المناهج التعليمية - الصف الثالث
কিতাবটিতে তৃতীয় শ্রেণির তাওহীদ বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেখানে দ্বীনের তিনটি স্তর—ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান—অধ্যয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।পাশাপাশি এতে প্রতিটি স্তরের ধারণা বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে; সেই সাথে ইসলাম ও ঈমানের রুকনসমূহ এবং তাওহীদের সাক্ষ্য প্রদানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ ও তাঁর কিতাবের উপর ঈমান সুদৃঢ় করার বিষয়টি এতে স্থান পেয়েছে। পরিশেষে, শরয়ী দলিলের আলোকে দ্বীনের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে ইহসানের মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে।
This PDF is generated automatically from the book's text; its layout may differ from the printed edition.
শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, কিতাবুত তাওহীদ, স্তর (তৃতীয়)।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: এই ইলমী পাঠ্যক্রম সৌদি আরবে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত সিলেবাসের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। আর এই পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হলো তাওহীদের ইলম অধ্যয়নের বিষয়, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। আর তৃতীয় স্তরে অন্তর্ভুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে: দীনের তিনটি স্তরের বর্ণনা, আর সেগুলো হলো: ইসলাম, ঈমান ও ইহসান। আর তা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে:
১- এগুলোর পরিচয় ও অর্থ সমূহের বিবরণ।
২- ইসলামের পাঁচ রুকনের বর্ণনা, সেই সাথে এর প্রতিটি রুকনের অর্থ ও তার ব্যাখ্যার বিবরণ এবং কুরআন ও সুন্নাহর ভাষ্য থেকে এর সপক্ষে দলীল প্রদান।
৩- ঈমানের ছয়টি রুকনের বর্ণনা, সেই সাথে এর প্রতিটি রুকনের অর্থ ও ব্যাখ্যা এবং কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্য থেকে এর স্বপক্ষে দলীল উপস্থাপন।
৪- ইসলাম ও ঈমানের রুকনসমূহের মধ্য হতে কোনো কিছু অস্বীকারকারীর হুকুম বর্ণনা করা।
০৫- ইহসানের স্তরের ফযীলত ও এর মর্যাদার উচ্চতার বর্ণনা।
তৃতীয় স্তর
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক উম্মী নবীর ওপর, যাঁকে আল্লাহ প্রেরণ করেছেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার জন্য। অতঃপর:
নিশ্চয়ই মহা মহিমান্বিত আল্লাহর তাওহীদ সর্বাধিক অত্যাবশ্যকীয় বিষয় এবং এ সম্পর্কিত জ্ঞান হল সর্বাপেক্ষা মহৎ ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। আর এটাই সেই মূল ভিত্তি যার ওপর আমলসমূহের বিশুদ্ধতা ও কবুল হওয়া নির্ভরশীল। এর প্রতি বান্দার প্রয়োজনীয়তা অন্য সকল প্রয়োজনীয়তার ঊর্ধ্বে; কেননা তাদের রব, মাবুদ ও স্রষ্টার নাম, গুণাবলী ও কার্যাবলী সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জন করা ছাড়া অন্তরসমূহের কোনো জীবন, কোনো সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও কোনো প্রশান্তি নেই। ঠিক তেমনিভাবে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা এবং ইবাদতসমূহ আদায়ের পদ্ধতি যেমন— পবিত্রতা, সালাত ও অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে অবগত হওয়া সৌভাগ্যের লক্ষণ এবং আল্লাহ তায়ালা তাঁর সে বান্দার কল্যাণ চান এটি তার নিদর্শন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ‘ইলম দান করেন[১]।” [১] সহীহ বুখারী, ইলম পর্ব, অধ্যায়: আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন, হাদীস নং (৭)।
আর এই দৃষ্টিকোণ থেকেই প্রবাসী সচেতনতা ও নির্দেশনা কার্যালয় শিক্ষার্থীদের অন্তরে সঠিক আকীদা প্রোথিত করার লক্ষ্যে তাওহীদ বিষয়টি শিক্ষা প্রদানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে, যেন তারা তাদের দ্বীনের বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে।
শিক্ষার্থী তাওহীদ পাঠক্রমের দ্বিতীয় স্তরে মানুষের জন্য জানা আবশ্যক তিনটি মূলনীতি সম্পর্কে শেখার পর, এই পাঠক্রমের তৃতীয় স্তরে এসে তার জন্য দ্বীনের তিনটি স্তর সম্পর্কে কিছুটা বিস্তারিতভাবে শেখা সমীচীন; যাতে সে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর জান্নাত লাভের উদ্দেশ্যে উচ্চ মনোবলের সাথে ক্রমান্বয়ে এক স্তরের পর আরেক স্তরে উন্নীত হতে পারে।
প্রতিটি পাঠের বিশেষ উদ্দেশ্যগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বিষয়বস্তুর প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সংক্ষিপ্ততা ও বাক্যের স্পষ্টতা, বিষয়সমূহের ক্রমান্বয় এবং এগুলোর ও পূর্বে পঠিত বিষয়গুলোর মধ্যকার যোগসূত্রকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে প্রতিটি পাঠের জন্য প্রশ্ন এবং শিক্ষকের জন্য নির্দেশনাসমূহ প্রণয়ন করা হয়েছে, যার আলোকে তিনি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা লাভ করতে পারেন।
শিক্ষকের প্রতি এই উপদেশাবলি:
১- আল্লাহ তা‘আলার জন্য ইখলাস আমল কবুল হওয়ার শর্ত; সুতরাং আপনার আমলকে তাঁর (সুবহানাহু) চেহারার(দর্শনের) উদ্দেশ্যে খালেস করুন, তাহলে আপনি আপনার দুনিয়া ও আখিরাতে লাভবান হবেন।
২- আমানত রক্ষা করা নাজাতের পথ, আপনি - হে আমার শিক্ষক ভাই - ইসলামের এক মহান কর্মক্ষেত্রে অবস্থান করছেন এবং মুসলিম সন্তানদের বিবেক-বুদ্ধি ও ফিতরাতের ব্যাপারে আপনাকে আমানতদার নিযুক্ত করা হয়েছে, সুতরাং উভয় জাহানে সফলতা লাভের জন্য আমানত রক্ষা করুন।
৩- তাওহীদ শাস্ত্র শিক্ষা দেওয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি আমল। কেননা, তাওহীদের জ্ঞান অর্জন ও সে অনুযায়ী আমল করা ছাড়া বান্দার কোনো কল্যাণ নেই এবং দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতের আযাব থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। সুতরাং, শিক্ষার্থীদের অন্তরে সঠিক আক্বীদা রোপণ করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করুন, এবং আপনি যেসব উচ্চতর আদর্শ ও মূল্যবোধের দিকে আহ্বান করেন, নিজেই তার এক সত্যিকার প্রতিচ্ছবি ও জীবন্ত দৃষ্টান্তে পরিণত হোন।
৪- আকাশের বুকে মেঘ ঘনীভূত হওয়া, বিদ্যুতের ঝলকানি, মেঘের গর্জন, বৃষ্টি বর্ষণ এবং একজন মুসলিমের মাঝে ঈমানের প্রেরণা জাগ্রতকারী এ জাতীয় ঘটনাবলীর সময় আল্লাহরই একত্ব-তাওহীদ ও তাঁর ক্ষমতার বিষয়ে আলোচনার সুযোগ কাজে লাগানো উচিত।
৫-শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষয়টির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টিতে, অতঃপর তা শেখা এবং সে অনুযায়ী আমল করার ক্ষেত্রে উদাহরণ দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়বস্তুকে সহজ করা এবং পাঠকে বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত করার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। পরিশেষে আমরা আপনাকে তাঁর ﷺ বাণী দ্বারা সুসংবাদ দিচ্ছি: “নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক আমল থেকে যা লাভ করে, তার মধ্যে রয়েছে এমন ইলম, যা সে শিক্ষা দিয়েছে এবং প্রচার করেছে”। [২] [২] সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং (২৪২)।
সুতরাং আর বিলম্ব নয়, দ্রুত-অগ্রসর হোন, যাতে আপনি আপনার ইলম ও আমলের ফল লাভ করতে পারেন। (আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে নিজ সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষার একটি রীতি। বাংলায় এরীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদে একবচনই ব্যবহার করা হয়েছে।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)
তাওহীদের পাঠ্যক্রম:
আলোচ্য বিষয়
পৃষ্ঠা
প্রথম পাঠ:
পূর্বে দ্বিতীয় স্তরে যা অধ্যয়ন করা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি।
দ্বিতীয় পাঠ:
দ্বীনের স্তরসমূহ (প্রথম স্তর: ইসলাম)।
তৃতীয় পাঠ:
ইসলামের রুকনসমূহ
চতুর্থ পাঠ:
প্রথম রুকন: আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল- এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া। (ক) আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই- এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া।
পঞ্চম পাঠ: ষষ্ঠ পাঠ: সপ্তম পাঠ:
(খ) সাক্ষ্য দেওয়া যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
অষ্টম পাঠ:
দ্বীনের স্তরসমূহ (দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে: ঈমান)।
নবম পাঠ:
ঈমানের রুকনসমূহ (প্রথম রুকন: আল্লাহ তা'আলার প্রতি ঈমান)।
দশম পাঠ:
দ্বিতীয় রুকন: ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান।
একাদশ পাঠ:
তৃতীয় ও চতুর্থ রুকন: কিতাবসমূহ ও রাসূলদের প্রতি ঈমান
দ্বাদশ পাঠ:
পঞ্চম রুকন: আখিরাতের উপরে ঈমান।
ত্রয়োদশ পাঠ:
ষষ্ঠ রুকন: তাকদীরের ভালো-মন্দের উপরে ঈমান রাখা।
চতুর্দশ পাঠ:
দ্বীনের স্তর: (তৃতীয় স্তর: ইহসান)।
প্রথম পাঠ
পূর্বে দ্বিতীয় স্তরে পঠিত বিষয়গুলোর পুনরাবৃত্তি
প্রশ্ন ১: সেই তিনটি মূলনীতি লেখ, যা মানুষের জানা এবং তার ওপর আমল করা ওয়াজিব।
বান্দার ........... জানা, ও বান্দার তার দ্বীনকে .......... জানা, ও বান্দার ............... জানা
প্রশ্ন ২: ঈমানের রুকনসমূহ পরিপূর্ণ করো:
“তুমি আল্লাহর প্রতি, ............... , কিতাবসমূহ, ............... , আখেরাত দিবস ও ............... ঈমান আনবে।”
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক - ইসলামের রুকনসমূহের মধ্যে প্রথম রুকন কী?
খ - সর্বশেষ নবী কে?
গ - ইহসান কী?
দ্বিতীয় পাঠ [৩]
[৩] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী দ্বীনের তিনটি স্তর বর্ণনা করতে পারবে। - শিক্ষার্থী ইসলামের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারবে। - শিক্ষার্থী মুশরিকদের থেকে বারাআত বা সম্পর্কচ্ছেদের কয়েকটি রূপ উল্লেখ করতে পারবে।
দ্বীনের স্তরসমূহ [৪]
[৪] শিক্ষকের জন্য: - এই বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা যে, এই তিনটি স্তর সম্পর্কেই জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যেমনটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৮) নম্বর হাদীসে বর্ণনা করেছেন। - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, আভিধানিক অর্থে ‘ইসলাম’ শব্দটি ‘মুসালামাহ’ (শান্তিপূর্ণ ও অহিংস) থেকে নির্গত, আর তা হলো: বিবাদ বর্জন করা। আর এভাবেই একজন মুসলিম আল্লাহ তাআলার নির্দেশসমূহের নিকট আত্মসমর্পণকারী, তাঁর আনুগত্যে অবনত এবং শিরক ও মুশরিকদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ এবং তাঁর আনুগত্যে অবনত হওয়ার অন্যতম সুফল হলো: দুনিয়াতে পবিত্র জীবন লাভ, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন, জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি। - ইবরাহীম আলাইহিস সালাম ও তাঁর সম্প্রদায়ের ঘটনা উল্লেখ করা, এবং শিরক ও মুশরিকদের থেকে তাঁর সম্পর্কচ্ছেদ ও তাদের প্রতি বৈরিতা প্রকাশের বিষয়টি তুলে ধরা এবং তাঁর অনুসরণের প্রতি উৎসাহিত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন:﴿قَدۡ كَانَتۡ لَكُمۡ أُسۡوَةٌ حَسَنَةٞ فِيٓ إِبۡرَٰهِيمَ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ إِذۡ قَالُواْ لِقَوۡمِهِمۡ إِنَّا بُرَءَٰٓؤُاْ مِنكُمۡ وَمِمَّا تَعۡبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ كَفَرۡنَا بِكُمۡ وَبَدَا بَيۡنَنَا وَبَيۡنَكُمُ ٱلۡعَدَٰوَةُ وَٱلۡبَغۡضَآءُ أَبَدًا حَتَّىٰ تُؤۡمِنُواْ بِٱللَّهِ وَحۡدَهُۥٓ...﴾ [الممتحنة: 4 তোমাদের জন্য ইবরাহীম ও তাঁর সঙ্গীদের মধ্যে রয়েছে এক উত্তম আদর্শ। যখন তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিল: নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের থেকে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যাদের ইবাদত করো তাদের থেকে সম্পূর্ণ সম্পর্কহীন। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করলাম। আর আমাদের ও তোমাদের মাঝে চিরকালের জন্য শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হলো, যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো...﴾ [আল-মুমতাহিনা: ৪]। ৪- এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, শিরক ও মুশরিকদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণের অর্থ তাদের উপর যুলুম করা বা সীমালঙ্ঘন করা নয়; বরং তাদের সাথে উত্তম আচার-আচরণ করতে হবে। ৫- মুশরিকদের থেকে সম্পর্কচ্ছেদের কিছু দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা, যার মধ্যে রয়েছে: তাদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করা, তাদের ভূখণ্ড থেকে হিজরত করা, তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন না করা, তারা যে বাতিলের উপর রয়েছে তা স্পষ্ট করা এবং ইসলামই যে একমাত্র সত্য দীন তা বর্ণনা করা।
দ্বীনের স্তর তিনটি, তা হলো: ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান। প্রথম স্তর: ইসলাম।
ইসলামের অর্থ হল: তাওহীদের সাথে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা, ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্য স্বীকার করা এবং শিরক ও মুশরিক থেকে পবিত্র থাকা।
ইসলাম (الإسلام) শব্দের অর্থের ব্যাখ্যা:
তাওহীদের সাথে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা: অর্থাৎ ইবাদতে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা।
আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর বশ্যতা স্বীকার করা: অর্থাৎ আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন তা পরিত্যাগ করা।
শিরক ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্কমুক্ত হওয়া: অর্থাৎ শিরককে ঘৃণা করা, একে বাতিল বলে বিশ্বাস করা এবং মুশরিকদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ না করা।
* যে সৎআমল করে, সে দুনিয়ায় পবিত্র ও সুখময় জীবন লাভে এবং আখিরাতে স্থায়ী জান্নাতে প্রবেশের মাধ্যমে সফলকাম হয়।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: (দ্বীনের স্তর তিনটি), ক্রমানুসারে লিখে তা পূর্ণ কর:
০১-............... ০২- ............... ০৩- আল-ইহসান।
প্রশ্ন ২: ইসলামের অর্থ সাজিয়ে শূন্যস্থানে লেখ:
এবং আনুগত্য করা, এবং পবিত্র থাকা, এবং মুশরিক, শিরক থেকে, তাওহীদের সাথে আল্লাহর, আনুসরণ করার মাধ্যমে তার।
ইসলাম হল: আত্মসমর্পণ করা, . . . . . . . . . . , . . . . ....
প্রশ্ন ৩: নিম্নলিখিত শব্দগুলি উপযুক্ত কলামে লেখ:
আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করা - আল্লাহর কাছে দু‘আ করা - আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দু‘আ করা - গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করা - পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা - পিতামাতার নাফরমানি করা।
আল্লাহ যেসব বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন তার অন্তর্ভুক্ত হলো
আল্লাহর কাছে দোয়া করা
. . . . . . . . . . .
. . . . . . . . . . .
আল্লাহ তা‘আলা যেসব বিষয় নিষেধ করেছেন তার অন্তর্ভুক্ত আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দু‘আ করা . . . . . . . . . ..
. . . . . . . . . ..
তৃতীয় পাঠ [৫]
[৫] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ইসলামের রুকনসমূহের দলীল উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী ইসলামের পাঁচটি রুকন উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী এই পাঁচটি রুকনের গুরুত্ব তুলে ধরবে।
ইসলামের রুকনসমূহ [৬]
[৬] শিক্ষকের জন্য: - এ বিষয়টির বর্ণনা দেওয়া যে, এই রুকনগুলোই হলো এমন ভিত্তি যা ছাড়া দীন প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, ঠিক যেমন ভিত্তি ও স্তম্ভ ছাড়া কোনো প্রাসাদ দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। - এ বিষয়টির বর্ণনা দেওয়া যে, ইসলামকে আঁকড়ে ধরার অন্যতম সুফল হলো: মুসলিমের রক্ত ও সম্পদের হিফাযত হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، فَمَن قَالَ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلَّا بِحَقِّهِ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ». رواه البخاري برقم (2946). “আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা বলে, ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই’। অতঃপর যে ব্যক্তি বলবে ‘আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই’, সে তার সম্পদ ও জীবন আমার থেকে নিরাপদ করে নিল, তবে তার অধিকার ব্যতীত। আর তার হিসাব আল্লাহর জিম্মায়।” ইমাম বুখারী রহ. হাদীসটি বর্ণনা করেছেন (২৯৪৬)। - এ বিষয়টির বর্ণনা দেওয়া যে, ইসলামই হলো জান্নাতে প্রবেশ ও জাহান্নাম থেকে নাজাতের একমাত্র মাধ্যম এবং আল্লাহ তা‘আলা এটি ছাড়া অন্য কোনো দীন কবুল করবেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ﴿وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ85﴾ [آل عمران: 85]. “আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন অন্বেষণ করবে, তার কাছ থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” [সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৮৫]। - অতীত ও বর্তমান যুগে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তাদের কয়েকজনের ঘটনা উল্লেখ করা এবং এই মহান দ্বীনের মাধ্যমে তারা কতটুকু আনন্দিত ও গর্বিত, তা বর্ণনা করা। ‘উমার রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «نَحْنُ قَوْمٌ أَعَزَّنَا اللَّهُ بِالإِسْلَامِ، فَإِنِ ابْتَغَيْنَا العِزَّةَ فِي غَيْرِهِ أَذَلَّنَا اللَّهُ». “আমরা এমন এক জাতি, আল্লাহ আমাদেরকে ইসলামের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। সুতরাং আমরা যদি এটি ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে সম্মান অন্বেষণ করি, তবে আল্লাহ আমাদেরকে অপদস্থ করবেন।”
ইসলামের রুকন পাঁচটি:
১- এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল।
২- সালাত কায়েম করা।
৩- যাকাত আদায় করা।
৪- রমাদানের সিয়াম পালন করা।
৫- সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের পবিত্র বাইতুল্লাহতে হজ্জ আদায় করা।
এর দলীল হলো নবী ﷺ-এর বাণী: «بُنِيَ الإِسْلَامُ عَلَى خَمْسٍ: شَهادَةُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامُ الصَّلَاةِ، وَإِيتَاءُ الزَّكَاةِ، وَصَوْمُ رَمَضَانَ، وَحَجُّ الْبَيْتِ» [7]. (ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি: এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মা‘বূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেয়া, রমদানের সিয়াম পালন করা এবং বায়তুল্লায় হজ করা।) [৭] [৭] সহীহ বুখারী, ঈমান পর্ব, হাদীস নং (৮), সহীহ মুসলিম, ঈমান পর্ব (১/৪৫)।
* ইসলামই হচ্ছে জান্নাতে প্রবেশ করার এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র কারণ।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: ইসলামের রুকনসমূহ লিখে পূর্ণ করো:
১- এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
২- ................... ৩- যাকাত আদায় করা।
৪- ................... ৫- ...............
প্রশ্ন ২: নিচের শব্দগুলো থেকে উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
(পাঁচটি - ইসলাম - সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই - মুসলিম)।
- . . . . . . . . . . . . ছাড়া আল্লাহ অন্য কোনো দ্বীন গ্রহণ করবেন না।
- আমি দিনে রাতে . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . ওয়াক্ত সালাত আদায় করি।
- ইসলামের প্রথম রুকন . . . . . . . . . . . . . . . . এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর রাসূল।
প্রশ্ন ৩: ইসলামের রুকনসমূহের পক্ষে সুন্নাহ থেকে একটি দলীল উল্লেখ করো।
চতুর্থ পাঠ [৮]
[৮] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ইসলামের রুকনসমূহ হতে প্রথম রুকন বর্ণনা করবে। - শিক্ষার্থী 'আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই'- একথার সাক্ষ্য দেওয়ার দলীল উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর অর্থ ব্যাখ্যা করবে।
প্রথম রুকন [৯]
[৯] শিক্ষকের জন্য: - এই বিষয়টি স্পষ্ট করা, যে ব্যক্তি لا إله إلا الله “আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মা‘বূদ নেই” বলবে এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। - এই বিষয়টি স্পষ্ট করা, যে ব্যক্তি ইবাদতের কোনো একটি প্রকারও আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে নিবেদন করবে, যেমন- (দু‘আ-প্রার্থনা ), সে মুশরিক। যদিও সে মুখে لا إله إلا الله উচ্চারণ করে থাকে; কারণ তাওহীদ হল: ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক হিসেবে মেনে নেওয়া। - এই বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, জান্নাতের চাবি হল لا إله إلا الله, আর চাবির জন্য দাঁত থাকা অপরিহার্য। আর জান্নাতের চাবির দাঁতগুলো হল: আদেশসমূহ পালন করা এবং নিষেধসমূহ থেকে বিরত থাকা। - এই বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, তাওহীদের কালিমা (لا إله إلا الله) হল সর্বোত্তম যিকির। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : أَفْضَلُ الذِّكْرِ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ" ذ. (সর্বোত্তম জিকির হলো "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" তিরমিযী বর্ণনা করেছেন হাদীস নং :3383) - এই বিষয়টি স্পষ্ট করা যে,কাফিরদেরকে সর্বপ্রথম যে বিষয়ের দিকে দাওয়াত দেওয়া হবে তা হল: لا إله إلا الله-এর সাক্ষ্য প্রদান। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসে এসেছে, যখন তিনি মু‘আয (রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু)-কে বিচারক ও শিক্ষকরূপে ইয়েমেনে প্রেরণ করেছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: «إِنَّكَ سَتَأْتِي قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الكِتَابِ فَإِذَا جِئْتَهُمْ فَادْعُهُمْ إِلَى أَنْ يَشْهَدُوا أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا "اللَّهُ “নিশ্চয় তুমি একটি আহলে কিতাব সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছ। সুতরাং যখন তুমি তাদের কাছে পৌঁছবে, তখন তাদেরকে এ কথার সাক্ষ্য দেওয়ার দিকে দাওয়াত দিবে যে, لا إله إلا الله” বুখারী বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৪৩৪৭)। - আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দেওয়ার ফযীলত বর্ণনা করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَئِنْ يَهْدِي اللهُ بِكَ رَجُلًا واحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَمْ». “আল্লাহ তোমার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকেও যদি হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম।” বুখারী বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৩৭০১) এবং মুসলিম, হাদিস নং (২৪০৬)।
(এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল)
১- এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্যের দলীল আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿شَهِدَ ٱللَّهُ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ وَٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَأُوْلُواْ ٱلۡعِلۡمِ قَآئِمَۢا بِٱلۡقِسۡطِۚ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡعَزِيزُ ٱلۡحَكِيمُ18﴾ আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই, আর ফিরিশতা ও জ্ঞানীগণও (এ সাক্ষী দেয়)। আল্লাহ ন্যায় ও ইনসাফের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি মহা পরাক্রমশালী, মহা প্রজ্ঞাময়। [আলে ইমরান : ১৮]
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (لا إله إلا الله)-এর অর্থ: আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই।
* সর্বোত্তম যিকির হচ্ছে, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: ইসলামের রুকনসমূহের মধ্য থেকে প্রথম রুকনটির নিচে দাগ দাও:
- সালাত কায়েম করা।
- রমাদানের সিয়াম পালন করা।
- যাকাত আদায় করা।
- এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
- সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের পবিত্র বাইতুল্লাহতে হজ্জ আদায় করা।
প্রশ্ন ২: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, -এ সাক্ষের পক্ষে দলীল উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ৩: লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর অর্থ কী?
প্রশ্ন ৪: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
প্রথম যার প্রতি কাফেরদেরকে দাও‘আত দেওয়া হয় . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
জান্নাতের চাবি . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
প্রশ্ন ৫: তোমার ক্লাসের কতিপয় ছাত্রের সাথে মিলে (لا إله إلّا الله) “আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই” বলার ফযীলত সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ প্রস্তুত কর এবং তা তোমার সহপাঠীদের সামনে উপস্থাপন কর।
পঞ্চম পাঠ:প্রথম রুকনের অবশিষ্টাংশ [১০]
[১০] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ একথার সাক্ষ্য দেওয়ার প্রমাণ উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ একথার সাক্ষ্য দেওয়ার অর্থ স্পষ্ট করবে। - শিক্ষার্থী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধাচরণ থেকে সতর্ক থাকবে।
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য প্রদান [১১]
[১১] শিক্ষকের জন্য: - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু আদেশ করেছেন সেগুলোর আনুগত্য করা আবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ﴿...وَمَآ ءَاتَىٰكُمُ ٱلرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَىٰكُمۡ عَنۡهُ فَٱنتَهُواْ...﴾ [الحشر: 7]. ﴿...রাসূল তোমাদেরকে যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক...﴾ [সূরা আল-হাশর: ৭]। - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব সংবাদ দিয়েছেন সেগুলোকে বিশ্বাস করা ও স্বীকৃতি দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা, আর তিনি যেসব গায়েব বা অদৃশ্যের সংবাদ দিয়েছেন তার মধ্যে রয়েছে- কিয়ামত সংঘটিত হওয়া, জান্নাত এবং জাহান্নাম। - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্যতার ব্যাপারে সতর্ক করা, কেননা আল্লাহ সুবহানাহু জাহান্নামীদের এই বিষয়ে তাদের অবহেলার কারণে অনুশোচনার কথা তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: ﴿يَوۡمَ تُقَلَّبُ وُجُوهُهُمۡ فِي ٱلنَّارِ يَقُولُونَ يَٰلَيۡتَنَآ أَطَعۡنَا ٱللَّهَ وَأَطَعۡنَا ٱلرَّسُولَا۠66﴾ [الأحزاب: 66]. ﴿যেদিন জাহান্নামের আগুনে তাদের মুখমণ্ডল উলট-পালট করা হবে, সেদিন তারা বলবে, ‘হায়! আমরা যদি আল্লাহর আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতাম!’﴾ [সূরা আল-আহযাব: ৬৬]। - আল্লাহ যা শরীয়তভুক্ত করেছেন সে অনুযায়ী তাঁর ইবাদত করার আবশ্যিকতার উপর জোর দেওয়া, সুতরাং দ্বীনের মাঝে এমন কিছু বিদ‘আত তৈরি করা যাবে না যার অনুমতি আল্লাহ দেননি, যেমন- ইসরা ও মি‘রাজ উদযাপন, ঈদে মিলাদুন্নবী, মা দিবস ইত্যাদি বিদ‘আত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:«وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ» «আর প্রতিটি বিদ‘আতই হলো ভ্রষ্টতা» মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৮৬৭)। - এ কথা বর্ণনা করা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসার দাবী হলো তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর অনুকরণ করা। - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বিষয়ক কিছু তথ্যসূত্রের উল্লেখ করা, যেমন- শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ রচিত (মুখতাসারু সীরাতির রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
‘মুহাম্মাদ(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)আল্লাহর রাসূল’ এ কথার সাক্ষ্য দেওয়ার অর্থ হচ্ছে: তিনি যা আদেশ করেছেন তা মান্য করা, তিনি যা কিছুর ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন তা অন্তরে বিশ্বাস করা, তিনি যা হতে নিষেধ করেছেন ও সতর্ক করেছেন তা হতে দূরে থাকা [12] এবং তিনি যেভাবে শরী‘আত প্রণয়ন করেছেন সেভাবেই আল্লাহর ইবাদত করা। [১২] নিষেধ করার চেয়ে ধমক দেওয়া অধিকতর জোরালো।
‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’ সাক্ষ্যের দলীল আল্লাহ তা‘আলার বাণী: মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নয়; তবে তিনি আল্লাহর রাসূল ও সর্বশেষ নবী। আর আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বজ্ঞ। [আল-আহযাব: ৪০]
* রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা তাঁর আনুগত্য করা ও তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক করে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: ‘মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল’ এ সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ কী?
প্রশ্ন ২: প্রথম লাইনের মতো নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
ক - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আল্লাহর আনুগত্য করার আদেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে নিষেধ করেছেন।
খ - রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে তাওহীদের আদেশ দিয়েছেন এবং . . . . . . . . . . . থেকে নিষেধ করেছেন।
উত্তর: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সত্যবাদিতার আদেশ করেছেন এবং . . . . . . . . . . . থেকে নিষেধ করেছেন।
প্রশ্ন ৩: মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্যের দলীল উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৪: কলাম (ক) থেকে প্রতিটি অনুচ্ছেদকে কলাম (খ) এর উপযুক্ত অনুচ্ছেদের সাথে মিলাও:
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য প্রদানের অর্থ হল:
কলাম (ক)
কলাম (খ)
তাঁর আনুগত্য
যা নিষেধ করা হয়েছে এবং ধমক দেওয়া হয়েছে।
এবং তাঁকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করা
তিনি যেসব সংবাদ দিয়েছেন
এবং বিরত থাকা
যা শরীয়তসিদ্ধ (তরিকাভুক্ত )করেছেন
এবং আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত যেন না করা হয়, তবে
তিনি যা আদেশ করেছেন সে বিষয়ে
প্রশ্ন ৫: নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বিষয়ক একটি বইয়ের নাম উল্লেখ কর, যা পড়ার জন্য তুমি তোমার সহপাঠীদের পরামর্শ দেবে।
ষষ্ঠ পাঠ [১৩]
[১৩] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ইসলামের রুকনসমূহ হতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় রুকন উল্লেখ করতে পারবে। - শিক্ষার্থী যথাসময়ে সালাত আদায়ে যত্নবান হবে। - শিক্ষার্থী সালাত ও যাকাত ওয়াজিব হওয়ার দলীল উল্লেখ করতে পারবে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় রুকন [১৪]
[১৪] শিক্ষকের জন্য: - যথাসময়ে সালাত আদায়ে যত্নবান হতে উৎসাহিত করা এবং তা বর্জনকারীর কুফরী সম্পর্কে বর্ণনা করা, তিনি ﷺ বলেছেন: «العَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ الصَّلَاةُ فَمَن تَرَكَهَا، فَقَدْ كَفَرَ" “আমাদের ও তাদের মাঝে অঙ্গীকার হলো সালাত; সুতরাং যে তা বর্জন করল, সে কুফরী করল।” আহমাদ বর্ণনা করেছেন (৫/৩৪৬)। - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, যাকাত হলো সম্পদে বরকত লাভ এবং ফকীর ও অভাবীদের প্রতি সহমর্মিতার কারণ। আর যাকাত প্রদানে বিরত থাকা আসমান থেকে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ।
দ্বিতীয় রুকন: সালাত কায়েম করা
তৃতীয় রুকন: যাকাত আদায় করা
সালাত কায়েমের অর্থ:
নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে বর্ণনা করেছেন, সেভাবে নির্ধারিত সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা।
যাকাত আদায়ের অর্থ:
ধন-সম্পদের একটি অংশ বের করে তা হকদারদেরকে প্রদানের মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদাত করা।
আর সালাত ও যাকাতের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿وَأَقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتُواْ ٱلزَّكَوٰةَ وَٱرۡكَعُواْ مَعَ ٱلرَّٰكِعِينَ43﴾ আর তোমরা সালাত কায়িম করো, যাকাত প্রদান করো এবং রুকূ‘কারীদের সাথে রুকূ‘ করো । [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৪৩]
যে ব্যক্তি সালাত বা যাকাত ওয়াজিব হওয়াকে অস্বীকার করে তার বিধান: সে আল্লাহ তাআলার সাথে কুফরীকারী একজন কাফের।
* আমি সময়মত সালাত আদায়ে যত্নবান থাকি এবং আমি জানি যে, যাকাত আদায় না করা আকাশ থেকে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: কলাম (ক) থেকে প্রতিটি অনুচ্ছেদকে কলাম (খ) এর উপযুক্ত অনুচ্ছেদের সাথে মিলাও:
কলাম (ক)
কলাম (খ)
সালাত কায়েম করা
ইসলামের প্রথম রুকন
যাকাত প্রদান করা
চতুর্থ রুকন
এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
দ্বিতীয় রুকন
রমাদানের সিয়াম
তৃতীয় রুকন
প্রশ্ন ২: সালাত কায়েম ও যাকাত প্রদান ওয়াজিব হওয়ার দলীল উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ৩: নিচের আয়াতে বর্ণিত ইসলামের রুকনগুলোর নিচে দাগ দাও:
আল্লাহ তায়ালা বলেন: ﴿وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ5﴾ অথচ তাদেরকে কেবল (কিতাবে) এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ‘ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে, সালাত কায়িম করে এবং যাকাত দেয়। আর এটিই হলো সঠিক দ্বীন। [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫]
প্রশ্ন ৪: তোমার ভাইকে সালাত আদায়ে যত্নবান হতে উৎসাহিত করে দুই লাইনে একটি চিঠি লিখো।
বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম
আমার ভাইয়ের প্রতি:
السَّلامُ عليكم ورحمةُ الله وبركاتُه. “তোমাদের ওপর নিরাপত্তা, আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকত নাযিল হোক।“
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
সপ্তম পাঠ [১৫]
[১৫] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ইসলামের রুকনসমূহ হতে চতুর্থ ও পঞ্চম রুকন উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী রমাদান মাসের সিয়ামের ফযীলত বর্ণনা করবে। - শিক্ষার্থী সিয়াম ও হজ্জ ফরয হওয়ার দলীল উল্লেখ করবে।
চতুর্থ ও পঞ্চম রুকন [১৬]
[১৬] শিক্ষকের জন্য: - রমাদানের সিয়াম পালনে উদ্বুদ্ধ করা এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী থেকে প্রাপ্ত এর ফযীলত তুলে ধরা: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ» «যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমাদানের সিয়াম পালন করবে, তার অতীতের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে», বুখারী কর্তৃক বর্ণিত, হাদিস নং (৩৮) এবং মুসলিম, হাদিস নং (৭৬০)। - সামর্থ্য থাকলে জীবনে একবার হজ্জব্রত পালন করা যে ফরয, সে বিষয়ে ইঙ্গিত করা। - মুসলিমদের অন্তরে বায়তুল্লাহ শরীফের মর্যাদার বিবরণ তুলে ধরা।
(রমাদানের রোযা – সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা)
সওমের অর্থ:
ফজর উদিত হওয়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও অন্যান্য বিষয় থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত করা।
সিয়াম পালনের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ183﴾ হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হলো, যেমন ফরয করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পার। [আল-বাকারাহ, আয়াত : ১৮৩]
বাইতুল্লাহর হজ্জের অর্থ:
নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট আমল আদায়ের উদ্দেশ্যে বাইতুল হারামের দিকে গমন করার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত পালন করা।
হজ্জের দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴿...وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ...﴾ আর এ ঘরে পৌঁছার শক্তি-সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহরই জন্য বায়তুল্লাহর হজ্জ করা ফরয। [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৯৭]
যে ব্যক্তি সওম বা হজের ওয়াজিব হওয়াকে অস্বীকার করে তার হুকুম: সে আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরীকারী।
* রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রমযান মাস আসতো তখন তাঁর সাহাবীদেরকে রমযান মাসের সু-সংবাদ দিতেন এবং জানিয়ে দিতেন যে, এটি এমন একটি মাস যাতে জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
ইসলামের রুকনসমূহ:
- প্রথম রুকন: আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা‘বূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল- একথার সাক্ষ্য দেওয়া।
- ............... : যাকাত আদায় করা।
- দ্বিতীয় রুকন: ...............
- চতুর্থ রুকন: ...............
- ............... আল্লাহর ঘর হারামে হজ্জ পালন করা।
প্রশ্ন ২: কলাম (ক) এর বাক্যগুলোকে কলাম (খ) এর উপযুক্ত বাক্যের সাথে মিলাও:
কলাম (ক)
কলাম (খ)
মুসলিমগণ ... মাসে সিয়ামের ফরয আদায় করেন
যুল কাদা
মুসলিমগণ ... মাসে হজের ফরযটি পালন করে।
রমদান
....................................
যিলহজ
প্রশ্ন ৩: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ﴿لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ3 ‘লাইলাতুল কদর’ হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ4 সে রাতে ফিরিশতারা ও রূহ (জিবরীল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে (আগামী বৎসরের জন্য) সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে (জমিনে) অবতরণ করে। سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ5﴾ শান্তিময় সেই রাত, ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত (অব্যাহত) থাকে। [সূরা আল-কদর, আয়াত: ৩-৫]
ক- লাইলাতুল কদর কোন মাসে হয়?
খ- কদরের রাতের ফযীলত বর্ণনা করো।
প্রশ্ন ৪: হজ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একটি দলীল উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ৫: তুমি কি রমাদান মাসে সিয়াম পালনকারীদের ইফতারে অংশগ্রহণ করেছ? তুমি কেন তা করেছ?
প্রশ্ন ৬: একজন মুসলিমের ওপর কতবার হজ করা ফরয?
অষ্টম পাঠ [১৭]
[১৭] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ঈমানের অর্থ ব্যাখ্যা করতে পারবে। - শিক্ষার্থী ঈমানের ছয়টি রুকন উল্লেখ করতে পারবে। - শিক্ষার্থী ঈমানের রুকনসমূহের কোনো একটি রুকন অস্বীকারকারীর বিধান বর্ণনা করতে পারবে।
দীনের স্তরসমূহ (দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে: ঈমান) [১৮]
[১৮] শিক্ষকের জন্য: - দ্বীনের স্তরসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে বিষয়ের অবতারণা করা। - ঈমানের ছয়টি রুকনের কোনো একটি রুকন যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে, তার কুফরীর বিষয়টি বর্ণনা করা। - অধিক পরিমাণে নেক আমল করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা; কারণ তা ঈমান বৃদ্ধি ও শক্তিশালী হওয়ার কারণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ﴿إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتۡ قُلُوبُهُمۡ وَإِذَا تُلِيَتۡ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتُهُۥ زَادَتۡهُمۡ إِيمَٰنٗا وَعَلَىٰ رَبِّهِمۡ يَتَوَكَّلُونَ2﴾ "মুমিন তো কেবল তারাই, যাদের সামনে আল্লাহকে স্মরণ করা হলে তাদের অন্তরসমূহ ভীত হয়ে পড়ে, আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন তা তাদের ঈমানকে বৃদ্ধি করে এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।" [সূরা আল-আনফাল: ২] - পাপ ও গুনাহের কাজ থেকে সতর্ক করা; কারণ তা ঈমান হ্রাস পাওয়া ও দুর্বল হওয়ার কারণ, যেমন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: « ... وَلَا يَسْرِقُ السَّارِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ» "...আর চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন থাকে না।" বুখারী বর্ণনা করেছেন (হাদীস নং ৫৫৭৮)। - জনৈক সালাফের উক্তি দ্বারা ঈমান যে বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায় তার প্রমাণ পেশ করা: "إذا ذَكَرْنا ربَّنا وخَشيناه فذلك زِيادَتُه، وإذا غَفَلْنا ونَسِينا وضيَّعْنا فذلك نُقصانُه". "যখন আমরা আমাদের রবকে স্মরণ করি এবং তাঁকে ভয় করি, তখন সেটি হলো তার বৃদ্ধি। আর যখন আমরা উদাসীন হই, ভুলে যাই এবং অবহেলা করি, তখন সেটি হলো তার হ্রাস।"
ঈমানের অর্থ:
অন্তরের বিশ্বাস, মৌখিক কথা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের সমন্বয়।
ঈমানের রুকনসমূহ:
১- আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। ২- এবং তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি। ৩- এবং তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি।
৪. তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান। ৫. আখিরাত বা শেষ দিবসের প্রতি ঈমান। ৬. তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান।
* যে ব্যক্তি এই ছয়টি রুকনের কোনো একটি অস্বীকার করবে, সে আল্লাহ তাআলার সাথে কুফরি করল।
* ঈমান ইবাদতের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং গুনাহ বা অবাধ্যতার মাধ্যমে কমে যায়।
* আমি আমার ঈমান বৃদ্ধি করে এমন ইবাদতের দিকে খুব ধাবিত হই এবং আমার ঈমান হ্রাস করে এমন গুনাহ বা অবাধ্যতার কাজ পরিহার করি।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: ঈমানের অর্থ কী?
প্রশ্ন ২: ঈমানের রুকনসমূহ উপযুক্ত নাম্বার বসিয়ে সাজাও।
( ) তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনবে। ( ) ও তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি। ( ) ও আখেরাত দিবসের প্রতি।
( ) তাঁর ফিরিশতাগণের প্রতি ঈমান। ( ) তাঁর রাসূলগণের প্রতি ঈমান। ( ) তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান।
প্রশ্ন ৩: নিচের ছকে ঈমান বৃদ্ধি পায় এমন তিনটি নেক আমল এবং ঈমান হ্রাস পায় এমন তিনটি গুনাহের কাজ লেখ:
যে নেককাজসমূহে ঈমান বাড়ে
যে পাপসমূহে ঈমান কমে
ক্ষমা চাওয়া
মিথ্যা
প্রশ্ন ৪: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
ঈমান হলো অন্তরে বিশ্বাস, . . . . . . . . . . কথা এবং . . . . . . . . . . আমল।
- যে ব্যক্তি ঈমানের ছয়টি রুকন থেকে কোনো রুকন অস্বীকার করল, সে . . . . . . . . . . . . . . . . . .
নবম পাঠ [১৯]
[১৯] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী আল্লাহর প্রতি ঈমানের অর্থ ব্যাখ্যা করবে। - শিক্ষার্থী আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে কোনো প্রকার ইবাদত নিবেদন করা থেকে সতর্ক থাকবে। - শিক্ষার্থী আল্লাহর কতিপয় নাম ও গুণাবলী উল্লেখ করবে।
প্রথম রুকন (আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান) [২০]
[২০] শিক্ষকের জন্য: - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, বান্দার ইসলামে প্রবেশের জন্য কেবল রুবুবিয়্যাতে আল্লাহকে একক হিসেবে মানাই যথেষ্ট নয়, বরং উলুহিয়্যাতেও তাঁকে একক হিসেবে মানা আবশ্যক। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগের মুশরিকরা রুবুবিয়্যাতের স্বীকৃতি দিত, কিন্তু তা তাদেরকে ইসলামে প্রবেশ করায়নি, যদিও তারা হজ, ওমরাহ, হাজীদের পানি পান করানো এবং বাইতুল্লাহর তাওয়াফের মতো বিভিন্ন প্রকার ইবাদত সম্পাদন করত। কেননা, তারা আল্লাহর সাথে শিরক করেছিল, ফলে তাদের আমলসমূহ বাতিল হয়ে গিয়েছিল। - এ বিষয়ে সতর্ক করা যে, যে ব্যক্তি উলুহিয়্যাতে আল্লাহকে একক হিসেবে মানেনি, সে এমন শিরকে আকবারে (বড় শিরক) পতিত হয়েছে, যার জন্য আল্লাহ তাআলা এমন শাস্তির বিধান রেখেছেন, যা তিনি অন্য কোনো অপরাধের জন্য রাখেননি। আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿...إِنَّهُۥ مَن يُشۡرِكۡ بِٱللَّهِ فَقَدۡ حَرَّمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِ ٱلۡجَنَّةَ وَمَأۡوَىٰهُ ٱلنَّارُۖ وَمَا لِلظَّٰلِمِينَ مِنۡ أَنصَارٖ﴾ ﴿...নিশ্চয় যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করবে, আল্লাহ তার ওপর জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা জাহান্নাম। আর যালিমদের জন্য কোনো সাহায্যকারী নেই।﴾ [আল-মায়িদাহ: ৭২] - মুমিনের জীবনের মহত্ত্ব ও মর্যাদা এবং কাফিরের জীবনের তুচ্ছতা ও চতুষ্পদ জন্তুর জীবনের সাথে তার সাদৃশ্যের বর্ণনা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿...وَٱلَّذِينَ كَفَرُواْ يَتَمَتَّعُونَ وَيَأۡكُلُونَ كَمَا تَأۡكُلُ ٱلۡأَنۡعَٰمُ وَٱلنَّارُ مَثۡوٗى لَّهُمۡ﴾ ﴿...আর যারা কুফরী করেছে, তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত থাকে এবং চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায় আহার করে। আর জাহান্নামই তাদের ঠিকানা।﴾ [মুহাম্মাদ: ১২] - আল্লাহর নাম ও সিফাতসমূহের প্রতি ঈমান আনা ঈমান বৃদ্ধির কারণ। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমান আনে যে আল্লাহ সর্বজ্ঞানী ও সদা পর্যবেক্ষণকারী, তার অন্তর সকল নড়াচড়া ও স্থিরতায় আল্লাহর পর্যবেক্ষণের অনুভবে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, আল্লাহর নাম ও সিফাতসমূহ থেকে কোনো কিছুকে অস্বীকার করা কুফর। যেমন সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: ﴿...وَهُمۡ يَكۡفُرُونَ بِٱلرَّحۡمَٰنِ...﴾ ﴿...অথচ তারা দয়াময় (আল্লাহর) সাথেই কুফরী করে...﴾ [আর-রাদ, আয়াত: ৩০]
আল্লাহর প্রতি ঈমানের অর্থ:
রুবুবিয়্যাত, উলূহিয়্যাত এবং আসমা ওয়াস সিফাতে আল্লাহকে একক জ্ঞান করা।
রুবুবিয়্যাহ তে আল্লাহ তা‘আলাকে একক সাব্যস্ত করার অর্থ:
অর্থাৎ: এ কথার স্বীকৃতি প্রদান করা যে, আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা ও পরিচালনাকারী, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নয়।
আমি একজন মুসলিম, আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং আসমান ও যমীন, মানুষ ও জিনকে সৃষ্টি করেছেন; তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এগুলো সৃষ্টি করেনি।
আর আমি বিশ্বাস করি যে, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই মানুষ, পাখি ও জীবজন্তুকে রিযিক দান করেন, আর তিনি ছাড়া অন্য কেউ তাদেরকে রিযিক দান করে না।
আর আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ মানুষদেরকে তাদের মৃত্যুর পর জীবিত করবেন, যেমন তিনি তাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলেন। আর তিনি সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ব্যতীত অন্য কেউ তা করতে সক্ষম নয়।
উলূহিয়্যাতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করার অর্থ:
অর্থাৎ, সকল প্রকার ইবাদাত একমাত্র আল্লাহর জন্যই করা। এর উদাহরণ হলো: আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে না ডাকা এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য যবেহ না করা।
আমি একজন মুসলিম, আমি আল্লাহর জন্য সালাত আদায় করি এবং তিনি ব্যতীত অন্য কারো জন্য সালাত আদায় করি না।
আর আমি আল্লাহকে ডাকি এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে ডাকি না।
আর আমি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করি এবং তিনি ব্যতীত অন্য কারও ওপর তাওয়াক্কুল করি না।
আল্লাহর নামসমূহ ও সিফাত-গুণাবলী তে আল্লাহকে একক জ্ঞান করার অর্থ:
অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহতে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে সেভাবে আল্লাহ তা'আলার নাম ও গুণাবলী সাব্যস্ত করা এবং তাঁর সৃষ্টিকুলের কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।
আমি একজন মুসলিম, আমি আল্লাহর সকল নামের প্রতি ঈমান রাখি, যেমন: আর-রহমান (দয়াময়), আস-সামী‘ (মহাশ্রবণকারী), আল-কাওয়ী (মহাশক্তিমান) এবং আল-আলীম (মহাজ্ঞানী)।
আর আমি আল্লাহর সকল সিফাত-গুণাবলীর ওপর বিশ্বাস করি, যেমন: রহমত, শোনা, শক্তি ও ইলম।
* আমি একজন মুমিন, আমি একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করি।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: আল্লাহর প্রতি ঈমানের অর্থ কী?
প্রশ্ন ২: উলূহিয়্যাতে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করার অর্থ ব্যাখ্যা কর?
প্রশ্ন ৩: রুবুবিয়্যাতে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করার অর্থ গঠন করতে নিম্নোক্ত শব্দাবলী সাজাও:
( ) এককভাবে, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নয় ( ) পরিচালক ( ) রিজিকদাতা ( ) যে, আল্লাহই স্রষ্টা
রুবুবিয়্যাতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করার অর্থ: স্বীকার করা . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
প্রশ্ন ৪: নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে আল্লাহ তা‘আলার নাম ও সিফাতের নিচে দাগ দাও:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (তোমাদের কি মনে হয়) যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি (গোপন বস্তুর খবর) জানেন না? অথচ তিনি অতি সূক্ষ্মদর্শী, পূর্ণ অবহিত। [আল-মুলক, আয়াত: ১৪]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: নিশ্চয় আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের অতি নিকটে। [আল-আরাফ, আয়াত: ৫৬]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (হে রাসূল!) বলো: ‘এ বিষয়ের জ্ঞান শুধু আল্লাহরই নিকট। আর আমি তো স্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র।’ [আল-মুলক, আয়াত: ২৬]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (হে রাসূল! তুমি) বলো: তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। [সূরা আল-ইখলাস, আয়াত: ১]
প্রশ্ন ৫: সূরা আল-হাশরের শেষাংশ পাঠ কর এবং তা থেকে আল্লাহ তা‘আলার পাঁচটি নাম বের কর:
. . . . . . ., . . . . . . . ., . . . . . . . ., . . . .. . ., . . . .. . .
প্রশ্ন ৬: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
- আমি ঈমান রাখি যে, আল্লাহ তায়ালার নামসমূহের মধ্যে রয়েছে: মহাদ্রষ্টা (البصير), চিরঞ্জীব (الحي), . . . . . . . . . . এবং মহাজ্ঞানী (العليم)।
এখানে: আল্লাহ তা‘আলার একটি নাম, পরবর্তী লাইনে যার সিফাত উল্লেখ করা হয়েছে, তাহলে তা কী?
- আমি বিশ্বাস করি যে, আল্লাহ তা‘আলার কতক সিফাত হলো: দৃষ্টি, . . . . . . . . . . , ইজ্জত ও ইলম।
এখানে: পূর্ববর্তী লাইনে আল্লাহর একটি গুণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা কী?
দশম পাঠ [২১]
[২১] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনার অর্থ বর্ণনা করবে। - ছাত্র ফিরিশতাদের প্রতি ঈমানের দলিল উল্লেখ করবে। - ছাত্র ফিরিশতাদের কিছু নাম উল্লেখ করবে। - ছাত্র ফিরিশতাদের অস্বীকারকারীর বিধান বর্ণনা করবে।
দ্বিতীয় রুকন (ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান) [২২]
[২২] শিক্ষকের জন্য: - বর্ণনা করা যে, ফেরেশতাদের মাঝে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন (জিবরীল আলাইহিস সালাম), তিনি ওহীর দায়িত্বে নিয়োজিত, যার দ্বারা অন্তরসমূহ জীবন লাভ করে, আর (ইসরাফীল) শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত এবং (মীকাঈল) বৃষ্টির (বর্ষণ) দায়িত্বে নিয়োজিত। - ফেরেশতাদের কিছু কাজ এবং তাদের প্রতি ঈমান আনার প্রভাব বর্ণনা করা: ১- আমালসমূহ লিপিবদ্ধ করার দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ। আর এটি বান্দার উপর অপরিহার্য করে যে, সে এমন কোনো কথা বলবে না বা কাজ করবে না যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলাকে রাগান্বিত করে। ২- সর্বাবস্থায় বান্দার হিফাযতের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ। আর এটি বনী আদমের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার বিশেষ যত্নের কারণে তাঁর শুকরিয়া আদায় করাকে অপরিহার্য করে। ৩- বনী আদমের রূহ কবজের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতাগণ। আর এটি নেক আমলের মাধ্যমে শেষ দিবসের (আখিরাতের) জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করাকে অপরিহার্য করে।
ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনার অর্থ:
ফিরিশতাদের অস্তিত্বের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও সত্যায়ন করা এবং এ বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ সুবহানাহু তাদেরকে তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, আর তারা আল্লাহ যা আদেশ দিয়েছেন তার অবাধ্য হন না এবং তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তাই করেন।
দলীল: আল্লাহ তা‘আলার বাণী: রাসূল (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওপর তার রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তিনি নিজেও এর ওপর ঈমান এনেছেন এবং মু’মিনরাও ঈমান এনেছে। তাদের প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর... [আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৫]
ফিরিশতাদের সংখ্যা অনেক, তন্মধ্যে কয়েকজন হলেন:
১- জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম।
২- মিকাঈল আলাইহিস সালাম।
৩- ইসরাফীল ‘আলাইহিস সালাম।
যে ব্যক্তি ফিরিশতাদের অস্বীকার করবে তার বিধান: সে আল্লাহ তা‘আলাকে অস্বীকারকারী।
* আমি ঈমান রাখি যে, ফিরিশতাদের মধ্যে এমন ফিরিশতা রয়েছেন, যারা বান্দাদের ভালো বা মন্দ আমলসমূহ লিপিবদ্ধ করেন।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: ঈমানের রুকনসমূহের অন্যতম হলো (ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান), তাহলে এর অর্থ কী?
প্রশ্ন ২: ফিরিশতাদের নামসমূহের নিচে দাগ দাও:
ইবরাহীম – জিবরাইল – মিকাঈল – মুহাম্মদ – ইসরাফীল।
প্রশ্ন ৩: কলাম (ক) থেকে প্রতিটি অনুচ্ছেদকে কলাম (খ) এর উপযুক্ত অনুচ্ছেদের সাথে মিলাও।
কলাম (ক)
কলাম (খ)
অকাট্য বিশ্বাস
ফিরিশতাদের অস্তিত্বে
এবং নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু
আর তাদেরকে যা আদেশ করা হয় তারা তা-ই করে।
এবং আল্লাহ তাদের যা নির্দেশ করেন সে বিষয়ে তারা তাঁর নাফরমানি করেন না
তিনি তাদেরকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
প্রশ্ন ৪: ফিরিশতাদের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৫: সর্বোত্তম ফিরিশতা কে?
একাদশ দরস [২৩]
[২৩] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী আসমানী কিতাব ও রাসূলদের প্রতি ঈমান আনার অর্থ সুস্পষ্ট করবে। - শিক্ষার্থী সুস্পষ্ট করবে যে, কুরআন কারীম আল্লাহ তা‘আলার কালাম। - শিক্ষার্থী কিতাব ও রাসূলদের অস্বীকারকারীর বিধান বর্ণনা করবে। - শিক্ষার্থী সুস্পষ্ট করবে যে, আল্লাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর কুরআন নাযিল করেছেন।
তৃতীয় ও চতুর্থ রুকন (কিতাব ও রাসূলদের প্রতি ঈমান) [২৪]
[24] শিক্ষকের জন্য: - মানুষের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ণনা করা, যেহেতু তিনি তাদের হিদায়াতের জন্য তাদের নিকট রাসূলগণকে পাঠিয়েছেন এবং কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন। - আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের ওপর যেসব কিতাব নাযিল করেছেন তার মধ্য থেকে কয়েকটির উল্লেখ করা, যেমন: তাওরাত ও ইঞ্জীল, যা বিকৃত করা হয়েছে। পক্ষান্তরে সম্মানিত কুরআন, যার সংরক্ষণের দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহ নিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ﴿নিশ্চয় আমিই যিকর নাযিল করেছি এবং আমিই এর রক্ষক﴾ [আল-হিজর: ৯]। - সম্মানিত কুরআনের ফযীলত বর্ণনা করা এবং তা তিলাওয়াত ও মুখস্থ করার প্রতি উৎসাহিত করা, আর এতে যা এসেছে সে অনুযায়ী আমল করা যে ওয়াজিব তা তুলে ধরা। - এ কথা বর্ণনা করা যে, সকল নবী ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। আর প্রথম রাসূল হলেন নূহ আলাইহিস সালাম এবং তাদের সর্বশেষ হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আর তিনি হলেন তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। এই দুইয়ের মাঝে বিপুল সংখ্যক নবী রয়েছেন, যাদের কাউকে আমরা জানি, আর কাউকে আমরা জানি না। - এ কথা তুলে ধরা যে, সকল রাসূলই সৃষ্ট মানব। রুবূবিয়্যাত ও উলূহিয়্যাতের বৈশিষ্ট্যের কোনো কিছুই তাদের নেই। সুতরাং তারা গায়েব জানেন না এবং বিশ্বজগত পরিচালনাও করেন না। - এ কথা বর্ণনা করা যে, যে ব্যক্তি নবুওয়াত দাবি করবে সে কাফির এবং যে এ বিষয়ে তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে সেও কাফির। কেননা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর আর কোনো নবী নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ﴿মুহাম্মাদ তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং সর্বশেষ নবী। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক জ্ঞানী﴾ [আল-আহযাব: ৪০]। - তাদের কাওমের সাথে কতিপয় নবীর ঘটনাসমূহ উল্লেখ করা: যেমন নূহ ও ইবরাহীম আলাইহিমাস সালামের ঘটনা।
কিতাবসমূহের প্রতি ঈমানের অর্থ:
এ কথা অকাট্য বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ মানব জাতির হিদায়েতের জন্য তাঁর রাসূলদের উপর কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন।
* সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ: আল-কুরআনুল কারীম, আর তা আল্লাহ তা‘আলারই বাণী।
রাসূলগণের ওপর ঈমান আনার অর্থ:
এ কথা অকাট্য বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টিকুলের নিকট রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁরা যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁরা সত্যবাদী।
* নবীদের দাওয়াত একই: আর তা হলো তাওহীদের নির্দেশ দেওয়া এবং শিরক থেকে নিষেধ করা।
* সর্বপ্রথম রাসূল হলেন নূহ আলাইহিস সালাম, আর সর্বশেষ হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এবং তাঁদের উভয়ের মাঝে অসংখ্য নবী ও রাসূল ছিলেন।
তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন রাসূলগণের মধ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ের অধিকারীগণ, আর তারা হলেন পাঁচজন:
১- নূহ আলাইহিস সালাম।
২- ইবরাহীম আলাইহিস সালাম।
৩- মূসা আলাইহিস সালাম।
৪- ঈসা আলাইহিস সালাম।
৫- মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনার দলীল, আল্লাহ তা‘আলার বাণী: রাসূল (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর ওপর তার রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তিনি নিজেও এর ওপর ঈমান এনেছেন এবং মু’মিনরাও ঈমান এনেছে। তাদের প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহ, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর... [আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৫]
* আমি একজন মুসলিম, আমি কুরআনকে ভালবাসি, তা পাঠ করি এবং এতে যা রয়েছে সে অনুযায়ী আমল করি। আর আমি সকল রাসূলকে ভালবাসি; কারণ তাঁরা মানুষের হিদায়াতের জন্য প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব: ............... ............... ...............
প্রথম রাসূল: ............... ............... ...............
সর্বশেষ রাসূল: ............... ............... ...............
প্রশ্ন ২: নবীদের দাও‘আত এক। তা কী?
প্রশ্ন ৩: কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের ওপর ঈমান আনার আবশ্যকতা সম্পর্কে দলীল উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৪: কলাম (ক) এর সাথে কলাম (খ) এর উপযুক্ত অংশ মিলাও:
আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের (আলাইহিমুস সালাম) ওপর যে কিতাবসমূহ অবতীর্ণ করেছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
কলাম (ক)
কলাম (খ)
কুরআন আল্লাহ তা‘আলা যার ওপর নাযিল করেছেন
ঈসা আলাইহিস সালাম
ইনজিল আল্লাহ তা‘আলা যাঁর ওপর নাযিল করেছেন
মূসা আলাইহিস সালাম
তাওরাত আল্লাহ তা‘আলা যার উপরে নাযিল করেছেন
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
প্রশ্ন ০৫: তোমার শিক্ষকের সহযোগিতায় উলুল আযম (শ্রেষ্ঠ মহিমান্বিত রাসূলগণের নাম তাঁদের প্রেরণের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সাজাও।
( ) ঈসা আলাইহিস সালাম। ( ) ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। ( ) নূহ আলাইহিস সালাম।
( ) মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। ( ) মূসা আলাইহিস সালাম।
দ্বাদশ পাঠ [২৫]
[২৫] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনার অর্থ ব্যাখ্যা করবে। - শিক্ষার্থী পরকাল দিবসে সংঘটিত কিছু বিষয় উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী পরকাল দিবস অস্বীকারকারীর বিধান স্পষ্ট করবে।
পঞ্চম রুকন (আখিরাতের উপরে ঈমান) [২৬]
[২৬] শিক্ষকের জন্য: - এ বিষয়ের বর্ণনা প্রদান করা যে, আখিরাত দিবসের অনেক নাম রয়েছে, তন্মধ্যে অন্যতম হলো: (ইয়াওমুল কিয়ামাহ - আল-কারিআহ - আল-গাশিয়াহ - আল-ওয়াকিয়াহ - আল-হাক্কাহ)। - কিয়ামতের দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণস্বরূপ নেক আমল করার এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে পাথেয় সংগ্রহ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। - এ বিষয়ের বর্ণনা প্রদান করা যে, কবর হলো আখিরাতের প্রথম মনজিল বা ঘাঁটি, এবং বান্দাকে তার কবরে প্রশ্ন করা হবে: তোমার রব কে?, তোমার দ্বীন কী?, এবং তোমার নবী কে? অতঃপর যে এগুলোর উত্তর দিতে পারবে তাকে নি‘আমত দ্বারা পুরস্কৃত করা হবে, আর যে উত্তর দিতে পারবে না তাকে যন্ত্রণাদায়ক আযাব দ্বারা শাস্তি দেওয়া হবে। - হিসাব ও প্রতিদানের জন্য মানুষকে তাদের কবর থেকে উত্থিত করার ক্ষেত্রে আল্লাহ সুবহানাহুর মহত্ত্ব ও তাঁর ক্ষমতার বর্ণনা প্রদান করা। - কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতার কিছু বিবরণ উল্লেখ করা: শিঙ্গায় ফুঁক—সূর্য সৃষ্টিকুলের নিকটবর্তী হওয়া—আমলনামা উড়ে আসা—এক ব্যক্তির ডান হাতে তার আমলনামা গ্রহণ করা এবং অন্যজনের বাম হাতে গ্রহণ করা—পুলসীরাত অতিক্রম করা। - জান্নাতের কিছু নি‘আমত এবং তাতে প্রবেশের কারণসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে জান্নাতের প্রতি আগ্রহী করে তোলা, এবং জাহান্নামের কিছু প্রকার আযাব ও তাতে প্রবেশের কারণসমূহ উল্লেখ করার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে ভয় প্রদর্শন করা। - আল্লাহর নিকট জান্নাত এবং এমন কথা ও কাজ যা জান্নাতের নিকটবর্তী করে তা প্রার্থনা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা; এবং জাহান্নাম ও এমন কথা ও কাজ যা জাহান্নামের নিকটবর্তী করে তা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। - সূরা আত-তাকভীর, আল-ইনফিতার এবং আল-ইনশিকাক তিলাওয়াত করা এবং সেগুলোকে আলোচ্য বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ত করা।
আখিরাত দিবসের ওপর ঈমান আনার অর্থ:
কিতাব ও সুন্নাতে যেভাবে এসেছে সেভাবেই মৃত্যুর পরে ঘটিতব্য সকল বিষয়ের প্রতি অকাট্য বিশ্বাস স্থাপন করা।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: আর আখিরাতের প্রতি তারা নিশ্চিত বিশ্বাসী। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৪]
আর মৃত্যুর পরে যা সংঘটিত হবে তার মধ্যে রয়েছে:
১- বান্দাকে তার কবরে তিনটি মূলনীতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা, আর তা হলো:
(তোমার রব কে? আর তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবী কে?)।
২- কবরের নি‘আমত ও আযাব।
৩- পুনরুত্থান: আর তা হল হিসাব ও প্রতিদানের জন্যে মানুষদেরকে তাদের কবর থেকে বের করা, জান্নাতবাসীদের জান্নাতে এবং জাহান্নামবাসীদের জাহান্নামে প্রবেশ করা পর্যন্ত।
৪- আমলসমূহের হিসাব।
যে ব্যক্তি শেষ দিবসকে অস্বীকার করে তার বিধান: সে আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরীকারী- কাফির।
* আমি একজন মুসলিম, সৎকাজের মাধ্যমে পরকাল দিবসের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: নিচের বাক্যটি পূরণ করো:
আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান: তা হলো এমন সবকিছুর প্রতি অকাট্য বিশ্বাস যা সংঘটিত হবে . . . . . . . . . . . . . . .
প্রশ্ন ২: মৃত্যুর পর সংঘটিত হয় এমন দুটি বিষয় উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ৩: পুনরুত্থানের অর্থ গঠন করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সাজিয়ে লিখো:
হিসাব ও প্রতিদানের জন্য - জান্নাতবাসীদের জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত - তাদের কবর থেকে - এবং অধিবাসীদের
আগুন, আগুন।
পুনরুত্থান হল: মানুষকে বের করা . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
প্রশ্ন ৪: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
কিয়ামত দিবসের নামগুলোর একটি হলো আল-কারিয়াহ . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
প্রশ্ন ৫ঃ মৃত্যুর পর যা ঘটে তার মধ্যে অন্যতম হলো, বান্দাকে তার কবরে তিনটি বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে, সেগুলো উল্লেখ করুন।
ত্রয়োদশ শিক্ষা [২৭]
[২৭] দারসের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থ বর্ণনা করবে। - শিক্ষার্থী তাকদীর অস্বীকারকারীর বিধান উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী এর দলীল উল্লেখ করবে যে, আল্লাহ প্রতিটি বস্তু তাকদীর অনুযায়ী সৃষ্টি করেছেন।
ষষ্ঠ রুকন (তাকদীরের ভালো-মন্দের উপরে ঈমান রাখা) [২৮]
[২৮] শিক্ষকের জন্য: - আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের প্রতি প্রতি সমর্পণ করা ওয়াজিব, কেননা নবী ﷺ বলেছেন: "আল্লাহ তা‘আলা আসমান ও যমীন সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বে তাকদীরসমূহ নির্ধারণ করেছেন।" তিরমিযী, হাদিস নং (২১৫৬)। - মুসীবতের সময় সবর করা ওয়াজিব, যেমন—কোনো প্রিয়জনের মৃত্যু, অথবা সম্পদ হারানো, অথবা শারীরিক অসুস্থতা বা এ জাতীয় কিছু। - এ বিষয়টির বর্ণনা দেওয়া যে, সবর হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান লাভের কারণ। যেমন রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "কোনো মুসলিম যখন কোনো কষ্টে পতিত হয়—তা একটি কাঁটা বিদ্ধ হওয়া হোক বা তার চেয়েও বেশি কিছু—তবে এর মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন, যেমন গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়।" বুখারী, হাদিস নং (৫৬৪৮) এবং মুসলিম, হাদিস নং (২৫৭১)। - আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায়ে উৎসাহিত করা এবং নিশ্চয় তা নি‘আমত বৃদ্ধির কারণ। যেমন আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন: {...‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (আরো নি‘আমত) বাড়িয়ে দিবো’...} [ইবরাহীম: ৭]।
তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনার অর্থ:
এ কথার অকাট্য বিশ্বাস করা যে, ভালো বা মন্দ যা কিছু ঘটে তা আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীর অনুযায়ী হয়।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: নিশ্চয়ই আমি সব কিছু সৃষ্টি করেছি পূর্ব নির্ধারিত তাকদীর অনুযায়ী। [সূরা আল-কামার, আয়াত: ৪৯]
যে ব্যক্তি তাকদীর অস্বীকার করে তার বিধান: সে আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরীকারী-কাফের।
* মুসিবতের সময় আমি বলি: উচ্চারণ: “ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন, আল্লাহুম্মা আজুরনি ফি মুসীবাতি, ওয়া আখলিফনি খাইরান মিনহা।” অর্থ: “আমরা আল্লাহরই এবং আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে তাঁরই কাছে। হে আল্লাহ! আমার বিপদে আমাকে পুরস্কৃত করুন এবং এর চেয়ে ভাল কিছু দান করুন।”
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: তাকদীরের ভালো ও মন্দের প্রতি ঈমান আনার অর্থ কী?
প্রশ্ন ২: তাকদীরের ওপর ঈমানের দলীল উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৩: নিচের শব্দগুলো থেকে উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শুন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
( (الشُّكْرُ) শুকরিয়া - (كافِرٌ) কাফির - (الأجرِ) প্রতিদান - (الصَّبْرُ) সবর - (النِّعمِ) নি‘আমত - (الجَزَعُ) অধৈর্য)..
০১- বিপদের সময় আমার কর্তব্য . . . . . . . . . . . . . . . . .. . . . . . . . . . . .
০২- নেয়ামতের সময় আমার কর্তব্য . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
৩- যে ঈমানের ছয়টি রুকনের মধ্যে কোনো একটি অস্বীকার করে, সে . . . . . . . . . . . . . . . . .
৪- ধৈর্য . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . লাভের কারণ।
৫- আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . বৃদ্ধির কারণ।
চতুর্দশ শিক্ষা [২৯]
[২৯] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ইহসানের অর্থ ব্যাখ্যা করবে। - শিক্ষার্থী ইহসানের দলীল উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী ইখলাসের সাথে ইবাদাত আদায় করবে।
তৃতীয় স্তর: ইহসান [৩০]
[৩০] শিক্ষকের জন্য: - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, ইহসান হলো: জাহেরী ও বাতেনীভাবে ইবাদত পরিপূর্ণভাবে পালন করা, আর এটিই হলো ইখলাসের চূড়ান্ত পর্যায়। - ইহসানের প্রমাণ বহন করে এমন কিছু ঘটনা উল্লেখ করা: যেমন উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ঘটনা, যখন তিনি এক রাখালকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তিনি তাকে বললেন: "আমার কাছে একটি বকরি বিক্রি কর।" সে বলল: "আমি তো একজন দাস।" তিনি বললেন: "তোমার মনিবকে বলে দিও যে, ওটাকে নেকড়ে খেয়ে ফেলেছে।" সে বলল: "তাহলে আল্লাহ কোথায়?" এতে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু কেঁদে ফেললেন, অতঃপর তাকে কিনে স্বাধীন করে দিলেন। তিনি বললেন: "এই বাক্যটি তোমাকে দুনিয়াতে স্বাধীন করেছে, আর আমি আশা করি তা তোমাকে আখিরাতেও মুক্তি দেবে।" এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন: আয-যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ রচিত গ্রন্থ (সিয়ারু আলামিন নুবালা), এবং গুহাবাসীদের ঘটনা। দেখুন: সহীহ বুখারী, হাদিস নং (২২৭২) ও মুসলিম, হাদিস নং (২৭৪৩)। - মুসলিম ও মুমিন ব্যতীত কেউ ইহসানের মর্যাদায় পৌঁছাতে পারে না। - শিক্ষার্থীদের অন্তরে ইখলাসের সাথে ইবাদত আদায়ের আগ্রহ বৃদ্ধি করা।
ইহসানের অর্থ:
তুমি আল্লাহর ইবাদাত করবে এমনভাবে যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ, আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে তিনি তোমাকে দেখছেন।
আর ইহসান হল দ্বীনের সর্বোচ্চ স্তর।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: (জেনে রেখো,) নিশ্চয় আল্লাহ (তাঁর সাহায্য ও অবগতি নিয়ে) তাদের সাথে আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল। [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৮।]
* আমি মুসলিম, আমি জানি যে, আল্লাহ আমার কথা শুনেন এবং আমাকে দেখেন, তাই গান শুনে অথবা মন্দ বিষয়াবলি দেখে আমি তাঁর অবাধ্যতা করি না।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: দ্বীনের রয়েছে তিনটি স্তর, এর মধ্যে সর্বোচ্চ কোনটি?
প্রশ্ন ২: একটি দলীল উল্লেখসহ ইহসানের সংজ্ঞা দাও।
প্রশ্ন ৩: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শুন্যস্থানগুলো পূরণ কর।
(মুরাকাবাহ, তিনি তাকে প্রত্যক্ষ করেন, কিছুই অগোচরে থাকে না)।
- যাইদ তার সালাত সুন্দরভাবে আদায় করল; কারণ সে জানে যে, আল্লাহ . . . . . . . . . . . . . .
- আলী যা তার নয় তা গ্রহণ করে না, কারণ সে তার প্রতি আল্লাহ তা‘আলার . . . . . . . . . . . . . . সম্পর্কে অবগত।
- উমার কথা বলার ক্ষেত্রে সত্য বলে, সে মিথ্যা বলে না, কারণ সে জানে যে, আল্লাহর কাছে কোনো কিছু . . . . . . . .।
এই কিতাবটি তৃতীয় স্তরের ফিকহ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে, যেখানে বেশ কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; যেমন—মল-মূত্র ত্যাগ করার আদব, ওযূ, তায়াম্মুম, সালাতের শর্ত ও রুকনসমূহ, এছাড়াও নাপাকি দূর করার শর্তসমূহ। কিতাবটির লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক ফিকহী মূলনীতিসমূহ শিক্ষা দেওয়া এবং ইসলামী শরীয়াতের কাঠামোর মধ্যে থেকে সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
শিরোনাম:পাঠ্যক্রম, ফিকহ শিক্ষা, (তৃতীয়) স্তর।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:এই পাঠ্যবইয়ের বিষয়সমূহ সৌদি আরবের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত সিলেবাসের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে বিবেচিত।এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। এই বিষয়বস্তুগুলোর অন্তর্ভুক্ত একটি অংশ 'ইলমে ফিকহ' অধ্যয়নের জন্য নির্দিষ্ট, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত।আর তৃতীয় স্তরে অন্তর্ভুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলি ও মাসআলাসমূহ নিম্নরূপ:
১- মল-মূত্র ত্যাগের শিষ্টাচার সম্পর্কে আলোচনা এবং ইস্তেঞ্জা ও ইস্তেজমার-এর অর্থ বয়ান করা, সেই সাথে অপবিত্রতা দূর করার পদ্ধতি সম্পর্কে সতর্ক করা।
২- অযুর শর্ত ও ফরযসমূহের বর্ণনা
৩- তায়াম্মুমের পদ্ধতি ও তা বাতিল হওয়ার কারণসমূহ বর্ণনা।
৪- ফরয সালাতের ওয়াক্ত, তার শর্তাবলি, রুকন ও ওয়াজিবসমূহের বর্ণনা।
তৃতীয় স্তর
প্রথম পাঠ [১]
[১] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - কিবলার মর্যাদা ও পবিত্র কুরআনের সম্মান বর্ণনা করা। - চলার পথ ও সাধারণ উপকারের স্থানসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার মানসিকতা তৈরি করা। - পেশাব-পায়খানা করার সময় লজ্জাস্থান সংরক্ষণ রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করা। - উপকারী ছায়ার অর্থ স্পষ্ট করা, আর তা হলো যেখানে মানুষ ছায়া গ্রহণ করে এবং তাতে বসার অভ্যাস রাখে। - মানুষের চলার পথের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা, আর তা হলো যে পথে মানুষ চলাচল করে। - মানুষের চলার পথে মল-মূত্র ত্যাগ করা নিষিদ্ধ হওয়ার হিকমত বর্ণনা করা; কারণ তা তাদেরকে কষ্ট দেয়। আর ফলদার বৃক্ষের নীচে (পেশাব-পায়খানা করা নিষিদ্ধ হওয়ার হিকমত বর্ণনা করা); কারণ তা গাছটিকে আবর্জনাযুক্ত করে ফেলবে এবং মন তা থেকে ঘৃণা বোধ করবে।
মল-মূত্র ত্যাগের আদবসমূহ [২]
[২] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী মল-মূত্র ত্যাগ করার আদবসমূহ উল্লেখ করতে পারবে। - শিক্ষার্থী সেসব স্থান নির্ধারণ করতে পারবে, যেখানে পায়খানা-প্রসাব করা হারাম। - শিক্ষার্থী পেশাব পায়খানায় প্রবেশ ও বাহির হওয়ার দু‘আ উল্লেখ করতে পারবে।
মল-মূত্র ত্যাগ করার সময় একজন মুসলিমের যে আদবসমূহ মেনে চলা উচিত:
১- টয়লেটে প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেওয়া এবং প্রবেশের পূর্বে বলা: (اللَّهمًّ إني أعوذُ بِك مِنَ الخبْثِ والخبائِث) “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র জিনিস বা শয়তান নর-নারী থেকে আশ্রয় গ্রহণ করছি।”
এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দিবে এবং বলবে: (غفرانك) “আপনার ক্ষমা (চাচ্ছি)।”
২- কুরআন বা আল্লাহ তাআলার নাম (যিকির) রয়েছে এমন কিছু সাথে নিয়ে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকা।
৩- মানুষের চক্ষুর আড়ালে পেশাব পায়খানা করা।
৪- কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ করা থেকে বিরত থাকা।
৫- পেশাব-পায়খানা করার সময় কথা না বলা।
যেসব স্থানে পেশাব-পায়খানা করা হারাম:
১- মানুষের চলাচলের রাস্তা।
২- যে পানি প্রবাহিত হয় না।
৩- উপকারী ছায়া।
(৪) ফলদার গাছের নীচে।
এইসব স্থানে পেশাব-পায়খানা করা হারাম হওয়ার হিকমত:
১- মানুষের ক্ষতি করে।
২- রোগব্যাধি ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হয়।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: নিচের খালিস্থান পূরণ করো:
ক- যখন আমি পায়খানায় প্রবেশ করি তখন .................................... পা এগিয়ে দিই আর যখন বের হই তখন .................................... পা এগিয়ে দিই।
খ- আমি পেশাব পায়খানায় প্রবেশের সময় বলব .............................., এবং বের হওয়ার পর বলব .........................
প্রশ্ন ২: যেসব স্থানে মল-মূত্র ত্যাগ করা হারাম, সেসব স্থানের নিচে (×) চিহ্ন দাও:
( ) মানুষের পথ। ( ) গাছ। ( ) মরুভূমি।
প্রশ্ন ৩: সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করুন:
ক- পেশাব পায়খানার সময় আমি মানুষের দৃষ্টি থেকে নিজেকে আড়াল করে নেব।
( ) কেননা সতর খোলা হারাম।
( ) কাপড়ের পরিচ্ছন্নতার জন্য।
( ) যাতে কাপড়ে অপবিত্রতা না লাগে।
খ- প্রবেশ করার সময় বাম পা এগিয়ে দেব:
( ) বাসস্থান। ( ) গোসলখানা। ( ) মসজিদ।
প্রশ্ন ৪: পেশাব পায়খানা করার সময় কিবলাকে সামনে অথবা পিছনে রেখে বসব না।
কারণ .................................... ....................................
প্রশ্ন ০৫: পায়খানা-প্রসাব করা জায়েয এমন কয়েকটি স্থান উল্লেখ করি:
১-.................................... ২-.................................... ৩-....................................
দ্বিতীয় পাঠ [৩]
[৩] শিক্ষকের জন্য: - ছাত্রদেরকে টয়লেটে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার দু‘আ স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং তা নিয়মিত পাঠ করতে তাদেরকে উৎসাহিত করা। - হাড় ও গোবর দিয়ে ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করতে নিষেধ করার হিকমত বর্ণনা করা। কারণ, হাড় হলো জিনের খাদ্য আর গোবর হলো তাদের পশুদের খাদ্য। - যে সব কাগজে আল্লাহর যিকির রয়েছে যেমন- বই-পুস্তক, মুসহাফ ও পত্র-পত্রিকা, সেগুলোর সম্মান করতে ছাত্রদেরকে উৎসাহিত করা এবং সব ধরনের অবমাননা থেকে সেগুলোকে রক্ষা করার ব্যাপারে সতর্ক করা। - ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের শর্তসমূহের কোনো একটি শর্ত লঙ্ঘিত হলে, পানি দিয়ে ইস্তেন্জা করা ওয়াজিব হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা। - ইস্তেন্জা ও ঢিলা-কুলুখ উভয়টির সমন্বয় করা যে সর্বোত্তম অবস্থা তা বর্ণনা করা। - ইস্তেন্জা অথবা ঢিলা-কুলুখ ব্যবহারের সময় বাম হাত ব্যবহার করতে ছাত্রদেরকে উৎসাহিত করা।
ইস্তেনজা করা ও ঢিলা ব্যবহার [৪]
[৪] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ইস্তিনজা ও ইস্তিজমারের মাঝে পার্থক্য করবে। - শিক্ষার্থী সেসব বস্তু বর্ণনা করবে, যা দ্বারা ঢিলা-কুলুখ ব্যাবহার করা জায়েয নয়। - শিক্ষার্থী ঢিলা-কুলুখ সহীহ হওয়ার শর্তগুলো উল্লেখ করবে। - আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের যিকির রয়েছে এমন সবকিছুকে শিক্ষার্থী সম্মান করবে।
মানুষের ওপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অন্যতম নেয়ামত হলো, তিনি তার শরীরে এমন কিছু অঙ্গ দিয়েছেন যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর বস্তুসমূহ বের করে দেয়, যেমন: পেশাব ও পায়খানা। আর তিনি দুটি পদ্ধতির যেকোনো একটির মাধ্যমে এগুলো দূর করা এবং এগুলো বের হওয়ার রাস্তা পরিষ্কার করা তার ওপর অপরিহার্য করেছেন, তা হলো:
- ইস্তেনজা: আর তা হলো নাপাকি যেন দূর হয়ে যায়, এ জন্য পবিত্র পানি দ্বারা পেশাব ও পায়খানার রাস্তা ধুয়ে ফেলা।
- ইস্তিজমার-ঢিলা ব্যবহার বলতে বুঝায়: নাপাকি দূরীভূত হওয়া পর্যন্ত পাথর অথবা টিস্যু দ্বারা প্রস্রাব ও পায়খানার রাস্তা মুছা।
যেসমস্ত বস্তু দিয়ে ঢিলা ব্যবহার করা জায়েয, তা হলো:
প্রত্যেক পরিচ্ছন্নকারী, পবিত্র ও বৈধ বস্তু; যেমন: পাথর, টিস্যু ও কাগজ।
যেসব বস্তু দ্বারা ইস্তিজমার-ঢিলা ব্যবহার করা নিষিদ্ধ, সেগুলো হলো:
১- এমন কাগজ যাতে আল্লাহর যিকির রয়েছে।
২- হাড়।
(৩) খাবার।
৪- বিষ্ঠা (উট, ছাগল, গরু ইত্যাদি প্রাণীর মল)।
ঢিলা ব্যবহার শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ:
১- যাদ্বারা ইস্তিজমার করা হবে সেটা পরিচ্ছন্নকারী, পবিত্র ও অনুমোদিত বস্তু হতে হবে।
২- পেশাব-পায়খানার স্থান তিনবার মুছে পরিচ্ছন্ন করতে হবে, আর যদি অপবিত্রতা দূরীভূত না হয় তবে এর চেয়ে বেশিবার মুছতে হবে।
৩- পেশাব বা পায়খানা তার নির্গমস্থলের বাইরে ছড়িয়ে যাবে না।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিচের বাক্যগুলি পূরণ করো:
ক- ইস্তিনজা: তা হলো .............................................................................................
খ- ঢিলা ব্যবহার: তা হলো .....................................................................................................
প্রশ্ন ২: যেসব বস্তু দ্বারা ইস্তিজমার করা জায়েয নয়, সেগুলোর পাশে (×) চিহ্ন দাও:
( ) হাড় - ( ) পাথর - ( ) খাদ্য - ( ) টিস্যু - ( ) গোবর
প্রশ্ন ৩: ইস্তিজমারের শর্তসমূহ উল্লেখ কর:
১-....................................২- .................................... ৩- .............................
প্রশ্ন ৪: এক যুবক তার পরিবারের সাথে ভ্রমণে গিয়েছিল এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের পর সে দৈনিক পত্রিকার পাতা দিয়ে ঢিলা-কুলুখ করল। যুবকের এই কাজটি কি সঠিক নাকি ভুল? এবং কেন?
................................................................................................................................
প্রশ্ন ৫: যেসব বস্তু দ্বারা ঢিলা-কুলুখ করা মুবাহ তা বর্ণনা কর।
প্রশ্ন ৬: নিম্নে (/) এবং (×) চিহ্ন দাও:
- আমি টিস্যু দ্বারা পেশাবের স্থান মাত্র দুইবার মুছি ( )
- ঢিলা-কুলুকের জন্য হাড় ব্যবহার করা জায়িয। ( )
প্রশ্ন ৭: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
- আমি টয়লেটে প্রবেশের সময় বলব .........................................................
- বাথরুম থেকে বের হওয়ার সময় আমি বলব .....................................................
- আমি ইস্তেনজা করা ও ঢিলা ব্যবহারে আমার ............................... হাত ব্যবহার করি।
প্রশ্ন ০৮: তুমি বাথরুমে প্রবেশ করলে এবং প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটানোর পর দেখতে পেলে যে বাথরুমে পানি নেই; তাহলে তুমি কী করবে?
.......................................................................................................................
তৃতীয় পাঠ [৫]
[৫] শিক্ষকের জন্য: - প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণের সময় তাড়াহুড়া না করা এবং নাপাকি ছড়িয়ে পড়া থেকে সতর্ক থাকার ব্যাপারে তাগিদ প্রদান করা। - শিক্ষার্থীদের অন্তরে আল্লাহ তা‘আলার মসজিদগুলো , যেসব স্থানে সালাত আদায় করা হয় এবং যেসব বিছানায় সালাত আদায় করা হয় তার প্রতি সম্মানবোধ জাগ্রত করা। - ইসলাম ধর্ম যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ধর্ম, তা বর্ণনা করা।
নাপাকী দূর করা [৬]
তিনটি জিনিস থেকে পেশাব, পায়খানা ও অন্যান্য নাজাসাত (অপবিত্রতা) দূর করা ওয়াজিব, তা হলো: [৬] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র সেসব জিনিস উল্লেখ করবে যেখান থেকে নাপাকি দূর করা হয়। - ছাত্র তার শরীর, পোশাক ও সালাতের স্থানের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবে।
১- শরীর।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: আর আল্লাহ (প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নাপাক এবং গুনাহ থেকে) পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে পছন্দ করেন। [আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০৮]
২- পোশাক:
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: আর তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র করো। [আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ৪]
৩- যে স্থানে সালাত আদায় করা হয়:
দলীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ‘‘নিশ্চয় এ মসজিদসমূহ পেশাব ও নোংরা-আবর্জনার উপযুক্ত স্থান নয়।’’[7]। [৭] সহীহ মুসলিম, হাদীস নং (২৮৫)।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: তিনটি জিনিস থেকে নাজাসাত (অপবিত্রতা) দূর করা হয়, সেগুলো কী কী?
১-.................................... ২-................................ ৩- ....................................
প্রশ্ন ২: তোমার কাপড়ে যখন নাপাকী পতিত হবে, তখন তুমি কী করবে?
..............................................................................................................................
প্রশ্ন ৩: কলাম (ক) এর বাক্যাংশগুলির সাথে কলাম (খ) এর উপযুক্ত বাক্যাংশ মিলাও:
কলাম (ক)
কলাম (খ)
স্থান
আল্লাহ তাআলার বাণী: “আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন।”
শরীর
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘নিশ্চয় এ মসজিদসমূহ পেশাব ও নোংরা-আবর্জনার উপযুক্ত স্থান নয়।’’
পোশাক-পরিচ্ছদ
কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আর আপনার পরিচ্ছদ পবিত্ৰ করুন।”
প্রশ্ন ৪: অপবিত্র স্থানে সালাতের হুকুম কী? ........................................................
প্রশ্ন ৫: সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করুন:
- আমার কাপড় থেকে নাপাকী দূর করতে আমি ব্যবহার করি:
( ) মাটি। ( ) পানি। ( ) পাথর।
চতুর্থ পাঠ[৮]
[৮] শিক্ষকের জন্য: - এ বিষয়টির বর্ণনা যে, ওযু ও সালাতের সময় মুখে নিয়ত উচ্চারণ করা বিদ‘আত, যা বর্জন করা আবশ্যক। যেমন কারও এ কথা বলা: (আমি ফজরের সালাতের জন্য ওযু করার নিয়ত করছি), অথবা (আমি ফজরের সালাত আদায় করার নিয়ত করছি)। - পবিত্র পানির প্রকারসমূহের উদাহরণ দেওয়া; যেমন: সাগর, ঝর্ণা ও নদী। - এ বিষয়ে সতর্ক করা যে, ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা প্রদানকারী বস্তু; যেমন- কাদা, খামির (আটা), মোম বা এ জাতীয় অন্য কিছু দূর করা ওয়াজিব। তবে মেহেদী ও এ জাতীয় বস্তু ছাড়া যার এমন কোনো স্তর বা আবরণ নেই যা ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় । - এ বিষয়টির বর্ণনা যে, শর্ত ইবাদাত আদায়ের পূর্বে হয়ে থাকে। - ওযুর ফযীলত বর্ণনা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে, ওযুর প্রভাবে তাদের মুখমণ্ডল ও হাত-পা দীপ্তিময় থাকবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার দীপ্তিকে দীর্ঘ করতে সক্ষম সে যেন তা করে।” এটি বুখারী ১৩৬ নং হাদীসে বর্ণনা করেছেন। (غُرًّا): 'গুররাহ'-এর মূল অর্থ হলো ঘোড়ার কপালের শুভ্র দাগ। অতঃপর তা সৌন্দর্য, খ্যাতি ও সুখ্যাতির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হতে থাকে। আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের চেহারায় বিদ্যমান নূর বা জ্যোতি। (مُـحَجَّلِين): 'তাহজীল' হলো ঘোড়ার চার পায়ের মধ্যে তিন পায়ের শুভ্রতা। আর এখানে এর দ্বারাও উদ্দেশ্য হলো: নূর বা জ্যোতি। - বিদ‘আতের অর্থ বর্ণনা। আর তা হলো: মানুষের উদ্ভাবিত এমন প্রত্যেক ইবাদাত, যার কোনো ভিত্তি কিতাব (কুরআন), সুন্নত এবং খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলের মধ্যে নেই।
অযুর শর্তসমূহ [৯]
[৯] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র অযু সহীহ হওয়ার শর্তসমূহ উল্লেখ করতে পারবে। - ছাত্র নিয়তের স্থান চিহ্নিত করতে পারবে। - ছাত্র অযুর পানির শর্ত বর্ণনা করতে পারবে। - ছাত্র এমন সবকিছু পরিহার করবে, যা ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়।
নিম্নলিখিত শর্তসমূহ ছাড়া অযু শুদ্ধ হবে না:
১- নিয়ত: তার স্থান হলো অন্তর, মুখে উচ্চারণ করা বিদ‘আত। এর দলীল হচ্ছে নবী ﷺ-এর বাণী: “নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।”
২- পানি পবিত্র ও অনুমোদিত হতে হবে।
৩- চামড়াতে পানি প্রবেশে বাধা দেয় এমন জিনিস দূর করা। যেমন, নখ পালিশ, আঠা, আটা ইত্যাদি।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিচের বাক্যগুলি পূরণ করো:
ক- অযুর অন্যতম শর্ত হলো নিয়ত, আর এর স্থান ..................................................
খ- যে পানি দিয়ে আমরা ওযূ করি তা .............................. ও ......................... হতে হবে।
উত্তর: চামড়াতে পানি প্রবেশে বাধা দেয় এমন জিনিসগুলোর মধ্যে .............................. এবং .........................
প্রশ্ন ২: কবি বলেছেন:
হে বৎস! পবিত্র পানি দ্বারা ওযূ করো ***** কেননা অযুর পানি তোমার চেহারার জন্য নূর।
পূর্বোক্ত পঙ্ক্তিটি পড় এবং নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
ক- কবিতার পংক্তিতে উল্লেখিত ওযূ শুদ্ধ হওয়ার একটি শর্ত হলো .....................................
খ- মুখমন্ডলের উপর ওযূর প্রভাব কী?
প্রশ্ন ৩: উত্তরের জন্য উপযুক্ত শব্দটি (পরে, পূর্বে) বাছাই কর:
শর্ত ইবাদত আদায়ের ........................... হয়ে থাকে।
প্রশ্ন ৪: নিম্নে (/) এবং (×) চিহ্ন দাও:
- আটা চামড়াতে পানি প্রবেশে বাধা দেয় ( )।
- মোম চামড়াতে পানি প্রবেশে বাধা দেয় না ( )।
প্রশ্ন ৫: উপযুক্ত উত্তরটি বেছে নাও:
ক- ওযূর পানির শর্তসমূহের মধ্যে রয়েছে তা হতে হবে:
( ) পবিত্র। ( ) পরিস্কার। ( ) মিষ্ট পানি।
খ- ওযূর শর্তসমূহের অন্তর্ভুক্ত:
( ) ওয়াক্ত হওয়া। ( ) কিবলামুখী হওয়া। ( ) নিয়ত করা।
পঞ্চম পাঠ [১০]
[১০] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - এটি বর্ণনা করা যে, ওযূর অঙ্গসমূহ একবার ধৌত করা আবশ্যক, আর এর অতিরিক্ত যা করা হয় তা সুন্নাত। - এটি বর্ণনা করা যে, আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। - পানির অপচয় না করার বিষয়ে ছাত্রদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা; কারণ এটি এমন একটি নিয়ামত যা সংরক্ষণ করা আবশ্যক। - তিনি স্পষ্ট করবেন যে, অঙ্গসমূহ তিনবার ধৌত করা এবং দুই কানসহ মাথা একবার মাসেহ করা সুন্নাত। - মাদমাদাহ, ইস্তিনশাক ও ইস্তিনসার-এর অর্থ ব্যাখ্যা করা। (মাদমাদাহ): এটি হলো মুখের ভেতর পানি নাড়াচাড়া করা। (ইস্তিনশাক): এটি হলো নাকের ভেতর পানি প্রবেশ করানো এবং শ্বাসের সাহায্যে তা টেনে নেওয়া, যাতে নাকের ভেতরের ময়লা দূর হয়। (ইস্তিনসার): এটি হলো ইস্তিনশাকের পর শ্বাসের সাহায্যে নাক থেকে পানি বের করে দেওয়া। - 'মুওয়ালাত'-এর বর্ণনা করা: আর তা হলো, দীর্ঘ বিরতি ছাড়াই অবচ্ছিন্ন সময়ে ওযূর সকল কাজ সম্পন্ন করা। - ছাত্রদের সামনে ওযূর ব্যবহারিক প্রয়োগ করে দেখানো, যেন তারা শিক্ষককে দেখতে পারে। - সকল ছাত্রকে ওযূ প্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া, যেন তিনি তা তাদের নিখুঁতভাবে শেখার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন; এবং ছাত্রদেরকে ওযূ ও সালাতের পদ্ধতি শিক্ষা দেওয়ার ফলে অর্জিত মহা পুরস্কারের সুসংবাদ গ্রহণ করা, কেননা যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান শিক্ষা দেয়, তার জন্য সে অনুযায়ী আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে। - এটি ব্যাখ্যা করা যে, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলবশত ওযূর ফরযগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি ফরয ছেড়ে দেয়, তার ওযূ শুদ্ধ হবে না। তবে কেউ যদি ভুলে তাসমিয়া (বিসমিল্লাহ পাঠ) ছেড়ে দেয়, তাহলে তার ওযূ শুদ্ধ হয়ে যাবে।
ওযূর ফরযসমূহ [১১]
[১১] পাঠের উদ্দেশ্য: - শিক্ষার্থী ওযূর সঠিক পদ্ধতি প্রয়োগ করবে। - শিক্ষার্থী ওযূর ওয়াজিব উল্লেখ করবে।
ওযূর রয়েছে মহান ফযীলত, এর মাধ্যমে আল্লাহ গুনাহ মোচন করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। সুতরাং আমাদের কর্তব্য হলো ওযূ শেখা এবং এর ফরযসমূহ সেভাবেই আদায় করা, যেভাবে তা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে।
আর ওযূর ফরয ছয়টি, যথা:
১- মুখমন্ডল ধৌত করা, এর অন্তর্ভুক্ত হল, কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া।
২- উভয় হাত কনুইসহ ধৌত করা।
৩- মাথা মাসেহ করা, এর অন্তর্ভুক্ত হল উভয় কান।
৪- টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করা।
৫- এই ফরযগুলোর মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
৬- ওযূর অঙ্গগুলোর মাঝে অবিচ্ছিন্নতা বজায় রাখা।
* যে ব্যক্তি এই ফরযগুলোর কোন একটি ফরয ত্যাগ করে, তার ওযূ শুদ্ধ হবে না।
ওযূর ওয়াজিব: ‘বিসমিল্লাহ’ বলা।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিচের বাক্যগুলোকে পূরণ করো:
১- ওযূর ফযীলত রয়েছে, এর মাধ্যমে আল্লাহ ............................ মুছে দেন, এবং ............................. বৃদ্ধি করেন।
২- ওযূর ফরযসমূহের মধ্যে কোন একটি ফরয ছেড়ে দিলে তার বিধান ................................
৩- ওযূর ওয়াজিব একটি, তা হলো: ..................................
প্রশ্ন ২: ওযূর পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিটি বাক্যের নিচে উপযুক্ত নাম্বার বসাও:
( ) মাথা মাসেহ করা আর দুই কান এর অন্তর্ভুক্ত। ( ) মুখমন্ডল ধৌত করা, এর অন্তর্ভুক্ত হল, কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া।
( ) দুই হাত কনুইসহ ধোয়া। ( ) দুই পা টাখনুসহ ধোয়া।
প্রশ্ন ৩: উপযুক্ত উত্তরটি মিল কর:
ওযূর শর্তসমূহ। ওযূ করার মাঝে হয়ে থাকে ।
ওযূর ফরযসমূহ। তা ওযূ শুরু করার পূর্বে।
প্রশ্ন ৪: সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) দাও:
যায়েদ ভুলে ওযূতে তার মাথা মাসেহ করা ছেড়ে দিল এবং সালাত আদায় করল, অতএব তার জন্য আবশ্যক:
( ) পুনরায় ওযূ করবে। ( ) পুনরায় ওযূ করবে ও সালাত আদায় করবে। ( ) সালাত পুনরায় আদায় করবে।
* সর্বদা পানি অপচয় না করার বিষয়টি স্মরণ রাখা।
ষষ্ঠ পাঠ [১২]
[১২] শিক্ষকের জন্য: - তায়াম্মুম শরীয়তসম্মত করার ক্ষেত্রে শরীয়তের সহজতা বর্ণনা করা। - পানি না পাওয়া অথবা তা ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কার বিষয়ে উদাহরণ পেশ করা। - বাস্তবে তায়াম্মুমের পদ্ধতি বর্ণনা করা এবং তা নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্যে সকল শিক্ষার্থীকে তা প্রয়োগ করার দায়িত্ব দেওয়া।
তায়াম্মুম
তায়াম্মুমের পদ্ধতি:
১- অন্তরে নিয়ত করা।
২- (বিসমিল্লাহ) বলা।
৩- সে তার দুই হাতের আঙুলগুলো ফাঁকা রেখে মাটিতে একবার মারবে।
৪- দুই হাতের তালু দিয়ে মুখমণ্ডল মাসেহ করা।
৫- ডান হাতের পিঠ বাম হাতের তালু দ্বারা মাসেহ করবে এবং বাম হাতের পিঠ ডান হাতের তালু দ্বারা মাসেহ করবে।
* যেসব অবস্থায় তায়াম্মুম পানির বিকল্প হয়:
১- যদি পানি না পায়। ২- যদি পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা করে।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: তবে যদি পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটিতে তায়াম্মুম করো। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৩]
তায়াম্মুম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ:
১- অযু ভঙ্গের কারণসমূহ দ্বারা তায়াম্মুম বাতিল হয়।
২- পানি পাওয়া যাওয়া, এমনকি সালাতের মধ্যে হলেও।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: সঠিক নাম্বার বসিয়ে তায়াম্মুমের কার্যাবলী ক্রমাণুসারে সাজাও:
( ) বিসমিল্লাহ বলা।
( ) উভয় হাতের অভ্যন্তরীন অংশ দ্বারা তার হাতের পান্জার উপরিভাগ মাসাহ করবে।
( ) দুই হাতের তালু দ্বারা মুখমণ্ডল মাসাহ করবে।
( ) অন্তরে নিয়ত করা।
( ) দুই হাত মাটিতে একবার মারবে।
প্রশ্ন ২: নিচের শব্দগুলো থেকে উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
(ভঙ্গের কারণসমূহ, তায়াম্মুম, অভাব, মাসেহ)।
- পানি ........................... তায়াম্মুমের বিধান রয়েছে।
- যদি কোন মুসলিম পানি ব্যবহারে ক্ষতির আশঙ্কা করে, তবে তার জন্য জায়েয ...........................
- ওযূ ........................... দ্বারা তায়াম্মুম বাতিল হয়।
প্রশ্ন ৩: এক ব্যক্তি মক্কা মুকাররমা থেকে মদীনা নাবাবিয়্যাহ-এর উদ্দেশ্যে সফর করল। পথিমধ্যে তার ফজরের সালাতের সময় উপস্থিত হলো এবং সে ওযূর জন্য পানি পেল না, আর সে সালাতের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করল; সুতরাং এরূপ অবস্থায় সে কী করবে?
প্রশ্ন ৪: উপযুক্ত উত্তরটি বেছে নাও:
ক- তায়াম্মুম বাতিল করে দেয়: ( ) খাওয়া। ( ) পান করা। ( ) ঘুম।
খ- তায়াম্মুম করা জায়েয: ( ) পানি না থাকলে। ( ) তীব্র গরমে। ( ) প্রবল বৃষ্টিতে।
সপ্তম পাঠ [১৩]
[১৩] শিক্ষকের জন্য: - ছাত্রকে যথাসময়ে সালাত আদায় করতে উৎসাহিত করা এবং এর ফযীলত ও তা বিলম্বে আদায় করার শাস্তি বর্ণনা করা। - সালাত বিলম্বিত করার ব্যাপারে সতর্ক করা এবং এটি যে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য তা তুলে ধরা, আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿নিশ্চয় মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে প্রতারণা করে, আর তিনিও তাদের সাথে কৌশল করেন। আর যখন তারা সালাতে দাঁড়ায় তখন অলসভাবে দাঁড়ায়, তারা মানুষকে দেখায় এবং তারা আল্লাহকে কমই স্মরণ করে।১৪২﴾ [আন-নিসা, আয়াত: ১৪২]। - যাওয়াল, প্রত্যেক বস্তুর ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া এবং লাল শাফাক-এর অর্থ বর্ণনা করা।
সালাতের ওয়াক্তসমূহ [১৪]
[১৪] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র ফরয সালাতসমূহের ওয়াক্তগুলো উল্লেখ করবে। - নির্ধারিত ওয়াক্তসমূহে সালাত আদায় করবে। - সালাতের ওয়াক্ত থেকে বিলম্বিত করার ব্যাপারে ছাত্র সতর্ক হবে।
সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার আগে সালাত আদায় করা বৈধ নয়; কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়িম করা মু’মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য। [আন-নিসা, আয়াত: ১০৩]
পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়সূচী:
সালাত
এর ওয়াক্ত
ফজরের ওয়াক্ত
দ্বিতীয় ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
যোহর
সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়া থেকে প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত।
আসর
যোহরের সময় শেষ হওয়া থেকে প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার দ্বিগুণ পরিমাণ হওয়া পর্যন্ত।
মাগরিব
সূর্যাস্ত থেকে আকাশের লাল আভা অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত।
এশা
লাল আভা অদৃশ্য হওয়া থেকে শুরু করে মাঝরাত পর্যন্ত।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: কলাম (ক) এর বাক্যগুলোর সাথে কলাম (খ) এর উপযুক্ত বাক্য মিলাও:
কলাম (ক)
কলাম (খ)
ফজরের ওয়াক্ত
লাল আভা অদৃশ্য হওয়া থেকে শুরু করে মাঝরাত পর্যন্ত।
যোহর
সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়া থেকে প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত।
আসর
দ্বিতীয় ফজর উদয় হওয়া থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
মাগরিব
যোহরের সময় শেষ হওয়া থেকে শুরু করে প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।
এশা
প্রশ্ন ২: ওয়াক্ত হওয়ার আগে সালাতের বিধান কী?
অষ্টম পাঠ [১৫]
[১৫] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - ছাত্রকে যথাসময়ে সালাত আদায়ে উৎসাহিত করা। - সালাত এবং অন্যান্য সময়ে নারীর শরয়ি পোশাকের ওপর জোর দেওয়া। - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করে সে কাফের। সুতরাং সে মারা গেলে তাকে গোসল দেওয়া হবে না, কাফন পরানো হবে না, তার জানাযার সালাত আদায় করা হবে না, তার জন্য রহমতের দোয়া করা হবে না এবং মুসলমানদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে না। জীবদ্দশায় তার জন্য মক্কা মুকাররমায় প্রবেশ করা জায়েয নয়, আমাদের জন্য তার জবাইকৃত প্রাণী খাওয়া জায়েয নয় এবং পরকালে সে চিরকাল জাহান্নামের আগুনে থাকবে।
সালাতের শর্তসমূহ [১৬]
[১৬] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী সালাতের শর্তসমূহ উল্লেখ করতে পারবে। - শিক্ষার্থী পুরুষ ও নারীর সতর নির্ধারণ করতে পারবে। - শিক্ষার্থী মুসলিমদের কিবলা নির্ধারণ করতে পারবে।
সালাত ইসলামের দ্বিতীয় রুকন, আর তা আদায়ের পূর্বে এর কিছু শর্ত রয়েছে যা পূরণ করা অপরিহার্য, সেগুলো হলো:
১- মুসলিম হওয়া: কাফেরের পক্ষ হতে সালাত কবুল হবে না, যতক্ষণ না সে ইসলাম গ্রহণ করে।
২- জ্ঞানবান হওয়া: কোন পাগলের উপরে সালাত ওয়াজিব নয়, যতক্ষণ না তার জ্ঞান ফিরে আসে।
৩- ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা: শিশু যখন ভালো-মন্দের পার্থক্য করার বয়সে উপনীত হবে, তখন তাকে সালাতের ব্যাপারে আদেশ করা হবে, আর তা হচ্ছে সাত বছর।
৪- ওযূ: ওযূ ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হয় না।
৫- সতর ঢাকা: পুরুষের সতর নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত, আর নারীর গোটা শরীরই সতর, শুধুমাত্র সালাতে তার চেহারা ও দুই কব্জি ছাড়া [১৭]। [১৭] পরপুরুষ উপস্থিত না থাকলে।
৬- শরীর, পোশাক ও সালাতের স্থান থেকে নাপাকি দূর করা।
৭- ওয়াক্ত হওয়া: প্রত্যেক সালাতের একটি নির্দিষ্ট ওয়াক্ত রয়েছে, এর আগে সালাত আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে না।
৮- কিবলামুখী হওয়া: আর তা হলো মক্কা মুকাররমার মসজিদুল হারামে অবস্থিত কাবা শরীফ।
৯- নিয়ত: তার স্থান হল অন্তর, মুখে উচ্চারণ করা বিদআত।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিচের শব্দগুলোর বিপরীত শব্দ লিখো:
শব্দ
তার বিপরীত
নাপাকী ...............................
বিবেকসম্পন্ন ...............................
কাফির ...............................
প্রশ্ন ২: উপযুক্ত শব্দ দ্বারা নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
ক- কাফিরের সালাত কবুল হয় না, যতক্ষণ না ...........................
খ- ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতার বয়স হলো: ........................................................
উত্তর: সালাত আদায়ের পূর্বে ........................... ও ........................... ও ........................... থেকে নাপাকি দূর করা শর্ত।
ঘ- সালাতে পুরুষের সতর ........................... পর্যন্ত , আর ........................... ব্যতীত নারীর সমস্ত শরীর সতর।
প্রশ্ন ৩: সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করুন:
ক- ভালো-মন্দ তফাৎ করার বয়স হলো: ( ) ৯ বছর। ( ) ৬ বছর। ( ) ৭ বছর।
নবম পাঠ [১৮]
[১৮] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - ছাত্রদের কাছে ‘ধীরস্থিরতা’-এর অর্থ ও এর আবশ্যকতা বর্ণনা করবেন, যেমনটি ত্রুটিপূর্ণভাবে সালাত আদায়কারী ব্যক্তির হাদিসে এসেছে। - সহজ ভাষায় ‘সিজদায়ে সাহু’-এর উদ্দেশ্য বর্ণনা করবেন। - ‘সাতটি অঙ্গ’ বলতে কী বোঝায় তা বর্ণনা করবেন এবং সেগুলোর উপর সিজদাহর ব্যবহারিক প্রয়োগ করে দেখাবেন। - রুকু ও সিজদাহ সঠিকভাবে আদায় করার পদ্ধতি স্পষ্ট করবেন। - ছাত্রদের কাছে সালাতের শর্তসমূহ ও সালাতের রুকুনসমূহের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট করবেন।
সালাতের রুকনসমূহ [১৯]
[১৯] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী সালাতের সঠিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারবে।- সালাতে যে সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদা করা হয়, শিক্ষার্থী তা চিহ্নিত করতে পারবে। - শিক্ষার্থী শুদ্ধভাবে সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করতে পারবে। - শিক্ষার্থী সালাতের কোনো একটি রুকন বর্জনকারীর বিধান বর্ণনা করতে পারবে। - শিক্ষার্থী সালাতের রুকনসমূহ চিহ্নিত করতে পারবে।
সালাত চৌদ্দটি রুকনের উপর প্রতিষ্ঠিত, যা একাগ্রতার সাথে পরিপূর্ণভাবে আদায় করা আবশ্যক, আর সেগুলো হলো:
১- সামর্থ থাকলে দাঁড়িয়ে ফরয সালাত আদায় করা।
২- তাকবীরে তাহরীমা।(আল্লাহু আকবার বলে সালাত শুরু করা)
৩- সূরা ফাতিহা পাঠ করা।
৪- রুকু করা।
৫- রুকু থেকে উঠা।
৬- সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করা।
৭। সিজদা থেকে উঠা।
৮- দুই সিজদার মাঝে বসা।
৯- শেষ তাশাহহুদের (আত্তাহিয়্যাতুর ) জন্য বৈঠকে বসা।
১০- শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু ) পাঠ করা।
১১- শেষ বৈঠকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করা।
১২- সালাম ফিরানো।
১৩- প্রতিটি রুকন ধীরস্থিরতার সাথে আদায় করা।
১৪- প্রতিটি রুকনে ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা।
যে এ রুকনসমূহের কোনো একটি ছেড়ে দিল তার সালাতের বিধান:
ক- যদি কোন মুসল্লী ইচ্ছাকৃতভাবে সালাতের কোন একটি রোকন ছেড়ে দেয়, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে।
খ- যদি মুসল্লী ভুলবশত সালাতের রুকনগুলোর কোন একটি ছেড়ে দেয়, তাহলে সে রুকনটি আদায় করবে ও পরবর্তী কাজ সম্পন্ন করবে এবং সাহু সেজদা দিবে।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: সালাতের রুকনসমূহের সংখ্যা কত?
প্রশ্ন ২: শূন্যস্থানে উপযুক্ত নাম্বার বসিয়ে সংখ্যাগুলো ক্রমানুসারে সাজাও:
- শেষ তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু) পাঠ করা ( )
- তাকবীরে তাহরীমা ( )
- সূরা ফাতিহা পড়া ( )
- রুকু থেকে উঠা ( )
- সামর্থ থাকলে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা( )
প্রশ্ন ৩: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা অনুগত ও ভয়ভীত হয়ে দাঁড়াও। [আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৩৮]
এ আয়াতে কারীমায় সালাতের একটি রুকন উল্লেখিত হয়েছে, তা উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ৪: ছাত্রটি সালাত আদায় করল এবং দ্বিতীয় রাকাতে রুকু করা ভুলে গেল, তার কী করা ওয়াজিব?
প্রশ্ন ৫: নিচের শব্দগুলো থেকে উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
(পরে - পূর্বে - মাঝে)
- শর্ত সালাতের ........................... হয়।
- রুকন সালাতের ........................... হয়।
প্রশ্ন ৬: সঠিক উত্তর নির্বাচন করুন:
- সালাতের রুকনসমূহের মধ্যে রয়েছে:
( ) ওয়াক্ত হওয়া। ( ) কিবলামুখী হওয়া। ( ) সূরা ফাতিহা পড়া।
দশম পাঠ[২০]
[২০] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - রুকন ও ওয়াজিবের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করা। - ইমাম ও মুনফারিদ দ্বারা উদ্দিষ্ট অর্থ বর্ণনা করা।
সালাতের ওয়াজিবসমূহ [২১]
[২১] পাঠের উদ্দেশ্য: - শিক্ষার্থী সালাতের ওয়াজিবসমূহ উল্লেখ করতে পারবে। - শিক্ষার্থী রুকন ও ওয়াজিবসমূহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করে সালাত আদায়ের সঠিক পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারবে। - শিক্ষার্থী সালাতের কোনো একটি ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তির সালাতের বিধান বর্ণনা করতে পারবে।
সালাতের ওয়াজিব আটটি, আর তা হলো:
১-(শুরুতে)তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত সকল তাকবীর।
২- রুকুতে “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম” (سبحان ربي العظيم) বলা।
৩- ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য (سَمِع اللهُ لِمَن حَمِدَه) (সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ) বলা।
৪- ইমাম, মুক্তাদী ও একা সালাত আদায়কারীর জন্য (ربنا ولك الحمد) (রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ) বলা।
৫- সিজদাতে “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা” (سبحان ربي الأعلى) বলা।
৬- দুই সিজদার মাঝখানে “রব্বিগফিরলী” (ربِّ اغْفِرْ لي) বলা।
৭- প্রথম তাশাহুদের(আত্তাহিয়্যাতুর) জন্য বসা।
৮- এতে তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু) পড়া।
যে ব্যক্তি এই ওয়াজিবসমূহের কোনো একটি ত্যাগ করল তার সালাতের বিধান:
ক- যদি কোন মুসল্লী ইচ্ছাকৃতভাবে সালাতের কোন ওয়াজিব ত্যাগ করে, তার সালাত বাতিল হবে।
খ- যদি মুসল্লী ভুলে বা অজ্ঞতাবশত সালাতের কোন ওয়াজিব ছেড়ে দেয়, তবে সে সাহু সেজদা করবে।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: সালাতের ওয়াজিবসমূহ উল্লেখ কর।
.........................................................................................................................................
প্রশ্ন ২: উপযুক্ত শব্দটি বেছে নিয়ে শূন্যস্থানে বসাও:
(রুকন - ওয়াজিব)।
- সূরা ফাতিহা পাঠ করা সালাতের ...........................।
- “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম” (سبحان ربي العظيم) বলা সালাতের ...........................-এর অন্তর্ভুক্ত।
- প্রথম তাশাহহুদ হচ্ছে সালাতের ...........................।
- শেষ তাশাহহুদ সালাতের ...........................।
প্রশ্ন ৩: সঠিক উত্তরের নিচে দাগ দাও:
ক- আমি রুকুতে বলব:
উচ্চারণ: “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ - সুব্হানা রব্বিয়াল আ‘লা - সুব্হানা রব্বিয়াল আযীম।” অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই - মহা পবিত্র আমার সর্বোচ্চ রব - মহা পবিত্র আমার মহান রব।”
খ- দুই সিজদার মাঝখানের বৈঠকে বলব:
"(হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ক্ষমা করুন - যে তাঁর প্রশংসা করে, আল্লাহ তার কথা শোনেন - হে আমাদের প্রতিপালক! আর আপনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা।)"
গ- “রব্বানা- ওয়া লাকাল হামদ” (رَبَّنا ولَك الـحَمْد) বলা:
(ইমাম, মুক্তাদী ও একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য - ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য - শুধু ইমামের জন্য)
প্রশ্ন ৪: যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত প্রথম তাশাহহুদ পাঠ ত্যাগ করে তার সালাতের হুকুম কী?
প্রশ্ন ৫: ছাত্রটি সালাত আদায় করল এবং দুই সিজদার মাঝে (রাব্বিগফির লী) বলতে ভুলে গেল, তাহলে তার সালাতের হুকুম কী?
Related books
All books
المناهج التعليمية - الصف الأول5 ভাষাالمناهجالتعليميةالمناهج التعليمية - الصف الأول
কিতাবটিতে প্রথম শ্রেণির তাওহীদ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা প্রাথমিক স্তরে দ্বীন ইসলামের ভিত্তিসমূহের উপর গুরুত্বারোপ করে। এতে আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে, দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে এবং ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুরূপভাবে সঠিক ভিত্তির আলোকে তাওহীদের বিধান ও ইসলামী আকিদা শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অন্তরে বিশুদ্ধ আকিদা সুদৃঢ় করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, ইলমে ফিকহ, স্তর (চতুর্থ)।7 ভাষাশিরোনাম: পাঠ্যক্রম, ইলমে ফিকহ, স্তর (চতুর্থ)।
সংক্ষিপ্তসার: এই ইলমী বিষয়বস্তুকে সৌদি আরবের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত পাঠ্যক্রমের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। এই বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে 'ইলমে ফিকহ' অধ্যয়ন সংক্রান্ত বিষয়, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। আর চতুর্থ স্তরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা নিম্নরূপ: পবিত্রতা ও এর ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা এবং ওযূর শর্তসমূহ, ফরযসমূহ, সুন্নাতসমূহ ও ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহের বর্ণনা। আযান ও ইকামতের পদ্ধতি বর্ণনা। সালাতের এমন শর্তসমূহ ব্যাখ্যা করা, যা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না। ফরয সালাতের ওয়াক্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহের বর্ণনা।
المناهج التعليمية - الصف الثاني6 ভাষাالمناهجالتعليميةالمناهج التعليمية - الصف الثاني
দ্বিতীয় স্তরে কিতাবটিতে 'তাওহীদ' বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে এমন তিনটি মূলনীতি তুলে ধরা হয়েছে, যা সম্পর্কে একজন মানুষের জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক: আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে জানা, দ্বীন সম্পর্কে জানা এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জানা। এছাড়া এতে দ্বীনের স্তরসমূহ (ইসলাম, ঈমান, ইহসান)-এর ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; সেইসাথে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত ও তাঁর আনুগত্য করার পদ্ধতি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসা ও তাঁর আনুগত্য করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
مشروع منهاج زادك5 ভাষাمشروع منهاج زادك
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাওদাহ, রিয়াদ সৌদি আরব। "আমাকে আমার দীন শিক্ষা দিন" (শিক্ষা ক্রম প্রকল্প) প্রাথম স্তর। প্রকাশ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ইলম ও মনের ভাব ব্যক্ত করার দক্ষতা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার, সকল সম্মানীত সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা সুন্দর ভাবে যথাযথ তাঁদের অনুসরণ করবে সবার ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।