয়ে দোয়া করার সময়, আমি হঠাৎ করে কাবার সুগন্ধী তেলের সাথে হাত লাগিয়ে ফেলি, এবং তা আমি শরীর, চুল ও কাপড়ে মাখিয়ে ফেলি। অনিচ্ছাকৃতভাবে আমার দ্বারা তা হয়ে যায়, তারপর আমি ওজু করি এবং তেলের প্রভাব প্রায় দূর করে ফেলি। এ ক্ষেত্রে, এই সুগন্ধী তেল মাখার বিধান কী?
উত্তর: কাবা শরিফের সুগন্ধী তেলে আপনার হাত লাগানো এবং তারপর তা শরীর, চুল ও কাপড়ে মাখা আপনার জন্য নিষিদ্ধ। এ কারণে ফিদয়া আদায় করা আবশ্যক, যা হলো— তিন দিন রোযা রাখা, বা ছয়জন গরিবকে আধা সা’ করে খাবার দেওয়া, অথবা একটি ছাগল কোরবানী করা। তবে যদি আপনি শরয়ী হুকুম না জানতেন বা ভুলবশত এমনটি হয়ে থাকে, তবে আপনার ওপর কোনো কিছু বর্তাবে না।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৮৬)।
***
প্রশ্ন: এক মহিলা তিনবার উমরা করেছেন, তিনি বোরকা পরতেন এবং তার বোরকার উপর দিয়ে চেহারা ঢাকার একটি হালকা কাপড় পরতেন। কখনো সেটি মুখের চাদরের উপরে পরতেন, কখনো আবার উঠিয়ে রাখতেন। তবে তিনি বোরকা পরার বিধান জানতেন না। সম্মানিত শায়খ, এ ক্ষেত্রে তার বিধান কী?
উত্তর: হজ বা উমরার ইহরাম অবস্থায় কোনো মহিলার জন্য নেকাব পরা জায়েয নয়, অর্থাৎ চেহারার ওপর নেকাব পরা, যা বোরকা হিসেবে পরিচিত। তবে, যদি তার সামনে অজ্ঞাত পুরুষ থাকে, তাহলে সে তার মুখের ওপর ওড়না বা কাপড় টেনে দিতে পারে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ বিদায় হজের সময় করেছিলেন। যেহেতু উক্ত মহিলা অজ্ঞতাবশত নেকাব পরেছেন, তাই তার ওপর কোনো গুনাহ নেই; কারণ তিনি অজ্ঞতার কারণে এটি করেছেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৯৪)।
***
চতুর্থত: তাওয়াফ সম্পর্কিত ফতোয়া
প্রশ্ন: আমি উমরা পালন করেছি, তবে পুরো পদ্ধতি জানতাম না, তাই তাওয়াফ শুরু করার সময় আমি হজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) থেকে শুরু না করে রুকনে ইয়ামানি থেকে শুরু করি, এটি শর্তাবলী ও ওয়াজিব সম্পর্কে আমার অজ্ঞতার কারণে। এরপর বাকি সবকিছু সঠিকভাবে করেছি, ইনশাআল্লাহ। দয়া করে জানাবেন, এতে আমার উপর কী বর্তাবে?
উত্তর: প্রশ্নকারী যে কাজটি করেছেন, অর্থাৎ রুকন ইয়ামানি থেকে তাওয়াফ শুরু করা, এটি ভুল ছিল, কারণ তাওয়াফ শুরু করতে হয় হাজরে আসওয়াদ থেকে। তবে, এই ভুল তাওয়াফের সঠিকতায় প্রভাব ফেলবে না, কারণ এটি প্রথম চক্করে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে। ফলে এটা কোনো ক্ষতি করবে না যদি তিনি সপ্তম চক্কর শেষ করে থাকেন হাজরে আসওয়াদে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২১০)।
***
প্রশ্ন: তাওয়াফের সময় ইযতিবা করা কি সুন্নাত? কেউ যদি এটি ভুলে যায় তবে তার জন্য কী বিধান? হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার সময় শুধু ‘বিসমিল্লাহ, আল্লাহু আকবর’ বলা কি যথেষ্ট? কেউ যদি এই কথা বলা ভুলে গিয়ে শুধু চুম্বন করে, পরে মনে পড়ে এবং মাকামের দিকে যাওয়ার সময় বলে, তবে তার জন্য কী বিধান?
উত্তর: ইযতিবা হলো— ইহরাম পরিধানকারী ব্যক্তি তার চাদরের মধ্যভাগ ডান বগলের নিচ দিয়ে নিয়ে উভয় প্রান্ত বাম কাঁধের ওপর রাখবে, ফলে তার ডান কাঁধ ও বাহু উন্মুক্ত থাকবে। এটি একটি সুন্নাত আমল, যা মক্কায় প্রবেশের পর প্রথম তাওয়াফে পালন করতে হয়। আর তা তামাত্তু হাজীর উমরার তাওয়াফ, অথবা কিরান ও ইফরাদ হাজীর তাওয়াফে কুদুমের সময়। তবে কেউ যদি এটি না করে, তাহলে তার ওপর কিছু (গুনাহ বা জরিমানা) নেই।
যে ব্যক্তি তাওয়াফের শুরুতে তাকবির (আল্লাহু আকবার) ও বিসমিল্লাহ বলা ছেড়ে দিয়েছে, তার ওপর কোনো দায় নেই। কারণ তাওয়াফ ও সায়ী করার সময় তাকবির, যিকির এবং দোয়া করা সুন্নাত, ফরয নয়। তবে তাওয়াফ ও সায়ীর শুরুতে নিয়ত করা বাধ্যতামূলক।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২১০)।
***
প্রশ্ন: তাওয়াফ করার সময় আমি আমার ছোট মেয়েকে কোলে রাখি, যে ডায়াপার পরা অবস্থায় ছিল। আমি শুনেছি যে, এই অবস্থায় তাওয়াফ করা জায়েয নয়, কারণ সাধারণত ডায়াপারে প্রস্রাব থাকতে পারে। দয়া করে জানাবেন, এর বিধান কী?
উত্তর: তাওয়াফ করার সময় শিশুকে বহন করা জায়েয, যদিও সে ডায়াপার পরা থাকে, তবে শর্ত হলো— তাওয়াফকারীর শরীর বা পোশাকে যেন কোনো নাপাকির স্পর্শ না লাগে। একই বিধান সালাতের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২৩৬)।
***
প্রশ্ন: কোনো মহিলার জন্য হায়েয (ঋতুস্রাব) অবস্থায় কি তাওয়াফ করা বৈধ?
উত্তর: হায়েয অবস্থায় কোনো মহিলার জন্য কাবা তাওয়াফ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে পূর্ণরূপে পবিত্র হয়ে গোসল করে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা (রা.)-কে তার হায়েয হওয়ার সময় এ বিষয়ে বলেছিলেন: "বায়তুল্লায় তাওয়াফ করো না যতক্ষণ না তুমি পবিত্র হও।"
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২৪৯)।
***
প্রশ্ন: এটা কি সঠিক যে, কোন মহিলা তাওয়াফ ও সায়ী করবে এবং তার স্বামী বা মাহরাম ব্যক্তি তার সঙ্গে না থেকে হারামে কোথাও অপেক্ষা করবে। তারপর সে তাওয়াফ ও সায়ী শেষ করার পর ফিরে আসবে? অর্থাৎ, সে তার উমরা সম্পন্ন করা পর্যন্ত হারামে অপেক্ষা করবে?
উত্তর: মহিলাদের হজ বা উমরার তাওয়াফ বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য তার সঙ্গে তাওয়াফ চলাকালীন মাহরাম থাকার শর্ত নেই। তবে মহিলার জন্য মাহরামের শর্ত শুধুমাত্র উমরা বা অন্য কোনো সফরের ক্ষেত্রে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৫৩)।
***
প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি তাওয়াফ করছিলেন এবং উদাহরণস্বরূপ তিনি পঞ্চম চক্করে ছিলেন। কিন্তু তার পঞ্চম চক্করটি পূর্ণ করার আগেই সালাতের একামত দেওয়া হলো, তখন তিনি সালাত পড়লেন এবং পরে তাওয়াফ সম্পন্ন করতে দাঁড়ালেন। এমতবস্থায় তিনি কি তার পঞ্চম চক্করটি যা সালাতের কারণে স্থগিত করেছিলেন তা গণ্য করে সেখানে থেকেই শুরু করবেন, নাকি এই চক্করটি বাতিল করে আবার তাকে হাজরে আসওয়াদ থেকে শুরু করতে হবে?
উত্তর: সঠিক মত হল, এমন পরিস্থিতিতে চক্করটি বাতিল হবে না, বরং জামাতে সালাতের জন্য বিরতি নেয়ার পর তিনি সেই চক্করটি তার বিরতি নেয়া জায়গা থেকে শুরু করে সম্পন্ন করবেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২৩০)।
***
প্রশ্ন: হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) কি আসমান থেকে নেমে এসেছে? নাকি এটি অন্যান্য পাথরের ন্যায় সাধারণ একটি পাথর?
উত্তর: হাজরে আসওয়াদকে আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য চুম্বন ও স্পর্শ করার বিধান দিয়ে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। এটি কাবার এক কোণে স্থাপন করা হয়েছে, যে কাবার দিকে আমরা সালাতের সময় মুখ করি। তিনি তাওয়াফকারীদের জন্য এটি চুম্বন ও স্পর্শ করা বৈধ করেছেন যদি তা সম্ভব হয়, সম্ভব না হলে এর বরাবর হয়ে তাকবীরসহ এর দিকে ইশারা করবে। এ সম্পর্কে একটি হাদীস এসেছে, যা তিরমিযী ও অন্যান্য হাদীসগ্রন্থে রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে এটি জান্নাত থেকে নেমে এসেছে। কিন্তু এই হাদীসের সনদে কিছু দুর্বলতা রয়েছে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২২৮)।
***
প্রশ্ন: কাবা শরিফকে তাওয়াফ বা উমরার সময় চুম্বন করা কি হালাল, নাকি হারাম?
উত্তর: হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা শরীয়তসম্মত। এটা প্রমাণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করেছেন, কাবার অন্য কোন অংশকে চুম্বন করেননি।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২২৮)।
***
প্রশ্ন: মহিলার জন্য কি হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা সঠিক হবে, যদি তার চারপাশে অপরিচিত পুরুষরা থাকে?
উত্তর: হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা তাওয়াফের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত; যদি ভীড় না করে অথবা এর দ্বারা কাউকে কষ্ট না দিয়ে করা যায়। কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ। তবে, যদি ঠেলাঠেলি হয় বা অন্য কারো কষ্ট হয়, তখন এটি পরিহার করা উচিত এবং শুধু হাতে ইশারা করাই যথেষ্ট। বিশেষত মহিলাদের জন্য, কারণ তারা পর্দার অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া যেহেতু পুরুষদের জন্য ঠেলাঠেলি করা শরীয়ত সম্মত নয়, তাই মহিলাদের জন্য এটি আরও বেশি প্রযোজ্য। এছাড়া, যদি হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা সম্ভব হয় এবং কোন ভীড় না হয়, তবুও মহিলার জন্য এটি অনুচিত যে তিনি মুখ উন্মুক্ত করে চুম্বন করবেন, কারণ সেখানে গাইরে মাহরামের উপস্থিতি থাকতে পারে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২২৯)।
***
প্রশ্ন: হজ বা উমরা পালনকারী কি কাবা শরিফে তাওয়াফের সময় হিজরে ইসমাইলে (হাতিম) প্রবেশ করতে পারে?
উত্তর: হজ, উমরা বা নফল তাওয়াফ করার সময় তাওয়াফকারীর হিজরে ইসমাইল তথা হাতিমের ভেতর প্রবেশ করা জায়েয নয়। যদি কেউ সেখানে প্রবেশ করে, তবে তার তাওয়াফ সম্পূর্ণ হবে না, কারণ তাওয়াফ অবশ্যই কাবা শরীফের চারপাশে হতে হবে,আর হিজরে ইসমাইল তথা হাতিম কাবার একটি অংশ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর তারা যেন প্রাচীন ঘরের তাওয়াফ করে।” তাছাড়া ইমাম মুসলিম ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: "আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে হিজরে ইসমাইল সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম, তিনি বললেন: এটি কাবার অংশ।” || অপর হাদীসে বলা হয়েছে: "আমি নযর মেনিছি যে আমি কাবা শরিফে নামায পড়ব," তিনি বললেন: "তুমি হিজরে ইসমাইলের মধ্যে নামায পড়, কারণ হিজরে ইসমাইল কাবারই অংশ।"
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২৩৩)।
***
পঞ্চম: সায়ী সম্পর্কিত ফতোয়া
প্রশ্ন: সায়ী করার সময় সবুজ আলোযুক্ত দুটি চিহ্নের মধ্যে নারীদের দৌঁড়ানো সম্পর্কে- আমি হজ ও উমরা বিষয়ক ফিকহের বইগুলোতে গবেষণা করে নারীদের জন্য এটি নিষিদ্ধ হওয়ার কোনো দলীল পাইনি। তবে একবার টেলিভিশনে এক আলেমকে বলতে শুনেছি যে, নারীরা সায়ী করার সময় দৌঁড়াবে না, এটি শুধু পুরুষদের জন্য। কারণ, এটা নারীদের জন্য অধিক নিরাপদ এবং যাতে তাদের শারীরিক আকৃতি প্রকাশিত না হয়। কিন্তু তিনি তার কথার পক্ষে কোনো দলীল উপস্থাপন করেননি। আমি মনে মনে ভাবলাম: যদি এটি সত্যিই তার নিজস্ব ইজতিহাদ হয়, তবে সায়ী করার সময় দৌড়ানোও তো একটি সুন্নাত, যা হাজেরা রাদিয়াল্লাহু আনহা শুরু করেছিলেন। তবে আলহামদুলিল্লাহ, আমি যুক্তি ও মতামত বুঝতে পারি এবং আল্লাহর শুকরিয়া যে, দ্বীন ব্যক্তিগত মতের ওপর নির্ভরশীল নয়, যেমন আমিরুল মুমিনীন হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন। অনুগ্রহ করে আমাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিন, আল্লাহ আপনাদের বরকত দিন।
উত্তর: ইবনুল মুনযির বলেছেন: সকল বিদ্বান একমত যে, নারীদের জন্য বায়তুল্লায় তাওয়াফের সময় কিংবা সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করার সময় রমল ও দৌঁড়ানোর বিধান নেই। তাদের জন্য ‘ইযতিবা’ (ডান কাঁধ খোলা রাখা) করারও অনুমতি নেই। কারণ, রমল ও ইযতিবা মূলত শক্তিমত্তা প্রদর্শনের জন্য করা হয়, যা নারীদের জন্য উদ্দেশ্য নয়। বরং নারীদের জন্য পর্দা বজায় রাখা আবশ্যক। আর রমল ও ইযতিবা করার ফলে তাদের শরীরের কিছু অংশ প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২২৬)।
***
ষষ্ঠ: উমরা থেকে হালাল হওয়া সংক্রান্ত ফতোয়া
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি এই সপ্তাহে উমরা আদায় করে মাথা মুণ্ডন করেছে, এরপর আগামী সপ্তাহে আবার উমরা করতে চাইলে তার কী করা উচিত? কারণ, তার চুল খুবই ছোট এবং সম্ভবত এখনও ঠিকভাবে গজায়নি।
উত্তর: যে ব্যক্তি উমরা বা হজ আদায় করে, তার জন্য মাথা মুণ্ডন করা বা চুল ছোট করা আবশ্যক। তবে, যদি তার মাথায় চুল না থাকে, তাহলে এই বিধান তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ হবে না। এমতবস্থায়, তার হজ বা উমরা শুদ্ধ হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩২৭)।
***
প্রশ্ন: একদল লোক উমরা পালনের জন্য গিয়েছিল, তারা তাদের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাদের একজন অন্যদের মাথা মুণ্ডন করে দিল। এরপর অন্য একজন তার মাথা মুণ্ডন করল এবং এভাবে তারা হালাল হয়ে গেল। এর বিধান কী?
