المناهج التعليمية - الصف الأول
কিতাবটিতে প্রথম শ্রেণির তাওহীদ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা প্রাথমিক স্তরে দ্বীন ইসলামের ভিত্তিসমূহের উপর গুরুত্বারোপ করে। এতে আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে, দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে এবং ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুরূপভাবে সঠিক ভিত্তির আলোকে তাওহীদের বিধান ও ইসলামী আকিদা শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অন্তরে বিশুদ্ধ আকিদা সুদৃঢ় করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
This PDF is generated automatically from the book's text; its layout may differ from the printed edition.
শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, কিতাবুত তাওহীদ, স্তর (প্রথম)।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: এই ইলমী পাঠ্যবস্তুটি সৌদি আরবে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত পাঠ্য সিলেবাসের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে বিবেচিত। এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। আর এই পাঠ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত একটি বিশেষ অংশ হলো ইলমুত তাওহীদ অধ্যয়ন, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। প্রথম স্তরে স্থান পাওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহের মধ্যে রয়েছে: ঐসব বিষয় যা প্রত্যেক মানুষের জানা আবশ্যক, আর তন্মধ্যে রয়েছে:
আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনসমূহ, তাঁর সৃষ্টিসমূহ এবং তাঁর ক্ষমতার বিস্ময়কর বিষয়াবলির মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা এবং এ বিশ্বাস রাখা যে, তিনিই হলেন রব, সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা এবং একমাত্র তিনিই ইবাদতের হকদার, অন্য কেউ নয়।
নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে জ্ঞান অর্জন করা।
দ্বীন ইসলামকে দলীলসহ জানা।
প্রাথম স্তর
ভূমিকা
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সম্মানিত উম্মী নবীর ওপর, যাঁকে আল্লাহ প্রেরণ করেছেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার জন্য। অতপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার তাওহীদ সর্বাধিক অত্যাবশ্যকীয় বিষয় এবং এ সম্পর্কিত জ্ঞান হল সর্বাপেক্ষা মহৎ ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। আর এটিই সেই মূল ভিত্তি, যার ওপর আমলসমূহের বিশুদ্ধতা ও গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে। এর প্রতি বান্দার মুখাপেক্ষিতা অন্য সব প্রয়োজনের ঊর্ধ্বে; কারণ হৃদয়ের প্রকৃত জীবন, তার আনন্দ, প্রশান্তি ও পরিতৃপ্তি কেবল তখনই সম্ভব, যখন সে তার রব, মা‘বুদ ও সৃষ্টিকর্তাকে তাঁর সুন্দর নামসমূহ, মহান গুণাবলি এবং কার্যাবলির মাধ্যমে সঠিকভাবে চিনতে ও জানতে সক্ষম হয়। একইভাবে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা এবং পবিত্রতা, সালাত ও অন্যান্য ইবাদতসমূহ আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জানা হলো সৌভাগ্যের লক্ষণ এবং আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার কল্যাণ চান—এর একটি নিদর্শন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর ‘ইলম দান করেন[১]।” এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য দা‘ওয়াহ ও দিকনির্দেশনা কার্যালয় (মাকতাবু তাও‘ইয়াতিল জা-লিয়াত) তাওহীদের বিষয়টি শিক্ষাদানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে, যাতে শিক্ষার্থীদের অন্তরে বিশুদ্ধ আকীদা সুপ্রতিষ্ঠিত করা যায়। পাশাপাশি তাদেরকে ফিকহী বিধানাবলি শিক্ষা দেওয়া হয়, যাতে তারা শরী‘আতসম্মত পদ্ধতিতে ইবাদত-বন্দেগি আদায় করতে পারে এবং নিজেদের দ্বীনের বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সুস্পষ্ট উপলব্ধির আলোকে জীবন পরিচালনা করতে সক্ষম হয়। [১] সহীহ বুখারী (হাদীস নং: ৭)।
আর তাওহীদ পাঠ্যক্রমের এই স্তরে: শিক্ষার্থীরা তিনটি বিষয় জানার মাধ্যমে তাদের দ্বীনের মূলনীতিসমূহ শিখবে:
১- তাদের রবকে জানা। ২- তাদের দ্বীনকে জানা। ৩- তাদের নবীকে জানা।
প্রতিটি পাঠের জন্য বিশেষ উদ্দেশ্যসমূহ স্থির করা হয়েছে, যা বিষয়ের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে সংক্ষিপ্ততা, বাক্যের স্পষ্টতা এবং বিষয়সমূহের ধারাবাহিকতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে, কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নে এগুলোর আলোকে পথনির্দেশ লাভের জন্য প্রতিটি পাঠের জন্য প্রশ্ন এবং শিক্ষকের জন্য দিকনির্দেশনা রাখা হয়েছে।
আর শিক্ষকের প্রতি এই উপদেশমালা:
১- আল্লাহর জন্য ইখলাস আমল কবুল হওয়ার শর্ত, অতএব আপনার আমলকে তাঁর (সুবহানাহু) সন্তুষ্টির জন্য খালেস করুন; তাহলে আপনি আপনার দুনিয়া ও আখিরাতে লাভবান হবেন।
২- আমানত রক্ষা করা নাজাতের উপায়, আর আপনি -হে আমার শিক্ষক ভাই- ইসলামের অন্যতম এক সীমান্তে রয়েছেন এবং মুসলিম সন্তানদের বিবেক-বুদ্ধি ও ফিতরাতের ব্যাপারে আপনি আমানতদার, সুতরাং আপনি আমানত রক্ষা করুন যেন উভয় জগতে সফলতা লাভ করতে পারেন।
৩- নিশ্চয়ই তাওহীদ বিষয়টি শিক্ষা প্রদান করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমলগুলোর একটি। কেননা, তাওহীদের জ্ঞান অর্জন ও সে অনুযায়ী আমল করা ব্যতীত বান্দাদের কোনো কল্যাণ নেই এবং দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতের আযাব থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। সুতরাং শিক্ষার্থীদের অন্তরে সঠিক আকীদা প্রোথিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যান এবং আপনি যেসব সুউচ্চ আদর্শ ও মূল্যবোধের দিকে আহ্বান করেন, নিজে তার সত্যনিষ্ঠ রূপকার ও জীবন্ত দৃষ্টান্ত হোন।
৪- বিভিন্ন পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর নিছক একত্ব ও তাঁর কুদরত সম্পর্কে আলোচনা করা; যেমন আকাশের মধ্যভাগে ঘন মেঘমালার জমাট বাঁধা, বিদ্যুতের ঝলকানি, বজ্রের গর্জন, বৃষ্টিপাত এবং এ ধরনের অন্যান্য ঘটনাবলি, যা একজন মুসলিমের অন্তরে ঈমানের প্রেরণা ও উদ্দীপনাকে জাগ্রত করে।
৫- উদাহরণ উপস্থাপনের মাধ্যমে বিষয়বস্তুকে সহজ ও বোধগম্য করে তোলা এবং পাঠকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টিকে প্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এর ফলে তারা আগ্রহের সঙ্গে তা শিখতে পারে এবং শেখা বিষয় অনুযায়ী আমল করতে পারে। পরিশেষে, আমরা আপনাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর প্রদানকৃত এ সুসংবাদ দিতে চাই: “নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর তার আমল ও নেক আমলসমূহ হতে যা লাভ করে, তার মধ্যে রয়েছে এমন ইলম, যা সে শিক্ষা দিয়েছে এবং প্রচার করেছে”। [২] [২] ইবনু মাজাহ (২৪২) এটি বর্ণনা করেছেন।
তাওহীদের পাঠ্যসূচি:
বিষয় --- পৃষ্ঠা
প্রথম পাঠ: মানুষের জন্য যা জানা ওয়াজিব
দ্বিতীয় পাঠ: আমার রব আল্লাহ
তৃতীয় পাঠ: রবের পরিচয়
চতুর্থ পাঠ: আল্লাহই আল-খালিক (সৃষ্টিকর্তা)
পঞ্চম পাঠ: সৃষ্টির মাঝে আল্লাহর কুদরতের বিস্ময়কর নিদর্শন
ষষ্ঠ পাঠ: আল্লাহই [আর-রাযিক (জীবিকা প্রদানকারী।
সপ্তম পাঠ: আমি আমার রব আল্লাহরই ইবাদাত করি
অষ্টম পাঠ: আমার দ্বীন ইসলাম
নবম পাঠ: আমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
দশম পাঠ: আল-কুরআনুল কারীম
প্রথম পাঠ [৩]
[৩] পাঠের উদ্দেশ্য: - শিক্ষার্থী মানুষের জন্য যা জানা ফরয তা বর্ণনা করবে। - শিক্ষার্থী তার দ্বীন ইসলাম নিয়ে মর্যাদা বোধ করবে।
মানুষের উপর যা জানা আবশ্যক [৪]
[৪] শিক্ষকের জন্য: - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যে কোনো বান্দা সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার বলবে: 'আমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট হলাম', কিয়ামতের দিন তাকে সন্তুষ্ট করা আল্লাহর উপর হক হয়ে যায়।» আহমাদ মুসনাদে বর্ণনা করেছেন (৪/৩৩৭)। - মানুষের ওপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অনুগ্রহের বর্ণনা যে, তিনি তাদেরকে শূন্য থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদেরকে পবিত্র রিযিক দান করেছেন; যাতে তারা এর দ্বারা তাঁরই (সুবহানাহু ওয়া তায়ালা) ইবাদতে সাহায্য লাভ করতে পারে। - বান্দাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ যে, তিনি তাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন—আর তিনি হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করবে সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফল ও সৌভাগ্যবান হবে। - দীন ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের বর্ণনা, যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য পছন্দ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন: (...আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম, আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।) [আল-মায়িদাহ: ৩]।
তোমার রব কে? আমার রব আল্লাহ।
তোমার দ্বীন কী? আমার দ্বীন ইসলাম।
তোমার নবী কে? আমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
* আমি সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার এই নববী যিকিরটি নিয়মিত পাঠ করি: “আল্লাহকে রব, ইসলামকে দ্বীন ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নবী হিসেবে গ্রহণ করে আমি সন্তুষ্ট।”
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
- আমার রব . . . . . . . . . . . . . . .
- আমার দ্বীন . . . . . . . . . . . . . . .
- আমার নবী . . . . . . . . . . . . . . .
দ্বিতীয় পাঠ [৫]
[৫] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার মহত্ত্ব বর্ণনা করবে। - ছাত্র সৃষ্টির ওপর আল্লাহর সুউচ্চ অবস্থানের কথা বর্ণনা করবে। - ছাত্র সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর কতিপয় নিআমতের কথা উল্লেখ করবে।
আমার রব আল্লাহ [৬]
[৬] শিক্ষকের জন্য: - দাসীর সেই হাদীসটির প্রতি ইঙ্গিত করা, যাকে রাসূলুল্লাহ ﷺ জিজ্ঞাসা করেছিলেন: “আল্লাহ কোথায়? সে বলেছিল: আসমানে . . .।” মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (৫৩০৭)। - “ربّاني بِنِعَمِه” (তিনি তাঁর নি‘আমত দিয়ে আমাকে প্রতিপালন করেছেন) বাক্যটির অর্থ স্পষ্ট করা: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: তিনি আমাকে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য নি‘আমত দিয়ে লালন-পালন করেছেন; সুতরাং প্রকাশ্য নি‘আমতসমূহের মধ্যে রয়েছে: নিরাপত্তা, সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের নি‘আমত, আর অপ্রকাশ্য নি‘আমতসমূহের মধ্যে রয়েছে: ঈমান ও হিদায়াতের নি‘আমত। - শিক্ষার্থীদের অন্তরে আল্লাহর মহত্ত্ববোধ প্রোথিত করা।
তোমার রব কে? আমার রব আল্লাহ।
আল্লাহ কোথায়? আল্লাহ আসমানে।
কে তোমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর নি‘আমাত দ্বারা তোমাকে প্রতিপালন করেছেন? আল্লাহ, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর নি‘আমাত দ্বারা আমাকে প্রতিপালন করেছেন।
প্রশ্নসমূহ:
- তোমার রব কে?
- আল্লাহ কোথায়?
- কে সেই স্রষ্টা যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর নিয়ামত দিয়ে লালন-পালন করেছেন?
তৃতীয় পাঠ [৭]
[৭] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র আল্লাহর কিছু নিদর্শন ও তাঁর মাখলুকাতের উল্লেখ করবে। - ছাত্র আল্লাহর নিদর্শন ও তাঁর মাখলুক নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে। - ছাত্র বর্ণনা করবে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদানের জন্য মানুষকে তাদের মৃত্যুর পর জীবিত করবেন।
আর-রাব্ব (প্রতিপালক, মালিক)-সম্পর্কে জানা [৮]
[৮] শিক্ষকের জন্য: - আল্লাহ তা‘আলার কার্যাবলীর অন্যান্য উদাহরণ উল্লেখ করা, যেমন: বৃষ্টি বর্ষণ করা, উদ্ভিদ উৎপন্ন করা, দু‘আ কবুল করা এবং বিপদাপদ দূর করা। - আল্লাহর নিদর্শনাবলী ও তাঁর সৃষ্টিরাজির ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে উৎসাহ প্রদান করা। - ‘নুশূর’-এর অর্থ হল: হিসাব ও প্রতিদানের জন্যে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান। - শিক্ষার্থীদের অন্তরে পুনরুত্থানের ওপর বিশ্বাস বদ্ধমূল করা।
আমি আমার রবকে তাঁর আয়াতসমূহ (নিদর্শনাবলী) ও মাখলূকদের দ্বারা চিনি। আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে: রাত ও দিন, এবং তাঁর মাখলুকের মধ্যে রয়েছে: আসমানসমূহ ও জমিন।
"আল্লাহ, যিনি আমাকে জীবিত করেছেন, তারপর আমার মৃত্যু ঘটাবেন, আর তাঁর কাছেই প্রত্যাবর্তন।"
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: তুমি কীসের মাধ্যমে তোমার রবকে চেনো?
প্রশ্ন ২: কে তোমাকে জীবিত করেছেন, তারপর তোমার মৃত্যু ঘটাবেন?
চতুর্থ পাঠ [৯]
[৯] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র যেন মহান আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টিসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে; যাতে সে তাঁর মহত্ত্ব অনুধাবন করতে পারে। - ছাত্র যেন মানুষের প্রতি মহান আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ বর্ণনা করে যে, তিনি তাদেরকে অস্তিত্বহীনতা থেকে সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহই আল-খালিক (সৃষ্টিকর্তা, সৃষ্টিকারী) [১০]
[১০] শিক্ষকের জন্য: - এ বিষয় স্পষ্ট করা যে, সৃষ্টির বড়ত্ব পবিত্র মহান স্রষ্টার মহত্ত্ব এবং তাঁর ইবাদত পাওয়ার যোগ্যতার প্রমাণ। - পাঠটি শ্রেণিকক্ষের বাইরে আলোচনা করা উত্তম; যাতে শিক্ষার্থীরা আল্লাহর বিশাল মাখলুক; যেমন— আসমান, জমিন ও বৃক্ষলতা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে পারে। - শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টির অন্যান্য উদাহরণ বের করা। - আল্লাহর মাখলুক নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা; যাতে তারা আল্লাহ তা‘আলার মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারে।
আল্লাহ, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন, এবং সকল মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহ্, যিনি আসমানসমূহ ও যমীন সৃষ্টি করেছেন।
আল্লাহই রাত ও দিন এবং সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন।
প্রশ্নসমূহ:
উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
. . . . . . . . . যিনি সৃষ্টিকুল সৃষ্টি করেছেন।
. . . . . . . . . যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন।
. . . . . . . . . যিনি সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টি করেছেন।
চতুর্থ পাঠ [১১]
[১১] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র আল্লাহ তা'আলার কতিপয় মাখলুকের কথা উল্লেখ করবে। - ছাত্র এই কথার দলিল উল্লেখ করবে যে, আল্লাহ সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। - ছাত্র আল্লাহর মাখলুক নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে।
আল্লাহই আল-খালিক (সৃষ্টিকর্তা, সৃষ্টিকারী) [১২]
[১২] শিক্ষকের জন্য: - সৃষ্টিতে আল্লাহর একক অদ্বিতীয় হওয়া , একমাত্র আল্লাহর ইবাদত আবশ্যক হওয়া সাব্যস্ত হয় যিনি সব কিছুর স্রষ্টা । - সাগর-মহাসাগর ও গাছপালার মতো কিছু মাখলুকাতের উপকারিতা উল্লেখ করা।
আল্লাহ্-ই পাহাড়সমূহ, সাগরসমূহ ও গাছপালা সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সব কিছুর তত্ত্বাবধায়ক।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬২]।
সুতরাং আমার উপর একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা আবশ্যক, যিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: আল্লাহ তাআলার তিনটি সৃষ্টির উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ২: আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর স্রষ্টা। এর দলীল কী?
প্রশ্ন ৩: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “তিনিই সূর্যকে করেছেন দীপ্তিমান ও চাঁদকে আলোকময় ...” [সূরা ইউনুস : ৫]
নিম্নোক্ত শূন্যস্থানটি পূরণ কর:
সূর্যের উপকারিতাগুলোর মধ্যে ......................................
আর চাঁদের উপকারিতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো: ......................................
পঞ্চম পাঠ [১৩]
[১৩] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - ছাত্র আল্লাহর সৃষ্টিসমূহের মহত্ত্বের দিকসমূহ বর্ণনা করবে। - ছাত্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহ ও তাঁর সৃষ্টিসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে।
আল্লাহর কুদরতের বিস্ময়ের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর মাখলুকাতের মধ্যে [১৪]
[১৪] শিক্ষকের জন্য: - ছাত্রদের মেধা অনুযায়ী এই মাখলুকগুলোর বিশালতার দিকগুলো বর্ণনা করা। - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, আল্লাহর নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে চিন্তা করা একজন মুসলিমের ঈমান, তার রবের পরিচয় এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান বৃদ্ধি করে। - শিক্ষক ছাত্রদেরকে তাদের চারপাশে থাকা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার মাখলুকগুলো সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করবেন, সেই সাথে মানুষ ও অন্যান্য সৃষ্টির জন্য এই মাখলুকগুলোর উপকারী দিকগুলোও বর্ণনা করবেন।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: “হে আমাদের রব! আপনি এগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি (অর্থহীন কর্ম থেকে) অত্যন্ত পবিত্র। অতএব আপনি আমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।” [আলে ইমরান: ১৯১]।
বড়ই আশ্চর্যের বিষয়! কেমন করে আল্লাহর অবাধ্যতা করা হয়, অথবা কেমন করে অস্বীকারকারী তাঁকে অস্বীকার করে!
আর প্রতিটি বস্তুর মধ্যেই তাঁর নিদর্শন রয়েছে *** যা প্রমাণ বহন করে যে, তিনি এক।
ষষ্ঠ পাঠ [১৫]
[১৫] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী আল্লাহ তা‘আলার কিছু নি‘আমতের কথা উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী তাঁর নি‘আমতের উপর আল্লাহর শোকর আদায় করবে।
আল্লাহই আর-রাযিক (রিযিক দানকারী) [১৬]
[১৬] শিক্ষকের জন্য: - বৃষ্টির উপকারিতাসমূহ উল্লেখ করা। - পানি সংরক্ষণের আবশ্যকতা এবং এতে অপচয় না করার বিষয়ে সতর্ক করা। - এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা যে, অবশিষ্ট খাবার তার নির্ধারিত স্থানে রাখা নি‘আমতের শুকরিয়া আদায়ের অন্তর্ভুক্ত। আর নি‘আমতের শুকরিয়া আদায় তা বৃদ্ধির কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “... যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য তা আরও বাড়িয়ে দেব...” [ইবরাহীম: ৭]। - শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির মহান উপকারিতাসমূহ সম্পর্কে ছাত্রদেরকে অবগত করা। - ছাত্রদেরকে এ বিষয়ে সচেতন করা যে, আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে খাবার, পানীয় এবং শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তির ন্যায় যেসব মহান নি‘আমত দান করেছেন; তা এ জন্য যে, আমরা যেন এগুলোর মাধ্যমে তাঁর (সুবহানাহু) আনুগত্যের কাজে শক্তি অর্জন করতে পারি।
- আল্লাহই আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেন।
- আল্লাহই, যিনি আমাদেরকে খাবার ও পানীয় রিযিক দান করেন।
- আল্লাহই আমাদেরকে শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি দান করেছেন।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: কে আমাদেরকে খাদ্য ও পানীয় দান করেন?
প্রশ্ন ২: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
আমি দৃষ্টিশক্তির নি‘আমাত থেকে উপকৃত হই:. . . . . . ... . . . . . . . . . . . .
আমি শ্রবণশক্তির নিয়ামত থেকে উপকৃত হই: . . . . . . . . . . . . . . . . . . ..
ষষ্ঠ পাঠ [১৭]
[১৭] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - আল্লাহই যে রিযিকদাতা, শিক্ষার্থী তার দলীল উল্লেখ করবে। - আল্লাহ তাকে যেসব মহান নি‘আমত দান করেছেন, তার জন্য শিক্ষার্থী আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে।
আল্লাহ, যিনি আমাদের সুস্থতা এবং নিরাপত্তা দান করেছেন [১৮]
শিক্ষকের জন্য: - রিযিক প্রদানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার একক হওয়ার বিষয়টি বর্ণনা করা। - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার নিকট সুস্থতা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করতে উৎসাহিত করা। - প্রতিটি নিআমত লাভের সময় 'আলহামদুলিল্লাহ' বলতে উৎসাহিত করা। - আল্লাহর নিআমতের আরও উদাহরণ উল্লেখ করা, কোনো কোনো সালাফ বলেছেন: "নিআমতসমূহের স্মরণ নিআমতদাতা তাবারাকা ওয়া তা‘আলার প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে।"
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “নিশ্চয় আল্লাহ, তিনিই রিযকদাতা, তিনি প্রবল শক্তিধর, পরাক্রমশালী।” [আয-যারিয়াত: ৫৮]
অতএব, আমার উপর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব, যিনি আমাকে সবকিছু দান করেছেন।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: কে আমাদেরকে সব কিছুর রিযিক দান করেছেন?
প্রশ্ন ২: আল্লাহর নি‘আমাতসমূহ হতে দুটি নি‘আমাত উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত শুন্যস্থান পূরণ কর:
- মুসলিম ব্যক্তি প্রত্যেক নি‘আমাত প্রাপ্তিতে তার রবের শুকরিয়া আদায় করে এবং বলে: . . . . . . . . . . . . . . . . .
- আল্লাহ যদি বৃষ্টি বর্ষণ না করেন, তবে যমীনের অবস্থা কী হয়? . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
- যখন আল্লাহ এর উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তখন জমিনের অবস্থা কী হয়? . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .
সপ্তম পাঠ [১৯]
[১৯] পাঠের উদ্দেশ্য: - শিক্ষার্থী একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে অন্য কারো ইবাদত করবে না। - শিক্ষার্থী ইবাদতের কয়েকটি প্রকার উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী এমন পাপাচারে লিপ্ত হওয়া থেকে সতর্ক থাকবে, যা আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়া তা‘আলাকে রাগান্বিত করে। - শিক্ষার্থী দ্বীন ইসলাম নিয়ে মর্যাদা বোধ করবে।
আমি আমার রব আল্লাহর ইবাদাত করি। [২০]
[২০] শিক্ষকের জন্য: - এ কথা বর্ণনা করা যে, আল্লাহই হলেন সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা, জীবনদানকারী ও মৃত্যুদানকারী; সুতরাং তিনি একাই ইবাদতের হকদার। - বিভিন্ন প্রকার ইবাদতের উল্লেখ করা; যেমন- সালাত, সিয়াম, দোয়া, যবেহ ইত্যাদি। - শিক্ষার্থীদেরকে নেক আমল পালনে উৎসাহ প্রদান। - এমন কোনো কথা বা কাজে লিপ্ত হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করা, যা আল্লাহকে রাগান্বিত করে।
- আমি একজন মুসলিম, আমি এক আল্লাহরই ইবাদাত করি এবং তাঁর সাথে অন্য কারো ইবাদাত করি না।
- আমি মুসলিম, আল্লাহকে ভালোবাসি এবং তাঁর আনুগত্য করি।
- আমি মুসলিম, আল্লাহকে ভয় করি এবং তাঁর অবাধ্য হই না।
- আমি মুসলিম, আমি কেবল আল্লাহকেই ডাকি এবং তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকেও ডাকি না।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: আমরা একমাত্র কার ইবাদত করি?
প্রশ্ন ২: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
জান্নাত, সালাত, কুরআন, আল্লাহ।
- মুসলিম একমাত্র . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . -কে ডাকে।
- মুসলিম . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . আদায়ের প্রতি যত্নশীল থাকে।
- মুসলিম বেশি বেশি . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . তিলাওয়াত করবে, যেন সে আল্লাহ সুবহানাহুর সন্তুষ্টি অর্জন এবং . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .-এ প্রবেশ করতে পারে।
অষ্টম পাঠ [২১]
[২১] পাঠের উদ্দেশ্য: - শিক্ষার্থী ইসলামের অর্থ স্পষ্ট করবে। - শিক্ষার্থী শিরক ও তার অনুসারীদের থেকে সতর্ক থাকবে। - শিক্ষার্থী মুসলিমদের ভালোবাসবে।
আমি মুসলিম, আমার দ্বীন ইসলাম [২২]
[২২] শিক্ষকের জন্য: - ইসলামের অর্থ স্পষ্ট করা। - এর বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অন্তরে এই মহান দ্বীনের ভালোবাসা প্রোথিত করা। - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, ইসলামকে আঁকড়ে ধরাই হলো জান্নাত লাভ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তির একমাত্র মাধ্যম। - এ বিষয়টি স্পষ্ট করা যে, মুসলিমদের ভালোবাসা, কাফিরদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা এবং তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন না করা ইসলামেরই অংশ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: “নিশ্চয় ইসলামই আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন।” [আলে ইমরান : ১৯]
ইসলাম হল: তাওহীদের সাথে আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করা, আনুগত্যের মাধ্যমে তাঁর বশ্যতা স্বীকার করা এবং শিরক ও মুশরিক থেকে পবিত্র থাকা।
প্রশ্নসমূহ:
প্রথম কলামের সাথে দ্বিতীয় কলামের উপযুক্ত অংশ মিলাও:
ইসলাম হচ্ছে:
আল্লাহ তা‘আলার নিকট আত্মসমর্পণ করা
শির্ক ও এর অনুসারীদের থেকে
তাঁর বশ্যতা স্বীকার করা
তাওহীদের মাধ্যমে
এবং মুক্ত থাকা
আনুগত্যের মাধ্যমে।
অষ্টম পাঠ [২৩]
[২৩] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ইসলামের ভিত্তিগুলো উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী ইসলাম ধর্ম নিয়ে মর্যাদা বোধ করবে। - শিক্ষার্থী বর্ণনা করবে যে, ইসলাম ছাড়া অন্য যে কোনো ধর্মই বাতিল।
আমার দ্বীন ইসলাম [২৪]
[২৪] শিক্ষকের জন্য: - মু‘আয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসের প্রতি ইঙ্গিত করা, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ইয়ামানের অধিবাসীদের নিকট প্রেরণ করেন এবং তাঁকে নির্দেশ দেন, তিনি যেন তাদেরকে সর্বপ্রথম ‘আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই’ এ কথার সাক্ষ্যদানের প্রতি দাওয়াত দেন। বুখারী, হাদীস নং (৭৩৭২) এবং মুসলিম, হাদীস নং (১৯)। - শাহাদাতাইন (কালেমা দু’টির সাক্ষ্য)-এর মহান মর্যাদার বর্ণনা দেওয়া এবং বান্দা সর্বপ্রথম এ দু'টির মাধ্যমেই যে ইসলামে প্রবেশ করে, তা তুলে ধরা। - বাতিল ধর্মসমূহের উদাহরণ পেশ করা; যেমন- ইহুদী, খ্রিষ্টান, পৌত্তলিকতা ইত্যাদি। - এ কথা বর্ণনা করা যে, যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, তার পরিণতি হলো জাহান্নাম।
ইসলামের ভিত্তি: এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল।
*ইসলাম ছাড়া সকল ধর্মই বাতিল।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আর যে ব্যক্তি (আল্লাহর পছন্দনীয় দ্বীন ) ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করতে চায়, তার কাছ থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না। আর আখিরাতে সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” [আলে-ইমরান: ৮৫]।
সুতরাং আমি মুসলিম, ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দ্বীন আমি গ্রহণ করি না।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: ইসলামের ভিত্তিগুলো কী?
প্রশ্ন ২: নিচের শব্দগুলো থেকে উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো: (ইসলাম, জাহান্নাম)।
- . . . . . . . . . ছাড়া সকল ধর্মই বাতিল, আর যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য অবস্থায় মারা যাবে, সে . . . . -এ প্রবেশ করবে।
প্রশ্ন ৩: ইসলাম ছাড়া আল্লাহ অন্য কোন ধর্মকে গ্রহণ করবেন না। এর দলীল উল্লেখ কর।
যেসব ক্ষেত্রে একজন মুসলিম সাক্ষ্য প্রদান করে, তার পাশে (صح) চিহ্ন দাও:
( ) আযানের সময়, ( ) খাওয়ার সময়, ( ) অযুর শেষে, ( ) হাঁচির পর।
নবম পাঠ [২৫]
[২৫] পাঠের উদ্দেশ্য: - ছাত্র নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশ উল্লেখ করবে। - ছাত্র উল্লেখ করবে যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল মানুষের কাছে পাঠিয়েছেন। - ছাত্র নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণের হিকমত বর্ণনা করবে।
আমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [২৬]
[২৬] শিক্ষকের জন্য: - বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত হলো, তিনি তাদের নিকট নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন। - এ বিষয়টি বর্ণনা করা যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসার অপরিহার্য দাবি হলো, তিনি যা আদেশ করেছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা এবং তাঁর অনুসরণ করা। - আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করার ব্যাপারে সতর্ক করা। - নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম স্মরণ হলে তাঁর উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করতে উৎসাহিত করা। - উপযুক্ত শিক্ষামূলক পদ্ধতিতে হস্তীবর্ষে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের ঘটনা উল্লেখ করা।
আমার নবী মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব।
আল্লাহ তাঁকে সকল মানুষের কাছে প্রেরণ করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে প্রেরণ করেছেন তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদাতের দিকে এবং তাঁকে ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদাত বর্জনের দিকে আহবান করার জন্য।
প্রশ্নাবলি:
আমার নবীর নাম: . . . . . . . . .
আল্লাহ তাঁকে সকল . . . . . . . . . এর কাছে প্রেরণ করেছেন।
আল্লাহ তাঁকে প্রেরণ করেছেন তাদেরকে আহবান করতে: এক . . . . . . . . . -এর দিকে, এবং তাঁকে ব্যতীত অন্য . . . . . . . . . বর্জন করতে।
নবম পাঠ [২৭]
[২৭] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থীর কাছে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করা যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসা তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণের মাধ্যমেই অর্জিত হয়। - শিক্ষার্থীর কাছে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করা যে, যে ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে তাঁর অবাধ্য হবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু আদেশ করেছেন, তার বিরোধিতা করা থেকে শিক্ষার্থী যেন সতর্ক থাকে।
আমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [২৮]
[২৮] শিক্ষকের জন্য: - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা ও তাঁকে ভালোবাসার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং তিনি যা কিছু আদেশ করেছেন তার বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে সতর্ক করা। - এ বিষয়ে ইঙ্গিত করা যে, যে ব্যক্তি রাসূল আলাইহিস সালাত ওয়াস সালামকে ভালোবাসবে সে জান্নাতে তাঁর সাথেই থাকবে, যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে: “ব্যক্তি তার সাথেই থাকবে যাকে সে ভালোবাসে।” বুখারী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং (৬১৬৯)। - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কিছু নৈতিকতার উল্লেখ করা, যেমন- সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও ক্ষমা; তাঁর জীবনের বাস্তব উদাহরণ ও জীবন্ত ঘটনা থেকে প্রমাণ উপস্থাপনসহ, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও তাঁকে অনুকরণ করার আগ্রহ বৃদ্ধি করবে। - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সাহাবীগণ রিদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম-এর ভালোবাসা এবং তাঁর প্রতি তাঁদের আনুগত্যের কিছু দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা।
“যে ব্যক্তি রাসূলের ﷺ আনুগত্য করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করল।”
যে কেউ রাসূল ﷺ-এর অবাধ্য হবে, সে আগুনে প্রবেশ করবে।
সুতরাং: রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসা এবং তাঁর আনুগত্য করা আমার উপর আবশ্যক।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন: নিম্নোক্ত শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
- যে ব্যক্তি রাসূল ﷺ-এর আনুগত্য করবে, সে . . . . . . . . .-এ প্রবেশ করবে, আর যে তাঁর অবাধ্য হবে, সে . . . . . . . . .-এ প্রবেশ করবে।
- সত্যবাদিতা রাসূল ﷺ-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য, . . . . . . . . . . . . . . . , . . . . . . . . .
- আল্লাহর রাসূলের নাম শুনলে তুমি কী বলবে?
দশম পাঠ [২৯]
[২৯] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী বর্ণনা করবে যে, আল-কুরআনুল কারীম আল্লাহ তাআলার বাণী। - শিক্ষার্থী আল-কুরআনুল কারীমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করবে। - শিক্ষার্থী আল-কুরআনুল কারীমে বর্ণিত আদেশসমূহ পালন করবে। - শিক্ষার্থী আল-কুরআনুল কারীমে বর্ণিত নিষেধসমূহ পরিহার করবে।
আল-কুরআনুল কারীম [৩০]
[৩০] শিক্ষকের জন্য: - শিক্ষার্থীদের উপযোগী পদ্ধতিতে হেরা গুহায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর আল-কুরআনুল কারীম নাযিলের ঘটনা বর্ণনা করা। - শিক্ষার্থীদের অন্তরে আল-কুরআনুল কারীমের ভালোবাসা গেঁথে দেওয়া। - আল-কুরআনুল কারীম পড়া এবং তা হিফয করার প্রতি উৎসাহিত করা; কারণ এতে রয়েছে সওয়াব ও প্রতিদান। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে কুরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।" বুখারী বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৫০২৭)। তিনি ﷺ আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য এর বিনিময়ে একটি নেকি রয়েছে, আর একটি নেকি দশটি নেকির সমান। আমি বলি না যে, (আলিফ-লাম-মীম) একটি হরফ, বরং 'আলিফ' একটি হরফ, 'লাম' একটি হরফ এবং 'মীম' একটি হরফ।" তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (২৯১০)। - আল-কুরআনুল কারীমের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন এবং তা শোনার সময় মনোযোগ দিয়ে চুপ থাকার আবশ্যকতার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা, পাশাপাশি প্রমাণস্বরূপ মহান আল্লাহর বাণী পেশ করা: ﴿ وَإِذَا قُرِئَ ٱلۡقُرۡءَانُ فَٱسۡتَمِعُواْ لَهُۥ وَأَنصِتُواْ لَعَلَّكُمۡ تُرۡحَمُونَ﴾ [الأعراف: 204] "আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং নিশ্চুপ থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করা হয়।" [আল-আরাফ: ২০৪]। - কুরআনের কিছু নাম উল্লেখ করা, যেমন: আয-যিকর, আল-ফুরকান এবং আল-কিতাব। - এর আদেশসমূহ পালন ও নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে আল-কুরআনুল কারীমের উপরে আমল করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা।
আল-কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহর বাণী।
আমার উপর কুরআন কে ভালবাসা, তা পাঠ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব।
আমি আয়াতুল কুরসী মুখস্থ করে তা প্রত্যেক সালাতের পরে ও ঘুমানোর আগে পাঠ করব।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ০১: আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে কোন গ্রন্থটি নাযিল করেছেন?
প্রশ্ন ২: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে নিচের শূন্যস্থান পূরণ করো:
- আমি মুসলিম, আমার কিতাব . . . . . . . . . . . . . . . আল-কারীম।
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন . . . . . . . . . . . . . ও অপরকে শিক্ষা দেয়।”
এ কিতাবটিতে প্রথম স্তরের "ফিকহ" বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে পবিত্রতার ফিকহ সম্পর্কিত মৌলিক মাসআলাসমূহ, যেমন: ওজু, সালাত এবং এগুলোর আহকাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সালাত ভঙ্গের কারণসমূহ ব্যাখ্যার পাশাপাশি এতে বাস্তবিকভাবে ওজু ও সালাত আদায়ের পদ্ধতি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এছাড়াও এতে ইসলামে পবিত্রতার গুরুত্ব এবং পবিত্রতা ও সালাতের ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের কর্তব্যসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, ইলমে ফিকহ, স্তর (প্রথম)।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: এই শিক্ষা উপাদানটি মূলত সৌদি আরবের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত পাঠ্যক্রমের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ, যা কয়েকটি শিক্ষাস্তরে বিভক্ত। এই পাঠ্যবস্তুর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। প্রথম স্তরে অন্তর্ভুক্ত বিষয় ও মাসআলাসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:
১- পবিত্রতার অর্থ বর্ণনা করা, সেই সাথে পবিত্র পানির অর্থ স্পষ্ট করা এবং এর উদাহরণ উল্লেখ করা।
২- অযুর পদ্ধতির বর্ণনা।
৩- ইসলামে সালাতের মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা, এর শরীয়তসম্মত পদ্ধতির বিবরণ এবং সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের উল্লেখ।
প্রাথম স্তর।
প্রথম পাঠ [১]
[১] শিক্ষকের জন্য: - পবিত্রকারী পানির অর্থ ব্যাখ্যা করা, সাথে এর উদাহরণ উল্লেখ করা। - পাথর বা টিস্যু দ্বারা পেশাব ও পায়খানার রাস্তা থেকে অপবিত্রতা দূর করার বৈধতা বর্ণনা করা। - অপবিত্রতা দূর করার সময় বাম হাত ব্যবহার করার জন্য ছাত্রদেরকে উৎসাহিত করা। - পবিত্রতা নির্দেশকারী কতিপয় আয়াত প্রমাণস্বরূপ পেশ করা। - বাথরুমে প্রবেশের দু‘আ স্মরণ করিয়ে দেওয়া: «বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল খুবুসি ওয়াল খাবায়িস»। বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, অধ্যায়: অযু, অনুচ্ছেদ: বাথরুমে যাওয়ার সময় যা বলতে হয়, হাদিস নম্বর (১৪২), এবং (বিসমিল্লাহ) বৃদ্ধির জন্য দেখুন: ফাতহুল বারী (১/২৪৪)। - এবং অনুরূপভাবে বাথরুম থেকে বের হওয়ার দু‘আ স্মরণ করিয়ে দেওয়া: «গুফরানাকা»। আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন, অধ্যায়: পবিত্রতা, অনুচ্ছেদ: কোনো ব্যক্তি বাথরুম থেকে বের হলে যা বলবে, হাদিস নম্বর (৩০)।
পবিত্রতা [২]
[২] পাঠের উদ্দেশ্য: – ছাত্র যে পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয় তার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট করবে। - পেশাব পায়খানার পর যা করা আবশ্যক ছাত্র তা বর্ণনা করবে। - সালাতের সময় যেসব জিনিস থেকে নাপাকি দূর করা আবশ্যক ছাত্র তা উল্লেখ করবে।
পবিত্রতা ওয়াজিব, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আমাদেরকে এর নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রসাব-পায়খানার পরে পবিত্র পানি দিয়ে প্রসাব-পায়খানার রাস্তা পরিষ্কার করা আমার জন্য আবশ্যক।
পবিত্রতা অর্জনের অন্তর্ভুক্ত: অযু করা, সুতরাং সালাতের পূর্বে পবিত্র পানি[3] দ্বারা অযু করা আমার উপর ওয়াজিব। [৩] পবিত্র পানি যেমন, নদী-নালা, সমুদ্র ও বৃষ্টির পানি।
পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত হলো: শরীর, কাপড় এবং সালাত আদায়ের স্থান থেকে পানি দ্বারা নাপাকী দূর করা।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
( ) সালাত অতঃপর অযু।
( ) অযু, অতঃপর সালাত।
প্রশ্ন ২: নিচের শূন্যস্থানটি পূরণ কর:
আমি পবিত্র .......................... অযু করি।
প্রশ্ন ৩: নাপাক কাপড় যা দ্বারা পবিত্র হয়, তার নিচে দাগ দাও:
পানি
মাটি।
প্রশ্ন ৪: নিম্নোক্ত বাক্যগুলো লিখো:
- আমি পবিত্র পানি দিয়ে প্রস্রাব ও পায়খানার স্থান পরিষ্কার করি।
- ....................................................
- ....................................................
- আমি সালাতের জন্য পবিত্র পানি দ্বারা অযু করব।
- ....................................................
- ....................................................
- পবিত্র পানি দ্বারা অযু ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হয় না।
- ....................................................
- ....................................................
- আমি অপবিত্র স্থানে সালাত আদায় করি না।
- ....................................................
- ....................................................
- সালাতের সময় আমি কাপড়, শরীর ও সালাতের স্থান থেকে নাপাকি দূর করি।
- ......................................................................................................
- ......................................................................................................
দ্বিতীয় পাঠ[৪]
[৪] শিক্ষকের জন্য: পাঠের ব্যাখ্যার মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে: - ছাত্রদেরকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া। - ছাত্রদের সামনে ব্যবহারিকভাবে অযুর পদ্ধতি প্রয়োগ করা, যাতে তারা শিক্ষককে দেখতে সক্ষম হয়। - অযু করার সময় শিক্ষক কর্তৃক প্রতিটি অঙ্গের সীমানা এবং তা ধোয়ার পদ্ধতি নির্দেশ করা। - কয়েকজন ছাত্রকে তাদের সহপাঠীদের সামনে অযু করার দায়িত্ব দেওয়া। - শিক্ষক কর্তৃক কয়েকজন ছাত্রকে প্রতিটি অঙ্গের কতটুকু ধোয়া আবশ্যক তা চিহ্নিত করতে বলা। - সকল ছাত্র কর্তৃক অযু করানো, যেন শিক্ষক তাদের অযু নিখুঁতভাবে আয়ত্ত করার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন। - ছাত্রদেরকে অযুর পদ্ধতি শেখানোর ফলে প্রাপ্ত মহান প্রতিদানের বিষয়ে শিক্ষকের জন্য সুসংবাদ; কেননা যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান শিক্ষা দেয়, তার জন্য আমলকারীর সমপরিমাণ প্রতিদান রয়েছে।
অযুর পদ্ধতি
আমি অন্তরে অযুর নিয়ত করব, অতঃপর নিচের কাজগুলো করব:
- আমি বলব: (বিসমিল্লাহ)।
- দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করব।
- তিনবার কুলি করি ও নাকে পানি দিই।
- মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করি।
- দুই হাত আঙ্গুলের মাথা থেকে কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করব।
- আমি একবার দুই কানসহ মাথা মাসেহ করব।
- আমি টাখনুসহ আমার উভয় পা তিনবার ধৌত করি।
তৃতীয় পাঠ [৫]
[৫] শিক্ষকের জন্য: - অযুর ক্ষেত্রে অঙ্গসমূহ একবার ধৌত করা আবশ্যক এবং তিনবার ধৌত করা পরিপূর্ণ, এ বিষয়ে ছাত্রদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। - অযু শেষ করার পর পঠিত দোয়াটি মুখস্থ করতে ছাত্রদেরকে উদ্বুদ্ধ করা: «أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ» “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই; এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল”। এটি আহমাদ (৩/২৬৫) বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযীর একটি বর্ণনায় (নং ৫৫) নবী ﷺ বলেছেন: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الوُضُوءَ، ثُمَّ قَالَ: أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ، وَاجْعَلْنِي مِنَ المُتَطَهِّرِينَ، فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ، يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ» “যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করল, অতঃপর বলল: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন’; অবশ্যই তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেওয়া হয়, সে যেটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।” - পানির নিয়ামত সংরক্ষণ করতে এবং এর অপচয় না করতে ছাত্রদেরকে উদ্বুদ্ধ করা।
অযুর ব্যবহারিক পদ্ধতি [6]
[৬] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - যে পানি দিয়ে অযু করা হয় শিক্ষার্থী তার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করবে। - ছাত্র নিয়্যতের স্থান নির্ধারণ করবে। - ছাত্র সঠিকভাবে অযু সম্পাদন করবে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: অযুর কাজগুলো উপযুক্ত নাম্বার বসিয়ে ক্রমাণুসারে সাজাও।
মুখমন্ডল ধৌত করি।
আমি কুলি করি এবং নাকে পানি দিই।
আমি টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধুই।
আমি আমার উভয় কানসহ মাথা মাসাহ করি।
আমি আমার দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করি।
আমার হাতের কব্জি ধৌত করব।
প্রশ্ন ২: নিচের বাক্যগুলো লেখ:
- অযুর শুরুতে আমি বলব: ‘বিসমিল্লাহ’।
- ....................................................
- ....................................................
- আমি পবিত্র পানি দ্বারা অযু করব।
- ....................................................
-....................................................
- অযু করার সময় আমি অযুর অঙ্গগুলোর মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করি।
- ....................................................
- ....................................................
- আমি অযুর অঙ্গসমূহের এমন কোনো অংশ বাকি রাখি না, যেখানে পানি পৌঁছায়নি।
- ....................................................
- ....................................................
হে বৎস! অযূ কর এবং সালাতের জন্য দাঁড়াও *** আর তোমার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় কর, তুমি তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করবে।
আল্লাহ যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তির প্রতি সন্তুষ্ট হন *** তখন সে সারা জীবন সৌভাগ্য লাভ করে।
* অযু শেষে আমি বলব:
“আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনিই একক যার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।”
চতুর্থ পাঠ [৭]
[৭] শিক্ষকের জন্য: - এ বিষয় স্পষ্ট করা যে, ইসলামের রুকন পাঁচটি। - এ বিষয় স্পষ্ট করা যে, সালাত সংখ্যায় পাঁচ ওয়াক্ত; কিন্তু সাওয়াব লাভে পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমপরিমাণ। দেখুন: সহীহ বুখারী (কিতাবুস সালাত), হাদীস নং (৩৪৯)। - ছাত্রদেরকে যথাসময়ে সালাত আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করা; কেননা তা ইসলামের খুঁটি এবং তা জান্নাতে প্রবেশের কারণ। আর তা পরিত্যাগ করা জাহান্নামে প্রবেশের অন্যতম কারণ। বুরাইদাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাদের ও তাদের মধ্যে যে চুক্তি রয়েছে তা হলো সালাত, সুতরাং যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করল সে কুফুরী করল।” ইমাম তিরমিযী তা বর্ণনা করেছেন, আবওয়াবুল ঈমান, অনুচ্ছেদ: সালাত পরিত্যাগ করার বিষয়ে যা এসেছে, হাদীস নং (২৬২১)।
ফরয সালাতসমূহ [৮]
[৮] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: - শিক্ষার্থী ইসলামে সালাতের মর্যাদা বর্ণনা করবে। - শিক্ষার্থী দিন ও রাতের ফরজ সালাতসমূহ উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী প্রতিটি সালাতের রাকাত সংখ্যা নির্ধারণ করবে।
দুই সাক্ষ্যদানের পর সালাত হলো ইসলামের দ্বিতীয় রুকন।
দিন ও রাতে ফরয সালাত পাঁচ ওয়াক্ত, তা হচ্ছে:
ফজর --- (দুই রাকাত) ২
যোহর --- (চার রাকাত) ৪
আসর --- (চার রাকাত) ৪
মাগরিব --- (তিন রাকাত) ৩
ইশা --- (চার রাকাত) ৪
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১ঃ ইসলামের রুকনসমূহ হতে অসম্পূর্ণ অংশ পূর্ণ কর:
দুই সাক্ষ্যদান– ............................. - যাকাত - সিয়াম - হজ।
প্রশ্ন ২: দিনের শুরু থেকে ফরয সালাতসমূহ ক্রমানুসারে সাজাও:
এশা
যোহর
মাগরিব
আসর
ফজর
প্রশ্ন ৩: প্রতিটি সালাত ও তার রাকআত সংখ্যার মধ্যে মিল করো:
ফজর
যোহর
আসর
মাগরিব
এশা
প্রশ্ন ৪: কলম দিয়ে সঠিক উত্তরটি মিল করো:
আমি প্রতিদিন যে সালাত দিয়ে শুরু করি:
যোহর
ফজর
প্রশ্ন ৫: চার রাকাতবিশিষ্ট সালাতসমূহ নির্বাচন কর:
ফজর
যোহর
আসর
মাগরিব
এশা
প্রশ্ন ৬: যে সালাতের রাকআত সংখ্যা তিন, তাতে বৃত্ত আঁক:
ফজর
যোহর
আসর
মাগরিব
এশা
প্রশ্ন ৭: দিনের বেলায় যে সমস্ত সালাত আদায় করা হয়, কলম দিয়ে সেগুলোর মধ্যে মিল কর:
মাগরিব
যোহর
আসর
এশা
ফজর
প্রশ্ন ৮: রাতে যে সমস্ত সালাত আদায় করা হয়, তা নির্বাচন কর:
মাগরিব
যোহর
আসর
এশা
ফজর
প্রশ্ন ৯: নিম্নোক্ত বাক্যগুলো লিখো:
- আমি সালাতকে তার সময় থেকে বিলম্ব করব না।
- ....................................................
- ....................................................
- সালাত সংরক্ষণ করা জান্নাতে প্রবেশের কারণ।
- ....................................................
-....................................................
- যখন আমি মসজিদে সালাত আদায় করি, তখন সালাতের সকল কাজে ইমামের অনুসরণ করি।
- ....................................................
- ....................................................
পঞ্চম পাঠ [৯] [১০]।
[৯] শিক্ষকের জন্য: পাঠের ব্যাখ্যায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে: - শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে মুসাল্লায় (সালাতের স্থানে) নিয়ে যাবেন। - শিক্ষার্থীদের সামনে ব্যবহারিকভাবে সালাত আদায় করবেন এবং প্রতিটি রুকনের পদ্ধতি ও তাতে যা পড়া হয় তা বর্ণনা করবেন। - শিক্ষক কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের সহপাঠীদের সামনে সালাত আদায় করতে বলবেন এবং তাদের যেসব ভুল হয় তা সংশোধন করে দিবেন। - শিক্ষার্থীরা তা পুরোপুরি আয়ত্ত না করা পর্যন্ত শিক্ষক সালাতের ব্যবহারিক প্রয়োগের পুনরাবৃত্তি করবেন। - সকল শিক্ষার্থী সালাতের ব্যবহারিক প্রয়োগ করবে, যাতে শিক্ষক তাদের সালাত যথাযথভাবে সম্পাদনের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেন। আর শিক্ষকের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কারের সুসংবাদ; কেননা যে ব্যক্তি কোনো জ্ঞান শিক্ষা দেয়, তার জন্য আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে। [১০]- ব্যাখ্যা: ১- সিজদার সাতটি অঙ্গ হলো: কপালের সাথে নাক, হাতের তালুদ্বয়, হাঁটুদ্বয়, দুই পায়ের অগ্রভাগ। ২- প্রথম ও শেষ তাশাহ্হুদে বসার পদ্ধতি। - শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে অবগত করা যে, (সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম) এবং (সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা) তিনবার করে পড়া সুন্নাত এবং এটাই পরিপূর্ণতার সর্বনিম্ন স্তর। - আমের ইবন সাদ থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর সালাতের পদ্ধতির ব্যাখ্যা, তিনি বলেন: «আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে তাঁর ডান ও বাম দিকে সালাম ফেরাতে দেখতাম, এমনকি আমি তাঁর গালের শুভ্রতা দেখতে পেতাম»। মুসলিম বর্ণনা করেছেন, নম্বর (৫৮২)।
সালাতের পদ্ধতি [১১]
[১১] পাঠের উদ্দেশ্য: - ছাত্র যেন সালাতের রুকন ও ওয়াজিবসমূহ পরিপূর্ণভাবে পালন করে সঠিকভাবে সালাত আদায় করতে পারে। - ছাত্র যেন (প্রথম ) তাকবিরে ইহরামে হাত উত্তোলনের পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারে। - ছাত্র যেন রুকুতে যা বলা হয় এবং সিজদায় যা বলা হয়, তার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে।
কীভাবে সালাত আদায় করবে?
১- কিবলামুখী হব।
২- আমি এই বলে(প্রথমে) তাকবীরে তাহরীমা বলব:
(আল্লাহু আকবার) সিজদার স্থানে দৃষ্টি রেখে।
৩- সূরা ফাতিহা পাঠ করব, অতঃপর কুরআন কারীম থেকে আমার মুখস্থকৃত কিছু অংশ তেলাওয়াত করব।
৪- তাকবীর বলব এবং রুকু করব, আর রুকুতে বলব:
অর্থ: “আমার সুমহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।” তিনবার।
৫- রুকু থেকে উঠে বলব:
""সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ।" অর্থ: আল্লাহ তার কথা শুনেছেন, যে তাঁর প্রশংসা করেছে। হে আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা।"
৬- আমি তাকবীর বলব এবং সিজদা করব, আর সিজদায় বলব:
অর্থ: “আমার সর্বোচ্চ রবের সুমহান পবিত্রতা ঘোষণা করছি।” তিনবার।
৭- “আল্লাহু আকবার” বলে সোজা হব।
আর দুই সিজদার মাঝখানে বৈঠকে আমি বলব:
(হে আমার রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, হে আমার রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।)
৮- আমি “আল্লাহু আকবার” বলে দ্বিতীয় সিজদা করব।
আর আমি সিজদায় বলব: (سبحان ربي الأعلى) (সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা) তিনবার।
৯- এই বলে দ্বিতীয় রাক‘আতের জন্য দাঁড়াব:
“আল্লাহু আকবার”, এবং এতে আমি তাই করব, প্রথম রাকাতে যা করেছিলাম।
১০- দ্বিতীয় রাক‘আতের পর প্রথম তাশাহুদের(বৈঠকের) জন্য বসব।
১১- পূর্ববর্তী দুই রাকাত আমি যেমন করে আদায় করেছি, সেভাবে বাকী সালাত আদায় করব [১২]। [১২] শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়াই যথেষ্ট।
১২- আমি আমার সালাতের শেষে বসব এবং শেষ তাশাহুদ পড়ব[১৩], এবং নবী ﷺ-এর ওপর দরুদ পড়ব, তারপর ডানদিকে ও বামদিকে সালাম ফিরিয়ে বলব: السلام عليكم ورحمة الله “আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ”। [১৩] দুই রাকাত বিশিষ্ট সালাতে একটি মাত্র তাশাহহুদ(বৈঠক) থাকে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
ক- সালাতে আমি আমার দৃষ্টি রাখি:
ছাদ
দেয়াল
সিজদার স্থান।
খ- রুকুতে বলব:
"সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম" আমার সুমহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
"সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা' আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
গ- রুকুর সময় আমি আমার দুই হাত রাখি:
আমার উভয় হাঁটু
আমার নলাদ্বয়।
প্রশ্ন ২: নিচের কলাম (ক) এর বাক্যগুলির সাথে কলাম (খ) এর উপযুক্ত অংশ মিলাও:
কলাম (ক)
আমি সিজদায় বলব:
আমি রুকুতে বলব:
আমি দুই সিজদার মাঝখানে বলব:
রুকু থেকে উঠার সময় আমি বলব:
কলাম (খ)
"সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম" আমার সুমহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি
"সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা" আমার সর্বোচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি।
سَمِعَ اللهُ لمَنْ حَمِدَه “আল্লাহ তা‘আলা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন।”
হে আমার রব, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন
আল্লাহু আকবার
প্রশ্ন ৩: শূন্যস্থান পূরণ কর:
আমি আস-সালামু .................................... বলে সালাত থেকে সালাম ফিরাই।
প্রশ্ন ৪: নিচের বাক্যটি লিখো:
- প্রথম রাকাত আমি যেমন করে আদায় করেছি, সেভাবে বাকী রাকাতগুলো আদায় করব।
- ....................................................
- ....................................................
ষষ্ঠ পাঠ [১৪]
[১৪] শিক্ষকের জন্য: - তাশাহহুদের জন্য আঙ্গুল তোলার পদ্ধতি স্পষ্ট করা: ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকাকে ভাঁজ করে রাখবে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি ও মধ্যমার মাথা একসঙ্গে মেলাবে, ফলে তা লোহা বা এ জাতীয় কিছুর বৃত্তের মতো হবে। আর তর্জনী দ্বারা ইশারা করবে। - শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী পদ্ধতিতে তাশাহহুদের শব্দাবলি স্পষ্ট করা। - এই বর্ণনা দেওয়া যে, তিন রাকাত বা চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতের বিপরীতে দুই রাকাত বিশিষ্ট সালাতে কেবলমাত্র একবার তাশাহহুদ রয়েছে।
তাশাহহুদ-আত্তাহিয়্যাতু [১৫]
[১৫] পাঠের উদ্দেশ্য: - শিক্ষার্থী সালাতে তাশাহ্হুদের স্থান চিহ্নিত করতে পারবে। - শিক্ষার্থী তাশাহ্হুদ- আত্তাহিয়্যাতু মুখস্থ করবে। - শিক্ষার্থী তাশাহ্হুদের জন্য সঠিকভাবে বসতে পারবে।
"(যাবতীয় বড়ত্ব ও ইবাদত, সালাত, মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক সমস্ত ইবাদত আল্লাহরই জন্য,"
হে নবী! আপনার ওপর যাবতীয় নিরাপত্তা এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপরও নিরাপত্তা বর্ষিত হোক।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।)
তাশাহহুদ-আত্তাহিয়্যাতু কখন পড়তে হবে?
সালাতের দ্বিতীয় রাকাত শেষে তাশাহহুদ পড়া হয় একে প্রথম তাশাহহুদ বলা হয়, আর সালাতের শেষ রাকাত শেষে পড়া হয় তাকে শেষ তাশাহহুদ বলা হয়।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিচের শব্দগুলো দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
(তৃতীয় - শেষ - প্রথম)
- ............................. রাক‘আতের পর প্রথম তাশাহহুদ পড়া হয়।
- ........................... রাক‘আতের পর শেষ তাশাহহুদ পাঠ করা হয়।
প্রশ্ন ২: যেসব সালাতে দুটি তাশাহহুদ রয়েছে সেগুলোকে এক ভাগে এবং যেগুলোতে কেবল একটি তাশাহহুদ রয়েছে সেগুলোকে অন্য ভাগে শ্রেণিবদ্ধ কর।
দুটি তাশাহহুদ --- একটি তাশাহহুদ
এশার সালাত
আসরের সালাত
মাগরিবের সালাত
ফজরের সালাত
যোহরের সালাত
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত বাক্যগুলো লিখ:
- আমি সালাতের সকল কাজে ইমামের অনুসরণ করি।
- ....................................................
- ....................................................
- সালাতের শুরুতে আমি তাকবীরে তাহরীমা বলি।
- ....................................................
- ....................................................
সপ্তম পাঠ [১৬]
[১৬] শিক্ষকের জন্য: - সালাত বাস্তবে প্রয়োগ করে দেখানো উচিত এবং এতে তাশাহহুদ ও নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত পাঠের স্থান বর্ণনা করা উচিত। - নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা উল্লেখ হলে বা তাঁর নাম শুনলে তাঁর উপর সালাত-দরূদ পাঠ করতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা এবং এর প্রতিদান বর্ণনা করা, যেমন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার উপর একবার সালাত পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত বর্ষণ করবেন, তার দশটি গুনাহ মুছে ফেলা হবে এবং তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে।" নাসায়ী বর্ণনা করেছেন, নম্বর (১২৯৭)।
নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পড়া [১৭]
[১৭] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: – শিক্ষার্থী নবী ﷺ-এর প্রতি দরূদ মুখস্থ করবে। - শিক্ষার্থী সালাতে নবী ﷺ-এর প্রতি দরূদ পাঠের স্থান উল্লেখ করবে। - শিক্ষার্থী বাস্তবে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রথম তাশাহহুদের জন্য বসা এবং শেষ তাশাহহুদের জন্য বসার মধ্যে পার্থক্য করবে।
নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরুদ) হলো:
(হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর তেমনি বরকত দান করুন যেমনি আপনি বরকত দান করেছেন ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।)
কখন পাঠ করা হয়?
শেষ তাশাহহুদ-আত্তাহিয়্যাতু পাঠের পর এবং সালাম ফিরানোর পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করতে হয়।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ করো:
(হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ....................... এবং ....................... এর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও তাঁর বংশধরদের ....................... ওপর তেমনি বরকত দান করুন যেমনি আপনি বরকত দান করেছেন ইবরাহীম এবং ইবরাহীমের বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মর্যাদার অধিকারী)।
প্রশ্ন ২: এ পাঠে নবীগণের নামসমূহের মধ্য থেকে দুটি নাম উল্লিখিত হয়েছে, তাঁরা দুজন কে?
....................... এবং .......................
প্রশ্ন ৩: নিম্নে সঠিক উত্তরটির চারপাশে বৃত্ত দাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করা হবে:
ক- প্রথম রাকাতের পর। খ- শেষ তাশাহহুদের পর।
অষ্টম পাঠ [১৮]
[১৮] শিক্ষক ছাত্রদের সামনে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো স্পষ্ট করবেন: - সালাতের মহান মর্যাদার কারণে তা আদায়ের সময় অন্তরের উপস্থিতির (খুশূ) অর্থ। - 'সালাত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ' কথাটির অর্থ এবং 'অযু ভঙ্গ হওয়া'-এর অর্থ। - অধিক নড়াচড়ার উদাহরণসমূহ।
সালাত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ [১৯]
[19] পাঠের উদ্দেশ্যসমূহ: – ছাত্র সালাত বিনষ্টকারী কিছু বিষয় উল্লেখ করবে। - ছাত্র অযূ ভঙ্গ হওয়া এবং সালাত বাতিল হওয়ার মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করবে। - ছাত্র সালাত বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকবে।
কিছু কাজের কারণে সালাত বাতিল হয়ে যায়, তার মধ্যে রয়েছে:
১- খাওয়া, ২- পান করা, ৩- কথা বলা।
৪- হাসি, ৫- প্রস্রাব, পায়খানা বা বায়ু নির্গত হওয়ার কারণে অযু ভঙ্গ হওয়া, ৬- অধিক নড়াচড়া করা।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: ছাত্রটি মুখে এক টুকরো মিষ্টি নিয়ে সালাত আদায় করল এবং তা খেয়ে ফেলল, তাহলে তার সালাত কি শুদ্ধ হবে? এবং কেন?
প্রশ্ন ২: (খাওয়া - প্রস্রাব - পায়খানা - বায়ু)।
নিম্নের শূন্যস্থানে সঠিক উত্তরটি বসাও:
....................... অথবা ....................... অথবা ....................... এর কারণে অযু ভঙ্গ হয়।
প্রশ্ন ৩: সালাত ভঙ্গকারী কোনো বিষয় রয়েছে, এমন চিত্রটি নির্বাচন কর:
হাসি।
চোখ বন্ধ করা।
হাঁচি।
কথা।
খাওয়া।
শ্বাস নেওয়া।
পান করা।
প্রশ্ন ৪: নিচের শব্দগুলো লেখ:
- আমি সালাত বাতিলকারী বিষয়সমূহের কোনোটি করব না।
-....................................................
-....................................................
- যদি সালাত বাতিল বা বিনষ্টকারী কোনো একটি বিষয়ের কারণে ফরয সালাত বাতিল হয়, তাহলে আমার ওপর ওয়াজিব হলো তা পূনরায় আদায় করা।
-....................................................
-....................................................
- আমি পবিত্র অবস্থায় সালাতে উপস্থিত হই।
-....................................................
-....................................................
Related books
All books
المناهج التعليمية - الصف الثالث7 ভাষাالمناهجالتعليميةالمناهج التعليمية - الصف الثالث
কিতাবটিতে তৃতীয় শ্রেণির তাওহীদ বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেখানে দ্বীনের তিনটি স্তর—ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান—অধ্যয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।পাশাপাশি এতে প্রতিটি স্তরের ধারণা বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে; সেই সাথে ইসলাম ও ঈমানের রুকনসমূহ এবং তাওহীদের সাক্ষ্য প্রদানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ ও তাঁর কিতাবের উপর ঈমান সুদৃঢ় করার বিষয়টি এতে স্থান পেয়েছে। পরিশেষে, শরয়ী দলিলের আলোকে দ্বীনের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে ইহসানের মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে।
শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, ইলমে ফিকহ, স্তর (চতুর্থ)।7 ভাষাশিরোনাম: পাঠ্যক্রম, ইলমে ফিকহ, স্তর (চতুর্থ)।
সংক্ষিপ্তসার: এই ইলমী বিষয়বস্তুকে সৌদি আরবের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত পাঠ্যক্রমের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। এই বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে 'ইলমে ফিকহ' অধ্যয়ন সংক্রান্ত বিষয়, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। আর চতুর্থ স্তরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা নিম্নরূপ: পবিত্রতা ও এর ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা এবং ওযূর শর্তসমূহ, ফরযসমূহ, সুন্নাতসমূহ ও ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহের বর্ণনা। আযান ও ইকামতের পদ্ধতি বর্ণনা। সালাতের এমন শর্তসমূহ ব্যাখ্যা করা, যা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না। ফরয সালাতের ওয়াক্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহের বর্ণনা।
المناهج التعليمية - الصف الثاني6 ভাষাالمناهجالتعليميةالمناهج التعليمية - الصف الثاني
দ্বিতীয় স্তরে কিতাবটিতে 'তাওহীদ' বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে এমন তিনটি মূলনীতি তুলে ধরা হয়েছে, যা সম্পর্কে একজন মানুষের জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক: আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে জানা, দ্বীন সম্পর্কে জানা এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জানা। এছাড়া এতে দ্বীনের স্তরসমূহ (ইসলাম, ঈমান, ইহসান)-এর ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; সেইসাথে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত ও তাঁর আনুগত্য করার পদ্ধতি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসা ও তাঁর আনুগত্য করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
مشروع منهاج زادك5 ভাষাمشروع منهاج زادك
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাওদাহ, রিয়াদ সৌদি আরব। "আমাকে আমার দীন শিক্ষা দিন" (শিক্ষা ক্রম প্রকল্প) প্রাথম স্তর। প্রকাশ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ইলম ও মনের ভাব ব্যক্ত করার দক্ষতা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার, সকল সম্মানীত সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা সুন্দর ভাবে যথাযথ তাঁদের অনুসরণ করবে সবার ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।