হাদী, কুরবানী ও যবেহ করার বিধি-বিধান
‘হাদী, কুরবানী ও যবেহ করার বিধি-বিধান’ নামক এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যা একজন মুসলিমের জন্য হাদী, কুরবানী ও যবেহ করার বিধি-বিধান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে; যাতে একজন মুসলিম তার দ্বীনের বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন হতে পারে।
হাদী, কুরবানী ও যবেহ করার বিধি-বিধান
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তার উপর যিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন এবং তার পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও কিয়ামত অবধি যারা তার আদর্শ অনুসরণ করবে ও তার পথনির্দেশ দ্বারা পরিচালিত হবে তাদের সবার উপর। অতঃপর:
এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যা একজন মুসলিমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে হাদী, কুরবানী ও যবেহ করার বিধি-বিধান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা এটি হারামাইন শরীফাইনের জিয়ারতকারী নারী-পুরুষদের জন্য সংকলন করেছি, যাতে তারা তাদের দ্বীনের বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন হতে পারে, এই আশায় যে মহা সম্মানিত ও করুণাময় আল্লাহ এর দ্বারা সবাইকে উপকৃত করবেন, এটিকে নেক আমল হিসেবে গণ্য করবেন এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করবেন। তিনিই সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আশার স্থান।
বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সংস্থার একাডেমিক কমিটি
হাদী ও কুরবানীর বিধি-বিধান
হাদী হল: সে সমস্ত প্রাণী যা হারাম শরিফের (মাক্কার) উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয় ও সেখানে যবেহ করা হয়। এটি এই নামে নামকরণ করার কারণ হল; এটি আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে উপহারস্বরূপ পাঠানো হয়।
আরবী الأضحية শব্দটির হামযা বর্ণে পেশ ও যের উভয়ভাবে পড়া যায়: এটি এমন পশু যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ঈদের দিন (ঈদুল আযহা) ও তাশরীকের দিনগুলোতে যবেহ করা হয়।
মুসলিমগণ এটি শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
হাদীর জন্য সর্বোত্তম পশু হল: উট, তারপর গরু—যদি পূর্ণ একটি প্রাণী কুরবানী দেওয়া হয়; কারণ এগুলোর মূল্য বেশি এবং গোশতের পরিমাণ বেশি হওয়ায় গরীবদের উপকারও বেশি, তারপর ছাগল/ভেড়া।
প্রত্যেক প্রজাতির পশুর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হলো সবচেয়ে মোটাতাজা পশু, অতপর অধিক দামের পশু। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেন: “এটাই আল্লাহর বিধান এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে এ তো তার হৃদয়ের তাকওয়াপ্রসূত।” সূরা আল-হজ্জ, আয়াত: ৩২।
হাদী বা কুরবানীর জন্য কেবল ভেড়া/দুম্বার ক্ষেত্রে জাযা' (৬ মাস বয়সী) পশু যথেষ্ট। আর উট, গরু ও ছাগলের ক্ষেত্রে সানি হওয়া পশু জরুরি। সানি বলতে বুঝায়: এমন উট যা ৫ বছর পূর্ণ করেছে, এমন গরু যা ২ বছর পূর্ণ করেছে এবং এমন ছাগল যা ১ বছর পূর্ণ করেছে।
হাদীর ক্ষেত্রে একটি ছাগল শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে যথেষ্ট। কিন্তু কুরবানীর ক্ষেত্রে একটি ছাগল একজন ব্যক্তি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। আর উট বা গরু হাদী ও কুরবানী উভয় ক্ষেত্রেই সাতজনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। দলীল জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: “হুদায়বিয়ার বছর (৬ষ্ঠ হিজরী) আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে প্রতি সাতজনের পক্ষ থেকে একটি উট এবং প্রতি সাতজনের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছি।” অন্য বর্ণনায় রয়েছে: “আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওনা হলাম। তিনি আমাদেরকে প্রতিটি উট বা গরু সাতজনে মিলে কুরবানী করার নির্দেশ দিলেন।” অপর বর্ণনায় রয়েছে: “আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ সম্পাদন করেছি। সে সময় আমরা সাত শরীকে একটি করে উট বা গরু কুরবানী করেছি।” [১] [১] সহীহ মুসলিম।
এবং আবু আইয়ুব আনসারী রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কুরবানীর পশু কেমন ছিল?' তিনি উত্তরে বলেছিলেন: “তিনি বললেন: একজন ব্যক্তি নিজের এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কুরবানী করত, নিজেরা খেতো অন্যদেরকেও খাওয়াতো। শেষে লোকেরা এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করে বাহাদুরী প্রদর্শন শুরু করল। ফলে তা-ই হয়েছে তুমি যা দেখছ।” [২] [২] তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ।
মূলত উট বা গরুর এক-সপ্তমাংশের চেয়ে একটি ছাগল উত্তম।
হাদী ও কুরবানীর পশুর ক্ষেত্রে রোগমুক্ত, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিক থেকে সম্পূর্ণ এবং দুর্বলতামুক্ত ব্যতীত কোন পশু যথেষ্ট হবে না। সুতরাং স্পষ্টভাবে কানা (যার একটি চোখ নষ্ট), সম্পূর্ণ অন্ধ, অতিশয় দুর্বল, যার শরীরে মজ্জা অবশিষ্ট নেই, এমন খোঁড়া যা সুস্থ পশুর সাথে চলতে অক্ষম, এমন দন্তহীন যার সম্মুখ দাঁত সম্পূর্ণভাবে উপড়ে গেছে, এমন বৃদ্ধা যার অধিক বয়সের কারণে দুধের স্তন শুকিয়ে গেছে - এগুলো কুরবানীতে যথেষ্ট নয়। আর স্পষ্ট রোগে আক্রান্ত পশুও যথেষ্ট হবে না। এ মর্মে বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মধ্যে দাঁড়ালেন, অতঃপর বললেন: (চার ধরণের পশু কুরবানী করা জায়িয নয়: অন্ধ যার অন্ধত্ব সুস্পষ্ট, রুগ্ন- যার রোগ সুস্পষ্ট, খোঁড়া-যার খোঁড়ামী সুস্পষ্ট, বৃদ্ধ ও দুর্বল-যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে।) [৩] [৩] এটি আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন: (বিদ্বানদের অভিমতের আলোকে এর উপরই আমল প্রচলিত রয়েছে।) [৪] [৪] তিরমিযী।
বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তামাত্তু হজ্জের হাদী ও কুরবানীর পশু জবেহের সময়সীমা হলো: ঈদের সালাতের পর থেকে তাশরীকের শেষ দিন (১৩ই জিলহজ) পর্যন্ত।
তামাত্তু বা কিরান হজ্জের হাদী ও কুরবানীর পশু থেকে নিজে খাওয়া, অন্যকে হাদিয়া দেওয়া এবং দান করা - এ তিন ভাগে ভাগ করা মুস্তাহাব। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “সুতরাং তোমরা তা থেকে খাও এবং দুঃস্থ, দরিদ্রকে খাওয়াও।” সূরা আল-হজ্জ, আয়াত: ২৮।
পক্ষান্তরে যেটা ‘জুবরান হাদী’— অর্থাৎ ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ করার কারণে অথবা কোনো ওয়াজিব কাজ ছেড়ে দেওয়ার ক্ষতিপূরস্বরূপ যে কুরবানি দিতে হয়- তা থেকে নিজে কিছু খাওয়া জায়েয নয়।
যে ব্যক্তি কুরবানি করার ইচ্ছা রাখে, সে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন প্রবেশ করার পর থেকে কুরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত নিজের চুল বা নখ কাটবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (যখন -যিলহাজ্জ মাসের- প্রথম দশদিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখের কিছু স্পর্শ -কর্তন- না করে।) [৫] [৫] সহীহ মুসলিম।
তবে যদি এর কোনটি করে ফেলে; তাহলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, কিন্তু কোন ফিদিয়া দিতে হবে না।
হাদী, কুরবানী ইত্যাদির পশু জবাইয়ের পদ্ধতি নিম্নরূপ:
১- শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান মুসলিম বা আহলে কিতাব ব্যক্তিই জবাই করতে পারবে এবং জবাইকারী জবাই করার নিয়ত করবে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করবে না, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করবে না। জবাই বা নাহর করার সময় বিসমিল্লাহ বলবে, ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে জবাই করবে (তবে দাঁত বা নখ দ্বারা নয়), রক্ত যেন ঠিকমতো নির্গত হয়। আর জবাইকারীকে শরীয়তের দৃষ্টিতে জবাইয়ের অনুমোদিত ব্যক্তি হতে হবে। [৬] [৬] আহকামুল উযহিয়া, আল্লামা মুহাম্মাদ বিন উছাইমীন (পৃ: ৫৬-৮৭)।
২- কুরবানীর পশু নির্বাচন করবে এবং ত্রুটিমুক্ত পশুটি বাছাই করতে সচেষ্ট থাকবে; কেননা (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই শিং বিশিষ্ট সাদা-কালো রং এর দুটি দুম্বা নিজ হাতে যবেহ করেন। তিনি ’বিসমিল্লাহি’ পড়েন, “আল্লাহু আকবার” বলেন এবং (যবাহকালে) তার পা দিয়ে সে দুটির ঘাড় চেপে রাখেন।) [৭] [৭] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
৩- যবেহযোগ্য পশুর প্রতি সদাচরণ করা। কাজেই যবাইয়ের সময় এমন কাজ করা যা পশুর কষ্ট লাঘব করে। এর মধ্যে অন্যতম হলো: ধারালো অস্ত্র দ্বারা জবাই করা এবং জবাইয়ের স্থানে দ্রুত ও জোরালোভাবে তা চালনা করা। কেননা জবাইয়ের ক্ষেত্রে মূল উদ্দেশ্য হল, পূর্ণাঙ্গভাবে প্রাণ বিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রততর করা, কোনো প্রকার যন্ত্রণা দেওয়া ছাড়াই। এ বিষয়ে শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে: 'আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দুটি বিষয় মুখস্ত করেছি। তিনি বলেছেন: (আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক বিষয়ে তোমাদের উপর ইহসান করা অত্যাবশ্যক করেছেন। সুতরাং তোমরা যখন (কাউকে) হত্যা করবে, তখন উত্তম পন্থায় হত্যা করবে। আর যখন জবাই করবে তখন উত্তম পন্থায় জবাই করবে। তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার ছুরি ধার করে নেয় এবং তার যবেহকৃত জন্তুকে যেন আরাম দেয়।) [৮] [৮] সহীহ মুসলিম।
পশুকে দেখিয়ে ছুরি ধার দেওয়া মাকরূহ; কেননা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুরি ধারালো করতে এবং তা পশুর দৃষ্টির অগোচরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন: তোমাদের কেউ যবেহ করার সময় যেন দ্রুত যবেহ করে।) [৯] [৯] মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে ইবনে মাজাহ।
৪- যদি কুরবানীর পশু উট হয়, তবে তা বাঁধা অবস্থায় (দাঁড় করিয়ে) এবং তার বাম পা বাঁধা অবস্থায় নহর করবে। এ মর্মে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে: (তিনি আসলেন এমন এক ব্যক্তির নিকট, যে তার উটকে নহর করার জন্য বসিয়ে রেখেছিল। ইবনে ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বললেন, মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের ন্যায় সেটি উঠিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বেঁধে নাও।) [১০] [১০] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
৫- যদি কুরবানীর পশু উট ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী হয়, তবে তাকে বাম কাতে শুইয়ে জবাই করবে এবং জবাইকারী তার পা পশুর ঘাড়ের পাশে রাখবে, যাতে পশুকে স্থিরভাবে ধরে জবাই করতে পারে। কেননা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই শিং বিশিষ্ট সাদা-কালো রং-এর দুটি দুম্বা নিজ হাতে যবেহ করেন। তিনি ’বিসমিল্লাহ’ পড়েন, “আল্লাহু আকবার” বলেন এবং (যবাহকালে) তার পা দিয়ে সে দুটির ঘাড় চেপে রাখেন।) [১১] [১১] সহীহ বুখারী, মুসলিম।
