আপনি কি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করেছেন? কে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন? কেন সৃষ্টি করেছেন? আর মৃত্যুর পর কী হবে?
আপনি কি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করেছেন? কে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন? কেন সৃষ্টি করেছেন? আর মৃত্যুর পর কী হবে?
এই কিতাবটিতে অস্তিত্ব ও সৃষ্টি বিষয়ক প্রশ্নকে অর্ন্তভুক্ত করে। আর এটি বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে একজন পরিপূর্ণ প্রজ্ঞাময় ও পূর্ণাঙ্গ স্রষ্টার অস্তিত্বকে প্রমাণ করে। এটি স্পষ্ট করে যে, জীবনের উদ্দেশ্য হলো এক আল্লাহর ইবাদত করা, আর ইসলামই হল সুরক্ষিত সত্য ধর্ম। বইটি নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি ঈমান আনা ও তার শিক্ষা অনুসরণ করার প্রতিও আহ্বান জানায়। আর শিরক থেকে সতর্ক করে এবং আখিরাতে হিসাব ও প্রতিদানের বিষয়কে নিশ্চিত করে।
Language: lang_bn
Prepared by: বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষয়বস্তুর সেবা সম্পর্কিত সংস্থার একাডেমিক কমিটি
আপনি কি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করেছেন? কে আপনাকে সৃষ্টি করেছেন? কেন সৃষ্টি করেছেন? আর মৃত্যুর পর কী হবে?
বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষয়বস্তুর সেবা সম্পর্কিত সংস্থার একাডেমিক কমিটি
হে মানুষ! কে তোমাকে সৃষ্টি করেছে? যদি তুমি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে তোমার দেহকে পর্যবেক্ষণ করো, তাহলে তুমি অতি সূক্ষ্ম, অলৌকিক ও এক বিস্ময়কার জগৎ দেখতে পাবে। তোমার দেহের প্রতিটি কোষের পাটে লুকিয়ে আছে জেনেটিক তথ্যের এক জটিল কোড। তুমি কি কখনো নিজেকে জিজ্ঞেস করেছ, কে এই কোড লিখেছে? কে এগুলোকে তার সঠিক স্থানে সাজিয়েছে?
প্রতিটি সুউচ্চ ভবন, প্রতিটি সাধারণ বাড়ী সবই তার নির্মাতার কথা বলে; তাই এই বিশাল মহাবিশ্ব, তার সৌন্দর্য, সূক্ষ্মতা ও নিখুঁত ব্যবস্থাপনা কি কোনো স্রষ্টা ছাড়াই অস্তিত্ব পেয়েছে বলে বোধগম্য হয়?!
হে মানুষ! তোমার বুদ্ধি যেমন এ কথা মেনে নেয় না যে, নিখুঁতভাবে নির্মিত কোনো স্মার্টফোন হঠাৎ করে কোনো ডিজাইনার বা নির্মাতা ছাড়াই তৈরি হয়েছে, অথবা একটি জটিল নেটওয়ার্কের ডিভাইস কোনো প্রোগ্রামার বা তত্ত্বাবধায়ক ছাড়াই নিখুঁতভাবে কাজ করছে—তেমনিভাবে জ্ঞান ও বুদ্ধি এ কথা কখনোই মেনে নেয় না যে, এই বিশাল মহাবিশ্ব এবং তাতে অবস্থিত নিখুঁত ব্যবস্থাপনা, সৃজনশীলতা, সূক্ষ্ম নিয়মাবলী এবং নিখুঁত নীতিমালা কোনো স্রষ্টা ছাড়াই অস্তিত্ব লাভ করেছে!
এই মহাবিশ্বের প্রতিটি অংশ, অণু-পরমাণু থেকে শুরু করে বিশাল গ্যালাক্সি পর্যন্ত সবকিছুই তার স্রষ্টার মহত্বের প্রমাণ বহন করে। যৌক্তিকভাবে এটি অসম্ভব যে, এই নিখুঁত ব্যবস্থাপনা এমনি এমনিই নিজে থেকে তৈরি হয়েছে। বিবেক এটি প্রত্যাখ্যান করে যে, এই মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অস্তিত্বে এসেছে, কিংবা এই জটিল ও সুন্দর ব্যবস্থা কোনো অজানা আকস্মিকতার ফল!
অনুরূপভাবে সুস্থ বিবেক ও সঠিক ফিতরাত (প্রাকৃতিক জ্ঞান) মানুষকে এই বিশ্বসৃষ্টির একজন স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রতি ঈমান আনার দিকে নিয়ে যায়। এ দুটি জিনিষ অবশ্যই আমাদেরকে আরও বাধ্য করে এই স্রষ্টার গুণাবলী এবং আমাদের উপর তাঁর অধিকার নিয়ে চিন্তা করতে।
এই স্রষ্টার গুণাবলী নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা আমাদের জন্য অবশ্যই তাঁর সকল প্রকার পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত হওয়া এবং সকল প্রকার ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার বিষয়ে গভীর উপলব্ধির দরজাসমূহ খুলে দেয়।
এর অর্থ হল, স্রষ্টা অবশ্যই সৌন্দর্য ও মহিমানিত্বর যাবতীয় সকল গুণে গুণান্বিত। সুতরাং তিনি সকল কিছুর উপর সর্বশক্তিমান, সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ এবং তাঁর তিনি যা সৃষ্টি ও নির্ধারণ করেছেন সব বিষয়ে প্রজ্ঞাময়। এই পূর্ণতা কোনো সম্ভাব্য বিষয় নয়, বরং যৌক্তিক অপরিহার্য বিষয়। কেননা তাঁর গুণাবলীতে যেকোনো ধরনের ত্রুটি, সৃষ্টি ও পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দিকে নিয়ে যায়, যা আমাদের এই মহাবিশ্বে প্রত্যক্ষ করা নিখুঁত ব্যবস্থাপনার সম্পূর্ণ বিরোধী।
অনুরূপভাবে সকল প্রকার দূর্বলতা থেকে পবিত্র হওয়ার দাবী হলো, স্রষ্টা তাঁর সকল সৃষ্টি থেকে সম্পূর্ণ অমুখাপেক্ষী। সুতরাং তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন; বরং সমস্ত সৃষ্টিজীব তাদের অস্তিত্ব ও টিকে থাকার জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি সকল প্রকার অংশীদার বা সন্তান-সন্ততি থেকে পবিত্র, কেননা এগুলো দূর্বলতা ও অক্ষমতার নিদর্শন। আর মহান আল্লাহ তাআলা এসব থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।
সুতরাং যেহেতু আল্লাহই হলেন সেই মহান স্রষ্টা, যিনি যাবতীয় পূর্ণতা ও শ্রেষ্ঠত্বের গুণে গুণান্বিত, তাহলে বলাবাহুল্য যে, তিনিই আমাদেরকে ও এই মহাবিশ্বকে অস্তিত্বহীন থেকে আবিষ্কার করেছেন, তিনিই এতে যা কিছু আছে সমস্ত কিছুর মালিক, তিনিই আমাদের রিযিক দান করেন ও স্বীয় রহমত দ্বারা আমাদের বেষ্টন করে রাখেন। আর তিনি হলেন সবকিছুর ব্যবস্থাপক ও পরিচালক; তাহলে আমাদের ওপর কর্তব্য নয় কি যে আমরা তাঁর শুকরিয়া আদায় করবো, তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন ও আমাদের উপর তাঁর যে হক রয়েছে তা আদায় করার উপায় খুঁজে বের করবো এবং যে মহান উদ্দেশ্যে আমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে তা বাস্তবায়নের জন্য কাজ করবো?!
এটা কি যুক্তিসঙ্গত যে আল্লাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করবেন, অথচ তিনি আমাদের থেকে কি চান তা বর্ণনা করে দিবেন না? আমরা কেন এখানে আছি? আমাদের জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই বা কী? আর মৃত্যুর পরই বা আমাদের কী হবে?
আমার সাথে একটু ভেবে দেখুন: যদি কেউ একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় প্রাসাদ তৈরি করে ও তাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করে, এমনকি যখন নির্মাণ কাজ শেষ হয় তখন কোনো কারণ ছাড়াই তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলে—আমরা কি এমন মানুষকে প্রজ্ঞাবান বলবো? এটা কি স্বাভাবিক নয় যে এমন কাজকে অর্থহীন কাজ বলে বিবেচনা করা হবে? যা কোন বুদ্ধিমানের জন্য উপযুক্ত নয়।
কাজেই যদি এমন কাজ কোনো মানুষের ক্ষেত্রেই অগ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে আমরা কিভাবে কল্পনা করতে পারি যে মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহ—যিনি এই সুন্দর মহাবিশ্বকে নিখুঁতভাবে সৃষ্টি করেছেন—তিনি কোনো উদ্দেশ্য বা হিকমত ছাড়াই এটি ধ্বংস করে দিবেন?!