উত্তর: যদি মুহরিম ব্যক্তি অন্য মুহরিম ব্যক্তির মাথা মুণ্ডন করে দেয়- হালাল হওয়ার উদ্দেশ্যে, তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ, এই মুণ্ডন অনুমোদিত।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৪৬)।
***
প্রশ্ন: দয়া করে আমাদের জানাবেন যে, হজ ও উমরায় সঠিকভাবে মাথা মুণ্ডন করা কীভাবে হবে? এটি কি ব্লেড দিয়ে হওয়া উচিত, না মেশিন দিয়ে? এবং ব্লেড দিয়ে মুণ্ডন করা কি মেশিন দিয়ে মুণ্ডন করার চেয়ে ভাল, নাকি সবই সমান?
উত্তর: আসল বিষয় হলো, যে কোনো যন্ত্র দিয়েই মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা যথাযথভাবে, তবে মাথা মুণ্ডন করা বেশি উত্তম। মাথা মুণ্ডন করা মানে হলো, চুল সম্পূর্ণভাবে ফেলে দেয়া, তা ব্লেড (ক্ষুর) দিয়ে হোক বা অন্য কোনো যন্ত্র দিয়ে। বিশুদ্ধ সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি মাথা মুণ্ডনকারীদের জন্য তিনবার মাগফিরাত ও রহমত প্রার্থনা করেছেন এবং চুল ছোটকারীদের জন্য একবার দোয়া করেছেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২১০)।
***
প্রশ্ন: যদি জেদ্দার কোন বাসিন্দা উমরা করে এবং তিনি তার মাথা জেদ্দায় গিয়ে মুণ্ডন করেন, তবে এই কাজের কী হুকুম?
উত্তর: হজ বা উমরার জন্য মাথা মুণ্ডন করা, হোক সেটা হারাম এলাকার বাইরে বা ভিতরে, কোনো সমস্যা নেই। তবে উমরায় ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য তাকে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করতে হবে। আর হজের ক্ষেত্রে, যদি সে জামারায় পাথর নিক্ষেপ করে, তাওয়াফ করে এবং সায়ী করে, তবে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট না করা পর্যন্ত সে তার স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে পারবে না।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২০৩)।
***
প্রশ্ন: জনৈক ব্যক্তি জেদ্দায় আসলেন, তারপর পরবর্তী দিনে তিনি তার জীবনের প্রথম উমরা করতে গেলেন এবং তিনি তার কাছের একজন আত্মীয়ের সাথে উমরা পূর্ণ করলেন। সায়ী শেষে আমি তাকে বললাম, “আমরা কি মাথা মুণ্ডন করবো না কি চুল ছোট করবো?” সে বলল, “আমরা বাড়িতে মাথা মুণ্ডন করবো।” তারপর যখন আমরা বাড়ি ফিরলাম, আমরা মাথা মুণ্ডন করতে ভুলে গেলাম এবং ইহরামের পোশাকও খুলে ফেললাম। আমাদের এখন কি করা উচিত?
উত্তর: যে ব্যক্তি মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করতে ভুলে গেছে এবং তাওয়াফ ও সায়ী করার পর পোশাক পরেছে, তার উচিত যখন মনে পড়বে তখন দ্রুত পোশাক খুলে আবার ইহরামের পোশাক পরা এবং তারপর মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা। এরপর সাধারণ পোশাক পরিধান করা। এতে তার উপর কোনো কিছু বাধ্যতামূলক নয় এবং সে কোনো অপরাধীও নয়, কারণ সে ভুলে গিয়েছিল।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২০৬)।
***
হাজীদের যেসব ফতোয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি [২] এগুলো সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির ‘ফতোয়া সমগ্র’ থেকে বাছাই করা হয়েছে এবং প্রশ্নোত্তরগুলো আলোচ্য স্থানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।
হজের হুকুম, মর্যাদা এবং বদলী হজ সম্পর্কে
প্রশ্ন: ইসলামী বিশ্বের জন্য মক্কার গুরুত্ব কী?
উত্তর: আল্লাহ এটিকে মানুষের জন্য আশ্রয়স্থল ও নিরাপত্তার স্থান হিসেবে এবং একটি নিরাপদ পবিত্র স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এখানে হাজীগণ ও আলেমগণ তাদের হজের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য একত্রিত হন, সম্পূর্ণ প্রশান্তি ও স্বস্তির সাথে। তারা আল্লাহর পুরস্কারের আশা করেন এবং তাঁর শাস্তির ভয় করেন। মুসলমানরা এখানে একে অপরের সাথে পরিচিত হন, পরস্পরের কল্যাণ কামনা করেন এবং তাদের দ্বীন ও দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেন। এ স্থানে সালাত ও অন্যান্য নেক আমলের সাওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৮)।
***
প্রশ্ন: আমার বাবা প্রায় ৪০ বছর আগে একবার পায়ে হেঁটে হজ্জ করেছেন। তিনি দুটি উমরাহও করেছেন, যার মধ্যে একটি তিনি মৃত্যুর অন্তত তিন বছর আগে করেছেন। তিনি পড়তে ও লিখতে জানতেন না, তাই আমি জানি না তিনি কীভাবে এই হজ্জ সম্পন্ন করেছেন। এখন আমার কি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করা প্রয়োজন? এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
উত্তর: হজ জীবনে একবারই ফরয। আমল ও ইবাদতের মূলনীতি হলো তা সঠিকভাবে সম্পাদন করা। তাই দ্বিতীয়বার হজ্জ করা আবশ্যক নয়। তবে আপনি যদি আপনার বাবার পক্ষ থেকে হজ্জ করেন, তাহলে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। এতে আপনার এবং আপনার বাবার জন্য মহান সওয়াব রয়েছে, যদি আল্লাহ তা গ্রহণ করেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১৫/ ১১)।
***
প্রশ্ন: স্বামীর অনুমতি ব্যতীত স্ত্রীর জন্য ফরয হজে বের হওয়ার হুকুম কী?
উত্তর: যদি সামর্থ্যের শর্তগুলো পূর্ণ হয়, তাহলে ফরয হজ পালন করা স্ত্রী’র জন্য আবশ্যক এবং এর জন্য স্বামীর অনুমতি শর্ত নয়। আর স্বামীর জন্য তাকে নিষেধ করাও বৈধ নয়; বরং তার উচিত এই ফরয আদায়ে স্ত্রীর সাথে সহযোগিতা করা।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২০)।
***
প্রশ্ন: বিবাহিত নারীর জন্য কি স্বামীর সন্তুষ্টি ব্যতীত তার ভাইদের সঙ্গে হজে যাওয়া বৈধ?
উত্তর: স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া হজের সফরে যেতে পারবে না, তবে যদি তা ফরয হজ হয়, তাহলে স্বামীর জন্য তাকে বাধা দেওয়ার অধিকার নেই, যদি তার সঙ্গে কোনো মাহরাম থাকে। তবে মাহরাম ছাড়া সে হজ তো দূরের কথা, কোনো সফরেই যেতে পারবে না; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে নারী আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তার জন্য মাহরাম ছাড়া সফর করা বৈধ নয়।" নারীদের দলের সাথে থাকা মাহরামের বিকল্প নয় এবং এ বিষয়ে ফরয হজসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই বিধান।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৪০)।
***
প্রশ্ন: যদি আমি আমার এই ছোট শিশুকে, যে এখনো বালেগ হয়নি, সঙ্গে নিয়ে হজ করাতে চাই, তাহলে কি আমি তাকে ইহরামের পোশাক পরাব এবং তার পক্ষ থেকে হজের সব কার্যাদি (যেমন তাওয়াফ ইত্যাদি) সম্পন্ন করব, নাকি তাকে সাধারণ পোশাক পরাব ও কিছুই করব না, যেহেতু সে ছোট এবং তার ওপর হজ ফরয নয়?
উত্তর: যে শিশু বুদ্ধি-বিবেচনাসম্পন্ন হলেও এখনো বালেগ হয়নি, যদি তার অভিভাবক তাকে হজ করাতে চান, তাহলে তাকে ইহরামের পোশাক পরতে আদেশ করবেন এবং সে শিশু নিজেই ইহরাম বাঁধা থেকে শুরু করে হজের শেষ পর্যন্ত সব কাজ সম্পন্ন করবে। যদি সে নিজে কংকর নিক্ষেপ করতে অক্ষম হয়, তাহলে অভিভাবক তার পক্ষ থেকে নিক্ষেপ করবেন। তাকে ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দিবেন। আর যদি সে এখনো বুদ্ধি-বিবেচনাসম্পন্ন না হয়, তাহলে অভিভাবক তার পক্ষ থেকে হজ বা উমরার নিয়ত করবেন, তাকে নিয়ে তাওয়াফ ও সায়ী করবেন, অন্যান্য কাজেও সঙ্গে রাখবেন এবং তার পক্ষ থেকে কংকর নিক্ষেপ করবেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২২)।
***
প্রশ্ন: যদি কোনো ছোট ছেলে বা মেয়ে বাচ্ছা ফরয হজ আদায় করে, তাহলে কি তা যথেষ্ট হবে, নাকি এটি শুধু নফল হিসেবে গণ্য হবে এবং এর সওয়াব তার বাবা-মায়ের জন্য হবে?
উত্তর: অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর উমরা বা হজ নফল হিসেবে গণ্য হবে এবং এটি ইসলামের ফরয হজ ও উমরা হিসেবে যথেষ্ট হবে না।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২৩)।
***
প্রশ্ন: জনৈক নারী সৌদি আরবে এসেছেন এবং মেজবানের খরচে ফরয হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন। তিন জানতে চান যে, তার এই হজ কি ইসলামের ফরয হজ হিসেবে গণ্য হবে, যদিও তিনি নিজ অর্থ থেকে কিছুই ব্যয় করেননি?
উত্তর: এতে তার ফরয হজ আদায়ের উপর কোনো প্রভাব পড়বে না, যদিও সে নিজের অর্থ থেকে কিছুই ব্যয় না করে থাকে, অথবা সামান্য ব্যয় করে এবং অধিকাংশ ব্যয় অন্য কেউ বহন করে। সুতরাং, যদি তার হজের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিব বিষয়গুলো সম্পূর্ণ করে, তাহলে এটি তার ফরয হজ হিসেবে গণ্য হবে, যদিও এর খরচ অন্য কেউ বহন করে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩৪)।
***
প্রশ্ন: এখান ... থেকে হজ করতে চাইলে ১,২৫,০০০ ... পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখতে হয়, যা খুব বড় অঙ্কের অর্থ। অথচ ব্যাংকগুলো সুদভিত্তিক এবং এই উপায় ছাড়া হজে যাওয়ার অন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। এমতবস্থায় সামর্থ্যবান মুসলিমের জন্য এ অবস্থায় হজ কি ফরয? আর যদি কেউ এভাবে হজ করে, তাহলে কি তার হজ শুদ্ধ হবে, যদিও সে সুদভিত্তিক ব্যাংক ও রাষ্ট্রকে সহায়তা করেছে?
উত্তর: হজ শুদ্ধ হবে, এবং উল্লিখিত বিষয়টি হজ বিলম্বিত করার বৈধ অজুহাত হিসেবে গণ্য হবে না, যদি ব্যক্তি হজ আদায় করার সামর্থ্য রাখে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৪২)।
***
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি হারাম অর্থ দিয়ে হজ করে, তার হজের হুকুম কী? এই হজ কি গ্রহণযোগ্য হবে, নাকি গ্রহণযোগ্য হবে না?
উত্তর: হারাম অর্থ দিয়ে হজ করা হজের শুদ্ধতাকে নষ্ট করে না, তবে হারাম উপার্জনের কারণে গুনাহ হবে এবং এর ফলে হজের সওয়াব কমে যাবে, তবে হজ বাতিল হবে না।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৪৩)।
***
প্রশ্ন: আমি ব্যাংক থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণ নিয়েছি, যা বার্ষিক কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। তাহলে কি আমার জন্য হজ করা বৈধ, যদিও এই ব্যাংক ঋণের দায় আমার ওপর রয়েছে?
উত্তর: হজের জন্য সামর্থ্য থাকা; হজ আবশ্যক হওয়ার একটি শর্ত। যদি আপনি হজের খরচ বহন করতে পারেন এবং হজের সময় নির্ধারিত কিস্তিও পরিশোধ করতে সক্ষম হন, তাহলে আপনার জন্য হজ করা ফরয। তবে যদি উভয়টি একসঙ্গে আদায় করা সম্ভব না হয়, তাহলে প্রথমে নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধ করা অগ্রাধিকার পাবে এবং হজ পরবর্তী সময়ের জন্য স্থগিত থাকবে, যতক্ষণ না আপনি তা পালনে সামর্থ্যবান হন। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন: “এবং সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহতে হজ্জ করা ফরয।”
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৪৫)।
***
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তি বা বৃদ্ধের পক্ষ থেকে হজ করতে চায়, অথচ সে নিজে আগে কখনো হজ করেনি এবং তার নিজের কোনো অর্থ নেই, বরং শুধুমাত্র তার নিয়োগদাতার অর্থেই হজ করতে সক্ষম—তাহলে কি সে প্রথমে নিজের পক্ষ থেকে হজ করবে, নাকি নিয়োগদাতার পক্ষ থেকে?
উত্তর: কোনো ব্যক্তির জন্য নিজের হজ সম্পন্ন করার আগে অন্যের পক্ষ থেকে হজ (বদলী হজ) করা জায়েয নয়। এর মূল দলীল হলো ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: ‘লাব্বাইক, আমি শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ করছি।’ তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: ‘তুমি কি নিজের জন্য হজ করেছ?’ সে বলল: ‘না।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘আগে নিজের জন্য হজ করো, তারপর শুবরুমার পক্ষ থেকে।”
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৫০)।
***
প্রশ্ন: যে মুসলিম নিজের ফরয হজ আদায় করেছে, তার জন্য কি এমন কোনো আত্মীয়ের পক্ষ থেকে হজ করা বৈধ, যে নিজের ফরয হজ আদায়ে সক্ষম নয়?
