صفة الوضوء والصلاة (مرئي)
কীভাবে অযু করব? ম আওয়ায ১ আযানের আওয়ায ২
This PDF is generated automatically from the book's text; its layout may differ from the printed edition.
কীভাবে অযু করব?
ম
আওয়ায
১
আযানের আওয়ায
২
“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতে দন্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমরা তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত কর আর তোমরা তোমাদের মাথা মাসেহ করো এবং টাখনু পর্যন্ত পা ধৌত কর”।
৩
অযু ব্যতীত সালাত আদায় হয় না। আর নিয়াত ব্যতীত অযু হয় না। আবার ইখলাস ব্যতীত নিয়াত শুদ্ধ হয় না। নিয়াতের স্থান হলো অন্তর; মুখে নয়।
৪
বিসমিল্লাহ...
অযুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা শরী‘আতেরই বিধান। সুতরাং বিসমিল্লাহ বলে অযু শুরু করব। অতঃপর যদি সম্ভব হয় মুখ পরিস্কার করতে মিসওয়াক ব্যবহার করব।
৫
দু’হাতের কব্জি তিনবার ধৌত করব। আঙ্গুলের আগা থেকে শুরু করে তালুর জয়েন্ট (কব্জি) পর্যন্ত ধৌত করব।
৬
দু’হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার পরপর ধৌত করব।
৭
প্রথমে ডান হাতের কব্জি তিনবার ধৌত করব। অতঃপর বাম হাতের কব্জি তিনবার ধৌত করব।
৮
যেমন বৈধ রয়েছে প্রথমে ডান কব্জি (একবার) ধোয়া অতঃপর বাম কব্জি (একবার) ধোয়া। অতঃপর ডান কব্জি অতঃপর বাম কব্জি ...এভাবে।
৯
আমাদের আঙ্গুলসমূহে পানি প্রবেশ করানো নিশ্চিত করাসহ।
১০
অতঃপর কুলি করব এবং নাকে পানি দিবো।
১১
কুলি করা হলো মুখে পানি প্রবেশ করিয়ে তা মুখের অভ্যন্তরে ঘুরানো, অতপর তা ফেলে দেয়া।
১২
আর নাকে পানি দেওয়া হলো শ্বাসের সাহায্যে নাকের অভ্যন্তরে স্বজোরে পানি প্রবেশ করানো, অতপর বাম হাত দিয়ে নাক ঝেড়ে তা বের করা।
১৩
সুন্নাত হলো নাকের ভিতরে পরিপূর্ণভাবে পানি প্রবেশ করানো; যদি অযুকারী সাওম পালনকারী না হয় অথবা ক্ষতির আশংঙ্কা না করে।
১৪
কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার দু’টি পদ্ধতি রয়েছে:
১৫
এক সঙ্গে করা (মিলানো): এক হাতের অঞ্জলিতে পানি নিয়ে অর্ধেক মুখে প্রবেশ করিয়ে কুলি করা এবং বাকী অর্ধেক নাকে প্রবেশ করিয়ে নাক পরিস্কার করা।
পানি মুখের ভিতরে নড়াচড়া করার পরে ফেলে দিবো অতঃপর বাম হাত দ্বারা নাকের ভিতরের ময়লা দূর করে নাক পরিস্কার করব।
এটি আমরা তিন কোষ পানি নিয়ে তিনবার করব।
১৬
আর পৃথকভাবে করার পদ্ধতি হলো- হাতের অঞ্জলিতে কুলি করার জন্য আলাদাভাবে পানি নেয়া, আবার নাকের জন্য আলাদাভাবে পানি নিয়ে নাক পরিস্কার করা। আমরা এক কোষ পানি নিয়ে তার সবই মুখে নিবো এবং তা মুখের ভিতরে নড়চড় করে ফেলে দেবো। তারপর আবার দ্বিতীয় কোষ পানি নেবো আর তা নাকে প্রবেশ করিয়ে বাম হাত দ্বা্রা তা পরিস্কার করব।
১৭
কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার পরেই মুখমণ্ডল ধৌত করা।
১৮
আর মুখমন্ডলের পরিসীমা হলো দৈর্ঘ্যে- সাধারণত চুল গজানো স্থান থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত এবং প্রস্তে এর পরিসীমা হলো-এক কানের লতি থেকে আরেক কানের লতি পর্যন্ত।
১৯
মুখমন্ডলে গজানো সমস্ত চুলসহ ধৌত করা। যেমন-পাতলা দাঁড়ি, মোচ, দুই ভ্রু, চোখের পশম, নিম দাড়ি যা নিচের ঠোঁটের নিম্নভাগে জন্মায়।
২০
মুখমন্ডল ধোয়ার দুটি পদ্ধতি রয়েছে:
২১
