‘হাদী, কুরবানী ও যবেহ করার বিধি-বিধান’ নামক এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যা একজন মুসলিমের জন্য হাদী, কুরবানী ও যবেহ করার বিধি-বিধান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে; যাতে একজন মুসলিম তার দ্বীনের বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন হতে পারে।
বিভিন্ন ভাষায় ইসলামী বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সংস্থার একাডেমিক কমিটি
এই মাসয়ালায় এটিই গ্রহণযোগ্য মত। [১৫]
হাদী, কুরবানী ও যবেহ করার বিধি-বিধান
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি বিশ্বজগতের রব। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তার উপর যিনি বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন এবং তার পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও কিয়ামত অবধি যারা তার আদর্শ অনুসরণ করবে ও তার পথনির্দেশ দ্বারা পরিচালিত হবে তাদের সবার উপর। অতঃপর:
এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যা একজন মুসলিমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে হাদী, কুরবানী ও যবেহ করার বিধি-বিধান সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা এটি হারামাইন শরীফাইনের জিয়ারতকারী নারী-পুরুষদের জন্য সংকলন করেছি, যাতে তারা তাদের দ্বীনের বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন হতে পারে, এই আশায় যে মহা সম্মানিত ও করুণাময় আল্লাহ এর দ্বারা সবাইকে উপকৃত করবেন, এটিকে নেক আমল হিসেবে গণ্য করবেন এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করবেন। তিনিই সর্বোত্তম প্রার্থিত সত্তা এবং সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আশার স্থান।
হাদী ও কুরবানীর বিধি-বিধান
হাদী হল: সে সমস্ত প্রাণী যা হারাম শরিফের (মাক্কার) উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয় ও সেখানে যবেহ করা হয়। এটি এই নামে নামকরণ করার কারণ হল; এটি আল্লাহ তাআলার উদ্দেশ্যে উপহারস্বরূপ পাঠানো হয়।
আরবী الأضحية শব্দটির হামযা বর্ণে পেশ ও যের উভয়ভাবে পড়া যায়: এটি এমন পশু যা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে ঈদের দিন (ঈদুল আযহা) ও তাশরীকের দিনগুলোতে যবেহ করা হয়।
মুসলিমগণ এটি শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
হাদীর জন্য সর্বোত্তম পশু হল: উট, তারপর গরু—যদি পূর্ণ একটি প্রাণী কুরবানী দেওয়া হয়; কারণ এগুলোর মূল্য বেশি এবং গোশতের পরিমাণ বেশি হওয়ায় গরীবদের উপকারও বেশি, তারপর ছাগল/ভেড়া।
হাদী বা কুরবানীর জন্য কেবল ভেড়া/দুম্বার ক্ষেত্রে জাযা' (৬ মাস বয়সী) পশু যথেষ্ট। আর উট, গরু ও ছাগলের ক্ষেত্রে সানি হওয়া পশু জরুরি। সানি বলতে বুঝায়: এমন উট যা ৫ বছর পূর্ণ করেছে, এমন গরু যা ২ বছর পূর্ণ করেছে এবং এমন ছাগল যা ১ বছর পূর্ণ করেছে।
হাদীর ক্ষেত্রে একটি ছাগল শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে যথেষ্ট। কিন্তু কুরবানীর ক্ষেত্রে একটি ছাগল একজন ব্যক্তি ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। আর উট বা গরু হাদী ও কুরবানী উভয় ক্ষেত্রেই সাতজনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। দলীল জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন:“হুদায়বিয়ার বছর (৬ষ্ঠ হিজরী) আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে প্রতি সাতজনের পক্ষ থেকে একটি উট এবং প্রতি সাতজনের পক্ষ থেকে একটি গরু কুরবানী করেছি।”অন্য বর্ণনায় রয়েছে:“আমরা হজ্জের ইহরাম বেঁধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে রওনা হলাম। তিনি আমাদেরকে প্রতিটি উট বা গরু সাতজনে মিলে কুরবানী করার নির্দেশ দিলেন।”অপর বর্ণনায় রয়েছে:“আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ সম্পাদন করেছি। সে সময় আমরা সাত শরীকে একটি করে উট বা গরু কুরবানী করেছি।” [১][১] সহীহ মুসলিম।