উত্তর: যে মুসলিম নিজের ফরয হজ সম্পন্ন করেছে, তার জন্য অন্যের পক্ষ থেকে হজ করা বৈধ; যদি সেই ব্যক্তি নিজে হজ করতে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়—যেমন বার্ধক্যের কারণে, বা এমন অসুস্থতা যা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা নেই, অথবা সে মারা গেলে। এ বিষয়ে সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণ রয়েছে। তবে যদি যার পক্ষ থেকে হজ করা হচ্ছে, সে কোনো সাময়িক কারণে হজে যেতে অক্ষম হয়—যেমন এমন অসুস্থতা যা ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা, অথবা নিরাপত্তার অভাব—তাহলে তার পক্ষ থেকে হজ করা বৈধ হবে না।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৫১)।
***
প্রশ্ন: আমার পিতা-মাতা অসচ্ছল ছিলেন এবং তাদের ওপর হজ ফরয ছিল না। কিন্তু আমি তাদের পক্ষ থেকে হজ করতে চাই। শরীয়তের দৃষ্টিতে এর বিধান কী?
উত্তর: যদি আপনি নিজে আপনার ফরয হজ সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আপনি আপনার পিতা-মাতার জন্য হজ করতে পারেন অথবা এমন কাউকে দিয়ে করাতে পারেন, যে ইতিপূর্বে নিজের জন্য হজ সম্পন্ন করেছে। এর প্রমাণ হলো, সুনানে আবু দাউদে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এক ব্যক্তিকে বলতে শুনলেন: ‘লাব্বাইক, আমি শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ করছি।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন: ‘শুবরুমা কে?’ সে বলল: ‘আমার ভাই অথবা আমার কোনো আত্মীয়।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন: ‘তুমি কি নিজের জন্য হজ করেছ?’ সে বলল: ‘না।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘আগে নিজের জন্য হজ করো, তারপর শুবরুমার পক্ষ থেকে।’" এটি ইবনে মাজাহও বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকী বলেন: "এটির সনদ সহিহ, এবং এ বিষয়ে এর চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ হাদিস নেই।"
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৫৩)।
***
প্রশ্ন: কেউ কি একবার হজ করতে গিয়ে একই সাথে নিজের এবং তার পিতা ও মাতার পক্ষ থেকে হজ আদায় করতে পারে?
উত্তর: মৃত ব্যক্তি বা যে নিজে হজ করতে অক্ষম, তার পক্ষ থেকে বদলী হজ করা জায়েয। তবে একবার হজ করতে গিয়ে তা একই সাথে দুই ব্যক্তির জন্য আদায় করা বৈধ নয়, কারণ হজ কেবল একজনের পক্ষ থেকেই শুদ্ধ হয়, ঠিক যেমন উমরাও কেবল একজনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হয়। তবে যদি কেউ একই বছরে এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে হজ এবং অন্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে উমরা করে, তাহলে তা বৈধ হবে—শর্ত হলো, তাকে আগে নিজের জন্য হজ এবং উমরা সম্পন্ন করে নিতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৫৭)।
***
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি হজের সফরে উমরার নিয়ত করে তার মায়ের জন্য আর হজ করে তার বাবার জন্য এবং পরের বছর এর বিপরীতভাবে হজ করে মায়ের জন্য ও উমরা করে বাবার জন্য—এটি কি বৈধ?
উত্তর: হজ ও উমরা উভয়ই স্বতন্ত্র ইবাদত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিরান, ইফরাদ ও তামাত্তু হিসেবে হজ এবং উমরা সম্পাদনের পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। সুতরাং, যদি কেউ উমরার ইহরাম বাঁধে তার মায়ের জন্য এবং উমরা সম্পন্ন করার পর হজের ইহরাম বাঁধে তার বাবার জন্য, অথবা এর বিপরীতভাবে করে, তবে সে এটি করতে পারে। একইভাবে, যদি কেউ প্রথমে নিজের পক্ষ থেকে হজ বা উমরার কোন একটি করার ইহরাম বাঁধে, তারপর তা সম্পন্ন করার পর অন্যটির নিয়ত করে তার বাবার জন্য, তবে এটি অনুমোদিত। কারণ, সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সে যা নিয়ত করে, তাই গণ্য হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৫৮)।
***
প্রশ্ন: আমার স্বামী (আল্লাহ তাকে রহমত করুন) ইন্তেকাল করেছেন, এবং আমি ইনশাআল্লাহ এই বছর তার পক্ষ থেকে কাউকে হজ করানোর জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ করতে চাই। যিনি তার পক্ষ থেকে হজ করবেন, তিনি কি কষ্টের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিতে পারেন, যা যাতায়াত, খাদ্য ও পানীয়ের খরচের বাইরে? নাকি এটি অনুমোদিত নয়? দয়া করে আমাকে জানাবেন, আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
উত্তর: যে ব্যক্তি অন্যের পক্ষ থেকে হজ করার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়, তার জন্য এই কাজের বিনিময়ে নির্ধারিত পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ, এমনকি তা তার যাতায়াত, খাদ্য, পানীয় এবং হজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য খরচের চেয়ে বেশি হলেও। তবে, তার জন্য উত্তম হলো—এই কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কল্যাণ-সাওয়াবে শরিক হওয়া এবং আল্লাহ যে ইবাদতের সুযোগ দিয়েছেন, তা আন্তরিকভাবে সম্পাদন করা। শুধু অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যেই হজ করা উচিত নয়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৬০)।
***
প্রশ্ন: আমরা হজ করেছি এবং আমাদের সঙ্গে একটি ছোট শিশু ছিল। আমরা তার পক্ষ থেকে একজন মৃত নারীর জন্য নিয়ত করেছি এবং তার হয়ে তওয়াফ করেছি, হজের কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি এবং তার পক্ষ থেকে ফিদিয়া দিয়েছি। এর বিধান কী?
উত্তর: শিশুর দ্বারা সম্পাদিত হজ তার নিজের জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।সে অন্য কারও পক্ষ থেকে হজ করতে পারবে না যতক্ষণ না সে নিজের হজ আদায় করে। ফরয হজ তখনই গ্রহণযোগ্য হবে, যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৬৮), কিছুটা পরিবর্তন সহ।
***
প্রশ্ন: একজন ব্যক্তির জন্য কি নিজে হজে যাওয়ার আগে তার বাবা-মাকে হজে পাঠানো জায়েয হবে?
উত্তর: হজ প্রতিটি স্বাধীন, জ্ঞানবান, প্রাপ্তবয়স্ক, এবং সক্ষম মুসলমানের উপর জীবনে একবার ফরয। পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার এবং তাদেরকে তাদের ওয়াজিব ইবাদত পালনে যথাসম্ভব সহায়তা করা প্রকৃতপক্ষে একটি প্রশংসনীয় কাজ। তবে, আপনাকে প্রথমে নিজের পক্ষ থেকে হজ পালন করতে হবে, তারপর আপনি আপনার বাবা-মাকে সহায়তা করতে পারেন, যদি সকলের একসাথে হজ করা সম্ভব না হয়। তবে যদি আপনি আপনার বাবা-মাকে আগে হজে পাঠান, তবে তাদের হজ বৈধ হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৭০)।
***
প্রশ্ন: আমার মা শতবর্ষী এবং হজের সামর্থ্য নেই। গত বছর আমি তার পক্ষ থেকে হজ ও উমরা করেছি। কিছু লোক বলছে, তার মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করা যাবে না এবং আমার করা হজের কোন মূল্য নেই। এক্ষেত্রে আপনাদের মতামত কী?
উত্তর: যদি আপনার মা বয়সজনিত কারণে নিজে হজ করতে অক্ষম হন, তবে আপনি তার পক্ষ থেকে হজ ও উমরা করলে তা বৈধ হবে, যদি আপনি প্রথমে নিজের পক্ষ থেকে হজ ও উমরা পালন করে থাকেন, যা আপনার উপর ফরয ছিল।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৭১)।
***
প্রশ্ন: হজের কোন কোন কাজগুলোতে প্রতিনিধিত্ব বা অন্যকে দায়িত্ব দেয়া যায় এবং কখন অন্যের পক্ষ থেকে হজ করা জায়েয হবে?
উত্তর: মৃত মুসলমান এবং সেই জীবিত মুসলমানের পক্ষ থেকে হজ ও উমরা করা বৈধ, যারা বয়স বা এমন রোগে আক্রান্ত, যার কারণে তারা নিজে হজ বা উমরা করতে সক্ষম নন। এছাড়া, যে ব্যক্তি নিজে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করতে সক্ষম নয়, তার পক্ষ থেকেও এটি করা যেতে পারে; যেমন—শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি বা বৃদ্ধ। তবে, প্রতিনিধিকে সেই বছরের হজ পালনকারী হতে হবে এবং প্রথমে নিজের পক্ষ থেকে জামরায় পাথর নিক্ষেপ করতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৭৬)।
***
প্রশ্ন: একজন মুসলিম ব্যক্তি সৌদি আরবের বাইরে অন্য একটি মুসলিম দেশে মারা গেছেন এবং তিনি জীবদ্দশায় হজ আদায় করেননি, যদিও তার ওপর হজ ফরয ছিল। আমি কি তার পক্ষ থেকে সৌদি আরব থেকে হজ করতে পারব, যেহেতু আমি এখানেই থাকি? আর দূরবর্তী দেশ থেকে হজ করা ও কাছের দেশ থেকে হজ করার মধ্যে সাওয়াবে কোনো পার্থক্য আছে কি?
উত্তর: আপনার জন্য বৈধ যে, আপনি সৌদি আরব থেকে কোনো মুসলমানের পক্ষ থেকে হজ করবেন, চায় তিনি নিজের দেশে বা অন্য কোথাও মৃত্যুবরণ করুন, তিনি নিজে হজ করে থাকুন বা না করে থাকুন। হজের সাওয়াব দূরত্বের উপর নির্ভর করে না। বরং, সাওয়াব নির্ভর করে—ইখলাস, ব্যয়, পরিশ্রম এবং শরীয়তসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের ওপর।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৭৭)।
***
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মৃত ব্যক্তি (পুরুষ বা নারী) বা এমন অক্ষম ব্যক্তি, যিনি বয়সের কারণে বা এমন অসুস্থতায় ভুগছেন যা নিরাময়ের আশা নেই, তার পক্ষ থেকে হজ করে—সে কি আল্লাহর কাছে কোনো সাওয়াব পাবে?
উত্তর: যে ব্যক্তি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বা বিনামূল্যে অন্যের পক্ষ থেকে হজ বা উমরা করে, সেই হজ বা উমরার সাওয়াব মূলত যার জন্য হজ করা হয়েছে, তারই হবে। তবে, প্রতিনিধি যদি ইখলাস ও কল্যাণের ইচ্ছা নিয়ে এই কাজ করেন, তাহলে আশা করা যায় যে তিনিও মহান সাওয়াব লাভ করবেন। আর যে ব্যক্তি মসজিদুল হারামে উপস্থিত হয়ে বেশি করে নফল ইবাদত ও বিভিন্ন নেক কাজ করে, সে যদি খালিস নিয়তে আমল করে, তাহলে তার জন্য অনেক কল্যাণের আশা করা যায়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৭৭)।
***
প্রশ্ন: আফ্রিকায় বসবাসকারী একজন ব্যক্তি তার মায়ের পক্ষ থেকে হজ করানোর জন্য কাউকে নিয়োগ দিতে চান। সে কি সেই ব্যক্তির জন্য আফ্রিকা থেকে মক্কা পর্যন্ত যাতায়াতের সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে, নাকি তা কমানো বৈধ হবে?
উত্তর: উক্ত ব্যক্তির জন্য বৈধ যে, তিনি মক্কা বা অন্য কোনো স্থান থেকে বিশ্বস্ত কাউকে তার মায়ের পক্ষ থেকে হজ করার জন্য নিয়োগ দিতে পারেন, যদি তার মা মারা গিয়ে থাকেন অথবা বয়সজনিত কারণে বা এমন অসুস্থতায় আক্রান্ত হন, যা নিরাময়ের আশা নেই এবং তিনি নিজে হজ করতে সক্ষম না হন; কম খরচ, বা বেশি অথবা বিনা খরচে হোক—সবই বৈধ।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৮০)।
***
প্রশ্ন: আমার বাবা মৃত্যুবরণ করেছেন এবং তিনি হজ আদায় করতে পারেননি। আমি বুঝতে পেরেছি যে, তার পক্ষ থেকে হজ করা আমার উপর ওয়াজিব। তাই আমি একজন ব্যক্তিকে হজ করার জন্য নিযুক্ত করেছি। কিন্তু যখন সে আমার বাবার এবং তার মৃত মায়ের নাম জানতে চাইল, তখন আমরা তার মায়ের নাম জানতাম না। এই পরিস্থিতিতে, কি শুধুমাত্র বাবার নাম উল্লেখ করা যথেষ্ট হবে?
উত্তর: অন্যের পক্ষ থেকে হজ করার জন্য নিয়ত করাই যথেষ্ট। এতে হজের জন্য যার পক্ষ থেকে হজ করা হচ্ছে, তার নাম, বা তার বাবার বা মায়ের নামসহ তার নাম উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে, যদি ইহরামের সময়, তালবিয়া পড়ার সময় বা কুরবানির পশু যবেহ করার সময় (যদি তামাত্তু বা কিরান হজ হয়ে থাকে) তার নাম উচ্চারণ করা হয়, তাহলে তা উত্তম। কেননা আবু দাউদ ও ইবন মাজাহতে রয়েছে এবং ইবন হিব্বান এটিকে সহীহ বলেছেন, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনুহুমা থেকে বর্ণিত, “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনলেন, এক ব্যক্তি বলছিল: ‘লাব্বাইক, আমি শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ করছি।’ তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: ‘শুবরুমা কে?’ সে বলল: ‘আমার ভাই অথবা আমার কোনো আত্মীয়।’ তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: ‘তুমি কি নিজের জন্য হজ করেছ?’ সে বলল: ‘না।’ তখন তিনি বললেন: আগে নিজের জন্য হজ করো, তারপর শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ করো।"
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৮১)।
***
প্রশ্ন: একজন ২৫ বছর বয়সী পুরুষ মারা গেছেন এবং তিনি জীবদ্দশায় হজ করেননি। তার পক্ষ থেকে কি আমরা হজ করতে পারি? আর উমরা না করে শুধুমাত্র হজ করলে হবে কি, যেহেতু তার সম্পদ রয়েছে?
