مشروع منهاج زادك
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাওদাহ, রিয়াদ সৌদি আরব। "আমাকে আমার দীন শিক্ষা দিন" (শিক্ষা ক্রম প্রকল্প) প্রাথম স্তর। প্রকাশ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ইলম ও মনের ভাব ব্যক্ত করার দক্ষতা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন। আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার, সকল সম্মানীত সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা সুন্দর ভাবে যথাযথ তাঁদের অনুসরণ করবে সবার ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
This PDF is generated automatically from the book's text; its layout may differ from the printed edition.
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাওদাহ, রিয়াদ সৌদি আরব।
"আমাকে আমার দীন শিক্ষা দিন" (শিক্ষা ক্রম প্রকল্প)
প্রাথম স্তর।
প্রকাশ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ইলম ও মনের ভাব ব্যক্ত করার দক্ষতা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন।
আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার, সকল সম্মানীত সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা সুন্দর ভাবে যথাযথ তাঁদের অনুসরণ করবে সবার ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
আমল ইবাদত করার আগে বান্দার ওপর যা ফরয তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইলম অন্বেষণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ “সুতরাং জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য মাবূদ নেই। আর ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ও মুমিন নর-নারীদের ক্রটির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।”
[সূরা মুহাম্মদ, আয়াত : ১৯]
শরীয়তের ইলম এই উম্মতের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও ইসলামী ব্যক্তিত্বের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ইলমের এই গুরুত্বকে উপলক্ষ্য করে ”দাওয়াহ ও প্রবাসীদের শিক্ষা দান সংস্থা, রাওদাহ, রিয়াদ” এর হিকমতপূর্ণ ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার বার্তার সূচনা হয়।সংস্থাটি প্রবাসীদের শিক্ষাদান ও শরয়ীভাবে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্যে তৈরিকৃত বহু প্রোগ্রাম ব্যবাহর করে মুসলিমদেরকে তাদের দীনি বিষয় শিক্ষা দান করে থাকে। তারই একটি প্রকল্প হলো: ”فقهني في ديني” (আমাকে দীনের সঠিক বুঝ দান করুন)। যার ফলে প্রবাসীদের জন্য সাতটি ভাষায় শরয়ী কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি উক্ত প্রকল্পের উন্নয়নের লক্ষে শিক্ষা পরামর্শ বিষয়ক কম্পানি "বাসায়ের" এর সাথে যোগাযোগ করে। এটি মূলত শরয়ী শিক্ষা সেলেবাস উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ সংস্থা। পরিশেষে কম্পানিটির রাওদাহ সংস্থার সাথে সেলেবাস উন্নয়ন কেন্দ্রিক কতিপয় মূল নীতি ভিত্তিক পাঠ্যক্রম উন্নত করার একটি চুক্তি সম্পাদন হয়। তারপর নির্দিষ্ট শিক্ষাস্তর মোতাবেক শিক্ষার্থীর জন্য বইগুলো সংকলন করা হয়:
- প্রাথম স্তর: এতে রয়েছে ৪০ টি পাঠ।
-দ্বিতীয় স্তর: এতে রয়েছে ৩০ টি পাঠ।
-তৃতীয় স্তর: এতে রয়েছে ৩০ টি পাঠ।
শিক্ষার্থীর প্রতিটি বইয়ের সাথে সমন্বয় করে শিক্ষকের একটি নির্দেশিকা বই থাকবে, যা তাকে শিক্ষাদান পদ্ধতি অনুযায়ী ও কার্যকরভাবে পাঠদান করতে সহায়তা করবে। পাঠ্যক্রমটির উন্নয়ন ও নির্ভরযোগ্য করার কর্মসূচী, শিক্ষার্থীদের টেক্সবই ও শিক্ষক গাইড প্রণয়নে, তাত্ত্বিক ভাবে প্রস্তুতকরণ ও সূক্ষ্ম সম্পাদনার নানা স্তর অতিবাহিত হয়েছে। এটি আঞ্জাম দিয়েছেন শরয়ী শিক্ষা কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষজ্ঞ দল।
পরিশেষে, আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি এই কাজ দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন। যারা এই সুন্দর কারিকুলাম প্রণয়নে ও প্রকাশে অবদান রেখেছেন, তাদের সবাইকে আল্লাহ মহাকল্যাণ ও জান্নাত দান করুন। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও সংস্থার ফোন নাম্বারে এই শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রম সম্পর্কে আপনার পরামর্শ এবং উন্নয়নমূলক চিন্তাকে স্বাগত জানাই।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষন করুন।
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাওদাহ,রিয়াদ, সৌদী আরব।
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার ও সকল সাহাবার ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
প্রশংসা এবং দরূদ ও সালাম পর:
প্রিয় শিক্ষার্থী! তোমার সামনে এ পাঠ্যক্রমের প্রথম বইটি তুলে দেয়া হলো। এ শিক্ষা বিষয়ক পাঠ্যক্রমের উদ্দেশ্য হলো একজন মুসলিমকে তার দীনের প্রয়োজনীয় বিষয়াদী শিক্ষা দেওয়া, ইসলামী সাংস্কৃতির ভিত্তি মজবুত করা এবং ইসলামী শিক্ষা কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব তৈরি করা।
শর‘য়ী শিক্ষার ক্ষেত্র অনুসারে বইটিকে বিভিন্ন শিক্ষা ইউনিটে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো:
ইউনিট এক: কুরআন ও তাফসীর: এতে আল-কুরআনুল কারীমের মর্যাদা, সূরা ফাতিহাসহ আরও কয়েকটি ছোট সূরার সংক্ষিপ্ত তাফসীর ও আয়াতসমূহের তাত্ত্বিক ও শিক্ষামূলক কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ফায়েদাসহ বর্ণনা করা হয়েছে।
ইউনিট দুই: ঈমান ও তাযকিয়া-আত্মশুদ্ধিঃ এতে ঈমানের গুরুত্ব ও রুকনসমূহ, মুসলিমের আক্বীদা, আচার-আচরণ ও জীবনের দৃষ্টিভঙ্গির উপর ঈমানের প্রভাবসহ প্রতিটি রুকন সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করা হয়েছে।
ইউনিট তিন: সুন্নাহ ও সীরাতে নববীঃ এতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি, তাঁর উল্লেখযোগ্য কতিপয় গুণাবলী ও বৈশিষ্ট্য, যাতে শিক্ষার্থীর হৃদয়ে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা সুদৃঢ় হয় এবং তাঁর অনুসরণ করতে উদ্বুদ্ধ হয়। অতপর চারটি হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে: কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত, গুনাহ মাফের গুরুত্বপূর্ণ কাফফারা বা উপায় , আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ভালো ধারণার উপায় এবং কিয়ামতের ভয়াবহ দিনে আল্লাহ তা‘আলা যাদের উপর রহম করবেন।
ইউনিট চার: হুকুম- আহকাম বিষয়ক ফিকহ: অযু ও সালাত শিক্ষা সম্পর্কে মুসলিমকে যা জানা ফরয সেগুলো এ ইউনিটে আলোচনা করা হয়েছে। যেমন:
অযু, গোসল ও সালাতের পদ্ধতি ইত্যাদি।
ইউনিট পাঁচ: আদব- শিষ্টাচার: এতে রয়েছে দৈনন্দিন জীবনে আদবসমূহ, যেমন: পানাহারের আদব, অনুমতি প্রার্থনা, কথাবার্তা, মজলিস ও পেশাব-পায়খানার আদব।
বইটি বৈজ্ঞানিক মূলনীতি ও আধুনিক শিক্ষাগত মানদণ্ড (Modern Educational Standards) অনুসারে প্রকাশ করতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছি।
আমরা এটি প্রণয়ন করতে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ লক্ষ্য রেখেছি:
একটি এমন ভূমিকা দিয়ে পাঠ শুরু হয়েছে -প্রয়োজন অনুসারে- যা পাঠগুলো কে শিক্ষার্থীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে।
ছবি ও মানচিত্রের ব্যবহার, যা তাত্ত্বিক বিষয়সমূহকে বুঝতে সাহায্য করে।
সক্রিয় শিক্ষা কৌশল (Active learning strategies) অনুযায়ী পাঠদানের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ লক্ষ্য রেখেছি:
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বিষয়বস্তুর সাথে শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Learning activities) অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিষয়বস্তুর প্রকৃতির সাথে শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সংযোগ স্থাপন।
শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব এবং দক্ষতার বিভিন্ন দিক বিকাশ করা।
ব্যক্তি ও গ্রুপ ভিত্তিক প্রয়োগ পদ্ধতিতে যেমন ভিন্নতা আনা, তেমন শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ও বাইরে তা প্রয়োগ করার স্থান ভিত্তিক তারতম্য আনা হয়েছে।
লিখিত, মৌখিক, তৎপরতা এবং মানসিক কার্যকলাপের সাথে শিক্ষামূলক কার্যক্রমগুলোকে বিভিন্ন ধরনে বিভক্ত করা হয়েছে।
পাঠটি বোঝা এবং এর উদ্দেশ্যগুলোর সফলতা অর্জনের পরিমাণ পরীক্ষা করতে প্রতিটি পাঠের শেষে মূল্যায়ন প্রশ্ন রাখা হয়েছে।
আমরা এ বইটি শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থাপন করে আশা করছি, এটি একাডেমিক বিষয়সমূহ সহজ করবে এবং পদ্ধতিগুলো স্পষ্ট করবে।
উপস্থাপন, বিভিন্ন কার্যক্রম এবং মূল্যায়নের ব্যাপকতার বাস্তবায়ন ঘটাবে।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে দু‘আ করছি, তিনি যেন এ বইটি দ্বারা শিক্ষার্থীদের উপকৃত করেন এবং আমাদের এ কাজকে তিনি যেন কবুল করেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
”বাসায়ের” শিক্ষা ও একাডেমিক কনসালটেন্সি
আল-কুরআন ও তাফসীর উইনিট
প্রথম পাঠ: কুরআনুল কারীমের মর্যাদা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- কুরআনুল কারীমের মর্যাদার উপর তুমি দলিল পেশ করবে।
২- কুরআনুল কারীমের ধারকদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদানে নানা উপায় বের করবে।
৩- কুরআনুল কারীমকে সম্মান করবে।
৪- কুরআনুল কারীম ও এর ধারকদেরকে ভালোবাসবে।
কুরআনুল কারীম হলো মর্যাদার দিক থেকে সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব। এটি আল্লাহ তা‘আলার বাণী, যা সৃষ্টিকুলের হিদায়েতের জন্যে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর নাযিল হয়েছে। এটি বিস্ময়কর চ্যালেঞ্জকারী কিতাব, কেউ এর অনুরূপ কিছু রচনা করতে সক্ষম নয়।
কুরআনুল কারীমের মর্যাদা:
কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহর বাণী।
কুরআনুল কারীমের মু‘জিযা ও চ্যালেঞ্জ
কুরআনুল কারীম নূর (আলোকবর্তিকা) ও হিদায়েত (সরল পথের নির্দেশক)।
মহান আল্লাহ স্বয়ং কুরআনুল কারীম সংরক্ষণ করবেন।
কুরআনুল কারীমের ধারকগণ দুনিয়ায় ও আখিরাতে সম্মানিত।
১- কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহর বাণী:
এ কারণে কুরআনুল কারীম হলো সর্বাধিক সম্মানিত ও মর্যাদাবান বাণী। এর মর্যাদার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলো, এ বাণী যে শোনে ও অনুধাবন করে তার মধ্যে বিরাট প্রভাব পড়ে।
২- কুরআনুল কারীমের মু‘জিযা ও চ্যালেঞ্জ:
কুরআনুল কারীম হলো নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বড় মু‘জিযা। আল্লাহ তা‘আলা সকল মানব ও জিনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, কুরআনের অনুরূপ কোন সূরা বা আয়াত আনায়ন করতে। কিন্তু সৃষ্টিকুলের সবাই অপারগ হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (قُل لَّئِنِ ٱجۡتَمَعَتِ ٱلۡإِنسُ وَٱلۡجِنُّ عَلَىٰٓ أَن يَأۡتُواْ بِمِثۡلِ هَٰذَا ٱلۡقُرۡءَانِ لَا يَأۡتُونَ بِمِثۡلِهِۦ وَلَوۡ كَانَ بَعۡضُهُمۡ لِبَعۡضٖ ظَهِيرٗا) বলুন, ‘যদি কুরআনের অনুরূপ আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয় এবং যদিও তারা পরস্পরকে সাহায্য করে তবুও তারা এর অনুরুপ আনতে পারবে না। [সূরা আল-ইসরা, আয়াত : ৮৮]
অতপর তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে কুরআনের অনুরূপ দশটি সূরা আনতে, কিন্তু তাতেও তারা অক্ষম হয়েছে। অতপর তাদেরকে কুরআনের অনুরূপ একটি সূরা আনতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। তাতেও তারা সকলেই অপারগ ও অক্ষম হয়েছে।
৩- কুরআনুল কারীম বিশ্ববাসীর জন্য হিদায়েত:
আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমকে তাঁর শরী‘আতের বর্ণনাকারী, হিদায়েত ও মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (وَنَزَّلۡنَا عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ تِبۡيَٰنٗا لِّكُلِّ شَيۡءٖ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٗ وَبُشۡرَىٰ لِلۡمُسۡلِمِينَ) “আর আমি আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি প্রত্যেক বিষয়ের স্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ, পথনির্দেশ, দয়া ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ।” [সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৮৯।]
৪- আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক কুরআনুল কারীমের সংরক্ষণ:
তাওরাত ও ইঞ্জিলে যেসব পরিবর্তন ও বিকৃতি সংঘটিত হয়েছে সেসব পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনুল কারীমকে সংরক্ষণের দায়িত্ব নিজে নিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (إِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا ٱلذِّكۡرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ) “নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি এবং আমি অবশ্যই তার সংরক্ষক।” [সূরা আল-হিজর : ৯]
৫- দুনিয়া ও আখিরাতে কুরআনুল কারীমের ধারকদের সম্মান ও মর্যাদা:
কুরআনের ধারক হলো কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াতকারীগণ, এর হাফেযগণ, এর তাফসীর ও উলূমুত তাফসীরের আলেমগণ এবং এর বিধি-বিধানের আমলকারীগণ। আল্লাহ তা‘আলা আহলুল কুরআনদেরকে দুনিয়াতে উচ্চ মর্যাদা এবং পরকালে মহা সফলতা দান করেছেন।
কুরআনুল কারীমের ধারকগণই উম্মতের শ্রেষ্ঠজন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ القُرْآنَ وَعَلَّمَه» “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শিখে ও অপরকে শিক্ষা দেয়।” [এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৫০২৭]
কুরআনুল কারীম তার ধারকদের জন্যে কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «اقْرَأُوا الْقُرْآنَ، فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لِأَصْحَابِهِ» “তোমরা কুরআন পাঠ করো। কেননা কিয়ামতের দিন কুরআন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে।” [এটি মুসলিম রহ. বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৮০৪]
অনুশীলন কার্যক্রম
অনুশীলন কার্যক্রম ১: খুঁজে বের কর এবং খাতায় লিখ:
তোমার শিক্ষকের নির্দেশনায় কুরআনুল কারীমের সার্বিক সম্মান ও মহত্ত্ব একত্রিত কর এবং এগুলো বাছাই করে নিচের ছকে লিখো:
মর্যাদা-মহত্ত্ব
স্থানের বিবেচনায় কুরআনুল কারীমের মর্যাদা
সময়ের বিবেচনায় মর্যাদা
যে ভাষায় কুরআন নাযিল হয়েছে।
যে ফিরিশতা কুরআন নিয়ে নাযিল হয়েছেন।
যে রাসূলের উপর কুরআন নাযিল হয়েছে।
এসবের ব্যাখ্যা। কুরআনুল কারীম নাযিল শুরু হয় মক্কা মুকাররমায়, যা আল্লাহর সম্মানিত শহর। রমযান মাসে কুরআন নাযিল শুরু হয়। আরবী ভাষায় কুরআন নাযিল হয়, যা জান্নাতবাসীদের ভাষা। কুরআন নিয়ে আগমনকারী ফিরিশতা হলেন জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম। সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর কুরআন নাযিল হয়। মুসলিম জাতি হলো সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি, যাদেরকে মানবজাতির কল্যাণে সৃষ্টি করা হয়েছে।
অনুশীলন কার্যক্রম ২: আমি চিন্তা করবো এবং উত্তর দিবো:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللهِ، يَتْلُونَ كِتَابَ اللهِ، وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ، إِلَّا حَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ، وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ» “যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর কোনো গৃহে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং পরস্পরে (কুরআন-হাদীস) অধ্যয়ন করতে থাকে, তখন ফিরিশতাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলে, তাদের উপর শান্তিধারা নাযিল হয়। আর আল্লাহর রহমত তাদেরকে ঢেকে ফেলে এবং আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।” [এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৬৯৯] উপরোক্ত হাদীসটি চিন্তা -ভাবনা করে নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:
১- কুরআন তিলাওয়াত ও কুরআন শিক্ষার ফযীলত উক্ত হাদীস থেকে বের করো।
ক। কুরআনুল কারীমের মজলিসে ফিরিশতাগণ অবরতণ করেন এবং উপস্থিত থাকেন।
খ। কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতকারীর উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত নাযিল হয়।
গ। আল্লাহ তা‘আলা আসমানে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতকারীদেরকে নিয়ে আলোচনা করেন।
২- কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের ও কুরআন শিক্ষার মজলিসের ৩টি আদব সম্পর্কে তোমার সহপাঠীর সাথে আলোচনা করো।
অযু- প্রশান্তি ও ধীরস্থিরতার সাথে বসা- গভীর মনোযোগ ও বিনয়ের সাথে কুরআন তিলাওয়াত করা।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১। শা‘বান মাসে কুরআনুল কারীম নাযিল হয়েছে। (×)
২। কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতকারীর উপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত নাযিল হয়। ( )
৩। কুরআনুল কারীম তার ধারক বাহকদের জন্যে কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। ( )
৪। জিনজাতি কুরআনুল কারীমের অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে পারবে। (×)
৫। কুরআনুল কারীম হিদায়াত ও সকল কল্যাণ কে শামিল করেছে। কেননা এটি আল্লাহ তা‘আলার কালাম।
প্রশ্ন ২: নিচের দলীল দুটি পূর্ণ করো:
১- আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (..??.......إِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا ٱلذِّكۡرَ وَإِنَّا لَهُۥ لَحَٰفِظُونَ) “নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি এবং আমি অবশ্যই তার সংরক্ষক.....।” ??
২- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ القُرْآنَ و................». “তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম যে নিজে কুরআন শিখে এবং ............।”
প্রশ্ন ৩: কুরআনুল কারীমের প্রতি তোমার সম্মান ও এর ধারকদের প্রতি তোমার ভালোবাসা প্রকাশে ৩টি বাক্য লিখো।
দ্বিতীয় পাঠ: সূরা ফাতিহার তাফসীর
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- সূরা ফাতিহার আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত তাফসীর।
২- সূরা ফাতিহার আয়াতসমূহ থেকে কিছু শিক্ষা।
৩- সূরা ফাতিহার গুরুত্ব ও মযার্দা।
সূরা আল-ফাতিহা
بِسۡمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ 1.দয়াময়,পরম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ 2.সকল প্রশংসা আল্লাহর , যিনি সৃষ্টিকুলের রব। ٱلرَّحۡمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ 3.দয়াময়, পরম দয়ালু। مَٰلِكِ يَوۡمِ ٱلدِّينِ 4. হিসাব ও বিচার দিবসের মালিক। إِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَإِيَّاكَ نَسۡتَعِينُ 5.আমরা শুধু আপনারই ‘ইবাদাত করি এবং শুধু আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি। ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ 6.আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন। صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ غَيۡرِ ٱلۡمَغۡضُوبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ 7.তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন। তাদের পথ নয়, যাদের উপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট। [সূরা আল-ফাতিহা: ১-৭]
ব্যাখ্যা ও তাফসীর:
সূরা ফাতিহা কুরআনুল কারীমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মহান সূরা। এ সূরাতে তাওহীদের মূলনীতি ও আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
(بِسمِ ٱللَّهِ) আল্লাহর নামে। আল্লাহ তা‘আলার নামে, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তাঁর নাম নিয়ে বরকত লাভ করে কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াত শুরু করছি।
(ٱلرَّحمَٰنِ) আর রহমান। এমন ব্যাপক অনুগ্রহদাতা, যার রহমত সমস্ত সৃষ্টিকুলকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে।
(ٱلرَّحِيمِ) আর রাহীম। যিনি তাঁর মুমিন বান্দাহদের জন্য রহমতদাতা।
(ٱلحَمدُ لِلَّهِ) আল্লাহর জন্যেই সকল প্রশংসা। এমন সব শুকরিয়া ও উত্তম প্রশংসা, যা মহান আল্লাহর জন্য উপযোগী।
(رَبِّ ٱلعَٰلَمِينَ) সৃষ্টিকুলের রব। যিনি আমাদের এ মহাবিশ্ব ও অন্যান্য সকল জগত দেখভাল করেন।
(مَٰلِكِ يَوۡمِ ٱلدِّينِ) বিচার দিবসের মালিক। যিনি একমাত্র হিসাব-নিকাশ ও কিয়ামতের দিন প্রতিদান প্রদানের মালিক।
(إِيَّاكَ نَعبُدُ وَإِيَّاكَ نَستَعِينُ) “আমরা শুধু আপনারই ‘ইবাদাত করি এবং শুধু আপনারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি।” আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি, আপনার কোন শরীক নেই। সকল ক্ষেত্রে একমাত্র আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
(ٱهدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلمُستَقِيمَ) “আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন।” আমাদেরকে সঠিক পথ দেখিয়ে দিন। আর তা হলো ইসলাম ও ইসলামী শরী‘আহ অনুযায়ী আমল।
(صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِم) “তাদের পথ, যাদেরকে আপনি নিয়ামত দিয়েছেন।” যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা ইসলামের হিদায়েত দান করেছেন। তারা হলেন নবীগণ ও তাঁদের অনুসারীগণ।
(غَيرِ ٱلمَغضُوبِ عَلَيهِم) “ তাদের পথে নয়, যাদের উপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়েছে।” যারা হক চিনেছে; কিন্তু হকের অনুসরণ করেনি, যেমন ইয়াহুদিরা।
(وَلَا ٱلضَّآلِّينَ) “এবং তাঁদের পথেও নয়, যারা পথভ্রষ্ট।” যারা সত্যের ব্যাপারে অজ্ঞতার কারণে পথভ্রষ্ট হয়েছে, যেমন খৃস্টানরা।
সূরা ফাতিহার ফযীলত:
সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করাকে ওয়াজিব সাব্যস্থ করার মাধ্যমে বিশেষায়িত করা হয়। এটি আল-কুরআনের সর্বাধিক গুরুত্ব ও ফজীলতপূর্ণ সূরা। এর ফযীলত সম্পর্কে যেসব হাদীস বর্ণিত হয়েছে, তন্মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত হাদীস অন্যতম: “আল্লাহ তা‘আলা (হাদীসে কুদসীতে) বলেছেন: আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে অর্ধেক করে ভাগ করেছি। আর বান্দা যা চাইবে তা সে পাবে। সুতরং বান্দা যখন বলে: (ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ) “সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের রব আল্লাহরই প্রাপ্য”; আল্লাহ তা‘আলা এর জবাবে বলেন: “আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে।” সে যখন বলে: (الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) “তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু”; আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “আমার বান্দা আমার গুণাবলী বর্ণনা করেছে, গুণগান করেছে।” অতঃপর সে যখন বলে: (مَٰلِكِ يَوۡمِ ٱلدِّينِ) “বিচার দিবসের মালিক”, তিনি বলেন: “আমার বান্দা আমার মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছে।” আর কখনো বলেন: “আমার বান্দা (তার সব কাজ) আমার উপর সোপর্দ করেছে।” সে যখন বলে: (إِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَإِيَّاكَ نَسۡتَعِينُ) “আমরা শুধু আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি”; তিনি বলেন: “এটা আমার এবং আমার বান্দার মধ্যকার ব্যাপার। আমার বান্দা যা চাইবে তা সে পাবে।” যখন সে বলে: (ٱهۡدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلۡمُسۡتَقِيمَ) “আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন।” তখন তিনি বলেন: “এটা কেবল আমার বান্দার জন্য। আমার বান্দা যা চায় তা সে পাবে।” [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৩৯৫]
আয়াতগুলো থেকে কতিপয় শিক্ষা:
১- প্রতিটি ভালো কাজ ‘বিসমিল্লাহ’ বলে শুরু করতে হয়। যেমন কুরআন তিলাওয়াত, ভালো কাজ ও পানাহার ইত্যাদি।
২- সকল সৃষ্টির প্রতি মহান আল্লাহর ব্যাপক রহমত বিস্তৃত ; বিশেষ করে তাঁর মুমিন বান্দার জন্যে।
৩- কিয়ামত দিবসের জন্যে প্রস্তুতি নেওয়া ফরয।কেননা সেটিই হবে প্রতিদান দিবস।
৪- ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য জায়েয নেই।
৫- নবী-রাসূলদের অনুসরণ করা এবং কাফিরদের পথ পরিহার করা ফরয।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন( ১): চিন্তা করব এবং মিলাবো:
আয়াত ও আয়াতের অর্থের সাথে মিলাও:
আয়াত
অর্থ
আল্লাহ তা‘আলার রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ
একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই ইবাদতের অধিকারী।
আল্লাহ তা‘আলাই একমাত্র রুবুবিয়্যাতের (রব হওয়ার) যোগ্য।
অনুশীলন ( ২): পড়ব এবং মিলাবো:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে প্রতি সালাতের শেষে এ দু‘আ বলতে অসিয়াত করেন: اَللهم أعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ “হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে আপনার যিকির, আপনার শোকর ও আপনার উত্তম ইবাদত করতে সাহায্য করুন।”
সূরা ফাতিহার কোন আয়াতটি উপরোক্ত হাদীসের অর্থ বহন করে?
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: কলাম (ক) এর শব্দের সাথে কলাম (খ) এর অর্থ মিলাও:
কলাম: (ক) (ٱلرَّحمَٰنِ) “ "আর রহমান” (ٱلرَّحِيمِ) “আর রাহীম” (ٱلمَغضُوبِ عَلَيهِم) “যাদের উপর আপনার ক্রোধ আপতিত হয়েছে” (ٱلضَّآلِّينَ) “ যারা পথভ্রষ্ট” (ٱهدِنَا) “আমাদেরকে হিদায়াত দিন” কলাম: (খ)
যারা সত্যকে জানল; কিন্তু তা অনুসরণ করল না।
তিনি তাঁর মুমিন বান্দাগণের প্রতি রহম করেন।
আমাদেরকে পথ দেখান।
তাঁর রহমত সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।
যে ব্যক্তি অজ্ঞতা ও ভ্রষ্টতার উপর আল্লাহর ইবাদত করে।
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত অর্থ সম্বলিত আয়াতে কারীমাটি লিখো:
১- আল্লাহ তা‘আলার রহমাতের ব্যাপকতা।
২- নবী-রাসূল ও সালিহীনগণের পথ অনুসরণ করা ফরয।
প্রশ্ন ৩: আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণী থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করো: (إِيَّاكَ نَعۡبُدُ وَإِيَّاكَ نَسۡتَعِينُ) “আমরা শুধু আপনারই ‘ইবাদাত করি এবং শুধু আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি।”
তৃতীয় পাঠ: সূরা কাওসার ও কাফিরূনের তাফসীর
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- সূরা দু’টির আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত তাফসীর করবে।
২- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা বর্ণনা করবে।
৩- কুফর ও কাফিরদের থেকে মুক্ত হবে।
৪- আয়াতসমূহের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করবে।
সূরা আল-কাউছার
(إِنَّآ أَعۡطَيۡنَٰكَ ٱلۡكَوۡثَرَ ١) “নিশ্চয় আমি আপনাকে কাউছার দান করেছি। (فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ ٢) কাজেই আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় এবং কুরবানী করুন।
(إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ ٱلۡأَبۡتَرُ ٣) নিশ্চয় আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই তো নির্বংশ।” [আল-কাউসার: আয়াত ১-৩]
ব্যাখ্যা ও তাফসীর:
সূরা কাউছার আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করে।
(إِنَّآ أَعطَينَكَ ٱلكَوثَرَ)، “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে আল-কাউসার দান করেছি। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দুনিয়া ও আখিরাতে অগণিত কল্যাণ দান করেছেন। তন্মধ্যে জান্নাতে কাউসার ঝর্ণাটি অন্যতম।
(فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَٱنۡحَرۡ ٢) কাজেই আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুন এবং কুরবানী করুন। অতএব, আপনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে ও তাঁর শুকরিয়া স্বরূপ সালাত আদায় করুন এবং আল্লাহ তা‘আলার জন্যে কুরবানী করুন আর তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবেন না।
(إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ ٱلۡأَبۡتَرُ ٣) নিশ্চয় আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই তো নির্বংশ।” নিশ্চয় আপনার প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণকারীই দুনিয়া ও আখিরাতে তার চিহ্ন ও কল্যাণ দু থেকে বিচ্ছিন্ন।
সূরা আল-কাফিরূন
قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلۡكَٰفِرُونَ ١ “বলুন, ‘হে কাফিররা! لَآ أَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُونَ ٢ আমি তার ‘ইবাদাত করি না যার ‘ইবাদাত তোমরা করো।
وَلَآ أَنتُمۡ عَٰبِدُونَ مَآ أَعۡبُدُ ٣ এবং তোমরাও তাঁর ‘ইবাদাতকারী নও যাঁর ‘ইবাদাত আমি করি। وَلَآ أَنَا۠ عَابِدٞ مَّا عَبَدتُّمۡ ٤ এবং আমি ‘ইবাদাতকারী নই, তার যার ‘ইবাদাত তোমরা করে আসছ।
وَلَآ أَنتُمۡ عَٰبِدُونَ مَآ أَعۡبُدُ ٥ এবং তোমরাও তাঁর ‘ইবাদাতকারী নও, যাঁর ‘ইবাদাত আমি করি। لَكُمۡ دِينُكُمۡ وَلِيَ دِينِ ٦ তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আর আমার দ্বীন আমার।” (সূরা আল-কাফিরূন:১-৬)
ব্যাখ্যা ও তাফসীর:
মহিমান্বিত এ সূরায় ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য সাব্যস্ত হয়েছে এবং কুফর ও কাফির সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক থেকে মুক্ত হওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
قُلۡ يَٰٓأَيُّهَا ٱلۡكَٰفِرُونَ ١ “বলুন, ‘হে কাফিররা! لَآ أَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُونَ ٢ আমি তার ‘ইবাদাত করি না যার ‘ইবাদাত তোমরা করো। (২) হে মুহাম্মদ ! আপনি কাফিরদেরকে বলুন: তোমরা যেসব প্রতীমার পূজা করো, আমি তাদের ইবাদত করি না।
وَلَآ أَنتُمۡ عَٰبِدُونَ مَآ أَعۡبُدُ ٣ এবং তোমরাও তাঁর ‘ইবাদাতকারী নও যাঁর ‘ইবাদাত আমি করি। (৩) আমি যাঁর ইবাদত করি, তোমরাও তাঁর ইবাদতকারী নও। আর তিনি হলেন আল্লাহ তা‘আলা, যিনি একমাত্র সকল ইবাদতের অধিকারী, তাঁর কোন অংশীদার নেই।
(وَلَآ أَنَا عَابِدُُ مَّا عَبَدتُّم (٤)) এবং আমি ইবাদতকারী নই তার, যার ইবাদাত তোমরা করে আসছ। (৪) তোমরা যেসব মূর্তির পুজা করো, আমি তাদের ইবাদত কখনো করবো না।
(وَلَآ أَنتُم عَٰبِدُونَ مَآ أَعبُدُ (٥) এবং তোমরাও তাঁর ‘ইবাদাতকারী নও যাঁর ‘ইবাদাত আমি করি। (৫) لَكُم دِينُكُم وَلِيَ دِينِ (٦)) তোমাদের দ্বীন তোমাদের, আর আমার দ্বীন আমার।” (৬) তোমরা যে দ্বীনের উপরে অনড় রয়েছো, আমি তা থেকে মুক্ত। আমার জন্যে আমার দ্বীন যা আল্লাহ তা‘আলা আমার উপর নাযিল করেছেন। আমি কখনোই সে দ্বীন পরিবর্তন করব না।
আয়াতে কারীমা থেকে কিছু শিক্ষনীয় বিষয়:
১- আল্লাহ তা‘আলার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুমহান মর্যাদা উক্ত সূরায় বর্ণিত হয়েছে।
২- আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষে প্রতিরোধ করবেন।
৩- আল্লাহ তা‘আলা একমাত্র নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই জান্নাতে আল-কাউসার নহর দান করবেন।
৪- যবেহ করা ইবাদত, যা একমাত্র আল্লাহর জন্যেই করা ফরজ।
৫- মুসলিমের উপর ফরয হলো, ইসলামের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে গর্ববোধ করা।
৬- মুসলিমের উপর ফরয হলো কাফিরগণ আল্লাহ ব্যতীত যাদের ইবাদত করে, সেগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
৭- মুসলিমের উপর আরও ফরয হলো, সকল ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্য করা।
অনুশীলন কার্যক্রম
অনুশীলন কার্যক্রম (১): আমি চিন্তা ও অনুমান করবো:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতের একটি ঝরনার নাম কাওসার, যার প্রত্যেক তীর সোনার এবং যার পানি মুক্তা ও ইয়াকুতের উপর দিয়ে প্রবাহমান। এর মাটি কস্তুরীর তুলনায় অধিক সুগন্ধসম্পন্ন, এর পানি মধুর চেয়ে অধিক মিষ্ট এবং এবং তুষার থেকে অধিক সাদা।” এটি তিরমিযী, হাদীস নং ৩৩৬১ ও ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৪৩৩৪ বর্ণনা করেছেন।
উপরোক্ত হাদীসটি এবং এতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর উম্মতের জন্যে যেসব মর্যাদা রয়েছে তা চিন্তা করুন। অতপর সেসব লোকদের গুণাবলী খুঁজে বের করো, যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে কাউসার নহর থেকে পান করিয়ে সম্মানিত করবেন।
অনুশীলন কার্যক্রম (২): আয়াত ও এর অর্থের সাথে মিলাও:
আয়াত ও তার সঠিক অর্থের সাথে মিলাও:
আয়াত (لَّا يَنۡهَىٰكُمُ ٱللَّهُ عَنِ ٱلَّذِينَ لَمۡ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِي ٱلدِّينِ وَلَمۡ يُخۡرِجُوكُم مِّن دِيَٰرِكُمۡ أَن تَبَرُّوهُمۡ وَتُقۡسِطُوٓاْ إِلَيۡهِمۡۚ إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلۡمُقۡسِطِينَ) দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ থেকে বহিস্কার করেনি তাদের প্রতি মহানুভবতা দেখাতে ও ন্যায়বিচার করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ্ ন্যায়পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন। [আল-মুমতাহিনা : ৮] আল্লাহ তা‘আলা বলেন, لَآ أَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُونَ ٢ আমি তার ‘ইবাদাত করি না যার ‘ইবাদাত তোমরা করো। [সূরা আল-কাফিরূন, আয়াত:২] عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ ، قَالَتْ: قَدِمَتْ عَلَيَّ أُمِّي وَهِيَ مُشْرِكَةٌ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَاسْتَفْتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قُلْتُ: أَفَأَصِلُ أُمِّي؟ قَالَ: আসমা বিনত আবু বকর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় আমার আম্মা মুশরিক অবস্থায় আমার কাছে এলেন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফাতওয়া চেয়ে বললাম: আমি কি তার সাথে সদাচরণ করব? তিনি বললেন:
«نَعَمْ صِلِي أُمَّكِ» “হ্যাঁ তুমি তোমার মায়ের সঙ্গে সদাচরণ করবে।” এটি সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৬২০। হাদীসের অর্থ:
মুশরিক আত্মীয়ের সাথে সম্পর্ক রাখা জায়েয।
যুদ্ধকারী নয় এমন কাফিরের প্রতি সদাচরণ করা জায়েয।
মুশরিকদের দ্বীন থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা ওয়াজিব।
অনুশীলন (৩): পর্যালোচনা ও পার্থক্য করবো:
ইসলাম বিরোধী সকল দ্বীন থেকে মুক্ত হতে সূরা আল-কাফিরূনে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। যদিও আমাদের সমাজে বসবাসকারী অমুসলিমদের সাথে ভালো ব্যবহার আমাদের দায়িত্ব।
বিষয়টি তোমার শিক্ষকের সাথে আলোচনা করো, যাতে তুমি আক্বীদা ও আচরণের অবস্থাগুলোর পার্থক্য বুঝতে পারো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- মুসলিম তার দ্বীন নিয়ে গর্ববোধ করবে এবং সে তার আক্বীদাহ ধারন করবে। (√)
২- হজ ও সালাতের ন্যায় যবেহও একটি ইবাদত। (√)
৩- কাউসার ঝর্ণাধারা শুধু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যেই নির্দিষ্ট; তার উম্মতের জন্যে নয়। (×)
৪- উত্তম আচরণ শুধু মুসলিমদের সাথে করা হবে; অন্যদের সাথে নয়। (×)
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত আয়াত দু’টোর সংক্ষিপ্ত অর্থ লিখো:
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত বিষয়ের আয়াত লিখো:
১- একমাত্র একক আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে সালাত ও যবেহের আদেশ।
২- কাফিরদের উপাস্যদের থেকে মুক্ত থাকা ফরয।
চতুর্থ পাঠ: সূরা আন-নাসর ও সূরা আল-মাসাদ এর তাফসীর
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- সূরা দু’টির আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত তাফসীর করবে।
২- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে মহান আল্লাহর প্রতিরোধ সম্পর্কে বর্ণনা করো।
৩- আয়াতসমূহের শিক্ষনীয় বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করো।
৪- ইসলাম ও মুসলিমদের বিজয়ে তোমরা খুশি হবে।
সূরা আন-নাসর
إِذَا جَآءَ نَصۡرُ ٱللَّهِ وَٱلۡفَتۡحُ ١ “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে। (১) وَرَأَيۡتَ ٱلنَّاسَ يَدۡخُلُونَ فِي دِينِ ٱللَّهِ أَفۡوَاجٗا (2) আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন (২)
ব্যাখ্যা ও তাফসীর:
এ সূরায় মুসলিমদের বিজয় ও আরবে ইসলামের সম্প্রসারণ সম্পর্কে সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
إِذَا جَآءَ نَصۡرُ ٱللَّهِ وَٱلۡفَتۡحُ ١ “যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে। (১) যখন কুরাইশ মুশরিকদের বিরুদ্ধে মুসলিমদের জন্যে আল্লাহর সাহায্য আসবে এবং আল্লাহ তোমাদের জন্যে মক্কা মুকাররমা বিজয় করে দিবেন।
وَرَأَيۡتَ ٱلنَّاسَ يَدۡخُلُونَ فِي دِينِ ٱللَّهِ أَفۡوَاجٗا (2) আর আপনি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করতে দেখবেন (২) তখন আপনি মানুষদেরকে এককভাবে ও দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করতে দেখবেন।
(فَسَبِّح بِحَمدِ رَبِّكَ وَٱستَغفِرهُ) তখন আপনি আপনার রবের প্ৰশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তখন আপনি আপনার মহিমান্বিত রবকে সর্বপ্রকারের শির্ক থেকে মুক্ত রাখুন, আর আপনাকে প্রদত্ত সাহায্য ও বিজয়ের জন্যে তাঁর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন এবং তাঁর কাছে ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করুন।
(إِنَّهُۥ كَانَ تَوَّابَا ٣) নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী। (৩) নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা বান্দাগণের তাওবা কবুলকারী যারা তাঁর কাছে তাওবা করে এবং তিনি তাদের ক্ষমা প্রার্থনা কবুল করেন।
সূরা আল-মাসাদ
تَبَّتۡ يَدَآ أَبِي لَهَبٖ وَتَبَّ ١ “ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুহাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। (১) مَآ أَغۡنَىٰ عَنۡهُ مَالُهُۥ وَمَا كَسَبَ ٢ তার ধন-সম্পদ ও তার উপাৰ্জন তার কোন কাজে আসেনি। (২)
سَيَصۡلَىٰ نَارٗا ذَاتَ لَهَبٖ ٣ অচিরেই সে প্রবেশ করবে লেলিহান শিখাময় জাহান্নামের আগুনে। (৩) وَٱمۡرَأَتُهُۥ حَمَّالَةَ ٱلۡحَطَبِ ٤ আর তার স্ত্রীও- যে ইন্ধন বহন করে।(৪)
ব্যাখ্যা ও তাফসীর:
এ মহান সূরায় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আবূ লাহাবের পরিণতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। সে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করেছে এবং তাঁকে কষ্ট দিতো।
تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ وَتَبَّ “ধ্বংস হোক আবূ লাহাবের দুহাত এবং ধ্বংস হয়েছে সে নিজেও। (১) আবূ লাহাব ধ্বংস হয়েছে, সে হতভাগা এবং সে আযাবে পতিত হয়েছে। কেননা সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দিয়েছে।
مَآ أَغۡنَىٰ عَنۡهُ مَالُهُۥ وَمَا كَسَبَ ٢ তার ধন-সম্পদ ও তার উপাৰ্জন তার কোন কাজে আসেনি। (২) তার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি আল্লাহ তা‘আলার আযাব থেকে কখনোই রক্ষা করতে পারবে না।
سَيَصْلَى نَارًا ذَاتَ لَهَبٍ অচিরেই সে প্রবেশ করবে লেলিহান আগুনে। (৩) অচিরেই সে এমন আগুনে প্রবেশ করবে লেলিহান শিখাময়।
وَٱمۡرَأَتُهُۥ حَمَّالَةَ ٱلۡحَطَبِ ٤ আর তার স্ত্রীও- যে ইন্ধন বহন করে।(৪) তার সাথে থাকবে তার স্ত্রী (উম্মে জামীল) যে কাঁটা ও কষ্টদায়ক জিনিস বহন করতো এবং সেগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথে রেখে দিতো।
فِي جِيدِهَا حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ তার গলায় পাকানো রশি হবে।”(৫) তার গলায় পেচানো হবে মজবুত পাকানো রশি, যা দ্বারা তাকে টেনে হিঁচড়ে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।
আয়াতে কারীমাগুলো থেকে কিছু শিক্ষা:
১- আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ ও তাঁর প্রশংসা করা এবং বার বার তাওবা ও ইসতেগফার করা ফরয।
২- আল্লাহ তা‘আলা তাওবা কবুলকারী, তিনি বান্দাহর তাওবা কবুল করেন।
৩- আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষে প্রতিরোধ করেন এবং যারা তাঁকে কষ্ট দেয়, তাদের শাস্তি দেন।
৪- যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে না, সৎকর্ম করেনা তার ধন-সম্পদ, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আত্মীয়তাও তার কোন উপকারে আসবে না।
অনুশীলন কার্যক্রম
অনুশীলন (১): খুঁজে বের করব এবং উত্তর দিবো:
তোমার শিক্ষকের সাহায্যে জেনে নাও কীভাবে সূরা আন-নাসরের দ্বারা দলীল দিবে যে, শুধু গুনাহের ক্ষেত্রে নয়; বরং মুসলিমের সর্বদা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হয়।
অনুশীলন (২): আমি ভাবব এবং ব্যাখ্যা করবো:
আল-কুরআনুল কারীম নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা আবূ লাহাবকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করা এবং আল্লাহর পথ থেকে তাঁকে বাঁধা দেওয়ার কারণে আযাবের ভীতি প্রদর্শন করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ، اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللهِ شَيْئًا، يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ، لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللهِ شَيْئًا، يَا عَبَّاسُ بْنَ عَبْدِ المُطَّلِبِ، لاَ أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللهِ شَيْئًا، وَيَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللهِ، لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللهِ شَيْئًا، وَيَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ، سَلِينِي مَا شِئْتِ مِنْ مَالِي، لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللهِ شَيْئًا» “হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা আত্মরক্ষা করো। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে বানূ আব্দ মানাফ! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে ’আব্বাস ইবনু ’আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে সাফিয়্যাহ! আল্লাহর রাসূলের ফুফু! আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে ফাতিমাহ বিনতে মুহাম্মদ! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না।” এটি সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭৭১ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২০৬- বর্ণনা করেছেন।
ইসলামে ন্যায়পরায়ণতার মূল্যায়ণ কীভাবে করে, এ হাদীস অনুসারে ব্যাখ্যা করো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- ইসলাম ও মুসলিমদের বিজয়ে একজন মুসলিম খুশি হয়।(√)
২- গুনাহের কাজ করা ব্যতীত ক্ষমা প্রার্থনা করা শরী‘আহসম্মত নয়। (×)
৩- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়-স্বজনগণ পাপমুক্ত। (×)
৪- ইসলাম ন্যায়পরায়ণতা ও রহমতের ধর্ম। (√)
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত আয়াত দু’টোর সংক্ষিপ্ত অর্থ লিখো:
(وَٱستَغفِرهُ إِنَّهُۥ كَانَ تَوَّابَا ). তাঁর (আল্লাহর) কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় তিনি তাওবা কবুলকারী।
প্রশ্ন ৩: সূরা আন-নাসর ও সূরা আল-মাসাদের আয়াতসমূহের দুটি শিক্ষা ব্যাখ্যা করো।
পঞ্চম পাঠ: সূরা ইখলাস, সূরা নাস ও ফালাকের তাফসীর
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- সূরা ইখলাস, সূরা নাস ও ফালাকের আয়াতসমূহের সংক্ষিপ্ত তাফসীর করবে।
২- আয়াতসমূহের শিক্ষাসমূহ সুস্পষ্ট করবে।
৩- সূরা ইখলাস, সূরা নাস ও ফালাকের মর্যাদা প্রদান করবে।
৪- প্রত্যেক দিন ও রাতে সূরা ইখলাস, সূরা নাস ও ফালাক পাঠ করবে।
সূরা আল-ইখলাসঃ
قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ বলুন, ‘তিনিই আল্লাহ একক (তিনি ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই)। (১) ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ ‘আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন স্বয়ংসম্পুর্ণ , (সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। (২) لَمۡ يَلِدۡ وَلَمۡ يُولَدۡ ٣ তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। (৩)
ব্যাখ্যা ও তাফসীর:
মহান এ সূরা আল্লাহ তায়ালার কতিপয় সিফাতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।
قُلۡ هُوَ ٱللَّهُ أَحَدٌ ١ বলুন, ‘তিনিই আল্লাহ, একক(তিনি ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই। (১) হে রাসূল ! আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা উলুহিয়্যাত ও রুরুবিয়্যাতের(যাবতিয় ইবাদত ও তাঁর সকল কর্মের) ক্ষেত্রে একক ও অদ্বিতীয়।
ٱللَّهُ ٱلصَّمَدُ ٢ ‘আল্লাহ হচ্ছেন ‘সামাদ' (তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী)। (২) আল্লাহ তা‘আলা হলেন আস-সাইয়্যেদ, যার সমীপে সকল বান্দাহ তাদের প্রয়োজন মিটাতে মুখাপেক্ষী।
لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ তিনি কাউকেও জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেয়া হয়নি, (৩) আল্লাহ তা‘আলার কোন সন্তান নেই এবং তিনি কারো সন্তান নন।
وَلَمۡ يَكُن لَّهُۥ كُفُوًا أَحَدُۢ ٤) ‘এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই। (৪) আল্লাহ তা‘আলার কোন সমকক্ষ ও দৃষ্টান্ত নেই।
সূরা আল-ফালাকঃ
قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلۡفَلَقِ ١ বলুনঃ ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের। (১) مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে, (২) وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ আর রাতের অন্ধকারের অনিষ্ট হতে, যখন তা আচ্ছন্ন হয়। (৩)
وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।” (৫) [সূরা আল-ফালাক : ১-৫]
ব্যাখ্যা ও তাফসীর:
এ সূরা আমাদেরকে সৃষ্টিকুলের অনিষ্টতা, যাদু ও হিংসা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা শেখায়।
قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلۡفَلَقِ ١ বলুন, ‘আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি ঊষার রবের। (১) হে রাসূল ! আপনি বলুন, আমি যিনি সকাল করান ও আলোর রব মহান আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।
مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট হতে। (২) সমস্ত সৃষ্টির অনিষ্টতা ও তাদের দেয়া কষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
وَمِنْ شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ আর অনিষ্ট হতে রাতের অন্ধকারের, যখন তা আচ্ছন্ন হয়। (৩) রাত ও রাতের অন্ধকারের অনিষ্টতা এবং এতে যেসব ক্ষতি ও কষ্টদায়ক জিনিস রয়েছে সেসব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
وَمِن شَرِّ ٱلنَّفَّٰثَٰتِ فِي ٱلۡعُقَدِ ٤ আর অনিষ্ট হতে যাদুকর নারীদের, যারা গিরায় ফুঁক দেয়। (৪) সকল নারী যাদুকরের যাদু থেকে, যারা যাদু করার সময় গিরায় ফুঁক দেয়।
وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ আর অনিষ্ট হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।” (৫) হিংসুকের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যখন সে অন্যের নি‘আমত দূর হওয়া কামনা করে।
সূরা আন-নাসঃ
قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ١ বলুন, ‘আমি একমাত্র আশ্ৰয় প্রার্থনা করছি মানুষের রবের কাছে।(১) مَلِكِ ٱلنَّاسِ ٢ যিনি সকল মানুষের অধিপতি। (২) إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ ٣ যিনি সকল মানুষের প্রকৃত মাবূদ। (৩)
مِن شَرِّ ٱلۡوَسۡوَاسِ ٱلۡخَنَّاسِ ٤ আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতা শয়তানের অনিষ্ট হতে। (৪) ٱلَّذِي يُوَسۡوِسُ فِي صُدُورِ ٱلنَّاسِ ٥ যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে। (৫)
ব্যাখ্যা ও তাফসীর:
এ সূরা আমাদেরকে শয়তান ও তার কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা শিক্ষা দেয়।
قُلۡ أَعُوذُ بِرَبِّ ٱلنَّاسِ ١ বলুনঃ ‘আমি আশ্ৰয় প্রার্থনা করছি সকল মানুষের রবের কাছে।(১) হে রাসূল ! আপনি বলুনঃ আমি সকল মানুষের স্রষ্টা,তাদের রিযিকদাতা ও তাদের যাবতীয় বিষয়ের দেখভালকারী আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
مَلِكِ ٱلنَّاسِ ٢ যিনি সকল মানুষের অধিপতি। (২) যিনি মানুষের সকল বিষয়ে কর্তৃত্বকারী , তিনি তাদের থেকে অমুখাপেক্ষী।
إِلَٰهِ ٱلنَّاسِ ٣ যিনি সকল মানুষের প্রকৃত মাবূদ। (৩) তিনিই সকল ইবাদতের একমাত্র অধিকারী। তিনি ব্যতীত প্রকৃত কোন মাবূদ নেই।
مِن شَرِّ ٱلۡوَسۡوَاسِ ٱلۡخَنَّاسِ ٤ আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতা শয়তানের অনিষ্ট হতে। (৪) শয়তানের দেয়া কষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যে আল্লাহর যিকির থেকে মানুষের গাফেলতির সময় কুমন্ত্রণা দেয় এবং আল্লাহর যিকিরের সময় সে আত্মগোপন করে ।
ٱلَّذِي يُوَسۡوِسُ فِي صُدُورِ ٱلنَّاسِ ٥ যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে। (৫) যে (শয়তান) মানুষের অন্তরে অনিষ্টতা ও সন্দেহ ছড়ায়।
مِنَ ٱلۡجِنَّةِ وَٱلنَّاسِ ٦ সে শয়তান জিন এবং মানুষের মধ্য থেকে। (৬) আমি আল্লাহর কাছে জিনের গোপন কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি এবং মানুষের কুমন্ত্রণা থেকে যে মানুষকে অসৎ ও অমঙ্গল কাজের আদেশ দেয়।
মহান আয়াতগুলো থেকে কিছু শিক্ষা:
১- আল্লাহ তা‘আলা একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁর কোন সন্তান নেই, তাঁর কোন পিতাও নেই। তাঁর কোন সাদৃশ ও সমকক্ষ নেই।
২- আল্লাহ তা‘আলাই হলেন একমাত্র এমন সত্য মাবূদ, যিনি সকল প্রকার ইবাদত পাওয়ার একমাত্র উপযুক্ত।
৩- একজন মুসলিম যখন আল্লাহর কাছে জিন ও মানুষের ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তিনি তাকে হেফাযত করেন।
৪- যাদু ও হিংসার ক্ষতি বাস্তবিক অর্থেই রয়েছে। মুসলিম আল্লাহকে মজবুতভাবে আঁকড়িয়ে ধরলে এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করলে আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করেন।
৫- আল্লাহর যিকির মুসলিমকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করে।
অনুশীলন কার্যক্রম
অনুশীলন (১): সূরা ইখলাস, সূরা নাস ও সূরা ফালাক পাঠের সময় নির্ধারণ কর।
আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন সময় ও অবস্থায় সূরা ইখলাস, সূরা নাস ও ফালাক তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়েছেন। যে সময়/ অবস্থায় সূরা ইখলাস, সূরা নাস ও সূরা ফালাক পাঠ করা শরী‘আহ সম্মত সেগুলোকে চিহ্নিত করো।
সময় / অবস্থা এগুলো পাঠের বিধিবদ্ধতা
সকালে
সন্ধ্যায়
মসজিদে প্রবেশের সময়
মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময়
ঘুমের আগে খাদ্য গ্রহণের পরে
অনুশীলন (২): সহপাঠীর সাথে পর্যালোচনা করবো :
আল্লাহ তা‘আলা সূরা নাস ও সূরা ফালাককে যাদু ও শয়তানের ক্ষতি থেকে রক্ষার মাধ্যম বানিয়েছেন। এতদসত্ত্বেও কিছু মানুষ শরী‘য়ত বর্হিভুতভাবে যাদু-টোনা থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন উপায় গ্রহণ করে। যেমন: তাবিজ ঝুলানো, জিনের সহযোগিতা গ্রহণ ইত্যাদি।
তোমার সহপাঠীর সাথে সেসব কর্ম সম্পর্কে তুলনামুলক বিশ্লেষণ করো এবং মুসলিমের আক্বীদাহর উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব বর্ণনা করো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- আল-আহাদ হলেন যিনি উলুহিয়্যাত(একমাত্র যাবতিয় ইবাদত পাওয়ার উপযুক্ত) ও রুবুবিয়্যাতের( যিনি তাঁর সকল কর্মে) গুণাবলী সম্পন্ন এক ও একক।(√)
২- আস-সামাদ হলেন যার কাছে বান্দাহগণ তাদের সকল প্রয়োজন মিটাতে আশ্রয় গ্রহণ করে। (√)
৩- মুসলিমের জন্যে যাদু দ্বারা যাদুর প্রতিহত করা জায়েয। (×)
৪- আন-নাফফাসাত হলো সেসব নারী যাদুকর যারা মানুষকে ফুঁ দিয়ে যাদু করে থাকে। (√)
৫- আল-মু‘আওয়িযাতাইন তথা সূরা আন-নাস ও সূরা আল-ফালাক পাঠ করা হিংসা-বিদ্বেষ থেকে রক্ষা করে এবং শয়তান থেকে দূরে রাখে। (√)
৬- তাবিজ করা ও জিনের সহযোগিতায় চিকিৎসা গ্রহণ শির্কের অন্তর্ভুক্ত। (√)
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত অর্থ নির্দেশক উপযুক্ত আয়াতে কারীমা লিখো:
অর্থ
আল্লাহ তা‘আলার কোন সাদৃশ্য ও দৃষ্টান্ত নেই।
আমরা রাতের ও রাতে যেসব ক্ষতি রয়েছে সেগুলো থেকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবো।
মানুষ ও জিনের ক্ষতি থেকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবো। এ অর্থের নির্দেশক আয়াত
প্রশ্ন ৩: সূরা ইখলাস, সূরা নাস ও সূরা ফালাক তিলাওয়াতের সময় নির্ধারণ করো।
ইউনিট 2 : ঈমান ও আত্মশুদ্ধি
প্রথম পাঠ: ঈমান ও তার গুরুত্ব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- ঈমানের পরিচয় বর্ণনা করবে ।
২- ঈমানের রুকনসমূহ বর্ণনা করবে।
৩- ইসলাম, ঈমান ও ইহসানের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করবে।
৪- ঈমান ও সৎ আমলের মধ্যকার গভীর ও শক্তিশালী সম্পর্ক অনুধাবন করবে।
৫- তুমি ঈমান ও আমলের সংশোধন ও বিশুদ্ধ করতে উৎসাহী হবে।
ভূমিকা:
সাহাবীদেরকে দ্বীন শিক্ষা দিতে আল্লাহ তা‘আলা জিবরীল ‘আলাইহিস সালামকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রেরণ করেন। যেমনটি এ হাদীসে এসেছে:
(বর্ণনায় মুসলিম, হাদীস নং ৮)।
দ্বীনের রয়েছে তিনিটি স্তর-যা উপরোক্ত হাদীসে এসেছে:
প্রথম স্তর: ইসলাম। আর এর রুকন হলো পাঁচটি: দুটি বিষয়ের সাক্ষ্য দেওয়া তথা এ কথা বলা যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রামাযানের সিয়াম পালন করা এবং বায়তুল্লাহ পৌঁছার সামর্থ্য থাকলে হজ পালন করা।
দ্বিতীয় স্তর: ঈমান। আর এটি হলো ইসলামের পরের স্তর।
ঈমান হলো: অন্তরে বিশ্বাস করা, মৌখিক স্বীকৃতি দেওয়া এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমলে পরিণত করা।
অতএব একজন মানুষ কে অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। আর অন্তরের বিশ্বাসগুলো দুটি বিষয়ের সাক্ষ্য মুখে উচ্চারণের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া তথা এ কথা মুখে বলা, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য মাবূদ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল না করলে ব্যক্তির ঈমান পরিপূর্ণ হয় না। এ কারণে জান্নাতবাসীদেরকে ঈমান ও নেক আমলের গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (وَٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُوْلَٰٓئِكَ أَصۡحَٰبُ ٱلۡجَنَّةِۖ هُمۡ فِيهَا خَٰلِدُونَ) “আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে তারাই জান্নাতবাসী, তারা সেখানে স্থায়ী হবে।” (সূরা বাকারাহ, আয়াত: ৮২)
সুতরাং প্রত্যেক মুমিনের উচিত, নেক আমলের ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়া, যাতে সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন করতে পারে।
ঈমানের রয়েছে ছয়টি রুকন। সেগুলো হলো: আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান, তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, আখিরাতের প্রতি এবং তাকদিরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান।
তৃতীয় স্তর: ইহসান: এ স্তরে বান্দা তার সমস্ত কথা ও কাজে মহান রবকে পর্যবেক্ষণ করবে। ফলে তার অবস্থা এমন হয়, সে যেন তার বরকতময় মহান রবকে দেখছে। আর যদি সে তাঁকে দেখতে নাও পায়, তবে তার রব তো তাকে দেখছেন।
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): দীনের স্তরসমূহের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করব:
যেসব আয়াত প্রমাণ করে যে, ইসলামের স্তর ঈমানের স্তরের আগে, সেগুলো নির্বাচন করবো:
(قَالَتِ ٱلۡأَعۡرَابُ ءَامَنَّاۖ قُل لَّمۡ تُؤۡمِنُواْ وَلَٰكِن قُولُوٓاْ أَسۡلَمۡنَا وَلَمَّا يَدۡخُلِ ٱلۡإِيمَٰنُ فِي قُلُوبِكُمۡۖ) বেদুঈনরা বলল, ‘আমরা ঈমান আনলাম’। বলুন, ‘তোমরা ঈমান আননি’। বরং তোমরা বলো: ‘আমরা ইসলাম কবূল কর করলাম’। আর এখন পর্যন্ত তোমাদের অন্তরে ঈমান প্রবেশ করেনি।” [সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত : ১৪]
(مِّلَّةَ أَبِيكُمۡ إِبۡرَٰهِيمَۚ هُوَ سَمَّىٰكُمُ ٱلۡمُسۡلِمِينَ مِن قَبۡلُ) “তোমাদের পিতা ইবরাহিমের মিল্লাত। তিনি আগে তোমাদের নামকরণ করেছেন ‘মুসলিম’ হিসেবে।” [সূরা আল-হজ্জ, আয়াত: ৭৮]
অনুশীলন কার্যক্রম (২): আমি আল-কুরআন ও হাদীসের নসের সাথে তার অর্থের সম্পর্ক স্থাপন করব:
আল-কুরআন ও হাদীসের নসের সাথে এবং যে অর্থ এসব নসের অর্থ বহন করে তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করবো:
আয়াত ও হাদীসের নস:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (وَمَن يَأۡتِهِۦ مُؤۡمِنٗا قَدۡ عَمِلَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَأُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلدَّرَجَٰتُ ٱلۡعُلَىٰ) “আর যে তাঁর কাছে সৎকর্ম করে মুমিন অবস্থায় আসবে, তাদের জন্যই রয়েছে উচ্চতম মর্যাদা।” [সূরা ত্বহা,আয়াত: ৭৫]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ» “যাকে মানুষ তাদের সম্পদ ও জীবনের জন্য নিরাপদ মনে করে সে-ই প্রকৃত মুমিন।” [এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং ৩৯৩৪]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ» “যে লোক আল্লাহ ও শেষ দিনের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।” [এটি সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬১৩৫ এবং সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৪৮ এ বর্ণনা করেছেন]। কুরআন-হাদীসের এসব নসের যে অর্থ বুঝায়ঃ
ঈমান ব্যক্তিকে অন্য ব্যক্তির প্রতি অসদাচরণ করতে বারণ করে।
উত্তম আখলাক ঈমানের অন্যতম ফলাফল।
আখিরাতে মর্যাদা বৃদ্ধির উপায় হচ্ছে ঈমান।
অনুশীলন কার্যক্রম (৩): আমি নসিহত করি:
কিছু মানুষ দাবী করে যে, তার অন্তর ঈমানে ভরপুর; অথচ সে ফরয ইবাদতসমূহ-ই আদায় করে না!
এ ধরনের মানুষের উদ্দেশ্যে তুমি একটি নসিহতনামা লিখ।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- সালাত কায়েম করা ইহসানের একটি রুকন।
জান্নাত ও জাহান্নামের উপর ঈমান আনা ঈমানের রুকনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
৩- ঈমান দ্বীনের স্তরসমূহের প্রথম স্তর।
প্রশ্ন ২: নিম্নে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করুন:
১- ঈমানের রুকনসমূহ
(পাঁচটি- ছয়টি- সাতটি)
২- আল্লাহ তা‘আলার পর্যবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের খেয়াল রাখা যে স্তরের কথা বুঝায়:
(ইসলাম- ঈমান- ইহসান)
৩- ঈমান তিনটির সমষ্টির মধ্যে অবশ্যই থাকতে হবে বিশ্বাসঃ
(অন্তরের দ্বারা- জবানের দ্বারা- অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের দ্বারা)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১- ঈমানের পরিচয় লিখো।
২- ঈমানের সাথে নেক আমলের সম্পর্কের দলীল দাও।
৩- দীনের স্তরসমূহকে নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরে ক্রমানুসারে সাজাও (ইহসান- ইসলাম- ঈমান)।
দ্বিতীয় পাঠ: আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তার প্রভাব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- আল্লাহর প্রতি ঈমানের অর্থ বর্ণনা করবে।
২- ব্যক্তি এবং সমাজের ওপর আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমানের প্রভাব বর্ণনা করবে।
৩- আচার-আচরণের ওপর প্রভাব ফেলতে ঈমানের গুরুত্ব অনুভব করবে।
৪- মুমিনদের চরিত্রে চরিত্রবান হবে ও তাদের আচার-আচরণ গ্রহণ করবে।
ইতোপূর্বে তুমি জেনেছো যে, ঈমানের রুকন ৬টি। এর প্রথমটি হলো: আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনা। অতএব, আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমানের অর্থ কী?
নিম্নোক্ত কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে এ সম্পর্কে আমরা জানব:
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান
তাঁর অস্তিত্বের উপরে ঈমান।
আল্লাহ তা‘আলার রুবূবিয়্যাতের(তাঁর কর্মসমূহে তিনি একক) প্রতি ঈমান।(১)
আল্লাহ তা‘আলার উলূহিয়্যাতে ঈমানঃ(১)
(কুরআন ও সুন্নাহে বর্ণিত) আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর নাম ও উৎকৃষ্ট সিফাতসমূহের উপরে ঈমান।
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান:
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনা হলো ঈমানের রুকনসমূহের সর্বপ্রথম ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুকন। এতে চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে। সেগুলো হলো:
১- আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্বের ওপর ঈমান আনা। জন্ম থেকেই আল্লাহ প্রদত্ব স্বভাবগত বুঝ ও সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্বের ওপর ঈমান আনার ব্যাপারে প্রমাণ বহন করে।
আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্বের দলীলসমূহের মধ্যে অন্যতম দলীল হলো ‘‘দলীলুল খালক’ তথা সৃষ্টিকুলের অস্তিত্বের দলীল। কেননা প্রতিটি সৃষ্টি তার স্রষ্টার অস্তিত্বের দলীল বহন করে। আর সে স্রষ্টা হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (أَمۡ خُلِقُواْ مِنۡ غَيۡرِ شَيۡءٍ أَمۡ هُمُ ٱلۡخَٰلِقُونَ) “তারা কি স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি হয়েছে, না তারা নিজেরাই স্রষ্টা?” [সূরা আত-তুর, আয়াত: ৩৫]
২- এ কথার ওপরে ঈমান আনা যে, আল্লাহ তা‘আলা প্রতিটি বস্তুর রব, তিনিই তাদের স্রষ্টা, মালিক, রিযিকদাতা, জীবনদানকারী ও মৃত্যুদানকারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (فَلِلَّهِ ٱلۡحَمۡدُ رَبِّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَرَبِّ ٱلۡأَرۡضِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ) “ আর সকল প্রশংসা আল্লাহরই, যিনি আসমানসমূহের রব, জমিনের রব ও সকল জগতের রব।” [সূরা আল-জাসিয়া, আয়াত: ৩৬]
৩- আরও ঈমান আনা যে, আল্লাহ তা‘আলার রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ ও সুউচ্চ গুণসমূহ। তাঁর অনুরূপ কিছুই নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (لَيۡسَ كَمِثۡلِهِۦ شَيۡءٞۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ) (الشورى:11). “কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা।” [সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ১১]
৪- দৃঢ় বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তা‘আলা এক, তিনি একমাত্র ইবাদত পাওয়ার অধিকারী। সুতরাং যে ব্যক্তি জানে যে, আল্লাহ তা‘আলা তার রব, তার সৃষ্টিকারী, সে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতা‘আলাকে ইবাদতের ক্ষেত্রে এক হিসেবে মানে এবং অন্য সকলের ইবাদত থেকে দূরে থাকে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (رَّبُّ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَمَا بَيۡنَهُمَا فَٱعۡبُدۡهُ وَٱصۡطَبِرۡ لِعِبَٰدَتِهِۦۚ هَلۡ تَعۡلَمُ لَهُۥ سَمِيّٗا) “তিনি আসমানসমূহ, জমিন ও এদের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে, সে সবের রব। কাজেই তাঁরই ইবাদাত করুন এবং তাঁর ইবাদাতে অটল থাকুন। আপনি কি তাঁর সমনামগুণ সম্পন্ন কাউকেও জানেন?” [সূরা মারয়াম, আয়াত: ৬৫]
দ্বিতীয়ত: মুসলিমের আচার-আচরণে আল্লাহ তা‘আলার ওপর ঈমানের প্রভাব:
১- আল্লাহর প্রতি ঈমান মুমিনের অন্তরকে আল্লাহ তা‘আলার ভালোবাসা, তাঁকে ভয়, তাঁর কাছে আশা, তাঁর প্রতি দৃঢ়তা ও তাওয়াক্কুলের ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত রাখে। তার জিহ্বাকে আল্লাহ তা‘আলার জিকির ও তাঁর কিতাব তিলাওয়াতে উদ্বুদ্ধ রাখে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সৎকাজ করতে অনুপ্রাণিত করে ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।
২- আল্লাহর প্রতি ঈমান ব্যক্তির অন্তর থেকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকলের ভয় দূরীভুত করে দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (إِنَّمَا ذَٰلِكُمُ ٱلشَّيۡطَٰنُ يُخَوِّفُ أَوۡلِيَآءَهُۥ فَلَا تَخَافُوهُمۡ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ) “সে তো শয়তান। সে তোমাদেরকে তার বন্ধুদের ভয় দেখায়। কাজেই যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তাদেরকে ভয় করো না; বরং শুধু আমাকেই (আল্লাহকে) ভয় করো।” [সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৭৫]
৩- আল্লাহর প্রতি ঈমান মুমিনকে ইবাদতসমূহ আদায়ে এবং ভয় ও তাওয়াক্কুলের সাথে আল্লাহর নৈকট্য লাভে উদ্বুদ্ধ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتۡ قُلُوبُهُمۡ وَإِذَا تُلِيَتۡ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتُهُۥ زَادَتۡهُمۡ إِيمَٰنٗا وَعَلَىٰ رَبِّهِمۡ يَتَوَكَّلُونَ 2 “মুমিন তো তারাই যাদের হৃদয় আল্লাহর স্মরণ করা হলে কম্পিত হয় এবং তাঁর আয়াতসমূহ তাদের নিকট পাঠ করা হলে তা তাদের ঈমান বর্ধিত করে। আর তারা তাদের রব –এর ওপরই তাওয়াক্কুল করে। ٱلَّذِينَ يُقِيمُونَ ٱلصَّلَوٰةَ وَمِمَّا رَزَقۡنَٰهُمۡ يُنفِقُونَ 3 যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ حَقّٗاۚ لَّهُمۡ دَرَجَٰتٌ عِندَ رَبِّهِمۡ وَمَغۡفِرَةٞ وَرِزۡقٞ كَرِيمٞ 4) তারাই প্রকৃত মুমিন। তাদের রব এর কাছে তাদেরই জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদাসমূহ,ক্ষমা এবং সম্মানজনক জীবিকা।” [আল-আনফাল, আয়াত: ২-৪]
৪- আল্লাহর প্রতি ঈমান, মুমিনকে আল্লাহর অধিকারসমূহ আদায়ে অনুপ্রাণিত করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ» “যাকে মানুষ তাদের সম্পদ ও জীবনের জন্য নিরাপদ মনে করে সে-ই প্রকৃত মুমিন।” [এটি ইবন মাজাহ বর্ণনা করেছেন। হাদীস নং ৩৯৩৪]
এমনিভাবে, আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান, মুসলিমের আচার-ব্যবহারে নেক আমলসমূহ করার এবং গুনাহ ও অপরাধসমূহ বর্জন করার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে।
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): চিন্তা করবো এবং ফলাফল বের করবো:
আল-কুরআন ও হাদীসের নসের সাথে এবং যে অর্থ এসব নসের অর্থ বহন করে তার সাথে মিলাবো:
কুরআন ও হাদীসের নস:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (وَذَكِّرۡ فَإِنَّ ٱلذِّكۡرَىٰ تَنفَعُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ) “আর আপনি উপদেশ দিতে থাকুন; কারণ নিশ্চয়ই উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।” [আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৫]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «يَدْخُلُ أَهْلُ الْجَنَّةِ الْجَنَّةَ وَأَهْلُ النَّارِ النَّارَ، ثُمَّ يَقُولُ اللهُ تَعَالَى: أَخْرِجُوا مِنَ النَّارِ مَنْ كَانَ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ مِنْ إِيمَانٍ» “জান্নাতীগণ জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবেন। এরপরে আল্লাহ তা’আলা (ফিরিশতাদের) বলবেন: যাও, যার অন্তরে একটি সরিষা পরিমাণও ঈমান রয়েছে, তাকে জাহান্নাম থেকে বের করে নিয়ে আসো।” [এটি সহীহ বুখারী রহ., হাদীস নং ২২ ও সহীহ মুসলিম রহ., হাদীস নং ১৮৪ তে বর্ণনা করেছেন]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ، وَاللهِ لَا يُؤْمِنُ». قِيلَ: مَنْ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «الَّذِي لَا يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ» “আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না, আল্লাহর কসম! সে ঈমানদার হবে না। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল ! কে সে? তিনি বললেন: “যার প্রতিবেশী তার অনিষ্টতা থেকে নিরাপদ নয়।” [এটি বুখারী রহ. বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৬০১৬] যে অর্থ কুরআন-হাদীসের এসব নসের অর্থ বুঝায়
ঈমান বান্দাহর হকের সাথে সম্পৃক্ত।
উত্তম উপদেশ দ্বারা উপকৃত হওয়া আল্লাহর প্রতি ঈমানের ফলাফল।
কিয়ামতের দিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হচ্ছে ঈমান।
অনুশীলন কার্যক্রম (২): আমি ভাবব এবং উত্তর দিবো:
আবূ বকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তার হিজরত সম্পর্কে বলেন: «فارتحلنا بعد ما زالت الشمس، واتبعنا سراقة بن مالك، فقلت: يا رسول الله أُتِينا. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: «لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللهَ مَعَنَا» فدعا عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، فارتطمت فرسه إلى بطنها» ঠিক দ্বিপ্রহরের পর আমরা আবার যাত্রা শুরু করলাম। এদিকে সুরাকা ইবনু মালিক আমাদের অনুসরণ করে চলছে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমাদেরকে তো ধরে ফেলেছে। তিনি বললেন: “চিন্তিত হয়োনা, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ওপর বদ-দু’আ করলেন। এতে তার ঘোড়া পেট পর্যন্ত জমিনে ধ্বসে গেলো। [এটি বুখারী, হাদীস নং ৩৬১৫ ও মুসলিম রহ., হাদীস নং ৭৭০৬ তে বর্ণনা করেছেন]।
পূর্বোক্ত ঘটনা পড়ে নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:
এ ঘটনা থেকে আমরা কী শিখতে পারি?
এ পাঠের উদ্দেশ্যের সাথে উক্ত ঘটনার সম্পর্ক কী?
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
১- সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব প্রমাণ করে:
(আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্ব- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা- কুরআনের অলৌকিতা)
২- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «الْمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ» “যাকে মানুষ তাদের সম্পদ ও জীবনের জন্য নিরাপদ মনে করে সে-ই প্রকৃত মুমিন।” নির্দেশ করে
(তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ- ঈমানের সাথে আমলের সম্পর্ক- সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্ব)
৩- প্রকৃত মু’মিন হলো:
(আল্লাহ তা‘আলাকে সৃষ্টিজগতের কারো সাথে সাদৃশ্য করে না- প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়- সে তার কথায় সত্য বলে না)
প্রশ্ন ২: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখো:
১- কোন মানুষ যখন আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্বের ওপর ঈমান আনে, তখন সে ইসলামে প্রবেশ করে।
একজন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম হয় না যতক্ষণ না সে আল্লাহ তা’আলার অস্তিত্বে, তাঁর প্রভুত্বে (রুবুবিয়্যাতে) ও তাঁর জন্য ইবাদতের একত্বে (উলূহিয়্যাতে) বিশ্বাস করে।
২- ঈমান হলো অন্তরের কাজ, অঙ্গ-প্রতঙ্গের আমলের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।
ঈমান অন্তরের কাজ; তবে ঈমানের প্রভাব জবানে ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজে প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত কথাগুলোর পক্ষে দলীল পেশ করো:
১- ঈমান প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত রাখে।
২- প্রকৃত মুমিন আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে।
প্রশ্ন ৪: একজন মুসলিম যখন চারটি বিষয়ের স্বীকৃতি দেয়, তখন তার মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনা বাস্তবায়িত হয়। চার লাইনে উক্ত চারটি বিষয় সংক্ষেপে বর্ণনা করো:
তৃতীয় পাঠ: ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- ফিরিশতা দ্বারা উদ্দেশ্য কী, তা স্পষ্ট করবে।
২- ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনার অর্থ স্পষ্ট করবে।
৩- ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনা ফরয হওয়ার দলীল দিবে।
৪- কতিপয় ফিরিশতার কর্মসমূহ উল্লেখ করবে।
৫- ফিরিশতাদের থেকে লজ্জা করবে।
প্রাথমিক কাজ:
ফিরিশতা সম্পর্কে তুমি কী জানো?
{اللهُ يَصْطَفِي مِنَ الْمَلَائِكَةِ رُسُلًا} “আল্লাহ ফিরিশতাদের মধ্য থেকে মনোনীত করেন রাসূল।”
প্রথমত: ফিরিশতা দ্বারা উদ্দেশ্য।
দ্বিতীয়ত: ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনার অর্থ।
তৃতীয়ত: ফিরিশতাদের কার্যাবলী।
চতুর্থত: ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনার প্রভাব।
ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরয। এটি ঈমানের রুকনসমূহের একটি। বান্দাহর ঈমান ততক্ষণ পর্যন্ত বিশুদ্ধ হবে না, যতক্ষণ সে ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান না আনবে। এর দলীল হলো:
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: (ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ) “রাসূল (মুহাম্মদ) তার রবের পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফিরিশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা (মুমিনগণ) বলে: আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্তাবর্তনস্থল।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত : ২৮৫]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» “তুমি আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাদের প্রতি, কিতাবসমূহ, রাসূলগণ, আখেরাত দিবস ও তাকদীরের ভালো-মন্দের প্রতি ঈমান আনবে।” [বর্ণনায় সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০২]
প্রথমত: ফিরিশতা দ্বারা উদ্দেশ্য:
ফিরিশতাগণ (আল্লাহর) বিশাল সৃষ্ট। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ তাদের যা নির্দেশ করেন সে বিষয়ে তারা তাঁর নাফরমানি করেন না, আর তাদের যা আদেশ করা হয় তারা তাই করেন।
ফিরিশতাদের বিশাল আকারের সৃষ্টির স্বপক্ষে দলীল হলো জিবরীল ‘আলাইহিস সালামের গুণাবলী সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী: (ذِي قُوَّةٍ عِندَ ذِي ٱلۡعَرۡشِ مَكِينٖ) “যে সামর্থ্যশালী, আরশের মালিকের কাছে মর্যাদা সম্পন্ন।” [সূরা আত-তাকওয়ীর,আয়ত : ২০]
দ্বিতীয়ত: ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনার অর্থ:
একজন মুমিনের ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনা পরিপূর্ণ হবে নিম্নোক্ত কাজের মাধ্যমে:
ফিরিশতাদের অস্তিত্বের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
কুরআনুর কারীম ও সহীহ সুন্নাহতে বর্ণিত তাদের যেসব নাম আমরা জেনেছি, সেগুলোর উপর ঈমান আনা।
কুরআনুল কারীম ও সহীহ সুন্নাহতে বর্ণিত তাদের যেসব গুণাবলী ও কর্ম সম্পর্কে অবগত হয়েছি, সেগুলোর ওপর ঈমান আনা।
তৃতীয়ত: ফিরিশতাদের কার্যাবলী:
ফিরিশতাদের রয়েছে নানা কাজ-কর্ম। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:
১- অহী নিয়ে জমিনে অবতরণ করা। আর এটি হলো জিবরীল ‘আলাইহিস সালামের কাজ।
২- বৃষ্টি বর্ষণ করা। আর এটি হলো মীকাঈল ‘আলাহিস সালামের কাজ।
৩- বান্দাহর আমল লিপিবদ্ধ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (وَإِنَّ عَلَيۡكُمۡ لَحَٰفِظِينَ 10 “আর নিশ্চয় নিয়োজিত আছেন তোমাদের উপর সংরক্ষকদল; كِرَامٗا كَٰتِبِينَ 11 সম্মানিত লেখকবৃন্দ।” [সূরা আল-ইনফিতার, আয়া ত : 10-11]
৪- রূহ কবয করা। আর এটি হলো মালাকুল মাউত ‘আলাহিস সালামের কাজ।
৫- কিয়ামতের দিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেওয়া। আর এটি হলো ইসরাফীল ‘আলাইহিস সালামের কাজ।
এ ছাড়াও কুরআনুল কারীমে ও সহীহ হাদীসে ফিরিশতাদের বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে।
চতুর্থত: ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনার প্রভাব:
ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনার মহা প্রভাব মুসলিমের আচার-আচরণে পড়ে। তন্মম্যে কয়েকটি হলো:
১- ফিরিশতাদের অনুসরণ করে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করার ব্যাপারে সর্বাত্মক সচেষ্ট হওয়া।
২- নেক আমলের কারণে অহংকার ও অহমিকা থেকে দূরে থাকা। কেননা ফিরিশতাগণ নিষ্পাপ। তথাপি তারা সার্বক্ষণিক আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল। অন্যদিকে মানুষ ভুল-ত্রুটিকারী ও গুনাহগার। সুতরাং তাদের ইবাদাত ও ক্ষমা প্রার্থনা অধিকহারে করা উচিত।
৩- আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন সেগুলো থেকে প্রথমত আল্লাহর ভয়ে বিরত থাকা, অতপর ফিরিশতাদের থেকে লজ্জাবোধের কারণে বিরত থাকা। কেননা তারা বান্দাহর সকল আমল লিপিবদ্ধ করেন।
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি ভাবব এবং উত্তর দিবো:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا) নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর জন্য দো‘আ-ইসতেগফার করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। [সূরা আল আহযাব, আয়াত: ৫৬]
এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ফিরিশতাদের একটি কাজ উল্লেখ করেছেন এবং মুমিনদেরকে তাদের অনুসরণ করতে নির্দেশ করেছেন। তাহলে সে কাজটি কী?
অনুশীলন (২): পর্যালোচনা ও বর্ণনা করব:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِنَّ الْمَلاَئِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ» “নিশ্চয়ই ফিরিশতাগণ ইলম অণ্বেষণকারীর কাজে খুশি হয়ে তাদের ডানা বিছিয়ে দেন।” [এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৩৬৪৩]
তুমি যখন জানলে যে, ইলম অণ্বেষণকারীকে সম্মানিত ফিরিশতাগণ সম্মান করেন তখন- তালিবে ইলম হিসেবে- তোমার অনুভূতি বর্ণনা করো।
অনুশীলন (৩): ব্যাখ্যা করবো:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ وَالثُّومَ وَالْكُرَّاثَ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا؛ فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ» “যে ব্যক্তি পিয়াজ, রসুন ও দুর্গন্ধজাতীয় কিছু খায়, সে যেন আমাদের মসজিদসমূহের কাছে না আসে। কারণ যে সব বস্তুর কারণে আদম সন্তান কষ্ট পায়, তাতে ফিরিশতাগণও কষ্ট পায়।” [এটি মুসলিম রহ. বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ১২৮২]
উপরোক্ত হাদীস অনুসারে ফিরিশতাদের প্রতি তোমার করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- আল্লাহ তা‘আলা ফিরিশতাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন।
২- ইসরাফীল ‘আলাইহিস সালামের দায়িত্ব হলো নবীদের কাছে অহী পৌঁছানো।
৩- জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম জমিনে বৃষ্টি বর্ষণের কাজে নিয়োজিত ফিরিশতা।
৪- ইবাদাতের ক্ষেত্রে আমাদেরকে ফিরিশতাদের মতো কঠোর পরিশ্রম করা উচিত।
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত বিষয়ে কুরআনের আয়াত অথবা হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করো:
১- ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনা ফরয।
২- জিবরীল ‘আলাইহিস সালামের সৃষ্টি বিশাল আকৃতির।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
একজন মুসলিমের ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে?
২- ফিরিশতাদের উপর ঈমান আনার প্রভাবের মধ্যে রয়েছে: ‘নিজের থেকে অহংকার দূর করা’- এটি ব্যাখ্যা করো।
চতুর্থ পাঠ: কিতাব ও রাসূলদের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাবসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- আসমানী কিতাব ও রাসূলদের প্রতি ঈমান আনার অর্থ সুস্পষ্ট করবে।
২- কুরআনুল কারীমে উল্লিখিত আসমানী কিতাব ও রাসূলগণের নামসমূহ বর্ণনা কর।
৩- কুরআনুল কারীমের বৈশিষ্ট্যগুলো অন্যান্য আসমানী কিতাব থেকে আলাদা করবে ।
৪- আসমানী কিতাবসমূহ নাযিলের ও নবী-রাসূলগণের প্রেরণের নি‘আমত অনুধাবন করতে পারবে।
৫- নবী-রাসূলগণের গুণাবলী ও তাদের কর্মের অনুসরণ করতে পারবে।
কিতাবসমূহের ওপর ঈমান
রাসূলগণের ওপর ঈমান
কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের ওপর ঈমানের প্রভাব।
প্রথমত: কিতাবসমূহের ওপর ঈমান:
১- কিতাবসমূহের ওপর ঈমানের অর্থ ও এর ওপর ঈমান আনার হুকুক:
কিতাবসমূহের ওপর ঈমান আনা হলো: মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা ও মুখে স্বীকার করা যে, আল্লাহ তা‘আলা মানবজাতির হিদায়েত ও তাদের ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্য নিশ্চিত করতে এসব কিতাব নবী-রাসূলগণ-‘আলাইহিমুস সালাম- এর ওপর নাযিল করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা যেসব কিতাব নাযিল করেছেন সেগুলোর ওপরে সামগ্রীকভাবে ঈমান আনা ফরয। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ ءَامِنُواْ بِٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ وَٱلۡكِتَٰبِ ٱلَّذِي نَزَّلَ عَلَىٰ رَسُولِهِۦ وَٱلۡكِتَٰبِ ٱلَّذِيٓ أَنزَلَ مِن قَبۡلُۚ) “হে মুমিনগণ! তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি, তাঁর রাসূলের প্রতি, এবং সে কিতাবের প্রতি যা আল্লাহ তাঁর রাসূলের উপর নাযিল করেছেন। আর সে কিতাবের প্রতিও যা তার পূর্বে তিনি নাযিল করেছেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৩৬]
কুরআনুল কারীমে উল্লিখিত সকল আসমানী কিতাবের ওপর সমষ্টিগত ও সবিস্তারে ঈমান আনা ফরয। সেগুলো হলো: ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালামের সহীফা, নবী দাঊদ ‘আলাইহিস সালামের ওপর নাযিলকৃত যবূর, নবী মূসা ‘আলাইহিস সালামের ওপর নাযিলকৃত তাওরাত, নবী ‘ঈসা আলাইহিস সালামের ওপর নাযিলকৃত ইঞ্জিল এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিলকৃত আল-কুরআনুল কারীম।
২- সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব:
প্রত্যেক মুসলিমকে অবশ্যই ঈমান আনতে হবে যে, আল-কুরআনুল কারীম:
মহান আল্লাহর কালাম (বাণী), এতে যা কিছু এসেছে তার সবগুলোর ওপর বিশ্বাস করা।
আল-কুরআনুল কারীম সকল প্রকারের বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে মুক্ত। অন্যদিকে পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে বিকৃতি ও পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। তাই আমাদের মাঝে বিদ্যমান পূর্ববর্তী কোন কিতাবকেই আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করে এর বিশুদ্ধতার ব্যাপারে দৃঢ়তার সাথে দাবী করা সম্ভব নয়।
আল্লাহর কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বশেষ ও পূর্ববর্তী সকল কিতাবের রহিতকারী হলো আল-কুরআনুল কারীম।
এটি এমন এক বিষ্ময়কর কিতাব, যার অনুরূপ কোন কিছুই হাজির করা অসম্ভব।
দ্বিতীয়ত: রাসূলগণের ওপর ঈমান:
১। রাসূলগণের ওপর ঈমান আনার অর্থ ও এর হুকুম:
রাসূলগণের ওপর ঈমান আনা হলো: বিশ্বাস ও স্বীকৃতি দেওয়া যে, মহান আল্লাহ একমাত্র তাঁর ইবাদতের দিকে আহ্বান করতে নবী-রাসূলগণকে সৃষ্টিকুলের নিকট প্রেরণ করেছেন। তাঁর কোন শরীক নেই। তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁদের সর্বশেষ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
সকল নবী-রাসূলগণের ওপর সমষ্টিগতভাবে ঈমান আনায়ন করা ফরয; যদিও তাদের নাম ও সংখ্যা জানা না যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (وَرُسُلٗا قَدۡ قَصَصۡنَٰهُمۡ عَلَيۡكَ مِن قَبۡلُ وَرُسُلٗا لَّمۡ نَقۡصُصۡهُمۡ عَلَيۡكَۚ وَكَلَّمَ ٱللَّهُ مُوسَىٰ تَكۡلِيمٗا) “আর অনেক রাসূল, যাদের বর্ণনা আমি আপনাকে ইতোপূর্বে দিয়েছি এবং অনেক রাসূল, যাদের বর্ণনা আমি আপনাকে দেইনি। আর অবশ্যই আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছেন।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৬৪]
আল-কুরআনুল কারীমের যেসব নবী-রাসূলগণের নাম উল্লেখ হয়েছে, তাদের ওপর সবিস্তারে ঈমান আনা ফরয। আর তাদের সংখ্যা হলো পঁচিশ জন।
এছাড়া আরও ঈমান আনা ফযর যে, নবীগণ সকল প্রকারের গুনাহ ও খারাপ দোষ-ত্রুটি থেকে মাছূম তথা নিষ্পাপ। সুতরাং তাদের থেকে মিথ্যা বলা, খিয়ানত করা, স্বল্প আকল (জ্ঞান-বুদ্ধি) এবং অন্যান্য কদর্যতা এবং অসম্পূর্ণতা অসম্ভব।
২। সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল:
জেনে রাখো- হে আমার শিক্ষার্থী ভাই- তাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূলগণ হলেন পাঁচজন। তারা হলেন রাসূলগণের মধ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ের অধিকারীগণ। কেননা তারা আল্লাহর দাওয়াতের তাবলীগের ক্ষেত্রে রাসূলগণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ধৈর্যশীল ছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদের ব্যাপারে তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন এভাবে: (وَإِذۡ أَخَذۡنَا مِنَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ مِيثَٰقَهُمۡ وَمِنكَ وَمِن نُّوحٖ وَإِبۡرَٰهِيمَ وَمُوسَىٰ وَعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَۖ وَأَخَذۡنَا مِنۡهُم مِّيثَٰقًا غَلِيظٗا) “আর স্মরণ করুন, যখন আমি নবীদের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম এবং আপনার কাছ থেকেও, নূহ, ইবরাহীম, মূসা, ও মারইয়াম পুত্র ‘ঈসার কাছ থেকেও। আর আমি তাদের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলাম সুদৃঢ় অঙ্গীকার।” [সূরা আল আহযাব, আয়াত: ৭]
আর নবী-রাসূলগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বাধিক মর্যাদাবান রাসূল হলেন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তিনিই তাঁদের সর্বশেষ। তাঁর রিসালাত কিয়ামত পর্যন্ত সকল মানুষের জন্যে ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য।
তৃতীয়ত: কিতাবসমূহ ও নবী-রাসূলগণের ওপর ঈমান আনার প্রভাব :
কিতাবসমূহ ও নবী-রাসূলগণের ওপর ঈমান আনার অনেক প্রভাব রয়েছে। তন্মধ্যে কয়েকটি হলো:
১। আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস হওয়া। যেহেতু তিনি আমাদের হিদায়েতের জন্যে নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন।
২। এসব আসমানী কিতাবসমূহে যা নাযিল করা হয়েছে এবং রাসূলগণ যে সংবাদ দিয়েছেন, তার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলাকে চেনা ও জানা।
৩। এসব কিতাব সুস্পষ্টভাবে যা বর্ণনা করেছে এবং রাসূলগণ যা ব্যবহারিকভাবে শিক্ষা দিয়েছেন সেগুলোর আলোকে দলীল-প্রমাণের মাধ্যমে (জেনে বুঝে) আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করতে পারা।
৪। নবী-রাসূলগণের চরিত্রাবলী, গুণাবলী ও তাঁদের কর্মসমূহের অনুসরণ করা।
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): নবী-রাসূলদের নাম লিখো:
আল্লাহ তা‘আলা সূরা আল-আন‘আমের (৮৩-৮৬) আয়াতে ১৮জন নবী-রাসূলের নাম উল্লেখ করেছেন। সে আয়াতগুলোতে ফিরে যাও এবং সেখান থেকে উল্লিখিত নবী-রাসূলদের নাম খুঁজে বের করো।
অনুশীলন (২): খুঁজে বের করবো ও উত্তর দিবো:
নবী-রাসূল ‘আলাইহিমুস সালামদের জীবন চরিতে ও তাদের গুণাবলীতে রয়েছে অনুসরণ অনুরকণের বিভিন্ন দিক। তন্মধ্যে রয়েছে আখলাক। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীদের কতিপয় আখলাক উল্লেখ করেছেন। নিচের ছকে সেসব আখলাক লিখো:
উত্তম চরিত্র / নবী
দানশীলতা / ইবরাহীম আলাইহিস সালাম
ধৈর্য /...............
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- নবী ইবরাহীম ‘আলাইহিস সালাম সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল।( )
২- যাবূর নবী দাঊদ ‘আলাহিস সালামের উপর নাযিল হয়েছে। ( )
৩- কুরআনুল কারীমে সমস্ত নবীদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ( )
৪- নবী-রাসূলগণের কর্মসমূহ ও তাদের আখলাকের অনুসরণ করা অসম্ভব। ( )
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নিন:
১- এ কথার ওপর ঈমান আনা ফরয যে, সকল নবী যে গুণে গুণান্বিত:
(বুদ্ধিদীপ্ত মেধা - অর্থের প্রাচুর্য - সল্প অসুস্থতা )
২- রাসূলগণের মধ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ের অধিকারীগণ রাসূল হলেন:
(ইবরাহীম ও ইসমাইল- নূহ ও ঈসা- আদম ও মূসা)
৩- রোগ-ব্যাধিতে ধৈর্যের ব্যাপারে আমরা অনুরসণ করব নবী:
(যাকারিয়া- আইয়ূব- ইদরীস ‘আলাইহিস সালাম)
৪- কুরআনুল কারীম অন্যান্য আসমানী কিতাব থেকে আলাদা যে বৈশিষ্ট্য:
(এটি আল্লাহর কালাম- এক হাজার বছর থেকে অবশিষ্ট- বিকৃতি থেকে মুক্ত)
প্রশ্ন ৩: তুমি কীভাবে ব্যাখ্যা করবে: রাসূলগণের প্রেরণ ও কিতাব নাযিল করা মানবজাতির উপর মহান আল্লাহর অন্যতম বড় নি‘আমত।
প্রশ্ন ৪: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
১- নবীদের তিনটি এমন গুণ চিহ্নিত করো, যা তোমার অনুসরণ করা সম্ভব।
২- কুরআনুল কারীমের মর্যাদার উপর একটি দলীল লিখো।
পঞ্চম পাঠ: শেষ দিনের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনার অর্থ স্পষ্ট করবে।
২- পরকাল দিবসের স্তরগুলো স্পষ্ট করবে।
৩- পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে।
৪- জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যে এবং জান্নাত লাভের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করতে আমল করবে।
আমাদের দুনিয়ার জীবন হলো এমন জমিনের মতো যাতে আমরা চাষাবাদ করি। সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়াতে ভালোভাবে চাষাবাদ করবে, সে পরকালে উত্তম ফসল আহরণ করবে। পরকালীন প্রতিদান হয়ত জান্নাত; নতুবা জাহান্নাম। এ পাঠে আমরা পরকালের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী সম্পর্কে জানতে পারবো।
বোর্ডে বড় করে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকবে মহান আল্লাহর বাণী:
(وَٱلَّذِينَ يُؤۡمِنُونَ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡكَ وَمَآ أُنزِلَ مِن قَبۡلِكَ وَبِٱلۡأٓخِرَةِ هُمۡ يُوقِنُونَ) “আর যারা ঈমান আনে তাতে, যা আপনার উপর নাযিল করা হয়েছে এবং যা আপনার পূর্বে নাযিল করা হয়েছে, আর যারা আখেরাতে নিশ্চিত বিশ্বাসী।” [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৪]
পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনার অর্থ।
পরকাল দিবসের মনজিল তথা ধাপসমূহ।
পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনার প্রভাব।
প্রথমত: পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনার অর্থ:
পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনা হলো ঈমানের পঞ্চম রুকন। এর দ্বারা বুঝায়: মহান আল্লাহ পরকাল সম্পর্কে যা বলেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পরে ঘটিতব্য বিষয় সম্পর্কে যেসব সংবাদ দিয়েছেন, সেগুলোর ওপর বিশ্বাস করা ও স্বীকৃতি দেওয়া।
দ্বিতীয়ত: পরকাল দিবসের মনজিল-স্তরসমূহঃ
যেসব বিষয় মৃত্যুর পরে সংঘটিত হবে, সেসব বিষয়ের ওপর ঈমান আনা পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। সেগুলো হলো:
১। করবের ফিতনা: কবরের ফিতনা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পরে ফিরিশতা কর্তৃক তার রব, দ্বীন ও নবী সম্পর্কে প্রশ্ন। মুমিনগণ এসব প্রশ্নের উত্তর যথাযথভাবে দিবে। অতপর পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত কবরে তাকে নি‘আমত দান করা হবে। অন্যদিকে কাফির অথবা মুনাফিক বলবে: আমি জানি না। তাদেরকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত কবরে আযাব প্রদান করা হবে।
২। পুনরুত্থান: আল্লাহ তা‘আলা ইসরাফীল ‘আলাইহিস সালামকে সিঙ্গায় দ্বিতীয় ফুঁৎকার দিতে আদেশ করবেন। ফলে লোকজন তাদের কবর থেকে উত্থিত হয়ে মহা বিশ্বের রব আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। অতপর তিনি তাদের হিসেব নিকেষ নিবেন এবং তাদের কর্মের প্রতিদান দিবেন।
৩। হাশর: কবর থেকে উত্থিত হয়ে হিসাবের জন্যে মানুষকে একত্রিত করা।
৪। আমলনামা ও মিযান: আমলের পুস্তিকাসমূহ উন্মুক্ত করা হবে। আল্লাহ তা‘আলা বান্দার আমলসমূহ প্রকাশ করবেন। অতপর সেসব আমল ওযন দেওয়ার জন্যে তিনি দাঁড়িপাল্লা স্থাপন করবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (وَإِذَا ٱلصُّحُفُ نُشِرَتۡ) “আর যখন আমলনামাগুলো উন্মোচিত করা হবে।” [সূরা আত-তাকওয়ীর: ১০] আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেছেন: (وَنَضَعُ ٱلۡمَوَٰزِينَ ٱلۡقِسۡطَ لِيَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِ فَلَا تُظۡلَمُ نَفۡسٞ شَيۡـٔٗاۖ) “আর কিয়ামতের দিনে আমি ন্যায়বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করবো। সুতরাং কারো প্রতি কোন যুলুম করা হবে না।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত : ৪৭]
৫। পুল সিরাত: আর তা হলো অতি সূক্ষ্ম পুলসিরাত যা জাহান্নামের উপর দিয়ে স্থাপন করা হবে। মানুষ তাদের আমল অনুসারে সেটি অতিক্রম করবে। যে ব্যক্তি তা থেকে পড়ে যাবে, সে জাহান্নামে যাবে । আর যে ব্যক্তি তা অতিক্রম করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
৬। জান্নাত ও জাহান্নাম: জান্নাত হলো এমন আবাসস্থল যা মহান আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দাহদের জন্যে তৈরি করে রেখেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: [সূরা আল-হিজর, আয়াত : ৪৫] (إِنَّ ٱلۡمُتَّقِينَ فِي جَنَّٰتٖ وَعُيُونٍ) “নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা থাকবে জান্নাতসমূহে ও ঝর্ণাধারায়।” অন্যদিকে জাহান্নাম হলো এমন আবাসস্থল, যা মহান আল্লাহ কাফির ও মুনাফিকদের জন্যে তৈরি করে রেখেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (إِنَّ ٱللَّهَ جَامِعُ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ وَٱلۡكَٰفِرِينَ فِي جَهَنَّمَ جَمِيعًا) “আল্লাহ মুনাফিক এবং কাফির সবাইকে জাহান্নামে একত্র করবেন “ [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৪০]
তৃতীয়ত: পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনার প্রভাব:
পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনার রয়েছে বহু উত্তম প্রভাব। সেগুলো হলো:
১- পরকালের বিবেচনায় দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়াকে বাধা প্রদান করে।
২- উত্তম ও আনুগত্যের কাজে অধিক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি।
৩- পাপের কাজে জড়িত হওয়া থেকে অধিক ভীতির সঞ্চার হওয়া।
৪- মুসলিম তার কথা ও কাজে দায়িত্বশীলতা অনুধাবন করা।
৫- দুনিয়াতে মুসলিমের যা কিছু হারাবে, সে ব্যাপারে তার দু:খ থাকবে না। যেহেতু সে পরকালের নি‘আমত ও প্রতিদান আশা করে।
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): খুঁজে বের করব এবং উত্তর দিবো:
পরকাল দিবসের ওপর ঈমানের বিষয়টি কুরআনুল কারীমে সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা এ দিনকে নানা নামে নামকরণ করেছেন, যা এ দিনের ভয়াবহতা ও তীব্রতা প্রমাণ করে।
তোমার জানা পরকাল দিবসের কপিতয় নামসমূহের নিম্নে দলীল উল্লেখ করো:
নাম / যে অর্থ বুঝায়
ইয়াওমুল কিয়ামাহ (কিয়ামত দিবস)
ইয়াওমুল ফাসল (পার্থক্য দিবস)
ইয়াওমুদ দ্বীন (প্রতিদান দিবস)
আল-কারি‘আত (ভীতিপ্ৰদ মহা বিপদ)
অনুশীলন (২): অংশগ্রহণ করব ও জবাব দিবো:
তোমার শিক্ষকের সহযোগিতায় ঘটনাটি পড় অতপর নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের জবাব দাও:
মুহাজিরগণ হাবশা থেকে ফিরে আসার পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أَلَا تُحَدِّثُونِي بِأَعَاجِيبِ مَا رَأَيْتُمْ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ؟». قَالَ فِتْيَةٌ مِنْهُمْ: بَلَى، يَا رَسُولَ اللهِ، بَيْنَا نَحْنُ جُلُوسٌ مَرَّتْ بِنَا عَجُوزٌ مِنْ عَجَائِزِ رَهَابِينِهِمْ، تَحْمِلُ عَلَى رَأْسِهَا قُلَّةً مِنْ مَاءٍ، فَمَرَّتْ بِفَتًى مِنْهُمْ، فَجَعَلَ إِحْدَى يَدَيْهِ بَيْنَ كَتِفَيْهَا، ثُمَّ دَفَعَهَا فَخَرَّتْ عَلَى رُكْبَتَيْهَا، فَانْكَسَرَتْ قُلَّتُهَا، فَلَمَّا ارْتَفَعَتِ الْتَفَتَتْ إِلَيْهِ، فَقَالَتْ: سَوْفَ تَعْلَمُ يَا غُدَرُ إِذَا وَضَعَ اللهُ الْكُرْسِيَّ، وَجَمَعَ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ، وَتَكَلَّمَتِ الْأَيْدِي وَالْأَرْجُلُ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ، فَسَوْفَ تَعْلَمُ كَيْفَ أَمْرِي وَأَمْرُكَ عِنْدَهُ غَدًا. فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «صَدَقَتْ، صَدَقَتْ» তোমরা হাবশায় যেসব আশ্চর্যজনক বিষয় প্রত্যক্ষ করেছো তা কি আমার কাছে ব্যক্ত করবে না? তাদের মধ্য থেকে এক যুবক বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল। একবার আমরা বসা ছিলাম। আমাদের সামনে দিয়ে সেখানকার এক বৃদ্ধা রমনী মাথায় পানি ভর্তি কলসসহ যাচ্ছিলো। সে তাদের এক যুবককে অতিক্রমকালে সে তার কাঁধে তার এক হাত রেখে তাকে ধাক্কা দিলে সে উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং এর ফলে তার কলসটি ভেঙ্গে যায়। সে উঠে দাঁড়িয়ে যুবকের দিকে তাকিয়ে বললো: হে দাগাবাজ!’’তুমি অচিরেই জানতে পারবে যখন আল্লাহ তা‘আলা কুরসী স্থাপন করবেন, পূর্বাপর সকল মানুষকে সমবেত করবেন এবং হাত-পাগুলো তাদের কৃতকর্মের বিবরণ দিবে, তখন তুমিও জানতে পারবে সেদিন তোমার ও আমার অবস্থা কি হবে। (বৃদ্ধার বর্ণনাকৃত এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “এই বৃদ্ধা সত্য কথাই বলেছে, সত্য কথাই বলেছে।” [ইবন মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৪০১০]
১- হাদীসটির উপযুক্ত শিরোনাম দাও।
এ ঘটনা থেকে পরকালের ওপর ঈমানের প্রভাব বের করো।
অনুশীলন (৩): ফলাফল বের করবো:
কুরআনুল কারীম কিয়ামতের দিনে পুনরুত্থান সম্পর্কে সুস্পষ্ট আকলী দলীল পেশ করেছে। এগুলোর আলোকে প্রতিটি আকলী দলীলের সাথে যেসব আয়াত উক্ত আকলী দলীলের উপর প্রমাণ করে সেগুলোর সাথে মিলাও:
আয়াত
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (وَهُوَ ٱلَّذِي يَبۡدَؤُاْ ٱلۡخَلۡقَ ثُمَّ يُعِيدُهُۥ وَهُوَ أَهۡوَنُ عَلَيۡهِۚ) “আর (আল্লাহ) তিনি-ই, যিনি সৃষ্টিকে শুরুতে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, তারপর তিনি সেটা পুনরাবৃত্তি করবেন; আর এটা তাঁর জন্য অতি সহজ।” [সূরা আর-রূম, আয়াত : ২৭]
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (وَمِنۡ ءَايَٰتِهِۦٓ أَنَّكَ تَرَى ٱلۡأَرۡضَ خَٰشِعَةٗ فَإِذَآ أَنزَلۡنَا عَلَيۡهَا ٱلۡمَآءَ ٱهۡتَزَّتۡ وَرَبَتۡۚ إِنَّ ٱلَّذِيٓ أَحۡيَاهَا لَمُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰٓۚ إِنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ) “আর তাঁর একটি নিদর্শন এই যে, আপনি ভূমিকে দেখতে পান শুষ্ক ও ঊষর। অতঃপর যখন আমি তাতে পানি বর্ষণ করি তখন তা আন্দোলিত ও স্ফীত হয়। নিশ্চয় যিনি জমিনকে জীবিত করেন, তিনি অবশ্যই মৃতদের জীবনদানকারী। নিশ্চয় তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৯]
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (أَوَلَمۡ يَرَوۡاْ أَنَّ ٱللَّهَ ٱلَّذِي خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَلَمۡ يَعۡيَ بِخَلۡقِهِنَّ بِقَٰدِرٍ عَلَىٰٓ أَن يُحۡـِۧيَ ٱلۡمَوۡتَىٰۚ بَلَىٰٓۚ إِنَّهُۥ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٞ) আর তারা কি দেখে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এসবের সৃষ্টিতে কোন ক্লান্তি বোধ করেননি, তিনি মৃতের জীবন দান করতেও সক্ষম? অবশ্যই হ্যাঁ, নিশ্চয় তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [সূরা আল-আহকাফ, আয়াত : ৩৩] দলীল
বৃষ্টি বর্ষণের পরে জমিনকে মৃত থেকে উর্বর করা।
আসমান ও জমিনের সৃষ্টি।
মানুষকে শুরুতে (কোন নমুনা ছাড়া) সৃষ্টি করার চেয়ে তাকে পুনরায় সৃষ্টি করা সহজ।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- মানুষ তাদের আমল অনুযায়ী পুলসিরাত পার হবে।
২- দ্বিতীয় সিঙ্গায় ফুঁৎকারে সকল সৃষ্টি মারা যাবে।
৩- মুমিন পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত কবরে নি‘আমত (শান্তি) লাভ করবে।
৪- আমলনামা গ্রহণের পরে আমলসমূহ ওজন দেওয়া হবে।
প্রশ্ন ২: নিচের শব্দগুলোকে উপযুক্ত বাক্যের শুরুতে বসাও:
(হাশর- কবর- পুনরুত্থান- পুলসিরাত)
১. কবর হল: পরকালের প্রথম ধাপ।
২. পুলসিরাত হলো: জাহান্নামের উপর নির্মিত একটি সেতু।
৩. হাশর হলো: হিসাবের জন্য লোকদেরকে একত্রিত করা।
৪. . পুনরুত্থান হল: মৃতদেরকে তাদের কবর থেকে জীবিত করা।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
১- মুসলিম কীভাবে পরকাল দিবসের ওপর ঈমান নিশ্চিত করবে?
২- মুসলিমদেরকে সঠিক পথে অটল থাকতে পরকাল দিবসের ওপর ঈমানের প্রভাব ব্যাখ্যা করো।
ষষ্ঠ পাঠ: কাযা ও কাদার (ফয়সালা ও তাকদীর) এর ওপর ঈমান আনা এবং তার প্রভাব।
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থ বর্ণনা করবে ।
২- তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থ এ নয় যে, আমল ছেড়ে দেওয়া- একথার দলীল পেশ করবে।
৩- তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার ফলাফল ব্যাখ্যা করবে।
৪- একজন মুসলিমের জীবনে তাকদীরের প্রতি ঈমানের গুরুত্ব উপলব্দি করবে।
৫- আল্লাহ তা‘আলার নির্ধারিত ফয়সালা ও তকদীরের ওপর সন্তুষ্ট থাকবে।
প্রারম্ভিক কর্ম:
প্রিয় শিক্ষার্থী ভাই- আমরা ঈমানের ষষ্ঠ ও শেষ রুকন তাকদীরের আলোচনা করছি। এখন তুমি ঈমানের সকল রুকন স্মরণ করো এবং নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে লিখো:
ঈমানের রুকনসমূহ
প্রথমত: তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থ:
তাকদীরের প্রতি ঈমান হলো: অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস করা যে, সৃষ্টিজগতে ভালো-মন্দ যা কিছু সংঘটিত হয়, তা আল্লাহ তা‘আলা যা কিছু জেনেছেন, তিনি যা লিপিবদ্ধ করেছেন, তিনি যা ইচ্ছা করেছেন ও সৃষ্টি করেছেন, তার ভিত্তিতেই সংঘটিত হয়ে থাকে। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ (إِنَّا كُلَّ شَيۡءٍ خَلَقۡنَٰهُ بِقَدَرٖ) “নিশ্চয় আমি সবকিছু সৃষ্টি করেছি নির্ধারিত পরিমাপে।” [সূরা আল-কামার, আয়াত : ৪৯]
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে ওয়াসিয়ত করে বলেছেন: “আর এ কথা জেনে রেখো যে, যদি সমগ্র উম্মত তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাতাসমূহ (তাকদীরের লিপি) শুকিয়ে গেছে।’’ [এটি আহমাদ, হাদীস নং ২৬৬৯ এবং তিরমিযী, হাদীস নং ২৫১৬- বর্ণনা করেছেন]
দ্বিতীয়ত: তাকদীরের প্রতি ঈমান এবং উপকরণ গ্রহণ:
তাকদীরের প্রতি ঈমানের সাথে (কর্মের ক্ষেত্রে) সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করা ও উপকরণ গ্রহণ করা সাংঘর্ষিক নয়। কেননা মানুষ কর্মের মাধ্যমে তাই অর্জন করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্যে যা নির্ধারণ করে রেখেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের প্রত্যেকের জাহান্নামে ও জান্নাতে ঠিকানা লিখে দেওয়া হয়েছে।” সাহাবীগণ বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে কাজ করবো কেনো? আমরা কি আমাদের (ভাগ্য) লিপির উপর ভরসা করবো না?’ তিনি বললেন: “না, বরং তোমরা কর্ম করতে থাকো। কেননা, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য সে কাজ সহজ হয়, যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।” [এটি বুখারী রহ., হাদীস নং ১৩৬২ ও মুসলিম রহ., হাদীস নং ২৬৪৭ তে বর্ণনা করেছেন]
মানুষ জানে না আল্লাহ তার ভাগ্যে কী লিখে রেখেছেন। সুতরাং সে কীভাবে অজানা বিষয় দ্বারা দলীল পেশ করবে? সুতরাং তার কর্তব্য হলো কল্যাণ তালাশে কর্মে সর্বাত্মক চেষ্টা করা।
তৃতীয়ত: তাকদীরের প্রতি ঈমানের প্রভাব:
তাকদীরের ওপর ঈমানের রয়েছে বহুবিদ ফলাফল। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
১- দৃঢ়তা এবং ইয়াকীনের সাথে কঠিন কাজে এগিয়ে যাওয়া।
২- ঘৃণা ও হিংসার মতো নানান সামাজিক ব্যাধিসমূহের চিকিৎসা হয়।
৩- আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নির্ধারিত ফয়সালায় বিশ্বাস করা দ্বারা সন্তুষ্ট ও ধৈর্য আসে এবং ক্রোধ ও উদ্বেগ অস্থিরতা পরিহার করা যায়।
৪- বিনয়ী হওয়া। কেননা তাকদীরের ওপর ঈমানদার ব্যক্তি দৃঢ়তার সাথে বিশ্বাস করে যে, সে যে কোন নি‘আমত প্রাপ্ত হয়, তার সবগুলোই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি নসিহত পেশ করি:
ধরো, তোমার এক বন্ধু কোন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার লাভের আশায় কঠোর পরিশ্রম করেছে। দিনরাত কঠোর পরিশ্রমেরে পরেও সে উক্ত পুরস্কারটি পায়নি। ফলে সে এতে প্রচন্ড দু:খিত ও চিন্তিত হলো।
তুমি তোমার এ বন্ধুকে এ পাঠ থেকে যা শিখেছো, তার আলোকে একটি উপদেশপত্র লিখো।
অনুশীলন (২): আমি ভাবব এবং উত্তর দিবো:
আল্লাহর নবী নূহ ‘আলাইহিস সালাম (আল্লাহর নির্দেশে) নৌকা তৈরি করলো, যার দ্বারা আল্লাহ তাকে বন্যা থেকে মুক্তি দিয়েছেন। নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় হিজরতের জন্যে পরিকল্পনা করেছিলেন। অথচ আল্লাহ তা‘আলা তাদের এসব পরিকল্পনা ছাড়াও সাহায্য করতে সক্ষম।
তাহলে আল্লাহর নবী নূহ ‘আলাইহিস সালাম এবং নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন এসব উপকরণ গ্রহণ করেছিলেন?
এ থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১:নিম্নে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো এবং সেটি শূণ্যস্থানে বসাও:
১- তাকদীদের ওপর ঈমান হলো ঈমানের ............।
(পরিপূরক- রুকন)
২- আল্লাহ তা‘আলা মুমিন বান্দাহদের উপর লিখে দিয়েছেন তাদের..........
(কল্যাণ ও অকল্যাণ- শুধু কল্যাণ, অকল্যাণ নয়)
৩- তাকদীরের প্রতি ঈমান.......
(উপকরণ গ্রহণের সাথে সাংঘর্ষিক নয়- উপকরণ বর্জন দাবী রাখে)
প্রশ্ন ২- মুসলিমের জীবনের নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে তাকদীরের ওপর ঈমানের প্রভাব ব্যাখ্যা করো:
১- আল্লাহ তা‘আলা যখন নি‘আমত দান করেন।
২- যখন সে বিপদে আপতিত হয়।
৩- যখন সে তার প্রতিবেশীকে অধিক সম্পদশালী দেখে।
প্রশ্ন ৩: বীরত্ব ও প্রশান্তির সাথে তাকদীরের ওপর ঈমানের সম্পর্ক রয়েছে। কথাটি ব্যাখ্যা করো।
ইউনিট: সুন্নাহ ও শামাইল (নববী গুণাবলী)
প্রথম পাঠ: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয় এবং তাঁর গুরত্বপূর্ণ গুণাবলী।
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশ পরিক্রমার মর্যাদা সুস্পষ্ট হবে।
২- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী, সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয়-স্বজনের বর্ণনা দিবে।
৩- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিক ও চারিত্রিক গুণাবলী সম্পর্কে সংক্ষিপ্তাকারে লিখবে।
৪- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আখলাকের ওপর দলিল প্রমাণ পেশ করতে পারবে।
৫- নববী আখলাকের অনুসরণ করতে পারবে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয়
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশনামা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয়-স্বজন
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিক ও চারিত্রিক গুণাবলী
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশনামা ও তাঁর নামসমূহ:
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আরবের সর্বশ্রেষ্ঠ বংশদানে সম্মানিত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিতা হলেন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম আল-কুরাশী। অন্যদিকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতাও কুরাইশ বংশের। তাঁর নাম আমিনাহ বিনতু ওয়াহাব, তিনি কুরাইশ বংশের বনী যোহরাহ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। আর কুরাইশ বংশের বংশ পরিক্রমা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে নবী ইসমাঈল ‘আলাইহিস সালাম পর্যন্ত মিলিত হয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশ কিছু নাম রয়েছে। তন্মধ্যে: আহমাদ, আল-হাশির, আল-‘আকিব, প্রভৃতি।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম ও মৃত্যু:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫৭১ খৃস্টাব্দে হস্তীর বছরে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। আর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১১ হিজরী (৬৩৩ খৃস্টাব্দ) ১২ রবিউল আউয়াল সোমবার মদীনায় ৬৩ বছর বয়সে মারা যান।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ:
আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদেরকে নবীর জন্যে নির্বাচিত করেছেন এবং তাঁদেরকে মুমিনগণের মা বানিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ٱلنَّبِيُّ أَوۡلَى بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ مِنۡ أَنفُسِهِمۡۖ وَأَزۡوَجُهُۥٓ أُمَّهَتُهُمۡۗ “নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়েও ঘনিষ্টতর এবং তার স্ত্রীগণ তাদের মা।” [সূরা আল-আহযাব: ৬] তাঁরা হলেন:
১- খাদীজাহ বিনতু খুওয়াইলিদ রাদিয়াল্লাহু আনহা
২- সাওদাহ বিনতু যাম‘আহ রাদিয়াল্লাহু আনহা
৩- আয়িশাহ বিনতু আবী বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহা
৪- হাফসাহ বিনতু ‘উমার বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা
৫- যাইনাব বিনতু খুযাইমাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা
৬- উম্মু সালামাহ হিনদ্ বিনতু আবী উমাইয়াহ রদিয়াল্লাহু আনহা ৭- যায়নব বিনতু জাহাশ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ৮- জু্আইরিয়্যাহ বিনতুল হারিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ৯- উম্মু হাবীবাহ রামলাহ বিনতু আবী সুফিয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহুমা ১০- সাফিয়্যাহ বিনতু হুয়াই রাদিয়াল্লাহু আনহা ১১- মাইমূনা বিনতুল হারিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তান-সন্ততি ও আত্মীয়-স্বজনগণ:
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র সন্তানরা হলেন: কাসিম, আব্দুল্লাহ ও ইবরাহীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম। তারা সকলেই ছোট অবস্থায় মারা যান। আর তাঁর কন্যা সন্তানরা হলেন: যাইনাব, রুকাইয়্যাহ, উম্মু কুলসুম ও ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুন্না। ইবরাহীম ব্যতীত অন্য সবাই খাদিজা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার সন্তান, ইবরাহীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর মা হলেন মারিয়াহ আল-কিবতিয়্যাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা।
২- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখযোগ্য আত্মীয়-স্বজন: তাঁর চাচারা হলেন: হামযাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব ও আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা। তাঁর চাচাতো ভাই হলেন ‘আলী বিন আবূ তালিব ও আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিক গুণাবলী:
দৈহিক ও গঠনগত দিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দর মানুষ। তিনি ছিলেন ফর্সা বর্ণের, উজ্জল চেহারার, মানুষের চেহারার সামনে সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষ। তিনি ছিলেন মাঝারি উচ্চতার, প্রশস্ত বুকের, চওড়া কাঁধের এবং ঘন দাড়ির অধিকারী।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আখলাক:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম চরিত্রের দিক থেকে সর্বোৎকৃষ্ট মানব ছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ “আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর রয়েছেন।” [সূরা আল-কালাম,আয়াত : ৪] আর তাঁর এ মহান চরিত্রই মানুষ কর্তৃক তাঁকে ভালোবাসা ও ইসলামে প্রবেশের কারণের অন্যতম কারণ ছিলো। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম চরিত্রের মধ্যে কতিপয় নিন্নে উল্লেখ করা হলো:
১- বদান্যতা ও বীরত্ব: আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন: «كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أحْسَنَ الناسِ، وأجْوَد الناسِ، وأشْجَعَ الناسِ» “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাপেক্ষা সুশ্রী, দানশীল ও সাহসী ছিলেন।” [এটি সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৮৭৫]
২- সহিষ্ণুতা ও কোমলতা: ‘আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন: «مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللهِ ﷺ شَيْئًا قَطُّ بِيَدِهِ، وَلَا امْرَأَةً، وَلَا خَادِمًا، إِلَّا أَنْ يُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ الله تعالى، وَمَا نِيلَ مِنْهُ شَيْءٌ قَطُّ، فَيَنْتَقِمَ مِنْ صَاحِبِهِ، إِلَّا أَنْ يُنْتَهَكَ شَيْءٌ مِنْ مَحَارِمِ الله تعالى، فَيَنْتَقِمَ للهِ تعالى» “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর পথে জিহাদ ব্যতীত তাঁর নিজ হাতে কোনো দিন কাউকে প্রহার করেননি, কোনো স্ত্রীকেও না, খাদেমকেও না। আর যে তার ক্ষতি করেছে, তার থেকে প্রতিশোধও গ্রহণ করেন নি; তবে মহীয়ান আল্লাহর মর্যাদা হানিকর কোনো কিছু করলে তিনি আল্লাহর উদ্দেশ্যে তার প্রতিশোধ নিয়েছেন।” [এটি বুখারী, হাদীস নং ৬৮৫৩ ও মুসলিম, হাদীস নং ২৩২৮- বর্ণনা করেছেন]
৩- বিনয় ও নম্রতা: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের সাথে বন্ধু, ভাই ও পিতার মতো বসবাস করতেন। তিনি ছোট বড় সবার সাথে মিশতেন, সাধারণ মানুষের মতোই তিনি খেতেন, পোষাক পরিধান করতেন এবং যানবাহনে আরোহন করতেন।
৪-ধৈর্য: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার কুরাইশদের কষ্টের উপর ধৈর্যধারণ করেছেন। মদীনাতে ইয়াহুদী, মুনাফিক ও তাদের খিয়ানত-ষড়যন্ত্রের উপরও ধৈর্যধারণ করেছেন। পরিশেষে আল্লাহ তা‘আলাকে তাকে তাদের থেকে মুক্তি দান করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাওয়াত, মানুষকে শিক্ষা দেওয়া ও আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদে ধৈর্যধারণ করেছেন।
এমনিভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সন্তান হারানো, দরিদ্রতা, অসুস্থতা ও পার্থিব সকল বালা-মুসিবতে ধৈর্যধারণ করেছেন।
৫- মার্জনা ও ক্ষমাশীলতা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাথে খারাপ আচরণকারীকে ক্ষমা করে দিতেন; এমনকি মক্কা বিজয়ের পরে তিনি মক্কাবাসীদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন; যদিও তারা তাঁকে কষ্ট দিয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে।
অনুশীলন (Activities)
অনুশীলন (১): আমি গবেষণা করব এবং ফলাফল বের করব:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামসমূহ তাঁর গুণেরই অন্তর্ভুক্ত। যেমন তাঁর একটি নাম হলো ‘আল-মুকাফফী’ (পদাঙ্ক অনুসরণকারী); কেননা তিনি তাওহীদের দাওয়াতের ক্ষেত্রে নবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। এর আলোকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অন্যান্য নামসমূহের সাথে উপযুক্ত অর্থের সম্পর্ক মিলাও:
নাম
রহমতের নবী
মুহাম্মাদ (খুব প্রশংসিত)
আহমাদ (সর্বাধিক প্রশংসাকারী)
আল-আকিব (সর্বশেষ আগত)
নাবিউত তাওবা (তাওবার নবী) নামকরণের কারণ তিনি সকল নবীর শেষে আগমন করেছেন। তিনি তাঁদের সর্বশেষ। কাজেই তার পরে কোনো নবী নেই। কারণ তাঁর প্রতি রয়েছে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের প্রশংসা। আর এটি ঘটেছে তার পবিত্র গুণাবলীর কারণে। কারণ তিনি মর্যাদার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছেন এবং তিনি তার মহান রব আল্লাহ তা‘আলার সবচেয়ে বেশি প্রশংসাকারী কৃতজ্ঞ। কারণ তিনি আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে বেশী তাওবাকারী ছিলেন। আল্লাহ তাকে সৃষ্টিকুলের জন্যে রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন।
অনুশীলন (২): পরস্পর সহযোগিতা করব ও খুঁজে বের করব:
তুমি তোমার সহপাঠীকে সহযোগিতা করো এবং নিম্নোক্ত আয়াত থেকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র খুঁজে বের করো:
আয়াত
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (لَقَدۡ جَآءَكُمۡ رَسُولٞ مِّنۡ أَنفُسِكُمۡ عَزِيزٌ عَلَيۡهِ مَا عَنِتُّمۡ حَرِيصٌ عَلَيۡكُم بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ رَءُوفٞ رَّحِيمٞ) “অবশ্যই তোমাদের নিকট তোমাদের মধ্য হতেই একজন রাসূল এসেছেন, তোমাদের যে দুঃখ-কষ্ট হয়ে থাকে তা তার জন্য বড়ই বেদনাদায়ক। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি তিনি করুণাশীল ও অতি দয়ালু।” [সূরা আত-তাওবাহ : ১২৮]
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (فَبِمَا رَحۡمَةٖ مِّنَ ٱللَّهِ لِنتَ لَهُمۡۖ وَلَوۡ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ ٱلۡقَلۡبِ لَٱنفَضُّواْ مِنۡ حَوۡلِكَۖ) “আর আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছিলেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত।” [সূরা আলে-ইমরান: ১৫৯]
আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন: «مَا سُئِلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ، فَقَدْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَأَعْطَاهُ غَنَمًا بَيْنَ جَبَلَيْنِ» রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কেউ কিছু চাইলে তিনি অবশ্যই তাকে তা দিতেন। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলো। তিনি তাকে এত বেশি ছাগল দিলেন যাতে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থান পূর্ণ হয়ে যাবে। [হাদীসটি সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৩১২]
আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: «كُنَّا إِذَا حَمِيَ الْبَأْسُ، وَلَقِيَ الْقَوْمُ الْقَوْمَ –أي: في الحرب-، اتَّقَيْنَا بِرَسُولِ اللهِ ﷺ» “যুদ্ধ যখন তীব্র হয়ে উঠত এবং উভয় পক্ষ লড়াইয়ে লিপ্ত হত, আমরা তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আড়ালে নিজেদেরকে বাঁচাবার চেষ্টা করতাম।” [এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৬৫৪] নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্রসমূহ দয়া ও করুণা কোমলতা এবং নম্রতা দানশীলতা ও বদান্যতা। বীরত্ব
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক মুচকিহাসি গুণে গুণান্বিত ছিলেন।( )
২- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন চওড়া কাঁধ এবং লম্বা উচ্চতার অধিকারী।
৩- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র মানুষের ইসলাম গ্রহণের কারণ ছিলো।( )
৪- যুদ্ধের তীব্রতার সময় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বীরত্ব প্রকাশ পেতো। ( )
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের সালঃ
(৫১৭ খৃস্টাব্দে- ৭৫১ খৃস্টাব্দে- ৫৭১ খৃস্টাব্দে)
২- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাসমমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো:
(আল-‘আকিব- আল-কাসিম- আব্দুল্লাহ)
৩- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর সময় বয়স:
(৫৩ বছর- ৬৩ বছর- ৭৩ বছর)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর দলিল বুঝায় এমন একটি অবস্থা লিখো:
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দানশীলতা।
২- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষমা পরায়নতা:
৩- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বীরত্ব।
প্রশ্ন ৪: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রের যে বিষয়গুলো তোমার কাছে ভালো গেলেছে সেগুলোর সারসংক্ষেপ তৈরী করো এবং তোমার খাতায় লিখো:
দ্বিতীয় পাঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্যাবলী
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুনিয়া ও আখিরাতে মর্যাদা বর্ণনা করতে পারবে।
২- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার ওপর দলীল পেশ করতে পারবে।
৩- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মান ও মর্যাদার জ্ঞান তোমার জীবনে অনুভব করবে।
৪- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদাকে সম্মান দিবে।
৫- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসবে।
সূচনা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» "আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সরদার।" [এটি সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭১২ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৭৮ বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে এই মর্যাদার উপযুক্ত হয়েছেন ?
তুমি কি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলো জানো?
এ পাঠের মাধ্যমে এ সম্পর্কে জানতে পারবে।
দুনিয়া ও আখিরাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্যাবলী
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অন্যান্য নবীদের ওপর বিশেষ মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। তন্মধ্যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বানীতে যা উল্লেখ করেন : «فُضِّلْتُ عَلَى الْأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ: أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ، وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ، وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ، وَجُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ طَهُورًا وَمَسْجِدًا، وَأُرْسِلْتُ إِلَى الْخَلْقِ كَافَّةً، وَخُتِمَ بِيَ النَّبِيُّونَ» “অন্য সব নবীদের চাইতে আমাকে ছয়টি বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাকে কম শব্দে অধিক মর্মসমৃদ্ধ কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। শত্রুর মনে ভয় সৃষ্টি করে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। আমার জন্য গনীমতের সম্পদ হালাল করা হয়েছে। যমীনকে আমার জন্য মসজিদ ও পবিত্র হিসাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সমগ্র সৃষ্টির প্রতি আমি প্রেরিত হয়েছি, আমার মাধ্যমে নবীগণের আগমন শেষ করা হয়েছে।” [এটি সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭০১৩ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫২৩ বর্ণনা করেছেন]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَوَّلُ مَنْ يَنْشَقُّ عَنْهُ الْقَبْرُ، وَأَوَّلُ شَافِعٍ، وَأَوَّلُ مُشَفَّعٍ» “আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সরদার এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর(হাশরের জন্য)খুলে যাবে এবং আমিই প্রথম সুপারিশকারী ও প্রথম সুপারিশ গৃহীত ব্যক্তি।” [এটি সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪৭১২ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৭৮ এ বর্ণনা করেছেন]
দুনিয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা
তাঁর রিসালাত সকলের জন্যে ব্যাপকভাবে প্রযোজ্য।
তিনি সর্বশেষ নবী।
তাঁকে অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
তাঁর জন্য গোটা পৃথিবীর ভূমি বা মাটি পবিত্র এবং মসজিদ করা হয়েছে।
প্রভাব দ্বারা সাহায্য।
তাঁর জন্য গণীমতের (যুদ্ধলব্ধ) অর্থ হালাল করা হয়েছে।
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্যে প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে আরব ও অনারব সকলের কাছেই প্রেরণ করেছেন। অন্যদিকে পূর্ববর্তী সকল নবী-রাসূলকে শুধু তাদের সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
২- তিনি সর্বশেষ নবী: তাঁর দ্বারাই আসমানী রিসালাতের ধারাবাহিকতা শেষ করা হয়েছে। সুতরাং তাঁর পরে আর কোন নবী আসবেন না।
৩- তাঁকে কম শব্দে ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিক অর্থবহ বাক্য খুব সংক্ষিপ্ত শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করতেন।
অনুশীলন (১): আমার মত পেশ করবো:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলীর মধ্যে আরেকটি গুণ ছিলো তিনি বিশুদ্ধ আরবী ভাষায় কথা বলতেন। উপরোক্ত কথার আলোকে সঠিক উত্তরটির সামনে টিকচিহ্ন দিয়ে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করো:
আরবী ভাষা শেখা মুসলিমের জন্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এটি তাকে সক্ষম করে:
১- কুরআনুল কারীমের অর্থসমূহ বুঝতে।
২- ইবাদাতের বিধিবিধান জানতে।
৩- সঠিকভাবে দ্বীন প্রচার করতে।
৪- উপরের সবগুলো।
৪- তাঁর জন্য গোটা পৃথিবীর ভূমি বা মাটি পবিত্র এবং মসজিদ করা হয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরী‘আতে পৃথিবীর সব পবিত্র ভূমিতে সালাত আদায় করা জায়েয। যখন পানি পাওয়া না যাবে অথবা অসুস্থতার কারণে পানি ব্যবহারে অক্ষম হবে তখন অযু ও গোসলের পরিবর্তে মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করা জায়েয।
৫- তাঁকে ভয়াবহ প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে: তাঁর শত্রুরা যুদ্ধের সময় তাঁকে প্রচন্ড ভয় পেতো।
৬- তাঁর জন্য গনীমাতের (যুদ্ধলব্ধ) অর্থ হালাল করা হয়েছে: আল্লাহ তা‘আলা যুদ্ধের সময় শত্রু থেকে গৃহীত গনীমতের সম্পদ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্যে হালাল করেছেন।
আখিরাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা
তিনি আদম ‘আলাইহিস সালামের সন্তানদের সরদার।
তিনিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর হাশরের জন্য খুলবে।
তিনি সবচেয়ে বড় হাউযে কাউসারের মালিক।
১- কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সরদার।
২- প্রথম ব্যক্তি যার কবর সবার আগে খুলে যাবে: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পুনরুত্থান দিবসে সর্বপ্রথম কবর থেকে উত্থিত করা হবে।
৩- প্রথম সুপারিশকারী ও প্রথম সুপারিশ গৃহীত ব্যক্তি: কিয়ামতের দিন নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বপ্রথম সুপারিশ করার অনুমতি দেওয়া হবে এবং তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যার সুপারিশ প্রথম গ্রহণ করা হবে।
৪- অন্যান্য নবীদের চেয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউয অনেক বড় হবে।
৫- তিনি প্রথম ব্যক্তি যার জন্যে জান্নাতের দরজা খোলা হবে।
অনুশীলন(২): আমি চিন্তা করে খুঁজে বের করব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «حَوْضِي مَسِيرَةُ شَهْرٍ، مَاؤُهُ أَبْيَضُ مِنَ اللَّبَنِ، وَرِيحُهُ أَطْيَبُ مِنَ المِسْكِ، وَكِيزَانُهُ كَنُجُومِ السَّمَاءِ، مَنْ شَرِبَ مِنْهَا فَلاَ يَظْمَأُ أَبَدًا» “আমার হাউযটি এক মাসের সমান দূরত্ব। এর পানি দুধ অপেক্ষা বেশি সাদা, মিশক অপেক্ষা বেশি সুগন্ধিময়, এর পানপাত্র আসমানের তারকারাজির সমান। যে ব্যক্তি একবার তা থেকে পান করবে, সে আর কখনো পিপাসিত হবে না।” [সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৫৭৯ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২২৯২]
তোমার শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউযের বৈষ্ট্যাবলীর বর্ণনা দাও।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকারের ব্যাপারে বর্ণিত নিম্নোক্ত অভিব্যক্তির ব্যাখ্যা করো: () مَسِيرَةُ: যে গন্তব্যে কোন আরোহী পৌঁছতে একমাস সময় লাগে। () كِيزَانُهُ: শব্দটি كوز এর বহুবচন। এটি এমন পাত্র যাতে পান করা হয়।
১- তাঁকে জাওয়ামে‘উল কালিম তথা সংক্ষিপ্ত; অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে: .....................................
২- তাঁর জন্য গোটা পৃথিবীর ভূমি বা মাটি মসজিদ করা হয়েছে: .....................................
৩- তিনি আদম ‘আলাইহিস সালামের সন্তানদের সরদার: .....................................
৪- তাঁকে ভয়াবহ প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে: .....................................
প্রশ্ন ২: «أوَّل شافع» (প্রথম সুপারিশকারী) এবং «أوَّل مُشَفَّع» (প্রথম সুপারিশ গৃহীত ব্যক্তি) এর পার্থক্য:
الشافع সুপারিশকারী সেই ব্যক্তি যিনি সুপারিশ করার জন্য অনুমতি পাবেন এবং المشفع সুপারিশ গৃহীত সেই ব্যক্তি যার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। ( )
المشفع যাকে শাফা‘আতের অধিকার প্রদান করা হয়েছে। আর المشفع যার থেকে শাফা‘আতের এ অধিকার হরণ করা হয়েছে। ( )
প্রশ্ন ৩: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিনটি মর্যাদা লিখো এবং তোমার পড়ার আলোকে এর ওপর দলীল পেশ কর।
তৃতীয় পাঠ: আল-কুরআনুল কারীম পাঠের ফযীলত
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- হাদীসের শব্দাবলীর অর্থ সুস্পষ্ট হবে।
২- সংক্ষিপ্তাকারে হাদীসের রাবীর জীবনী জানতে পারবে।
৩- কুরআনুল কারীম পাঠের গুরুত্ব বর্ণনা করবে।
৪- কুরআনুল কারীম পাঠের প্রতি ধাবিত হবে।
৫- পাঠে বর্ণিত হাদীস মুখস্থ করবে।
৬- কুরআনুল কারীম পাঠের ফযীলত বড় করে দেখবে।
আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
مَن قرأ حرفًا من كتاب الله فله به حسنة، والحسنة بعشر أمثالها، لا أقول: ألف لام ميم حرف، وَلَكِنْ ألفٌ حرفٌ، ولامٌ حرفٌ، وميمٌ حرفٌ “যে ব্যক্তি আল্লাহ কিতাব থেকে একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য একটি সওয়াব রয়েছে। আর একটি সওয়াব দশটির সমান। আমি বলছি না: الم একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।” [এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৯১০]
রাবীর জীবনী:
তিনি আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ আল-হুযালী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু।
প্রাথমিক দিকে ইসলাম গ্রহণকারী সাহাবী। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কা‘বায় প্রকাশ্যে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করেন।
তিনি ছিলেন কুরআনুল কারীম সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী সাহাবী। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার থেকে কুরআন শিখতে অসিয়াত করেছেন।
তিনি মদীনায় ৩২ হিজরীতে মারা যান।
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ
দশগুণ আলিফ- লাম- মিম এর অর্থ দশগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে।
এগুলো হলো হুরূফে মুকাত্তা‘আত যার দ্বারা কুরআনুল কারীমের কপিতয় সূরা শুরু করা হয়েছে।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতে রয়েছে মহান আল্লাহর কাছে অসরিসীম মর্যাদা। এ কারণে কুরআনুল কারীমের পাঠকের জন্যে বিরাট সাওয়াব ও অগণিত নেকীর ওয়াদা করা হয়েছে। সুতরাং যে ব্যক্তি কুরআনুল কারীমের একটি হরফ পাঠ করবে তাকে আল্লাহ তা‘আলা একটি নেকী দান করবেন। অতপর প্রতিটি নেকী দশগুণ করে বৃদ্ধি করে তার জন্যে লেখা হয়। যেমন: কেউ যদি সূরা বাকারাহর প্রথম থেকে ‘আলিফ-লাম-মীম’ এ তিনটি হরফ তিলাওয়াত করে, তবে তার জন্যে রয়েছে ত্রিশটি নেকী। কুরআনের পাঠক যতো বেশি কুরআন তিলাওয়াত করবে, তার সাওয়াবও ততো বেশি হবে। আর এটি মহান আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ও দয়া।
উপকারীতা এবং দিক-নির্দেশনা:
১- কুরআন তিলাওয়াতের ফযীলত ও তার মহা সাওয়াব।
২- কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের ব্যাপারে উৎসাহ এবং অধিকহারে কুরআন তিলাওয়াত।
৩- সাওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়, এটি দলীল দ্বারা প্রমাণিত।
৪- অল্প আমলেও অধিক সাওয়াব প্রদান মূলত মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া।
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি পড়বো এবং উদ্ভাবন করবো:
কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতে রয়েছে অগণিত ফযীলত। তোমার শিক্ষকের সহযোগিতায় নিচের দুটি হাদীস থেকে এসব ফযীলত বের করো:
নস (কুরআন ও হাদীসের প্রমাণ)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «اقْرَؤُوا الْقُرْآنَ؛ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَفِيعًا لأَصْحَابِهِ» “তোমরা কুরআন মাজীদ পাঠ করো। কেননা কিয়ামতের দিন কুরআন, তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসাবে আগমন করবে।” [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৮০৪]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا؛ فَإِنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا» “কুরআনের ধারককে বলা হবে: তুমি পাঠ করো এবং উপরে উঠতে থাকো। তারতীল সহকারে সুন্দর কর যেভাবে তুমি দুনিয়াতে তারতীল সহকারে সুন্দর করে পাঠ করতে। নিশ্চয় তোমার সর্বশেষ পাঠকৃত আয়াতের স্থানেই তোমার আবাসস্থল।” [এটি আবূ দাঊদ, হাদীস নং ১৪৬৪ ও তিরমিযী, হাদীস নং ২৯১৪ তে বর্ণনা করেছেন] ফযীলত কিয়ামতের দিন তিলাওয়াতকারীর জন্য আল-কুরআনুল কারীমের সুপারিশ। কিয়ামতের দিন কুরআনের ধারকদের মর্যাদা বৃদ্ধি হওয়া।
অনুশীলন (২): পরস্প সহযোগিতা ও মতামত পেশ করবো:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিচের হাদীসের মাধ্যমে আমাদেরকে আদেশ দিয়েছেন যে, আমরা কুরআনুল কারীমের যতটুকু মুখস্থ করেছি, সেগুলোর যেন যথাযথ গুরুত্ব দেই : «تَعَاهَدُوا الْقُرْآنَ» “তোমরা কুরআনের প্রতি খুবই যত্নবান হও।” [এটি সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৫০৩৩ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭৯১ বর্ণনা করেছেন] যাতে আমরা যা হিফয করব তা যেন ভুলে না যাই।
তোমার সহপাঠীর সহযোগিতায় কুরআনুল কারীম পাঠ ও মুখস্থ সুদৃঢ় করণের নানা পদ্ধতি সম্পর্কে মতামত পেশ করো।
তুমি কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যায়ানের জন্য বিভিন্ন সাইটের সাথে সম্পর্ক রাখবে,যেমন হারামাইনের সাইটে যুক্ত হতে নিম্নে লিংক:
https://maqraa.com/ar
অনুশীলন(৩): আমি হিসেব করব এবং তুলনা করব:
সূরা ইখলাসের বর্ণসংখ্যা হিসেব করবো। এ সূরাটি তিলাওয়াত করলে কতটি সাওয়াব অর্জিত হয় তা গণনা করবো। তোমার হিসেবের সাথে তোমার সহপাঠীর হিসেব মিলাও।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- কুরআনুল কারীম পাঠের সাওয়াব সাতগুণ বৃদ্ধি করা হয়। (×)
২- ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সাহাবীদের মধ্যে কুরআনুল কারীমের সর্বাধিক জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন।
৩- সময় কে ঠিক মত সাজালে কুরআনুল কারীম হিফযে সহযোগিতা করে। (√)
৪- যে ব্যক্তি কুরআনুল কারীমের হালাকায় উপস্থিত হয়, তার উপর শান্তি বর্ষিত হয়। (√)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
১- আব্দুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সর্বপ্রথম প্রকাশ্যে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করেন:
(সম্মানিত কা‘বায়, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গৃহে- মসজিদে নববীতে)
২- নিয়মিত কুরআন পাঠ করা হলো প্রতি:
(মাসে- সপ্তাহে- দিনে)
৩- এ পাঠে উল্লিখিত হাদীসটি মহান আল্লাহর কোন অনুগ্রহের দলীল বহন করে:
(কুরআন নাযিল- সাওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি- মানব সৃষ্টি)
প্রশ্ন ৩: এ পাঠে উল্লিখিত হাদীসটি তোমার মুখস্থ থেকে তিনবার লিখো।
প্রশ্ন ৪: কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের অপরিসীম সাওয়াব সম্পর্কে জানার পরে তোমার অনুভূতি পেশ করো।
চতুর্থ পাঠ: পাপের কাফফারাসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১-সংক্ষিপ্ত আকারে হাদীস বর্ণনাকারীর পরিচয় লিখতে পারবে।
২- হাদীসে উল্লিখিত কঠিন শব্দাবলীর অর্থ জানবে।
৩- হাদীসের সংক্ষিপ্ত অর্থ ব্যাখ্যা করবে।
৪- হাদীসের শিক্ষণীয় বিষয় বর্ণনা করবে।
৫- হাদীসে উল্লিখিত ইবাদত আদায়ে যত্নশীল থাকবে।
৬- হাদীসের নস মুখস্ত করবে।
হাদীসের নস:
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ، وَالْجُمُعَةُ إِلَى الْجُمُعَةِ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ الْكَبَائِرَ» “পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমু‘আ থেকে আরেক জুমু‘আ আদায় করা এবং এক রমযান থেকে অপর রমযান পালন করা, এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে; যদি সে কবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে।” [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৫৭৪]
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ এর অর্থ
এক জুমু‘আ থেকে আরেক জুমু‘আ
এক রমাযান থেকে আরেক রমাযান
কাফফারাসমূহ
কবীরাগুনাহসমূহ এক জুমু‘আহর সালাত থেকে পরবর্তী জুমু‘আহ পর্যন্ত। এক রমাযানের সাওম থেকে পরবর্তী রমাযানের সাওম পর্যন্ত। গুনাহসমূহ মাফের একটি কারণ। যেসব কবীরাহ গুণাহের কারণে শরী‘আত দুনিয়াতে সাজা এবং আখিরাতে শাস্তির ব্যবস্থা করেছে। যেমন যিনা, চুরি ও সুদ খাওয়া ইত্যাদি।
বর্ণনাকারীর জীবনী:
আব্দুর রহমান বিন সাখর আদ-দাওসী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উপাধি দিয়েছেন আবূ হুরায়বাহ বলে। কেননা, তিনি একবার একটি বিড়ালছানা বহন করেছিলেন।
তিনি ৭ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর সার্বক্ষণিক সঙ্গ গ্রহণ করেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্মরণশক্তি এবং মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় হওয়ার দু‘আ করেছিলেন। ফলে তিনি সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হাদীসের হাফিজ ছিলেন, সবচেয়ে বেশী হাদীস বর্ণনাও করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ৫০০০ এরও বেশী হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তিনি আলিম সাহাবীদের একজন ছিলেন। আর মুসলিমদেরকে সর্বাধিক শিক্ষাদানকারী এবং সর্বাধিক দাও‘আত প্রদানকারী ছিলেন।
তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ৫৯ হিজরীতে মারা যান।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীসে আল্লাহ তা‘আলা প্রশস্ত রহমত ও মাগফিরাতের কথা বর্ণনা করেন। উল্লিখিত আনুগত্যের কাজে মহান সাওয়াবের পাশাপাশি আল্লাহ তা‘আলা একে গুনাহের কাফফারা স্বরূপও করেছেন।
যেসব ভালো কাজ সাওয়াবের পাশাপাশি গুনাহের কাফফারা হয় তন্মধ্যে আরোও কয়েকটি হলো: প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, প্রতিসপ্তাহে জুমু‘আর সালাত, রমাযান মাসে সাওম পালন, ইত্যাদি।
এসব নেক আমল ছগীরাহ গুনাহের কাফফারা হবে। অন্যদিকে কবীরাহ গুনাহ, যেমন যিনা, চুরি, পিতামাতার অবাধ্যতা, হারাম সম্পদ ভক্ষণ করা, ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিশেষভাবে তাওবা করা অত্যাবশ্যকীয়।
আল্লাহ তা‘আলা সকল গুনাহ থেকে সত্যিকারের তাওবা কবুল করেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (قُلۡ يَٰعِبَادِيَ ٱلَّذِينَ أَسۡرَفُواْ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ لَا تَقۡنَطُواْ مِن رَّحۡمَةِ ٱللَّهِۚ إِنَّ ٱللَّهَ يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ جَمِيعًاۚ) “বলুন, 'হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [সূরা আয-যুমার,আয়াত: ৫৩]
উপকারীতা এবং দিক-নির্দেশনা:
১- আল্লাহ তা‘আলার রহমাতের ব্যাপকতা।
২- ইসলামে সালাত ও সিয়ামের মর্যাদা বোঝা।
৩- ইবাদত আদায়ে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ফযীলত।
৪- গুনাহ দু’প্রকার:
ছগীরা গুনাহ যা ভালো আমলের দ্বারা মাফ হয়ে যায়।
কবীরাহ গুনাহ যার জন্যে বিশেষ তাওবা অত্যাবশ্যকীয়।
৫- কবীরাহ গুনাহে পতিত হওয়ার ভয়াবহতা।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি সমাধান এবং খুঁজে বের করব:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَا مِنِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ، فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلَّا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ، مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً» “কোন মুসলিমের যখন কোন ফরয সালাতের ওয়াক্ত হয়, আর সে উত্তমরূপে সালাতের অযু করে, সালাতে একাগ্রতা বজায় রাখে ও রুকূকে উত্তমরূপে আদায় করে, তা হলে যতক্ষণ না সে কোন কাবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হবে তার এ সালাত তার পিছনের সকল গুনাহের জন্যে কাফফারাহ হয়ে যাবে।” [হাদীসটি সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২২৮]
১- এ হাদীস যে ফযীলতের কথা প্রমাণ করে সেগুলো লিখো।
২- এসব ফযীলতের সাথে এ পাঠের হাদীসের সম্পর্কের কারণ বর্ণনা করো।
অনুশীলন(২): আমি এ হাদীস থেকে খুঁজে বের করব:
এ হাদীসটি থেকে একটি বাক্য লিখো যা নিম্ন লিখিত প্রতিটি রূপকে প্রকাশ করে:
অনুশীলন (৩): আমি বারবার পড়বো এবং মুখস্থ করবো:
তোমার সহপাঠীর সাথে হাদীসটি বারবার পড় যাতে মুখস্থ হয়ে যায়। অত:পর একজন আরেকজনকে শোনাও। একে অপরকে শোনানোর পর্যবেক্ষণগুলো লিখো, যাতে সঠিক হিফযের ব্যাপারে উপকৃত হতে পারো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- এ পাঠে উল্লিখিত তিনটি ইবাদতকে গুনাহ মোচনকারী হওয়ার শর্ত হলো এগুলো একত্রে পালন করা।
২- সত্যিকারের তাওবা কবীরা গুনাহ মোচনকারী।
৩- যিনা কবীরা গুনাহ। কেননা যিনায় লিপ্ত ব্যক্তির ওপর শাস্তি কায়েম করা হয়।
৪- ইবাদতসমূহ গুনাহমোচনকারী ও মর্যাদা বৃদ্ধিকারী।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নিন:
১- আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর আমরা আনুগত্য করবো,যার প্রতি তিনি খুব যত্নশীল ছিলেন:
(ইলম শিক্ষা- সম্পদ আরোহণ- মসজিদ তৈরি)
২- হাদীসে مكفرات الذنوب তথা গুনাহ মোচনকারী বলতে বুঝায়:
(আযাব হালকা হবে- গুনাহ ক্ষমা হবে- দোষ-ত্রুটি গোপন হবে)
৩- আল্লাহ তা‘আলা পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের মাধ্যমে যেসব গুনাহ মাফ করবেন:
(ছগীরা গুনাহ- কবীরা গুনাহ- সকল গুনাহ)
৪- হাদীসটি যে সাওম পালনের ফযীলত প্রমাণ করে তা হলো :
(আরাফা দিবসের সাওম- আশুরা দিবসের সাওম- রমযান মাসের সাওম)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত হাদীসটির শূন্যস্থান পূরণ করো:
«الصَّلَوَاتُ..........، وَالْجُمُعَةُ إِلَى..........، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتَنَبَ .............». “ সালাতসমূহ...... এক জুমু‘আহ থেকে ............. এক রমাযান থেকে অপর রমযান পালন করা, এগুলোর মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে; যদি সে .................. থেকে বিরত থাকে।”
প্রশ্ন ৪: নেকীর কাজ করলে গুনাহ ও পাপ মোচন হয়। এর দ্বারা কী বুঝায়?
পঞ্চম পাঠ: আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারণা পোষণ করা।
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ থেকে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
১- বিশিষ্ট সাহাবী আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর পরিচয় বর্ণনা করবে।
২- হাদীসে উল্লিখিত কঠিন শব্দাবলীর অর্থ স্পষ্ট করবে।
৩- হাদীসের সংক্ষিপ্ত অর্থ বর্ণনা দিবে।
৪- আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারণা পোষণ করার ফযীলত সুস্পষ্ট করবে।
৫- অন্যকে আনুগত্য ও দ্বীনের পথে সুদৃঢ় থাকতে আহ্বান করবে।
৬- হাদীস শরীফটি মুখস্থ করা।
ভূমিকা:
হাদীসের একটি প্রকার হলো ‘হাদীসে কুদসী’। আর তা হলো যে হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর থেকে বর্ণনা করেন, তবে তা মোজেযার দৃষ্টিতে কুরআনুল কারীমের মতো নয়।
এ পাঠে উল্লিখিত হাদীসে কুদসী মুমিনদের প্রতি মহান আল্লাহর প্রশস্ত রহমতের কথা প্রমাণ করে।
হাদীসের নস:
আবূ হুরায়রা রদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «يَقُولُ اللهُ تعالى: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ حِينَ يَذْكُرُنِي، إِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَأ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَأ هُمْ خَيْرٌ مِنْهُمْ، وَإِنْ تَقَرَّبَ مِنِّي شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً» “আল্লাহ তা’আলা বলেন: আমি সেরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। আর যদি সে লোক-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আর যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দুহাত অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।” [এটি সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৪০৫ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৬৭৫ তে বর্ণনা করেছেন]
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ: এর অর্থ:
ملأ (লোক-সমাবেশ) দল
الشبر (বিঘত) কনিষ্ঠাঙ্গুলি ও বৃদ্ধাঙ্গুলির মধ্যবর্তী দূরত্বকে বিঘত বলে।
ذِرَاعًا (হাত) কনুই ও আঙ্গুলির মধ্যবর্তী দূরত্বকে হাত বলে।
باعًا (দুই হাত) মানুষের দুহাতের সমান দূরত্ব।
هرولة (দৌঁড়ে আসা) দ্রুত গতিতে দৌড়ে আসা
বর্ণনাকারীর জীবনী:
তিনি হলেন বিশিষ্ট সাহাবী আব্দুর রহমান বিন সাখর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। ইতোপূর্বে তার জীবনী উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর সম্পর্কে তোমাদেরকে আরও তথ্য দিতে চাচ্ছি। তিনি অধিক সাওম পালনকারী, সালাত আদায়কারী, দুনিয়া বিমূখ ও মাতৃভক্তি হিসেবে বিখ্যাত ছিলেন।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
উল্লিখিত হাদীসে কুদসীটিতে সুস্পষ্ট করা হয়েছে যে, মহান আল্লাহ মুমিনদের সাথে আছেন, যখন তারা তাঁকে স্মরণ করেন। ফলে তিনি তাদের তাওফিক দেন, রহমত নাযিল করেন, তাদেরকে তাদের কর্মের অগণিত সাওয়াব ও প্রতিদান দান করেন। সুতরাং মুসলিম যখন মহান আল্লাহকে গোপনে স্মরণ করে, তখন মহান আল্লাহও তাকে গোপনে স্মরণ করেন। মুমিন যখন তার রবকে জনসম্মুখে স্মরণ করে, আল্লাহ তা‘আলাও তাকে তার নিকটবর্তী ফিরিশতাদের মাঝে স্মরণ করেন। মুমিন বান্দা যখন আনুগত্যের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তা‘আলাও তার আমল কবুল করেন এবং তাকে সাওয়াব দান করেন। মুমিন যতবেশি আল্লাহর আনুগত্যে ও ইবাদতে অগ্রসর হবে, আল্লাহ তা‘আলাও তাকে ততবেশি সাওয়াব দিবেন এবং তার রবের কাছে তার মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন।
এ কারণে মুসলিমের দায়িত্ব কর্তব্য হলো মহান রবের প্রতি সুধারনা করা। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেন, মর্যাদা বৃদ্ধি করেন, তার তাওবা কবুল করেন এবং আখিরাতে ক্ষমা করেন।
উপকারীতা এবং দিক-নির্দেশনা:
১- আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারণা পোষণ করার গুরুত্ব বর্ণনা এবং তাঁর ইবাদত ও নৈকট্যের কাজে এগিয়ে আসা।
২- গোপনে এবং প্রকাশ্যে আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করা উত্তম ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
৩- সৃষ্টির ওপর আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপক রহমত ও অনুগ্রহ।
৪- যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর আনুগত্য করে, তিনি তাকে অপরিসীম সাওয়াব ও বিনিময় দান করেন।
৫- সমজাতীয় কাজের বিনিময় সমজাতীয় হয়ে থাকে (যেমন কর্ম তেমন ফল)। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ভালো ধারণা রাখবে এবং ভালো আমল করবে, সে ভালো প্রতিদান পাবে।
অনুশীলন কার্যক্রম
অনুশীলন (১): আমি ভাবব এবং উত্তর দিবো:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا يَمُوتَنَّ أَحَدُكُمْ إِلَّا وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللهِ تعالى» “তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা ছাড়া মারা না যায়।” [হাদীসটি সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৮৭৭]
ইবরাহীম আন-নাখ‘ঈ রহ. বলেন: সালফে সালেহীনগণ কারো মৃত্যুর সময় তার নেক আমলগুলোর কথা বারবার স্মরণ করে দেয়াকে মুস্তাহাব মনে করতেন, যাতে তার মহান রবের প্রতি তার সুধারণা হয়।
উপরোক্ত নস দুটির বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করো, অতঃপর তোমার সহপাঠীর সাথে নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তরে সহযোগিতা করো:
১- হাদীস দুটির শিক্ষাগুলো সংক্ষেপে লিখো।
২- এ পাঠে উল্লেখিত হাদীসের সাথে এ দুটির সম্পর্ক কী?
৩- কখন মুসলিমের জন্য তার নেক আমলগুলো স্মরণ করা মুস্তাহাব?
অনুশীলন(২): আমি বর্ণনা করবো ও কারণ দর্শাবো:
নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলো যা মহান আল্লাহর প্রতি সুধারণার ইংগিত করে, এ ব্যাপারে কারণসহ তোমার মতামত ব্যক্ত করো:
অবস্থান
একজন যুবক সালাত পড়ে না; অথচ সে বলে: আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
একলোক নিয়মিত সালাত আদায় করে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে।
আহমদ তার কাজ দক্ষতার তার সাথে পালন করে এবং তার প্রতিবেশীকে সহযোগিতা করে।
এক যুবক হারাম কাজ করে থাকে এবং বলে: বড় হলে অচিরেই তাওবা করব। তোমার অভিমত কারণ
অনুশীলন (৩): আমি নিজেকে মূল্যায়ন করব:
তিনটি এমন ভালো কাজ নির্ধারণ করো, যা তুমি নিয়মিত করো এবং এর সাওয়াব মহান আল্লাহর কাছে প্রত্যাশা করো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু অধিক ইবাদতকারী হিসেবে বিখ্যাত। (✓)
আল্লাহ তা‘আলার যিকির প্রকাশ্য ও গোপন উভয় অবস্থায় হবে। (✓)
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারণা ব্যক্তিকে ভালো কাজ ত্যাগ করতে বলে। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
হাদীসে কুদসী যার দিকে সম্পৃক্ত করা হয় তিনি:
(আল্লাহ তা‘আলা- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম- জিবরীল আলাইহিস সালাম)
হাদীসে বর্ণিত “আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি” এর দ্বারা উদ্দেশ্য:
(ফিরিশতা- নবীগণ-আলেমগণ)
মহান আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারণা বেশি করা উচিত:
(ইবাদত ত্যাগের সময়- গুনাহের কাজ করার সময়- মৃত্যুর সময়)
প্রশ্ন ৩: নিচের হাদীসটি পূর্ণ কর:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «يَقُولُ اللهُ تعالى: أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ حِينَ ............، إِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ......ذَكَرْتُهُ فِي ............، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَأ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَأ هُمْ خَيْرٌ ..........». “আল্লাহ তা’আলা বলেন: আমি সেরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি যখন ..................। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও তাকে ..........। আর যদি সে লোক-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে স্মরণ করি এমন সমাবেশে তারা... .............. উত্তম।
প্রশ্ন ৪: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
হাদীসের শিক্ষা হলো ‘সমজাতীয় কাজের বিনিময়ও সমজাতীয় হয়ে থাকে’ বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।
হাদীসটি মহান আল্লাহর ব্যাপক রহমত সাব্যস্ত করে- কথাটি ব্যাখ্যা করো।
ষষ্ঠ পাঠ: সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়ায় ছায়া দিবেন
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- হাদীসে উল্লিখিত কঠিন শব্দাবলীর অর্থ বলবে ।
২- সাত ব্যক্তির আমলগুলোর বর্ণনা দিবে , যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ছায়ায় ছায়া দিবেন।
৩- যৌবনকালে মহান আল্লাহর ইবাদত করার গুরুত্ব নির্ণয় করবে।
৪- হাদীসের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করবে।
৫- নির্ভুলভাবে হাদীসটি মুখস্থ শোনাবে।
৬- বিশিষ্ট সাহাবী আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে অনুসরণ করবে।
ভূমিকা:
কিয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে সকল সৃষ্টিজগতকে একত্রিত করা হবে। প্রচণ্ড ভিড় হবে, গরমের তীব্রতা অসহনীয় পর্যায়ের হবে, দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে মানুষ অবর্ণনীয় কষ্টে পতিতি হবে। তবে কিছু লোক সেদিন ছায়ায় ও শান্তিতে অবস্থান করবে। কিন্তু তারা কারা? তারা এমন কী আমল করেছে যার ফলে মহান আল্লাহ তাদেরকে এ আযাব থেকে রক্ষা করে রহম করবেন।
এ প্রশ্নের উত্তর জানতে - হে প্রিয় শিক্ষার্থী- নিচের হাদীসটি পড়ো:
হাদীসের নস:
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ: الْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَشَابٌّ نَشَأَ بِعِبَادَةِ اللهِ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ، وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إِنِّي أَخَافُ اللهَ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ» “সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা এমন একদিন (কিয়ামতের দিন) তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া অবশিষ্ট থাকবে না। (১) ন্যায়পরায়ণ ইমাম (জনগণের নেতা), (২) ঐ যুবক, যে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে মশগুল থেকে বড় হয়েছে, (৩) সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে রয়েছে (অর্থাৎ জামা’আতের সাথে সালাত আদায়ে যত্নবান), (৪) সে দু’ব্যক্তি, যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে ও পরস্পর মিলিত হয় এবং এ জন্যই (পরস্পর) বিচ্ছিন্ন হয়, (৫) যে ব্যক্তিকে কোন অভিজাত এবং সুন্দরী রমণী (ব্যভিচারের জন্য) আহ্বান জানায় আর তার জবাবে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি, (৬) যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে তা তার বাম হাত টের পায় না এবং (৭) যে ব্যক্তি একাকী বসে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তার চোখ দু’টো (আল্লাহর ভয় বা ভালোবাসায়) অশ্রুপাত করে।” [এটি সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৬০ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১০৩১ এ বর্ণনা করেছেন]
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ: ظِلِّهِ তার ছায়ায় دعته তাকে আহ্বান করেছে خالياً নির্জনে فاضت عيناه তার চোখ দু’টো (আল্লাহর ভয় বা ভালোবাসায়) অশ্রুপাত করে। এর অর্থ: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: আরশের ছায়া।
নারী তাকে যিনার জন্যে আহ্বান করেছে। অর্থাৎ লোকালয় থেকে দূরে, নির্জনে। আল্লাহর বড়ত্ব ও তাঁর ভয়ে দুচোখ পানি প্রবাহিত করেছে।
যাদেরকে আল্লাহ তাঁর(আরশের)ছায়ায় ছায়া দিবেন:
ন্যায়পরায়ণ ইমাম (জনগণের নেতা)
ঐ যুবক, যে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে মশগুল থেকে বড় হয়েছে।
যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে রয়েছে (অর্থাৎ জামা’আতের সাথে সালাত আদায়ে যত্নবান)।
সে দু’ব্যক্তি, যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে।
যে আল্লাহর ভয়ে অশ্লীল কাজ ত্যাগ করে।
গোপনে দানকারী।
আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দনকারী।
বর্ণনাকারীর জীবনী:
তিনি বিশিষ্ট সাহাবী আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। ইতোপূর্বে তার জীবনী উল্লেখ করা হয়েছে।
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যে থাকতে, তাঁর সুন্নাত অনুযায়ী আমল, তাঁর আদেশ ও অসিয়াত পালন করতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। যেমন তিনি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: «أَوْصَانِي خَلِيلِي بِثَلَاثٍ لَا أَدَعُهُنَّ حَتَّى أَمُوتَ: صَوْمِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ، وَصَلَاةِ الضُّحَى، وَنَوْمٍ عَلَى وِتْرٍ» “আমাকে আমার খলীল তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন, আমি সেগুলোকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছাড়ব না, সেগুলি হচ্ছে: “প্রতি মাসে তিনদিন সিয়াম পালন করা, সালাতুদ দুহা এবং বিতরের সালাত আদায় করে ঘুমনো।” [এটি সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১১৭৮ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭২১ এ বর্ণনা করেছেন]
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
কিয়ামতের দিন মানুষ কবর থেকে উত্থিত হওয়ার পরে হাশরের ময়দানে দীর্ঘ সময় দণ্ডায়মান থাকবে। সেদিন সূর্য প্রচণ্ড উত্তপ্ত হবে। এর ফলে সমস্ত মানুষ কষ্টে পতিত হবে; তবে একদল মুমিন ব্যতীত, যাদেরকে মহান আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় ছায়া দিয়ে সম্মানিত করবেন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাত শ্রেণির লোকদের কথা উল্লেখ করেছেন, যাদেরকে মহান আল্লাহ তাঁর আরশের ছায়ায় ছায়া দিবেন। তারা হলেন:
(১) ন্যায়পরায়ণ ইমাম (জনগণের নেতা): এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সকল শাসক ও বিচারক যাঁরা ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার ও শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
(২) ঐ যুবক, যে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে মশগুল থেকে বড় হয়েছে, আল্লাহর আনুগত্যের উপরে থাকে, যেমন: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে, পিতামাতার সাথে সদাচরণ করে এবং হারাম থেকে বেঁচে থাকে।
(৩) সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে রয়েছে: অর্থাৎ মসজিদের প্রতি তার রয়েছে প্রচণ্ড ভালোবাসা, জামা‘আতের সাথে সে নিয়মিত সালাত আদায়কারী।
(৪) সে দু’ব্যক্তি, যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে ও পরস্পর মিলিত হয় এবং এ জন্যই (পরস্পর) বিচ্ছিন্ন হয়: অর্থাৎ প্রত্যেকেই পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসে, কেননা তারা নেককার মুমিন। তারা পার্থিব উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসে না। তারা আল্লাহর ভালোবাসায় জীবনের শেষ পর্যন্ত অতিবাহিত করে।
(৫) যে ব্যক্তিকে কোন অভিজাত এবং সুন্দরী রমণী (ব্যভিচারের জন্য) আহ্বান জানায় আর তার জবাবে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি: অর্থাৎ সে ব্যক্তি, যাকে অভিজাত ও সুন্দরী রমণী অশ্লীল কাজ (যিনা) করার জন্যে আহ্বান করে; কিন্তু সে মহান আল্লাহর ভয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে।
(৬) যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে তা তার বাম হাত টের পায় না: অর্থাৎ দানকারী মানুষের চক্ষুর আড়ালে দান-সদাকা করে; কেননা সে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি একনিষ্ঠ, সে দরিদ্র মানুষকে অসুবিধায় ফেলতে চায় না।
(৭) যে ব্যক্তি একাকী বসে আল্লাহকে স্মরণ করে, আর তার চোখ দু’টো (আল্লাহর ভয় বা ভালোবাসায়) অশ্রুপাত করে: অর্থাৎ মহান আল্লাহর ভয়ে অথবা তাঁর রহমতের আশায় অথবা তাঁর সাথে সাক্ষাতের প্রত্যাশায় অথবা তাঁর মহা কুদরতের সম্মানে সে ক্রন্দন করে।
উপকারীতা এবং দিক-নির্দেশনা:
১- কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ সৃষ্টিকুলের সামনে তাঁর অনুগত বান্দাহদেরকে সম্মান করবেন।
২- ন্যায়পরায়ণতা দুনিয়াতে একটি প্রিয় গুণ এবং পরকালে মহা প্রতিদানের কারণ।
৩- যুবক বয়সকে আল্লাহর আনুগত্যের কাজে ব্যয় করা আবশ্যক।
৪- দান-সদাকা ও মসজিদ নির্মাণ (আবাদ) করার ক্ষেত্রে ইখলাসের ফযীলত বুঝানো হয়েছে।
৫- আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসা দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যের উপায়।
৬ - হারাম প্রবৃত্তি থেকে দূরে থাকলে পরকালে এর রয়েছে মহা প্রতিদান ।
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন(১): আমি গুণাবলী ও তার দলীলের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করব:
নিম্নোক্ত গুণের সাথে হাদীস শরীফে উল্লেখিত শব্দাবলী সাথে সংযুক্ত করবো:
গুণ
ইবাদাতে ইখলাস থাকা
আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের কাজে অটল থাকা।
পুতঃপবিত্রতা
ন্যায়পরায়ণতা
আল্লাহর ভয়। হাদীস থেকে যে বাক্যাংশটি বোঝায়
অনুশীলন (২): আমি পড়ে জবাব দেব:
كان أحد الصحابة جالسًا عند النبي صلى الله عليه وسلم فمَرَّ رجل، فقال الصحابي: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي لَأُحِبُّ هَذَا. فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: এক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসে ছিলেন। এমন সময় একজন অতিবাহিত হচ্ছিলেন। তখন উক্ত (বসা) সাহাবী বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! নিঃসন্দেহে আমি একে ভালোবাসি। (এ কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: «أَعْلَمْتَهُ؟». قَالَ: لَا. قَالَ: «أَعْلِمْهُ». فَلَحِقَهُ، وقَالَ له: إِنِّي أُحِبُّكَ فِي اللهِ. فَقَالَ الرجل: أَحَبَّكَ الَّذِي أَحْبَبْتَنِي لَهُ. “তুমি কি (এ কথা) তাকে জানিয়েছ?” সে বলল, না। তিনি বললেন: “তাকে জানিয়ে দাও।” সুতরাং সে (দ্রুত) তার পিছনে গিয়ে (তাকে) বলল: ‘আমি আল্লাহর ওয়াস্তে তোমাকে ভালোবাসি।’ সে বলল, ‘যাঁর ওয়াস্তে তুমি আমাকে ভালোবাস, তিনি তোমাকে ভালোবাসুন।’ [এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৫১২৫]
তোমার শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে উক্ত হাদীস ও এ পাঠে বর্ণিত হাদীস অনুসারে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসার প্রতিদান ব্যাখ্যা করো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: হ্যাঁ অথবা না নির্বাচন করে নিম্নোক্ত প্রশ্নের উত্তর দাও:
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: رَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ (সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত) অর্থাৎ মসজিদ প্রেমিক। (হ্যাঁ- না)
২- হাদীসে যেসব ভালো কাজের কথা বলা হয়েছে তারমধ্যে হজের কথাও রয়েছে। (হ্যাঁ- না)
৩- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ “আর তার চোখ দু’টো (আল্লাহর ভয় বা ভালোবাসায়) অশ্রুপাত করে। অর্থাৎ তার চক্ষুদ্বয় অসুস্থ হয়ে যায়। (হ্যাঁ- না)
৪- হাদীসটির অন্যতম শিক্ষা হলো সদাকার ক্ষেত্রে ইখলাসের ফযীলত বর্ণনা। (হ্যাঁ- না)
৫- হাদীসটি আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ ও সালামের ফযীতের দিক-নির্দেশ দেয়। (হ্যাঁ- না)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: الإِمَامُ الْعَادِلُ (ন্যায়পরায়ণ ইমাম) কোনটিকে অন্তর্ভুক্ত করে:
(শিক্ষক- বিচারক- দায়ী)
২- যে যুবক অশ্লীল কাজ অস্বীকার করে তাকে যে গুণে গুণান্বিত করা হয়:
(পুতঃপবিত্রতা- সত্যবাদিতা- ন্যায়পরায়ণতা)
৩- কান্না কিয়ামতের দিন আল্লাহর আরশের নিচে ছায়া পাওয়ার অন্যতম একটি কারণ, যখন তা:
(মানুষের ভয়ে হবে- আল্লাহ তা‘আলার ভয়ে হবে- অসুস্থতার কারণে হবে)
প্রশ্ন ৩: হরকতসহ এ পাঠের হাদীসটি তোমার মুখস্থ থেকে লিখো।
প্রশ্ন ৪: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত বাণীর ব্যাখ্যা দাও: «رَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ». “যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে তা তার বাম হাত টের পায় না।”
২- হাদীসটি থেকে তোমার শেখা তিনটি শিক্ষা লিখো।
৩- সাহাবী আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ব্যক্তিত্বের কোন বিষয়টি তোমাকে আশ্চর্যান্বিত করেছে?
ইউনিট ফিকহ:হুকুম আহকাম বিষয়ক
প্রথম পাঠ: পবিত্রতা ও অযুর বিবরণ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- মুসলিম জীবনে পবিত্রতার গুরুত্ব বর্ণনা করবে ।
২- অযুর কার্যাবলী ধারাবাহিকভাবে সাজাবে।
৩- পবিত্রতা ও অযুর ফযীলত সম্পর্কে দলীল দিতে সক্ষম হবে।
৪- সহীহ পদ্ধতিতে অযু করতে পারবে।
পবিত্রতা ও অযুর পদ্ধতি
পবিত্রতার গুরুত্ব ও ফযীলত।
অযুর পদ্ধতি
অযুর ফযীলত
পবিত্রতার গুরুত্ব
ইসলাম পবিত্রতার ব্যাপারে অত্যাধিক গুরুত্বারোপ করেছে। একে সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার শর্ত বানিয়েছে।
শরীর, কাপড় ও জায়গা পাক। আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: وَثِيَابَكَ فَطَهِّرۡ “আর আপনার পরিচ্ছদ পবিত্ৰ করুন ।” [আল-মুদ্দাচ্ছির: ০৪]
দু প্রকারের অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা। সে দুটি হলো:
১- বড় অপবিত্রতা: আর তা গোসল ফরয হলে সমস্ত শরীর পানি দ্বারা ধৈত করার মাধ্যমে ।
২-ছোট অপবিত্রতা: আর তা অযু দ্বারা অর্জিত হয়। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لاَ تُقْبَلُ صَلَاةٌ بِغَيْرِ طُهُورٍ» “পবিত্রতা ব্যতীত কোন সালাত কবুল হয় না।” [এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২২৪]
পবিত্রতার ফযীলত:
১- পবিত্রতা অর্জন আল্লাহ কর্তৃক বান্দাহকে ভালোবাসার কারণ। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতা‘আলা বলেছেন: (إِنَّ ٱللَّهَ يُحِبُّ ٱلتَّوَّٰبِينَ وَيُحِبُّ ٱلۡمُتَطَهِّرِينَ) “নিশ্চয় আল্লাহ অধিক তাওবাকারীদেরকে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালোবাসেন।” [সূরা আল-বাকারাহ : ২২২]
২- পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الطُّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ» “পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।” [হাদীসটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২২৩] এখানে ঈমান বলতে সালাত বুঝানো হয়েছে।
অযু গুনাহ মাফের কারণ। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ، حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِ» “যে ব্যক্তি উত্তমরূপে অযু করে, তার দেহ থেকে সমুদয় গুনাহ বের হয়ে যায়, এমন কি তার নখের ভিতর থেকেও (গুনাহ) বের হয়।” [এটি সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৪৫]
অযুর পদ্ধতি
নিম্নোক্ত বর্ণনার ভিত্তিতে তোমার কাছে অযুর পদ্ধতি স্পষ্ট হবে:
(১) মুসলিম মনে অযুর নিয়ত করবে ও মুখে বলবে: ‘বিসমিল্লাহ’।
(২) হাতের কব্জিদ্বয় তিনবার ধৌত করবে।
(৩) তিনবার কুলি ও নাকে পানি দিবে এবং বাম হাত দিয়ে নাকের অভ্যন্তরের পানি ঝেড়ে ফেলবে।
(৪) মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করবে।
(৫) দুই হাতের আঙ্গুলি থেকে কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করবে।
(৬) একবার মাথা মাসেহ করবে।
(৭) মাথা মাসেহের সাথে সাথে কানদ্বয় মাসেহ করবে।
(৮) দুই পায়ের টাকনুসহ তিনবার ধৌত করবে। প্রথমে ডান পা ধৌত করবে অতপর বাম পা ধৌত করবে। লোকটির পা ধোয়ার ছবি:
অযু শেষে বলবে: (أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله، وأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ). “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।”
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি জিজ্ঞাসা করবো এবং লিখবো:
শরী‘য়ত বিভিন্ন অবস্থায় অযু করতে অনুমোদন দিয়েছে। কোন কোন অবস্থায় অযু করা ফরয, আবার কোন কোন অবস্থায় অযু করা মুস্তাহাব। সেসব অবস্থার মধ্যে রয়েছে:
১- যে দুটি অবস্থায় অযু করা ফরয তা উল্লেখ করবো : (সালাতের আগে- কুরআন স্পর্শ করার আগে)
২- যে দুটি অবস্থায় অযু করা মুস্তাহাব, তা উল্লেখ করবো: (আল্লাহর যিকিরের সময়- ঘুমের সময়)
অনুশীলন (২): আমি উপদেশ দিবো:
তুমি যেভাবে অযু করার নিয়ম শিখেছো, সেভাবে তোমার পরিবার-পরিজনকে অযুর প্রশিক্ষণ দাও।
তোমার পরিবারে অযুর পদ্ধতির অনুশীলন বাস্তবায়ন কর। অতপর যে অযু করতে ভুল করে তাকে নম্রভাবে শুদ্ধ করাও।
অনুশীলন (৩): আমি খুঁজে বের করব:
নসটি (হাদীস) পড় এবং তার সাথে ও অযুর সাথে মিলাও। অতপর হাদীসে বর্ণিত ফযীলত বর্ণনা কর।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يَتَوَضَّأُ فَيُبْلِغُ أَوْ فَيُسْبِغُ الْوَضُوءَ، ثُمَّ يَقُولُ: أَشْهَدُ أَن لَا إِلَهَ إِلاَ اللهُ وأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللهِ ورَسُولُهُ، إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ الثَّمَانِيَةُ يَدْخُلُ مِنْ أَيِّهَا شَاءَ ’’তোমাদের যে কেউ অযু করে এবং পরিপূর্ণরূপে তা সম্পাদন করে, অতঃপর এই দু’আ পাঠ করে, أَشْهَدُ أَن لَا إِلَهَ إِلاَ اللهُ وأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللهِ ورَسُولُهُ আশহাদু আল্লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুল্লাহি ওয়া রাসূলুহু। (অর্থঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।) তাহলে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই খুলে দেয়া হয়। সেগুলোর যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে সে প্রবেশ করবে।’’ [হাদীসটি সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৩৪]
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
অযু সালাত শুদ্ধ হওয়ার একটি শর্ত। (✓)
দু পা টুখনুসহ ধৌত করা ফরয। (✓)
অযুতে দু হাতের সাথে কনুইসহ ধোয়া অন্তর্ভুক্ত। (✓)
অযুতে তিনবার মাথা ধৌত করা ফরয। (×)
প্রশ্ন ২: অযুর কাজগুলো উপযুক্ত স্থানে সঠিক নাম্বার বসিয়ে বিশুদ্ধভাবে ক্রমাণুসারে সাজাও:
অযুর কার্যাবলী ক্রমানুসারে
মুখমন্ডল ধৌত করা ৫
কুলি করা ৩
দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করা। ৬
নাকে পানি দেওয়া ও নাক ঝাড়া। ৪
দু’কান মাসেহ করা 8
দুই পা ধৌত করা ৯
মাথা মাসেহ করা ৭
দুই কব্জি ধোয়া ২
অন্তর দিয়ে নিয়ত করা এবং বিসমিল্লাহ বলা। ১
প্রশ্ন ৩: অযুর ফযীলতের হাদীস থেকে একটি দলীল লিখো।
প্রশ্ন ৪: পবিত্রতা ও ঈমানের মাঝে একটি সম্পর্ক রয়েছে। তোমার পাঠের আলোকে তা ব্যাখ্যা করো।
দ্বিতীয় পাঠ:তায়াম্মুম ও দেয়ালের উপর মাসেহ করা।
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- যেসব অবস্থায় তায়াম্মুম করা জায়েয, তা বর্ণনা করবে।
২- সঠিকভাবে তায়াম্মুমের পদ্ধতি বাস্তবায়ন করবে।
৩- বিশুদ্ধভাবে মোজার উপরে মাসেহ করার পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারবে।
৪- মোজার উপর মাসেহ এবং ব্যান্ডেজের উপর মাসেহের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে।
৫- ওযরগ্রস্তদের উপর ইসলামী শারী‘য়তের সহজ করা বুঝতে পারবে।
প্রথমত: তায়াম্মুম
তায়াম্মুম হলো পবিত্রতা অর্জনের নিয়াতে পবিত্র মাটি দ্বারা মুখ ও দু হাতের কব্জি মাসাহ করা। আর এটি করা হয় অযু ও গোসলের পরিবর্তে।
যেসব অবস্থায় তায়াম্মুম করা জায়েয:
১- পানি পাওয়া না গেলে।
২- পানি পাওয়া গেলেও তা যদি শুধু পান করার জন্যে যথেষ্ট হয়। যেমন সে পানি ব্যবহার করলে কেউ নিজে বা অন্য কেউ পিপাসায় নিপতিত হওয়ার আশঙ্কা করে।
৩- যখন কোন মুসলিম পানি ব্যবহার করলে তার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার আশংকা থাকলে।
তায়াম্মুমের পদ্ধতি:
মুসলিম প্রথমে তায়াম্মুমের নিয়ত করবে, অতঃপর ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে।
অতঃপর দুহাত পবিত্র মাটিতে একবার মারবে।
অতঃপর দু হাত দ্বারা মুখমণ্ডল মাসাহ করবে।
তার হাতদ্বয়ের দ্বারা হাতের পান্জার উপরিভাগ মাসাহ করবে।
নিচের লিংকে তায়াম্মুমের পদ্ধতি দেখো:
দ্বিতীয়: মোজার উপর মাসেহ করা
খুফ -মোজা: চামড়া ও চামড়া সদৃশ যা উভয়পায়ে পরিধান করা হয়।
মোজার উপর মাসহের শর্তাবলী:
১- মোজা যেন টাখনুসহ দু পা ঢেকে রাখে।
২- মুসলিম মোজাদ্বয় অযু অবস্থায় পরিধান করবে।
মোজার উপর মাসেহ করার পদ্ধতি:
মুসলিম তার দু হাতের আঙ্গুলসমূহ পানি দ্বারা ভিজিয়ে তা দু পায়ের আঙ্গুলের উপর রাখবে। অতপর তা টেনে পায়ের নলাদ্বয় পর্যন্ত নিবে। পায়ের উপরিভাগে শুধু একবার মাসেহ করবে। মোজার নিচের অংশে মাসেহ করবে না।
মোজার উপর মাসেহ করার পদ্ধতির ভিডিওটি দেখো:
তৃতীয়: ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ
ব্যান্ডেজ: শরীরের ভাঙ্গা ও ক্ষতস্থানে আরোগ্য লাভের জন্যে প্লাস্টার, পট্টি ও এ জাতীয় কিছু পেঁচানো।
মুসলিম তার প্রয়োজন অনুসারে ব্যান্ডেজের উপরে মাসেহ করবে যাতে তার ভাঙ্গা ও ব্যথার অংশ অন্তর্ভুক্ত হয় । অযুর ক্ষেত্রে মাসেহ শুধু অযুর জায়গাগুলোতে হবে। আর গোসলের সময় মাসেহ পুরো ব্যান্ডেজের উপর হবে।
ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করার ক্ষেত্রে মোজার ন্যায় অযু ও পবিত্র অবস্থায় পরিধান করা শর্ত নয়।
ব্যান্ডেজের উপরে মাসেহ করার কোন নির্ধারিত সময়সীমা নেই; বরং ভাঙ্গা বা ক্ষতস্থান আরোগ্য লাভ করা পর্যন্ত মাসেহ করা যাবে।
ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করার পদ্ধতির ভিডিওটি এখান থেকে দেখো:
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি পার্থক্য করব:
নিম্নের ছবি দুটির দিকে তাকাও। তারপর কারণ বর্ণনাসহ ভুল ও শুদ্ধ কাজগুলো বর্ণনা করো:
অনুশীলন (২): আমি পড়ব এবং খুঁজে বের করব:
মোজার উপর মাসেহ সম্পর্কে আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: «جَعَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ، وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ» রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসাফিরের জন্য তিনদিন তিনরাত ও মুকীমের জন্য একদিন একরাত নির্ধারণ করেছেন। [হাদীসটি সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৭৬] এ হাদীস অনুসারে মুকীম ও মুসাফিরের জন্যে মোজার উপরে মাসেহ করার যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা বের করো।
মুসাফিরের জন্য তিন দিন এবং তিন রাত আর মুকীমের জন্য এক দিন এবং এক রাত।
অনুশীলন (৩): আমি শিক্ষায় অংশগ্রহণ করব:
মোজা ও ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করার পদ্ধতির ভিডিওটি দেখতে এবং এটি বাস্তবে প্রয়োগ করতে তোমার পরিবারের সদস্যদেরকে অংশগ্রহণ করাও।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
মোজার উপর মাসেহ করার শর্ত হলো এটি অযু অবস্থায় পরিধান করা। ( ✓)
মোজার উপর মাসেহ করা মহান আল্লাহর রুখসাত তথা তাঁর বিশেষ অনুমোদন। ( ✓)
তায়াম্মুমের সময় অযুর সকল অঙ্গ মাসেহ করা ফরয। (×)
ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। (✓ )
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত তায়াম্মুমের কার্যাবলীর ধারাবাহিক বর্ণনা করো:
প্রশ্ন ৩: মোজার উপর মাসেহ ও ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করার পার্থক্যগুলো নিম্নোক্ত ছকে লিপিবদ্ধ করো:
তুলনার দিক মাসেহের স্থান মাসেহের পদ্ধতি মাসেহের সময়সীমা মোজার উপর মাসেহ ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ
প্রশ্ন ৪: দুটি অবস্থা লিখো, যে দুটি অবস্থায় অযু ও গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করা জায়েয।
তৃতীয় পাঠ: গোসল
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- গোসলের পরিচয় বর্ণনা করবে।
২- গোসলের কার্যাবলী ধারাবাহিকভাবে সাজাবে।
৩- যেসব অবস্থায় গোসল ফরয হয়, সেগুলো বলবে।
৪- ইসলামী শারী‘আহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যে গুরুত্বারোপ করেছে সেটি অনুমান করতে পারবে।
সূচনা
আল্লাহ তা‘আলা সালাতের জন্যে অযুর আদেশের পর বলেনঃ وَإِن كُنتُمۡ جُنُبٗا فَٱطَّهَّرُواْۚ “এবং যদি তোমরা অপবিত্র থাকো, তবে যথাযথ পবিত্র হও।” [সূরা আল-মায়েদা, আয়াত: ৬]
আয়াতের ”জুনুব” শব্দের অর্থ কী?
তার উপর কী করা ফরয?
গোসল
গোসলের দ্বারা উদ্দেশ্য
যেসব অবস্থায় গোসল করা ফরয
গোসলের গুরুত্ব
গোসল করার পদ্ধতি
গোসলের দ্বারা উদ্দেশ্য:
গোসল হলো পবিত্রতার নিয়াতে শরীরের সমস্ত অঙ্গে পানি ব্যবহার করা।
যেসব অবস্থায় গোসল করা ফরয:
১- ঘুমের মধ্যে নারীর বা পুরুষের স্বপ্নদোষ হলে।
২- জাগ্রত অবস্থায় যৌন-উত্তেজনাসহ বীর্য বের হলে। যদি কারো উত্তেজনা ব্যতীত বীর্যপাত হয়, তবে তার উপর গোসল ফরয নয়। যেমন অসুস্থতার কারণে কারো বীর্যপাত হওয়া।
৩- যৌন সঙ্গম হলে। আর তা হলো পুরষাঙ্গের অগ্রভাগ স্ত্রীর যোনিতে প্রবেশ ঘটালে।
৪- মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসবের রক্তপাত শেষ হলে। সুতরাং মাসিক ও সন্তান প্রসবের রক্তপাতের সময়সীমা অতিক্রান্ত হলে নারীর উপর গোসল ফরয হয়।
৫- কাফির ইসলাম গ্রহণ করলে।
যেসব আমলের জন্য গোসল করা ফরয:
১- সালাত, যখন কোন মুসলিম বড় নাপাকী থেকে পবিত্র হতে চাইবে তখন তার গোসল করার কারণসমূহের কোন একটি পাওয়া গেলে তার গোসল করা ফরয। সুতরাং এ অবস্থায় সে যদি গোসল করা ব্যতীত সালাত আদায় করে, তবে তা শুদ্ধ হবে না।
২- কুরআন স্পর্শ করতে ও কুরআন পড়তে। সুতরাং নাপাক ব্যক্তির জন্যে গোসল করা ব্যতীত কুরআন স্পর্শ করা ও কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা জায়েয নেই।
গোসলের পদ্ধতি:
মুসলিমের জন্যে যথেষ্ট হবে, বড় নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়তে সমস্ত শরীর পানি দিয়ে ধোয়া।
তবে যে ব্যক্তি পূর্ণতার সাথে গোসল করতে চায়, তাকে নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করা শরী‘আহ অনুমোদিত:
১- অন্তরে বড় নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জনের নিয়্যাত করবে, অতপর বিসমিল্লাহ বলবে।
২- উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করবে। অতপর লজ্জাস্থান ধৌত করবে, যাতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে যায়। অতঃপর সালাতের অযুর ন্যায় অযু করবে।
৩- মাথায় তিনবার পানি প্রবাহিত করবে। চুল মৈথুন করবে যাতে চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছে।
৪- সমস্ত শরীরে পানি ঢেলে দিবে। প্রথমে ডান দিকের অংশ ধৌত করবে তারপর বাম দিক ধৌত করবে।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: (كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اغتَسَلَ مِنَ الجَنَابَةِ غَسَلَ يَدَيهِ وَتَوَضَّأَ وُضُوءَهُ لِلصَّلَاةِ، ثُمَّ اغتَسَلَ، ثُمَّ يُخَلِّلُ بِيَدِهِ شَعرَهُ، حَتَّى إِذَا ظَنَّ أَنَّه قَد أَروَى بَشرَتَهُ، أَفَاضَ عَلَيهِ المَاءَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ، ثُمَّ غَسَلَ سَائِرَ جَسَدِهِ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নাপাকীর গোসল করতেন, তখন তিনি দু’হাত ধৌত করতেন এবং সালাতের অযুর ন্যায় অযু করতেন। তারপর গোসল করতেন। পরে তাঁর হাত দিয়ে চুল খিলাল করতেন। চামড়া ভিজেছে বলে যখন তিনি নিশ্চিত হতেন, তখন তাতে তিনবার পানি ঢালতেন। তারপর সমস্ত শরীর ধুয়ে ফেলতেন। [এটি বুখারী, হাদীস নং ২৪৮ ও মুসলিম, হাদীস নং ৩১৬ তে বর্ণনা করেছেন]
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): দেখবো ও তুলনা করবো:
এ ভিডিও ক্লিপ থেকে গোসলের পদ্ধতি সম্পর্কে তুমি যা জেনেছ তা তোমার পূর্বের জানার সাথে তুলনা করো:
অনুশীলন (২): খুঁজে বের করবো ও উত্তর দিবো:
তোমার শিক্ষকের সহযোগিতায় নিম্নোক্ত আয়াত ও হাদীস থেকে গোসলের কারণ বের করো:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَقۡرَبُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَأَنتُمۡ سُكَٰرَىٰ حَتَّىٰ تَعۡلَمُواْ مَا تَقُولُونَ وَلَا جُنُبًا إِلَّا عَابِرِي سَبِيلٍ حَتَّىٰ تَغۡتَسِلُواْۚ) “হে মুমিনগণ! নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়ে না, যতক্ষন পর্যন্ত না তোমরা যা বল তা বুঝতে পার।তোমরা সলাত আদায় করবেনা অপবিত্র অবস্থাতেও,আর এমতাবস্থায় পথচারী হওয়া ব্যতীত (মসজিদেও ঢুকবেনা) যতক্ষন পর্যন্ত না তোমরা গোসল কর।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৩]
عنْ أُمِّ سَلَمَةَ رضي الله عنها قَالَتْ: جَاءَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنَّ اللهَ لَا يَسْتَحِي مِنْ الْحَقِّ، فَهَلْ عَلَى الْمَرْأَةِ غُسْلٌ إِذَا احْتَلَمَتْ. فَقَالَ: উম্মে সালমাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উম্মে সুলাইম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ্ হক কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না। মহিলাদের স্বপ্নদোষ হলে কি গোসল করতে হবে? «نَعَمْ إِذَا رَأَتْ الْمَاءَ» নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “‘হ্যাঁ, যখন সে বীর্য দেখতে পাবে।” [এটি বুখারী, হাদীস নং ২৮২ ও মুসলিম, হাদীস নং ৩১৩ এ বর্ণনা করেছেন]
অনুশীলন (৩): আমি খুঁজে বের করে উত্তর দিব:
গোসল ফরয হওয়ার কারণসমূহ জানার পরে এবার যেসব কারণে গোসল করা সুন্নাত সেগুলো দুটি কারণ উল্লেখ করো।
জুম‘আর সালাত
দুই ঈদের সালাত
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
সালাতের ওয়াক্ত হলে নাপাক ব্যক্তির জন্যে গোসল করা ফরয। (✓ )
নাপাক ব্যক্তির জন্যে গোসলের আগে কুরআন স্পর্শ করা হারাম। (✓ )
অসুস্থতার কারণে বীর্য বের হলে গোসল করা ফরয। (×)
পুলিঙ্গের অগ্রভাগ স্ত্রীর লজ্জাস্থানে প্রবেশ করালে গোসল ফরয হয়। (×)
প্রশ্ন ২: নিম্নে গোসলের কাজসমূহ সাজাও:
(দু হাত তিনবার ধোয়া- পবিত্রতার নিয়াত করা- শরীরে পানি ঢেলে দেওয়া- লজ্জাস্থান ধৌত করা)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১- গোসলের সংজ্ঞা কী?
২- গোসল ফরয হওয়ার দুটি কারণ বর্ণনা করো।
৩- একজন মুসলিম গোসলের নিয়াত করল। অতপর সে সমুদ্রে সাঁতার কাটল এবং তার সমস্ত শরীর ভেজে গেল। এ গোসলের হুকুম কী?
চতুর্থ পাঠ: সালাতের মর্যাদা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সালাতের মর্যাদার উপর দলীল পেশ করতে জানবে।
২- মুসলিমের পার্থিব ও পরকালীন জীবনে সালাতের গুরুত্ব সম্পর্কে বর্ণনা দিবে।
৩- সালাত না পড়া বা সালাতকে অবহেলা করার ভয়াবহতা সম্পর্কে অনুভব করতে পারবে।
৪- সালাতের গুরুত্ব সম্পর্কে তোমার মূল্যায়ন ব্যক্ত করতে পারবে।
সূচনা:
আল্লাহ তা‘আলা অহীর মাধ্যমে তাঁর নবীর উপর সমস্ত ইবাদত ফরয করেছেন যা জিবরীল ‘আলাইহিস সালাম নিয়ে জমিনে অবতীর্ণ হয়েছেন; তবে সালাত ব্যতীত যা আল্লাহ তা‘আলা কোন প্রকারের মাধ্যম ব্যতীত তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ইসরা ও মিরাজের রজনীতে আসমানে নাযিল করেছেন।
এর দ্বারা কী প্রমাণ হয়?
ইসলামে সালাতের মর্যাদা
সালাত দ্বীনের স্তম্ভ
সালাত ইসলামের আলামত
তাওহীদের পরে প্রথম ফরযকৃত ইবাদত
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ ওয়াসিয়াত
সলাত এমন যার হিসেব সর্বপ্রথম বান্দাহর থেকে নেওয়া হবে।
এটি গুনাহসমূহ মাফের কারণ
ইসলামে সালাতের রয়েছে বিরাট মর্যাদা। নিম্নলিখিত বিষয়গুলো এটি প্রমাণ করে:
১- সালাত দ্বীনের স্তম্ভ:
এটি দ্বীনের স্তম্ভ, এটি ব্যতীত দ্বীন প্রতিষ্ঠিত হয় না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «رَأْسُ الأَمْرِ الإِسْلَامُ، وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ» "দ্বীনের মূল হলো ইসলাম, আর তার খুঁটি হলো সালাত।” [এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৬১৬]
২- সালাত ইসলামের আলামত:
সালাতে যত্নবান হওয়া ইসলামের উপর অবিচল থাকার আলামত। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة، فمن تركها فقد كفر “তাদের ও আমাদের মধ্যে প্রতিশ্রুতি হচ্ছে সালাত। যে তা পরিত্যাগ করল, সে কুফুরী করল।” [এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২৬২১]
৩- এটি তাওহীদের পরে প্রথম ফরযকৃত ইবাদত:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ) “আর তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে এবং সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্ৰদান করে। আর এটাই সঠিক দ্বীন।” [সূরা আল-বাইয়্যেনাহ: ৫]
৪- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ ওয়াসিয়াত:
সালাতের প্রতি যত্নবান হওয়ার প্রমাণ হলো, এটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ অসিয়াতের অন্যতম একটি অসিয়াত ছিলো। তিনি বলেছেন: «الصَّلَاةَ الصَّلَاةَ» “সালাত, সালাত।” [এটি আহমাদ, হাদীস নং ২৬৪৮৩ ও ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৬২৫ এ বর্ণনা করেছেন] অর্থাৎ তোমারা সালাতের প্রতি যত্নবান হও এবং সালাত সংরক্ষণ করো।
৫- কিয়ামতের দিন বান্দার থেকে সর্বপ্রথম সালাতের হিসেব নেওয়া হবে।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ العَبْدُ يَوْمَ القِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلَاتُهُ، فَإِنْ صَلُحَتْ فَقَدْ أَفْلَحَ وَأَنْجَحَ» “কিয়ামাতের দিন বান্দার আমল হতে সর্বপ্রথম তার সালাতের হিসাব হবে। যদি তা ঠিক হয়, তাহলে সফল ও কামিয়াব হল।” [এটি তিরমিযী, হাদীস নং ৪১৩ ও ইবন মাজাহ, হাদীস নং ১৪২৫ এ বর্ণনা করেছেন]
৬- আল্লাহ তা‘আলা এর দ্বারা গুনাহ ও ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهَرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسًا، مَا تَقُولُ ذَلِكَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ –أي وسخه-؟». قَالُوا: لاَ يُبْقِي مِنْ دَرَنِهِ شَيْئًا. قَالَ: «فَذَلِكَ مِثْلُ الصَّلَوَاتِ الخَمْسِ يَمْحُو اللهُ بِهِ الخَطَايَا» ‘‘আচ্ছা তোমরা বল তো, যদি কারোর বাড়ির দরজার সামনে একটি নদী থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার করে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে কি?’’ সাহাবীরা বললেন, ‘না, কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না।’ তিনি বললেন, ‘‘পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের উদাহরণও সেরূপ। এর দ্বারা আল্লাহ পাপরাশি নিশ্চিহ্ন করে দেন।’’ [এটি বুখারী, হাদীস নং ৫২৮ ও মুসলিম, হাদীস নং ৬৬৭ এ বর্ণনা করেছেন]
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি বর্ণনা করবো:
সালাত আত্মার প্রশান্তি ও দুশ্চিন্তা দূরকারী। এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কঠিন সমস্যায় চিন্তিত হলে সালাত আদায় করতেন। [বর্ণনায় আবূ দাঊদ, হাদীস নং ১৩১৯] নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলেছেন: «يَا بِلَالُ، أَقِمِ الصَّلَاةَ، أَرِحْنَا بِهَا» “হে বিলাল! ইকামত দাও। আর তার মাধ্যমে আমাদেরকে শান্তি দাও।” [এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৪৯৮৫]
তোমার সাথে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা উল্লেখ করো, যা আত্মার প্রশান্তি লাভে সালাতের প্রভাব প্রমাণ করে। অতপর তোমার অনুভূতি তোমার সহপাঠীর কাছে বর্ণনা করো।
অনুশীলন( ২): চিন্তা করবো:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَا مِنَ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلَاةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا، إِلَّا كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوبِ مَا لَمْ يُؤْتِ كَبِيرَةً، وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ» “কোন মুসলিমের যখন কোন ফরয সালাতের ওয়াক্ত হয়, আর সে উত্তমরূপে সালাতের অযু করে, সালাতের নিয়ম ও রুকূকে উত্তমরূপে আদায় করে, তা হলে যতক্ষণ না সে কোন কাবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হবে তার এ সালাত তার পিছনের সকল গুনাহের জন্যে কাফফারাহ হয়ে যাবে। আর এ (রহমতের ধারা) সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য।” [এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ২২৮]
১- সালাতের কোন ফযীলতটি এ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে?
২- এ ফযীলত অর্জনের শর্ত কী?
অনুশীলন (৩): ঘটনা বর্ণনা করবো:
তোমার পরিবারের কাছে সালাত ত্যাগ বা সালাত আদায়ে অবহেলার ভয়াবহতা সম্পর্কে একটি ঘটনা বর্ণনা করো, যা তুমি তোমার মসজিদের খতীবের কাছে অথবা কোন দ্বীনি অনুষ্ঠান থেকে শুনেছো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১:নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- সালাত আত্মার আরাম ও ক্বলবের প্রশান্তি। (✓ )
২- সালাত ফরয হওয়ার অহী (বিধান) মদীনাতে নাযিল হয়। (×)
৩- সালাত এমনই একটি ইবাদত যার হিসেব বান্দার থেকে (কিয়ামতের দিনে) সর্বপ্রথম নেওয়া হবে। ( ✓)
প্রশ্ন ২: নিচে সালাতের মর্যাদা সম্পর্কে কতিপয় দলীল উল্লেখ করো:
২- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «رَأْسُ الأَمْرِ الإِسْلَامُ، وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ». “দ্বীনের মূল হলো ইসলাম, আর তার খুঁটি হলো সালাত।”
প্রশ্ন ৩: তিন লাইনে সালাতের মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পর্কে লিখো।
পঞ্চম পাঠ : সালাতের পদ্ধতি
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- সালাতের পদ্ধতি বর্ণনা করবে।
২- সালাত আদায়ে মুসল্লীদের প্রচলিত ভুল-ত্রুটি বের করতে পারবে।
৩- সালাতে বিনয়ের গুরুত্ব বুঝতে পারবে।
৪- বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে সালাত আদায় করতে সক্ষম হবে।
অনেক সময় মুসল্লীদের একজনের সালাত অন্যজনের থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। সম্ভবত এর অন্যতম কারণ হলো সালাতের বিশুদ্ধ পদ্ধতি না জানা। সালাতের পদ্ধতি প্রয়োগ করতে এ পাঠটি ভালোভাবে অনুধাবন করো।
সালাতের পদ্ধতি
মুসলিম অযু অবস্থায়, সতর ঢেকে কিবলামুখী হয়ে সালাতে দাঁড়াবে। অতপর নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সালাতের কার্যাবলী সম্পন্ন করবে:
মুসলিম মনে মনে সালাতের নিয়াত করবে। সে নিয়াতে সালাতের ধরন, ফরয নাকি নফল, তা নির্ধারণ করবে।
সে সোজা হয়ে দাঁড়াবে, দুহাত উঠিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে। অতপর বুকের উপর ডানহাত বাম হাতের উপর বাঁধবে।
অতপর সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। সূরা ফাতিহার পরে কুরআনুল কারীমের থেকে সহজসাধ্য যে কোন কিরাত পাঠ করবে।
দুহাত উঠিয়ে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে রুকুতে যাবে। হাতদ্বয় হাঁটুর উপর রাখবে। অতপর سبحان ربي العظيم (সুবহানা রাব্বিয়াল ‘আযীম) তিনবার বলবে।
রুকু হতে سمع اللهُ لمن حمده (সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ) বলে মাথা উত্তোলন করবে। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ربنا لك الحمد (রাব্বানা লাকাল হামদ) বলবে।
অতপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে সিজদায় যাবে। সিজদায় سبحان ربي الأعلى (সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা) তিনবার বলবে।
সিজদা হতে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে মাথা উঠাবে। ربَّ اغفر لي، ربَّ اغفر لي. (রাব্বিগ ফিরলী রাব্বিগ ফিরলী)বসা অবস্থায় বলবে।
অতপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে দ্বিতীয় সিজদায় যাবে এবং দ্বিতীয় সিজদায় سبحان ربي الأعلى (সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা) তিনবার বলবে।
চার রাক‘আত বিশিষ্ট সালাতে চতুর্থ রাক‘আত শেষে মুসল্লী বসবে এবং পূর্বের ন্যায় তাশাহহুদ পড়বে। এরপরে দরূদে ইবরাহীম পড়বে: «اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ». “হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীমের বংশের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরের উপর তেমনি বরকত দান করুন যেমনি বরকত দান করেছেন ইবরাহীমের উপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মর্যাদার অধিকারী।”
অতপর ডান দিকে السلام عليكم ورحمة الله (আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ) বলে সালাম ফিরাবে, অতপর বাম দিকে সালাম ফিরাবে।
সালাতে ধীরস্থিরতা ও বিনয়
মুসল্লীর উচিত সালাতে মহান আল্লাহর বড়ত্ব অন্তরে অনুভব করা। তাই সালাতে নড়াচড়ায় ধীরস্থিরতা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিনয় প্রকাশ করা। উচিত সে সালাতে যে কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দু‘আসমূহ পাঠ করবে, সেগুলোতে চিন্তা ভাবনা করা। মহান আল্লাহ বলেন: (قَدۡ أَفۡلَحَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ) “অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে। ٱلَّذِينَ هُمۡ فِي صَلَاتِهِمۡ خَٰشِعُونَ(2) যারা তাদের সালাতে ভীত-অবনত।” [সূরা আল-মুমিনূন: ১-২]
অনুশীলন
অনুশীলন (১): আমি দেখবো ও শিখবো:
সালাত আদায়ের বাস্তব পদ্ধতি বিষয়ক ভিডিওটি তোমার পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখো এবং তাদের সালাত আদায়ে ভুল-ত্রুটি থাকলে সে বিষয়ে তাদেরকে দিক নিদের্শনা দাও।
অনুশীলন (২): আমি পড়ে জবাব দিবো:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِذَا قُمْتَ إِلَى الصَّلَاةِ فَكَبِّرْ، ثُمَّ اقْرَأْ مَا تَيَسَّرَ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ، ثُمَّ ارْكَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ رَاكِعًا، ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَعْدِلَ قَائِمًا، ثُمَّ اسْجُدْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ سَاجِدًا، ثُمَّ ارْفَعْ حَتَّى تَطْمَئِنَّ جَالِسًا، ثُمَّ افْعَلْ ذَلِكَ فِي صَلَاتِكَ كُلِّهَا» “যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন আল্লাহু আকবার বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পড়বে। অতঃপর রুকু‘তে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ করবে। অতঃপর ওঠবে ও স্থিরভাবে দাঁড়াবে। অতঃপর সাজদাহ করবে ও সাজদাতে স্থির হবে। অতঃপর ওঠবে ও স্থির হয়ে বসবে। আর তোমার পুরো সলাতে তা বাস্তবায়ন করবে।” [এটি বুখারী, হাদীস নং ৭৯৩ ও মুসলিম, হাদীস নং ৩৯৭ এ বর্ণনা করেছেন]
উপরোক্ত হাদীসটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১- সালাতের পদ্ধতি সম্পর্কে এ পাঠে যা শিখেছো এবং উপরোক্ত হাদীসে যা বর্ণিত হয়নি তা নির্ধারণ করো।
২- এ হাদীসে ধীরস্থিরতার গুরুত্ব লক্ষ্য করা যায়। তোমার শিক্ষকের সাথে আলোচনা করো কিভাবে সালাতে ধীরস্থিরতা বাস্তবায়ন করা যায়।
অনুশীলন (৩): কিভাবে আমি পরিবর্তন করবো?
নিম্নোক্ত অবস্থাগুলো চিন্তা করো এবং তোমার শিক্ষক বা মসজিদের ইমামের সাথে আলোচনা করো; যাতে নিচের অবস্থাগুলোতে শরী‘আহ অনুমোদিত বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে করণীয় সম্পর্কে জানতে পারো:
১- সালাতে সূরা ফাতিহা পড়তে ভুলে গেছো। অতপর রুকু দিয়েছো।
২- দুই রাক‘আতের পরে প্রথম তাশাহহুদ পাঠ করতে ভুলে গেছো এবং তৃতীয় রাক‘আতের জন্যে উঠে দাঁড়িয়ে পড়েছো।
৩- আসরের সালাতে চতুর্থ রাক‘আত শেষে ভুল করে দাঁডিয়ে গেছো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- সালাত শুরু করতে মুসলিমের মুখে নিয়াত উচ্চারণ করা জরুরী। (× )
২- সালাতের প্রতি রাক‘আতে সূরা ফাতিহা পড়া ফরয। ( ✓)
৩- মুসল্লী রুকুতে বলবে: সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা। (× )
৪- খুশু‘ (বিনয়) অন্তরের কাজ এবং তা অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ধীরস্থিরতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ( ✓)
৫- মুসল্লী তার বুকের উপর ডান হাত বাম হাতের উপরে রাখবে। ( ✓)
প্রশ্ন ২: নিচের খালিস্থান পূরণ করো:
১- মুসলিম রুকুতে বলবে: .......................................................
২- মুসলিম রুকু হতে দাঁড়িয়ে বলবে: .......................................................
৩- মুসলিম দুই সিজদার মাঝখানে বলবে: .......................................................
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
১- প্রথম তাশাহহুদে ও দ্বিতীয় তাশাহহুদে যা পাঠ করা হয়, সেগুলোর মধ্যে তুলনা করো।
২- ‘একাগ্রতা মূলত নফসের পরিশুদ্ধতা এবং বান্দাহর জন্যে সফলতা’ বিষয়টি ব্যাখ্যা করো।
ইউনিট: নৈতিকতা
প্রথম পাঠ: পানাহারের আদব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- পানাহারের আদবগুলো গুণে গুণে বের করতে পারবে।
২- পানাহারের আদবসমূহ শরী‘আহসম্মত হওয়ার কারণ বের করতে পারবে।
৩- পানাহারের আদবের দলীল দিতে পারবে।
৪- পানাহারের আদবসমূহ বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারবে।
এ পাঠের মাধ্যমে ইসলামী শরী‘আহর কতিপয় সুন্দর দিক তোমার কাছে স্পষ্ট হবে, যা দৈনন্দিন জীবনের শিষ্টাচার হিসেবে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়াও মুসলিমের দুনিয়া ও আখিরাতে এসব শিষ্টাচার বাস্তবায়নের প্রভাব সুস্পষ্ট হবে।
পানাহারের আদবসমূহ
যেসব আদব পালন করা শরী‘আহ অনুমোদিত:
খাবার আগে দুই হাত ধোয়া।
ডান হাতে পানাহার করা।
বসে খাবার খাওয়া।
পানাহারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা।
মুসলিম তার সামনের খাওয়ার খাবে।(১)
পানাহারের শেষে আলহামদুলিল্লাহ বলা।
পানাহারে নিষিদ্ধ কাজসমূহ
হেলান দিয়ে খাদ্য খাওয়া।
পান করার সময় পানিতে নি:শ্বাস ফেলা।
অতিরিক্ত তৃপ্তিসহকারে খাওয়া।
গরম খাবারে ফুঁক দেওয়া।
প্রথমত: যেসব আদব পালন করা শরী‘আহ অনুমোদিত:
১- খাবার আগে দুই হাত ধোয়া ও উত্তম রূপে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা।
২- পানাহারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা। খাবার শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা ভুলে গেলে বলবে: بِسْمِ اللهِ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ (বিসমিল্লাহি ফী আউওয়ালিহ ওয়াআখিরিহ)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ طَعَامًا فَلْيَقُلْ: بِسْمِ اللهِ، فَإِنْ نَسِيَ فِي أَوَّلِهِ فَلْيَقُلْ: بِسْمِ اللهِ فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ» “যখন তোমাদের কেউ খাবার খায় তখন সে যেন বিসমিল্লাহ বলে, যদি শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায় তখন সে বলবে بِسْمِ الله فِي أَوَّلِهِ وَآخِرِهِ (বিসমিল্লাহি ফী আউওয়ালিহ ওয়াআখিরিহ:বিসমিল্লাহ শুরুতে এবং শেষে)।” [এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ১৮৫৮]
৩- ডান হাতে পানাহার করা। অসুস্থতা বা এ জাতীয় কারণে যদি ডান হাত দিয়ে খাদ্য গ্রহণ করা সম্ভব না হয়, তবে বাম হাত দিয়ে খাবার খাবে।
৪- মুসলিম তার সম্মুখভাগ থেকে খাবার গ্রহণ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উমার বিন আবূ সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলেছেন: «يَا غُلَامُ، سَمِّ اللهَ، وَكُلْ بِيَمِينِكَ، وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ» “হে বালক! আল্লাহর নাম নাও,তোমার ডান হাত দিয়ে খাও এবং তোমার সামনের থেকে খাও।” [এটি বুখারী, হাদীস নং ৫৩৭৬ ও মুসলিম, হাদীস নং ৫৩৮৮ এ বর্ণনা করেছেন]
৫- বসে খাবার খাওয়া। তবে প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে খাবার গ্রহণ নিষেধ নয়।
৬- পানি পান করার সময় পানপাত্রের বাহিরে তিনবার নি:শ্বাস ফেলা। সুতরাং একবারেই সব পানি পান করবে না। আনাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পান করার সময় তিনবার শ্বাস নিতেন।” [বর্ণনায় মুসলিম, হাদীস নং ২০২৮]
৭- পানাহারের পরে মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন (আল হামদুলিল্লাহ বলা) করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِنَّ اللهَ لَيَرْضَى عَنِ الْعَبْدِ أَنْ يَأْكُلَ الأَكْلَةَ فَيَحْمَدَهُ عَلَيْهَا، أَوْ يَشْرَبَ الشَّرْبَةَ فَيَحْمَدَهُ عَلَيْهَا» “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ঐ বান্দাহর প্রতি সন্তুষ্ট হন, যে খাবার খায়, অতঃপর তার উপর আল্লাহর প্রশংসা করে অথবা পানি পান করে, অতঃপর তার উপর আল্লাহর প্রশংসা করে।” [বর্ণনায় সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৭১০৮]
দ্বিতীয়ত: পানাহারে নিষিদ্ধ কাজসমূহ
১- হেলান দিয়ে খাদ্য খাওয়া। কেননা এটি অহংকারীদের চরিত্র।
২- অপচয় ও অতিরিক্ত তৃপ্তিসহকারে খাওয়া। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি করতে বারণ করেছেন। তাছাড়া এটি মুটিয়ে যাওয়ার ও ক্ষতির কারণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (وَكُلُواْ وَٱشۡرَبُواْ وَلَا تُسۡرِفُوٓاْۚ إِنَّهُۥ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُسۡرِفِينَ) “তোমরা খাও এবং পান কর কিন্তু অপচয় কর না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” [সূরা আল-আরাফ: ৩১]
৩- গরম খাবারে ফুঁক দেওয়া।
৪- পান করার সময় পানিয়তে নি:শ্বাস ফেলা। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহুমা ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى أَنْ يُتَنَفَّسَ فِي الإِنَاءِ، أَوْ يُنْفَخَ فِيهِ» “নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রে নিঃশ্বাস ফেলতে এবং তাতে ফু দিতে নিষেধ করেছেন।” [এটি তিরমিযী, হাদীস নং ১৮৮৮ ও ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩২৮৮ তে বর্ণনা করেছেন]
অনুশীলন
অনুশীলন (১): আমি পড়ে জবাব দিবো:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَا مَلَأَ آدَمِيٌّ وِعَاءً شَرًّا مِنْ بَطْنٍ، بِحَسْبِ ابْنِ آدَمَ أُكُلَاتٌ يُقِمْنَ صُلْبَهُ، فَإِنْ كَانَ لَا مَحَالَةَ فَثُلُثٌ لِطَعَامِهِ، وَثُلُثٌ لِشَرَابِهِ، وَثُلُثٌ لِنَفَسِهِ» “মানুষ পেট থেকে অধিক নিকৃষ্ট কোনো পাত্র পূর্ণ করে না। মেরুদণ্ড সোজা রাখতে পারে এমন কয়েক গ্রাস খাবারই আদম সন্তানের জন্য যথেষ্ট। তার চেয়েও বেশি জরুরী হলে পেটের এক-তৃতীয়াংশ খাদ্যের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানীয়ের জন্য এবং এক-তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।” [এটি তিরমিযী, হাদীস নং ২৩৮০ ও ইবন মাজাহ, হাদীস নং ৩৩৪৯ তে বর্ণনা করেছেন]
এ হাদীসে নির্দেশিত আদব কী?
অনুশীলন (২): আমি খুঁজে বের করবো:
নিচের ভিডিও ক্লিপটি দেখে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বের করো:
১- এ পাঠে আলোচনা হয়নি এমন দুটি খাদ্য গ্রহণের আদব উল্লেখ করো।
২- খাবার গ্রহণের কতিপয় আদবের হিকমত উল্লেখ করো।
অনুশীলন (৩): আমি মূল্যায়ন করবো এবং পরিকল্পনা করবো:
১- এ পাঠে পানাহারের যেসব শিষ্টাচার উল্লেখ করা হয়েছে, তুমি কি সেগুলো নিয়মিত মেনে চলো?
২- তোমার পরিবারের লোকদেরকে পানাহারের আদব শেখাতে একটি প্রোগ্রামের আয়োজন করো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানি পান করার সময় পাত্রে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। (√)
২- মুসলিমের জন্য ডান অথবা বাম হাতে খাওয়া জায়েয। (×)
২- খাওয়ার সময় হেলান দেওয়া বিনয় বুঝায়। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
১- খাবার খাওয়ার সময় হেলান দেওয়া:
(মুস্তাহাব- জায়েয- নিষেধ)
২- খাদ্যে ও পানীয়তে ফুঁ দেওয়া:
(আদব- ওয়াজিব- নিষেধ)
৩- যার ডান হাত ভাঙ্গা, তার বাম হাতে খাওয়া:
(জায়েয- মাকরূহ- হারাম)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে অধিক পানাহার না করতে কেন নির্দেশ দিয়েছেন ?
২- মুসলিম যখন পানাহারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায়, তখন সে কী করবে?
দ্বিতীয় পাঠ: অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচার(আদবসমূহ)
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচারগুলো বর্ণনা করবে।
২- অনুমতি চাওয়ার হুকুম স্পষ্ট হবে।
৩- অনুমতি চাওয়ার পদ্ধতি এবং অনুমতি চাওয়ার হিকমত ব্যাখ্যা করবে।
৪- অন্যের অধিকার লক্ষ্য রাখার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারবে।
৫- গৃহে ও গৃহের বাহিরে অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচার বাস্তবে প্রয়োগ করবে।
আলী খালেদের বাড়িতে তার সাথে দেখা করতে গেল এবং বেশ কয়েকবার কলিং বেল বাজলো; কিন্তু কেউ উত্তর দেয়নি। তাই আলী রাগ করে ফিরে আসলো এবং যখন সে খালেদের সাথে দেখা করে, তখন তাকে দরজা না খোলার জন্য দোষারোপ করলো। তাই খালেদ তাকে বলে, বাড়ি তাকে অভ্যার্থনা জানানোর উপযুক্ত ছিল না।
তোমার মতে: আলীর কি রাগ ও তিরস্কার করার অধিকার আছে?
গৃহের অভ্যন্তরে অনুমতি প্রার্থনার শিষ্টাচারসমূহ
অনুমতি প্রার্থনার হুকুম
অনুমতি চাওয়ার হিকমত
অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচার
অনুমতি চাওয়ার হুকুম:
কোন মুসলিম যখন কোন বিশেষ জায়গায় প্রবেশ করতে চায়, যেমন গৃহে বা এ জাতীয় জায়গায়, তখন তার অনুমতি চাওয়া আবশ্যক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَدۡخُلُواْ بُيُوتًا غَيۡرَ بُيُوتِكُمۡ حَتَّىٰ تَسۡتَأۡنِسُواْ وَتُسَلِّمُواْ عَلَىٰٓ أَهۡلِهَاۚ) “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদের ঘর ছাড়া অন্য কারো ঘরে তার অধিবাসীদের সম্প্রীতিসম্পন্ন অনুমতি না নিয়ে এবং তাদেরকে সালাম না করে প্রবেশ করো না।” [সূরা আন-নূর: ২৭]
অনুমতি চাওয়ার হিকমত:
আল্লাহ তা‘আলা গৃহের সম্মান রক্ষায় অনুমতি চাওয়ার বিধান শরী‘আহসম্মত করেছেন, যাতে কেউ অন্যের গোপনীতা দেখতে ও জানতে না পারে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِنَّمَا جُعِلَ الِاسْتِئْذَانُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ» “অনুমতি নেয়ার বিধান দৃষ্টির কারণেই দেয়া হয়েছে ।” [এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৬২৪১]
অনুমতির আদব:
১- অনুমতি প্রার্থনা প্রথমে সালাম দেওয়ার মাধ্যমে শুরু করবে। অতপর ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইবে। সেখানে কাউকে পাওয়া না গেলে আরো দুই বার অনুমতি প্রার্থনা করবে। কেউ জবাব না দিলে ফিরে আসবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الاِسْتِئْذَانُ ثَلَاثٌ، فَإِنْ أُذِنَ لَكَ وَإِلَّا فَارْجِعْ» “অনুমতি তিনবার নিতে হয়। অতঃপর অনুমতি দিলে প্রবেশ করবে, অন্যথায় প্রত্যাবর্তন করিবে।” [বর্ণনায় মুসলিম, হাদীস নং ৫৭৫৩]
অনুমতি না দিলে তার রাগ করার অধিকার নেই। কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (فَإِن لَّمۡ تَجِدُواْ فِيهَآ أَحَدٗا فَلَا تَدۡخُلُوهَا حَتَّىٰ يُؤۡذَنَ لَكُمۡۖ وَإِن قِيلَ لَكُمُ ٱرۡجِعُواْ فَٱرۡجِعُواْۖ هُوَ أَزۡكَىٰ لَكُمۡۚ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ عَلِيمٞ) “যদি তোমরা ঘরে কাউকেও না পাও তাহলে সেখানে প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না তোমাদেরকে অনুমতি দেয়া হয়। যদি তোমাদেরকে বলা হয়, ‘ফিরে যাও’, তবে তোমরা ফিরে যাবে, এটাই তোমাদের জন্য অধিক পবিত্রতা। আর তোমরা যা কর সে সম্বন্ধে আল্লাহ সবিশেষ অবগত।” [সূরা আন-নূর: ২৮]
২- অনুমতি প্রার্থী তার নাম উল্লেখ করে অনুমতি চাইবে, যাতে গৃহের মালিক তাকে চিনতে পারে।
৩- অনুমতি প্রার্থী দরজা বরাবর না দাঁড়িয়ে ডান বা বাম সাইডে দাঁড়াবে যাতে দরজা খোলার সময় ঘরের ভিতরের কিছু দেখতে না পারে।
৪- মুহরিম নারী, যেমন: মা, বোন এবং তাদের অনুরূপ অন্যান্য মুহরিম নারীর ঘরে বা রুমে প্রবেশ করতেও অনুমতি নেয়া জরুরী ।
গৃহের অভ্যন্তরে অনুমতি চাওয়া:
মহান আল্লাহ ছোট বাচ্চাদেরকেও নির্দিষ্ট সময়ে বাবা মায়ের ঘরে প্রবেশ করতে অনুমতি চাওয়া ওয়াজিব করেছেন। যাতে নিকটাত্মীয়ের গোপনীয়তা বাচ্চাদের নজরে না পড়ে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِيَسۡتَـٔۡذِنكُمُ ٱلَّذِينَ مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُمۡ وَٱلَّذِينَ لَمۡ يَبۡلُغُواْ ٱلۡحُلُمَ مِنكُمۡ ثَلَٰثَ مَرَّٰتٖۚ مِّن قَبۡلِ صَلَوٰةِ ٱلۡفَجۡرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُم مِّنَ ٱلظَّهِيرَةِ وَمِنۢ بَعۡدِ صَلَوٰةِ ٱلۡعِشَآءِۚ ثَلَٰثُ عَوۡرَٰتٖ لَّكُمۡۚ) “হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা বয়ঃপ্রাপ্ত হয়নি তারা যেন তোমাদের কক্ষে প্রবেশ করতে তিন সময় অনুমতি গ্রহণ করে, ফজরের সালাতের আগে, দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোষাক খুলে রাখো তখন এবং ‘ইশার সালাতের পর; এ তিন সময় তোমাদের গোপনীয়তার সময়।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৮]
গোপনীয়তার তিনটি সময় হলো:
প্রথম: ফজরের সালাতের আগে।
দ্বিতীয়: দুপুরে যখন তোমরা তোমাদের পোষাক খুলে রাখো তখন অর্থাৎ দুপুরের খাবার শেষে কাইলুলার সময়।
তৃতীয়: ইশার সালাতের পর।
ইসলামী শরী‘আহ উপরোক্ত এ তিন সময়ে (নিকটত্মীয়ের) কারো কাছে প্রবেশ করতেও অনুমতি চাওয়া অপরিহার্য করেছে; কেননা এ সময়গুলোতে মানুষ সাধারণত ঘুমের প্রস্তুতি নেয় অথবা সকালে সালাতের জন্যে জাগ্রত হয়। তাই এ সময়গুলো মানুষ হালকা পোষাক পরিধান করে বা পোষাক পরিবর্তন করে। এ ছাড়াও অন্যান্য কারণে এ সময় নিকটতমদের গৃহে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
অনুশীলন
অনুশীলন (১): বর্ণনা করবো এবং মতামত পেশ করবো:
অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচারের মধ্যে অনেক বিরোধিতা রয়েছে, বিশেষ করে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে। এর ফলে অনেক মন্দ প্রভাব পড়তে পারে। উপরোক্ত আলোচনার আলোকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করো:
১- অনুমতি না চাওয়ার ফলে যে মন্দ প্রভাবগুলো দেখা দেয়।
অন্যদের গোপনিয়তা দেখে ফেলা।
২- অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচার সর্বত্রে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এবং এতে যা বিরোধিতা ঘটে, তা সংশোধন করতে তুমি তিনটি পরামর্শ পেশ করো।
অনুশীলন (২): আমি দেখবো এবং ব্যাখ্যা করবো:
গুরুত্বসহকারে নিচের লিংকে প্রদত্ত ভিডিওটি দেখো এবং এর বিষয়বস্তু তোমার পরিবার ও বন্ধুদের সাথে নম্রতার সাথে ব্যাখ্যা করো।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- মানুষের জন্য অনুমতি ব্যতীত অন্যের ঘরে প্রবেশ করা হারাম। (✓)
২- অনুমতি প্রার্থনাকারীর অনুমতি চাওয়ার সময় তার কোন গুণ যেমন, বন্ধু বা সহপাঠী ইত্যাদি উল্লেখ করা যথেষ্ট। (×)
৩- দুপুরে খাওয়ার পরে বিশ্রামের সময় (কাইলুলাহ) বাচ্চাদের পিতামাতার ঘরে প্রবেশের অনুমতি নেওয়া ওয়াজিব। (✓)
৪- কোন লোক তার বোনের ঘরে প্রবেশের অনুমতি লাগবে না। (×)
৫- বাচ্চারা ফজরের সালাতের আগে পিতামাতার ঘরে প্রবেশের অনুমতি নিবে। (✓)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
১- গৃহের অধিবাসী যদি অনুমতি প্রার্থনাকারীকে প্রবেশের অনুমতি না দেয়, তখন অনুমতি প্রার্থনাকারীর করণীয় হলো;
(অপেক্ষা করা- ফিরে যাওয়া- পুনরায় অনুমতি চাওয়া)
২- বাচ্চারা যে সালাতের পরে অনুমতি চাইবে:
(আসর- মাগরিব- ইশা)
৩- গৃহের অভ্যন্তরে কারো রুমে প্রবেশের অনুমতি চাওয়া শরী‘আহ বিধিবদ্ধ করেছে, কারণ:
(বাচ্চাদের শাস্তি না দেওয়া- ইসলামের উদারতা প্রকাশ- গৃহবাসীর গোপনিয়তা রক্ষা করা)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর কারণ উল্লেখ করো:
১- অনুমতি প্রার্থনাকারী দরজার ডানে বা বামে দাঁড়ানো।
২- অনুমতি প্রার্থনাকারীর অনুমতি চাওয়ার সময় নাম উল্লেখ করা আবশ্যক।
তৃতীয় পাঠ: কথাবার্তা ও মজলিসের আদব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- কথাবার্তা ও মজলিসের শিষ্টাচারগুলো বর্ণনা করবে।
২- কথাবার্তা ও মজলিসের শিষ্টাচারের গুরুত্ব নির্ধারণ করতে পারবে।
৩- কথাবার্তা ও মজলিসের আদব রক্ষা করবে।
৪- মজলিসের কাফফারার হাদীস মুখস্ত করবে।
ভূমিকা:
কিছু মানুষ মজলিসের আদবের প্রতি লক্ষ্য না রেখেই মজলিস শুরু করে শেষ করে দেয় । এটি মূলত ইসলামের নির্দেশনা পরিপন্থী। সুতরাং -হে শিক্ষার্থী- তুমি এ পাঠে মজলিসের শিষ্টাচার সম্পর্কে যা শিখবে, সেগুলোর প্রতি যত্নবান হবে।
কথাবার্তা ও মজলিসের শিষ্টাচারসমূহ
কথাবার্তার শিষ্টাচার
মজলিসের শিষ্টাচার
প্রথমত: কথাবার্তার শিষ্টাচার
১- সালাম দিয়ে কথাবার্তা শুরু করা। শ্রোতাকে সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব।
২- উত্তম কথা ব্যতীত মুসলিমের অন্য কিছু বলা উচিত নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ باللهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ» “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান আনে সে যেন ভালো কথা বলে বা চুপ থাকে।” [এটি বুখারী, হাদীস নং ৬০১৮ ও মুসলিম, হাদীস নং ৪৭ এ বর্ণনা করেছেন]
৩- মিথ্যা, গীবত, পরচর্চা, অশ্লীল কথাবার্তা, গোপনীয়তা প্রকাশ করা এবং লোকদের নিয়ে হাসি-তামাশা ও মজা করা থেকে বিরত থাকা।
৪- অনর্থক কথাবার্তা বলা বর্জন করা। নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ» “কোন ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে: তার অনর্থক কথা-কাজ ত্যাগ করা।” [ইবন মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৩৯৭৬]
৫- তিন ব্যক্তি একত্রে থাকলে, তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে দুজনের মধ্যে গোপনে কথা বলা জায়েয নেই। কেননা তা তৃতীয় ব্যক্তিকে চিন্তিত করবে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجَى رَجُلَانِ دُونَ الآخَرِ حَتَّى تَخْتَلِطُوا بِالنَّاسِ» “যখন তোমরা তিনজন হবে, তখন একজনকে বাদ দিয়ে বাকী দু’জনে কানাঘুষা করবে না; যতক্ষণ না অন্যান্য মানুষের সাথে মিশে যাচ্ছ।” [এটি সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬২৯০ ও সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১৮৪ তে বর্ণনা করেছেন]
দ্বিতীয়: মজলিসের শিষ্টাচার
১- মজলিসে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় সালাম দেওয়া।
২- যেখানে মজলিসের লোকজনের বসা শেষ হয়, সেখানেই বসে পড়া, মানুষের ঘাড়ে পা দিয়ে মজলিসের প্রথম দিকে গিয়ে বসা থেকে বাঁচা।
৩- মজলিসে স্থান প্রশস্ত করা। অন্যকে বসার জন্যে জায়গা প্রশস্ত করে দেওয়া। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا قِيلَ لَكُمۡ تَفَسَّحُواْ فِي ٱلۡمَجَٰلِسِ فَٱفۡسَحُواْ يَفۡسَحِ ٱللَّهُ لَكُمۡۖ) “হে ঈমানদারগণ ! যখন তোমাদেরকে বলা হয়, মজলিসে স্থান প্রশস্ত করে দাও, তখন তোমরা স্থান প্রশস্ত করে দিও, আল্লাহ্ তোমাদের জন্য স্থান প্রশস্ত করে দিবেন।” [সূরা আল-মুজাদালাহ : ১১]
৪-কাউকে তার বসার স্থান থেকে সরিয়ে সেখানে না বসা; যদিও সে শিশু বা দরিদ্র লোক হয়।
৫- দু ব্যক্তির মাঝখানে ফাকা করে সেখানে না বসা; তবে তাদের অনুমতিক্রমে হলে সমস্যা নেই।
৬- হারাম বিনোদন, অনর্থক কথাবার্তা, অশ্লীল ভিডিও দেখা, ইত্যাদি সমাবেশ এড়িয়ে চলা।
৭- গুণীজন, আলেম এবং সৎ মানুষের সঙ্গে বসতে আগ্রহী হওয়া।
৮- মজলিস যেন আল্লাহর যিকির শূণ্য না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা।
৯- মজলিস সমাপ্ত করার আগে মজলিসের কাফফারার দোয়া পড়া। আর তা হলো: سُبْحانَكَ اللَّهُمَّ وبِحَمْدِكَ، أشْهَدُ أنْ لا إلهَ إِلاَّ أنْتَ، أسْتَغْفِرُكَ وأتُوبُ إِلَيْكَ “হে আল্লাহ! প্রশংসার সাথে আপনার সকল দোষ থেকে পবিত্রতা গোষণা করছি । আমি সাক্ষ্য দেই যে, আপনি ব্যতীত আর কোন সত্য মা‘বূদ নেই, আপনার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করি’।” [এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং ৩৭৬২]
পরিশেষে বলব, মজলিসের শিষ্টাচার সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিও লিংকটি দেখো:
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি খুঁজে বের করবো এবং মিলাবো:
১- নিচের হাদীস থেকে সালাম দেয়ার ও সাওয়াবের স্তরগুলো বের করো:
২- পূর্বোক্ত হাদীস ও নিম্নোক্ত আল্লাহর বাণীর মাঝে সদৃশ মিলাও: (وَإِذَا حُيِّيتُم بِتَحِيَّةٖ فَحَيُّواْ بِأَحۡسَنَ مِنۡهَآ أَوۡ رُدُّوهَآۗ إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٍ حَسِيبًا) “আর তোমাদেরকে যখন অভিবাদন করা হয় তখন তোমরাও তার চেয়ে উত্তম প্রত্যভিবাদন করবে অথবা সেটারই অনুরূপ করবে; নিশ্চয়ই আল্লাহ সবকিছুর হিসেব গ্রহণকারী।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮৬]
অনুশীলন (২): ব্যাখ্যা করবো এবং উপদেশ দিবো:
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে যেসব পাপ ঘটে তা ব্যাখ্যা করো এবং যাদের থেকে এসব পাপ সংঘটিত হয়েছে তাদেরকে নসিহত করো:
পরিস্থিতি
একজন কর্মচারী তার সহকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে তাদের কথাগুলো অন্যের কাছে লাগায়।
এক ব্যক্তি তার প্রতিবেশীদের দোষত্রুটি বলে বেড়ায়।
একটি মেয়ে তার দরিদ্র সহপাঠীর পোশাক নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে।
একজন ড্রাইভার তার ম্যানেজারের বাড়ির গোপনীয়তা প্রকাশ করে। অপরাধের ধরন নসিহত
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
১- সালামের জবাব দেওয়া মুস্তাহাব। (×)
২- একজন মুসলিমের জন্য গীবত, পরনিন্দা চর্চা এবং উপহাস করা হারাম। (✓)
৩- একজন ধনী ব্যক্তিরএকজন দরিদ্র ব্যক্তিকে উঠিয়ে তার আসনে বসা জায়েজ।(×)
প্রশ্ন ২: নিচের দু‘আটি পরিপূর্ণ করো:
«..........................سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ ...................، أَسْتَغْفِرُكَ ». “হে আল্লাহ!সমস্ত প্রশংসাসহ আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করি এবং আমি সাক্ষ্য দেই যে, ..............। আপনার কাছে আমি ক্ষমা প্রার্থনা করি ...........।”
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
১- ‘মজলিসের শিষ্টাচারের মধ্যে অন্যতম হলো একজন মুসলিম শুধু ভালো কথাই বলবে’ এটি ব্যাখ্যা করো।
২- মজলিসের তিনটি আদব লিখো।
৩- ‘আসসালামু ‘আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ’ বলে সালাম দিলে এর সাওয়াব লিখো।
চতুর্থ পাঠ: পেশাব পায়খানার শিষ্টাচারসমূহঃ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
এ পাঠ শেষে -প্রিয় শিক্ষার্থী- তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে:
১- পেশাব পায়খানার শিষ্টাচারগুলো বর্ণনা করবে।
২- পেশাব পায়খানায় প্রবেশ ও বাহির হওয়ার দু‘আ মুখস্থ করতে পারবে।
৩- পেশাব পায়খানার শিষ্টাচারে অভ্যস্ত হতে যত্নবান হবে।
৪- ইসলাম ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি কতটা গুরুত্বারোপ করেছে তা বুঝতে পারবে।
প্রাথমিক অনুশীলনঃ
সাহাবী সালমান আল-ফারেসী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তাকে বলা হলো তোমাদের নবী তোমাদের সবকিছুই শিখিয়েছেন; এমনকি পেশাব-পায়খানা করার পদ্ধতিও। সালমান রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বললেন: «أَجَلْ، لَقَدْ نَهَانَا أَنْ نَسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةَ لِغَائِطٍ أَوْ بَوْلٍ، أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِالْيَمِينِ، أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِأَقَلَّ مِنْ ثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ، أَوْ أَنْ نَسْتَنْجِيَ بِرَجِيعٍ أَوْ بِعَظْمٍ» “অবশ্যই হ্যাঁ। তিনি আমাদের পেশাব ও পায়খানা করার সময় কিবলামুখী হতে বা ডান হাত দিয়ে ইস্তেন্জা করতে, বা তিন ঢিলা-পাথরের কম দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে অথবা গোবর বা হাঁড় দিয়ে ইস্তেন্জা করতে নিষেধ করেছেন।” [বর্ণনায় মুসলিম, হাদীস নং ২৬২]
উপরোক্ত হাদীসের আলোকে ইসলামের বড়ত্ব, মাহাত্ম্য, মুসলিম জীবনে এর গুরুত্ব, ইহকালে ও পরকালে তাকে কীভাবে সুখী ও সৌভাগ্যবান করে, এবং কীভাবে ইসলাম ধর্ম পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতার ধর্ম হিসেবে গণ্য, তা ব্যাখ্যা করো।
পেশাব পায়খানার রয়েছে অনেক আদব। এগুলোকে মোটামুটি নিম্নোক্ত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
পেশাব পায়খানার আদবসমূহ
পেশাব পায়খানার পূর্বের আদব
পেশাব পায়খানা করা অবস্থায় আদব
পেশাব পায়খানা করার পরের আদব
প্রথম: পেশাব পায়খানার পূর্বের আদব
১- বাম পা দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা।
২- প্রবেশের আগে এ দু‘আ বলা: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الخُبُثِ وَالخَبَائِثِ» “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র নর জিন্ন ও নারী জিন্ন থেকে আশ্রয় চাই।” [এটি সহীহ বুখারী (১৪২) ও সহীহ মুসলিম (৩৭৫) বর্ণনা করেছেন]
২- পেশাব পায়খানা করা অবস্থায় আদবঃ
১- মানুষের চক্ষুর আড়ালে পেশাব পায়খানা করা। বাথরুমে প্রবেশের সময় দরজা বন্ধ করা।
২- মানুষ চলাচলের রাস্তায় বা ছায়ায় বা পানিতে এবং এ জাতীয় স্থানে পেশাব পায়খানা করা থেকে বিরত থাকা।
৩- পেশাব পায়খানা করা অবস্থায় কুরআনুল কারীম বহন বা তিলাওয়াত বা আল্লাহর যিকির করা থেকে বিরত থাকা।
৪- পানি বা টিস্যু বা পাথর ব্যবহারের সময় বাম হাত ব্যবহার করা।
৫- খোলা জায়গায় পেশাব পায়খানা করার সময় কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ করা থেকে বিরত থাকা।
তৃতীয়: পেশাব পায়খানা করার পরের আদবসমূহ
১- পেশাব পায়খানা করার পরে জায়গাটি (যেমন বাথরুম ও এ জাতীয় স্থান) পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে সচেষ্ট হওয়া।
২- অপবিত্রতার প্রভাব দূরীভুত করতে পেশাব পায়খানার পরে দুহাত উত্তমরূপে ধৌত করা।
৩- ডান পা দিয়ে বাথরুম থেকে বের হওয়া।
৪- বের হয়ে غفرانك (গুফরা-নাকা) বলা, যার অর্থ: “আপনার ক্ষমা (চাই)।”
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি দেখবো এবং ব্যাখ্যা করবো:
নিচের লিঙ্কের মাধ্যমে ভিডিও ক্লিপটি দেখো। তারপর টয়লেটে প্রবেশের শিষ্টাচারের মাধ্যমে মানুষের প্রতি সম্মানের দিকগুলো ব্যাখ্যা করো।
অনুশীলন (২): সম্ভাব্য ফলাফল:
নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ফলাফল লিখো:
পরিস্থিতি
এক ব্যক্তি জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় পেশাব পায়খানা করে।
এক ব্যক্তি নদীতে পেশাব পায়খানা করে।
এক ব্যক্তি পেশাব পায়খানার পরে পানি ও সাবান দিয়ে তার হাত ধৌত করে।
এক ব্যক্তি পেশাব পায়খানার সময় তার কাপড়টি ভালো করে উঠায়নি। সম্ভাব্য ফলাফল
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনী থেকে উপযুক্ত শব্দ দিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো:
(লজ্জাস্থান- হারাম - আল-কুরআন - ফলদায়ক গাছ)
১- ........... নীচে পেশাব পায়খানা করা হারাম। ....
২- পেশাব পায়খানার সময় কিবলামুখী হওয়া .... হারাম....
৩- ...........লজ্জাস্থান সংরক্ষণ রাখা ওয়াজিব.......... পেশাব পায়খানার সময় মানুষের চক্ষুর আড়ালে যাওয়া।
৪- পেশাব পায়খানার স্থানে...... তিলাওয়াত করা হারাম কুরআন....
প্রশ্ন ২: নিচের দু‘আটি পরিপূর্ণ করো:
পেশাব পায়খানায় প্রবেশের সময় এ দু‘আ পড়তে হয়: «اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ ..............................». “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ..................থেকে আশ্রয় চাই।”
প্রশ্ন ৩: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখো:
১- পেশাব পায়খানার পরে ডান হাত দিয়ে অপবিত্রতা দূর করবো।
আমি পেশাব পায়খানা শেষে বাম হাত দিয়ে অপবিত্রতা দূর করব।
২- পেশাব পায়খানা থেকে বের হয়ে বলবো: ‘আলহামদু লিল্লাহ’।
আমি পেশাব পায়খানা থেকে বের হওয়ার পর বলব: غُفرانَك (আপনার ক্ষমা)।
৩- পেশাব পায়খানার সময় আমি আযান শুনলে তার জবাব দিবো।
পেশাব পায়খানার সময় আমি আযান শুনলে পুনরাবৃত্তি করব না।
প্রকাশ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ইলম ও মনের ভাব ব্যক্ত করার দক্ষতা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার, সকল সাহাবী ও কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তাদের উত্তম পন্থায় অনুসরণ করবে সবার ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
আমল ইবাদত করার আগে বান্দার ওপর যা ফরয তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ইলম অন্বেষণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ “সুতরাং জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য মাবূদ নেই। আর ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ও মুমিন নর-নারীদের ক্রটির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।”
মুহাম্মদ: (১৯)
শরীয়তের ইলম, এই উম্মতের গুরুত্বপূর্ণ এক নিদর্শন ও ইসলামী ব্যক্তিত্বের তাৎপর্যপূর্ণ উপাদান।
ইলমের এই গুরুত্বকে উপলক্ষ্য করে ”দাওয়াহ ও প্রবাসীদের শিক্ষা দান সংস্থা, রাওদাহ, রিয়াদ” এর হিকমতপূর্ণ ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার বার্তার সূচনা হয়।সংস্থাটি প্রবাসীদের শিক্ষাদান ও শরয়ীভাবে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্যে তৈরিকৃত বহু প্রোগ্রাম ব্যবাহর করে মুসলিমদেরকে তাদের দীনি বিষয় শিক্ষা দান করে থাকে। তারই একটি প্রকল্প হলো: ”فقهني في ديني” (আমাকে দীনের সঠিক বুঝ দান করুন)। যার ফলে প্রবাসীদের জন্য সাতটি ভাষায় শরয়ী কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি উক্ত প্রকল্পের উন্নয়নের লক্ষে শিক্ষা পরামর্শ বিষয়ক কম্পানি "বাসায়ের" এর সাথে যোগাযোগ করে। এটি মূলত শরয়ী শিক্ষা সেলেবাস উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ সংস্থা। পরিশেষে কম্পানিটির রাওদাহ সংস্থার সাথে সেলেবাস উন্নয়ন কেন্দ্রিক কতিপয় মূল নীতি ভিত্তিক পাঠ্যক্রম উন্নত করার একটি চুক্তি সম্পাদন হয়। তারপর নির্দিষ্ট শিক্ষাস্তর মোতাবেক শিক্ষার্থীর জন্য বইগুলো সংকলন করা হয়:
- প্রথম স্তর, যার মধ্যে রয়েছে (৪০)টি পাঠ।
-দ্বিতীয় স্তর, যার মধ্যে রয়েছে (30)টি পাঠ।
-তৃতীয় স্তর, যার মধ্যে রয়েছে (30)টি পাঠ।
শিক্ষার্থীর প্রত্যেক বইয়ের বিপরীতে শিক্ষকের একটি গাইড থাকবে যা তাকে শিক্ষানীতি ও কার্যকর শিক্ষার আদলে পাঠ উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে। বাস্তবত পাঠ্যক্রমের নথি উন্নয়ন, সেলেবাস নির্ভরযোগ্যকরণ, শিক্ষার্থীদের বই ও শিক্ষকদের নির্দেশিকাগুলো পর্যায়ক্রমে লেখার প্রক্রিয়া শিক্ষাগত মানসম্মত প্রস্তত ও নিখুঁত সম্পাদনার পর্বগুলো অতিক্রম করেছে। যা আঞ্জাম দিয়েছেন শরয়ী শিক্ষা পাঠ্যক্রম বিশেষজ্ঞদের একটি গ্রুপ।
পরিশেষে, আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি এই কাজ দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন। যারা এই সুন্দর সিলেবাস প্রকাশে অবদান রেখেছেন তাদের সবাইকে কল্যাণ ও জান্নাত দান করুন। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংস্থার ফোন নাম্বারের মাধ্যমে এই শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রম সম্পর্কে আপনার পরামর্শ এবং উন্নয়নমূলক চিন্তাকে স্বাগত জানাই।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষন করুন।
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাওদাহ, রিয়দ, সৌদি আরব।
ভূমিকা
সকল প্রশংসা এক আল্লাহর জন্যে নিবেদিত এবং সালাত ও সালাম সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পবিত্র ও বিশুদ্ধ পরিবার, সকল সাহাবী এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তাদের অতিউত্তমরূপে অনুসরণ করবে সবার ওপর। সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষকতার পেশা সবচেয়ে সম্মানজনক একটি পেশা। এটি নবী ও সংস্কারকদের পেশা । এর সমাজ ও মুসলিম উম্মাহকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রয়েছে।
আমরা আপনার মহান ভূমিকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে শিক্ষক নির্দেশিকাটি পেশ করছি, যা আপনাকে আপনার দায়িত্ব আদায়ে সহায়ক হবে।
এর ফলে শিক্ষকতা পেশা আরও ফলপ্রসূ ও আনন্দদায়ক হবে। কারণ, এই নির্দেশিকা শিক্ষার্থীদের স্তরসমূহ ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পাঠ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্তকারী।
অধিকন্তু ছাত্রের পাঠ্য বই (কিতাবুত তালিব) এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং শিক্ষাদান পদ্ধতিও মূল্যায়ণের সাথে সংযুক্ত।
শিক্ষক নির্দেশিকায় পাঠ উপাদান।
এই নির্দেশিকার (গাইডের) পাতাগুলোতে প্রত্যেক দারসের (পাঠের) কতিপয় উপাদান রয়েছে। যা শিক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য নানা দিক উপস্থাপন করেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানগুলো নিম্নরূপ:
ডাটা বক্স
এতে পাঠের জন্য প্রস্তাবিত সময়, শিক্ষণীয় নতুন শব্দ, ব্যবহৃত শিক্ষা উপকরণ, পাঠে উপস্থাপিত বিষয়ে মূল্যায়ন ও নির্দেশনা এবং প্রস্তাবিত শিখন কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খ-পাঠে চলমান ধাপসমূহ প্রসঙ্গে:
নিম্নের ধাপসমূহে রয়েছে:
(১) পাঠের ভূমিকা: পাঠের প্রতি শিক্ষার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার নিমিত্তে বিভিন্ন পদ্ধতি ও উপায় অবলম্বন করতে হয়, যার মধ্যে রয়েছে: ছোট প্রশ্ন যা হবে পাঠের সূচনার উপযোগী, অথবা পাঠের সাথে সম্পর্কিত একটি বাস্তবসম্মত গল্প, অথবা আজকের পাঠকে পূর্ববর্তী পাঠের সাথে সংযুক্ত করা, অথবা একটি শিক্ষাউপকরণ ব্যবহার করা...
(২) উপসংহার: এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হলো, একজন শিক্ষার্থী তার বিষয়ের অধ্যয়ন শেষে যেসব জ্ঞান, বুঝ, বাস্তবতা ও বিধিবিধান প্রাপ্ত হবে সেগুলো। আর গাইডটি শিক্ষার্থীদের প্রাপ্তী প্রত্যাশা ও সম্ভাব্যতাকে অন্তর্ভুক্ত করবে। শিক্ষককের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অর্জন কৃত মৌলিক তথ্যগুলো নোট বুকে লিখার নির্দেশ দেয়া উচিত।
(৩) অনুশীলন কার্যক্রম: এখানে আমাদের উদ্দেশ্য হলো, একজন শিক্ষার্থীকে তার অর্জনকৃত পাঠ্য বিষয়ে নতুন নতুন অবস্থায় অনুশীলনগুলো বাস্তবায়ন করার মধ্য দিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া, যেন তা পাঠ্যের ছুটে যাওয়া অসম্পূর্ণ বিষয়গুলোর পরিপূরকও হয়। শিক্ষকের উচিত হবে ছাত্রদেরকে নিজের তত্ত্বাবধানে এই অনুশীলন কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নে উদ্বুদ্ধ করা। আরও নজর রাখা যে, এসব কার্যক্রমের প্রতিটি কার্য একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের সাথে সম্পৃক্ত ও তা বাস্তবায়নে অবদান রাখবে। আমরা শিক্ষকদের প্রতি আরো আহ্বান জানাই , তাদের শিক্ষার্থীরা পাঠসমূহ থেকে যে জ্ঞানার্জন করেছে তা ব্যক্ত ও বাস্তবায়িত করার ধরন এবং বাস্তব প্রয়োগের মাধ্যমে তা আঞ্জাম যেন দিতে পারে সে প্রশিক্ষণের প্রতি যত্নবান হওয়া।
(৪) মূল্যায়ন: এর উদ্দেশ্য হলো পাঠের লক্ষ্যসমূহ হতে কী অর্জিত হলো আর কী অর্জিত হলো না তা পরিমাপ করা এবং তার ওপর পাঠের প্রশ্নগুলো থেকে একেকটি প্রশ্ন তার লক্ষ্যসমূহ থেকে একেকটি লক্ষ্যের সাথে কতটা সম্পর্কিত অনুমান করা। শিক্ষকের দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করার প্রায়াস স্বরূপ নির্দেশিকাটি আমাদের তরফ থেকে পাঠের বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর অন্তর্ভুক্ত করেছে।
(৫) শিক্ষামূলক ও মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ শিক্ষার্থী পাঠে যা শিখেছে তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রয়োগ করা এবং তার পরিবার, বন্ধুদের মাঝে ও সমাজে তা কার্যকর করা।
শিক্ষাগত ভিত্তি যার উপর এই নির্দেশিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রথমত: পাঠ্যক্রমের লক্ষ্যসমূহ:
প্রত্যেক পাঠের জন্য কার্যকর লক্ষ্যসমূহ প্রণয়ন করা হয়েছে। আর এই লক্ষ্যসমূহ প্রণয়নে নিম্নের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করা হয়েছে:
- ডকুমেন্টারি যোগ্যতাসমূহের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব হওয়া:
- অর্জিত জ্ঞান, আনুভূতিক ও দক্ষতার মধ্যে বৈচিত্র্যময় হওয়া।
- বাস্তবসম্মত, বাস্তবায়নযোগ্য ও শিক্ষার্থীদের স্তরের জন্য উপযুক্ত হওয়া।
জ্ঞানগত লক্ষ্যসমূহের স্তরগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা: (স্মরণ করা- বুঝা - প্রয়োগ করা - বিশ্লেষণ করা - সংশ্লেষণ করা - মূল্যায়ন করা)
- একটি ভালো লক্ষ্য নিমার্ণ করার শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা, যাতে একটি আচরণগত কর্ম অন্তর্ভুক্ত করে যা পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণ করা যায়,
আর লক্ষ্যটিকে শিক্ষার্থীর আচরণের বৈশিষ্ট্যের ওপর নিবদ্ধ রাখা এবং তাতে পূর্ণ অভিজ্ঞতার মৌলিকতা নির্ধারিত হবে।
দ্বিতীয়: বিষয়বস্তু তৈরি করা ও সাজানো:
পাঠে স্থিরকৃত লক্ষ্য-উদ্দেশ্য অনুপাতে এই সিলেবাসের বিষয়বস্তু, তার প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব এবং ডকুমেন্টে অন্তর্ভুক্ত দক্ষতা, শিক্ষার্থীদের স্তরের উপযুক্ততা ও বিষয়বস্তুকে উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে সহজ থেকে বেশী গভীর পর্যন্ত পৌঁছার ধীরনীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এতে উপস্থাপিত তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করে তার বিষয়বস্তুর সত্যতার প্রতি মনযোগ প্রদান করা হয়েছে। আর বিষয়বস্তু পেশ করার ক্ষেত্রে কুরআনের আয়াত ও নববী হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিষয়বস্তুতে অন্তর্ভুক্ত কুরআনের আয়াত ও নববী হাদীসসমূহে উল্লিখিত কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যেমন কুরআনি আয়াতসমূহের স্থান ও হাদীসসমূহের সূত্র উল্লেখ করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তৃতীয়ত: শিক্ষামূলক অনুশীলন বিবেচনা:
শিক্ষামূলক অনুশীলনে বেশ কিছু মাপকাঠি বিবেচনা করা হয়েছে। তন্মধ্যে হলো:
-পাঠের লক্ষ্যসমূহের সাথে অনুশীলন কার্যক্রমসমূহের যোগসূত্র ও সেসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে তার অবদান বিবেচনা করা হয়েছে।
- শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময় শিক্ষার্থীর প্রকৃতি এবং অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে তার সহকর্মীদের সাথে তার সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা।
-শিক্ষামূলক অনুশীলন কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনয়ন করা। আর তা হলো শিক্ষককে অডিও (শ্রবণমূলক) কার্যক্রম, পুনরাবৃত্তি ও অনুকরণ নির্ভর কার্যক্রম প্রদান করা এবং কোনো বিষয় সহায়ক জিনিস-পত্র সংগ্রহ সম্পর্কিত কার্যক্রম। ব্যাখ্যা, সংক্ষিপ্তকরণ, শ্রেণী বিভাগ ও পুনরায় নির্মাণ সংক্রান্ত কার্যক্রম। মুখস্থ করা, শোনা ও পড়ার সাথে সম্পর্কিত কার্যক্রম। বিন্যাস কার্যক্রম ও গণিত জাতীয় কার্যক্রম।
চতুর্থত: শিক্ষা উপকরণ সমূহ, যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
- প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যপুস্তক এবং এতে থাকা ছবি ও উদাহরণসমূহ।
-শ্রেণীকক্ষে বড় বড় ডিসপ্লে বোর্ড টাঙানো।
গ্রুপ অনুশীলন কার্যক্রমের জন্য কার্ডসমূহ।
-রেকর্ড করার যন্ত্র।
পঞ্চমত: মূল্যায়ন পদ্ধতির বৈচিত্র্য:
সন্নিবিষ্ট পাঠসমূহের প্রশ্নের ধরনের ক্ষেত্রে পাঠের লক্ষ্যসমূহের সাথে তার যোগসূত্র এবং অর্জিত জ্ঞান পরিমাপকারী প্রশ্ন প্রণয়নে বৈচিত্র্যকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যেমন: সঠিক ও বেঠিক নির্ণয় করা, একটিকে অপরটির সাথে মিল করা, একাধিক থেকে একটিকে বাচাই করা, শূন্যস্থান পূরণ করা ও বাক্য সাজানো। অনুরূপভাবে অর্জিত জ্ঞানকে শিক্ষার্থীর অবশ্য পালনীয় আচরণিক বিষয়ে রূপান্তর করার মাধ্যমে আনুভূতিক ও দক্ষতার দিকটা পরিমাপ করা হয়েছে। আমরা উল্লেখ করতে চাই যে দক্ষতা ও আনুভূতিক উভয় দিক পরিমাপ করার সর্বোত্তম উপায়গুলোর মধ্যে একটি হল শিক্ষকদের তরফ থেকে শ্রেণীকক্ষে বাহ্যিক সাধারণ পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ ও ফলো-আপ করার পদ্ধতি। আর বাড়িতে বাবা মার তরফ থেকে।
ষষ্ঠত: শিক্ষাদানের কৌশল:
আপনার প্রতি - প্রিয় শিক্ষক - এই নির্দেশিকায় ব্যবহৃত কিছু শিক্ষাদান পদ্ধতি: যেন আপনি তা সম্পর্কে এবং তা অনুশীলন ও প্রয়োগ করার পদক্ষেপসমূহের ব্যাপারে সচেতন হন।
(1) التعلم التعاوني:পরস্পর সহযোগিতা ভিত্তিক শিক্ষণ:
এটি এমন একটি শিক্ষণ পদ্ধতি যার চিন্তাটি ছাত্রদের (২:৬) ছোট ছোট গ্রুপের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে , যেমন ছাত্রদের কার্যকরভাবে ও একসাথে কাজ করা এবং তাদের প্রত্যেকের মান উন্নয়ন ও যৌথ শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনে একে অপরকে সহায়তা করার অনুমতি দেওয়া হবে। আর কাজটি গ্রুপের ভেতর বণ্টন করে দিবে এবং প্রত্যেক গ্রুপের জন্য একজন নেতা নির্বাচন করবে যে গ্রুপের সদস্যদের দায়িত্ব তদারকি করবে এবং তাদের প্রশ্নগুলো জমা করে উস্তাদের সামনে পেশ করবে।
(২) العصف الذهني:ব্রেইন-স্টর্মিং( সমষ্টিগত তাৎক্ষণিক সমাধান বের করা) :
এটি এমন একটি পদ্ধতি যা চিন্তা এবং সৃজনশীলতার উদ্দীপকের উপর প্রতিষ্টিত। আর বুদ্ধিমত্তাকে সামর্থ্য ও মেধাগত কর্ম বাড়ানোর অভিপ্রায়ে জ্ঞানগত ও জীবন ঘনিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সমষ্টিগত অথবা ব্যক্তিগত চিন্তার জন্যে একটি পদ্ধতি হিসাবে ব্যবহার করা হয়৷ এর প্রয়োজন হলো: সর্বাধিক পরিমাণে পরামর্শ অথবা সমাধান বা তথ্য উপস্থাপন করা, তারপর সঠিক সমাধান বা মতামতে পৌঁছানোর জন্য সেগুলিকে পরিমার্জন করা।
(3) সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি:
এটি এমন একটি পদ্ধতি যেখানে শিক্ষার্থী বিশেষ অবস্থার ওপর নতুনভাবে বিজয়ী হতে এবং অপরিচিত পদ্ধতিতে তার দখল নিতে ও তার সমাধানে পৌঁছাতে তার জ্ঞান ও দক্ষতা ব্যবহার করবে।
তার পদক্ষেপগুলো হল, সমস্যাটি উপলব্ধি করা, তা সনাক্ত করা এবং তার সাথে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা, তারপর সমাধান প্রস্তাব করা এবং সেরাটি বেছে নেওয়ার জন্য সেগুলো অধ্যয়ন করা।
(4) الخرائط الدلالية:(চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণ)
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: শিক্ষাগত মানচিত্র, বুদ্ধিবৃত্তিক মানচিত্র, কনসেফ্টগত মানচিত্র ও তথ্য মানচিত্র। এটি বিষয়কে তার অংশগুলোতে বিশ্লেষণ করে এবং তাকে বিভিন্ন চিত্র ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ব্যক্ত করে। যা বিভিন্ন জ্যামিতিক আকার ধারণ করে, যেমন: তালিকা, অথবা বৃত্ত বা পিরামিড। আর তার উদ্দেশ্য হলো তথ্য অধ্যয়ন সহজ করা ও তার মাঝে সম্পর্ক কায়েম করা ও তা স্মরণ করা।
(৫) استراتيجية التناظر:বুদ্ধিবৃত্তিক কৌশল:
এই কৌশলটি বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতাকে সক্রিয় এবং বস্তু ও তার উপাদানসমূহের মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট এবং সাদৃশ্য ও অ-সাদৃশ্যের কারণগুলো সনাক্ত করতে বিবেককে কাজে লাগাতে কাজ করে। আর এই ধরনের চিন্তার দাবি হলো উচ্চ সৃজনশীলতা। কারণ সমাধানটি সবসময় উপাদানগুলোর মধ্যে একটি নতুন স্বপ্ন দাবি করে।
(৫) طريقة القصة:গল্প শৈলী পদ্ধতি:
ঘটনা বর্ণনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যমতা, আকর্ষণ ও প্রভাব বিস্তারে অনন্য। গল্প কল্পনার বিকাশ ঘটায়, আবেগ জাগিয়ে তোলে এবং ফলাফলের সাথে ভূমিকাকে যুক্ত করার আহ্বান জানায় এবং নিছক ধারনা কে বাস্তব ও দৃশ্যপটে রূপান্তরিত করার কাজ করে। গল্প মূলত ঘটনাপ্রবাহের সংযোগের উপর নির্ভর করে; সাথে শিক্ষার্থীকে তার সাথে আন্দোলিত হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং সেটাকে যুক্ত করে দেয়, ফলে সে তা শিখতে উদ্যোগী হয়। কাজেই যে শৈলী ও ভাষায় গল্প পেশ করা হয় শিক্ষার্থীদের জন্যে তার উপযুক্ততার প্রতি খেয়াল করা জরুরি।
(৭) طريقة التطبيقات الحياتية:বাস্তব জীবনে প্রয়োগ পদ্ধতি:
এই পদ্ধতির লক্ষ্য জীবনের সমস্যা ও বিভিন্ন অবস্থার সাথে তথ্য-উপাত্তকে যুক্ত করার চেষ্টা করা। তার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীকে গুরুত্বসহপাঠের বিষয়গুলো পড়তে সাহায্য করা। কারণ তিনি এতে কিছু ভুল ও নেতিবাচক বিষয়ের সমাধান এবং ইতিবাচক দিকগুলো শক্তিশালীকরণ ও নিশ্চিতকরণ এবং সেগুলোকে ইসলাম যেসব বিধান ও নৈতিক নীতিমালা নিয়ে এসেছে তার সাথে যুক্ত করার চেষ্টা দেখতে পাবে, ফলে শিক্ষার্থী অনুভব করবে যে ইসলাম তার জীবনকে সুশৃঙ্খল করে।
(৮)استراتيجية فَكِّر – زاوِج – شارِك: কৌশল: চিন্তা কর - জোড়ায় জোড়ায় হও - অংশ গ্রহণ কর।
চিন্তা কর - জোড়ায় জোড়ায় হও - অংশ গ্রহণ কর কৌশলকে তিনটি পর্যায় নিয়ে গঠিত একটি পরস্পর সহযোগীতা মূলক আলোচনার কৌশল হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রথম পর্যায়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা অনুশীলনকার্য সম্পাদনে একাকি চিন্তা করার সুযোগ দান করেন, তারপর দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি তার উত্তরটি নিয়ে একজন সহপাঠীর সাথে আলোচনা করেন। তৃতীয় এবং শেষ পর্যায়ে গ্রুপের সকল সদস্য যেসব উত্তর তৈরি করেছেন তার সম্পর্কে তাদের মতামত বিনিময় করেন ও সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করেন, যেন একটি সাধারণ উত্তর খুঁজে পান যা গ্রুপের মতামত প্রকাশ করে।
শেখার প্রক্রিয়ায় এই কৌশলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু এটি শিক্ষার্থীদেরকে তাদের জানা বিষয় কার্যকরভাবে সমাধান করতে সাহায্য করে। অনুরূপভাবে এটি তাদের যোগাযোগ দক্ষতা বিকাশ করে এবং তাদের চিন্তাভাবনাকে অগ্রসর করে।
(9) المُنظِّمات المُتقدِّمة:পাঠ পরিচিতিমূলক আকর্ষণিয় উপস্থাপনাঃ
সুবিন্যাস্ত উপস্থাপনার পরিচয় হলো, আলোচ্য বিষয় ভিত্তিক এমন একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা ছাত্রদের জন্য তৈরী করে শিক্ষা কোর্সের শুরুতে তুলে ধরা হবে, যা মূলত উদ্দিস্ট উপস্থাপিত বিষয় ও তথ্যের সারংশ হবে।এর উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিস্ট বিষয়গুলো সহজে বুঝা ও শিক্ষা অর্জন করা এবং শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে যা জেনেছে এবং তার যা জানা দরকার তার সাথে যোগসূত্র তৈরি করা।
সুবিন্যাস্ত উপস্থাপনা দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত: এগুলো হল উন্নত লিখিত সুবিন্যাস্ত উপস্থাপনা এবং অলিখিত সুবিন্যাস্ত উপস্থাপনা৷ লিখিত সুবিন্যাস্ত উপস্থাপনা কে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে: তা হলো ব্যাখ্যামূলক, অপরটি হলো তুলনামূলক উপস্থাপনা ।
আর অলিখিতগুলো অডিও, ভিজ্যুয়াল, অডিও-ভিজ্যুয়াল এবং গ্রাফিক ডিজাইনে বিভক্ত করা হয়, যা বাহ্যিক অবস্থার কিছু অংশকে ব্যাখ্যামূলক আকারে প্রকাশ করার উপর নির্ভর করে। যেমন একটি ব্যাখ্যামূল "গ্রাফিক" তালিকা হতে পারে এবং যা পাঠের শুরুতে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
(১০) التنبؤ:পারস্পরিক মতবনিময়মূলক শিক্ষাঃ
শিক্ষার্থীর নিকট এই পদ্ধতি তলব করা, সে যেন অনুমানভিত্তিক এমন কিছু প্রস্তুত করে,যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা করা হবে। শিক্ষার্থীর সামনে একটি লক্ষ্যকে সহজ করবে এবং অন্তর্ভুক্ত বিষয় জানার সময় গুরুত্ব পাবে, অনুরূপভাবে এটি শিক্ষার্থীর সামনে নতুন তথ্য ও জ্ঞানকে তার আগের জ্ঞানের সাথে যুক্ত করার সুযোগ করে দিবে।
শিক্ষক নিম্নলিখিত পদ্ধতির মাধ্যমে তার ছাত্রদেরকে আলোচ্য বিষয় অধ্যয়ন যা শামিল করবে তা আয়ত্তে আনার ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন:
বিষয়ের শিরোনাম পাঠ করা, বা পাঠের উদ্দেশ্য বুঝা, বা প্রশ্নসমূহের দ্বারা সাহায্য তলব করা।
(১১) (التساؤل الذاتي: অনুমান ভিত্তিক প্রশ্ন সৃষ্টিকরণ পদ্ধতি) কিছু প্রশ্ন তৈরি করা
এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো আত্ম-সচেতনতা বিকাশ করা, পাঠের সাথে প্রতিক্রিয়াশীল হওয়াকে সহজ করা এবং বুঝ ও আবেদন করার কাজ সহজ করা। আর এটি হয় বিষয় সম্পর্কে আগে, মাঝখানে ও শিখন কর্মের শেষে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়ার মাধ্যমে। এটি নির্ভর করে শিক্ষার্থীর অধ্যয়ন করা ঘটনাবলির সাথে কাজ করার সময় নিজের কাছে কয়েকটি প্রশ্নের নির্দেশনার উপর, যা তাকে তার শেখা তথ্য এবং সে যে জ্ঞান অর্জন করে তার সাথে তাকে আরও একীভূত করে তোলে এবং তার নিকট চিন্তার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়।
(১২)استراتيجية أعرف – أريد أن أعرف – تعلمت:কৌশল: আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি (KWL)
এই কৌশলটি শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ্য বিষয় যেসব জ্ঞানকে শামিল করে তা আয়ত্তে আনা এবং তাদের নিকট থাকা পূর্ববর্তী জ্ঞানের সাথে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করে। অনুরূপভাবে শিক্ষকের জন্যে সম্ভব হয় নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে তা ব্যবহার করা এবং সেই বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বুঝ ও তাদের ধারণাগত ত্রুটিগুলো মূল্যায়ন করা।
এই কৌশলটির দিকে KWL দ্বারা ঈঙ্গিত করা হয়, যা নিম্নের শব্দাবলির সংক্ষিপ্ত রূপ:
(K): Know ، (W): Want ،(L): Learned.
প্রথম শব্দটি শিক্ষার্থী বিষয় সম্পর্কে স্বয়ং যা জানে তা প্রকাশ করে, দ্বিতীয় শব্দটি সে কী বিষয় জানতে চায় তা প্রকাশ করে এবং তৃতীয় শব্দটি শিক্ষার্থী বিষয় সম্পর্কে কী শিখেছে তা প্রকাশ করে।
(১৩)استراتيجية تحليل وجهات النظر: দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ কৌশল:
এই কৌশলটি শিক্ষার্থীকে তার মতামত ভিত্তিক ও বিশ্বাসসমূহের ক্ষেত্রে চিন্তা করতে সাহায্য করে এবং তাকে তার দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তা, ধারনা, মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং সে যেসব মত বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিশ্বাস করে তা প্রকাশ করতে উৎসাহিত করে।যা স্বীয় অবদানসহ তাকে তার স্বপ্ন দেখতে ও ঘটনাবলির সাথে তাকে প্রভাবিত হতে উদ্বুদ্ধ করে। এই কৌশলটি ছাত্রের নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করার উপর নির্ভর করে; যেন তাতে চিন্তাকে আরও গভীর করা এবং তার শুদ্ধতা ও প্রেক্ষাপটের সাথে তার সম্পর্ক পরিমাপ করা অথবা কোনো সমস্যা সমাধান করার সুযোগ হয়। দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করা কখনো তা সমর্থন ও গ্রহণ করাকে শামিল করে, (যদি তা উপযুক্ত ও সঠিক হয়), অথবা (তা সংশোধন করা) যদি প্রয়োজন হয়, অথবা তা প্রত্যাখ্যান করা, যদি তা অনুপযুক্ত ও ভুল হয়।
উপসংহারে, সম্মানিত ভাই শিক্ষক:
অবশ্য এটি আপনার হাতে একটি সহায়ক নির্দেশিকা যা ভালভাবে ব্যবহার করা হলে তা ফল দেবে, অন্যথায় কোন কাজে আসবে না। তবে আমরা এর দ্বারা আপনার পাঠদান ক্ষমতা সীমিত করা বা আপনার সৃজনশীলতাকে সীমিত করতে চাই না।
ইউনিট :আল-কুরআন ও তাফসীর
প্রথম পাঠ: আল-কুরআনুল কারীমের মর্যাদা
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলি: (আল- কুরআনুল কারীমের মোজেযা - অলৌকিকতা - আহলুল কুরআনুল কারীম)।
শিক্ষা উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - কিছু কুরআনের আয়াতের অডিও রেকর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(পরস্পর সহযোগিতা মূলক শিক্ষা - সংলাপ এবং আলোচনা)।
বিষয়ে সম্মিলিত ও একক ভাব প্রকাশঃ
o আল-কুরআনুল কারীমের মর্যাদা নির্ণয় করা।
o আল-কুরআনুল কারীমকে সম্মান করা।
o আল-কুরআনুল কারীম ও তার ধারকদের প্রতি ভালবাসায় আগ্রহী হওয়া।
পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক, আল-কোরআনুল কারীমের ছোট আয়াতগুলোর অডিও রেকর্ড বাজিয়ে আপনার ছাত্রদের জন্য পাঠভূমিকা প্রস্তুত করুন এবং মনোযোগ সহকারে তা শুনুন, তারপর তাদেরকে কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াতের ফযীলত ও মর্যাদা ব্যাখ্যা করাসহ আয়াতে কী আছে তা বলুন।
তারপর বোর্ডে পাঠের শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
আপনি আপনার ছাত্রদের কে নীরবে আলোচ্য পাঠটি পড়তে বলতে পারেন।
আপনি কোন ছাত্রকে তাদের সহপাঠীদের সামনে উচ্চস্বরে পড়ার জন্য বেছে নেন। তারপর তাদের কাউকে বোর্ডে পাঠের মৌলিক বিষয়গুলো লেখার দায়িত্ব দিন, যাতে প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন হয়।
ধাপ নং (২)
আপনি পাঠের নতুন শব্দগুলোকে বোর্ডে লিখে ও শিক্ষার্থীদের সাথে তার সমার্থক শব্দ নিয়ে আলোচনা করার মাধ্যমে নতুন শব্দাবলি উপস্থাপন করুন।
ওই সামর্থক শব্দাবলি বোর্ডে লিখুন।
ধাপ নং (৩)
শিক্ষার্থীদেরকে দলে দলে ভাগ করে একটি পরস্পর সহযোগিতামূক শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়।
তারপর প্রতিটি দলকে আল-কুরআনুল কারীমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত নির্ধারণ করতে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা করতে বলুন।
কী সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা বোর্ডে লিখতে গ্রুপের সদস্যদের থেকে একজন শিক্ষার্থীকে দায়িত্ব দিন।
তাদের সম্পাদিত কার্য সম্পর্কে মন্তব্য করুন।
ধাপ নং (৪)
আলাপ-আলোচনা ও পর্যালোচনা পদ্ধতির মাধ্যমে বের করুন: আল-কুরআনুল কারীমের ধারকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করার নমূনাগুলো কী? আর আল-কুরআনুল কারীমের প্রতি আমাদের কর্তব্য কী?
আপনি ছাত্রদের নিয়ে তাদের উত্তর পর্যালোচনা করে পাঠ থেকে শেখা ফলাফলে পৌঁছাবেন। তারপর সেগুলো বোর্ডে লিখবেন, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
ফলাফলে পৌঁছাঃ
১. আল-কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী।
২. আল-কুরআনুল কারীম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে মহান মুজিযা।
৩. আল-কুরআনুল কারীম বিশ্ববাসীর জন্য নুর (আলো) ও হিদায়েত (পথনির্দেশ)।
৪. মহান আল্লাহর আল-কুরআনুল কারীম কে সংরক্ষণ করা।
৫. মহান আল্লাহ কুরআনের ধারকদের দুনিয়াতে উচ্চ সম্মান ও পরকালে সাফল্য দিয়ে ধন্য করেছেন।
৬. যখন আমরা আল-কুরআনের এই মহান মর্যাদা সম্পর্কে জানলাম তখন আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো তা তিলাওয়াত করা, তাতে চিন্তা করা, তা শেখা এবং তার আদেশগুলো অনুসরণ করা ও তার নিষেধগুলো থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা।
অনুশীলন কার্যক্রম
শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিচের পদ্ধতিগুলো মেনে প্রয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হবে:
অনুশীলন নং১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একা/গ্রুপ ভিত্তিক আল-কুরআনুল কারীমের মর্যাদা ব্যাখ্যা করা।
উদ্দেশ্য নং ১
অনুশীলনের উত্তর খুঁজতে প্রতিটি ছাত্রকে দায়িত্ব দিন।
শেষ করার পর যা লেখা হয়েছে তা নিয়ে আলোচনা করুন এবং তাদের সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান।
ছাত্রদের কাউকে বোর্ডে সঠিক উত্তর লিখতে বলুন, যাতে অন্যরা তাদের নোটবুকে তুলে রাখতে পারে।
অনুশীলন ১:
আল্লাহর পবিত্র ভূমি মক্কায় নাযিল হওয়া শুরু হয়।
রমজান মাসে নাযিল হওয়া শুরু হয়।
এটি আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যা জান্নাতীদের ভাষা।
জিবরাঈল ‘আলাইহিস সালাম তা নিয়ে অবতরণ করেছেন।
সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
মুসলিম জাতি, যা মানবজাতির জন্য সৃষ্ট সবচেয়ে সেরা জাতি।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিত ধরন: আল-কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াত এবং তা শেখার ফযীলত বর্ণনা করা।
উদ্দেশ্য নং ৩, ৪
শিক্ষার্থীদের গ্রুপে গ্রুপে বিভক্ত করুন এবং তাদেরকে বইয়ের অনুশীলন চিত্রের বৃত্তের মত বসতে বলুন। প্রত্যেক গ্রুপ অনুশীলনের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে।
প্রতিটি গ্রুপ সদস্যদের থেকে একজনকে নির্বাচন করবেন যেন তার গ্রুপ যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা প্রকাশ করে, তারপর তা বোর্ডে লিখে। আর যেখানে দ্বিমত হয়েছে তা আপনার সামনে এবং আপনার তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করা হবে, যেন সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা এবং তা বোর্ডে লিখা সম্পন্ন হয়।
অনুশীলন ২:
১- ফেরেশতাদের অবতরণ এবং আল-কুরআনুল কারীমের মজলিসগুলোতে উপস্থিতি।
আল-কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াতকারীদের ওপর প্রশান্তি ও রহমতের অবতরণ।
আসমানে আল্লাহ তা‘আলার আল-কুরআনুল কারীমের পাঠকদের চর্চা করণ।
২. অযু করা - প্রশান্ত ও গাম্ভীর্যতার সাথে বসা - এবং পাঠ করার সময় চিন্তা করা ও বিনয়ী হওয়া।
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তরের জন্য নিম্নের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
প্রশ্নগুলোর উত্তরের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে গ্রুপে গ্রুপে ভাগ করে দিন।
প্রতিটি গ্রুপ প্রশ্নগুলো থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে।
প্রতিটি গ্রুপের উত্তর মূল্যায়ন করার জন্য অন্যের সাথে তা বিনিময় করবে, তারপর যে গ্রুপটি ঠিক করেছে তাকে সমর্থন করুন।
প্রশ্ন ১: (×) - - - (×) -
* শিক্ষাগত ও মনজাগতিক নির্দেশনা :
ছাত্রদের কে নির্দেশনা দিন, তারা পাঠে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে ও আচার-আচরণে নিম্নলিখিত পদ্ধতির অনুসরণে যেন প্রয়োগ করে:
আল-কুরআনুল কারীম চিন্তা-ভাবনা সহ শ্রবণ করা এবং এর বিধানগুলো উপলব্ধি করা এবং তাদের আশেপাশের লোকদের এটি প্রয়োগ করার জন্য গাইড করা।
সব সময় এবং সব পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করা, কেবল দুর্দশা ও দুর্বল সময়ে নয়।
দ্বিতীয় পাঠ: সূরা আল ফাতিহা
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলি: (বিচারের দিন - সরল পথ - পথভ্রষ্ট)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশ কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - অডিও মাধ্যম যাতে রেকর্ড করা হয়েছে
কুরআনের আয়াতসমূহ )।
শিক্ষাদানের কৌশল: ( সম্মিলিত শিক্ষা - العصف الذهني :তাৎক্ষনিক চিন্তা করে বের করা -الطريقة الاستنتاجية:সৃজনশীল পদ্ধতি)।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o ইসলামী আকিদার মূলনীতি মেনে চলা।
o মহান আল্লাহর মহব্বত, তাঁরই সম্মান বজায় রাখা এবং ভয় নিশ্চিত করা ।
o সূরা আল ফাতিহার মর্যাদার বড়ত্ব ।
পাঠের ভূমিকা:
আপনি সূরা আল-ফাতিহার অডিও রেকর্ডার বাজিয়ে পাঠটির ভূমিকা শুরু করতে পারেন। এটি মনোযোগ সহকারে শোনেন। তারপর তাদেরকে আল-কুরআনুল কারীমের সূরাগুলোর মধ্যে এর মর্যাদা সম্পর্কে কথা বলুন। তারপর বোর্ডে শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
শিক্ষার্থীদের আল-কুরানুল কারীমের আয়াতগুলো দেখতে বলুন, তারপর তারা চুপ থাকবে এবং কুরআনের আয়াত রেকর্ড করা অডিও রেকর্ডার মাধ্যমে আল-কুরানুল কারীমের আয়াতগুলো শুনবে।
ধাপ নং (২)
আয়াতগুলোর সাধারণ অর্থ ব্যাখ্যা করুন, তারপর মহান আয়াতগুলো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করুন।
এলোমেলোভাবে তিনজন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাদের প্রত্যেককে যে কোনো একটি আয়াত গ্রহণ করে তার ব্যাখ্যা করতে বলুন।
আরও তিনজন ছাত্রকে চয়ন করুন যেন সব আয়াত গ্রহণ করা সম্পন্ন হয়।
ধাপ নং (৩)
শিক্ষার্থীদেরকে দলে দলে ভাগ করে পরস্পর সহযোগিতামূলক শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করাই উত্তম।
প্রতিটি দলকে সূরা আল-ফাতিহার মধ্যে থাকা শরয়ী আদেশগুলো বের করার জন্য একে অপরকে সহযোগিতা করতে বলুন।
গ্রুপের একজন শিক্ষার্থীকে তারা কী সিন্ধান্তে পৌঁছেছে তা বোর্ডে লিখতে বলুন। তারপর তাদের কর্ম সম্পর্কে মন্তব্য করুন।
ফলাফলে পৌঁছাঃ
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সূরার ব্যাখ্যা আয়ত্ত করার পরে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তার একটি শিক্ষা উল্লেখ করতে বলুন। তারপর বোর্ডে তাদের উত্তরগুলো লিখুন এবং তার ওপর মন্তব্য করুন।
অনুশীলনসমূহ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিচের নিয়মে তা প্রয়োগ করতে তাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া উত্তম।
অনুশীলন নম্বর ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একক ভিত্তিক, সূরা আল-ফাতিহার মর্যদা ও মাহাত্ম্য স্পষ্ট করা।
উদ্দেশ্য নং ৩
শিক্ষার্থীদেরকে নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তকের অনুশীলন অংশ খুলতে বলুন, তারপর তাৎক্ষণিক ভেবে বের করা পদ্ধতির মাধ্যমে তার উত্তরসমূহে চিন্তা করতে বলুন এবং তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা নিয়ে আলোচনা করুন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একক ভাবে, সূরা আল-ফাতিহার অর্থ শেখা।
উদ্দেশ্য নং ২
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে অনুশীলনের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিবেন, উত্তরগুলো জানার জন্য ছাত্রদের পাশ দিয়ে হাঁটবেন এবং সবচেয়ে সঠিকটি বেছে নিবেন, তারপর সহপাঠীদের সামনে আয়াতটি উপস্থাপন করার লক্ষ্যে একজনকে এবং তার ভুল হলে তাকে সংশোধন করার লক্ষ্যে অপরজনকে বাছাই করবেন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
প্রতিটি ছাত্র পৃথকভাবে বইটিতে অন্তর্ভুক্ত প্রশ্নের উত্তর দিবে।
প্রতিটি ছাত্র অপর বন্ধুর সাথে তার উত্তরটি বিনিময় করবে; যেন তাদের প্রত্যেকে অন্যের উত্তর মূল্যায়ন করতে পারে।
কিছু শিক্ষার্থীকে বাছাই করুন, যারা প্রত্যেকে তার সহপাঠীর উত্তরে কোনটি রেখেছে আর কোনটি পরিবর্তন করেছে তা পেশ করবে।
ছাত্রদেরকে একে অপরের সংশোধনীর উপর মন্তব্য করার সুযোগ দিন, তারপর ছাত্রদের পারফরম্যান্সের উপর মন্তব্য করুন এবং তাদের সামনে প্রশ্নগুলোর সেরা উত্তর স্পষ্ট করুন।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীরা পাঠে যা শিখেছে নিম্নের নিয়মে তা তাদের জীবনে ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশনা দিন:
আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসায় সচেষ্ট এবং সরল পথের হিদায়েত চেয়ে তাঁর নিকট প্রার্থনা করুন।
ইবাদত সম্পাদন ও গুনাহ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে কিয়ামতের জন্য প্রস্তুত হওয়া ওয়াজিব।
তৃতীয় পাঠ: সূরা আল-কাওসার এবং আল-কাফিরুন
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলি: (আল-কাওসার - তোমার শত্রু - বংশহীন - তোমাদের ধর্ম তোমাদের জন্যে আর আমার ধর্ম আমার জন্য)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ডসমূহ - অডিও মাধ্যম যাতে রেকর্ড করা হয়েছে
সুমহান দু‘টি সূরা)।
শিক্ষার কৌশলসমূহঃ
(القصص التعليمية:শিক্ষামূলক গল্প শৈলী -الألغاز التعليمية: শিক্ষামূলক ধাঁধা -المناقشة:পর্যালোচনামূলক আলোচনা - التعلم بالاكتشاف:নতুন তথ্য বের করণ )।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলীর সম্মান করা এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর পক্ষে প্রতিরোধ করার ফজিলত।
o কুফর ও কাফিরদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করা।
o আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে কাউসার নহর দ্বারা বিশেষিত করেছেন তার প্রতি ঈমান আনয়ন করা।
o ইসলাম ধর্মের সাথে জড়িত থাকার জন্য গর্ববোধ করা।
ইবাদতে আন্তরিকতার (ইখলাসের) গুণে ভূষিত হওয়া।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নের ধাঁধাটি পেশ করুন। তাদের উত্তর জানার পর তাদেরকে সূরা ও তার আয়াত সংখ্যা অবগত করান। (এমন একটি সূরা যা জান্নাতের নদীসমূহ থেকে একটি নদী সম্পর্কে বর্ণনা দিয়েছে এবং তা কুরবানির একটি বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।) সেই সূরাটি কী? তারপর তাদেরকে নিয়ে বিষয় পর্যন্ত পৌঁছান এবং তা বোর্ডে লিখুন।
গল্প শৈলীর সহযোগিতা নিন; শিক্ষার্থীদের সামনে কণ্ঠ, ভাষা ও আকর্ষণ শৈলীর দক্ষতাসহ গল্পটি বলে সূরা আল-কাফিরুন নাযিল হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করুন। তারপর তাদের একজনকে তার সহপাঠীদের কাছে এটি পুনরায় বলার জন্য নির্বাচন করুন। তারা এটি বুঝতে পেরেছে তা নিশ্চিত করার জন্য, তারপর বোর্ডে সূরাটির নাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
শিক্ষক অন্য যেকোনো অডিও মাধ্যমে পাঠের দুটি সূরা শোনার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিবেন।
সুমহান সূরা দুটি সহপাঠীদের সামনে পাঠ করার জন্যে দু’জন সুন্দর পাঠকারী ছাত্রকে বেছে নিবেন।
ধাপ নং (২)
শিক্ষক পাঠের অন্তর্ভুক্ত দুটি সূরার প্রতিটি পৃথকভাবে উপস্থাপন করবেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন।
শিক্ষার্থীদের সামনে এটি উপস্থাপন করা এবং তাদের সাথে পর্যালোচনার সময় নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর সাহায্য গ্রহণ করুন:
প্রশ্নঃ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেন কাওসার দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে?
প্রশ্নঃ কাফেররা যার পূজা করে তা অস্বীকার করা কি একজন মুসলিমের জন্য আবশ্যক? স্পষ্ট করুন।
প্রশ্নঃ একজন মুসলিমের ইসলামের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে সম্মানিত বোধ করার ফল কী কী?
ফলাফলঃ
প্রতিটি ছাত্রকে মহান সূরা দুটির ব্যাখ্যা থেকে যা শিখেছে তা থেকে একটি শিক্ষা লিখার কাজ দিন। তারপর তিনজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, যেন তাদের প্রত্যেকে পাঠ থেকে যা শিখেছে তা পেশ করে এবং তার জীবনে কীভাবে তা প্রয়োগ করবে তা বলে।
অনুশীলনসমূহঃ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিচের নিয়মে তা প্রয়োগ করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিতভাবে, জান্নাত এবং তার নদীগুলোর বর্ণনা।
উদ্দেশ্য নং ২
দুজন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাদের প্রত্যেককে একটি করে শিক্ষা কার্ড দিন। একটি কার্ডে অনুশীলনে থাকা হাদীস উল্লেখ থাকবে এবং অন্যটিতে কাউসার থেকে যারা পান করবেন তাদের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ থাকবে। আর প্রতিটি ছাত্র তার কাছে যা দেওয়া হয়েছে তা সহপাঠীদের সামনে পড়ে শুনাবে।
শিক্ষক প্রথম শিক্ষার্থীকে হাউজে কাউসারের বর্ণনা দিতে বলবেন এবং দ্বিতীয় শিক্ষার্থীকে হাউজে কাউসার থেকে যারা পান করবেন তাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে বলবেন।
শিক্ষক ছাত্রদের দু’জনকে মূল্যায়ন ও তার ওপর মন্তব্য করার সুযোগ দিয়ে ছাত্রদের উত্তর জেনে নিবেন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকিভাবে, কাফিরদের সাথে কীভাবে আচরণ করতে হয় তা জানা এমনকি তারা আত্মীয় হলেও।
উদ্দেশ্য নং ৩, ৪
শিক্ষার্থীদের সামনে আবিষ্কারমূলক শেখার মাধ্যমে অনুশীলনে থাকা পাঠ উপস্থাপন করুন।
এই পাঠ্যগুলোর সাথে সংযুক্ত প্রশ্নসমূহের উত্তর সম্পর্কে তাদের ভাবতে বলুন।
উপযুক্ত উৎসাহপ্রদানসহ তাদের উত্তর উপস্থাপনের জন্য তাদের থেকে দুজনকে বেছে নিন।
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকীভাবে , আকিদার অবস্থান ও আচার-আচরণের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্যকে জেনে নিন। উদ্দেশ্য নং ৩
আকিদার গুরুত্ব ও আচার-আচরণের গুরুত্বের মধ্যে পার্থক্য বুঝায় এমন, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি করে অবস্থান লিখতে বলুন।
লেখাগুলো সংগ্রহ করুন, এবং সেগুলো পাঠ করা ও তার অন্তর্ভুক্ত অর্থ অনুধাবন করার জন্যে তার থেকে কিছু এলোমেলোভাবে চয়ন করুন।
তার মধ্যে সেরাটি বেছে নিন এবং শ্রেণীকক্ষের বোর্ডে ঝুলানোর জন্য তা জমা করুন।
মূল্যায়ন
আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
বোর্ডে একটির পর আরেকটি প্রশ্ন লিখার পরামর্শ দেয়া হবে।
প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য পাশাপাশি থাকা দুই শিক্ষার্থীকে পরস্পর অংশগ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া ভাল।
তাদের উত্তরগুলো অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য এলোমেলোভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন।
তাদের ভেতর যে ভুল করেছে তাকে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় পড়া ও তার থেকে সঠিক উত্তর বের করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
প্রশ্ন ১: - - -।
*تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীদেরকে তারা পাঠে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে এবং আচার-আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
প্রতিটি শিক্ষার্থী উপযুক্ত যে কোনো উপায়ে পাঠ থেকে যে তথ্য (ইলম) শিখেছে তা তার পরিবার ও বন্ধুদেরকে জানাতে তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে যেন তারা তাদের জীবনে এর দ্বারা পরিচালিত হতে পারে।
চতুর্থ পাঠ: সূরা আল-নাসর ও আল-মাসাদ
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলি: (أَفْوَاجًا (দলে দলে)- حَبْلٌ مِنْ مَسَدٍ (খেজুর আঁশের দড়ি)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ডসমূহ - অডিও মাধ্যম যেখানে রেকর্ড করা হয়েছে
দু‘টি সুমহান সূরা)।
শিক্ষার কৌশলসমূহঃ
(কথোপকথন ও আলোচনা - গল্প শৈলী-الطريقة الاستنتاجية: ফলাফল বের করামূলক পদ্ধতি)।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
ইসলাম ও মুসলিমদের বিজয়ে আনন্দিত হওয়া।
একজন মুসলিমের জীবনে তাসবীহ ও ইস্তিগফারের গুরুত্ব উপলব্ধি করা।
ইবাদতে আন্তরিকতা (ইখলাস) লালন করা।
মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা ও নেক-আমলের প্রতি আগ্রহী হওয়া।
পাঠের ভূমিকা:
একজন নারীর ছবি উপস্থাপন করবে, যে প্রকাশ্যে ও সবার দৃশ্যমান একটি লম্বা রশিতে বাঁধা কাঠের আঁটি বহন করছে; তাদেরকে বলবে, এই জাতীয় নারীর একটি গল্প আল-কুরআনুল কারীমের একটি সূরায় বর্ণিত আছে। কে বলতে পারবে কুরআনের কোন সূরায় সে নারীর কথা বলা হয়েছে? আর কে গল্পটি বলবে?
তারপর ছাত্রদেরকে বলুন, আমরা এই সূরার ব্যাখ্যার মাধ্যমে উত্তরটি জানতে পারব।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে পাঠের সূরা দুটি একটি অডিও মাধ্যমে শোনার নির্দেশ দিবেন।
দু’জন ভাল তেলাওয়াতকারী ছাত্রকে তাদের সহপাঠীদের নিকট মহান সূরা দুটি পাঠ করার জন্যে বেছে নিতে হবে।
ধাপ নং (২)
শিক্ষক একটি কম্পিউটারের সাহায্য নিবেন এবং পাঠের প্রতিটি সূরা পৃথকভাবে উপস্থাপন করবেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের নিকট তা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন।
শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন এবং তাদের সাথে আলোচনা করার জন্যে নিম্নের প্রশ্নগুলো দ্বারা সাহায্য গ্রহণ করা।
প্রশ্নঃ কেন মানুষ দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করেছিল?
প্রশ্নঃ আবু লাহাব সম্পর্কে আপনি কি জানেন?
প্রশ্ন: সূরা আল-নাসর এবং আল-মাসাদ থেকে প্রাপ্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফায়দাগুলো কী?
ফলাফল:
দু’জন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করুন। তারা প্রত্যেকে পাঠ থেকে কী শিখেছেন এবং কীভাবে তা তাদের জীবনে প্রয়োগ করবেন তা অবশিষ্ট ছাত্রদের অংশ গ্রহণ ও মূল্যায়নসহ পেশ করবেন।
অনুশীলনসমূহ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিচের নিয়মে তা প্রয়োগ করতে তাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও তাদের উদ্দেশ্য সম্মিলিতভাবে, ইস্তেগফারের ও ফজিলত ও তার গুরুত্ব বর্ণনা করা।
উদ্দেশ্য নং ৩
প্রথম অনুশীনের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনি দুইজন ছাত্রকে তাদের মাঝে সহযোগিতা করার জন্যে দায়িত্ব দিতে পারেন।
কীভাবে সূরা আন-নাসর থেকে দলিল পেশ করা যায় যে, একজন মুসলিম তার সমস্ত অবস্থায় সর্বোচ্চ আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায়বে, কেবল পাপের সময়ে নয় তা জানার জন্যে প্রতিটি গ্রুপকে তাদের সৃজনশীল ক্ষমতা ব্যবহার করতে উত্সাহিত করুন।
প্রতিটি দলের উত্তর জানুন আর অন্য দল যেসব উত্তর পেশ করেছে দলটিকে সেগুলোর ওপর মন্তব্য করার সুযোগ রেখে দিন এবং তার সাথে মিল ও অমিলের পরিমাণ বর্ণনা করুন।
শিক্ষার্থীদেরকে উপযুক্ত খোরাক যোগান।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকিভাবে, ইসলামে ইনসাফের মূল্য সম্পর্কে শেখা।
উদ্দেশ্য নং ৩, ৪
হাদীস শরীফ যেমনভাবে ইসলামে ইনসাফের মূল্য বর্ণনা করেছে সেই পর্যন্ত পৌঁছার জন্যে প্রতিটি ছাত্রকে তার জন্য সহজ মাধ্যমগুলোতে অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দিন, যেমন মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে গমন করা এবং প্রতিটি ছাত্র যে সিদ্ধান্তে উপনীত হবে তা একটি ভিন্ন কার্ডে লিখে রাখবে।
কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন, শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করুন এবং তারপর তাদের যথাযথ উৎসাহ প্রদান করুন।
মূল্যায়ন
আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিতে পারেন:
বোর্ডে প্রশ্নগুলো লিখতে বলা হবে, একটির পর অপরটি।
প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য পাশাপাশি দু’জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেককে অংশ গ্রহণ করতে বলা হবে।
এলোমেলোভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে বাকি শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন।
তাদের ভেতর ভুলকারীকে পাঠের অন্তর্ভুক্ত বিষয় পুনরায় পড়ে তার থেকে সঠিক উত্তর বের করতে বলা হবে।
প্রশ্ন ১: - - -।
* শিক্ষাগত এবং মনজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে ও পরস্পর আদান-প্রদানে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের প্রতি নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
শিক্ষার্থীদেরকে তাসবীহ ও ইস্তেগফার অনুশীলন করতে এবং তা প্রচারে পরিশ্রম করতে এবং তাদের চারপাশের লোকদেরকে জানাতে উৎসাহী করা যাতে তারাও সেগুলো প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে পারেন।
পঞ্চম পাঠ:
সূরা আল-ইখলাস এবং আল-মুআউভিযাতাইনের (নাস ও ফালাকের) তাফসীর
পাঠের সময়: দুই পিরিয়ড ।
নতুন শব্দালি: (الصَّمَدُ – كُفُوًا – الفَلَقِ – غَاسِقٍ – وَقَبَ – النَّفَّاثَاتِ –حاسدٍ – الوَسْوَاسِ – الخَنَّاسِ - الجِنَّة).
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - অডিও মাধ্যম যাতে সূরাগুলো রেকর্ড করা থাকে)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহঃ
(العصف الذهني:তাৎক্ষনিক সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাধান-الطريقة الاستنباطية:সৃজনশীল পদ্ধতি-الأسلوب القصصي: গল্প শৈলী পদ্ধতি -التعلُّم التعاوني: সমবায় শিক্ষা)।
القيم والاتجاهات :দলিয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o সর্বোচ্চ আল্লাহর প্রতি ঈমান, যিনি এক যাঁর কোনো অংশীদার নেই এবং যাঁর কোনো সঙ্গী ও সন্তান নেই।
o সর্বোচ্চ আল্লাহর কাছেেআশ্রয় চাইতে আগ্রহী হওয়া।
o একমাত্র রব, মালিক এবং একমাত্র মাবূদ আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা।
মানব ও জ্বীন শয়তানদেরকে এড়িয়ে চলা।
o যাদু এবং হিংসার বাস্তবতা এবং উভয়ের অস্তিত্বে বিশ্বাস স্থাপন করা।
আল্লাহ তা‘আলার জিকির দ্বারা সুরক্ষা গ্রহণ করা: কারণ তিনিই হিংসা ও শয়তান থেকে সুরক্ষা দান করেন।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সামনে নিম্নলিখিত অবস্থান তুলে ধরুন: (ইউসুফ তার বাবার কাছে তার ঘুমের মধ্যে যে ভয়ানক স্বপ্ন দেখে তার কথা উল্লেখ করলো। তাই তার বাবা তাকে ওজু অবস্থায় এবং নাস ও ফালাক পাঠ করে ঘুমানোর উপদেশ দিলেন। ইউসুফ নিজেকে জিজ্ঞাসা করলো: সূরা দু’টির ফযীলত কী? এবং এই দু’টি সূরাই কেন?) তারপর আপনি ছাত্রদের কে জানান, তারা এই পাঠের মাধ্যমে উত্তর জানতে পারবে। আর আপনি বোর্ডে শিরোনাম ও আয়াতগুলো উল্লেখ করুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
শিক্ষার্থীদের নীরবে আয়াতগুলো পড়তে বলুন। এতে থাকা বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে, তারপর তাদের প্রত্যেকে আয়াত থেকে কী শিখতে চায় সে সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করবে।
আপনি তাদের কাছে উচ্চস্বরে আয়াতগুলো পড়ুন এবং কিছু ছাত্রকে তাদের সহপাঠীদের সামনে পড়তে বলবে।
কঠিন শব্দাবলির অর্থ আলোচনা ও ব্যাখ্যা করণ
ধাপ নং (২)
শিক্ষক একটি কম্পিউটার দ্বারা সহযোগিতা গ্রহণ করবেন। আর প্রতিটি সূরা পৃথকভাবে প্রদর্শন করুন এবং তাৎক্ষণিক সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তার পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের সাথে তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন ।
তারপর কিছু ছাত্রকে তারা যা অর্জন করেছে তা উপস্থাপন করতে বেছে নেওয়া হবে।
ধাপ নং (৩)
আবিষ্কারমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে এবং ছাত্রদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের সুরক্ষা দানের কিছু উদাহরণ উদ্ধৃত করতে বলা হবে।
এই উদাহরণগুলোর মধ্যে কয়েকটি চয়ন করুন এবং একমাত্র আল্লাহ তাআলার আশ্রয় চাওয়া অর্থ কে গভীর করতে সূরা নাস ও ফালাকের প্রভাব আবিষ্কারে শিক্ষার্থীদেরকে সহযোগিতা করুন এবং তাদের সাথে আলোচনা করে বোর্ডে সেগুলো লিখুন।
মহান সূরাগুলোর আয়াতসমূহ এবং নাযিলের কারণের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করতে ছাত্রদের নির্দেশনা দেওয়া।
ফলাফল বের করাঃ
আপনি পাঠ থেকে তারা কী শিখেছে এবং কীভাবে তারা তাদের জীবনে তা প্রয়োগ করবে শিক্ষার্থীদের ফলোআপ ও তাদের মূল্যায়নসহ তা উপস্থাপনের জন্য দুইজন শিক্ষার্থী বেছে নিতে পারেন।
অনুশীলন
নিম্নলিখিত নিয়মে শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকীভাবে, সূরা আল-ইখলাস এবং নাস ও ফালাক নিয়মিত পড়ার ফযীলত সম্পর্কে জানা ।
উদ্দেশ্য নং ৪
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে পৃথক কাগজে নিম্নলিখিত অনুশীলনের উত্তর দিতে বলুবে।
আপনি তাদেরকে উত্তর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেন এবং শেষ করার পরে তাদের সাথে মৌখিকভাবে আলোচনা করুন।
আপনি সহপাঠীদের সামনে তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য একের পর এক ছাত্র নির্বাচন করুন এবং আপনি তার কর্ম ও উপস্থাপন কে মূল্যায়ন করুন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিতভাবে, জাদু এবং তার ক্ষতিগুলো থেকে সুরক্ষার পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে জানা ।
উদ্দেশ্য নং ৩
নিচের অনুশীলনের ব্যবহারিক উপায়ে উত্তর দিতে ছাত্রদেরকে দলে দলে কাজ করতে বলুন।
আপনার তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণে তা মূল্যায়নের জন্যে প্রতিটি গ্রুপ তার পাশের গ্রুপের সাথে পালাক্রমে মত বিনিময় করবে।
মূল্যায়ন
আপনি এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
তাদের বই থেকে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো মনোযোগ সহকারে পড়ুন, তারপর আলাদা কার্ডে তার উত্তর দিতে বলুন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী তার কার্ডটি মূল্যায়ন করার জন্য তার সহপাঠীর কার্ডের সাথে বিনিময় করবে।
কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন, তারপর মূল্যায়ন করার জন্য শিক্ষার্থীদের সামনে এলোমেলোভাবে কিছু কার্ড বেছে নিন।
তাদেরকে সঠিক উত্তর এবং ভুল উত্তর শেখান।
কার্ডটির মালিক শিক্ষার্থী এবং যিনি এটি সংশোধন করেছেন তার নাম উল্লেখ করুন।
প্রশ্ন ১: - - - - -।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
নিচের নিয়মে শিক্ষার্থীগণ তাদের পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে এবং আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন:
নিয়মিতভাবে সকাল-সন্ধ্যায়, সালাতের পরে এবং ঘুমানোর আগে সূরা আল-ইখলাস এবং নাস ও ফালাক পড়া।
সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলা কে অবলম্বন করা, কেবল মুসিবত ও দুর্বলতার সময়েই নয়।
ঈমান ও আত্মশুদ্ধি ইউনিট
প্রথম পাঠ: ঈমান ও তার গুরুত্ব
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
নতুন শব্দাবলি: (الإسلام – الإيمان – الإحسان) [ইসলাম - ঈমান - ইহসান]
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড/শিক্ষামূলক কার্ড)।
শিক্ষাদানের কৌশল সমূহ :(التعلُّم التعاوني:সমবায় শিক্ষা -العصف الذهني: তাৎক্ষনিক সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাধান -التساؤل الذاتي: প্রশ্ন সৃষ্টিকরণ পদ্ধতি)।
القيم والاتجاهات :দলিয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o ইসলাম ধর্মের পরিপূর্ণতায় গর্বিত হওয়া।
o দু’টি সাক্ষ্য (শাহাদাতাইন) মুখে বলার মাধ্যমে অন্তরের বিশ্বাসকে প্রকাশ করা।
o ইসলামের দলীল-প্রমাণ সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধির ফলে অন্তরে ঈমান বৃদ্ধি পায়।
o ঈমান এবং ভাল কাজের মধ্যে দৃঢ় সংযোগ অনুভব করা।
পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক ভাই , ছাত্রদের সামনে নিম্নের অবস্থানটি বর্ণনা করুন: মুহাম্মদ তার শিক্ষককে জান্নাতবাসীদের নিয়ামতের তারতম্যের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। শিক্ষক উত্তর দিলেন: তারা তাদের ঈমান ও আমলের পরিমান এবং দীনের স্তরগুলো বাস্তবায়ন অনুসারে বিভিন্ন প্রকার হবেন। মুহাম্মদ জিজ্ঞাসা করলেন: দীনের স্তরগুলো কী কী?) তারপর আপনি তাদের সাথে এর উত্তর নিয়ে আলোচনা করুন, তারপর আপনি তাদের বলুন, তারা এই পাঠের মাধ্যমে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে পারবে, তারপর আপনি বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
আপনি তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ শুরু করার জন্যে বোর্ডে পাঠের মূল উপাদানগুলো লিখুন।
তারপর আপনি ছাত্রদের দলে দলে বিভক্ত করেন এবং তাৎক্ষণিক সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রতিটি দলকে ইসলাম, ঈমান এবং ইহসানের মর্ম নির্ধারণ করার জন্য দায়িত্ব দিন।
প্রতিটি দলের মাঝে তুলনা করার জন্যে তাদের বক্তব্য বোর্ডে লিখবে। তারপর সঠিক উত্তরের জন্য তাদেরকে গাইড করবে।
ধাপ নং (২)
পরস্পর সহযোগিতামূলক শেখার কৌশল ব্যবহার করবে। তারপর প্রতিটি দল আমলের সাথে ঈমানের সংযোগ অনুসন্ধান করবে।
উপস্থাপন ও মূল্যায়ন করার জন্যে প্রতিটি গ্রুপ যে ফলাফলে পৌঁছেছে তার থেকে একটিকে উপস্থাপন করবে।
ধাপ নং (৩)
স্ব-প্রশ্ন তৈরী পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং প্রতিটি দলকে একটি প্রশ্ন তৈরী করার জন্য দায়িত্ব দিন যার উত্তরের উদ্দেশ্য হবে ঈমানের রোকনগুলো স্পষ্ট করা। তারপর তাদের সাথে আলোচনা শেষে তাদের উত্তরগুলো বোর্ডে লিখুন।
ফলাফল বের করাঃ
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে পাঠের উপাদানগুলোর কোন একটিকে বেছে নিবে এবং তার থেকে যা শিখেছে তা প্রকাশ করতে বলবেন।
উপযুক্ত সহায়তা প্রদান পূর্বক কতক শিক্ষার্থীকে উত্তর উপস্থাপনের জন্যে নির্বাচন করবে।
অনুশীলনসমূহ
ছাত্রগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে নিচের নিয়মে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া শ্রেয়:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একা একা, দীনের স্তরসমূহের মধ্যে পার্থক্যকরণ।
উদ্দেশ্য নং ৩
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে নিম্নলিখিত অনুশীলনের উত্তর দিতে বলুন।
সংশোধন করার জন্য একে অপরের সাথে উত্তর শেয়ার করতে বলুন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সমষ্টিগত, টেক্সট এবং পাঠ্য যা বোঝায় তার মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
উদ্দেশ্য নং ৪
শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে কিছু কার্ড বিতরণ করতে পারেন যা অনুশীলনে অন্তর্ভুক্ত পাঠ্যের দলিলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে। তারপর তাদের মধ্যে তিনজনকে এই মর্মে চয়ন করুন যে, তাদের প্রত্যেকে পাঠ্য বিষয় নির্দেশকারী কার্ডটি উত্থাপন করবে। আর ভুলের ক্ষেত্রে কার্ডটি তার থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে এবং অন্যটি তাকে দেওয়া হবে।
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একা একা, কীভাবে উপদেশ দিতে হয় সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
উদ্দেশ্য নং ৫
শিক্ষক প্রত্যেক ছাত্রকে এমন একজনের জন্যে উপদেশ লিখতে নির্দেশ দিবেন, যে দাবি করে তার হৃদয় ঈমানে পূর্ণ অথচ সে ফরয ইবাদত পালন করে না।
শিক্ষক ছাত্ররা যা উপস্থাপন করেছে তা জানবেন এবং তারা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা মূল্যায়ন করার জন্য তাদের পরস্পরে মত বিনিময় করতে বলবেন।
মূল্যায়ন
আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
ছাত্রদেরকে দলে দলে ভাগ করুন এবং প্রতিটি গ্রুপকে প্রশ্নের উত্তর দিতে সহযোগিতা করতে বলুন।
প্রত্যেক দুটি দলকে জোড়ায় জোড়ায় বেছে নিন; যেন তারা উভয়ে তাদের উত্তর উপস্থাপন করে।
আপনি তাদের মূল্যায়ন করে সেরা উত্তরটি নির্বাচন করুন এবং তাকে উপযুক্ত নাম্বার দিন।
সর্বোচ্চ নাম্বার পাওয়া গ্রুপটি চিহ্নিত করুন এবং তার সদস্যদেরকে ভুলকারী গ্রুপগুলোর ভুল সংশোধনে তাদের সাথীদের আদর্শ বানিয়ে উৎসাহিত করুন।
প্রশ্ন ১: - -।
প্রশ্ন ২: ছয় - ইহসান - হৃদয়
* শিক্ষাগত এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীদেরকে তারা তাদের পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন, নিচের নিয়ম অনুসরণ করে:
বই, অডিও দারস বা ইলেকট্রনিক উৎসের মাধ্যমে আরও ব্যাপকভাবে ঈমানের গুরুত্ব এবং তার স্তম্ভ সম্পর্কে অবগত হওয়া।
সৎআমলে বেশি বেশি স্বচেষ্টের আগ্রহ নিয়ে ঈমানের সাথে আমলকে সংযুক্ত করার গুরুত্ব অনুধাবন করা।
দ্বিতীয় পাঠ: আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তার প্রভাব।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলি: (الفطرة - بَوَائِقَهُ - القهَّار - الكافي - الوكيل - الجوارح) (ফিতরাত - তার অনিষ্ট - প্রতাবশালী - যথেষ্ট - প্রতিনিধি - অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ)।
শিক্ষার উপকরণসমূহঃ
( কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রীন - একটি অডিও মাধ্যম যাতে দারসে উল্লিখিত কুরআনের আয়াতগুলো রেকর্ড করা হয়েছে - কুরআন শরীফ - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহঃ
(التَّدريس التبادلي "التَّنبُّؤ:পারস্পরিক মতবনিময়মূলক শিক্ষা: “অনুমানমূলক কার্যক্রম পদ্ধতি -التساؤل :আকর্ষণ সৃষ্টিকরণ প্রশ্ন করা - স্পষ্টীকরণ - সংক্ষিপ্তকরণ" -الخرائط الدَّلاليَّة: চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণ -العصف الذهني: তাৎক্ষণিক সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাধান খোজা)।
القيم والاتجاهات :দলিয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o ব্যক্তি এবং সমাজের ওপর আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমানের প্রভাব অনুমান করা।
o আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলীর সম্মান করা।
আল্লাহকে তাঁর নাম ও গুণাবলী দ্বারা ডাকতে আগ্রহী হওয়া।
o আল্লাহর নাম ও তাঁর গুণাবলীর দ্বারা ইবাদত করার গুরুত্ব অনুধাবন করা।
o মুমিনদের নৈতিকতা ও আচরণ অবলম্বন করা।
* পাঠের ভূমিকা:
বোর্ডে পাঠের শিরোনাম লিখুন। তারপর ব্যাখ্যা করুন যে, ঈমানের স্তম্ভ ছয়টি, প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ হল, আল্লাহর প্রতি ঈমান। আর এটিই আমাদের আজকের পাঠের কেন্দ্রবিন্দু। এর আলোকে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পাঠের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করতে পারে এমন উপ-শিরোনাম সম্পর্কে তার প্রস্তাব উপস্থাপন করতে বলুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি নির্দেশক মানচিত্র পদ্ধতি দ্বারা সহযোগিতা নিতে পারেন আর ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামনে একটি স্পষ্টীকরণমূলক চিত্র পেশ করুন, যা পাঠের বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত সাধারণ চিন্তা ও শিরোনামকে শামিল করবে। তারপর প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তাদের বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিন, যা তারা ঐ শিরোনাম থেকে জানতে চায়। আর তাদের প্রশ্নগুলো জমা করুন এবং ব্যতিক্রমটিকে বোর্ডে লিখুন যেন পরবর্তী ধাপে তা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
ধাপ (২)
পাঠের বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করার জন্য ছাত্ররা যেসব প্রশ্ন উপস্থাপন করেছিল তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন। সেই প্রশ্নগুলোর শব্দচয়ন পরিবর্তন করুন এবং আপনার নিজের তৈরি অন্যান্য প্রশ্ন দ্বারা তাদের গুলো সমৃদ্ধ করুন৷ আপনি নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো থেকে নির্দেশনা নিয়ে সেগুলো ছাত্রদের সাথে আলোচনা করতে পারেন৷ এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় অডিও রেকর্ডের মাধ্যমে উত্তরের সাথে সম্পর্কিত কুরআনের আয়াতগুলো শোনার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিন। তাদেরকে আয়াতসমূহে চিন্তা করাসহ তার ব্যাখ্যায় শ্রম ব্যয় করতে অনুপ্রাণিত করুন:
প্রশ্নঃ আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান চারটি জিনিসকে অন্তর্ভুক্ত করে, বিষয়টি স্পষ্ট করুন।
প্রশ্ন: আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের ওপর ঈমান আনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ কী?
প্রশ্নঃ একজন মুসলিমের আমলের ওপর ঈমানের প্রভাব ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্নঃ ইবাদত বাস্তবায়ন করার ওপর ঈমানের প্রভাব ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্নঃ মানুষের অধিকার আদায়ে ঈমানের প্রভাব উল্লেখ করুন।
ধাপ (৩)
তাৎক্ষণিক সমষ্টিগত বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সমাধান পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমানের ফলগুলো সনাক্ত করতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিতে পারেন এবং সর্বাধিক সংখ্যক জবাব প্রদান করতে উৎসাহিত করুন। তারা যা তুলে ধরবে তা মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ করুন এবং তাদের সাথে ঈমানের সঠিক ফল উদ্ধার করুন। তারপর তার ব্যাখ্যা সম্পন্ন হবে তার সাথে সম্পর্কিত শরয়ী দলীলের তাফসীর সহ ।
*ফলাফলঃ
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে নির্দেশক মানচিত্রটি পুনরায় উপস্থাপন করবেন যা পাঠের সাধারণ এবং উপ-শিরোনামগুলোকে সংগঠিত করে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে শিরোনামগুলোর মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার জন্য এবং এটির সাথে সম্পর্কিত সে যা বুঝেছে এবং যা ধারণ করতে পেরেছে তার সংক্ষিপ্তসার বর্ণনা দেওয়ার জন্য নির্বাচন করবে। আর তাদের মধ্যে যে তার সুক্ষজ্ঞান থেকে উপস্থাপন করতে অক্ষম হবে, তাকে বইয়ের নির্দিষ্ট বিষয়টি পড়তে বলুন এবং পুনরায় সংক্ষিপ্ত করতে নির্দেশ করুন।
* অনুশীলনঃ
ছাত্রগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিতভাবে, আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনার প্রভাব ও তার ফলসমূহ খুঁজে বের করা।
উদ্দেশ্য নং ২
অনুশীলনে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি শরয়ী দলীল কয়েকটি কার্ডে লিখুন এবং এলোমেলোভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা বিতরণ করুন, তারপর প্রতিটি দলীল পালাক্রমে পড়ুন, যাতে কার্ডধারী প্রতিটি শিক্ষার্থী তার কার্ডে অন্তর্ভুক্ত নির্দিষ্ট দলীলের ব্যাখ্যা করে; যা ঈমানের প্রভাব অথবা তার ফলাফলের প্রতি ঈঙ্গিত করে।
শিক্ষার্থীদের উত্তরগুলো জানুন এবং তাদের সাথে সঠিক প্রভাব ও ফলাফল চিহ্নিত করে তার মাঝে তুলনা করুন, যাতে তারা তা তাদের বইয়ের নির্ধারিত জায়গায় লিখতে পারে।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একক ভাবে, আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান এবং আক্বীদাহ শক্তিতে আগ্রহী হোন।
উদ্দেশ্য নং ৪
আপনি প্রতিটি ছাত্রকে পৃথকভাবে নিম্নলিখিত কর্মটি করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।
তাদের মধ্যে কতককে তাদের স্ব-স্ব উত্তর উপস্থাপনের জন্য নির্বাচন করবেন এবং সেরা উত্তরদাতাদের প্রশংসা করবেন।
তাদের প্রত্যেককে অন্যদের উত্তর থেকে তারা কী শিখতে পেরেছে তার আলোকে তাদের উত্তর সম্পূর্ণ করতে বলবেন।
* মূল্যায়ন:
আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
নির্দেশনা দেয়া যাচ্ছে যে, আপনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার বইয়ের প্রশ্নের উত্তর পৃথকভাবে দিতে নির্দেশ দিন।
শিক্ষার্থীদের সামনে প্রশ্ন পেশ করুন এবং তার ব্যাপারে তাদের সাথে পর্যালোচনা করুন, তাদের উত্তরগুলো জানুন এবং প্রতিটি প্রশ্নের জন্য উপযুক্ত নাম্বার নির্ধারণ করুন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার উত্তর সংশোধন করার জন্য দায়িত্ব দিন এবং তার নিজেকে উপযুক্ত নাম্বার দিতে বলুন।
নিজেদের ভুলগুলো তুলে ধরতে এবং কীভাবে তারা সেগুলো সংশোধন করেছে তা উপস্থাপন করতে কিছু শিক্ষার্থী বেছে নিন।
সর্বোচ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করুন এবং তাকে উপযুক্ত সম্মান ও সমর্থন প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১: ( আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব) - (ঈমান এবং আমলের মধ্যে সংযোগ) - (আমরা আল্লাহকে তাঁর নাম ধরে ডাকবো)।
প্রশ্ন ২:
একজন বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুসলিম হয় না যতক্ষণ না সে আল্লাহর অস্তিত্ব, তাঁর প্রভুত্ব, ইবাদতে তাঁর একত্ব এবং তাঁর নাম ও গুণাবলীর একত্বে বিশ্বাস করে।
ঈমান হল অন্তরের কর্ম (আমল) যার আলামত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর থাকা জরুরি।
* শিক্ষাগত ও মনজাগতিক নির্দেশনাঃ
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে পাঠ থেকে যা শেখা হয়েছে তা প্রয়োগ করতে এভাবে নির্দেশ দিন:
আল্লাহ তাআলার নাম এবং তাঁর গুণাবলী দ্বারা ইবাদতের চেষ্টা এবং পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদেরকে এ ব্যাপারে উত্সাহিত করতে হবে। প্রতিটি ছাত্র একটি লিফলেট তৈরী করবে, যাতে এমন কিছু কুরআনের আয়াত থাকবে, যাতে আল্লাহর নাম ও গুণাবলী রয়েছে এবং কীভাবে আল্লাহর এই নামগুলো দ্বারা দোয়া করতে হয় তার একটি ব্যাখ্যা রয়েছে। আর এটি হবে একটি নির্দেশিকা ও পদ্ধতির মডেল হিসাবে।
প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ভালবাসা, ভয়, আশা, আস্থা ও তাওয়াক্কুলের সাথে অন্তরকে আল্লাহ তা‘আলার সাথে সংযুক্ত করার প্রতি এবং তার জিহ্বাকে আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ করা, তাঁর কিতাব তিলাওয়াত করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে সৎকাজ করা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। আর এটি জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে বাস্তবায়ন করা।
তৃতীয় পাঠ: ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাব
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
নতুন শব্দাবলি: الملائكة - مكين - معصومون (ফেরেশতা - উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন - নিষ্পাপ)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(শিক্ষামূলক বোর্ড - কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - অডিও রেকর্ডার যাতে পাঠের বিষয় বস্তুতে অন্তর্ভুক্ত শরয়ী দলিলগুলো রেকর্ড করা হয়েছে)।
শিক্ষাদান কৌশল সমূহ
(المتناقضات:বিপরীত তুলে ধরা -التصوُّر الذهني: মস্তিস্কপ্রসূত ধারণা -الطريقة الاستنباطيَّة: সৃজনশীল পদ্ধতি -خرائط التفكير: চিন্তার মানচিত্র "বাবল ম্যাপ” -العصف الذهني: তাৎক্ষনিক সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাধান )।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o মালায়েকাদের পদাঙ্গ অনুসরণ করে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করার চেষ্টা করা।
oআল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকা, প্রথমত তাঁর ভয়ে, তারপর ফেরেশতাদের থেকে লজ্জায়।
o আমলের কারণে অহংকার ও অহমিকা থেকে দূরে থাকা।
* পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নলিখিত অবস্থান উপস্থাপন করুন: (যখন আমরা একজন নাস্তিকের সাথে ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান সম্পর্কে কথা বলব, তখন সে এটিকে প্রত্যাখ্যান করবে, তাদেরকে দেখে না দলিল দিয়ে, অথচ সে এমন অনেক কিছুতে ঈমান আনে যা সে দেখে না)।
তারপর তাদেরকে এমন কিছু উল্লেখ করতে বলুন যা নাস্তিকরা বিশ্বাস করে কিন্তু তারা তা দেখতে পায় না, যেন তারা তাদের জবাব দিতে পারে। আর তাদের উত্তরগুলোকে সনাক্ত করুন এবং তার থেকে সঠিকটিকে সমর্থন করুন। এবং তাদেরকে পাঠ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় জানাতে এখান থেকে সূচনা করুন।
উদাহরণস্বরূপ নাস্তিকরা ভূ পৃষ্ঠ মাধ্যাকর্ষণ এবং বৈদ্যুতিক প্রবাহকে না দেখে বিশ্বাস করে। একইভাবে সে বৈজ্ঞানিক তথ্যে বিশ্বাস করে যা বিজ্ঞানীরা নির্ধারণ করেছেন নিজ থেকে পরীক্ষাগারে তার দলীল সম্পর্কে অবহিত না হয়ে।
* পাঠ উপস্থাপন :
ধাপ (১)
মনজগতে কল্পনা করার পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি শিক্ষার্থীদেরকে দুই মিনিটের জন্য তাদের চোখ বন্ধ এবং ফেরেশতাদের ব্যাপারে আপনার বর্ণনা এবং তাদের সত্তা দ্বারা কী উদ্দেশ্যে করা হয়েছে তা অনুসরণ করতে নির্দেশ দিতে পারেন। এরই মাঝে তারা অডিও রেকর্ডারের মাধ্যমে ফেরেশতাদের বিশেষণ সম্পর্কিত শরয়ী প্রমাণগুলো তাফসীর ও ব্যাখ্যাসহ শুনবে। এবং তারা আল্লাহর কুদরত ও ফেরেশতাদের বড়ত্ব সম্পর্কে কী অনুভব করেছে তা ব্যাখ্যা করতে তাদের থেকে দু'জনকে বেছে নিন। তারা তাদের নিজস্ব শৈলীতে তা প্রকাশ করবে।
ধাপ (২)
আপনি ছাত্রদেরকে নিচের আয়াত ও হাদীসটি শোনার জন্য নির্দেশ দিন এবং দুটি শরয়ী দলিল বুঝার আলোকে ফেরেশতাদের প্রতি ঈমানের বিধান আহরণে তাদের সাথে আলোচনা করুন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহ্র উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না।” [সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৫]।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ঈমান হলো, “আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রসূলগণ এবং শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখা এবং তাকদীরের ভাল ও মন্দের প্রতি ঈমান রাখা।" (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১০২)
ধাপ (৩)
ছাত্রদের সামনে ফেরেশতাদের আমলগুলা প্রদর্শন করার জন্যে চিন্তার মানচিত্র, বিশেষ করে বাবল মানচিত্র শৈলীর সাহায্য নিন যেখানে ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে একটি কেন্দ্রীয় বৃত্ত তৈরি করা হয় এবং তার চারপাশে বেশ কয়েকটি বৃত্ত থাকে যা ফেরেশতাদের কাজগুলো প্রদর্শন করে এবং প্রতিটি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট শরয়ী দলিল যুক্ত করা হবে এবং ছাত্রদের সামনে সেসব কাজ ও দলিলগুলোর ব্যাখ্যা করাসহ তারা যা কিছু জানতে চায় তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার সুযোগ দেওয়া হবে।
ধাপ (৪)
তাৎক্ষণিক সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তার শৈলীর মাধ্যমে ছাত্রদেরকে ফেরেশতাদের প্রতি ঈমানের প্রভাবগুলো চিহ্নিত করতে বলুন৷ তাদের সাথে সঠিক উত্তর পর্যন্ত পৌঁছার জন্যে তাদের উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন৷ তারপর সেই প্রভাবগুলো সম্পর্কে তাদের বইয়ে কী লেখা আছে তা পর্যালোচনা করতে বলুন এবং তারা যা প্রস্তাব করেছে তার সাথে তুলনা করুন৷
* ফলাফলে পৌঁছা
আপনি প্রত্যেক দুই শিক্ষার্থীকে তারা পাঠ থেকে যে নির্দেশনা ও ফায়দা হাসিল করেছে তার থেকে তিনটি দিক উল্লেখ করতে একে অপরকে সহযোগিতা করতে বলুন এবং প্রতিটি গ্রুপের উত্তর জানুন, তার ওপর মন্তব্য করুন এবং তারা যা উপস্থাপন করে তার মধ্যে মিল ও অমিল নির্দেশ করুন।
* অনুশীলন :
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি / জোড়ায় জোড়ায়, ফেরেশতাদের আমলসমূহ ব্যাখ্যা করা।
উদ্দেশ্য নং ৪
আপনি ছাত্রদের মধ্যে একজনকে অনুশীলনে উল্লিখিত আয়াতটি তার সহপাঠীদের কাছে পড়ার জন্য বেছে নিন, তাদের সাথে তার অর্থ এবং তা কী নির্দেশনা তা নিয়ে আলোচনা করুন।তারপর প্রতিটি শিক্ষার্থী মহান আয়াতটি থেকে যা জেনেছে সে অনুসারে ফেরেশতাদের কাজ লিখবে।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার উত্তর তার সহপাঠীর সাথে শেয়ার করার জন্য নির্দেশ করুন যাতে তাদের প্রত্যেকে যা পেশ করে তা অন্যরা মূল্যায়ন করে এবং আপনি শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক উত্তরদানের নির্দেশনা দেওয়াসহ তাদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করুন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিত, শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মানিত ফেরেশতাদের সম্মান প্রদর্শন অনুভব করা।
উদ্দেশ্য নং ৪
আপনি ছাত্রদেরকে দলে দলে ভাগ করতে পারেন, এবং প্রতিটি গ্রুপকে দ্বিতীয় কার্যক্রমের উত্তরে অংশগ্রহণের জন্য নির্দেশ দিন, এই শর্তে যে প্রত্যেক গ্রুপ তাদের উত্তর একটি স্বতন্ত্র কার্ডে লিখবে।
গ্রুপসমূহের উত্তর ও তার মূল্যায়ন সংগ্রহ করার পরে ইলম অন্বেষী ছাত্রদের প্রতি ফেরেশতাদের সম্মান সংশ্লিষ্ট যে গ্রুপটি সবচেয়ে বেশী ক্রিয়াশীল, ভালো ও প্রকাশকারী ভঙ্গিতে নিজের অভিব্যক্তি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছে তাকে চিহ্নিত করুন এবং তারা যা লিখে সম্পন্ন করেছে তা তাদের সহপাঠীদের সামনে উপস্থাপন করার জন্যে তাদের একজনকে বেছে নিন।
অনুশীলন নং ৩ ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি/জোড়ায় জোড়ায়, ফেরেশতাদের প্রতি করণীয় স্পষ্টকরণ।
উদ্দেশ্য নং ৬
আপনি তৃতীয় অনুশীলনীতে উল্লিখিত হাদীসটি শিক্ষার্থীদের সাথে তার অর্থ এবং তা কী নির্দেশনা দেয় তা নিয়ে আলোচনা করাসহ তার সহপাঠীদের কাছে পড়ার জন্য ছাত্রদের মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নিতে পারেন। তারপর প্রতিটি ছাত্র হাদীস থেকে যা শিখেছে সে অনুযায়ী ফেরেশতাদের প্রতি তার কর্তব্য লিখবে।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার উত্তর একজন সহপাঠীর সাথে শেয়ার করার জন্য নির্দেশ করুন, যাতে তাদের প্রত্যেকে অন্যরা যা পেশ করে তা মূল্যায়ন করে। আর আপনি শিক্ষার্থীদেরকে সঠিক উত্তর দেওয়ার নির্দেশনাসহ তাদের পারফরম্যান্স অনুসরণ করুন।
মসজিদে প্রবেশের সময় পেঁয়াজ, রসুন, পেঁয়াজ জাতীয় অন্য এবং অপ্রীতিকর গন্ধযুক্ত কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন, যাতে ফেরেশতাগণ কষ্ট না পায়।
* মূল্যায়ন:
আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, আপনি শিক্ষার্থীদের কাছে প্রথম এবং দ্বিতীয় দু’টি প্রশ্ন উত্থাপন করুন এবং তাদের কতককে তার উত্তর দিতে নির্বাচন করুন, তবে শর্ত থাকে যে তাদের সহপাঠীরা তাদের মূল্যায়ন করবে এবং তারা যে ভুলে পতিত হয়েছে তা সংশোধন করবে।
প্রশ্ন ১: - - -।
আপনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন এবং তার সহপাঠীদের কাছে তার উত্তর পড়ার জন্য তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিন, তারা উত্তরটি মূল্যায়ন করবে এবং তার সাথে মিলের পরিমাণ নির্দেশ করবে।
* শিক্ষামূলক ও মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষক ছাত্রদেরকে তাদের জীবন ও আচরণে পাঠ থেকে শেখা নির্দেশাবলী এবং উপকারী দিকগুলো প্রয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করবেন, বিশেষ করে ফেরেশতাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের ক্ষেত্রে অধ্যবসায় এবং আমলের কারণে অহংকার ও দাম্ভিকতা পরিহার করার বিষয়ে।
অধিকন্তু আল্লাহ তাআ’লা যা নিষিদ্ধ করেছেন তা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা তাঁর ভয়ে এবং ফেরেশতাদের থেকে লজ্জায় যারা মানুষের থেকে পৃথক হয় না। এবং শিক্ষার্থীদেরকে তাদের আশেপাশের ব্যক্তিদের এই নির্দেশাবলী সম্পর্কে অবহিত করার জন্য পরিশ্রমী হওয়ার চাপ দিন তার উপর আমল ও তা প্রয়োগ করার প্রয়াস স্বরূপ।
চতুর্থ পাঠ: কিতাব ও রাসূলদের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাবসমূহ
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দমালা: (صحف إبراهيم - الزبور - التَّصديق - عصمهم الله - خطيئة). (ইবরাহীমের সাহীফা - যাবূর - প্রত্যয়ন - আল্লাহ তাদের রক্ষা করুন - পাপ)।
শিক্ষাপ্রদান সামগ্রি:
(অডিও মাধ্যম - শিক্ষাপ্রদানমূলক বোর্ড - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষাপ্রদানমূলক কার্ড - কুরআন)।
শিক্ষাপ্রদানের কৌশলসমূহঃ
المُنظِّمات المُتقدِّمة:পাঠ পরিচিতিমূলক আকর্ষণিয় ভূমিকা - التساؤل الذاتي: অনুমান ভিত্তিক প্রশ্ন সৃষ্টিকরণ পদ্ধতি - সমবায় শিক্ষা)।
القيم والاتجاهات :দলিয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
রাসূলগণ আলাইহিমুস সালাত ও সালামকে ভালবাসা, তাদের সম্মান ও প্রশংসা করা।
o নবীগণ আলাইহিস সালামের চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া, তাঁদের গুণাবলির সাদৃশ্য গ্রহণ এবং তাঁদের অনুকরণ করা।
o কিতাবসমূহ নাযিল ও রাসূলগণ প্রেরণ করার নেয়ামতের অনুভব করা।
o নবীগণ ‘আলাইহিমুস সালাম এর গুণাবলী ও তাঁদের আমলের অনুকরণ করা।
* পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষক ছাত্রদেরকে অডিও মাধ্যমে নিচের আয়াতটি শোনার নির্দেশ দিবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (نَزَّلَ عَلَيۡكَ ٱلۡكِتَٰبَ بِٱلۡحَقِّ مُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيۡهِ) (তিনি হকসহ আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছেন, পূর্বে যা এসেছে তার সত্যতা প্রতিপন্নকারীরুপে)। (আল ইমরান, আয়াত: ৩)।
তারপর তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করবেন কার ওপর তাওরাত ও ইঞ্জিল অবতীর্ণ হয়েছিল। তারপর তাদের জন্য স্পষ্ট করবেন যে কিতাবসমূহ ও রাসূলদের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের দুটি মূল স্তম্ভ; এগুলো ছাড়া ইসলাম শুদ্ধ হবে না।
তারপর তিনি তাদের কাছে নিম্নলিখিত দুটি প্রশ্ন উত্থাপন করবেন: কীভাবে আমরা উভয়টির প্রতি ঈমান নিশ্চিত করব? এবং তার প্রভাব কি?
তিনি তাদেরকে পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই দুটি প্রশ্নের উত্তর স্থগিত করার নির্দেশ দেন।
* পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি শিক্ষার্থীদেরকে পাঠের বিষয়বস্তু অনুসন্ধান করার নির্দেশ দিন এবং ব্যাপক ও শাখাগত উপাদানগুলো দ্রুত বেছে নিতে উৎসাহ দিন। আর তাদের থেকে প্রত্যেক দু’জনকে পাঠের উপাদান এবং তার ধারণাগুলোর সাথে সম্পর্কিত হতে পারে এমন প্রশ্ন উপস্থাপন করতে একে অপরকে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিন। তার উত্তর দানের মাধ্যমে অস্পষ্ট বিষয় স্পষ্ট হবে এবং আপনি তাদেরকে সেই প্রশ্নগুলো উপস্থাপনের জন্যে তাদের বইয়ে বর্ণিত পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যগুলো দ্বারা সাহায্য নিতে বলুন। আর প্রতিটি দলের প্রশ্ন চিহ্নিত করুন এবং তা বোর্ডে লিখুন৷
ধাপ (২)
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত প্রশ্নেগুলো লিপিবদ্ধ করার পর শিক্ষক সেগুলোকে ধারাবাহিকভাবে পর্যালোচনা করবেন, তবে শর্ত হলো যে তিনি কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে তাদের সমৃদ্ধ করবেন যাতে শিক্ষার্থীরা যা উত্থাপন করেছে তাতে কিছু ত্রুটি থাকলে তা সম্পূর্ণ হয়। প্রশ্নগুলো উপস্থাপন করার সময় শিক্ষক উত্তরের সাথে সম্পর্কিত শরয়ী দলিলগুলো শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে পারেন উত্তরের ব্যাখ্যা ও তার শিক্ষণীয় বিষয়গুলো চিহ্নিত করার নিমিত্তে। পেশ করা প্রশ্নগুলোর মধ্যে নিম্নলিখিত প্রশ্ন হতে পারে:
প্রশ্নঃ কিতাবসমূহের প্রতি ঈমানের অর্থ কী?
প্রশ্নঃ আল্লাহ তা‘আলা যেসব কিতাব নাযিল করেছেন তার সবক’টিতে কি ঈমান আনা আবশ্যক?
প্রশ্নঃ আল-কুরআনুল কারীম আল্লাহ তা‘আলার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ চূড়ান্ত গ্রন্থ। তার দলিল পেশ করো।
প্রশ্নঃ রাসুলদের প্রতি ঈমান আনা বলতে কী বুঝায়?
প্রশ্নঃ সাধারণভাবে সকল নবীর প্রতি ঈমান আনা কি জরুরী, যদিও আমরা তাদের নাম অথবা সংখ্যা না জানি?
প্রশ্নঃ আল-কুরআনুল কারীমে কতজন নবীর উল্লেখ আছে?
ধাপ (৩)
আপনি "সহযোগিতামূলক শিক্ষা গ্রহণ" পদ্ধতি এবং প্রতিটি গ্রুপকে পরস্পর হযোগিতার মাধ্যমে কিতাবসমূহ ও রাসূলদের প্রতি ঈমান আনার সর্বাধিক সংখ্যক প্রভাবে পৌঁছার দায়িত্ব দিন। আর প্রতিটি গ্রুপের পাশ দিয়ে হেঁটে তাদের সহযোগিতার ধরন ও তাদের উত্তরগুলোর যথার্থতা প্রকাশ করুন।
*ফলাফল বের করা
শিক্ষার্থীরা পাঠের ভূমিকার সময় যে দুটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল তা পুনরাবৃত্তি করবে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী পৃথকভাবে তার উত্তর দিবে।এরপর তাদের মধ্যে কাউকে তাদের উত্তর উপস্থাপন এবং তা মূল্যায়ন করতে বেছে নিন। আর তারা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ এবং ফায়দার দিকগুলো বের করার ক্ষেত্রে তাদের সামর্থ্যের পরিমাণ চিহ্নিত করুন।
*অনুশীলনসমূহ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নাম্বার ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একা একা/জোড়ায় জোড়ায়, আল-কুরআনুল কারীমে উল্লেখিত নবীদের নাম চিহ্নিত করা।
উদ্দেশ্য নং ২
প্রতিটি ছাত্রকে তার কুরআন বের করতে বলুন এবং সূরা আল-আনআমে খুলতে ও আয়াত (৮৩-৮৬) পড়তে বলুন যেখানে আঠারোজন নবীর নাম উল্লেখ রয়েছে। তারা সঠিকভাবে নামগুলো কতটুকু শনাক্ত করতে পেরেছে তা নিশ্চিত হতে ছাত্রদের অনুসরণ করুন। তারপর তার সহপাঠীদের কাছে উপস্থাপন করতে তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিন।
শিক্ষার্থীদের থেকে প্রত্যেক দু’জন ছাত্রকে কুরআনে উল্লিখিত অবশিষ্ট সাতজন নবীর নাম লেখার কাজে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিন, তারপর সেই নামগুলো বোর্ডে লিখুন, যাতে প্রতিটি দল তাদের সঠিক নামের জন্য একটি গ্রেড দেয়। আর আপনি তাদেরকে উপযুক্ত উৎসাহমূলক সমর্থন প্রদান করুন।
আদম, ইদ্রিস, হুদ, শুয়াইব, সালেহ, যুল-কিফল এবং মুহাম্মদ আলাইহিমুস সালাত ও সালাম।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি/সম্মিলিত, নবীগণের গুণাবলী ও কর্মের অনুসরণ করা।
উদ্দেশ্য নং ৫
আপনি ছাত্রদের কে দ্বিতীয় অনুশীলনটি মনোযোগ সহকারে পড়ার নির্দেশ দিতে পারেন এবং সংযুক্ত ছকটি সম্পূর্ণ করার জন্য এলোমেলোভাবে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিতে পারেন।
কোনটি সবচেয়ে নির্ভুল তা নির্ধারণ করতে ছাত্রদের উত্তর তুলনা করুন এবং তাদের কিতাবের নির্ধারিত স্থানে লিখতে নির্দেশ দিন।
* মূল্যায়ন:
আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের কেমূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
শিক্ষার্থীদেরকে দলে দলে ভাগ করুন, যাতে প্রতিটি দল তাদের কিতাবে উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করে, যেমন প্রতিটি ব্যক্তি একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং তার সহপাঠীরা তা পর্যবেক্ষণ করবে।
উত্তর ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তাদের পরস্পর হযোগিতা ও আপ্রাণ প্রচেষ্টা তদারকি করার জন্য সবার মাঝে চলাফেরা করুন।
গ্রুপসমহের উত্তরগুলো সংগ্রহ ও মূল্যায়ন করুন এবং তাদের সামনে তুলে ধরার জন্য ভুলগুলো চিহ্নিত করুন, কীভাবে সেগুলো সংশোধন করা যায় তা নির্দেশ করুন।
সর্বোত্তম উত্তরদাতা গ্রুপটি সনাক্ত করুন এবং এর সদস্যদের যথাযথ উৎসাহ প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১: - - -।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নিন:
(জ্ঞানের বুদ্ধিমত্তা) - (নূহ এবং ঈসা) - (আইয়ূব আলাইহিমুস সালাম)) - (বিকৃতি থেকে সংরক্ষিত)।
* শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষক ছাত্রগণ পাঠ থেকে যে ফায়দা ও নির্দেশনা শিখেছেন তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে উৎসাহিত করবেন, বিশেষ করে রাসূলদের সম্মান প্রদর্শন করার বিষয়ে- তাদের উপর সালাত ও সালাম-, তাদের প্রশংসা করা, তাদের অনুকরণ করা এবং তাদের জীবনে তাদের নৈতিকতা ও বৈশিষ্ট্য বাস্তবায়ন করার জন্য।
তাদের আশেপাশের লোকদেরকে ওই সব চরিত্র ও গুণাবলী শেখাতে আগ্রহী হওয়া। এটির একটি সম্ভাব্য পদ্ধতি হলো ওই সব চরিত্র ও গুণাবলী প্রমাণকারী আয়াতগুলোকে সংক্ষিপ্ত ও নজরকাড়া পোস্টের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা।
পঞ্চম পাঠ: শেষ দিনের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাব
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দমালা: (اليوم الآخر - فتنة القبر - البعث - الحشر - الصراط). (শেষ দিন - কবরের ফিতনা - পুনরুত্থান - হশরের ময়দান - পুলসিরাত)।
শিক্ষাপ্রদান সামগ্রিঃ
(পাঠে অন্তর্ভুক্ত কিছু কুরআনের আয়াত রেকর্ড করা অডিও মাধ্যম - ব্ল্যাকবোর্ড -শিক্ষামূলক বোর্ড - কুরআন)।
শিক্ষাপ্রদান কৌশল:
(التَّنبُّؤ:পরস্পর মতবনিময়মূলক শিক্ষা -التَّعلُّم بالاكتشاف: আবিষ্কার করে শেখা -الخرائط الدَّلاليَّة:চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণ- المدخل القصصي:ভূমিকায় গল্পশৈলী - العصف الذهني):তাৎক্ষনিক সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাধান)।
দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যাযের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের গুরুত্ব অনুধাবন করা।
o জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে বাঁচার চেষ্টা করা।
o পরকালের সওয়াব পাওয়ার জন্য ইবাদত করার ইচ্ছা বৃদ্ধি করা।
o দুনিয়ার আনন্দের জন্য কম চেষ্টা করা কারণ আমরা পরকালের সুখ এবং পুরস্কারের আশা করি।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নলিখিত বাক্য পেশ করুন এবং তাদেরকে তাতে চিন্তা করতে বলুন এবং তাদের বোঝার উপর ভিত্তি করে পাঠটি কী হতে পারে তা পূর্বানুমান করুন। তারপর পাঠের শিরোনামটি স্পষ্ট করুন এবং বোর্ডে লিখুন।
(আমাদের পার্থিব জীবন এমন জমির মতো যা আমরা চাষ করি। যে এই পৃথিবীতে ভাল চাষ করবে সে পরকালে ভাল ফসল কাটবে, আর যে মন্দ চাষ করবে সে মন্দ কাটবে। আর পরকালের পুরস্কার জান্নাত বা জাহান্নাম।)
* পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি শেষ দিনের নিম্নলিখিত নামগুলো বোর্ডে লিখতে পারেন: (ইয়াওমুল কিয়ামাহ (কেয়ামতের দিন), ইয়াওমুল ফাসল (ফয়সালার দিন), ইয়াওমুদ্দীন (বিচার ও হিসাবের দিন), আল-কারিআহ (মহাপ্রলায়)... এবং অন্যান্য)। আর তাদের ব্যাখ্যা করতে বলুন তারা কিভাবে কিয়ামতকে প্রকাশ করে এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের অর্থ পরিচয় করানোর জন্য তাদের উত্তরগুলোকে একটি সূচনা বিন্দু হিসাবে নিন।
ধাপ (২)
আপনি ছাত্রদের একটি কার্ড দেখাতে পারেন, যাতে শেষ দিনের স্তরগুলোর একটি স্পষ্টকারী চিত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তারপর প্রতিটি স্তরকে বৈশিষ্ট্যগতভাবে গল্পশৈলীর উত্তম ভঙ্গিতে,নিরাপদ কন্ঠ পদ্ধতি ও চেতনা কে বিবেচনায় রেখে একটি আকর্ষণীয় গল্পশৈলী আকারে উপস্থাপন করুন।
উপস্থাপনা চলাকালীন আপনি শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিতে পারেন এই স্তরগুলোর সাথে সম্পর্কিত শরয়ী দলিলগুলো শোনার জন্য যা স্তরগুলোকে প্রমাণ করে এবং তাদের সাথে সেগুলো নিয়ে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণসহ আলোচনা করুন।
ধাপ (৩)
তাৎক্ষনিক সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাধান কৌশল ব্যবহার করে আপনি শিক্ষার্থীদেরকে শেষ দিনের প্রতি ঈমানের প্রভাবগুলোতে পৌঁছার নির্দেশ দিন এবং তাদেরকে সর্বাধিক সংখ্যক প্রভাব উল্লেখ করতে উত্সাহিত করুন। আর তারা যা পেশ করে সঠিক প্রভাব পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য তা মূল্যায়ন করা হবে। তারপর তার সাথে একটি কার্ড প্রদর্শন করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা তা মৌলিক ভাবে জানতে পারে।
*ফলাফল বের করাঃ
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি অনুচ্ছেদ লিখতে নির্দেশ করুন যেখানে সে পাঠ থেকে কী শিখেছে এবং যা শিখেছে তা কীভাবে প্রয়োগ করবে তা ব্যাখ্যা করবে। আর তারা যা লিখেছে তাদের সহপাঠীদের কাছে তা পড়ার জন্যে কিছু শিক্ষার্থীকে বাছাই করুন এবং তাদেরকে উপভোগ্য প্রতিক্রিয়া প্রদান করুন।
* অনুশীলনসমূহঃ
নিচের নিয়মে শিক্ষার্থীগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও তার উদ্দেশ্য সমষ্টিগতভাবে, শেষ দিবসের নামসমূহ চিহ্নিত করা।
উদ্দেশ্য নং ১
শিক্ষক প্রতিটি গ্রুপকে অনুশীলন সম্পাদনে সহযোগিতার জন্য নির্দেশ দিবেন যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের কুরআন বের করে সূরা আল-কারিআহ খুলে। তারপর তা পড়বে এবং অনুশীলনে অন্তর্ভুক্ত ছকটি পূর্ণ করতে অংশগ্রহণ করবে।
ছকের উপাদান থেকে প্রতিটি উপাদান পালাক্রমে প্রদর্শন এবং প্রতিটি গ্রুপের উত্তর জেনে নিন, যাতে আপনি তার সদস্যদের উপযুক্ত মান দিতে পারেন। সবশেষে সর্বোচ্চ স্কোর প্রাপ্ত দলটিকে চিহ্নিত করে তার সদস্যদের উপযুক্ত সমর্থন দিন এবং একজন সদস্যকে তার গ্রুপ যেই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা তার সহপাঠীদের কাছে পড়ে শোনানের দায়িত্ব দিন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও তার উদ্দেশ্য সম্মিলিতভাবে, শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের প্রভাব অনুভব করা।
উদ্দেশ্য নং ৩
আপনি একজন শিক্ষার্থীকে তার সহপাঠীদের কাছে দ্বিতীয় অনুশীলনে উল্লিখিত গল্পটি পড়ে শোনাতে নির্বাচন করুন। আর দলগত আলোচনার ভেতর তাদেরকে গল্পের শিরোনাম রাখতে বলুন। তা থেকে শেষ দিনের প্রতি ঈমানের প্রভাব বের করতে বলুন এবং তাদের উত্তরগুলো জানুন। আর তাদের সাথে সঠিক উত্তর নির্ধারণ করুন, যাতে তারা কিতাবের যথাস্থানে লিপিবদ্ধ করতে পারে।
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও তার উদ্দেশ্য একাকি, কিয়ামতের দিনে পুনরুত্থানের ওপর দলিল বর্ণনা করা।
উদ্দেশ্য নং ২
শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে পরবর্তী অনুশীলনের ওপর বইটি খুলতে বলুন।
তাদের একজনকে সহপাঠীদের কাছে তা পড়ার জন্যে নির্বাচন করুন।
তাদের প্রত্যেককে নিচের প্রশ্ন এবং তাদের প্রতি দেয়া দায়িত্বের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন।
ছাত্রদের উত্তর জেনে নিন এবং এটি মূল্যায়ন করুন যাতে প্রত্যেক ভুলকারী তাদের ভুল সংশোধন করতে পারে।
* মূল্যায়ন:
নিচের নিয়মে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছু কার্ড বিতরণ করবেন, যার অর্ধেক একটি চিহ্ন এবং বাকি অর্ধেক আরেকটি চিহ্ন অন্তর্ভুক্ত করবে, তারপর তিনি প্রথম প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যাংশগুলোকে পালাক্রমে উপস্থাপন করবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বাক্যের জন্য উপযুক্ত কার্ড উত্থাপন করে এবং শিক্ষক ছাত্রদের ভেতর ভুলকারীকে চিহ্নিত করবেন যাতে তার সাথে তার ভুল নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
প্রশ্ন ১: - - -।
শিক্ষক দ্বিতীয় প্রশ্নে উল্লিখিত উপাদানগুলোর প্রতিটির একটি করে উত্তরের জন্য চারজন ছাত্রকে বেছে নিবেন এবং তাদের মধ্যে কারো থেকে ভুল হলে তাকে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় পড়ে নিজ থেকে উত্তরটি বের করার নির্দেশ দিবেন।
১. কবর হল: পরকালের প্রথম মনজিল।
২. পুলসিরাত হল: জাহান্নামের উপর স্থাপিত একটি সেতু।
৩. হাশর হল: হিসাবের জন্য সমস্ত মানুষকে একত্রিত করা।
৪. . পুনরুত্থান হল: মৃতদেরকে তাদের কবর থেকে জীবিত করা।
প্রতিটি শিক্ষার্থী পৃথকভাবে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং শিক্ষক তাদের উত্তর উপস্থাপন করতে দুইজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিবেন, তাদের মাঝে তুলনা করবেন এবং উভয়ের মধ্যে কার উত্তর বিশুদ্ধতম তা নির্ধারণ করবেন।
* শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীরা পাঠে যা শিখেছে তা নিচের নিয়মে তাদের জীবনে ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন:
যা ব্যক্তিকে জান্নাত লাভে ধন্য করে এবং জাহান্নাম থেকে নাজাত দেয় এবং নিজেকে ও অন্যদেরকে ইবাদত করতে ও পাপ থেকে দূরে থাকতে অনুপ্রাণিত করার জন্য কাজ করে। এগুলো শেষ দিবসের প্রতি ঈমানের ফল যা একজন মুসলিমকে অবশ্যই অর্জন করতে হবে এবং তার জীবনে ও আচার-আচরনে প্রয়োগ করার চেষ্টা করতে হবে।
ষষ্ঠ পাঠ: বিচার ও তাকদীরের প্রতি ঈমান আনা এবং তার প্রভাবসমূহ।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
নতুন শব্দমালা : الإيمان بالقدر - المشيئة - السَّخط (তাকদীরের প্রতি ঈমান - ইচ্ছা - গোস্বা)।
শিক্ষা সামগ্রী: (ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
শিক্ষাপ্রদানের কৌশল:
(التَّعلُّم بالاكتشاف :গবেষণা ও আবিষ্কার -خرائط التَّفكير: চিন্তার মানচিত্র -تصحيح التَّصوُّرات الخطأ: ভুল ধারণাগুলোর সংশোধন করা - مثلَّث التَّعلُّم:জ্ঞান ত্রিভুজ -الاستقصاء: তথ্য অনুসন্ধান ও সাজান)।
القيم والاتِّجاهات:দলগত ও একক স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি
আল্লাহ তা‘আলার নির্ধারণ ও সিদ্ধান্তের (তাকদীরের) প্রতি সন্তুষ্টি ও ধৈর্য ধারণ করা এবং অসন্তুষ্টি ও উদ্বেগ পরিত্যাগ করা।
একজন মুসলিমের জীবনে তাকদীরের প্রতি ঈমানের গুরুত্ব অনুধাবন করা।
দৃঢ়ভাবে মহান কাজগুলো গ্রহণ করা এবং আল্লাহকে খুশি করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করা।
* পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের বোঝান যে, আমরা ঈমানের শেষ স্তম্ভে উপনিত এবং তাদেরকে বাকি স্তম্ভগুলো মনে করতে ও তাদের বইয়ে প্রদর্শিত ফর্মে লিখতে বলুন। আর তারা কী লিখেছে তা দেখার জন্য তাদের পাশ দিয়ে যান ও মূল্যায়ন করুন।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আজকের পাঠের সম্ভব্য শিরোনাম তলব করুন এবং তাদের উত্তরগুলো জেনে নিন। তার মধ্যে ব্যতিক্রমটি বোর্ডে লিখুন।পাঠটির ব্যাখ্যা শেষ না করা পর্যন্ত তাদের মূল্যায়ন স্থগিত করার নির্দেশ দিন।
* পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
”التَّعلُّم بالاكتشاف :গবেষণা ও আবিষ্কার”পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নলিখিত বাক্যটি পেশ করতে পারেন এবং এটি কী বোঝায় তা ব্যাখ্যা করতে পারেন। আর তাদের উত্তরগুলো থেকে তাকদীরের প্রতি ঈমানের অর্থ শেখানোর জন্য একটি সূচনা বিন্দু গ্রহণ করতে পারেন।
(দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা, মহাবিশ্বে ভালো বা মন্দ যা কিছু ঘটে তা আল্লাহ তাআ’লা যা জেনেছেন, যা লিখেছেন এবং যা ইচ্ছা করেছেন তারই প্রতিফলন)।
ধাপ (২)
”خرائط التَّفكير: চিন্তার মানচিত্র” পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি শিক্ষার্থীদের কাছে তাকদীরের প্রতি ঈমানের স্তরগুলো উপস্থাপন করতে পারেন। এরপর আপনি চারজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন যেন তাদের প্রত্যেকে একটি করে স্তর, তার উদ্দেশ্য ও তার দলিল পাঠ করেন। এরপর আপনি দলিলগুলোর ব্যাখ্যা ও তার অর্থ জানার জন্যে তাদের সাথে আলোচনা করুন।
ধাপ (৩)
শিক্ষক নিম্নবর্ণিত দুটি পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন এবং তাতে তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলবেন। তাদের উত্তরগুলো থেকে তাকদীরের প্রতি ঈমান রাখা ও উপায় উপকরণ গ্রহণ করার মাঝে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে একটি সূচনা বিন্দু গ্রহণ করবেন। তিনি তাদের কাছে গল্প শৈলী আকারে নবী ও নেক-কার লোকদের জীবনী থেকে উদাহরণ পেশ করবেন যা তা ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করবে।
একজন মানুষের কিছু সন্তান আছে এবং সে কর্মবিমুখ;সে বিশ্বাস করে যে আল্লাহ তা‘আলা তার সন্তানদের রিজিক দেবেন, যদিও তার কোন চেষ্টা না থাকে।
একজন মহিলা ডাক্তারের কাছে যেতে এবং ওষুধ সেবন করা প্রত্যাখ্যান করে; কারণ আল্লাহ তা‘আলা নিরাময়কারী; তিনি তাকে ডাক্তার ছাড়াই সুস্থতা দিবেন।
ধাপ (৪)
শিক্ষক استراتيجيَّة مثلَّث الاستماع ত্রিভুজ শ্রবণ কৌশল ব্যবহার করতে পারেন, যেমন ছাত্রদেরকে দলে দলে ভাগ করবেন, প্রতিটি দল তিনজন নিয়ে গঠিত হবে: প্রথম ছাত্রটি তাকদীরের উপর ঈমানের প্রভাব সম্পর্কে যা জানে তা উপস্থাপন করবে, দ্বিতীয় ছাত্রটি মনোযোগ সহকারে শোনবে এবং তাকে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে যা তাকে সেই প্রভাবগুলো সম্পর্কে আরও বিশদ বিবরণ প্রদানকারী করে দিবে। আর তৃতীয় ছাত্র তার দুই সহপাঠীর অবদান নিরীক্ষণ করবে এবং শিক্ষকের কাছে উপস্থাপন করার জন্য তাদের মধ্যে কী ঘটে তা লিখবে।
শিক্ষক দলগুলোর পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রতিটি দল কী লিখেছে এবং কী সমাধানে পৌঁছেছে তা প্রত্যেকের সাথে সম্পৃক্ত ও লেগে থেকে সবচেয়ে নিখুঁত ও সঠিক উত্তর সম্পর্কে জানবেন এবং কর্মযজ্ঞে যে দল সেরা পারফরম্যান্স করেছে তা চিহ্নিত করবেন।
*ফলাফল বের করাঃ
শিক্ষক কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিবেন, আর তাদের প্রত্যেকে তার নিজস্ব শৈলীতে এবং পাঠ থেকে যা বুঝেছেন সে অনুযায়ী ব্যাখ্যা সম্পর্কিত উপাদানগুলো থেকে একটি গ্রহণ করবেন। উপাদানগুলো হল: (তাকদীরের প্রতি ঈমানের অর্থ - তাকদীরের প্রতি ঈমানের স্তরগুলো - তাকদীর প্রতি ঈমান রাখা ও উপায় উপকরণ গ্রহণ করা - তাকদীরের প্রতি ঈমানের প্রভাব), আর বাকি সহপাঠীরা তাদের উত্তরগুলো সমৃদ্ধ করার জন্যে তাদের উত্তর অনুসরণ করবেন এবং তার ওপর মন্তব্য করবেন।
* অনুশীলনসমূহ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিচের নিয়মে প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও তার লক্ষ্য একাকি, আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদীরের ওপর সন্তুষ্ট থাকার তাগিদ।
উদ্দেশ্য নং ৪, ৫
প্রতিটি ছাত্রকে তার একজন বন্ধুকে পরামর্শ দিতে বলুন যিনি একটি পুরস্কার পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেছেন। অনেক দিন কেটে গেল এবং তার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তিনি সেই পুরস্কারটি পাননি এবং এতে তিনি গভীরভাবে দুঃখিত হয়েছেন।
তিনি পাঠ থেকে যা শিখেছেন সেই অনুযায়ী পরামর্শটি লিখবেন। আর আপনি ছাত্রদের উপদেশগুলো অবগত হন এবং সবচেয়ে সুন্দর শব্দচয়ন, চিন্তাভাবনা এবং প্রভাবে তাদের মধ্যে সেরাটি চিহ্নিত করুন। সেরা পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি ব্রোশার তৈরি করুন তার লেখকদের নাম উল্লেখসহ এবং শ্রেণীকক্ষের লাইব্রেরিতে তা সংরক্ষণ করুন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও তার লক্ষ্য সম্মিলিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আল্লাহ তা‘আলার তাকদীরের ওপর সন্তুষ্টির প্রমাণ পেশ করুন।
উদ্দেশ্য নং ২, ৩
অনুশীলনে আসা প্যারাটি পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের একজনকে বেছে নিন এবং তাদের সাথে তার অর্থ নিয়ে আলোচনা করুন। "الاستصقاء:সম্মিলিত তথ্য অনুসন্ধান ও সাজান" পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি গ্রুপকে বিভিন্ন উৎস থেকে অনুশীলনের দুটি প্রশ্ন অনুসন্ধান করার নির্দেশ দিন, তা ইলেকট্রনিক হোক বা কাগজ হোক বা মানুষ। আর আপনি ছাত্রদের উত্তরসমূহ অবগত হন এবং অধ্যবসায় ও কর্মক্ষমতার জন্য সেরা গ্রুপটির প্রশংসা করুন।
* মূল্যায়ন:
আপনি নিম্নের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে উত্তর দিতে নির্দেশ দিন, তারপর তাদের সাথে উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী সঠিক উত্তরের জন্য নিজেকে একটি গ্রেড দেয় এবং তাদের মাঝে তুলনা করে শিক্ষার্থীদের গ্রেড অবগত হন।
প্রশ্ন ১: রোকনসমূহ- ভালো ও মন্দ- উপায় উপকরণ গ্রহণের সাথে সাংঘষিক নয়।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
নিম্নলিখিত নিয়মে শিক্ষার্থীরা পাঠে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন:
এমন লোকদের মুখোমুখি হওয়া যারা জীবন পরিচালনায় তাদের নেতিবাচক আচরণে জড়িত যা তাকদীরের প্রতি ঈমান এবং তার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করার সাথে সাংঘর্ষিক, যেমন: হিংসা, ঘৃণা, অলসতা, অসন্তুষ্টি এবং উদ্বেগ। পাঠ থেকে শেখা তথ্য, জ্ঞান, দিক নির্দেশনা এবং নির্দেশাবলীর একটি শিক্ষামূলক চিত্রের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করার মাধ্যমে বা মসজিদের ইমামের স্মরণাপন্ন হয়ে, যেন তিনি তাদেরকে উপদেশ, দিকনির্দেশনা ও ধর্মীয় পাঠ দেন।
ইউনিট: সুন্নাহ ও শামাইল (গুনাবলী)
প্রথম পাঠ: নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলীর পরিচয়
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
নতুন শব্দাবলী: (الرسول - المعجزة - عام الفيل - معتدل القامة- واسع الصدر- عظيم المنكبين- كثيف اللحية). (রাসূল - অলৌকিক ঘটনা - আবরাহার হাতির বছর - মাঝারি আকার - প্রশস্ত বুক - বড় দুইকাঁধ - ঘন দাড়ি)।
শিক্ষাদান সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
শিক্ষাদান কৌশল:
(الخرائط الدلالية:চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণ -الأسلوب القصصي: ভূমিকায় গল্প শৈলী - সমবায় শিক্ষা -لعصف الذهني:তাৎক্ষনিক বুদ্ধিমত্তার গ্রুপ ভিত্তিক সমাধান - সমস্যা সমাধান)।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o রাসূলদের প্রতি মানবতার প্রয়োজনে বিশ্বাস করা।
o আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে ধৈর্যের গুণে সজ্জিত হওয়া।
o নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিভিন্ন ঘটনা ও অবস্থান থেকে তাঁর চরিত্রে চরিত্রবান হওয়া।
o দাওয়াত গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ভালো চরিত্রের গুরুত্ব অনুমান করা।
o নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বতের প্রতি আগ্রহী হওয়া।
পাঠের ভূমিকা:
ঘটনা শৈলী প্রদ্ধতিকে কাজে লাগিয়ে ছাত্রদের জন্য হাতির গল্প ও এ বছরের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলী তুলে ধরুন। এ ক্ষেত্রে ঘটনাটি বর্ণনার দক্ষতা যেমন কন্ঠ , শব্দচয়ন এবং বর্ণনা শৈলীর প্রতি লক্ষ রাখতে হবে। তারপর তারা তা আয়ত্ব করতে পেরেছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের মধ্যে একজনকে তার সহপাঠীদের কাছে তা পুনরায় বলার জন্য বেছে নিন। তারপর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
الخرائط الدلالية:চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের একটি কার্ড দেখাবেন যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয়, তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো থাকবে এবং তাদেরকে এটি নিয়ে চিন্তা করতে বলবেন।
আশা করি প্রতিটি ছাত্র ওই কার্ডটিতে যেসব জ্ঞান ও ইলম অন্তর্ভুক্ত তা আয়ত্ব করতে পারবে।
শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের ধারণা এবং তাদের অনুমান শক্তি নিয়ে আলোচনা করুন।
ধাপ নং (২)
শিক্ষক ছাত্রদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয় এবং তাঁর বংশ সম্পর্কে আলোচনা করবেন ।
তিনি তা ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করবেন এবং তার ওপর প্রমাণ পেশ করবেন। আর তার সমর্থনকারী হাদীসগুলো ব্যাখ্যা করবেন।
শিক্ষক العصف الذهني:তাৎক্ষনিক সম্মিলিত বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক সমাধান পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিষয়ে স্পষ্ট ও তার সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো তাদের সামনে পেশ করতে পারেন:
প্রশ্নঃ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ নামগুলো কি কি?
প্রশ্নঃ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখন জন্মগ্রহণ করেছেন? কোথায় বেড়ে উঠেছেন? এবং কখন মারা গেলেন?
প্রশ্ন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় স্ত্রী ও তাঁর সন্তানদের নাম উল্লেখ করুন।
প্রশ্ন: দলিলসহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলী সম্পর্কে আলোচনা করুন।
ধাপ নং (৩)
সমস্যা-সমাধান পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক নিম্নলিখিত অবস্থানগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন।
তিনি তাদের কাছে মতামত চাইবেন এবং কিভাবে তার সমাধান হয় ও তার সাথে করণীয় কি তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।
প্রতিটি অবস্থানকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের চারিত্রিক গুণাবলীর সাথে সংযুক্ত করুন যা পাঠের সময় উল্লেখ করা হয়েছে:
একজন ভিক্ষুক আমার বন্ধু আহমেদের কাছে কিছু চাইতে এসেছিল তখন সে তাকে ফিরিয়ে দিল এবং তাকে কষ্ট দিতে যাচ্ছিল।
খালেদের বাবা মারা যান। ফলে সে গভীরভাবে শোকাহত হল, এমনকি তার চিন্তায় সে নিজের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে ।
একটি ফিকহী বিষয় নিয়ে দুই সহপাঠীর মধ্যে আলোচনা চলছিল। যখন আলোচনা উত্তপ্ত হয়ে উঠল, তাদের একজন অন্যজনকে আঘাত করল।
আহমাদ ভুলবশত একজন বৃদ্ধকে তার গাড়ি দিয়ে হত্যা করে ফেলল। ফলে মৃত ব্যক্তির সন্তানেরা একইভাবে আহমাদকে হত্যা করার জন্য অটল রইল ।
ফলাফল বের করা:
التعلم التعاوني:সমবায় শিক্ষা কৌশল ব্যবহার করুন এবং নিম্নের অসম্পূর্ণ বাক্যগুলো পূর্ণ করার সময় পাঠ থেকে ফলাফল বের করার জন্যে একে অপরের অংশীদার হতে বলুন:
আল্লাহ তা‘আলা নবীদেরকে মানুষের কাছে পাঠিয়েছেন তাদেরকে বের করে আনার জন্য...
আল্লাহ এমন কোনো নবীকে পাঠাননি যাকে তিনি বিশেষ উপায়ে প্রস্তুত করেননি এবং তাকে সমর্থন করেননি...
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হলেন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ ... ... ... .... .... .... .... ...
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্ম গ্রহণ করেছেন....... বার দিন হাতির বছর ....... মাসে।
হাতির বছর হল সেই বছর যেটিতে...........
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকৃতি ও চেহারায় সবচেয়ে সুন্দর ব্যক্তিদের একজন।তিনি ছিলেন সাদা রঙের,............ মানুষের সামনে হাসিখুশি, মধ্যম ........ , মহান........., ঘন দাড়ি.........
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রের মধ্যে রয়েছে: .............., ..............., ..... .........
অনুশীলনসমূহ
ছাত্রগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামগুলো ও তার অর্থ সম্পর্কে জানা।
উদ্দেশ্য নং ১
একটি পৃথক কাগজে নিম্নের অনুশীলনের উত্তর দিতে প্রতিটি ছাত্রকে দায়িত্ব দিন।
উত্তরগুলো সংগ্রহ করুন এবং সেগুলো সংশোধন করুন এবং যে সঠিক করেছে তাকে পুরস্কৃত করুন৷
অনুশীলন 1ঃ
নাম নামকরণের কারণ
মুহাম্মাদ কারণ তাঁর প্রতি রয়েছে পূর্ববর্তী ও পরবর্তীগণের প্রশংসা। আর এটি ঘটেছে তার উত্তম গুণাবলীর কারণে।
আহমাদ কারণ তিনি পুণ্যের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছেন। এবং তিনি তার প্রভু আল্লাহ তা‘আলার সবচেয়ে বেশি প্রসংশাকারী।
তাওবার নবী কারণ তিনি আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে বেশী তাওবাকারী ছিলেন।
সর্বশেষ তিনি নবীগণের সর্বশেষে আগমন করেছেন। তিনি তাঁদের সর্বশেষ। কাজেই তার পরে কোনো নবী নেই।
রহমতের নবী কারণ, আল্লাহ তা‘আলা তাকে জগতবাসীর জন্যে রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্রসমূহ বের করা।
উদ্দেশ্য নং ৪, ৫
শিক্ষক চারজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করবেন।
প্রতিটি শিক্ষার্থী কম্পিউটারের মাধ্যমে অনুশীলনে আলোচ্য পাঠসমূহের একটি করে অংশ পড়বে।
তাদের প্রত্যেককে এই পাঠ থেকে শিখা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি চরিত্র বের করতে বলা হবে।
অন্য পাঁচজনকে তাদের সহপাঠীদের উত্তর মূল্যায়ন করতে বেছে নেওয়া হবে।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্রসমূহ
দয়া ও করুণা
উদারতা এবং নম্রতা
দানশীলতা ও বদান্যতা।
বীরত্ব
মূল্যায়ন
আপনি নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষক সংশ্লীষ্ট বাক্যগুলোকে পালাক্রমে উপস্থাপন করবেন এবং কিছু শিক্ষার্থীকে প্রতিটি বাক্যের উত্তর দিতে বেছে নিবেন, সঠিক বা ভুলটি অবগত হতে।
প্রশ্ন ১: ( ) - - ( ) - ( )
দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে উত্তর দিতে এবং তাদের বইয়ে উত্তর লিখতে বলবেন।
তিনি তাদের পারফরম্যান্স নিরীক্ষণ করার জন্য তাদের মাঝে যাবেন এবং যিনি সেরা উত্তর দিয়েছেন সহপাঠীদের কাছে তার উত্তর পড়ার জন্য তাদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিবেন।
প্রশ্ন ২: (৫৭১)- (সর্বশেষ)- (৬৩ বছর )।
*تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষা এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীদেরকে তারা পাঠে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে এবং আচার-আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
পাঠে উল্লিখিত হাদীসগুলো ব্যতীত অন্যান্য হাদীস শরীফ সন্ধান করতে শিক্ষার্থীদের উত্সাহিত করা, যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধারার মর্যাদার আরো বর্ণনা রয়েছে। এবং তাদের জীবনে তা অনুকরণ করার চেষ্টা করা৷
বিভিন্ন উত্সের মাধ্যমে সেগুলো বই হোক, আলেমে দীন হোক বা ইলেকট্রনিক উত্স হোক, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র ও গুণাবলীকে আরও গভীরভাবে এবং আরও বিস্তৃতভাবে জানা এবং তার মূল্য উপলব্ধি করা। সেগুলো দ্বারা ভূষিত হতে আগ্রহী হওয়া এবং তাদের পরিবার ও সমাজের চারপাশে সেই গুণগুলো ছড়িয়ে দেওয়া।
দ্বিতীয় পাঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈশিষ্ট্যাবলী
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী:
(سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ - فُضِّلْتُ- جَوَامِعَ الْكَلِمِ- وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ- وَأُحِلَّتْ لِيَ الْغَنَائِمُ). (আদম সন্তানদের সরদার - আমাকে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে - ব্যাপক অর্থবোধক অল্প শব্দমালা - আমাকে ভয় দ্বারা বিজয়ী করা হয়েছে - আর গনীমত আমার জন্য হালাল করা হয়েছে।)
শিক্ষাদান সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
শিক্ষার কৌশলসমূহ:استراتيجيات التدريس
(الخرائط الدلالية:চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণ - التساؤل الذاتي: অনুমান ভিত্তিক প্রশ্ন সৃষ্টিকরণ পদ্ধতি -تصحيح التصوُّرات الخطأ: ভুল ধারণা সংশোধন)।
القيم والاتجاهات :দলিয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার বড়ত্ব প্রকাশ করা।
o নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালোবাসার প্রতি আগ্রহী হওয়া।
o নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুণাবলী এবং বৈশিষ্ট্যকে সম্মান করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সামনে নিম্নের হাদিসটি পড়ুন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কেয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সরদার।" (আল-বুখারী ৪৭১২, মুসলিম ২২৭৮)। তারপর তাদের কে নিম্নলিখিত দুটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিভাবে এই মর্যাদার যোগ্য হলেন?
আপনি কি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য জানেন?
এই পাঠে সেগুলো জানুন, তারপর বোর্ডে পাঠের শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
الخرائط الدلالية:চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার এবং পাঠের উপাদানগুলো সম্পর্কিত মাথার জ্ঞানকে সংগঠিত করে শিক্ষক একটি বোর্ডের মাধ্যমে দুনিয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলীর একটি সুশৃঙ্খল রূপ প্রদর্শন করবেন।
ধাপ নং (২)
التساؤل الذاتي: অনুমান ভিত্তিক প্রশ্ন সৃষ্টিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওই সব ফজিলত সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বলবেন যার সম্পর্কে তারা জানতে চায়। তিনি তাদের প্রশ্ন সংগ্রহ করে বোর্ডে লিখবেন। তিনি পাঠের বিভিন্ন শিরোনামকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে তাদেরকে অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে সমৃদ্ধ করতে পারেন। জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নগুলোর মধ্যে নিম্নের প্রশ্নগুলো হতে পারে:
প্রশ্নঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কেন সকল মানুষের কাছে পাঠানো হয়েছিল?
প্রশ্নঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিভাবে ব্যাপক অর্থ বোধক শব্দাবলী প্রদান করা হয়েছে?
প্রশ্নঃ মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করার হুকুম কি?
প্রশ্নঃ কিভাবে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভয় দ্বারা সাহায্য এবং গনীমতের মাল তাঁর জন্য হালাল করা হয়েছে?
ধাপ নং (৩)
শিক্ষক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আখিরাতের ফজীলতসমূহ ব্যাখ্যা প্রদান করবেন। এই সময় শিক্ষক ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আখিরাতের ফজীলতসমূহ প্রমাণকারী হাদীস শরীফ এবং দলিলসমূহ প্রমাণ করবেন। এবং ছাত্রদেরকে সেগুলো পড়তে, সেগুলো বিশ্লেষণ করতে এবং তাদের অর্থ ও তার নির্দেশনা স্পষ্ট করতে অংশগ্রহণ করতে বলবেন৷
ফলাফল বের করা:
শিক্ষক ছাত্রদের একটি অনুচ্ছেদ লিখতে নির্দেশ দিবেন, যাতে তারা পাঠ থেকে যা শিখেছে তার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী অন্তর্ভুক্ত করবে।
তাদের মধ্যে কাউকে তাদের সহপাঠীরা যা লিখেছে তা পড়তে বেছে নিন, তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
অনুশীলনসমূহ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নিচের নিয়মে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, আরবী ভাষা শেখার উপকারিতা সম্পর্কে জানা।
উদ্দেশ্য নং ৩
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রথম অনুশীলনটি একা করতে নির্দেশ করুন এবং একটি পৃথক কার্ডে তার উত্তর লিখতে বলুন, তারপরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং তাদের সবচেয়ে সঠিক ও নিখুঁত উত্তরটিকে সঠিক উত্তরদাতার প্রশংসা করাসহ মূল্যায়ন করুন।
১ - উপরে যা অতিবাহিত হয়েছে সব
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাউজে কাওসারের বৈশিষ্ট্যগুলো বের করা।
উদ্দেশ্য নং ৪
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি পৃথক কাগজে নিম্নের অনুশীলনের উত্তর দিতে বলুন।
উত্তরগুলো সংগ্রহ করুন এবং সেগুলোকে সংশোধন করুন এবং যে তার দায়িত্ব ঠিকভাবে আদায় করেছে তার উত্তর পত্রের ওপর একটি পোস্টার ডিজাইন করুন এবং তা সামাজিক নেটওয়ার্কিং সাইটে প্রকাশ করুন।
মূল্যায়ন
আপনি নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
বোর্ডে একের পর এক প্রশ্ন লিখা যেতে পারে। এরপর নিচের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য পাশাপাশি থাকা দুই শিক্ষার্থীকে একে অপরের অংশীদার হতে বলা বাঞ্ছনীয়।
কিছু শিক্ষার্থীকে অবশিষ্ট সহপাঠীদের কাছে তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য এলোমেলোভাবে বেছে নিন।
ভুলকারীকে পড়ার জন্যে পাঠের বিষয়বস্তু আবার দেখতে বলা উচিত।
তার থেকে সঠিক উত্তর বের করা।
প্রশ্ন ২: ”আশ শাফে’ ” হল সেই ব্যক্তি যিনি সুপারিশ করার জন্য অনুমতিপ্রাপ্ত হবেন এবং “আল মুশাফ ফা’ “ হল সেই ব্যক্তি যার সুপারিশ গৃহীত হয়। ()
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষা ও মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের জীবনে এবং আচার-আচরণে পাঠে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন। আর তা হলো এর মাধ্যমে:
পাঠে উল্লিখিত হয়নি যেসব আয়াত ও হাদীস নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলী সম্পর্কে আলোচনা করেছে তার থেকে কিছু সংগ্রহ করতে উত্সাহিত করা এবং সেগুলোকে একটি বোর্ডে লিখা এবং মসজিদে ঝুলিয়ে দেওয়া।
তৃতীয় পাঠ: আল-কুরআনুল কারীম পাঠের ফজিলত
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদেরকে নিচের প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করুন, তাদের উত্তর জানুন এবং তাদের কাছ থেকে উত্তর ও পাঠের শিরোনামের মধ্যকার সম্পর্ক এবং তার লক্ষ্য জানতে চান।
প্রশ্নঃ নিশ্চয় কুরআনুল কারীম পাঠ করা মানে শুধু তার অক্ষর ও শব্দের পুনরাবৃত্তি নয়। কাজেই আল্লাহ তা‘আলার কিতাব তিলাওয়াত করার প্রকৃত অর্থ কী?
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
শিক্ষক التعلم بالاكتشاف:নতুন তথ্য বের করণ পদ্ধতির সাহায্য নিতে পারেন এবং ছাত্রদের সামনে নিম্নলিখিত বাক্য ও তাতে থাকা প্রশ্নটি উপস্থাপন করতে পারেন: (আল-কুরআনুল কারীম আল্লাহ তা‘আলার কিতাব যা মানুষকে হক ও কল্যাণের দিকে আহ্বান করার জন্যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে অবতীর্ণ করা হয়েছে। কাজেই তার তিলাওয়াতের প্রতি আমাদের আগ্রহী থাকতে হবে... অতএব তা পাঠ করার ফজিলত কী?)
তিনি তাদের সামনে তার উত্তর প্রদানের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু বিকল্প উপস্থাপন করবেন, যেমন: (জান্নাত লাভ করা, একটি নেকি হাসিল করা, নেক আমল দ্বিগুণ করা) তারপর তাদেরকে সঠিক উত্তর সম্পর্কে অবহিত করবেন।
ধাপ নং (২)
শিক্ষক নির্দিষ্ট অডিওর মাধ্যমে যে হাদীসটি আল-কুরআনুল কারীম পড়ার ফজিলত বর্ণনা করে সেটি শোনার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিবেন এবং তাদের সাথে প্রতিটি বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করবেন।
ধাপ নং (৩)
উপস্থিত গ্রুপ ভিত্তিক দ্ধিমত্তার সমাধান পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিবেন যে, তারা আল-কুরআনুল কারীম কীভাবে পড়তে হয় সে সম্পর্কে যা জানে তা পেশ করবে এবং তাদের উত্তর জানার পরে তিনি তাদের কাছে সেই পদ্ধতির একটি স্পষ্টকরণ রূপ উপস্থাপন করবেন।
ধাপ নং (৪)
একটি لوحة دلالية:প্রচার বোর্ডের মাধ্যমে আল-কুরআনুল কারীম পাঠের ফজিলত সম্পর্কিত পাঠে যা কিছু উপস্থাপন করা হয়েছে তা সংক্ষিপ্ত করুন। এরপর প্রত্যেক ফজিলতের সাথে সম্পর্কিত ফায়দাগুলো ব্যাখ্যা করাসহ তার উপর মন্তব্য করুন। আর ছাত্ররা তা বুঝতে পেরেছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য ফজিলতের ওপর মন্তব্য করার জন্যে দু’জন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন।
ফলাফলে পৌঁছাঃ
আপনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পাঠটি পুরোপুরি বোঝার পরে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তার থেকে একটি ফায়দা উল্লেখ করার দায়িত্ব দিন। আর তারা যা পেশ করবে তার ওপর মন্তব্য ও ব্যাখ্যা পেশ করে পাঠের সাথে এটি কিভাবে সম্পর্কিত তা স্পষ্ট করে বোর্ডে লিখুন।
অনুশীলনসমূহ
নিচের নিয়মে শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, আল-কুরআনুল কারীম পাঠ করার ফজিলতের বর্ণনা।
উদ্দেশ্য নং ৬
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে প্রথম অনুশীলনে উল্লিখিত দুটি হাদীস পড়ার নির্দেশ দিবেন এবং তাদের সাথে হাদীস দু’টিতে থাকা শব্দভান্ডারের অর্থের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবেন এবং তাদেরকে হাদীসের প্রেক্ষাপট থেকে অর্থ উপস্থাপন করতে উত্সাহিত করবেন। তারপর তিনি তাদের সাথে তার ব্যাখ্যা ও নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করবেন। আর একজন ছাত্রকে প্রতিটি হাদীস থেকে আল-কুরআনুল কারীম পড়ার ফজিলত চিহ্নিত করতে বেছে নিন। তারপর তা তাদের কিতাবে লিখার জন্যে বোর্ডে লিখে দিন।
কিয়ামতের দিন আল-কুরআনুল কারীমের তার পাঠকের জন্য সুপারিশ করা।
কিয়ামতের দিন কুরআনের ধারকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিত, আল-কুরআন বারবার পাঠ করা ও তা আয়ত্তে আনার উপায়গুলোর প্রস্তাব করা।
উদ্দ্যেশ্য নং ৪
প্রতি দুই শিক্ষার্থীকে অনুশীলনে উল্লিখিত হাদিস সম্বলিত একটি কার্ড বিতরণ করুন এবং তাদেরকে আল-কুরআনুল কারীম পুনরাবৃত্তি করা ও আয়ত্তে আনার সহায়ক উপায় প্রস্তাবে সহযোগিতা করতে বলুন। তারপর কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন ও মূল্যায়ন করুন এবং তার মধ্যে থাকা ভুলগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করুন যাতে তারা নিজেরাই সেগুলি সংশোধন করতে পারেন এবং যেসব ছাত্রদের থেকে উত্তরে কোনো ভুল হয়নি তাদের প্রশংসা করুন।
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, আল-কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতে উদ্বুদ্ধ করা।
উদ্দেশ্য নং ৪
প্রতিটি কার্ডে চতুর্থ অনুশীলনে উল্লিখিত কোনো একটি কাজ লিখুন এবং সহপাঠীদের সামনে দাঁড়ানোর জন্য দুইজন শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করুন। যাতে তাদের প্রত্যেকে অনুশীলনটি পড়ে এবং তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে। তারপর যা চাওয়া হয়েছে সে বিষয়টি নির্ধারণ করবে এবং উভয়ের সহপাঠীরা তাদের অনুসরণ করবে এবং প্রত্যেকে যা উভয়ে উপস্থাপন করবে তার মূল্যায়ন করবে।
মূল্যায়ন
আপনি নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সাথে মূল্যায়ন প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন:
আপনি পাঠে উল্লিখিত প্রশ্নগুলো এক এক করে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করুন।
তারপর প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য দুইজন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাদের উত্তরগুলোর মাঝে তুলনা করুন। আর সহপাঠীদেরকে তাদের উত্তরগুলো মূল্যায়ন করার সুযোগ দিন।
উত্তর শেষ করার পর ছাত্রদেরকে তা বইয়ে রাখার নির্দেশ দিন এবং তারা কোনো প্রশ্নে আটকে গেলে যেন আপনার দারস্থ হয়।
প্রশ্ন ১: - - -
প্রশ্ন ২: পবিত্র কাবা - দিন - ভালো কাজের নেকী বৃদ্ধি।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষাএবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
যা অধ্যয়ন করা হয়েছে, সে অনুসারে শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত দিকনির্দেশনা দিন:
শিক্ষার্থীদের কে দিনরাত আল-কুরআনুল কারীমের পাঠ চালিয়ে যাওয়ার ভিত্তিতে কুরআন পড়ার ফযীলত সম্পর্কে নির্দেশনা দেয়া হবে।
বিভিন্ন অনুশীলন সম্পাদনে পরিশ্রমী হওয়া যা তাদের এটি অর্জনে সহায়তা করবে।
চতুর্থ পাঠ: পাপের কাফফারাসমূহ
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (الجمعة إلى الجمعة - رمضان إلى رمضان – مُكفِّرات – الكبائر) (জুমাবার থেকে জুমাবার - রমজান থেকে রমজান - কাফফারাসমূহ - বড় গুনাহসমূহ)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(অডিও মাধ্যম - কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
শিক্ষার কৌশলসমূহ:
(التعلُّم البنائي :গঠন পদ্ধতি,حل المشكلات: সমস্যাবলির সমাধান পদ্ধতি, تصحيح التصوُّرات الخطأ:ভুল চিন্তাধারার সংশোধন পদ্ধতি, حوض السمك :মাছের চৌবাচ্চা পদ্ধতি ,التفكير التحليلي: বিশ্লেষণমূখী চিন্তা পদ্ধতি)।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o ইবাদত আদায়ে যত্নশীল থাকা এবং তার ওপর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
ইসলামে সালাত ও সিয়ামের মর্যাদা বোঝা।
বড় পাপে পতিত হওয়া থেকে সতর্ক থাকা এবং তার বিপদ অনুভব করা।
* পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের অডিও মাধ্যমে নিচের আয়াতটি শোনার এবং তেলাওতকারীর পিছনে তা পুনরাবৃত্তি করার নির্দেশ দিন। তারপর তাদের সাথে তার অর্থ এবং তার নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করুন। আর পাঠের সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করুন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আর দিনের দুই প্রান্তে ও রাতের নিকটবর্তী অংশে সালাত প্রতিষ্ঠা করো। নিশ্চয়ই ভালো কাজসমূহ মন্দ কাজসমূহকে মুছে দেয়।” (সূরা হুদ, আয়াত:১১৪)
তাদের জন্যে হাদীসের শিরোনামটি স্পষ্ট করুন, তারপর বোর্ডে লিখুন।
* পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে হাদীসটি উপস্থাপন করুন, তারপর তাদেরকে তা পড়ে শোনান এবং তাদেরকে তা আপনার পরে পরে পুনরাবৃত্তি করতে বলুন। আর তাদের মধ্যে কাউকে তার সহপাঠীদের কাছে হাদীসটি পড়তে বেছে নিন পাঠের শুদ্ধতা ও গুণমান পর্যবেক্ষণ করাসহ।
ধাপ (২)
আপনি শিক্ষাদানের গঠন পদ্ধতির উপর নির্ভর করুন যেন শিক্ষার্থীগণ হাদীস বর্ণনাকারী আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে তাদের জ্ঞানকে স্মরণ করে। আর তাদেরকে উপযুক্ত পাথেয় প্রদান করুন। তারপর তার সম্পর্কে আরও তথ্য দিয়ে তাদের উপস্থাপিত পরিচয়কে আরও সমৃদ্ধ করুন, যেমন: (তার নাম, তার উপনামের কারণ, তার ইসলাম গ্রহণ, তার গুণাবলী ও তার মৃত্যু)। আর তাদের মধ্যে দু'জনকে নির্বাচন করুন যেন তারা এই মহান সাহাবী সম্পর্কে এমন গুরুত্বপূর্ণ গুণ যা তাদের মুগ্ধ করেছে,যা তারা জানে তা সংক্ষেপে পেশ করবেন ।
ধাপ (৩)
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নলিখিত অবস্থান পেশ করুন যা একটি সমস্যা উপস্থাপন করছে। তাদের এটি নিয়ে চিন্তা করতে বলুন এবং তাতে তাদের থেকে মতামত তলব করুন। আর তাদের উত্তরগুলোকে হাদীসের অর্থ ব্যাখ্যা করা ও তার শিক্ষণীয় বিষয়গুলোর জন্য একটি সূচনা বিন্দু হিসাবে নিন:
(আহমাদ একজন পরিশ্রমী ও ভদ্র ছাত্র। সে নিয়মিত সালাত পড়ে এবং সিয়াম রাখে এবং সে তার কথাবার্তায় সত্যবাদী। তবে, তার সাথে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি ঘটেগেল। একবার ফুটবল খেলার কারণে তিনি বাড়ি ফিরতে দেরি করেছিল। যখন তার বাবা তাকে তার বিলম্বের কারণ জিজ্ঞাসা করলেন, সে তাকে মিথ্যা বলল এবং তাকে বলল যে সে স্কুলে একটি অতিরিক্ত পাঠ গ্রহণ করেছে। এটিই প্রথমবার যেখানে আহমাদ মিথ্যা বলল। তার ওপর সে অনুতপ্ত হল এবং পরের দিন যখন সে তার বন্ধু হাসানের সাথে দেখা করল তাকে ঘটনাটি বলল। তাকে বলল যে সে তার এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে চায়। তার বন্ধু তাকে বলল: তোমার পাপ খুব বড় এবং তার জন্য বিশেষভাবে তাওবাহ করতে হবে)।
ধাপ (৪)
শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত ঘটনাটি দেখান এবং এ সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলুন এবং হাদীস থেকে তারা যা শিখেছে তার আলোকে এর সঠিকতা বা ত্রুটির পরিমাণ নির্ধারণ করুন এবং তাদের উত্তরগুলো আলোচনা করার পরে হাদীসের শিক্ষার আলোকে সঠিক উত্তরটি ব্যাখ্যা করুন।
(একজন কর্মচারী ঘুষ নেয় এবং সুদের সাথে লেনদেন করে এবং এটিকে নিজের কাছে এই বলে জায়েয মনে করে যে, সে প্রতিদিন এবং প্রতি সপ্তাহে জুমাবার সালাত আদায়ে যত্নবান থাকে, যাতে তার কাজের জন্য তা কাফফারা হয়ে যায়।)
* ফলাফলে পৌঁছাঃ
শিক্ষক ছাত্রদের সামনে একটি বোর্ড উপস্থাপন করবেন, তারপর প্রত্যেককে হাদীসটি যে নির্দেশনার দিকে আহ্বান করে তার থেকে একটি ফায়দা ও একটি নির্দেশনা বের ও প্রণয়ন করতে বলবেন, তারপর তা বোর্ডে লিখতে বলবেন। তারপর তাদের কিতাব খুলতে বলুন যাতে তারা সেখানে থাকা হাদীসের নির্দেশাবলী ও ফায়দাসমূহ পর্যালোচনা ও বোর্ডে যা প্রদর্শিত হয়েছে তার সাথে তার তুলনা করেন।
* অনুশীলনসমূহ
নিচের নিয়মে শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য জোড়ায় জোড়ায়, হাদীসটি ফরয সালাতের ওপর যত্নবান হওয়ার যে আবশ্যকতার প্রতি আহ্বান করে তার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা।
উদ্দেশ্য নং ৪ - ৫
শিক্ষক পরিশ্রমী ছাত্রদের মধ্যে একজনকে বেছে নিবেন এবং তাকে তার সহপাঠীদের কাছে অনুশীলনে উল্লিখিত হাদিসটি পড়তে বলবেন।
তাদের সাথে হাদীসটির অর্থ নিয়ে পর্যালোচনা শেষে তাদের থেকে প্রত্যেক দুজনকে পরস্পর সহযোগিতার মাধ্যমে হাদীস থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ দিন। আর এই হাদীসটিকে পাঠের হাদিসের সাথে যুক্ত করতে তাদের বিশ্লেষণাত্মক ও আবিস্কারমূলক ক্ষমতা ব্যবহার করুন এবং তা সংক্ষিপ্ত ও স্পষ্ট বাক্যে লিপিবদ্ধ করুন।
তাদের ফলাফলগুলো উপস্থাপন এবং তাদের মাঝে তুলনা ও সবচেয়ে সঠিক উত্তরগুলো বাছাই করতে তাদের থেকে তিনটি গ্রুপ বেছে নিন এবং প্রত্যেককে উপযুক্ত উত্সাহ প্রদান করুন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিত, মুসলিমের ওপর ইবাদতের প্রভাব চিহ্নিত করা।
উদ্দেশ্য নং ৩
মাছের চৌবাচ্চা পদ্ধতি অনুশীলন সম্পাদনের জন্য ব্যবহৃত করা হবে। শিক্ষক কিছু ছাত্রকে মাছের চৌবাচ্চা আকৃতির একটি বৃত্তে বসতে নির্দেশ দিবেন আর বাকি ছাত্ররা বৃত্তের বাইরে বসবে।
শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে উত্তর প্রদানে সৃজনশীল ও বৈচিত্র্যময় হতে উত্সাহিত করে বন্ধ বৃত্তে থাকা ছাত্রদেরকে অনুশীলনের দু’টি ছবি সম্পর্কে নিজেদের মাঝে পর্যালোচনা এবং মুসলিমদের উপর আনুগত্যের (ইবাদত) প্রভাব সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে বলবেন। আর গ্রুপের সদস্যরা যা উপস্থাপন করবে শিক্ষক তা লিপিবদ্ধ করবেন এবং বৃহত্তর বৃত্তে থাকা বাকি সহপাঠীরা তাদের অনুসরণ করবে।
দুটি বৃত্তের সদস্যরা স্থান বিনিময় করবেন এবং শিক্ষক ও তাদের সহপাঠীদের তরফ থেকে তাদের সাথে একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। তারপর তারা যেসব প্রভাব পর্যন্ত পৌঁছেছে তাতে অংশ গ্রহণ ও তার ব্যাপারে পর্যালোচনা করার জন্যে সকল শিক্ষার্থী জড়ো হবে এবং শিক্ষক তাদের অবদানে সম্পূরক যোগ করা ও আরো সূক্ষ্ম উত্তরে পৌঁছাতে তাদের সাথে আলোচনা করবেন।
অনুশীলনসমূহ ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি/জোড়ায় জোড়ায়, হাদীসটি পুনরাবৃত্তি ও মুখস্থ করা।
উদ্দেশ্য নং ৬
শিক্ষক ছাত্রদেরকে প্রথমে পৃথকভাবে হাদীসটি পুনরাবৃত্তি করতে উত্সাহিত করবেন। তারপর তাদের প্রত্যেক দু’জনকে একে অপর থেকে হাদীসটি শোনার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিবেন, সাথে তাদের প্রত্যেক দু’জন তার সহপাঠীর মুখস্ত ও আবৃত্তি (হিফয) বিষয়ে নিজে নোট লিখে রাখবে, যাতে তাদের প্রত্যেকে অন্যের মন্তব্য দ্বারা উপকৃত হতে পারে। আর শিক্ষক তাদের পারফরম্যান্স এবং গাইডেন্সের প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে তাদের পাশ দিয়ে যাবেন তারপর সহপাঠীদের সামনে হাদীসটি শোনানোর জন্য তাদের মধ্যে থেকে কাউকে বেছে নিবেন তার মুখস্থ নিশ্চিতভাবে জানতে।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তার বাক্যসমূহ থেকে প্রতিটি বাক্য একের পর এক শিক্ষার্থীদের কাছে পড়ুন। বাক্য সঠিক হলে শিক্ষার্থী তার হাত ওপরে তুলবে এবং তাদের উত্তর মূল্যায়ন করে সঠিক উত্তর ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্ন ১: - - -
শিক্ষক দ্বিতীয় প্রশ্নের একটি উপাদানের উত্তর দেওয়ার জন্য কিছু ছাত্রকে বেছে নিবেন এবং তাদের মধ্যে কারো ভুল হলে তিনি তাকে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় পড়তে বলবেন এবং নিজের থেকে সঠিক উত্তর বের করার নির্দেশ দিন।
প্রশ্ন ২: (ইলম শিক্ষাদান - গুনাহ মাফ করা হয় - ছোট গুনাহসমূহ - রমজান মাস)
হাদীসটি সম্পূর্ণ লিখে বোর্ডে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে একজন ছাত্রকে বেছে নিন। যদি সে ভুল করে তাহলে তাকে বই থেকে হাদীসটি পুনরায় পড়তে বলুন ও কীভাবে তা সম্পূর্ণ লিখতে হয় তা শিখতে বলুন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ করুন এবং তাদের মধ্যে কাউকে তাদের উত্তর উপস্থাপন করতে বেছে নিন, তাদের মাঝে তুলনা করুন এবং সবচেয়ে সঠিক উত্তর নির্ধারণ করুন।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষা এবং মনজাগতিক নির্দেশিকা
নিম্নলিখিত নিয়মে শিক্ষার্থীরা পাঠে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন:
প্রত্যেক ছাত্রকে তার ইবাদতে যেসব নির্দেশনা ও উপদেশ, বিশেষ করে ইবাদত ও আনুগত্যের কর্মে নিয়মতান্ত্রিকতা এবং বড় গুনাহের মধ্যে পতিত হওয়া এড়ানো সম্পর্কিত হাদীস থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করতে অনুপ্রাণিত করা।
প্রতিটি ছাত্র বিভিন্ন উৎসে ফিরে যাবে, তা মানুষ, ইলেকট্রনিক বা কাগজ জাতীয় যাই হোক না কেন। তার মাধ্যমে কিছু শরয়ী পাঠ শিখবে যা সালাতের ফজিলত ব্যাখ্যা করবে এবং যা হাদীস শরীফ নির্দেশ করে তা সমর্থন করবে। আর শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা নিজেদের মধ্যে বিনিময় করতে বলুন, যেন তাদের প্রত্যেকে সর্বাধিক সংখ্যক সূত্র জানতে পারে।
পঞ্চম পাঠ: আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুন্দর ধারনা পোষণ করা।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (ملأ– الشبر– ذِرَاعًا– باعًا– هرولة). (ফেরেশতা - বিঘত - হাত - হাতের এক কব্জি হতে অপর কব্জির প্রসারিত দূরত্ব- দ্রুত হাঁটা)।
শিক্ষা উপকরণ:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক ছবি - শিক্ষামূলক কার্ড)।
শিক্ষার কৌশল:
(الألغاز التعليمية:শিক্ষামূলক ধাঁধা -حل المشكلات: সমস্যা সমাধান -الوصف: বর্ণনা - مثلَّث الاستماع:শোনার ত্রিভুজ)।
القيم والاتجاهات:দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুন্দর ধারনা (আস্থা) রাখা ও ইহসানের সাথে আমল করা।
o গোপনে এবং প্রকাশ্যে আল্লাহ তা‘আলার জিকিরকে কখনো না ভুলা।
o আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টির উপর তাঁর করুণা ও অনুগ্রহের প্রশস্ততা অনুভব করা।
o ইবাদতের প্রতি আহ্বানে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং অবিচল থাকা।
* পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক ভাই, বোর্ডে নিম্নলিখিত বাক্যাটি লিখুন এবং ছাত্রদের কে এটি কী প্রকাশ করে তা ব্যাখ্যা করতে বলুন এবং হাদীসুল কুদসীর পরিচয় প্রদান এবং তার ও নববী হাদীসের মাঝে পার্থক্য নির্ণয়ের জন্য তাদের উত্তরগুলোকে একটি সূচনা পয়েন্ট হিসাবে নিন।
(এগুলো হল সেই হাদীস যেগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে বর্ণনা করেন, এবং তা কুরআন নয়....তাহলে সেগুলো কী?)
ছাত্রদের সামনে হাদীসটির শিরোনাম ব্যাখ্যা করুন, তারপর তা বোর্ডে লিখুন।
* পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ছাত্রদেরকে একটি বোর্ডের মাধ্যমে বা একটি ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে হাদীস শরীফটি দেখান আর তাদেরকে পড়ে শোনান। তারপর তাদেরকে আপনার পিছনে পড়াটি পুনরাবৃত্তি করতে বলুন এবং সাথীদের কাছে হাদীসটি শুদ্ধতা ও বিশুদ্ধতা বিবেচনা করে পাঠ করার জন্যে তাদের মধ্য থেকে তিনজনকে বেছে নিন।
ধাপ (২)
ছাত্রদেরকে হাদীসের বর্ণনাকারীর জীবনী মনে রাখতে বলুন (তার নাম,তাঁর বেড়ে উঠা, তাঁর হিজরত, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর মৃত্যু) এবং মহান সাহাবী সম্পর্কে তাঁরা যা শিখেছেন এবং তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী যা তাদের মুগ্ধ করেছে এবং যার মধ্যে তারা তাকে অনুকরণ করতে চায় তা সংক্ষেপে উপস্থাপন করার জন্য তাদের মধ্যে দু’জন ছাত্রকে বেছে নিন।
ধাপ (৩)
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নের পরিস্থিতিটি পেশ করুন, যা এমন একটি সমস্যা উপস্থাপন করে যার সম্মুখীন কেউ কেউ হয়। এবং তাদেরকে পরিস্থিতিটিতে চিন্তা করতে ও তাতে তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলুন। তারপর কীভাবে তা মোকাবেলা করতে হবে সে সম্পর্কে তাদের কৌশল ব্যাখ্যা করতে বলুন। আর তাদেরকে হাদীস এবং তার শব্দমালার অর্থ ও তার নির্দেশনা সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিতে তাদের উত্তরগুলোকে একটি সূচনা বিন্দু হিসাবে গ্রহণ করুন:
(সাঈদ মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিল, কিন্তু সে যে পাপ করেছিল তা অনুভব করেছে এবং সে আল্লাহর কাছে অনুতপ্ত হয়েছে এবং যেসব কাজ আল্লাহ তা‘আলাকে অসন্তুষ্ট করবে তা পরিত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু সে মনে করে যে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করবেন না এবং তার তাওবাহ গ্রহণ করবেন না।)
ধাপ (৪)
শিক্ষক বান্দাকর্তৃক আল্লাহকে স্মরণ করার নিদর্শন এবং তাঁর নৈকট্য হাসিল করা ও আল্লাহ তা‘আলা যার মাধ্যমে তার বিনিময় দান করেন তা একটি আকর্ষণীয় এবং প্রভাব বিস্তারকারী আদলে প্রকাশ করবেন বিঘত, হাত ও প্রসরিত দুই বাহু পরিমান অর্থ স্পষ্টকারী একটি উদাহরণ পেশ মাধ্যমে।
শিক্ষকের উল্লিখিত বিষয়টি বর্ণনা করার পর ছাত্ররা এ সম্পর্কে কী অনুভব করেছে এবং এ সম্পর্কে জানার পর তাদের কী করা উচিত তা উপস্থাপন করার জন্য দুজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন।
* ফলাফলে পৌঁছা:
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে হাদীস থেকে শেখা একেকটি নির্দেশানা ও উপদেশ বের করতে বলবেন এবং তিনি ছাত্রদের উত্তরগুলো জানবেন এবং আরো কিছু ফায়দা উল্লেখ করে তাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন। তারপর তাদের একটি বোর্ড দেখাবেন যা হাদীসের সাথে সম্পর্কিত সকল ফায়দার স্থানকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
* অনুশীলনসমূহ :
নিচের নিয়মে শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হবে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিত, মৃত্যুর সময় আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারনা ও তার উপায় জানা।
উদ্দেশ্য নং ৪
শিক্ষক ছাত্রদেরকে দলে দলে বিভক্ত করবেন, প্রতিটি গ্রুপে তিনজন ব্যক্তি থাকবে এবং বোর্ডে অনুশীলনে উল্লিখিত দুটি পাঠ প্রদর্শন করবেন এবং তা শিক্ষার্থীদের পড়ে শোনাবেন। তারপর পরবর্তী প্রশ্নগুলো পেশ করবেন।
তিনি গ্রুপের প্রথম সদস্যকে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিবেন, যেন দ্বিতীয় ছাত্রটি তার কথা মনোযোগ সহকারে শোনে এবং তাকে নোট ও মন্তব্য প্রদান করে, যা উত্তরটিকে স্পষ্ট, বিশদ এবং ন্যায়সঙ্গত করে তুলবে। আর তৃতীয় সদস্য তার দুই সহপাঠীর পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করবে এবং শিক্ষকের কাছে উপস্থাপন করার জন্য তাদের মধ্যে যা কিছু পর্যালোচনা হয় তা লিখবে।
শিক্ষক সকল গ্রুপের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করবেন, প্রতিটি গ্রুপে কী লেখা হয়েছে এবং তারা যে উত্তরে পৌঁছেছে তা অবগত হবেন আর প্রত্যেকের উপর মন্তব্য করেবেন। অবশেষে তাদের সবার সাথে সবচেয়ে সঠিক উত্তরটিতে পৌঁছাবেন এবং সেরা পারফরম্যান্সকারী গ্রুপটি চিহ্নিত করবেন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত / সম্মিলিত, কিছু পরিস্থিতিতে নিজের মতামত প্রকাশ করা এবং আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারনা পোষণ করার ক্ষেত্রে তার মর্মের সীমা অবগত হওয়া।
উদ্দেশ্য নং ৪-৫
শিক্ষক বিভিন্ন কার্ডে অনুশীলনে উল্লিখিত প্রতিটি পরিস্থিতি লিখবেন এবং এলোমেলোভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা বিতরণ করবেন।
তিনি পালাক্রমে প্রতিটি পরিস্থিতি পড়বেন এবং যে শিক্ষার্থীদের কাছে কার্ড রয়েছে তারা উপস্থাপিত পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হবেন। তিনি এটি সম্পর্কে তাদের মতামত গ্রহণ করবেন, তার কারণ জানাবেন, তাদের উত্তরগুলো তুলনা করে সবচেয়ে সঠিক উত্তরটি সনাক্ত করবেন এবং সব পরিস্থিতির মূল্যায়ন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত একই জিনিস পুনরাবৃত্তি করবেন।
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, এমন কিছু ইবাদত নির্ধারণ করা যা নিয়মিত হেফাজত করা হবে।
উদ্দেশ্য নং ৩-৫
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে একটি অতিরিক্ত কার্ডে তিনটি ইবাদত লিখার নির্দেশ দিবেন যা সে নিয়মতি করে, যার সওয়াবের আশা করে, ছাত্রদের কার্ডগুলো মূল্যায়ন করার জন্য সংগ্রহ করবেন এবং তাদের মধ্যে মিলের দিকগুলো নির্দেশ করবেন। ছাত্রদের উত্তরগুলোকে উত্সাহিত করবেন এবং তাদের সেই ইবাদতগুলো চালিয়ে যেতে, বরং তা বাড়াতে ও তার সংখ্যাবৃদ্ধি করতে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করবেন।
* মূল্যায়ন:
এই ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে; তাতে উল্লিখিত বাক্যগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়ুন এবং সহপাঠীদের মূল্যায়নের সুযোগ রেখে ছাত্রদের উত্তর অবগত হন, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার একজন সহপাঠীর উত্তর মূল্যায়ন করে।
প্রশ্ন ১: (✓) - (✓) - (✖)
প্রশ্ন ২: (আল্লাহ তা‘আলা - ফেরেশতা - মৃত্যু)
ছাত্রদের মধ্যে একজনকে বোর্ডে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য বেছে নিন এবং যদি সে ভুল করে থাকে, তাকে বই থেকে হাদীস পড়তে বলুন এবং সঠিকভাবে তা লিখা শিখতে বলুন এবং বোর্ডে আবার তা লিখতে বলুন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তাদের নিজের থেকে চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ করুন এবং তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করতে বেছে নিন এবং তাদের মাঝে তুলনা করুন এবং সবচেয়ে সঠিক উত্তরটি প্রকাশ করুন।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
পাঠে ছাত্ররা যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে তাদেরকে নির্দেশ দিন। আর তা এই নিয়মে:
প্রত্যেক ছাত্র হাদীস থেকে যে নির্দেশনা শিখেছে তা প্রয়োগ করতে আগ্রহী হওয়া, বিশেষ করে যা আল্লাহ তা‘আলার সাথে সুধারনা পোষণ করার সঙ্গে সম্পর্কিত, সাথে আমলকে সুন্দর করা এবং আল্লাহর নৈকট্য হাসিল করা এবং তার সাওয়াব ও পুরুস্কার লাভের আশায় তাঁর আনুগত্য করা।
প্রতিটি ছাত্রের তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যে আচরণগুলো আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারনার সাথে সাংঘর্ষিক তা নিয়ে পর্যালোচনা করা, এর কারণ এবং কীভাবে এই ব্যক্তিদের শিক্ষিত এবং গাইড করা যায় সে সম্পর্কে সংলাপ করা।
ষষ্ঠ পাঠ: এমন সাতজন যাদেরকে আল্লাহ তার ছায়ায় ছায়া দেবেন।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
নতুন শব্দমালা: (ظِلِّهِ - دعتْهُ - فاضت عيناه) (তার ছায়া - সে তাকে ডেকেছে - তার চোখ অশ্রুতে ভরে গেল)
শিক্ষা সামগ্রী:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - হোয়াইটবোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
শিক্ষার কৌশল:
(المُنظِّمات المُتقدِّمة:পাঠ পরিচিতিমূলক আকর্ষণিয় ভূমিকা - الخرائط الدلالية:চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণ -التعلُّم التعاوني: সমবায় শিক্ষা)।
القيم والاتجاهات :দলিয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o ঈমান আনা, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তাঁর আনুগত্যকারীদের আলাদা করবেন এবং সকল সৃষ্টির সামনে তাদেরকে সম্মানিত করবেন।
o মুমিনদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার সম্মান অনুভব করা এমন আমলের মাধ্যমে যা তাদের জন্য কেয়ামতের ভয়াবহতা হালকা করবে।
o যৌবনের স্তরকে আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত করতে আগ্রহী হওয়া।
o দান ও মসজিদ আবাদ করার ক্ষেত্রে ইখলাসের ফজিলতকে মূল্যায়ন করা।
o পরকালে মহান প্রতিদানের আশায় নিষিদ্ধ প্রবৃত্তিকে পরিহার করা।
পাঠের ভূমিকা:
المُنظِّمات المُتقدِّمة:পাঠ পরিচিতিমূলক আকর্ষণিয় ভূমিকা পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নের পরিস্থিতি এবং তার পরবর্তী প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করতে পারেন। তিনি তাদের উত্তরগুলো অবগত হবেন এবং তার ভেতর ব্যতিক্রমটি বোর্ডে লিখবেন এবং তাদেরকে পাঠটি ভালভাবে পড়ার জন্য সতর্ক করবেন। কারণ এর মাধ্যমে তারা নিজেরাই সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে পারবে।
(মুহাম্মদ মসজিদে সালাত পড়তে আগ্রহী এবং সে তার শহরের লোকদেরকে গরীবদের মধ্যে সাদকাহ বিতরণে সাহায্য করেন। তখন মসজিদের ইমাম তাকে বললেন: খুব ভালো করেছেন, মুহাম্মদ। আমি আল্লাহ তা‘আলার কাছে প্রার্থনা করি যে আপনি তাদের মধ্যে থাকবেন যাদেরকে মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাঁর আরশের ছায়ায় ছায়া দেবেন। মুহাম্মদ বললেনঃ হে আমার শায়খ, এই কথার অর্থ কী? এবং আরশের অর্থ কী?)
শিক্ষক বোর্ডে পাঠের শিরোনাম লিখবেন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
শিক্ষক ছাত্রদেরকে হাদীস শরীফটি দেখতে এবং তা নীরবে পাঠ করতে বলবেন।
কম্পিউটারের মাধ্যমে শিক্ষক হাদীস শরীফটি উপস্থাপন করবেন এবং তাদেরকে তা পড়ে শোনাবেন। আর তা থেকে কঠিন শব্দ বের করবেন তারপর তা তাদের কাছে ব্যাখ্যা করবেন।
কিছু ছাত্রকে তাদের সহপাঠীদের সামনে সঠিকভাবে হাদীসটি পড়তে বেছে নিবেন এবং তিনি তাদের পড়া সংশোধন করে দিবেন।
ধাপ নং (২)
শিক্ষক ছাত্রদেরকে হাদীসের বর্ণনাকারীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন (তার নাম, উপনাম, জীবন, গুণাবলী এবং মৃত্যু)।
একজন ছাত্রকে সে হাদীসের বর্ণনাকারী সম্পর্কে যা শিখেছে তা তার নিজস্ব নিয়মে প্রকাশ করতে বেছে নেওয়া হবে।
ধাপ নং (৩)
الخرائط الدلالية:চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণ পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক হাদীস শরীফটি ব্যাখ্যা ও উপস্থাপন করবেন।
পাঠের মূল চিন্তাকে অন্তর্ভুক্তকারী একটি স্পষ্টকরণ চিত্র উপস্থাপন করবেন এবং শিক্ষার্থীরা তা নিয়ে আলোচনা করবে, আর তা হলো: (যাদেরকে কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তার ছায়ায় ছায়া দেবেন)
তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে এই ধারণাটি এবং তার সাথে হাদীসের সম্পর্কটা ব্যাখ্যা করবেন এবং তারা কী জানতে ও বুঝতে চায় সে সম্পর্কে তাদের প্রশ্নগুলো গ্রহণ করবেন।
ধাপ নং (৪)
সমবায়মূলক শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করে ছাত্রদের প্রতিটি দলকে সেই সাতজন ব্যক্তির কর্ম এবং গুণাবলী সনাক্ত করার দায়িত্ব দিন যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা ছায়া দিবেন এবং ছাত্রদেরকে অনেক এবং বৈচিত্রপূর্ণ উত্তর প্রদানে উত্সাহিত করুন।
প্রতিটি গ্রুপ নেতা তার গ্রুপের ফলাফলগুলো উপস্থাপন করবে এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবে, প্রতিটি গ্রুপ অন্য গ্রুপের উত্তর থেকে যা শিখেছে তার আলোকে তার উত্তরটি সম্পূর্ণ করবে।
ফলাফলে পৌঁছা:
কিছু ছাত্রকে বাছাই করুন, তাদের প্রত্যেককে হাদীস থেকে তারা যে দিকনির্দেশনা ও ফায়দাগুলো শিখেছে এবং কীভাবে তা তাদের জীবনে প্রয়োগ করতে হবে, তা তাদের নিজেদের ভাষায় প্রকাশ করতে বলুন। তারপর তাদেরকে উপযুক্ত মতামত প্রদান করুন।
অনুশীলনসমূহ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, গুণগুলোকে কীভাবে সংযুক্ত করতে হয় সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দান করা।
উদ্দেশ্য নং ৩
আপনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করুন যাতে নিম্নলিখিত অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত থাকে, তারা উত্তর দেওয়া শেষ করার পরে আপনি কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সেগুলো সংশোধন করুন, তারপর সেরা উত্তরগুলো চয়ন করুন এবং তার সাথে তাদের কে জানিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে তা উপস্থাপন করুন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিত, আল্লাহ তা‘আলার মহব্বতের ফজিলতের বর্ণনা।
উদ্দেশ্য নং ২,৩
ছাত্রদের দুটি দলে বিভক্ত করুন, প্রথমটিকে হাদীস শরীফ পড়া এবং তা পুনরাবৃত্তি করার জন্য দায়িত্ব দিন এবং দ্বিতীয়টিকে মৌখিকভাবে অনুশীলনের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব দিন। আর আপনি তাদের প্রত্যেককে অনুসরণ করবেন এবং গাইড করবেন।
তারপরে দুটি গ্রুপ কাজগুলো বদল করবে এবং দ্বিতীয় দলটি মুখস্থ করবে আর প্রথম দলটি তাদের সংশোধন করবে। শিক্ষক তাদের পর্যবেক্ষণ করবে এবং নির্দেশনা দিবে।
মূল্যায়ন
আপনি মূল্যায়নের প্রশ্নের উত্তর দিতে নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
শিক্ষার্থীদের মাঝে কার্ডগুলো বিতরণ করুন, যার মধ্যে কিছুতে "হ্যাঁ" শব্দ রয়েছে এবং যার মধ্যে কিছুতে "না" শব্দ রয়েছে, তারপরে প্রথম প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যগুলো পালাক্রমে উপস্থাপন করুন, যাতে শিক্ষার্থীরা বাক্যের জন্য উপযুক্ত কার্ড উত্থাপন করেন, এবং তাতে ভুল নিয়ে আলোচনা করার জন্য ভুলকারীকে চিহ্নিত করুন।
চারজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন যেন তাদের প্রত্যেকে দ্বিতীয় প্রশ্নে উল্লিখিত একটি অংশের উত্তর প্রদান করে। তাদের মধ্যে কেউ ভুল করলে, তাকে বই থেকে সঠিক উত্তর বের করার জন্য নির্দেশ দিন।
প্রতিটি শিক্ষার্থী পৃথকভাবে তৃতীয় এবং চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং তাদের মধ্যে কাউকে তাদের উত্তরগুলো পড়তে বেছে নিন, যেন তাদের সহপাঠীরা তাদের মূল্যায়ন করে এবং ভুলের ক্ষেত্রে তাদের সঠিক উত্তর জানিয়ে দিন।
প্রশ্ন ১: (হ্যাঁ) - (না) - (না) (হ্যাঁ) - (না)
প্রশ্ন ২: বিচারকমন্ডলী - পূত-পবিত্রতা - আল্লাহ তা‘আলার ভয়।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের জীবনে ও তাদের আদান-প্রদানে পাঠে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যে নিজের জীবনকে চালিত করার বিষয়ে সতর্কীকরণ এবং পাঠে উপস্থাপিত পদ্ধতিগুলোর সাহায্য গ্রহণ করা এবং আলিমদের থেকে পরামর্শ গ্রহণ করে ব্যক্তিগতভাবে বা সমষ্টিগতভাবে সেগুলো প্রয়োগ করার চেষ্টা করা।
ইউনিট: বিধিবিধানের ফিকহ
প্রথম পাঠ: পবিত্রতা ও ওজুর বিবরণ
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
নতুন শব্দমালা: (الحدث الأكبر - الحدث الأصغر - شَطْرُ). (বড় নাপাকি - ছোট নাপাকি - অর্ধেক)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
শিক্ষার কৌশল:
(الأسلوب القصصي:গল্প শৈলী পদ্ধতি - المُنظِّمات المُتقدِّمة:পাঠ পরিচিতিমূলক আকর্ষণিয় ভূমিকা - التعلم بالاكتشاف:নতুন তথ্য বের করণ -تمثيل الدور: অভিনয় পদ্ধতি)।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o পবিত্রতা ও ওযুর ফজিলত মূল্যায়ন করা।
একজন মুসলিমের জীবনে পবিত্রতার গুরুত্ব অনুভব করা।
অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায় এমন সব কিছু এড়িয়ে চলা।
পাঠের ভূমিকা:
আপনি ছাত্রদের সামনে নিম্নলিখিত পরিস্থিতি উপস্থাপন করে পাঠের জন্য ভূমিকা উপস্থাপন করতে পারেন: (ইব্রাহিম এমন একটি পোশাকে সালাত পড়েছিলেন যা তার তৃতীয় বছরে উপনীত হওয়া ছেলের প্রস্রাবের কারণে অপবিত্র হয়ে গিয়েছিল। কাজেই তার সালাতের হুকুম কী?)
তারপর আপনি তাদের সাথে তাদের উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন এবং তাদের সাথে পাঠের বিষয়ে গিয়ে পৌঁছান তারপর তা বোর্ডে লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
পরিচিতিমূলক আকর্ষণিয় ভূমিকা পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি কম্পিউটারে মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একটি ডায়াগ্রাম দেখাতে পারেন যাতে পাঠের সাব-কম্পোনেন্ট সমন্বিত একটি সূচীপত্র অন্তর্ভুক্ত থাকে।
তাদেরকে চিত্রটি বিবেচনা করতে বলুন এবং তার জন্যে একটি উপযুক্ত শিরোনাম দিন।
পরিচিতিমূলক আকর্ষণিয় ভূমিকা দ্বারা উপস্থাপিত ওযুর আমল সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা পূর্বের যে জ্ঞানের অধিকারী তা তাদের কাছ থেকে অবগত হন এবং কেউ কি এই কর্মগুলো সাজাতে ভুল করেছে? এবং সে কি করেছে?
ধাপ নং (২)
নতুন তথ্য বের করণ পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদেরকে নিম্নলিখিত বাক্যগুলো দেখান এবং যা কিছু তার ওপর প্রমাণ বহন করে তা দিয়ে সেগুলো সম্পূর্ণ করুন।
তাদের উত্তর জানার পর তাদেরকে পবিত্রতার গুরুত্ব ও তার ফযীলত ব্যাখ্যা করুন:
ইসলাম সর্বাবস্থায় পবিত্রতার দিকে আহ্বান জানায়; কারণ তার স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক অনেক উপকারিতা রয়েছে। আর সালাতের বিশুদ্ধতার জন্য দুটি শর্ত করা হয়েছে... তা কী?
তা হলো পাপের কাফফারা এবং ঈমানের অর্ধেক... সেটা কী?
পুরো শরীর ধৌত(গোসল) করার দ্বারা হয় এবং অজুর দ্বারা হয়... এটা কী?
ধাপ নং (৩)
অভিনয়ের ভূমিকা পালনের পদ্ধতি ব্যবহার করে একজন ছাত্র অযু করে দেখাবে আর বাকি সহপাঠীরা তাকে পর্যবেক্ষণ করবে ও তাকে মূল্যায়ন করবে।
তারপরে শিক্ষক প্রত্যেকের উপর মন্তব্য করেন, ঘটে যাওয়া নেতিবাচক বিষয়গুলি প্রদর্শন করবেন, তারপরে অভিনয়ের অবস্থানটি কী উদ্দেশ্যে করেছিল তার একটি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করবেন। একটি বোর্ডের মাধ্যমে যার মধ্যে রয়েছে (অযুর সঠিক বৈশিষ্ট্য)।
ফলাফলে পৌঁছা :
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের একটি অনুচ্ছেদ লিখতে নির্দেশ দিবেন যাতে তারা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা অন্তর্ভুক্ত করবে।
তারা যা লিখেছে তা আল-কুরআনুল কারীম এবং নবীর সুন্নাতে যা এসেছে তার দ্বারা শক্তিশালী করবে, তারপর শিক্ষক কিছু ছাত্রকে বেছে নিবেন যা লেখা হয়েছে তা পড়তে এবং মন্তব্য করতে, যেন তার বিশুদ্ধতা এবং তাদের বিষয় বস্তু বুঝা নিশ্চিত হয়।
অনুশীলনসমূহ
ছাত্রগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিবেন , নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, অজুর মুস্তাহাব অবস্থাগুলো অনুসন্ধান করা।
উদ্দেশ্য নং ২
প্রথম অনুশীলনের দু’টি প্রশ্ন পড়ার জন্যে শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিবেন ।
প্রশ্ন দু’টির অর্থ ও তার নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করবেন । তারপর দু’জন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে তার উত্তর প্রদানে একে অপরকে সহযোগিতা করবে।
তিনি প্রত্যেক দলের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য প্রতিটি দল থেকে একজনকে বেছে নিবেন এবং উত্তরগুলোর মাঝে তুলনা করে কোনটি সবচেয়ে সঠিক তা নির্ধারণ করবেন।
(সালাতের পূর্বে - মুসহাফ স্পর্শ করার পূর্বে)
(আল্লাহ তা‘আলার জিকিরের সময় - ঘুমের সময়)
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, সঠিকভাবে অযু করার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ।
উদ্দেশ্য নং ৪
শিক্ষক একটি কার্ডের সেটে অনুশীলনে উল্লিখিত বাক্যগুলো লিখবেন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এলোমেলোভাবে কার্ডগুলোর মধ্যে একটি বেছে নিতে বলা হবে।
শিক্ষক কার্ড যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ছে তা স্পষ্ট ও শ্রবণযোগ্য কণ্ঠে শিক্ষার্থীদের কাছে পড়বেন।
বাক্যটি ব্যাখ্যা করবেন এবং সঠিকভাবে অযু বাস্তবায়ন করার যে নির্দেশনা তাতে রয়েছে তা খুঁজে বের করবেন।
সঠিক উত্তর অবগত হওয়ার জন্যে তার সহপাঠীদের সুযোগ দিন।
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, পাঠ্যগুলোর মাঝে কীভাবে লিঙ্ক করতে হয় সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
উদ্দেশ্য নং ৩
প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করুন যাতে নিম্নলিখিত অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত থাকে। উত্তর দেওয়া শেষ করার পরে আপনি কার্ডগুলো সংগ্রহ করে সংশোধন করুন। তারপর সেরা উত্তরটি চয়ন করুন এবং সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দিতে তা উপস্থাপন করুন।
মূল্যায়ন
আপনি নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিতে পারেন:
শিক্ষার্থীদেরকে নোটবুকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলুন।
শিক্ষার্থীদের নোটবুকগুলো সংগ্রহ করুন এবং মৌখিকভাবে প্রশ্ন করুন, যাতে তারা তার সমাধান পেশ করে।
তাদেরকে যথাযথ সমর্থন দিন, তারপর নোটবুকগুলো সংশোধন করুন এবং প্রতিটি প্রশ্নের জন্য উপযুক্ত নাম্বার দিন।
প্রশ্ন ১: - - -।
প্রশ্ন ২: অযুর কর্মসমূহ শ্রেণীমত মুখমন্ডল ধৌত করা ৫ কুলি করা 3 কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করা। ৬ নাকে পানি টেনে নেওয়া এবং তা ঝেড়ে ফেলা। ৪ দুই কান মাসেহ করা ৮ দুই পা ধৌত করা ৯ মাথা মাসেহ করা ৭ দুই কব্জি ধোয়া ২ নিয়ত করা এবং বিসমিল্লাহ বলা ১
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
নিচের নিয়মে শিক্ষার্থীগণ তাদের পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে এবং আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন:
প্রস্তাব করা হলো , আপনি প্রত্যেক শিক্ষার্থী কে বিষয়গুলো থেকে যা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখেছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতে এবং তার পরিবার ও তার আশেপাশের লোকদেরকে তা জানাতে বলুন।
দ্বিতীয় পাঠ: তায়াম্মুম করা এবং দেয়ালের উপর মাসেহ করা
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
নতুন শব্দমালা: (التيمُّم - الخُفَّين - الجبيرة) (তায়াম্মুম - মোজা - বেন্ডেজ)
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
শিক্ষাদানের কৌশল:
(الأسلوب القصصي:গল্প শৈলী - إنتاج الأسئلة:প্রশ্ন তৈরী - الأمثلة الموجبة :ইতিবাচক উদাহরণ এবংالأمثلة السالبة:নেতিবাচক উদাহরণ)।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
• বিশেষ ওজর সম্পন্ন ব্যক্তিদের ওপর শরীয়তের সহজীকরণকে মূল্যায়ন করা।
একজন মুসলিমের জীবনে পানির গুরুত্ব অনুভব করা।
• ইসলামের মহত্ব এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার প্রতি তার আহ্বানকে সম্মান করা।
অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায় এমন সব কিছু এড়িয়ে চলা।
পাঠের ভূমিকা:
আপনি একটি ফ্ল্যাশকার্ডে শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত দুটি মডেল দেখিয়ে পাঠটি চালু করতে পারেন:
(ইব্রাহিম প্রচন্ড শীতের আবহওয়ায় ওযু করার সময় তার মোজার উপর মাসেহ করেই যথেষ্ট করে।)
(মুহাম্মদের হাত ভেঙ্গে গিয়েছিল, তাই তিনি ডাক্তারের কাছে গেলে এটিকে একটি শক্তিশালী উপাদান দিয়ে ঢেকে দিয়েছেন যা ত্বকে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাই যখনই তিনি ওযু করতে চান, তার উপর মাসেহ করেন।) তারপর আপনি তাদের কে জিজ্ঞাসা করুন প্রথম দৃষ্টান্তে ইব্রাহীম যা করেছিল সে সম্পর্কে , দ্বিতীয় দৃষ্টান্তে এই উপাদানটিকে কী বলা হয় এবং তার উপর মাসেহ করার হুকুম কী। তারপর আপনি তাদের নিয়ে পাঠের বিষয়ে আসেন এবং বোর্ডে তার শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
শিক্ষার্থীদের পাঠটি কে যাচাই বাছাই করতে এবং তার উপাদানগুলো ও বিষয়বস্তুর সাথে নিজেকে পরিচিত হতে নির্দেশ করুন। তারপরে তাদের দুজনকে যৌথভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করার দায়িত্ব দিন যার উত্তর পাঠের বিষয়বস্তু থেকে দেওয়া যেতে পারে।
ছাত্রদের প্রশ্নগুলো গ্রহণ করুন, তার শব্দগুলো পুনরায় লিখুন এবং আলোচনা, স্পষ্টকরণ ও উত্তর দেওয়ার জন্য তাদের সামনে ঝুলানো একটি বোর্ডে তা লিখুন।
এই প্রশ্নগুলোকে আরও কিছু প্রশ্ন দিয়ে সমৃদ্ধ করা যেতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রশ্নঃ তায়াম্মুম বলতে কী বুঝায়?
প্রশ্নঃ কোন কোন কারণ একজন মুসলিমকে তায়াম্মুম করার অনুমতি দেয়?
প্রশ্নঃ তায়াম্মুম করার সঠিক পদ্ধতি বর্ণনা কর।
প্রশ্নঃ খাঁটি শরীয়ত ওযুর সময় মোজা ও বেন্ডেজের ওপর ধোয়ার পরিবর্তে মাসেহ করার অনুমতি দিয়েছে, তবে কয়েকটি শর্তে। এটা ব্যাখ্যা করুন।
ধাপ নং (২)
শিক্ষার্থীদের সাথে পূর্বের প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করুন।
এ ক্ষেত্রে আপনি একটি ডিসপ্লে স্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন, যার মাধ্যমে তিনটি রুখসাতের প্রতিটি (তায়াম্মুম - মোজা এবং বেন্ডেজের (স্প্লিন্টের) উপর দিয়ে মাসেহ) পালাক্রমে প্রদর্শিত হবে ।
সেই সব রুখসত প্রমাণ করে এমন কিছু স্পষ্টকারী ছবি প্রদর্শন করুন এবং প্রতিটি রুখসত উপস্থাপন করার সময় কুরআন ও নবীর সুন্নাহ থেকে তার সাথে সম্পর্কিত শরয়ী প্রমাণগুলো ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণসহ আলোচনা করা হবে।
এই প্রমাণগুলো কী নির্দেশ করে তা ব্যাখ্যা করার জন্য ছাত্রদের নির্দেশনা দেওয়া এবং এটিকে ইসলামী শরীয়তের সাথে সংযুক্ত করা।
ধাপ নং (৩)
শিক্ষক ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণের পদ্ধতি ব্যবহার করে সহযোগিতা নিতে পারেন।
পাঠে তায়াম্মুম ও বেন্ডেজের ওপর মাসেহ সংক্রান্ত বর্ণিত বিধানাবলীর সাথে পার্থক্য করা এবং তার মাঝে মিল বা অমিলের পরিধি বর্ণনার জন্যে শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নের অবস্থানসমূহ উপস্থাপন করা হবে; তন্মধ্যে হলো:
এক ব্যক্তি বিশ্বাস করে, তায়াম্মু দুই হাত দিয়ে একাধিকবার মাটিতে আঘাত করার মাধ্যমে হয়।
অপরাগদের সহজীকরণের জন্য তায়াম্মুমের রুখসত গ্রহণ করা প্রয়োজন বিষয়ে এক ব্যক্তি পরামর্শ দিয়েছেন।
কিছু লোক তাদের মোজার ওপর মাসেহ করতে অস্বীকার করেন যাতে লোকেরা এতে অভ্যস্ত না হয়।
একজন মোজা পরে সালাত পড়তে পারেন যতক্ষণ না সে মোজার ওপর মাসেহ করার সময় অতিক্রম না করে।
এক ব্যক্তি বেন্ডেজের ওপর মাসেহ করতে নিষেধ করলেন; এই ভিত্তিতে যে বেন্ডেজের কারণে ঐ ব্যক্তির ওপর ওযু নেই।
ফলাফলে পৌঁছা:
পাঠ সম্পর্কে যে সব উপাদান তারা আশা করেছিল শিক্ষক তা মুরাজায়া করার নির্দেশ দিবেন।
তারা প্রত্যেকে একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যে মন্তব্য করবে, পাঠটি কীভাবে ঐসব উপাদানকে পূরণ করেছে এবং যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ছাড়া আর কোন নতুন বিষয় ও উপাদান তারা শিখেছে।
শিক্ষক কিছু ছাত্রকে বেছে নিবেন যাতে তারা প্রত্যেকে তায়াম্মুম এবং বেন্ডেজের ওপর মাসেহ করা সম্পর্কিত যা বুঝেছে তা থেকে একটি ফায়দা সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করে ।
অনুশীলনসমূহ
ছাত্রগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করতে তাদের নির্দেশ দেওয়া উচিত, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, শিক্ষার্থীদেরকে দুটি জিনিসের মধ্যে চিন্তা এবং পার্থক্য করার প্রশিক্ষণ দেওয়া।
উদ্দেশ্য নং ৩
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কে অনুশীলনে নোটবুক খুলতে বলবেন এবং এটি পড়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিবেন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নোটবুকের অনুশীলন সংশ্লিষ্ট প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ করুন।
তাদের কতককে উত্তরগুলো মৌখিকভাবে উপস্থাপন করতে বেছে নিন এবং সেগুলো নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন । তারপর যে সঠিক এবং অভিব্যক্তিপূর্ণ উত্তর দিতে এবং সঠিকের কারণ ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হবে তার প্রশংসা করুন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, শিক্ষার্থীদের মোজার ওপর মাসেহ করার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
উদ্দেশ্য ৩
ছাত্রদের সামনে অনুশীলনে থাকা হাদিসটি পেশ করুন, এটি সুন্দরভাবে পড়ুন, তারপর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অনুশীলনের একটি উত্তর অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দিন। শেষ করার পরে তারা কী লিখেছে তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন এবং তাদের সাথে সঠিক উত্তরে পৌঁছান। তারপরে সঠিক উত্তরটি বোর্ডে লিখুন যেন তারা তা তাদের নোটবুকে স্থানান্তর করে।
অনুশীলন২: ভ্রমণকারীর (মুসাফিরের) জন্য তিন দিন তিন রাত এবং অবস্থানকারীর জন্য এক দিন এক রাত।
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, মোজা এবং বেন্ডেজের উপর মাসেহ করা বাস্তব প্রয়োগ করুন।
উদ্দেশ্য নং ৪
ছাত্রদের দলে দলে বিভক্ত করুন, যাতে প্রতিটি দল তাদের সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে তাদের সামনে মোজা এবং বেন্ডেজের ওপর মাসেহ প্রদর্শনের জন্য বেছে নেয়।
প্রতিটি গ্রুপ এবং সেরা উত্তর প্রদানকারী বিজয়ী গ্রুপকে মূল্যায়ন করুন।
মূল্যায়ন
আপনি নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
শিক্ষার্থীদের কে প্রথম প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন এবং তাদের মধ্যে থেকে পাঁচজনকে এলোমেলোভাবে বেছে নিন যাতে তাদের প্রত্যেকে তাদের সহপাঠীদের পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা সহ প্রশ্নের উপাদানসমূহ থেকে একটির উত্তর দেয়।
প্রশ্ন ১: - - -
তিনজন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে এবং প্রতিটি দল তার উত্তর অন্য দলের সাথে মূল্যায়ন করার জন্য বিনিময় করবে। শিক্ষক প্রতিটি দলকে অন্য দল কে যা প্রকাশ পেয়েছে এমন ত্রুটিগুলো উপস্থাপন করার সুযোগ দিবেন। তারপর তাদেরকে সঠিক উত্তর সম্পর্কে জানাবেন।
শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করুন এবং তাদের মধ্যে তিনজনকে এটির উত্তর দিতে বেছে নিন৷ যদি তারা ভুল করে এবং তুলনাটি উল্লেখ করতে অক্ষম হয়, তাহলে নিজে নিজে পাঠের বিষয়বস্তু থেকে এটি বের করার জন্য তাদের নির্দেশ দিন৷
দুইজন শিক্ষার্থীকে চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে বেছে নিন এবং অন্য দুজনকে তাদের সহপাঠীর উত্তর মূল্যায়ন করতে বেছে নিন। আর তাদের প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্বের প্রতি নির্দেশনা দিন, নিচের নিয়ম অনুসরণ করে:
প্রতিটি ছাত্র যেসব ক্ষেত্রে তায়াম্মুম করা বৈধ তা অনুসন্ধান করবে, যেন বাস্তবে তার পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগের পরিমাণ স্পষ্ট হয়। আর তাদের আবিষ্কারে কিছু নেতিবাচক দিক স্পষ্ট হলে তারা সঠিক নিয়মগুলো প্রয়োগ করার উপায়গুলো সন্ধান করতে পারবে, যেমন: সোশ্যাল মিডিয়ার পেজগুলোতে নির্দেশনা লেখা বা মসজিদের ইমামকে সঠিক অর্থ, শর্তসমূহ ও সঠিক পদ্ধতির আলোকে তায়াম্মুম ও বেন্ডেজের ওপর মাসেহ করা সম্পর্কে কথা বলতে বলা।
মোজার ওপর মাসেহ করার বিধান এবং বেন্ডেজের ওপর মাসেহ করার বিধানের মধ্যে পার্থক্য করতে শিক্ষার্থীদের প্রতি নির্দেশিকা।
তৃতীয় পাঠ: গোসল
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দামালা: (الغُسل- الحيض- النفاس - المنيّ) (গোসল- ঋতুস্রাব- প্রসবোত্তর স্রাব- বীর্য)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
শিক্ষাদানের কৌশলসমূহঃ
(সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি- "আমি জানি”কৌশল - ”আমি জানতে চাই”পদ্ধতি - আমি K.W.L শিখেছি"পদ্ধতি - ব্রেনস্টর্মিং (বুদ্ধিমত্তার গ্রুপ ভিত্তিক সমাধান) পদ্ধতি)।
القيم والاتجاهات :দলিয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
• পরিচ্ছন্নতার প্রতি শরিয়তের গুরুত্বের মুল্যায়ন করা।
• সর্বদা পবিত্রতার ওপর আগ্রহী থাকা।
অপবিত্রতার দিকে নিয়ে যায় এমন সব কিছু এড়িয়ে চলা।
পাঠের ভূমিকা:
আপনি ছাত্রদের নিম্নলিখিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে পাঠ শুরু করতে পারেন: আপনি যদি এমন একজন অপরিষ্কার ব্যক্তিকে যার থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে দেখেন, তখন আপনার কেমন লাগবে? এতে আপনি কষ্ট পাবেন কোনো সন্দেহ নেই। একজন মুসলিমের পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার প্রতি ইসলামের আগ্রহ এবং অন্যকে কষ্ট না দেওয়ার প্রেরণা থেকে তার জন্য গোসল অনুমোদন করা হয়েছে। অতএব গোসল কী? তার বিধান কী? এটি আমরা আমাদের পাঠে শিখব। তারপর আপনি বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
যে কৌশল এখানে ব্যবহার করার পরামর্শঃ (আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি)।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার নোটবুকের একটি পৃষ্ঠাকে তিনটি ভাগে ভাগ করতে বলুন।
প্রথম অংশে গোসলের সংজ্ঞা এবং তার অবস্থা সম্পর্কে যে তথ্য জানে তা লিখবে। দ্বিতীয় অংশে গোসলের গুরুত্ব সম্পর্কে যা জানতে চায় তা লিখবে। আর তৃতীয় অংশটি ফাঁকা রাখবে।
কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের পূর্ববর্তী জ্ঞান এবং পাঠ থেকে তারা কী শিখতে চায় তা উপস্থাপন করতে বেছে নিন, তাদের উপর মন্তব্য করুন এবং তাদের মধ্যে পার্থক্যের পরিমাণ স্পষ্ট করুন।
তাদের সামনে পাঠের উপাদানগুলো দেখান যাতে তারা বিবেচনা করতে পারে এবং তারা যা লিখেছে তার সাথে তুলনা করে।
ধাপ নং (২)
প্রস্তাব হলো, কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের সহপাঠীদের কাছে পাঠটি উচ্চস্বরে পড়ার জন্যে বেছে নিন।
প্রতিটি অনুচ্ছেদ পড়া শেষ করার পরে কঠিন শব্দগুলোর অর্থের ব্যাখ্যা সহ স্পষ্ট করা হবে।
ব্রেনস্টর্মিং (বুদ্ধিমত্তার গ্রুপ ভিত্তিক সমাধান ) কৌশল ব্যবহার করে প্রতিটি গ্রুপকে গোসলের বিবরণ এবং তার প্রকারগুলো স্পষ্ট করার দায়িত্ব দিন।
প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজনকে বেছে নিন তাদের ফলাফল উপস্থাপন করতে এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
ফলাফলে পৌঁছাঃ
প্রতিটি ছাত্রকে তার নোটবুকের তৃতীয় অংশটি যা সে পাঠ থেকে শিখেছে তার সাথে সম্পর্কিত তা সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিন।
পাঠ থেকে যা শিখেছে এবং যা উপকৃত হয়েছে তা সংক্ষিপ্ত আকারে লিখবে।
তারা যা লিখেছে তা তাদের সহপাঠীদের কাছে পড়ার জন্যে তাদের মধ্যে তিনজনকে বেছে নিন, যেন তাদের প্রত্যেকে তৃতীয় অংশে যা লিখেছে তার উপর মন্তব্য করেন এবং পাঠ শেখার আগে ও পরে তার উত্তরগুলো তুলনা করে।
অনুশীলনসমূহ
ছাত্রগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, কীভাবে সঠিকভাবে গোসল করা যায় সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
উদ্দেশ্য নং ২
ছাত্রদের সামনে অনুশীলনে থাকা অংশটি পেশ করুন। সেটি সুন্দরভাবে চিন্তা করুন, তারপর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অনুশীলনের একটি উত্তর অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দিন। শেষ করার পরে তারা কী লিখেছে তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন এবং তাদের সাথে সঠিক উত্তরে পৌঁছান। তারপরে সঠিক উত্তরটি বোর্ডে লিখুন যেন তারা তাদের নোটবুকে স্থানান্তর করেন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিত, গোসলের কারণগুলো শিখুন।
উদ্দেশ্য নং ৩
প্রতি দুই শিক্ষার্থীকে অনুশীলনে উল্লিখিত দুটি পাঠ সম্বলিত একটি কার্ড বিতরণ করুন এবং দুটি পাঠ থেকে তারা যেমন বুঝেছে তার আলোকে গোসলের কারণসমূহ বের করতে পরস্পরকে সহযোগিতা করতে বলুন। তারপর কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন ও তা মূল্যায়ন করুন এবং তার থেকে ভুলগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করুন যাতে তারা নিজেরাই সেগুলো সংশোধন করতে পারে এবং তাদের থেকে যারা উত্তরে কোনো ভুল করেনি তাদের প্রশংসা করুন।
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, গোসলের মুস্তাহাবগুলো শেখা।
উদ্দেশ্য ৪
ছাত্রদের মধ্যে একজনকে সহপাঠীদের কাছে অনুশীলনটি পড়ার জন্য বেছে নিন, তারপর তাদের সাথে এটি নিয়ে আলোচনা করুন। এবার প্রতিটি ছাত্রকে পাঠ থেকে যা শিখেছে তা থেকে এমন দুটি অবস্থা উল্লেখ করতে বলুন, যাতে গোসল করা মুস্তাহাব।
মূল্যায়ন
আপনি নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থী পৃথকভাবে তাদের উত্তর দিবে, তারপর শিক্ষক বোর্ডে সঠিক উত্তর প্রদর্শন করবেন, তাদের প্রত্যেককে তার উত্তরের জন্য উপযুক্ত গ্রেড দিতে বলবেন এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করে তাদের গ্রেডগুলো জানবেন।
প্রশ্ন ১: - - -।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এককভাবে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী তার উত্তর একজন সহপাঠীর উত্তরের সাথে বিনিময় করবে যাতে তারা প্রত্যেকে অন্যের উত্তর সংশোধন করেন, আর আপনি প্রতিটি দলকে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং নির্দেশনা দিবেন।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক:
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করুন, নিচের নিয়ম অনুসরণ করে:
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, গোসল করা ও সুগন্ধি প্রয়োগের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।
প্রতিটি ছাত্রকে সঠিক গোসল প্রয়োগ করতে আগ্রহী করুন এবং গোসলের মুস্তাহাব অবস্থার প্রতি গুরুত্ব দিন।
চতুর্থ পাঠ: সালাতের মর্যাদা
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দমালা: (العَهْدُ - دَرَنه - حَزَبَهُ) (চুক্তি - ময়লার কিছূ - কঠিন কিছু)
শিক্ষাদান সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
শিক্ষাদানের কৌশল:
(العصف الذهني:বুদ্ধিমত্তার গ্রুপ ভিত্তিক সমাধান -الحوار والمناقشة : সংলাপ এবং আলোচনা - الخرائط الدلالية:চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণ)।
القيم والاتجاهات :দলিয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
• কুরআন ও সুন্নাহতে সালাতের মর্যাদা মূল্যায়ন করা।
• সময়মত সালাত আদায় করতে আগ্রহী হওয়া।
পাঠের ভূমিকা:
আপনি নিম্নলিখিত পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করে পাঠের ভূমিকা পেশ করতে পারেন: (হামজা তার শিক্ষককে বলল যে তিনি সর্বদা চিন্তা-টেনশন অনুভাব করেন, তাই তার শিক্ষক জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি নিয়মিত সালাত পড়? সে তাঁকে বলল: না। তাই তার শিক্ষক তাকে পরামর্শ দিলেন নিয়মিত সময়মত সালাত আদায় করুন।) সুতরাং চিন্তা-টেনশন অনুভাব করার সাথে সালাতের কী সম্পর্ক? এটি আমরা আমাদের পাঠে জানব। তারপর বোর্ডে পাঠের শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (২)
العصف الذهني:বুদ্ধিমত্তার গ্রুপ ভিত্তিক সমাধান পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দলে দলে ভাগ করুন
ছাত্রদের প্রতিটি দলকে সালাতের মর্যাদা ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব দিন।
প্রতিটি দল তাদের উত্তরগুলো একে অপরের সাথে তুলনা করার জন্য তাদের ফলাফলগুলো একটি পৃথক কাগজে লিখবে।
ধাপ নং (২)
সালাতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করার জন্য শিক্ষক বোর্ডে নিম্নলিখিত বাক্য লিখতে পারেন: (তা হলো আত্মার জন্য একটি স্বস্তি এবং উদ্বেগ দূরীকরণ,যেহেতু বান্দা আল্লাহর সামনে থাকা অবস্থায় তার উদ্বেগগুলো ভুলে যায়... তাহলে এটি কী?)
তিনি ছাত্রদেরকে এটিকে কী বলা হয় তা প্রকাশ করতে বলবেন এবং তাদের উত্তরগুলোকে সালাতের গুরুত্বের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি সূচনা বিন্দু হিসাবে গ্রহণ করবেন।
ধাপ নং (৩)
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের একটি الخرائط الدلالية:চিত্রের সাহায্যে শাব্দিক বিশ্লেষণের ম্যাপ দেখাবেন যা সালাতের মর্যাদা ব্যাখ্যা করবে।
শিক্ষক ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি মর্যাদাকে স্পষ্ট করবেন এবং প্রতিটি মর্যাদার সাথে সম্পর্কিত নববী হাদিস এবং তার ব্যাখ্যা ও তাফসীর উপস্থাপন করবেন।
শিক্ষক নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর দ্বারা নির্দেশিকা গ্রহণ করতঃ সেগুলো ছাত্রদের সামনে তুলে ধরতে পারেন। সালাতের মর্যাদা এবং এটি পরিত্যাগ বা অবহেলা করার বিপদ স্পষ্ট করার জন্যে ছাত্রদের সাথে তা নিয়ে আলোচনা করবেন:
প্রশ্নঃ ইসলামের ওপর দৃঢ় থাকার আলামত কী?
প্রশ্নঃ এমন একটি হাদীস উল্লেখ করুন যা ইঙ্গিত করে যে, কেয়ামতের দিন একজন বান্দাকে সর্বপ্রথম সালাতের ওপর জবাবদিহি করা হবে।
প্রশ্নঃ সালাত একজন মুসলিমকে পাপ থেকে দূরে রাখে এই কথার অর্থ কী তা ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্নঃ সালাত কিভাবে আত্মার জন্য আরামদায়ক হয়?
ফলাফলে পৌঁছাঃ
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তাদের বই থেকে পাঠের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবগত হতে নির্দেশ করুন।
পাঠের উপাদান এবং চিন্তাগুলোর প্রতি অনুসন্ধানী দৃষ্টি দিন।
শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে তিনটি শিরোনাম লিখতে বলুন। যা তারা পাঠ থেকে শিখেছে, তারপর তাদের উত্তরগুলো জানুন। তারপর বোর্ডে ব্যতিক্রমটি লিখুন যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের নোটবুকে স্থানান্তর করতে পারে।
অনুশীলনসমূহঃ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, মনের শান্তিতে সালাতের প্রভাব ব্যাখ্যা করা।
উদ্দেশ্য নং ২
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় অনুশীলনের উত্তর সম্পর্কে চিন্তা করতে বলুন এবং তারপর একটি পৃথক কাগজে এমন একটি পরিস্থিতি লিখবে যা তার নিয়মিত সালাত আদায় করার উপলক্ষ্য হয়েছে।
আপনি এমন কাউকে বেছে নিতে পারেন যিনি তার সহপাঠীদের কাছে তার অবস্থান পড়ে শুনাবেন এবং কারণ বর্ণনাসহ তারা তাদের নিজের মতামত প্রকাশ করবেন।
শিক্ষকের পর্যবেক্ষণ করা এবং তিনি তাদের সাথে বিষয়টি পুনরাবৃত্তি করবেন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, সালাতের ফযীলত এবং এই ফযীলত অর্জনের শর্তগুলোর বর্ণনা।
উদ্দেশ্য নং ২, ৪
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করুন। যা নিম্নলিখিত অনুশীলনকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং তাদের উত্তর দেওয়া শেষ হলে আপনি কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন। সেগুলো সংশোধন করুন, তারপর সেরা উত্তরগুলো চয়ন করুন এবং তার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে তা উপস্থাপন করুন৷
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, সালাত পরিত্যাগ করা বা তা পালনে অবহেলা করার ভয়াবহতার বর্ণনা।
উদ্দেশ্য নং ৩
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বাড়িতে অনুশীলনের উত্তর তৈরীর জন্য শিক্ষার একটি মাধ্যম ব্যবহার করতে বলুন।
তারপর পরবর্তী বৈঠকে কোনটি সঠিক তা খুঁজে বের করার জন্য তাদের উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন এবং যে সঠিক করেছে তাকে সমর্থন করুন এবং যে ভুল করেছে তাকে সংশোধন করুন।
মূল্যায়ন
আপনি নিম্নের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য সেখানে থাকা প্রতিটি অংশ (শিরোনাম) ধারাবাহিকভাবে ছাত্রদের কাছে পড়ুন। বাক্যটি সঠিক হলে শিক্ষার্থী হাত তুলবে আর আপনি শিক্ষার্থীদের উত্তর মূল্যায়ন করুন এবং তাদের সাথে সঠিক ও ভুল ব্যাক্য চিহ্নিত করুন।
প্রশ্ন ১: - -.
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার নিজের থেকে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী তার উত্তর একজন সহপাঠীর উত্তরের সাথে বিনিময় করবে, যাতে প্রত্যেকে অন্যের উত্তর সংশোধন করে। আর প্রত্যেক দলের জন্যে থাকবে আপনার পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা।
তৃতীয় প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যটি বোর্ডে লিখুন এবং সালাতের মর্যাদা এবং তার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ সম্পর্কে তিনটি লাইন লেখার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করার জন্যে কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন। আর তারা যা লিখেছে তার উপর মন্তব্য করুন এবং সেরাটিকে সমর্থন করুন।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীরা পাঠে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে এবং আচার-আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশনা দিন, এর মাধ্যমে:
সালাতের ওপর আগ্রহী হওয়ার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকনির্দেশনার অনুকরণ করা এবং পরিবার ও বন্ধুদের তা পালনে উত্সাহিত করা।
শিক্ষার্থীদেরকে এমন একটি চিত্রকর্ম (বোর্ড) তৈরিতে অংশগ্রহণ করার জন্য উৎসাহিত করা যা সালাত ত্যাগ করা বা তাতে অবহেলা করার কিছু ভয়াবহতা অন্তর্ভুক্ত করবে।
পঞ্চম পাঠ : সালাতের বিবরণ
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
নতুন শব্দমালা: (العورة - الخشوع - التورُّك) (সতর - বিনয়াবনতা - আত-তাওয়াররুক (বাম পা খাড়া রেখে ডান পা কে তার ভেতর দিয়ে ঢুকিয়ে নিতম্বকে মেঝেতে রেখে বসা)।
শিক্ষাদান সামগ্রী।
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
শিক্ষাদানের কৌশল: (تمثيل الأدوار:অভিনয়ের ভূমিকা পালন - التعلُّم التعاوني:সমবায় শিক্ষা -أسلوب التناظر: জোড়া পরিভষায় সামন্য সাদৃশ্য পদ্ধতি)।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
• সালাতে বিনয়াবনতার গুরুত্ব উপলব্ধি করা।
• হৃদয়ে আল্লাহ তা‘আলার মহিমা জাগিয়ে তোলা।
• সালাতে হতে পারে এমন ভুলগুলো এড়িয়ে চলা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের বলুন, সালাত আদায়ের পদ্ধতিতে মুসল্লিগণ বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকেন। সম্ভবত এর একটি কারণ হল সালাত আদায় করার সঠিক উপায় না শেখা, কাজেই এই পাঠটি সাবধানে চিন্তা করুন, যেন তাতে বর্ণিত সালাতের বিবরণ প্রয়োগ করতে পারেন।
তারপর বোর্ডে শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ নং (১)
ছাত্ররা পাঠের শিরোনাম এবং তার উদ্দেশ্য জানার আলোকে তাদের কাছে উপাদান সম্পর্কে তাদের সম্ভাব্য বিষয় এবং পাঠ অন্তর্ভুক্ত করতে পারে এমন কিছু চিন্তা উপস্থাপন করতে বলুন।
তারা কী উত্তর দেয় তা অবগত হন এবং ব্যতিক্রমটি বোর্ডে লিখুন।
ধাপ নং (২)
অভিনয় পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং একজন ছাত্রকে সালাতের একটি রাকাতে অভিনয় করতে বলুন, যেন বাকি সহপাঠী তার পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেন। তারপর আপনি তার ওপর মন্তব্য করুন।
ধাপ নং (৩)
শিক্ষক নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলো ছাত্রদের সামনে উপস্থাপন করবেন এবং সঠিকভাবে সালাত আদায় করার পদ্ধতির সাথে সবগুলো পরিস্থিতি থেকে কোন কোন পরিস্থিতির মিল রয়েছে তা নির্ধারণ করতে ”জোড়া পরিভষায় সামন্য সাদৃশ্য” পদ্ধতিতে তিনি তাদের সাথে আলোচনা করবেন। এবং এই পদ্ধতির সাথে তাদের বিস্তারিতভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এটিকে একটি সূচনা বিন্দু হিসাবে গ্রহণ করবেন:
মুসল্লি কাজের ব্যস্ততার অজুহাতে সালাতে তাড়াহুড়া করেন ।
এক ব্যক্তি সালাতে রুকু করার সময় ঝুঁকে না।
এক ব্যক্তি সালাতে সিজদা করার সময় ভালো করে কপাল মাটিতে রাখে না।
আহমাদ নিয়মিত সালাত আদায় করেন, কিন্তু তিনি আল-কুরআন এবং জিকিরগুলো চিন্তা না করে দ্রুত পড়েন।
ফলাফলে পৌঁছা :
শিক্ষক কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিবেন, যেন তাদের প্রত্যেকে সালাত সম্পর্কে যা শিখেছে তা সংক্ষিপ্তভাবে ব্যাখ্যা করে এবং তার সাথে সম্পর্কিত একটি উদাহরণ উপস্থাপন করে। তারপর ছাত্রদেরকে তাদের উত্তরগুলোতে মন্তব্য করার সুযোগ দিবেন।
অনুশীলনসমূহ
নিম্নোক্ত নিয়মে শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে সালাত আদায় করার প্রশিক্ষণ দেওয়া। উদ্দেশ্য নং ৪
আপনি ছাত্রদেরকে তাদের পরিবারের সাথে বাড়িতে নিম্নলিখিত অনুশীলনের পৃথকভাবে উত্তর দিতে বলতে পারেন এবং কী করা হয়েছিল তা লিখবেন। তারপর উত্তরগুলো আপনার সামনে উপস্থাপন করা হবে পরবর্তী বৈঠকে এবং তাদের সাথে আলোচনা করা হবে। আর সবচেয়ে সৃজনশীল ব্যক্তিকে একটি পুরস্কার দেওয়া হবে এবং সহপাঠীদের সামনে তাকে সম্মানিত করা হবে।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, সালাতের পদ্ধতির বর্ণনা।
উদ্দেশ্য নং ১
শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে অনুশীলনে উল্লিখিত হাদীস শরীফটি দেখান এবং এটি সুন্দরভাবে পাঠকারী একজনকে বেছে নিন, তারপর তাদের সাথে এর শব্দমালার ব্যাখ্যা করুন এবং এটি কী নির্দেশনা দেয় তা বের করুন।
একের পর এক অনুশীলনের প্রশ্নগুলো গ্রহণ করুন এবং শিক্ষার্থীদেরকে তার সঠিক উত্তর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যে তাদের সাথে তার উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন, যাতে তারা প্রত্যেকে এটিকে তার বইতে লিখে রাখে এবং সঠিক উত্তরদাতাদের সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোতে তা প্রকাশ করার নির্দেশ দিন।
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, সালাতের ভুলগুলো ঠিক করার পদ্ধতির ওপর ছাত্রদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
অনুশীলন নং ২
শিক্ষক একটি শিক্ষামূলক কার্ডে অনুশীলনে উল্লিখিত প্রতিটি অবস্থা লিখে রাখবেন এবং কিছু ছাত্রকে বেছে নিবেন যেন তাদের প্রত্যেকে কার্ডে অন্তর্ভুক্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য এলোমেলোভাবে একটি করে কার্ড বেছে নেয় এবং শিক্ষকের পর্যবেক্ষণ ও তার নির্দেশনাসহ অন্য একজন শিক্ষার্থীকে তার সহপাঠীর উত্তর মূল্যায়ন করতে বেছে নিবেন।
মূল্যায়ন
আপনি নিচের ধাপগুলো গুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
শিক্ষার্থীদেরকে দলে দলে ভাগ করুন, যাতে প্রতিটি দল তাদের কিতাবে উল্লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পরকে সহযোগিতা করে, যেমন প্রতিটি ব্যক্তি একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং তার সহপাঠীরা তাকে পর্যবেক্ষণ করবে।
গ্রুপের কর্মগুলো পর্যবেক্ষণ করুন, যেন প্রত্যেকের উত্তর এবং মূল্যায়নে অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়।
গ্রুপসমূহের উত্তর সংগ্রহ করুন এবং তা সংশোধন করুন, তারপরে সেরা উত্তরদাতা গ্রুপটি নির্বাচন করুন এবং তার সদস্যদের প্রশংসা করুন। আর তাদের বলুন যেসব গ্রুপ ভুল করেছে তাদের ভুলগুলো তারা যেন সংশোধন করে দেয়।
প্রশ্ন ১: - - -।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীদেরকে তারা তাদের পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশ দিন, নিচের নিয়ম অনুসরণ করে:
ছাত্রদের সালাতের সে ভুলগুলো এড়াতে সতর্ক করুন যা তারা তাদের আশেপাশের লোকদের থেকে দেখতে পায় । তার সাথে সেসব লোকদেরকে সালাত আদায়ের সঠিক পদ্ধতি শেখাবে।
সালাত আদায় ও তাতে বিনয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা অনুকরণ করা।
ইউনিট পাঁচ: নৈতিকতা/চরিত্র
প্রথম পাঠ: খাদ্য ও পানীয়ের শিষ্টাচার
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
শিক্ষাদান সামগ্রী:
(কম্পিউটার- ডিসপ্লে স্ক্রিন- ব্ল্যাকবোর্ড- শিক্ষামূলক বোর্ড- শিক্ষামূলক ছবি)।
শিক্ষাদান কৌশল:
(التَّطبيقات الحياتيَّة:জীবন অ্যাপ্লিকেশন -تصحيح التَّصوُّرات الخطأ: ভুল চেতনা সংশোধন -تدوين الملحوظات: মন্তব্য লিপিবদ্ধ করণ)।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
- খাওয়া এবং পান করার শিষ্টাচারের প্রয়োগে আগ্রহী হওয়া।
- নিয়মিত যিকির পাঠ করার গুরুত্ব অনুধাবন করা।
- ব্যক্তির সকল অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য ইসলামের ভূমিকার মূল্যায়ন করা।
পাঠের ভূমিকা:
লাইফ অ্যাপ্লিকেশান পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি প্রতিটি ছাত্রকে খাওয়া ও পান করার সময় যে শিষ্টাচারের প্রতি আগ্রহী হওয়া জরুরী তা উপস্থাপন করার দায়িত্ব দিন এবং প্রতিটি ছাত্রকে দুটি শিষ্টাচার উপস্থাপন করতে বলুন এবং তাদের সতর্ক করতে পারেন যে পাঠটি চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তারা আরও বেশি সংখ্যক শিষ্টাচার শিখবে।
শিক্ষার্থীদের সামনে পাঠের শিরোনাম ব্যাখ্যা করুন এবং তা বোর্ডে লিখুন।
* পাঠ উপস্থাপনের ধাপসমূহ:
ধাপ (১)
আপনি শিক্ষার্থীদের সামনে কিছু শিক্ষামূলক ছবি দেখাতে পারেন যা পনাহারের শিষ্টাচারের বিপরীতে, যেমন: (একজন ব্যক্তির একটি অপরিষ্কার হাতে খাওয়ার ছবি - একজন ব্যক্তির বাম হাতে খাওয়ার ছবি - একজন ব্যক্তির খাবারে ফুঁ দেওয়ার ছবি)।
এ সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলুন এবং উত্তরগুলোকে খাদ্য ও পানীয়ের শিষ্টাচার ও তাতে নিষিদ্ধ কর্মের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি সূচনা বিন্দু হিসাবে ব্যবহার করুন এবং তার সাথে সম্পর্কিত শরয়ী প্রমাণ এবং তার ব্যাখ্যা উল্লেখ করুন।
ধাপ (২)
খাওয়া এবং পান করার শিষ্টাচার প্রয়োগ করার সময় কিছু লোক যে ভুলগুলো করে তা শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করুন।
অতঃপর তাদেরকে খাদ্য ও পানীয়ের আদব-কায়দায় নিষিদ্ধ কাজগুলো দেখান, বিভিন্ন শরয়ী দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করাসহ।
*ফলাফলে পৌঁছা :
আপনি ”মন্তব্য লিপিবদ্ধ করণ” পদ্ধতিটি ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার বইয়ে পাঠ সম্পর্কে তার মন্তব্যগুলো লিখতে বলুন, তবে শর্ত হলো এই মন্তব্যগুলোর শিরোনাম এবং মূল চিন্তাগুলোর নীচে লাইন স্থাপন করা, বেশ কয়েকটি প্রশ্ন লিপিবদ্ধ করা, যার উত্তরগুলো বিষয়বস্তু থেকে স্পষ্ট হবে এবং পাঠ থেকে যা শেখা যায় এমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু ফলাফল নির্ধারণ করা। আর কিছু ছাত্রকে বেছে নিন, তারা যা লিখেছে তা উপস্থাপন করতে এবং আপনি তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
* অনুশীলনসমূহ
ছাত্রগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, খাবারের শিষ্টাচার সম্পর্কে জানা ।
উদ্দেশ্য নং ১
পরামর্শ হলো, আপনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একাকি প্রথম অনুশীলন সম্পাদন করার দায়িত্ব দিন এবং তাদের প্রত্যেকে এটি পর্যবেক্ষণ করা এবং এর সাথে মিল বা অমিলের পরিমাণ নির্ধারণ করার জন্যে তার সহপাঠীর সাথে উত্তর বিনিময় করবে। আর তাদের মধ্যে কাউকে তার সহপাঠীদের উত্তরে মন্তব্য করা এবং তাদের মিল ও অমিলের পরিমাণ করা এবং তারা সহপাঠীদের কাছ থেকে যা শিখেছে তা উপস্থাপন করার জন্যে বেছে নিন। আর সেরা উত্তরগুলোকে সমর্থন করুন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিত, অডিও ক্লিপগুলো থেকে কীভাবে খাবারের শিষ্টাচার বের করতে হয় সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
উদ্দেশ্য নং ৩
শিক্ষার্থীদের দলে দলে বিভক্ত করুন এবং তাদের বৃত্ত আকারে বসতে বলুন এবং প্রতিটি দল দ্বিতীয় অনুশীলনের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে। প্রত্যেকে তাদের সদস্যদের একজনকে চিহ্নিত করবে তার দলটি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা প্রকাশ করতে। যদি প্রত্যেকের দ্বারা এটি স্বীকৃত হয় তাহলে একজন ছাত্র দ্বারা তা এটি বোর্ডে লিখা হবে এবং যে বিষয়ে দ্বিমত হয়েছে তা নিয়ে আপনার সামনে এবং আপনার তত্ত্বাবধানে আলোচনা করা হবে, যতক্ষণ না সঠিক সমাধানে পৌঁছানো হয় এবং তা বোর্ডে লেখা হয়।
অনুশীলন নং ৩ তার ধরন ও উদ্দেশ্য জোড়ায় জোড়ায়, খাওয়া এবং পান করার শিষ্টাচার মেনে চলার জন্য কীভাবে একটি শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম তৈরি করতে হয় সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
উদ্দেশ্য নং ৪
পরামর্শ হলো, আপনি প্রতি দুইজন শিক্ষার্থীকে তৃতীয় অনুশীলন সম্পাদনে সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন এবং উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতার ধরন এবং তাদের অধ্যবসায় প্রকাশ করতে তাদের পাশ দিয়ে ঘুরে দেখুন।
ছাত্রদের দু’টি গ্রুপকে তাদের উত্তরগুলো তুলনা করাসহ উপস্থাপন করতে নির্বাচন করুন এবং সবচেয়ে সঠিক উত্তরটি নির্ধারণ করুন।
সেরা উত্তরদাতা দলকে উপযুক্ত সহায়তা প্রদান করুন এবং এটিকে "নেতৃত্বস্থানীয় দল" খেতাব দিন এবং তাদেরকে বাকি দলগুলোর উত্তর সংশোধন ও ঠিক করার জন্য পর্যবেক্ষণ করতে বলুন৷
মূল্যায়ন
আপনি নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
শিক্ষার্থীদের পৃথকভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলুন।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উত্তর সংগ্রহ করুন, তারপর সমাধান করার জন্য তাদের মৌখিকভাবে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
উত্তরগুলো সংশোধন করুন এবং প্রতিটি প্রশ্নের জন্য উপযুক্ত গ্রেড নির্ধারণ করুন।
সর্বোচ্চ গ্রেডপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করুন এবং তাকে যথাযথ উৎসাহ প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১: (√) - (×) - (×)।
প্রশ্ন 2: (যা নিষেধ করা হয়েছে ) - (হারামসমূহ ) - (জায়েয)।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের জীবনে ও তাদের আদান-প্রদানে পাঠে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
ছাত্রদের পনাহারের আদব মেনে চলতে, নিয়মিত দোয়াগুলো পাঠ করাসহ সেগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করা এবং এই আদবগুলোকে পরিবার ও সমাজের পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করুন।
পাঠে শেখা শিষ্টাচারের সাথে সাংঘর্ষিক আচরণের মোকাবিলা করা, তাদের ভুল ও শিথিলতাগুলোর ধরনগুলো প্রকাশ করা এবং তা সংশোধনের পদ্ধতি জানানো অথবা পোস্টার সাটানো যা এমন জায়গায় স্থাপন করা হবে, যেখান থেকে ভুলকারী নিজেই তা দেখ ও অনুসরণ করতে পারে এবং নিজের ভুল নিজেই সংশোধন ও ঠিক করে নেয় ।
দ্বিতীয় পাঠ: অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচার
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
নতুন শব্দমালা: (أَلِجُ - تستأنسوا - أزكى - يبلغوا الحلم - ثلاث عورات) (প্রবেশ করব - তোমরা অনুমতি নিবে - শুদ্ধতম - যৌবনে পদার্পণ করবে - তিনটি গোপন সময়)।
শিক্ষাদান সামগ্রী :
(একটি অডিও মাধ্যম যাতে ধর্মীয় বিষয়গুলো রেকর্ড করা রয়েছে - একটি কম্পিউটার - একটি ডিসপ্লে স্ক্রীন - একটি শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - ব্ল্যাকবোর্ড)।
শিক্ষাদানের কৌশলসমূহ:
(المدخل القصصي:গল্প শৈলীমূলক সূচনা - التَّدريس التبادلي "التَّنبُّؤ:পারস্পরিক বিনিময়মূলক শিক্ষাদান -التساؤل:আকর্ষণ সৃষ্টিকারী প্রশ্ন- التوضيح:স্পষ্টীকরণ-التلخيص:সংক্ষিপ্তকরণ" - الاستصقاء:তথ্য অনুসন্ধান ও সাজান )।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
- অনুমতি চাওয়ার ফযীলত অনুধাবন করা।
- অন্যের অধিকার বিবেচনায় নেওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করা।
- সমাজের উন্নয়নে অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচারের গুরুত্ব উপলব্ধি করা।
অন্যদের কাছে প্রবেশ করার আগে অনুমতি চাইতে আগ্রহী হওয়া।
* পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নলিখিত গল্প শৈলী পরিস্থিতি পেশ করুন এবং তাতে তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলুন আর আপনি তাদের উত্তরগুলোতে মন্তব্য করুন: (আলী খালেদের বাড়িতে তার সাথে দেখা করতে গেল এবং বেশ কয়েকবার গেটের বেল বাজল, কিন্তু কেউ উত্তর দেয়নি, তাই আলী রাগ করে ফিরে আসেন। যখন তিনি খালেদের সাথে দেখা করেন, তখন তাকে তার জন্য দরজা না খোলার জন্য দোষারোপ করেন, তাই খালেদ তাকে বলেন যে বাড়িটি তাকে গ্রহণ করার জন্য উপযুক্ত ছিল না। আপনার মতে: আলীর কি রাগ ও তিরস্কার করার অধিকার আছে?)
শিক্ষার্থীদের কে পাঠের শিরোনাম বলুন এবং তা বোর্ডে লিখুন।
* পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
পাঠের বিষয়ের সাথে ছাত্রদের পরিচিত হওয়ার আলোকে পাঠ যেসব উপাদান অন্তর্ভুক্ত করতে পারে সে ক্ষেত্রে তাদেরকে পারস্পরিক মতবনিময় করে উত্তর তলব করুন এবং তাদের উত্তরগুলো বোর্ডে লিখুন। তারপর তাদেরকে একটি বোর্ড দেখান যাতে পাঠের সাধারণ এবং উপ-উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে, যাতে তারা সেগুলোতে চিন্তা করতে পারে এবং বোর্ডে যা প্রদর্শিত আছে তার সাথে তাদের উত্তরগুলো তুলনা করে।
ধাপ (২)
শিক্ষক প্রতি দুই শিক্ষার্থীকে সহযোগিতার মাধ্যমে পাঠ সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে দায়িত্ব দিবেন, যার উত্তরের ভেতর তার উপাদানগুলো এবং বিষয়বস্তু স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। প্রতিটি দলের প্রশ্নগুলো চিহ্নিত করুন এবং পুনরায় তার বাক্যগুলো লিখুন এবং তাদের সাথে আলোচনা ও পাঠের বিভিন্ন উপাদানের ব্যাখ্যা করার প্রস্তুতি স্বরূপ তা বোর্ডে লিখুন। আর সমস্ত উপাদানকে কভার করে তা নিশ্চিত করতে সেগুলোকে আপনার থেকে কিছু প্রশ্ন দ্বারা সমৃদ্ধ করতে পারেন৷ আর আপনি নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর দ্বারা নির্দেশনা নিতে পারেন:
প্রশ্নঃ অনুমতি চাওয়ার বিধান ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্নঃ আল্লাহ তা‘আলা অনুমতি চাওয়ার বিধান দিয়েছেন তার কারণ ....... (সম্পূর্ণ করুন)।
প্রশ্ন: অনুমতি চাওয়ার উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা বেশ কিছু শিষ্টাচার নির্ধারণ করেছেন। তা উল্লেখ কর.
প্রশ্ন: শিশুদের বাড়িতে অনুমতি চাওয়ার ধরন ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্ন: তিনটি গোপনীয়তা অবলম্বনের সময় উল্লেখ করুন এবং কেন আল্লাহ তাআ’লা এগুলোতে অনুমতি চাওয়ার বিধান দিযেছেন?
ধাপ (৩)
শিক্ষক পূর্ববর্তী প্রশ্নগুলো কে সেগুলোর সাথে সম্পর্কিত দলীলসমূহ অডিও মাধ্যম বা ডিসপ্লে স্ক্রীন ব্যবহার করে স্পষ্ট করবেন ৷ ছাত্রদের সেগুলো পড়তে বলবেন এবং তাদের সাথে তার নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করবেন, যেন তার উদ্দেশ্য ও নির্দেশনাসমূহ বের করতে পারে।
* ফলাফলে পৌঁছাঃ
পারস্পরিক বিনিময়মূলক শিক্ষাদান ও সংক্ষিপ্তকরণের সাথে সম্পৃক্ত কৌশলের চতুর্থ পর্যায় বাস্তবায়ন করার জন্যে শিক্ষক ছাত্রদের একটি অনুচ্ছেদ লিখতে নির্দেশ দিবেন, যাতে তারা পাঠ থেকে যা শিখেছে তার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী এবং সেগুলো শেখার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অন্তর্ভুক্ত করবে৷ আর যথাযথ সমর্থনের সাথে উৎসাহ দেওয়াসহ তাদের মধ্যে কাউকে তারা যা লিখেছে তা তাদের সহপাঠীদের পড়ে শুনাতে বেছে নিবে।
* অনুশীলনসমূহঃ
ছাত্রগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, অনুমতি না চাওয়ার ফলে যে মন্দ কাজগুলো হয় সেগুলোকে স্পষ্ট করা এবং অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচার ছড়িয়ে দেওয়ার জন্যে বিভিন্ন মাধ্যম প্রস্তাব করা।
উদ্দেশ্য নং ৪, ২
আপনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অনুমতি চাওয়ার ফযীলত পর্যালোচনা করে প্রথম উপাদানটি পেতে সঠিক গবেষণার প্রতি উত্সাহিত করে পৃথকভাবে কার্যক্রমের উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন, অনরূপভাবে প্রেরণা দিতে পারেন অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচার ছড়িয়ে দেওয়ার এ্যাপস উপযোগী সর্বাধিক সংখ্যক পরামর্শ উপস্থাপন করার ক্ষেত্রে তাদের সৃজনশীল ক্ষমতা প্রয়োগ করার প্রতি।
তিনজন ছাত্রকে তাদের উত্তরগুলো একটির সাথে অপরটির তুলনা করাসহ উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন, সেরা উত্তরগুলো চিহ্নিত করুন এবং তার কারণ ব্যাখ্যা দিন এবং প্রত্যেককে তার দ্বারা উপকৃত হওয়ার নির্দেশ দিন।
অন্যদের সতর দেখা।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, অনুমতি চাওয়ার বিধানের হিকমত পর্যন্ত পৌঁছা।
উদ্দেশ্য নং ৫
শিক্ষকের পক্ষে বাঞ্ছনীয় হবে যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় অনুশীলনের উত্তরে পৌঁছানোর জন্য গবেষণা ও অনুসন্ধানের জন্য নির্দেশ দেওয়া, শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা, তাদের গবেষণাকে এবং বিভিন্ন উৎসে ফিরে আসাকে উত্সাহিত করা এবং সঠিক উত্তর সবাইকে জানানোর সাথে তাদেরকে পরস্পরের মাঝে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে উত্সাহিত করা।
মূল্যায়ন
আপনি এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
ছাত্রদের দলে দলে ভাগ করুন এবং প্রতিটি গ্রুপকে আলাদা কার্ডে বইয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পরকে সহযোগিতা করতে বলুন, এই শর্ত যে গ্রুপের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তি একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং তার সহপাঠীরা তাকে পর্যবেক্ষণ ও গাইড করবে।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ড সংগ্রহ করুন এবং সেগুলো সংশোধন করুন।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করুন এবং তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন। তারপর উপস্থাপিত উত্তর এবং প্রতিটি দলের উত্তরের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করুন।
সর্বোত্তম উত্তরদাতা গ্রুপকে সনাক্ত করুন এবং তার সদস্যদের পরিবেশন ভঙ্গি সমর্থন করুন।
প্রশ্ন ১:। . . . .
প্রশ্ন ২: (প্রস্থান), (ডিনার), (পরিবারের সতর রক্ষণাবেক্ষণ)।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
নিম্নলিখিত নিয়মে শিক্ষার্থীরা পাঠে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন:
প্রতিটি ছাত্র তার পরিবারের সদস্যদের বাস্তবতা পরীক্ষা করবেন, যেন তাদের অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচার পালন ও প্রয়োগ করার পরিধি স্পষ্ট হয়। আর পাঠ থেকে যা শিখেছে সে সম্পর্কে তাদের অবহিত করার মাধ্যমে যে ত্রুটিগুলো খুঁজে পাবে তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবে, যাতে তারা এইসব দিকগুলো ধরতে ও সংশোধন করতে পারে।
ছাত্ররা সমাজে অনুমতি চাওয়ার শিষ্টাচার বাস্তবায়নের জন্য পাঠের মাধ্যমে যে প্রস্তাবগুলোতে পৌঁছেছে তা প্রয়োগ করার চেষ্টা করবে এবং এটি অর্জনের জন্য তারা কিছু বিশেষ ব্যক্তিদের আশ্রয় নিতে পারে, যারা তাদের সাহায্য করবে। যেমন মসজিদের ইমাম বা পরিবার ও বংশের ভেতর প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।
তৃতীয় পাঠ: কথা ও মজলিসের আদব
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দমালা: (إفشاء السلام - الغيبة - النميمة - يَتَنَاجَى - التفسُّح) (সালাম প্রচার করা - গীবত করা - চুগলি করা - কানে কানে কথা বলা - প্রশস্ত করা)।
শিক্ষাদান উপকরণ:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - কিছু শরয়ী দলীল রেকর্ডসহ অডিও মাধ্যম)।
শিক্ষাদান কৌশল:
(تحليل وجهات النَّظر:দৃষ্টিকোণ বিশ্লেষণ-الطَّريقة الاستنباطيَّة: সৃজনশীল পদ্ধতি -الخرائط الذِّهنيَّة: চিন্তাগত মানচিত্র - শেখার বৃত্ত - مثلَّث الاستماع:শ্রবণ ত্রিভুজ - تمثيل الدور:অভিনয়ে উপস্থাপন)।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o কথা বলা ও বসার শিষ্টাচার বজায় রাখা।
o সমাজের উন্নতিতে কথা বলা এবং মজলিসের শিষ্টাচারের গুরুত্বের মূল্যায়ন করা।
o সালাম প্রচারের ফযীলত নিয়ে গর্ব করা
o নিষিদ্ধ বিনোদনের সমাবেশ এড়িয়ে চলা।
* পাঠের ভূমিকা:
দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনি নিম্নলিখিত পরিস্থিতি শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করতে পারেন এবং এটি সম্পর্কে তাদের মতামত ব্যাখ্যা করতে বলুন: (কিছু লোক সমাবেশের শিষ্টাচার না মেনেই তাদের মজলিস শুরু করেন এবং শেষ করেন। এটি ইসলামের নির্দেশনার পরিপন্থী।)
আপনি তাদের উত্তরগুলোর ওপর মন্তব্য করাসহ তা গ্রহণ করুন এবং তাদের বুঝিয়ে বলেন যে, তারা পাঠটি পর্যবেক্ষণ করে কথা বলা ও মজলিসের শিষ্টাচার শিখবে। তারপর ছাত্রদেরকে পাঠের শিরোনাম জানাবেন এবং তা বোর্ডে লিখবেন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
পরামর্শ হলো, আপনি শিক্ষার্থীদের নিকট চিন্তাগত ম্যাপ তুলে ধরবেন,৪ যাতে পাঠের উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং তাদেরকে এটিতে চিন্তা করতে এবং কয়েক মিনিটের জন্য পাঠের বিষয়বস্তু খুঁটিয়ে দেখতে বলুন, যেন প্রতিটি শিক্ষার্থী পাঠ থেকে কী শিখতে চায় সে সম্পর্কে তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে। আপনি শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন গ্রহণ করুন এবং তা বোর্ডে লিখুন।
ধাপ (২)
আপনি শিক্ষার্থীদের কাছে কথা বলার শিষ্টাচার সম্পর্কিত শরয়ী দলিলগুলো উপস্থাপন করতে পারেন এবং প্রতিটি দলিলকে পরস্পর আলোচনা, স্পষ্টীকরণ এবং ব্যাখ্যার মাধ্যমে গ্রহণ করুন। তারপর তাদের কে প্রতিটি দলিল থেকে কথা বলার শিষ্টাচারের ফজিলত বের করতে বলুন, যেন পাঠের বিষয়বস্তুতে যা এসেছে তার সাথে তাদের উত্তরগুলোর তুলনা করা সম্পন্ন হয়।
ধাপ (৩)
শেখার বৃত্ত পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা একটি বৃত্তাকারে বসতে পারে, যেন তারা অংশগ্রহণমূলকভাবে চিন্তা করতে পারে এবং মজলিসের শিষ্টাচারে পৌঁছাতে পারে যা একজন মুসলিমকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। শিক্ষক বৃত্তের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তাদের উত্তর গ্রহণ করবেন এবং তার ভেতর সঠিকটিকে শরয়ী দলিল দ্বারা শক্তিশালী করবেন এবং সম্মিলিতভাবে তাদেরকে শিষ্টাচার শেখানোর জন্যে ভুলগুলোকে সংশোধন করবেন।
*ফলাফলে পৌঁছাঃ
আপনি পাঠের প্রথম ধাপে যে তিনটি করে প্রশ্ন তারা তুলে ধরেছে তার উত্তর দেওয়ার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নির্দেশ দিতে পারেন, এ শর্তে যে, আপনি কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের প্রশ্ন এবং তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন এবং তারা যা শিখেছে তার নির্ভুলতা, চেষ্টা ও তাদের আয়ত্বের পরিমান স্পষ্ট করুন।
অনুশীলনসমূহঃ
ছাত্রগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য সম্মিলিত, সালাম প্রদানের স্তরসমূহ এবং প্রতিটি স্তরের সোয়াব নির্ধারণ। উদ্দেশ্য নং ১
শিক্ষক শ্রবণ ত্রিভুজ কৌশল ব্যবহার করতে পারেন, যেমন ছাত্রদেরকে দলে দলে ভাগ করবেন, প্রতিটি গ্রুপে তিনজন করে থাকবে।
প্রথম ছাত্র অনুশীলনটি তার থেকে যে ভাবে তলব করা হয়েছে ব্যাখ্যা করবে, দ্বিতীয় ছাত্রটি মনোযোগ সহকারে শোনবে ও অনুশীলন থেকে আরো বিস্তারিত জানতে প্রথম ছাত্রকে কিছু প্রশ্ন করবে। তৃতীয় ছাত্রটি তার দুই সহপাঠীর কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবে এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন দিবে এবং তাদের উপস্থাপনা সংরক্ষণ করার চেষ্টা করবে এবং শিক্ষকের কাছে উপস্থাপন করার জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে কী ঘটে তা লিখবে।
শিক্ষক গ্রুপসমূহের পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করবেন এবং প্রতিটি গ্রুপ দ্বারা যা লেখা হয়েছে এবং তারা যে উত্তরে পৌঁছেছে তা পড়বেন আর প্রত্যেকের উপর মন্তব্য করবেন। ভুলকারী ব্যক্তিকে তার কর্ম সংশোধন ও আয়ত্ত করতে নির্দেশ দিবেন।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত, মজলিস সংক্রান্ত কিছু আচরণগত ভুল মূল্যায়ন করা। উদ্দেশ্য নং ৩, ৪
আপনি চারজন ছাত্রকে তাদের সহপাঠীদের সামনে অনুশীলনে থাকা পরিস্থিতির অভিনয় করতে বেছে নিতে পারেন।
পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং তাতে তারা যে পরামর্শ প্রদান করে তা নিয়ে আলোচনা করার জন্য অন্যদের কে বেছে নিন।
যারা সঠিকভাবে উত্তর দিবে তাদের প্রশংসা করুন এবং তারা পাঠ থেকে যা শিখেছে তার উপর ভিত্তি করে উপদেশ দিন।
মূল্যায়ন
আপনি এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিতে পারেন:
প্রতি দুইজন শিক্ষার্থী প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে সহযোগিতা করবে এবং শিক্ষক তাদের উত্তর জানার জন্য তাদের পাশ দিয়ে যাবেন এবং তাদের সহপাঠীদের কাছে সঠিক উত্তর পড়ে শোনানোর জন্য সেরা উত্তরদাতা দলকে বেছে নিবেন, যাতে প্রতিটি দল তার ভুল সংশোধন করে নেয়।
প্রশ্ন ১: - - -
প্রতিটি গ্রুপের সদস্যরা তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে সহযোগিতা করবে, গ্রুপের প্রতিটি সদস্য একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং তার সহপাঠীরা তাকে পর্যবেক্ষণ করবে। আর আপনি তাদের উত্তর জানার জন্য গ্রুপের মধ্যে হাঁটুন, সেরা উত্তরদাতা গ্রুপকে নির্বাচন করুন, যাতে তারা তাদের উত্তর সহপাঠীদের কাছে উপস্থাপন করে।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীদেরকে তারা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের জীবনে ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশ দিন, নিচের নিয়ম অনুসরণ করে:
পাঠের মাধ্যমে শেখা কথা বলা ও মজলিসের শিষ্টাচারগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করা, এটি ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা এবং তাদের আশেপাশের লোকদের কাছে এটি পরিচয় করিয়ে দেওয়া, যাতে তারাও এটি প্রয়োগ করতে পারে।
সালাম এবং মজলিসের শিষ্টাচারের সাথে ইসলামী শরীয়া যা অনুমোদন করেছে সাংঘর্ষিক কাজ এবং আচরণ এড়িয়ে যাওয়া এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ধর্মীয় বই এবং আলিমদের স্মরণাপন্ন হয়ে সেসব শিষ্টাচার সম্পর্কিত শরয়ী দলিল সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করা।
চতুর্থ পাঠ: টয়লেট বাথরুমের শিষ্টাচার।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড ।
নতুন শব্দমালা: (الغرور - الكبر) (বড়াই করা-অহংকার করা)।
শিক্ষাদান সামগ্রী : (ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড)।
শিক্ষাদানের কৌশল:
(حل المشكلات:সমস্যা সমাধান -التحليل الشبكي للعلاقات : নেটওয়ার্ক ভিত্তিক সমাধান -الأمثلة الموجبة والأمثلة السالبة : ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উদাহরণ পদ্ধতি -التفكير الافتراضي: অনুমানমূলক চিন্তা -الروابط الشخصية: ব্যক্তিগত সংযোগ)।
القيم والاتجاهات :দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যক্তি পর্যায়ের স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিঃ
o টয়লেট করার শিষ্টাচার প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
o ইসলাম ধর্ম নিয়ে গর্ববোধ করা যা পরিচ্ছন্নতার আহ্বান জানায়।
o ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বের মূল্যায়ন করা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের কে নিম্নলিখিত পরিস্থিতি দেখান। এটি সম্পর্কে তাদের মতামত দিতে বলুন আর তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন। তারপর তাদেরকে বলুন যে তারা পুরো পাঠ জুড়ে উত্তর শিখবে:
(একটি ছেলে তার প্রাকৃতিক প্রয়োজনের জন্য টয়লেটে প্রবেশ করল এবং যখন সে সালাতের আযান শুনল, তখন সে মুয়াজ্জিনের সাথে আযানের জবাব দিল।)
শিক্ষার্থীদের পাঠের উদ্দেশ্য এবং শিরোনাম সম্পর্কে অবহিত করুন এবং তা বোর্ডে লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি ব্ল্যাক বোর্ডে টয়লেটের শিষ্টাচারের প্রকারগুলোর জন্যে একটি চিত্র আঁকতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের এটির উপর চিন্তা করতে এবং এই শিষ্টাচার সম্পর্কে তাদের পূর্বের জানা ইলম বর্ণনা করতে বলুন, যেন এটিকে পাঠ ব্যাখ্যা করার জন্যে সূচনা বিন্দু হিসেবে গ্রহণ করা যায়.
ধাপ (২)
শিক্ষক নিম্নলিখিত প্রতিটি পরিস্থিতি একটি কার্ডে লিখবেন, যেগুলোতে টয়লেটের শিষ্টাচারের ইতিবাচক উদাহরণ ও নেতিবাচক উদাহরণ রয়েছে। তারপর কার্ডগুলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করবেন, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী একটি পরিস্থিতি পড়ে এবং এতে তার মতামত প্রকাশ করে। তারপর শিক্ষক তাদের উত্তরগুলো নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন আর সঠিক শিষ্টাচার নিশ্চিত করবেন ও ভুলটি সংশোধন করবেন।
এক ব্যক্তি মুসহাফ নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করল।
এক ব্যক্তি বাথরুমের ভেতর আল্লাহ তা‘আলার যিকির করল।
এক ব্যক্তি পানি প্রবাহিতের জায়গায় নিজের প্রয়োজন সেরে নিল।
এক ব্যক্তি নিজের ইস্তিঞ্জায় (ময়লা পরিষ্কারে) নিজের ডান হাত ব্যবহার করল।
এক ব্যক্তি টয়লেটের স্থান অপরিষ্কার ছেড়ে গেল।
ধাপ (৩)
শিক্ষক একটি বোর্ড প্রদর্শন করবেন, যাতে একটি পরিকল্পিত নেটওয়ার্ক থাকবে, যাতে টয়লেটের শিষ্টাচার বিস্তারিতভাবে দেখানো হবে। শিক্ষার্থীরা এটি নিয়ে চিন্তা করবে এবং পড়বে আর আগের পাঠে যা ব্যাখ্যা করা হয়েছে তার সাথে এটিতে থাকা শিষ্টাচারের তুলনা করবে।
*ফলাফলে পৌঁছাঃ
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে টয়লেটের একটি শিষ্টাচার উল্লেখ করতে বলবেন, যা সে পাঠ থেকে শিখেছে। এভাবে প্রথম ছাত্রটি শিষ্টাচার হতে প্রথম শিষ্টাচার উল্লেখ করবে এবং তার সহপাঠীরা ক্রমানুসারে শিষ্টাচারগুলো উল্লেখ করবে, তবে শর্ত হলো, তাদের কেউ তার সহপাঠীরা যা উল্লেখ করেছে তার পুনরাবৃত্তি করবে না।
শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে টয়লেট শিষ্টাচারে তার আগ্রহের পরিমাণ চিন্তা করতে বলবেন। তারপরে সে কোনটি আঞ্জাম দিচ্ছে না তা নির্ধারণ করবে, যেন তার ওপর চলমান থাকার সংকল্প করতে পারে।
অনুশীলনসমূহ
ছাত্রগণ পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিন, নিচের নিয়মে:
অনুশীলন নং ১ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি, টয়লেটে প্রবেশের শিষ্টাচারের মাধ্যমে মানুষকে সম্মানিত করার দিকগুলোকে স্পষ্ট করা। উদ্দেশ্য নং ১, ৩
শিক্ষক ভিডিও ক্লিপটি দেখাতে পারেন, তারপরে কিছু ছাত্র বেছে নিবেন, যাতে তাদের প্রত্যেকে টয়লেটে প্রবেশের শিষ্টাচারের মাধ্যমে মানুষকে সম্মানিত করার দিকগুলো ব্যাখ্যা করে।
শিক্ষক অন্য একজন ছাত্রকে তার সহপাঠীর উত্তরকে মূল্যায়ন করতে বলবেন, সে পাঠে যা শিখেছে তার আলোকে।
অনুশীলন নং ২ তার ধরন ও উদ্দেশ্য একাকি / দলগত, টয়লটের সম্ভব্য ফলাফল বর্ণনা।
উদ্দেশ্য নং ৩, ৪
শিক্ষক অনুশীলনের বাক্যগুলো কতিপয় কার্ডে লিখবেন, সেগুলো এলোমেলোভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করবেন। তারপর অনুশীলনে উল্লিখিত টয়লেট পরিস্থিতিগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে ক্রমানুসারে উল্লেখ করবেন, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী পরিস্থিতির ফলাফল সম্পর্কে চিন্তা করতে পারে এবং তার সাথে উপযোগী কার্ডটি সনাক্ত করবে, আর তা ওপরে তুলবে।
শিক্ষক ছাত্রদের উত্তরগুলো পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ভুল করা ছাত্রের কাছ থেকে কার্ডটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে, তখন সে তার সহপাঠীদের কে অনুসরণ করবে। আর তা হলো সঠিক উত্তর জানানোর পরে।
* মূল্যায়ন:
নিম্নের কাজগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার বইয়ে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর আলাদাভাবে দিবে।
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উত্তর সংগ্রহ করবেন এবং তাদের মূল্যায়ন করবেন, তাদের প্রত্যেককে উপযুক্ত স্কোর দিবেন আর সর্বোচ্চ নাম্বার প্রাপ্ত ছাত্রকে চিহ্নিত করবেন।
শিক্ষক ছাত্রদের উত্তরগুলো আবার তাদের মধ্যে বিতরণ করবেন এবং তারা যে ভুল করেছে তার উপর মন্তব্য করবেন এবং কীভাবে তা সংশোধন করতে হয় তা শেখাবেন, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার ভুল উত্তর সংশোধন করে নেয়।
প্রশ্ন ১: (الشَّجرة المُثمرة – حرامٌ – العورة – القرآن) (ফলদার গাছ - নিষিদ্ধ - গোপনাঙ্গ - আল-কুরআন)।
প্রশ্ন ৩:
- আমি আমার প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করা শেষে বাম হাত দিয়ে অপবিত্রতা দূর করব।
- আমি টয়লেট থেকে বের হওয়ার পর বলব: غُفرانَك (আপনার ক্ষমা)।
- প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করার সময় আমি সালাতের আযান শুনলে জবাব দিব না।
* تنبيهات تربويَّة ووجدانيَّة:শিক্ষামূলক এবং মনজাগতিক নির্দেশিকাঃ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা প্রয়োগ করতে এবং এর দ্বারা উপকৃত হতে নির্দেশ করুন, এগুলো কে লক্ষ করে :
প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ করার সময় প্রতিটি শিক্ষার্থী যে ভুল আচরণ করত তা সংশোধন করা।
তাদের প্রত্যেকেই টয়লেট শিষ্টাচার প্রয়োগ করতে আগ্রহী হওয়া এবং তা বাস্তবায়ন ও মেনে চলার জন্যে তার পরিবারকে সেই শিষ্টাচারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
মুখবন্ধ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ইলম ও মনের ভাব ব্যক্ত করার দক্ষতা দিয়ে সম্মানিত করেছেন। এবং কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন। আর সালাত
ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার, সম্মানিত সাহাবিগণ এবং যারা কিয়ামত অবধি ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
অতঃপর, আমল করার আগে বান্দার ওপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরয হলো ইলম অন্বেষণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ “সুতরাং জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য মাবূদ নেই। আর ক্ষমাপ্রার্থনা করুন আপনার ক্রটির জন্য এবং মুমিন পুরুষ ও নারীদের জন্য । আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।”
[সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৯]
শরীয়তের জ্ঞান এই উম্মতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং ইসলামী ব্যক্তিত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ইলমের এই গুরুত্বের উপর ভিত্তি করে جمعية الدعوة وتوعية الجاليات بالروضة (দাওয়াহ ও অভিবাসীদের শিক্ষা দান সংস্থা, রাওদাহ, রিয়াদ) এর বার্তাটি উদ্ভাসিত হয়েছে, যার লক্ষ্য হলো মানুষকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে ইসলামের দিকে আহবান জানানো, কমিউনিটি শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে মুসলমানদেরকে তাদের ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষিত করা এবং শরয়ী দিক থেকে যোগ্য করে গড়ে তোলা । তারই একটি প্রকল্প হলো: فقهني في ديني (আমাকে আমার দ্বীন শিক্ষা দিন)। এটি অভিবাসীদের জন্য সাতটি ভাষায় শরয়ী কোর্স অফার করে।
সংস্থাটি এই প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে শরয়ী শিক্ষা পাঠ্যক্রম উন্নত ও বিকাশের কাজে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান شركة بصائر للاستشارات التربوية (বাছায়ের এডুকেশনাল কনসাল্টিং কোম্পানি) এর সাথে যোগাযোগ করে, এবং সংস্থা থেকে প্রদত্ত পরামর্শ ও মান্দণ্ডের ওপর ভিত্তি করে পাঠ্যক্রমটি উন্নত করতে উভয়ের মাঝে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। অতঃপর নির্ধারিত শিক্ষাস্তর অনুসারে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ্যবই প্রণয়ন করা হয়:
- প্রথম স্তরঃ (৪০) টি পাঠ অন্তর্ভুক্ত।
-দ্বিতীয় স্তরঃ (৩০) টি পাঠ অন্তর্ভুক্ত।
-তৃতীয় স্তর: (৩০) টি পাঠ অন্তর্ভুক্ত।
আর শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বইয়ের বিপরীতে শিক্ষক গাইড রয়েছে, যা একজন শিক্ষককে কার্যকর শিক্ষামূলক পদ্ধতিতে পাঠ উপস্থাপনে সহায়তা করবে। কারিকুলাম উন্নতকরণ, শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই ও শিক্ষকদের নির্দেশিকা প্রণয়নে জ্ঞানগত প্রস্তুতি এবং সূক্ষ্ম সম্পাদনা সহ অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করা হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করেছে শরয়ী শিক্ষা পাঠ্যক্রম বিশেষজ্ঞদের কতিপয় শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ।
পরিশেষে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন এই কাজ দ্বারা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে উপকৃত করেন। যারা এই সুন্দর কর্মযজ্ঞ সম্পাদনে অবদান রেখেছেন, তাদের সবাইকে কল্যাণ ও জান্নাত দান করুন। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংস্থার ফোন নাম্বারে এই শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রম সম্পর্কে আপনার পরামর্শ এবং উন্নয়নমূলক চিন্তাকে স্বাগত জানাই।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তার পরিবার-পরিজন এবং সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
জামঈয়াতুত দাওয়াহ, রাওদাহ, রিয়াদ
ভূমিকা
প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সেই ব্যক্তির উপর যার পরে কোনো নবী নেই, মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ, তার উত্তম ও পবিত্র পরিবার ও সাহাবিগণ এবং কিয়ামত অবধি যারা ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
প্রিয় শিক্ষক ভাই, নিশ্চয়ই শিক্ষকতা পেশা সবচেয়ে সম্মানিত পেশা। এটি নবী ও মুসলিহীন তথা নেক-কার সমাজ সংস্কারকদের পেশা। সমাজ এবং মুসলিম উম্মাহর অগ্রগতিতে এর বিরাট ভূমিকা রয়েছে।
আমরা আপনার মহান ভূমিকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে শিক্ষক নির্দেশিকাটি পেশ করছি, যা আপনাকে আপনার দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করবে।
শিক্ষকতাকে আরও আনন্দদায়ক ও ফলপ্রসূ করবে; যেহেতু এই নির্দেশিকাটিতে শিক্ষার্থীদের স্তর এবং পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, পাঠ্যবইয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সম্পর্কিত পাঠ পরিকল্পনা, পাঠদান এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষক নির্দেশিকায় পাঠ উপাদান।
এই নির্দেশিকার পৃষ্ঠাসমূহে তুলে ধরা হয়েছে প্রতিটি দারসের (পাঠের) একগুচ্ছ উপাদান, যা শিক্ষাগত অবস্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমূহের প্রতিচ্ছবি। গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানগুলো হলো নিম্নরূপ:
ডাটা বক্স
এতে রয়েছে পাঠদানের জন্য প্রস্তাবিত সময়, শিক্ষণীয় নতুন শব্দ, ব্যবহৃত শিক্ষা উপকরণ, পাঠ থেকে প্রাপ্য মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি, এবং প্রস্তাবিত পাঠদান কৌশল।
খ- পাঠে অনুসরণীয় ধাপগুলো হলো:
নিন্মের ধাপসমূহ অন্তর্ভুক্ত:
(১) পাঠের ভূমিকা: পাঠের প্রতি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। আর এটি বিভিন্ন উপায়ে হতে পারে, যেমন: পাঠে প্রবেশ উপযোগী ছোট প্রশ্ন করা, অথবা পাঠের সাথে সম্পর্কিত বাস্তব গল্প বলা, অথবা আজকের পাঠকে পূর্ববর্তী পাঠের সাথে সংযুক্ত করা, অথবা শিক্ষামূলক উপায় ব্যবহার করা...