প্রথম পদ্ধতি: দুই হাত একত্রকরে পানি ভর্তি করে নিবো অতঃপর মাথার চুল গজানোর জায়গা থেকে থুতনির নিচ পর্যন্ত ধৌত করব এবং ডান কানের থেকে বাম কান পর্যন্ত ধৌত করব। আর দাঁড়ি যদি ঘন হয় তবে সুন্নত হলো দাঁড়ির নিম্নাংশে পানি প্রবেশ করানো এবং দাঁড়ি খিলাল করা।
এভাবে আমরা তিনবার পালন করব। আর তিনবার করাই পরিপূর্ণরূপে করা। অথবা দুইবার বা একবার করব যা করা ওয়াজিব।
২২
দ্বিতীয় পদ্ধতি হলো-শুধু ডান হাতে পানি নিবো অতঃপর তা মুখমন্ডলে দিবো। পূর্বের পদ্ধতির মতো দুই হাত দিয়েই চেহারা ধৌত করব। এভাবে তিনবার করব।
২৩
অযুতে অঙ্গসমূহ ধৌত করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব। তাছাড়া এক অঙ্গ ধোয়ার সাথে সাথেই বিলম্ব না করে অন্য অঙ্গসমূহ ধৌত করাও ওয়াজিব। সুতরাং আমরা এক অঙ্গকে আরেক অঙ্গের আগে ধৌত করব না। আবার এক অঙ্গ ধোয়ার পরে পরবর্তী অঙ্গ ধৌত করতে বিলম্ব করব না।
২৪
মুখমন্ডল ধোয়ার পরে আমরা দু’হাত ধৌত করব।
২৫
দুই হাত ধোয়ার ওয়াজিব সীমা হলো- আঙ্গুলের আগা থেকে হাতের কনুই পর্যন্ত, দুই কনুই ধৌত করাসহ।
২৬
আমরা ডান হাতের আঙ্গুলের আগা থেকে কব্জি পর্যন্ত প্রথমে ধৌত করব। দুই হাতের আঙ্গুুল পরস্পর ঢুকিয়ে খিলাল করব। অতঃপর কনুই পর্যন্ত পানি প্রবাহ করব (এবং কনুইসহ ধৌত করব)।
২৭
অতপর বাম হাত ধৌত করব। পূর্বের পদ্ধতিতে হাতের আঙ্গুলিসমূহ খিলাল করাসহ তা থেকে কনুই পর্যন্ত ধৌত করব।
২৮
অতঃপর আমরা মাথা মাসেহ করব। নতুন পানি নিয়ে দু’হাত ভেজাবো, অতঃপর ভেজানো দু’হাত মাথার সম্মুখভাগ থেকে গর্দান পর্যন্ত নিয়ে যাবো। অতঃপর উক্ত দু’হাত যেখান থেকে শুরু করেছি সেখানে নিয়ে আসব। মাসেহ করার ক্ষেত্রে টাক মাথা ও চুলবিশিষ্ট মাথার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
২৯
অতঃপর যে পানি দিয়ে মাথা মাসেহ করেছি তার অবশিষ্ট পানি দ্বারা দু’কান মাসেহ করব। তা শুধু একবার করব।
৩০
কান মাসেহ করা নিয়ম হলো: উভয় তর্জনী অঙ্গুলীর অগ্রভাগ উভয় কানের ভিতরে ঢুকাবো এবং মাসেহে করব তারপর উভয় বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দিয়ে কানের বহির্ভাগ মসেহ করবো। এভাবে আমরা উভয় কানের সম্মুখভাগ ও ভিতরের অংশ মাসেহ করলাম।
৩১
অতপর দু’পা ধৌত করব। উভয় পা ধোয়ার ফরয সীমা হলো- পায়ের আঙ্গুলসমূহের অগ্রভাগ থেকে উভয় টাখনু পর্যন্ত ধৌত করব। সুতরাং পায়ের গোড়ালী ধৌত করা ওয়াজিব।
৩২
প্রথমে ডান পা ধৌত করব এবং পায়ের আঙ্গুলীসমূহ খিলাল করব। আর পায়ের গোড়ালী ও তার ওপরের অংশ গুরুত্বের সাথে ধৌত করব।
৩৩
অতঃপর আমরা বাম পা ধৌত করব, যেভাবে ডান পা ধৌত করেছি। আর আঙ্গুলসমূহ খিলাল করতে ভুলব না এবং গোড়ালী পরিপূর্ণভাবে ধৌত করব এবং উভয় পায়ের টাখনুতে পূর্ণভাবে পানি পৌঁছাবো।
৩৪
[অতপর বলব]: أشْهَدُ أنْ لا إلهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ، وأشهدُ أنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।”
৩৫
অযু শেষে যিকর ও দু‘আ বলা সুন্নাত। উপরোক্ত দু‘আর সাথে বৃদ্ধি করাও সুন্নাত-
৩৬
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَوَّابِينَ، واجْعَلْني مِنَ المُتَطَهِّرِينَ “হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”
৩৭
অথবা
سُبْحانَكَ اللَّهُمَّ وبِحَمْدِكَ، أشْهَدُ أنْ لا إلهَ إِلاَّ أنْتَ، أسْتَغْفِرُكَ وأتُوبُ إِلَيْكَ “হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি ব্যতীত সত্য কোনো মা‘বূদ নেই, আপনার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি’।”
মীম
নোটিশ বোর্ডে লিখিত
১
কীভাবে অযু করব?