এবং আবু আইয়ুব আনসারী রাযিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে কুরবানীর পশু কেমন ছিল?' তিনি উত্তরে বলেছিলেন:“তিনি বললেন: একজন ব্যক্তি নিজের এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ছাগল কুরবানী করত, নিজেরা খেতো অন্যদেরকেও খাওয়াতো। শেষে লোকেরা এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা করে বাহাদুরী প্রদর্শন শুরু করল। ফলে তা-ই হয়েছে তুমি যা দেখছ।” [২][২] তিরমিযী ও ইবনে মাজাহ।
মূলত উট বা গরুর এক-সপ্তমাংশের চেয়ে একটি ছাগল উত্তম।
হাদী ও কুরবানীর পশুর ক্ষেত্রে রোগমুক্ত, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দিক থেকে সম্পূর্ণ এবং দুর্বলতামুক্ত ব্যতীত কোন পশু যথেষ্ট হবে না। সুতরাং স্পষ্টভাবে কানা (যার একটি চোখ নষ্ট), সম্পূর্ণ অন্ধ, অতিশয় দুর্বল, যার শরীরে মজ্জা অবশিষ্ট নেই, এমন খোঁড়া যা সুস্থ পশুর সাথে চলতে অক্ষম, এমন দন্তহীন যার সম্মুখ দাঁত সম্পূর্ণভাবে উপড়ে গেছে, এমন বৃদ্ধা যার অধিক বয়সের কারণে দুধের স্তন শুকিয়ে গেছে - এগুলো কুরবানীতে যথেষ্ট নয়। আর স্পষ্ট রোগে আক্রান্ত পশুও যথেষ্ট হবে না। এ মর্মে বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মধ্যে দাঁড়ালেন, অতঃপর বললেন:(চার ধরণের পশু কুরবানী করা জায়িয নয়: অন্ধ যার অন্ধত্ব সুস্পষ্ট, রুগ্ন- যার রোগ সুস্পষ্ট, খোঁড়া-যার খোঁড়ামী সুস্পষ্ট, বৃদ্ধ ও দুর্বল-যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে।) [৩][৩] এটি আবু দাঊদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
ইমাম তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন:(বিদ্বানদের অভিমতের আলোকে এর উপরই আমল প্রচলিত রয়েছে।) [৪][৪] তিরমিযী।
বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তামাত্তু হজ্জের হাদী ও কুরবানীর পশু জবেহের সময়সীমা হলো: ঈদের সালাতের পর থেকে তাশরীকের শেষ দিন (১৩ই জিলহজ) পর্যন্ত।
তামাত্তু বা কিরান হজ্জের হাদী ও কুরবানীর পশু থেকে নিজে খাওয়া, অন্যকে হাদিয়া দেওয়া এবং দান করা - এ তিন ভাগে ভাগ করা মুস্তাহাব। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:“সুতরাং তোমরা তা থেকে খাও এবং দুঃস্থ, দরিদ্রকে খাওয়াও।”সূরা আল-হজ্জ, আয়াত: ২৮।
পক্ষান্তরে যেটা ‘জুবরান হাদী’— অর্থাৎ ইহরামের নিষিদ্ধ কাজ করার কারণে অথবা কোনো ওয়াজিব কাজ ছেড়ে দেওয়ার ক্ষতিপূরস্বরূপ যে কুরবানি দিতে হয়- তা থেকে নিজে কিছু খাওয়া জায়েয নয়।
যে ব্যক্তি কুরবানি করার ইচ্ছা রাখে, সে জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন প্রবেশ করার পর থেকে কুরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত নিজের চুল বা নখ কাটবে না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:(যখন -যিলহাজ্জ মাসের- প্রথম দশদিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখের কিছু স্পর্শ -কর্তন- না করে।) [৫][৫] সহীহ মুসলিম।
তবে যদি এর কোনটি করে ফেলে; তাহলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে, কিন্তু কোন ফিদিয়া দিতে হবে না।
হাদী, কুরবানী ইত্যাদির পশু জবাইয়ের পদ্ধতি নিম্নরূপ:
১- শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্ক, বিবেকবান মুসলিম বা আহলে কিতাব ব্যক্তিই জবাই করতে পারবে এবং জবাইকারী জবাই করার নিয়ত করবে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নামে জবাই করবে না, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো নাম উচ্চারণ করবে না। জবাই বা নাহর করার সময় বিসমিল্লাহ বলবে, ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে জবাই করবে (তবে দাঁত বা নখ দ্বারা নয়), রক্ত যেন ঠিকমতো নির্গত হয়। আর জবাইকারীকে শরীয়তের দৃষ্টিতে জবাইয়ের অনুমোদিত ব্যক্তি হতে হবে। [৬][৬] আহকামুল উযহিয়া, আল্লামা মুহাম্মাদ বিন উছাইমীন (পৃ: ৫৬-৮৭)।
২- কুরবানীর পশু নির্বাচন করবে এবং ত্রুটিমুক্ত পশুটি বাছাই করতে সচেষ্ট থাকবে; কেননা(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই শিং বিশিষ্ট সাদা-কালো রং এর দুটি দুম্বা নিজ হাতে যবেহ করেন। তিনি ’বিসমিল্লাহি’ পড়েন, “আল্লাহু আকবার” বলেন এবং (যবাহকালে) তার পা দিয়ে সে দুটির ঘাড় চেপে রাখেন।) [৭][৭] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
পশুকে দেখিয়ে ছুরি ধার দেওয়া মাকরূহ; কেননা ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহ আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছুরি ধারালো করতে এবং তা পশুর দৃষ্টির অগোচরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন: তোমাদের কেউ যবেহ করার সময় যেন দ্রুত যবেহ করে।) [৯][৯] মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে ইবনে মাজাহ।
৪- যদি কুরবানীর পশু উট হয়, তবে তা বাঁধা অবস্থায় (দাঁড় করিয়ে) এবং তার বাম পা বাঁধা অবস্থায় নহর করবে। এ মর্মে আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদীস রয়েছে:(তিনি আসলেন এমন এক ব্যক্তির নিকট, যে তার উটকে নহর করার জন্য বসিয়ে রেখেছিল। ইবনে ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা বললেন, মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের ন্যায় সেটি উঠিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় বেঁধে নাও।) [১০][১০] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।
৫- যদি কুরবানীর পশু উট ছাড়া অন্য কোনো প্রাণী হয়, তবে তাকে বাম কাতে শুইয়ে জবাই করবে এবং জবাইকারী তার পা পশুর ঘাড়ের পাশে রাখবে, যাতে পশুকে স্থিরভাবে ধরে জবাই করতে পারে। কেননা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন:(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই শিং বিশিষ্ট সাদা-কালো রং-এর দুটি দুম্বা নিজ হাতে যবেহ করেন। তিনি ’বিসমিল্লাহ’ পড়েন, “আল্লাহু আকবার” বলেন এবং (যবাহকালে) তার পা দিয়ে সে দুটির ঘাড় চেপে রাখেন।) [১১][১১] সহীহ বুখারী, মুসলিম।
বিসমিল্লাহর সাথে তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলা মুস্তাহাব; কেননা জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কুরবানীর ঈদে প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি খুতবা প্রদান শেষ করে মিম্বর থেকে নেমে এলেন। অতঃপর একটি মেষ আনা হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাতে সেটিকে যবেহ করলেন। আর বললেন:(বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর। এটি আমার পক্ষ থেকে এবং আমার উম্মাতের মধ্যে যারা কুরবানী দিতে পারেনি তাদের পক্ষ থেকে।)” [১৩][১৩] সুনানে আবু দাউদ, তিরমিযী, শাইখ আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন।
৭- শ্বাসনালী (হুলকুম), খাদ্যনালী (মারী') এবং দুটি রগ (ওয়াদজাইন) কেটে রক্ত প্রবাহিত করতে হবে। ইমাম ইবনে বায রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: উট, গরু ও ছাগলের শরীয়তসম্মত জবাই পদ্ধতির তিনটি অবস্থা:
প্রথম অবস্থা: জবাইকারী শ্বাসনালী (হুলকুম), খাদ্যনালী (মারী') এবং দুটি রগ (ওয়াদজাইন) কাটবে। এটি জবাইয়ের সর্বাপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ ও উত্তম পদ্ধতি। যখন এই চারটি অঙ্গ কাটা হবে, তখন সকল আলেমের মতে জবাই হালাল হবে।