উত্তর: যে ব্যক্তির উপর হজ ফরয ছিল এবং তিনি তা পালন না করেই মৃত্যুবরণ করেছেন, তার সম্পদ থেকে হজ ও উমরা করার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা বের করে রাখতে হবে। তবে, যদি কেউ স্বেচ্ছায় তার পক্ষ থেকে হজ করতে ইচ্ছুক হয়, তাহলে তার টাকা না দিয়েও তা করা যেতে পারে। এটা সবার জানা যে, হজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি অন্যতম স্তম্ভ। যার উপর হজ ফরয হয়েছে, তার মৃত্যুর পরও এটি তার উপর থেকে শিথিল হয় না। ইমাম বুখারী (রহ.) তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, “জুহাইনা গোত্রের জনৈক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন: "আমার মা নযর মেনেছিলেন যে, তিনি হজ করবেন, কিন্তু হজ করার পূর্বেই তিনি মারা গেছেন। আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করতে পারি?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তার পক্ষ থেকে হজ করো। তুমি কি মনে কর, যদি তোমার মায়ের উপর ঋণ থাকতো, তুমি কি তা পরিশোধ করতে না?" এরপর তিনি বললেন: "আল্লাহর হক পরিশোধ করো, কারণ আল্লাহর হক পূর্ণ করা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।" “খাছআম গোত্রের এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করে বললেন: "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর স্বীয় বান্দাদের উপর হজের ফরয আমার বৃদ্ধ পিতার উপর এমতাবস্থায় এসে পৌঁছেছে যে, তিনি বাহনের উপর চড়ে বসে থাকতে অক্ষম। আমি কি তার পক্ষ হতে হজ পালন করব?’ তিনি বললেন, তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ আদায় করো।” আর উমরার বিষয়ে পাঁচটি (সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ও মুসনাদে আহমাদ) গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, আবু রাযীন আল-উকাইলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: আমার পিতা অত্যন্ত বৃদ্ধ একজন ব্যক্তি, হজ ও উমরা পালন করা এবং বাহনে আরোহণের ক্ষমতা তার নেই। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাহলে তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ ও উমরা আদায় করো।”
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৮৭)।
***
প্রশ্ন: একজন মুসলিম নারী কি বিশ্বাসযোগ্য নারীদের সঙ্গে হজ করতে পারে- যদি পরিবারের কোনো পুরুষ সদস্যকে সাথে নিতে না পারে, অথবা তার বাবা মৃত থাকে? সে কি তার মা, খালা, চাচি বা অন্য কোনো মহিলাকে তার মাহরাম হিসেবে সঙ্গে নিয়ে হজ করতে পারে?
উত্তর: সঠিক মত হল, স্বামী বা মাহরাম পুরুষ ছাড়া তার হজের জন্য ভ্রমণ করা বৈধ নয়। তাই, বিশ্বস্ত নারীদের সঙ্গে বা বিশ্বস্ত পুরুষ যারা মাহরাম নন, তাদের সাথে হজে যাওয়া জায়েয নয়, এমনকি মা, খালা বা চাচির সঙ্গেও নয়। বরং তাকে অবশ্যই স্বামী বা মাহরাম পুরুষের সাথে থাকতে হবে। যদি সে এমন কাউকে না পায়, তবে তার উপর হজ ফরয হবে না, কারণ শরয়ী সক্ষমতার শর্ত পূর্ণ হয়নি। আর আল্লাহ তাআলা বলেন: “এবং সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহতে হজ করা ফরয।”
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৯১)।
***
প্রশ্ন: যদি কোনো মহিলার স্বামী বা মাহরাম মারা যান এবং সে (শারীরিক ও আর্থিকভাবে) হজ করার সক্ষমতা রাখে, অথবা সে স্বামীমৃত্যুর ইদ্দত পালন করছে, তবে কি তার উপর হজ ফরয হবে?
উত্তর: মহিলার উপর হজ ফরয হবে না; যদি সে তার সাথে হজে যাওয়ার জন্য কোনো মাহরাম পুরুষ না পায়। এছাড়া, যদি মহিলা (স্বামীর মৃত্যু পরবর্তী সময়)ইদ্দত পালনকালীন সময়ে থাকে, তবে তার জন্য হজে যাওয়া বৈধ নয়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৯৪)।
***
প্রশ্ন: একজন মহিলা কোনো মাহরাম ছাড়াই একদল সৎ মহিলার সাথে ফরয হজ সম্পন্ন করেছেন। এখন তার থেকে ফরয হজের দায়িত্ব আদায় হয়েছে কি না?
উত্তর: যদি ঘটনাটি বর্ণনা অনুযায়ী হয়, তবে তার হজ শুদ্ধ হবে এবং তার থেকে ফরয হজের দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। তবে মাহরাম ছাড়া সফর করার কারণে সে গুনাহগার হবে। তার উচিত আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং ক্ষমা প্রার্থনা করা।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৯৭)।
***
প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি মারা গেছেন এবং জীবিত অবস্থায় হজ পালন করেননি। তিনি তার অর্থ থেকে কাউকে হজ করার জন্য অসিয়ত করে গেছেন। এখন এ হজের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে, এবং অন্যের মাধ্যমে হজ করা, নিজের হজের সমান হবে কিনা?
উত্তর: যদি কোনো মুসলিম মারা যান এবং তিনি হজ ফরয হওয়ার সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও হজ আদায় না করে থাকেন, তাহলে তার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে তার পক্ষ থেকে হজ আদায় করা আবশ্যক, তা সে অসিয়ত করুক বা না করুক। যদি তার পক্ষ থেকে অন্য কেউ হজ আদায় করে, যার নিজের ফরয হজ আদায় হয়ে গেছে, তবে তার হজ শুদ্ধ হবে এবং মৃত ব্যক্তির উপর থেকে ফরয হজের দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে। আর একজনের পক্ষ থেকে অন্য কেউ হজ আদায় করলে তা নিজের হজের মতো সমান সওয়াবের হবে, নাকি কম বা বেশি হবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। তবে নিঃসন্দেহে হজ ফরয হওয়ার পর সম্ভব হলে মৃত্যুর আগেই তা দ্রুত আদায় করা। শরীয়তের দলীলগুলো এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেয় এবং হজ আদায়ে বিলম্ব করা তার জন্য গুনাহের কারণ হতে পারে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১০০)।
***
প্রশ্ন: যদি কোনো ব্যক্তি হজের সময় তার সাথীদের সাথে কিছু তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, তাহলে তার হজ শুদ্ধ ও যথেষ্ট হবে কি না, যদিও তা ফরয হজ হয়?
উত্তর: তার হজ শুদ্ধ হবে এবং ফরয হজ আদায় হয়ে যাবে। তবে তার সওয়াব সেই পরিমাণে কমে যাবে, যতটা সে নিন্দনীয় তর্ক-বিতর্কে জড়িয়েছে। তার উচিত এজন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।”
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১১২)।
***
মীকাত ও ইহরাম সংক্রান্ত ফতোয়া
প্রশ্ন: জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধা কি জায়েয?
উত্তর: জেদ্দা হজ বা উমরার জন্য মীকাত নয়, তবে সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দা বা যারা জেদ্দায় অবস্থান করছেন তাদের জন্য এটি মীকাত হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়াও, যারা হজ বা উমরার উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো প্রয়োজনে জেদ্দায় এসেছেন এবং পরে হজ বা উমরা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারাও জেদ্দা থেকে ইহরাম বাঁধতে পারবেন। তবে যাদের জন্য জেদ্দার আগে কোনো মীকাত নির্ধারিত আছে, যেমন মদীনাবাসী এবং তাদের পেছনের অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য যুল-হুলাইফা, অথবা যারা স্থল, জল বা আকাশপথে এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তাদের জন্য। তদ্রূপ যেমন, মিসর ও সিরিয়া থেকে আসা ব্যক্তিদের জন্য জুহফা মীকাত, এবং ইয়েমেন থেকে আসা ব্যক্তিদের জন্য ইয়ালামলাম মীকাত, তাদের নির্ধারিত মীকাত বা তার বরাবর স্থল, জল বা আকাশপথের স্থান থেকে ইহরাম বাঁধা ওয়াজিব।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৩০)।
***
প্রশ্ন: যদি কোনো হাজী ইহরাম বাঁধার সময় সুগন্ধি ব্যবহার করতে চান, তাহলে তিনি কি ইহরামের গোসলের আগে সুগন্ধি ব্যবহার করবেন, নাকি গোসলের পরে?
উত্তর: যদি কেউ উমরা বা হজের ইহরাম বাঁধার সময় নিয়ত বা তালবিয়া পাঠের আগে সুগন্ধি ব্যবহার করতে চান, তবে তা তার জন্য জায়েয। আর উত্তম হলো গোসলের পরে সুগন্ধি ব্যবহার করা। কেননা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: “আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তার ইহরামের জন্য ইহরামে প্রবেশের আগে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম এবং হালাল হওয়ার জন্য বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করার আগেও অনুরূপ করতাম।” সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৬৮)।
***
প্রশ্ন: আল্লাহ কেন হাজীদের সেলাই করা পোশাক পরা নিষিদ্ধ করেছেন এবং এর পিছনে কী হিকমত রয়েছে?
উত্তর: প্রথমত: আল্লাহ তা'আলা সামর্থ্যবান প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের ওপর জীবনে একবার হজ ফরয করেছেন এবং এটিকে ইসলামের একটি স্তম্ভ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যা দ্বীনের দ্ব্যর্থহীনভাবে জানা একটি বিষয়। অতএব, একজন মুসলমানের কর্তব্য হলো আল্লাহর ফরযকৃত বিধান আদায় করা; তাঁর সন্তুষ্টির জন্য এবং তাঁর আদেশের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন, আল্লাহর পুরস্কারের আশা এবং তাঁর শাস্তিকে ভয়ে। সাথে এ বিশ্বাস রাখবে যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর সমস্ত বিধান ও কার্যক্রমে হিকমতসম্পন্ন, বান্দাদের প্রতি পরম দয়ালু। তিনি কেবল সেইসব বিধানই নির্ধারণ করেন, যা তাদের জন্য কল্যাণকর এবং যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের উপকারে আসে। অতএব, একমাত্র মহান আল্লাহই বিধান প্রণয়নের অধিকারী, আর বান্দার দায়িত্ব হলো পূর্ণ আত্মসমর্পণের মাধ্যমে সেই বিধান মেনে চলা।
দ্বিতীয়ত: হজ ও উমরায় সেলাইযুক্ত পোশাক ত্যাগ করার বিধানের বহু হিকমত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো: কিয়ামতের দিন মানুষের অবস্থার স্মরণ করা, কেননা তারা সেদিন নাঙ্গা হয়ে ও খালি পায়ে পুনরুত্থিত হবে, তারপর তাদের পোশাক পরানো হবে। পরকালের অবস্থা স্মরণ করা মানুষের জন্য উপদেশ ও শিক্ষা বয়ে আনে। আরেকটি হিকমত হলো: এর মাধ্যমে আত্মাকে বিনয় ও নম্রতার প্রতি বাধ্য করা হয়, অহংকারের ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। আরেকটি হলো: আত্মাকে পারস্পরিক সংহতি, সমতা, সাধাসিধে জীবনযাপন, এবং নিন্দনীয় ভোগ-বিলাস থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়। এতে দরিদ্র ও অভাবী মানুষের মাঝে সমতা গড়ে ওঠে। ... এছাড়া আরও বহু উদ্দেশ্য রয়েছে, যা হজের সেই বিধানে নিহিত, যা আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যাখ্যা করেছেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৭৯)।
***
প্রশ্ন: হাজী কেন হজের সময় এই পোশাক পরিধান করেন?
উত্তর: আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে হজ ও উমরার সময় ইযার ও রিদা পরিধানের নির্দেশ দিয়েছেন, যার হিকমত তিনিই সর্বাধিক অবগত। তাই আমাদের কর্তব্য এটি পালন করা, সওয়াব লাভের আশায়, হিকমত জানা থাকুক বা না থাকুক। উলামাগণ এ বিষয়ে যে হিকমতগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে: কিয়ামতের দিনে মানুষের পুনর্জীবন ও সমবেত হওয়ার অবস্থা স্মরণ করিয়ে দেওয়া, হাজীকে বিনয় ও নম্রতার অনুভূতি প্রদান করা এবং ধনী-গরিবের মাঝে সাম্যের অনুভূতি সৃষ্টি করা। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি, তিনি যেন আমাদেরকে ও আপনাকে তাওফীক, সঠিক পথের দীক্ষা ও সত্যের ওপর অবিচল থাকার শক্তি দান করেন, যতক্ষণ না আমরা তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করি।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৭১)।
***
প্রশ্ন: ঋতুবতী নারীর হজের হুকুম কী?
উত্তর: ঋতুবতী হওয়া হজ পালনে কোনো বাধা সৃষ্টি করে না। যদি কোনো নারী হায়েয অবস্থায় ইহরাম বাঁধে, তবে তিনি হজের সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন, তবে কাবা শরিফ তাওয়াফ করা থেকে বিরত থাকবেন যতক্ষণ না তার হায়েয শেষ হয় ও তিনি গোসল করে নেন। একই বিধান প্রসূতি নারীর জন্যও প্রযোজ্য। যদি তিনি হজের সমস্ত রুকন যথাযথভাবে পালন করেন, তবে তার হজ শুদ্ধ হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৭২)।
***
প্রশ্ন: এক নারী হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে এসেছেন, কিন্তু তাওয়াফে কুদুম করার আগেই ঋতুমতী হয়েছেন। তার হুকুম কী? এবং তিনি কি হায়েজ অবস্থায় আরাফায় যেতে পারবেন? তার হুকুম কী?
উত্তর: তিনি ইহরামের অবস্থায় থাকবেন এবং হাজীদের সাথে সকল কাজ সম্পন্ন করবেন, তবে কাবা শরিফ তাওয়াফ করবেন না যতক্ষণ না তার হায়েয শেষ হয়, রক্ত বন্ধ হয় এবং তিনি গোসল করে নেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৭৩)।
***
প্রশ্ন: মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধার পর কি পুরুষের জন্য বসে নখ কাটা জায়েয, নাকি এটি কোরবানী করার পরেই করতে হবে?
উত্তর: যদি ইহরামের পূর্বে নখ কাটা হয়, তবে এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি তিনি কোরবানি দেওয়ার নিয়ত করে থাকেন এবং যিলহজ মাস শুরু হয়ে যায়, তাহলে নখ কাটা জায়েয নয়; কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ থেকে নিষেধ করেছেন। আর যদি ইহরামের নিয়ত করার পর এটি করেন, তাহলে তা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। কারণ মুহরিম ব্যক্তির জন্য নখ কাটা বা চুল কাটার অনুমতি নেই, যতক্ষণ না তিনি উমরার তাওয়াফ ও সায়ী সম্পন্ন করে মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করে ইহরামমুক্ত হন।এমনিভাবে, হজে জামারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করার পর, তার জন্য মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা সুন্নত, আর মাথা মুণ্ডন করাই উত্তম। এটি করার পরই ইহরাম থেকে মুক্ত হবে, তা কোরবানির আগে হোক বা পরে, যদিও কোরবানির পর করাই উত্তম, যদি তা সম্ভব হয়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৭৮)।
***
প্রশ্ন: আমার বাবা গত বছরে হজ করেছেন, কিন্তু সে সময় তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং ইহরাম বাঁধতে পারেননি। এখন তার জন্য কী করণীয়?
উত্তর: যদি হাজী অসুস্থতা বা শীতের মতো কোনো কারণে ইহরাম পরিধান না করে সাধারণ কাপড় পরে ইহরাম বাঁধেন, তাহলে এটি শরয়ীভাবে অনুমোদিত। তবে তার উপর যা ওয়াজিব তা হলো, তিনদিন রোযা রাখা, অথবা ছয়জন দরিদ্রকে খাওয়ানো (প্রত্যেক দরিদ্রকে অর্ধ সা' পরিমাণ দেশীয় খাবার প্রদান), অথবা একটি পশু যবাই দেওয়া যা কোরবানির জন্য যথেষ্ট। এছাড়া, যদি তিনি মাথা ঢেকে থাকেন, তবে এ জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য। রোযা তিনি যেকোনো স্থানে রাখতে পারবেন, তবে খাবার বা কোরবানি মক্কার হারাম এলাকায় করতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৮০)।
***
প্রশ্ন: আমি ইনশাআল্লাহ হজে যেতে চাই, তবে আমার সমস্যা হলো: আমি একজন মুণ্ডিত (টাক) ব্যক্তি, যার মাথার ওপর কোনো চুল নেই এবং আমার ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল। সূর্যের রশ্মি আমার শরীরের উপর প্রভাব ফেলে এবং আমার মাথার ত্বকে তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি করে, বিশেষ করে মাথা ও মুখে শিরাগুলি দৃশ্যমান হয়ে যায়। আপনি জানেন যে, ইহরাম অবস্থায় মাথা ঢাকা নিষিদ্ধ। আমার এই পরিস্থিতি অনুযায়ী কী করণীয়? বিঃদ্রঃ আমি কম উচ্চতার মানুষ এবং আমি ছাতা বহন করতে পারি না, কারণ এটি আমার আশেপাশের লোকদের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করে। আমি আপনার ফতোয়া জানতে চাই। আল্লাহ আপনাকে হেফাযত করুন এবং সঠিক পথ দেখান।
উত্তর: যদি আপনার অবস্থা এমনি হয় যেমন বর্ণনা করেছেন, তবে আপনি ইহরাম অবস্থায় মাথা ঢেকে রাখতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে ফিদিয়া দিতে হবে, যা হলো একটি পশু যবাই করে তা মক্কার দরিদ্রদের খাওয়ানো, অথবা মক্কার হারাম অঞ্চলের ছয়জন দরিদ্রকে খাওয়ানো (প্রতিটি দরিদ্রকে অর্ধ সা' পরিমাণ দেশীয় খাবার দেওয়া), অথবা তিনটি রোযা রাখা। এটি হজের ইহরামের জন্য প্রযোজ্য। অনুরূপভাবে যদি আপনি উমরার ইহরাম বেঁধে থাকেন, তবে আপনাকে তার জন্য আলাদা ফিদিয়া প্রদান করতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৮১)।
***
প্রশ্ন: একজন হাজী, যিনি একটি নিষিদ্ধকাজ করে ফেলেছেন। সেটি হলো: তিনি জামারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ এবং মাথা মুণ্ডানোর পর, কিন্তু তাওয়াফে ইফাযা করার আগে তার স্ত্রীকে চুম্বন করেছেন এবং উত্তেজনায় যৌনাঙ্গের বাইরে বীর্যপাত করেছেন। তার স্ত্রী হাজী নন। এমন পরিস্থিতিতে তার হুকুম কী?
উত্তর: যে মুসলিম হজ বা উমরা অথবা উভয়টির জন্য ইহরাম বাঁধে, তার জন্য এমন কিছু করা জায়েয নয় যা তার ইহরাম ভঙ্গ করে বা এর কাজকে অসম্পূর্ণ করে। চুম্বন ইহরাম অবস্থায় হারাম, যতক্ষণ না সে পূর্ণভাবে ইহরাম থেকে হালাল হয়, যা হয়ে থাকে জামারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ, মাথা মুণ্ডানো বা ছোট করা, তাওয়াফে ইফাযা এবং সায়ী (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) সম্পন্ন করার মাধ্যমে। কেননা তিনি তখনও ইহরাম অবস্থায় রয়েছেন এবং তার জন্য স্ত্রীর কাছে যাওয়া হারাম। যদি তিনি প্রথম হালাল হবার পর তার স্ত্রীকে চুম্বন করেন এবং বীর্যপাত করেন, তবে তার হজ বাতিল হবে না, তবে তাকে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। এর জন্য তাকে কোরবানীযোগ্য একটি ছাগল যবাই করতে হবে এবং তা মক্কা শহরের দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। তাকে যত দ্রুত সম্ভব এটি করতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৮৮)।
***
প্রশ্ন: আমি ফরয হজ পালন করেছি। মিনাতে এক রাতে আমার স্বপ্নদোষ হয় এবং গোসল করতে পারিনি। আমার উপর কি কিছু আবশ্যক?
উত্তর: যে ব্যক্তি হজ বা উমরার ইহরামে রয়েছেন, তার যদি স্বপ্নদোষ হয়, তবে তা তার হজ বা উমরার উপর কোন প্রভাব ফেলে না এবং তা বাতিল করে না। যার এমনটি ঘটবে সে ঘুম থেকে ওঠার পর যদি বীর্য দেখতে পায়, তবে তাকে ফরয গোসল করতে হবে। তার উপর কোনো ফিদিয়া নেই, কারণ স্বপ্নদোষ তার নিজের ইচ্ছায় ঘটেনি।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ১৮৮)।
***
প্রশ্ন: মক্কা ও মদিনার গোসলখানার কি কোনো বিশেষত্ব রয়েছে?
উত্তর: মক্কা ও মদিনার গোসলখানা বা টয়লেটের কোনো বিশেষত্ব নেই, তবে এগুলো হারামের সীমানার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায়, সেখানে পশু-পাখি শিকার করা বা তাড়ানো যাবে না, এই হাদীসের সাধারণ অর্থের ভিত্তিতে: "নিশ্চয় আল্লাহ মক্কাকে হারাম করেছেন, তা আমার আগে কারো জন্য হালাল ছিল না এবং আমার পরে কারো জন্যও হালাল হবে না। তবে তা আমার জন্য এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হালাল করা হয়েছিল। কাজেই তার ঘাস উৎপাটন করা যাবে না, তার গাছ কাটা যাবে না এবং তার শিকারকে তাড়িয়ে দেওয়া যাবে না।" হাদীসটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: “নিশ্চয় ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) মক্কাকে হারাম ঘোষণা করেছেন, আর আমি মদীনাকে হারাম বলে ঘোষণা করছি- এর দু’ প্রান্তের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশকে। অতএব এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছ কাটা যাবে না এবং এখানকার জীবজন্তুও শিকার করা যাবে না।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২০২)।
***
প্রশ্ন: উমরা সম্পন্ন করার পর ইহরামের কাপড় খুলে ফেলা জায়েয হবে কি, যদিও আমি ‘তামাত্তু’ হজ পালন করছি?
উত্তর: যে ব্যক্তি তামাত্তু হজ পালন করছে, তার জন্য উমরা সম্পন্ন করার পর ইহরাম খুলে ফেলা শরিয়তসম্মত। অর্থাৎ, তাওয়াফ, সাঈ এবং মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার পর সাধারণ পোশাক পরা বৈধ। কেননা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের সময় তার সাহাবীদের মধ্যে যারা হাদী (কোরবানি) সঙ্গে আনেননি তাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর, হজের জন্য নতুন করে ইহরাম বাঁধতে হবে ৮ যিলহজ তারিখে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২০২)।
***
প্রশ্ন: আমি আশা করি, আপনারা আমাকে সেই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানাবেন যা তামাত্তু হজ পালনকারীর জন্য উমরা সম্পন্ন করে ইহরাম মুক্ত হওয়ার পর বৈধ।
উত্তর: যে ব্যক্তি তামাত্তু হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে উমরার সকল আনুষ্ঠানিকতা—তাওয়াফ, সাঈ, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা—সম্পন্ন করেছে, সে উমরা থেকে হালাল হয়ে যাবে এবং ইহরামের কারণে নিষিদ্ধ বিষয়গুলো তার জন্য বৈধ হবে। যেমন: মাথার চুল কাটা, নখ কাটা, সেলাইযুক্ত কাপড় পরা, মাথা ঢেকে রাখা, সুগন্ধি ব্যবহার, স্থলচর শিকার করা, বিয়ে করা, স্ত্রী সহবাস এবং তার প্রতি আকর্ষণমূলক কার্যকলাপ।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২০৪)।
***
প্রশ্ন: হজযাত্রীদের জন্য সম্মিলিত তালবিয়া পাঠের বিধান কী? যেখানে এক জন তালবিয়া পড়লে অন্যরা তার অনুসরণ করে।
উত্তর: এটি বৈধ নয়, কারণ এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে বা তার সুপথপ্রাপ্ত খলীফাদের পক্ষ থেকে আসেনি, বরং এটি একটি বিদআত (নতুন উদ্ভাবন)।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩৫৮)।
***
প্রশ্ন: যদি কোনো নারী হজের সময় মাসিক অবস্থায় থাকে, তবে কি তিনি হজের সব আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারবেন? এজন্য তাকে কি গোসল করতে হবে? কিংবা কিছু আনুষ্ঠানিকতা আছে যা তিনি করতে পারবেন না এবং সেগুলো কীভাবে পূর্ণ করবেন? আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।
উত্তর: যদি কোনো নারী হজের নিয়ত করে আর এমতবস্থায় তার মাসিক শুরু হয়ে থাকে, তবে সে ইহরাম বাধবে ও ইহরামের অবস্থায় থাকবে, সে অন্য হজযাত্রীর মত সব কিছু করবে, যেমন: আরাফাতে অবস্থান করা, মুযদালিফা ও মিনায় রাত কাটানো, এবং পাথর নিক্ষেপ। তবে, সে বায়তুল্লায় তাওয়াফ করবে না যতক্ষণ না সে মাসিক থেকে পবিত্র হয়ে গোসল করে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১২৮)।
***
প্রশ্ন: হজ পালনকালীন সময়ে নারী কি সাজ-সজ্জা গ্রহণ করতে পারে?
উত্তর: হজের সময় নারীর সাজগোজ করা উচিত নয়, তবে যদি তার শরীরে গয়না থাকে বা কোন মেহেদি বা সাজ থাকে, তবে সে তা পুরুষদের কাছ থেকে গোপন রাখবে। হাত বা অন্য অঙ্গ থেকে তা সরিয়ে ফেলার প্রয়োজন নেই।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৪৪)।
প্রশ্ন: আমি হজের জন্য ইহরাম বাঁধার পর যখন মিকাত থেকে বের হচ্ছিলাম, তখন আমি বলেছিলাম, "لبيك اللهم لبيك حجا" (হে আল্লাহ, আমি তোমার ডাকে উপস্থিত, হজের জন্য)। এরপর ভুলে গিয়ে বললাম, "لبيك اللهم لبيك حجا وعمرة" (হে আল্লাহ, আমি তোমার ডাকে উপস্থিত, হজ ও উমরার জন্য)। আমার কী করতে হবে, অনুগ্রহ করে জানান।
উত্তর: যদি আপনার পক্ষ থেকে যা ঘটেছে তা শুধুমাত্র মৌখিক ভুল উচ্চারণ হয় এবং আপনি তা উদ্দেশ্য করে বলেননি, তবে এর জন্য আপনার উপর কোনো কিছু বাধ্যতামূলক নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না।” এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক মানুষের জন্য তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল রয়েছে।”
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৩২)।
***
প্রশ্ন: কিছু হজযাত্রীকে আমি দেখেছি, যারা মিনায় গাছের ডাল কেটে মিসওয়াক (মুখ পরিষ্কার করার জন্য কাঠের ডাল) হিসেবে ব্যবহার করছেন। মিনার গাছ কাটা এবং হজের সময় এমন কাটা ডালের মিসওয়াক হাদিয়া হিসেবে গ্রহণ করার বিধান কী?
উত্তর: হারাম এলাকা থেকে গাছ কাটা বৈধ নয়, তা ইহরাম অবস্থায় থাকা হজযাত্রী হোক বা অন্য কেউ হোক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এখানকার কাঁটাযুক্ত বৃক্ষও উপড়ানো যাবে না, গাছপালাও কাটা যাবে না।” সহীহ মুসলিম।
সুতরাং যে ব্যক্তি হারাম এরূপ কিছু করেছে, তার জন্য উচিত আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা। পাশাপাশি, যদি মিসওয়াক বা অন্য কোনো বস্তু হারাম এলাকার গাছ থেকে কাটা হয়, তবে সেটি উপহার হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ এতে নিষিদ্ধ কাজের সমর্থন এবং সহায়তা করা হয়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৬৬)।
***
মিনায় রাত্রিযাপন
প্রশ্ন: আমি হজের জন্য একটি দলের সাথে গিয়েছিলাম এবং আমরা ৯ যিলহজের রাতে মিনায় ছিলাম। তারপর, ফজরের সালাতের আগে আমরা আরাফাতে চলে আসি এবং সেখানে ফজরের সালাত আদায় করি। আমাদের দলের পরিচালকেরা এই ব্যবস্থা নিয়েছিলেন ভিড়ের কারণে। আমাদের ওপর কিছু দায় রয়েছে কি?
উত্তর: আপনাদের উপর কোনো দায় নেই, তবে হজযাত্রী হিসেবে সবচেয়ে ভালো হচ্ছে, ৯ যিলহজের সূর্যোদয়ের পর মিনা থেকে আরাফাতে চলে যাওয়া।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২১০)।
***
প্রশ্ন: আমি একটি অভ্যন্তরীণ হজ সংস্থার সঙ্গে হজ করেছি এবং আমাদের অবস্থান মিনার বাইরে ছিল। আমরা ৯ জিলহজের রাতে সেখানে অবস্থান করি, তবে আইয়ামে তাশরীকের রাতগুলো আমরা মিনায় কাটিয়েছি। ৯ জিলহজের রাতে মিনায় রাত্রিযাপন করা কি ওয়াজিব না সুন্নাত? যদি ওয়াজিব হয়, তবে আমি কী করতে পারি? আল্লাহ তাআলা আমার ও সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
উত্তর: ৯ যিলহজের রাত মিনায় কাটানো হজযাত্রীর জন্য সুন্নাত (নফল), ওয়াজিব নয়। সুতরাং, যদি আপনি ওই রাতে মিনায় না থাকতে পারেন, তাতে আপনার উপর কোনো দায়বদ্ধতা নেই। তবে আপনি রাত্রিযাপনের সুন্নাতের সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৭৭)।
***
আরাফায় অবস্থান
প্রশ্ন: কিছু লোক বলেন, যদি আরাফার দিন শুক্রবারের সঙ্গে মিলে যায়, যেমন এই বছর হয়েছে, তবে তা সাতটি হজ পালনের সমান। এই ব্যাপারে কি কোনো হাদিস বা সুন্নাহ থেকে প্রমাণ আছে?
উত্তর: এ ব্যাপারে কোনো সঠিক প্রমাণ নেই। তাছাড়া কিছু লোক দাবি করে যে, আরাফার দিন শুক্রবারের সঙ্গে মিলে গেলে তা সত্তরটি, অথবা বাহাত্তরটি (৭২) হজের সমান হবে, তবে এর কোনটিই সঠিক নয়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২১১)।
***
প্রশ্ন: আরাফাতে হজযাত্রী ইমামের সঙ্গে যোহর ও আসর সালাত পড়ার পর, তিনি কি মাগরিব পর্যন্ত নফল সালাত পড়তে পারবেন?
উত্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরাফাতে যোহর ও আসর একত্রে আদায় করার পর কোনো নফল সালাত পড়েননি। যদি এটি সঠিক হতো, তবে এর প্রতি তিনি আমাদের চেয়ে বেশি আগ্রহী হতেন। বস্তুত সকল কল্যাণ তার অনুসরণে এবং তার সুন্নাত অনুযায়ী চলার মধ্যে নিহিত।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২১১)।
***
প্রশ্ন: যদি কেউ আরাফাত থেকে মাগরিব সালাতের সময়ের এক মিনিট আগে চলে যায়; তার গাড়ির যাত্রীরা সূর্য ডুবে গেছে বলায়, তবে এর কী বিধান?
উত্তর: মূলত, হজযাত্রীর জন্য ৯ যিলহজের দিন আরাফাতে থাকা আবশ্যক এবং তাকে সূর্যাস্ত নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করতে হবে। তার জন্য সূর্যাস্তের আগে সেখান থেকে চলে আসা বৈধ নয়। সূর্যাস্ত নিশ্চিত হলে, যদি সে আরাফা থেকে চলে আসে, তবে তার উপর কোনো কিছু নেই। তবে, যদি সে সূর্যাস্তের আগে চলে যায় বা সূর্যাস্ত নিশ্চিত না হয়ে চলে যায় এবং সূর্যাস্তের আগে বা রাতের কোন অংশে ফিরে না আসে, তাহলে তার উপর একটি দম (একটি পশু কোরবানী) প্রদান করা আবশ্যক, কারণ সে হজের একটি ওয়াজিব ছেড়েছে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৮১)।
***
মুযদালিফায় রাত্রিযাপন
প্রশ্ন: আমি একটি পরিবারের সাথে গাড়ি ভাড়া করে হজ করেছি, এবং আরাফা থেকে প্রস্থানের রাতে আমরা আরাফা থেকে রাত ৯ টায় বের হয়ে ২টায় মুযদালিফায় পৌঁছেছি। কিন্তু তারা (যারা আমাদের সঙ্গে ছিল) মুযদালিফায় অবস্থান না করে তাড়াহুড়া করে চলে যেতে চাচ্ছিল, এই যুক্তি দেখিয়ে যে তাদের সাথে পরিবার আছে এবং শরিয়তে তাদের জন্য এটা অনুমোদিত। তাই আমরা মুযদালিফায় ১৫ মিনিটের বেশি থাকিনি। এখন আমার উপর কি কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে?
উত্তর: যদি তাদের অবস্থা তেমন হয় যেমন আপনি বর্ণনা করেছেন, অর্থাৎ তাদের সঙ্গে পরিবার ছিল এবং তারা ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত মুযদালিফায় রাত কাটাতে ভয় পাচ্ছিল, তবে আপনার বা তাদের জন্য কোনো সমস্যা নেই যদি আপনি মুযদালিফায় রাত ২টায় পৌঁছান (সূর্যাস্তের সময় অনুযায়ী)। কারণ এটি রাতের অর্ধেকের পরের সময় এবং দুর্বল ও মহিলাদের জন্য এতে ছাড় রয়েছে; তাদের প্রতি আল্লাহর দয়া স্বরূপ।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২১২)।
***
প্রশ্ন: গত বছরের হজে ভীষণ ভিড় ছিল, যার কারণে কিছু হজযাত্রী মুযদালিফায় রাত কাটাতে পারেননি, কারণ সেখানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি এবং কিছু হজযাত্রী মুযদালিফা থেকে হারিয়ে গিয়েছিলেন। তাদের কি করা উচিত?
উত্তর: যারা ভিড়ের কারণে মুযদালিফায় রাত কাটাতে পারেননি, তাদের উপর মুযদালিফায় রাত কাটানোর দায়বদ্ধতা নেই। তবে যারা মুযদালিফা থেকে হারিয়ে গিয়েছেন এবং অন্য কোথাও রাত কাটিয়েছেন, তাদের জন্য দম (পশু কোরবানী) প্রদান করা আবশ্যক, কারণ তারা মুযদালিফার অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারতেন এবং সেখানে পৌঁছাতে পারতেন, কিন্তু তারা এ ব্যাপারে অবহেলা করেছেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৮৯)।
***
প্রশ্ন: একজন হজযাত্রী প্রশ্ন করছেন যে, তিনি মুযদালিফা থেকে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশের মধ্যে, অর্থাৎ রাত ১০টার দিকে চলে গেছেন। তার অজুহাত হলো যে, তার সঙ্গে মহিলারাও ছিলেন। এখন তার কী কর্তব্য এবং তাদের কী করা উচিত?
উত্তর: যে ব্যক্তি মুযদালিফা থেকে মধ্যরাতের আগে কোনো বৈধ কারণ (যেমন, অসুস্থতা) ছাড়া চলে গেছেন, তিনি মুযদালিফায় রাত কাটানোর ওয়াজিব আদায় করেননি। তার উপর মক্কায় দম (একটি ছাগল জবাই) প্রদান করতে হবে; যা কুরাবনীর উপযুক্ত হতে হবে এবং তা সেখানকার গরীবদের মাঝে বিতরণ করতে হবে। কারণ, কমপক্ষে মধ্যরাত পর্যন্ত মুযদালিফায় অবস্থান করা ওয়াজিব এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুর্বলদেরকেও মধ্যরাতের আগে চলে যাওয়ার অনুমতি দেননি।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৯৪)।
***
কুরবানীর দিনের কাজসমূহ
প্রশ্ন: যদি লোকেরা ও দুর্বলরা মধ্যরাতের পর কিন্তু ফজরের আগেই মুযদালিফা থেকে মিনায় চলে যায়, তাহলে তারা কি জামরায়ে আকাবাতে ফজরের আগেই কংকর নিক্ষেপ করতে পারবে? এবং যদি তাদের কাছে যথেষ্ট সময় থাকে যাতে তারা ফজরের আগে তাওয়াফে ইফাযাহ করতে পারে, তবে তারা কি তা করতে পারবে?
উত্তর: মহিলা, বৃদ্ধ এবং তাদের মতো অন্যান্য দুর্বলরা মধ্যরাতের পরে মুযদালিফা থেকে মিনায় চলে যেতে পারে এবং তারা জামরায়ে আকাবায় পাথর মারা, তাওয়াফে ইফাযাহ করা এবং মাথা মুণ্ডন ফজরের আগেই করতে পারে, কারণ এটি তাদের জন্য সুবিধাজনক।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৯০)।
***
প্রশ্ন: হজী কি কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই প্রথম দিনের জামরায়ে আকাবায় কংকর নিক্ষেপ আইয়ামে তাশরীকের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন পর্যন্ত বিলম্ব করতে পারে? এবং যদি কেউ তা করে, তার বিধান কী?
উত্তর: হজী প্রথম জামরায়ে আকাবায় কংকর নিক্ষেপ আইয়ামে তাশরীকের দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিন পর্যন্ত বিলম্ব করতে পারবে না, যদি না তার কাছে কোনো বৈধ কারণ থাকে। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১০ই যিলহজে জামরায়ে আকাবায় পাথর মেরেছিলেন এবং তার সাহাবীরাও একইভাবে করেছেন। তারা বিনা কারণে আইয়ামে তাশরীক পর্যন্ত তা বিলম্ব করেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমার কাছ থেকে হজের নিয়ম গ্রহণ কর।” তাই যে ব্যক্তি কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই জামরায়ে আকাবায় পাথর মারাকে আইয়ামে তাশরীক পর্যন্ত বিলম্বিত করেছে, সে সুন্নাতের বিপরীত করেছে এবং কিছু পরিমাণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাকে পূর্ববর্তী কাজের জন্য আল্লাহর কাছে তাওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে তার নেক কাজগুলো সঠিকভাবে ও শরীয়ত অনুযায়ী করার প্রতি যত্নবান হতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২১৭)।
***
প্রশ্ন: আমরা হজে কিছু লোককে দেখেছি যে, তারা হজ বা উমরার সময় চুল ছোট করতে গিয়ে কেবল মাথার নিচের অংশ থেকে বৃত্তাকারভাবে কাটেন। তারা চারদিক থেকে নিচের অংশে কাঁচি চালান, কিন্তু বাকি অংশ থেকে কিছুই কাটেন না। যখন আমরা তাদের বললাম যে, চুল ছোট করার ক্ষেত্রে পুরো মাথা থেকে কাটা জরুরি, তখন তারা বলল: এটটুকু যথেষ্ট। সুতরাং কতটুকু পরিমাণ কাটা ওয়াজিব?
উত্তর: হজ বা উমরায় পুরো মাথা থেকে চুল মুণ্ডন বা ছোট করা ওয়াজিব। তবে প্রতিটি চুল থেকে কাটতে হবে—এমন শর্ত নেই। কিন্তু আপনি যাদের কথা উল্লেখ করলেন, অধিকাংশ আলেমদের শুদ্ধতম মতানুযায়ী তাদের এই কাজটি যথেষ্ট নয় এবং এটি নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্তও নয়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২১৭)।
***
প্রশ্ন: এক হাজী আরাফার ময়দানে অবস্থান করেছেন, মুযদালিফাতে রাত্রি যাপন করেছেন এবং ঈদের দিন সকালে মিনা গিয়েছেন। সেখানে তিনি জামরায়ে আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করেছেন, কুরবানি দিয়েছেন এবং মাথার চুল মুণ্ডন করেছেন। এরপর তিনি মিনাতেই ইহরামের কাপড় খুলে ফেলেন, তারপর মক্কায় গিয়ে তাওয়াফে ইফাযা সম্পন্ন করেন। এটা শরীয়তসম্মত কি না? কেননা এক ব্যক্তি আমাকে জানিয়েছেন যে, মিনাতে মাথার চুল মুণ্ডন করা এবং ইহরামের কাপড় খোলা জায়েয নয় যতক্ষণ না তাওয়াফে ইফাযা সম্পন্ন হয়।
উত্তর: তাওয়াফে ইফাযার আগে বা পরে চুল মুণ্ডন করা জায়েয। আপনি ঈদের দিনে যে কাজগুলো করেছেন—জামারাতে পাথর নিক্ষেপ, তারপর কুরবানি, এরপর চুল মুণ্ডন, শেষে তাওয়াফে ইফাযা সম্পন্ন করা—এটাই সুন্নাত। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজে এভাবেই করেছেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২১৮)।
***
প্রশ্ন: তাওয়াফে ইফাযা কখন শেষ হয়?
উত্তর: দুর্বল ও তাদের অনুরূপ ব্যক্তিদের জন্য তাওয়াফে ইফাযা কুরবানীর রাতে (নয় তারিখ দিবাগত রাত) মধ্যরাতের পর থেকেই শুরু করা যায় এবং এর নির্দিষ্ট কোনো শেষ সময় নেই। তবে উত্তম হলো, হাজী যেন সামর্থ্য অনুযায়ী তাওয়াফে ইফাযা দ্রুত সম্পন্ন করেন। তবে এতে নিজের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন করা এবং এমন সময় নির্বাচন করা উচিত যখন মাতাফ (কাবার চারপাশের তাওয়াফের স্থান) তুলনামূলকভাবে কম ভিড়যুক্ত থাকে, যাতে তিনি অন্যদের কষ্ট না দেন এবং নিজেও কষ্ট না পান।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২২৭)।
***
প্রশ্ন: যদি কোনো হাজী তাওয়াফে ইফাযা করার সময় একটি চক্কর ভুলে যান এবং মসজিদুল হারাম থেকে বের হওয়ার পর তা স্মরণ করেন, তাহলে এর হুকুম কী? এবং যদি তিনি এটি ভুলে যাওয়ার বিষয়টি প্রথম পর্যায়ের হালাল হওয়ার পর জানতে পারেন, যেহেতু এই তাওয়াফ দুইটি মূল বিষয়ের একটি যার মাধ্যমে প্রাথমিক হালাল হওয়া অর্জিত হয়, তাহলে কী করবেন?
উত্তর: যদি কোনো হাজী তাওয়াফে ইফাযা করার সময় একটি চক্কর ভুলে যান এবং দীর্ঘ সময় পার হয়ে যায়, তাহলে তাকে সম্পূর্ণ তাওয়াফ পুনরায় করতে হবে। তবে যদি সময়ের ব্যবধান কম হয়, তাহলে তিনি শুধু যে চক্করটি বাদ পড়েছে সেটি সম্পন্ন করে নেবেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২৫৩)।
***
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি তাওয়াফে ইফাযা করেছে কিন্তু আইয়ামে তাশরীকের শেষ দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত সায়ী করেনি তার হুকুম কী? আর যদি দিনটির সুর্যাস্তের পর অথবা তশরীকের দিনগুলোর পর সে সায়ী করে, তাহলে তার সায়ীর হুকুম কী?
উত্তর: তশরীকের দিনগুলোর শেষের দিকে বা দিনগুলো শেষ হওয়ার পর আপনার সায়ী করা সঠিক এবং এতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ সায়ী বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত নয় যে তা তাওয়াফের পরপর হতে হবে। তবে এটি পূর্ণতার জন্য তাওয়াফের পরপরই হওয়া উচিত, যেভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) করেছেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২৬২)।
***
প্রশ্ন: চুড়ান্ত হালাল হওয়ার জন্য কি আবার চুল মুণ্ডন বা ছোট করা আবশ্যক, যেহেতু সে ইতিমধ্যে প্রাথমিক হালাল হওয়ার জন্য চুল মুণ্ডন বা ছোট করেছে, অর্থাৎ জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করার পর?
উত্তর: চুড়ান্ত হালাল হওয়ার পর চুল মুণ্ডন বা ছোট করা ওয়াজিব বা সুন্নাত নয়, যদি সে ইতিমধ্যে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করার পর প্রাথমিক হালাল হওয়ার সময় চুল মুণ্ডন বা ছোট করে থাকে। কারণ এটি হজের একটি রীতিনিষ্ঠ অংশ, যা একটি ইবাদত। আর ইবাদতসমূহ নির্ভর করে ঐশী নির্দেশনা (কুরআন ও সুন্নাহ) এর উপর। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চুড়ান্ত হালাল হওয়ার পর চুল মুণ্ডন বা ছোট করেছেন মর্মে প্রমাণিত নয়, বরং তিনি শুধুমাত্র প্রাথমিক হালাল হওয়ার সময়ই তা করেছেন। তাছাড়া তিনি বলেছেন: “তোমরা আমার কাছ থেকে হজের নিয়ম গ্রহণ কর।”
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২৬৩)।
***
প্রশ্ন: আমি উমরাহ পালন করেছি এবং তারপর আমার নিজ শহরে ফিরে গিয়েছি। যেহেতু আমি ইনশাআল্লাহ্ এই বছর হজ পালন করার পরিকল্পনা করছি, তাহলে কি আমার উপর কোনো ফিদিয়া (কুরবানী) রয়েছে?
উত্তর: অধিকাংশ ফকীহদের মতে, আপনার উপর কোনো হাদী (কুরবানী) নেই, কারণ আপনি উমরা সম্পন্ন করার পর একই সফরে হজ পালন করেননি। আপনি তো উমরা শেষ করার পর, শাওয়াল মাসে ১৩৯৫ হিজরিতে দেশে ফিরে গিয়েছেন এবং মক্কায় অবস্থান করে হজ পালন করেননি -যেমনটি আপনি উল্লেখ করেছেন-।
কিছু ফকীহর মতে, আপনি যদি উমরা করার পর পরবর্তীতে ঐ বছরই হজ পালন করেন, তাহলে আপনার উপর হাদী (কুরবানী) আবশ্যক হবে, এমনকি আপনি দেশে ফিরে গেলেও বা আরও দূরে চলে গেলেও। আল্লাহর এই বাণীর ভিত্তিতে: “কাজেই যে ব্যক্তি উমরার পর হজ সম্পাদনপূর্বক তামাত্তু করবে, তবে যে পশু সহজ হবে, তা যবেহ করবে।” তবে, এমন পরিস্থিতিতে হাদী ওয়াজিব নয় মর্মে অধিকাংশ ফকীহদের মত অনুযায়ী ফতোয়া ও আমল জারি রয়েছে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩৬৬)।
***
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি হজের সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর চুল কাটতে ভুলে গেছে এবং দীর্ঘ সময় পর মনে পড়েছে, তার ক্ষেত্রে হুকুম কী?
উত্তর: মাথার চুল মুণ্ডন বা ছোট করা হজ ও উমরার একটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব কাজ। যদি কেউ ভুলে যায় এবং পরে মনে পড়ে, তবে তার জন্য চুল মুণ্ডন বা ছোট করা ওয়াজিব। যদি সে চুল মুণ্ডন বা ছোট করার আগে স্ত্রী সহবাস করে, তবে তার উপর একটি ফিদিয়া ওয়াজিব হবে। সেটি হলো একটি কোরবানিযোগ্য ছাগল, যা মক্কায় জবাই করে তা হারাম এলাকার দরিদ্রদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। কারণ, হজে তার চুড়ান্ত হালাল হওয়া অর্জিত হয়নি এবং এর আগেই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা তার জন্য ফিদিয়া আবশ্যক করে। একইভাবে উমরাতেও তার হালাল হওয়া অর্জিত হয়নি।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২০৪)।
***
প্রশ্ন: কিরান হজকারী যদি তাওয়াফে কুদূম করে, তাহলে কি তাকে তাওয়াফে ইফাযা করতে হবে?
উত্তর: কিরান ও ইফরাদ হজকারীর জন্য তাওয়াফে কুদূম, তাওয়াফে ইফাযার পরিবর্তে যথেষ্ট নয়; কেননা এটা তার সময় নয়। কারণ, তাওয়াফে ইফাযা হজের একটি অপরিহার্য রুকন, যা আরাফাতে অবস্থান ও মুযদালিফা থেকে ফিরার পর করতে হয়। অন্যদিকে, তাওয়াফে কুদূম একটি সুন্নাত কাজ, চাইলে করতে পারে, অন্যথায় নাও করতে পারে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২১৭)।
***
প্রশ্ন: আমার বয়স এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে যদি মক্কায় ফিরে গিয়ে তাওয়াফে ইফাযা এবং বিদায়ী তাওয়াফ করতে না পারি, তাহলে কি আমি কাউকে আমার হয়ে এই দুটি তাওয়াফ করতে পাঠাতে পারি?
উত্তর: তাওয়াফে ইফাযা এবং বিদায়ী তাওয়াফের জন্য কাউকে বদলী পাঠানো জায়েয নয়। তবে, অক্ষম হাজীকে বহন করে হলেও তাওয়াফ করাতে হবে। সুতরাং আপনার মক্কায় আসা বাধ্যতামূলক, যেমন ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ্ তাওফীক দিন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবার ও সাহাবীদের উপর।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২৭১)।
***
আইয়ামে তাশরীক এবং কংকর নিক্ষেপ
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি ঈদের দ্বিতীয় দিন সকালে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করেছে এবং পরে জানতে পারল যে পাথর নিক্ষেপের সময় দুপুরের পর, তার কী করা উচিত?
উত্তর: যে ব্যক্তি ঈদের দ্বিতীয় দিন পাথর নিক্ষেপ সকালবেলা করেছে, তাকে অবশ্যই সেই দিন দুপুরের পর পাথর নিক্ষেপ করতে হবে। যদি সে তৃতীয় বা চতুর্থ দিন ভুলটা বুঝতে পারে, তাহলে তৃতীয় বা চতুর্থ দিন দুপুরের পর সেই দিনের পাথর নিক্ষেপের পূর্বে আগের দিনের পাথর নিক্ষেপ করতে হবে। তবে, যদি সে চতুর্থ দিন সূর্যাস্তের পর ভুলটি বুঝতে পারে, তাহলে পাথর নিক্ষেপ করার সুযোগ নেই এবং তার উপর একটি দম ওয়াজিব হবে, যা মক্কায় জবাই করে সেখানকার দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২৭৩)।
***
প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলার এই আয়াতের অর্থ কী: "فمن تعجل في يومين فلا إثم عليه"? এবং এই আয়াতটি কী নির্দেশ করছে তা ব্যাখ্যা করবেন।
উত্তর: আল্লাহ তাআলা বলেন: “আর তোমরা নির্দিষ্ট দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করবে। অতঃপর যদি কেউ তাড়াতাড়ি করে দুই দিনে চলে আসে তবে তার কোন পাপ নেই এবং যে ব্যক্তি বিলম্ব করে আসে তারও কোন পাপ নেই। এটা তার জন্য যে তাকওয়া অবলম্বন করে।” আয়াতটির শেষ পর্যন্ত। এখানে "নির্দিষ্ট দিনগুলো" বলতে উদ্দেশ্য হল: তশরীকের তিন দিন: ১১, ১২ ও ১৩ তারিখ। যারা ১২ তারিখের পাথর নিক্ষেপ করার পর সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা ছেড়ে চলে যায়, তারা তাড়াতাড়ি চলে গেছে। আর যারা ১৩ তারিখের পাথর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত মিনায় অবস্থান করে, তারা বিলম্ব করেছে, আর এটিই উত্তম। কারণ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আমলের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ২৯৭)।
***
প্রশ্ন: দ্বিতীয় দিন সকালে যোহরের আগে জামারাতে কাযা হিসেবে পাথর নিক্ষেপ করা কি বৈধ, নাকি তাকে যোহরের পর পরদিনের পাথর নিক্ষেপের সাথে নিক্ষেপ করতে হবে?
উত্তর: তশরীকের দিনগুলোতে পাথর নিক্ষেপ সূর্য ঢলে যাওয়া তথা যোহরের সময় হওয়ার পূর্বে বিশুদ্ধ হয় না। সকাল বেলা এটি করা বৈধ ও যথেষ্ট নয়, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যোহরের পরেই পাথর নিক্ষেপ করেছেন। আর তিনি বলেছেন: “তোমরা আমার কাছ থেকে হজের নিয়ম গ্রহণ কর।” সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো দিন পাথর নিক্ষেপ করতে পারেনি, সে পরবর্তী দিনে যোহরের পর সেই দিনের পাথর নিক্ষেপ করবে। এক্ষেত্রে তাকে প্রথমে প্রথম দিনের পাথর নিক্ষেপ সম্পন্ন করতে হবে, তারপর ফিরে এসে দ্বিতীয় দিনের পাথর তিনটি জামারাতেই নিক্ষেপ করবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৮৯)।
***
প্রশ্ন: আমি কোন এক বছরে হজ করেছি এবং দ্বিতীয় দিন না জানার কারণে যোহরের আগে পাথর নিক্ষেপ করেছি, এখন কি আমার ওপর কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে?
উত্তর: তশরীকের দিনগুলোতে যোহরের আগে পাথর নিক্ষেপ সঠিক নয়, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যোহরের পরই পাথর নিক্ষেপ করেছেন। আর তিনি বলেছেন: “তোমরা আমার কাছ থেকে হজের নিয়ম গ্রহণ কর।” যেহেতু আপনি যোহরের আগে পাথর নিক্ষেপ করেছেন, তাই আপনার উপর একটি ফিদিয়া ওয়াজিব। আপনাকে মক্কায় একটি ছাগল জবাই করে তা হারাম এলাকার দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। তা থেকে আপনি নিজে কিছু খেতে পারবেন না।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২৯৩)।
***
প্রশ্ন: এক ব্যক্তির সাথে মিনার কিছু কংকর অবশিষ্ট থেকে গেছে, এবং তাকে বলা হয়েছে যে, মিনা থেকে নেওয়া কংকর মক্কায় ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক। আমরা এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।
উত্তর: যে ব্যক্তির কাছে জামারাতে নিক্ষেপের কিছু কংকর অবশিষ্ট থাকে, তার জন্য তা মিনায় ফিরিয়ে দেওয়া আবশ্যক নয়, কারণ এর পক্ষে কোনো দলিল নেই।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ২৯৪)।
***
প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি হজে জামারায়ে আকাবায় সাতটি কংকর একসঙ্গে নিক্ষেপ করেছে, তার হুকুম কী?
উত্তর: যে ব্যক্তি জামারাতে সাতটি কংকর একসঙ্গে নিক্ষেপ করেছে, তার উচিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় পাথর নিক্ষেপ করা। কারণ, প্রতিটি কংকর আলাদাভাবে নিক্ষেপ করা আবশ্যক, আর একসঙ্গে নিক্ষেপ করলে তা এক কংকর নিক্ষেপ করার সমান গণ্য হবে। যদি সে পুনরায় নিক্ষেপ না করে, তবে হজের একটি ওয়াজিব আমল পরিত্যাগ করার কারণে তার উপর ফিদিয়া আবশ্যক হবে। এই ফিদিয়া হলো: মক্কায় একটি ছাগল জবাই করে তা হারামের দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা। যদি এটি সম্ভব না হয়, তবে দশ দিন রোজা রাখতে হবে, যা একটানা বা বিচ্ছিন্নভাবে রাখা যেতে পারে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩১০)।
***
প্রশ্ন: গত বছর আমার খালা হজ করেছেন, কিন্তু জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করার সময় তিনি প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে দেখতে পাননি যে পাথরগুলো হাউযে (গর্তে) পড়েছে কি না। তবে কখনো কখনো তিনি জামারাকে লক্ষ্য করেই নিক্ষেপ করেছেন। এ ক্ষেত্রে তার কী করণীয়? দয়া করে আমাদের ফতোয়া দিন।
উত্তর: পাথর নিক্ষেপের সঠিকতার শর্ত হচ্ছে পাথরটি লক্ষ্যস্থলে (হাউজে) পড়া নিশ্চিত হওয়া। যদি সে নিশ্চিত হয় যে পাথরটি নিক্ষেপের সময় হাউজে পড়েছিল, তাহলে পরবর্তী সময়ে কোনো সন্দেহ হলে তা গুরুত্বপূর্ণ নয় এবং তার পাথর নিক্ষেপ সঠিক হবে। আর নিক্ষেপের সময় যদি সে পাথরটি পড়েছে কিনা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তাকে ফিদিয়া দিতে হবে, যা হলো একটি ছাগল জবাই দিয়ে হারামের দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে তাকে দশটি রোজা রাখতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩১১)।
***
প্রশ্ন: কিছু হাজী, -আল্লাহ তাদের হেদায়াত দান করুন- তারা জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করার পরিবর্তে বিভিন্ন জিনিস যেমন জুতা, খালি পানির বোতল ইত্যাদি নিক্ষেপ করে থাকেন। এমন কর্মের কারণে কি তাদের পাথর নিক্ষেপ বাতিল হয়ে যাবে, নাকি তারা তাদের অজ্ঞতার জন্য ছাড় পাবেন?
উত্তর: জামারাতে জুতা, পানির বোতল বা এ ধরনের অন্য কোনো বস্তু নিক্ষেপ করা বৈধ নয়, কারণ এটি শরীয়তসম্মত নয় এবং এতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতের খেলাফ হয়। কেননা তিনি জামারাতে ছোট ছোট কংকর নিক্ষেপ করতেন, যা সাইজে মটর দানার তুলনায় কিছুটা বড় ছিল। আর তিনি বলেছেন: “তোমরা আমার কাছ থেকে হজের নিয়ম গ্রহণ কর।” এরা তাদের এই কাজের জন্য গুনাহগার হবে এবং যারা তাদের দেখতে পাবে তাদের উচিত তাদের বিরত করা এবং উপদেশ দেওয়া। তবে, যদি তারা সঠিক পাথর নিক্ষেপ করে থাকে, তাহলে তাদের কংকর নিক্ষেপ বাতিল হবে না।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩২৪)।
***
প্রশ্ন: যারা হজ করেছেন এবং তশরীকের দিনগুলোতে তারা দ্রুততর হতে চেয়েছিলেন, তাই প্রথম দিন তিনটি জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেছেন, পরদিনও অনুরূপ করেছেন। তারপর সূর্যাস্তের আগে সরাসরি মক্কায় চলে গিয়ে সেখানে রাত কাটিয়েছেন এবং তৃতীয় দিন পাথর নিক্ষেপ করেননি, তাদের উপর কি কোনো ফিদিয়া বা দম আছে?
উত্তর: যারা ১২ তারিখে (১২ই যিলহজ) তিনটি জামরায় কংকর নিক্ষেপ করে দ্রুত চলে যেতে চান, তাদের জন্য মিনা থেকে সূর্যাস্তের আগে চলে আসা বৈধ। তাদের উপর ১৩ তারিখে (১৩ই জিলহজ) জামরায় কংকর নিক্ষেপ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, তারা মক্কায় বা অন্য কোথাও থাকুক না কেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৩৫)।
***
বিদায়ী তাওয়াফ
প্রশ্ন: আমি জেদ্দায় থাকি এবং মক্কা মুকাররমায় প্রায়ই যাই। হজের পর আমি কি বাইতুল্লাহর বিদায়ী তাওয়াফ করব, নাকি আমি আমার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার সময় তা করব? বিদায় তাওয়াফ পিছিয়ে রাখলে কোনো কাফফারা আছে কি?
উত্তর: যদি আপনি হজ করেন, তবে আপনি হজ শেষে বিদায়ী তাওয়াফ না করে জেদ্দায় ফিরে যাবেন না। যদি আপনি বিদায়ী তাওয়াফ করার আগে জেদ্দায় ফিরে যান, তবে আপনাকে একটি হাদি (কুরবানী) দিতে হবে যা মক্কায় জবাই করতে হবে এবং আপনি তার মাংস থেকে পারবেন না, বরং তা দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। কারণ বিদায়ী তাওয়াফ হজের শেষে একটি ওয়াজিব বিষয়, যেমনটি ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: “মানুষদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, যেনো তাদের সর্বশেষ অঙ্গীকার বায়তুল্লাহর নিকট হয়। তবে ঋতুবতী নারীর জন্য এ বিষয়ে শিথিল (মাফ) করা হয়েছে।” সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম। তাই আপনাকে বিদায়ী তাওয়াফ করার আগে জেদ্দায় ফিরে যাওয়ার কারণে আল্লাহর কাছে তওবা করতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩০৩)।
***
প্রশ্ন: মিনার দিনগুলোতে কি একজন হজকারী মিনা থেকে তায়েফে যেতে পারে এবং বিশ দিন পর ফিরে এসে বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফ-আল-বিদা) করতে পারে?
উত্তর: যারা বায়তুল্লায় হজ করেছেন তাদের জন্য মক্কা থেকে সফরে যাওয়ার অনুমতি নেই যতক্ষণ না তারা হজের সব কাজ সম্পন্ন করে, যার মধ্যে বিদায়ী তাওয়াফও অন্তর্ভুক্ত।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩০৭)।
***
প্রশ্ন: ঋতুবতী এবং প্রসূতি মহিলাদের জন্য কি বিদায়ী তাওয়াফ করা আবশ্যক, এবং যারা অক্ষম বা অসুস্থ তাদের জন্যও কি?
উত্তর: ঋতুবতী এবং প্রসূতি মহিলাদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামূলক নয়। তবে, অসুস্থ বা অক্ষম ব্যক্তিদেরকে বহন করে হলেও তাওয়াফ করাতে হবে। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যেন মক্কা ত্যাগ না করে, যতক্ষণ না তার শেষ কাজ বাইতুল্লাহর সাথে (বিদায়ী তাওয়াফ) থাকে।” তাছাড়া সহীহ বুখারী ও মুসলিমে ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: “মানুষদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, যেনো তাদের সর্বশেষ অঙ্গীকার বায়তুল্লাহর নিকট হয়। তবে ঋতুবতী নারীর জন্য এ বিষয়ে শিথিল করা হয়েছে।” অন্য একটি হাদীসে এসেছে যে, প্রসূতি মহিলার জন্যও ঋতুবতী মহিলার মতো বিদায়ী তাওয়াফ বাধ্যতামূলক নয়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩০৭)।
***
প্রশ্ন: বিদায়ী তাওয়াফ (তাওয়াফ-আল-বিদা) করার সময় আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম এবং তাওয়াফ বন্ধ করে দিয়েছিলাম। আমার সঙ্গীরা তাদের তাওয়াফ শেষ করেছে, এরপর আমি একজনের সাথে ফিরে গিয়ে আমার বাকি তাওয়াফ সম্পন্ন করেছি। তবে আমি একটি চক্কর ভুলে গিয়েছিলাম এবং দেশের ফিরে যাওয়ার পর জানলাম। এর জন্য আমার উপর কোনো ফিদিয়া (দম) বা অন্য কোনো কিছু প্রযোজ্য হবে কি?
উত্তর: যদি আপনি নিশ্চিত হন যে, বিদায়ী তাওয়াফের একটি চক্কর বাদ পড়েছে, তবে আপনাকে ফিদিয়া দিতে হবে, যা হলো মক্কায় একটি ছাগল জবাই করা, এবং তার মাংস ফকীরদের মধ্যে বিতরণ করা। যদি আপনি ফিদিয়া দিতে অক্ষম হন, তবে আপনাকে দশটি রোযা রাখতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১২৬)।
***
প্রশ্ন: আমি হজ করেছি এবং তাশরীকের দ্বিতীয় দিনে আছরের পরে বিদায়ী তাওয়াফ করেছি, তবে আমি মক্কায় সেদিনের রাত কাটিয়েছি এবং পরদিন সকালে তায়েফে চলে গেছি। অনুগ্রহ করে আমাকে জানাবেন, আমার এবং আমার পরিবারের বিদায়ী তাওয়াফ কি যথেষ্ট, নাকি আমার উপর কাফফারা রয়েছে, অথবা আমাদের আবার তাওয়াফ করতে হবে? আল্লাহ আপনাদের বিনিময় দান করুন।
উত্তর: যে ব্যক্তি হজের বিদায়ী তাওয়াফ করেছে এবং তারপর মক্কায় অল্প সময়ের জন্য অবস্থান করেছে, তার জন্য তাওয়াফের পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন নেই। তবে, যদি বিদায় তাওয়াফের পর দীর্ঘ সময় মক্কায় থাকেন, তাহলে তাকে পুনরায় তাওয়াফ করতে হবে। যেহেতু আপনি এবং আপনার পরিবার আছরের পরে বিদায় তাওয়াফ করেছেন এবং পরদিন সকাল বেলা সফরে বের হয়েছেন, এবং পুনরায় তাওয়াফ না করে সফর করেছেন, তাই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য একটি করে কোরবানি যোগ্য ছাগল মক্কায় জবাই করতে হবে এবং তা ফকিরদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। তবে, যদি আপনার সাথে কোনো হায়েজ বা প্রসূতি নারী থাকে, তবে তার জন্য বিদায়ী তাওয়াফ আবশ্যক নয়।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৩৭)।
***
প্রশ্ন: আমার স্ত্রীর গত বছর হজ করেছিল এবং সেটা ছিল তামত্তু হজ। সে হজের সব রীতিনীতি পালন করেছে, কিন্তু বিদায়ী তাওয়াফ করেনি, কারণ তার মাসিক শুরু হয়ে যায়। তাই সে বিদায় তাওয়াফ করেনি। পরে, আমার বাবা তাকে মসজিদুল হারামে নিয়ে গেছিলেন এবং সে কাবা শরীফ দেখেছিল। এই পরিস্থিতিতে হুকুম কী? অনুগ্রহ করে আমাকে জানাবেন।
উত্তর: বিদায়ী তাওয়াফ ঋতুবতী মহিলার ওপর থেকে মাফ করা হয়েছে এবং আপনার স্ত্রীর উপর এর জন্য কোনো কিছু নেই। যেমনটি ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে প্রমাণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: “মানুষদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছে, যেনো তাদের সর্বশেষ অঙ্গীকার বায়তুল্লাহর নিকট হয়। তবে ঋতুবতী নারীর জন্য এ বিষয়ে শিথিল (মাফ) করা হয়েছে।” আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “সাফিয়া বিনতে হুয়াই (বিদায় হজের সময়) তাওয়াফে ইফাযার পর ঋতুমতী হয়ে পড়েন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সংবাদ দেয়া হলে তিনি বললেন, সে কি আমাদের (মদিনা প্রত্যাবর্তনে) বাধা হয়ে দাঁড়াল? তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো বায়তুল্লায় তাওয়াফে ইফাযা করে নিয়েছেন, তারপরে হায়েয শুরু হয়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে সেও রওয়ানা করুক।”
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৪২)।
***
প্রশ্ন: যে ব্যক্তি মক্কায় এসেছে, উমরা অথবা হজ করার জন্য নয়, এবং সে মক্কা ত্যাগ করতে চায়, তার জন্য কি বিদায়ী তাওয়াফ আবশ্যক? যদি কোনো ব্যক্তি উমরা করে মক্কায় এক বা দুই দিন থাকে, তবে তার জন্য কি বিদায়ী তাওয়াফ আবশ্যক? বিদায়ী তাওয়াফ কি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো নির্দিষ্ট তাওয়াফ হিসেবে এসেছে, নাকি যে কোনো তাওয়াফ বিদায়ী তাওয়াফ হতে পারে, যদি সে মক্কা থেকে বের হয়? অনুগ্রহ করে আমাদের জানাবেন, আল্লাহ যেন আপনাদেরকে জান্নাত থেকে বঞ্চিত না করেন, আমিন।
উত্তর: বিদায়ী তাওয়াফ শুধুমাত্র হাজির উপর আবশ্যক যখন সে হজ শেষে মক্কা ত্যাগ করতে চায়; যেমনটি ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত: "মক্কা ত্যাগ করার আগে মানুষের শেষ কাজ হওয়া উচিত তাওয়াফ, তবে ঋতুবতী মহিলার জন্য এটি শিথিল করা হয়েছে।" (সহীহ বুখারী ও মুসলিম।) ঋতুবতী মহিলার মতো প্রসূতি মহিলার ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। তবে যারা হজ করেননি, তাদের জন্য বিদায়ী তাওয়াফ আবশ্যক নয়, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরা পালনকারীদের জন্য এর নির্দেশ দেননি। তাছাড়া হজের বিদায়ী তাওয়াফের জন্য নিয়ত থাকা জরুরী, কারণ এটি একটি ইবাদত ও আমল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক মানুষের জন্য তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল রয়েছে।” আর আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৪৪)।
***
প্রশ্ন: বিদায়ী তাওয়াফের পর কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা জায়েয হবে কি? আর কেউ যদি তাওয়াফের পর কিছু কিনে থাকে, তাহলে তার উপর কিছু আবশ্যক হবে কি?
উত্তর: বিদায়ী তাওয়াফ হজের শেষ হবে এবং তাওয়াফের পর মক্কা ত্যাগ করা উচিত। তবে যদি কেউ স্বল্প সময়ের জন্য মক্কায় অবস্থান করে—যেমন সফরসঙ্গীদের অপেক্ষা করা, মালপত্র গোছানো বা প্রয়োজনীয় কিছু কেনাকাটা করা—তাহলে এতে কোনো সমস্যা নেই।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৪৫)।
***
প্রশ্ন: একজন হাজী হজ সম্পন্ন করার পর জিলহজের ১২ তারিখে বিদায়ী তাওয়াফ করেছে, তারপর সে মিনায় গিয়ে জামারায় কংকর নিক্ষেপ করেছে। তার তাওয়াফ কি শুদ্ধ হয়েছে, যেহেতু সে কংকর নিক্ষেপ করার আগেই তাওয়াফ করেছে? এই ব্যক্তির করণীয় কী, সে জেদ্দার বাসিন্দা?
উত্তর: যে ব্যক্তি বিদায়ী তাওয়াফ জামারায় পাথর নিক্ষেপের আগে সম্পন্ন করেছে, তার তাওয়াফ গ্রহণযোগ্য নয়; কারণ বিদায়ী তাওয়াফ অবশ্যই হজের শেষ কাজ হতে হবে। যেহেতু সে পুনরায় তাওয়াফ না করেই সফর করেছে, তাই তার জন্য মক্কায় ফিদিয়া হিসেবে একটি পশু জবাই করা ওয়াজিব, যা হারামের গরিবদের মাঝে বিতরণ করা হবে এবং সে নিজে তা খেতে পারবে না। যদি সে ফিদিয়া দিতে অপারগ হয়, তবে তাকে দশ দিন রোযা রাখতে হবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৪৫)।
***
প্রশ্ন: জমজমের পানি বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বলে বর্ণনা করা হয়েছে, এ সম্পর্কে কি কোনো সহীহ হাদিস আছে?
উত্তর: জমজমের পানি পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পানি। এর গুণাবলী সম্পর্কে সবচেয়ে সঠিক হাদিসটি সহীহ মুসলিমে এসেছে, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম জমজমের পানি সম্পর্কে বলেছেন: “এটি বরকতময় এবং এটি অনাহারীর আহারের মতো।” আবূ দাউদ বিশুদ্ধ সনদে অতিরিক্ত রয়েছে: “এবং তা অসুস্থদের আরোগ্য।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আরো বর্ণিত যে, তিনি বলেন: "জমজমের পানি যে জন্য পান করা হয়, তা সে উদ্দেশ্যেই হয়।" এটি আহমাদ, ইবনে মাজাহ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ১৬৮)।
***
মদিনা যিয়ারত সম্পর্কিত ফতোয়াসমূহ
প্রশ্ন: আমি যদি রমযানে ইনশাআল্লাহ উমরা করার এবং রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নগরী মদিনা যিয়ারতের নিয়ত করি, তাহলে আপনারা আমাকে কী পরামর্শ দেবেন?
উত্তর: মসজিদে নববী যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা শরিয়তসম্মত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর বা অন্য কোনো কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে জায়েয নয়। কেননা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোনো স্থানে (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফর করা যাবে না: মসজিদুল হারাম, আমার এ মসজিদ (মসজিদে নববী) এবং মসজিদে আক্বসা।” তবে যে ব্যক্তি মসজিদে নববী যিয়ারত করবে, তার জন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তার দুই সাহাবী আবু বকর ও উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর প্রতি সালাম দেয়া শরিয়তসম্মত। এছাড়াও, তার জন্য ‘বাকী কবরস্থান’ ও উহুদের শহীদদের কবর যিয়ারত করা, তাদের জন্য দুআ করা, রহমত প্রার্থনা করা, এবং মৃত্যু ও পরকালের কথা স্মরণ করাও শরিয়তসম্মত। এছাড়া, মসজিদে কুবায় যিয়ারতে গিয়ে সেখানে সালাত আদায় করাও শরিয়তসম্মত, কারণ এ বিষয়ে অনেক হাদীস এসেছে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৭৮)।
***
প্রশ্ন: নারী-পুরুষ উভয় হাজীদের জন্য রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর, বাকী কবরস্থান, উহুদের শহীদগণের কবর এবং মসজিদে কুবা যিয়ারত করা কি আবশ্যক? নাকি এটি শুধু পুরুষদের জন্য?
উত্তর: হজ পালনকারী—পুরুষ হোক বা নারী— তাদের জন্য রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর কিংবা বাকী কবরস্থান যিয়ারত করা আবশ্যক নয়। বরং, কেবল কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা সম্পূর্ণ হারাম। আর নারীদের জন্য কবর যিয়ারত করা সফর ছাড়াও হারাম, কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “তিনটি মসজিদ ছাড়া অন্য কোনো স্থানে (ইবাদতের উদ্দেশ্যে) সফর করা যাবে না: আমার এ মসজিদ (মসজিদে নববী), মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে আক্বসা।” সহীহ বুখারী ও মুসলিম তাছাড়া নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কবর যিয়ারতকারী নারীদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। বস্তুত নারীদের জন্য মসজিদে নববীতে সালাত আদায় করাই যথেষ্ট, এবং তারা সেখানে ও অন্য যেকোনো স্থান থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করবে।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- প্রথম সংকলন (১১/ ৩৬২)।
***
প্রশ্ন: আমার এক ভাই আছেন, যিনি মদীনায় আগত হাজী ও উমরাকারীদের কিছু দর্শনীয় স্থানে নিয়ে যান, যার মধ্যে কিছু জায়গা শরীয়তসম্মত নয়। শর্তানুযায়ী এর বিনিময়ে তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করেন। তার এই কাজ কি শরীয়তসম্মত?
উত্তর: আপনার ভাই যে কাজটি করছেন, অর্থাৎ মদিনায় হাজী ও উমরাকারীদের এমন কিছু স্থানে যিয়ারতে নিয়ে যাওয়া, যেগুলো যিয়ারত করা শরীয়তসম্মত নয়, তা হারাম কাজ এবং এ কাজের বিনিময়ে যে অর্থ গ্রহণ করেন, তা হারাম উপার্জন। আপনার উচিত এ কাজ পরিহারে তাকে নসীহত করা।
ফতোয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির ফাতোয়া- দ্বিতীয় সংকলন (১০/ ৩৯০)। সংক্ষেপিত।
***