আল্লাহ তাআলা মানুষকে এক মহান উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন, আর তা হল, একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা যার কোনো শরীক নেই। তিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এই দুনিয়ায় পরীক্ষা করার জন্য এবং তিনি তাদের জন্য একটি নিদির্ষ্ট সময় নির্ধারণ করেছেন, যে সময় কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করা হবে, প্রত্যেককে তার আমলের হিসাবের মুখামুখি করার জন্য। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছে এবং তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেছে, তার জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাতের নেয়ামত। আর যে সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে, সে হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
সুতরাং ইবাদত হল, আমাদের উপর আল্লাহর অপরিহার্য হক, কারণ এটিই আমাদের অস্তিত্বের মূল উদ্দেশ্য এবং এটিই তাঁর প্রতি আমাদের শুকরিয়া আদায় এবং তাঁর রুবুবিয়্যাত ও উলুহিয়্যাতের স্বীকৃতি প্রদানের দলীল।
কাজেই চিন্তা করুন যে, আল্লাহ তাআলা আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি দিয়ে সম্মানিত করেছেন, অগণিত নিয়ামত দিয়ে আপনাকে ঘিরে রেখেছেন। তিনিই আপনার শিরায় রক্ত প্রবাহিত করেন, পানীয় ও বাতাস দান করেন। আপনি প্রতি মুহূর্তে তাঁরই মুখাপেক্ষী। তাঁর রহমত ও যত্ন না থাকলে আপনি ধ্বংস হয়ে যেতেন, আপনার শক্তি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। বরং তিনি আপনার রিযিকের দায়িত্ব নিয়েছেন যখন আপনি মাতৃগর্ভে অসহায় ভ্রূণ ছিলেন, নিজের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আপনার ছিল না।
এই মহান স্রষ্টা কি হকদার নন যে আপনি তাঁর ইবাদত করবেন—ঠিক যেভাবে তিনি চান সেভাবে, নাকি তাঁর ইবাদত করবেন আপনি যেভাবে চান সেভাবে?! ভেবে দেখুন, আপনি যদি আপনার মাকে উপহার দিতে চান, তবে কি আপনি নিজের পছন্দ অনুযায়ী তা বেছে নেবেন, নাকি সে যা পছন্দ করে তা জানার চেষ্টা করবেন; যাতে তাকে তার উপযুক্ত জিনিস দ্বারা খুশি করতে পারেন? ঠিক তেমনি আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা উচিত আমাদের খেয়াল-খুশি বা বাপ-দাদার রীতিনীতি অনুযায়ী নয়, বরং তা করতে হবে তিনি যেভাবে চান এবং তিনি যে পদ্ধতিতে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে।
ইবাদত কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য একনিষ্ঠভাবে পালন করতে হবে, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। কাজেই কোনো মানুষর জন্য তার স্রষ্টা ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে ইবাদত নিবেদন করা জায়েয নয়। আর সবচেয়ে বড় পাপ যা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়াকে আবশ্যক করে তা হল, আল্লাহর সাথে শরীক করা। অর্থাৎ মানুষ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সৃষ্টির ইবাদত করবে, যেমন মূর্তি, সূর্য বা চন্দ্রের ইবাদত করা, কিংবা কোনো মানুষ, প্রাণী বা নেককার ব্যক্তির ইবাদত করা - এসবগুলোই শিরক ও কুফরের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মারা যাবে, তার প্রতিদান হবে জাহান্নামে চিরস্থায়ীভাবে থাকা।
