শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, ইলমে ফিকহ, স্তর (চতুর্থ)।
সংক্ষিপ্তসার: এই ইলমী বিষয়বস্তুকে সৌদি আরবের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত পাঠ্যক্রমের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। এই বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে 'ইলমে ফিকহ' অধ্যয়ন সংক্রান্ত বিষয়, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। আর চতুর্থ স্তরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা নিম্নরূপ: পবিত্রতা ও এর ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা এবং ওযূর শর্তসমূহ, ফরযসমূহ, সুন্নাতসমূহ ও ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহের বর্ণনা। আযান ও ইকামতের পদ্ধতি বর্ণনা। সালাতের এমন শর্তসমূহ ব্যাখ্যা করা, যা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না। ফরয সালাতের ওয়াক্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহের বর্ণনা।
This PDF is generated automatically from the book's text; its layout may differ from the printed edition.
শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, ইলমে ফিকহ, স্তর (চতুর্থ)।
সংক্ষিপ্তসার: এই ইলমী বিষয়বস্তুকে সৌদি আরবের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত পাঠ্যক্রমের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। এই বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে 'ইলমে ফিকহ' অধ্যয়ন সংক্রান্ত বিষয়, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। আর চতুর্থ স্তরে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও মাসআলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তা নিম্নরূপ:
পবিত্রতা ও এর ফযীলত সম্পর্কে আলোচনা এবং ওযূর শর্তসমূহ, ফরযসমূহ, সুন্নাতসমূহ ও ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহের বর্ণনা।
আযান ও ইকামতের পদ্ধতি বর্ণনা।
সালাতের এমন শর্তসমূহ ব্যাখ্যা করা, যা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না।
ফরয সালাতের ওয়াক্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহের বর্ণনা।
সহজ-সরল ভাষায় সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর।
চতুর্থ স্তর
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সম্মানিত রাসূলের ওপর, যিনি তাঁর প্রতি যা নাযিল হয়েছে তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁর উম্মতের জন্য দ্বীনের বিধানসমূহ এবং দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছু স্পষ্ট করেছেন। অতঃপর:
বস্তুত নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম বলেছেন: “আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ‘ইলম দান করেন।”
আর এরই প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দায়িত্ববোধ থেকে এবং শরী‘আতের বিধি-বিধান জানার তীব্র প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে সকল শিক্ষা স্তরে ফিকহ পাঠদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কারণ, এই দ্বীনকে বোঝা এর বিধি-বিধান জানা ও উপলব্ধি করার সাথে সম্পৃক্ত। তাছাড়া এর তীব্র প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যাতে একজন মুসলিম প্রজ্ঞার সাথে তার রবের ইবাদত করতে পারে।
আমরা শিক্ষককে এমন কিছু বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যা শরয়ী জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব পালনে এবং ছাত্রদের জন্য তার ব্যাখ্যা অনুধাবন করা সহজতর করতে তাকে সহায়তা করবে। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:
১- এ কথা স্মরণ রাখা যে, শরীয়তের ইলম হচ্ছে দ্বীন এবং এর অন্বেষণকারীদেরকে তা শিক্ষা দেওয়া সেই দাওয়াত পৌঁছানোর অন্তর্ভুক্ত, যার প্রতি নবী ﷺ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে আহ্বান জানিয়েছেন: “আমার পক্ষ হতে একটি বাণী হলেও তোমারা পৌঁছে দাও।” [১] অনুরূপভাবে এটি এমন একটি ইবাদাত যা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা কবুল করেন না, যতক্ষণ না তা একমাত্র তাঁর চেহারার(দর্শনের) উদ্দেশ্যে খালিস হয়। [১] বুখারী, কিতাব: আহাদীসুল আম্বিয়া, অনুচ্ছেদ: বনী ইসরাঈল সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, হাদীস নং (৩৪৬১)।
২- আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, অধিক পরিমাণে যিকির, দু‘আ ও ইস্তিগফার করা এবং শিক্ষকের কথাবার্তা, বেশভূষা ও আচার-আচরণে ইলমের আদর্শ ও গাম্ভীর্য প্রকাশ পাওয়া।
৩- শিক্ষার সাধারণ লক্ষ্যসমূহ, প্রতিটি স্তরের উদ্দেশ্যগুলো এবং যে বিষয়টি তিনি পাঠদান করছেন তার উদ্দেশ্যগুলো অনুধাবন করা; কারণ এটি শিক্ষককে সেসব লক্ষ্যের সাথে পাঠকে সংযুক্তকরণে, উপযুক্ত বিষয় ও পদ্ধতি নির্বাচনে এবং সেসব লক্ষ্যের আলোকে শিক্ষার্থীকে মূল্যায়নে সক্ষম হতে সহায়তা করে।
৪- শিক্ষাদানের বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহারে বৈচিত্র্য আনয়ন করা এবং প্রতিটি পাঠের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করা।
৫- পাঠটি ব্যাখ্যা করার পূর্বে পাঠের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত ইলমী উৎসসমূহ পর্যালোচনা।
আল্লাহর কাছে দো‘আ করি যে, তিনি যেন এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর চেহারার (দর্শনের ) উদ্দেশ্যে কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে উপকৃত করেন। আর আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। (আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে নিজ সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষার একটি রীতি। বাংলায় এরীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদে একবচনই ব্যবহার করা হয়েছে।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)
প্রথম পাঠ [২]
[২] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - শিক্ষক উল্লেখিত পাঠ্যাংশ দুটি এমনভাবে ব্যাখ্যা করবেন, যা ওযূর গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণনা করে। - ওযূ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অপচয় করা হারাম। আর তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: “নিশ্চয়ই এই উম্মতের মধ্যে এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে, যারা পবিত্রতা অর্জন ও দু‘আর ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করবে।” আবু দাউদ এটি (৯৬) নম্বরে বর্ণনা করেছেন। আর এ জন্যই এক মুদ্দ (প্রায় পৌনে এক লিটার পরিমাণ পানি) দ্বারা ওযূ করা তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) আদর্শ ছিল। - পবিত্রতা অনুমোদনের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার প্রতি ইসলামের যত্নবান হওয়ার সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। - বাহ্যিক পবিত্রতার প্রতি ইসলামের যত্নবান হওয়ার মধ্যে গুনাহ, বিদ্বেষ, হিংসা ও অন্তরের অন্যান্য ব্যাধি থেকে অভ্যন্তরীণ পবিত্রতার প্রতি যত্নবান হওয়ার গুরুত্বের ইঙ্গিত রয়েছে।
ওযূ করা
পবিত্রতা ও তার ফযীলত:
আল্লাহ তায়ালা বলেন: নিশ্চয় আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং তাদেরকেও ভালোবাসেন যারা পাক-পবিত্রতা অবলম্বন করে। [আল-বাকারাহ, আয়াত: ২২২] তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেন: "“আমি কি তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলব না, যার দ্বারা আল্লাহ গোনাহসমূহকে মোচন করবেন এবং (জান্নাতে) তার দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন?” তাঁরা বললেন, ‘অবশ্যই, হে আল্লাহর রসূল!’ তিনি বললেন, “(তা হচ্ছে) কষ্টকর অবস্থায় পরিপূর্ণরূপে ওযূ করা [3], অধিক মাত্রায় মসজিদে গমন করা এবং এক ওয়াক্তে সালাত আদায় করে পরবর্তী ওয়াক্তের সালাতের জন্য অপেক্ষা করা। আর এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ। এটিই হল প্রতিরক্ষায় লাগে থাকার মত।” [4]" [৩] মাকারিহ: এটি 'মাকরূহ'-এর বহুবচন, আর তা হলো যা মানুষ অপছন্দ করে এবং যা তার জন্য কষ্টকর হয়। যেমন- প্রচণ্ড ঠান্ডায় ওযূ করা। [৪] মুসলিম, কিতাবুত তাহারাত, অনুচ্ছেদ: কষ্টকর অবস্থায় পূর্ণরূপে ওযূ করার ফযীলত (১/২১৯), হাদীস (২৫১)।
একজন মুসলমানের পবিত্রতা দুটি বিষয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়:
১- ওযূ করা। ২- নাপাকি দূর করা।
যেসব কাজের জন্যে ওযূ শর্ত:
নিম্নলিখিত কাজসমূহের কোন একটি করতে চাইলে একজন মুসলিমের জন্য ওযূ করা আবশ্যক:
(সালাত - কুরআন স্পর্শ করা - তাওয়াফ)।
ওযূর ওয়াজিব:
- ওযূর একটিমাত্র ওয়াজিব, আর তা হলো তাসমিয়া, অর্থাৎ মুখে বলা: (বিসমিল্লাহ)।
- ওযূর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে হয়।
- যদি কেউ বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় অথবা ওযূর মাঝখানে তা স্মরণ করে, তাহলে সে বিসমিল্লাহ বলবে এবং তার ওযু চালিয়ে যাবে।
- যে ব্যক্তি ওযূ শেষ করা পর্যন্ত (বিসমিল্লাহ )বলতে ভুলে যায়, তাহলে তার ওযূ সহীহ এবং তার ওপর কোনো কিছু আবশ্যক নয়।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: ওযূর বিবরণ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: ভুল সংশোধনসহ সঠিক (.. ) অথবা ভুল চিহ্ন (.. ) দ্বারা উত্তর দাও:
ক- একজন মুসলিম যদি সালাত আদায় করতে চায়, তাহলে তার জন্য ওযূ করা আবশ্যক।
খ- একজন মুসলিম যদি মুখস্থ কুরআন তিলাওয়াত করতে চায়, তবে তার ওপর ওযূ করা ফরয।
গ: কাবা তাওয়াফ করতে চাইলে মুসলিমের জন্য ওযূ করা আবশ্যক।
ঘ- যে ব্যক্তি ওযূ শেষ করা পর্যন্ত বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায়, তার উপর পুনরায় ওযূ করা ওয়াজিব।
ঙ- বিসমিল্লাহ বলার স্থান: ওযূর শুরুতে।
প্রশ্ন ৩: সঠিক উত্তরের নম্বরের চারপাশে বৃত্ত দাও:
ক- উত্তমরূপে ওযূ করার মহা ফযীলত রয়েছে, তা হলো:
১- আল্লাহ এর দ্বারা শুধুমাত্র গোনাহসমূহ মোচন করেন। ২- আল্লাহ এর দ্বারা শুধুমাত্র মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
৩- আল্লাহ এর দ্বারা গুনাহসমূহ মোচন করেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করেন।
খ- যেসব ক্ষেত্রে ওযূ আবশ্যক:
১- মুসহাফ (কুরআন) স্পর্শ করা। ২- খাওয়া। ৩- ঘুমানো।
উত্তর: যে ব্যক্তি বিসমিল্লাহ পড়তে ভুলে যায়, তারপর ওযূর মাঝখানে তা স্মরণ হয়, তার উচিত:
১- প্রথম থেকে ওযূ শুরু করবে। ২- বিসমিল্লাহ বলবে এবং ওযূ চালিয়ে যাবে।
৩- ওযূ চালিয়ে যাবে এবং বিছমিল্লাহ বলবে না।
দ্বিতীয় পাঠ [৫]
[৫] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - অপবিত্রতা: এটি এমন এক অবস্থা যা শরীরে সৃষ্টি হয় এবং সালাত ও অনুরূপ ইবাদত আদায়ে বাধা প্রদান করে। আর তা হলো ওযূ ভঙ্গের কারণগুলো , যা পরবর্তীতে আসবে। - নিয়ত: আভিধানিক অর্থ: ইচ্ছা বা সংকল্প। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো বিষয়ের প্রতি অন্তরের দৃঢ় সংকল্পের অর্থে এটি ব্যবহৃত হয়। পারিভাষিক অর্থে: তা হলো অপবিত্রতা দূর করার ইচ্ছা করা, অথবা এমন কোনো ইবাদতের জন্য পবিত্রতা অর্জনের সংকল্প করা, যার জন্য পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব বা সুন্নাত। সুতরাং কেউ যদি উদাহরণস্বরূপ মুখস্থ কুরআন তিলাওয়াতের উদ্দেশ্যে পবিত্রতা অর্জনের নিয়তে ওযূ করে (আর এ কাজের জন্য ওযূ করা সুন্নাত), তবে এই ওযূ দিয়ে ফরয সালাত আদায় করা বিশুদ্ধ হবে; কেননা এই নিয়তের মাধ্যমে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে গেছে। আর নিয়তের স্থান হলো অন্তর, মুখে তা উচ্চারণ করা বিদ‘আত। - পায়খানা ও পেশাবের রাস্তা পবিত্র করা ওযূর অংশ নয়; বরং তা কেবল তার জন্য প্রযোজ্য যার পেশাব বা পায়খানা নির্গত হয়েছে। আর প্রত্যেক ওযূর ক্ষেত্রে এটি আবশ্যক নয়। - শিক্ষক ছাত্রদের এ বিষয়ে সতর্ক করবেন যে, পেশাব করার পর ইস্তিঞ্জা করার পূর্বে কাপড় পরিধান করা জায়েয নয়। আর যে ব্যক্তি তা করবে, অতঃপর ইস্তিঞ্জা ছাড়াই ওযূ করবে, তার ওযূ বিশুদ্ধ হবে না।
ওযূর শর্তসমূহ
ওযূর শর্তসমূহ রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম:
১- নিয়ত: আর তা হলো, ওযূর মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর করার ইচ্ছা করা, অথবা অযূর দ্বারা সালাতের জন্য, কিংবা কুরআন তিলাওয়াত বা এ জাতীয় অন্য কিছুর জন্য পবিত্রতা অর্জনের ইচ্ছা করা।
২- পবিত্র পানি দিয়ে হতে হবে। সুতরাং পানি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে ওযূ শুদ্ধ হবে না এবং নাপাক পানি দিয়েও না।
৩- পানি বৈধ হতে হবে, সুতরাং হারাম পানি দিয়ে ওযূ শুদ্ধ হবে না, যেমন জোরপূর্বক দখলকৃত পানি বা অনুরূপ কিছু।
৪- অঙ্গে পানি পৌছতে বাধা হয় এমন বস্তু দূর করা। যেমন, আটা , মাটি, রং ইত্যাদি।
৫- পেশাব বা পায়খানা বের হওয়ার পর উভয় রাস্তা পবিত্র করা।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: ওযূ্র শর্তসমূহ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: ভুল সংশোধনসহ সঠিক (.. ) অথবা ভুল চিহ্ন (.. ) দ্বারা উত্তর দাও:
ক- নাপাক পানি দিয়ে ওযূ করা বৈধ হবে না।
খ- চুরিকৃত পানি দ্বারা ওযূ বিশুদ্ধ হবে।
গ- জবরদখলকৃত পানি দিয়ে ওযূ শুদ্ধ হয় না।
ঘ- চা দিয়ে ওযূ বিশুদ্ধ হয়।
প্রশ্ন ৩: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ কর:
১- নিয়ত হলো: ..................... ইচ্ছা করা, অথবা ..................... ইচ্ছা করা।
২- পানি দ্বারা ওযূর জন্য শর্ত হলো তা ..................... হতে হবে, এবং ..................... হতে হবে।
৩- ওযূর শর্ত হলো ..................... পানি পৌছতে ..................... দূর করা, যেমন, ..................... , ..................... ও .....................
তৃতীয় পাঠ [৬]
[৬] শিক্ষকের জন্য: - আলফুরূয: এটি 'ফরয' এর বহুবচন, আর তা ওয়াজিবের চেয়ে উচ্চ স্তরের; কারণ তা ইচ্ছাকৃতভাবে বা ভুলক্রমেও রহিত হয় না। এর বিপরীত হলো ওয়াজিব, কেননা তা ভুলের ক্ষেত্রে রহিত হয়ে যায়। - শিক্ষক ছাত্রদেরকে মুখমণ্ডল সম্পূর্ণ ধৌত করার আবশ্যিকতার বিষয়ে সতর্ক করবেন; কপালের উপরিভাগ থেকে চোয়ালের নিচ পর্যন্ত লম্বালম্বিভাবে, এবং এক কান থেকে আরেক কান পর্যন্ত চওড়াভাবে। সুতরাং মুখমণ্ডলের কেবল সামনের অংশ ধৌত করাই যথেষ্ট নয়। - আঙুলের অগ্রভাগ থেকে কনুইসহ উভয় হাত ধৌত করা, কব্জির জোড়া থেকে নয়। - দুই কানসহ মাথা মাসেহ করা: আর তা হলো, দুই হাত পানি দিয়ে ভিজিয়ে নেওয়া, অতঃপর তা দিয়ে মাথার সামনের অংশ থেকে পেছনের ঘাড় পর্যন্ত মাসেহ করা, এরপর তা পুনরায় সামনের দিকে একবার ফিরিয়ে আনা। অতঃপর মাথার পানি দিয়েই দুই কান মাসেহ করা; দুই তর্জনী দিয়ে কানের ছিদ্র মাসেহ করা এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের বাহিরের অংশ একবার মাসেহ করা।
ওযূর ফরযসমূহ
ওযূর ফরয ছয়টি, যথা:
১- মুখমন্ডল ধৌত করা, এর অন্তর্ভুক্ত হল, কুলি করা: যা হলো মুখের ভেতর পানি নাড়াচাড়া করা ও নাকে পানি দেওয়া: যা হলো শ্বাসের সাহায্যে নাকে পানি টেনে নেওয়া।
২- উভয় হাত কনুইসহ ধৌত করা।
৩- পূর্ণ মাথা মাসেহ করা, উভয় কান এর অন্তর্ভুক্ত।
৪- টাখনুসহ উভয় পা ধৌত করা।
৫- ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
৬- অবিচ্ছিন্নতা: আর তা হলো, কোনো অঙ্গ ধৌত করতে এতটুকু বিলম্ব না করা, যাতে পূর্ববর্তী অঙ্গটি শুকিয়ে যায়।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: ওযূর ফরযসমূহ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: সঠিক (.. ) অথবা ভুল চিহ্ন (.. ) দ্বারা উত্তর দাও, ভুল সংশোধনসহ:
ক- মাথা মাসেহ করার পর কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া ওযূর ফরযের অন্তর্ভুক্ত।
খ- কপাল চেহারার অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই ওযূতে তা ধৌত করা আবশ্যক নয়।
গ- মাথার সাথে দু কান মাসেহ করা ওযূর ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
ঘ- ওযূতে টুখনু ধৌত করা ফরয নয়।
ঙ- মাথা ধৌত করা ওযূর ফরযসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন ৩: সঠিক উত্তরের নম্বরে বৃত্ত দাও:
ক- অবিচ্ছন্নতা রক্ষা করা হলো:
১- ওযূতে অপচয় করা।
২- ধীরস্থিরভাবে ওযূ করা।
৩. পূর্বের অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই পরবর্তী অঙ্গ সাথে সাথে ধোয়া।
খ- ওযূতে তারতীব হলো:
১. দুই পা ধোয়া, তারপর দুই হাত, তারপর মুখমণ্ডল।
২- মুখমণ্ডল ধোয়া, তারপর কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধোয়া, তারপর মাথা মাসেহ করা, তারপর দুই পা ধোয়া।
৩- মুখমণ্ডল ধোয়ার পূর্বে প্রথমে দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধোয়া।
চতুর্থ পাঠ [৭]
[৭] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - কুলি করার ক্ষেত্রে "মুবালাগাহ" করা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মুখের ভেতর পানি উত্তমরূপে ঘোরানো। - নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে "মুবালাগাহ" করা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: শ্বাসের সাহায্যে নাকের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পানি টানা। - আঙুল খিলাল করা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: হাতের আঙুলগুলো পায়ের আঙুলগুলোর মাঝে প্রবেশ করানো এবং হাতের আঙুলগুলো খিলাল করা; অর্থাৎ এক হাতের আঙুল অন্য হাতের আঙুলের ভেতর প্রবেশ করানো। - মুখমণ্ডল, উভয় হাত ও পা ধৌত করার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করা সুন্নাত, আর ওয়াজিব হলো একবার ধৌত করা। কিন্তু মাথা মাসেহ একাধিকবার করা জায়েয নয়।
ওযূর সুন্নাতসমূহ
ওযূর সুন্নাতসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১- ওযূর শুরুতে দুই হাত কব্জিসহ তিনবার ধোয়া।
২. মিসওয়াক করা এবং এর স্থান: কুলি করার সময়।
৩- সিয়ামপালনকারী ব্যতীত অন্যদের জন্য কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে আধিক্যতা অবলম্বন করা।
৪. দুই হাত ও দুই পায়ের আঙ্গুল খিলাল করা।
৫- ডান দিক থেকে শুরু করা: আর তা হলো বাম হাতের পূর্বে ডান হাত ধৌত করা এবং বাম পায়ের পূর্বে ডান পা ধৌত করা।
৬- মুখমণ্ডল, উভয় হাত এবং উভয় পা দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার ধোয়া।
৭. ওযূর শেষে বলা: “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই, তিনিই একক যার কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।”[৮], এবং “হে আল্লাহ! আমাকে তাওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাকে পবিত্রতা অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।” [৯] [৮] দেখুন: সহীহ মুসলিম (১/২০৯), হাদীস নং (২৩৪) এবং সুনানে আবু দাউদ (১/৪৩), হাদীস নং (১৬৯)। [৯] তিরমিযী তাঁর জামে গ্রন্থে, ১/৭৮, হাদীস নং (৫৫)।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: ওযূর সুন্নাতসমূহ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: কলাম (ক) এর শব্দের নম্বর কলাম (খ) এর উপযুক্ত শব্দের শুরুতে বসাও:
কলাম (ক)
...এর ক্ষেত্রে আধিক্যতা
খিলাল করা
মিসওয়াক করার সময়
একবার ধৌত করা
কলাম (খ)
( ) কুলি করা
( ) কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া
( ) দ্বিতীয় ও তৃতীয়
( ) আল-আসাবি` (আঙ্গুলসমূহ)
( ) তিনবার।
প্রশ্ন ৩: শুন্যস্থান পূরণ কর:
১- ওযূর ..................... উভয় হাত কবজি পর্যন্ত ..................... ধৌত করা সুন্নাত।
২- ডান দিক থেকে শুরু করা হলো .....................
৩- ওযূর শেষে যে দু‘আ পড়তে হয় তা হলো: .....................
পঞ্চম পাঠ[১০]
[১০] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - পেশাব বা পায়খানা যদি স্বাভাবিক দুই পথ ব্যতীত অন্য কোনো স্থান দিয়ে বের হয়, তবে তা ওযূ ভঙ্গ করে। যেমন, কারো শরীরে এমন ছিদ্র করা হলো যা দিয়ে পেশাব বের হয়। - যে ঘুম ওযূ ভঙ্গ করে তা হলো গভীর ঘুম; অর্থাৎ তার ওযূ ভঙ্গ হলেও সে তা অনুভব করতে পারে না। আর অগভীর ঘুম ওযূ ভঙ্গ করে না। - সন্দেহের কারণে ওযু ভঙ্গ হয় না। সুতরাং কেউ অযু করার পর যদি তার সন্দেহ হয় যে, এরপর তার ওযু ভঙ্গ হয়েছে কি না? তাহলে সে তার পবিত্রতার ওপরই বহাল থাকবে। তেমনিভাবে কারো ওযূ ভঙ্গ হওয়ার পর যদি তার সন্দেহ হয় যে, এরপর সে ওযু করেছে কি না? তবে সে তার অপবিত্রতার ওপরই বহাল থাকবে এবং তার ওযূ করা অত্যাবশ্যক হবে। কেননা, সন্দেহের কারণে ইয়াকীন দূরীভূত হয় না।
ওযূ ভঙ্গের কারণসমূহ
অযু ভঙ্গের কারণের মধ্যে রয়েছে:
১- উভয় রাস্তা দিয়ে কোন কিছু নির্গত হওয়া, যেমন: পেশাব, পায়খানা, বায়ু অথবা অন্য কিছু।
২- বেহুঁশ হওয়া।
৩- গভীর ঘুম।
৪- কোন আবরণ ছাড়া সরাসরি হাত দিয়ে দুই লজ্জাস্থানের কোনো একটি স্পর্শ করা।
৫- উটের গোশত খাওয়া।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: অযু ভঙ্গের তিনটি কারণ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: সঠিক উত্তরটির নম্বরে গোল দাগ দিন:
ক- অযু ভঙ্গের কারণসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো
১- উটের গোশত খাওয়া ২- ছাগলের গোশত খাওয়া। ৩- গরুর গোশত খাওয়া।
খ- অযু ভঙ্গের কারণের মধ্যে রয়েছে:
১- তন্দ্রা। ২- ঘুম। ৩- পান করা।
গ- সালাত আদায়কালে যদি আপনার অযু ভঙ্গ হয়ে যায়, তবে আপনার ওপর আবশ্যক হলো:
১- সালাত ছেড়ে দিবে, অতঃপর অযূ করবে এবং তা পুনরায় আদায় করবে।
২- সালাত চালিয়ে যাবে, অতঃপর অযু করবে এবং তা পুনরায় আদায় করবে।
৩- সালাত অব্যাহত রাখবে এবং তা পুনরায় আদায় করবে না।
ষষ্ঠ পাঠ[১১]
[১১] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - শিক্ষক আব্দুল্লাহ ইবন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে বর্ণিত আযান শরীয়তসম্মত হওয়ার কারণ বর্ণনার মাধ্যমে পাঠের সূচনা করবেন। দেখুন: সুনান আবী দাউদ (১/৩৩৭), নম্বর (৪৪৯), এবং মুসনাদ ইমাম আহমাদ (৪/৪৩), নম্বর (১৬৫২৪)। - শিক্ষক ছাত্রদের নিকট আযানের ফযীলত বর্ণনা করবেন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীতে এসেছে: "মুয়াজ্জিনের আওয়াজ যতদূর পর্যন্ত পৌঁছায়, তা যে জিন, মানুষ অথবা অন্য কোনো বস্তু শোনে, সে কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে।" বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, নম্বর (৬০৯), এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "কিয়ামতের দিন মুয়াজ্জিনদের ঘাড় মানুষের মধ্যে সবচেয়ে লম্বা হবে।" মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন (১/২৯), নম্বর (৩৮৭)।
আযান ও ইকামাত
আযান ও ইকামাতের সংজ্ঞা:
আযান হল: সালাতের সময় হওয়ার ব্যাপারে অবহিতকরণ।
ইকামাত হল: সালাতে দাঁড়ানোর ব্যাপারে অবহিতকরণ।
আযানের বাক্য পনেরটি, সেগুলো হলো:
আল্লাহু আকবার (২) আল্লাহু আকবার
আল্লাহু আকবার (২) আল্লাহু আকবার
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই (২) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই
আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ(২) আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহ, তথা আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল(২) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল
হাইয়া আলাস স্বলাহ(২) হাইয়া আলাস স্বলাহ, তথা এসো সালাতের দিকে, এসো সালাতের দিকে।
হাইয়া আলাল ফালাহ (২) হাইয়া আলাল ফালাহ, তথা এসো কল্যাণের দিকে, এসো কল্যাণের দিকে।
আল্লাহু আকবার (২) আল্লাহু আকবার
(১) আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নেই
ফজরের আযানে হাইয়া আলাস সালাহ বলার পর বলবে:
আস-সালাতু খায়রুম মিনান নাউম (২) আস-সালাতু খায়রুম মিনান নাউম
ইকামতের বাক্য মোট এগারটি; যথা:
আল্লাহু আকবার (২) আল্লাহু আকবার
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই (২) আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল।
হাইয়া আলাস স্বলাহ (২), হাইয়া আলাল ফালাহ, তথা এসো সালাতের দিকে (২), এসো কল্যাণের দিকে।
কদ ক্বমাতিস সালাহ (قد قامت الصلاة) (২) কদ ক্বমাতিস সালাহ (قد قامت الصلاة)
আল্লাহু আকবার (২) আল্লাহু আকবার
(১) আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য মাবূদ নেই
* মুসলিম, বিবেকবান পুরুষ ব্যতীত আযান বিশুদ্ধ হবে না, আর নারীর ওপর আযান বা ইকামাত নেই।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: শূন্যস্থান পূরণ করো:
১- আযান হলো: ..................... .....................
২- ইকামাত হল: ..................... .....................
প্রশ্ন ২: আযান ও ইকামাতের বাক্যসমূহ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ৩: সত্য কে (সত্য) বা ভুল কে ( ভুল ) দিয়ে উত্তর দাও, ভুল থাকলে তা সংশোধন কর:
১- আযানের বাক্য পনেরটি।
২- ইকামতের বাক্য দশটি।
৩- মু‘আজ্জিন (হাইয়্যা আলাস সালাহ) বলার পর (আস সালাতু খাইরুম মিনান নাওম) বলবে।
৪- মু‘আজ্জিন শুধুমাত্র ফজরের আযানে বলবে: আস সালাতু খাইরুম মিনান নাওম।
সপ্তম পাঠ [১২]
[১২] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - শিক্ষক তাঁর ছাত্রদের মাঝে ফজরের সালাত ও অন্যান্য সালাতের জন্য আযান ও ইকামতের বাস্তব প্রয়োগ করবেন। - শিক্ষক ছাত্রদেরকে সুন্নতসহ আযান ও ইকামত প্রয়োগ করতে বলবেন। - শিক্ষক ছাত্রদেরকে এ বিষয়ে অবহিত করবেন যে, মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার নিয়মাবলি (পরিপূর্ণ পর্দা - সুগন্ধি ব্যবহার না করা) মেনে মসজিদে সালাত আদায় করা জায়েয, তবে তাদের ঘরে সালাত আদায় করাই উত্তম।
আযানের সুন্নাতসমূহ
মুয়াজ্জিনের জন্য সুন্নাত:
১- কিবলামুখী হওয়া।
২- তার উভয় হাতের আঙ্গুল দুই কানে রাখবে।
৩- উচ্চস্বরে আযান দিতে হবে।
৪- আযান থেমে থেমে দিবে অর্থাৎ এর প্রত্যেক বাক্যের পর কিছুক্ষণ চুপ থাকবে।
৫- (حَيَّ على الصَّلاةِ) বলার সময় ডানে এবং (حَيَّ على الفَلاحِ) বলার সময় বামে মুখ ফেরাবে।
যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনবে তার জন্য সুন্নাত হল:
১- মুয়াযযিন যা বলে, তা-ই বলবে। তবে তার (حَيَّ على الصَّلاةِ، حَيَّ على الفَلاحِ) বলার সময় বলবে: (لا حَوْلَ ولا قُوَّةَ إلّا بِاللهِ)।
২- মুয়াযযিন এবং যে ব্যক্তি তা শুনবে তার জন্য আযান শেষ হওয়ার পর সুন্নাত হল:
ক- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করা।
২- জাবের ইবন আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত হাদিসে যা এসেছে তা বলা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আযান শুনে এই দু‘আ বলবে, اللَّهمَّ رَبِّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلَاةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَّحْمُودًا الَّذِي وَعَدتَّهُ (হে আল্লাহ এই পূর্ণাঙ্গ আহবান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের তুমিই রব! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তুমি জান্নাতের সর্বোচ্চ স্থান ও মর্যাদা দান করো এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছো)। তার জন্য কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ অনিবার্য হয়ে যাবে।” [13] [১৩] সহীহ বুখারী: অধ্যায়: আযান, অনুচ্ছেদ: আযানের সময় দো‘আ, হাদীস নং (৬১৪)।
- মুসলিমের জন্য উচিত হলো আযান শোনার পর মাসজিদের দিকে অগ্রসর হওয়া এবং অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত না হওয়া।
আর মুসলিম নারী নিজ ঘরে সালাত আদায়ে তৎপর হবে; কারণ তা উত্তম, তাঁর (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) নির্দেশনা হল: “তাদের ঘরগুলোই তাদের জন্য শ্রেয়।” [১৪] [১৪] আহমাদ, হাদীস নং (৫৪৭১), এর মুহাক্কিকগণ বলেন: "হাদীসটি সহীহ"।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: আযানের সুন্নাতসমূহ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: শূন্যস্থান পূর্ণ কর:
১- মুয়াযযিন এবং যে ব্যক্তি মুয়াযযিনের আযান শুনবে তার জন্য সুন্নাত হলো আযান শেষ হওয়ার পর বলা: .......................................................
২- আযান শেষ হওয়ার পর যে দোয়া বলতে হয় তা হলো: ..........................................
প্রশ্ন ৩: আযান শুনলে মুসলিমের উচিত ..........................................
অষ্টম পাঠ [১৫]
[১৫] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - মুমায়্যিয: সে ব্যক্তি, যে সম্বোধন বোঝে এবং উত্তর দিতে পারে। আর মুমায়্যিয হওয়ার বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ মত হলো সাত বছর। - সালাত আদায়ের স্থান নাপাক হওয়ার অর্থ হলো: নাপাকি একজন মুসল্লীর নিচে এমনভাবে থাকা যাতে তার শরীরের কোনো অংশ নাপাকির সাথে লেগে যায়। তবে যদি নাপাকি যেমন- জায়নামাযের এক প্রান্তে থাকে এবং সে তা স্পর্শ না করে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। - আল্লাহ সালাতের সময় সৌন্দর্য অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন। সুতরাং তিনি বলেছেন: ﴿يَٰبَنِيٓ ءَادَمَ خُذُواْ زِينَتَكُمۡ عِندَ كُلِّ مَسۡجِدٖ...﴾ [আল-আ‘রাফ: ৩১] (অর্থ) “হে আদম সন্তান তোমরা প্রত্যেক সালাত তোমাদের সৌন্দর্যকে অবলম্বন কর”। অর্থাৎ: প্রত্যেক সালাতের সময়। এ কারণেই একজন মুসলিমের উচিত সালাতে তার সর্বাধিক সুন্দর ও উত্তম পোশাক পরিধান করা এবং বেমানান পোশাক পরে তাতে উপস্থিত না হওয়া।
সালাতের শর্তসমূহ
সালাতের নয়টি শর্ত রয়েছে, যা ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হয় না, সেগুলো হলো:
১- মুসলিম হওয়া: সুতরাং কাফেরের পক্ষ হতে সালাত শুদ্ধ হবে না; কেননা আমল কবুল হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো: আল্লাহর প্রতি ঈমান, আর কাফের মুমিন নয়, সুতরাং তার আমল কবুল করা হবে না।
২- জ্ঞানবান হওয়া: সুতরাং পাগলের মত যার জ্ঞান চলে গেছে তার সালাত শুদ্ধ নয়।
৩- ভালো-মন্দের পার্থক্য করার ক্ষমতা থাকা: সুতরাং শিশুর সালাত বিশুদ্ধ নয়, যতক্ষণ না সে ভালো-মন্দ বোঝার বয়সে উপনীত হয়, আর তা হচ্ছে সাত বছর।
৪- অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা: সুতরাং অপবিত্র ব্যক্তির সালাত শুদ্ধ হয় না, যতক্ষণ সে অযু না করে। আর এর দলীল হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "“অযু নষ্ট হলে পুনরায় অযু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তোমাদের কারো সালাত কবুল করবেন না।” [১৬]" আর আল মুহদেস হলো: প্রস্রাব, পায়খানা অথবা অযু ভঙ্গের কারণসমূহ হতে কোনো কারণে যার অযু ভেঙ্গে যায়। [১৬] সহীহ বুখারী, কিতাবুল হিয়াল ফিস সালাত, হাদীস (৬৯৫৪)।
৫- নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জন করা: আর তা হলো (শরীর, পোশাক ও সালাতের স্থান) থেকে পানি দিয়ে নাপাকি দূর করা।
৬- ওয়াক্ত হওয়া: সুতরাং ওয়াক্ত হওয়ার আগে সালাত আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে না এবং কোনো ওযর ছাড়া সালাতকে তার সময় থেকে বিলম্ব করা হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়িম করা মু’মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০৩], অর্থাৎ সময়ে সালাত আদায় করা ফরজ।
৭- সতর ঢাকা: সুতরাং যে ব্যক্তি তার সতর খুলবে তার সালাত সহীহ হবে না। পুরুষের সতর হলো নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত। আর সালাতে নারীর চেহারা ও দুই কব্জি ছাড়া তার পুরো শরীরই সতর, যতক্ষণ না সে বেগানা পুরুষদের সামনে থাকে; আর বেগানা পুরুষদের সামনে থাকলে তাদের থেকে তার চেহারা ও দুই কব্জি ঢেকে রাখা তার ওপর ওয়াজিব।
৮- কিবলামুখী হওয়া: আর তা হলো কাবা, দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: ... তুমি তোমার চেহারা ফিরাও মসজিদের দিকে [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৪৪]
- আর সালাত আদায়কারী (মুসল্লী) যদি মসজিদুল হারামে থাকে, তবে সে সরাসরি কাবার দিকে মুখ করবে।
- আর যদি সে কাবা থেকে দূরে থাকে, তবে কাবা যেদিকে অবস্থিত সেদিকে মুখ করবে।
৯- নিয়ত করা: তা হলো, সে যে সালাত আদায় করতে চাচ্ছে তার নিয়ত করা, যেমন: যোহর অথবা আছর ইত্যাদি।
দলীল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর প্রত্যেক মানুষের জন্য তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল রয়েছে।” [১৭] [১৭] সহীহ বুখারী: ওহীর সূচনা সংক্রান্ত পর্ব, অধ্যায়: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি কীভাবে ওহীর সূচনা হয়েছিল, হাদীস নং (১); এবং সহীহ মুসলিম: নেতৃত্ব সংক্রান্ত পর্ব, অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: “নিশ্চয়ই আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল”, হাদীস নং (১৯০৭)।
আর নিয়তের স্থান হলো অন্তর, মুখে তা উচ্চারণ করা বিদআত।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: সালাতের শর্তসমূহ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত বিষয়গুলো শর্ত হওয়ার পক্ষে দলীল উল্লেখ কর:
ক- হাদাছ- নাপাকী থেকে পবিত্র হওয়া।
খ- কিবলামুখী হওয়া।
গ- নিয়ত করা।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বর্ণনা কর:
ক- যেসব বস্তু থেকে অপবিত্রতা দূর করা হয়।
খ- বিলম্বে সালাত আদায় করার বিধান।
গ- পুরুষের সতরের সীমা।
ঘ- মসজিদুল হারামে অবস্থানকালে সালাত আদায়কারীর দিক।
ঙ- সালাতে নারীর সতরের সীমা।
নবম পাঠ [১৮]
[১৮] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - সূর্য যখন পূর্ব দিক থেকে উদয় হয়, তখন প্রত্যেক দণ্ডায়মান বস্তুর একটি দীর্ঘ ছায়া থাকে। সূর্য যতই উপরের দিকে উঠে ততই ছায়াটি ছোট হতে থাকে। আর সূর্য যতই উপরের দিকে উঠে এই ছায়াটি ক্রমাগত ছোট হতে থাকে, এমনকি যখন সূর্য আকাশের মাঝখানে পৌছে, তখন ছোট হওয়া শেষ হয়। অতঃপর যখন ছায়াটি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন সূর্য ঢলে পড়ে, আর তখন যোহরের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর এই ওয়াক্ত বলবৎ থাকে কোন বস্তুর ছায়া সূর্য ঢলে পড়ার সময়ের ছায়া বাদ দিয়ে তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত। কারণ হলো, সূর্য ঢলে পড়ার সময় যে ছায়া থাকে তা হিসাব করা হয় না। সুতরাং যখন ছায়াটি ছোট হওয়া শেষ হয় এবং তা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন বৃদ্ধি পাওয়ার শুরুতে একটি চিহ্ন দিন। তারপর যখন ছায়াটি এই চিহ্ন থেকে দণ্ডায়মান বস্তুর দৈর্ঘ্য পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন যোহরের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায় এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়। আর আসরের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। - ফজর দু প্রকার: প্রথম ফজর, যা হলো আকাশের পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে প্রলম্বিত দীর্ঘায়িত শুভ্রতা। এর ওপর শরীয়তের কোনো বিধান আরোপিত হয় না। আর দ্বিতীয় ফজর, যা হলো দিগন্তে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে আড়াআড়িভাবে ছড়িয়ে পড়া শুভ্রতা। আর এর ওপর ভিত্তি করেই ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়া, রোজাদারের পানাহার থেকে বিরত থাকা ইত্যাদির বিধান আরোপিত হয়। - শাফাক: এটি হলো লালিমা, যা সূর্য ডোবার ঠিক পর থেকে শেষ এশা পর্যন্ত দিগন্তে প্রকাশ পায়।
ফরয সালাতসমূহের ওয়াক্তসমূহ [১৯]
[১৯] শিক্ষক ছাত্রদের নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন: - মসজিদে সঠিক সময়ে এবং জামাআতের সাথে সালাত আদায় করার প্রতি যত্নবান হওয়া, পক্ষান্তরে নারীরা তাদের ঘরে সালাত আদায় করবে। - দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া, যাতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে পারে এবং ফজরের সালাতের জন্য সতেজতার সাথে জাগ্রত হতে সক্ষম হয়। - বিনা প্রয়োজনে রাত জাগার অপকারিতা।
ফরয সালাতের ওয়াক্তসমূহ হলো:
১. ফজর: দ্বিতীয় ফজর উদিত হওয়া থেকে নিয়ে সূর্যোদয় পর্যন্ত।
২. যোহর: সূর্য পশ্চিম আকাশে ঢলে যাওয়া থেকে প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার সমপরিমাণ হওয়া পর্যন্ত।
৩. আসর: যোহরের সময় শেষ হওয়া থেকে প্রত্যেক জিনিসের ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত।
৪. মাগরিব: সূর্যাস্ত থেকে সান্ধ্য লালিমা অস্ত যাওয়া পর্যন্ত।
৫. এশা: লাল আভা অদৃশ্য হওয়া থেকে শুরু করে মাঝরাত পর্যন্ত।
সালাতকে তার সময় থেকে বিলম্ব করার হুকুম:
সালাতকে তার সময় থেকে বিলম্ব করা বৈধ নয়। আর যে ব্যক্তি তা করবে, সে বড় ধরণের একটি পাপে নিমজ্জিত হল। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: অতএব সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য দুর্ভোগ, যারা নিজেদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন, [সূরা আল-মা‘ঊন, আয়াত: ৪-৫]
অর্থাৎ, তারা সালাত তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে আদায় করে।
ছুটে যাওয়া সালাতের কাযা:
যে ব্যক্তি সালাতের সময় ঘুমিয়ে পড়ে অথবা তা আদায় করতে ভুলে যায় ও সময় শেষ হয়ে যায়, তখন তার কর্তব্য হলো জাগ্রত হলে অথবা স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে নেওয়া এবং এরপর তা আদায়ে বিলম্ব করা তার জন্য জায়েয নয়। এর প্রমাণ হলো আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত হাদীস, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: "“যদি কেউ কোনো সালাত ভুলে যায় অথবা সালাতের সময় ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে তার কাফ্ফারা হলো যখন তা স্মরণ করবে, তখনই তা আদায় করা”," তাঁর অন্য বর্ণনায় রয়েছে: “তা ছাড়া এর কোন কাফফারা নেই।” [২০] [২০] সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: মাসাজিদ ও সালাতের স্থানসমূহ, পরিচ্ছেদ: ছুটে যাওয়া সালাতের কাযা এবং তা দ্রুত কাযা করা মুস্তাহাব (১/৪৭৭), হাদীস নং (৬৮৪)।
ইশার সালাতের আগে ঘুমানোর এবং পরে কথা বলার বিধান:
কোনো প্রয়োজন ব্যতীত ‘ইশার সালাতের আগে ঘুমানো এবং এর পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দনীয়, যাতে কিয়ামুল লাইল আদায়ে অলসতা না আসে অথবা ফজরের সালাত ছুটে না যায়। আর এর দলিল: আবূ বারযাহ রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত। “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘ইশার আগে ঘুমানো এবং এর পরে কথাবার্তা বলাকে অপছন্দ করতেন।”[২১] [২১] বুখারী, কিতাব: মাওয়াকিতুস সালাত, বাব: ‘ইশার আগে ঘুমানো অপছন্দনীয়, হাদীস নং (৫৬৮)।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: শূন্যস্থান পূরণ করো:
১- ফজর সালাতের ওয়াক্ত ..................... ২- যোহর সালাতের ওয়াক্ত .....................
৩- আসরের সালাতের ওয়াক্ত ..................... ৪- মাগরিবের সালাতের ওয়াক্ত .....................
৫- এশার সালাতের ওয়াক্ত ..................... .....................
প্রশ্ন ২: শূন্যস্থান পূর্ণ কর:
১-..................... সালাতকে তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্ব করা, আর যে তা করল সে ..................... , আর এর দলিল হলো আল্লাহর বাণী: ﴿.................... سَاهُونَ ৫﴾ অর্থাৎ: .....................
২- আর যে ব্যক্তি সালাতের সময় ঘুমিয়ে পড়ে অথবা তা ভুলে যায় এমনকি তার ওয়াক্ত চলে যায়, তাহলে তার ওপর ..................... ওয়াজিব যখন ..................... এবং তার জন্য ..................... জায়েয নয়।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর কারণ উল্লেখ করো:
১- ‘ইশার আগে ঘুমানো মাকরূহ ..................... .....................
২- ইশার পর কথাবার্তা বলা মাকরুহ ..................... .....................
দশম পাঠ [২২]
[২২] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - সালাতের ধীরস্থিরতা হচ্ছে: ওয়াজিব দোয়া-যিকির আদায়ের সময় পর্যন্ত স্থির থাকা। এটি বিনয় থেকে ভিন্ন, কেননা বিনয় হলো অন্তরের উপস্থিতি। সালাতে বিনয় শরীয়তসম্মত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত; বরং এটি সালাতের মূল ও প্রাণ। মানুষের সালাতের ততটুকুই তার জন্য অর্জিত হয়, যতটুকু সে অনুধাবন করে। তাই শিক্ষক ছাত্রদেরকে সালাতে বিনয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করবেন এবং এর উপায়সমূহ তাদের নিকট বর্ণনা করবেন। - যেহেতু 'সালাতে ভুলকারীর হাদীস'-এ সালাতের বেশ কয়েকটি রোকন একত্রিত হয়েছে, তাই "তাকবীরাতুল ইহরাম"-এর প্রসঙ্গ এসেছে এমন প্রথম স্থানেই শিক্ষক তা উল্লেখ করবেন। অতঃপর এই রুকনসমূহের ব্যাপারে তা থেকে প্রাপ্ত দলীল বর্ণনা করবেন এবং এগুলোর মাঝের সমন্বয় সাধন করবেন।
সালাতের রুকনসমূহ
সালাতের রুকন চৌদ্দটি, সেগুলো হলো:
১- সামর্থ্য থাকলে ফরয সালাতে দাঁড়ানো, এর দলীল হলো ইমরান ইবনু হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীস, তিনি বলেন, আমার অর্শরোগ ছিল, তাই আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: “দাঁড়িয়ে সলাত আদায় কর, তা না পারলে বসে; যদি তাও না পার তাহলে কাত হয়ে।”[২৩] [২৩] সহীহ বুখারী, অধ্যায়: তাহাজ্জুদ, পরিচ্ছেদ: যদি বসে সালাত আদায়ে সক্ষম না হয়, তবে কাত হয়ে সালাত আদায় করবে, হাদীস নং (১১১৭)।
২। সালাতের শুরুতে তাকবীরে তাহরীমা বলা, আর তা হচ্ছে: “আল্লাহু আকবার” বলা। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন আল্লাহু আকবার বলবে।” [২৪]" [২৪]হাদীসটি বর্ণনা করেছেন সহীহ বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব: ইমাম ও মুক্তাদির জন্য সকল সালাতে কিরআত আবশ্যক হওয়া, হাদীস নং (৭৫৭)। মুসলিম, কিতাবুস সালাত, বাব: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ আবশ্যক হওয়া, হাদীস নং (৩৯৭)।
৩- প্রতি রাকাআতে সূরা ফাতিহা পড়া। কারণ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার কোন সালাত নেই।” [২৫]" [২৫] হাদীসটি বর্ণনা করেছেন সহীহ বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব: সকল সালাতে ইমাম ও মুক্তাদির জন্য কিরআত আবশ্যক হওয়া, হাদীস নং (৭৫৬)।
৪- রুকু করা। কারণ, তিনি (ﷺ) বলেছেন: “ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ করবে।”
৫- রুকু থেকে উঠা এবং রুকু থেকে উঠার পর সোজা হয়ে দাঁড়ানো, কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "অতঃপর রুকু হতে উঠবে এবং সোজা হয়ে দাঁড়াবে”।"
৬- সাতটি অঙ্গের উপর সিজদা করা। আর এর দলীল হলো ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: নবী ﷺ বলেছেন: “আমি সাতটি অঙ্গের দ্বারা সাজদাহ্ করার জন্য নির্দেশিত হয়েছি। কপালের উপর এবং তিনি হাত দিয়ে নাকের প্রতি ইশারা করে নাককে এর অন্তর্ভুক্ত করেন, আর দু’ হাত, দু’ হাঁটু এবং দু’ পায়ের আঙ্গুলসমূহের উপর।” [২৬] [২৬] সহীহ বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব: নাকের উপরে সিজদা করা, হাদীস (৮১২); মুসলিম, কিতাবুস সালাত, বাব: সিজদার অঙ্গসমূহ এবং সালাতের মধ্যে চুল, কাপড় ও মাথার বেণী ধরা হতে নিষেধাজ্ঞা, হাদীস (৪৯০)।
আর সাতটি অঙ্গ হলো:
১. নাকসহ কপাল
২-৩ উভয় হাতুলী
৪-৫ উভয় হাঁটু
৬-৭ দু’ পায়ের প্রান্তভাগ
৭। সিজদা থেকে উঠা।
৮- দুই সিজদার মাঝে বসা, আর সিজদা হতে উঠা এবং দুই সিজদার মাঝে বসার দলীল হচ্ছে নবী ﷺ এর বাণী: “অতঃপর ওঠবে ও স্থির হয়ে বসবে।” [২৭] [২৭] হাদীসটি বর্ণনা করেছেন সহীহ বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব: সকল সালাতে ইমাম ও মুক্তাদির জন্য কিরআত আবশ্যক হওয়া, হাদীস নং (৭৫৭), আর শব্দগুলো তাঁরই। এবং মুসলিম বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাত, বাব: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ আবশ্যক হওয়া, হাদীস নং (৩৯৭)।
৯- শেষ তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু) , আর তা হলো তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু) পাঠ করা।
১০- শেষ তাশাহহুদের জন্য বসা; আর এর প্রমাণ হলো ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-এর উক্তি: তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু) ফরয হওয়ার আগে আমরা সালাতে বলতাম: “আল্লাহর উপরে শান্তি বর্ষিত হোক, জিবরীল ও মিকাইলের উপরে শান্তি বর্ষিত হোক।” তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা এরূপ বলবে না; কেননা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নিজেই "আস সালাম" বরং তোমরা বলবে: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكُمْ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّـهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّـهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّـهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ অর্থ: ‘‘সব ধরনের বড়ত্ব সম্মান, সালাত ও পবিত্রতা(যাবতীয় ইবাদত) আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি-নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম শান্তি-নিরাপত্তা আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।’’” [২৮] [২৮] সুনানে নাসায়ী: সাহু পর্ব, অধ্যায়: তাশাহহুদ ওয়াজিব হওয়া, হাদীস নং (১২৭৭), আর শব্দাবলি তাঁরই, এবং বায়হাকী সালাত পর্বে, অধ্যায়: শেষ তাশাহহুদ ওয়াজিব হওয়া (২/৩৭৮), আর সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে “ফরয হওয়ার পূর্বে” কথাটির উল্লেখ ছাড়া হাদীসটির সমর্থক বর্ণনা (শাওয়াহিদ) রয়েছে।
১১- শেষ তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু) পাঠের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরুদ) পাঠ করা:
কেননা নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াসসালাম বলেছেন: “তোমরা বলো: «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ» হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর বরকত দান করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।” [29]" [২৯] সহীহ বুখারী, কিতাবু আহাদীছিল আম্বিয়া বা নবীদের ঘটনাসমূহ, হাদীসের শব্দাবলী ইমাম বুখারীর, হাদীস নং: ৩৩৭০। সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সালাত, বাব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরুদ) পাঠ করা।
১২- দুই সালাম ফিরানো , কেননা নবী ﷺ বলেছেন: (আর সালাত থেকে মুক্ত হওয়া হলো তাসলীম তথা সালাম ফিরানো।) [৩০] [৩০] আবু দাউদ, তাঁর সুনানে (১/১৬), হাদীস নং (৬১) ও তিরমিযী, তাঁর জামে' গ্রন্থে (১/৮), হাদীস নং (৩)।
১৩- সকল রুকনে স্থিরতা অবলম্বন করা, আর এর দলীল হলো সালাতে ভুলকারীর হাদীস; আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, তারপর এক ব্যক্তি প্রবেশ করে সালাত আদায় করল, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিল, তিনি জবাব দিলেন এবং বললেন: «ফিরে যাও ও সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি। তিনি ফিরে গিয়ে পূর্বের মত সালাত আদায় করলেন। অতঃপর এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম করলেন। তিনি বললেন: ফিরে গিয়ে সালাত আদায় কর। কেননা, তুমি সালাত আদায় করনি.. এভাবে তিনবার বললেন। সাহাবী বললেন: সেই মহান সত্তার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমিতো এর চেয়ে সুন্দর করে সালাত আদায় করতে জানি না। কাজেই আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পড়বে। অতঃপর রুকু‘তে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ করবে। অতঃপর মাথা তুলে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। অতঃপর ধীরস্থিরভাবে সাজদাহ করবে ও সাজদাহ্ হতে উঠে স্থির হয়ে বসবে। আর তোমার পুরো সালাতে এভাবেই করবে।» [৩১] [৩১] হাদীসটি বর্ণনা করেছেন সহীহ বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব: সকল সালাতে ইমাম ও মুক্তাদির জন্য কিরআত আবশ্যক হওয়া, হাদীস নং (৭৫৭), আর শব্দগুলো তাঁরই। এবং মুসলিম, কিতাবুস সালাত, বাব: প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ আবশ্যক হওয়া, হাদীস নং (৩৯৭)।
১৪- রুকনসমূহের মাঝে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারাবাহিকভাবে সালাত আদায় করেছেন, এবং বলেছেন: “তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় কর” [৩২]। [৩২] সহীহ বুখারী: অধ্যায়: আযান, অনুচ্ছেদ: একাধিক ব্যক্তি সফরে থাকলে তাদের আযান ও ইকামাত প্রসঙ্গ, হাদীস নং (৬৩১)।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: সালাতের রুকনসমূহ গণনা কর।
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতিটি যে সালাতের রুকন, তার পক্ষে দলীল উল্লেখ কর:
১- দণ্ডায়মান হওয়া। ২- সূরা ফাতিহা পড়া। ৩- সিজদা করা। ৪- ডানে ও বামে দুই সালাম প্রদান।
প্রশ্ন ৩ঃ সালাতে অবস্থান অনুযায়ী নিম্নোক্ত রুকনসমূহ ক্রমানুসারে সাজাও:
শেষ তাশাহহুদ - সূরা ফাতিহা পড়া - দুই সিজদার মাঝখানে বসা - রুকূ করা
প্রশ্ন ৪: সাতটি অঙ্গ কী কী?
..................... ..................... ..................... ..................... .....................
প্রশ্ন ৫: শেষ তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু) লিখুন।
..................... ..................... ..................... ..................... .....................
প্রশ্ন ৬: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে দরুদ লিখ।
..................... ..................... ..................... ..................... .....................
একাদশ পাঠ [৩৩]
[৩৩] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: - শিক্ষক ছাত্রদের উদ্দেশ্যে ইমাম, মুক্তাদি ও মুনফারিদের মাঝে পার্থক্য তুলে ধরবেন: ইমাম: তিনি, যিনি সালাতে মানুষের ইমামতি করেন, অর্থাৎ তাদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। মুক্তাদি: সে, যে ইমামের অনুসরণ করে, অর্থাৎ তাঁর সাথে সালাত আদায় করে। মুনফারিদ: সে, যে একাকী সালাত আদায় করে। - রুকুর তাকবীর ওয়াজিব, তবে যে ব্যক্তি ইমামকে রুকু অবস্থায় পায় তার বিধান ভিন্ন। কেননা সে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকবীরে তাহরিমা বলবে, অতঃপর মুস্তাহাব হিসেবে রুকুর তাকবীর বলে রুকুতে যাবে— যদি তার পক্ষে তা সম্ভব হয়— অন্যথায় তার জন্য তাকবীরে তাহরিমাই যথেষ্ট হবে।
সালাতের ওয়াজিবসমূহ
সালাতের ওয়াজিব আটটি, তা হলো:
১- শুরুর তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত সকল তাকবীর, কেননা তা রুকন।
২- ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য “সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ” (سمعَ اللهُ لِمَن حَمِدَه) বলা, মুক্তাদীর জন্য নয়।
৩- ইমাম, মুক্তাদী ও একাকী সকল সালাত আদায়কারীর জন্য “রব্বানা- ওয়া লাকাল হামদ” (رَبَّنا ولك الحمْدُ) বলা।
৪- রুকুতে “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম” (سبحان ربي العظيم) বলা।
৫- সিজদাতে “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা” (سُبْحانَ ربي الأَعْلَى) বলা।
৬- দুই সিজদার মাঝখানে “রব্বিগফিরলী” (-হে আল্লাহ তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও - رَبّ اغْفِر لي) বলা।
৭- প্রথম তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু) ।
৮- প্রথম তাশাহুদের(আত্তাহিয়্যাতুর) জন্য বসা।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: সালাতের ওয়াজিবসমূহ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ২: সঠিক উত্তরটির নম্বরে বৃত্ত আঁকুন:
ক- سَمِعَ اللهُ لمَنْ حَمِدَه “আল্লাহ তা‘আলা প্রশংসাকারীর প্রশংসা শোনেন” সে বলবে:
১- ইমাম, মুক্তাদী ও একা সালাত আদায়কারী। ২- শুধুমাত্র ইমাম ও একা সালাত আদায়কারী। ৩- শুধুমাত্র ইমাম ও মুক্তাদী।
খ- “রব্বানা- ওয়া লাকাল হামদ” (رَّبنا ولك الحمْد), এটি বলবে:
১- ইমাম, মুক্তাদী ও একা সালাত আদায়কারী। ২- শুধুমাত্র ইমাম ও একা সালাত আদায়কারী। ৩- শুধুমাত্র ইমাম ও মুক্তাদী।
গ- سُبْحانَ ربي العَظِيم “আমার মহান রব পবিত্র”, এটি বলা হয়:
১- সিজদায় ২- দুই সিজদার মাঝখানে। ৩- রুকুতে ।
প্রশ্ন ৩: উপযুক্ত স্থানে (রুকন/ওয়াজিব) বসাও:
রুকু থেকে উঠা
শুরুর তাকবীরে তাহরীমা
“রাব্বিগফিরলী” (رَبِّ اغْفِرْ لي) বলা।
“সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা” (سُبْحان ربي الأَعْلى) বলা।
সূরা ফাতিহা পড়া।
প্রথম তাশাহহুদ(আত্তাহিয়্যাতু)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পড়া
দ্বাদশ পাঠ [৩৪]
[৩৪] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: যে ব্যক্তি ভুলে বা না জেনে সালাতের কোনো রুকন, যেমন রুকু বা সেজদা ছেড়ে দেয়, তার কয়েকটি অবস্থা রয়েছে: ১- যদি অন্য রাকাতের কিরাত শুরু করার আগে তা মনে পড়ে, এমতাবস্থায় তার ওপর ওয়াজিব হলো ফিরে গিয়ে সেটি ও তার পরের অংশ আদায় করা, তারপর সালাত পূর্ণ করবে এবং সেজদা সাহু করবে। ২- যদি অন্য রাকাতের কিরাত শুরু করার পর তার মনে পড়ে, এমতাবস্থায় যে রাকাত থেকে রুকনটি ছেড়ে দিয়েছে সে রাকাতটি বাতিল হবে এবং পরের রাকাতটি তার স্থলাভিষিক্ত হবে। আর সে সেজদা সাহু করবে। ৩- যদি সালাত শেষ হওয়ার পর রুকনটির কথা মনে পড়ে, তবে তা পূর্ণ একটি রাকাত ছেড়ে দেওয়ার মতো গণ্য হবে। এমতাবস্থায় যদি মাঝখানে লম্বা সময় অতিক্রম না করে থাকে, তাহলে সে পূর্ণ একটি রাকাত আদায় করবে, তাশাহহুদ পড়বে, সেজদা সাহু করবে এবং সালাম ফিরাবে। আর যদি লম্বা সময় অতিক্রম করে, তাহলে সে নতুনভাবে সালাত শুরু করবে এবং তার ওপর কোনো সেজদা সাহু নেই। ৪- যদি ছুটে যাওয়া অংশটি শেষ তাশাহহুদ বা সালাম হয়, এমতাবস্থায় সে যা ছেড়ে দিয়েছে তা আদায় করবে, এবং সেজদা সাহু করবে ও সালাম ফিরাবে। আর এটি পূর্ণ একটি রাকাত ছেড়ে দেওয়ার মতো গণ্য হবে না।
রুকন এবং ওয়াজিবের মধ্যে পার্থক্য
রুকন এবং ওয়াজিবের মধ্যে একটি বিষয়ে মিল রয়েছে এবং অন্য একটি বিষয়ে পার্থক্য রয়েছে:
ক- রুকন ও ওয়াজিবের মধ্যে যে বিষয়ে মিল রয়েছে:
রুকন ও ওয়াজিব উভয়টি এই ক্ষেত্রে এক যে, মুসল্লী যদি এর কোনো একটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেয়, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে।
খ- যে ক্ষেত্রে রুকন এবং ওয়াজিবের মধ্যে পার্থক্য:
- মুসল্লি যদি ভুলবশত বা অজ্ঞতাবশত রুকন ছেড়ে দেয়, তাহলে তা বাদ হয়ে যাবে না; বরং তাকে তা আদায় করা ওয়াজিব এবং সেজদা সাহু করবে।
- যদি কোনো মুসল্লি ভুলে বা না জেনে ওয়াজিব ছেড়ে দেয়, তাহলে তা বাদ হয়ে যাবে এবং এর পরিবর্তে সে সেজদা সাহু করবে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: শুদ্ধ(শুদ্ধ ) অথবা ভুল (ভুল) লিখে উত্তর দাও এবং সঠিক উত্তরটি লেখ:
১- রুকন: যদি কোন মুসল্লী ইচ্ছাকৃতভাবে তা ত্যাগ করে; তার সালাত বাতিল।
২- যদি কোন মুসল্লী ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াজিব ত্যাগ করে; তার সালাত বাতিল।
৩- মুসল্লী যদি ভুলে রুকন বাদ দেয়, তার সালাত বাতিল হবে।
প্রশ্ন ২: সঠিক উত্তরটির নম্বরে গোল দাগ দিন:
ক- মুসল্লী যদি ওয়াজিব ছেড়ে দেয় তবে তা রহিত হয়ে যায়:
১- ভুলবশত ২- ইচ্ছাকৃতভাবে ৩- কখনোই রহিত হয় না।
খ- রুকন রহিত হয়ে যায়, যদি মুসল্লি তা ছেড়ে দেয়:
১- অজ্ঞতাবশত ২- ভুলবশত ৩- কখনোই রহিত হয় না।
গ-ওয়াজিব যদি মুসল্লি ভুলে ছাড়ে তাহলে:
১- তা পালন করবে ২- তার পরিবর্তে সাহু সিজদা করবে ৩- তার ওপর কিছুই নেই।
ত্রয়োদশ পাঠ:
সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর
بِسۡمِ ٱللَّهِ অর্থাৎ আমি আল্লাহর সাহায্য কামনা করে শুরু করছি।
আর-রহমান (ٱلرَّحۡمَٰنِ) তথা: সমস্ত সৃষ্টিকুলের জন্য সুপ্রশস্ত রহমতের মালিক।
ٱلرَّحِيمِ “আর-রহীম” তথা: তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্য বিশেষ রহমতের মালিক।
﴿ﭐٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ﴾ “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই”: আল্লাহর পরিপূর্ণ গুণাবলি ও বিপুল অনুগ্রহের ভিত্তিতেই তাঁর প্রশংসা করা।
﴿رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ﴾ ‘রব’ হলেন: মালিক ও পরিচালক। "العالمين-আল আলামীন": এটি "عالم-আলাম" -এর বহুবচন, আর আল্লাহ ছাড়া যাবতীয় মাখলুকই عالم বা বিশ্বজগতের অন্তর্ভুক্ত। আর (رَبّ العالَمِين)-এর অর্থ হলো: তাদের মালিক, তাদের প্রতিপালনকারী এবং তাদের যাবতীয় বিষয়াদির পরিচালক।
{ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ} “আর-রহমান, আর-রহীম” আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর দুটি নাম, যাতে রহমতের সিফাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
﴿مَٰلِكِ يَوۡمِ ٱلدِّينِ﴾ “বিচার দিনের মালিক”: অর্থাৎ আমলের হিসাব ও প্রতিদান দেওয়ার দিন, আর এটি হচ্ছে কিয়ামাতের দিন।
﴿إِيَّاكَ نَعۡبُدُ﴾ “আমরা আপনারই ইবাদাত করি”, তথা: আমরা আপনাকে ছাড়া কারো ইবাদাত করি না। আর ইবাদাত হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার প্রতি পরিপূর্ণ ভালোবাসা ও পরিপূর্ণ বিনয়ের সাথে তাঁর আনুগত্য করা।
﴿وَإِيَّاكَ نَسۡتَعِينُ﴾ “আমরা শুধু আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি” অর্থাৎ: আমরা আপনি ছাড়া অন্য কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি না, আর সাহায্য প্রার্থনা হলো: একমাত্র আল্লাহ ‘আজ্জা ওয়া জাল্লা-এর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা।
﴿ٱهۡدِنَا﴾ অর্থাৎ: আমাদেরকে দেখিয়ে দিন, পথ বাতলে দিন আর আমাদেরকে তৌফিক দিন।
﴿ٱلصِّرَٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ﴾ অর্থ: সুস্পষ্ট রাস্তা যাতে কোনো বক্রতা নেই, আর তা হলো: সে দ্বীন যা আল্লাহ তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল করেছেন।
﴿صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ﴾ “তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নি‘আমাত দিয়েছেন” অর্থাৎ তাদের পথ যাদেরকে আপনি হিদায়াতের নি‘আমাত দিয়েছেন, নবী, সিদ্দীক, শহীদ এবং সৎকর্মশীলগণের মধ্য হতে।
﴿غَيۡرِ ٱلۡمَغۡضُوبِ عَلَيۡهِمۡ﴾: এরা হচ্ছে তারা, যারা তাদের ইলম বা জ্ঞান অনুযায়ী আমল করে না, যেমন ইহুদী এবং তাদের মতো অন্যান্যরা।
﴿وَلَا ٱلضَّآلِّينَ ﴾ “এবং তাঁদের পথেও নয়, যারা পথভ্রষ্ট।” এরা হচ্ছে তারা, যারা ইলম ছাড়াই আমল করে, যেমন খৃস্টানরা এবং তাদের অনুরূপ লোকেরা।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: বিসমিল্লাহ (بِسْمِ اللهِ)-এর অর্থ কী?
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত বাক্যগুলোর অর্থ বর্ণনা করো: (আল-হামদুলিল্লাহ), (রাব্বুল আলামীন), (আস-সিরাতুল মুস্তাকীম)।
প্রশ্ন ৩: (ইবাদত) ও (ইস্তিয়ানা)-এর পরিচয় দাও।
প্রশ্ন ৪: কারা সেই সম্প্রদায় যাদের উপর আল্লাহ নি‘আমাত দান করেছেন? এবং তাদেরকে কী নি‘আমাত দান করেছেন?
প্রশ্ন ৫: সেই সম্প্রদায় কারা, যাদের ওপর আল্লাহর গযব নেমে এসেছে?
প্রশ্ন ৬: কারা সেই সম্প্রদায়, যাদেরকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট বলে আখ্যায়িত করেছেন?
চতুর্দশ পাঠ:
তাশাহহুদের(আত্তাহিয়্যাতুর) অর্থের বর্ণনা
"«التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّـهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّـهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّـهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ» “সব ধরনের মহত্ত্ব-সম্মান, সালাতসমূহ এবং সকল মৌখিক,দৈহিক ও আর্থিক ‘উত্তম আমল আল্লাহরই জন্য। হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর সবধরনের নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সকল নিরাপত্তা আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো মা‘বূদ নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।”"
"التَّحيّاتُ لله": সব ধরনের মহত্ত্ব ও সম্মান আল্লাহরই জন্য ।
التَّحِيّاتُ: تحيَّة এর বহুবচন, আর التَّحِيَّة অর্থ: সম্মান, আর এর অর্থ হলো: সকল ধরণের সম্মান আল্লাহরই জন্য উপযুক্ত।
আর সালাতসমূহ: অর্থাৎ প্রচলিত পাঁচ ওয়াক্তের সালাতসমূহ, কেউ বলেন, দোয়াসমূহ।
আর ‘আত-তায়্যিবাত’ হলো: কথা ও কাজের অন্তর্ভুক্ত সেসব সৎকর্ম, যা আল্লাহ তা‘আলা গ্রহণ করেন। এর অর্থ হলো: নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র বস্তু ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেন না; কারণ নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।
"السَّلامُ عليكُم أيُّها النَّبيُّ ورَحْمَة اللهِ وبَركاتُه" (হে নবী! আপনার উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তা, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক): এটি নবী ﷺ-এর জন্য শান্তি-নিরাপত্তার এমন এক দু‘আ, যাতে রয়েছে যাবতীয় অনিষ্ট থেকে মুক্তি; এমন রহমতের দু‘আ, যাতে রয়েছে কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জন; এবং এমন বরকতের দু‘আ, যা হলো সকল কল্যাণের চেয়ে অতিরিক্ত।
السَّلامُ عَلَيْنا وعلى عِبادِ اللهِ الصّالِحِينَ: (সালাম-নিরাপত্তা আমাদের এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের উপর বর্ষিত হোক)। তাঁরা হলেন নবীগণ, ফেরেশতাগণ এবং মুমিনগণের মধ্য হতে সেই সকল ব্যক্তি, যাঁরা আল্লাহর অধিকার ও তাঁর বান্দাদের অধিকারসমূহ আদায়কারী। আর এটি হলো মুসল্লী ও প্রত্যেক নেক বান্দাহর জন্য সকল অনিষ্ট হতে শান্তি-নিরাপত্তার দু‘আ।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই:
(আশ-হাদু): অর্থাৎ আমি আমার অন্তর দ্বারা স্বীকার করছি, জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করছি এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা আমল করছি।
(لا إله إلا الله) অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই।
আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা ও রাসূল: অর্থাৎ আমি স্বীকার করি যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা, তাঁর ইবাদত করা যাবে না এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল, তাঁকে অস্বীকার করা যাবে না; বরং তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করতে হবে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিম্নোক্ত শব্দগুলোর অর্থ বর্ণনা করো: (আত্তাহিয়্যাত), (আস-সালাওয়াত), (আত-তাইয়্যিবাত)।
প্রশ্ন ০২: আমাদের কথা: (السَّلامُ عَلَيْكَ أيُّها النَّبيُّ وَرَحْمَة اللهِ وبَركاتُه)-এ 'নবী' দ্বারা কাকে বোঝানো হয়েছে?
প্রশ্ন ৩: (لا إله إلّا الله) এর অর্থ কি?
প্রশ্ন ৪: (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল) এর অর্থ কী?
পঞ্চদশ পাঠ [৩৫]
[৩৫] শিক্ষকের জন্য নির্দেশিকা: শিক্ষক এই পাঠ থেকে ফায়দা গ্রহণ করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের কিছু অংশ উল্লেখ করবেন, ছাত্রদের অন্তরে তাঁর প্রতি ভালোবাসা গেঁথে দেবেন এবং তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণ করতে এবং তাঁর বিরুদ্ধাচরণ না করতে তাদেরকে উৎসাহিত করবেন। কারণ তাঁর আনুগত্য ও অনুসরণের মাঝেই রয়েছে মহা সাফল্য, আর তাঁর অবাধ্যতা ও বিরুদ্ধাচরণের মাঝে রয়েছে ধ্বংস ও সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতা। পাশাপাশি তিনি তাদেরকে তাঁর ওপর বেশি বেশি সালাত ও সালাম পাঠ করতে উৎসাহিত করবেন এবং তাদের কাছে এর ফযীলত বর্ণনা করবেন। দেখুন: ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ রচিত ‘জালাউল আফহাম ফী ফাদলিস সালাতি ওয়াস সালামি আলা মুহাম্মাদিন খাইরিল আনাম’ গ্রন্থ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত-দরূদ পাঠ করার অর্থ:
“হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরের উপর বরকত দান করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরের উপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।”
اللَّهُمَّ: অর্থ: হে আল্লাহ।
মুহাম্মাদের উপর সালাত নাযিল করুন: অর্থাৎ আপনি উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ফিরিশ্তাদের সামনে তাঁর প্রশংসা করুন।
আলে মুহাম্মদ: তাঁরা হলেন তাঁর আত্মীয়-স্বজন ও তাঁর দ্বীনের অনুসারীগণ।
وبارِك على محمَّد অর্থাৎ: তাঁর ওপর বরকত নাযিল করুন। আর তা হলো অফুরন্ত কল্যাণ।
হামিদ: অর্থাৎ প্রশংসিত, পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত হওয়ার এবং বিপুল নিয়ামত বর্ষণের কারণে।
মাজীদ: অর্থাৎ সম্মানের অধিকারী, আর তা হলো মহত্ব ও আধিপত্য।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: নিম্নোক্ত শব্দগুলোর অর্থ বর্ণনা কর: (আল্লাহুম্মা), (হামীদ), (মাজীদ)।
প্রশ্ন ২: শূন্যস্থান পূর্ণ কর:
১- আল্লাহর পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরূদ)-এর অর্থ: ..................... .....................
২- আলে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন: ..................... ..................... .....................
৩- বরকত হলো: ..................... .....................
৪- (হামীদ) ও (মাজীদ) ..................... ..................... -এর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত দুটি নাম।
শিরোনাম: পাঠ্যক্রম, কিতাবুত তাওহীদ, স্তর (চতুর্থ)।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি: এই ইলমী পাঠ্যসামগ্রীটি সৌদি আরবের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রণীত শিক্ষাক্রমের একটি পরিমার্জিত ও সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে বিবেচিত এবং এটি কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। এই পাঠ্যের মধ্যে ‘ইলমুত তাওহীদ’ বা তাওহীদ শাস্ত্র অধ্যয়নের জন্য নির্দিষ্ট অংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বারোটি (১২) স্তরে বিভক্ত। চতুর্থ স্তরে অন্তর্ভুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে: সৃষ্টিকূল সৃষ্টির হিকমতের বর্ণনা, ইবাদতের সংজ্ঞা এবং এর কয়েকটি প্রকারের উল্লেখ। এছাড়া এতে তাওহীদের প্রকারভেদ ও এর প্রতিটি প্রকারের দলীল নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেই সাথে তাগুতের অর্থের ব্যাখ্যা এবং এর বিভিন্ন রূপ ও প্রকারভেদের বর্ণনাও তুলে ধরা হয়েছে।(আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে নিজ সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষার একটি রীতি। বাংলায় এরীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদে একবচনই ব্যবহার করা হয়েছে।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)
চতুর্থ স্তর
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না। আর সালাত(দরূদ) ও সালাম বর্ষিত হোক উম্মী নবীর ওপর, যাঁকে আল্লাহ প্রেরণ করেছেন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার জন্য। অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার তাওহীদ হলো সর্বাধিক অত্যাবশ্যকীয় বিষয় এবং এ সম্পর্কিত জ্ঞান হলো সর্বাপেক্ষা মহৎ ও শ্রেষ্ঠ জ্ঞান। আর এটাই সেই মূল ভিত্তি যার ওপর আমলসমূহের শুদ্ধতা ও কবুলযোগ্যতা নির্ভরশীল। এর প্রতি বান্দার প্রয়োজনীয়তা অন্য সকল প্রয়োজনীয়তার ঊর্ধ্বে; কেননা তাঁর নাম, গুণাবলী ও কার্যাবলীসহ নিজ রব, মাবুদ ও স্রষ্টা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা ব্যতীত অন্তরসমূহের কোনো জীবন, কোনো সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এবং কোনো প্রশান্তি নেই। তেমনিভাবে দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা এবং পবিত্রতা, সালাত ও অন্যান্য ইবাদতসমূহ আদায়ের পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হলো সৌভাগ্যের অন্যতম লক্ষণ এবং আল্লাহ তা‘আলা যে তাঁর বান্দার কল্যাণ চান তার নিদর্শন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ‘ইলম(সঠিক বুঝ) দান করেন[১]।” [১] সহীহ বুখারী, ইলম পর্ব, অধ্যায়: আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন, হাদীস নং (৭)।
আর এই দৃষ্টিকোণ থেকেই, শিক্ষার্থীদের অন্তরে সঠিক আকীদা বদ্ধমূল করার লক্ষ্যে প্রবাসী সচেতনতা কার্যালয় তাওহীদ বিষয়টি শিক্ষাদানের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে; যেন তারা স্বীয় দ্বীনের বিষয়ে সুস্পষ্ট আলো ও প্রজ্ঞার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারে।
আর তাওহীদ পাঠ্যক্রমের এই চতুর্থ স্তরে শিক্ষার্থীরা মাখলূক সৃষ্টির হিকমত, তাওহীদ ও তার প্রকারভেদ, মানুষের ওপর আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম যা ফরয করেছেন এবং প্রধান প্রধান ত্বাগূত সম্পর্কে শিখবে।
প্রতিটি পাঠের জন্য বিশেষ উদ্দেশ্যমালা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বিষয়বস্তুর প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ; আর এতে সংক্ষিপ্ততা, বর্ণনার স্পষ্টতা, বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে ধীরনীতি গ্রহণ এবং এগুলোর ও পূর্বে পঠিত বিষয়ের মধ্যকার যোগসূত্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। অনুরূপভাবে প্রতিটি পাঠের জন্য প্রশ্ন এবং শিক্ষকের জন্য দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে তিনি কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এগুলোর মাধ্যমে পথনির্দেশ লাভ করতে পারেন।
এ পর্যায়ে শিক্ষকের প্রতি এই উপদেশসমূহ:
১- (ইবাদাতকে) আল্লাহ তা‘আলার জন্য খালেস করা (ইখলাস) আমল কবুল হওয়ার শর্ত; সুতরাং তোমার আমলকে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করে তাঁর (সুবহানাহু) চেহারা দর্শনের উদ্দেশ্যে খালেস কর, তাহলে তুমি তোমার দুনিয়া ও আখিরাতে লাভবান হবে।
২- আমানত রক্ষা করা নাজাতের পথ। আর আপনি - প্রিয় শিক্ষক ভাই - ইসলামের অন্যতম একটি সীমান্তের প্রহরী এবং মুসলিম সন্তানদের বিবেক-বুদ্ধি ও ফিতরাত তথা আল্লাহ প্রদত্ত প্রকৃত স্বভাবের ব্যাপারে আপনি একজন আমানতদার। সুতরাং, উভয় জাহানে সফলতা লাভের জন্য আমানত রক্ষা করুন।
৩- নিশ্চয়ই তাওহীদ বিষয় শিক্ষা প্রদান করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ আমল। কেননা তাওহীদের জ্ঞান অর্জন ও সে অনুযায়ী আমল করা ব্যতীত বান্দাদের কোনো কল্যাণ নেই এবং দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতের আযাব থেকে মুক্তির কোনো উপায় নেই। সুতরাং শিক্ষার্থীদের অন্তরে সঠিক আক্বীদা প্রোথিত করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করুন এবং আপনি যেসব সুউচ্চ আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতি আহ্বান করেন, নিজে তার এক সত্যনিষ্ঠ প্রতিচ্ছবি ও জীবন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে উঠুন।
৪- মাঝ আকাশে মেঘমালা পুঞ্জীভূত হওয়া, বিদ্যুতের ঝলকানি, বজ্রের গর্জন, বৃষ্টি বর্ষণ এবং এ জাতীয় যেসব ঘটনা একজন মুসলিমের অন্তরে ঈমানের প্রেরণা জাগ্রত করে, সেসব পরিস্থিতিকে আল্লাহর তাওহীদ-একত্ব ও তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে আলোচনার জন্য কাজে লাগানো।
৫- দৃষ্টান্ত প্রদানের মাধ্যমে বিষয়বস্তুকে সহজ করা এবং পাঠকে বাস্তব জীবনের সাথে সম্পৃক্ত করার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষয়টির প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টিতে এবং ফলশ্রুতিতে তা শেখা ও তার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে। পরিশেষে আমরা আপনাকে তাঁর ﷺ এই বাণীর সুসংবাদ দিচ্ছি: “নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি তার মৃত্যুর পর তার যে আমল ও নেক আমলসমূহ লাভ করে তার মধ্যে রয়েছে এমন ইলম, যা সে শিক্ষা দিয়েছে এবং প্রচার করেছে”। [২] [২] সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং (২৪২)।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সালাত-দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন। (আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে নিজ সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষার একটি রীতি। বাংলায় এরীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদে একবচনই ব্যবহার করা হয়েছে।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)
বিষয়ভিত্তিক সূচীপত্র:
প্রথম পাঠ: সৃষ্টিকুল সৃষ্টির হিকমত।
দ্বিতীয় পাঠ: ইবাদত।
তৃতীয় পাঠ: তাওহীদ ও তার প্রকারভেদ।
চতুর্থ পাঠ: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ।
পঞ্চম পাঠ: তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ/ইবাদাহ।
ষষ্ঠ পাঠ: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত।
সপ্তম পাঠ: সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর রাসূলগণ।
অষ্টম পাঠ: মানুষের ওপর আল্লাহ সর্বপ্রথম যা ফরয করেছেন।
নবম পাঠ: প্রকৃত ঈমান
দশম পাঠ: শয়তান হলো সবচেয়ে বড় তাগুত।
একাদশ পাঠ: আল্লাহ যা নাযিল করেননি তার মাধ্যমে ফয়সালা করা।
দ্বাদশ পাঠ: যে ব্যক্তি গায়েবের ইলমের দাবি করে, অথবা মানুষ তার ইবাদাত করলে সে সন্তুষ্ট থাকে, সে হলো তাগুত।
ত্রয়োদশ পাঠ: মুমিনের জন্য তাগুতকে অস্বীকার করা জরুরি।
প্রথম পাঠ
সৃষ্টিকুলকে সৃষ্টি করার হিকমাত
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর। অতঃপর:
জেনে রাখুন যে, -আল্লাহ তা‘আলা আপনার প্রতি রহম করুন- আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টিকূলকে সৃষ্টি করেছেন যেন তারা তাঁরই ইবাদত করে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করে।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদাত করার জন্যেই সৃষ্টি করেছি। [আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬]
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
- যে মহান উদ্দেশ্যের জন্য জিন ও মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা হচ্ছে: এক আল্লাহর ইবাদাত করা।
- মানুষকে এ জীবনে এমন কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য ছাড়া সৃষ্টি করা হয়নি, যা সে অর্জন করতে সচেষ্ট হবে।
- যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য কোন ধরণের ইবাদত করবে, যেমন: দু‘আ করা অথবা যবাই করা, তাহলে সে আল্লাহর সাথে শিরক করল। আর সে যদি এমন অবস্থায় মারা যায়, তবে তার প্রতিদান হবে জাহান্নাম এবং তার জন্য জান্নাত হারাম।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: বস্তুত যে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে, তার ওপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম। আর যালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই। [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৭২]
প্রশ্নাবলি:
১- মাখলুক সৃষ্টি করার হিকমাত কী? আর এর দলীল কী?
২- এই জীবনে পানাহার অপরিহার্য, তবে কি এগুলোর জন্যই আমাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে ?
৩- নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করে তাকে ............... বলা হয়, এবং তার শাস্তি ...............
৪- নিম্নোক্ত কাজগুলো গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে করা হলে তার বিধান কী:
সালাত - দু‘আ - ভয় - যবেহ - তাওয়াফ।
দ্বিতীয় পাঠ
ইবাদাত করা
ইবাদত: প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কথা ও কাজসমূহের একটি সামগ্রিক নাম, যা আল্লাহ পছন্দ করেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হন।
আর আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের মাধ্যমে ইবাদাত যথাযথরূপে বাস্তবায়ন হয়; তাঁর আদেশ পালন করা এবং তাঁর নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে।
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
ইবাদতের অনেকগুলো প্রকার রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে: বাহ্যিক ইবাদত, যেমন: সালাত, দু‘আ, যবেহ করা, পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করা, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা এবং সৎকাজের আদেশ দেওয়া ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা। এর মধ্যে আরো রয়েছে: অভ্যন্তরীণ ইবাদত, যেমন: মহব্বত (ভালবাসা), ভয়, আশংকা ও আশা।
আর যাবতীয় ইবাদত আল্লাহর উদ্দেশ্যেই সম্পাদন করা ওয়াজিব। আল্লাহ বলেন, অথচ তাদেরকে কেবল (আল-কুরআনে) এই নির্দেশ দেয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ‘ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে, সালাত কায়িম করে এবং যাকাত দেয়। আর এটিই হলো সঠিক দ্বীন। [সূরা আল-বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫] আর ‘হুনফা’ (একনিষ্ঠ) এর অর্থ হলো: সকল ধর্ম থেকে মুখ ফিরিয়ে ইসলাম দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া।
ইবাদতকারী সে-ই, যে আল্লাহ তা‘আলার আদেশসমূহ পালন করে এবং তাঁর নিষেধসমূহ হতে বিরত থাকে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: প্রকাশ্য ইবাদাতের নিচে দাগ টেনে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ইবাদাত আলাদা করুন:
হজ্জ - তাওয়াক্কুল - দু‘আ - সালাত - ভয় - আল্লাহর পথে জিহাদ।
প্রশ্ন ২: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
ক- ইবাদত হচ্ছে: এমন একটি নাম . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .. . . . . . . . .
খ- . . . . . . . . . . .. বাস্তবায়ন করা ও . . . . . . . . .. . . হতে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য যথাযথরূপে বাস্তবায়ন।
তৃতীয় শিক্ষা
তাওহীদ ও এর প্রকারভেদ
তাওহীদ হচ্ছে: সব ইবাদাতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করা। আর এটিই রাসূলগণের দ্বীন, যা দিয়ে আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর বান্দাদের নিকট প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন: আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এ নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা এক আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাগূতকে বর্জন করো। [আন-নাহল: ৩৬]। আর তাগুত হলো: আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার ইবাদত করা হয় এবং সে তাতে সন্তুষ্ট, এমন প্রত্যেক সত্ত্বা।
আর তাওহীদ তিন প্রকার: তাওহীদে রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদে উলুহিয়্যাহ এবং তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত।
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
- কোনো মানুষ ততক্ষণ পর্যন্ত মুওয়াহহিদ-তাওহীদপন্থী হতে পারে না, যতক্ষণ না সে সকল প্রকার ইবাদাতের ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহকে একক সাব্যস্ত করে।
- বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমতের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে যে, তিনি মানুষের হিদায়েত ও সিরাতুল মুস্তাকীমের বর্ণনা দেওয়ার জন্য রাসূলদের পাঠিয়েছেন।
- সমস্ত রাসূল তাওহীদের দিকে আহবান করেন এবং শির্ক থেকে নিষেধ করেন।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: তাওহীদের সংজ্ঞা দাও।
প্রশ্ন ২: তাওহীদের প্রকারগুলো উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ৩: মানুষ কখন আল্লাহ তা‘আলার মুওয়াহহিদ- তাওহীদপন্থী হয়?
চতুর্থ শিক্ষা
তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ
প্রথম প্রকার: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত:
আর তা হল: আল্লাহ তা‘আলাকে তাঁর কর্মে একক সাব্যস্ত করা।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে কাফেররা এর স্বীকৃতি দিয়েছিল, কিন্তু তা তাদেরকে ইসলামে প্রবেশ করায়নি; আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন, তাদের রক্ত ও সম্পদকে হালাল মনে করেছেন।
দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: (হে রাসূল!) তুমি (আল্লাহর সাথে শিরককারীদেরকে) বলে দাও:, ‘কে তোমাদেরকে আসমান (থেকে বৃষ্টি বর্ষণের মাধ্যমে) এবং জমিন থেকে (উদ্ভিদ উৎপন্ন করে) রিযক দেয়? অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বে আছে? কে জীবিতকে মৃত থেকে বের করেন? এবং কে মৃতকে জীবিত হতে বের করেন? আর কে (আসমান ও জমিন এবং এতদুভয়ের মাঝের) সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেন?’ তখন তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি তাদেরকে বলে দাও: ‘তোমরা কি এ ব্যাপারটি জেনেও আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করবে না?’ [ইউনুস, আয়াত: ৩১]
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﭐ তাদেরকে বল: ‘কে সাত আসমানের রব এবং মহা ‘আরশের রব?’ তারা সাথে সাথে জবাবে বলবে: ‘আল্লাহ।’ বলো, ‘তবুও কি তোমরা (আল্লাহর আদেশ ও নিষেধাজ্ঞা মেনে) তাঁকে ভয় করবে না?’ ৮৭ (হে রাসূল! তুমি তাদেরকে) বলো: ‘তিনি কে যাঁর হাতে সকল কিছুর কর্তৃত্ব, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর ওপর কোনো আশ্রয়দাতা নেই?’ যদি তোমরা জান। তারা বলবে: ‘আল্লাহর।’ (তুমি তাদেরকে) বলো: ‘তাহলে তোমরা কীভাবে মায়াবী হয়ে যাচ্ছ?’ [আল-মু‘মিনূন, আয়াত: ৮৪-৮৯].[৩]. [৩]- ‘মালাকূত’ অর্থ ‘মুলক’ বা রাজত্ব। - আর তিনি আশ্রয় প্রদান করেন: তিনি তাঁর বান্দাদেরকে অনিষ্ট থেকে আশ্রয় দেন এবং তাদের থেকে অপছন্দনীয় বিষয়গুলো দূর করেন। - অথচ তাঁর বিপক্ষে কেউ কাউকে আশ্রয় দিতে পারে না: অর্থাৎ, কেউই আল্লাহর বিপক্ষে কাউকে আশ্রয় দিতে অক্ষম এবং আল্লাহ যে অনিষ্ট নির্ধারণ করেছেন, তা প্রতিহত করতে পারে না। - কীভাবে তোমরা জাদুগ্ৰস্থ হচ্ছ: অর্থাৎ, তোমাদের বিবেক-বুদ্ধি কোথায় যায়।
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
- আল্লাহকে তাঁর কর্মসমূহে একক সাব্যস্ত করার অর্থ হলো, এ বিশ্বাস করা যে, আল্লাহই সৃষ্টিকর্তা, রিযিক দাতা, জীবনদাতা, মৃত্যুদাতা ইত্যাদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার কর্মসমূহ।
- কাফিরদের নিকট যখন রাসূল ﷺ আগমন করেছিলেন, তখন তারা তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহর প্রতি ঈমান রাখত; কিন্তু তাদের এই ঈমান তাদের কোনো উপকারে আসেনি; কারণ তারা ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহকে একক হিসেবে গ্রহণ করেনি।
- যে ব্যক্তি ঈমান আনে যে, আল্লাহ তা‘আলাই তাকে সৃষ্টি করেছেন এবং রিযিক দান করেছেন, কিন্তু সে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করে না, সে মুশরিক। আর এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে মুশরিকদেরকে ভর্ৎসনা করেছেন।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: আল্লাহকে তাঁর সকল কর্মে একক সাব্যস্ত করার অর্থ কি?
প্রশ্ন ২ঃ নবী ﷺ এর যুগে কাফিররা কোন তাওহীদ স্বীকার করত? আর তাদের এই স্বীকৃতি কি তাদের উপকারে এসেছিল?
প্রশ্ন ৩: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহর দলীল কি?
প্রশ্ন ৪: যে ব্যক্তি স্বীকার করে যে, আল্লাহই রিযিকদাতা, জীবনদাতা ও মৃত্যুদাতা, অথচ সে তাঁর ইবাদত করে না, তাকে কি মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হবে? এবং কেন?
পঞ্চম শিক্ষা
তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ
দ্বিতীয় প্রকার: তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ / ইবাদাতের তাওহীদ:
আর তা হল, বান্দার কর্মের (আমলের) ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালাকে একক সাব্যস্ত করা; যেমন দুআ, মান্নত, কুরবানি, আশা, ভয়, প্রবল আগ্রহ, ভীতি, হওয়া, সাহায্য প্রার্থনা, আশ্রয় প্রার্থনা ও সম্মান প্রদর্শন।
তাওহীদের প্রকারগুলোর মধ্যে এই প্রকারটি নিয়েই প্রাচীন ও আধুনিক যুগে রাসূল ও তাদের উম্মতের মধ্যে বিরোধ ঘটেছে।
(ইবাদতসমূহ এর মধ্যে অন্যতম) দু‘আর দলীল হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী: "নিশ্চয় যারা অহংকারবশত আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।" [গাফির, আয়াত: ৬০] [৪] দাখিরীন: অর্থাৎ অপদস্থ ও লাঞ্ছিত হয়ে।
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
- তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ, যাকে "তাওহীদুল ইবাদাহ" নামকরণ করা হয়, এ তাওহীদের জন্যই রাসূলদের প্রেরণ করা হয়েছে, কিতাব নাযিল করা হয়েছে। আর প্রত্যেক রাসূল তাঁর সম্প্রদায়ের নিকট এর নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমেই তাঁর দাওয়াত শুরু করতেন, যেমন নূহ, হূদ, সালিহ এবং শু‘আইব আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম বলেছেনঃ হে আমার সম্প্রদায়! এক আল্লাহরই ইবাদাত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। [আল-আরাফ, আয়াত: ৫৯, ৬৫, ৭৩ ও ৮৫]।
- "দু‘আ" তাওহীদ ও ইবাদতের অন্যতম প্রধান রূপ, আর এ কারণে তিনি আয়াতে বলেছেন: ﴿...নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশত আমার ইবাদত থেকে বিমুখ হয়....﴾, অর্থাৎ: আমার কাছে দু‘আ করা থেকে, যার প্রমাণ হলো আয়াতের শুরুতে তাঁর বাণী: ﴿তোমরা আমাকেই ডাকো﴾।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ এর সংজ্ঞা দাও।
প্রশ্ন ২: রাসূলগণ তাঁদের সম্প্রদায়কে সর্বপ্রথম কোন বিষয়ের দিকে আহ্বান করেন?
প্রশ্ন ৩: আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: আর তোমাদের রব বলেছেন: ‘তোমরা আমাকেই ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো। নিশ্চয় যারা অহংকারবশত আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’
আয়াতে প্রমাণ রয়েছে যে, দু‘আ ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত, তা বর্ণনা করো।
প্রশ্ন ৪: বান্দার কাজসমূহ থেকে এমন পাঁচটি ইবাদত উল্লেখ কর, যা একমাত্র আল্লাহর জন্য করা ফরয।
প্রশ্ন ৫: উদাহরণসহ তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ ও তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ এর মাঝে পার্থক্য বর্ণনা কর।
ষষ্ঠ পাঠ
তাওহীদুল আসমা ওয়াসসিফাত
তৃতীয় প্রকার: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত:
তা হচ্ছে: কুরআনুল কারীম এবং বিশুদ্ধ হাদীসে বর্ণিত আল্লাহ তা‘আলার ঐ সকল নাম ও গুণাবলীর উপর সত্যিকার অর্থে ঈমান আনা, যা দ্বারা তিনি তার নিজের গুণ বর্ণনা করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (ﷺ) তা দ্বারা তার গুণ বর্ণনা করেছেন। আর এ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা‘আলার সদৃশ কোন কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (হে রাসূল! তুমি) বলো: তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য-সদৃশ কেউ নেই। (৫) [সূরা আল-ইখলাস, আয়াত: ১-৪], আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন: আর (মনে রেখো, ) আল্লাহর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ। অতএব তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো। আর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করো। অচিরেই তাদের কৃতকর্মের ফল তাদেরকে দেয়া হবে। [আল আরাফ, আয়াত : ১৮০] [৫] আস-সামাদ: এমন সরদার, যাঁর ওপর সৃষ্টিজগত নির্ভর করে এবং তাঁর কাছে তাদের প্রয়োজনসমূহ উপস্থাপন করে।
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন: তাঁর সদৃশ কোন কিছুই নেই। আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা। [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১]
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
- আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক।
- আল্লাহর নাম ও গুণাবলী কুরআনুল কারীম ও সহীহ হাদীসসমূহ থেকে সালাফে সালেহীনের বুঝ অনুযায়ী জানা যায়।
- আল্লাহ তা‘আলার সকল নামই সুন্দর এবং তা অসংখ্য। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: আস-সামাদ বা অমুখাপেক্ষী, আল-বারী বা সৃষ্টিকর্তা, আস-সামী‘ বা মহাশ্রবণকারী, আল-বাসীর বা মহাদ্রষ্টা, আর-রহমান বা দয়াময় এবং আর-রহীম বা পরম দয়াময়। তাঁর আরো অসংখ্য গুণাবলী রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: দয়া, শক্তি, প্রজ্ঞা, জীবন, পরাক্রম এবং জ্ঞান।
- মুসলিমের জন্য আল্লাহ তা‘আলার সিফাতসমূহকে মাখলূকের সিফাতের সাথে সাদৃশ্য করা নাজায়েয, কেননা আল্লাহ তা‘আলা সর্বোচ্চ ও সর্বাধিক মর্যাদাবান । তাঁর সদৃশ কোন কিছুই নেই। আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
- একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ দ্বারা তাঁর নিকট দু’আ করা। যেমন সে বলবে: “হে ক্ষমাশীল! আমার গুনাহ ক্ষমা করুন, হে রহমান! আমার প্রতি রহম করুন, হে সর্বজ্ঞানী! আমাকে জ্ঞান দান করুন”, ইত্যাদি।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: আল্লাহর নাম ও সিফাতসমূহ তুমি কোথা থেকে জানবে?
প্রশ্ন ২: তোমার জানা আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ৩: আল্লাহ তা‘আলার সিফাতসমূহ সম্পর্কে তুমি যা জানো তা উল্লেখ কর।
প্রশ্ন ৪: মাখলূককে স্রষ্টার সাথে সাদৃশ্য দেওয়া কি জায়েয? আর এ ব্যাপারে দলীল কী?
প্রশ্ন ৫: আমরা কী দিয়ে আল্লাহ তাআলাকে ডাকবো?
সপ্তম পাঠ
সৃষ্টির প্রতি আল্লাহর রাসূলগণ
রাসূলগণ হলেন তাঁরা, যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা মানুষের নিকট তাঁর শরীয়ত পৌঁছানোর জন্য, তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহবান করার জন্য, যার কোনো শরীক নেই এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত বর্জন করার জন্য প্রেরণ করেছেন।
রাসূলদের পাঠানোর হিকমত:
আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে বান্দাদের ওপর প্রমাণস্বরূপ প্রেরণ করেছেন, মানুষের নিকট দ্বীন পৌঁছানোর জন্য, অনুগতদেরকে জান্নাত ও মহা প্রতিদানের সুসংবাদ দেওয়া জন্য এবং অবাধ্যদেরকে জাহান্নাম ও কঠিন আযাব থেকে সতর্ক করার জন্য।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (মু’মিনদের জন্যে) সুসংবাদদাতা ও (কাফিরদের জন্যে) সতর্ককারীরূপে আমি রাসূলদেরকে প্রেরণ করেছি, যাতে রাসূলগণ আসার পর আল্লাহর নিকট মানুষের কোনো অভিযোগ না থাকে... [আন-নিসা, আয়াত: ১৬৫]
সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ রাসূল:
রাসূলগণের প্রথমজন হলেন নূহ, আর সর্বশেষ হলেন মুহাম্মাদ আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম।
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
- আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি জাতির কাছে রাসূল প্রেরণ করেছেন, অবশেষে তিনি আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের মাধ্যমে সকল রিসালাতের সমাপ্তি টানেন। সুতরাং তিনি হলেন কিয়ামাত পর্যন্ত সমগ্র মানুষ ও জিন জাতির প্রতি প্রেরিত আল্লাহর রাসূল।
- রসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রিসালাতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে:
১- মানুষের কাছে তাদের রব এবং তাঁর নাম ও গুণাবলীর পরিচয় তুলে ধরা।
২- আল্লাহর ইবাদতের জন্য সঠিক পদ্ধতি বর্ণনা করা।
৩- একথা বর্ণনা করা যে, কিয়ামতের দিন মানুষ তাদের কর্ম অনুযায়ী বিনিময় পাবে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: রাসূলগণ (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) তাঁদের সম্প্রদায়কে কিসের দিকে আহ্বান করেছেন?
প্রশ্ন ২: নিচের শূন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
ক- সর্বপ্রথম রাসূল হলেন . . . . . . . . . . . . . . ., আর সর্বশেষ রাসূল হলেন . . . . . . . . . . . . . . .
খ- রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেগুলো হলো:
১-. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .. . .
২-. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .. . .
অষ্টম পাঠ
মানুষের ওপর আল্লাহ সর্বপ্রথম যা ফরয করেছেন
জেনে রাখো [৬] - আল্লাহ তা‘আলা তোমার উপর রহম করুন - যে, আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানের উপর সর্বপ্রথম যা ফরয করেছেন তা হলো: আল্লাহর উপরে ঈমান আনা ও তাগুতকে অস্বীকার করা, আর এর দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে একজন রাসূল প্রেরণ করেছি এ নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদাত করো এবং তাগূতকে বর্জন করো। [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬] [৬] এই প্রবন্ধটি শিরোনাম: (তাগুতের অর্থ ও এর বিভিন্ন প্রকারের প্রধানগণ)।
তাগুতকে অস্বীকার করার ধরন :
তাগুতকে অস্বীকার করার ধরন হলো: আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদতকে বাতিল বলে বিশ্বাস করা, তা বর্জন করা এবং তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
- তাগুতকে অস্বীকার করা ব্যতীত বান্দার ঈমান বাস্তবায়িত হয় না, কেননা আল্লাহ ইবাদতের নির্দেশকে তাগুত বর্জনের নির্দেশের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন। সুতরাং তিনি বলেন: তোমরা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদাত করো এবং তাগূতকে বর্জন করো। [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬]
তাগুতের সাথে কুফরী বহুবিদ বিষয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
১- এ কথার দৃঢ় বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত বাতিল, এমনকি সে যদি কোনো ফেরেশতা কিংবা নবীও হয়।
২- আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করা থেকে বিরত থাকা, সুতরাং সে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ডাকবে না, আল্লাহ ছাড়া আর কারো উপর নির্ভর করবে না, একমাত্র আল্লাহর জন্যই কুরবানী করবে এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যই মান্নত করবে।
৩- শিরক এবং মুশরিকদের মধ্য থেকে যারা মুসলিমদের সাথে শত্রুতা করে তাদেরকে ঘৃণা করবে।
৪- এই বিশ্বাস করা যে, যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যকে শরীক করে তারা কাফির।
- ভালোবাসা এবং ঘৃণা করা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত, সুতরাং একজন মুসলিমের জন্য তাওহীদ ও নেক আমলকে ভালোবাসা এবং শিরক ও পাপকাজকে ঘৃণা করা ওয়াজিব।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: আদম সন্তানের ওপর আল্লাহর সর্বপ্রথম ফরয কী? দলীলসহ উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ২: তাগুতের প্রতি কুফর কীভাবে বাস্তবায়িত হয়?
প্রশ্ন ৩: তাগুতকে অস্বীকার করার ধরন কী?
প্রশ্ন ৪: যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহর ইবাদত করে, তার হুকুম কী?
নবম পাঠ
প্রকৃত ঈমান
আল্লাহর প্রতি ঈমানের অর্থ:
তা হলো: এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে, আল্লাহই একমাত্র সত্যিকার মা‘বুদ, তিনি ব্যতীত অন্য কেউ নয়; আর সকল প্রকার ইবাদাত একমাত্র আল্লাহরই উদ্দেশ্যে একনিষ্ঠভাবে নিবেদিত করা এবং তিনি ব্যতীত অন্য সকল মা‘বুদ থেকে তা অস্বীকার করা; আর আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা ও আল্লাহর জন্যই বিদ্বেষ পোষণ করা।
আর এটিই ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মিল্লাত [৭], যে তা হতে বিমুখ হবে সে নিজেকে নির্বোধ করেছে, আর এটিই হলো সেই আদর্শ যার সংবাদ আল্লাহ তাঁর বাণীতে দিয়েছেন: (হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ!) তোমাদের জন্য অবশ্যই ইবরাহীম ও তার সাথে যারা ছিল তাদের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তারা যখন স্বীয় (কাফির) সম্প্রদায়কে বলছিল: ‘তোমাদের সাথে এবং আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা যা কিছুর উপাসনা করো, তা হতে আমরা সম্পর্কমুক্ত। আমরা তোমাদেরকে অস্বীকার করি এবং তোমাদের ও আমাদের মধ্যে সৃষ্টি হল শক্ৰতা ও বিদ্বেষ চিরকালের জন্য; যতক্ষণ না তোমরা এক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো।’ [আল-মুমতাহিনাহ, আয়াত : ৪] [৭] মিল্লাত: তা হলো দ্বীন , আর ইবরাহীমের মিল্লাত: তা হলো তাওহীদের দ্বীন ।
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
১- ঈমান নিছক এমন কোনো শব্দ নয় যা মানুষ কেবল তার মুখে উচ্চারণ করে, বরং তা হলো কথা, বিশ্বাস ও কর্ম।
২- প্রকৃত ঈমান হলো:
- এ দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ এক, তাঁর কোনো শরীক নেই এবং তিনিই একমাত্র ইবাদাত পাওয়ার যোগ্য, অন্য কেউ নয়।
- আল্লাহ তা‘আলার জন্য ইখলাসের সাথে ইবাদত পালন করা।
- মুমিনদেরকে ভালোবাসা এবং তাদেরকে সাহায্য করা।
- মুসলিমদের সাথে শত্রুতা পোষণকারী কাফিরদের ঘৃণা করা, এবং তাদের উপর অত্যাচার না করা।
৩- যে এই দ্বীন ত্যাগ করল এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মিল্লাত(আদর্শ ) হতে বিমুখ হল, সে নিজেকে অপমানিত করল এবং নিজের বিনাশ ও ধ্বংসসাধনে সচেষ্ট হল। আল্লাহ তাআলা বলেন: আর (সব কিছু জেনে-বুঝেও) যে নিজেকে বোকা-নির্বোধ বানিয়েছে, সে ব্যতীত ইব্রাহীম এর মিল্লাত (জীবন আদর্শ ) হতে আর কে বিমুখ হবে! [আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৩০]
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম হলেন নবীদের পিতা। আল্লাহ তাঁকে তাঁর কওমের নিকট প্রেরণ করেছিলেন, যাতে তিনি তাদেরকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান করেন। আর তারা আল্লাহ ছাড়া মূর্তিগুলোর ইবাদত করত, ফলে ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম তাদেরকে একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের দিকে দাওয়াত দিলেন। কিন্তু তারা অবাধ্যতা করল, অহংকার করল এবং মূর্তিপূজার উপর অটল রইল। অতঃপর যখন তারা তাদের উৎসব উদযাপনের জন্য বের হলো, তখন ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম তাদের মূর্তিগুলো ভেঙে ফেললেন। আর যখন তারা এ বিষয়ে জানতে পারল, তখন তারা একটি বিশাল আগুন প্রজ্জ্বলিত করল এবং তাঁকে তাতে নিক্ষেপ করল। তোমরা কি জানো, ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম-এর সাথে কী ঘটেছিল? আগুন তাঁকে পোড়াতে পারেনি; বরং আল্লাহ সেটিকে তাঁর জন্য শীতল ও নিরাপদ করে দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ১: ইবরাহীম আলাইহিস সালাম-এর কাহিনীতে ঈমানের কিছু তাৎপর্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সেগুলো বের করুন।
প্রশ্ন ২: প্রকৃত ঈমান কী দ্বারা হয়?
প্রশ্ন ৩: যে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মিল্লাত ত্যাগ করে তাকে কী বলা হয়?
প্রশ্ন: যে ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মিল্লাত পরিত্যাগ করে, সে নিজের উপর কী ক্ষতি ডেকে আনে?
প্রশ্নঃ নিচের অবস্থাগুলোতে ঈমান কি বাস্তবায়িত হয়েছে:
ক- একজন ব্যক্তি সালাত আদায় করেন কিন্তু সৎকর্মশীলদের ঘৃণা করেন।
খ- এমন ব্যক্তি যে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, কিন্তু সে কাফিরদের ভালোবাসে।
গ- এমন ব্যক্তি যে একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে এবং মুমিনদের ভালোবাসে।
দশম পাঠ
শয়তান হল তাগুত।
তাগুত:
আর তাগুত শব্দটি ব্যাপক; সুতরাং আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার ইবাদত করা হয় এবং সে ইবাদতে খুশি থাকে- চাই তা মা‘বূদ হোক, অথবা অনুসরণীয় কেও, অথবা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের বাইরে আনুগত্য প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব হোক, সেই তাগুত।
তাগুত অসংখ্য, তন্মধ্যে:
প্রথম: আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদতের প্রতি আহ্বানকারী শয়তান। দলীল, আল্লাহ তায়ালার বাণী: হে বনি আদম! আমি কি তোমাদেরকে (রাসূলদের মাধ্যমে) এ মর্মে নির্দেশ দেইনি যে, ‘তোমরা (কুফরীও পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে) শয়তানের ইবাদাত করো না? নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।’ আর তোমরা একমাত্র আমারই ইবাদাত কর, এটাই হল সরল-সঠিক পথ। [ইয়াসীন, আয়াত: ৬০-৬১]
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
১) ‘তুগইয়ান’ অর্থ সীমা অতিক্রম করা, আর তাগুত হচ্ছে: যে ব্যক্তি তার সীমা অতিক্রম করে অতঃপর দাবী করে যে সে মানুষের মাবূদ , অথবা সে গায়েবের ইলম রাখে, অথবা সে মহাবিশ্ব পরিচালনা করে, অথবা মানুষদেরকে তাদের রবের শরীয়াত ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে আহবান করে।
২- মানুষ যার ইবাদাত করে অথচ সে তার প্রতি তাদের ইবাদাতে সন্তুষ্ট নয়, তাকে তাগূত বলা হয় না, যেমন- ফেরেশতাগণ এবং মারইয়াম-পুত্র ঈসা আলাইহিস সালাম।
০৩- শয়তান হচ্ছে তাগুতদের প্রধান; কারণ সে মানুষকে তাদের রবের ইবাদত থেকে বিমুখ করে এবং তাদের কাছে শিরক ও কুফরকে সুশোভিত করে তোলে।
০৪- শয়তান বনী আদামের চরম শত্রু; কারণ সে তাদের পিতাকে জান্নাত থেকে বের করেছে, আর সে তার দলবলকে ডাকে এজন্য যে, তারা যেন প্রজ্জলিত আগুনের অধিবাসী হয়।
৫- সিরাতুল মুস্তাকীম: তা হলো একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করা এবং শয়তানের ইবাদাত পরিত্যাগ করা।
প্রশ্নাবলি:
প্রশ্ন ১: তাগূত এর সংজ্ঞা দাও।
প্রশ্ন ২: ইবলিস কেন সবচেয়ে বড় তাগুত?
প্রশ্ন ৩: সীরাতে মুস্তাকীম কি?
প্রশ্ন ৪: আয়াতে কারীমায় আল্লাহ আমাদেরকে কোন বিষয়ে নিষেধ করেছেন? এবং কী আদেশ দিয়েছেন?
একাদশ পাঠ :
আল্লাহ যা নাযিল করেননি তার মাধ্যমে ফয়সালা করা
দ্বিতীয়: আল্লাহ তায়ালার বিধান পরিবর্তনকারী শাসক, আর এর দলীল হলো আল্লাহ তায়ালার বাণী: (হে নবী) তুমি কি তাদেরকে (ইয়াহূদীদের মধ্যকার মুনাফিকদের) দেখোনি যারা দাবি করে যে, তোমার প্রতি যা নাযিল হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তারা তাতে ঈমান এনেছে; কিন্তু তারা তাগূতের (মানব রচিত বিধানের) কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়। অথচ তাদের তাগূতকে প্রত্যাখ্যান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর শয়তান তাদেরকে (সত্য পথ থেকে) দূরবর্তী বিভ্রান্তির দিকে নিতে চায়। [আন-নিসা, আয়াত: ৬০]
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
১- যে ব্যক্তি আল্লাহর শরীয়তকে বিকৃত করে এবং তাঁর বিধানাবলি পরিবর্তন করে; অতঃপর হারামকে হালাল করে অথবা হালালকে হারাম করে, সে তাগুত, হোক সে শাসক অথবা অন্য কেউ।
২। যে ব্যক্তি আল্লাহর শরী‘আত ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা বিচার ফয়সালা করে এবং এই বিশ্বাস করে যে, সে যা দ্বারা ফয়সালা করছে তা আল্লাহর শরী‘আত থেকে বেশী উত্তম, সে তাগুত এবং মিল্লাত থেকে খারিজ।
৩- মুসলিমের বৈশিষ্ট্য হলো, সে তার রবের নির্ধারিত সীমারেখায় অটল থাকবে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করবে এবং আল্লাহর শরীয়তে কোনো ধরনের পরিবর্তন বা বিকৃতি সাধন করবে না।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার বিধান পরিবর্তন করে তাকে কী বলা হয়?
প্রশ্ন ২: যে ব্যক্তি আল্লাহ যা নাযিল করেননি তার মাধ্যমে এ বিশ্বাস নিয়ে ফয়সালা করে যে, সে যার মাধ্যমে ফয়সালা করছে তা আল্লাহর শরীয়তের চেয়ে উত্তম, তাকে কী বলা হয়?
দ্বাদশ পাঠ:
যে ব্যক্তি গায়েবের ইলমের দাবী করে অথবা মানুষ তার ইবাদত করলে তাতে সন্তুষ্ট থাকে, সে তাগুত।
তৃতীয়: যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া গায়েব জানার দাবী করে, এর দলীল হল আল্লাহ তা‘আলার বাণী: তিনি সমস্ত অদৃশ্যের জ্ঞানী, আর তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো কাছে প্রকাশ করেন না। তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া। আর তিনি তখন তার সামনে ও তার পিছনে প্রহরী (ফিরিশতা) নিযুক্ত করেন। [আল-জিন, আয়াত: ২৬-২৭]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন: আর গায়িবের চাবিসমূহ (ভাণ্ডার) তাঁরই কাছে। তিনি ছাড়া তা কেউ জানে না। আর স্থলে ও সমুদ্রের অন্ধকারসমূহে যা কিছু আছে, তা তিনিই অবগত আছেন। গাছের একটি পাতাও পড়ে না, তাঁর অবগতি ছাড়া। মাটির অন্ধকারে এমন কোন শস্যকণাও অঙ্কুরিত হয় না বা আদ্র (রসযুক্ত) কিংবা শুষ্ক এমন কোন বস্তু নেই, যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফূযে) নেই। [আল-আনআম, আয়াত: ৫৯]
চতুর্থ: আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদত করা হয় এবং সে এই ইবাদতে সন্তুষ্ট থাকে। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী: আর তাদের মধ্যে কেউ যদি বলে: ‘আল্লাহ নয়, আমিও একজন ইলাহ’, তাকেই আমি প্রতিদান হিসেবে জাহান্নাম দিবো। এভাবেই আমি যালিমদের (শাস্তির) প্রতিদান দিয়ে থাকি। [আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৯]
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
১- যে ব্যক্তি গায়েব জানে বলে দাবী করে -যেমন গণক, ভবিষ্যদ্বক্তা, জ্যোতিষী [8] এবং তাদের অনুরূপ ব্যক্তিরা- তারা সকলেই তাগূতের অন্তর্ভুক্ত; কারণ তারা গায়েবের ইলমের দাবী করার মাধ্যমে আল্লাহর অধিকারে হস্তক্ষেপ করেছে, যা তিনি ব্যতীত আর কেউ জানে না। [৮] কাহেন [كاهن] বা গণক: যে অতীতের গায়েবী বিষয় জানার দাবি করে। আররাফ [عراف]: যে ভবিষ্যতের বিষয় জানার দাবি করে। এবং মুনাজ্জিম [منجم] বা জ্যোতির্বিদ: যে নক্ষত্র দেখে বিশ্বজগতের অবস্থা জানার দাবি করে।
২- মুসলমানের জন্য আবশ্যক হলো গণক, জ্যোতিষী ও নক্ষত্রবিদদের নিকট যাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং
তাদের মনগড়া কথা ও মিথ্যাচারকে বিশ্বাস না করা।
৩- তাগুতদের মধ্যে সে-ও অন্তর্ভুক্ত, যাকে মানুষ আহবান করে এবং যেসব মুসিবত দূর করার ব্যাপারে আল্লাহ ছাড়া কেউ ক্ষমতাবান নয় সেসব বিষয়ে তার কাছে ফরিয়াদ করে, আর সে তার উদ্দেশ্যে তাদের ইবাদত করায় সন্তুষ্ট থাকে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: অদৃশ্যের জ্ঞান (ইলমুল গায়েব) কার কাছে রয়েছে? এর দলীল উল্লেখ করো।
প্রশ্ন ২: তৃতীয় ও চতুর্থ তাগুত কী?
প্রশ্ন ৩: যে ব্যক্তি বলে, ‘আমি আল্লাহ ব্যতীত ইলাহ’, তার প্রতিফল কী?
প্রশ্ন ৪: আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ কী গায়েব (অদৃশ্যের খবর) জানে?
প্রশ্ন ৫: আয়াতে কারীমায় উল্লেখিত জালিম কারা?
ত্রয়োদশ পাঠ
মুমিনের জন্য তাগুতকে অস্বীকার করা জরুরি।
জেনে রাখুন যে, তাগুতকে অস্বীকার করা ব্যতীত মানুষ আল্লাহর প্রতি মুমিন হতে পারে না। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী: দ্বীন (ইসলাম) গ্রহণের ব্যাপারে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই। (কারণ) ভ্রান্ত পথ থেকে সত্য-সঠিক পথ সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। অতএব, যে তাগূতকে অস্বীকার করবে ও আল্লাহর উপর ঈমান আনবে, সে এমন এক শক্তিশালী রশি ধরলো, যা কখনো ছিঁড়ে যাবে না। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী। [আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৬]
আর ‘রুশদ’ (সত্য পথ) হলো মুহাম্মাদ ﷺ-এর দ্বীন, এবং ‘গায়্য’ (ভ্রান্ত পথ) হলো আবু জাহলের দ্বীন।
সুদৃঢ় রশি :
"লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" -এর সাক্ষ্য প্রদান করা, আর তা নাকচ ও সাব্যস্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে; এটি আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য সকল প্রকার ইবাদতকে নাকচ করে এবং সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্যই সাব্যস্ত করে; এতে তাঁর কোন শরীক নেই [9]। [৯] (তাগুতের অর্থ ও এর প্রধান প্রধান প্রকার) প্রবন্ধটি সমাপ্ত হলো।
পাঠের নির্দেশনাসমূহ:
১- তাওহীদ বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একমাত্র আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করা।
২- তাগুতকে অস্বীকার করা এবং যারা তাদের ইবাদত করে তাদের সকলের থেকে বিচ্ছিন্নতা ঘোষণা করা ব্যতীত আল্লাহর প্রতি ঈমান বাস্তবায়িত হয় না। সুতরাং প্রথমেই তাগুতকে অস্বীকার করা জরুরি, যেমন তিনি সুবহানাহু বলেন: ﴿...অতএব যে ব্যক্তি তাগুতকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে...﴾।
৩- আল-উরওয়াতুল উসকা (সুদৃঢ় রশি/হাতল): এটি হলো لا إله إلا الله “আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই”- এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া। যে ব্যক্তি একে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, সে সফলকাম হবে এবং ব্যর্থতা, পথভ্রষ্টতা ও ক্ষতি থেকে মুক্তি পাবে।
প্রশ্নসমূহ:
প্রশ্ন ১: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে নিচের বাক্যগুলোর শূন্যস্থান পূরণ করো:
ক) সুদৃঢ় রজ্জু ধারণকারীর জন্য . ... . .-কে অস্বীকার করা এবং . . . . .-এর প্রতি ঈমান আনা আবশ্যক।
খ) এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, এর অন্তর্ভুক্ত হলো . . . . . . . . এবং . . . . . . . . . . . . . . .
প্রশ্ন ২: যে ব্যক্তি শক্ত রশি আঁকড়ে ধরে তার প্রতিদান কী?
প্রশ্ন ৩: তাগুতকে অস্বীকার করা কি আবশ্যক? এবং কেন?
Related books
All books
المناهج التعليمية - الصف الأول5 ভাষাالمناهجالتعليميةالمناهج التعليمية - الصف الأول
কিতাবটিতে প্রথম শ্রেণির তাওহীদ বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যা প্রাথমিক স্তরে দ্বীন ইসলামের ভিত্তিসমূহের উপর গুরুত্বারোপ করে। এতে আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে, দ্বীন ইসলাম সম্পর্কে এবং ইসলামের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অনুরূপভাবে সঠিক ভিত্তির আলোকে তাওহীদের বিধান ও ইসলামী আকিদা শিক্ষাদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অন্তরে বিশুদ্ধ আকিদা সুদৃঢ় করাও এর অন্যতম লক্ষ্য।
المناهج التعليمية - الصف الثالث7 ভাষাالمناهجالتعليميةالمناهج التعليمية - الصف الثالث
কিতাবটিতে তৃতীয় শ্রেণির তাওহীদ বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেখানে দ্বীনের তিনটি স্তর—ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান—অধ্যয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।পাশাপাশি এতে প্রতিটি স্তরের ধারণা বিস্তারিতভাবে আলোচিত হয়েছে; সেই সাথে ইসলাম ও ঈমানের রুকনসমূহ এবং তাওহীদের সাক্ষ্য প্রদানের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এছাড়াও আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ ও তাঁর কিতাবের উপর ঈমান সুদৃঢ় করার বিষয়টি এতে স্থান পেয়েছে। পরিশেষে, শরয়ী দলিলের আলোকে দ্বীনের সর্বোচ্চ স্তর হিসেবে ইহসানের মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে।
المناهج التعليمية - الصف الثاني6 ভাষাالمناهجالتعليميةالمناهج التعليمية - الصف الثاني
দ্বিতীয় স্তরে কিতাবটিতে 'তাওহীদ' বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যেখানে এমন তিনটি মূলনীতি তুলে ধরা হয়েছে, যা সম্পর্কে একজন মানুষের জ্ঞান অর্জন করা আবশ্যক: আল্লাহ তা‘আলা সম্পর্কে জানা, দ্বীন সম্পর্কে জানা এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে জানা। এছাড়া এতে দ্বীনের স্তরসমূহ (ইসলাম, ঈমান, ইহসান)-এর ব্যাখ্যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; সেইসাথে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত ও তাঁর আনুগত্য করার পদ্ধতি এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসা ও তাঁর আনুগত্য করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
مشروع منهاج زادك5 ভাষাمشروع منهاج زادك
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাওদাহ, রিয়াদ সৌদি আরব। "আমাকে আমার দীন শিক্ষা দিন" (শিক্ষা ক্রম প্রকল্প) প্রাথম স্তর। প্রকাশ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ইলম ও মনের ভাব ব্যক্ত করার দক্ষতা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার, সকল সম্মানীত সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা সুন্দর ভাবে যথাযথ তাঁদের অনুসরণ করবে সবার ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।