Skip to content
সফরের আদব ও বিধি-বিধান

সফরের আদব ও বিধি-বিধান

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবারবর্গ ও সমস্ত সাহাবীগণের ওপর। অতঃপর: এটি সফরের আদব এবং বিধান সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যেখানে আমরা মুসাফিরের জন্য প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ বিষয় উল্লেখ করার প্রয়াস পেয়েছি। আল্লাহর কাছে দো‘আ করি যে, তিনি এটিকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য খালিসভাবে কবুল করুন এবং এর মাধ্যমে সমগ্র মুসলিমকে উপকৃত করুন। প্রথমত: সফরের আদব

Language: lang_bn
Prepared by: বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সংস্থার একাডেমিক কমিটি
Version: 3.0

সফরের আদব ও বিধি-বিধান সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবারবর্গ ও সমস্ত সাহাবীগণের ওপর।

অতঃপর:

এটি সফরের আদব এবং বিধান সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যেখানে আমরা মুসাফিরের জন্য প্রয়োজনীয় বেশিরভাগ বিষয় উল্লেখ করার প্রয়াস পেয়েছি।

আল্লাহর কাছে দো‘আ করি যে, তিনি এটিকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য খালিসভাবে কবুল করুন এবং এর মাধ্যমে সমগ্র মুসলিমকে উপকৃত করুন।

বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সংস্থার একাডেমিক কমিটি

প্রথমত: সফরের আদব

হজ বা অন্যান্য ইবাদতের উদ্দেশ্যে সফরকারী ব্যক্তি নিম্নলিখিত বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:

১. মুসাফির সফরের সময় সময়, বাহন, সঙ্গী এবং একাধিক পথ থাকলে পথ নির্ধারণ ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহুর নিকট ইস্তিখারা (কল্যাণ প্রার্থনা) করবেন এবং এ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ও ধার্মিক ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করবেন। বিশেষত হজ্জ ও ওমরার ক্ষেত্রে তো করবেনই; কেননা নিঃসন্দেহে এগুলো ভালো কাজ। ইস্তিখারার পদ্ধতি হলো: দুই রাকাত সালাত পড়বে এবং তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত দোয়াটি পড়বে।

২. হজ্জ ও ওমরা পালনকারীকে তার হজ্জ ও ওমরার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং তাঁর নৈকট্য লাভের নিয়ত করা ওয়াজিব এবং অবশ্যই পার্থিব লাভ, অহংকার, উপাধি অর্জন অথবা লোক দেখানো ও খ্যাতি অর্জনের ইচ্ছা থেকে দূরে থাকতে হবে। কেননা তা আমল বাতিল ও গৃহীত না হওয়ার একটি অন্যতম কারণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (বলুন, ‘আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী হয় যে, তোমাদের ইলাহ একমাত্র সত্য ইলাহ। কাজেই যে তার রব-এর সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন সৎকাজ করে ও তার রব-এর ‘ইবাদাতে কাউকেও শরীক না করে)। [আল-কাহাফ, আয়াত: ১১০] আর হাদীসে কুদসীতে এসছে: “আমি শরীকদের শির্ক হতে সম্পূর্ণ মুক্ত। যদি কেউ এমন কাজ করে যাতে সে আমার সাথে অন্য কাউকে শরীক করে, আমি তাকে ও তার শির্ককে বর্জন করি।” [1] [১] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (২৯৮৫)।

৩. হজযাত্রী এবং ওমরা পালনকারীকে সফরের আগে ওমরা ও হজের বিধান এবং সফরের বিধান সম্পর্কে অবগত হতে হবে, যাতে সে কোন ওয়াজিব ত্যাগ না করে অথবা কোন হারাম কাজে লিপ্ত না হয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ‘ইলম দান করেন[২]।” [২] সহীহ বুখারী, হাদীস (৩১১৬), সহীহ মুসলিম, হাদীস (১০০)।

৪. হজযাত্রী বা ওমরা পালনকারীকে নিজের হজ ও ওমরার জন্য হালাল অর্থ নির্বাচন করা জরুরি। কারণ আল্লাহ পবিত্র, এবং তিনি পবিত্র ছাড়া গ্রহণ করেন না। অধিকন্তু হারাম সম্পদ দোয়া কবুল না হওয়ার কারণ।

৫. তার উচিত সকল পাপ ও সীমালঙ্ঘনের জন্য তাওবা করা এবং যদি সে মানুষের উপর অন্যায় করে থাকে, তাহলে সেগুলো ফিরিয়ে দেওয়া ও সেগুলোর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে মুক্ত হওয়া, চায় তা সম্ভ্রম, অর্থ, অথবা অন্য কিছু হোক।

৬. মুসাফিরের জন্য মুস্তাহাব হলো তার অসিয়ত, পাওনা এবং ঋণ লিখে রাখা। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে মুসলিম ব্যক্তির কাছে অসিয়ত করার মতো কিছু রয়েছে, তার জন্য এটি উচিত নয় যে, সে দু'রাত কাটাবে অথচ তার কাছে তার অসিয়ত লিখিত থাকবে না[৩]।” সে এ বিষয়ে সাক্ষী রাখবে, তার উপর থাকা ঋণ পরিশোধ করবে এবং আমানতগুলো তাদের মালিকদের কাছে ফেরত দিবে অথবা নিজের কাছে রাখার ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি চাইবে। [৩] সহীহ বুখারী, হাদীস নং (২৭৩৮), সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (১৬২৭)

৭. মুসাফিরের জন্য একজন ভালো সঙ্গী নির্বাচন করার চেষ্টা করা এবং সে যেন শরয়ী জ্ঞান অন্বেষণকারী ছাত্র হয় সে ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া মুস্তাহাব; কেননা এটি তার সাফল্যের উপায় এবং সফর, হজ ও ওমরায় ভুলে পতিত না হওয়ার মাধ্যম। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মানুষ তার বন্ধুর দ্বীনের উপর গড়ে ওঠে, অতএব তোমাদের প্রত্যেককে দেখা উচিত কাকে সে বন্ধু বানাবে[৪]।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: "মুমিন ছাড়া আর কারো সাথে বন্ধুত্ব করো না এবং তোমার খাবার যেন ধার্মিক ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ না খায়” [৫]। [৪] আবূ দাউদ, হাদীস নং (৪৮৩৩) [৫] আবূ দাউদ, হাদীস নং (৪৮৩২), তিরমিযী, হাদীস নং (২৩৯৫)

৮. মুসাফিরের জন্য মুস্তাহাব হল তার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং বন্ধুবান্ধবদের বিদায় জানানো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ভ্রমণ করতে চায়, তার উচিত তার রেখে যাওয়া লোকদের বলা: ‌أَسْتَوْدِعُكُمُ ‌اللَّهَ الَّذِي لَا يُضِيعُ وَدَائِعَهُ ('আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি, যিনি তাঁর কাছে যা আমানত করা হয় তা বিনষ্ট করেন না”[৬]। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন সাহাবী সফরের ইচ্ছে করলে তিনি তাদের বিদায় জানাতেন এবং বলতেন: “আমি তোমার দ্বীন, তোমার আমানত এবং তোমার আমলের পরিণাম আল্লাহর নিকট সঁপে দিলাম”[৭]। আর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কোন মুসাফির অসিয়ত চাইলে তিনি তাকে বলতেন: “আল্লাহ তোমাকে তাকওয়া দান করুন, তোমার পাপ ক্ষমা করুন এবং তুমি যেখানেই থাক না কেন তোমার জন্য কল্যাণ সহজ করুন।” [৮] এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে সফরের ইচ্ছা প্রকাশ করে বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে উপদেশ দিন। তিনি বললেন: “আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তুমি আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং প্রতিটি উঁচু স্থানে তাকবীর বল”। যখন সে চলে গেল, তখন বললেন: “হে আল্লাহ, তার জন্য পৃথিবীকে ঘুটিয়ে দাও এবং তার উপর সফরকে সহজ কর” [৯]। [৬] তাবরানী, হাদীস নং (৮২৩) [৭] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং (৪৫২৪) [৮] তিরমিযী, হাদীস নং (৩৪৪৪) [৯] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং (৯৭২৪)

৯. সফরকালে মুসাফির ঘণ্টা, বাঁশি ও কুকুর সাথে নিবে না; কেননা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর হাদীসে এসেছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘‘ফিরিশতাগণ এমন কাফেলার সঙ্গী হয় না, যাদের সাথে কুকুর কিম্বা ঘণ্টা থাকে” [১০]।’ [১০] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (২১১৩)

১০. যদি মুসাফিরের একাধিক স্ত্রী থাকে এবং তাদের একজনকে নিয়ে সফর করতে চায়, তাহলে তিনি তাদের মধ্যে লটারি করবেন এবং যার নাম উঠবে তাকে সাথে নিয়ে সফরে যাবেন। কারণ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেন: “যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর করার ইচ্ছে করতেন, তিনি তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে লটারি করতেন, যার নাম বের হত, তাকে সাথে নিয়ে বের হতেন” [১১]। [১১] সহীহ বুখারী, হাদীস নং (২৫৯৩), সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (২৭৭০)।

১১. যদি সম্ভব হয় বৃহস্পতিবার দিনের শুরুতে সফর করা মুস্তাহাব; কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন, কাব ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে বের হলে বৃহস্পতিবার ছাড়া খুব কম-ই সফরে বের হতেন।” [১২] [১২] সহীহ বুখারী, হাদীস নং (২৯৪৯)

১২. তার জন্য সফর বা অন্য কোনো সময় ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়াটি পাঠ করা মুস্তাহাব। কাজেই বের হওয়ার সময় বলবে: «بِسْمِ اللَّهِ، تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ، وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ، اللَّهمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَضِلَّ أَوْ أُضَلَّ، أَوْ أَزِلَّ أَوْ أُزَلَّ، أَوْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ، أَوْ أَجْهَلَ أَوْ يُجْهَلَ عَلَيَّ» “আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর উপরেই ভরসা করলাম। আল্লাহর পক্ষ হতে আসা ব্যতীত কোন সাহায্য ও শক্তি নেই। হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যেন আমি কাউকে পথভ্রষ্ট না করি আর নিজেও পথভ্রষ্ট না হই, আমি যেন কাউকে বিচ্যুত না করি আর নিজেও বিচ্যুত না হই। আমি কারো উপরে যুলুম না করি আর আমিও যেন যুলুুমের শিকার না হই। আর আমি যেন কাউকে অজ্ঞতার মধ্যে নিক্ষেপ না করি আর নিজেও অজ্ঞতার মধ্যে নিক্ষিপ্ত না হই।” [১৩] আবূ দাউদ, হাদীস নং (৫০৯৪)

১৩. তার জন্য বাহন, গাড়ি, বিমান বা অন্য কোন যানবাহনে চড়ার সময় সফরের দোয়াটি পড়া বাঞ্ছনীয়। সুতরাং সে বলবে: উচ্চারণ: "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, অতঃপর বলবে: আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাযী সাখখারা লানা হাযা ওমা কুন্না লাহু মুকরিনীন, ওয়া ইন্না ইলা রব্বিনা লামুনকালিবুন। আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা ফী সাফারিনা হাযাল বিররা ওয়াত তাকওয়া, ওয়া মিনাল 'আমালি মা তারযা। আল্লাহুম্মা হাওবিন 'আলাইনাস সাফার, ওয়াত্বি 'আন্না বু'দাহু। আল্লাহুম্মা আনতাস সহিবু ফিস সাফারি, ওয়াল খলীফাতু ফিল আহল। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিকা মিন ওয়া'সায়িস সাফারি, ওয়া কা'আবাতিল মানযারি, ওয়া সুইল মুনকালাবি ফিল মালি ওয়াল আহল।" "আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। আল্লাহ সবচেয়ে বড়। তারপর বলবে: (সুমহান পবিত্র সত্তা তিনি, যিনি এগুলোকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন, আর আমরা সমর্থ ছিলাম না এদেরকে বশীভূত করতে। আর আমাদেরকে অবশ্যই আমাদের রবের কাছে ফিরে যেতে হবে।) [আয-যুখরুফ:১৪] হে আল্লাহ! আমাদের এই সফরে আমরা আপনার নিকটে কল্যাণ, তাকওয়া এবং আপনি সন্তুষ্ট হন এমন কাজের তাওফীক চাচ্ছি। হে আল্লাহ! আমাদের এই সফর আমাদের জন্য সহজ করে দিন এবং এর দূরত্ব কমিয়ে দিন। হে আল্লাহ! আপনিই সফরসঙ্গী এবং পরিবারের দায়িত্বশীল। হে আল্লাহ! আপনার নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করি সফরের কষ্ট[১৪], দুঃখজনক দৃশ্য[১৫] এবং পরিবার ও ধন-সম্পদে ক্ষতিকরভাবে ফিরে আসা[১৬] থেকে।[১৭]" [১৪] وعثاء السفر হল সফরের কষ্ট। আল-ইফসাহ আন মাআনিস সিহাহ (৪/২৮৪) [১৫] খারাপ অবস্থা এবং দুঃখভরা ভাঙ্গা হৃদয়। আল-ইফসাহ আন মাআনিস সিহাহ (৪/২৮৪) [১৬] (المنقلب) প্রত্যাবর্তন। আল-ইফসাহ আন মাআনিস সিহাহ (৪/২৮৪) [১৭] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং (৬৩৭৪)

১৪. মুসাফিরের জন্য মুস্তাহাব হল সঙ্গ ছাড়া একা সফর না করা। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যদি মানুষ জানত একাকী সফর করা সম্পর্কে আমি যা জানি, তাহলে কোন আরোহী রাতে একা সফর করত না।” [১৮] [১৮] সহীহ বুখারী, হাদীস নং (২৯৯৮)

১৫. মুসাফিরগণ তাদের একজনকে তাদের নেতা হিসেবে নিযুক্ত করবে; যাতে তাদের মতামত এক হয় এবং তাদের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তাদের লক্ষ্য আরও দৃঢ়ভাবে অর্জন হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “যখন তিন ব্যক্তি সফরে বের হবে, তখন তারা যেন তাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেয়।” [১৯] [১৯] আবূ দাউদ, হাদীস নং (২৬০৮)

১৬. মুসাফিরের উচিত আল্লাহর ওয়াজিবকৃত ইবাদতগুলো পালন, হারাম জিনিসগুলো বর্জন এবং উত্তম চরিত্র ধারণ করতে আগ্রহী থাকা। তাই যার সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হবে তাকে সাহায্য করবে, যে ইলম অন্বেষণী এবং যার ইলমের প্রয়োজন তাকে ইলম দান করবে এবং নিজের অর্থের বিষয়ে উদার হবে, তাই নিজের স্বার্থ, তার সঙ্গীদের স্বার্থ ও প্রয়োজনে তা ব্যয় করবে।

১৭. খরচ এবং সফরের প্রয়োজন বেশি করে সংগ্রহ করা উচিত। কারণ প্রয়োজন দেখা দিতে পারে এবং পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।

১৮. সফরের সব ক্ষেত্রে প্রফুল্ল চেহারা, সুন্দর মন এবং সঙ্গীদের আনন্দ দিতে আগ্রহী হওয়া উচিত, যেন তিনি অন্যকে ভালোবাসেন এবং অন্যদের ভালোবাসার পাত্রে পরিণত হন।

১৯. আর উচিত হল তার সঙ্গীদের রূঢ় আচরণ ও তার মতামতের বিরোধিতার প্রতি ধৈর্যধারণ করা এবং তাদের সাথে সর্বোত্তম আচরণ করা, যাতে তিনি তাদের মধ্যে সম্মানিত হন এবং তাদের হৃদয়ের উচ্চাসনে আসীন হন।

২০. মুস্তাহাব হল মুসাফিরগণ যখন কোন স্থানে যাত্রা বিরতি করবে, তখন তারা একে অপরের পাশাপাশি থাকবে। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু সাহাবী কোন স্থানে যাত্রা বিরতি করলে উপত্যাকা ও নিম্নাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “উপত্যকা ও নিম্নাঞ্চলে তোমাদের ছড়িয়ে পড়া কেবলমাত্র শয়তানের পক্ষ থেকে।” [২০] তারপর তারা একসাথে পাশাপাশি থাকতেন, এমনকি যদি তাদের উপর একটি কাপড় বিছিয়ে দেওয়া হত, তাহলে তা তাদের সবার জন্য যথেষ্ট হত। [২০] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস (১৭৭৩৬)

২১. মুস্তাহাব হল সফর বা অন্য কোনও সময় যখন কোথাও যাত্রা বিরতি করবে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নিম্নের দুআটি পাঠ করবে: উচ্চারণ: আউযু বিকালিমাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক। অর্থ: ‘আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমার অসিলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।’ কেননা যদি সে একথা বলে, তাহলে ঐ বিরতির স্থান থেকে প্রস্থান না করা পর্যন্ত কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না। [২১] সহীহ মুসলিম, হাদীস (২৭০৮)।

২২. তার জন্য মুস্তাহাব হল উঁচু স্থানে আল্লাহু আকবর বলা এবং নিচু স্থানে ও উপত্যকায় সুবহানাল্লাহ বলা। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: “আমরা উপরে উঠলে বলতাম, আল্লাহু আকবর। আর নিচে নামলে বলতাম সুবহানাল্লাহ[২২]।” তবে তারা তাদের তাকবীরের আওয়াজ উঁচু করবে না, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে লোকসকল! তোমরা নিজেদের ওপর কোমলতা অবলম্বন কর। কেননা, তোমরা কোনো বধির ও অনুপস্থিত সত্ত্বাকে ডাকছ না। তিনি তো তোমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও নিকটবর্তী।” [২৩] [২২] সহীহ বুখারী, হাদীস (২৯৯৪)। [২৩] সহীহ বুখারী, হাদীস (২৯৯৩)।

২৩. তার জন্য মুস্তাহাব হল সফরের সময় রাতে, বিশেষ করে তার প্রথমাংশে পথ চলা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা রাতে সফর কর। কেননা রাতে যমীনকে গুটিয়ে দেওয়া হয়”[২৪]। [৪] আবূ দাউদ, হাদীস (২৫৭১)।

২৪. মুসাফিরের জন্য মুস্তাহাব হল সফরে বেশী করে দুআ করা। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তিনটি দুআ নিঃসন্দেহে কবুল করা হয়: মযলুমের দুআ, মুসাফিরের দুআ এবং সন্তানের বিরুদ্ধে পিতামাতার দুআ।” [২৫] [৯] মুসনাদে আহমাদ, হাদীস (১০৭৭১)।

***

দ্বিতীয়ত: সফরের সময় পবিত্রতা

মুসাফিরকে অবশ্যই তার পবিত্রতার বিষয়ে যত্ন নিতে হবে, ছোট নাপাকির জন্য অজু করতে হবে এবং বড় নাপাকির জন্য গোসল করতে হবে।

যদি সে পানি না পায়, অথবা খাবার ও পান করার জন্য সামান্য পরিমাণ পানি থাকে, তাহলে সে তায়াম্মুম করবে।

তায়াম্মুম করার পদ্ধতি হল: দুই হাত দিয়ে মাটিতে আঘাত করবে এবং তা দিয়ে তার মুখ ও দুই হাত কব্জি পর্যন্ত মাসেহ করবে।

তায়াম্মুমের পবিত্রতা একটি অস্থায়ী পবিত্রতা। যখনই পানি পাওয়া যাবে, তখন তা বাতিল হবে এবং তার উপর পানি ব্যবহার করা ওয়াজিব হবে। যদি সে বড় ধরনের অপবিত্রতার জন্য তায়াম্মুম করে এবং তারপর পানি পায়, তাহলে তাকে তার জন্য গোসল করতে হবে। যদি সে মল ত্যাগের জন্য তায়াম্মুম করে, তারপর পানি পায়, তাহলে তাকে তার জন্য অযু করতে হবে। হাদীসে এসেছে: "পবিত্র মাটি হলো মুসলিমের অযুর উপায়, যদিও সে দশ বছর পানি না পায়। অতঃপর যখন সে পানি পাবে, আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করবে এবং তা তার ত্বকে স্পর্শ করাবে” [২৬]। [২৬] মুসনাদে বাযযার, হাদীস (১০০৬৮)

কুরআন, সুন্নাহ এবং আহলুস সুন্নাহের ঐকমত্য অনুসারে মোজার উপর মাসেহ করা শরীয়তসিদ্ধ।

মোজা এবং এর অনুরূপ জিনিসের উপর মাসাহ করার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে:

১. চামড়ার মোজা বা কাপড়ের মোজা বৈধ ও পবিত্র হওয়া।

২. মোজাদ্বয় পবিত্র অবস্থায় পরিধান করা।

৩. মোজাদ্বয়ের ধৌত করা ফরয জায়গাটি আবৃত রাখা।

৪. মাসেহ কেবলমাত্র ছোট নাপাকির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সুতরাং বড় নাপাকি অথবা গোসল ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে মাসেহ করা জায়েয নয়।

৫. শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাসেহ করা, যা মুকিমের জন্য একদিন-এক রাত আর মুসাফিরের জন্য তিন দিন-তিন রাত। সঠিক মতে মাসেহ করার সময় নাপাক হওয়ার পর প্রথমবার মাসেহ করা থেকে শুরু হয় তারপর মুকিমের জন্য চব্বিশ ঘন্টা ও মুসাফিরের জন্য বাহাত্তর ঘন্টা পর শেষ হয়।

তিনটি জিনিসের যেকোনো একটির মাধ্যমে মোজার উপর মাসেহ করা বাতিল হয়:

১. যদি এমন কিছু ঘটে যার জন্য গোসল করা ওয়াজিব হয়, যেমন জানাবত, তখন মাসেহ বাতিল বলে গণ্য হবে এবং গোসল করা আবশ্যক হবে।

২. মোজার উপর মাসেহ করার পর তা খুলে ফেললে।

৩. শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে মাসেহ বাতিল বলে গণ্য হবে।

***

তৃতীয়ত: সফরে সালাত কসর করার বিধান:

সফরে সালাত কসর (সংক্ষিপ্ত) করা পূর্ণ করার চেয়ে উত্তম। কিন্তু যদি মুসাফির চার রাকাত বিশিষ্ট সালাত চার রাকাত পূর্ণ পড়ে, তাহলে তার সালাত শুদ্ধ হবে, কিন্তু সে উত্তমের বিপরীত করল।

মুসাফির যদি তার গ্রাম বা শহরের সকল ঘর থেকে বের হয়ে যায়, তাহলে সে তার সালাত কসর করতে পারবে। এটিই অধিকাংশ আলেমের অভিমত।

যদি সে সালাতের সময় শুরু হওয়ার পরে ভ্রমণ করে, তাহলে সে তা কসর (সংক্ষিপ্ত) করতে পারে। কারণ সময় শেষ হওয়ার আগেই সে সফর করেছে।

আর প্রয়োজনের সময় জোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার সালাত একত্রে আদায় করা মুসাফিরের জন্য সুন্নাত, যখন সফর তার উপর কঠিন হয় এবং সে ক্রমাগত সফর করে, তাহলে তার জন্য যা সহজ তাই করবে; (জমা তাকদীম) আগ্রবর্তী জমা করুক বা (জমা তাখীর) বিলম্বিত জমা করুক।

যদি মুসাফির দুই সালাত একসাথে জমা করার প্রয়োজন বোধ না করেন, তাহলে জমা করবেন না। যেমন এমন কোন স্থানে অবতরণ করে যেখান থেকে দ্বিতীয় সালাতের সময় শুরু না হওয়া পর্যন্ত প্রস্থান করার ইচ্ছা না করে, তাহলে একসাথে না পড়াই ভালো। কারণ তার এটার প্রয়োজন নেই; এই জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের সময় মিনায় অবস্থানকালে সালাত একসাথে জমা করে আদায় করেননি। কারণ এর প্রয়োজন ছিল না।

আর নফল সালাত, এই ক্ষেত্রে মুকিম যেসব সালাত পড়তে পারে মুসাফির তা-ই পড়তে পারবে। কাজেই তিনি দুহার সালাত, কিয়ামুল লাইলের সালাত, বিতর ও অন্যান্য নফল সালাত আদায় করবেন, কিন্তু যোহর, মাগরিব এবং এশার নিয়মিত সুন্নাত সালাত ব্যতীত, কারণ সুন্নাত হলো সফরের সময় এগুলো আদায় না করা।

যানবাহনে সফরের সময় নফল সালাত আদায় করা বৈধ: বিমান, গাড়ি, জাহাজ, অথবা অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম, তবে ফরয সালাতের ক্ষেত্রে, অবশ্যই নামতে হবে; যদি না সে অক্ষম হয়।

মুকিমের পিছনে মুসাফিরের সালাত সহীহ এবং মুসাফির তার ইমামের মতোই সালাত শেষ করবে, সে পুরো সালাত ধরুক, অথবা এক রাকাত ধরুক, অথবা তার কম ধরুক, এমনকি যদি সে সালামের আগে শেষ তাশাহুদে তার সাথে যোগ দেয়, তবুও সে তা সম্পূর্ণ করবে। এটি আলেমদের সঠিক অভিমত।

***

চতুর্থত: হজ, উমরা অথবা সফর থেকে ফিরে আসার আদবসমূহ

তার উচিত সফর থেকে দ্রুত ফিরে আসা এবং বিনা প্রয়োজনে সফরে বেশি সময় থাকা উচিত নয়; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সফর জাহান্নামের একটি টুকরা। এটি তোমাদের অনেককে খাওয়া, পান করা এবং ঘুমানো থেকে বিরত রাখে। তাই যখন তার প্রয়োজন শেষ হবে দ্রুত তার পরিবারের কাছে ফিরে আসবে”। [২৭] সহীহ বুখারী, হাদীস (১৮০৪), সহীহ মুসলিম, হাদীস (১৯২৭)।

যখন নিজ দেশে ফিরে আসার ইচ্ছা করবে, তখন বাহনে আরোহণ করার সময় সফরের দোয়াটি পাঠ করবে এবং এর সাথে যোগ করবে: “(আমরা) প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আমাদের রবের প্রশংসাকারী[২৮]।” [২৮] সহীহ বুখারী, হাদীস (১৭৯৭), সহীহ মুসলিম, হাদীস (১৩৪২)।

তার জন্য মুস্তাহাব হল সফর থেকে ফিরে আসার সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত দোআগুলো পাঠ করা, যেমন তিনি জিহাদ, হজ্জ বা ওমরাহ থেকে ফিরে আসার সময় প্রতিটি উঁচু স্থানে তিনবার তাকবীর বলতেন, তারপর বলতেন: উচ্চারণ: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শরীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হামদু, ওয়া হুয়া 'আলা কুল্লি শাই'ইন ক্বাদীর, আয়িবূনা, তায়িবূনা, আবিদূনা, লিরব্বিনা হামিদূন, সদাকাল্লাহু ওয়াদাহু, ওয়া নাসারা আব্দাহু, ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু”। অর্থ: “আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্যিকার ইলাহ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শারীক নেই। রাজত্ব এবং প্রশংসা একমাত্র তাঁরই। সব বিষয়ে তিনিই সর্বশক্তিমান। আমরা তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তনকারী, তওবা্কারী, তাঁরই ‘ইবাদাতকারী। আমরা সিজদা্কারী, আমরা আমাদের রবেই প্রশংসাকারী। আল্লাহ তাঁর ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন। তাঁর বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং তিনি একাই সম্মিলিত বাহিনীকে পরাভূত করেছেন”[২৯]। [২৯] সহীহ বুখারী, হাদীস (৪১১৬)।

মুস্তাহাব হল, নিজ শহর দেখার পর নিম্নের দোআটি পাঠ করা: উচ্চারণ: “আয়িবূনা, তায়িবূনা, আবিদূনা, লি রব্বিনা হামিদূন” অর্থ: “(আমরা) প্রত্যাবর্তনকারী, তাওবাকারী, ইবাদতকারী এবং আমাদের রবের প্রশংসাকারী”[৩০]। এটি পাঠ করতে করতে শহরে প্রবেশ করবে, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনটি করেছেন। (৩০) সহীহ বুখারী, হাদীস (১৭৯৭), সহীহ মুসলিম, হাদীস (১৩৪২)।

দীর্ঘদিন ধরে বাইরে থাকার পর পরিবারকে না জানিয়ে বিনা প্রয়োজনে রাতে ঘরে ফিরবে না। রাতে তার আগমনের সময় সম্পর্কে তাদেরকে বলে দিবে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতে নিষেধ করেছেন। জাবির ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ব্যক্তিকে রাতে তার পরিবারের নিকট আগমন করতে নিষেধ করেছেন” [৩১]। আর এতে যে হিকমত রয়েছে তা অন্য বর্ণনায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে: "যাতে এলোমেলো নারী তার চুল আঁচড়ায়ে নিতে পারে [৩২], এবং স্বামী অনুপস্থিত নারী তার চুল পরিস্কার করে নিতে পারে” [৩৩], অন্য বর্ণনায় রয়েছে: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন ব্যক্তির রাতের বেলা অতর্কিতভাবে ঘরে ফিরে তার স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ পোষণ করতে কিংবা দোষ-ক্রটি অনুসন্ধান করতে নিষেধ করেছেন”[৩৪]। [৩১] সহীহ মুসলিম, হাদীস (৭১৫) [৩২] (‌الشعثة) “এলোমেলো চুল”: যেখানে দীর্ঘদিন আগে তেল এবং চিরুনি ব্যবহার করেছে। (الاستحداد): লোহা (ব্লেট) ব্যবহার করা এবং (المغيبة): যার স্বামী অনুপস্থিত। আল-তাহরির ফি শরহি সহীহ মুসলিম - আল-আসবাহানী (পৃ.২৯২)। [৩৩] নাসাঈ, হাদীস (৯০৯৯)। [৩৪] সহীহ মুসলিম, হাদীস (৭১৫)

সফর থেকে আসা ব্যক্তির জন্য তার পাশের মসজিদ থেকে শুরু করা এবং সেখানে দুই রাকাত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করেছেন।

সফর থেকে ফিরে আসার সময় মুসাফিরের জন্য তার পরিবারের সন্তানদের এবং প্রতিবেশীদের প্রতি সদয় আচরণ করা এবং যখন তারা তাকে স্বাগত জানায় তখন তাদের সাথে ভালো আচরণ করা মুস্তাহাব। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় পৌঁছান, তখন বনু আব্দুল মুত্তালিবের যুবকরা তাকে স্বাগত জানায়, তাই তিনি একজনকে তার সামনে এবং অন্যজনকে তার পিছনে বহন করেন। আব্দুল্লাহ ইবনু জাফর -রাদিয়াল্লাহু আনহু - বলেন: “যখন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন সফর থেকে ফিরে আসতেন, তিনি আমাদের সাথে দেখা করতেন। তিনি আমার সাথে, হাসান, অথবা হুসাইনের সাথে দেখা করতেন এবং তিনি আমাদের একজনকে তার সামনে এবং অন্যজনকে তার পিছনে বহন করতেন যতক্ষণ না আমরা মদীনায় প্রবেশ করি” [৩৫]। [৩৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস (২৪২৮)

উপহার দেওয়া মুস্তাহাব, কারণ এটি হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং বিদ্বেষ দূর করে। এটি গ্রহণ করা এবং এর বিনিময় প্রদান করা মুস্তাহাব। আর শরয়ী প্রতিবন্ধক ছাড়া তা ফেরত দেওয়া মাকরূহ। এ মর্মে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “একে অপরকে উপহার দাও, তাহলে তোমাদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা তৈরী হবে”[৩৬]। উপহার (হাদিয়া) প্রদান মুসলিমদের মধ্যে ভালবাসা সৃষ্টির একটি অন্যতম উপায়। [৩৬] বাইহাকী, আস-সুনানুল কুবরা (১১৯৪৬)

যদি কোন সফরকারী তার দেশে ফিরে আসে, তাহলে সে সময় আলিঙ্গন করা মুস্তাহাব। কারণ তা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের থেকে প্রমাণিত, যেমন আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “যখন তারা একে অপরের সাথে দেখা করতেন তখন মুসাফাহা করতেন এবং যখন তারা সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন একে অপরের সাথে আলিঙ্গন করতেন”[৩৭]। [৩৭] তাবরানী, আল-আওসাত, হাদীস (৯৭)

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।