আল্লাহ তাআলা অসংখ্য নবী ও রাসুল পাঠিয়েছেন, আমাদেরকে দুনিয়াতে থাকার উদ্দেশ্য ও জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জানানোর জন্য। সকল রাসুলের বার্তা ছিল একই, তা হল ইসলামের বার্তা এবং স্রষ্টার ইবাদতের দাওয়াত, যিনি এক, যার কোন শরীক নেই। কিন্তু পূর্ববর্তী রাসুলদের নিয়ে আসা শিক্ষায় অনেক বিকৃতি ও পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই আল্লাহ শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাঠিয়েছেন এবং মানবজাতির জন্য সর্বশেষ ওহী কুরআনুল কারিম তার উপর নাযিল করেছেন। অনেক যুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে যা প্রমাণ করে যে, কুরআন আল্লাহর বাণী এবং এটি একমাত্র কিতাব যা বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত। আল্লাহ কুরআনে আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করবেন না এবং সকল রাসুলের বার্তা ছিল একই - স্রষ্টার তাওহীদ ও তাঁর ইবাদতের দাওয়াত, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই। আল্লাহ কুরআনে আমাদের আরো জানিয়েছেন যে, মুমিনদের জন্য রয়েছে চিরস্থায়ী জান্নাত ও নিয়ামত, আর যারা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করে বা ইসলামে প্রবেশ করতে অস্বীকার করে তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নাম ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
ইসলামকে অন্যান্য ধর্ম থেকে যা স্বতন্ত্র করে তোলে তা হল, একমাত্র মুসলিমরাই নির্ভরযোগ্য জ্ঞানের উৎসের ভিত্তিতে যুক্তি-প্রমাণ ও বৈজ্ঞানিক সত্য উপস্থাপন করতে সক্ষম, এটা প্রমাণ করার জন্য যে আজ তাদের হাতে যে পবিত্র কুরআন রয়েছে সেটিই মহান স্রষ্টা আল্লাহর বাণী, যা পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত।
পবিত্র কুরআন হল সেই কিতাব যা আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর নাযিল করেছেন। তিনি চৌদ্দশ বছরের বেশি সময় আগে সমগ্র মানবজাতিকে এই কুরআনের মত কিছু রচনার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, এমনকি একটি সূরার সমতুল্য রচনা করতেও। কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে এবং আজ পর্যন্ত এই চ্যালেঞ্জ অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু কেউই এর সমতুল্য কোনো কিছু উপস্থাপন করতে পারেনি -এর ভাষালংকার, বর্ণনা পদ্ধতি, অলৌকিকতা ও বিধিবিধানের দিক থেকে। যুগযুগ ধরে এর মত বা এর কাছাকাছি কেউ কোন কিছু রচনা করতে পারেনি। কুরআনের অলৌকিকতা শুধু এর ভাষার সৌন্দর্য ও বিশুদ্ধতায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এতে রয়েছে যুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যা নিশ্চিত করে এটি আল্লাহর বাণী। যখন কুরআনে এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে এটি আল্লাহর কালাম, তখন যুক্তিসঙ্গত ও বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ হবে এর প্রতি ঈমান আনা এবং এর নির্দেশনা অনুসরণ করা, অন্যান্য সেইসব কিতাবের উপর নির্ভর করার পরিবর্তে যা রচনায় মানুষের হস্তক্ষেপের প্রভাব রয়েছে।
সুস্থ বিবেক আমাদেরকে এই সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে যায় যে, যিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন ও এর নিখুঁত ব্যবস্থাপনা করেছেন, তাঁর বাণীই সত্য জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। যখন আমরা কুরআনকে এর ভাষার অলৌকিকতা, বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, পরিপূর্ণ বিধান এবং যুগের পর যুগ বিকৃতি থেকে সংরক্ষিত হিসেবে পাই, তখন এটা স্বীকার করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না যে এটি আল্লাহর বাণী।