২
“হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং টাখনু পর্যন্ত পা (ধৌত কর)।”
[সূরা আল-মায়েদা: ৬]
৩
কব্জি ধোয়া
৪
কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া
৫
একত্রে
৬
আলাদাভাবে
৭
মুখমন্ডল ধৌত করা
৮
প্রথম
৯
দ্বিতীয়:
১০
নিয়াত করা ও বিসমিল্লাহ বলা
১১
দুই কব্জি ধোয়া
১২
কুলি করা
১৩
নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করা
১৪
মুখমন্ডল ধৌত করা
১৫
দুই হাত কনুইসহ ধোয়া
১৬
মাথার ওপর মাসেহ করা ও কান মাসেহ করা
১৭
দুই পা টাখনুসহ ধোয়া।
১৮
দু’হাত ধৌত করা
১৯
মাথা মাসেহ করা
২০
মাথার অগ্রভাগ=কপাল ঝুকানোর অংশ ও সাধারণত চুল গজানোর শুরুর স্থান
২১
মাথার শেষভাগ= ঘাড়ে চুল গজানোর শেষ সীমা
২২
দু’কান মাসেহ করা
২৩
দু’পা ধৌত করা
২৪
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“গোড়ালীসমূহের জন্য রয়েছে ওয়াইল (জাহান্নাম)। তোমরা ওযূকে পূর্ণ করো।”
এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন।
২৫
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
২৬
اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَوَّابِينَ، واجْعَلْني مِنَ المُتَطَهِّرِينَ “হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।”
এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
২৭
سُبْحانَكَ اللَّهُمَّ وبِحَمْدِكَ، أشْهَدُ أنْ لا إلهَ إِلاَّ أنْتَ، أسْتَغْفِرُكَ وأتُوبُ إِلَيْكَ “হে আল্লাহ! আপনি পবিত্র এবং সমস্ত প্রশংসা আপনার জন্য। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি ব্যতীত আর কোনো সত্য মা‘বূদ নেই, আপনার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি’।”
এটি নাসায়ী তাঁর ‘আমালুল ইয়াওমি ওয়াল-লাইলাহ’ তে বর্ণনা করেছেন।
কীভাবে সালাত আদায় করব?
তাকবীরে তাহরীমা থেকে সালাম ফিরানো পর্যন্ত সালাত।
ম
শব্দ
১
সালাতের ইকামতের আওয়াজ
২
ইকামতের আওয়াজ চলমান
নিয়তকে স্মরণ করা যা মুসল্লী সর্বপ্রথম করে থাকেন। আর নিয়তের জায়গা হলো অন্তর।
৩
আমরা কিবলামুখী হবো। আপনি ইমাম বা একাকী মুসল্লী হলে সামনে সুতরা (আড়াল) দিবেন।
৪
আল্লাহু আকবার (আল্লাহু সবচেয়ে বড়)।
ইহরামের তাকবীর আর তার দ্বারা আমরা সালাতে প্রবেশ করি। এটি মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক।
৫
তাকবীর বলার সময় আমরা আমাদের দু’হাত কাঁধ বরাবর উত্তোলন করব আর আমাদের আঙ্গুল কিবলামুখী করব।
অথবা
আমরা তাকবীর বলার সময় পুর্বোক্ত নিয়মে আমাদের দু’হাত দু’কান বরাবর উত্তোলন করব।
৬
তাকবীর বলার পরে আমরা আমাদের দু’হাত বুকের উপর বাঁধব অথবা বুকের নিচে নাভীর উপরে অথবা নাভীর নিচে বাঁধব। উপরোক্ত সব পদ্ধতিই সহীহ।
আমাদের ডান হাত বাম হাতের তালুর উপর রাখব।
অথবা ডান হাতের কব্জি দ্বারা বাম হাতের পিঠের ওপর ধরব।
অথবা ডান হাত দিয়ে বাম হাতের বাহুর ওপর ধরবে।
৭
[অতঃপর পড়ব:] «اللهمَّ باعِدْ بينِي وبينَ خَطايايَ كما باعَدتَّ بينَ المشرقِ والمَغرب، اللهمَّ نقِّني من خطايايَ كما يُنقَّى الثَّوبُ الأبيضُ منَ الدَّنَس، اللهمَّ اغسِلْنِي من خَطَايايَ بالثَّلجِ والماءِ والبَرَد». “হে আল্লাহ্! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দিন যেমন ব্যবধান করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ্ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ্ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দিন।”
তাকবীরে তাহরীমার পরে এবং কিরাত শুরু করার আগে সালাত শুরু করার দু‘আ পড়ব। সালাত শুরু করার অন্যান্য দু‘আও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। সুন্নাত হলো একেক সময় একেক দু‘আ পড়া।
৮
أعوذُ باللهِ منَ الشَّيطانِ الرَّجيم “আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।”
সালাত শুরু করার পরক্ষণে আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম পড়া। অতঃপর সূরা ফাতিহা পড়া।
৯
অত্যন্ত খুশু’ (বিনয়) ও প্রশান্তির সাথে এক আয়াত এক আয়াত করে পড়ব।
১০
আমীন বলা
মুসল্লীর জন্য তা বলা সুন্নাত। হোক সে ইমাম, অথবা মুক্তাদি অথবা একাকী সালাত আদায়কারী। এটি সূরা ফাহিতার আয়াত নয়’ বরং এটি একটি দু‘আ তার অর্থ হলো- হে আল্লাহ আপনি কবুল করুন।
১১
সূরা ফাতিহার পরে আল-কুরআন থেকে পূর্ণ সূরা হোক বা সূরার অংশবিশেষ হোক যা তিলাওয়াত করা সহজ তা তিলাওয়াত করা। সূরা তিলাওয়াত শেষ হলে রুকুতে যাওয়ার আগে সামান্য সময় চুপ থাকব।
১২
আল্লাহু আকবর
দাঁড়ানো থেকে রুকুতে যেতে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে তাকবীর বলব।
এটি সালাতের দ্বিতীয় জায়গা যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত উত্তোলন করতেন। সুতরাং আমাদের জন্যও সুন্নাত হলো আমরা কাঁধ অথবা কান বরাবর হাত উঠাবো।
১৩
রুকুতে আমরা দু’হাত দু’হাঁটুর উপর রাখব এবং হাতের আঙ্গুলসমূহ খোলা রাখব। আমরা এমনভাবে হাত হাঁটুতে রাখব যেন আমরা হাঁটুকে ধরে রেখেছি।
রুকুতে ইতমিনান বা স্থিরতা অবলম্বন করব। আমরা দু’হাত উভয় পাশ্বের থেকে আলাদা রাখব। রুকুতে আমরা কোন একপাশে ঝুঁকে পড়ব না।
১৪
পিঠ বরাবর সোজা থাকবে, ধনুকের মতো বাঁকা হবে না আর মাথা পিঠ বরাবর থাকবে। পিঠের চেয়ে উপরের দিকেও বেশি উঠাবো না আবার নিচের দিকেও বেশি ঝুঁকে যাবো না।
১৫
অতপর বলব: «سبحانَ ربِّيَ العظيم» আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
দো‘আটি তিনবার পড়ব। আর তিনবার পড়া সর্বনিম্ন পূর্ণতা। একবার পড়লেও যথেষ্ট হবে। তিনের অধিক পড়তে চাইলে পড়তে পারব। হাদীসে বর্ণিত দু’আসমূহ একেক সময় একেকটি পড়ব।
১৬
রুকুতে পঠিত দু‘আসমূহ বিভিন্ন প্রকার।
১৭
سَمِعَ اللهُ لمَنْ حَمِدَه “আল্লাহ তা‘আলা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন”
আমাদের কেউ একাকী সালাত আদায়কারী বা ইমাম হলে রুকু থেকে উঠার সময় তা বলব।
১৮
আর আমরা আমাদের উভয় হাত কাঁধ অথবা কান বরাবর উঠাবো। এটি সালাতের তৃতীয় জায়গা যেখানে আমরা আমাদের হাত উত্তোলন করব।
১৯
অতঃপর বলতে বলতে সোজা হয়ে দাঁড়াবো:
«رَبَّنَا ولكَ الحَمْدُ» “হে আমাদের রব, আপনার জন্যেই সকল প্রশংসা।
২০
রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর আমরা দাঁড়ানো অবস্থায় উভয় হাত ছেড়ে দিবো অথবা যেভাবে বুকের উপর ছিল সেভাবে বুকের বাঁধব।
২১
রুকু হতে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানো ও তাতে ধীরস্থির হওয়া সুন্নাত।
২২
الله أكبر আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
অতঃপর দাঁড়ানো থেকে সাজদায় যাওয়ার তাকবীর বলে জমিনে ঝুঁকে সিজদায় যাবো।
জমিনে হাঁটু রাখার আগে দু’হাত রাখব অথবা দু’হাঁটু দু’হাত রাখার আগে রাখব। যেটি আমাদের জন্য করা সহজ হয় সেটি করব।
২৩
আমাদের সাতটি হাঁড়ের ওপর সিজদা দেওয়া ওয়াজিব। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন:
নাকসহ কপাল, উভয় হাতের তালু, উভয় পায় এবং উভয় হাঁটু।
২৪
দু’পায়ের আঙ্গুলগুলো কিবলামুখী করে রাখব এবং দু’পা খাড়া রাখব।
উভয় রানের মধ্যে ফাঁকা রাখব এবং পেট উভয় রান থেকে পৃথক রাখব।
উভয় হাতের বাহু পার্শ্ব থেকে দূরে রেখে জমিন থেকে ওপরে রাখব। আমরা যখন জামাআতে সালাত আদায়কারী না হবো তখন এরূপ করব, যাতে আমাদের পাশের অন্যকে কষ্ট দেওয়া না হয়।
উভয় হাতের তালু কাঁধ বরাবর অথবা উভয় কান বরাবর রাখব।
২৫
«سبحانَ ربِّي الأعلى» আমরা সুমহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
দো‘আটি তিন পড়ব। আর তিনবার পড়া সর্বনিম্ন পূর্ণতা। একবার তাসবীহ পড়লেও যথেষ্ট হবে। তিনের অধিক পড়তে চাইলে পড়তে পারব। হাদীসে বর্ণিত বিভিন্ন দু’আ একেক সময় একেকটি পড়ব আর দুনিয়া ও আখিরাতের যেসব কল্যাণ আমরা পছন্দ করি তা চেয়ে দো‘আ করব।
২৬
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বান্দা স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয় তখন, যখন সে সাজদার অবস্থায় হয়। সুতরাং (ঐ সময়) তোমরা বেশী বেশি দু‘আ কর।”
২৭
الله أكبر আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
তাকবীর বলতে বলতে সিজদা থেকে মাথা উত্তোলন করব।
বাম পা বিছিয়ে তার উপর ধীরস্থিরভাবে বসব, ডান পা খাড়া রাখব এবং আঙ্গুলগুলো কিবলার দিকে রাখব।
অথবা
উভয় পা খাড়া রাখব এবং গোড়ালীর উপর বসব।
উভয় হাতের বাহু বিছিয়ে দিবো। ডান হাত ডান রানের উপর, বাম হাত বাম রানের উপর রাখব। হাঁটুর কাছাকাছি বা হাঁটুর উপর রাখব।
২৮
ربِّي اغفر لي “হে আমার রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।”
দু‘আটি দু’সিজদার মাঝখানে পড়ব যখন আমরা ধীরস্থিরভাবে বসি।
২৯
الله أكبر “আল্লাহ সবচেয়ে বড়।”
তাকবীর বলে দ্বিতীয় সিজদায় যাবো। দ্বিতীয় সাজদাহ আকৃতি ও তাতে যা যা বলা হবে তার ক্ষেত্রে প্রথম সিজদার মতোই।
৩০
الله أكبر “আল্লাহ সবচেয়ে বড়।”
অতঃপর দ্বিতীয় রাক‘আত প্রথম রাক‘আতের পদ্ধতিতে আদায় করব:
দু’হাত বাঁধা, সূরা ফাতিহা পড়া এবং কুরআনের এক বা একাধিক আয়াত তিলাওয়াত করা।
অতঃপর রুকু করব।
الله أكبر “আল্লাহ সবচেয়ে বড়।”
অতঃপর দাঁড়াবো ...
অতপর বলব: سَمِعَ اللهُ لمَنْ حَمِدَه “আল্লাহ তা‘আলা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন।”
অতঃপর সিজাদায় যাবো।
الله أكبر “আল্লাহ সবচেয়ে বড়।”
দু’সিজদা করব অতঃপর তাশাহহুদের জন্য বসব।
الله أكبر আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
الله أكبر আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
الله أكبر আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
৩১
দ্বিতীয় রাক‘আত সমাপ্ত হলে তাশাহহুদের জন্য বসব। ইফতিরাশ পদ্ধতিতে তথা ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসব ...
৩২
আর ইফতিরাশ পদ্ধতিতে বসা হবে দু’রাক‘আত বিশিষ্ট সালাতে, যেমন ফজর, জুমু‘আহ ও দু’ ঈদের সালাতে। এমনিভাবে তিন ও চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাতের প্রথম তাশাহহুদে ও দু’সিজদার মধ্যবর্তী বসাতে।
৩৩
যে ব্যক্তি শারীরিক স্থুলতা বা পায়ের ব্যথা বা অন্য কোনো কারণে ইফতিরাশ পদ্ধতিতে (ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর) বসতে না পারবে সে যেভাবে বসতে সক্ষম হবে সেভাবে বসবে।
৩৪
তাশাহহুদে ডান হাত ডান রানের উপর রাখব এবং ডান হাতের সব আঙ্গুল মুষ্টি বদ্ধ করে রাখব, শুধু শাহাদাত আঙ্গুলি ব্যতীত, তার মাধ্যমে তাওহিদের প্রতি ইশারা করব।
৩৫
অথবা বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমা আঙ্গুল দ্বারা হালকা (রিং) বানাবো এবং (কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙ্গুল মুষ্টি বদ্ধ রেখে) শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করবো।
৩৬
আর বাম হাত বাম রানের উপর রাখবো অথবা হাটুর উপর তা মুড়িয়ে রাখবো।
তাশাহহুদের সময় মুস্তাহাব হলো আমাদের দৃষ্টি ডান হাতের শাহাদাত আঙ্গুলির দিকে রাখা।
৩৭
«التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ» “সকল মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ‘ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।”
তিন বা চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাত হলে প্রথম বৈঠকে শুধু তাশহহুদ পড়ব।
কিন্তু দুই রাক‘আত বিশিষ্ট সালাত হলে, যেমন ফজর বা জুমু‘আ বা দুই ঈদের সালাত তখন তাশাহহুদ পড়ার পরে দুরুদে ইবরাহীম পড়ব।
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ (“হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর বরকত দান করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।”
৩৮
السَّلامُ عليكم ورحمةُ الله “তোমাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত নাযিল হোক।“
السَّلامُ عليكم ورحمةُ الله “তোমাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত নাযিল হোক।“
তাশাহহুদ এবং সুন্নাতে নববীতে বর্ণিত দু‘আসমূহ পড়ার পরে সালাম ফিরাবো। ... তবে এটি দুই রাক‘আত বিশিষ্টি সালাতে।
৩৯
আমরা আস্তে শোনাবো: আল্লাহু আকবর।
কিন্তু তিন রাক‘আত বিশিষ্ট সালাত যেমন মাগরিবের ফরজ বা চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাত যেমন যোহর, আসর ও ইশার সালাত হলে ...
৪০
প্রথম তাশহহুদের পরে অবশিষ্ট এক রাকআত পড়তে দাঁড়াবো, যদি তা মাগরিবের ফরজ সালাত হয় অথবা অবশিষ্ট দুই রাক‘আত পড়তে দাঁড়াবো যদি তা যোহর, আসর বা ইশার সালাত হয়। তাতে সূরা ফাতিহা পড়ব। সাথে পূর্বোক্ত বর্ণিত পদ্ধতিতে রুকু, সিজদা, কিয়াম ও বসা পরিপূর্ণ করব।
৪১
الله أكبر “আল্লাহ সবচেয়ে বড়।”
৪২
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’টি তাশাহহুদ বিশিষ্ট প্রত্যেক সালাতে শেষ তাশাহহুদের বৈঠকে তাওয়াররুক পদ্ধতিতে বসতেন।
৪৩
তাওয়াররুক পদ্ধতিতে বসা শুধু তিন ও চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাতের শেষ তাশাহহুদের বৈঠকে হয়ে থাকে। আর তাওয়াররুক পদ্ধতিতে বসার কয়েকটি ধরন রয়েছে:
৪৪
ডান পা খাড়া করে বাম পা বিছানো এবং উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে দেয়া আর পাছা যমীনের উপর স্থির রাখা।
অথবা:
উভয় পা বিছিয়ে দেয়া এবং উভয় পা ডান দিক দিয়ে বের করে দেয়া।
অথবা:
অথবা ডান পা বিছিয়ে দেবে এবং ডান পায়ের বাহু ও উরুর মাঝখানে বাম পা প্রবেশ করাবে।
৪৫
শেষ তাশহহুদের বৈঠকে তাশাহহুদ তথা আত্তাহিয়্যাতু পড়ব অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করব।
৪৬
তাশাহহুদের পরে এবং সালাম ফিরানো আগে আল্লাহর কাছে চারটি বিষয় থেকে পানাহ প্রার্থনা করব: জাহান্নামের আযাব থেকে, কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে।
দুনিয়া ও আখিরাতের যে কোনো কল্যাণ চেয়ে দু‘আ করব।
৪৭
السَّلامُ عليكم ورحمةُ الله “তোমাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত নাযিল হোক।“
السَّلامُ عليكم ورحمةُ الله “তোমাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত নাযিল হোক।“
সালাম ফিরানো ব্যতীত সালাত শেষ হয় না এবং সালাত থেকে হালাল হওয়া যায় না।
৪৮
সালাম ফিরানোর মাধ্যমে আমরা আমাদের সালাত সমাপ্ত করলাম।
أسْتَغْفِرُ الله (আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি) ৩ বার।
৪৯
মুসল্লীর জন্য সুন্নাত হলো সালাম ফিরানোর পরে তিনবার ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ বলা। অত|পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যিকিরসমূহ পড়া।
ম
পর্দায় লিখিত
১
আপনি ইমাম হোন বা একাকী মুসল্লী হোন
২
তাকবীরে তাহরীমা