৬- জবাই ও নহর করার সময় বিসমিল্লাহ বলা, কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন: “সুতরাং তোমরা আহার কর তা থেকে, যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয়েছে, যদি তোমরা তাঁর আয়াতসমূহের ব্যাপারে বিশ্বাসী হও।” [সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১১৮] তাঁর আরেকটি বাণী: “আর যাতে আল্লাহ্র নাম নেয়া হয়নি তার কিছুই তোমারা খেও না; এবং নিশ্চয় তা গর্হিত। আর নিশ্চয়ই শয়তানরা তাদের বন্ধুদেরকে তোমাদের সাথে বিবাদ করতে প্ররোচনা দেয়; আর যদি তোমরা তাদের অনুগত্য কর, তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক।” [সূরা আল-আন‘আম: ১২১] আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (দাঁত ও নখ ছাড়া রক্ত প্রবাহিত করতে সক্ষম এমন যে কোন জিনিস দিয়ে আল্লাহ তা’আলার নাম নিয়ে যবেহ করলে তোমরা তা খাও।) [১২] [১২] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
বিসমিল্লাহর সাথে তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলা মুস্তাহাব; কেননা জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরবানীর ঈদে প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি খুতবা প্রদান শেষ করে মিম্বর থেকে নেমে এলেন। অতঃপর একটি মেষ আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতে সেটিকে যবেহ করলেন। আর বললেন: (বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর। এটি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মাতের মধ্যে যারা কুরবানী দিতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে।)” [১৩] [১৩] সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী, শাইখ আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন।
৭- শ্বাসনালী (হুলকুম), খাদ্যনালী (মারী') এবং দুটি রগ (ওয়াদজাইন) কেটে রক্ত প্রবাহিত করতে হবে। ইমাম ইবনে বায রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: উট, গরু ও ছাগলের শরীয়তসম্মত জবাই পদ্ধতির তিনটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: জবাইকারী শ্বাসনালী (হুলকুম), খাদ্যনালী (মারী') এবং দুটি রগ (ওয়াদজাইন) কাটবে। এটি জবাইয়ের সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ ও উত্তম পদ্ধতি। যখন এই চারটি অঙ্গ কাটা হবে, তখন সকল আলেমের মতে জবাই হালাল হবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: জবাইকারী শ্বাসনালী (হুলকুম), খাদ্যনালী (মারী') এবং একটি রগ কাটবে। এটিও হালাল, বিশুদ্ধ ও ভাল, যদিও তা প্রথম অবস্থার চেয়ে নিম্নতর।
তৃতীয় অবস্থা: জবাইকারী শুধুমাত্র শ্বাসনালী (হুলকুম) ও খাদ্যনালী (মারী') কাটবে, রগদ্বয় (ওয়াদজাইন) কাটবে না। এটিও সহীহ পদ্ধতি, যা একদল আলেমের অভিমত। তাদের দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: (দাঁত ও নখ ছাড়া রক্ত প্রবাহিত করতে সক্ষম এমন যে কোন জিনিস দিয়ে আল্লাহ তা’আলার নাম নিয়ে যবেহ করলে তোমরা তা খাও।) [১৪] এই মাসয়ালায় এটিই গ্রহণযোগ্য মত। [১৫] [১৪] সহীহ বুখারী ও মুসলিম। [১৫] দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া বিন বায (১৮/২৬)।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা উপকৃত করেন এবং আমাদের এমন জ্ঞান দান করেন যা আমাদের উপকারে আসে। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়াশীল ও মহান দাতা। আর আল্লাহ অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তার পরিবারবর্গের ওপর।