হিসনুল মুসলিম কুরআন ও সুন্নাহর যিকির ও দু‘আ
গ্রন্থটিতে কুরআন ও সুন্নাহ থেকে যিকিরসমূহ সংকলন করা হয়েছে, যেন বিভিন্ন সময়ে ও পরিস্থিতিতে তা পাঠ করা সহজ হয়। এতে ঘুম থেকে উঠা, ওযু, সালাত, সফর ও অন্যান্য অবস্থার দু‘আসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যা মুসলিমকে তার নিজেকে সুরক্ষিত করতে সাহায্য করে, যাতে সে আল্লাহর হেফাযত ও তত্ত্বাবধানে থাকতে পারে। (আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে নিজ সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষার একটি রীতি। বাংলায় এরীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদে একবচনই ব্যবহার করা হয়েছে।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)
This PDF is generated automatically from the book's text; its layout may differ from the printed edition.
হিসনুল মুসলিম কুরআন ও সুন্নাহর যিকির ও দু‘আ
আল্লাহ তা‘আলারই মুখাপেক্ষী
ড. সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহফ আল-কাহতানী
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
ভূমিকা
নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের নফসের অনিষ্টসমূহ এবং আমাদের কর্মের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ তা‘আলা যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ প্রদর্শনকারীও কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তাদের নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করবে সবার ওপর অসংখ্য সালাত (রহমত)ও নিরাপত্তা - শান্তি বর্ষণ করুন। অতঃপর:
এটি একটি পুস্তিকা যা আমি আমার দুটি বই “যিকর, দু‘আ এবং কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে ঝাড়ফুঁকের দ্বারা চিকিৎসা” (الذَّكْرُ وَالدُّعَاءُ وَالعِلاَجُ بِالرُّقَى مِنَ الكِتَابِ وَالسُّنَّةِ )[১] থেকে সংক্ষেপিত, যেখানে আমি حِصْنُ المُسْلِمِ مِنْ أَذْكَارِ الكِتَابِ وَالسُّنَّةِ সংক্রান্ত অংশ সংক্ষেপ করেছি, যেন এটাকে সফরে বহন করা হালকা ও সহজ হয়। [১] আলহামদুলিল্লাহ, উল্লিখিত মূল গ্রন্থটি এতে সংকলিত হাদিসসমূহের ব্যাপক তাখরীজসহ চার খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় খণ্ডে রয়েছে হিসনুল মুসলিম।
আমি শুধুমাত্র যিকিরের মূলপাঠের উপর সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং এর তাখরিজের ক্ষেত্রে মূলগ্রন্থে পাওয়া একটি বা দুটি সূত্র উল্লেখ করেই সন্তুষ্ট থেকেছি। যদি কেউ সাহাবীর পরিচয় জানতে চান বা তাখরিজ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চান, তাহলে তাদের মূল গ্রন্থের দিকে ফিরে যেতে হবে। আমি আল্লাহর নিকট তাঁর সুন্দর নামসমূহ ও তাঁর সুউচ্চ গুণাবলীর ওসিলায় প্রার্থনা করছি, তিনি যেন এই গ্রন্থটিকে শুধুমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য খালিস করে নেন। তিনি যেন আমার জীবদ্দশায় ও মৃত্যুর পরে এর মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করেন এবং যারা এটি পড়বে, মুদ্রণ করবে বা এর প্রচারে ভূমিকা রাখবে, তাদেরকেও এ দ্বারা উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনিই এ বিষয়ে অভিভাবক ও ক্ষমতাবান। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামাত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁর অনুসরণকারীদের প্রতি শান্তি ও রহমত নাযিল করুন।
লেখক
এটি ১৪০৯ হিজরির সফর মাসে লেখা হয়েছে। (আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদের বহু আয়াতে তাঁর সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষার একটি রীতি।বাংলায় এ রীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদে বইটিতে একবচনই ব্যবহার করা হয়েছে।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)
যিকিরের ফযীলত
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: অর্থ: “অতএব, তোমরা আমার যিকির কর, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর আমার শোকর আদায় কর, না-শোকরি বা আমার সাথে কুফরী করো না।”[২] [২] সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫২।
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা বেশি বেশি আল্লাহ্কে যিকির কর ।”[৩] [৩] সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪১।
অর্থ: “আল্লাহ্কে অধিক যিকিরকারী পুরুষ ও আল্লাহ্কে অধিক যিকিরকারী নারী- তাদের জন্য আল্লাহ্ প্রস্তুত রেখেছেন ক্ষমা ও মহাপ্রতিদান।”[৪] [৪] সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৫।
অর্থ: “আর তুমি নিজ মনে আপন রবকে যিকির কর সকাল-সন্ধ্যায় অনুনয়-বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চ স্বরে। আর গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।”[৫] [৫] সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ২০৫।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার রবের যিকির করে এবং যে তাঁর যিকির করে না, তাদের উদাহরণ জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মত।”[৬] [৬] সহীহ বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২০৮, হাদিস নং: ৬৪০৭; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৩৯, হাদিস নং: ৭৭৯, এই শব্দে: "যে ঘরে আল্লাহকে যিকির করা হয় এবং যে ঘরে আল্লাহকে যিকির করা হয় না, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃতের মতো।"
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: “আমি কি তোমাদেরকে তোমাদের উত্তম আমলসমূহের সন্ধান দেব না? যা তোমাদের মালিকের কাছে সবচেয়ে পবিত্র, তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধিকারী, সোনা ও রুপা দান করার চেয়েও উত্তম এবং শত্রুর সম্মুখীন হয়ে গর্দান কাটা ও কাটানোর চেয়েও শ্রেয়?” তারা সকলে বললেন: “অবশ্যই”, তিনি বললেন: “আল্লাহ তা’আলার যিকির।”[৭] [৭] তিরমিজি, ৫/৪৫৯, হাদিস নং: ৩৩৭৭; এবং ইবনে মাজাহ, ২/১২৪, হাদিস নং: ৩৭৯০। আরও দেখুন: সহীহ ইবনে মাজাহ, ২/৩১৬; এবং সহীহ তিরমিজি, ৩/১৩৯।
তিনি ﷺ আরও বলেছেন: “আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন: আমি সে রকমই যে রকম বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি বান্দার সঙ্গে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে; আমিও তাকে আমার মনে স্মরণ করি। আর যদি সে কোন সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত এগিয়ে আসে, আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দু’ হাত প্রসারিত দৈর্ঘ্য পরিমাণ এগিয়ে যাই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে আসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাই।”[৮] সহীহ বুখারী (৮/১৭১) হাদিস নং: ৭৪০৫, মুসলিম (৪/২০৬১) হাদিস নং: ২৬৭৫, হাদীসের শব্দাবলী সহীহ বুখারীর।
আবদুল্লাহ ইবনু বুসর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল ! আমার জন্য ইসলামের বিধিবিধান অনেক হয়ে গেছে। সুতরাং আমাকে এমন একটি বিষয় জানান, যা আমি শক্তভাবে আঁকড়ে ধরব। তিনি বললেন: “সর্বদা তোমার জিহ্বা যেন আল্লাহ তা’আলার যিকিরের দ্বারা সিক্ত থাকে”[৯], [৯] তিরমিযি, ৫/৪৫৮, হাদিস নং: ৩৩৭৫; এবং ইবনে মাজাহ, ২/১২৪৬, হাদিস নং: ৩৭৯৩। আলবানি (রহ.) এই হাদিসটিকে সহীহ তিরমিযি ও সহীহ ইবনে মাজাহ-তে সহীহ বলেছেন: “সহীহ তিরমিযি”, ৩/১৩৯; এবং "সহীহ ইবনে মাজাহ", ২/৩১৭।
তিনিﷺ আরও বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য এর কারণে একটি সাওয়াব রয়েছে। আর প্রতিটি সওয়াব তার দশ গুণ বৃদ্ধি পায়। আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মীম (الم) একটি হরফ; বরং (ا) আলিফ একটি হরফ, (ل) লাম একটি হরফ এবং (م) মীম একটি হরফ।”[১০] [১০] তিরমিযি, ৫/১৭৫, হাদিস নং: ২৯১০। আলবানি (রহ.) এই হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন: "সহীহ তিরমিযি", ৩/৯; এবং "সহীহ আল-জামে আস-সগীর", ৫/৩৪০।
উকবা ইবনু ‘আমির রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে আসলেন, আমরা তখন সুফফায় ছিলাম। তিনি বললেন: “তোমাদের মধ্যে কেউ কি এমনটা পছন্দ করবে যে, সে প্রতিদিন সকালে ’বুতহান’ কিংবা আকীক নামক স্থানে যাবে এবং সেখান থেকে কোন পাপের আশ্রয় না নিয়ে কিংবা কোন প্রকার আত্মীয়তা ছিন্ন না করে বড় বড় কূঁজবিশিষ্ট দুটি উটনী নিয়ে আসবে?” আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সেটা পছন্দ করি। তিনি বললেন: “তবে কি তোমাদের কেউ সকাল বেলা মসজিদে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলার কিতাব থেকে দুটি আয়াত শিখবে অথবা তিলাওয়াত করবে না যা তার জন্য দুটি উটনীর চেয়ে উত্তম? আর তিন আয়াত তার জন্য তিনটি উটনীর চেয়ে উত্তম এবং চার আয়াত চারটি উটনীর চেয়ে উত্তম। এমনিভাবে যত আয়াত তিলাওয়াত করবে তত সংখ্যক উটনীর চেয়ে উত্তম।”[১১] [১১] সহীহ মুসলিম: ১/৫৫৩, হাদিস নং: ৮০৩।
তিনি ﷺআরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোন স্থানে বসেছে, আর সেখানে আল্লাহর যিকির করেনি, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে লাঞ্ছনা। অনুরূপভাবে যে কোন ব্যক্তি বিছানায় শয়ন করেছে অথচ আল্লাহর যিকির করেনি, তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে লাঞ্ছনা।" [১২] [১২] আবু দাউদ, ৪/২৬৪, হাদিস নং: ৪৮৫৬, এবং অন্যান্য । আরো দেখুন: "সহীহ আল-জামে", ৫/৩৪২।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: “যে সমস্ত লোক কোন মজলিসে বসেছে অথচ তারা আল্লাহ তা’আলার যিকর করেনি এবং তাদের নবীর প্রতি দরূদও পড়েনি, তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনা। আল্লাহ তা’আলা চাইলে তাদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন কিংবা মাফও করতে পারেন।”[১৩] [১৩] তিরমিজি, ৫/৪৬১, হাদিস নং: ৩৩৮০। আরো দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৪০।
তিনি ﷺআরও বলেছেন: “কোনো কাওম যখন কোনো মজলিস থেকে আল্লাহর যিকির করা ছাড়া ওঠে, তখন তারা যেন গাধার মরদেহের মতো হয়ে উঠল। আর এটি তাদের জন্য পরিতাপের কারণ হবে।”[১৪] [১৪] আবু দাউদ, ৪/২৬৪, হাদিস নং: ৪৮৫৫, আহমাদ, ২/৩৮৯, হাদিস নং: ১০৬৮০। আরো দেখুন: "সহীহ আল-জামে", ৫/১৭৬।
১. ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার যিকিরসমূহ
অর্থ: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেছেন এবং তাঁর কাছেই পুনরুত্থান।"[১৫] [১৫] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ১১৩, হাদিস নং: ৬৩১৪; এবং মুসলিম, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ২০৮৩, হাদিস নং: ২৭১১।
আলহামদু লিল্লাহিল লাযী আহইয়ানা বা'দা মা আমাতানা, ওয়া ইলাইহিন নুশুর
অর্থ: “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবূদ নাই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নাই, সার্বভৌমত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর প্রাপ্য, তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান, আল্লাহ মহা পবিত্র, আল্লাহই সমস্ত প্রশংসার অধিকারী, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নাই, আল্লাহ সুমহান, সর্বোচ্চ মহিমান্বিত আল্লাহর অনুগ্রহ ব্যতীত অন্যায় থেকে বিরত থাকার কিংবা ভালো কাজ করার শক্তি কারো নাই’’, অতঃপর বলে ’’হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।”[১৬] [১৬] যে ব্যক্তি এটি বলবে, তার গুনাহ মাফ করা হবে। যদি সে দু‘আ করে, তাহলে তার দু‘আ কবুল করা হবে। যদি সে অযু করে এবং সালাত আদায় করে, তাহলে তার সালাত কবুল করা হবে। (বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ৩৯, হাদিস নং: ১১৫৪, এবং অন্যান্য; এই শব্দগুলো ইবনে মাজাহর। দেখুন: সহীহ ইবনে মাজাহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৩৩৫।)
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর, সুবহানাল্লাহ, ওয়ালহামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম, রাব্বিগফির লী।
অর্থ: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার দেহে সুস্থতা দান করেছেন, আমার রূহ ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং আমাকে তাঁর যিকিরের অনুমতি দিয়েছেন।" [১৭] [১৭] তিরমিজি, ৫/৪৭৩, হাদিস নং: ৩৪০১। আরো দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৪৪।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আফানী ফী জাসাদী, ওয়া রাদ্দা আলাইয়্যা রূহী, ওয়া আযিনা লী বিযিকরিহ
অর্থ: “নিশ্চয় আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য বহু নির্দশন। ১৯০ যারা আল্লাহকে স্মরণ করে দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করে। আর বলে: ‘হে আমাদের রব, আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি। আপনি সুমহান পবিত্র। সুতরাং আপনি আমাদেরকে আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন’। ১৯১ হে আমাদের রব, নিশ্চয় আপনি যাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন, অবশ্যই তাকে আপনি অপমান করবেন। আর যালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। ১৯২ হে আমাদের রব, নিশ্চয় আমরা শুনেছিলাম একজন আহবানকারীকে, যে ঈমানের দিকে এ মর্মে আহবান করে যে, ‘তোমরা তোমাদের রবের প্রতি ঈমান আন’। তাই আমরা ঈমান এনেছি। হে আমাদের রব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং বিদূরিত করুন আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, আর আমাদেরকে মৃত্যু দিন নেককারদের সাথে। ১৯৩ হে আমাদের রব, আর আপনি আমাদেরকে তা প্রদান করুন যার ওয়াদা আপনি আমাদেরকে দিয়েছেন আপনার রাসূলগণের মাধ্যমে। আর কিয়ামতের দিনে আপনি আমাদেরকে অপমান করবেন না। নিশ্চয় আপনি অঙ্গীকার ভঙ্গ করেন না। ১৯৪ অতঃপর তাদের রব তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে বললেন: ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের কোন পুরুষ অথবা মহিলা আমলকারীর আমল নষ্ট করব না। তোমাদের একে অপরের অংশ। সুতরাং যারা হিজরত করেছে এবং যাদেরকে তাদের ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং যাদেরকে আমার রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়েছে, আর যারা যুদ্ধ করেছে এবং নিহত হয়েছে, আমি অবশ্যই তাদের ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ বিদূরিত করে দেব এবং তাদেরকে প্রবেশ করাবো জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত হচ্ছে নহরসমূহ; আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ। আর আল্লাহর নিকট রয়েছে উত্তম প্রতিদান। ১৯৫ নগরসমূহে সেসব লোকের চলা-ফেরা তোমাকে যেন ধোঁকায় না ফেলে যারা কুফরী করেছে। ১৯৬ এ তো স্বল্পকালীন ভোগ মাত্র; তারপর জাহান্নাম তাদের আবাস; আর সেটা কতই না নিকৃষ্ট বিশ্রামস্থল! ১৯৭ কিন্তু যারা তাদের রবকে ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, সেখানে তারা স্থায়ীভাবে থাকবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারী। আর আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা নেককার লোকদের জন্য উত্তম। ১৯৮ আর নিশ্চয় আহলে কিতাবদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে, যারা আল্লাহর জন্য বিনীত হয়ে আল্লাহর প্রতি এবং যা নাযিল করা হয়েছে তোমাদের প্রতি আর নাযিল করা হয়েছে তাদের প্রতি, সেগুলির উপরে ঈমান আনে। তারা আল্লাহর আয়াতসমূহ স্বল্পমূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করে না। তাদের জন্য রয়েছে তাদের রবের নিকট পুরস্কার। নিশ্চয় আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী। ১৯৯ হে মুমিনগণ, তোমরা ধৈর্য ধারণ কর ও ধৈর্যে অটল থাক এবং শত্রুর বিপক্ষে সদা প্রস্তুত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফল হও।”[১৮] [আলে ইমরান: ১৯০-২০০] [১৮]। [১৮] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ৮, পৃষ্ঠা: ৩৩৭, হাদিস নং: ৪৫৬৯; এবং মুসলিম, খণ্ড: ১, পৃষ্ঠা: ৫৩০, হাদিস নং: ২৫৬।
২. জামা পরিধানের দু‘আ
অর্থ: “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে এই পোষাক পরিয়েছেন এবং আমাকে তা দান করেছেন আমার থেকে কোন প্রচেষ্টা ও শক্তি ছাড়াই...।”[১৯] [১৯] এ হাদিসটি নাসাঈ ছাড়া অন্যান্য সুনান গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪০২৩; তিরমিজি, হাদিস নং: ৩৪৫৮; এবং ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩২৮৫। আলবানি (রহ.) এই হাদিসটিকে হাসান বলেছেন: "ইরওয়া আল-গালীল", ৭/৪৭।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী কাসানী হাযা (আছ-ছাওবা) ওয়া রাযাকানীহি মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী ওয়া লা কুওয়াহ
৩. নতুন পোষাক পরিধানের দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা আপনার। এটি আপনি আমাকে পরিয়েছেন। আমি আপনার নিকটে এর মধ্যে নিহিত কল্যাণ এবং যে উদ্দেশ্যে এটা বানানো হয়েছে তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আর এর মধ্যে নিহিত ক্ষতি এবং যে উদ্দেশ্যে এটা বানানো হয়েছে তার অকল্যাণ হতে আপনার আশ্রয় চাচ্ছি।”[২০] [২০] আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪০২০; তিরমিযি, হাদিস নং: ১৭৬৭; এবং আল-বাগাবী, খণ্ড ১২, পৃষ্ঠা ৪০। আরো দেখুন: আলবানি (রহ.) সংকলিত "মুখতাসার শামায়েল আত-তিরমিজি", পৃষ্ঠা ৪৭।
আল্লাহুম্মা লাকাল হামদু আনতা কাসাওতানীহি, আসআলুকা মিন খাইরিহি ওয়া খাইরি মা সুনিআ লাহু, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররিহি ওয়া শাররি মা সুনিআ লাহ।
৪. নতুন জামা পরিধানকারীর দু‘আ
অর্থ: “এ কাপড় যেন পুরাতন হয় এবং আল্লাহ তা‘আলা যেন এর পরিবর্তে নতুন কাপড় দান করেন।”[২১] [২১] আবু দাউদ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৪১, হাদিস নং: ৪০২০। আরও দেখুন: "সহীহ আবু দাউদ", ২/৭৬০।
তুবলি ওয়া ইয়ুখলিফুল্লাহু তাআলা
অর্থ: "নতুন জামা পরিধান করো, প্রশংসনীয় জীবন যাপন করো এবং শাহাদাতের মৃত্যুবরণ করো।" [২২] [২২] ইবনে মাজাহ, খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ১১৭৮, হাদিস নং: ৩৫৫৮; এবং আল-বাগাবী, খণ্ড: ১২, পৃষ্ঠা: ৪১। আরো দেখুন: "সহীহ ইবনে মাজাহ", খণ্ড: ২, পৃষ্ঠা: ২৭৫।
ইলবাস্ জাদীদান, ওয়া ইশ্ হামীদান, ওয়া মুত্ শাহীদান
৫. কাপড় খুলে রাখার সময় যা বলবে
“বিসমিল্লাহ”[২৩]। [23] তিরমিযি, ২/৫০৫, হাদিস নং: ৬০৬, এবং অন্যান্য। আরো দেখুন: ইরওয়া আল-গালীল, হাদিস নং: ৫০, এবং সহীহ আল-জামে, ৩/২০৩।
বিসমিল্লাহ
৬. টয়লেটে প্রবেশের দু‘আ
অর্থ: “ [আল্লাহর নামে] হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র নর জিন ও নারী জিন থেকে আশ্রয় চাই।”[২৪] [24] এটি ইমাম বুখারী, ১/৪৫, হাদিস নং: ১৪২ এবং মুসলিম, ১/২৮৩, হাদিস নং: ৩৭৫ বর্ণনা করেছেন। আর ((বিসমিল্লাহ)) শুরুর অংশটি সাঈদ ইবনে মানসুর বর্ণনা করেছেন। দেখুন: ফাতহুল বারী, ১/২৪৪।
বিসমিল্লাহি, আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল খুবসি ওয়াল খাবাইস
৭. টয়লেট থেকে বের হওয়ার দু‘আ
অর্থ: “আপনার ক্ষমা চাই”।[২৫] [২৫] এটি সুনান গ্রন্থের লেখকগণ বর্ণনা করেছেন; তবে নাসাঈ এটি "‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ" গ্রন্থে হাদিস নং: ৭৯, এবং আবু দাউদ, হাদিস নং: ৩০, তিরমিজি, হাদিস নং: ৭, ও ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩০০ এ বর্ণনা করেছেন। আলবানি এটিকে সহীহ সুনান আবু দাউদ, ১/১৯ এ সহীহ বলেছেন।
গুফরানাকা
৮. অযুর পূর্বের দু‘আ (যিকির)
«بِسْمِ اللَّهِ»[26]. অর্থ: “আমি আল্লাহর নামে আরম্ভ করলাম।”[২৬] [২৬] আবু দাউদ, হাদিস নং: ১০১; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩৯৭; এবং আহমাদ, হাদিস নং: ৯৪১৮। আরো দেখুন: ইরওয়া আল-গালীল, ১/১২২।
বিসমিল্লাহ
৯. অযুর শেষে দু‘আ
অর্থ: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনিই একক যার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।”[২৭] [২৭] সহীহ মুসলিম: ১/২০৯, হাদিস নং: ২৩৪।
আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহ।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”[২৮] [২৮] তিরমিযি, ১/৭৮, হাদিস নং: ৫৫, এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ১/১৮।
আল্লাহুম্মাজ আলনী মিনাত তাওয়াবীনা, ওয়াজ আলনী মিনাল মুতাতাহহিরীন
অর্থ: "হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, এবং সমস্ত প্রশংসা আপনারই জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনার কাছেই তাওবা করি।"[২৯] [২৯] নাসাঈ, "আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ", পৃষ্ঠা: ১৭৩, এবং দেখুন: ইরওয়া আল-গালীল, ১/১৩৫, ৩/৯৪।
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইক
১০. বাড়ি থেকে বের হওয়ার দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহর নামে (বের হচ্ছি), আমি আল্লাহর উপরেই ভরসা করেছি, আল্লাহর পক্ষ থেকে ছাড়া কোন শক্তি অথবা উপায় নেই।”[৩০] [৩০] আবু দাউদ, ৪/৩২৫, হাদিস নং: ৫০৯৫, এবং তিরমিযি, ৫/৪৯০, হাদিস নং: ৩৪২৬, এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ৩/১৫১।
বিসমিল্লাহি, তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
অর্থ: “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন আমি কাউকে পথভ্রষ্ট না করি আর নিজেও পথভ্রষ্ট না হই, আমি যেন কাউকে বিচ্যুত না করি আর নিজেও বিচ্যুত না হই। আমি কারো উপরে জুলুম না করি আর আমিও যেন জুলুুমের শিকার না হই। আর আমি যেন কাউকে অজ্ঞতার মধ্যে নিক্ষেপ না করি আর নিজেও অজ্ঞতার মধ্যে নিক্ষিপ্ত না হই।”[৩১] [৩১] আবু দাউদ, হাদিস নং: ৫০৯৪, তিরমিযি, হাদিস নং: ৩৪২৭, নাসাঈ, হাদিস নং: ৫৫০১, এবং ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৩৮৮৪, এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ৩/১৫২, এবং সহীহ ইবনে মাজাহ, ২/৩৩৬।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা আন আদিল্লা, আও উদাল্লা, আও আযিল্লা, আও উযাল্লা, আও আযলিমা, আও উযলামা, আও আজহালা, আও ইউজহালা আলাইয়া
১১. বাড়িতে প্রবেশের দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহর নামে আমরা প্রবেশ করেছি, আল্লাহর নামেই বের হয়েছি, আর আমাদের রব আল্লাহর উপরেই আমরা ভরসা করেছি।” তারপরে পরিবারের সদস্যদেরকে সালাম দেবে।[৩২] [৩২] আবু দাউদ, ৪/৩২৫, হাদিস নং: ৫০৯৬, আল্লামা ইবনে বায (রহ.) তার "তুহফাতুল আখইয়ার" (পৃষ্ঠা ২৮)-এ এর সনদকে হাসান বলেছেন। সহীহ হাদিসে রয়েছে: “যখন কোনো ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে এবং প্রবেশের সময় ও খাবারের সময় আল্লাহকে স্মরণ করে (অর্থাৎ ‘বিসমিল্লাহ’ বলে), তখন শয়তান [সঙ্গীদেরকে] বলে: ‘তোমাদের জন্য কোনো রাত কাটানোর স্থান নেই আর রাতের খাবারও নেই ’”, মুসলিম, হাদিস নং: ২০১৮।
বিসমিল্লাহি ওয়ালাজনা, ওয়া বিসমিল্লাহি খারাজনা, ওয়া আলাল্লাহি রাব্বিনা তাওয়াক্কালনা
১২. মসজিদে গমনের দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমার হৃদয়ে নূর দান করুন, আমার জিহ্বায় নূর দিন, আমার শ্রবণে নূর দিন, আমার দৃষ্টিতে নূর দিন। আমার ওপরে নূর দিন, আমার নিচে নূর দিন, আমার ডান পাশে নূর দিন, আমার বাম পাশে নূর দিন। আমার সামনে নূর দিন, আমার পেছনে নূর দিন। আমার আত্মায় নূর দিন, আমার জন্য নূর বৃদ্ধি করুন, আমার নূর মহান করুন। আমার জন্য নূর নির্ধারণ করুন, আমাকে নূরে পরিণত করুন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন। আমার স্নায়ুতে নূর দিন, আমার মাংসে নূর দিন, আমার রক্তে নূর দিন, আমার চুলে নূর দিন, এবং আমার চর্মে নূর দিন।”[৩৩] [৩৩] এই দু‘আটির সকল শব্দসমূহ দেখুন বুখারী, ১১/১১৬, হাদিস নং: ৩১৬৬; এবং মুসলিম, ১/৫২৬, হাদিস নং: ৫২৯, ৫৩০ ও ৭৬৩।
আল্লাহুম্মাজআল ফী কালবী নূরান, ওয়া ফী লিসানী নূরান, ওয়া ফী সাময়ী নূরান, ওয়া ফী বাসারী নূরান, ওয়া মিন ফাওকী নূরান, ওয়া মিন তাহতী নূরান, ওয়া আন ইয়ামিনী নূরান, ওয়া আন শিমালী নূরান, ওয়া মিন আমামী নূরান, ওয়া মিন খালফী নূরান, ওয়াজআল ফী নাফসী নূরান, ওয়া আ’জিম লী নূরান, ওয়া আজ্জিম লী নূরান, ওয়াজআল লী নূরান, ওয়াজআলনী নূরান, আল্লাহুম্মা আতিনী নূরান, ওয়াজআল ফী আসাবি নূরান, ওয়াফী লাহমী নূরান, ওয়াফী দামী নূরান, ওয়াফী শাআরী নূরান, ওয়াফী বাশারী নূরান।
“হে আল্লাহ! আমার কবরকে নূর দ্বারা আলোকিত করুন... এবং আমার অস্থিতে নূর দিন।”[৩৪] “এবং আমার নূর বৃদ্ধি করে দিন, আমার নূর বৃদ্ধি করে দিন, আমার নূর বৃদ্ধি করে দিন।”[৩৫] “এবং আমাকে নূরের উপর নূর দান করুন।”[৩৬] [৩৪] তিরমিযী, ৫/৪৮৩, হাদিস নং: ৩৪১৯। [৩৫] এটিকে বুখারী ‘আদাবুল মুফরাদ’-এ (নং: ৬৯৫, পৃ.: ২৫৮) বর্ণনা করেছেন এবং আলবানী ‘সহীহ আদাবুল মুফরাদ’-এ (নং: ৫৩৬) এর সনদকে সহীহ বলেছেন। [৩৬] ইবনে হাজার আসকালানী তার ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে আবী আসিমের ‘কিতাবুদ দু‘আ’ গ্রন্থের সাথে এর সনদ সম্পর্কিত করেছেন। দেখুন: ‘ফাতহুল বারী’ (১১/১১৮)। তিনি বলেন: "বিভিন্ন রেওয়ায়েতের পার্থক্য থেকে পঁচিশটি বৈশিষ্ট্য একত্রিত হয়েছে।"
আল্লাহুম্মাজআল লী নূরান ফী কাবরী... ওয়া নূরান ফী ইজামী, ওয়া যিদনী নূরান, ওয়া যিদনী নূরান, ওয়া যিদনী নূরান, ওয়া হাবলী নূরান আলা নূর
১৩. মসজিদে প্রবেশের দু‘আ
"ডান পা দিয়ে প্রবেশ শুরু করবে"[৩৭] এবং বলবে: অর্থ:আমি আশ্রয় চাই মহা পরাক্রমশালী আল্লাহর কাছে, তাঁর মহিমান্বিত চেহারার মাধ্যমে, এবং তাঁর শাশ্বত ক্ষমতার দ্বারা, অভিশপ্ত শয়তানের অনিষ্ট থেকে।”[৩৮] [৩৭] আনাস ইবন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "সুন্নাত হলো - যখন তুমি মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন ডান পা দিয়ে শুরু করবে। আর যখন বের হবে, তখন বাম পা দিয়ে শুরু করবে।" (হাদীসটি ইমাম হাকিম (১/২১৮) বর্ণনা করেছেন এবং মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন। ইমাম যাহাবীও তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া ইমাম বায়হাকীও (২/৪৪২) বর্ণনা করেছেন এবং শাইখ আলবানী 'সিলসিলাতুল আহাদীসিস আস-সহীহা' গ্রন্থে (৫/৬২৪, হাদীস নং: ২৪৭৮) এটিকে হাসান বলেছেন।) [৩৮] আবু দাউদ (হাদীস নং: ৪৬৬)। এছাড়া দেখুন: সহীহুল জামে (হাদীস নং: ৪৫৯১)।