দ্বিতীয় অবস্থা: জবাইকারী শ্বাসনালী (হুলকুম), খাদ্যনালী (মারী') এবং একটি রগ কাটবে। এটিও হালাল, বিশুদ্ধ ও ভাল, যদিও তা প্রথম অবস্থার চেয়ে নিম্নতর।
তৃতীয় অবস্থা: জবাইকারী শুধুমাত্র শ্বাসনালী (হুলকুম) ও খাদ্যনালী (মারী') কাটবে, রগদ্বয় (ওয়াদজাইন) কাটবে না। এটিও সহীহ পদ্ধতি, যা একদল আলেমের অভিমত। তাদের দলিল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী:(দাঁত ও নখ ছাড়া রক্ত প্রবাহিত করতে সক্ষম এমন যে কোন জিনিস দিয়ে আল্লাহ তা’আলার নাম নিয়ে যবেহ করলে তোমরা তা খাও।) [১৪][১৪] সহীহ বুখারী ও মুসলিম।[১৫] দেখুন: মাজমুউ ফাতাওয়া বিন বায (১৮/২৬)।
আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে যা শিখিয়েছেন তা দ্বারা উপকৃত করেন এবং আমাদের এমন জ্ঞান দান করেন যা আমাদের উপকারে আসে। নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়াশীল ও মহান দাতা। আর আল্লাহ অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তার পরিবারবর্গের ওপর।
পবিত্রতা, সালাত এবং জানাযা সম্পর্কিত ফিকহী বিধানসমূহ
14 ভাষা
পবিত্রতা, সালাত এবং জানাযা সম্পর্কিত ফিকহী বিধানসমূহ
শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ রচিত "পবিত্রতা, সালাত এবং জানাযা সম্পর্কিত ফিকহী বিধানসমূহ" বইটি কুরআন ও সুন্নাহর উপর ভিত্তি করে পবিত্রতা, সালাত এবং জানাযার ইবাদাতকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে। এর লক্ষ্য হল মুসলিমদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুযায়ী তাদের ইবাদত সম্পাদন করতে সক্ষম করা, যেখানে সহজীকরণ ও শরীয়তের প্রতি আনুগত্যের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। এটি ইখলাস ও সুন্নাহর অনুসরণের প্রতি উৎসাহিত করে, যাতে আল্লাহর নিকট তা গ্রহণযোগ্য হয় ও তাঁর নৈকট্য অর্জন করা যায়।
এই কিতাবটি আযান ও ইকামত, সালাতের ইমামতি, জুমু‘আর খুতবা এবং মসজিদের আদব সম্পর্কিত বিধানসমূহের সার্বিক ধারণা প্রদান করে। কিতাবটিতে মুয়াজ্জিন, ইমাম ও খতীবদের কর্তব্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এবং এসব দায়িত্ব সঠিকভাবে সম্পাদন নিশ্চিত করার জন্য এ সম্পর্কিত শর‘ঈ বিধানসমূহ জানার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীসসমূহ ও সেগুলোর ব্যাখ্যাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে এর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিটি বস্তুই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের ওপর প্রমাণ বহন করে। আসমানসমূহ, যমীন এবং তার মধ্যবর্তী মহান সৃষ্টিসমূহ যা আয়ত্তে আনা সম্ভব নয় তা কে সৃষ্টি করেছেন? আসমান ও যমীনে এ সূক্ষ্ম-সুদৃঢ় ব্যবস্থা কে তৈরী করেছেন? কে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও বিবেক প্রদান করেছেন এবং তাকে জ্ঞান অর্জন ও সত্য চিনতে সক্ষম করেছেন? আপনার শরীরের অঙ্গে এবং অন্যান্য জীবন্ত প্রাণীর দেহে এই সূক্ষ্ম ব্যবস্থাটিকে আপনি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন? এবং কে তাদের সৃষ্টি করেছেন? কিভাবে এই সুবিশাল মহাবিশ্ব তাকে নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণকারী নিয়মসহ স্থির রয়েছে ও পরিচালিত হচ্ছে।
লেখক: শাইখুল ইসলাম মুজাদ্দিদ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব-রহিমাহুল্লাহ- (১১১৫-১২০৬) হিজরী এটি তাহকীক করেছেন, এতে যত্ন নিয়েছেন ও এর হাদীসসমূহের তাখরীজ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দা ড. সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহফ আল-কাহতানী পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে