المناهج التعليمية - الصف الثاني
দ্বিতীয় স্তরে কিতাবটিতে 'তাওহীদ' বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে এমন তিনটি মূলনীতি তুলে ধরা হয়েছে, যা সম্পর্কে একজন মানুষের জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক: আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে জানা, দ্বীন সম্পর্কে জানা এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জানা। এছাড়া এতে দ্বীনের স্তরসমূহ (ইসলাম, ঈমান, ইহসান)-এর ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; সেইসাথে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত ও তাঁর আনুগত্য করার পদ্ধতি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসা ও তাঁর আনুগত্য করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
This PDF is generated automatically from the book's text; its layout may differ from the printed edition.
শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, কিতাবুত তাওহীদ, স্তর (দ্বিতীয়)।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: এই ইলমী বিষয়বস্তুটি সৌদি আরবের ছাত্রদের জন্য প্রণীত শিক্ষাক্রমের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। আর এই বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তাওহীদের জ্ঞান অধ্যয়ন সম্পর্কিত বিষয়, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হলো: সেই তিনটি মূলনীতি, যা প্রত্যেক মানুষের জানা আবশ্যক। আর তা হচ্ছে:
১- বান্দা কর্তৃক তার রবকে জানা এবং অন্য কাউকে বাদ দিয়ে একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা আবশ্যক।
২- বান্দা কর্তৃক তার দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং এ কথা জানা যে, দ্বীনের স্তর তিনটি; আর তা হলো: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান, সেই সাথে প্রতিটি স্তরের অর্থ ও তার দলিলসমূহের বর্ণনা।
৩। বান্দা কর্তৃক তার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানা এবং তাঁর আনুগত্য ও ভালোবাসার বিধান বর্ণনা করা।
দ্বিতীয় স্তর
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সম্মানিত উম্মী নবীর ওপর, যাঁকে আল্লাহ প্রেরণ করেছেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার জন্য। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ হলো সর্বাপেক্ষা অত্যাবশ্যকীয় বিষয় এবং এ সম্পর্কিত জ্ঞান হলো সর্বাপেক্ষা মহৎ ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। আর এটাই হলো সেই মূল ভিত্তি, যার ওপর আমলসমূহের বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত। এর প্রতি বান্দার প্রয়োজনীয়তা অন্য সকল প্রয়োজনীয়তার ঊর্ধ্বে; কেননা আল্লাহ তা‘আলার নাম, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে আপন রব, মাবুদ ও স্রষ্টাকে চেনা ছাড়া অন্তরসমূহের কোনো জীবন, প্রশান্তি ও স্বস্তি নেই। তেমনিভাবে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা এবং পবিত্রতা, সালাত ও অন্যান্য ইবাদতসমূহ আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানা হলো সৌভাগ্যের লক্ষণ এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার কল্যাণ চান তার নিদর্শন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: [১] সহীহ বুখারী (হাদীস নং: ৭)। “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের ‘ইলম দান করেন[১]।”
এই দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রবাসী সচেতনতা কার্যালয় তাওহীদ বিষয়টি শিক্ষা প্রদানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে; যাতে শিক্ষার্থীদের অন্তরে সঠিক আকীদা বদ্ধমূল করা যায় এবং তাদেরকে ফিকহী বিধানাবলি শিক্ষা দেওয়া যায়। যেন তারা শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে ইবাদতসমূহ পালন করতে পারে এবং স্বীয় দ্বীনের বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান ও দূরদৃষ্টির অধিকারী হতে পারে।
আর তাওহীদ পাঠ্যক্রমের এই স্তরে দ্বীনের স্তরসমূহ এবং এর তিনটি মূলনীতির সহজ ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা জানা মানুষের জন্য আবশ্যক।
আর শিক্ষকের প্রতি রইল এই উপদেশসমূহ:
১- আল্লাহর প্রতি ইখলাস আমল কবুল হওয়ার শর্ত; সুতরাং আপনার আমলকে আল্লাহ সুবহানাহু কে সন্তুষ্ট করে তাঁর চেহারা দর্শনের উদ্দেশ্যে খালেস করুন, তাহলে আপনি আপনার দুনিয়া ও আখিরাতে লাভবান হবেন।
২- আমানত রক্ষা করা মুক্তির উপায়, আর আপনি - হে আমার শিক্ষক ভাই - ইসলামের অন্যতম এক সীমান্তে অবস্থান করছেন এবং মুসলিম সন্তানদের বিবেক-বুদ্ধি ও ফিতরাতের ব্যাপারে আপনি আমানতদার। সুতরাং আপনি আমানত রক্ষা করুন; যাতে উভয় জগতে সফলতা লাভ করতে পারেন।
৩- নিশ্চয়ই তাওহীদ বিষয় শিক্ষা প্রদান করা সর্বশ্রেষ্ঠ কাজগুলোর অন্যতম। কেননা, তাওহীদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ও সে অনুযায়ী আমল করা ছাড়া বান্দাদের কোনো কল্যাণ নেই এবং দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখেরাতের আযাব থেকে কোনো মুক্তি নেই। অতএব, শিক্ষার্থীদের অন্তরে সঠিক আক্বীদা বদ্ধমূল করতে আপনি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করুন এবং যেসব সুমহান আদর্শ ও মূল্যবোধের দিকে আপনি আহ্বান জানান, তার সত্যিকারের প্রতিচ্ছবি ও জীবন্ত আদর্শে পরিণত হোন।
৪- মাঝ আকাশে মেঘমালা পুঞ্জীভূত হওয়া, বিদ্যুৎ চমকানো, মেঘের গর্জন, বৃষ্টি বর্ষণ এবং এ জাতীয় অন্যান্য ঘটনার সময়—যা মুসলিমের অন্তরে ঈমানের প্রেরণাকে জাগ্রত করে—আল্লাহর একত্ব ও তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনার জন্য পরিস্থিতিগুলোকে কাজে লাগানো।
৫- নিশ্চয়ই উদাহরণ পেশ করা এবং পাঠকে বাস্তব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিষয়বস্তুকে সহজ করা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষয়বস্তুর প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টিতে এবং পরবর্তীতে তা শেখা ও সে অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব রাখে। পরিশেষে, আমরা আপনাকে রাসূল ﷺ-এর এই বাণী দ্বারা সুসংবাদ দিচ্ছি: “নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক আমল থেকে যা লাভ করে তার মধ্যে রয়েছে এমন ইলম, যা সে শিক্ষা দিয়েছে এবং প্রচার করেছে”। [২] [২] সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং (২৪২)। (আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে নিজ সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষার একটি রীতি। বাংলায় এরীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদে একবচনই ব্যবহার করা হয়েছে।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)
তাওহীদের পাঠ্যক্রম:
বিষয় / পৃষ্ঠা
প্রথম পাঠ: প্রথম স্তরে পূর্বে পঠিত বিষয়াবলির পুনরালোচনা
দ্বিতীয় পাঠ: তিনটি মূলনীতি
তৃতীয় পাঠ: প্রথম মূলনীতি: বান্দা কর্তৃক তার রবকে জানা।
চতুর্থ পাঠ: জিন ও মানুষ সৃষ্টির রহস্য
পঞ্চম পাঠ: একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা আবশ্যক।
ষষ্ঠ পাঠ: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করা শিরক।
সপ্তম পাঠ: দ্বিতীয় মূলনীতি: বান্দা কর্তৃক তার দ্বীনকে জানা।
অষ্টম পাঠ: দ্বীনের স্তরসমূহ (প্রথম স্তর: ইসলাম)
নবম পাঠ: শাহাদাতাইনের(দুই সাক্ষ্যের) অর্থ
দশম পাঠ: দ্বিতীয় স্তর (ঈমান)
একাদশ পাঠ: পুনরুত্থানে বিশ্বাস
দ্বাদশ পাঠ: তৃতীয় স্তর (ইহসান)
ত্রয়োদশ পাঠ: তৃতীয় মূলনীতি: বান্দা কর্তৃক তার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানা।
প্রথম পাঠ
প্রথম স্তরে পূর্বে যা অধ্যয়ন করা হয়েছে তার পুনরালোচনা।
১- তোমার রব কে?
২- আল্লাহ কোথায়?
৩- কে তোমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং রিজিক দিয়েছেন?
৪- আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা... [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬২]
আল্লাহ তা‘আলার মাখলুকসমূহের মধ্য থেকে তিনটি উল্লেখ কর।
১-............... ২-............... ৩-...............
৫- কে বৃষ্টি বর্ষণ করেন?
৬- নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল?
৭- নিচের শব্দগুলো থেকে উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ কর:
[মুহাম্মদ ﷺ - ইসলাম - জাহান্নাম - আল্লাহ - জান্নাত - কুরআনুল কারীম]
ক- রোগাক্রান্ত হলে যিনি আমাকে আরোগ্য দান করেন, তিনি হলেন . . . . . . . .
খ- আমার দ্বীন . . . . . . . .
গ- আমার নবী . . . . . . . .
ঘ- আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে যে কিতাব নাযিল করেছেন তা হচ্ছে . . . . . . . .
ঙ- যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে . . . . . . . . প্রবেশ করল, আর যে তাঁর অবাধ্য হল, সে . . . . . . . . প্রবেশ করল।
দ্বিতীয় পাঠ [৩]
[৩] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী তিনটি মূলনীতি উল্লেখ করতে পারবে। - শিক্ষার্থী তিনটি মূলনীতির দলীল বর্ণনা করতে পারবে। - শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম নিয়ে গর্ববোধ করবে।
তিনটি মূলনীতি [৪]
[৪] শিক্ষকের জন্য: - শিক্ষার্থীদের বোধগম্যতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শাইখ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব -রাহিমাহুল্লাহ--এর পরিচয় তুলে ধরা এবং এই ভূখণ্ডে ও অন্যান্য অঞ্চলে তাওহীদ প্রসারে তাঁর প্রচেষ্টার প্রশংসা করা। অধিক জানার জন্য দেখা যেতে পারে: ইবন বিশর রচিত (উনওয়ানুল মাজদ ফী তারীখি নাজদ) এবং ইবন গান্নাম রচিত (তারীখু নাজদ)। - 'আসল' (الأصل) শব্দটির অর্থ স্পষ্ট করা, আর তা হলো কোনো বিষয়ের ভিত্তি, যার ওপর তা প্রতিষ্ঠিত থাকে। - এই তিনটি মূলনীতি সম্পর্কেই বান্দাকে তার কবরে জিজ্ঞেস করা হবে (তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? এবং তোমার নবী কে?)। সুতরাং যে এগুলোর উত্তর দেবে, আল্লাহ তাকে নি‘আমতপূর্ণ জান্নাত দিয়ে পুরস্কৃত করবেন। আর যে উত্তর দিতে পারবে না, তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন; যেমনটি বারা ইবন আযিব -রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু--এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যা আবু দাউদ (৪৭৫৩) নম্বরে বর্ণনা করেছেন।
যে তিনটি মূলনীতি মানুষের জানা ওয়াজিব, তা হলো:
১- বান্দা কর্তৃক তার রবকে জানা। ২- বান্দা কর্তৃক তার দ্বীনকে জানা। ৩- বান্দা কর্তৃক তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানা।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "“সে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে, যে রব হিসেবে আল্লাহকে, দ্বীন হিসেবে ইসলামকে এবং নবী হিসেবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সন্তুষ্ট চিত্তে স্বীকার করেছে”। [৫]" [৫] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (৩৪)।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ করো:
তিনটি মূলনীতি, যা মানুষের জানা ওয়াজিব:
১- বান্দা কর্তৃক ..... জানা ২- বান্দা কর্তৃক ..... জানা ৩- বান্দা কর্তৃক ...... জানা
প্রশ্ন ২: সেই তিনটি মূলনীতির দলীল কী, যা মানুষের জানা ওয়াজিব?
প্রশ্ন ৩: বান্দাকে তার কবরে তিনটি প্রশ্ন করা হবে:
তোমার রব কে? আর তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবী কে?
তৃতীয় পাঠ [৬]
[৬] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র তিনটি মূলনীতির প্রথমটি উল্লেখ করবে। - ছাত্র ‘রব’-এর অর্থ বর্ণনা করবে। - ছাত্র আল্লাহ তাআলার কিছু সৃষ্টির নাম উল্লেখ করবে।
প্রথম মূলনীতি: বান্দা কর্তৃক তার রবকে জানা [৭]
[৭] শিক্ষকের জন্য: - আল্লাহ সুবহানাহুর মাখলুকসমূহ নিয়ে শিক্ষার্থীর চিন্তা-গবেষণার শক্তি জাগ্রত করার লক্ষ্যে আয়াত ও হাদীসের উদ্ধৃতি প্রদানসহ শ্রেণিকক্ষের বাইরে পাঠদান করা উত্তম। - আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “হে মানুষ, তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত কর, যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার। যিনি তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানাস্বরূপ এবং আসমানকে ছাদস্বরূপ করেছেন, আর আসমান থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর তা দ্বারা তোমাদের জন্য রিযিকস্বরূপ ফলমূল উৎপন্ন করেছেন। সুতরাং তোমরা জেনে-বুঝে আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ নির্ধারণ করো না।” [সূরা আল-বাকারাহ: ২১-২২]। ইবন কাসীর বলেন: “এসব বস্তুর স্রষ্টাই ইবাদতের যোগ্য।” - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, আল্লাহর মাখলুকসমূহ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা একটি ইবাদত। - শিক্ষার্থীদেরকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের সময় (যেমন— উপকারী ইলম ও হালাল রিযিক অন্বেষণ) এবং বিপদ-কষ্টের সময় (যেমন— রোগ থেকে আরোগ্য লাভ ও বিপদ দূরীকরণ) আল্লাহ সুবহানাহুর কাছে দো‘আ করার জন্য দিকনির্দেশনা প্রদান করা। - আল্লাহর মহান নিআমতসমূহের ওপর তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে উৎসাহিত করা; যার মধ্যে সূর্য ও চাঁদ অন্যতম, মানুষ, জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জন্য এ দুটোর বিশাল উপকারিতা রয়েছে।
তিনটি মূলনীতি:
১- বান্দা কর্তৃক তার রবকে জানা। ২- বান্দা কর্তৃক তার দ্বীনকে জানা। ৩- বান্দা কর্তৃক তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানা।
আমার রব আল্লাহ: সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, পরিচালনাকারী, তিনি একাই ইবাদতের উপযুক্ত, অন্য কেউ নয়।
* আমি আমার রবকে চিনি তাঁর আয়াতসমূহ (নিদর্শনাবলী) ও মাখলূকদের দ্বারা: যেমন- রাত ও দিন, সূর্য ও চাঁদ এবং আসমানসমূহ ও জমিন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: আর আল্লাহর (বড়ত্ব ও একত্বের ওপর প্রমাণ বহনকারী) নিদর্শনসমূহের মধ্যে রয়েছে রাত ও দিন, সূর্য ও চাঁদ । (হে মানুষ) তোমরা সূর্যকে সাজদা করো না এবং চাঁদকেও নয়। বরং তোমরা একমাত্র আল্লাহকে সাজদা করো, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা প্রকৃতই তাঁরই ইবাদাত করে থাকো। [ফুসসিলাত: ৩৭]
আমি একজন মুসলিম, আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ সৃষ্টিকূলকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে রিযিক দিয়েছেন, আর তিনিই এই বিশ্বজগতের পরিচালনাকারী এবং একমাত্র তিনিই ইবাদতের হকদার।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: আর-রাব্ব এর অর্থ কি?
প্রশ্ন ২: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
- আমি আমার রবকে জানি ............... ও ...............-এর মাধ্যমে।
- যিনি রাত ও দিন সৃষ্টি করেছেন তিনি ...............
প্রশ্ন ৩: আল্লাহ তাআলার তিনটি সৃষ্টি উল্লেখ কর।
১- ...............।
২- ............... ।
৩- ............... .
প্রশ্ন ৪: আয়াতে বর্ণিত আল্লাহর নিদর্শনসমূহের নিচে দাগ দাও:
আল্লাহ তায়ালা বলেন: তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করান এবং দিনকে রাতের মধ্যে প্রবেশ করান? আর তিনি সূর্য ও চাঁদকে (তোমাদের কল্যাণে) নিয়োজিত করেছেন। প্রত্যেকেই (নির্ধারিত কক্ষ পথে) চলছে, একটি সুনির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত। আর নিশ্চয় তোমরা যা করো, আল্লাহ সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। [লুকমান: ২৯]
প্রশ্ন ৫: সূর্য ও চাঁদ আল্লাহর মহান সৃষ্টিসমূহের অন্যতম, যা আল্লাহ আমাদেরকে নিআমতস্বরূপ দান করেছেন। উভয়ের প্রত্যেকটির একটি করে উপকারিতা উল্লেখ কর।
চতুর্থ পাঠ [৮]
[৮] পাঠের উদ্দেশ্য: - শিক্ষার্থী জিন ও মানুষ সৃষ্টির হিকমত বর্ণনা করতে পারবে। - শিক্ষার্থী ইবাদতের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারবে।
জিন ও মানুষ সৃষ্টির রহস্য [৯]
[৯] শিক্ষকের জন্য: - এ কথা বর্ণনার মাধ্যমে বিষয়ের ভূমিকা প্রদান করা যে, আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন বা যার নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তাঁর হিকমত রয়েছে। তন্মধ্যে একটি হলো মানুষ সৃষ্টি; কেননা মানুষকে অনর্থক সৃষ্টি করা হয়নি, বরং তাকে এক মহান উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর তা হলো এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা, যাঁর কোনো শরীক নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “তোমরা কি মনে করেছিলে যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে আমার কাছে ফিরে আসতে হবে না?” [আল-মুমিনূন: ১১৫]। - প্রকাশ্য ইবাদতের (অঙ্গের আমল) আরও কিছু উদাহরণ উল্লেখ করা, যেমন: যাকাত, হজ ও জবেহ। আর অপ্রকাশ্য ইবাদতের (অন্তরের আমল) উদাহরণ, যেমন: মুহাব্বাত, ভয়, আশা ইত্যাদি। - এ কথা বর্ণনা করা যে, ইবাদত হলো অন্তর প্রশস্ত হওয়ার মাধ্যম। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “মুমিন অবস্থায় পুরুষ ও নারীর মধ্য থেকে যে কেউ সৎকাজ করবে, আমি অবশ্যই তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার চেয়ে উত্তম প্রতিদান হিসেবে আমি অবশ্যই তাদেরকে তাদের পুরস্কার প্রদান করব।” [আন-নাহল: ৯৭]।
আল্লাহ জিন ও মানুষকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদাত করার জন্যেই সৃষ্টি করেছি। [আয-যারিয়াত: ৫৬]
ইবাদত হচ্ছে: প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজসমূহের একটি সামগ্রিক নাম, যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হন।
আর ইবাদতের কয়েকটি উদাহরণ হলো: আল্লাহ তা‘আলাকে ভালোবাসা, আল্লাহকে ভয় করা, দু‘আ, সালাত, সিয়াম এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করা।
আর ইবাদত হচ্ছে বক্ষ প্রশস্ত হওয়া এবং অন্তরের প্রশান্তির কারণ।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১- আল্লাহ তোমাকে এক মহান উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করেছেন; দলিলসহ তা উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ২: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
- ইবাদত হচ্ছে: . . . . . . . . . . . . . . . ও . . . . . . . . . . . . . . . , প্রকাশ্য ও . . . . . . . . . -এর একটি সামগ্রিক নাম, যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হন।
- ইবাদতের প্রকারসমূহের মধ্যে রয়েছে: সালাত, . . . . . . . . . . , . . . . . . . . . . ও . . . . . . . . . .
প্রশ্ন ৩: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: যে মু’মিন অবস্থায় নেক আমল করবে, পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করবো এবং (দুনিয়াতে) তারা যা (নেক আমল) করত তার তুলনায় অবশ্যই আমি (পরকালে) তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিবো। [সূরা আন-নাহল : ৯৭]
- কিসের মাধ্যমে হায়াতে তাইয়্যেবা (পবিত্র জীবন) লাভ করা যায়?
পঞ্চম পাঠ [১০]
[১০] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী তাওহীদ পরিপন্থী শির্ক থেকে সতর্ক হবে। - শিক্ষার্থী ইবাদতে আল্লাহকে এক জানার আবশ্যকতার দলীল উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী তাওহীদের মহান মর্যাদা বর্ণনা করবে।
একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করার আবশ্যকতা [১১]
[১১] শিক্ষকের জন্য: - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, নবীগণের রিসালাত একই, আর তা হলো: তাওহীদের দিকে আহবান করা এবং শির্ক থেকে নিষেধ করা। এর সাথে সাথে এর প্রমাণবহনকারী নবীগণের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) কিছু কাহিনী উল্লেখ করা, যেমনটি সূরা আল-আ‘রাফ ও অন্যান্য সূরায় রয়েছে। - তাওহীদের গুরুত্ব বর্ণনা করা এবং এ কথা তুলে ধরা যে, দুনিয়া ও আখিরাতে তাওহীদ ব্যতীত সৌভাগ্যের কোনো পথ নেই। - শির্কের ভয়াবহতা স্পষ্ট করা এবং এটি যে দুনিয়াতে দুর্ভাগ্য ও আখিরাতে আযাবের সবচেয়ে বড় কারণ, তা তুলে ধরা। আর এ জন্যই ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তাঁর রবের কাছে দো‘আ করেছেন: ﴿...وَٱجۡنُبۡنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعۡبُدَ ٱلۡأَصۡنَامَ﴾ "…আর আমাকে ও আমার সন্তানদেরকে মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন।" [ইবরাহীম: ৩৫]। - শির্কের কিছু প্রকার বর্ণনা করা, যেমন: গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে যবেহ করা, গাইরুল্লাহর নামে শপথ করা এবং বিপদাপদ দূর করা বা প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে তাবিজ, সুতা, কড়ি বা এ জাতীয় কিছু পরিধান করা।
* আল্লাহ যার নির্দেশ দিয়েছেন তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তাওহীদ, আর তা হচ্ছে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা।
* আল্লাহ যা থেকে সবচেয়ে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন, তা হলো শিরক। আর তা হচ্ছে: আল্লাহর সাথে অন্য কারো ইবাদত করা।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: বলো: ‘আমাকে কেবল আদেশ দেয়া হয়েছে, যেন আমি আল্লাহর ইবাদাত করি এবং তাঁর সাথে (অন্য কাউকে) শরীক না করি।’ [আর-রা‘দ: ৩৬]
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করাকে কী বলা হয়?