অতএব, কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তার প্রতি ঈমান আনায়ন করা কেবলমাত্র একটি ধর্মীয় পছন্দই নয়, বরং এটি একটি যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত যা সত্য অনুসন্ধানের যুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি আমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেননি; বরং একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ তাআলা কুরআনে আমাদের জানিয়েছেন যে, আমরা যে এ পার্থিব জীবন যাতে আমরা বসবাস করছি, তা কেবলই একটি অস্থায়ী পর্যায় যা শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু প্রকৃত চিরস্থায়ী জীবন হবে আখিরাতে, যখন মুমিনরা প্রবেশ করবে জান্নাতে এবং কাফিররা প্রবেশ করবে জাহান্নামে।
সুতরাং যে স্রষ্টা আমাদেরকে শূন্য থেকে সৃষ্টি করেছেন সে স্রষ্টা অবশ্যই সক্ষম আমাদেরকে মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করতে। আমাদের চারপাশে আল্লাহর বাস্তব নিদর্শনগুলোতে আমরা মৃতকে জীবিত করার তাঁর অসীম ক্ষমতার প্রমাণ প্রত্যক্ষ করি- যেমন তিনি সবুজ গাছ থেকে আগুন বের করেন, শুষ্ক মাটি থেকে ফসল ও ফল উৎপাদন করেন এবং মাতৃগর্ভে শুক্রাণু থেকে ভ্রূণ সৃষ্টি করেন। ঠিক তেমনি কিয়ামতের দিন তিনি মৃতদের পুনরুজ্জীবিত করতে ও প্রতিদান দেওয়ার জন্য তাদেরকে কবর থেকে পুনরুত্থিক করতে সক্ষম। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান। আর অত্যাচারী ও অত্যাচারিতের জীবন কোনো বিচার বা প্রতিদান ছাড়াই শেষ হয়ে যাওয়া তো চরম অবিচার ও যুলুমের অন্তর্ভুক্ত।
কখনো কখনো মানুষ প্রশ্ন করতে পারে: শুধুমাত্র ইসলামই কেন গ্রহণ করতে হবে, অন্য কোনো ধর্ম নয় কেন?!
মানুষকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ যে বৈশিষ্ট্য অন্যান্য সৃষ্টি থেকে আলাদা করে তা হলো বিবেক, আর এর কাজ হলো চিন্তা করা ও সত্য অনুসন্ধান করা।
ইসলাম এমন একটি দ্বীন যা সুস্থ বিবেক ও স্বাভাবিক ফিতরাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি অস্তিত্ব সংক্রান্ত প্রধান প্রশ্নগুলোর যৌক্তিক উত্তর দেয়: আমরা কেন এখানে আছি? আমাদের জীবনের উদ্দেশ্য কী? মৃত্যুর পরই বা কী হবে?
ইসলাম প্রতিষ্ঠিত একমাত্র স্রষ্টার ইবাদতের স্বীকৃতি এবং "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" সাক্ষ্য প্রদানের উপর। এটি প্রথম সাক্ষ্য, যা ইসলামী ঈমানের মূলভিত্তি। এর অর্থ হল, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই।
এই সাক্ষ্যটি দুটি মূলনীতি অন্তর্ভুক্ত করে:
তাওহীদ: অর্থাৎ একমাত্র ইবাদতের যোগ্য স্রষ্টার প্রতি ঈমান আনয়ন করা, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই, কোনো সন্তান নেই এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
শিরক থেকে মুক্ত হওয়া: অর্থাৎ মানুষের তৈরি সকল মূর্তি ও উপাস্যকে অস্বীকার করা।
ইসলাম সকল নবীর প্রতি ঈমান আনাকে আবশ্যক করে। সুতরাং মুসলিমরা কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর বাণী অনুযায়ী ঈমান আনে যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, তিনি আল্লাহর পুত্র নন। কারণ আল্লাহ মহান ও পবিত্র, তাঁর জন্য স্ত্রী বা সন্তান থাকা অসম্ভব —তিনি এ থেকে ও এ জাতীয় সকল কিছু থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। কুরআনে আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) এমন একজন নবী ছিলেন, যাকে আল্লাহ অনেক মু‘জিযা দান করেছিলেন। আল্লাহ তাকে তার সম্প্রদায়ের কাছে একমাত্র তাঁর ইবাদতের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন, যিনি একক, যার কোন শরীক নেই। আল্লাহ আরও জানিয়েছেন যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) মানুষদের নিজের ইবাদত করার প্রতি আহ্বান করেননি; বরং তিনি নিজেই তার স্রষ্টার ইবাদত করতেন। অতএব, আপনি যদি সত্যিকার অর্থে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি ঈমান আনতে চান—যেভাবে আল্লাহ পছন্দ করেন—তাহলে আপনাকে ইসলামে প্রবেশ করতে হবে।
আল্লাহ কুরআনে আমাদের জানিয়েছেন যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) তার সম্প্রদায়কে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাদেরকে শিরক থেকে সতর্ক করেছিলেন।
এ কথা কি যুক্তিসঙ্গত যে কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার মতোই একটি সৃষ্টির উপাসনা করবে—যে ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়, যে নিজের মৃত্যু বা ক্ষতি ঠেকাতে অক্ষম?! হে মানুষ, তুমি কীভাবে মরিয়ম-তনয় ঈসার উপাসনা করবে, যিনি নিজে একজন মানুষ, নিজেও খাদ্য-পানীয়ের মুখাপেক্ষী ছিলেন এবং তিনি সালাতের মাধ্যমে তার স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করতেন?! এ কথা কি কল্পনা করা যায় যে, কোনো উপাস্য নিজেই নিজের কাছে প্রার্থনা করবে?! আল্লাহ কি সেই মহান সত্তা নন যিনি সকল মহত্ত্বের অধিকারী, সকল সাদৃশ্য ও তুলনা থেকে পবিত্র, যার কর্তৃত্বে এই মহাবিশ্বের সব কিছু। কীভাবে যুক্তিযুক্ত হতে পারে যে আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা একজন শিশু হিসেবে জন্ম নেবেন, তারপর নিজেকে তাঁর সৃষ্টির হাতে সমর্পণ করবেন যাতে তাকে ক্রুশবিদ্ধ করে?! ক্রুশবিদ্ধ ও নিহত হওয়া তো নশ্বর মানুষের ঘটনা, কিন্তু স্রষ্টা তো সেই চিরঞ্জীব যিনি কখনো মৃত্যুবরণ করেন না, যিনি সব কিছুর ধারক; কোন নিদ্রা-তন্দ্রা যাকে স্পর্শ করতে পারে না। তাঁর মহত্ত্ব ও মহিমার পরিপূর্ণতার জন্য এমন সব বিষয় থেকে পবিত্র থাকা জরুরি নয় কি?!
আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে আমাদের জানিয়েছে যে, সকল রাসূল একই বার্তা নিয়ে এসেছিলেন, যার সারমর্ম ছিল তাদের সম্প্রদায়কে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানানো, যিনি একক, যার কোনো শরিক নেই। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় কিছু লোক এই চিরন্তন বার্তাকে বিকৃত করেছে, ফলে তারা নবীদের নিয়ে আসা তাওহীদের আলো কে নিভিয়ে দিয়েছে। তাই আল্লাহ শেষ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন এবং তার উপর পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন, যাতে পূর্ববর্তী সকল নবীর আনীত তাওহীদের বার্তাকে পুনরুজ্জীবিত করা যায়।
পরিশেষে হে মানুষ! আমরা আপনাকে বলছি:
ইসলাম হল, বিবেক ও ফিতরাতের দ্বীন, এটি একমাত্র সেই দ্বীন যা মহান স্রষ্টা মানবজাতির জন্য নির্ধারণ করেছেন। তাই প্রত্যেক বিবেকবান মানুষের উচিত দ্রুত ইসলামে প্রবেশ করা—এভাবে যে, আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রাসূল হিসেবে মেনে নেবে। এ বিষয়ে মানুষের কোনো এখতিয়ার নেই; কারণ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন রাসূলদের ডাকে কী উত্তর দিয়েছিল সে সম্পর্কে। যদি সে মুমিন হয়, তবে তার জন্য রয়েছে মহাসাফল্য ও চিরস্থায়ী সফলতা। আর যদি কাফের হয়, তবে তার জন্য রয়েছে সুস্পষ্ট ক্ষতি।
আপনি যদি দুনিয়ায় প্রকৃত সুখ ও আখিরাতে মুক্তি চান, তবে জেনে রাখুন, আপনার জীবনে গৃহীত সর্বশ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত হবে ইসলাম গ্রহণ করা। আপনাকে বিশ্বাসপূর্ণ একনিষ্ঠ হৃদয়ে এই কথাগুলো বলতে হবে: (أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا رسول الله) “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।" এরপর আপনি আপনার দ্বীন শেখা শুরু করুন এবং এই সাক্ষ্যদানের দাবি অনুযায়ী আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনুন এবং ইসলামের স্তম্ভগুলো পালন করুন।
এখনই এটি উচ্চারণ করুন, দ্বিধান্বিত হবেন না। কারণ মৃত্যু হঠাৎ করেই চলে আসে। এত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে পিছিয়ে দেবেন না। শয়তানকে ভালো কাজ থেকে দূরে রাখার সুযোগ করে দেবেন না। সাহসী হোন এবং আলো ও হিদায়াতের পথে আপনার যাত্রা শুরু করুন।
এখনই আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন এবং নতুন জীবন শুরু করুন; যা প্রশান্তি ও সন্তুষ্টিতে পরিপূর্ণ।
"أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدًا رسول الله"
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল।”
প্রতিটি বস্তুই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে। আসমানসমূহ, যমীন এবং তার মধ্যবর্তী মহান সৃষ্টিসমূহ যা আয়ত্তে আনা সম্ভব নয় তা কে সৃষ্টি করেছেন? আসমান ও যমীনে এ সূক্ষ্ম-সুদৃঢ় ব্যবস্থা কে তৈরী করেছেন? কে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বিবেক প্রদান করেছেন এবং তাকে জ্ঞান অর্জন ও সত্য চিনতে সক্ষম করেছেন? আপনার শরীরের অঙ্গে এবং অন্যান্য জীবন্ত প্রাণীর দেহে এই সূক্ষ্ম ব্যবস্থাটিকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? এবং কে তাদের সৃষ্টি করেছেন? কিভাবে এই সুবিশাল মহাবিশ্ব তাকে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণকারী নিয়মসহ স্থির রয়েছে ও পরিচালিত হচ্ছে।
কে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন? কে আমাকে সৃষ্টি করেছেন? এবং কেন সৃষ্টি করেছেন?
52 ভাষা
কে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন? কে আমাকে সৃষ্টি করেছেন? এবং কেন সৃষ্টি করেছেন?
এই কিতাবটি সৃষ্টিজগত ও মানুষের আদি-উৎপত্তি বিষয়ে আলোচনা করে এবং এ কথা নিশ্চিত করে যে, এর এক মহান স্রষ্টা আছেন—তিনি আল্লাহ—যিনি জীবনকে নিয়ন্ত্রণকারী বিধিবিধান নির্ধারণ করেছেন। এটি আল্লাহর গুণাবলি এবং রাসূলগণ ও আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমানের গুরুত্ব স্পষ্ট করে। এটি আরো নিশ্চিত করে যে, দুনিয়া ও আখিরাতে সত্যিকারের সুখ-সাফল্য অর্জনের জন্য ইসলামই হল সত্য ধর্ম।
কিতাবটিতে এমন মৌলিক নীতিমালা আলোচনা করা হয়েছে, যা সম্পর্কে একজন মুসলিমের জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক: আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে জানা, দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে জানা এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জানা। এতে আল-কুরআনুল কারীম ও নবীর সুন্নাহ থেকে প্রামাণ্য দলীলের ভিত্তিতে ঈমানকে সুদৃঢ় করা ও সৎকর্ম প্রতিষ্ঠায় এসব নীতিমালার গুরুত্বকে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। (আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে নিজের জন্য সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষার একটি রীতি।বাংলায় এরীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদে বইটিতে একবচনই ব্যবহার করা হয়েছে।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)
রমাদান মাস সংক্রান্ত ছোটদের জন্য প্রশ্নোত্তর, যা বড়দের জন্যও জরুরী
15 ভাষা
রমাদান মাস সংক্রান্ত ছোটদের জন্য প্রশ্নোত্তর, যা বড়দের জন্যও জরুরী
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি রমাদান মাসকে নির্ধারণ করেছেন এবং এটিকে অন্যান্য মাস ও দিনের তুলনায় অনেক মর্যাদা দান করেছেন। আমরা সালাত ও সালাম প্রেরণ করি মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল্লাহর প্রতি। আল্লাহ তার ওপর, তার পরিবারবর্গ এবং সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতপর: এটি রমাদান মাস সংক্রান্ত ছোটদের জন্য প্রশ্নোত্তর, যা বড়দের জন্যও জরুরী। এতে রমাদান মাসের ফরয, মুস্তাহাব ও করণীয় বিষয়সমূহ আলোচনা করা হয়েছে। একজন অভিভাবক শিশুর প্রকৃতি ও তার বয়স অনুযায়ী এখান থেকে উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন করতে পারবেন।