আউযুবিল্লাহিল আযীম, ওয়াবি ওয়াজহিহিল কারীম, ওয়া সুলতানিহিল কাদীম, মিনাশ শাইতানির রাজীম অর্থ: “আল্লাহর নামে এবং দরূদ”[৩৯] “ও সালাম আল্লাহর রাসূলের উপর বর্ষিত হোক।”[৪০] [৩৯] হাদিসটি ইবনুস সুন্নী (রহ.) (নং: ৮৮) বর্ণনা করেছেন। ইমাম আলবানী (রহ.) 'আছ-ছামার আল-মুসতাত্বাব' (পৃ.: ৬০৭)-এ হাদিসটিকে হাসান বলেছেন। [৪০] আবু দাউদ (১/১২৬, হাদীস নং: ৪৬৫)। আরও দেখুন: সহীহুল জামে (১/৫২৮)।
বিসমিল্লাহ, ওয়াস সালাতু ওয়াস সালামু আলা রাসুলিল্লাহ “হে আল্লাহ! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।”[৪১] [৪১] সহীহ মুসলিম (১/৪৯৪, হাদীস নং: ৭১৩)। ইবনে মাজাহ-র সুনানে ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণনায় এসেছে: অর্থ: "হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন।" শাইখ আলবানী হাদীসটিকে এর শাহিদ (সমর্থনকারী বর্ণনা) এর ভিত্তিতে সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ ইবনে মাজাহ (১/১২৮, হাদিস নং: ১২৯)।
১৪. মসজিদ থেকে বের হওয়ার দু‘আ
(প্রথমে বাম পা দিয়ে শুরু করবে)[42] এবং বলবে: অর্থ: “আল্লাহর নামে শুরু করছি। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর,” [৪২] আল-হাকেম, ১/২১৮, আল-বায়হাকি, ২/৪৪২, এবং আলবানী (রহ.) এটাকে হাসান বলেছেন "আল-সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সাহীহাহ" গ্রন্থে, ৫/৬২৪, হাদীস নং: ২৪৭৮, এবং ইতোপূর্বে এটির তাখরীজ (সূত্র) উল্লেখ করা হয়েছে।
বিসমিল্লাহি ওয়াস-সালাতু ওয়াস-সালামু আলা রাসূলিল্লাহ হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি,
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক হে আল্লাহ! আমাকে বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করুন।”[৪৩] [৪৩] পূর্বোক্ত হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনার সূত্রের জন্য দেখুন: মসজিদে প্রবেশের দু‘আ, নং: (২০)। আর ((اللهم اعصمني من الشيطان الرجيم)) অতিরিক্ত সংযোজনটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। বিস্তারিত দেখুন: "সহীহ ইবন মাজাহ", ১/১২৯।
১৫. আযানের যিকিরসমূহ
মুয়াজ্জিন যা বলে, তা-ই বলবে, তবে ((حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ وَحَيَّ عَلَى الفَلَاحِ)) অর্থ: “সালাতের দিকে আসো” এবং “কল্যাণের দিকে আসো” অংশে বলবে: (لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ) অর্থ: “আল্লাহর পক্ষ থেকে ছাড়া কোন শক্তি অথবা উপায় নেই।”[৪৪] [৪৪] সহীহ বুখারী, ১/১৫২, হাদীস নং: ৬১১ এবং ৬১৩, এবং সহীহ মুসলিম, ১/২৮৮, হাদীস নং: ৩৮৩।
সে বলবে: “এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোনো শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আমি আল্লাহকে আমার রব হিসেবে, মুহাম্মাদকে রাসূল হিসেবে, এবং ইসলামকে আমার দীন হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।”[৪৫] [৪৫] মুসলিম, ১/২৯০, হাদীস নং: ৩৮৬।
ওয়া আনা আশহাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু, রদিতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়াবি মুহাম্মাদিন রাসুলান, ওয়াবিল ইসলামি দিনান (এটি মুয়াজ্জিনের শাহাদাতাইন (আশহাদু ...) সম্পন্ন করার পর সে বলবে)।[৪৬] [৪৬] ইবনু খুযাইমা, ১/২২০।
(মুয়াজ্জিনের আজানের জবাব দেওয়া শেষ করার পর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর দরুদ পাঠ করবে।)[৪৭] [৪৭] মুসলিম, ১/২৮৮, হাদীস নং: ৩৮৪।
এই দু‘আ পড়বে: অর্থ: “হে আল্লাহ! এই পূর্ণাঙ্গ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের রব! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দান করুন সুমহান মর্যাদা ও সম্মান এবং তাকে প্রশংসিত স্থানে পৌঁছান, যার প্রতিশ্রুতি আপনি তাকে দিয়েছেন। [নিশ্চয়ই আপনি ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।]”[৪৮] [৪৮] বুখারী, ১/১৫২, হাদীস নং: ৬১৪; আর যেটুকু বন্ধনীর মধ্যে রয়েছে তা বায়হাকী, ১/৪১০-এ এসেছে। এই হাদীসের সনদকে শাইখ আব্দুল আযীয বিন বায (রহিমাহুল্লাহ) ‘তুহফাতুল আখইয়ার’ (পৃষ্ঠা ৩৮) গ্রন্থে হাসান বলেছেন।
আল্লাহুম্মা রাব্বা হাযিহিদ দাওয়াতিত তাম্মাতি, ওয়াস সালাতিল কায়িমাতি, আতি মুহাম্মাদানিল ওয়াসিলাতা ওয়াল ফাযিলাহ, ওয়াবআছহু মাকামাম মাহমুদানিল্লাযী ওয়াআদতাহু, ইন্নাকা লা তুখলিফুল মীয়াদ।
“আযান ও ইকামতের মাঝের সময়ে ব্যক্তি নিজের জন্য দু‘আ করবে, কারণ তখনকার দু‘আ প্রত্যাখ্যাত হয় না।”[৪৯] [৪৯] তিরমিযি, হাদীস নং: ৩৫৯৪ ও ৩৫৯৫; আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫২৫; আহমাদ, হাদীস নং: ১২২০০; আরো দেখুন: ইরওয়াউল গালীল, ১/২৬২।
১৬. সলাত শুরু করার পর পঠিত দু‘আ
অর্থ:“হে আল্লাহ! আপনি আমার এবং আমার গুনাহগুলোর মাঝখানে দূরত্ব সৃষ্টি করে দিন, যেমন আপনি পূর্ব ও পশ্চিমের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি করেছেন। হে আল্লাহ! আমাকে আমার গুনাহগুলো থেকে এমনভাবে পবিত্র করুন, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ! আপনি বরফ, পানি ও শীতল জল দ্বারা আমার গুনাহগুলো ধুয়ে দিন।”[৫০] [৫০] বুখারী, ১/১৮১, হাদীস নং: ৭৪৪, মুসলিম, ১/৪১৯, হাদীস নং: ৫৯৮।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র, আপনারই জন্য সব প্রশংসা। আপনার নাম বরকতময়, আপনার মাহাত্ম্য মহান, এবং আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই।”[৫১] [৫১] মুসলিম, হাদীস নং: ৩৯৯; আবু দাউদ, হাদীস নং: ৭৭৫; তিরমিযি, হাদীস নং: ২৪৩; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৮০৬; নাসাঈ, হাদীস নং: ৮৯৯; আরো দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ১/৭৭ এবং সহীহ ইবনে মাজাহ, ১/১৩৫।
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাস্মুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক
অর্থ:“আমি আমার মুখমণ্ডল সেই মহান সত্তার দিকে ফিরালাম, যিনি আকাশমণ্ডলী ও যমীন সৃষ্টি করেছেন, একনিষ্ঠভাবে, আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। নিশ্চয়ই আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মৃত্যু- সবকিছুই আল্লাহর জন্য, যিনি সমস্ত জগতের প্রতিপালক। তাঁর কোনো অংশীদার নেই। এই নির্দেশই আমাকে দেয়া হয়েছে, আর আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত। হে আল্লাহ! আপনিই হচ্ছেন মালিক, আপনি ছাড়া আর সত্য কোনো ইলাহ নেই। আপনি আমার পালনকর্তা, আর আমি আপনার বান্দা। আমি নিজের ওপর জুলুম করেছি এবং আমি আমার গোনাহ স্বীকার করছি। অতএব, আপনি আমার সব গোনাহ ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি ছাড়া আর কেউ গোনাহ ক্ষমা করতে পারে না। আপনি আমাকে উত্তম চরিত্রের দিকে পরিচালিত করুন, কেননা উত্তম চরিত্রের দিকে কেবল আপনিই পথ দেখাতে পারেন। আর আপনি আমাকে খারাপ চরিত্র থেকে দূরে রাখুন, কারণ খারাপ চরিত্র থেকে কেবল আপনিই রক্ষা করতে পারেন। আমি আপনার ডাকে সাড়া দিচ্ছি, আমি আপনারই আনুগত্যে প্রস্তুত। সমস্ত কল্যাণই আপনার দু‘হাতে, আর অকল্যাণ আপনার দিকে সম্পর্কিত নয়। আমি আপনার দ্বারাই পরিচালিত এবং আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তন করি। আপনি বরকতময় ও সুউচ্চ। আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং আপনার নিকট তাওবা করি।”[৫২] [৫২] মুসলিম, ১/৫৩৪, হাদীস নং: ৭৭১।
ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানীফান ওয়া মা আনা মিনাল মুশরিকীন, ইন্না সালাতী, ওয়া নুসুকী, ওয়া মাহয়াইয়া, ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন, লা শারীকা লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন, আল্লাহুম্মা আনতাল মালিকু লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আনতা রাব্বী ওয়া আনা আবদুকা, যালামতু নাফসী ওয়া’তারাফতু বিযাম্বী ফাগফির লী যুনূবী জামীআন ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা, ওয়াহদিনী লিআহসানিল আখলাকি লা ইয়াহদী লিআহসানিহা ইল্লা আনতা, ওয়াসরিফ আন্নী সাইয়্যিআহা, লা ইয়াসরিফু আন্নী সাইয়্যিআহা ইল্লা আনতা, লাব্বাইকা ওয়া সাদাইকা, ওয়াল খাইরু কুল্লুহু বিয়াদাইকা, ওয়াশ শাররু লাইসা ইলাইকা, আনা বিকা ওয়া ইলাইকা, তাবারাকতা ওয়া তাআলাইতা, আসতাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলাইক।
অর্থ: হে আল্লাহ! জিবরীল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমান ও যমীনের স্রষ্টা, প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়সমূহের জ্ঞানের অধিকারী। আপনার বান্দারা যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করে আপনিই সেগুলোর ফায়সালা করবেন। সত্য ও ন্যায়ের যেসব বিষয়ে মতানৈক্য পোষণ করা হয়েছে সে বিষয়ে আপনার অনুমতিক্রমে আমাকে পথ দেখান। আপনিই যাকে ইচ্ছা সরল-সহজ পথ দেখিয়ে থাকেন। [৫৩] [৫৩] এটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, ১/৫৩৪, হাদীস নং: ৭৭০।
আল্লাহুম্মা রব্বা জিবরাঈলা, ওয়া মিকাঈলা, ওয়া ইসরাফীলা, ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, আলিমাল গায়বি ওয়াশ শাহাদাতি আনতা তাহকুমু বাইনা ইবাদিকা ফীমা কানু ফীহি ইয়াখতালিফূন, ইহদিনী লিমাখতুলিফা ফীহি মিনাল হাক্কি বিইযনিকা ইন্নাকা তাহদী মান তাশাউ ইলা সিরাতিম মুস্তাকীম
অর্থ: “আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহ অতি মহান, আল্লাহ অতি মহান। আর আল্লাহর জন্যই বহুল প্রশংসা, আল্লাহর জন্যই বহুল প্রশংসা, আল্লাহর জন্যই বহুল প্রশংসা। আর সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করি।”
আল্লাহু আকবারু কাবীরা, আল্লাহু আকবারু কাবীরা, আল্লাহু আকবারু কাবীরা, ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাসীরা, ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাসীরা, ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাসীরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসীলা তিনবার অর্থ: “আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই শয়তান থেকে—তার ফুঁৎকার (অহঙ্কার), কুমন্ত্রণা ও কুমন্ত্রণা-সদৃশ কবিতা থেকে।”[৫৪] [৫৪] এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, ১/২০৩, হাদীস নং: ৭৬৪; ইবনু মাজাহ, ১/২৬৫, হাদীস নং: ৮০৭; এবং আহমাদ, ৪/৮৫, হাদীস নং: ১৬৭৩৯। শুয়াইব আল-আরনাউত তার 'মুসনাদ'-এর তাহকীকে বলেছেন: “হাসান লি গাইরিহী”। আর আবদুল কাদের আল-আরনাউত ইবনু তাইমিয়্যার ‘আল-কালিমুত ত্বাইয়্যিব’-এর তাখরিজে, হাদীস নং: ৭৮-এ বলেছেন: “এটি তার শাওয়াহেদ (সহায়ক সূত্র) দ্বারা সমর্থিত সহীহ হাদীস।” আলবানী তার ‘সহীহ আল-কালিমুত তইয়্যিব’-এ, হাদীস নং: ৬২-এ উল্লেখ করেছেন। আর মুসলিম ইবনু উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-থেকে অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাতে একটি ঘটনা রয়েছে, ১/৪২০, হাদীস নং: ৬০১।
আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানি মিন নাফখিহি, ওয়া নাফসিহি, ওয়া হামযিহ
অর্থ:“হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য।[৫৫] আকাশমণ্ডলী, যমীন এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে আপনি এগুলির নূর। আপনারই জন্য প্রশংসা, আপনি আকাশমণ্ডলী, যমীন এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে তার সংরক্ষণকারী। [আপনারই জন্য প্রশংসা, আপনি আকাশমণ্ডলী ও যমীন এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে এগুলির রব।][আপনারই জন্য প্রশংসা, আপনি আকাশমণ্ডলী, যমীন এবং তাদের মাঝে যা কিছু আছে এগুলির অধিপতি।] [আপনারই জন্য প্রশংসা, আপনি আকাশমণ্ডলী ও যমীনের মালিক।] [আপনারই জন্য প্রশংসা।] [আপনি সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার বাণী সত্য, আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবীগণ সত্য, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য, এবং কিয়ামত সত্য।] [হে আল্লাহ! আমি আপনারই প্রতি আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার উপরেই ভরসা করেছি, আপনার ওপরই ঈমান এনেছি, আপনার দিকেই অবনত হয়েছি, আপনারই কারণে বিতর্ক করেছি এবং আপনারই নিকট বিচার চেয়েছি। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন—আমার পূর্ববর্তী, পরবর্তী, গোপন, প্রকাশ্য গোনাহসমূহ] [এবং যা আপনি আমার সম্পর্কে আমার চেয়েও ভালো জানেন।] [আপনিই অগ্রগামী করেন আর আপনিই পশ্চাদগামী করেন; আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই।] [আপনি আমার ইলাহ, আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই।] [আর আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।]”[৫৬] [৫৫] নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে তাহাজ্জুদে উঠলে এ কথা বলতেন। [৫৬] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৩/৩, ১১/১১৬, ১৩/৩৭১, নং: ৪২৩, ৪৬৫, ১১২০, ৬৩১৭, ৭৩৮৫, ৭৪৪২, ৭৪৯৯। আর মুসলিম অনুরূপ সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন, ১/৫৩২, হাদীস নং: ৭৬৯।
আল্লাহুম্মা লাকাল হামদ, আনতা নূরুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফীহিন্না, ওয়া লাকাল হামদু আনতা কাইয়্যিমুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফীহিন্না, ওয়া লাকাল হামদু আনতা রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফীহিন্না, ওয়া লাকাল হামদু লাকা মুলকুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মান ফীহিন্না, ওয়া লাকাল হামদু আনতা মালিকুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়া লাকাল হামদ, আনতাল হাক্ক, ওয়া ওয়াদুকাল হাক্ক, ওয়া কাওলুকাল হাক্ক, ওয়া লিকাউকাল হাক্ক, ওয়াল জান্নাতু হাক্ক, ওয়ান নারু হাক্ক, ওয়ান নাবিয়্যূনা হাক্ক, ওয়া মুহাম্মাদুন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্ক, ওয়াস সাআতু হাক্ক, আল্লাহুম্মা লাকা আসলামতু, ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু, ওয়া বিকা আমানতু, ওয়া ইলাইকা আনাবতু, ওয়া বিকা খাসামতু, ওয়া ইলাইকা হাকামতু। ফাগফির লী মা কাদ্দামতু, ওয়া মা আখখারতু, ওয়া মা আসরারতু, ওয়া মা আলানতু, ওয়া মা আনতা আলামু বিহি মিন্নী, আনতাল মুকাদ্দিমু, ওয়া আনতাল মুআখখিরু লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আনতা ইলাহী লা ইলাহা ইল্লা আনতা, ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
১৭. রুকুর দু‘আ
«سُبْحانَ رَبِّيَ العَظِيمِ» আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
সুবহানা রাব্বিয়াল আযিম তিন বার[৫৭]। مط[৫৭] এটি সুনান গ্রন্থকারগণ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৭০; তিরমিযি, হাদীস নং: ২৬২; নাসাঈ, হাদীস নং: ১০০৭; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৮৯৭; এবং আহমাদ, হাদীস নং: ৩৫১৪। দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ১/৮৩।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের রব! আপনার প্রশংসা সহ আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন!”[৫৮] [৫৮] সহীহ বুখারী, ১/৯৯, হাদীস নং: ৭৯৪; সহীহ মুসলিম, ১/৩৫০, হাদীস নং: ৪৮৪।
অর্থ: “(তিনি) সুমহান পবিত্র, অতিপবিত্র, (তিনি) ফেরেশতাগণ ও রূহের (জিবরাঈল আলাইহিস সালামের) রব।”[৫৯] [৫৯] সহীহ মুসলিম, ১/৩৫৩, হাদীস নং: ৪৮৭; সুনান আবু দাউদ, ১/২৩০, হাদীস নং: ৮৭২।
সুব্বুহুন, কুদ্দুসুন, রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ
অর্থ:“হে আল্লাহ! আমি আপনারই উদ্দেশ্যে রুকু করেছি, আপনারই ওপর ঈমান এনেছি, এবং আপনারই জন্য আত্মসমর্পণ করেছি। আমার শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, মস্তিষ্ক, অস্থি, শিরা-উপশিরা [এবং যে জিনিস বহন করে আমার পা দাঁড়িয়ে আছে] সবই আপনার জন্য বিনয়াবনত হয়েছে।”[৬০] [৬০] সহীহ মুসলিম, ১/৫৩৪, হাদীস নং: ৭৭১; এবং ইবনু মাজাহ ব্যতীত চারজন সুনান গ্রন্থকার হাদিসটি উল্লেখ করেছেন: সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং: ৭৬০ ও ৭৬১, সুনান আত-তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৪২১, সুনান আন-নাসাঈ, হাদীস নং ১০৪৯। বন্ধনীর মধ্যে উল্লিখিত বর্ণনাগুলো ইবনে খুযাইমাহ (হাদীস নং: ৬০৭) এবং ইবনে হিব্বান (হাদীস নং: ১৯০১) থেকে গৃহীত।
আল্লাহুম্মা লাকা রাকা'তু, ওয়া বিকা আমানতু, ওয়া লাকা আসলামতু, খাশা'আ লাকা সাম'ই, ওয়া বাসারি, ওয়া মুখ্খি, ওয়া আজমি, ওয়া আসাবি, ওয়া মাসতাকাল্লাত বিহি কাদামি
অর্থ:“মহাপরাক্রম, সর্বময় কর্তৃত্ব, মহত্ত্ব ও মহিমার অধিকারী (আল্লাহর) পবিত্রতা ঘোষণা করছি।”[৬১] [৬১] আবু দাউদ, ১/২৩০, হাদীস নং: ৮৭৩; নাসাঈ, হাদীস নং: ১১৩১; এবং আহমাদ, হাদীস নং: ২৩৯৮০। এর সনদ হাসান।
সুবহানা যিল জাবারুতি, ওয়াল মালাকুতি, ওয়াল কিবরিয়াই, ওয়াল আজামাহ
১৮. রুকু থেকে উঠার দু‘আ
অর্থ:“যে আল্লাহর প্রশংসা করে, আল্লাহ তার কথা শোনেন।”[৬২] [৬২] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ২/২৮২, হাদীস নং: ৭৯৬।
সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ
অর্থ:“হে আমাদের রব! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা- প্রচুর, উত্তম ও বরকতময় প্রশংসা।”[৬৩] [৬২] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ২/২৮৪, হাদীস নং: ৭৯৬।
রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদু, হামদান কাসীরান তাইয়্যিবান মুবারাকান ফীহ
অর্থ:“আপনার জন্যই প্রশংসা আকাশমণ্ডলী পূর্ণ, যমীন পূর্ণ, এ দু‘য়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ এবং আপনার ইচ্ছামতো পরবর্তীকালের প্রতিটি বস্তু পূর্ণ। হে প্রশংসা ও মর্যাদার যোগ্যতম সত্তা, বান্দা যা বলে আপনি তার চেয়েও বেশী হকদার। আর আমরা সবাই আপনারই বান্দা। হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন, তা কেউ ঠেকাতে পারে না; আর আপনি যা আটকান, তা কেউ দান করতে পারে না। এবং সম্পদশালী মর্যাদাবান ব্যক্তির মর্যাদা আপনার সামনে তাকে কোন উপকার করতে পারে না, তোমার থেকেই মর্যাদা আসে।”[৬৪] [৬৪] মুসলিম, ১/৩৪৬, হাদীস নং: ৪৭৭।
মিলআস সামাওয়াতি ওয়া মিলআল আরদি, ওয়া মা বাইনাহুমা, ওয়া মিলআ মা শি'তা মিন শাইয়িন বাদু। আহলাস সানাই ওয়াল মাজদি, আহাক্কু মা কালাল আবদু, ওয়া কুল্লুনা লাকা আবদুন, আল্লাহুম্মা লা মানিআ লিমা আ'তাইতা, ওয়া লা মু'তিয়া লিমা মানা'তা, ওয়া লা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দ
১৯. সিজদার দু‘আ
অর্থ :আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা বর্ণনা করি।
সুবহানা রাব্বিয়াল আলা তিন বার[৬৫]। [৬৫] এটি সুনান গ্রন্থকারগণ ও আহমাদ বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৭০; তিরমিযি, হাদীস নং: ২৬২; নাসাঈ, হাদীস নং: ১০০৭; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৮৯৭; এবং আহমাদ, হাদীস নং: ৩৫১৪। দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ১/৮৩।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের রব! আপনার প্রশংসা সহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন।”[৬৬] [৬৬] বুখারী, হাদীস নং: ৭৯৪; মুসলিম, হাদীস নং: ৪৮৪। এটি পূর্বে ৩৪-নম্বরে উল্লিখিত হয়েছে।
অর্থ: “(তিনি) সুমহান পবিত্র, অতিপবিত্র, (তিনি) ফেরেশতাগণ ও রূহের (জিবরাঈল আলাইহিস সালামের) রব।” [৬৭] [৬৭] মুসলিম, ১/৫৩৩, হাদীস নং: ৪৮৭; আবু দাউদ, হাদীস নং: ৮৭২। এটি পূর্বে ৩৫-নম্বরে উল্লিখিত হয়েছে।
সুব্বুহুন, কুদ্দুসুন, রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ
অর্থ:“হে আল্লাহ! আমি আপনারই জন্য সিজদা করেছি, আপনারই ওপর ঈমান এনেছি, এবং আপনারই জন্য আত্মসমর্পণ করেছি। আমার চেহারা এমন সত্তার জন্য সিজদা করেছে, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন, তাকে আকার দিয়েছেন, তার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি প্রদান করেছেন। আল্লাহ কতই না বরকতময় যিনি সর্বোত্তম সৃষ্টিকর্তা।”[৬৪] [৬৮] মুসলিম, ১/৫৩৪, হাদীস নং: ৭৭১; এবং অন্যান্য কিতাবে।
আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়া বিকা আমানতু, ওয়া লাকা আসলামতু, সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাযি খালাকাহু, ওয়া সাওয়ারাহু, ওয়া শাক্কা সামআহু ওয়া বাসারাহু, তাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিকীন।
অর্থ: “মহাপরাক্রম, সর্বময় কর্তৃত্ব, মহত্ত্ব ও মহিমার অধিকারী (আল্লাহর) পবিত্রতা ঘোষণা করছি।” [৬৯] [৬৯] আবু দাউদ, ১/২৩০, হাদীস নং: ৮৭৩; নাসাঈ, হাদীস নং: ১১৩১; আহমাদ, হাদীস নং: ২৩৯৮০; এবং আলবানী সহীহ আবু দাউদে, ১/১৬৬-এ এটিকে সহীহ বলেছেন। এটি পূর্বে ৩৭-নম্বরে উল্লিখিত হয়েছে।
সুবহানা যিল জাবারুতি, ওয়াল মালাকুতি, ওয়াল কিবরিয়াই, ওয়াল আযামাহ
অর্থ:“হে আল্লাহ! আমার সমস্ত পাপ মাফ করুন: ছোট-বড়, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী, প্রকাশ্য ও গোপন।”[৭০] [৭০] মুসলিম, ১/২৩০, হাদীস নং: ৪৮৩।
আল্লাহুম্মাগফির লী যাম্বি কুল্লাহু: দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আউয়ালাহু ওয়া আখিরাহু, ওয়া আলানিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি আপনার কাছ থেকে আপনারই আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমি আপনার প্রশংসা পুরোপুরি উল্লেখ করতে পারব না; আপনি তো তেমনি যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।”[৭১] [৭১] মুসলিম, ১/৩৫২, হাদীস নং: ৪৮৬।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিরিদাকা মিন সাখাতিক, ওয়া বিমুআফাতিকা মিন উকুবাতিক, ওয়া আউযু বিকা মিনকা, লা উহসী ছানাআন আলাইক, আনতা কামা আছনাইতা আলা নাফসিক।
২০. দুই সিজদার মাঝে বৈঠকের দু‘আ
অর্থ: “হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন, হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।”[৭২] [৭২] আবু দাউদ, ১/২৩১, হাদীস নং: ৮৭৪; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৮৯৭; এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/১৪৮।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি রহমত করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমার অভাব পূরণ করুন, আমাকে সুস্থতা দিন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা উন্নত করুন।”[৭৩] [৭৩] হাদিসটি নাসাঈ ব্যতীত অন্যান্য সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, ১/২৩১, হাদীস নং: ৮৫০; তিরমিযি, হাদীস নং: ২৮৪ ও ২৮৫; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৮৯৮; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ১/৯০; সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/১৪৮।
আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়াজবুরনী, ওয়া আফিনী , ওয়ারযুকনী, ওয়ারফা‘নী
২১. সিজদার আয়াত তেলাওয়াতের পর সিজদার দু‘আ
অর্থ: “আমার মুখমণ্ডল সিজদা করেছে তাঁর জন্য, যিনি তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং নিজের শক্তি ও সামর্থ্যে তার শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি প্রদান করেছেন। ‘...অতএব, বরকতময় সেই আল্লাহ, যিনি সর্বোত্তম স্রষ্টা।’”[৭৪]
সাজাদা ওয়াজহিয়া লিল্লাযী খালাকাহু, ওয়া শাক্কা সামআহু ওয়া বাসারাহু বিহাউলিহি ওয়া কুওয়াতিহি, ফাতাবারাকাল্লাহু আহসানুল খালিকীন। [আল-মুমিনূন: ১৪] [৭৪]। [৭৪] তিরমিজী, ২/৪৭৪, হাদীস নং: ৩৪২৫; আহমাদ, ৬/৩০, হাদীস নং: ২৪০২২; এবং ইমাম হাকিম বর্ণনা করেছেন ও এটিকে সহীহ বলেছেন; ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/২২০ — এবং অতিরিক্ত অংশটি হাকিমের।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি এটির মাধ্যমে (এই সিজদা) আমার জন্য আপনার কাছে একটি সওয়াব লিপিবদ্ধ করুন, এটি দ্বারা আমার গুনাহসমূহ দূর করে দিন, এটিকে আমার জন্য আপনার কাছে সঞ্চয় হিসেবে রাখুন এবং এটি আমার পক্ষ থেকে কবুল করে নিন যেমন আপনি আপনার বান্দা দাঊদ (আলাইহিস সালাম)-এর পক্ষ থেকে কবুল করেছিলেন।”[৭৫] [৭৫] তিরমিযি, ২/৪৭৩, হাদীস নং: ৫৭৯; এবং ইমাম হাকিম বর্ণনা করেছেন ও এটিকে সহীহ বলেছেন; ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/২১৯।
আল্লাহুম্মাকতুব লী বিহা ইন্দাকা আজরান, ওয়া দা’ আন্নী বিহা উইজরান, ওয়াজআলহা লী ইন্দাকা যুখরান, ওয়া তাকাব্বালহা মিন্নী কামা তাকাব্বালতাহা মিন আবদিকা দাউদ।
২২. তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু)
অর্থ: “সমস্ত বড়ত্ব-সম্মান ও মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক সকল ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর যাবতীয় নিরাপত্তা , রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক! নিরাপত্তা আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মাবূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।”[৭৬] [৭৬] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ২/৩১১, হাদীস নং: ৮৩১; সহীহ মুসলিম, ১/৩০১, হাদীস নং: ৪০২।
২৩. তাশাহহুদ পাঠের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর (সালাত) দরুদ পাঠ করা
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর বরকত দান করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।”[৭৭] [৭৭] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৬/৪০৮, হাদীস নং: ৩৩৭০; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ৪০৬।
অর্থ: “হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ, তার স্ত্রীগণ এবং তার সন্তান-সন্ততির ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহীমের পরিবারবর্গের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। আর মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ এবং তার সন্তান-সন্ততির ওপর বরকত দিন, যেমন আপনি ইবরাহীমের পরিবারবর্গের ওপর বরকত দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মর্যাদার অধিকারী।”[৭৮] [৭৮] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৬/৪০৭, হাদীস নং: ৩৩৬৯; সহীহ মুসলিম, ১/৩০৬, হাদীস নং: ৪০৭, এবং বর্ণনার শব্দ মুসলিমের।
আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আজওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি, কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইব্রাহীমা, ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলা আজওয়াজিহি ওয়া যুররিয়্যাতিহি, কামা বারাক্তা আলা আলি ইব্রাহীমা, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
২৪. শেষ তাশাহহুদের পরে সালাম ফিরানোর পূর্বের দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি কবরের আযাব থেকে ও জাহান্নামের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”[৭৯] [৭৯] বুখারী, ২/১০২, হাদীস নং: ১৩৭৭; মুসলিম, ১/৪১২, হাদীস নং: ৫৮৮, এবং বর্ণনার শব্দটি মুসলিমের।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই, আমি আপনার কাছে মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই, আমি আপনার কাছে জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই, এবং আমি আপনার নিকট পাপ ও ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়া থেকে আশ্রয় চাই।”[৮০] [৮০] বুখারী, ১/২০২, হাদীস নং: ৮৩২; মুসলিম, ১/৪১২, হাদীস নং: ৫৮৭।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন আযাবিল কাবর, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জাল, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিল মাহয়া ওয়াল মামাত, আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল মা’ছামি ওয়াল মাগরাম।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের ওপর অনেক যুলুম করেছি। আর আপনি ছাড়া কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারে না। অতএব, আপনার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষভাবে ক্ষমা করে দিন, আর আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাকারী, পরম দয়ালু।”[৮১] [৮১] বুখারী, ৮/১৬৮, হাদীস নং: ৮৩৪; মুসলিম, ৪/২০৭৮, হাদীস নং: ২৭০৫।
আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী যুলমান কাসিরা, ওয়ালা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আনতা, ফাগফির লী মাগফিরাতাম মিন ইন্দিকা ওয়ারহামনী , ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম।
অর্থ: ”হে আল্লাহ! ক্ষমা করে দিন আমার গুনাহসমূহ- যা পূর্বে করেছি, যা পরে করেছি, যা আমি গোপনে করেছি, যা প্রকাশ্যে করেছি, যা সীমালঙ্ঘন করে করেছি, আর যা আপনি আমার চেয়ে বেশি জানেন। আপনিই অগ্রগামী করেন এবং আপনিই পিছিয়ে দেন, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই।”[৮২] [৮২] মুসলিম, ১/৫৩৪, হাদীস নং: ৭৭১।
আল্লাহুম্মাগফির লী মা কাদ্দামতু, ওয়া মা আখ্খারতু, ওয়া মা আসরারতু, ওয়া মা আ’লানতু, ওয়া মা আসরাফতু, ওয়া মা আনতা আ’লামু বিহি মিন্নী, আনতাল মুকাদ্দিমু, ওয়া আনতাল মুআখ্খিরু লা ইলাহা ইল্লা আনত্
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার যিকির, আপনার শোকর আদায় ও আপনার উত্তম ইবাদত করতে সাহায্য করুন।”[৮৩] [৮৩] আবু দাউদ, ২/৮৬, হাদীস নং: ১৫২২; নাসায়ী, ৩/৫৩, হাদীস নং: ২৩২০; এবং আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ আবু দাউদ, ১/২৮৪।
আল্লাহুম্মা আইন্নী আলা যিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিক
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কাপুরুষতা থেকে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বার্ধক্যের নিকৃষ্ট স্তরে পৌঁছানো থেকে, এবং আমি আপনার কাছে দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের আযাব থেকেও আশ্রয় চাই।”[৮৪] [৮৪] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৬/৩৫, হাদীস নং: ২৮২২ ও ৬৩৯০।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল বুখলি, ওয়া আউযু বিকা মিনাল জুবনি, ওয়া আউযু বিকা মিন আন উরাদ্দা ইলা আরযালিল উমুর, ওয়া আউযু বিকা মিন ফিতনাতিদ দুনিয়া ওয়া আযাবিল ক্বাবর।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জান্নাত চাই, এবং আপনার কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।” [৮৫] আবু দাউদ, হাদীস নং: ৭৯২; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৯১০; এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩২৮।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা, ওয়া আউযু বিকা মিনান নার
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আপনার গায়েবী জ্ঞান ও সৃষ্টি জগতের উপরে আপনার কুদরতের দ্বারা- আপনি যতক্ষণ জানেন যে জীবন আমার জন্য ভালো, ততক্ষণ আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন; আর আপনি যদি জানেন যে মৃত্যু আমার জন্য ভালো, তবে আমাকে মৃত্যু দিন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গোপনে ও প্রকাশ্যে আপনার ভয় প্রার্থনা করছি। আপনার কাছে প্রার্থনা করছি- সন্তুষ্টি ও রাগ উভয় অবস্থায় সত্য কথা বলার তাওফিক। আপনার কাছে প্রার্থনা করছি- সম্পদ ও দারিদ্র্য উভয় অবস্থায় ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা। আপনার কাছে এমন নিয়ামত চাইছি যা কখনো ফুরাবে না। একটি নিরবচ্ছিন্ন চোখের প্রশান্তি চাই। ফয়সালার পর আপনার সন্তুষ্টি চাই। মৃত্যুর পর প্রশান্ত জীবন চাই। আপনার চেহারার দর্শনের স্বাদ এবং আপনার সাক্ষাতের জন্য আকুলতা চাই- কোনো ক্ষতিকর বিপদ ছাড়াই, এবং বিভ্রান্তিকর ফিতনা ছাড়াই। হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের সৌন্দর্যে সজ্জিত করুন, এবং আমাদেরকে পথপ্রদর্শক ও সঠিক পথপ্রাপ্ত বানিয়ে দিন।”[৮৬] [৮৬] নাসায়ী, ৩/৫৪ (৫৫), হাদীস নং: ১৩০৪; আহমদ, ৪/৩৬৪, হাদীস নং: ২১৬৬৬; এবং আলবানী তা সহীহ বলেছেন, সহীহ নাসায়ী, ১/২৮১।
আল্লাহুম্মা বিইলমিকাল গাইবা ওয়া কুদরাতিকা আলাল খালকি- আহয়িনী মা আলিমতাল হায়াতা খাইরান লী, ওয়া তাওয়াফফানী ইযা আলিমতাল ওয়াফাতা খাইরান লী, আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাশইয়াতাকা ফিল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি, ওয়া আসআলুকা কালিমাতাল হাক্কি ফির রিদা ওয়াল গাদাবি, ওয়া আসআলুকাল কাসদা ফিল গিনা ওয়াল ফাকরি, ওয়া আসআলুকা নাঈমান লা ইয়ানফাদু, ওয়া আসআলুকা কুররাতা আইনিন লা তানকাতিউ, ওয়া আসআলুকার রিদা বা'দাল কাদায়ি, ওয়া আসআলুকা বারদাল আইশি বা'দাল মাউতি, ওয়া আসআলুকা লাযযাতান নাযারি ইলা ওয়াজহিকা, ওয়াশ শাওকা ইলা লিকায়িকা ফী গাইরি দাররাআ মুদিররাতিন, ওয়া লা ফিতনাতিন মুদিল্লাতিন, আল্লাহুম্মা যাইয়্যিনা বিযীনাতিল ঈমানি, ওয়াজআলনা হুদাতান মুহতাদিন।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, হে আল্লাহ, এর মাধ্যমে যে, আপনি হলেন একক, অদ্বিতীয়, অমুখাপেক্ষী- যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাকে জন্ম দেয়া হয়নি, আর কেউ তার সমকক্ষ নয়; আপনি আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয় আপনি অতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।”[৮৭] [৮৭] নাসায়ী, ৩/৫২, হাদীস নং: ১৩০০; আহমদ, ৪/৩৩৮, হাদীস নং: ১৮৯৭৪; এবং আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ নাসায়ী, ১/২৮০।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ইয়া আল্লাহু বিআন্নাকাল ওয়াহিদুল আহাদুস্ সামাদ- আল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ, আন তাগফিরা লী যুনুবী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি— এ জন্য যে, সমস্ত প্রশংসা আপনারই প্রাপ্য। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই। আপনি অনুগ্রহকারী, হে নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের অনন্য স্রষ্টা, হে মর্যাদা ও মহত্ত্বের অধিকারী, হে চিরঞ্জীব, হে সর্বধারক! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই, এবং জাহান্নাম থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”[৮৮] [৮৮] সুনান গ্রন্থকারগণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: আবু দাউদ, হাদীস নং ১৪৯৫; তিরমিযি, হাদীস নং: ৩৫৪৪; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৫৮; নাসায়ী, হাদীস নং: ১২৯৯ এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩২৯।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্না লাকাল হামদা লা ইলাহা ইল্লা আনতা ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা, আল-মান্নানু, ইয়া বাদীআস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আউযু বিকা মিনান নার।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করছি এ সাক্ষ্য দ্বারা যে, আপনি আল্লাহ, আপনি ছাড়া কোনো প্রকৃত ইলাহ নেই, আপনি এক ও অমুখাপেক্ষী, যিনি জন্ম দেননি, জন্মগ্রহণও করেননি, আর আপনার কোনো সমকক্ষও নেই।”[৮৯] [৮৯] আবু দাউদ, ২/৬২, হাদীস নং: ১৪৯৩; তিরমিযি, ৫/৫১৫, হাদীস নং: ৩৪৭৫; ইবনু মাজাহ, ২/১২৬৭, হাদীস নং: ৩৮৫৭; নাসায়ী, হাদীস নং: ১৩০০; আহমাদ, হাদীস নং: ১৮৯৭৪; এবং আলবানী তা সহীহ বলেছেন, সহীহ নাসায়ী, ১/২৮০। এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩২৯; সহীহ তিরমিযি, ৩/১৬৩।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিআন্নী আশহাদু আন্নাকা আন্তাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আল আহাদুস সামাদুল্লাযী লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ, ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ
২৫. ফরজ সালাতের সালাম ফিরানোর পরবর্তী যিকিরসমূহ
«আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই
আস্তাগফিরুল্লাহ (তিনবার) “হে আল্লাহ! আপনিই সালাম (নিরাপত্তা ও শান্তিদাতা), আর আপনার পক্ষ থেকেই নিরাপত্তা ও শান্তি। আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও মর্যাদার অধিকারী।”[৯০] [৯০] মুসলিম, ১/৪১৪, হাদীস নং: ৫৯১।
আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর [তিনবার] “হে আল্লাহ! আপনি যা প্রদান করেন, তা কেউ রোধ করতে পারে না, আর আপনি যা রোধ করেন, তা কেউ প্রদান করতে পারে না। আর কোনো বড়ত্ব ও অর্থের মালিক কে তা উপকারে আসবে না বরং আপনার থেকেই তার অংশ নিহিত।”[৯১] [৯১] বুখারী, ১/২৫৫, হাদীস নং: ৮৪৪; মুসলিম, ১/৪১৪, হাদীস নং: ৫৯৩; এবং বন্ধনীর অংশটি বুখারীর ৬৪৭৩ নং হাদীস থেকে গৃহিত।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাই-ইন কাদীর, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়া লা নাবুদু ইল্লা ইয়্যাহু, লাহুন নিমাতু ওয়া লাহুল ফাদলু ওয়া লাহুস সানাউল হাসান, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদ দীনা ওয়া লাও কারিহাল কাফিরুন “আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আর আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
সুবহানাল্লাহ, ওয়ালহামদুলিল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার (তেত্রিশ বার) “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই এবং তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”[৯৩] [৯৩] মুসলিম, ১/৪১৮, হাদীস নং: ৫৯৭, এবং এতে রয়েছে: (যে ব্যক্তি এই ওগুলো প্রতিটি সালাতের পরে বলবে, তার গুনাহসমূহ মাফ হয়ে যাবে, যদিও তা সাগরের ফেনার সমপরিমান হয়।)
"বলুন, ‘তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়।১ আল্লাহ স্বয়ং সম্পুর্ণ অমুখাপেক্ষী।২ তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি।৩ এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।৪” [সূরা আল-ইখলাস ১-৪] ।
“বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি প্রভাতের রবের।১ তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে।২ ‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়।৩ "এবং গিরায় ফুঁদানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে।"।৪ আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের- যখন সে হিংসা করে।৫” [সূরা আল-ফালাক : ১-৫]।
“বলুন, ‘আমি আশ্ৰয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের।১ মানুষের অধিপতির,২ মানুষের মাবূদের কাছে,৩ আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে,৪ যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে,৫ জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।৬” [সূরা আন-নাস: ১-৬]।
প্রত্যেক সালাতের পর।[৯৪] [৯৪] আবু দাউদ, ২/৮৬, হাদীস নং: ১৫২৩; তিরমিযি, হাদীস নং: ২৯০৩; নাসায়ী, ৩/৬৮, হাদীস নং: ১৩৩৫; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ২/৮। আর এই তিনটি সূরাকে বলা হয়: আল-মু'আওয়িযাত। দেখুন: ফাতহুল বারী, ৯/৬২।
অর্থ: “আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে, সেগুলি তাঁর জন্যই। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দু’টোর সংরক্ষণ তাঁকে বিন্দুমাত্র ক্লান্ত করতে পারে না। আর তিনি সুউচ্চ, সুমহান।” ২৫৫ [আল-বাকারাহ : ২৫৫] প্রত্যেক(ফরজ) সালাতের পর।[৯৫] [৯৫] যে ব্যক্তি এ আয়াতটি প্রত্যেক সালাতের পরে পড়বে, তার জান্নাতে প্রবেশে মৃত্যু ব্যতীত আর কোনো কিছুই বাধা হবে না। নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ১০০; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ১২১। ইমাম আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন: সহীহুল জামে, ৫/৩৩৯; সিলসিলাতুল আহাদীস আস্-সহীহাহ, ২/৬৯৭, হাদীস নং ৯৭২।
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর। তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ি ওয়া ইউমিতু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। দশবার মাগরিব ও ফজরের সলাতের পর।[৯৬] [৯৬] তিরমিযি, ৫/৫১৫, হাদীস নং: ৩৪৭৪; আহমাদ, ৪/২২৭, হাদীস নং: ১৭৯৯০; এবং এর তাখরীজ দেখুন: যাদুল মা'আদ, ১/৩০০।
“হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কল্যাণকর জ্ঞান, পবিত্র জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।”
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিযকান তাইয়্যিবা, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা। ফজরের সালাতের সালাম ফিরানোর পর।[৯৭] [৯৭] ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৯২৫; নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ১০২; এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/১৫২; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ১০/১১১; এবং এটি সামনে ৯৫ নং এ আসবে।
ইস্তেখারা সালাতের দু‘আ
জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেছেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের সকল কাজের জন্য ইস্তিখারা শিক্ষা দিতেন, যেভাবে তিনি কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন। তিনি বলতেন: “যখন তোমাদের কেউ কোনো বিষয়ের চিন্তা করবে, তখন সে যেন ফরয সালাতের বাইরে দুই রাকাত নফল সালাত আদায় করে, অতঃপর বলে: অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার ইলমের ওসিলায় আপনার নিকট কল্যাণ কামনা করছি। আপনার কুদরত (ক্ষমতা)-এর ওসিলায় আপনার নিকট ক্ষমতা প্রার্থনা করছি। আর আপনার নিকটে আপনার মহা অনুগ্রহ চাচ্ছি। কেননা আপনিই সকল কাজের শক্তি রাখেন আর আমি কাজের শক্তি রাখি না। আপনি সব কিছুই জানেন কিন্তু আমি জানি না। আর আপনি গায়েবের ব্যাপারে মহাজ্ঞানী। হে আল্লাহ! যদি আপনি জেনে থাকেন যে এ কাজটি - ব্যক্তি তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে- আমার জন্যে আমার দ্বীনের ক্ষেত্রে , আমার বিষয়ের শেষ পরিণামে, আমার জীবিকায় অথবা বলেছেন, তা এখন বা পরবর্তীতে ভাল হবে, তাহলে তাতে আমার জন্যে সামর্থ্য দিন এবং আমার জন্য তা সহজ করে দিন। তারপর তাতে আমার জন্য বারকত দান করুন। আর যদি আপনি জানেন যে, এ কাজটি আমার জন্য আমার দ্বীনে, আমার বিষয়ের শেষ পরিণামে, অথবা বলেছেন, তা এখন বা পরবর্তীতে ক্ষতিকর হবে, তাহলে আমাকে তার থেকে আর তাকে আমার থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আর আমার জন্যে যা কল্যাণকর তা যেখানে-যেভাবেই থাকুক না কেন তার আমাকে সামর্থ্য দিন। অতঃপর আমাকে তার দ্বারা সন্তুষ্ট করে দিন।” [৯৮] [৯৮] বুখারী, ৭/১৬২, হাদীস নং: ১১৬২।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আস্তাখিরুকা বিইলমিকা, ওয়া আস্তাকদিরুকা বিকুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আযীম, ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়া লা আকদিরু, ওয়া তা’লামু ওয়া লা আ’লামু, ওয়া আন্তা আল্লামুল গুয়ুব, আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তা’লামু আন্না হাযাল আমরা, -এখানে তার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করবে-, খাইরুন লি ফী দ্বীনী ওয়া মাআশী ওয়া আকিবতি আমরী, -অথবা বলেবে: আজিলিহি ওয়া আজিলিহি-, ফাকদুরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী ছুম্মা বারিক লি ফীহি, ওয়া ইন কুনতা তাআলামু আন্না হাযাল আমরা শাররুন লী ফী দ্বীনী ওয়া মাআশী ওয়া আকিবতি আমরী, -অথবা বলেবে: আজিলিহি ওয়া আজিলিহি-, ফাসরিফহু আন্নী ওয়াসরিফনী আনহু ওয়াকদুর লিয়াল খাইরা হাইছু কানা, ছুম্মা আরদিনী বিহ।
যে ব্যক্তি সৃষ্টিকর্তার নিকট ইস্তিখারা করে, মুমিন বান্দাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এবং নিজের কাজে দৃঢ় থাকে—সে কখনো অনুতপ্ত হয় না। কেননা আল্লাহ্ (সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা) বলেছেন: “এবং কাজে কর্মে তাদের সাথে পরামর্শ করুন, তারপর আপনি কোন সংকল্প করলে আল্লাহ্র উপর নির্ভর করবেন।”[৯৯] [৯৯] সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৫৯।
27. সকাল এবং সন্ধ্যার যিকিরসমূহ
অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, এবং শান্তি ও দরুদ বর্ষিত হোক তাঁর উপর যার পরে আর কোনো নবী নেই।”[১০০] [১০০] আনাস (রদিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “ফজরের নামাযের পর থেকে সূর্য ওঠা পর্যন্ত আল্লাহ্ তাআলার যিকির করে- এমন কিছু লোকের সঙ্গে আমার বসে থাকা, আমার নিকট ইসমাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর বংশধরের চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করার চেয়েও অধিক প্রিয়। আর আসরের নামায থেকে সূর্য অস্ত যাওয়া পর্যন্ত আল্লাহ্র যিকর করে- এমন কিছু লোকের সঙ্গে আমার বসে থাকা, আমার কাছে চারজন ক্রীতদাস মুক্ত করার চেয়েও প্রিয়।” আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৬৬৭; এবং আলবানী একে হাসান বলেছেন, সহীহ আবু দাউদ, ২/৬৯৮।
আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।
অর্থ: “আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে, সেগুলি তাঁর জন্যই। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দু’টোর সংরক্ষণ তাঁকে বিন্দুমাত্র ক্লান্ত করতে পারে না। আর তিনি সুউচ্চ, সুমহান।২৫৫” [আল-বাকারাহ: ২৫৫][১০১] [১০১] “যে ব্যক্তি এটি সকালে পড়বে, সন্ধ্যা পর্যন্ত জিনদের থেকে নিরাপদ থাকবে; আর যে সন্ধ্যায় পড়বে, সে সকাল পর্যন্ত তাদের থেকে নিরাপদ থাকবে।” এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন, ১/৫৬২; আর আলবানী একে সহীহ বলেছেন, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব, ১/২৭৩; এবং তিনি এটিকে নাসায়ী ও তাবরানীর দিকে নিসবত করেছেন এবং বলেছেন: “তাবরানীর সনদটি জাইয়্যিদ।”
"বলুন, ‘তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়।১ আল্লাহ স্বয়ং সম্পুর্ণ অমুখাপেক্ষী।২ তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি।৩ এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।৪” [সূরা আল-ইখলাস ১-৪] ।
“বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের।১ তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে।২ আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়।৩ আর গিরায় ফুঁদানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে।" ।৪ আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের- যখন সে হিংসা করে।৫” [সূরা আল-ফালাক: ১-৫]।
“বলুন, ‘আমি আশ্ৰয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের।১ মানুষের অধিপতির,২ মানুষের মাবূদের কাছে,৩ আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে,৪ যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে,৫ জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।৬” [সূরা আন-নাস: ১-৬] (তিন বার)[১০২]। [১০২] “যে ব্যক্তি এটি তিনবার সকালে এবং তিনবার সন্ধ্যায় পড়বে, তার জন্য এটি সব কিছু থেকে যথেষ্ট হবে।” আবু দাউদ, ৪/৩২২, হাদীস নং: ৫০৮২; তিরমিযি, ৫/৫৬৭, হাদীস নং: ৩৫৭৫; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ৩/১৮২।
অর্থ: “আমরা এবং সকল রাজত্ব আল্লাহর জন্য সকালে উপনীত হলাম। আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে এই দিনে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরেও যে কল্যাণ আছে তাও প্রার্থনা করছি । আর আমি আপনার কাছে এই দিনে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে অলসতা ও বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আযাব এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।[১০৩]” [১০৩] মুসলিম, ৪/২০৮৮, হাদীস নং: ২৭২৩।
আসবাহনা ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহি, ওয়াল হামদু লিল্লাহি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর, রাব্বি আসআলুকা খাইরা মা ফী হাজাল ইয়াওমি ওয়া খাইরা মা বা’দাহু, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররি মা ফী হাজাল ইয়াওমি ওয়া শাররি মা বা’দাহু, রাব্বি আউযু বিকা মিনাল কাসালি ওয়া সু-ইল কিবার, রাব্বি আউযু বিকা মিন আযাবিন ফিন নারি ওয়া আযাবিন ফিল কবর
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে: “আমরা এবং সারা রাজ্য আল্লাহর জন্য সন্ধ্যায় উপনীত হলাম। আল্লাহর জন্যই সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব, তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা এবং তিনি সকল বস্তুর উপর সর্বশক্তিমান। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে এই রাতে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং তার পরেও যে কল্যাণ আছে তা প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার কাছে এই রাতে যে অকল্যাণ আছে তা এবং তারপরেও যে অকল্যাণ আছে তা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে অলসতা ও বার্ধক্যের মন্দ হতে পানাহ চাচ্ছি। হে আমার রব! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আযাব এবং কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।” [১০৪] [১০৪] প্রাগুক্ত।
আমসায়না ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহি, ওয়াল হামদুলিল্লাহি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর, রাব্বি আসআলুকা খাইরা মা ফু হাযিহিল লাইলাতি, ওয়া খাইরা মা বা’দাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররি মা ফী ৫৫ হাযিহিল লাইলাতি, ওয়া শাররি মা বা’দাহা, রাব্বি আউযু বিকা মিনাল কাসালি ওয়া সু-ইল কিবারি, রাব্বি আউযু বিকা মিন আযাবিন ফিন নারি ওয়া আযাবিন ফিল কাবরি।
উচ্চারণ:“আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা, ওয়া বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা নাহইয়া, ওয়া বিকা নামূতু, ওয়া ইলাইকান নুশূর।” অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনারই তত্ত্বাবধানে ও ইচ্ছায় আমাদের সকাল হল এবং আপনারই ইচ্ছায় আমাদের সন্ধ্যা হয় , আপনারই শক্তিতে আমরা বাঁচি , আপনারই শক্তিতে আমরা মারা যাই এবং আপনার দিকেই আমাদের পুনরুত্থান।”[১০৫] [১০৫] তিরমিযি, ৫/৪৬৬, হাদীস নং: ৩৩৯১; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিযি, ৩/১৪২।
আল্লাহুম্মা বিকা আসবাহনা, ওয়া বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা নাহইয়া, ওয়া বিকা নামুতু ওয়া ইলাইকান নুশুর
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে: উচ্চারণ: “আল্লাহুম্মা বিকা আমসাইনা, ওয়া বিকা আসবাহনা, ওয়া বিকা নাহইয়া, ওয়া বিকা নামূতু, ওয়া ইলাইকাল মাসীর।” অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনারই তত্ত্বাবধানে আমাদের সন্ধ্যা হল এবং আপনারই ইচ্ছায় আমাদের সকাল হয়, আপনারই শক্তিতে আমরা বাঁচি, আপনারই শক্তিতে আমরা মৃত্যুবরণ করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।” [১০৬] [১০৬] প্রাগুক্ত।
আল্লাহুম্মা বিকা আমসায়না, ওয়া বিকা আসবাহনা, ওয়াবিকা নাহইয়া, ওয়াবিকা নামুতু, ওয়া ইলাইকাল মাসীর
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনিই আমার রব। আপনি ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই। আপনিই আমাকে সৃষ্টি করেছেন আর আমি আপনার দাস এবং আমি আপনার প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের উপর যথাসাধ্য প্রতিষ্ঠিত আছি। আমি যা করেছি, তার মন্দ থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। আমার উপর আপনার যে নি‘আমত রয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি [১০৭] এবং আমার অপরাধও আমি স্বীকার করছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন; কেননা আপনি ছাড়া আর কেউ পাপ ক্ষমা করতে পারে না।[১০৮]” [১০৭] আমি স্বীকার করছি এবং মেনে নিচ্ছি। [১০৮] “যে ব্যক্তি এটি দৃঢ় বিশ্বাসসহ সন্ধ্যায় পড়বে, এবং সেদিন রাতে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; এবং একইভাবে যদি সে সকালে বলে।” সহীহ বুখারী, ৭/১৫০, হাদীস নং: ৬৩০৬।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি সকালে উপনীত হয়েছি- আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি, এবং আপনার আরশ বহনকারীদের, আপনার ফেরেশতাদের এবং আপনার সকল সৃষ্টি জগতকে সাক্ষী রাখছি যে, নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো অংশীদার নেই, আর মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসূল।”