প্রশ্ন ২: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
- আল্লাহ যার নির্দেশ দিয়েছেন তন্মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
- আল্লাহ যা থেকে সবচেয়ে কঠিনভাবে নিষেধ করেছেন . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
- তাওহীদ হল . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . ও আখেরাতে সৌভাগ্য লাভের পথ।
- শির্ক হলো দুনিয়াতে দুর্দশা এবং . . . . . . . . . . আযাবের সবচেয়ে বড় কারণ।
প্রশ্ন ৩: একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করার আবশ্যকতা সম্পর্কে একটি দলীল উল্লেখ কর।
ষষ্ঠ পাঠ [১২]
[১২] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী শিরক থেকে সতর্ক থাকবে। - শিক্ষার্থী শিরকের কিছু রূপ উল্লেখ করবে। - যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের জন্য ইবাদতের কোনো প্রকার নিবেদন করে, শিক্ষার্থী তার বিধান বর্ণনা করবে। - আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত যে শিরক, শিক্ষার্থী তার দলীল উল্লেখ করবে।
আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা শিরক। [13]
[১৩] শিক্ষকের জন্য: - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে ইবাদতের কোনো প্রকার নিবেদন করে, যেমন- দুআ করা, যবেহ করা, সিজদা করা ইত্যাদি; সে মুশরিক ও কাফির। যদিও সে সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে, হজ ও উমরাহ করে এবং নিজেকে মুসলিম বলে দাবি করে। - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে প্রথম দিকের কিছু মুশরিক বিভিন্ন প্রকারের ইবাদত করত, কিন্তু শিরক থাকা অবস্থায় তা তাদের কোনো উপকারে আসেনি। - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, শিরকের শাস্তি হলো জাহান্নামে চিরস্থায়ী হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত অবশ্যই হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই।) [সূরা আল-মায়িদাহ: ৭২]। - মানুষের প্রতি শয়তানের শত্রুতা এবং তাকে শিরক ও পথভ্রষ্টতায় নিপতিত করার ব্যাপারে তার প্রবল আকাঙ্ক্ষা, যাতে সে জাহান্নামে তার সঙ্গী হতে পারে এর বর্ণনা করা ।
যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর ইবাদাত করে, সে মুশরিক।
যেমন:
- যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডাকবে। - এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া কারো জন্যে যবেহ করবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: আর তোমরা (পূর্ণ আনুগত্যসহ) এক আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরীক করো না... [আন-নিসা : ৩৬]
শির্ক হলো দুনিয়া ও আখিরাতে দুর্ভোগের কারণ।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করে সে মুশরিক।
ক- এর স্ব-পক্ষে দলীল উল্লেখ কর।
তার একটি উদাহরণ পেশ কর।
প্রশ্ন ২: নিচের শূন্যস্থানটি পূর্ণ কর:
১- মুশরিকের শাস্তি . . . . . . . . . . . চিরকাল থাকা।
২- যে ব্যক্তি ইবাদতের প্রকারসমূহ থেকে কোনো কিছু গাইরুল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করে, যেমন দোয়া ও . . . . . . . . , সে মুশরিক।
প্রশ্ন ৩- শয়তান কেন মানুষকে শির্কে লিপ্ত করতে তৎপর থাকে?
সপ্তম পাঠ [১৪]
[১৪] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী দ্বীনের স্তরসমূহ বর্ণনা করবে। - শিক্ষার্থী ইসলামের অর্থ ব্যাখ্যা করবে। - শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম নিয়ে গর্ববোধ করবে।
দ্বিতীয় মূলনীতি: বান্দা কর্তৃক তার দ্বীনকে জানা [১৫]
[১৫] শিক্ষকের জন্য: - শিক্ষার্থীদের অন্তরে ইসলামের প্রতি ভালোবাসা ও এর প্রতি গৌরববোধ গেঁথে দেওয়ার বিষয়ে যত্নবান হওয়া। - এ বিষয় স্পষ্ট করা যে, ইসলাম সৌভাগ্য, প্রশান্তি ও বক্ষের প্রশস্ততা নিশ্চিত করে। আর শিরক ও পথভ্রষ্টতা হলো বক্ষ সংকীর্ণ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, {অতঃপর যে আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং কষ্টে পতিত হবে না। আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ হবে, নিশ্চয় তার জীবন-যাপন হবে সংকুচিত।} [সূরা ত্বহা : ১২৩-১২৪] - এমন কয়েকজন ব্যক্তির ঘটনা উল্লেখ করা, যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং এর আশ্রয়ে স্বস্তি ও প্রশান্তি লাভ করেছে।
তিনটি মূলনীতি:
১- বান্দার কর্তৃক তার রবকে জানা। ২- বান্দা কর্তৃক তার দ্বীনকে জানা। ৩- বান্দা কর্তৃক তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানা।
দ্বীনের স্তর তিনটি:
প্রথম স্তর: ইসলাম।
দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে: ঈমান।
তৃতীয় স্তর: ইহসান।
অষ্টম পাঠ
প্রথম স্তর: ইসলাম।
ইসলাম হল: তাওহীদের সাথে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা, ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য স্বীকার করা এবং শিরক ও মুশরিক থেকে পবিত্র থাকা।
* আমি মুসলিম, আমি আমার দ্বীন ইসলামকে ভালোবাসি এবং তা নিয়ে গর্ববোধ করি।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: দ্বীনের প্রতিটি স্তরকে তার উপযুক্ত বিষয়ের সাথে মিল কর:
ইহসান
দ্বিতীয় স্তর।
ঈমান
প্রথম স্তর।
ইসলাম
তৃতীয় স্তর।
প্রশ্ন ১: নিচের সংজ্ঞাটি পূর্ণ করো:
ইসলাম হল: আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা ............... , তাঁর আনুগত্য স্বীকার করা ............... এবং শিরক থেকে পবিত্র থাকা।
নবম পাঠ [১৬]
[১৬] পাঠের উদ্দেশ্য: - শিক্ষার্থী ইসলামের পাঁচটি রুকন উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী এই পাঁচটি রুকন আদায়ের বিধান বর্ণনা করবে। - শিক্ষার্থী সালাতের গুরুত্ব এবং তা যথাযথভাবে আদায়ের আবশ্যকতা ব্যাখ্যা করবে।
ইসলামের রুকনসমূহ [১৭]
[১৭] শিক্ষকের জন্য: - কক্ষের স্তম্ভের উদাহরণ দিয়ে ‘রুকন’-এর অর্থ স্পষ্ট করা, এ কথা বর্ণনা করার জন্য যে, পাঁচটি রুকন ছাড়া ইসলাম প্রতিষ্ঠিত ও স্থির হতে পারে না। - আল্লাহর পক্ষ থেকে এই রুকনগুলো ফরয হওয়ার বিষয়টি সাব্যস্ত করা। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের উপরে প্রতিষ্ঠিত. . . . .” মুসলিম তা বর্ণনা করেছেন (১৬) নং হাদীসে। - যথাসময়ে সালাত আদায়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং এ কথা বর্ণনা করা যে, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় কিয়ামতের দিন বান্দার আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তার সালাতের হিসাব নেওয়া হবে। যদি তা সঠিক হয়, তবে সে সফলকাম ও কৃতকার্য হবে। আর যদি তা নষ্ট হয়, তবে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” ইমাম তিরমিযী রহ. তা বর্ণনা করেছেন (৪১৩) নং হাদীসে। - সালাত ত্যাগ করা থেকে সতর্ক করা এবং সালাত পরিত্যাগকারীর কুফুরীর বিষয়টি বর্ণনা করা। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাদের ও তাদের মধ্যে চুক্তি হচ্ছে সালাত, অতএব যে ব্যক্তি তা ত্যাগ করল সে কুফুরী করল।” ইমাম তিরমিযী রহ. তা বর্ণনা করেছেন (২৬২১) নং হাদীসে।
ইসলামের রুকন পাঁচটি:
প্রথম রুকন: আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল- একথার সাক্ষ্য দেওয়া।
দ্বিতীয় রুকন: সালাত কায়েম করা
তৃতীয় রুকন: যাকাত আদায় করা
চতুর্থ রুকন: রমযানের সাওম পালন করা
পঞ্চম রুকন: সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের বাইতুল্লাহতে হজ্জ আদায় করা।
* ইসলামের পাঁচটি রুকন পরস্পরের সাথে সম্পৃক্ত, তাই জান্নাত লাভের জন্য মানুষের তা পালন করা আবশ্যক।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: ইসলামের রুকনগুলো কী কী?
প্রশ্ন ২: ইসলামের রুকনসমূহের নিচে দাগ দাও:
( রামাযানের সিয়াম পালন করা - পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ করা - বাইতুল্লাহতে পৌঁছার সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করা - পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা - সালাত কায়েম করা - এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল - যাকাত আদায় করা )।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত শূন্যস্থানটি পূরণ কর:
কিয়ামতের দিন বান্দার থেকে সর্বপ্রথম যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে . . . . . . . . . . .
দশম পাঠ [১৮]
[১৮] পাঠের উদ্দেশ্য: - শিক্ষার্থী ‘আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবুদ নেই’ এর অর্থ ব্যাখ্যা করবে। - শিক্ষার্থী 'মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল' সাক্ষ্যদানের মর্মার্থ ব্যাখ্যা করবে। - শিক্ষার্থী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসবে এবং তাঁর আনুগত্য করবে। - শিক্ষার্থী রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা আদেশ করেছেন, তার বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে সতর্ক থাকবে।
শাহাদাতাইনের অর্থ [১৯]
[১৯] শিক্ষকের জন্য: - শাহাদাতান তথা দুই সাক্ষ্যের মহান মর্যাদা বর্ণনা করা; কারণ এর মাধ্যমেই মানুষ ইসলামে প্রবেশ করে। - এ দিকে ইঙ্গিত করা যে, আল্লাহর পাশাপাশি বাতিল বা মিথ্যা উপাস্যও রয়েছে; যেমন কেউ নবী ও নেককারদের কবরের উদ্দেশ্যে দু‘আ ও যবাই করার দিকে ধাবিত হয়। আর এটি হলো বড় শির্ক, যা থেকে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন। - এ বিষয় স্পষ্ট করা যে, 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর সাক্ষ্য এর উচ্চারণকারীকে ততক্ষণ পর্যন্ত উপকৃত করবে না, যতক্ষণ না সে এর অর্থ জানবে, এর দাবি অনুযায়ী আমল করবে এবং এর ভঙ্গকারী বিষয় থেকে নিরাপদ থাকবে। - এ বিষয় বর্ণনা করা যে, সর্বোত্তম যিকির হলো: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। আর দুনিয়াতে যার শেষ কথা হবে (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। - “মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল” এই সাক্ষ্যের অর্থ স্পষ্ট করা: - যে সব বিষয়ে তিনি নির্দেশ দেন তা মেনে চলা: অর্থাৎ ইসলামের রুকন ও ওয়াজিবসমূহ পালন করা, যেমন সালাত ও অন্যান্য বিষয়। - যে বিষয়ে সংবাদ দেন তা বিশ্বাস করা: যেমন কিয়ামত সংঘটিত হওয়া, জান্নাত, জাহান্নাম এবং অন্যান্য বিষয়। - যা থেকে তিনি নিষেধ ও বারণ করেছেন তা পরিহার করা: অর্থাৎ কবীরা ও সগীরা (বড় ও ছোট) গুনাহসমূহ, আর সবচেয়ে বড় গুনাহ হলো শির্ক। - এবং একমাত্র তাঁর দেওয়া শরী‘আত মোতাবেক আল্লাহর ইবাদাত করা: অর্থাৎ আনুগত্যমূলক কাজসমূহ করা এবং বিদ‘আতসমূহ পরিহার করা, যেমন নবীর জন্মদিবস (ঈদে মিলাদুন্নবী) উদযাপন করা। - এ বিষয় স্পষ্ট করা যে, 'যজর' (কঠোর বারণ) 'নাহি' (সাধারণ নিষেধ) অপেক্ষা অধিকতর শক্তিশালী।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্যের অর্থ: আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই।
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ হল:
- তিনি যা আদেশ করেছেন, তার আনুগত্য করা।
- এবং তিনি যেসব সংবাদ দিয়েছেন, তা মনে প্রাণে বিশ্বাস করা।
- এবং তিনি যা নিষেধ ও বারণ করেছেন তা পরিহার করা।
- আর তিনি যা শরী‘আত সম্মত করেছেন, তার বাইরে আল্লাহর ইবাদাত না করা।
* আর দু’টি কালিমার সাক্ষ্যের মাধ্যমেই কোনো ব্যক্তি দ্বীন ইসলামে প্রবেশ করে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ করো:
ক - আমি মুসলিম, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, . . . . . . .. ., এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ . . . . . . . . . . ..