৩
আমরা আমাদের দু’হাত দু’কাঁধ বরাবর উত্তোলন করব।
৪
অথবা একই নিয়মে (দু’হাত) দু’কান বরাবর উত্তোলন করব।
৫
আমরা দু’হাত বুকের উপর রাখব।
৬
অথবা নাভীর উপরে রাখব।
৭
অথবা নাভীর নিচে রাখব।
৮
আমাদের ডান হাত বাম হাতের তালুর উপর রাখব।
৯
অথবা ডান হাত দিয়ে বাম হাত ধরব।
১০
সালাত শুরু করার দু‘আ
১১
«اللهمَّ باعِدْ بينِي وبينَ خَطايايَ كما باعَدتَّ بينَ المشرقِ والمَغرب، اللهمَّ نقِّني من خطايايَ كما يُنقَّى الثَّوبُ الأبيضُ منَ الدَّنَس، اللهمَّ اغسِلْنِي من خَطَايايَ بالثَّلجِ والماءِ والبَرَد». “হে আল্লাহ্! আমার এবং আমার গুনাহের মধ্যে এমন ব্যবধান করে দিন যেমন ব্যবধান করেছেন পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে। হে আল্লাহ্ আমাকে আমার গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র করুন যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করা হয়। হে আল্লাহ্ আমার গোনাহকে বরফ, পানি ও শিশির দ্বারা ধৌত করে দিন।” বর্ণনায় মুসলিম।
১২
সুন্নাত হলো একেক সময় একেকটি পড়া।
১৩
আশ্রয় প্রার্থনা করা
১৪
আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই
১৫
সূরা আল-ফাতিহা
১৬
(الحمد لله رب العالمين الرحمن الرحيم مالك يوم الدين إياك نعبد وإياك نستعين اهدنا الصراط المستقيم صراط الذين أنعمت عليهم غير المغضوب عليهم ولا الضالين) “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। দয়াময়, পরম দয়ালু, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। বিচার দিবসের মালিক। আপনারই আমরা ইবাদাত করি এবং আপনারই নিকট আমরা সাহায্য চাই। আমাদেরকে সরল পথ দেখান। পথের হিদায়াত দিন। তাদের পথ, যাদের উপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যাদেরকে নিয়ামত দিয়েছেন।যাদের উপর (আপনার) ক্রোধ আপতিত হয়নি এবং যারা পথভ্রষ্টও নয়।”
১৭
হে আল্লাহ, আপনি কবুল করুন
১৮
এটি একটি দু‘আ অর্থ হলো: হে আল্লাহ আপনি করুন।
১৯
কুরআন থেকে যতটুকু তিলাওয়াত করা সহজ তা তিলাওয়াত করব।
২০
রুকু
২১
আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
২২
পিঠ সোজা থাকবে, ধনুকের মতো বাঁকা হবে না।
২৩
«سبحانَ ربِّيَ العظيم» আমরা সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
২৪
হাদীসে বর্ণিত রুকুর দু‘আসমূহ
২৫
অতি পবিত্র, মহা পবিত্র ফেরেশতামন্ডলী ও জিবরীল -এর রব।
২৬
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ “হে আল্লাহ! আমাদের রব, তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি তোমার প্রশংসাসহ। হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা কর।”
২৭
سَمِعَ اللهُ لمَنْ حَمِدَه “আল্লাহ তা‘আলা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন।”
২৮
رَبَّنَاوَلَكَ الْحَمْدُ،حَمْدًا كَثِيْرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فيْهِ “হে আমাদের রব! তোমার জন্যই সমস্ত প্রশংসা। তোমার প্রশংসা অসংখ্য, উত্তম ও বরকতময়।
২৯
আমরা হাত ছেড়ে দিবো
৩০
অথবা হাত বাঁধব
৩১
সিজদা
৩২
নাকসহ কপাল
৩৩
উভয় হাতুলী
৩৪
উভয় হাঁটু
৩৫
উভয় পা
৩৬
سُبحانَ ربِّيَ الأعلى ‘আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’
৩৭
“বান্দা স্বীয় রবের সর্বাধিক নিকটবর্তী হয় তখন, যখন সে সাজদার অবস্থায় হয়। সুতরাং (ঐ সময়) তোমরা বেশি মাত্রায় দু‘আ কর।” বর্ণনায় মুসলিম।
৩৮
ইফতিরাশের বসা (ডান পা খাড়া রেখে বাম পায়ের উপর বসা)।
৩৯
‘ইক‘আর বসা (উভয় উরু ও নলা খাড়া রেখে কুকুরের ন্যায় উভয় হাতের উপর বসা)।
৪০
ربِّ اغفِرْ لي ‘হে আমার রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন’ তিনবার বলা।
৪১
اللهمَّ اغفِرْ لي، وارحَمني، واجبُرني، واهدِني، وارزُقني “হে রব্ব আমাকে ক্ষমা করুন, আমাকে রহম করুন, আমার ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করুন, আমাকে হিদায়েত দান করুন এবং আমাকে রিযিক দান করুন।”
৪২
সকাল (সকালের সালাত)
৪৩
জুমু‘আহ
৪৪
দুই ঈদ
৪৫
যোহর
৪৬
আসর
৪৭
মাগরিব
৪৮
এশা
৪৯
«التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكَاتُهُ السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ» “সকল মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক ‘ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।”
৫০
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ “হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। “হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর বরকত নাজিল করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর বরকত নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।
৫১
যোহর-আসর-মাগরিব-ইশা
৫২
ফজর-জুমু‘আহ- দু’ঈদ
৫৩
اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ (“হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর বরকত নাযিল করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর বরকত নাযিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।
৫৪
السَّلامُ عليكم ورحمةُ الله “তোমাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত নাযিল হোক।“
৫৫
«وإذا جلَسَ في الرَّكعةِ الآخِرةِ، قدَّم رِجْلَه اليُسرى، ونصَبَ الأُخرى، وقعَدَ على مَقعَدَتِه» “এবং যখন শেষ রাক‘আতে বসতেন তখন বাঁ পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসতেন।” এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।
৫৬
তাওয়াররুকের (পদ্ধতিতে) বসা
৫৭
«اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابِ القَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ المَحْيَا وَالمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ» “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং কানা দাজ্জালের ফিতনার অনিষ্ট থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” বর্ণনায় মুসলিম।
৫৮
«اللَّهمَّ إنِّي ظلَمتُ نَفسي ظلمًا كثيرًا، ولا يغفرُ الذُّنوبَ إلَّا أنتَ، فاغفِر لي مغفرةً من عندِكَ وارحَمني إنَّكَ أنتَ الغفورُ الرَّحيمُ» “হে আল্লাহ! আমি আমার নিজের ওপর অনেক যুলুম করেছি। আর আপনি ছাড়া কেউ গুনাহসমূহ ক্ষমা করতে পারে না। অতএব, আপনার পক্ষ থেকে আমাকে বিশেষভাবে ক্ষমা করে দিন, আর আমার প্রতি দয়া করুন। নিশ্চয় আপনি ক্ষমাকারী, পরম দয়ালু।” বুখারী।
৫৯
‘আসতাগফিরুল্লাহ’ তিনবার
৬০
আর আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “কিয়ামাতের দিন বান্দার আমল হতে সর্বপ্রথম তার সালাতের হিসাব হবে। যদি তা ঠিক হয়, তাহলে সফল ও কামিয়াব হল। আর যদি তা ফাসিদ হয় তবে সে বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হল।” এটি আবূ দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন।
Related books
All books
অযুর পদ্ধতি (ব্যবহারিক ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা)77 ভাষাঅযুর পদ্ধতি (ব্যবহারিক ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা)
অযুর পদ্ধতি( ভিডিও ক্লিপ) বাস্তব প্রয়োগে ধাপে ধাপে অযুর পদ্ধতি বর্ণনা, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অযু সালাত শুদ্ধ হওয়ার শর্ত। ভিডিও ক্লিপটি দেখুন এবং অযুর সঠিক পদ্ধতি জানুন। অযুর পদ্ধতি
সাধারণ মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ40 ভাষাসাধারণ মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ
সম্মানিত শাইখ আবদুল আযীয ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ রচিত “সাধারণ মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ" সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত উপকারী একটি পুস্তিকা। লেখক এটি রচনা করেছেন—যেন সাধারণ মুসলিমের জন্য তা জ্ঞানের পাথেয় হয়। এতে তিনি সহজ-সরল ও স্পষ্ট ভাষায়,প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে সহিহ আকীদা ও ইবাদত সহজবোধ্য করে তোলার লক্ষ্যে দ্বীনের মূলনীতি ও রুকনসমূহ আলোচনা করেছেন—তাওহীদ, ঈমান ও ইসলাম থেকে শুরু করে পবিত্রতা ও সালাতের বিধানাবলি, ইসলামের আদব, এবং শিরক ও গুনাহের বিপদ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। (আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে সম্মানার্থে নিজের জন্য বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী…
উমরার বিবরণ25 ভাষাউমরার বিবরণ
শাইখ আবদুল আযীয ইবনু বায রহিমাহুল্লাহ-এর «صفة العمرة» বা "উমরার বিবরণ" একটি ছোট পুস্তিকা, যাতে উমরার নিয়মাবলি স্পষ্ট ও সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এটি এমন একটি বাস্তবভিত্তিক নির্দেশিকা, যা একজন মুসলিমকে বিনয় ও সহজতার সঙ্গে তার উমরাহ সংক্রান্ত ইবাদত পালনে সহায়তা করে। পুস্তিকাটিতে উমরার প্রতিটি ধাপে কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত দু‘আ ও যিকরসমূহ সংযুক্ত করা হয়েছে।
হজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা45 ভাষাহজের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর: এটি হজের পদ্ধতি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, আমরা হাজিদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রধান বিষয়গুলো এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আল্লাহর কাছে আমরা প্রার্থনা করি, তিনি যেন এটিকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য খালিস করে দেন এবং এর মাধ্যমে সমগ্র মুসলমানদের উপকৃত করেন। ভূমিকা