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসবাহতু উশহিদুকা, ওয়া উশহিদু হামালাতা আরশিকা, ওয়া মালাইকাতিকা, ওয়া জামিআ খালকিকা, আন্নাকা আন্তাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুকা ওয়া রাসূলুক। চারবার [১০৯]৷ [১০৯] “যে ব্যক্তি এটি সকালে অথবা সন্ধ্যায় চারবার পড়বে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন।” আবু দাউদ, ৪/৩১৭, হাদীস নং: ৫০৭১; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ১২০১; নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ০৯; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৭০। শায়খ ইবনু বায রহিমাহুল্লাহ নাসায়ী ও আবু দাউদের সনদকে হাসান বলেছেন, তুহফাতুল আখইয়ার, পৃষ্ঠা ২৩।
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে: “হে আল্লাহ! আমি সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি- আমি আপনাকে সাক্ষী রাখছি, এবং আপনার আরশ বহনকারীদের, আপনার ফেরেশতাদের এবং আপনার সকল সৃষ্টি জগতকে সাক্ষী রাখছি যে, নিশ্চয় আপনিই আল্লাহ, আপনি ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো অংশীদার নেই, আর মুহাম্মদ আপনার বান্দা ও রাসূল।”
আল্লাহুম্মা ইন্নি আমসাইতু উশহিদুকা, ওয়া উশহিদু হামালাতা আরশিকা, ওয়া মালাইকাতাকা, ওয়া জামিআ খালকিকা, আন্নাকা আনতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আবদুকা ওয়া রাসূলুক। চারবার [১১০]। [১১০] প্রাগুক্ত।
অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার অথবা আপনার কোন সৃষ্টির যে নি‘আমত লাভ হয়েছে এই সকালে তা কেবলই আপনার থেকে। আপনি একক, আপনার কোন শরীক নেই। কাজেই আপনার জন্য সকল প্রশংসা এবং আপনার জন্যই সকল কৃতজ্ঞতা।’[১১১] [১১১] “যে ব্যক্তি এটি সকালে বলবে, সে তার দিনের শুকরিয়া আদায় করবে এবং যে ব্যক্তি এটি সন্ধ্যায় বলবে, সে তার রাতের শুকরিয়া আদায় করবে।” আবু দাউদ, ৪/৩১৮, হাদীস নং: ৫০৭৫; নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ৭; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৪১; ইবনু হিব্বান (মাওয়ারিদ), হাদীস নং: ২৩৬১; এবং শায়খ ইবনু বায রহিমাহুল্লাহ এর সনদকে হাসান বলেছেন, তুহফাতুল আখইয়ার, পৃষ্ঠা ২৪।
আল্লাহুম্মা মা আসবাহা বি মিন নি’মাতিন আও বিআহাদিন মিন খালকিকা, ফামিনকা ওয়াহদাকা লা শারিকা লাকা, ফালাকাল হামদু ওয়ালাকাশ শুকর
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে: অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমার অথবা আপনার কোন সৃষ্টির যে নি‘আমত লাভ হয়েছে এই সন্ধ্যায় তা কেবলই আপনার থেকে। আপনি একক, আপনার কোন শরীক নেই। কাজেই আপনার জন্য সকল প্রশংসা এবং আপনার জন্যই সকল কৃতজ্ঞতা।’[১১২] [১১২] প্রাগুক্ত।
আল্লাহুম্মা মা আমসা বী মিন নি’মাতিন আও বিআহাদিন মিন খালকিকা ফামিনকা ওয়াহদাকা লা শারীকা লাকা, ফালাকাল হামদু ওয়ালাকাশ শুকর
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আমার দেহে সুস্থতা দিন, হে আল্লাহ! আপনি আমার কানে সুস্থতা দিন, হে আল্লাহ! আপনি আমার চোখে সুস্থতা দিন। আপনি ব্যতীত সত্য কোনো মাবূদ নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই কুফরী ও দারিদ্র্যতা থেকে এবং কবরের আযাব থেকেও আশ্রয় চাই। আপনি ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।”
আল্লাহুম্মা আফিনী ফী বাদানী, আল্লাহুম্মা আফিনী ফী সাময়ী, আল্লাহুম্মা আফিনী ফি বাসারী, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল কুফরি, ওয়াল ফাকরি, ওয়া আউযুবিকা মিন আযাবিল কাবরি, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা। তিনবার[১১৩]। [১১৩] আবু দাউদ, ৪/৩২৪, হাদীস নং: ৫০৯২; আহমাদ, ৫/৪২, হাদীস নং: ২০৪৩০; নাসায়ী, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ২২; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৬৯; বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৭০১। আল্লামা ইবনু বায রহিমাহুল্লাহ এর সনদকে হাসান বলেছেন, তুহফাতুল আখইয়ার, পৃষ্ঠা: ২৬।
“আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট, তিনি ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই, আমি তাঁরই উপর ভরসা করি, আর তিনি মহা আরশের রব।”
হাসবিয়াল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়াহুয়া রাব্বুল আরশিল আজীম। (সাতবার)[১১৪]। [১১৪] “যে ব্যক্তি এটি সকালে এবং সন্ধ্যায় সাতবার পড়বে, আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল চিন্তার ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয়ে যাবেন।” এটি ইবনু সুন্নী মারফু সূত্রে, হাদীস নং: ৭১; আবু দাউদ মাওকুফ সূত্রে ৪/৩২১, হাদীস নং: ৫০৮১ বর্ণনা করেছেন। শুয়াইব ও আবদুল কাদের আরনাঊত্ব এর সনদটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন: যাদুল মা'আদ, ২/৩৭৬।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আমার দ্বীন, দুনিয়া, পরিবার ও সম্পদের ক্ষেত্রে ক্ষমা ও সুস্থতা প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমার গোপন বিষয়গুলো আচ্ছাদিত করুন এবং আমার ভয়ের কারণগুলো থেকে নিরাপদ করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আমার সামনের দিক থেকে, আমার পিছন থেকে, আমার ডান দিক থেকে, আমার বাম দিক থেকে ও উপর থেকে হিফাযত করুন। আর আমি আপনার মহত্ত্বের মাধ্যমে আশ্রয় চাই যেন আমার নিচ থেকে আকস্মিক আক্রমণ করা না হয়।”[১১৫] [১১৫] আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫০৭৪; এবং ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৭১; দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩৩২।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি অদৃশ্য ও দৃশ্য জগতের জ্ঞানী, আসমানসমূহ ও পৃথিবীর স্রষ্টা, সকল কিছুর রব ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আমার আত্মার অনিষ্ট থেকে, শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আরও আশ্রয় চাচ্ছি, আমার নিজের কোন ক্ষতি করা অথবা কোন মুসলিমের প্রতি তা টেনে নেওয় হতে।”[১১৬] [১১৬] তিরমিযী, হাদীস নং: ৩৩৯২; এবং আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫০৬৭; দেখুন: সহীহ তিরমিযী, ৩/১৪২।
আল্লাহুম্মা আলিমাল গাইবি ওয়াশ-শাহাদাতি, ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল-আরদি, রাব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালিকাহু, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আউযু বিকা মিন শাররি নাফসী, ওয়া মিন শাররিশ শাইতানি ওয়া শারাকিহি, ওয়া আন আকতারিফা আলা নাফসী সুআন, আও আজুররাহু ইলা মুসলিম।
অর্থ: “আল্লাহ্র নামে, যাঁর নামের সাথে আকাশে ও যমীনে কোনো কিছুই ক্ষতি করতে পারে না। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।”
বিসমিল্লাহিল লাযী লা ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইয়ুন ফিল আরদি, ওয়ালা ফিস সামাই, ওয়াহুয়াস সামীউল আলীম তিনবার[১১৭]। [১১৭] “যে ব্যক্তি সকাল বেলায় তিনবার এবং সন্ধ্যা বেলায় তিনবার এ কথাটি বলবে, কোনো কিছু তার ক্ষতি করতে পারবে না।” হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ, ৪/৩২৩, হাদীস নং: ৫০৮৮; তিরমিযী, ৫/৪৬৫, হাদীস নং: ৩৩৮৮; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৬৯; আহমাদ, হাদীস নং: ৪৪৬। আরও দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩৩২। শাইখ ইবনু বায (রহিমাহুল্লাহ) ‘তুহফাতুল আখইয়ার’, পৃ. ৩৯-এ এর সনদকে হাসান বলেছেন।
অর্থ: “আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে গ্রহণ করে আমি সন্তুষ্ট।”
রদিতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়া বিল ইসলামি দীনান, ওয়াবি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা নাবিয়্যান তিনবার[১১৮]। [১১৮] “যে ব্যক্তি সকাল বেলায় তিনবার এবং সন্ধ্যা বেলায় তিনবার এ কথাগুলো বলবে, কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাকে সন্তুষ্ট করার দায়িত্ব নিয়ে নিবেন।” হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, ৪/৩৩৭, হাদীস নং: ১৮৯৬৭; নাসাঈ (আ‘মালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ), হাদীস নং: ৪; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৬৮; আবু দাউদ, ৪/৩১৮, হাদীস নং: ১৫৩১; তিরমিযী, ৫/৪৬৫, হাদীস নং: ৩৩৮৯। শাইখ ইবন বায (রহিমাহুল্লাহ) ‘তুহফাতুল আখইয়ার’, পৃ. ৩৯-এ হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন।
অর্থ: “হে চিরঞ্জীব, হে সবকিছুর ধারক ও সংরক্ষক! আমি তোমার করুণার অসীলায় ফরিয়াদ করছি। তুমি আমার সকল বিষয়কে সংশােধন করে দাও। আর চোখের এক পলক পরিমাণও আমাকে আমার নিজের প্রতি সােপর্দ করে দিও না।”[১১৯] [১১৯] ইমাম হাকিম বর্ণনা করেছেন ও হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/৫৪৫। আরও দেখুন: সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭৩।
ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুমু, বিরাহমাতিকা আস্তাগিছু, আসলিহ লি শা’নিয়া কুল্লাহু, ওয়ালা তাকিলনী ইলা নাফসী তারফাতা আইন।
অর্থ: “আমরা ভোরে এসে উপনীত হলাম আর আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীনের উদ্দেশ্যে রাজত্বও ভোরে এসে উপনীত হলো। হে আল্লাহ! আমি আজকের দিনের কল্যাণ, বিজয়, সাহায্য, আলো, বরকত ও হিদায়াত কামনা করছি। আর আজকের দিনের অনিষ্ট ও তার পরের অনিষ্ট থেকে আপনার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।” [১২০] [১২০] আবু দাউদ, ৪/৩২২, হাদীস নং: ৫০৮৪; এবং শু‘আইব ও আব্দুল কাদির আরনাউত্ব ‘যাদুল মা‘আদ’ গ্রন্থের তাহকীকে (২/৩৭৩) হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন।
আসবাহনা ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন, আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরা হাযাল ইয়াওমি: ফাতহাহু, ওয়া নাসরাহু, ওয়া নুরাহু, ওয়া বারাকাতাহু, ওয়া হুদাহু, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররি মা ফীহি ওয়া শাররি মা বা'দাহ।
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে: “আমরা সন্ধ্যায় এসে উপনীত হলাম আর আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীনের উদ্দেশ্যে রাজত্বও সন্ধ্যায় এসে উপনীত হলো। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এই রাত্রির কল্যাণ প্রার্থনা করছি: এর বিজয়, সাহায্য, আলো, বরকত ও হিদায়াত চাইছি। আর আমি আপনার আশ্রয় চাই এতে যা কিছু অকল্যাণ আছে এবং পরে যা কিছু অকল্যাণ আসবে তা থেকে।” [১২১] [১২১] প্রাগুক্ত।
আমসাইনা ওয়া আমসাল মুলকু লিল্লাহি রব্বিল আলামিন, আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরা হাযিহিল লাইলাতি: ফাতহাহা, ওয়া নাসরাহা, ওয়া নূরাহা, ওয়া বারাকাতাহা, ওয়া হুদাহা, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররি মা ফীহা, ওয়া শাররি মা বা'দাহা
অর্থ: “আমরা সকালে উপনীত হলাম ইসলামের প্রকৃতির উপর, ইখলাসের বাণীর উপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের উপর এবং আমাদের পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের মিল্লাতের উপর, যিনি একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। এটিও তিনি সকাল-সন্ধ্যায় পাঠ করতেন।[১২২]” [১২২] আহমাদ, ৩/৪০৬ ও ৪০৭, হাদীস নং: ১৫৩৬০ ও ১৫৫৬৩; এবং ইবনুস সুন্নী, ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে, হাদীস নং: ৩৪। আরও দেখুন: সহীহুল জামি‘, ৪/২০৯।
আসবাহনা আলা ফিতরাতিল ইসলামি, ওয়া আলা কালিমাতিল ইখলাসি, ওয়া আলা দ্বীনে নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ওয়া আলা মিল্লাতি আবীনা ইব্রাহীমা , হানিফান মুসলিমাও ওয়ামা কানা মিনাল মুশরিকীন।
আর সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলবে: অর্থ: “আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হলাম ইসলামের প্রকৃতির উপর, ইখলাসের বাণীর উপর, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের উপর এবং আমাদের পিতা ইব্রাহীম আলাইহিস সালামের মিল্লাতের উপর, যিনি একনিষ্ঠ মুসলিম ছিলেন এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।” [১২৩] [১২৩] প্রাগুক্ত।
আমসাইনা আলা ফিতরাতিল ইসলাম, ওয়া আলা কালিমাতিল ইখলাস, ওয়া আলা দ্বীনে নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ওয়া আলা মিল্লাতি আবীনা ইব্রাহিমা, হানিফাম মুসলিমাও ওয়ামা কানা মিনাল মুশরিকীন।
“আমি আল্লাহর পবিত্রতা ও তাঁর প্রশংসা ঘোষণা করছি।”
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ্ (একশ’ বার) [১২৪]। [১২৪] “যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় এটি একশ’ বার বলবে, কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম কিছু কেউ আনতে পারবে না—সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে একই পরিমাণ বা তার থেকে বেশি বলেছে।” সহীহ মুসলিম, ৪/২০৭১, হাদীস নং: ২৬৯২।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। দশবার[১২৫], অথবা অলসতার সময় একবার[১২৬]। [১২৫] নাসাঈ ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে, হাদীস নং: ২৪। আরও দেখুন: সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭২; তুহফাতুল আখইয়ার, পৃ.: ৪৪, আরো দেখুন: দু‘আটির ফযীলত, পৃ.: ১৪৬, হাদীস নং: ২৫৫। [১২৬] আবু দাউদ, হাদীস নং: ৫০৭৭; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৭৯৮; আহমাদ, হাদীস নং: ৮৭১৯। আরও দেখুন: সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭০; সহীহ আবু দাউদ, ৩/৯৫৭; সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩৩১; এবং যাদুল মা‘আদ, ২/৩৭৭।
“আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর সকালে (একশ’ বার) [১২৭]। [১২৭] “যে ব্যক্তি দিনে এটি একশ' বার বলবে, তার জন্য দশটি দাস মুক্তির সমান সওয়াব লেখা হবে, একশ' নেকী লেখা হবে, একশ' পাপ মুছে ফেলা হবে, এবং সে দিনটি শয়তান থেকে সুরক্ষিত থাকবে- যতক্ষণ না সন্ধ্যা আসে, এবং আর কেউ সে যা করেছে তার চেয়ে ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারবে না, তবে যে এর থেকেও বেশি আমল করবে সে ব্যতীত।” বুখারী, ৪/৯৫, হাদীস নং: ৩২৯৩; মুসলিম, ৪/২০৭১, হাদীস নং: ২৬৯১।
অর্থ: “আমি আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি, তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর নফসের সন্তুষ্টির পরিমাণ, তাঁর আরশের ভার পরিমাণ এবং তাঁর কালেমাসমূহের কালি পরিমাণ।”
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি: আদাদা খালকিহি, ওয়া রিদা নাফসিহি, ওয়া যিনাতা আরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহ সকালে তিনবার[১২৮]। [১২৮] মুসলিম, ৪/২০৯০, হাদীস নং: ২৭২৬।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে কল্যাণকর জ্ঞান, পবিত্র জীবিকা এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।”।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান নাফিআন, ওয়া রিযকান তাইয়িবান, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা সকালে উপনীত হয়ে [১২৯]। [১২৯] ইবনুস সুন্নী ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং: ৫৪; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৯২৫; এবং শু‘আইব ও আব্দুল কাদির আরনাঊত্ব ‘যাদুল মা‘আদ’ গ্রন্থের তাহকীকে (২/৩৭৫) হাদীসটির সনদকে হাসান বলেছেন। এটি ৭৩ নং-এ গত হয়েছে।
“আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকে ফিরে আসছি।”
আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহ (দিনে একশ’বার।) [১৩০]। [১৩০] সহীহ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ১১/১০১, হাদীস নং: ৬৩০৭; এবং মুসলিম, ২/২০৭৫, হাদীস নং: ২৭০২।
আউযু বিকালিমা-তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক (সন্ধ্যায় তিনবার।) [১৩১]। [১৩১] যে ব্যক্তি সন্ধ্যাবেলায় তিনবার এটি বলবে, ঐ রাতে কোন বিষ তার অনিষ্ট করতে পারবে না।” হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, ২/২৯০, হাদীস নং: ৭৮৯৮; নাসাঈ ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে, হাদীস নং: ৫৯০; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৬৮। আরও দেখুন: সহীহ তিরমিযী, ৩/১৮৭; সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/২৬৬; এবং ইবনু বায-এর তুহফাতুল আখইয়ার, পৃ. ৪৫।
(হে আল্লাহ, আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর সালাত ও সালাম নাযিল করুন।)
আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ দশ বার[১৩২]। [১৩২] "যে ব্যক্তি সকালে দশবার এবং সন্ধ্যাবেলায় দশবার আমার উপর দরুদ পড়বে, কিয়ামতের দিনে সে আমার শাফা‘আত প্রাপ্ত হবে।" হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তাবারানী দুইটি সনদে, যার মধ্যে একটি জাইয়িদ (উত্তম)। দেখুন: মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/১২০; এবং সহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১/২৭৩।
২৮. ঘুমানোর যিকিরসমূহ
দুই হাত একত্রিত করে তাতে ফুঁক দিবে এবং তাতে পাঠ করবে: "বলুন, ‘তিনি আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়।১ ‘আল্লাহ্ স্বয়ংসম্পন্ন অমুখাপেক্ষী।২ তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি।৩ এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই।৪” [সূরা আল-ইখলাস ১-৪] ।
“বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের।১ তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে।২ ‘আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা গভীর হয়।৩ ‘আর গিরায় ফুঁক দেয় এ সমস্ত নারীদের অনিষ্ট হতে।৪ আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের- যখন সে হিংসা করে।৫” [সূরা আল-ফালাক : ১-৫]।
“বলুন, ‘আমি আশ্ৰয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের।১ মানুষের অধিপতির,২ মানুষের মাবূদের কাছে,৩ আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট হতে,৪ যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরসমূহে,৫ জিনের মধ্য থেকে এবং মানুষের মধ্য থেকে।৬” [সূরা আন-নাস: ১-৬]।
তারপর উভয় হাত যতটুকু সম্ভব নিজ শরীরে বুলিয়ে নিবে; প্রথমে তা মাথা ও চেহারায় এবং শরীরের সামনের অংশে। (এভাবে তিনবার এই কাজটি করবে)[১৩৩]। [১৩৩] বুখারী, ফতহুল বারীসহ, ৯/৬২, হাদীস নং: ৫০১৭; এবং মুসলিম, হাদীস নং: ২১৯২।
অর্থ: “আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। আসমানসমূহে যা রয়েছে এবং যমীনে যা রয়েছে, সেগুলি তাঁর জন্যই। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও যমীন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দু’টোর সংরক্ষণ তাঁকে বিন্দুমাত্র ক্লান্ত করতে পারে না। আর তিনি সুউচ্চ, সুমহান। ২৫৫” [সূরা আল-বাকারাহ : ২৫৫,][১৩৪]। [১৩৪] “যে ব্যক্তি শয়নকালে এটি পাঠ করবে, তার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রক্ষাকারী নিয়োজিত থাকবে এবং কোনো শয়তান তার নিকটে আসতে পারবে না যতক্ষণ না সে সকালে উপনীত হয়“ বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৪/৪৮৭, হাদীস নং: ২৩১১।
“রাসূল তার রবের পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে: আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।২৮৫ আল্লাহ্ কারো উপরে তার সাধ্যাতীত উপর এমন কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। সে ভাল যা কিছু উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা অর্জন করে তার প্রতিফলও তার উপরই বর্তাবে। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন, আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি রহমত করুন, আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।২৮৬” [সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৫-২৮৬][১৩৫]। [১৩৫] “যে ব্যক্তি এ দুটি আয়াত রাতে পাঠ করবে, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।” বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৯/৯৪, হাদীস নং: ৪০০৮; মুসলিম, ১/৫৫৪, হাদীস নং: ৮০৭।
অর্থ: “হে আমার রব! আমি আপনার নামে[১৩৬] আমার পার্শ্ব রাখলাম এবং তোমার সাহায্যেই তা উঠিয়ে থাকি। যদি আপনি আমার আত্মা কবজ করেন, তবে তার প্রতি রহমত করবেন; আর যদি তা ছেড়ে দেন, তবে তাকে সেইভাবে হেফাযত করুন, যেমন আপনি আপনার নেককার বান্দাদের হেফাযত করে থাকেন।”[১৩৭]। [১৩৬] “তোমাদের কেউ যখন তার বিছানা থেকে উঠে এবং পরে আবার তাতে ফিরে আসে, তখন যেন সে তার কাপড়ের প্রান্ত দিয়ে বিছানাটি তিনবার ঝাড়ে এবং ‘বিসমিল্লাহ’ বলে; কেননা, সে জানে না তার পরে সেখানে কী এসেছে। আর যখন শোয়, তখন বলবে:...” (হাদীসের বাকি অংশ)। [হাদীসে উল্লেখিত ‘صَنِفَةِ إزاره’ এর অর্থ: তার কাপড়ের এমন প্রান্ত যা কিনা সেলাইয়ের দিক ঘেঁষা]। তথ্যসূত্র: আন-নিহায়াহ ফী গরীবিল হাদীস ওয়াল আছার (শব্দ: صنف)। [১৩৭] বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ১১/১২৬, হাদীস নং: ৬৩২০; মুসলিম, ৪/২০৮৪, হাদীস নং: ২৭১৪।
বিসমিকা রাব্বি ওয়াদাতু জানবী, ওয়াবিকা আরফাউহু, ফা-ইন আমসাকতা নাফসী ফারহামহা, ওয়া-ইন আরসালতাহা ফাহফাজহা, বিমা তাহফাজু বিহি ইবাদাকাস সালিহীন
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আমার আত্মা সৃষ্টি করেছেন এবং আপনি তার মৃত্যু ঘটান, তার জীবন এবং মৃত্যুর অধিকারী আপনি। যদি আপনি তাকে জীবিত রাখেন, তবে তাকে রক্ষা করুন, এবং যদি তাকে মৃত্যু দান করেন, তবে তাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সুস্থতা প্রার্থনা করছি।”[১৩৮]। [১৩৮] এটি মুসলিম, ৪/২০৮৩, হাদীস নং: ২৭১২; এবং আহমাদ স্বীয় শব্দে ২/৭৯, হাদীস নং: ৫৫০২-এ উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহুম্মা ইন্নাকা খালাকতা নাফসী ওয়া আন্তা তাওয়াফফাহা, লাকা মামাতুহা ওয়া মাহয়াহা, ইন আহয়াইতাহা ফাহফাযহা, ওয়া ইন আমাত্তাহা ফাগফির লাহা, আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল আফিয়াহ।
অর্থ: “হে আল্লাহ! যেদিন আপনি আপনার বান্দাদের পুনরুত্থিত করবেন, সেদিন আমাকে[১৩৯] আপনার শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।”[১৪০]। [১৩৯] “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শয়নের ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি তাঁর ডান হাতটি স্বীয় গালের নিচে রাখতেন, তারপর বলতেন: ... ” [১৪০] আবু দাউদ উক্ত শব্দসহ, ৪/৩১১, হাদীস নং: ৫০৪৫; তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৩৯৮; দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৪৩, এবং সহীহ আবু দাউদ, ৩/২৪০।
আল্লাহুম্মা কিনী আযাবাকা ইয়াওমা তাবআসু ইবাদাক
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার নামেই আমি মৃত্যুবরণ করি এবং জীবিত হই।”[১৪১] [১৪১] বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ১১/১১৩, হাদীস নং: ৬৩২৪; মুসলিম, ৪/২০৮৩, হাদীস নং: ২৭১১।
বিসমিকাল্লাহুম্মা আমূতু ওয়া আহয়া
“সুবহানাল্লাহ
সুবহানাল্লাহ (তেত্রিশবার) আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য
ওয়ালহামদু লিল্লাহ (তেত্রিশ বার) ওয়াল্লাহু আকবার
ওয়াল্লাহু আকবার (৩৪ বার)।” [১৪২] [১৪২] “যে ব্যক্তি এ দোয়া তার শোয়ার সময় বলবে, তা হবে তার জন্য একজন খাদেমের চেয়েও উত্তম।” বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ৭/৭১, হাদীস নং: ৩৭০৫; মুসলিম, ৪/২০৯১, হাদীস নং: ২৭২৬।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আকাশসমূহের রব, যমীনের রব, মহান ‘আরশের রব, আমাদের রব ও প্রত্যেক বস্তুর রব। হে শস্য-বীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী, তাওরাত, ইঞ্জীল ও কুরআন নাযিলকারী, আমি আপনার নিকট এমন প্রত্যেক বস্তুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, আপনি যার অগ্রভাগ (মাথা) ধরে রেখেছেন। হে আল্লাহ! আপনিই প্রথম আপনার পূর্বে কিছুই নেই, আপনি সর্বশেষ আপনার পরে কিছুই নেই, আপনি সব কিছুর উপরে আপনার উপরে কিছুই নেই; আপনি সর্বনিকটে, আপনার চেয়ে নিকটবর্তী কিছু নেই, আপনি আমাদের সমস্ত ঋণ পরিশোধ করে দিন এবং আমাদেরকে অভাব থেকে মুক্ত করুন।”[১৪৩] [১৪৩] মুসলিম, ৪/২০৮৪, হাদীস নং: ২৭১৩।
আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি ওয়া রাব্বাল আরদি, ওয়া রাব্বাল আরশিল আযীম, রাব্বানা ওয়া রাব্বা কুল্লি শাইয়িন, ফালিকাল হাব্বি ওয়ান-নাওয়া, ওয়া মুনযিলাত তাওরাতি ওয়াল ইনজীলি, ওয়াল ফুরকান, আউযু বিকা মিন শাররি কুল্লি শাইয়িন আন্তা আখিজুন বিনাসিয়াতিহি, আল্লাহুম্মা আন্তাল আওয়ালু ফালাইসা কাবলাকা শাইয়ুন, ওয়া আন্তাল আখিরু ফালাইসা বা'দাকা শাইয়ুন, ওয়া আন্তাজ জাহিরু ফালাইসা ফাওকাকা শাইয়ুন, ওয়া আন্তাল বাতিনু ফালাইসা দূনাকা শাইয়ুন, ইকদি আন্নাদ দাইনা ওয়া আগনিনা মিনাল ফাকর।
অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের আহার করিয়েছেন, পান করিয়েছেন, আমাদের যথেষ্ট করেছেন এবং আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন। অথচ কত এমন লোক আছে যাদের যথেষ্ট-কারী ও আশ্রয়দাতা নেই।”[১৪৪] [১৪৪] মুসলিম, ৪/২০৮৫, হাদীস নং: ২৭১৫।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আতআমানা ওয়া সাকানা, ওয়া কাফানা, ওয়া আওয়ানা, ফাকাম মিম্মান লা কাফিয়া লাহু ওয়া লা মু’বিয়া
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি অদৃশ্য ও দৃশ্য জগতের জ্ঞানী, আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, সকল কিছুর প্রতিপালক ও মালিক, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আমার আত্মার অকল্যাণ থেকে এবং শয়তানের অকল্যাণ ও শিরক থেকে আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আরো আশ্রয় চাচ্ছি, আমার নিজের কোন ক্ষতি করা অথবা কোন মুসলিমের ক্ষতি করা থেকে।”[১৪৫] [১৪৫] আবু দাউদ, ৪/৩১৭, হাদীস নং: ৫০৬৭; তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৬২৯; দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৪২।
আল্লাহুম্মা আলিমাল গায়বি ওয়াশ শাহাদাতি ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, রাব্বা কুল্লি শাইয়িন ওয়া মালিকাহু, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আউযু বিকা মিন শাররি নাফসী, ওয়ামিন শাররিশ শাইতানি ওয়া শিরকিহি, ওয়া আন আকতারিফা আলা নাফসী সূআন, আও আজুররাহু ইলা মুসলিম।
সূরা আস-সাজদাহ (আলিফ-লাম-মীম, তানযীল) এবং সূরা মুলক (তাবারাকাল্লাযী বিয়াদিহিল্-মুল্কু) পাঠ করবে। [১৪৬] [১৪৬] তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৪০৪; নাসায়ী ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’, হাদীস নং: ৭০৭; দেখুন: সহীহ আল-জামি, ৪/২৫৫।
অর্থ: “হে আল্লাহ! [১৪৭] আমি আমার আত্মাকে আপনার নিকট সমর্পণ করেছি, আমার সমস্ত বিষয় আপনার উপর অর্পণ করেছি, আমার মুখমণ্ডল আপনার দিকে ফিরিয়েছি, আমার পৃষ্টদেশকে ভয়ে এবং প্রত্যাশায় আপনার দিকেই ন্যস্ত করেছি। আপনার কাছ ছাড়া আর কোথাও আশ্রয় ও মুক্তি নেই। আমি আপনার নাজিলকৃত কিতাব এবং আপনার প্রেরিত নবীর উপর ঈমান এনেছি।”[১৪৮] [১৪৭] “যখন তুমি তোমার শয়নের স্থান গ্রহণ করবে, তখন সালাতের জন্য যেভাবে ওযু করো, সেভাবে ওযু করবে; তারপর তোমার ডানপাশের উপরে শয়ন করবে এবং বলবে: …”। হাদীসটি শেষ পর্যন্ত। [১৪৮] যে ব্যক্তি এই দু‘আ পড়বে, তার ব্যাপারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যদি তুমি মারা যাও, তবে তোমার মৃত্যুও হবে ইসলামের উপর।” বুখারী (ফাতহুল বারীসহ), ১১/১১৩, হাদীস নং: ৬৩১৩; মুসলিম, ৪/২০৮১, হাদীস নং: ২৭১০।
আল্লাহুম্মা আসলামতু নাফসী ইলাইকা, ওয়া ফাওয়াদতু আমরী ইলাইকা, ওয়া ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহী ইলাইকা, ওয়া আলজা’তু জাহরী ইলাইকা, রাঘবাতান ওয়া রাহবাতান ইলাইকা, লা মালজাআ ওয়া লা মানজা মিনকা ইল্লা ইলাইকা, আমানতু বিকিতাবিকাল্লাজী আনজালতা, ওয়া বিনাবিয়্যিকাল্লাজী আরসালতা।
২৯. রাতে (ঘুমের সময়) পার্শ্ব পরিবর্তন করার দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ (উপাস্য) নেই; তিনি এক, পরাক্রমশালী। তিনি আকাশমণ্ডলী, যমীন এবং এ দুয়ের মাঝে যা কিছু আছে তার প্রতিপালক; তিনি পরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল।”[১৪৯] [১৪৯] “যখন সে রাতে এক পাশ থেকে অন্য পাশে ফিরবে, তখন এটি বলবে।” হাকেম, ১/৫৪০ এবং তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন ও ইমাম যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; নাসায়ী ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’, হাদীস নং: ২০২; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৭৫৭; দেখুন: সহীহ আল-জামি, ৪/২১৩।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল ওয়াহিদুল কাহ্হার, রাব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া মা বাইনাহুমাল আজিজুল গাফ্ফার
৩০. ঘুমন্ত অবস্থায় ভয় এবং নির্জনতার আতঙ্কে পড়ার দু‘আ
অর্থ: “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে আশ্রয় চাই তাঁর ক্রোধ ও শাস্তি থেকে, তাঁর বান্দাদের অনিষ্ট থেকে, শয়তানদের কুমন্ত্রণা থেকে এবং তাদের আমার নিকট উপস্থিত হওয়া থেকেও।”[১৫০] [১৫০] আবু দাউদ, ৪/১২, হাদীস নং: ৩৮৯৩; তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৫২৮; দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৭১।
আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন গাদাবিহি ওয়া ইকাবিহি, ওয়া শাররি ইবাদিহি, ওয়া মিন হামাজাতিশ শায়াতিনি ওয়া আন ইয়াহদুরুন
৩১. দুঃস্বপ্ন দেখলে যা করবে
সে তার বাম পাশে তিনবার হালকাভাবে থুতু ফেলবে।[১৫১] [১৫১] মুসলিম, ৪/১৭৭২, হাদীস নং: ২২৬১।
“আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইবে শয়তান থেকে এবং সে যা দেখেছে তার অকল্যাণ থেকে” (তিনবার)।[১৫২] [১৫২] মুসলিম, ৪/১৭৭২, ১৭৭৩, হাদীস নং: ২২৬১ ও ২২৬২।
আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম
“তা কারো সঙ্গে আলোচনা করবে না।”[১৫৩] [১৫৩] মুসলিম, ৪/১৭৭২, হাদীস নং: ২২৬১ ও ২২৬৩।
“শরীরের যেই পার্শ্বে শুয়ে ছিল তা থেকে অন্য পাশে ঘুরে যাবে।”[১৫৪] [১৫৪] মুসলিম, ৪/১৭৭৩, হাদীস নং: ২২৬১।
“যদি সে চায়, তাহলে সে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করবে।”[১৫৫] [১৫৫] মুসলিম, ৪/১৭৭৩, হাদীস নং: ২২৬৩।
৩২. বিতরের কুনূতের দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যাদেরকে হিদায়াত দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমাকেও হিদায়াত দিন; যাদেরকে আপনি সুস্থতা দিয়েছেন, তাদের সঙ্গে আমাকেও সুস্থতা দিন; যাদের অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেছেন, তাদের সঙ্গে আমাকেও অভিভাবকত্বে নিয়ে নিন; আপনি যা দিয়েছেন, তাতে আমার জন্য বরকত দিন; আর আপনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সিদ্ধান্ত নেন, আপনার বিরুদ্ধে কেউ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আপনি যার অভিভাবকত্ব গ্রহণ করেন, সে কখনো লাঞ্ছিত হয় না;” “আর আপনি যার সাথে শত্রুতা করেন, সে কখনো সম্মানিত হতে পারে না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি বরকতময়, আপনি মহান।” [১৫৬] [১৫৬] চারটি সুনান গ্রন্থের লেখক এটি বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ, দারেমী, ও বায়হাকী: আবু দাউদ, হাদীস নং: ১৪২৫; তিরমিজি, হাদীস নং: ৪৬৪; নাসায়ী, হাদীস নং: ১৭৪৪; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১১৭৮; আহমাদ, হাদীস নং: ১৭১৮; দারেমি, হাদীস নং: ১৫৯২; হাকেম, ৩/১৭২; বায়হাকী, ২/২০৯; এবং বন্ধনীর অংশটুকু বায়হাকীর বর্ণিত। দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ১/১৪৪; সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/১৯৪; এবং আলবানীর ইরওয়াউল গালীল, ২/১৭২।
আল্লাহুম্মাহদিনী ফীমান হাদাইতা, ওয়া আফিনী ফীমান আফাইতা, ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা, ওয়া বারিক লী ফীমা আতাইতা, ওয়া কিনী শাররা মা কাদাইতা; ফাইন্নাকা তাকদী ওয়া লা ইয়ুকদা আলাইকা, ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা, ওয়া লা ইয়া-ইজ্জু মান আদাইতা, তাবারাকতা রাব্বানা ওয়া তাআলাইত
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, এবং আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আর আমি আপনার কাম্য সিফতের মাধ্যমে ভীতিপ্রদ সিফাত থেকে আপনারই আশ্রয় প্রার্থনা করি, আমি আপনার প্রশংসা পুরোপুরি উল্লেখ করতে পারব না; আপনি তো তেমনি যেমন আপনি নিজের প্রশংসা করেছেন।”[১৫৭] [১৫৭] চারটি সুনান গ্রন্থের লেখক এটি বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ: আবু দাউদ, হাদীস নং: ১৪২৭; তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৫৬৬; নাসায়ী, হাদীস নং: ১৭৪৬; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১১৭৯; আহমাদ, হাদীস নং: ৭৫১। দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৮০; সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/১৯৪; ইরওয়াউল গালীল, ২/১৭৫।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিরিযাকা মিন সাখাতিকা, ওয়াবি মুআফাতিকা মিন উকুবাতিকা, ওয়া আউযু বিকা মিনকা, লা উহসী সানাআন আলাইকা, আনতা কামা আসনাইতা আলা নাফসিক
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি, আপনারই জন্য সালাত আদায় করি ও সিজদা করি, আপনারই দিকে দ্রুত ধাবিত ও অগ্রসর হই। আমরা আপনার রহমতের আশা করি এবং আপনার শাস্তিকে ভয় করি—নিশ্চয়ই আপনার শাস্তি কাফিরদেরকে পেয়ে বসবে। হে আল্লাহ! আমরা আপনারই সাহায্য চাই, আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি, আপনার কল্যাণময় প্রশংসা করি, আপনার সঙ্গে কুফরি করি না; আমরা আপনার প্রতি ঈমান রাখি, আপনার সামনে বিনয়াবনত হই, এবং যারা আপনার সঙ্গে কুফরি করে তাদের থেকে নিজেদের আলাদা করি।”[১৫৮] [১৫৮] এটি বায়হাকি তার 'আস-সুনানুল কুবরা' তে বর্ণনা করেছেন এবং সনদটিকে সহীহ বলেছেন, ২/২১১; এবং শায়খ আলবানী তার 'ইরওয়া আল-গালীল' গ্রন্থে বলেছেন: “এটি সহীহ সনদ” ২/১৭০। এটি উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উপর মাওকুফ।
আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু, ওয়া লাকা নুসাল্লী ওয়া নাসজুদু, ওয়া ইলাইকা নাসআ ওয়া নাহফিদু, নারজু রাহমাতাকা, ওয়া নাখশা আযাবাকা, ইন্না আযাবাকা বিল কাফিরিনা মুলহিক, আল্লাহুম্মা ইন্না নাস্তাইনুকা, ওয়া নাস্তাগফিরুকা, ওয়া নুছনী আলাইকাল খাইরা, ওয়া লা নাকফুরুকা, ওয়া নু’মিনু বিকা, ওয়া নাখদাউ লাকা, ওয়া নাখলাউ মান ইয়াকফুরুক
৩৩. বিতর সালাতের সালাম ফিরানোর পরের যিকির
(মহাপবিত্র অধিপতির পবিত্রতা ঘোষণা করছি)
সুবহানাল মালিকিল কুদ্দুস তিন বার আর তৃতীয়বার উচ্চস্বরে এবং আওয়াজ দীর্ঘ করে পাঠ করবে: অর্থ: “ফেরেশতাগণ ও রূহের (জিবরাঈল আলাইহিস সালামের) রব।” [১৫৯] [১৫৯] নাসাঈ, ৩/২৪৪, হাদীস নং: ১৭৩৪; দারাকুতনী, ২/৩১, এবং অন্যান্যরা। যে অংশটি বন্ধনীর মধ্যে রয়েছে তা দারাকুতনীর বর্ধিত অংশ, ২/৩১, হাদীস নং: ০২। সনদটি সহীহ, দেখুন: 'যাদুল মাআদ'- শু‘আইব ও আবদুল কাদের আরনাঊতের তাহকীক সহযোগে, ১/৩৩৭।
রাব্বিল মালাইকাতি ওয়ার রুহ
৩৪. দুঃখ ও দুশ্চিন্তার সময় পড়ার দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার বান্দা এবং আপনারই এক বান্দা ও এক বান্দীর পুত্র। আমার কপাল আপনার হাতে, আপনার নির্দেশ আমার ওপর কার্যকর, আমার ব্যাপারে আপনার ফয়সালা ইনসাফপূর্ণ। আমি আপনার কাছে প্রার্থনা করি আপনার প্রতিটি নামের ওয়াসিলায়, যার দ্বারা আপনি নিজে নিজেকে ভূষিত করেছেন অথবা যা আপনার সৃষ্টজীবের কাউকে শিখিয়েছেন অথবা যা আপনার কিতাবে নাযিল করেছেন অথবা যা আপনার কাছে গায়েবী ইলমে সংরক্ষণ করেছেন: আপনি কুরআনকে আমার হৃদয়ের প্রশান্তি, আমার বক্ষের নূর, আমার দুঃখ অপসারণকারী ও আমার দুশ্চিন্তা দূরকারী বানিয়ে দিন।”[১৬০] [১৬০] আহমাদ, ১/৩৯১, হাদীস নং: ৩৭১২। এটি আলবানী রহিমাহুল্লাহ সিলসিলাতুল আহাদীস আস্-সাহীহাহ গ্রন্থে সহীহ বলেছেন, ১/৩৩৭।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আব্দুকা, ইবনু আব্দিকা, ইবনু আমাতিকা, নাসিয়াতী বিয়াদিকা, মাদিন ফিইয়্যা হুকমুকা, আদলুন ফিইয়্যা কাদাউকা, আসআলুকা বিকুল্লিসমিন হুয়া লাকা, সাম্মাইতা বিহি নাফসাকা, আও আনযালতাহু ফী কিতাবিকা, আও আল্লামতাহু আহাদান মিন খালকিকা, আওয়িসতা’সারতা বিহি ফী ইলমিল গাইবি ইন্দাকা, আন তাজআলাল কুরআনা রাবিআ কালবী, ওয়া নূরা সাদরী, ওয়া জালাআ হুযনী, ওয়া যাহাবা হাম্মী।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষের দমন-নিপীড়ন থেকে।”[১৬১] [১৬১] বুখারী, ৭/১৫৮, হাদীস নং: ২৮৯৩। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দু‘আটি অধিক পরিমাণে পড়তেন। দেখুন: সহীহ বুখারী ফাতহুল বারীসহ, ১১/১৭৩। এছাড়াও এটি ৮৯ নং পৃষ্ঠায়, হাদীস নং: ১৩৭-এ আসবে।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দালাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল
৩৫. দুর্দশাগ্রস্ত ব্যক্তির দু‘আ
অর্থ: “সুমহান ও মহাসহিষ্ণু আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই। মহা ‘আরশের রব আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই। আসমানসমূহের রব, যমীনের রব ও মহিমান্বিত ‘আরশের রব আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই।”[১৬২] [১৬২] বুখারী, ৭/১৫৪, হাদীস নং: ৬৩৪৫; এবং মুসলিম, ৪/২০৯২, হাদীস নং: ২৭৩০।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আজীমুল হালীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুল আরশিল আজীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুস সামাওয়াতি ওয়া রব্বুল আরদি ওয়া রব্বুল আরশিল কারীম।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার রহমত আশা করি, সুতরাং আপনি আমাকে আমার নিজের কাছে নিমেষের জন্যও সোপর্দ করবেন না। আর আপনি আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দিন, আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।”[১৬৩] [১৬৩] আবু দাউদ, ৪/৩২৪, হাদীস নং: ৫০৯০; এবং আহমাদ, ৫/৪২, হাদীস নং: ২০৪৩০। আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ আবু দাউদ (৩/৯৫৯) এ একে হাসান বলেছেন।
আল্লাহুম্মা রাহমাতাকা আরজু, ফালা তাকিলনী ইলা নাফসী তারফাতা আইন, ওয়া আসলিহ লি শা’নী কুল্লাহু, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা
অর্থ: “আপনি ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই, আপনি অতি পবিত্র। নিশ্চয় আমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।”[১৬৪] [১৬৪] তিরমিযী, ৫/৫২৯, হাদীস নং: ৩৫০৫; এবং হাকিম (১/৫০৫), তিনি একে সহীহ বলেছেন, এতে ইমাম যাহাবী তার সঙ্গে একমত হয়েছেন। দেখুন: সহীহ তিরমিযী, ৩/১৬৮।
লা ইলাহা ইল্লা আনতা, সুবহানাকা, ইন্নী কুনতু মিনাজ জালিমীন
অর্থ: “আল্লাহ, আল্লাহ- তিনি আমার প্রতিপালক; আমি তাঁর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরীক করি না।”[১৬৫] [১৬৫] আবু দাউদ, ২/৮৭, হাদীস নং: ১৫২৫; এবং ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮৮২। দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩৩৫।
আল্লাহু আল্লাহু রাব্বী, লা উশরিকু বিহি শাইআ
৩৬. শত্রু ও ক্ষমতাধর ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতকালে দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমরা তাদের মোকাবিলায় আপনাকেই তাদের গলার সামনে রাখছি এবং তাদের অনিষ্ট থেকে আপনার কাছেই আশ্রয় চাচ্ছি।”[১৬৬] [১৬৬] আবু দাউদ, ২/৮৯, হাদীস নং: ১৫৩৭; হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী রহিমাহুল্লাহ তার সঙ্গে একমত হয়েছেন (২/১৪২)।
আল্লাহুম্মা ইন্না নাজআলুকা ফি নুহুরিহিম, ওয়া নাউযু বিকা মিন শুরুরিহিম
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আমার শক্তি আর আপনিই আমার সাহায্যকারী। আপনার সাহায্যেই আমি কৌশল অবলম্বন করি, আপনার সাহায্যেই আমি আক্রমনে অগ্রসর হই, এবং আপনার সাহায্যেই আমি যুদ্ধ করি।”[১৬৭] [১৬৭] আবু দাউদ, ৩/৪২, হাদীস নং: ২৬৩২; এবং তিরমিযী, ৫/৫৭২, হাদীস নং: ৩৫৮৪। দেখুন: সহীহ তিরমিযী, ৩/১৮৩।
আল্লাহুম্মা আন্তা আযুদী, ওয়া আন্তা নাসীরী, বিকা আহুলু ওয়া বিকা আসূলু, ওয়া বিকা উকাতিল।
অর্থ: “আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি কত উত্তম কর্মসম্পাদনকারী।”[১৬৮] [১৬৮] বুখারী, ৫/১৭২, হাদীস নং: ৪৫৬৩।
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওয়াকীল
৩৭. শাসকের যুলুমের আশঙ্কাকারীর দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি সাত আকাশের এবং মহা ‘আরশের প্রতিপালক। আপনি আমার আশ্রয়দানকারী হোন অমুকের ছেলে অমুক এবং আপনার সৃষ্টিকুলের মধ্য হতে তার বাহিনীর বিরুদ্ধে, যাতে তাদের কেউ আমার উপর অত্যাচার করতে না পারে বা অন্যায়ভাবে আধিপত্য স্থাপন করতে না পারে। আপনার আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তি শক্তিশালী, আপনার প্রশংসা মহান, এবং আপনি ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই।”[১৬৯] [১৬৯] বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৭০৭; এবং আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহুল আদাবিল মুফরাদ, হাদীস নং: ৫৪৫-এ এটিকে সহীহ বলেছেন।
আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবয়ি, ওয়া রাব্বাল আরশিল আযীম, কুন লী জারান মিন ফুলানি ইবনে ফুলানিন, ওয়া আহজাবিহি মিন খালাইকিকা, আন ইয়াফরুতা আলাইয়্যা আহাদুম মিনহুম আও ইয়াতগা, আজ্জা জারুকা, ওয়া জাল্লা ছানাউকা, ওয়া লা ইলাহা ইল্লা আন্তা।
অর্থ: “আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ তাঁর সব সৃষ্টির চেয়ে মহান; আমি যাদেরকে ভয় করি ও যাদের ব্যাপারে আশঙ্কা করি, তাদের চেয়েও আল্লাহ মহান। আমি আশ্রয় চাই সেই আল্লাহর নিকট যিনি ছাড়া আর কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি সাত আসমানকে ধরে রেখেছেন যাতে সেগুলো তাঁর অনুমতি ছাড়া পৃথিবীর ওপর না পড়ে- আপনার অমুক বান্দার এবং -মানব ও জিনদের মধ্য থেকে- তার সৈন্যদের, অনুসারীদের ও সহচরদের অনিষ্ট থেকে। হে আল্লাহ! আপনি তাদের অনিষ্ট থেকে আমার জন্য আশ্রয়দানকারী হোন। আপনার প্রশংসা মহান, আপনার আশ্রয়ে থাকা ব্যক্তি শক্তিশালী, আপনার নাম বরকতময়, এবং আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য ইলাহ নেই।”।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আআজ্জু মিন খালকিহি জামিআন, আল্লাহু আআজ্জু মিম্মা আখাফু ওয়া আহজারু, আউজু বিল্লাহিল লাজী লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আল মুমসিকিস সামাওয়াতিস সাবই আন ইয়াকানা আলাল আরদি ইল্লা বিইজনিহি, মিন শাররি আবদিকা ফুলানিন, ওয়া জুনুদিহি ওয়া আতবাইহি ওয়া আশয়াইহি, মিনাল জিন্নি ওয়াল ইনসি, আল্লাহুম্মা কুন লী জারান মিন শাররিহিম, জাল্লা সানাউকা ওয়া আজ্জা জারুকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুক। তিন বার[১৭০]। [১৭০] বুখারী, আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদীস নং: ৭০৮; এবং আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহুল আদাবিল মুফরাদ, হাদীস নং: ৫৪৬-এ এটিকে সহীহ বলেছেন।
৩৮. শত্রুর বিরুদ্ধে বদদোয়া
অর্থ: “হে আল্লাহ! কিতাব অবতীর্ণকারী, দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী! আপনি এই সম্মিলিত বাহিনীকে (শত্রুপক্ষকে) পরাজিত করুন। হে আল্লাহ! আপনি তাদের পরাজিত করুন এবং কাঁপিয়ে দিন।”[১৭১] [১৭১] মুসলিম, ৩/১৩৬২, হাদীস নং: ১৭৪২।
আল্লাহুম্মা মুনযিলাল কিতাব, সারীআল হিসাব, ইহযিমিল আহযাব, আল্লাহুম্মাহ যিমহুম ওয়া যালযিলহুম
৩৯. কোন সম্প্রদায়কে ভয় করলে যা বলবে
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে ইচ্ছা, তাদের (অনিষ্ট থেকে) আমার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।”[১৭২] [১৭২] মুসলিম, ৪/২৩০০, হাদীস নং: ৩০০৫।
আল্লাহুম্মাক ফিনীহিম বিমা শি’তা
৪০. ঈমানের বিষয়ে সংশয়ে পতিত ব্যক্তির দু‘আ
“সে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে।”[১৭৩] বলবে: (আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই)। [১৭৩] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৬/৩৩৬, হাদীস নং: ৩২৭৬; এবং মুসলিম, ১/১২০, হাদীস নং: ১৩৪।
আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম
“যে বিষয়ে ওয়াসওয়াসায় পতিত হয়েছে তা থেকে বিরত থাকবে।”[১৭৪] [১৭৪] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৬/৩৩৬, হাদীস নং: ৩২৭৬; এবং মুসলিম, ১/১২০, হাদীস নং: ১৩৪।
(সে বলবে: “আমি আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান এনেছি।”[১৭৫] [১৭৫] মুসলিম, ১/১১৯-১২০, হাদীস নং: ১৩৪।
আমানতু বিল্লাহি ওয়া রুসুলিহ
আল্লাহর এ বাণী পাঠ করবে: অর্থ: “তিনিই প্রথম ও শেষ; প্রকাশ্য (উপরে) ও গোপন (নিকটে) আর তিনি সবকিছু সম্পর্কে সম্যক অবগত।” [সূরা আল-হাদীদ: ৩] [১৭৬]। [১৭৬] আবু দাউদ, ৪/৩২৯, হাদীস নং: ৫১১০; এবং আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ আবু দাউদ, ৩/৯৬২- এ এটিকে হাসান বলেছেন।
৪১. ঋণ পরিশোধের দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি আপনার হালাল দ্বারা আমাকে হারাম থেকে বাঁচান, আর আপনার অনুগ্রহের মাধ্যমে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য কারো মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত করুন।”[১৭৭] [১৭৭] তিরমিযী, ৫/৫৬০, হাদীস নং: ৩৫৬৩; দেখুন: সহীহ তিরমিযী, ৩/১৮০।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষের দমন-নিপীড়ন থেকে।”[১৭৮] [১৭৮] বুখারী, ৭/১৫৮, হাদীস নং: ২৮৯৩; এবং পূর্বে বর্ণিত পৃষ্ঠা: ৮৩, ১২১ নম্বরে উল্লেখিত হয়েছে।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়াল আজযি ওয়াল কাসালি, ওয়াল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া দলাইদ দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল
৪২. সালাত ও তেলাওয়াতে ওয়াসওয়াসা থেকে বাঁচার দু‘আ
«আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই,
আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম এরপর তোমার বাম দিকে তিনবার থুতু ফেলবে।[১৭৯] [১৭৯] মুসলিম, ৪/১৭২৯, হাদীস নং: ২২০৩, উসমান ইবনু আবিল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। এতে আছে: "অতঃপর আমি তা করেছিলাম, ফলে আল্লাহ তা আমার থেকে সরিয়ে দিলেন।"
৪৩. যার জন্য কোনো কাজ কঠিন হয়ে পড়ে, তার দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি যেটাকে সহজ করেন, সেটাই সহজ; আর আপনি চাইলে কঠিন বিষয়কেও সহজ করে দেন।” [১৮০] [১৮০] সহীহ ইবনু হিব্বান, হাদীস নং: ২৪২৭ (মাওয়ারিদ); এবং ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৩৫১। হাফিজ ইবনু হাজার বলেছেন: "এটি একটি সহীহ হাদীস।" এবং আবদুল কাদের আরনাউত্ব রহিমাহুল্লাহ ইমাম নববীর ‘তাখরিজুল আযকার’, পৃষ্ঠা ১০৬-এ একে সহীহ বলেছেন।
আল্লাহুম্মা লা সাহলা ইল্লা মা জাআলতাহু সাহলান, ওয়া আন্তা তাজআলুল হাযনা ইযা শি’তা সাহলা।
৪৪. কোন পাপ করে ফেললে যা বলবে ও করবে
“কোনো বান্দা যখন কোনো গুনাহ করে, তারপর সুন্দরভাবে ওজু করে, এরপর দাঁড়িয়ে দুই রাকাআত সালাত আদায় করে, তারপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে—তাহলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেন।”[১৮১] [১৮১] আবু দাউদ, ২/৮৬, হাদীস নং: ১৫২১; এবং তিরমিযী, ২/২৫৭, হাদীস নং: ৪০৬। আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ আবু দাউদ, ১/২৮৩-এ একে সহীহ বলেছেন।
৪৫. শয়তান ও তার কুমন্ত্রণা দূর করার দু‘আ
“শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা।”[১৮২] [১৮২] আবু দাউদ, ১/২০৩, হাদীস নং: ৭৭৫; এবং ইবনু মাজাহ, ১/২৬৫, হাদীস নং: ৮০৭। এটি পূর্বে ৩১ নং-এ তাখরীজ করা হয়েছে। আরো দেখুন: সুরা মুমিনূন, আয়াত ৯৭-৯৮।
আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম
“আযান”[১৮৩] [১৮৩] মুসলিম, ১/২৯১, হাদীস নং: ৩৮৯; এবং বুখারী, ১/১৫১, হাদীস নং: ৬০৮।
“যিকির ও কুরআন তেলাওয়াত করা।”
"“তোমরা তোমাদের ঘরসমূহকে কবর বানাবে না। নিশ্চয় যে ঘরে সূরা বাকারাহ পাঠ করা হয় সে ঘর থেকে শয়তান পলায়ন করে।” [১৮৪] [১৮৪] সহীহ মুসলিম (১/৫৩৯), হাদীস নং (৭৮০)।
যা কিছু শয়তানকে বিতাড়িত করে তার মধ্যে রয়েছে: সকাল ও সন্ধ্যার যিকির, ঘুমানো ও জাগরণের যিকির, বাড়িতে প্রবেশ ও বের হওয়ার যিকির, মসজিদে প্রবেশ ও বের হওয়ার যিকির, এবং শরী‘আতসম্মত অন্যান্য যিকির, যেমন: শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসী ও সুরা আল-বাকারা’র শেষ দুই আয়াত পাঠ করা। আর যে ব্যক্তি বলবে: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর। একশ বার, পুরো দিনটিতে তার জন্য রয়েছে শয়তান থেকে নিরাপত্তা[১৮৫], অনুরূপভাবে আযান শয়তানকে বিতাড়িত করে। [১৮৫] সহীহ বুখারী (৪/১২৬), হাদীস (৩২৯৩)।
৪৬. যখন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বা কোনো বিষয়ে অক্ষমতা দেখা দেয়- তখন পড়ার দু‘আ
“এটা আল্লাহরই সিদ্ধান্ত, এবং তিনি যা চেয়েছেন, তাই করেছেন।”[১৮৬] [১৮৬] "একটি শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং বেশি প্রিয়, তবে প্রত্যেকের মাঝেই ভালো কিছু রয়েছে। যা তোমার উপকারে আসে, তা নিয়ে মনোযোগী হও, এবং আল্লাহর সাহায্য চাও, কিন্তু অপারগ হইয়ো না। যদি তোমার কিছু ঘটে, তবে বলো না: 'যদি আমি এভাবে করতাম, তবে এমন এমন হতো', বরং বলো: 'এটা আল্লাহর সিদ্ধান্ত এবং তিনি যা চেয়েছেন, তাই করেছেন', কারণ 'যদি' শয়তানের কাজকে উন্মুক্ত করে দেয়।" মুসলিম, ৪/২০৫২, হাদীস নং: ২৬৬৪।
৪৭. সন্তান লাভকারীকে অভিনন্দন ও তার জবাব
অর্থ: “আল্লাহ তোমার জন্য দানকৃত সন্তানকে বরকত দিন, তুমি দানকারীর (আল্লাহর) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, আর সে যেন যৌবনে উপনীত হয়, এবং তুমি যেন তার অনুগত্য লাভ করো।”[১৮৭] [১৮৭] হাসান বাসরীর উক্তি থেকে নেয়া হয়েছে। দেখুন: ইবনুল-কাইয়িম রচিত তুহফাতুল মাওদুদ, পৃষ্ঠা: ২০, তিনি এটিকে ইবনুল মুনযিরের আল-আওসাত গ্রন্থের দিকে নিসবত করেছেন।
বারাকাল্লাহু লাকা ফিল মাওহুবি লাকা, ওয়া শাকারতাল ওয়াহিবা, ওয়া বালাগা আশুদ্দাহু, ওয়া রুযিকতা বিররাহ আর যাকে মোবারকবাদ জানানো হয়েছে সে তার উত্তরে বলবে: অর্থ: “আল্লাহ তোমার জন্যও বরকত দান করুন, এবং তোমার ওপরও বরকত বর্ষণ করুন, আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন, তোমাকেও এর অনুরূপ রিযিক দিন, এবং তোমার প্রতিদান আরও বৃদ্ধি করুন।”[১৮৮] [১৮৮] ইমাম নববী এটা উল্লেখ করেছেন, আল-আযকার, পৃষ্ঠা ৩৪৯-এ; এবং দেখুন: সহীহ আল-আযকার, সালীম আল-হিলালী, ২/৭১৩, এবং তার পূর্ণ তাখরীজ পাওয়া যাবে লেখক কর্তৃক রচিত ‘আযকার, দু‘আ এবং রুকিয়া দ্বারা চিকিৎসা’ গ্রন্থে, ১/৪১৬।
বারাকাল্লাহু লাকা ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জাযাকাল্লাহু খাইরান, ওয়া রাযাকাকাল্লাহু মিসলাহু, ওয়া আজযালা সাওয়াবাক
৪৮. যা দ্বারা শিশুদের জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসান ও হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুমার জন্য আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। অর্থ: “আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাগুলোর মাধ্যমে সুরক্ষা প্রার্থনা করছি- প্রত্যেক শয়তান, বিষধর প্রাণী এবং কুদৃষ্টি থেকে।” [১৮৯] [১৮৯] বুখারী, ৪/১১৯, হাদীস নং: ৩৩৭১, ইবনু আব্বাস -রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমার হাদীস থেকে।
উয়ীযুকুমা বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাহ, ওয়া মিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ
৪৯. রোগী দেখতে গিয়ে তার জন্য দু‘আ
অর্থ: “কোনো অসুবিধা নেই, এটা পরিশুদ্ধকারী (ব্যাধি), যদি আল্লাহ চান।”[১৯০] [১৯০] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১০/১১৮, হাদীস নং: ৩৬১৬।
লা বা'সা, তহুরুন ইনশাআল্লাহ
আস্আলুল্লাহাল আযীম, রাব্বাল আরশিল আযীম, আন ইয়াশফিয়াক (সাত বার)[১৯১]। [১৯১] "কোনো মুসলিম বান্দা যদি মৃত্যু উপস্থিত হয়নি এমন কোনো অসুস্থকে দেখতে যায় এবং সাতবার এটি বলে... (হাদীস)... তবে সে সুস্থ হয়ে যাবে।" এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজী, হাদীস নং: ২০৮৩, আবু দাউদ, হাদীস নং: ৩১০৬, এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ২/২১০, এবং সহীহ আল-জামি', ৫/১৮০।
৫০. রোগী দেখতে যাওয়ার ফযীলত
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন ব্যক্তি যখন তার অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, তখন সে যতক্ষণ সেখানে গিয়ে না বসে, ততক্ষণ জান্নাতের ফল আহরনে চলাফেরা করতে থাকে। তারপর যখন সে বসে, তখন আল্লাহর রহমত তাকে ঢেকে নেয়। সময়টা যদি সকাল হয়, তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার ওপর রহমত নাযিল হওয়ার জন্য দু’আ করতে থাকে, আর সময়টা যদি বিকাল হয়, তবে পরবর্তী সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা তার ওপর রহমত নাযিল হওয়ার দু’আ করতে থাকে।”[১৯২] [১৯২] তিরমিজী, হাদীস নং: ৯৬৯, ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১৪৪২, আহমাদ, হাদীস নং: ৯৭৫। দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/২৪৪, সহীহ তিরমিজী, ১/২৮৬, এবং আহমাদ শাকেরও এটিকে সহীহ বলেছেন ।
৫১. জীবনের আশা ছেড়ে দেয়া রোগীর দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে দয়া করুন, এবং আমাকে সর্বোচ্চ সঙ্গীর সাথে যুক্ত করুন।”[১৯৩] [১৯৩] বুখারী, ৭/ ১০, হাদীস নং: ৪৪৩৫, এবং মুসলিম, ৪/১৮৯৩, হাদীস নং: ২৪৪৪।
আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়া আলহিকনী বির-রফীকিল আ'লা
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মৃত্যুর সময় তার দুই হাত পানিতে ডুবিয়ে তা দিয়ে তার মুখ মুছছিলেন এবং বলছিলেন: “আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই”
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ নিশ্চয় মৃত্যুর রয়েছে বিভিন্ন রকমের যন্ত্রণা।"[১৯৪] [১৯৪] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৮/১৪৪, হাদীস নং: ৪৪৪৯; এবং হাদীসে মেসওয়াকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং আল্লাহ মহান, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তার কোনো অংশীদার নেই, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই আল্লাহ ছাড়া।”[১৯৫] [১৯৫] তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৪৩০; এবং ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৭৯৪; আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৫২; সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩১৭।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
৫২. মুমূর্ষ ব্যক্তিকে তালক্বীন দেয়া
“যার শেষ কথা হবে আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নেই
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”[১৯৬] [১৯৬] আবু দাউদ, ৩/১৯০, হাদীস নং: ৩১১৬; এবং দেখুন: সহীহ আল-জামি', ৫/৪৩২।
৫৩. কোন মুসীবতে পতিত ব্যক্তির দু‘আ
অর্থ: “আমরা আল্লাহরই এবং আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে তাঁরই কাছে। হে আল্লাহ! আমার বিপদে আমাকে পুরস্কৃত করুন এবং এর চেয়ে ভাল কিছু দান করুন।”[১৯৭] [১৯৭] মুসলিম, ২/৬৩২, হাদীস নং: ৯১৮।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা’ উজুরনী ফী মুসীবাতি, ওয়া আখলিফ লী খাইরান মিনহা
৫৪. মৃত ব্যক্তির চোখ বন্ধ করার সময় দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! অমুককে (নাম উল্লেখ করে) ক্ষমা করুন এবং হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদাকে উঁচু করে দিন, আপনি তার বংশধরের অভিভাবক হয়ে যান। হে বিশ্বজাহানের রব! তাকে ও আমাদেরকে ক্ষমা করে দিন, তার কবরকে প্রশস্ত করুন এবং তা আলোকিত করে দিন।”[১৯৮] [১৯৮] মুসলিম, ২/৬৩৪, হাদীস নং: ৯২০।
আল্লাহুম্মাগফির লি ফুলানিন (তার নাম বলবে) ওয়ারফা’ দারাজাতাহু ফিল মাহদিয়্যিন, ওয়াখলুফহু ফী আকিবিহি ফিল গাবিরীন, ওয়াগফির লানা ওয়ালাহু ইয়া রাব্বাল আলামীন, ওয়াফসাহ লাহু ফী কাবরিহি, ওয়া নাওয়ির লাহু ফীহ
৫৫. মৃত ব্যক্তির জন্য জানাযার সালাতে দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, তাকে দয়া করুন, তাকে নিরাপত্তা দান করুন, তার থেকে ভুলসমুহ মাফ করুন, তার আতিথ্য সম্মানিত করুন, তার প্রবেশকে প্রশস্ত করুন, তাকে পানি, বরফ ও তুষার দ্বারা ধুয়ে ফেলুন, তার পাপকে এমনভাবে পরিষ্কার করুন যেমন আপনি সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিষ্কার করেন, তাকে তার বাড়ির চেয়ে উত্তম একটি গৃহ দিন, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার দিন, তার সাথি থেকে উত্তম সাথি দিন, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান, এবং তাকে কবরের আযাব ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”[১৯৯] [১৯৯] মুসলিম, ২/৬৬৩, হাদীস নং: ৯৬৩।
আল্লাহুম্মাগফির লাহু ওয়ারহামহু, ওয়া আফিহি, ওয়া’ফু আনহু, ওয়া আকরিম নুজুলাহু, ওয়া ওয়াসসি মুদখালাহু, ওয়াগসিলহু বিল মা-ই ওয়াস সালজি ওয়াল বারাদি, ওয়া নাক্কিহি মিনাল খাতায়া কামা নাক্কাইতাস সাওবাল আবইয়াদা মিনাদ দানাসি, ওয়া আবদিলহু দারান খাইরান মিন দারিহি, ওয়া আহলান খাইরান মিন আহলিহি, ওয়া যাওজান খাইরান মিন যাওজিহি, ওয়া আদখিলহুল জান্নাতা, ওয়া আইজহু মিন আজাবিল কাবরি ওয়া আজাবিন নার
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের জীবিত-মৃত, উপস্থিত ও অনুপস্থিত, ছোট-বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবেন তাকে ইসলামের ওপর জীবিত রাখুন এবং আমাদের মধ্যে যাকে মৃত্যু দান করবেন তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দান করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এর প্রতিদান থেকে বঞ্চিত করবেন না এবং এর পরে আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করবেন না।”[২০০] [২০০] আবু দাউদ, হাদীস নং: ৩২০১; এবং তিরমিজী, হাদীস নং: ১০২৪; নসায়ী, হাদীস নং: ১৯৮৫; ইবনু মাজাহ, ১/ ৪৮০, হাদীস নং: ১৪৯৮; এবং আহমাদ, ২/৩৬৮, হাদীস নং: ৮৮০৯। দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/২৫১।
আল্লাহুম্মাগফির লি হাইয়্যিনা ওয়া মাইয়্যিতিনা, ওয়া শাহিদিনা ওয়া গায়িবিনা, ওয়া সাগীরিনা ওয়া কাবীরিনা, ওয়া যাকারিনা ওয়া উনসানা, আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু মিন্না ফা-আহয়িহি আলাল ইসলাম, ওয়া মান তাওয়াফফাইতাহু মিন্না ফাতাওয়াফফাহু আলাল ঈমান, আল্লাহুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু, ওয়া লা তুদিল্লানা বা'দাহ
অর্থ: “হে আল্লাহ! নিশ্চয় অমুকের পুত্র অমুক আপনার জিম্মায় এবং আপনার প্রতিবেশিতার নিরাপত্তায় রয়েছে। আপনি তাকে কবরের পরীক্ষা ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আপনি তো প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী ও সত্যবাদী। অতএব আপনি তাকে ক্ষমা করুন ও দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি পরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।”[২০১] [২০১] ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১৪৯৯; দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/২৫১; এবং আবু দাউদ, ৩/২১১, হাদীস নং: ৩২০২।
আল্লাহুম্মা ইন্না ফুলানাবনা ফুলানিন ফী জিম্মাতিকা, ওয়া হাবলি জিওয়ারিকা, ফাকিহি মিন ফিতনাতিল কাবরি, ওয়া আজাবিন নারি, ওয়া আন্তা আহলুল ওয়াফা-ই ওয়াল হাক্ক, ফাগফির লাহু ওয়ারহামহু ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম।
অর্থ: “হে আল্লাহ! এ আপনার বান্দা ও আপনার বান্দীর পুত্র, সে আপনার রহমতের মুখাপেক্ষী হয়েছে আর আপনি তাকে শাস্তি দেয়া থেকে অমুখাপেক্ষী। যদি সে সৎকর্মশীল হয়ে থাকে, তবে তার সওয়াব আরও বাড়িয়ে দিন; আর যদি সে গুনাহগার হয়ে থাকে, তবে আপনি তার গোনাহ ক্ষমা করে দিন।”[২০২] [২০২] হাকিম বর্ণনা করেছেন এবং তা সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন, ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/৩৫৯; দেখুন: আলবানীর "আহকামুল জানায়েয", পৃ. ১২৫।
আল্লাহুম্মা আব্দুকা ওয়াবনু আমাতিকা ইহতাজা ইলা রাহমাতিকা, ওয়া আনতা গানিয়্যুন আন আযাবিহি, ইন কানা মুহসিনান ফাযিদ ফি হাসানাতিহি, ওয়া ইন কানা মুসিআন ফাতাজাওয়ায আনহু
৫৬. শিশুর জানাযার সালাতের দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি তাকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”[২০৩] [২০৩] সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব বলেন: "আমি আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর পেছনে এক শিশুর জানাযা পড়েছিলাম, যে কখনো কোনো পাপ করেনি, এবং আমি তাকে বলতে শুনেছিলাম..." এই হাদিসটি ইমাম মালিক তার মুয়াত্তা-তে বর্ণনা করেছেন, ১/২৮৮, এবং তা ইবনু আবী শাইবা (আল-মুসান্নাফ), ৩/২১৭, এবং বায়হাকী (৪/৯) থেকেও বর্ণিত। শুআইব আল-আরনাউত্ব তার "শারহুস সুন্নাহ" (বাগাভী) বইয়ের ৫/৩৫৭ সংস্করণে এর সনদকে সহীহ বলেছেন।
আল্লাহুম্মা আইযহু মিন আযাবিল ক্ববর।
আর যদি এটি পাঠ করে: “হে আল্লাহ! আপনি তাকে (শিশুটিকে) তার পিতা-মাতার জন্য এক অগ্রবর্তী ও সঞ্চয় করে রাখা ধন বানান, একজন গ্রহণযোগ্য সুপারিশকারী বানান। হে আল্লাহ! আপনি তার মাধ্যমে তাদের মীযান ভারী করে দিন এবং তাদের প্রতিদানকে মহান করুন। তাকে সৎ মুমিনদের সঙ্গে যুক্ত করে দিন এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের অভিভাবকত্বে রাখুন। আপনার দয়ায় তাকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। আর তাকে তার ঘরের চেয়ে উত্তম ঘর দিন, তার পরিবারের চেয়ে উত্তম পরিবার দিন। হে আল্লাহ! আমাদের পূর্ববর্তীদের, আমাদের অগ্রবর্তীদের এবং যারা আমাদের পূর্বে ঈমানসহ ইন্তিকাল করেছেন তাদেরকে ক্ষমা করুন।”
আল্লাহুম্মাজআলহু ফারাতান ওয়া যুখরান লিওয়ালিদাইহি, ওয়া শাফীআন মুজাবান, আল্লাহুম্মা ছাক্কিল বিহি মাওয়াজিনাহুমা, ওয়া আ’জিম বিহি উজুরাহুমা, ওয়াআলহিকহু বিসালিহিল মুমিনীন, ওয়াজআলহু ফী কাফালাতি ইবরাহিমা, ওয়াকিহি বিরাহমাতিকা আজাবাল জাহীম, ওয়া আবদিলহু দারান খাইরান মিন দারিহি, ওয়া আহলান খাইরান মিন আহলিহি, আল্লাহুম্মাগফির লিআসলাফিনা, ওয়া আফরাতিনা, ওয়া মান সাবাকানা বিল ইমান। তাহলে খুবই ভালো।[২০৪] [২০৪] দেখুন: ইবনু কুদামার "আল-মুগনী", ৩/৪১৬, এবং শায়খ আবদুল আজিজ ইবন আবদুল্লাহ ইবন বায -রহিমাহুল্লাহ- এর "দুরূসুল মূহিম্মাহ লি-আ'ম্মাতিল উম্মাহ", পৃষ্ঠা নং: ১৫।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি তাকে আমাদের জন্য অগ্রবর্তী, পূর্বপ্রেরিত এবং সওয়াবের উপায় বানিয়ে দিন।”[২০৫] [২০৫] হাসান রহিমাহুল্লাহ শিশুদের উপর সূরা ফাতিহা পাঠ করতেন এবং বলতেন... ” হাদীস। ইমাম বাগাভী তার "শরহুস সুন্নাহ" বইতে, ৫/৩৫৭, আবদুর রাযযাক, হাদীস নং: ৬৫৮৮, এবং বুখারী তার "কিতাবুল-জানাযাহ" বইয়ে, ৬৫ ফাতিহা পাঠ সম্পর্কিত অধ্যায়, ২/১১৩, ১৩৩৫ নং হাদীসের আগে উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহুম্মাজ আলহু লানা ফারাতান, ওয়া সালাফান, ওয়া আজরান
৫৭. শোকার্তদের সান্ত্বনা দেয়ার দু‘আ
অর্থ: “নিশ্চয় আল্লাহ যা নিয়েছেন ও যা দিয়েছেন সব তাঁরই। তাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সাওয়াবের অপেক্ষায় থাকে।”[২০৬] [২০৬] বুখারী, ২/৮০, হাদীস নং: ১২৮৪; এবং মুসলিম, ২/৬৩৬, হাদীস নং: ৯২৩।
ইন্না লিল্লাহি মা আখাযা, ওয়া লাহু মা আ’তা, ওয়া কুল্লু শাইয়িন ইন্দাহু বিআজালিম মুসাম্মা... ফালতাসবির ওয়ালতাহতাসিব
আর যদি এটি পাঠ করে: অর্থ: “আল্লাহ আপনার প্রতিদানকে মহান করুন, আপনার শোককে সুন্দরভাবে গ্রহণযোগ্য করুন, এবং আপনার মৃত ব্যক্তিকে ক্ষমা করুন।”
আ’জামাল্লাহু আজরাকা, ওয়া আহসানা আযাআকা, ওয়া গাফারা লিমাইয়্যিতিক তাহলে খুবই ভালো[২০৭]। [২০৭] ইমাম নববী রহিমাহুল্লাহর আল-আযকার, পৃষ্ঠা: ১২৬।
৫৮. মৃত ব্যক্তিকে কবরে প্রবেশ করানোর সময় দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর রাসূলের সুন্নাতের ওপর।”[২০৮] [২০৮] আবু দাউদ, ৩/৩১৪, হাদীস নং: ৩২১৫, সহীহ সনদে; এবং আহমাদ, হাদীস নং: ৫২৩৪ ও ৪৮১২, অন্য শব্দে এসেছে: “بسم اللَّه، وعلى ملّة رسول اللَّه” (আল্লাহর নামে এবং রাসূলের মিল্লাতের ওপর)। সনদ সহীহ।
বিসমিল্লাহি ওয়া আলা সুন্নাতি রাসূলিল্লাহ
মৃতের দাফনের পর দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনি তাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ, আপনি তাকে দৃঢ় রাখুন।” [২০৯] [২০৯] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা শেষ করতেন, তখন তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন: “তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার জন্য স্থিরতার দু‘আ করো; কেননা, এখন তাকে প্রশ্ন করা হচ্ছে।” আবু দাউদ, ৩/৩১৫, হাদীস নং: ৩২২৩; এবং হাকেম, তিনি একে সহীহ বলেছেন, এবং যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন, ১/৩৭০।
আল্লাহুম্মাগফির লাহু, আল্লাহুম্মা ছাব্বিতহু
৬০. কবর যিয়ারতের দু‘আ
অর্থ: “আপনাদের প্রতি সালাম, এ কবরগুলোতে বসবাসকারী মুমিন ও মুসলিম ভাই-বোনেরা, এবং যদি আল্লাহ চান, আমরা আপনাদের সাথে যুক্ত হবো। [আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলকে রহমত দান করুন] আমি আল্লাহর কাছে আমাদের এবং আপনাদের নিরাপত্তা কামনা করছি।”[২১০] [২১০] মুসলিম, ২/৬৭১, হাদীস নং: ৯৭৫; এবং ইবনু মাজাহ, ১/৪৯৪, হাদীস নং: ১৫৪৭, (হাদীসের শব্দ ইবনু মাজাহ-এর); এটি বুরাইদা (রাযিয়াল্লাহু ‘আনহু) থেকে বর্ণিত। আর বন্ধনীর মধ্যে যা রয়েছে, তা ‘আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা) হতে সহীহ মুসলিমে, ২/৬৭১, হাদীস নং: ৯৭৫-এ বর্ণিত।
আসসালামু আলাইকুম আহলাদ-দিয়ার, মিনাল মুমিনীনা ওয়াল মুসলিমীন, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লাহু বিকুম লাহিকূন, ওয়া ইয়ারহামুল্লাহুল মুস্তাকদিমীনা মিন্না ওয়াল মুস্তা’খিরীন, আস-আলুল্লাহা লানা ওয়ালাকুমুল আফিয়াহ।
৬১. বায়ূ প্রবাহিত হলে পাঠ করার দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি এর কল্যাণ চাই এবং এর অকল্যাণ থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।”[২১১] [২১১] আবু দাউদ, ৪/৩২৬, হাদীস নং: ৫০৯৯; এবং ইবনু মাজাহ, ২/১২২৮, হাদীস নং: ৩৭২৭। দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩০৫।
আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা
অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি এর কল্যাণ চাই, এর ভিতরে যা রয়েছে, তার কল্যাণ চাই, এবং যা সহ এটি পাঠানো হয়েছে তার কল্যাণ চাই, এবং আমি এর অকল্যাণ থেকে, এর ভিতরে যা রয়েছে তার অকল্যাণ থেকে এবং যা সহ এটি পাঠানো হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।”[২১২] [২১২] মুসলিম (বর্ণনাটি তার), ২/৬৬৬, হাদীস নং: ৮৯৯; এবং বুখারী, ৪/৭৬, হাদীস নং: ৩২০৬ ও ৪৮২৯।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া খাইরা মা ফীহা, ওয়া খাইরা মা উরসিলাত বিহি, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা ফীহা, ওয়া শাররি মা উরসিলাত বিহ।
৬২. মেঘের গর্জন শুনলে পড়ার দু‘আ
অর্থ: “আর রা'দ (বজ্রধ্বনি) তাঁর সপ্রশংস মহিমা ও পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতাগণও সেটাই করে তাঁর ভয়ে।”[২১৩] [২১৩] আবদুল্লাহ ইবনুয্ যুবাইর –রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা– যখন বজ্রধ্বনি শুনতেন, তখন কথা বলা থামিয়ে দিতেন এবং বলতেন: ... (হাদীস)। মুয়াত্তা, ২/৯৯২; আলবানী রহিমাহুল্লাহ ‘সহীহুল কালিমুত তইয়্যিব’, পৃষ্ঠা: ১৫৭- এ বলেছেন: “সনদটি সহীহ, মওকূফ সূত্রে”।
সুবহানাল্লাযী ইউসাব্বিহুর রা'দু বিহামদিহি, ওয়াল মালাইকাতু মিন খীফাতিহ
৬৩. বৃষ্টি প্রার্থনার কতিপয় দু‘আ
অর্থ: ”হে আল্লাহ! আমাদের ওপর এমন বৃষ্টি বর্ষণ করুন যা সাহায্যকারী (তৃষ্ণা নিবারক ও সজীবতাদানকারী), সুস্বাদু (স্বস্তিদায়ক), উৎপাদনকারী, উপকারী—ক্ষতিকর নয় এবং যা বিলম্বিত নয় বরং দ্রুত আগমনকারী।”[২১৪] [২১৪] আবু দাউদ, ১/৩০৩, হাদীস নং: ১১৭১; এবং আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ আবু দাউদ, ১/২১৬-এ একে সহীহ বলেছেন।
আল্লাহুম্মাসকিনা গাইছান মুগীছান মারিআন মারি’য়ান, নাফিআন গাইরা দাররিন, আজিলান গাইরা আজিল
অর্থ: “হে আল্লাহ, আমাদেরকে বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ, আমাদেরকে বৃষ্টি দিন, হে আল্লাহ, আমাদেরকে বৃষ্টি দিন।”[২১৫] [২১৫] বুখারী, ১/২২৪, হাদীস নং: ১০১৪; এবং মুসলিম, ২/৬১৩, হাদীস নং: ৮৯৭।
অর্থ: “হে আল্লাহ, আপনার বান্দাদের এবং পশুপাখিদের পানীয় দিন, আপনার রহমত ছড়িয়ে দিন, এবং আপনার মৃত দেশকে জীবিত করুন।”[২১৬] [২১৬] আবু দাউদ, ১/৩০৫, হাদীস নং: ১১৭৮; এবং সহীহ আবু দাউদ, ১/২১৮ এ আলবানী এটিকে হাসান বলেছেন।
আল্লাহুম্মাসকি ইবাদাকা, ওয়া বাহাইমাকা, ওয়ানশুর রাহমাতাকা, ওয়া আহয়ী বালাদাকাল মাইয়্যিত
৬৪. বৃষ্টি দেখলে পাঠ করার দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদেরকে উপকারী মুষলধারে প্রবাহমান বৃষ্টি দান করুন।”[২১৭] [২১৭] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ২/৫১৮, হাদীস নং: ১০৩২।
আল্লাহুম্মা সাইয়্যিবান নাফিআ
৬৫. বৃষ্টি বর্ষণের পরবর্তী যিকির
অর্থ: “আমরা আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় বৃষ্টিপাত লাভ করেছি।”[২১৮] [২১৮] বুখারী, ১/২০৫, হাদীস নং: ৮৪৬; এবং মুসলিম, ১/৮৩, হাদীস নং: ৭১।
মুতিরনা বিফাদলিল্লাহি ওয়া রাহমাতিহ
৬৬. আকাশ পরিষ্কার হওয়ার জন্য দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে (বৃষ্টি বর্ষণ করুন), আমাদের উপর না। হে আল্লাহ! পাহাড়, টিলা, উপত্যকার ভেতর ও বনভূমিতে বর্ষণ করুন।”[২১৯] [২১৯] বুখারী, ১/২২৪, হাদীস নং: ৯৩৩; এবং মুসলিম, ২/৬১৪, হাদীস নং: ৮৯৭।
৬৭. নতুন চাঁদ দেখার দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহ সবচেয়ে বড়! হে আল্লাহ! এই চাঁদকে আমাদের উপর নিরাপত্তা ও ঈমান, নিরাপত্তা ও ইসলামের সাথে উদিত করুন এবং হে আমাদের রব! যেসব কাজ আপনি ভালোবাসেন ও সন্তুষ্ট হন, তাতে সাফল্যের সাথে উদিত করুন। (হে চাঁদ) আমাদের প্রভু এবং তোমার প্রভু আল্লাহ।”[২২০] [২২০] তিরমিজী, ৫/৫০৪, হাদীস নং: ৩৪৫১; এবং দারেমি, তার বর্ণনায়, ১/৩৩৬; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৫৭।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ইমানি, ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলামি, ওয়াত তাওফীকি লিমা তুহিব্বু রাব্বানা ওয়া তারদা, রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ
৬৮. সিয়াম পালনকারীর ইফতারের সময়ের দু‘আ
অর্থ: “পিপাসা দূরীভূত হয়েছে, রগসমূহ সিঞ্চিত হয়েছে এবং যদি আল্লাহ চান তাহলে পুরষ্কারও নির্ধারিত হয়েছে।”[২২১] [২২১] আবু দাউদ, ২/৩০৬, হাদীস নং: ২৩৫৯; এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীরা। এবং দেখুন: সহীহ আল-জামি', ৪/২০৯।
যাহাবায যামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুক, ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার সেই রহমতের ওসীলা করে আপনার কাছে প্রার্থনা করছি, যে রহমত সবকিছুকে আচ্ছন্ন করে নিয়েছে, যে আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।”[২২২] [২২২] ইবনু মাজাহ, ১/৫৫৭, হাদীস নং: ১৭৫৩, আবদুল্লাহ ইবনু আমর – রাদিয়াল্লাহু আনহু- এর দু‘আ থেকে, এবং হাফিজ ইবনু হাজার এটির সঠিকতা নিশ্চিত করেছেন তাঁর "تخريج الأذكار" বইয়ে। দেখুন: "شرح الأذكار", ৪/৩৪২।
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিরাহমাতিকা আল্লাতী ওয়াসিআত কুল্লা শাইয়িন আন তাগফিরা লী
৬৯. আহারের পূর্বের দু‘আ
“তোমাদের কেউ যখন খাবার খায়, তখন বলবে: আল্লাহর নামে শুরু করছি।
বিসমিল্লাহ যদি শুরুতে ভুলে যায় তখন সে বলবে: “আল্লাহর নামেই শুরু করছি প্রথমে এবং শেষে।”[২২৩]। [২২৩] আবু দাউদ, ৩/৩৪৭, হাদীস নং: ৩৭৬৭; এবং তিরমিজি, ৪/২৮৮, হাদীস নং: ১৮৫৮। দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ২/১৬৭।
বিসমিল্লাহি ফী আউয়ালিহি ওয়া আখিরিহ
“যাকে আল্লাহ আহার করিয়েছেন, সে যেন বলে: হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে এর মধ্যে বরকত দান করুন আর আমাদেরকে এ থেকে উত্তম খাদ্য আহার করান,
আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফীহি ওয়া আতইমনা খাইরান মিনহ আর যাকে আল্লাহ দুধ পান করিয়েছেন, সে যেন বলে: "“হে আল্লাহ! এতে আমাদের বরকত দিন এবং তা আমাদের আরও বাড়িয়ে দিন।”[২২৪]" [২২৪] তিরমিজি, ৫/৫০৬, হাদীস নং: ৩৪৫৫। দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৫৮।
আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফীহি ওয়া যিদনা মিনহু
৭০. আহার শেষ করার পরের দু‘আ
অর্থ: “সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে এটি খাওয়ালেন এবং আমাকে এটি রিযিক দিলেন—আমার কোনো শক্তি বা ক্ষমতা ছাড়াই।”[২২৫] [২২৫] আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪০২৫; তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৪৫৮; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩২৮৫। দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৫৯।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আতআমানী হাযা, ওয়া রাযাকানিহি, মিন গাইরি হাওলিম মিন্নী ওয়া লা কুওয়াহ
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অসংখ্য অগণিত পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা। যাকে যথেষ্ট করা হয়নি আর যাকে বিদায় জানানো যায় না, আর যা থেকে বিমুখ হওয়া যায় না। হে আমাদের রব।”[২২৬] [২২৬] বুখারী, ৬/২১৪, হাদীস নং: ৫৪৫৮; এবং তিরমিজি, হাদীস নং: ৩৪৫৬।
আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তাইয়িবান মুবারাকান ফীহি, গাইরা মাকফিয়্যিন ওয়া লা মুওয়াদ্দায়িন, ওয়ালা মুস্তাগনান আনহু রাব্বানা।
৭১. খাবারের আয়োজকের জন্য মেহমানের দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনি তাদের যা রিযিক দিয়েছেন তাতে বরকত দিন, এবং তাদেরকে ক্ষমা করুন ও দয়া করুন।”[২২৭] [২২৭] মুসলিম, ৩/১৬১৫, হাদীস নং: ২০৪২।
আল্লাহুম্মা বারিক লাহুম ফীমা রাযাকতাহুম, ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম
৭২. দু‘আর মাধ্যমে খাবার বা পানীয় চাওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করা
অর্থ: “হে আল্লাহ! যিনি আমাকে খাওয়াবেন, আপনি তাকে খাওয়ান; আর যিনি আমাকে পান করাবেন, আপনি তাকে পান করান।”[২২৮] [২২৮] মুসলিম, ৩/১৬২৬, হাদীস নং: ২০৫৫।
আল্লাহুম্মা আতইম মান আতআমানী, ওয়াসকি মান সাকানী
৭৩. কোনো পরিবারে ইফতার করলে তাদের জন্য দু‘আ
অর্থ: “আপনাদের কাছে যেন সিয়াম পালনকারীগণ ইফতার করলেন, আপনাদের খাবার যেন সৎকর্মশীলগণই খান এবং আপনাদের জন্য যেন ফেরেশতাগণ গুনাহ মাফের দু‘আ করেন।”[২২৯] [২২৯] সুনান আবু দাউদ, ৩/৩৬৭, হাদীস নং: ৩৮৫৬; এবং ইবনু মাজাহ, ১/৫৫৬, হাদীস নং: ১৭৪৭; এবং নাসায়ী, ‘আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ, হাদীস নং: ২৯৬-২৯৮, এবং তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- যখন কোনো পরিবারের কাছে ইফতার করতেন, তখন এই দু‘আটি পড়তেন। আলবানী রহিমাহুল্লাহ সহীহ আবু দাউদ, ২/৭৩০-এ এটিকে সহীহ বলেছেন।
আফতারা ইন্দাকুমুস সায়িমুন, ওয়া আকালা তাআমাকুমুল আবরার, ওয়া সল্লাত আলাইকুমুল মালাইকাহ।
৭৪. সিয়ামপালনকারী ব্যক্তির সামনে খাবার আনা হলে সে যদি সিয়াম ভঙ্গ না করে, সে সময়ে পড়ার দু‘আ
“তোমাদের কাউকে যদি (দাওয়াতে) আহ্বান করা হয়, তবে সে যেন সাড়া দেয়। যদি সে সিয়াম পালনকারী হয়, তবে সে দু‘আ করে দিবে, আর যদি সিয়াম পালনকারী না হয়, তবে সে যেন খায়।”[২৩০] হাদীসে উল্লেখিত “فَلْيُصَلِّ” -এর অর্থ হল: সে যেন দু‘আ করে। [২৩০] মুসলিম, ২/১০৫৪, হাদীস নং: ১১৫০।
৭৫. কেউ গালি দিলে সিয়াম পালনকারী যা বলবে
“আমি সিয়াম পালনকারী, আমি সিয়াম পালনকারী।”[২৩১] [২৩১] বুখারী ফাতহুল বারীসহ, ৪/১০৩, হাদীস নং: ১৮৯৪; এবং মুসলিম, ২/৮০৬, হাদীস নং: ১১৫১।
৭৬. ফলের কলি দেখে পড়ার দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাদের ফলমূলের মধ্যে বরকত দান করুন, আমাদের মদীনার মধ্যে বরকত দান করুন, আমাদের সা‘ (বড় পরিমাপের পাত্র) ও মুদ্দ (ছোট পরিমাপের পাত্র)-এর মধ্যে বরকত দান করুন।”[২৩২] [২৩২] মুসলিম, ২/১০০০, হাদীস নং: ১৩৭৩।
আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী সামারিনা, ওয়া বারিক লানা ফী মাদীনাতিনা, ওয়া বারিক লানা ফী সা-ইনা, ওয়া বারিক লানা ফী মুদ্দিনা
৭৭. হাঁচির দু‘আ
“যখন তোমাদের কেউ হাঁচি দেয়, তখন সে বলবে:” সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য,
আলহামদুলিল্লাহ (হাঁচিদাতার উত্তরে) তার ভাই অথবা সাথীরা বলবে: আল্লাহ আপনাকে রহম করুন,
ইয়ারহামুকাল্লাহ অতঃপর সে যখন তাকে বলবে: “يَرحَمُكَ اللَّهُ” (আল্লাহ তোমাকে রহমত করুন), তখন সে বলবে: অর্থ: “আল্লাহ আপনাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আপনাদের অবস্থা সংশোধন করে দিন।”[২৩৩] [২৩৩] বুখারী, ৭/১২৫, হাদীস নং: ৫৮৭০।
ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইউসলিহু বালাকুম
৭৮. কাফের ব্যক্তি হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ বললে তার জবাবে যা বলা হবে
অর্থ: “আল্লাহ আপনাদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আপনাদের অবস্থা সংশোধন করে দিন।”[২৩৪] [২৩৪] তিরমিজী, ৫/৮২, হাদীস নং: ২৭৪১; এবং আহমাদ, ৪/৪০০, হাদীস নং: ১৯৫৮৬; আবু দাউদ, ৪/৩০৮, হাদীস নং: ৫০৪০; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ২/৩৫৪।
ইয়াহদীকুমুল্লাহু ওয়া ইয়ুসলিহু বালাকুম
৭৯. নব বিবাহিতদের জন্য দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন, আপনাদের উপর বরকত দান করুন, এবং কল্যাণের সাথে আপনাদের উভয়কে একত্রিত করুন।”[২৩৫] [২৩৫] আহমাদ ও অন্যান্য সুনান গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, তবে নাসায়ী ব্যতীত: আবু দাউদ, হাদীস নং: ২১৩০; তিরমিজী, হাদীস নং: ১০৯১; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১৯০৫; এবং নাসায়ী 'আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলাহ' গ্রন্থে, হাদীস নং: ২৫৯; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ১/৩১৬।
বারাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জামাআ বাইনাকুমা ফী খাইর
৮০. বিবাহিতদের জন্য ও বাহন ক্রয়ের পর দু‘আ
যখন তোমাদের মধ্যে কেউ কোন মেয়েকে বিয়ে করবে, অথবা কোনো খাদেম গ্রহণ করবে, তখন সে যেন বলে: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে এর মঙ্গল কামনা করি এবং এর মধ্যে যে ভালো গুণ আপনি তৈরি করেছেন, তা চাই। আমি আপনার কাছে এর মন্দ থেকে এবং এর মধ্যে যে মন্দ গুণ আপনি তৈরি করেছেন, তা থেকে আশ্রয় চাই।”
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা খাইরাহা, ওয়া খাইরা মা জাবালতাহা আলাইহি, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি মা জাবালতাহা আলাইহ। আর যদি কোনো উট কেনে, তবে তার পিঠের শীর্ষ অংশ ধরে অনুরূপ দোয়া পড়বে। [২৩৬] [২৩৬] আবু দাউদ, ২/২৪৮, হাদীস নং: ২১৬০; এবং ইবনু মাজাহ, ১/৬১৭, হাদীস নং: ১৯১৮; এবং দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/৩২৪।
৮১. স্ত্রী-সহবাসের পূর্বের দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহর নামে, হে আল্লাহ! আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখুন, এবং যে রিজিক আপনি আমাদের দান করেছেন, তাও শয়তান থেকে দূরে রাখুন।”[২৩৭] [২৩৭] বুখারী, ৬/১৪১, হাদীস নং: ১৪১; এবং মুসলিম, ২/১০২৮, হাদীস নং: ১৪৩৪।
বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়তানা, ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাকতানা
৮২. ক্রোধ দমনের দু‘আ
অর্থ: “আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি।”[২৩৮] [২৩৮] বুখারী, ৭/৯৯, হাদীস নং: ৩২৮২; এবং মুসলিম, ৪/২০১৫, হাদীস নং: ২৬১০।
আউজু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম
৮৩. বিপদগ্রস্তকে দেখে দু‘আ
অর্থ: “সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাকে সেই বিপদ থেকে রক্ষা করেছেন, যা দ্বারা আপনাকে তিনি পরীক্ষা করেছেন, এবং আমাকে তাঁর সৃষ্টির মধ্যে অনেকের ওপর বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন।”[২৩৯] [২৩৯] তিরমিজি, ৫/৪৯৪, এবং ৫/৪৯৩, হাদীস নং: ৩৪৩২; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজি, ৩/১৫৩।
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আফানী মিম্মাবতালাকা বিহি, ওয়া ফাদদালানী আলা কাসীরিম মিম্মান খালাকা তাফদীলা
৮৪. মজলিসে যা বলতে হয়
“ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বলেন, গণনা করে দেখা যেত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক বৈঠক থেকে উঠে যাবার পূর্বে শতবার এই দু‘আ পড়তেন: “হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তাওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি তাওবা কবুলকারী, অতি ক্ষমাশীল।”[২৪০] [২৪০] তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৪৩৪; এবং ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৮১৪; দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৫৩, সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৩২১, এবং এর শব্দ তিরমিজী থেকে।
রাব্বিগফির লী, ওয়াতুব আলাইয়া, ইন্নাকা আন্তাত তাওয়াবুল গাফুর
৮৫. মজলিসের কাফ্ফারা
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসা সহ আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই, আমি আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার কাছে তাওবা করছি।”[২৪১] [২৪১] সুনান গ্রন্থকারগণ: আবু দাউদ, হাদীস নং: ৪৮৫৮; তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৪৩৩; এবং নাসায়ী, হাদীস নং: ১৩৪৪; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৫৩; প্রমাণিত হয়েছে যে, আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেছেন: (("রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো মজলিসে বসতেন, কুরআন তিলাওয়াত করতেন অথবা সালাত আদায় করতেন- তখন এসব কিছুই এই শব্দগুলির মাধ্যমে শেষ করেছেন...)) হাদীসটি নাসায়ী তার "আমালুল ইয়াওম ওয়াল লায়লাহ" গ্রন্থে, হাদীস নং: ৩০৮; এবং আহমাদ, ৬/৭৭, হাদীস নং: ২৪৪৮৬, এভাবে বর্ণনা করেছেন, আর ড. ফারুক হামাদাহ নাসায়ীর "আমালুল ইয়াওম ওয়াল লায়লাহ" গ্রন্থের তাহকীকে এটিকে সহীহ বলে উল্লেখ করেছেন, পৃ.: ২৭৩।
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আন্তা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতুবু ইলাইক
৮৬. যে ব্যক্তি 'আল্লাহ তোমাকে মাফ করুন’ বলবে, তার জন্য দু‘আ
“এবং আল্লাহ আপনাকেও মাফ করুন।’’ [২৪২] [২৪২] আহমাদ, ৫/৮২, হাদীস নং: ২০৭৭৮; এবং নাসায়ী, ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’, পৃষ্ঠা: ২১৮, হাদীস নং: ৪২১; তাহক্বীক: ড. ফারূক হামাদাহ।
ওয়ালাক
৮৭. কেউ আপনার প্রতি সদাচারণ করলে তার জন্য দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।”[২৪৩] [২৪৩] তিরমিযী, হাদীস নং: ২০৩৫; দেখুন: সহীহুল জামে‘ হাদীস নং: ৬২৪৪ এবং সহীহুত তিরমিজী, ২/২০০।
জাযাকাল্লাহু খাইরান
৮৮. আল্লাহ যা দ্বারা দাজ্জাল থেকে হেফাযত করবেন
“যে ব্যক্তি সুরা আল-কাহফের প্রথম ১০ আয়াত হেফাজত করবে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবে” [২৪৪] এবং প্রত্যেক নামাযের শেষ তাশাহুদে আল্লাহর কাছে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া। [২৪৫] [২৪৫] দেখুন: এই গ্রন্থের পৃষ্ঠা ৪১, হাদীস নং ৫৫ ও ৫৬। [২৪৪] মুসলিম, ১/৫৫৫, হাদীস নং: ৮০৯; আরেক বর্ণনাতে এসেছে: সূরা কাহফের শেষাংশ থেকে, ১/৫৫৬, হাদীস নং: ৮০৯।
৮৯. যে ব্যক্তি বলে: ‘আমি আল্লাহর জন্য তোমাকে ভালোবাসি’, তার জন্য দু‘আ
অর্থ: “যে জন্য আপনি আমাকে ভালবাসেন, তিনিও আপনাকে সেজন্য ভালবাসুন।”[২৪৬] [২৪৬] এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, ৪/৩৩৩, হাদীস নং: ৫১২৫; এবং আলবানী এটিকে হাসান বলেছেন ‘সহীহ সুনান আবু দাউদ’-এ, ৩/৯৬৫।
আহাব্বাকাল্লাযী আহবাবতানী লাহ
৯০. যে ব্যক্তি তার সম্পদ আপনার কাছে উপস্থাপন করে, তার জন্য দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দিন”। [২৪৭] [২৪৭] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৪/২৮৮, হাদীস নং: ২০৪৯।
বারাকাল্লাহু লাকা ফি আহলিকা ওয়া মালিকা
৯১. ঋণ পরিশোধের সময় ঋণদাতার জন্য দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহ আপনার পরিবার ও সম্পদে বরকত দান করুন। ঋণের প্রকৃত প্রতিদান হলো প্রশংসা করা ও তা পরিশোধ করা।”[২৪৮] [২৪৮] নাসায়ী ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’, পৃষ্ঠা: ৩০০ এবং ইবনু মাজাহ, ২/৮০৯, হাদীস নং: ২৪২৪; দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/৫৫।
বারাকাল্লাহু লাকা ফী আহলিকা ওয়া মালিকা
৯২. শির্কের ভয়ে দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি জেনে-বুঝে আপনার সাথে শরীক করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই এবং আমি যে বিষয় জানি না তার জন্য আপনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি।”[২৪৯] [২৪৯] আহমাদ, ৪/৪০৩, হাদীস নং: ১৯৬০৬; এবং বুখারীর ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’, হাদীস নং: ৭১৬; দেখুন: সহীহুল জামে‘, ৩/২৩৩ এবং আলবানীর ‘সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীব’, ১/১৯।
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লামু, ওয়া আস্তাগফিরুকা লিমা লা আ’লাম।
৯৩. কেউ 'আল্লাহ আপনাকে বরকত দান করুন' বললে, তার জন্য দু‘আ
অর্থ: “আর আপনার মধ্যেও আল্লাহ বরকত দান করুন।”[২৫০] [২৫০] এটি ইবনুস সুন্নী বর্ণনা করেছেন, পৃষ্ঠা: ১৩৮, হাদীস নং: ২৭৮; দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিমের ‘আল-ওয়াবিলুস সাইয়্যিব’, পৃষ্ঠা: ৩০৪, তাহক্বীক: বশীর মুহাম্মদ উয়ূন।
ওয়াফিকা বারাকাল্লাহ
৯৪. অশুভ লক্ষণ গ্রহণকে অপছন্দ করে দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার নির্ধারিত ভাগ্য ছাড়া কোনো ভাগ্য নেই, আপনার দেওয়া কল্যাণ ছাড়া কোনো কল্যাণ নেই, আর আপনি ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই।”[২৫১] [২৫১] আহমাদ: ২/২২০, হাদীস: ৭০৪৫; ইবনুস সুন্নী, হাদীস: ২৯২; ইমাম আলবানী এটি সহীহ বলেছেন ‘সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ’-এ, ৩/৫৪, হাদীস: ১০৬৫; আর ফাল (সুখদৃষ্টি) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে প্রিয় ছিল; একবার তিনি একজন ব্যক্তির কাছ থেকে ভাল শব্দ শুনে মুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন: “তোমার ফাল আমরা তোমার মুখ থেকেই নিয়েছি।” সুনান আবু দাউদ, হাদীস নং: ৩৭১৯; আহমাদ, হাদীস: ৯০৪০; এবং ইমাম আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন ‘সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ’-এ, ২/৩৬৩; আবুশ শাইখ-এর ‘আখলাকুন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’, পৃষ্ঠা: ২৭০।
আল্লাহুম্মা লা তয়রা ইল্লা তয়রুকা, ওয়া লা খয়রা ইল্লা খয়রুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা
৯৫. বাহনে আরোহণের দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা।”
বিসমিল্লাহি, ওয়ালহামদু লিল্লাহ ‘সুপবিত্র সেই সত্তা, যিনি এটিকে আমাদের বশীভুত করে দিয়েছেন। অন্যথায় আমরা একে বশীভুত করতে পারতাম না।
সুবহানাল্লাযী সাখ্খারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকরিনীন আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই ফিরে যাব।’
ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনক্বালিবূন “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই। আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। হে সুপবিত্র সত্তা আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আমার উপরে জুলুম করে ফেলেছি, সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করুন; যেহেতু আপনি ব্যতীত আর কেউই পাপ ক্ষমা করতে পারে না।”[২৫২] [২৫২] আবু দাউদ, ৩/৩৪, হাদীস নং: ২৬০২; এবং তিরমিজী, ৫/৫০১, হাদীস নং: ৩৪৪৬; দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৫৬; আর আয়াত দুটি সূরা আল-যুখরুফ-এর, আয়াত ১৩-১৪।
আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ইন্নী যালামতু নাফসী ফাগফির লী; ফাইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আন্তা
৯৬. সফরের দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ‘সুমহান সেই সত্তা, যিনি এটিকে আমাদের বশীভুত করে দিয়েছেন। অন্যথায় আমরা একে বশীভুত করতে পারতাম না।
সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হাযা ওয়ামা কুন্না লাহু মুকরিনীন আর নিশ্চয় আমরা আমাদের রবের কাছেই ফিরে যাব।’
ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্বালিবূন অর্থ: "হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরে আমরা আপনার নিকটে নেকআমল , তাকওয়া-পরহেজগারিতা এবং আপনি সন্তুষ্ট হন এমন কাজের তাওফীক চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমাদের এই সফর আমাদের জন্য সহজ করে দিন এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনিই সফরসঙ্গী এবং পরিবারের দায়িত্বশীল। হে আল্লাহ! আপনার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের কষ্ট, দুঃখজনক দৃশ্য এবং ফিরে এসে পরিবার ও ধন-সম্পদের ক্ষতিকর পরিবর্তন থেকে।"
আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হাজাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল আমালি মা তারদা, আল্লাহুম্মা হাওয়িন আলাইনা সাফারানা হাজা ওয়াত্উই আন্না বুদাহু, আল্লাহুম্মা আন্তাস সাহিবু ফিস সাফারি, ওয়াল খালীফাতু ফিল আহলি, আল্লাহুম্মা ইন্নী আউজু বিকা মিন ওয়া’সায়িস সাফারি, ওয়া কাআবাতিল মানজারি, ওয়া সুয়িল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহল এবং যখন সে ফিরে আসবে, তখনও সে এগুলো বলবে এবং আরো কিছু যোগ করে বলবে: অর্থ: “আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আমাদের প্রতিপালক আল্লাহর প্রশংসাকারী।”[২৫৩] [২৫৩] মুসলিম, ২/৯৭৮, হাদীস নং: ১৩৪২।
আয়িবূনা, তাইবূনা, আবিদূনা, লিরব্বিনা হামিদূন
৯৭. কোন গ্রাম বা শহরে প্রবেশকালে দু‘আ
অর্থ: “হে আল্লাহ! হে সপ্তাকাশ ও যা কিছুকে তা ছেয়ে আছে তার প্রতিপালক! হে সপ্ত যমীন ও যা কিছু তা বহন করে তার প্রতিপালক! হে শয়তানদল ও তারা যাদেরকে ভ্রষ্ট করে তাদের প্রতিপালক! হে বায়ু ও যা কিছু তা উড়িয়ে থাকে তার প্রভু! আমি আপনার নিকট এই গ্রামের কল্যাণ ও গ্রামবাসীর কল্যাণ এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার কল্যাণ চাচ্ছি। আর আপনার নিকট এই গ্রাম ও গ্রামবাসীর অমঙ্গল এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার অমঙ্গল হতে পানাহ চাচ্ছি।”[২৫৪] [২৫৪] হাকেম, তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার মতের সঙ্গে একমত হয়েছেন, ২/১০০; এবং ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৫২৪; হাফিজ ইবনু হাজার ‘তাখরিজুল আযকার’-এ এটিকে হাসান বলেছেন: ৫/১৫৪; আল্লামা ইবনু বায রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “এটি নাসায়ী বর্ণনা করেছেন হাসান সূত্রে।” দেখুন: ‘তুহফাতুল আখইয়ার’, পৃষ্ঠা: ৩৭।
আল্লাহুম্মা রাব্বাস সামাওয়াতিস সাবই ওয়া মা আযলালনা, ওয়া রাব্বাল আরাদিনাস সাবই ওয়া মা আকলালনা, ওয়া রাব্বাশ শায়াতিনি ওয়া মা আদলালনা, ওয়া রাব্বার রিয়াহি ওয়া মা যারাইনা, আসআলুকা খাইরা হাযিহিল কারয়াতি, ওয়া খাইরা আহলিহা, ওয়া খাইরা মা ফীহা, ওয়া আউযুবিকা মিন শাররিহা, ওয়া শাররি আহলিহা, ওয়া শাররি মা ফীহা।
৯৮. বাজারে প্রবেশকালে দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই। তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। তিনি চিরঞ্জীব, কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না। কল্যাণ তাঁর হাতেই এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।”[২৫৫] [২৫৫] তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৪২৮; এবং ইবনু মাজাহ, ৫/২৯১, হাদীস নং: ৩৮৬০; আল-হাকেম, ১/৫৩৮; এবং আলবানী এটি হাসান বলেছেন ‘সহীহ ইবনু মাজাহ’-এ, ২/২১; এবং ‘সহীহ তিরমিজী’-এ, ৩/১৫২।
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু, ওয়া হুওয়া হাইয়ুন লা ইয়ামূতু, বিইয়াদিহিল খাইরু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর
৯৯. বাহন অচল হলে অথবা হোঁচট খেলে পড়ার দু‘আ
“আল্লাহর নামে”[২৫৬] [২৫৬] আবু দাউদ, ৪/২৯৬, হাদীস নং: ৪৯৮২; এবং আলবানী এটি সহীহ বলেছেন ‘সহীহ আবু দাউদ’-এ, ৩/৯৪১।
বিসমিল্লাহ
১০০. মুকীমের জন্য মুসাফিরের দু‘আ
অর্থ: “আমি আপনাদেরকে সেই আল্লাহর কাছে অর্পণ করছি, যার কাছে অর্পিত কিছু কখনো নষ্ট হয় না।”[২৫৭] [২৫৭] আহমাদ, ২/৪০৩, হাদীস নং: ৯২৩০; এবং ইবনু মাজাহ, ২/৯৪৩, হাদীস নং: ২৮২৫; দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ২/১৩৩।
আস্তাওদিউ কুমুল্লাহা আল্লাযী লা তাদীউ ওয়াদা-ইউহ
১০১. মুসাফিরের জন্য মুকীম ব্যক্তির দু‘আ
অর্থ:"আমি আপনার দ্বীন,আপনার আমানতদারিতা এবং আপনার জীবনের শেষ আমলসমূহ আল্লাহর হাতে সপে দিচ্ছি(অর্থাৎ আল্লাহর জিম্মায় দিচ্ছি)।” [২৫৮] [২৫৮] আহমাদ, ২/৭, হাদীস নং: ৪৫২৪; এবং তিরমিজী, ৫/৪৯৯, হাদীস নং: ৩৪৪৩; এবং আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন ‘সহীহ সুনান তিরমিজী’-এ, ৩/৪১৯।
আস্তাওদিউল্লাহা দীনাকা, ওয়া আমানাতাকা, ওয়া খাওয়াতীমা আমালিক।
অর্থ: “আল্লাহ আপনার তাকওয়া কে আরো বৃদ্ধি করুন, আপনার গুনাহ মাফ করুন এবং আপনি যেখানেই থাকুন সেখানেই আপনার জন্য কল্যাণকে সহজ করে দিন।”[২৫৯] [২৫৯] তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৪৪৪; দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৫৫।
যাওয়াদাকাল্লাহুত তাকওয়া, ওয়া গাফারা যাম্বাকা, ওয়া ইয়াস্সারা লাকাল খাইরা হাইছু মা কুন্ত।
১০২. যাত্রা পথে তাকবীর ও তাসবীহ পাঠ করা
জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: "“আমরা উপরে উঠলে বলতাম, আল্লাহু আকবর," বলবে: (আল্লাহ মহান)
আল্লাহু আকবার আর নিচে নামলে বলতাম সুবহানাল্লাহ।”[২৬০] বলবে: (আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি) [২৬০] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৬/১৩৫, হাদীস নং: ২৯৯৩।
সুবহানাল্লাহ
১০৩. রাতের শেষ প্রহরে মুসাফিরের দু‘আ
অর্থ: “আল্লাহর প্রশংসা ও আমাদের ওপর তাঁর উত্তম নেয়ামত ও পরীক্ষার কথা কোন এক শ্রোতা শুনে পৌঁছে দিক। হে আমাদের প্রতিপালক, আপনি আমাদের সঙ্গী হোন, আমাদের প্রতি অধিক অনুগ্রহ করুন এবং আমরা আল্লাহর আশ্রয় চাই আগুন (জাহান্নাম) থেকে।।"[২৬১]। [২৬১]: সহীহ মুসলিম (৪/২০৮৬, হাদিস নং ২৭১৮)। "سَمِعَ سَامِعٌ" এর অর্থ হলো — কোনো শ্রোতা আমাদের আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সাক্ষী হোক। আর "سَمَّعَ سَامِعٌ" এর অর্থ হলো — কোনো শ্রোতা আমার এই কথাটি অন্যদের পৌঁছে দিক এবং এর অনুরূপ বাক্য বলুক, যাতে রাতের শেষ ভাগে আল্লাহর যিকির ও দু‘আর প্রতি মনোযোগী করা হয়। (ইমাম নববীর “শরহু মুসলিম”, ১৭/৩৯)।
সাম্মাআ সামিউন বিহামদিল্লাহি, ওয়া হুসনি বালাইহি আলাইনা, রাব্বানা সাহিবনা, ওয়া আফদিল আলাইনা, আয়েযান বিল্লাহি মিনান নার
১০৪. সফরে বা অন্য অবস্থায় কোথাও অবতরণ করলে দু‘আ
অর্থ: “আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের মাধ্যমে তাঁর সৃষ্ট সব কিছুর অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাই।”[২৬২] [২৬২] মুসলিম, ৪/২০৮০, হাদীস নং: ২৭০৯।
১০৫. সফর থেকে ফেরার যিকির
«প্রতিটি উঁচু স্থানে তিনবার তাকবীর বলবে, অতঃপর বলবে: অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তাঁরই সার্বভৌম ক্ষমতা, তাঁরই সব প্রশংসা, এবং তিনি সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আমরা প্রত্যাবর্তনকারী, তওবাকারী, ইবাদতকারী, আমাদের প্রতিপালকের প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই দলবদ্ধ শত্রুদের পরাজিত করেছেন।” [২৬৩] [২৬৩] নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি বলতেন যখন তিনি যুদ্ধ বা হজ্জ থেকে ফিরে আসতেন। বুখারী, ৭/১৬৩, হাদীস নং: ১৭৯৭; এবং মুসলিম, ২/৯৮০, হাদীস নং: ১৩৪৪।
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর, আয়িবূন, তাইবূন, আবিদূন, লিরাব্বিনা হামিদূন, সাদাকাল্লাহু ওয়াদাহ, ওয়া নাসারা আবদাহ, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহ।”
১০৬. আনন্দদায়ক বা অপছন্দনীয় কিছুর সম্মুখীন হলে যা বলবে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন তার কাছে এমন কোনো বিষয় আসত যা তাকে আনন্দিত করত, তখন তিনি বলতেন: অর্থ: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যার অনুগ্রহে সৎকর্মসমূহ পূর্ণতা লাভ করে।”
আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী বিনি’মাতিহি তাতিম্মুস সালিহাত আর যখন তার কাছে এমন বিষয় আসত যা তিনি অপছন্দ করতেন, তখন তিনি বলতেন: অর্থ: “সর্বাবস্থায় আল্লাহর জন্যই প্রশংসা।” [২৬৪]। [২৬৪] এটি ইবনুস সুন্নী ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ’ গ্রন্থে, হাদীস নং: ৩৭৭; হাকেম এটিকে সহীহ বলেছেন, ১/৪৯৯; এবং আলবানীও এটিকে সহীহ বলেছেন ‘সহীহুল জামে‘-এ, ৪/২০১।
আলহামদু লিল্লাহি আলা কুল্লি হাল
১০৭. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরুদ) পাঠের ফযীলত
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কেউ আমার উপর একবার সালাত (দরুদ) পাঠ করলে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন।”[২৬৫] যেমন সে বলবে: (হে আল্লাহ! আমাদের নবী মুহাম্মাদের প্রতি সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।) [২৬৫] মুসলিম, ১/২৮৮, হাদীস নং: ৩৮৪।
আল্লাহুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ
তিনি আরও বলেছেন: “তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না। তোমরা আমার ওপর সালাত (দরুদ) পড়। কারণ, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের দরুদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।”[২৬৬] [২৬৬] আবু দাউদ, ২/২১৮, হাদীস নং: ২০৪৪; এবং আহমাদ, ২/৩৬৭, হাদীস নং: ৮৮০৪; এবং আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন ‘সহীহ আবু দাউদ’-এ, ২/৩৮৩।
তিনি আরও বলেছেন: “প্রকৃত কৃপণ সেই, যার কাছে আমার নাম উচ্চারিত হল, অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল না।”[২৬৭] [২৬৭] তিরমিজী, ৫/৫৫১, হাদীস নং: ৩৫৪৬; এবং অন্যান্যরা, দেখুন: সহীহুল জামে‘, ৩/২৫; এবং সহীহ তিরমিজী, ৩/১৭৭।
তিনি আরও বলেছেন: “নিশ্চয় যমীনে আল্লাহর কিছু বিচরণকারী ফেরেশতা রয়েছেন, তারা আমার কাছে আমার উম্মতের সালাম পৌঁছে দেন।”[২৬৮] [২৬৮] আন-নাসায়ী, ৩/৪৩, হাদীস নং: ১২৮২; হাকেম, ২/৪২১; এবং আলবানী এটি সহীহ বলেছেন ‘সহীহ আন-নাসায়ী’-এ, ১/২৭৪।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: “কোন মুসলিম আমার উপর সালাম দিলে আল্লাহ তা‘আলা আমার নিকট আমার রূহটি ফেরত দেন, যাতে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি”। [২৬৯] [২৬৯] আবু দাউদ, হাদীস নং: ২০৪১; এবং আলবানী এটি হাসান বলেছেন ‘সহীহ আবু দাউদ’-এ, ১/৩৮৩।
১০৮. সালামের প্রসার
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ঈমান না আনা পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর তোমাদের ঈমান পরিপূর্ণ হবে না যতক্ষণ না তোমরা একে অপরকে ভালোবাসবে। আমি কি তোমাদেরকে এমন কোন জিনিস বলে দেব না, যার মাধ্যমে তোমরা পরস্পরকে ভালোবাসতে পারবে? (তা হলো) তোমরা পরস্পরের মাঝে সালামের প্রসার করো।”[২৭০] [২৭০] মুসলিম, ১/৭৪, হাদীস নং: ৫৪; এবং আহমাদ, হাদীস নং: ১৪৩০; এবং শব্দটি তাঁর (আহমাদের) হতে এসেছে, আর মুসলিমের শব্দ: “তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করবে না...।”
“তিনটি গুণ যে আয়ত্ত করে, সে (পূর্ণ) ঈমান লাভ করে: নিজ থেকে ইনসাফ করা, জগতবাসীর মাঝে সালামের প্রচলন এবং অভাবী অবস্থাতেও দান খয়রাত করা।”[২৭১] [২৭১] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১/৮২, হাদীস নং: ২৮; আম্মার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মাওকুফ মুআল্লাক সূত্রে এসেছে।
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত: জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন: ‘ইসলামের কোন কাজটি উত্তম?’ তিনি বললেন: “খানা খাওয়াবে এবং পরিচিত ও অপরিচিত সবাইকে সালাম দিবে।”[২৭২] [২৭২] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১/৫৫, হাদীস নং: ১২; এবং মুসলিম, ১/৬৫, হাদীস নং: ৩৯।
১০৯. কাফের ব্যক্তি সালাম দিলে, যেভাবে তার উত্তর দেবে
“যখন আহলুল কিতাব (ইহুদি-নাসারা) তোমাদেরকে সালাম দেয়, তখন তোমরা বলবে: ‘ওয়া আলাইকুম’।” [২৭৩] [২৭৩] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১১/৪২, হাদীস নং: ৬২৫৮; এবং মুসলিম, ৪/১৭০৫, হাদীস নং: ২১৬৩।
ওয়া আলাইকুম
১১০. মোরগের ডাক ও গাধার স্বর শোনার সময় দু‘আ
“তোমরা যখন মোরগের ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর কাছে তাঁর অনুগ্রহ প্রার্থনা করো; কারণ মোরগ কোন ফেরেশতাকে দেখেছে, যেমন সে বলবে: (হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি।)
আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা মিন ফাদলিক “আর যখন তোমরা গাধার ডাক শুনবে, তখন আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে আশ্রয় চাও; কারণ গাধা শয়তানকে দেখেছে।” [২৭৪] যেমন সে বলবে: “আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।” [২৭৪] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৬/৩৫০, হাদীস নং: ৩৩০৩; এবং মুসলিম, ৪/২০৯২, হাদীস নং: ২৭২৯।
আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম
১১১. রাতে কুকুরের ডাক শুনলে দু‘আ
“তোমরা যখন রাতে কুকুরের ঘেউ ঘেউ ও গাধার ডাক শুনবে, তখন তাদের থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও; কারণ তারা এমন কিছু দেখে যা তোমরা দেখতে পাও না।”[২৭৫] যেমন সে বলবে: “আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।” [২৭৫] আবু দাউদ, ৪/৩২৭, হাদীস নং: ৫১০৫; এবং আহমাদ, ৩/৩০৬, হাদীস নং: ১৪২৮৩; এবং আলবানী এটি সহীহ বলেছেন ‘সহীহ আবু দাউদ’-এ, ৩/৯৬১।
আউযু বিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম
১১২. আপনি যাকে গালি দিয়েছেন তার জন্য দু‘আ
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে আল্লাহ! আমি যে মুমিনকে গালি দিয়েছি, আপনি সেটিকে তার জন্য কিয়ামতের দিনে আপনার নিকটবর্তী হওয়ার উপায় বানিয়ে দিন।”[২৭৬] [২৭৬] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১১/১৭১, হাদীস নং: ৬৩৬১; এবং মুসলিম, ৪/২০০৭, হাদীস নং: ৩৯৬; এবং তার শব্দ হলো: “কাজেই এটিকে তার জন্য যাকাত ও রহমত বানিয়ে দাও।”
১১৩. কোনো মুসলিম অপর মুসলিমের প্রশংসা করলে যা বলবে
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যদি অবশ্যম্ভাবীভাবে কারো প্রশংসা করতেই চায়, তবে সে যেন বলে: ‘আমি অমুক ব্যক্তিকে এমনই মনে করি; আর আল্লাহই তাঁর প্রকৃত হিসাবগ্রহণকারী। আমি আল্লাহর কাছে কাউকে পবিত্র ঘোষণা করি না। আমি তাকে এমন মনে করি—যদি সে সম্পর্কে তার জানা থাকে—এমন ও তেমন মনে করি।’”[২৭৭] [২৭৭] মুসলিম, ৪/২২৯৬, হাদীস নং: ৩০০০।
১১৪. কোনো মুসলিমকে সৎ ও পবিত্র হিসেবে প্রশংসা করা হলে সে যা বলবে
অর্থ: “হে আল্লাহ! তারা যা বলে তার জন্য আমাকে পাকড়াও করবেন না, তারা যা জানে না সেগুলি আমাকে ক্ষমা করে দিন, আর তাদের ধারণার চেয়ে আমাকে উত্তম বানিয়ে দিন।”[২৭৮] [২৭৮] বুখারী ‘আল-আদাবুল মুফরাদ’-এ, হাদীস নং: ৭৬১; এবং আলবানী এর সনদকে সহীহ বলেছেন ‘সহীহুল আদাবুল মুফরাদ’-এ, হাদীস নং: ৫৮৫; আর বন্ধনীর মধ্যে যা আছে তা বায়হাকী ‘শু‘আবুল ঈমান’-এ, ৪/২২৮—অন্য একটি সূত্রে উল্লেখ করেছেন।
আল্লাহুম্মা লা তুআখিজনী বিমা ইয়াকুলূন, ওয়াগফির লী মা লা ইয়া’লামূন, ওয়াজআলনী খাইরান মিম্মা ইয়াজুন্নূন
১১৫. হজ্জ বা ‘উমরাহর সময় মুহরিম ব্যক্তি যেভাবে তালবিয়া পাঠ করবে
অর্থ: “আমি হাযির হে আল্লাহ! আপনার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি হাযির, আমি হাযির; আপনার কোনো অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামত আপনার এবং কর্তৃত্ব আপনারই, আপনার কোনো অংশীদার নেই।”[২৭৯] [২৭৯] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৩/৪০৮, হাদীস নং: ১৫৪৯; এবং মুসলিম, ২/৮৪১, হাদীস নং: ১১৮৪।
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নি’মাতা, লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।
১১৬. হাজরে আসওয়াদের কাছে আসলে তাকবীর বলা
“নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি উটের উপর চড়ে কাবাঘর তাওয়াফ করেন। তিনি যখনই রুকনে (হাজরে আসওয়াদ) আসতেন, তার হাতে থাকা কোনো বস্তু দিয়ে ইশারা করতেন এবং তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলতেন।” [২৮০] [২৮০] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৩/৪৭৬, হাদীস নং: ১৬১৩; এবং “বস্তু” বলতে বোঝানো হয়েছে: একটি বাঁকা লাঠি (محجن)। দেখুন: বুখারী ফাতহুল বারীসহ: ৩/৪৭২।
১১৭. রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের(কালো পাথরের) মধ্যকার দু‘আ
অর্থ: “হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন। আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন।”[২৮১] [২৮১] আবু দাউদ, ২/১৭৯, হাদীস নং: ১৮৯৪; আহমাদ, ৩/৪১১, হাদীস নং: ১৫৩৯৮; এবং বাগাভী ‘শরহুস সুন্নাহ’-তে, ৭/১২৮; আর আলবানী এটি হাসান বলেছেন ‘সহীহ আবু দাউদ’-এ, ১/৩৫৪। আয়াতটি সূরা আল-বাকারার: ২০১।
রব্বানা আতিনা ফিদ-দুনিয়া হাসানাহ, ওয়াফিল-আখিরাতি হাসানাহ, ওয়া কিনা আজাবান-নার
১১৮. সাফা ও মারওয়ায় দাঁড়ানোর সময় দু‘আ
যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফার কাছে পৌঁছলেন তখন এটি পাঠ করলেন: “নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত...। আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন, আমিও তা দিয়ে শুরু করছি।”
ইন্নাস সাফা ওয়াল মারওয়াতা মিন শাআ-ইরিল্লাহ..., আবদাউ বিমা বাদাআল্লাহু বিহ তিনি সাফা থেকে শুরু করলেন, তারপর সাফার ওপরে উঠলেন, যতক্ষণ না কাবা ঘর দেখতে পেলেন। অতঃপর তিনি কিবলামুখী হলেন, আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করলেন, আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করলেন এবং বললেন: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁরই, তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক। তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন, তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই দলবদ্ধ শত্রুদের পরাজিত করেছেন।”
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদীর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু, আনজাযা ওয়া’দাহু, ওয়া নাসারা আবদাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহ। অতঃপর এর মাঝে তিনি দোয়া করলেন, এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন। ...হাদীস। আর তাতে রয়েছে: তিনি মারওয়াতেও তা-ই করলেন যা সাফায় করেছিলেন। [২৮২] [২৮২] মুসলিম, ২/৮৮৮, হাদীস নং: ১২১৮; এবং আয়াতটি সূরা আল-বাকারার, আয়াত নং: ১৫৮।
১১৯. আরাফার দিনের দু‘আ
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সর্বোত্তম দু‘আ হচ্ছে আরাফার দিনের দু‘আ। আর আমি ও আমার পূর্বের নবীগণ সর্বোত্তম যা পাঠ করেছি, তা হচ্ছে:” “আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই, প্রশংসাও তাঁরই। তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।”[২৮৩] [২৮৩] তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৫৮৫; এবং আলবানী এটিকে হাসান বলেছেন ‘সহীহ তিরমিজী’-তে, ৩/১৮৪; এবং ‘সিলসিলাতুল আহাদীসিস সহীহাহ’-তে, ৪/৬।
১২০. মাশআরুল হারামের নিকটে পড়ার যিকির
“নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাসওয়া নামক উটনিতে আরোহণ করলেন, মাশ'আরুল হারামে (মুযদালিফায়) এসে পৌঁছলেন। অতঃপর কিবলামুখী হয়ে (আল্লাহর নিকট দু‘আ করলেন, তাকবীর বললেন, তাওহীদের ঘোষণা দিলেন এবং আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করলেন।) তিনি ক্রমাগত দাঁড়িয়ে থাকলেন যতক্ষণ না সকাল অত্যন্ত উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তারপর সূর্য উদয়ের পূর্বেই তিনি মুযদালিফা থেকে রওয়ানা হলেন।”[২৮৪] [২৮৪] মুসলিম, ২/৮৯১, হাদীস নং: ১২১৮।
১২১. জামারায় প্রত্যেক পাথর নিক্ষেপের সময় তাকবীর বলা
"তিনটি জামরায় প্রত্যেক পাথর নিক্ষেপের সময় তাকবীর ('আল্লাহু আকবার') বলবে। প্রথম ও দ্বিতীয় জামরা থেকে পাথর নিক্ষেপের পর একটু সামনে এগিয়ে গিয়ে কিবলামুখী হয়ে হাত উঠিয়ে দু‘আ করবে। তবে জামরাতুল আকাবায়(বড় বা তৃতীয় জামরায়) পাথর নিক্ষেপের সময় প্রত্যেক পাথরের সাথে তাকবীর বলবে কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে দু‘আ করবে না, বরং সেখান থেকে চলে যাবে।"[২৮৫] [২৮৫] সহীহ আল-বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ০৩, পৃষ্ঠা: ৫৮৩, হাদীস নং: ১৭৫১, বিস্তারিত শব্দাবলী সেখানেই দেখুন। এবং সহীহ আল-বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ০৩, পৃষ্ঠা: ৫৮৩, ৫৮৪ ও ৫৮১, হাদীস নং ১৭৫৩। এটি ইমাম মুসলিমও রেওয়ায়েত করেছেন, হাদীস নং: ১২১৮।
১২২. আশ্চর্যজনক ও আনন্দদায়ক কোনো বিষয় ঘটলে পাঠ করার দু‘আ
“সুবহানাল্লাহ/আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।”[২৮৬] [২৮৬] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১/২১০, ৩৯০, ও ৪১৪; হাদীস নং: ১১৫, ৩৫৯৯ ও ৬২১৮; এবং মুসলিম, ৪/১৮৫৭, হাদীস নং: ১৬৭৪।
সুবহানাল্লাহ
“আল্লাহ সবচেয়ে বড়।”[২৮৭] [২৮৭] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৮/৪৪১, হাদীস নং: ৪৭৪১ ও ৩০৬২; তিরমিজী, হাদীস নং: ২১৮০; নাসায়ী ‘সুনানুল কুবরা’ গ্রন্থে, হাদীস নং: ১১১৮৫; দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ২/১০৩ ও ২/২৩৫; এবং মুসনাদে আহমাদ, ৫/২১৮, হাদীস নং: ২১৯০০।
আল্লাহু আকবার
১২৩. আনন্দদায়ক কোন সংবাদ আসলে যা করবে
“নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যখন কোন খুশীর খবর আসতো অথবা তাঁকে কোন সুসংবাদ দেওয়া হতো, তখনই তিনি বরকতময় আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে শুকরিয়া স্বরূপ সিজদা করতেন।”[২৮৮] [২৮৮] নাসায়ী ব্যতীত অন্যান্য সুননা গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। আবু দাউদ, হাদীস নং: ২৭৭৪; তিরমিজী, হাদীস নং: ১৫৭৮; এবং ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ১৩৯৪। দেখুন: সহীহ ইবনু মাজাহ, ১/২৩৩; এবং ইরওয়া আল-গালীল, ২/২২৬।
১২৪. শরীরে ব্যথা অনুভব করলে যা করবে ও বলবে
“তোমার শরীরের যে অংশ ব্যথাযুক্ত হয়, তার উপরে তোমার হাত রেখে বলবে: আল্লাহর নামে।
বিসমিল্লাহ তিনবার, আর সাত বার বলুন: অর্থ: "আমি আল্লাহর এবং তাঁর কুদরতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি- আমি যে কষ্ট অনুভব করছি এবং যার ভয় করছি, তার অনিষ্ট থেকে।"[২৮৯] [২৮৯] মুসলিম, ৪/১৭২৮, হাদীস নং: ২২০২।
১২৫. কোন কিছুর উপর নিজের চোখ লাগার ভয় থাকলে দু‘আ
“তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের কাছে, অথবা নিজের কাছে অথবা তার সম্পদে এমন কিছু দেখতে পায়, যা তার কাছে পছন্দনীয় হয় [সে যেন তার জন্য বরকতের দু‘আ করে], কেননা নজর লাগা সত্য।”[২৯০] [২৯০] মুসনাদে আহমাদ, ৪/৪৪৭, হাদীস নং: ১৫৭০০; ইবনু মাজাহ, হাদীস নং: ৩৫০৮; মালিক, ৩/১১৮-১১৯; এবং আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন ‘সহীহ জামি’-এ, ১/২১২; এবং দেখুন: যাদুল মা‘আদ-এর তাহকীক, আরনাঊত, ৪/১৭০।
১২৬. ভয়-আতঙ্কের সময় যা বলবে
অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই।”[২৯১] [২৯১] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ৬/৩৮১, হাদীস নং: ৩৩৪৬; এবং মুসলিম, ৪/২২০৮, হাদীস নং: ২৮৮০।
১২৭. পশু জবাই বা নহর করার সময় যা বলবে
অর্থ: “আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, [হে আল্লাহ! এটা আপনার পক্ষ থেকে এবং আপনার জন্য], হে আল্লাহ! আপনি আমার এই আমল গ্রহণ করুন।”[২৯২]। [২৯২] মুসলিম, ৩/১৫৫৭, হাদীস নং: ১৯৬৭; এবং বায়হাকী, ৯/২৮৭; এবং বন্ধনীতে যা উল্লেখিত, তা বায়হাকী থেকে, ৯/২৮৭ এবং অন্যান্য সূত্র থেকে; এবং শেষের বাক্যটি মুসলিমের বর্ণনার অর্থানুসারে চয়ন করা হয়েছে।
বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা, আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্নী
১২৮. দুষ্ট শয়তানদের চক্রান্ত প্রতিহত করতে যা বলবে
অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের ওসিলায় আশ্রয় চাই -যা কোনো পুণ্যবান বা পাপীই অতিক্রম করতে পারে না- তাঁর সৃষ্টির অনিষ্টতা থেকে, যা তিনি সৃষ্টি করেছেন ও ছড়িয়েছেন; আসমান থেকে যা নেমে আসে তার অনিষ্ট থেকে; যা আসমানে উঠে তার অনিষ্ট থেকে; পৃথিবীতে যা বিস্তৃত হয়েছে তার অনিষ্ট থেকে; পৃথিবী থেকে যা বের হয় তার অনিষ্ট থেকে; রাত ও দিনের ফিতনার অনিষ্ট থেকে; এবং প্রতিটি অশুভ আগন্তুকের অনিষ্ট থেকে— তবে যে আগন্তুক কল্যাণ নিয়ে আসে তাকে ছাড়া, হে পরম দয়ালু,।"[২৯৩] [২৯৩] আহমাদ, ৩/৪১৯, হাদীস নং: ১৫৪৬১, সনদ সহীহ; ইবনুস সুন্নী, হাদীস নং: ৬৩৭; এবং আরনাউত এর সনদকে সহীহ বলেছেন তার ‘তাখরীজ ত্বাহাবিয়া’তে, পৃ.: ১৩৩; এবং দেখুন: মজমাউয-যাওয়ায়েদ, ১০/১২৭।
আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতিল্লাতী লা ইউজাবিযুহুন্না বাররুন ওয়ালা ফাজির: মিন শাররি মা খালাক, ওয়া বারাআ ওয়া যারাআ, ওয়া মিন শাররি মা ইয়ানযিলু মিনাস সামাই, ওয়া মিন শাররি মা ইয়া'রুজু ফীহা, ওয়া মিন শাররি মা যারাআ ফিল আরদি, ওয়া মিন শাররি মা ইয়াখরুজু মিনহা, ওয়া মিন শাররি ফিতানিল লাইলি ওয়ান্নাহার, ওয়া মিন শাররি কুল্লি তারিকিন ইল্লা তারিকান ইয়াতরুকু বিখাইরিন ইয়া রাহমান।
১২৯. ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবা করা
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আল্লাহর শপথ! আমি প্রত্যহ আল্লাহর কাছে সত্তর বারেরও বেশি ইস্তিগফার ও তাওবা করে থাকি।”[২৯৪] [২৯৪] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১১/১০১, হাদীস নং: ৬৩০৭।
তিনি আরও বলেছেন: “হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সমীপে তাওবা কর কেননা, আমি প্রতিদিন একশো বার তাওবা করি।”[২৯৫] [২৯৫] মুসলিম, ৪/২০৭৬, হাদীস নং: ২৭০২।
তিনি আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি বলবে: আমি মহান আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া সত্যিকার কোনো মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার রক্ষণাবেক্ষণকারী এবং আমি তাঁর কাছেই তাওবা করছি।
আস্তাগফিরুল্লাহাল আযীমাল্লাযী , লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূমু, ওয়া আতূবু ইলাইহ আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে রণক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে থাকে।”[২৯৬] [২৯৬] আবু দাউদ, ২/৮৫, হাদীস নং: ১৫১৭; তিরমিজী, ৫/৫৬৯, হাদীস নং: ৩৫৭৭; এবং হাকিম, তিনি সনদটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, ১/৫১১; এবং আলবানী সহীহ বলেছেন, দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৮২; এবং জামিউল' উসূল লি-আহাদীসির রাসূল -সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-, ৪/৩৮৯-৩৯০, আরনাউতের তাহকীককৃত।
তিনি আরও বলেছেন: “আল্লাহ তা’আলা তাঁর বান্দার সবচেয়ে নিকটবর্তী হন শেষ রাতের গভীরে। অতএব যারা এ সময় আল্লাহর যিকির করে, তুমি পারলে তাদের দলভুক্ত হয়ে যাও।”[২৯৭] [২৯৭] তিরমিজী, হাদীস নং: ৩৫৭৯; নাসায়ী, ১/২৭৯, হাদীস নং: ৫৭২; এবং হাকিম, ১/৩০৯; এবং দেখুন: সহীহ তিরমিজী, ৩/১৮৩; এবং জামিউল' উসূল, আরনাউতের তাহকীককৃত, ৪/১৪৪।
তিনি আরও বলেছেন: “বান্দা স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয় তখন, যখন সে সাজদার অবস্থায় থাকে। সুতরাং (ঐ সময়) তোমরা বেশি মাত্রায় দু‘আ কর “[২৯৮] [২৯৮] মুসলিম, ১/৩৫০, হাদীস নং: ৪৮২।
তিনি আরও বলেছেন: “আমার কলবেও (কখনো কখনো) আবরণ পড়ে যায়, তাই আমি প্রতিদিন একশ বার ইসতিগফার পাঠ করে থাকি।”[২৯৯] [২৯৯] এটি মুসলিম (৪/২০৭৫, হাদীস নং: ২৭০২) বর্ণনা করেছেন। ইবনুল আছীর বলেন: "لِيُغَانَ عَلَى قَلْبِي" অর্থ হলো- আমার অন্তর আবৃত বা আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এখানে এর উদ্দেশ্য হলো ভুলে যাওয়া; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা অধিক পরিমাণে যিকির, ইবাদত ও আল্লাহর ভয় অবস্থায় থাকতেন। তাই কোনো সময় যদি তিনি এগুলোর মধ্যে কিছুতে ভুল করতেন বা বিস্মৃত হতেন, তা তিনি নিজের জন্য গুনাহ হিসেবে গণ্য করতেন এবং তা থেকে ক্ষমা প্রার্থনায় রত হতেন। দেখুন: জামিউল উসূল, ৪/৩৮৬।
১৩০. সুবহানাল্লাহ, আলহামদুল্লিাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলার ফযীলত
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে ব্যক্তি বলবে: “আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি”
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহ প্রত্যহ একশ বার- তার গুনাহগুলো মাফ করে দেওয়া হবে, তা সমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হলেও।”[৩০০] [৩০০] সহীহ আল-বুখারী, খণ্ড: ৭, পৃষ্ঠা: ১৬৮, হাদীস নং: ৬৪০৫; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭১, হাদীস নং: ২৬৯১। দেখুন: যে ব্যক্তি সকাল ও সন্ধ্যায় এটি একশো বার বলবে, তার ফযীলত, এই কিতাবের পৃষ্ঠা নং: ৬৫।
তিনি আরও বলেছেন: «যে ব্যক্তি বলবে: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসাও তাঁর। তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শাইইন কাদীর দশবার, সে যেন ইসমা‘ঈল ‘আলাইহিস সালামের বংশের চারজন গোলামকে আযাদ করল।”[৩০১] [৩০১] সহীহ আল-বুখারী, খণ্ড: ০৭, পৃষ্ঠা: ৬৭, হাদীস নং: ৬৪০৪; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭১, হাদীস নং: ২৬৯৩। দেখুন: যে ব্যক্তি এটি দিনে একশো বার বলবে, তার ফযীলত, নং: ৯৩, এই কিতাবের পৃষ্ঠা নং: ৬৬।
তিনি আরও বলেছেন: “দুটি কালেমা উচ্চারণে হালকা, মীযানের পাল্লায় ভারী, পরম দয়াময়ের কাছে খুবই প্রিয়: “আল্লাহর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করছি, সুমহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।”[৩০২] [৩০২] সহীহ আল-বুখারী, খণ্ড: ০৭, পৃষ্ঠা: ১৬৮, হাদীস নং: ৬৪০৪; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭২, হাদীস নং: ২৬৯৪।
সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজীম
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: «আমার এ কথা বলা: আল্লাহ পবিত্র এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মাবূদ নেই, আর আল্লাহ সবচেয়ে মহান।
“সুবহানাল্লাহ, ওয়ালহামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার” আমার কাছে যে সকল বস্তুর উপর সূর্য উদিত হয়, তা হতে বেশি পছন্দনীয়।”[৩০৩] [৩০৩] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭২, হাদীস নং: ২৬৯৫।
তিনি আরও বলেছেন: “তোমাদের কোন ব্যক্তি প্রত্যহ এক হাজার নেকী অর্জন করতে অপারগ হবে কি?” তার সাথে উপবিষ্ট ব্যক্তিদের একজন জিজ্ঞাসা করল, ‘কিভাবে এক হাজার নেকী অর্জন করবে?’ তিনি বললেন: “একশ’বার তাসবীহ পড়বে। ফলে তার জন্য এক হাজার নেকী লেখা হবে অথবা এক হাজার গুনাহ মিটিয়ে দেওয়া হবে।”[৩০৪] [৩০৪] সহীহ মুসলিম, ৪/২০৭৩, হাদীস নং: ২৬৯৮।
সুবহানাল্লাহ
«যে ব্যক্তি বলবে: মহান আল্লাহর প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি
সুবহানাল্লাহিল আযীমি ওয়া বিহামদিহ তার জন্য জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপন করা হবে।”[৩০৫] [৩০৫] তিরমিজী, খণ্ড: ০৫, পৃষ্ঠা: ৫১১, হাদীস নং: ৩৪৬৪; এবং হাকিম, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ৫০১ — তিনি এটি সহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। দেখুন: সহীহুল জামে, খণ্ড: ০৫, পৃষ্ঠা: ৫৩১; এবং সহীহ তিরমিজী, খণ্ড: ০৩, পৃষ্ঠা ১৬০।
তিনি আরও বলেছেন: (হে আব্দুল্লাহ ইবনু কায়েস! আমি কি তোমাকে জান্নাতের ধনভাণ্ডারের একটির সন্ধান দিবো না? তখন আমি বললাম: অবশ্যই হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেন: (বলুন: “আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত ভালো কাজ করার সামর্থ্য ও খারাপ থেকে বিরত থাকার কোনো শক্তি নেই।”)[৩০৬] [৩০৬] সহীহ আল-বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ১১, পৃষ্ঠা: ২১৩, হাদীস নং: ৪২০৬; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭৬, হাদীস নং: ২৭০৪।
তিনি আরও বলেছেন: “আল্লাহর নিকটে সবচেয়ে প্রিয় কথা চারটি: "আল্লাহ পবিত্র এবং সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, আর আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মাবূদ নেই, এবং আল্লাহ সবচেয়ে বড়।"
সুবহানাল্লাহ, ওয়ালহামদুলিল্লাহ, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার “তুমি যে বাক্য দিয়েই শুরু কর না কেন তাতে কোনো অসুবিধা নাই।” [৩০৭] [৩০৭] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৩, পৃষ্ঠা: ১৬৮৫, হাদীস নং: ২১৩৭।
একদিন এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমি বলবো। তিনি বললেন: «বলুন: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আল্লাহ অতি মহান, আর আল্লাহর জন্যই অসংখ্য প্রশংসা। বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ সুমহান পবিত্র। পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।’
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, আল্লাহু আকবারু কাবিরা, ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাসিরা, সুবহানাল্লাহি রাব্বিল আলামিন, লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আযীযিল হাকিম সে বলল: ‘এগুলো আমার রবের জন্য, তাহলে আমার জন্য কী?’ তিনি বললেন: বলুন: অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন এবং আমাকে রিযিক দিন।”[৩০৮] [৩০৮] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭২, হাদীস নং: ২৬৯৬; আর সুনান আবু দাউদ, (খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ২২০, হাদীস নং: ৮৩২)-এ অতিরিক্ত আছে: “যখন বেদুঈন লোকটি চলে গেল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: 'সে তো তার হাতকে কল্যাণে পরিপূর্ণ করে নিল।”
আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী , ওয়াহদিনী , ওয়ারযুকনী
যখন কোনো ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করত, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে সালাত শিক্ষা দিতেন, তারপর তাকে এ কথাগুলোর দ্বারা দু‘আ করতে শিখিয়ে দিতেন: অর্থ: “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমাকে সুস্থতা দিন এবং আমাকে রিজিক দিন।”[৩০৯] [৩০৯] সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২০৭৩, হাদীস নং: ৩৬৯৭; এবং তার আরেকটি বর্ণনায় এসেছে: (এই (দু‘আগুলো) তোমার দুনিয়া ও আখেরাতকে একত্রিত করবে।)।
আল্লাহুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া আফিনী ওয়ারযুকনী
“নিশ্চয় সর্বোত্তম দু‘আ হলো সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য,
আলহামদুলিল্লাহ আর সর্বোত্তম যিকির হলো অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই।”[৩১০] [৩১০] তিরমিজী, খণ্ড: ০৫, পৃষ্ঠা: ৪৬২, হাদীস নং: ৩৩৮৩; এবং ইবনে মাজাহ, খণ্ড: ০২, পৃষ্ঠা: ১২৪৯, হাদীস নং: ৩৮০০; এবং হাকিম, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ৫০৩, তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তার সাথে একমত হয়েছেন। দেখুন: সহীহুল জামে, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ৩৬২।
“স্থায়ী সৎকর্মসমূহ হল: “আল্লাহ পবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবূদ নেই, আল্লাহ সবচেয়ে বড়, এবং শক্তি ও সামর্থ্য কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই।”[৩১১] [৩১১] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং: ৫১৩, আহমাদ শাকিরের বিন্যাস (তারতীব) অনুযায়ী; এবং দেখুন: মাজমা'উয-যাওয়ায়েদ, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ২৯৭; আর ইবনে হাজার বুলুগুল মারাম-এ আবূ সাঈদের রেওয়ায়েত হিসেবে নাসায়ীর (সুনানে কুবরা গ্রন্থের) দিকে সম্পৃক্ত করেছেন, হাদীস নং: ১০৬১৭। তিনি বলেন: ইবনু হিব্বান এটিকে সহীহ বলেছেন: হাদীস নং: ৮৪০; এবং হাকিম, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ৫৪১।
সুবহানাল্লাহ, ওয়ালহামদুলিল্লাহ, ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
১৩১. নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাসবীহ পাঠ করতেন?
আব্দুল্লাহ বিন ‘আমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি যে, তিনি আঙ্গুলে তাসবীহ গণনা করতেন।” অন্য বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে: “তাঁর ডান হাত দ্বারা।”[৩১২] [৩১২] আবু দাউদ, খণ্ড: ০২, পৃষ্ঠা: ৮১, হাদীস নং: ১৫০২; এবং তিরমিজী, খণ্ড: ০৫, পৃষ্ঠা: ৫২১, হাদীস নং: ৩৪৮৬; এবং দেখুন: সহীহুল জামে, খণ্ড: ০৪, পৃষ্ঠা: ২৭১, হাদীস নং: ৪৮৬৫; আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহ সুনানে আবু দাউদ, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ৪১১।
১৩২. বিবিধ কল্যাণ ও সামষ্টিক কিছু আদব
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন রাত্রের আঁধার নেমে আসে -অথবা সন্ধ্যা হয়- তখন তোমাদের সন্তানদের ঘরে আটকিয়ে রাখবে। কেননা এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে। তবে রাতের কিছু সময় অতিক্রান্ত হলে তখন তাদের ছেড়ে দিতে পার। আর ঘরের দরজা বন্ধ করবে আর আল্লাহর নামের যিকির করবে; কেননা শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। আর তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে (বিসমিল্লাহ বলে) তোমাদের মশকের মুখ বন্ধ করে দেবে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে তোমাদের পাত্রগুলোকে ঢেকে রাখবে কমপক্ষে পাত্রগুলোর উপর কোন জিনিস আড়াআড়িভাবে রেখে হলেও। আর (শয়নকালে) তোমরা তোমাদের বাতিসমূহ নিভিয়ে দেবে।”[৩১৩] [৩১৩] সহীহ আল-বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ৮৮, হাদীস নং: ৫৬২৩; এবং সহীহ মুসলিম, খণ্ড: ৩, পৃষ্ঠা: ১৫৯৫, হাদীস নং: ২০১২।
আর সালাত, সালাম ও বরকত নাযিল হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর, তার পরিবার পরিজন এবং সকল সাহাবীর ওপর।
Related books
All books
সকাল ও সন্ধ্যায় পড়ার জিকিরসমূহ57 ভাষাসকাল ও সন্ধ্যায় পড়ার জিকিরসমূহ
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) মাবূদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সব কিছুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না। তাঁর জন্যই আসমানসমূহে যা রয়েছে তা এবং যমীনে যা আছে তা। কে সে, যে তাঁর নিকট সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ছাড়া? তিনি জানেন যা আছে তাদের সামনে এবং যা আছে তাদের পেছনে। আর তারা তাঁর জ্ঞানের সামান্য পরিমাণও আয়ত্ব করতে পারে না, তবে তিনি যা চান তা ছাড়া। তাঁর কুরসী আসমানসমূহ ও জমিন পরিব্যাপ্ত করে আছে এবং এ দু’টোর সংরক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ, মহান। আয়াতুল কুরসী, [সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫] রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের…
কিতাবুত তাওহীদ14 ভাষাকিতাবুত তাওহীদ
যা বান্দার ওপর আল্লাহর হক রচনায়: শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রাহমান আত-তামীমী, ১২০৬ হিজরী তত্ত্বাবধানে:
দু‘আর ফযীলত, আদব ও দু‘আর মুস্তাহাব সময়9 ভাষাদু‘আর ফযীলত, আদব ও দু‘আর মুস্তাহাব সময়
সকল প্রসংশা আল্লাহর জন্য আর সালাত ও সালাম তাঁর রাসূলের ওপর। অতঃপর: বান্দা যেসব উপায় দ্বারা তার রবের নৈকট্য হাসিল করে তার মধ্যে সবচেয়ে বড় উপায় দু‘আ। এটি বান্দার স্বীয় রবের সামনে বিনয়ী হওয়া, নিজের দূর্বলতা ও মুখাপেক্ষীতা স্বীকার করা ও স্বীয় মনিবের সামনে নিজের চরম বিনয়াবনতা প্রকাশ করার দলিল। আর তার রবের সাহায্য ও নির্দেশনা ছাড়া তার কোনো শক্তি ও অবলম্বন নেই। এ কারণে যে দু‘আ ত্যাগ করে মহান আল্লাহ তাকে স্বীয় বাণীতে অহংকারী বলে বিশেষিত করেছেন: “আর তোমাদের রব বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দিবো। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায়…
হজ্জ, উমরাহ এবং যিয়ারাতের বিভিন্ন মাসআলা সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ।46 ভাষাহজ্জ, উমরাহ এবং যিয়ারাতের বিভিন্ন মাসআলা সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ।
গ্রন্থটি কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে হজ, ‘উমরাহ ও যিয়ারাতের বিধানাবলি ব্যাখ্যা করে; হজ ও ‘উমরার ওয়াজিবসমূহ, ইহরামের সময়ে আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসমূহ এবং মসজিদে নববী যিয়ারাতের আদব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে; পাশাপাশি এ সকল ইবাদাতসমূহে বিদআত থেকে সতর্ক করে।