খ - لا إله إلا الله এর অর্থ . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
উত্তর: সর্বোত্তম যিকির . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
প্রশ্ন ২: ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল’ এ সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ কী?
প্রশ্ন ৩: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন এমন তিনটি বিষয় লিখো:
১- সালাত কায়েম করা ২- ...............
৩- ............... ৪- ...............
একাদশ পাঠ [২০]:
[২০] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ঈমানের রুকনসমূহের প্রতি ঈমান আনার বিধান উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী ঈমানের ছয়টি রুকন বর্ণনা করবে। - শিক্ষার্থী ব্যাখ্যা করবে যে, ঈমান হলো কথা, কাজ ও বিশ্বাস।
দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে: ঈমান [21]
[২১] শিক্ষকের জন্য: - ঈমানের অর্থ স্পষ্ট করা: আর তা হলো অন্তরে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা। - প্রসিদ্ধ হাদীসে জিবরীল বর্ণনা করা, যেখানে এসেছে: «فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِيمَانِ، فَقَالَ: أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الآخِرِ، وَبِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ». “আমাকে ঈমান সম্পর্কে সংবাদ দিন। উত্তরে তিনি বললেন, ঈমান হলো, তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখেরাত দিবস ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।” মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (৮)। - এ বিষয় বর্ণনা করা যে, এই ছয়টি রুকনের প্রতি ঈমান আনলে দুনিয়া ও আখেরাতে সৌভাগ্য অর্জিত হয়। - এ বিষয় বর্ণনা করা যে, ঈমানের লক্ষণসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর আনুগত্য করা। - প্রকাশ্য ও গোপনে আল্লাহর মুরাকাবা করা। - কুরআন হিফয করা, তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা। - নেক আমলের মাধ্যমে আখেরাত দিবসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। - এবং কাযা ও তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। - আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত কিছু কিতাব এবং কয়েকজন নবী ও ফেরেশতার নাম উল্লেখ করা। - শিক্ষার্থীদের এমন কিছু বাক্য শিক্ষা দেওয়া যা কাযা ও তাকদীরের প্রতি ঈমান প্রমাণ করে, যেমন: (قَدَّر اللهُ وما شاء فَعَل) ‘আল্লাহ তাকদীরে যা রেখেছেন এবং তিনি যা চেয়েছেন তাই করেছেন’। - ঈমানের এই ছয়টি রুকনের প্রতি ঈমান আনার আবশ্যকতা বর্ণনা করা এবং যে ব্যক্তি এর কোনো একটিকে অস্বীকার করবে সে কাফির হয়ে যাবে।
ঈমানের রুকন ছয়টি:
১- আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা।
২. তাঁর ফিরিশতাগণের প্রতি ঈমান।
৩. তাঁর (আসমানী) কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান।
৪. তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান।
৫. আখিরাত বা শেষ দিবসের প্রতি ঈমান।
৬- আর তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান।
* ছয়টি রুকনের প্রতি ঈমান দুনিয়া ও পরকালে সৌভাগ্য নিশ্চিত করে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: ঈমানের রুকনসমূহ কয়টি?
প্রশ্ন ২: বৃত্তের মধ্যে প্রতিটি রুকনের উপযুক্ত সংখ্যাটি লেখ:
আল্লাহর প্রতি ঈমান ( )। আখিরাতের প্রতি ঈমান ( )।
তাকাদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনা ( )। ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান ( )
রাসূলগণের ওপর ঈমান ( )। আসমানী কিতাবসমূহের প্রতি ঈমান ( )।
প্রশ্ন ৩: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের এমন সব বিধান বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন; যে বিষয়ে তিনি নূহকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, আর আমি তোমার কাছে যে ওহী পাঠিয়েছি এবং ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে যে নির্দেশ দিয়েছিলাম... [আশ-শুরা : ১৩]। আল্লাহ তাআলা বলেন: (মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল...) [সূরা আল-ফাতহ, আয়াত: ২৯]
প্রশ্ন ৪ঃ উক্ত আয়াতে উল্লেখিত নবী-রাসূলদের নাম খুঁজে বের করো:
১- ............... ২- ...............
৩- ............... ৪- ...............
৫- ...............
দ্বাদশ পাঠ [২২]
[২২] অধ্যয়নের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র পুনরুত্থানের অর্থ ব্যাখ্যা করবে। - ছাত্র পুনরুত্থানের ওপর ঈমান আনার বিধান স্পষ্ট করবে। - ছাত্র পুনরুত্থান অস্বীকারকারীর বিধান স্পষ্ট করবে।
পুনরুত্থানে বিশ্বাস [২৩]
[২৩] শিক্ষকের জন্য: - আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান, পুনরুত্থান, হিসাব ও প্রতিদানের আবশ্যকতা সাব্যস্ত করা এবং সে দিনের কিছু ভয়াবহ ঘটনা ও মুমিন বান্দাদের জন্য আল্লাহর হিফাযতের কথা উল্লেখ করা, তাদের পঠিত সূরাগুলোর আয়াত প্রমাণস্বরূপ পেশ করার মাধ্যমে, যেমন: ﴿অতঃপর যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হবে, অচিরেই তার হিসাব সহজভাবে নেওয়া হবে।﴾ [আল-ইনশিক্বাক: ৭-৮]। - শিক্ষার্থীদের অন্তরে মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য প্রস্তুতির মানসিকতা গেঁথে দেওয়া। - মৃত্যুর পর কবর থেকে পুনরুত্থানের বাস্তবতা এবং এ বিষয়ে মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার বিষয়টি সাব্যস্ত করা।
শেষ দিবসের প্রতি ঈমান আনয়নের অংশ হলো পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান আনা।
পুনরুত্থানের অর্থ: আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে তাদের মৃত্যুর পর জীবিত করবেন এবং হিসাব ও প্রতিদানের জন্যে তাদেরকে তাদের কবর থেকে বের করবেন।
পুনরুত্থানে বিশ্বাসের বিধান: আবশ্যক, আল্লাহ তা‘আলা বলেন: মাটি থেকেই আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, মাটিতেই আমি তোমাদেরকে ফিরিয়ে নিবো এবং মাটি থেকেই পুনরায় তোমাদেরকে (কিয়ামতের দিন পুনরুত্থানের জন্য) বের করে আনবো। [সূরা ত্বহা: ৫৫]
যে ব্যক্তি পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে তার বিধান: সে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি কাফের।
* কিয়ামতের দিন যাকে তার ‘আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, সে সফলকামদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার হিসাব হবে সহজ। আর যাকে তার ‘আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত এবং তার হিসাব হবে কঠিন।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: মৃত্যুর পর মানুষকে কে জীবিত করবেন?
প্রশ্ন ২: নিচের শূন্যস্থানটি পূরণ কর:
পুনরুত্থানে বিশ্বাস . . . . .. . . . . . এবং তা অস্বীকারকারীর বিধান . . . . .. . . . . .
প্রশ্ন ৩: আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীটি পূর্ণ কর: মাটি থেকেই আমি (আল্লাহ) তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি.......................।
প্রশ্ন ৪: আল্লাহ তাআলার ক্ষমতার অন্তর্ভুক্ত হলো যে, তিনি এক মহান উদ্দেশ্যে মানুষকে তাদের মৃত্যুর পর জীবিত করবেন, আর তা হলো . . . . .. . . .
ত্রয়োদশ পাঠ [২৪]
[২৪] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ইহসানের অর্থ ব্যাখ্যা করবে। - ইহসানের দলিল উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী ইখলাস নিশ্চিত করে ইবাদাত আদায়ে যত্নবান হবে।
তৃতীয় স্তর: ইহসান [২৫]
[২৫] শিক্ষকের জন্য: - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, ইহসানের স্তর হলো দ্বীনের স্তরসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ। - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, নিখুঁতভাবে ইবাদাত আদায় করা ইহসানের অন্তর্ভুক্ত। - বান্দাদের উপর আল্লাহ তা‘আলার পর্যবেক্ষণের অনুভূতি জাগ্রত করার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: {...নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক} [আন-নিসা: ১]। - আল্লাহ তা‘আলার পর্যবেক্ষণের অনুভূতি জাগ্রত থাকার ব্যাপারে নেককারদের কিছু ঘটনা উল্লেখ করা; যেমন, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সেই যুবতীর ঘটনা, যে আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে দুধে পানি মেশাতে অস্বীকার করেছিল।
ইহসান হচ্ছে: তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এমনভাবে যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন (এটি স্মরণে রেখে ইবাদত করবে)।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: (জেনে রেখো,) নিশ্চয় আল্লাহ (তাঁর সাহায্য ও সহযোগিতা নিয়ে) তাদের সাথে আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল। [সূরা আন-নাহল: ১২৮।]
* আমি সর্বদা আল্লাহর নজরদারির কথা খেয়াল রাখব, ফলে গোপনে এবং প্রকাশ্যে কোনো পাপ কাজ করব না।
* আমি আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ইবাদাত আদায় করব।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ করো:
- ইহসান হচ্ছে: . . . . . .. . . . যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদি . . . . . .. . . .
নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখেন।
- দ্বীনের তৃতীয় স্তর . . . . . . . . . . . . . . . আর তা হলো সর্বোচ্চ স্তর।
প্রশ্ন ২: ইহসানের পক্ষে একটি দলীল উল্লেখ কর।
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
প্রশ্ন ৩: পূর্ণ ঈমানের অধিকারী মু’মিন কেউ তাকে না দেখলেও চুরি করে না, কেন?
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
চতুর্দশ পাঠ [২৬]
[২৬] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশ উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসবে এবং তাঁর আনুগত্য করবে। - শিক্ষার্থী নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সর্বশেষ নবী, তার প্রমাণ উল্লেখ করবে। - আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত (দরূদ) হলো: উচ্চ মর্যাদাশীল ফেরেশতাগণের সামনে বান্দার প্রশংসা করা।
তৃতীয় মূলনীতি: বান্দা কর্তৃক তার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানা। [২৭]
[২৭] শিক্ষকের জন্য: - সংক্ষেপে প্রথম ও দ্বিতীয় মূলনীতি পুনরালোচনা করা এবং তৃতীয় মূলনীতির সাথে সেগুলোর যোগসূত্র স্থাপন করা। - রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পূর্বে অসংখ্য মানুষ যে মূর্খতা ও গোমরাহীর মধ্যে লিপ্ত ছিল, তা বর্ণনার মাধ্যমে পাঠের ভূমিকা প্রদান করা। - রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশীয় মর্যাদা বর্ণনা করা। - ‘খাতামুল আম্বিয়া’-এর অর্থ বর্ণনা করা, অর্থাৎ তিনিই সর্বশেষ নবী এবং তাঁর পরে আর কোনো নবী নেই। - রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বত পোষণ করা আবশ্যক, তবে তাঁর ব্যাপারে অতিরঞ্জন করা যাবে না; যেমন— তাঁর কাছে প্রার্থনা করা এবং তাঁর কাছে সাহায্য কামনা করা। - এ কথা বর্ণনা করা যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি মহব্বতের অপরিহার্য দাবি হলো তাঁর কথা ও কাজে তাঁর আনুগত্য ও অনুকরণ করা। - নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত(দরুদ) পাঠ করতে ছাত্রদেরকে উৎসাহিত করা, কেননা এতে রয়েছে মহান প্রতিদান; বিশেষ করে তাঁর নাম উল্লেখ করার সময়।
তিনটি মূলনীতি:
১- বান্দার তার রবকে জানা। ২- বান্দার তার দ্বীনকে জানা। ৩- বান্দার তার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানা।
* আমার নবী হলেন মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনু আব্দিল মুত্তালিব ইবনু হাশিম। আর হাশিম হলেন কুরাইশের মধ্য হতে, কুরাইশ আরবদের মধ্য হতে।
* আমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন নবীদের মধ্যে সর্বশেষ।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নয়; তবে তিনি আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী। আর আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ। [আল-আহযাব: ৪০]
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা ও আনুগত্যের বিধান: প্রত্যেক মুসলিমের উপর ওয়াজিব।
* আমি রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসি এবং তাঁর আনুগত্য করি।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ করো:
ক- আমার নবী মুহাম্মাদ ইবনু . . . . . . . . . . ইবনু আব্দিল মুত্তালিব ইবনু . . . . . . . . . . .
খ- রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা ও আনুগত্যের বিধান . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
গ- সর্বশেষ নবী হচ্ছেন . . . . . . .. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
ঘ- আমি রাসূলকে ভালোবাসব এবং . . . . . . . . . এবং তার কথা ও . . . . . . . . . অনুকরণ করব।
প্রশ্ন ২: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জুমু‘আর দিনে এবং জুমু‘আর রাতে আমার উপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো; কেননা কেউ আমার উপর একবার দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন।”[২৮] [২৮] সুনানে বাইহাকী (৩/২৪৯)।
হাদীসটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক- কোন দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর বেশী বেশী সালাত ও সালাম পাঠ করা মুস্তাহাব?
খ- তোমার শিক্ষকের সহযোগিতা নিয়ে এমন একটি ঘটনা উল্লেখ করো, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের ভালোবাসা প্রকাশ করে।
গ্রন্থটিতে দ্বিতীয় স্তরের "ফিকহ" সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এতে প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের আদবসমূহ, ইস্তিঞ্জা ও ইস্তিজমারের পদ্ধতি, ওযুর পদ্ধতি ও ওযু ভঙ্গের কারণসমূহ এবং ফরয সালাতের সংখ্যা ও সেগুলোর রাক‘আতসমূহ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়াও তাশাহহুদ-আত্তাহিয়্যাতু , দরূদে ইবরাহীম এবং ইস্তিফতাহের (সলাত শুরুর) দু‘আসমূহ ব্যাখ্যার পাশাপাশি পর্যালোচনার জন্য এতে ব্যবহারিক অনুশীলনী প্রদান করা হয়েছে।
শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, ইলমে ফিকহ, স্তর (দ্বিতীয়)।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: এই ইলমী সংকলনটি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে প্রণীত সৌদি আরবের পাঠ্যক্রমের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। আর এই সংকলনের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইলমে ফিকহ অধ্যয়নের বিষয়টিও, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। দ্বিতীয় স্তরে অন্তর্ভুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও মাসআলাগুলো নিম্নরূপ:
১- পেশাব পায়খানার শিষ্টাচার সম্পর্কে আলোচনা এবং ইস্তেঞ্জা ও ইস্তিজমারের (কুলুপ ব্যবহার) অর্থ বর্ণনা, সেই সাথে যেসব অবস্থায় ইস্তিজমার করা বৈধ এবং যা দিয়ে ইস্তিজমার করা বৈধ নয় সে বিষয়ে সতর্কীকরণ।
২- অযুর পদ্ধতি ও তা ভঙ্গের কারণসমূহের বর্ণনা।
৩- দিন ও রাতে ফরয সালাতের সংখ্যা এবং সেগুলোর প্রত্যেকটির রাকআত সংখ্যার বর্ণনা।
৪- তাশাহহুদ এবং দরূদে ইবরাহীমের পদ্ধতি বর্ণনা। (আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে নিজ সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষার একটি রীতি। বাংলায় এরীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদে একবচনই ব্যবহার করা হয়েছে।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)
দ্বিতীয় স্তর
প্রথম পাঠ [১]
[১] শিক্ষকের জন্য: - পেশাব-পায়খানা করার পরপরই পেশাব ও পায়খানার রাস্তা পরিষ্কার করার প্রতি তাগিদ দেওয়া। - যেসব অবস্থায় ঢিলা-কুলুপ ব্যবহার করা জায়েয, সে বিষয়ে সতর্ক করা। - ইস্তেন্জা ও ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের সময় বাম হাত ব্যবহার করা এবং এরপর উভয় হাত ভালোভাবে ধৌত করার বিষয়ে সতর্ক করা। - যেসব বস্তু দিয়ে ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করা জায়েয নয়, তার উদাহরণ উল্লেখ করা।
ইস্তেনজা করা ও ঢিলা ব্যবহার [২] [২] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দেয়ার পর যা করা আবশ্যক তা উল্লেখ করতে পারবে। - শিক্ষার্থী ইস্তেঞ্জা ও ইস্তিজমার-এর পরিচয় দিতে পারবে। - শিক্ষার্থী এমন তিনটি জিনিসের নাম উল্লেখ করতে পারবে, যা দিয়ে ইস্তিজমার করা জায়েজ।
পেশাব ও পায়খানা নাপাক এবং তা শরীরকে নাপাক করে দেয়, তাই প্রাকৃতিক প্রয়োজন শেষ করার পর সেগুলো থেকে পবিত্র হওয়া ওয়াজিব।
ইস্তেনজা হলো:
নাপাকি দূর হওয়া পর্যন্ত পবিত্র পানি দিয়ে পেশাব ও পায়খানার রাস্তা ধৌত করা।
ইস্তিজমার তথা ঢিলা কুলুপ ব্যবহার হলো:
নাপাকি দূর হওয়া পর্যন্ত পাথর অথবা টিস্যু দিয়ে পেশাব ও পায়খানার রাস্তা মুছে ফেলা।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: পায়খানা-প্রসাব শেষ করার পর তোমার কী করা আবশ্যক?
প্রশ্ন ২: নিচের (শুন্যস্থান) গুলো পূর্ণ কর:
ক- ইস্তেনজা করা: তা হলো ........................................................
খ- ঢিলা ব্যবহার: তা হলো ........................................................
প্রশ্ন ৩: সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করুন:
ক- যা দ্বারা ঢিলা ব্যবহার করা জায়েজ:
( ) পাথর। ( ) পানি। ( ) টিসূ।
খ- নাপাক বস্তু সমূহের একটি হলো:
( ) পেশাব। ( ) ঘাম। ( ) লালা।
গ- কাপড়ে থাকা নাপাকি দূর করব---- দ্বারা:
( ) পাথর। ( ) পানি। ( ) মাটি।
প্রশ্ন ৪: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
আমি পেশাব বা পায়খানার রাস্তা থেকে যা দ্বারা নাপাকি দূর করি:
পানি, অথবা ............................, অথবা .........................
প্রশ্ন ৫: নিম্নোক্ত বাক্যগুলো লিখো:
- মলমূত্র ত্যাগের পর প্রসাব-পায়খানার রাস্তা পরিষ্কার করব, অতঃপর অযু শুরু করব।
-........................................................
-........................................................
- প্রসাব-পায়খানার পরে হাত উত্তমরূপে ধুয়ে ফেলব।
-........................................................
-.........................................................
- প্রসাব ও পায়খানা করা অবস্থায় কথা বলব না।
-........................................................
-........................................................
* এ দু‘আ দুটি সংরক্ষণ করো:
১- পেশাব পায়খানায় প্রবেশের সময় বলবো:
"“বিসমিল্লাহ”," «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الخُبْثِ وَالخَبَائِثِ» “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র নর জিন ও নারী জিন থেকে আশ্রয় চাই।” [৩] [৩] সহীহ বুখারী, হাদীস নং (১৪২), আর ((বিসমিল্লাহ)) অতিরিক্ত অংশের জন্য দেখুন: ফাতহুল বারী, ১/২৪৪।
২- শৌচালয় থেকে বের হওয়ার সময় বলব: অর্থ: “আপনার ক্ষমা চাই”।[৪] [৪] তিরমিযী, হাদীস নং (৭)
দ্বিতীয় পাঠ [৫]
[৫] শিক্ষকের জন্য: - বর্ণনা করা যে, আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। - পানিতে অপচয় না করার ব্যাপারে ছাত্রদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা; কারণ এটি এমন এক নেয়ামত, যা সংরক্ষণ করা আবশ্যক। - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, সুন্নাত হলো অঙ্গসমূহ তিনবার ধৌত করা এবং কানসহ মাথা একবার মাসেহ করা। - মাদমাদাহ (কুলি করা), ইস্তিনশাক (নাকে পানি দেয়া) এবং ইস্তিনসার (নাক ঝাড়া)-এর অর্থ স্পষ্ট করা। মাদমাদাহ: এটি হলো মুখের ভেতর পানি নাড়াচাড়া করা। ইস্তিনশাক: এটি হলো নাকে পানি প্রবেশ করানো এবং শ্বাসের সাহায্যে তা টেনে নেওয়া, যেন নাকের ভেতরের ময়লা দূর হয়। ইস্তিনসার: এটি হলো ইস্তিনশাকের পর শ্বাসের সাহায্যে নাক থেকে পানি বের করে দেওয়া। - সকল ছাত্রকে প্রায়োগিকভাবে অযু করার দায়িত্ব প্রদান করা, যাতে তারা নিখুঁতভাবে তা আয়ত্ত করেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়। আর শিক্ষক ছাত্রদের অযু ও সালাতের পদ্ধতি শেখানোর ফলে প্রাপ্ত মহান প্রতিদানের সুসংবাদ গ্রহণ করবেন; কেননা যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান শিক্ষা দেয়, তার জন্য উক্ত জ্ঞান অনুযায়ী আমলকারীর অনুরূপ সওয়াব রয়েছে।
অযুর পদ্ধতি [৬]
[৬] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র নিয়তের স্থান চিহ্নিত করবে। - ছাত্র অযুর পদ্ধতি প্রয়োগ করবে। - ছাত্র দুই কনুই ও দুই হাতের তালুর মধ্যে পার্থক্য করবে।
আমি অন্তরে অযুর নিয়ত করব, অতঃপর নিচের কাজগুলো করব:
১- আমি বলব: ‘বিসমিল্লাহ’ [যার অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি]।
২- তিনবার কব্জি পর্যন্ত হাত ধৌত করব।
৩- তিনবার করে কুলি করব, তিনবার নাকে পানি দিব এবং তিনবার নাক ঝেঁড়ে ফেলব।
৪- আমার মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করব।
৫- দুই হাতের আঙ্গুলি থেকে কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করব।
৬- আমি আমার উভয় কানসহ সম্পূর্ণ মাথা একবার মাসেহ করব।
৭- আমি আমার ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধৌত করব, অতঃপর বাম পা-ও অনুরূপভাবে।
* দুই হাতের পূর্বে দুই পা ধৌত করা কি জায়েয?
জায়েয নয়; কারণ ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আবশ্যক, যেমনটি আমি আমার অযুর পদ্ধতিতে উল্লেখ করেছি।
* আমি যদি আমার মুখমণ্ডল ও দুই হাত ধৌত করি, তারপর ফোনের উত্তর দিতে যাই এবং বিলম্ব করি, তারপর ফিরে এসে দুই কানসহ মাথা মাসেহ করি, তাহলে কি আমার অযু শুদ্ধ হবে?
এই অযু জায়েয নয়; কারণ সমস্ত অঙ্গ ধারাবাহিকভাবে ধৌত করা আবশ্যক।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিয়তের স্থান কোথায়?
প্রশ্ন ২: নিচের খালিস্থান পূরণ করো:
- আমি দুই হাতের কব্জি ধৌত করব, অতঃপর কুলি করব এবং ............................ এবং ...........................
- আমার ডান পা ........................... পর্যন্ত ধৌত করব অতঃপর ...........................
প্রশ্ন ৩: কলাম (ক) এর শব্দের সাথে কলাম (খ) এর উপযুক্ত অংশ মিলাও:
কলাম (ক)/ ধৌত করি – ধৌত করি - মাসেহ করি
কলাম (খ)/ আমার মাথা – আমার মুখমণ্ডল - আমার পা
প্রশ্ন ৪: অযুতে তুমি সর্বশেষ যে কাজটি করো তা বেছে নাও:
দুই হাত ধোয়া - দুই পা ধোয়া - মাথা মাসেহ করা - মুখমণ্ডল ধোয়া।
প্রশ্ন ৫: অযুর অঙ্গগুলো উপযুক্ত স্থানে নাম্বার বসিয়ে ক্রমাণুসারে সাজাও:
দুই পা - দুই হাত - মাথা - মুখমণ্ডল - উভয় হাতের কব্জি ।
প্রশ্ন ৬: সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও।
- ডান হাতের পূর্বে ডান পা ধৌত করব ( )
- আমি আমার পা ধোয়ার পর আমার মাথা মাসেহ করি ( )
- আমি আমার মুখমণ্ডল ধৌত করি তারপরে আমার হাত ( )
প্রশ্ন ৭: নিম্নলিখিত বাক্যগুলো লিখ:
আমি অযুর অঙ্গসমূহের এমন কোনো অংশ বাকি রাখব না, যেখানে পানি পৌঁছায়নি।
-........................................................
-........................................................
- আমি অযুতে এক অঙ্গ ধোয়ার পর বিলম্ব না করে পরবর্তী অঙ্গ ধৌত করি।
-........................................................
-........................................................
- আমি অযুর অঙ্গগুলোর মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করি।
-........................................................
-........................................................
তৃতীয় পাঠ [৭]
[৭] শিক্ষকের জন্য: - অযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের অর্থ স্পষ্ট করা। - যে ব্যক্তি উটের গোশত খেয়েছে এবং সালাত শেষ করার পরেই কেবল তা জানতে পেরেছে, তাকে যে সালাত পুনরায় আদায় করতে হবে তার বিধান বর্ণনা করা।
অযু বাতিলকারী বিষয়সমূহ [৮]
[৮] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র অযু ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ উল্লেখ করবে। - অযু ভেঙ্গে গেলে করণীয় কী, ছাত্র তা স্পষ্ট করবে।
* কয়েকটি কাজের কারণে অযু বাতিল হয়ে যায়, তার মধ্যে:
১- উভয় রাস্তা দিয়ে কোন কিছু নির্গত হওয়া: (পেশাব, বায়ু ও পায়খানা)।
২- ঘুম।
৩- উটের গোশত খাওয়া।
* যদি অযু ভঙ্গের এই কারণসমূহের মধ্যে কোন একটির দ্বারা তোমার অযু বাতিল হয়, তবে তা পুনরায় করা তোমার জন্য আবশ্যক হবে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: অযু বাতিলকারী বিষয়গুলোর নিচে দাগ দাও:
(হাসি - ঘুম - কথা বলা - উভয় পথ দিয়ে কিছু বের হওয়া - উটের গোশত খাওয়া)।
প্রশ্ন ২: আমি অযু করেছি, তারপর বকরীর গোশত খেয়েছি, তাহলে কি আমার অযু ভঙ্গ হবে? এবং কেন?
প্রশ্ন ৩: তুমি সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালে এবং তোমার অযু ভঙ্গ হয়ে গেল, তখন তোমার কী করা আবশ্যক?
(√) চিহ্ন দিয়ে উপযুক্ত উত্তরটি নির্বাচন কর।
( ) সালাত ও অযু পুনরায় করবে। ( ) পুনরায় অযু করবে।
প্রশ্ন ৪: গোশত খেয়েছো এবং সালাত শেষ হওয়ার আগে জানতে পারোনি যে তা উটের গোশত।
তাহলে তুমি কী করবে? (উত্তর লেখো) .................................
প্রশ্ন ৫: নিম্নলিখিত বাক্যটি লেখো:
- অযু ভঙ্গকারী কোনো কারণ ঘটলে পুনরায় অযু করব।
-........................................................
-........................................................
চতুর্থ পাঠ [৯]
[৯] শিক্ষকের জন্য: - ইস্তিফতাহ (সূচনা)-এর দু‘আর স্থান স্পষ্ট করে দেওয়া এবং তা যে সালাতের শুধুমাত্র প্রথম রাকাতেই পড়া হয় তা জানিয়ে দেওয়া। - ইস্তিফতাহ (সূচনা)-এর দু‘আর অর্থসমূহ বুঝিয়ে বলা, আর তা হলো: (سُبحانَك اللَّهمَّ وبحمدِك): অর্থাৎ হে আল্লাহ! আপনার মর্যাদার সাথে বেমানান সকল ত্রুটি ও অপূর্ণতা থেকে আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। (وبحمدِك): অর্থাৎ আমি আপনার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি। (تَبارَك اسمك): অর্থাৎ আপনার নাম বরকতময়। (وتعالى جَدّك): অর্থাৎ আপনার মর্যাদা ও সম্মান কতইনা উর্ধ্বে। (ولا إله غيرُك): অর্থাৎ আপনি ছাড়া ইবাদতের যোগ্য কোন [প্রকৃত] মাবূদ নেই।
ইস্তিফতাহ তথা সালাত শুরু করার দু‘আ [১০]
[১০] পাঠের উদ্দেশ্য: - শিক্ষার্থী সালাতের প্রারম্ভিক দু‘আ উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী সালাতে প্রারম্ভিক দু‘আর স্থান চিহ্নিত করবে।
* সালাতে শরীয়তসম্মত দু‘আসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো প্রারম্ভিক দু‘আ বা সানা পাঠ করা, আর তা হলো:
"(হে আল্লাহ! প্রশংসা ও পবিত্রতা আপনারই, আপনার নাম বরকতময়, আপনি সম্মানিত, আপনি ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই।)"
* তাকবীরে তাহরীমার পর এই দু‘আ পড়তে হয়।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
(আপনি ছাড়া - আপনার নাম - আপনার মাহাত্ম্য - এবং আপনার প্রশংসা)।
"হে আল্লাহ! পবিত্রতা আপনারই ......................... বরকতময় ....................., সম্মানিত ...................., কোন সত্য ইলাহ নেই ........................."
প্রশ্ন ২: দু‘আয়ে ইস্তিফতাহ-এর স্থান উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৩: সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
আমি প্রারম্ভিক দু‘আ বা সানা পাঠ করি:
( ) সূরা ফাতিহা পাঠ করার পরে। ( ) তাকবিরে তাহরিমার পরে।
প্রশ্ন ৪: উপযুক্ত শব্দটি নির্বাচন করো এবং সেটি উপযুক্ত শূন্যস্থানে বসাও:
(তৃতীয়, চতুর্থ, প্রথম)।
তাকবীরে তাহরীমা হলো সালাতের ......................... তাকবীর।
প্রশ্ন ৫: সালাত শুরু করার দু‘আ উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৬: উপযুক্ত স্থানে (/) এবং (×) চিহ্ন দাও:
- আমি প্রত্যেক রাকাতে প্রারম্ভিক দু‘আ পাঠ করি ( )।
- সালাতের প্রারম্ভিক দু‘আ প্রথম রাকা‘আতে পাঠ করতে হয় ( )।
প্রশ্ন ৭: নিচের বাক্যটি লিখ:
- আমি তাকবীরে তাহরীমার পরে প্রারম্ভিক দু‘আ পাঠ করি।
-........................................................
-........................................................
পঞ্চম পাঠ[১১]
[১১] শিক্ষকের জন্য: - সালাতের বিষয়টিকে ইসলামের পাঁচটি রুকনের সাথে সম্পৃক্ত করা। - যথাসময়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের ব্যাপারে যত্নবান হতে ছাত্রদেরকে উৎসাহিত করা; কারণ, তা হলো ইসলামের স্তম্ভ, আর যে তা ত্যাগ করল সে কুফুরী করল। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাদের ও তাদের মধ্যকার চুক্তিটি হচ্ছে সালাত, সুতরাং যে তা ত্যাগ করল সে কুফুরী করল।” তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (২৬২১)।
ফরয সালাতসমূহ [১২]
[১২] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ইসলামে সালাতের মর্যাদা বর্ণনা করবে। - শিক্ষার্থী দিনে ও রাতে ফরজ সালাতের সংখ্যা উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী প্রতিটি ফরজ সালাতের রাকাত সংখ্যা নির্ধারণ করবে।
* সালাত হল দুই সাক্ষ্যের পর ইসলামের দ্বিতীয় রুকন।
* সালাতে যত্নবান হওয়া জান্নাতে প্রবেশের কারণ।
* আর তা বর্জন করা আগুনে (জাহান্নামে) প্রবেশ করার অন্যতম কারণ।
* দিন ও রাতে ফরয সালাত পাঁচ ওয়াক্ত, তা হচ্ছে:
১- ফজর (দুই রাকাত)।
২- যোহর (চার রাকাত)।
৩- আসর (চার রাকাত)।
৪- মাগরিব (তিন রাকআত)।
৫- ইশা (চার রাকাত)।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: শূন্যস্থান পূরণ করো:
- ইসলামের রুকন পাঁচটি। আর তা হলো:
১- দুটি বিষয়ের সাক্ষ্য দেওয়া। ২- ..........................৩- যাকাত আদায় করা। ৪- রামাযানের সিয়াম পালন করা। ৫- হজ পালন করা।
- সালাতের হিফাযত করা .....................-এ প্রবেশ করার কারণ, আর তা বর্জন করা .........................-এ প্রবেশের অন্যতম কারণ।
প্রশ্ন ২: দিনে-রাতে ফরযকৃত সালাতসমূহ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ৩: কলাম (ক) এর প্রতিটি সালাতকে কলাম (খ) এর উপযুক্ত রাকাত সংখ্যার সাথে মিলাও।
কলাম (ক)
ফজরের সালাত
যোহরের সালাত
মাগরিবের সালাত
কলাম (খ)
চার রাকাত
দুই রাকাত
তিন রাকআত
এক রাকাত
প্রশ্ন ৪: একটি অর্থবোধক বাক্য তৈরি করতে নিচের শব্দগুলোকে সাজাও:
(যত্নবান হয় - সময়মত - সালাত আদায়ের ব্যাপারে - যাইদ)
........................................................................................................................................
(রুকনসমূহ হতে - সালাত হলো - ইসলাম - রুকন – দ্বিতীয়)
........................................................................................................................................
প্রশ্ন ৫: যে সালাতগুলোর রাকাত সংখ্যা চার, সেগুলোতে বৃত্ত আঁক:
(ফজর - যোহর - আসর - মাগরিব - ইশা)
ষষ্ঠ পাঠ[১৩]
[১৩] শিক্ষকের জন্য: - শিক্ষার্থীদের জন্য সহজভাবে তাশাহহুদ-এর অর্থ বর্ণনা করা: (التَّحيّات للهِ): অর্থাৎ, যে সকল শব্দ দ্বারা সালাম-নিরাপত্তা, মালিকানা, চিরস্থায়ীত্ব এবং বড়ত্ব ও সম্মান বুঝায়, তার সবই আল্লাহ তা‘আলার জন্য। (والصَّلَوات): অর্থাৎ, সকল ফরজ ও নফল সালাত আল্লাহ তা‘আলার জন্যই। (والطَّيِّبات): অর্থাৎ, সকল নেক আমল আল্লাহ তা‘আলার জন্যই, কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, আর তিনি ভালো ও পবিত্র ছাড়া অন্য কিছুই গ্রহণ করেন না। - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের প্রতি সম্মান ও তাঁদের প্রতি ভালোবাসা দৃঢ় করা।
তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু) [১৪]
[১৪] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী তাশাহ্হুদ মুখস্থ করবে। - শিক্ষার্থী সালাতে তাশাহ্হুদের স্থান চিহ্নিত করবে।
"(সকল ধরনের মর্যাদা -মহত্ত্ব,সালাতসমূহ এবং সকল মৌখিক, দৈহিক ও আর্থিক উত্তম আমল আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সার্বিক নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সকল নিরাপত্তা আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।)"
তাশাহহুদের স্থান:
- তিন বা চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাতের দ্বিতীয় রাক‘আত শেষে এটি পড়া হয়, আর একে বলা হয়: (প্রথম তাশাহহুদ)।
- প্রত্যেক সালাতের শেষ রাকাতের পরে এটি পাঠ করা হয়, এবং একে বলা হয়: (শেষ তাশাহহুদ)।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: তাশাহহুদ-আত্তাহিয়্যাতু উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
- তিন ও চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাতের দ্বিতীয় রাক‘আত সমাপ্ত হলে তাশাহহুদ-আত্তাহিয়্যাতু পড়া হয় এবং একে বলা হয়: .........................
- প্রত্যেক সালাতের শেষ রাকাতের পরে তাশাহহুদ-আত্তাহিয়্যাতু পাঠ করা হয় এবং একে বলা হয়: ..............................
প্রশ্ন ৩: তাশাহহুদে ইসলামের একটি রুকন রয়েছে, তা বের কর।
প্রশ্ন ৪: সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
ক- প্রথম তাশাহহুদ হয় ------ এর পর:
( ) প্রথম রাকাত। ( ) দ্বিতীয় রাকাত।
খ- শেষ তাশাহহুদ পাঠ করা হয়:
( ) নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠের পর।
( ) নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করার পূর্বে।
প্রশ্ন ৫: যে সালাতগুলোতে দুটি তাশাহহুদ রয়েছে সেগুলোকে এক ভাগে এবং যেগুলোতে কেবল একটি তাশাহহুদ রয়েছে সেগুলোকে অন্য ভাগে রাখ।
(ইশার সালাত - আসরের সালাত - মাগরিবের সালাত - ফজরের সালাত - যোহরের সালাত)
কলাম (ক)
১- ...................................................
২- ...................................................
৩- ...................................................
৪- ...................................................
কলাম (খ)
১- ...................................................
২- ...................................................
৩- ...................................................
৪- ...................................................
সপ্তম পাঠ [১৫]
[১৫] শিক্ষকের জন্য: - নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অধিকহারে সালাত পাঠ করার প্রতি ছাত্রদের উদ্বুদ্ধ করা, বিশেষ করে যখন তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়। - বর্ণনা করা যে, আল্লাহর পক্ষ হতে সালাত হচ্ছে: কোনো বান্দার ব্যাপারে ফেরেশতাদের কাছে তাঁর প্রশংসা। - বর্ণনা করা যে, বরকত হচ্ছে: সর্বপ্রকার কল্যাণের স্থায়িত্ব ও আধিক্য, আর আল্লাহ সুবহানাহুর কল্যাণের চেয়ে অধিক ও স্থায়ী আর কিছুই নেই।
নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে দরুদ [১৬]
[১৬] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরূদ) উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরূদ) পাঠ করার স্থান চিহ্নিত করবে।
(হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর বরকত দান করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।)
* নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠের স্থান: শেষ তাশাহহুদ পাঠের পর এবং দু’টি সালাম ফেরানোর পূর্বে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে দরুদ পাঠ করার শব্দাবলি উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: পাঠ্য থেকে শব্দ দিয়ে নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
ক- আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহের মধ্যে রয়েছে ..................................................
খ- নবীগণের নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো ..................................................
প্রশ্ন ৩: সঠিক উত্তরটির চারপাশে বৃত্ত দাও:
নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করা হয়------- এ:
A(রুকু - সিজদা - শেষ তাশাহহুদের পর)।
অষ্টম পাঠ [১৭]
[১৭] শিক্ষকের জন্য: - যেকোনো সময় এবং বিশেষভাবে সালাতে এই চারটি জিনিস থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদেরকে তাগিদ দেওয়া; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলো থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। - পাঠে উল্লেখিত আশ্রয় প্রার্থনার চারটি বিষয়ের ব্যাখ্যা: (أعوذ): আমি আশ্রয় নিচ্ছি এবং রক্ষা চাচ্ছি। (فِتْنَة المحيا والممات): জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা। (فِتْنَة المحيا): জীবনের ফিতনা; তা হলো মানুষের জীবনকালে দুনিয়া ও তার লোভ-লালসার প্রতি আসক্তিমূলক যেসব বিষয় তার সামনে আসে। (فِتْنَة الممات): মৃত্যুর ফিতনা; বলা হয়ে থাকে, তা হলো মৃত্যু মুহূর্তের ফিতনা অথবা কবরের ফিতনা ও তার আযাব। আর ফেরেশতাদ্বয়ের প্রশ্ন এর অন্তর্ভুক্ত। (فِتْنَة المسِيح الدَّجّال): মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা: (المسِيح الدَّجّال): মাসীহ দাজ্জাল; সে একজন চরম মিথ্যুক ও কাফির ব্যক্তি। শেষ যমানায় সে বের হয়ে প্রভুত্বের দাবি করবে। আল্লাহ তার হাতে অনেক নিদর্শন প্রকাশ করবেন, যেমন যারা তাকে সত্য বলে মানবে তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করা এবং যারা তাকে মিথ্যারোপ করবে তাদের উপর দুর্ভিক্ষ চাপিয়ে দেওয়া। ফলে অনেক মানুষ তার দ্বারা প্রতারিত হবে এবং তার অনুসরণ করবে। মক্কা ও মদীনা ব্যতীত সে সমস্ত শহর প্রদক্ষিণ করবে। অতঃপর ঈসা আলাইহিস সালাম তাকে হত্যা করবেন। আর তার ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়গুলোর মধ্যে রয়েছে: ঈমানের দৃঢ়তা, আল্লাহর কাছে তার ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং সুরা আল-কাহফের প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করা। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সুরা আল-কাহফের প্রথম ১০ আয়াত হেফজ করবে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা করা হবে”। মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৮০৯)।
তাশাহহুদের বৈঠকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠের পর যেসব বিষয় থেকে আশ্রয় চাওয়া হয় [১৮]
[১৮] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী সালাতে একজন মুসলিম যা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে তা উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী সালাতে এই চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনার স্থান নির্ধারণ করবে।
মুসলিম ব্যক্তি তাশাহহুদের বৈঠকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠের পর চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে বলবে:
১- হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি জাহান্নামের আযাব থেকে তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
২. কবরের আযাব থেকে।
৩- এবং জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে।
৪- এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: তাশাহহুদের বৈঠকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর দরূদ পাঠের পর যে চারটি বিষয় থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়, তা উল্লেখ কর।
........................................................................................................................................
........................................................................................................................................
প্রশ্ন ২: নিচের (শুন্যস্থান) গুলো পূর্ণ কর:
মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে পরিত্রাণের একটি উপায় হচ্ছে:
.............................................................. থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতে হবে।
- ..................................................... এর শুরু থেকে দশটি আয়াত মুখস্থ করা ।
নবম পাঠ [১৯]
[১৯] শিক্ষকের জন্য: - শিক্ষার্থীদের সামনে শিক্ষক কর্তৃক সালাতের ব্যবহারিক প্রয়োগ। - প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তার সহপাঠীদের সামনে সালাত আদায়ের দায়িত্ব প্রদান এবং সংঘটিত ভুলসমূহ সংশোধন করা। - সালাত আদায়কালে শিক্ষার্থীরা ভুল করলে পুনরায় সালাতের ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখানো। - এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যে, (سُبْحانَ ربي العَظِيم) এবং (سُبْحان رَبي الأعلى) বলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম পূর্ণতা হলো একবার বলা। - আমের ইবনে সা‘দ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে বর্ণিত হাদীসের আলোকে নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর সালাতের পদ্ধতি সুস্পষ্ট করা, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে তাঁর ডান ও বাম দিকে সালাম ফেরাতে দেখেছি, এমনকি আমি তাঁর গালের শুভ্রতা দেখতে পেতাম।" মুসলিম বর্ণনা করেছেন, নম্বর (৫৮২)। - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, নারী সালাতে তার মুখমণ্ডল ও দুই হাতের কবজি ব্যতীত সমস্ত শরীর আবৃত রাখবে, যদি সে গায়রে মাহরাম পুরুষদের উপস্থিতিতে না থাকে।
সালাতের পদ্ধতি [২০]
[২০] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী সালাতের বিবরণ ব্যাখ্যা করবে। - শিক্ষার্থী সঠিকভাবে সালাত আদায় করবে।
১- আমি কিবলামুখী হব, তারপর আমার সিজদার স্থানের দিকে দৃষ্টি রেখে তাকবীরে তাহরীমা বলব, তারপর সানা পাঠ করব।
০২- আমি পড়ব: (أعوذ بالله مِن الشَّيطانِ الرَّجِيم، بسم الله الرَّحمن الرَّحيم), তারপর সূরা ফাতিহা পড়ব এবং পবিত্র কুরআন থেকে আমার যা মুখস্থ আছে তা থেকে তিলাওয়াত করব।
৩- আমি দুই হাত উত্তোলন করব এবং বলব: “আল্লাহু আকবার”, তারপরে আমি রুকু করব এবং তিনবার বলব: سبحان ربي العظيم “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম”।
৪- রুকু থেকে উঠার সময় (سَمِعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه، رَبَّنا ولك الحمْد حَمْداً كَثِيراً طَيِّباً مُباركاً فيه) (সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ, হামদান কাসীরান ত্বাইয়্যিবাম মুবারাকান ফীহ) বলি। যার অর্থ: “আল্লাহ তার কথা শুনেছেন, যে তাঁর প্রশংসা করেছে। হে আমাদের প্রতিপালক! সমস্ত প্রশংসা আপনারই। এমন অগণিত, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা, যাতে বরকত নিহিত রয়েছে।”
৫- আমি “আল্লাহু আকবার” বলে সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করব আর সিজদাতে তিনবার বলব: سبحان ربي الأعلى “সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা”।
৬- আমি সিজদা থেকে (اللهُ أَكْبَر) “আল্লাহু আকবার” বলে সোজা হয়ে বসব, এবং দুই সিজদার মাঝখানে বলব: “রব্বিগফিরলী” (رَبِّ اغْفِرْ لي)।
৭- আমি “আল্লাহু আকবার” বলে দ্বিতীয় সিজদায় যাব, আর সিজদাতে তিনবার বলব: سبحان ربي الأعلى “সুবহানা রব্বিয়াল আ‘লা”।
৮- “আল্লাহু আকবার” বলে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়াব এবং এখানেও তাই করব, প্রথম রাকাতে যা করেছিলাম।
৯- আমি দ্বিতীয় রাকাতের পর প্রথম তাশাহুদের জন্য বসব।
১০- আমার অবশিষ্ট সালাতে তাই করব, পূর্ববর্তী দুই রাকাতে যা করেছিলাম।
১১- আমি আমার সালাতের শেষে শেষ তাশাহুদ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে দরুদ পাঠ এবং দু‘আ পড়ার জন্য বসব, অতঃপর এটা বলে দুই সালাম ফিরাবো: (আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ)।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: সালাতের পদ্ধতি উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: নিচের প্রতিটি শব্দ বা বাক্যকে উপযুক্ত শূন্যস্থানে বসাও:
(সূরা ফাতিহা, আল্লাহু আকবার, কিবলা, পবিত্র কুরআন থেকে যা মুখস্থ আছে)।
- মুসলিম ব্যক্তি সালাতের সময় ..........................-এর দিকে মুখ করবে, এবং সালাতের শুরুতে .......................... বলবে, তারপর সূরা ........................ পাঠ করবে এবং এরপর ....................... পাঠ করবে।
প্রশ্ন ৩: কবি বলেছেন:
হে বৎস, অযু কর এবং সালাতের জন্য দাঁড়াও *** আর তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর, তুমি তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করবে।
হে বৎস, পবিত্র পানি দ্বারা অযু কর *** কেননা অযুর পানি তোমার চেহারার নূর।
যখন আল্লাহ কোনো মুসলিম ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্ট হন, তখন সে আজীবন সৌভাগ্য লাভ করে।
পূর্বোক্ত নাশিদটি(কবিতা) পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক- মুসলিম ব্যক্তি কী দ্বারা ওযু করবে? খ- সালাত আদায়ের সুফলসমূহের মধ্য থেকে একটি সুফল উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৪: নিচে থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
ক- সালাতে আমি দৃষ্টি রাখি:
( ) ছাদ। ( ) দেয়াল। ( ) সিজদার স্থান।
খ- রুকুর সময় আমি আমার দুই হাত রাখি:
( ) আমার উভয় হাঁটু। ( ) আমার উভয় পায়ের গোছা।
গ- আমি সিজদায় বলি:
( ) سُبحانَ ربي الأعْلى ‘আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’ ( ) سُبْحان ربي العَظِيم ‘আমার সুমহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’
প্রশ্ন ৫: কলাম (ক) এর বাক্যগুলোর সাথে কলাম (খ) এর উপযুক্ত বাক্য মিলাও:
কলাম (ক)
আমি আমার সিজদায় বলি
আমি রুকুতে বলি
আমি দুই সিজদার মাঝখানে বলি
রুকু থেকে উঠার সময় আমি বলি
কলাম (খ)
سُبْحان رَبي العَظِيم আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি
سُبْحان ربي الأَعْلى আমার রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি যিনি সুঊচ্চ
سَمِعَ اللهُ لمَنْ حَمِدَه “আল্লাহ তা‘আলা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন।”
ربِّ اغفِرْ لي হে আমার রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।
اللهُ أكبَر আল্লাহু সর্বাপেক্ষা বড়
দশম পাঠ [২১]
[২১] শিক্ষকের জন্য: - ছাত্রদের সাথে অযু বাতিলকারী বিষয়গুলো পুনরালোচনা করা। - সালাতে বিনম্রতা(একাগ্রতা)-এর গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া। - কয়েকজন ছাত্রকে তাদের সহপাঠীদের সামনে সালাত আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া এবং বাকিদেরকে ভুলগুলো সংশোধন করতে বলা। - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, অযু ভঙ্গকারী কোনো একটি বিষয়ের মাধ্যমে অযু ভঙ্গ হয়ে যায়, যেমন— শব্দ বা বায়ু নির্গত হওয়া। - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, সালাতে ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলা সালাতকে বাতিল করে দেয়।
সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ [২২]
[২১] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ বর্ণনা করবে। - সালাত বাতিল হয়ে গেলে সালাত আদায়কারীর জন্য যা আবশ্যক, ছাত্র তা উল্লেখ করবে।
যেসব কাজের কারণে সালাত বাতিল হয়ে যায়, তার মধ্যে রয়েছে:
১- খাওয়া। ২- পান করা। ৩- কথা বলা।
৪- হাসি। ৫- প্রস্রাব, পায়খানা বা বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে অযু ভঙ্গ হওয়া। ৬- অধিক পরিমাণে নড়াচড়া করা।
* যদি সালাত চলাকালে এসব বাতিলকারী বিষয়ের কোনোটি ঘটে; সালাত বাতিল হয়ে যায় এবং তা পুনরায় আদায় করা আবশ্যক।
* সালাতে বিনম্রতা অর্জনে আগ্রহী হও।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: সালাত ভঙ্গকারী বিষয়গুলো উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: সালাত বাতিল হয়ে গেলে মুসল্লির কী করণীয়?
প্রশ্ন ৩: নিচের প্রতিটি অবস্থায় সালাত ভঙ্গকারী বিষয়টি নির্ধারণ কর:
ক- ছাত্রটি নামাযরত অবস্থায় দেখল যে, তার ভাই আনাস তার কলমদানি নিচ্ছে, তাই সে তাকে বলল: (আমার কলমদানি রেখে দাও)?
খ- ছাত্রটি কক্ষে সালাত আদায় করার সময় বাড়ির বাইরের দরজার বেল শুনতে পেল, অতঃপর সে দরজা খুলতে গেল, তারপর তার সালাত পূর্ণ করতে ফিরে আসল।
গ- ছাত্রটি সালাত আদায়রত অবস্থায় তার ছোট ভাইকে হাঁটার চেষ্টা করতে দেখল, অতঃপর সে মাটিতে পড়ে গেলে সে হেসে ফেলল।
Related books
All books
المناهج التعليمية - الصف الأول5 ভাষাالمناهجالتعليميةالمناهج التعليمية - الصف الأول
কিতাবটিতে প্রথম শ্রেণির তাওহীদ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা প্রাথমিক স্তরে দ্বীন ইসলামের ভিত্তিসমূহের উপর গুরুত্বারোপ করে। এতে আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে, দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে এবং ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুরূপভাবে সঠিক ভিত্তির আলোকে তাওহীদের বিধান ও ইসলামী আকিদা শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অন্তরে বিশুদ্ধ আকিদা সুদৃঢ় করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
المناهج التعليمية - الصف الثالث7 ভাষাالمناهجالتعليميةالمناهج التعليمية - الصف الثالث
কিতাবটিতে তৃতীয় শ্রেণির তাওহীদ বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেখানে দ্বীনের তিনটি স্তর—ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান—অধ্যয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।পাশাপাশি এতে প্রতিটি স্তরের ধারণা বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে; সেই সাথে ইসলাম ও ঈমানের রুকনসমূহ এবং তাওহীদের সাক্ষ্য প্রদানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ ও তাঁর কিতাবের উপর ঈমান সুদৃঢ় করার বিষয়টি এতে স্থান পেয়েছে। পরিশেষে, শরয়ী দলিলের আলোকে দ্বীনের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে ইহসানের মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে।
শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, ইলমে ফিকহ, স্তর (চতুর্থ)।7 ভাষাশিরোনাম: পাঠ্যক্রম, ইলমে ফিকহ, স্তর (চতুর্থ)।
সংক্ষিপ্তসার: এই ইলমী বিষয়বস্তুকে সৌদি আরবের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত পাঠ্যক্রমের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। এই বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে 'ইলমে ফিকহ' অধ্যয়ন সংক্রান্ত বিষয়, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। আর চতুর্থ স্তরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা নিম্নরূপ: পবিত্রতা ও এর ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা এবং ওযূর শর্তসমূহ, ফরযসমূহ, সুন্নাতসমূহ ও ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহের বর্ণনা। আযান ও ইকামতের পদ্ধতি বর্ণনা। সালাতের এমন শর্তসমূহ ব্যাখ্যা করা, যা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না। ফরয সালাতের ওয়াক্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহের বর্ণনা।
ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব: দাওয়াত ও জীবনচরিত11 ভাষাইমাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব: দাওয়াত ও জীবনচরিত
লেখক: শাইখ আব্দুল আযীয ইবনু আব্দুল্লাহ ইবন বায সকল প্রশংসা বিশ্ব জগতের রব আল্লাহর জন্য। আল্লাহ তাঁর বান্দা, রাসূল, তাঁর সৃষ্টিকূলের সর্বোৎকৃষ্ট মানব আমাদের নেতা ও ইমাম মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবার পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা তাদেরকে ভালোবাসেন তাদের উপরও রহমত, শান্তি ও বরকত নাযিল করুন। অতঃপর, হে সম্মানিত ভাইয়েরা, হে প্রিয় সন্তানগণ, এই সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি আমি আপনাদের সামনে পেশ করছি— চিন্তাধারাকে আলোকিত করার জন্য, সত্যকে স্পষ্ট করার জন্য, আল্লাহ ও তাঁর বান্দাদের প্রতি উপদেশ দেওয়ার উদ্দেশ্যে এবং যার সম্পর্কে এই আলোচনা হচ্ছে, তাঁর প্রতি আমার উপর যে হক ও দায়িত্ব রয়েছে তার…