(২) শিখনফল : এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, কোন একটি পাঠ অধ্যয়নের পর একজন শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞান, বোধ, বাস্তবতা এবং প্রতিপাদ্য বিষয়। এই নির্দেশিকায় শিক্ষার্থীদের থেকে প্রত্যাশিত শিখনফল তুলে ধরা হয়েছে। শিক্ষক অবশ্যই এর ওপর গুরুত্বারোপ করবেন এবং শিক্ষার্থীদেরকে তাদের নোট বুকে তা লিখার নির্দেশ দিবেন।
3) অনুশীলনমূলক কার্যক্রম: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীর শিক্ষালব্ধ জ্ঞান এবং শিখন ফল প্রয়োগের প্রশিক্ষণ। ছাত্র কার্যক্রমের মাধ্যমে পাঠের বিষয়বস্তুর অপূর্ণ দিকগুলো পূর্ণতা পাবে। শিক্ষকের কর্তব্য হলো, এই কার্যক্রম সমূহ বাস্তবায়নে ছাত্রদেরকে উৎসাহিত করা এবং নিজেই এর তত্ত্বাবধান করা। লক্ষণীয় হলোঃ প্রতিটি কার্যক্রমই নির্দিষ্ট লক্ষ্যের সাথে জড়িত এবং তা অর্জনে সহায়ক। সেই সাথে আমরা শিক্ষকদেরকে অনুরোধ করছি, তারা যেন গুরুত্ব সহকারে শিক্ষার্থীদের কে শিক্ষালব্ধ জ্ঞান কিভাবে প্রয়োগ করবে তার প্রশিক্ষণ দেন এবং বাস্তবিকভাবে তা প্রয়োগ করেন।
(৪) মূল্যায়ন: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পাঠের লক্ষ্যসমূহ হতে কী অর্জিত হলো আর কী অর্জিত হলো না তা পরিমাপ করা। আর এ জন্য পাঠ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রশ্ন এ উদ্দেশ্যের সাথে কতটা সম্পৃক্ত তা অবলোকন করতে হবে। শিক্ষকের দক্ষতাকে সমৃদ্ধ করণের প্রয়াস স্বরূপ নির্দেশিকাটিতে আমরা পাঠ সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহের কিছু উত্তর সংযোজন করেছি।
(৫) শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক নির্দেশনা: এটা হবে শিক্ষার্থী পাঠ থেকে যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো শিখেছে সেগুলো তার পরিবার, বন্ধুমহল ও সমাজে কার্যকর করার জন্য।
যে সকল শিক্ষাগত মুলনীতির ওপর এই নির্দেশিকা গঠিত, তা হলো:
প্রথমত: সিলেবাসের লক্ষ্য সমূহ:
প্রত্যেকটি পাঠের জন্য পদ্ধতিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এই লক্ষ্য নির্ধারণে নিন্মোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে:
- ডকুমেন্টারি নথিসমূহের প্রকৃত অনুবাদ হওয়া:
- জ্ঞানগত, মনোজাগতিক এবং দক্ষতার মধ্যে বৈচিত্র্যপূর্ণ হওয়া।
- বাস্তবসম্মত, অর্জনযোগ্য এবং শিক্ষার্থীদের স্তর উপযোগী হওয়া।
জ্ঞানগত লক্ষ্যের স্তর সমূহের মধ্যে ক্রমধারা অবলম্বন করা: (শিখে মনে রাখা - বুঝা - প্রয়োগ করা - বিশ্লেষণ করা - সংশ্লেষণ করা - মূল্যায়ন করা)
- একটি ভাল লক্ষ্য প্রণয়নের শর্ত সমূহ প্রয়োগ করা, যেখানে আচরণগত কাজ এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে যা পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণযোগ্য, যেখানে গুরুত্ব সহকারে শিক্ষার্থীর আচরণ বিধৃতহবে, আর অভিজ্ঞতা পরিভাষাটিও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে।
দ্বিতীয়ত: বিষয়বস্তু তৈরি ও বিন্যাস:
এই পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তু পাঠের নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুসারে তৈরি করা হয়েছে। এর অনুবাদ হলো একটি কার্যকর অনুবাদ। এটি নথিতে অন্তর্ভুক্ত দক্ষতার জন্য যথেষ্ঠ এবং শিক্ষার্থীদের স্তর অনুযায়ী উপযুক্ত। বিষয়বস্তু উপস্থাপনে "সরল থেকে আরও গভীর" ক্রমধারা অবলম্বন করা হয়েছে। বিষয়বস্তুর সততা এবং উপস্থাপিত তথ্যের বিশুদ্ধতার প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে। বিষয়বস্তু তুলে ধরার ক্ষেত্রে কুরআন হাদিসের দলিল পেশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সহজিকরণের জন্য বিষষয়বস্তুতে উল্লিখিত কুরআনের আয়াত এবং হাদীসের কঠিন শব্দসমূহের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে কুরআনের আয়াত নাম্বার উল্লেখ এবং হাদীসের তাখরিজ বা শুদ্ধাশুদ্ধির দিকে লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
তৃতীয়ত: শিক্ষামূলক কার্যক্রম সুবিন্যস্তকরণ:
শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বেশ কিছু মানদণ্ড বিবেচনায় নেয়া হয়েছে। তন্মধ্যে হলো:
-পাঠের লক্ষ্য ও কার্যক্রমগুলোর যোগসূত্র থাকা এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে এগুলোর ভূমিকা বিবেচনা করা হয়েছে।
- শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর স্বভাব এবং অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে সহপাঠীদের প্রতি তার সহযোগিতার বিষয়টি লক্ষ্য রাখা।
-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনয়ন করা। হতে পারে শিক্ষক কোন অডিও (শ্রবণমূলক) কার্যক্রম দিবেন, অথবা এমন কার্যক্রম দিবেন যা পুনরাবৃত্তি ও অনুকরণ নির্ভর। অথবা কোনো বিষয়ে নির্দিষ্ট জিনিস-পত্র সংগ্রহকরণ কার্যক্রম। অথবা ব্যাখ্যাকরণ, সংক্ষেপণ, শ্রেণীবিভাগ বা পুনঃলিখন কার্যক্রম। অথবা এমন কার্যক্রম যা মুখস্থ করা, শোনা ও পড়ার সাথে সম্পর্কিত। হতে পারে তা বিন্যস্তকরণ কার্যক্রম কিংবা গাণিতিক কার্যক্রম।
চতুর্থত: শিক্ষা উপকরণ, যা নিম্নলিখিত জিনিস অন্তর্ভুক্ত করে:
-পাঠ্যপুস্তক এবং এতে থাকা ছবি ও দৃষ্টান্তসমূহ।
- "বড় ডিসপ্লে বোর্ড" যা শ্রেণীকক্ষে ঝুলানো থাকবে।
গ্রুপ কার্যক্রমের জন্য কার্ডসমূহ।
-রেকর্ড করার যন্ত্র।
পঞ্চমত: মূল্যায়ন পদ্ধতির বৈচিত্র্য:
প্রশ্নপত্র তৈরির ক্ষেত্রে পাঠ উদ্দেশ্যের সাথে প্রশ্নের যোগসূত্র লক্ষ্য রাখা হয়েছে। জানার পরিধি পরিমাপের জন্য প্রশ্ন প্রণয়নে বৈচিত্র্য আনা হয়েছে। যেমন: সত্য-মিথ্যা, ডান-বাম মিলকরণ, বহু নির্বাচনী, বাক্য পূর্ণকরণ ও ক্রমানুসারে সাজানো...। সেই সাথে মানসিক এবং দক্ষতার মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নিজ বিদ্যাকে চাল-চলনে রুপান্তরিত করার প্রচেষ্টা এবং তা নিজের জন্য আবশ্যক করে নেয়ার ব্যাপারটি অনুমোদিত। আমরা উল্লেখ করতে চাই যে, মানসিক এবং দক্ষতার দিকগুলো পরিমাপ করার সর্বোত্তম উপায়গুলোর মধ্যে একটি হল শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের দ্বারা আর বাড়িতে অভিভাবকদের দ্বারা পর্যবেক্ষণ ও ফলোআপ করা।
ষষ্ঠত: পাঠদান কৌশল:
প্রিয় শিক্ষক, এই নির্দেশিকায় আপনার জন্য কতিপয় পাঠদান পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। যাতে করে আপনি এগুলো সম্পর্কে, এগুলোর কার্যপ্রণালী এবং প্রয়োগের ধাপ সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন।
(১) সহযোগিতামূলক শিক্ষণ পদ্ধতি:
এটি এমন একটি পাঠদান পদ্ধতি যা ছাত্রদেরকে ছোট গ্রুপে (প্রতি গ্রুপে ২-৬ জন ছাত্র) ভাগ হয়ে শিক্ষাগ্রহণ করার ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত। ছাত্ররা একসাথে কাজ করবে এবং সকলের কার্যকরী অংশগ্রহণ থাকবে। গ্রুপের প্রতিটি সদস্যের মান উন্নয়নে এবং শিক্ষাগত সাধারণ লক্ষ্য অর্জনে একে অপরকে সহায়তা করবে। কাজটি গ্রুপের সকলের মধ্যে ভাগ করে দিতে হবে এবং প্রত্যেক গ্রুপের জন্য একজন নেতা নির্ধারণ করতে হবে; যে গ্রুপ সদস্যদের দায়িত্ব তদারকি করবে এবং তাদের ফিডব্যাক (উত্তর/অভিযোগ) জমা করবে ও শিক্ষকের সামনে পেশ করবে।
(২) ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি:
এটি এমন একটি পাঠদান পদ্ধতি, যা চিন্তাভাবনা ও সৃজনশীলতায় উদ্দীপিত করণের উপর প্রতিষ্ঠিত। মানসিক শক্তি ও কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির জন্য, জ্ঞানগত ও জীবন ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে সামষ্টিক কিংবা ব্যক্তিগত চিন্তার ধরন হিসাবে ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর জন্য প্রয়োজন হলো: সর্বাধিক পরিমাণে পরামর্শ বা সমাধান কিংবা তথ্য সরবরাহ করা। অত:পর সঠিক সমাধান বা মতামতে পৌঁছানোর জন্য সেগুলোকে পরিমার্জন করা।
(3) সমস্যা সমাধান পদ্ধতি:
এটি এমন পাঠদান পদ্ধতি, যেখানে একজন শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নতুন অবস্থানে, যা নিয়ন্ত্রণ এবং সমাধানের পথ তার জানা নেই, এমন পরিস্থিতিতে বিজয়ী হতে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা ব্যবহার করে থাকে।
তার পদক্ষেপগুলো হলো: সমস্যাটি উপলব্ধি করা, সনাক্ত করা এবং তার সাথে সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা, তারপর সমাধান প্রস্তাবনা করা এবং সেরাটি বেছে নেওয়ার জন্য সেগুলো অধ্যয়ন করা।
(4) শব্দার্থিক মানচিত্র:
এর ওপর প্রয়োগ করা হয়: জ্ঞানীয় মানচিত্র, মানসিক মানচিত্র, ধারণা মানচিত্র ও তথ্য মানচিত্র। এটি কোন বিষয়কে তার অংশ সমূহে বিশ্লেষণ করে থাকে এবং বিভিন্ন চিত্র ও চার্টের মাধ্যমে ব্যক্ত করে থাকে, যা বিভিন্ন জ্যামিতিক আকার ধারণ করে। যেমন: সারণী, অথবা বৃত্ত কিংবা পিরামিড। আর এরুপ করা হয় তথ্য অধ্যয়ন সহজ, তথ্য সমূহের মাঝে সংযোগ স্থাপন এবং তা মনে রাখার উদ্দেশ্যে।
(৫) সাদৃশ্য কৌশল:
এই কৌশলটি মানসিক সক্ষমতা সক্রিয় করতে, বোধশক্তির ব্যবহার করে বস্তু ও তার উপাদানসমূহের মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট করতে এবং সাদৃশ্য ও অ-সাদৃশ্যের দিকগুলো সনাক্ত করতে ভূমিকা রাখে। এই জাতীয় চিন্তা উচ্চ সৃজনশীলতার দাবি করে; কেননা উত্তর সর্বদাই উপাদানগুলোর মধ্যে নতুন কোন পর্যবেক্ষণ পেতে চায়।
(৫) বর্ণনামূলক পদ্ধতি:
বর্ণনামূলক শৈলী বা গল্প বলা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যমতা, আকর্ষণ ও প্রভাব বিস্তারে অনন্য। গল্প কল্পনার বিকাশ ঘটায়, আবেগ জাগিয়ে তোলে, ফলাফলের সাথে ভূমিকাকে যুক্ত করার আহ্বান জানায় এবং বিমূর্ত ধারণাকে বাস্তবে রূপান্তর করতে কাজ করে। গল্প মূলত নির্ভর করে ছাত্রকে আন্দোলিত করার পাশাপাশি ঘটনাপ্রবাহের সংযোগের উপর; যেন এর দ্বারা সে প্রভাবিত হয়, এর জন্য প্রতীক্ষা করে, জানতে চায়। এ ছাড়াও গল্পের ভাষা ও শৈলীর প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিত যেন তা শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত হয়।
(৭) জীবন অ্যাপ্লিকেশন পদ্ধতি:
এই পদ্ধতির লক্ষ্য হলো জীবনে (মুখোমুখি হওয়া বিভিন্ন) পরিস্থিতি ও সমস্যা সমূহের সাথে তথ্য-উপাত্তকে যুক্ত করার চেষ্টা করা, আর তা একজন শিক্ষার্থীকে গুরুত্বসহ পাঠের বিষয়বস্তু অধ্যয়নে সাহায্য করবে; কেননা তিনি এতে কিছু ভুল ও নেতিবাচক বিষয়ের সমাধান পাবেন এবং ইতিবাচক দিকগুলো শক্তিশালী করতে পারবেন ও জোর দিতে পারবেন। এবং এসব কিছুই ইসলাম আনীত শরয়ী বিধান ও চারিত্রিক নীতিমালার সাথে যুক্ত করার প্রচেষ্টা করা; যাতে করে শিক্ষার্থী অনুভব করে ইসলাম তার জীবনকে সুন্দর করেছে।
(৮) কৌশল: চিন্তা করুন - জোড়াবদ্ধ হোন - অংশগ্রহণ করুন।
"চিন্তা করুন - জোড়াবদ্ধ হোন - অংশগ্রহণ করুন" কৌশল হলো একটি সহযোগিতামূলক আলোচনার কৌশল, যা বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে গঠিত। প্রথম পর্যায়, শিক্ষক শিক্ষার্থীকে প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বা কার্যকলাপ সম্পাদন করার বিষয়ে একাকী চিন্তা করার সুযোগ দিবেন। অতঃপর দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রদত্ত উত্তর নিয়ে তার একজন সহপাঠীর সাথে আলোচনা করবে। আর তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ে, যে সকল উত্তর এসেছে গ্রুপের সদস্যরা সেগুলো নিয়ে মতবিনিময় ও পর্যালোচনা করবে; যেন তারা সম্মিলিতভাবে একটি উত্তর বেছে নিতে পারে। আর সেটাই হবে গ্রুপের উত্তর।
শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় এই কৌশলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; যেহেতু এটি শিক্ষার্থীদেরকে তাদের জানা বিষয় কার্যকারভাবে সমাধান করতে সাহায্য করে। অনুরূপভাবে এটি তাদের যোগাযোগ দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং তাদের চিন্তাভাবনাকে অগ্রসর করে।
(9) পূর্ব প্রস্তুতকরণ:
পূর্ব প্রস্তুতকরণকে সংজ্ঞায়িত করা হয় এভাবে যে, তা হলো শিক্ষাগত অবস্থানের শুরুতে আলোচ্য বিষয়ের উপাদান ও যেসব জ্ঞাত বিষয় সমাধান করা উদ্দেশ্য হয় সে সম্পর্কে ভূমিকা অথবা সূচনামূলক সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা। এর উদ্দেশ্য হলো বিষয়টির তাৎপর্য, ধারণা ও সমস্যা সমূহের শিক্ষণ সহজ করা। এ ছাড়াও শিক্ষার্থী যা শিখবে এবং যা শেখা প্রয়োজন এতদুভয়ের মাঝে যোগসূত্র তৈরি করা।
"পূর্ব প্রস্তুতকরণ" বিষয়টি দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলো হলো: লিখিত এবং অলিখিত৷ লিখিত পূর্ব প্রস্তুতকরণকে আবার দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। তা হলো: ব্যাখ্যামূলক এবং তুলনামূলক।
আর অলিখিত ভাগগুলো হলো: অডিও, ভিজ্যুয়াল, অডিও-ভিজ্যুয়াল, এবং চিত্রলেখ বা গ্রাফিক, যা বাহ্যিক অবস্থার কিছু অংশকে চিত্রলেখ আকারে প্রকাশ করার জন্য নির্ভর করা হয়। যেমন: গ্রাফ চিত্র হতে পারে, যা পাঠের শুরুতে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
(১০) ভবিষ্যদ্বাণী:
এই পদ্ধতির জন্য শিক্ষার্থীকে অনুমান সেট করতে হবে অথবা বিষয়টিতে কী আলোচনা করা হবে সে সম্পর্কে পূর্বাভাস ব্যক্ত করতে হবে। এটি শিক্ষার্থীর সামনে একটি লক্ষ্য প্রদান করে এবং বিষয়বস্তু শেখার সময় ফোকাস নিশ্চিত করে; তা হলো এ সকল অনুমান কিংবা পূর্বাভাসগুলো নিশ্চিত কিংবা খণ্ডন করার চেষ্টা করা। এটি শিক্ষার্থীর জন্য নতুন তথ্যের সাথে তার জানা তথ্যের যোগসূত্র তৈরি করার সুযোগ দেয়।
শিক্ষক নিম্নলিখিত উপায়ে তার ছাত্রদেরকে পঠিত বিষয় যা অন্তর্ভুক্ত করবে, তা অনুমান করতে সাহায্য করতে পারেন:
বিষয় শিরোনাম পড়া, অথবা পাঠের উদ্দেশ্য অবগত করা, কিংবা প্রশ্নের সহায়তা নেয়া।
(১১) নিজেকে জিজ্ঞাসা করা: প্রশ্ন তৈরি করা
এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য হলো আত্ম-সচেতনতার উন্নয়ন, টেক্সট এর সাথে প্রতিক্রিয়া করা এবং বুঝা ও স্মরণ করার কাজ সহজিকরণ। আর এটা শিক্ষণ প্রক্রিয়ার পূর্বে, শিক্ষণ চলাকালীন এবং পরে নির্ধারিত বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করার মাধ্যমে হয়ে থাকে। এ পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থী অধ্যয়নকৃত হাদিসের সাথে কাজ করার সময় নিজেকে কতিপয় প্রশ্ন করবে; এর মাধ্যমে তার অর্জিতব্য জ্ঞান এবং সিদ্ধান্ত তাকে আরও বেশি একীভূত করে তোলবে। তার নিকট চিন্তা করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হবে।
(১২) কৌশল: আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি (KWL)
এই কৌশলটি শিক্ষার্থীদের পাঠের মধ্যে থাকা তথ্যের পূর্বাভাস দিতে এবং এটিকে তাদের পূর্ব জ্ঞানের সাথে সংযুক্ত করতে সাহায্য করে।
শিক্ষক একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ জাগিয়ে তোলার জন্য এটা ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়াও ওই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের কতটুকু বোধগম্য হলো এবং উক্ত বিষয়ে তাদের ধারণাগত ত্রুটিগুলো মূল্যায়ন করতে পারেন।
এই কৌশলটিকে KWL দ্বারা ঈঙ্গিত করা হয়, যা নিম্নের শব্দাবলির সংক্ষিপ্ত রূপ:
(K): Know (জানুন)، (W): Want (চাই)،(L): Learned (শিখেছি).
প্রথম শব্দটি শিক্ষার্থী পাঠ সম্পর্কে যা জানবে তা প্রকাশ করে; দ্বিতীয় শব্দটি সে পাঠ সম্পর্কে কী জানতে চায় তা প্রকাশ করে; আর তৃতীয় শব্দটি সে পাঠ সম্পর্কে কী শিখেছে তা প্রকাশ করে।
(১৩) দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ কৌশল:
এই কৌশলটি শিক্ষার্থীকে তার মতামত এবং বিশ্বাস সম্পর্কে চিন্তা করতে সাহায্য করবে। এবং তাকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার দৃষ্টিভঙ্গি, ধারণা, নীতি, মূল্যবোধ, বিশ্বাস এবং মতামত প্রকাশ করতে উৎসাহিত করবে। আর এর ফলে বিভিন্ন জিনিস সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি এবং ঘটনা সমূহের সাথে তার আন্দোলিত হওয়াকে প্রভাবিত করবে। এই কৌশলটি নির্ভর করে শিক্ষার্থীর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণের উপর; যেন তাকে সুযোগ দেয়া যায় এর উপর আরও গভীরতর চিন্তার, এটা কতটা সঠিক এবং পরিস্থিতির সাথে তার উপযুক্ততা কতটুকু তা ভাবার, অথবা কোন সমস্যা সমাধানের। আর দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষণ কৌশল যদি উপযুক্ত ও সঠিক হয় তাহলে তা পৃষ্ঠপোষকতা ও গ্রহণযোগ্যতা লাভ করতে পারে, অথবা প্রয়োজনে পরিবর্তন হতে পারে, অথবা প্রত্যাখ্যাত হতে পারে যদি তা অনুপযুক্ত ও ভুল হয়।
উপসংহারে, হে আমার ভাই শিক্ষক:
এই নির্দেশিকাটি আপনার হাতে একটি উপকরণ যা ভালভাবে ব্যবহার করা হলে ফল দেবে। অন্যথায় এটি কোনো কাজ করবে না। আমরা এর দ্বারা আপনার ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করা বা আপনার সৃজনশীলতাকে সীমিত করতে চাই না।
কুরআন ও তাফসীরের ক্ষেত্র
প্রথম পাঠ: কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের আদবসমূহ
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: : (القرآن الكريم – السفرة الكرام – يتعتع) (আল-কুরআনুল কারীম - সম্মানিত ফেরেশতাগণ- তোতলায়)
শিক্ষা উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড - শিক্ষামূলক পোস্টার - রেকর্ড ধারণকৃত অডিও মাধ্যম -
কুরআনুল কারীমের কতিপয় আয়াত)।
পাঠদান কৌশল:
(সহযোগিতামূলক শিক্ষা - আলোচনা ও সংলাপ - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো)
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
o কুরআনুল কারীমের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ করা।
• কুরআনুল কারীমের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তার অধিকার আদায় করা।
• কুরআনুল কারীম এবং তার ধারকদের প্রতি ভালবাসা।
পাঠের ভূমিকা:
যে সকল ছাত্র প্রত্যহ কুরআনুল কারীমের নির্ধারিত অংশ তিলাওয়াত করতে সচেষ্ট তাদেরকে চিহ্নিত করুন। তাদেরকে এভাবে নিয়মিত তিলাওয়াতের প্রতি যত্নবান হওয়ার কারণগুলো উল্লেখ করতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো সমর্থন ও সুদৃঢ় করুন। স্পষ্ট করুন যে, এ ব্যাপারে তারা অন্যদের জন্য আদর্শ হিসাবে পরিগণিত হবে। অতঃপর বোর্ডে শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীদের নীরবে পাঠ পড়তে বলুন, তারপর তাদের মধ্যে থেকে কাউকে উচ্চস্বরে পড়ার জন্য বেছে নিন।
কিছু শিক্ষার্থীকে পাঠের মূল উপাদানগুলো বোর্ডে লিখতে বলুন, যাতে সেগুলো পর্যায়ক্রমে আলোচনা করা যায়।
ধাপ (২)
সহযোগিতামূলক শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে: শিক্ষার্থীদেরকে দলে দলে ভাগ করুন। তারপর প্রতিটি দলকে কুরআনুল কারীমের ফজিলত ব্যাখ্যা করার জন্য একে অপরকে সহযোগিতা করতে বলুন।
প্রত্যেক গ্রুপের একজন সদস্যকে তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা বোর্ডে লিখার দায়িত্ব দিন। অতঃপর তাদের কর্মের ওপর মন্তব্য করুন।
ধাপ (৩)
কথোপকথন এবং আলোচনা পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে নিম্নলিখিত প্রশ্নদুটি নিয়ে আলোচনা করুন:
কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের সওয়াব কী?
কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করার সময় কী কী আদব রক্ষা করা উচিত?
আপনি তাদেরকে নিয়ে তাদের উত্তরগুলোর আলোকে সিদ্ধান্তে উপনীত হোন, অতঃপর সেগুলো বোর্ডে লিখুন, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
ফলাফল:
১. প্রত্যেক মুসলমানের উপর অবশ্যই কুরআনুল কারীম থেকে ততটুকু শিক্ষা করা ফরজ, যতটুকু দিয়ে সে সালাত আদায় করবে এবং দ্বীনের পরিচয় পাবে।
২. সর্বোত্তম জিকির হলো কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা। আল্লাহ তা‘আলার নিকট এর জন্য রয়েছে বিরাট পুরস্কার।
৩. একজন মুসলিমের জন্য কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করার সময় কিছু শিষ্টাচার অনুশীলন করার বিধান রয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে: অযু করা, পোশাক ও স্থানের পবিত্রতা।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নম্বর ১ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিত: কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের আদব সমূহ বাস্তবায়ন করা।
লক্ষ্য নম্বর: ৪,
ছাত্রদেরকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করুন। প্রতিটি গ্রুপকে প্রথম কার্যক্রমের উত্তর দেওয়ার জন্য সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিন। এবং প্রতিটি দল যে সিদ্ধান্তে পৌঁছে তা একটি পৃথক কার্ডে লিখুন।
শিক্ষক গ্রুপগুলোর উত্তর সংগ্রহ করবেন এবং তা মূল্যায়ন করবেন। সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে সবচেয়ে বেশি সক্ষম গ্রুপটি চিহ্নিত করবেন এবং তিলাওয়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আদব নির্ধারণ করবেন। যারা ভুল করবে তাদের সতর্ক করবেন। এবং তাদের সহপাঠীদের নিকট পড়ার জন্য সূক্ষ্ম-সঠিক উত্তর নির্বাচন করবেন।
কার্যক্রম নম্বর: ২ ধরন ও লক্ষ্য: সম্মিলিত: কুরআনুল কারীম নিয়মিত তিলাওয়াতের প্রভাব ব্যাখ্যা করা। লক্ষ্য নম্বর: ৩.১
প্রতি দু’জন ছাত্রকে কার্যক্রম সম্পাদনে সহযোগিতা করতে বলুন।
কার্যক্রমের প্রতিটি উপাদান পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করুন, যাতে এ সম্পর্কে প্রতিটি গ্রুপের উত্তর জানতে পারেন। প্রতিটি গ্রুপকে উপযুক্ত স্কোর দিন, তারপর সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত গ্রুপ নির্বাচন করুন।
অন্যান্য গ্রুপের ভুলগুলো শুধরে নেয়ার তত্ত্বাবধানের পাশাপাশি এর উত্তরগুলো সুদৃঢ় করুন।
মূল্যায়ন
আপনি মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
১. শিক্ষার্থীদেরকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করুন; যাতে তারা প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে পারে।
২. প্রতিটি গ্রুপ ফ্ল্যাশকার্ডে একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে।
৩. মূল্যায়ন করার জন্য প্রত্যেক গ্রুপ একে অপরের সাথে উত্তর বিনিময় করবে।
৪. সঠিক উত্তর দেয়া গ্রুপকে সুদৃঢ় করুন।
প্রশ্ন ১: - - -।
* শিক্ষাগত এবং মনোজাগতিক জাগ্রতকরণ:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন, আর এটা :
কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা, গভীর চিন্তার সাথে মনোযোগ দিয়ে তিলাওয়াত শোনা এবং তাদের আশেপাশের লোকদেরও এটি বাস্তবায়নের জন্য উপদেশ দেয়া।
কুরআনুল কারীম হিফজ এবং এর তিলাওয়াতে সুদক্ষ হতে কুরআনের হালাকা বা অনুরূপ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া।
দ্বিতীয় পাঠ: মুসহাফ শরীফ এবং এর সাথে করণীয় আদবসমূহ।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (المصحف الشريف – وقَّرَ – استخفَّ) (মুসহাফ শরীফ বা কুরআনুল কারীম এর লিখিত রূপ - সম্মান করা - হালকা মনে করা)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক পোস্টার - ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(উদ্ভাবনী শিখন - গঠনমূলক শিখন - ভুল উপলব্ধি সংশোধন - দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিঃ
- মুসহাফ শরীফের প্রতি সম্মান প্রদর্শন
-কুরআনুল কারীম অবমূল্যায়ন করা থেকে সতর্কীকরণ।
- মুসহাফ শরীফের মহত্ত্ব উপলব্ধি করা।
* পাঠ ভূমিকা:
বোর্ডে এই ইবারতটুকু (পাঠাংশ) লিখুন, অতঃপর এর অর্থ নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন। মুসহাফের প্রতি সম্মান প্রদর্শন প্রতিটি মুসলিমের উপরে ওয়াজিব; কেননা এতে আল্লাহ তা‘আলার কালাম রয়েছে। যে ব্যক্তি কুরআনুল কারীমকে সম্মান করল, সে আল্লাহ তা‘আলাকেই সম্মান করল। আর যে কুরআনুল কারীমকে অবজ্ঞা করল, সে আল্লাহ তা‘আলাকেই অবজ্ঞা করল। তারপর শিক্ষার্থীদের পাঠের বিষয় অবহিত করুন এবং শিরোনামটি বোর্ডে লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
উদ্ভাবনী শিখন পদ্ধতি ব্যবহার করে: বোর্ডে নিম্নোক্ত ইবারতটুকু লিখুন। তারা এ নিয়ে চিন্তা করার পর তার অর্থ নির্ধারণ করবে।
( এটা এমন একটি কিতাব যা কুরআনুল কারীমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে... সেটি কোন কিতাব?
ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে শিক্ষক একটি বৃহৎ মুসহাফের ছবি প্রদর্শন করবেন এবং গঠনমূলক শিখন পদ্ধতির উপর নির্ভর করবেন। তিনি মুসহাফ সম্পর্কে, তার সূরা সংখ্যা এবং পারা সংখ্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান যাচাই করবেন। এগুলো সম্পর্কে তাদের উত্তর নেয়া ও মূল্যায়ন শেষে তাদের জন্য এসব ব্যাখ্যা করবেন, এবং একটি সুবিন্যস্ত বিশ্লেষণমূলক চার্ট আকারে এগুলো উপস্থাপন করবেন।
ধাপ (২)
বোর্ডে নীচের ইবারতটুকু লিখুন। ছাত্রদের মধ্য হতে একজনকে বেছে নিন, যে তার সহপাঠীদেরকে তা পড়ে শোনাবে। শিক্ষার্থীদেরকে গভীরভাবে চিন্তা করতে বলুন, যাতে প্রত্যেকেই প্রতিটি ইবারত থেকে কী অনুভব করেছে তা একটি বাক্যে প্রকাশ করতে পারে।
মুসহাফ শরীফের প্রতি সম্মান প্রদর্শন প্রতিটি মুসলিমের উপর ওয়াজিব।
যে ব্যক্তি কুরআনুল কারীমকে সম্মান করল সে আল্লাহ তা‘আলাকে সম্মান করল।
যে ব্যক্তি কুরআনুল কারীমকে অবজ্ঞা করল, সে আল্লাহ তা‘আলাকেই অবজ্ঞা করল ।
ধাপ (৩)
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নের পরিস্থিতিগুলো পেশ করুন এবং তাতে কী ভুল রয়েছে এবং কীভাবে তার সংশোধন করতে হয় তা খুঁজে বের করতে বলুন:
এক ব্যক্তি টয়লেট থেকে বের হল এবং পবিত্রতা ছাড়াই মুসহাফ স্পর্শ করল।
এক ছাত্র আশঙ্কা করল যে, সে মুসহাফ রেখে টয়লেটে প্রবেশ করলে তা হারিয়ে যাবে, তাই সে মুসহাফ হাতে নিয়েই প্রবেশ করল।
এক লোক মসজিদে শয়ন করল, এবং মুসহাফকে মাথার নীচে বালিশরূপে ব্যবহার করল।
ফাতিমা দাঁড়িয়ে লাইব্রেরিতে (সেলফে) রাখার পূর্বে তার মুসহাফ মাটিতে রাখল।
আলীর মা কুরআনের আয়াত লিখা আছে এমন কাগজে মুড়িয়ে তাকে কিছু খাবার দিলেন।
হুসাইনের মুসহাফ নষ্ট হয়ে গিয়েছে।তাই এটিকে সে একটি বাক্সে পুরানো বইয়ের মাঝখানে রেখে দিল।
অতঃপর তাদেরকে বলুন মুসহাফ শরীফ সম্মান করার অধিক সংখ্যক চিত্র তুলে ধরতে। তারা যা উপস্থাপন করবে তা গ্রহণ করুন এবং বোর্ডে এগুলো লিখুন। অতঃপর তাদেরকে একটি শব্দার্থিক চার্ট দেখান যাতে পাঠের বিষয়বস্তুতে পেশকৃত মুসহাফ শরীফ সম্মান করার চিত্র রয়েছে; যাতে তারা পাঠের বিষয়বস্তু এবং তাদের উপস্থাপিত চিত্রের মধ্যে তুলনা করতে পারে।
*ফলাফলঃ
প্রতিটি ছাত্রকে কাজ দিন মুসহাফ সম্মানের একটি ধরন ব্যাখ্যাসহ উল্লেখ করতে, যা সে পাঠের সময় শিখেছে। এবং তার গোচরে আসা এমন কোন ঘটনা উল্লেখ করতে যা সম্মানের চিত্রগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিন:
কার্যক্রম নম্বর ১ ধরন ও লক্ষ্য একক, মুসহাফ সম্মান করার ধরনগুলো জানা। লক্ষ্য নম্বর ৪
প্রথম অনুশীলন কার্যক্রমে উল্লিখিত প্রতিটি প্রশ্ন একের পর এক ছাত্রদের কাছে উপস্থাপন করুন এবং তাদের কাছ থেকে উত্তর নিন। প্রতিটি সঠিক উত্তর জানা প্রশ্নের উত্তরগুলো তাদের বইতে লিখতে বলুন। আর যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা নেই সেগুলোর সঠিক উত্তর জানার জন্যে তাদেরকে বিভিন্ন উৎসের শরণাপন্ন হতে বলুন, হোক তা মানুষ, অথবা প্রযুক্তি কিংবা বই। এবং পরবর্তী সাক্ষাতে সেই উত্তরগুলো নিন।
কার্যক্রম নম্বর: ২ ধরন ও লক্ষ্য: একক, ইলেকট্রনিক মুসহাফ স্পর্শ করার সময় পবিত্রতার হুকুম জেনে নিন। লক্ষ্য নম্বর ৩
শিক্ষার্থীদেরকে অবহিত করুন যে, আজকাল কম্পিউটার এবং ফোনে ইলেকট্রনিক মুসহাফ ছড়িয়ে পড়েছে। পবিত্রতার শর্ত ও অনুরূপ ক্ষেত্রে এটিও কাগজের মুসহাফের মতো একই হুকুম হবে কিনা এ ব্যাপারে তাদের অভিমত জানতে চান। ছাত্রদের উত্তর জানা এবং তা মূল্যায়ন করার পরে শিক্ষার্থীদেরকে তাদের বইয়ের লিঙ্কটিতে প্রবেশ করতে বলুন, যাতে তারা এ সম্পর্কিত আরও তথ্যাদি দেখতে পারে।
কার্যক্রম নম্বর: ৩ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিত: মুসহাফ শরীফ সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করা।
লক্ষ্য নম্বর ২.১
শিক্ষক ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে তৃতীয় অনুশীলন কার্যক্রমের উত্তর দিতে নির্দেশ দিবেন।প্রত্যেক ছাত্র (অন্তত) একটি উপাদানের উত্তর দিবে। আর তার সহপাঠীরা তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে।
শিক্ষক অনুশীলন কার্যক্রমের প্রতিটি উপাদান এক এক করে তুলে ধরবেন এবং এ সম্পর্কে প্রতিটি গ্রুপের উত্তর জানবেন। আর গ্রুপের মধ্যে যে ব্যক্তি এর উত্তর দিয়েছে তাকে চিহ্নিত করবেন। এবং প্রত্যেক গ্রুপকে উপযুক্ত নম্বর দিবেন।
শিক্ষক সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত গ্রুপটি চিহ্নিত করবেন এবং এর সদস্যদের প্রশংসা করবেন। অনুরূপভাবে প্রতিটি গ্রুপের মধ্যে যে সঠিকভাবে উত্তর দিয়েছে তার কর্মকে সুদৃঢ় করবেন।
মূল্যায়ন
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফ্ল্যাশকার্ড বিতরণ করুন; যার অর্ধেক সঠিক চিহ্ন (✓) এবং বাকি অর্ধেক ভুল চিহ্ন (×) সম্বলিত। অতঃপর এক এক করে প্রশ্নের ইবারতটুকু পড়ুন, যাতে করে প্রতিটি শিক্ষার্থী ইবারতের উপযুক্ত কার্ড উঠায়। তাদেরকে মূল্যায়ন করুন এবং উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১: (✓) - (✓) - (×) - (✓) - (✓)
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন। তাদের প্রত্যেকেই মূল্যায়নের জন্য নিজ উত্তর সহপাঠীর উত্তরের সাথে বিনিময় করবে। আর কতিপয় শিক্ষার্থীকে তাদের মূল্যায়ন করা উত্তরগুলো পর্যালোচনা করতে বেছে নিন।
এমন কতিপয় শিক্ষার্থী বেছে নিন, যারা নিজ উদ্যোগে পাঠে অংশগ্রহণ করেনা। তারা প্রত্যেকেই তৃতীয় প্রশ্নের অন্তর্গত একটি শাখা প্রশ্নের উত্তর দিবে। যদি তারা ভুল করে, তবে সঠিক উত্তরের জন্য অন্যদেরকে বেছে নিন।
* শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক জাগ্রতকরণ:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন, আর এটা:
পাঠ থেকে শেখা মুসহাফ শরীফের গুরুত্ব ও সম্মান করার পদ্ধতি সমূহ বাস্তবায়নে সচেষ্ট হওয়া। সেই সাথে আশেপাশের লোকদেরকে এগুলো অবহিত করা, যাতে তারা তা কর্তব্যরূপে গ্রহণ করে এবং বাস্তবায়ন করে।
আকস্মিকভাবে কতক ব্যক্তি থেকে যদি এমন কোন অবস্থা বা আচরণ প্রকাশ পায়, যা মুসহাফ শরীফের প্রতি অবমাননা কিংবা এর সম্মানের সাথে সাংঘর্ষিক, তাহলে তা শুদ্ধিকরণে মনোনিবেশ করা।
তৃতীয় পাঠ: আয়াতুল কুরসীর তাফসীর।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (القيوم – السِّنة – لا يؤده حفظهما) (চিরন্তন - তন্দ্রা - তার সংরক্ষণ তাকে ক্লান্ত করে না)
শিক্ষা উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড - শিক্ষামূলক পোস্টার - রেকর্ড ধারণকৃত অডিও মাধ্যম)
আয়াতুল কুরসী
পাঠদান কৌশল:
(সহযোগিতামূলক শিক্ষা - হট চেয়ার )।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিঃ
• আল্লাহ তা‘আলার ভালোবাসা, সম্মান ও ভয়।
• আয়াতুল কুরসির ফযীলতকে সম্মান করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সামনে সুন্দর করে আয়াতুল কুরসি লেখা একটি শিক্ষামূলক পোস্টার পেশ করুন। অতঃপর তাদেরকে এটি পড়ে শোনান। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন সেই মূল্যবান সূরাটির নাম, যেখানে আয়াতটি রয়েছে। আশা করা যায় যে, তারা জানবে এটি সূরাতুল বাক্বারাহ। অতঃপর তাদেরকে এই আয়াতের নাম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন এবং তাদের কাছ থেকে উত্তর গ্রহণ করুন।অতঃপর তাদেরকে বলুন যে, আজ আমরা আমাদের পাঠে এই মূল্যবান আয়াতটি সম্পর্কে কথা বলব। অতঃপর বোর্ডে পাঠ শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যবান আয়াতটি দেখতে বলুন। অতঃপর অডিও মাধ্যম থেকে চুপ করে এর তিলাওয়াত শুনবে।
ধাপ (২)
আয়াতের সামগ্রিক অর্থ ব্যাখ্যা করুন। অতঃপর ছাত্রদের সাথে তার শব্দ সমূহের অর্থ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন।
ধাপ (৩)
সহযোগিতামূলক শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে: শিক্ষার্থীদেরকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করুন। তারপর প্রতিটি গ্রুপকে পারস্পরিক সহযোগিতায় আয়াতুল কুরসিতে থাকা আল্লাহর তা'আলার গুণাবলী বের করতে বলুন।
প্রত্যেক গ্রুপের একজন সদস্যকে তারা যে গুণাবলী বের করেছে তা বোর্ডে লিখতে বলুন। অতঃপর তাদের কর্মের ওপর মন্তব্য করুন।
শিখন ফল:
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি গুণ উল্লেখ করতে বলুন, যা সে বের করেছে।
বোর্ডে তাদের উত্তরগুলো লিখুন এবং এর ওপর পর্যালোচনা করুন।
কি জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং তারা কী লিখেছে তা তুলনা করতে তাদের বইটি দেখতে বলুন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নাম্বার: ১, ধরন ও উদ্দেশ্য: একক, সর্বশক্তিমান আল্লাহর গুণাবলী নির্দেশ করে এমন শব্দগুলো বের করা।
লক্ষ্য নম্বর: ৩,
প্রথম কার্যক্রমের ওপর নির্ধারিত বইটি শিক্ষার্থীদের খুলতে বলুন।
এর উত্তর সম্পর্কে তাদেরকে চিন্তা করতে বলুন। অতঃপর তারা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা নিয়ে পর্যালোচনা করুন।
কার্যক্রম নম্বর: ২, ধরন ও লক্ষ্য: দলীয়: আয়াতুল কুরসির ফজিলত বের করুন, এবং এটি পড়ার সময় নির্ধারণ করুন। লক্ষ্য নম্বর: ২, ৪
ছাত্রদেরকে হাদীস পড়তে নির্দেশ দিন, অতঃপর নিচের নিয়মে হট চেয়ার কৌশল ব্যবহার করুন:
শিক্ষার্থীদেরকে গোলাকার হয়ে বসতে এবং তাদের মাঝখানে একটি চেয়ার রাখতে বলুন।
হট চেয়ারে বসতে একজন ছাত্র বেছে নিন।
সহপাঠীরা তাকে কতিপয় প্রশ্ন ছুঁড়ে দিবে, যার মধ্যে রয়েছে:
১. আয়াতুল কুরসির ফজিলত বের করুন।
২. যে সময় গুলোতে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা মুস্তাহাব তা নির্ধারণ করুন।
শিক্ষার্থীদেরকে পর্যবেক্ষণ করুন এবং নির্দেশনা দিন। অতঃপর সবচেয়ে সঠিক উত্তরটি নির্বাচন করুন।
মূল্যায়ন
নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্ন সমূহের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
প্রত্যেক ছাত্র একাকী বইতে অন্তর্ভুক্ত প্রশ্ন সমূহের উত্তর দিবে।
প্রত্যেক ছাত্র সহপাঠীর সাথে তার উত্তর বিনিময় করবে; যাতে দু'জনের প্রত্যেকেই অন্যের উত্তর মূল্যায়ন করতে পারে।
কতিপয় শিক্ষার্থী বাছাই করুন, যারা প্রত্যেকেই তার সহপাঠীর উত্তরে কি শুদ্ধ এবং পরিমার্জন করেছে তা পেশ করবে।
ছাত্রদেরকে পারস্পরিক শুদ্ধিকরণ ও পরিমার্জনের উপর মন্তব্য করার সুযোগ দিন। অতঃপর ছাত্রদের উত্তরগুলো পর্যালোচনা করুন এবং তাদের সামনে প্রশ্ন সমূহের মডেল উত্তর স্পষ্ট করুন।
প্রশ্ন ১: - - -।
* শিক্ষাগত এবং মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠে যা শিখেছে তা নিচের নিয়মে তাদের জীবনে ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশ দিন:
সালাতের পরে, ঘুমানোর আগে এবং সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠে যত্নবান হওয়া।
পরিবার এবং আশেপাশের লোকদেরকে আয়াতুল কুরসির ফজিলত, এবং এতে অন্তর্ভুক্ত আল্লাহ তা'আলার অতীব গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া।
সূরা আত-তাকাছুর এবং সূরা আল-আসরের তাফসীর।
চতুর্থ পাঠ:
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী:
(أَلْهَاكُمْ – التكاثر – خُسْر – تَواصَوا) (তোমাদের ব্যস্ত করে রেখেছে - (সম্পদ) বৃদ্ধির প্রতিযোগিতা, - ক্ষতি - একে অপরকে উপদেশ দেয়)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক পোস্টার - সূরা দুটির রেকর্ড ধারণকৃত অডিও মাধ্যম)
শিক্ষাদান কৌশল:
(আলোচনা - প্রতীকনিচয় পদ্ধতি - সহযোগিতামূলক শিক্ষা)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিঃ
• পার্থিব জীবন নিয়ে মত্ত হওয়া থেকে সাবধান।
• আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতের সম্মান করা।
• ক্বিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা অনুভব করা।
• সূরা আল-আসরের মর্যাদাকে গুরুত্ব দেয়া।
• কাফির ও পাপীদের বৈশিষ্ট্যে পতিত হওয়া থেকে দূরে থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিচের প্রশ্নগুলো ছুঁড়ে দিন: পার্থিব জীবনের ভোগ-বিলাসের ব্যাপারে একজন মুসলিমের অবস্থান কী? সে কি দুনিয়া অর্জনের প্রচেষ্টায় ব্যস্ত থাকবে, আর ফরয ইবাদতগুলো ছেড়ে দিবে? এই প্রশ্নগুলো আলোচনার মাধ্যমে সূরা আত-তাকাছুরে প্রবেশ করবে, অতঃপর বোর্ডে শিরোনাম লিখবে।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক ছাত্রদের সামনে সূরা আত-তাকাছুর এবং সূরা আল-আসর পড়বেন, অতঃপর তাদেরকে তা পুনরাবৃত্তি করতে বলবেন।
সহপাঠীদের সামনে সূরা দু’টি পড়তে ভালো দু'জন ছাত্র নির্বাচন করবেন; (তারা পড়বে) বাকিরা গভীর চিন্তা সহ শুনবে।
ধাপ (২)
শিক্ষার্থীদের সাথে সূরা আত-তাকাছুর এবং সূরা আল-আসরের অর্থ নিয়ে আলোচনা করুন।সেই সাথে দুর্বোধ্য বিষয়ের ব্যাখ্যার উপর দৃষ্টি দিন।
উত্থাপিত প্রসঙ্গ অনুসারে শিক্ষার্থীদেরকে শব্দার্থ বের করার সুযোগ দিন।
ধাপ (৩)
শিক্ষক ছাত্রদের সাথে আলোচনায় নিচের প্রশ্নগুলো অন্তর্ভুক্ত করবেন। তাফসির এবং অর্থ স্পষ্ট করতে এগুলোর উত্তর বিশ্লেষণ করার পাশাপাশি উল্লিখিত আয়াতের সাথে এর যোগসূত্র তুলে ধরবেন।
প্রশ্নঃ সূরা আল-আসরে যার শপথ করা হয়েছে এবং যার ওপর শপথ করা হয়েছে, এতদুভয়ের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় কর।
প্রশ্নঃ সূরা আল-আসরে উল্লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক মুমিনদের সফলতার কারণ কী?
শিখন ফল:
শিক্ষক প্রত্যেক দু্'জনকে আয়াত সমূহের শিক্ষা এবং নির্দেশনা উদঘাটনে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিবেন।
তাদের বইতে উল্লিখিত উপকারিতাগুলো অবহিত হতে বলবেন।
বইতে উল্লিখিত এবং তাদের উপস্থাপিত শিক্ষা ও নির্দেশনার মাঝে তুলনা করে তাদের কাজের সহায়তা এবং সুদৃঢ় করবে।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নম্বর: ১, ধরন ও লক্ষ্য: দলীয়, দুনিয়াবী বিষয় সমূহ যা বেশী হাসিল করা বাঞ্ছনীয় এবং যা কম হাসিল করা বাঞ্ছনীয় তা অনুসন্ধান করা। লক্ষ্য নং: ২,
শিক্ষক ছাত্রদেরকে দুটি গ্রুপে ভাগ করবেন। এবং প্রত্যেক গ্রুপকেই অনুশীলন কার্যক্রমের উভয় অংশের উত্তর দিতে নির্দেশ দিবেন।
তিনি দুই গ্রুপের উত্তর অবগত হবেন, সাথে সঙ্গত শক্তিশালীকরণ করবেন। এবং তারা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা নিয়ে পর্যালোচনা করবেন, যতক্ষণ না সবাইকে নিয়ে সঠিক উত্তরে পৌঁছা যায়।
কার্যক্রম নম্বর: ১, ধরন ও লক্ষ্য: একাকি, আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতের প্রতি আমাদের কর্তব্য অবহিত হওয়া। লক্ষ্য নম্বর: ৩,
প্রত্যেক ছাত্রকে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি একাকী সম্পাদন করতে এবং আলাদা কার্ডে তার উত্তর লিখতে বলুন। অতঃপর তাদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং মূল্যায়ন করুন। সবচেয়ে সঠিক উত্তর বাছাই করে উত্তরদাতার প্রশংসা করুন।
কার্যক্রম নম্বর: ৩, ধরন ও লক্ষ্য: একাকি, সূরা আল-আসরের ফজিলত স্পষ্ট করা। লক্ষ্য নম্বর: ৪
একটি পোস্টারে তৃতীয় কার্যক্রমটি প্রদর্শন করুন। তা পড়ার জন্য একজন শিক্ষার্থী বেছে নিন। আলোচনার ফাঁকে কার্যক্রমের প্রশ্ন ছুঁড়ে দিন, যাতে তারা এর উত্তর দিতে পারে। এবং যে সমস্ত শিক্ষার্থী সচরাচর অংশগ্রহণ করেনা তাদেরকে উত্তর দিতে উৎসাহিত করুন। অতঃপর তাদের প্রত্যেককেই বইয়ে সঠিক উত্তর লিখার নির্দেশ দিন।
মূল্যায়ন:
নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
বোর্ডে এক এক করে প্রশ্ন লিখার পরামর্শ দেয়া হলো।
পাশাপাশি দুই শিক্ষার্থীকে মিলে-মিশে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলুন।
তাদের উত্তরগুলো অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য এলোপাতাড়ি কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন।
তাদের মধ্যে যারা ভুল করেছে তাদেরকে পাঠের বিষয়বস্তুটি পড়তে এবং সেখান থেকে সঠিক উত্তর বের করতে বলুন।
প্রশ্ন ১: (×) - (✓)-(×) - (✓)
* শিক্ষাগত এবং মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন, আর এটা:
আমাদের উপর আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতের শোকর করার চেষ্টা করা।
সূরা আল-আসরে বর্ণিত বিষয় "ঈমান, নেক-আমল, আল্লাহর দিকে আহবান এবং এর উপর ধৈর্য্য ধারণ" এগুলোর ওপর আমল করা।
পঞ্চম পাঠ: সূরা আল-হুমাযাহ এবং সূরা আল-ফীল এর তাফসীর।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী:
(الهُمَزَة – اللمَزَة – يُنْبَذَنَّ – الْحُطَمَة – الأَفْئِدَة – مُؤْصَدَة – كَيْدهُمْ – أَبَابِيل – سِجِّيل – العَصْف – مَأْكُول ). (পশ্চাতে নিন্দাকারী - সম্মুখে নিন্দাকারী - অবশ্যই সে নিক্ষিপ্ত হবে - হুতামাহ (প্রচন্ড আগুন) - অন্তকরণ - আবদ্ধ - তাদের ষড়যন্ত্র - ঝাঁকে ঝাঁকে - কংকর - ঘাস - ভক্ষিত )।
শিক্ষা উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক পোস্টার - সূরা দুটির রেকর্ড ধারণকৃত অডিও মাধ্যম)
শিক্ষাদান কৌশলসমূহঃ
(বর্ণনামূলক পদ্ধতি - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো - সংলাপ ও আলোচনা - সহযোগিতামূলক শিক্ষা)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিঃ
• মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য গীবত ও চুগলি থেকে সতর্কতা।
আল্লাহ তা‘আলার কাছে পবিত্র বাইতুল্লাহর অবস্থানকে সম্মান করা।
• যারা আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয় লঙ্ঘন করবে, তাদের ধ্বংস করার বিষয়ে আল্লাহর ক্ষমতাকে উপলব্ধি করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সাথে হস্তিবাহিনীর ঘটনা সম্পর্কে তারা যা জানে এবং ঘটনার শিক্ষা, বিশেষ করে আল্লাহর নিকট সম্মানিত ঘরের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করুন। অতঃপর তাদেরকে পাঠের বিষয়বস্তু অবহিত করুন এবং বোর্ডে তা লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক ছাত্রদেরকে পাঠের সূরা দুটি অডিও মাধ্যমে শোনার নির্দেশ দিবেন।
দু’জন ভাল তেলাওয়াতকারী ছাত্রকে তাদের সহপাঠীদের নিকট মহান সূরা দুটি পাঠ করার জন্যে বেছে নিবেন।
ধাপ (২)
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে কঠিন শব্দভান্ডারের অর্থ নিয়ে আলোচনা করবেন, সাথে প্রাসঙ্গিক বিষয় চিন্তা করে অর্থ বের করতে তাদেরকে উৎসাহিত করবেন।
ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করার জন্য আয়াত সমূহের উপাদান বোর্ডে লিখতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন।
ধাপ (৩)
পাঠের উপাদান বোঝার বিষয়টি নিশ্চিত হতে নিম্নলিখিতভাবে সংলাপ এবং আলোচনার পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
হস্তিবাহিনীর কী শাস্তি হয়েছিল?
হস্তিবাহিনীর গল্প এবং নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মের মধ্যে সম্পর্ক বর্ণনা করুন।
সূরা আল-হুমাযায় বর্ণিত বিদ্রুপের শাস্তি ব্যাখ্যা কর।
শিক্ষার্থীদের থেকে পূর্ববর্তী প্রশ্নগুলোর উত্তর নিন এবং এর উপর পর্যালোচনা করুন। যারা সঠিক উত্তর করেছে তাদের প্রশংসা করুন।
শিখন ফল:
শিক্ষার্থীদেরকে দলে দলে ভাগ করুন এবং ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো কৌশল ব্যবহার করুন।
তাদেরকে সূরা দুটি থেকে চরিত্র এবং আচরণগত শিক্ষাগুলো বের করতে বলুন। অতঃপর তারা যা বের করেছে তা উপস্থাপনের জন্য প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজনকে বেছে নিন; যাতে তাদেরকে মূল্যায়ন করা যায় এবং সঠিক উত্তর জানানো যায়।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নম্বর: ১, ধরন ও লক্ষ্য: সম্মিলিত, অন্যদেরকে বিদ্রুপ করার উপর নিষেধাজ্ঞার কারণ জানা। লক্ষ্য নম্বর: ২, ৩
ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে প্রথম অনুশীলনমূলক কার্যক্রম সম্পাদনে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিন। এবং গ্রুপের প্রতিটি সদস্যের কার্যকলাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্রুপগুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন। অতঃপর প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজনকে বেছে নিন তার গ্রুপ কী আঞ্জাম দিয়েছে তা উপস্থাপন করতে, তাদের মাঝে তুলনা করুন, সবচেয়ে সঠিক উত্তর নির্ধারণ করুন এবং তাকে উৎসাহিত করুন।
কার্যক্রম নম্বর: ২, ধরন ও লক্ষ্য: একাকি, হস্তিবাহিনীর সঠিক গল্প অবগত হওয়া। লক্ষ্য নম্বর: ২, ৪
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার নোটবুকে নিম্নলিখিত অনুশীলনমূলক কার্যক্রমের উত্তর লিখতে নির্দেশ দিন।
কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের উত্তর উপস্থাপন করতে বেছে নিন।
তাদের সহপাঠীরা এর ওপর পর্যালোচনা করবে; যাতে প্রত্যেকেই তার ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
মৌলিক, ব্যতিক্রমধর্মী এবং প্রয়োগযোগ্য উত্তরগুলোকে উৎসাহিত করুন।
মূল্যায়ন:
নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে বলুন:
ছাত্রদেরকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করুন। প্রতিটি গ্রুপ প্রশ্নেগুলোর উত্তর দিতে পারস্পরিক সহযোগিতা করবে।
গ্রুপের প্রতিটি সদস্যই প্রশ্ন সমূহ থেকে একটির উত্তর দিবে। তার দুই সহপাঠী তাকে পর্যবেক্ষণ করবে, ভুল করলে (সঠিক উত্তরের) নির্দেশনা দিবে।
উত্তর উপস্থাপন করতে প্রতি দু'টো গ্রুপকে জোড়া আকারে বেছে নিন।
গ্রুপ দু'টোকে মূল্যায়ন করুন। উত্তরের দিক থেকে সেরা গ্রুপ নির্বাচন করে তাকে উপযুক্ত স্কোর দিন।
সর্বোচ্চ গ্রেডপ্রাপ্ত গ্রুপটি নির্ধারণ করুন এবং এর সদস্যদের উৎসাহ দিন।
প্রশ্ন ১: ()-()-()
* শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন। আর এটা:
গীবত, পরচর্চা, এবং ব্যঙ্গ করা পরিহার করা, সেই সাথে পরিবার পরিজন ও সহপাঠীদেরকে এ নিয়ে সতর্ক করা।
পবিত্র ঘরের মর্যাদা সমুন্নত করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের গুরুত্ব উপলব্ধি করা।
ষষ্ঠ পাঠ: সূরা কুরাইশ এবং সূরা আল-মা‘ঊন এর তাফসির।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দালী: (لِإِيلافِ قُرَيْشٍ– يَدُعُّ الْيَتِيمَ – يُرَاءُونَ– الْمَاعُون) (কোরাইশদের আসক্তির কারনে - এতিমকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় - লোক দেখিয়ে বেড়ায় - নিত্য ব্যবহার্য জিনিস)।
শিক্ষা উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক পোস্টার - রেকর্ড ধারণকৃত অডিও মাধ্যম)
সম্মানিত সূরা দু'টির)।
পাঠদান কৌশল:
(গল্প পদ্ধতি - ব্রেন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো - সংলাপ এবং আলোচনা - সহযোগিতামূলক শিক্ষা)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গিঃ
• সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার শোকর করা।
• উম্মতের নিয়ামতকে সম্মান করা।
• লোক দেখানো (ইবাদতের) ভয়াবহতা, সালাত পরিত্যাগ করা কিংবা বিনা কারণে দেরী করে সালাত আদায় করাকে গুরুত্বের সাথে দেখা।
• পরকালকে মিথ্যা প্রতিপন্ন কারী এবং এ থেকে অসতর্কদের বৈশিষ্ট্য এড়িয়ে চলা।
এতিম এবং নিঃস্বদের প্রতি অনুগ্রহ করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সাথে আল্লাহর নিয়ামত, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিয়ামত প্রসঙ্গে আলোচনা করুন। অতঃপর বলুন, কোরাইশদের উপরও আল্লাহ তা'আলার এই নিয়ামত ছিল, কিন্তু তারা এর কুফরী করেছে। অতঃপর তাদেরকে পাঠের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অবহিত করুন এবং বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে পাঠের সূরা দুটি অডিও মাধ্যমে মনোযোগের সাথে শুনতে নির্দেশ দিবেন।
দু’জন ভাল তেলাওয়াতকারী ছাত্রকে তাদের সহপাঠীদের নিকট সম্মানিত সূরা দুটি পাঠ করার জন্যে বেছে নিবেন।
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে কঠিন শব্দভান্ডারের অর্থ নিয়ে আলোচনা করবেন, সাথে প্রাসঙ্গিক বিষয় চিন্তা করে অর্থ বের করতে তাদেরকে উৎসাহিত করবেন।
ধাপ (২)
ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো কৌশল ব্যবহার করুন; ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করার জন্য বোর্ডে আয়াতগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো লিখতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন।
শিক্ষার্থীদের সাথে আয়াতসমূহের তাফসির নিয়ে আলোচনা করুন এবং কতিপয় শব্দার্থ স্পষ্ট করুন।
ধাপ (৩)
পাঠের উপাদান বোঝার বিষয়টি নিশ্চিত হতে নিম্নলিখিতভাবে সংলাপ এবং আলোচনা পদ্ধতি ব্যবহার করুন।
কুরাইশদের উপর আল্লাহ তা‘আলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত উল্লেখ করুন।
ঈমান এবং আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতের ধারাবাহিকতার মধ্যে সম্পর্ক কী?
সম্মানিত ঘরকে আল্লাহ তা'আলার রক্ষাকরণ এবং নিরাপত্তা ও রিজিকের নিয়ামত অবতীর্ণ করার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করুন।
সূরা আল মাউনের ঐ আয়াতগুলো উল্লেখ করুন, যা মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের অবস্থা বর্ণনা করে।
পূর্ববর্তী প্রশ্ন সমূহের ওপর শিক্ষার্থীদের উত্তর সংগ্রহ করুন এবং পর্যালোচনা করুন। যারা সঠিক উত্তর করেছে তাদেরকে উৎসাহ দিন।
শিখন ফল:
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের নোটবুকে উপাদান এবং চিন্তা আকারে পাঠটি লিখতে বলুন; যাতে মুখস্থ করার ক্ষেত্রে এর সাহায্য নিতে পারে।
কতিপয় ছাত্রকে আয়াত সমূহের অতীব গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলো তুলে ধরতে বলুন। আর এ ক্ষেত্রে তাদেরকে সহায়তা করুন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নম্বর ১ ধরন ও লক্ষ্য একাকি: কুরাইশদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সফর এবং এই নিয়ামত সম্পর্কে তাদের অবস্থান জানা। লক্ষ্য নম্বর ১, ২
প্রথম কার্যক্রমে থাকা মানচিত্রটি শিক্ষার্থীদেরকে দেখতে বলুন এবং দু'জনকে বেছে নিন, যারা সহপাঠীদের নিকট তা পড়তে চেষ্টা করবে। তাদের সাথে এ নিয়ে আলোচনা করুন। অতঃপর প্রতিটি ছাত্রকে কুরাইশদের বাণিজ্যিক ভ্রমণের স্থানসমূহ চিহ্নিত করতে এবং এ নিয়ামত সম্পর্কে কুরাইশদের অবস্থান বর্ণনা করতে বলুন। যে সঠিক উত্তর করবে তার প্রশংসা করুন।
কার্যক্রম নম্বর: ২, ধরন ও লক্ষ্য: একক, সূরা আল-মাউন থেকে মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের অবস্থা বেরকরণ ।
লক্ষ্য নম্বর: ৩, ৪
অডিও মাধ্যমে ছাত্রদের নিকট সূরা আল-মাউনের আয়াতগুলো উপস্থাপন করুন। তা পড়ার জন্য দক্ষ একজনকে বেছে নিন। অতঃপর তাদেরকে সূরা আল-মাউনের সে আয়াতগুলো লিখতে বলুন যা মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের অবস্থা বর্ণনা করেছে।
ছাত্রদের উত্তরগুলো পর্যালোচনা করুন, যাতে তাদেরকে নিয়ে সঠিক উত্তরে পৌঁছানো যায়। অতঃপর তারা প্রত্যেকেই তাদের কার্যক্রম টেবিলে তা লিখবে।
মূল্যায়ন
নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
ছাত্রদেরকে দলে দলে ভাগ করুন। আর প্রতিটি দল নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারস্পরিক সহযোগিতা করবে।
গ্রুপের প্রত্যেকেই একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে। আর তার দুই সহপাঠী তাকে পর্যবেক্ষণ করবে, ভুল করলে নির্দেশনা দিবে।
উত্তর উপস্থাপনের জন্য প্রত্যেক দুটি দলকে যৌথভাবে বেছে নিন।
আপনি তাদেরকে মূল্যায়ন করুন। সেই সাথে উত্তরের দিকে হতে সেরা দলকে বেছে নিন এবং তাকে উপযুক্ত স্কোর দিন।
সর্বোচ্চ স্কোর প্রাপ্ত গ্রুপ নির্ধারণ করুন এবং এর সদস্যদের উৎসাহিত করুন।
প্রশ্ন ১: () - () - () - ()
* শিক্ষাগত এবং মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন, আর এটা:
পবিত্র ঘরকে সম্মান করা এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট এর মর্যাদাকে উপলব্ধি করা।
সর্বদা নিয়ামতের জন্য শোকর করা এবং এতিম ও মিসকীনদের প্রতি সদয় হওয়া।
পরিবার এবং আশেপাশের লোকদেরকে আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া করণের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা এবং এতিম ও দরিদ্রদের প্রতি অনুগ্রহ করা।
ঈমান ও তাযকিয়ার অধ্যায়
প্রথম পাঠ: তাওহীদের ফযীলত ও গুরুত্ব
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((التوحيد ) তাওহীদ - (حق الله تعالى) আল্লাহ তা‘আলার অধিকার - (حق العباد) বান্দাদের অধিকার)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক ছবি)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহ:
(আত্ম-প্রশ্নকরণ - নির্দেশনামূলক মানচিত্র)।
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
• তাওহীদের মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
আল্লাহর তাওহীদের দিকে মানুষকে আহ্বান করা।
দৃঢ় বিশ্বাস করা যে, তাওহীদ হল, সেই উদ্দেশ্য যার জন্য আল্লাহ তা‘আলা মাখলুক সৃষ্টি করেছেন।
পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক, আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদই হল দ্বীন ইসলামের মূল ভিত্তি, এই দিকেই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পূর্বের নবীগণ দাওয়াত দিয়েছেন এই বিষয়টি শিক্ষার্থীদের অবগত করে পাঠটির ভুমিকা উপস্থাপন করুন। আর আল্লাহ তায়ালা জান্নাতকে তাওহীদের ধারকদের জন্য আর জাহান্নামকে মুশরিকদের জন্য ঠিকানা বানিয়েছেন। সুতরাং একজন মুসলিম কীভাবে তাওহীদ বাস্তবায়ন করবে?
আপনি তাদের বলুন যে, এই বিষয়েই এ দারসে আলোচনা হবে, তারপর আপনি বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
নির্দেশনামূলক মানচিত্র পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং পাঠের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের পূর্ব জ্ঞানকে সংগঠিত করতে; শিক্ষক তাওহীদের সংজ্ঞা, ফযীলত ও মর্যাদা বর্ণনা করার জন্য বোর্ডে একটি পরিকল্পিত চিত্র প্রদর্শন করবেন।
ধাপ (২)
আত্ম-প্রশ্নকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কিছু প্রশ্ন উপস্থাপন করতে বলবেন, এই বিষয়ে যেগুলোর উত্তর তারা জানতে চায়। তিনি তাদের প্রশ্নগুলো একত্র করবেন এবং তা বোর্ডে লিখবেন। পাঠের সকল শিরোনামগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি তাদেরকে কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে সমৃদ্ধ করতে পারেন। তাতে নিম্নের প্রশ্নগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
প্রশ্নঃ তাওহীদ দ্বারা উদ্দেশ্য কি?
প্রশ্নঃ তাওহীদের গুরুত্ব কি?
প্রশ্নঃ তাওহীদের ফযীলত কি?
প্রশ্নঃ তাওহীদের সাথে নেক আমল কবুলের সম্পর্ক কি?
ধাপ (৩)
পূর্ববর্তী প্রশ্নগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে ও সেগুলোকে ব্যখ্যায় একীভুত করে শিক্ষক তাওহীদের ফযীলত এবং এর মর্যাদা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করবেন। এই সময় শিক্ষক তাওহীদের ফযীলতের দলীল ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে প্রদর্শন করবেন এবং শিক্ষার্থীদেরকে তাতে থাকা শব্দাবলীর অর্থ এবং তা নির্দেশ করে তা স্পষ্ট করতে বলবেন।
ফলাফল:
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের নোটবুকে পাঠটি বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারা আকারে লিখতে বলুন; মুখস্ত করার সময় তা দ্বারা সহযোগিতা পাওয়ার জন্য ।
কিছু ছাত্রকে মৌখিকভাবে পাঠের সার-সংক্ষেপ বর্ণনা করতে বলুন। সাথে তাদেরকে উৎসাহ ও সমর্থন দিন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, তাওহীদের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা।
লক্ষ্য নং ২
প্রত্যেক ছাত্রকে একাকী কার্যক্রমটি সম্পাদন করতে বলুন। সাথে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় অধ্যয়নের পরামর্শ দিন। কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের প্রস্তাবিত উত্তরগুলো সহপাঠীদের পক্ষ হতে মূল্যায়নসহ উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, তাওহীদের ফযীলত স্পষ্ট করা।
লক্ষ্য নং ২
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি এককভাবে সম্পাদন করতে এবং একটি আলাদা কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ দিন। তারপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরগুলো সনাক্ত করে তাদের মূল্যায়ন করুন, সাথে সঠিক উত্তরদাতার নাম উল্লেখ করে প্রশংসা করুন।
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থী একাকী তার বইয়ে প্রশ্ন দুটির উত্তর দিবে। আর তাদের উত্তরগুলো অবগত হতে ও মূল্যায়ন করতে তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করুন।
প্রশ্ন ১: ()-()-()
তৃতীয় ও চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন। গ্রুপগুলোর উত্তরগুলো সংগ্রহ করুন এবং প্রতিটি গ্রুপের ভুল চিহ্নিত করে তাদের মূল্যায়ন করুন। তারপর সংশোধনের পদ্ধতিসহ তা ছাত্রদের সামনে প্রদর্শন করুন। অতঃপর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপকে চিহ্নিত করে তার প্রতিটি সদস্যকে যথাযথ সমর্থন প্রদান করুন।
* শিক্ষণীয় ও উপলব্ধিমূলক নির্দেশনাঃ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তাদের বাস্তব জীবন ও তাদের আচার আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিন:
প্রতিটি শিক্ষার্থী তাওহীদের ফযীলত ও তার গুরুত্ব প্রমাণকারী নসগুলো পুনরায় পাঠ করবে, সাথে সাথে অন্যান্য উৎস থেকেও এ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করবে, যতক্ষণ না তাওহীদ বাস্তবায়নের গুরুত্ব ও তার ফযীলত সম্পর্কে নিশ্চিত জ্ঞান অর্জন করে।
তাওহীদ এবং এর গুরুত্ব সম্পর্কে তাদের জ্ঞানগুলো তাদের পরিবার এবং আশেপাশের লোকদের কাছে ছড়িয়ে দিবে।
দ্বিতীয় পাঠ: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((توحيد الربوبية) তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ - (الإحياء ) জীবিত করা - (الإماتة) মৃত্যু দেওয়া)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক ছবি)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহ:
(পূর্বাভাস পদ্ধতি - সাদৃশ্য কৌশল - কল্পনামূলক কৌশল - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি)।
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
• দৃঢ় বিশ্বাস করা যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ হলেন সবকিছুর রব, মালিক ও স্রষ্টা।
• তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ বাস্তবায়নের প্রতি আগ্রহী থাকা।
• রুবুবিয়্যাতে শিরকের ভয়াবহতা অনুভব করা।
পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক! তাওহীদ তিন প্রকার: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ, তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ ও তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত এই বিষয়টির সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ছাত্রদের জন্য পাঠের ভুমিকা উপস্থাপন করুন। এই দারসে (তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ) নিয়ে আলোচনা করা হবে, তারপর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীদের পাঠের শিরোনাম ও তার উদ্দেশ্য জানার আলোকে এই পাঠে অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারা সম্পর্কে তাদের অনুমান উপস্থাপন করতে বলুন। তারা যে উত্তর দেয় তা চিহ্নিত করুন এবং ব্যতিক্রমী উত্তরটি বোর্ডে লিখুন।
ধাপ (২)
বোর্ডে নিম্নের বাক্যটি লিখুন:
আল্লাহ তা‘আলাকে তাঁর সেসব কর্মে একক হিসেবে সাব্যস্ত করা, যেগুলো একমাত্র তাঁর সাথেই নির্দিষ্ট; যেমন: সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া এবং পরিচালনা করা... তাহলে সেটি কী?
তাদের উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করার পর, তাদের জন্য তাওহীদুর রুবুবিয়্যার অর্থ এবং তা বাস্তবায়নের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করুন।
ধাপ (৩)
একটি শিক্ষামূলক বোর্ডের মাধ্যমে ছাত্রদের তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহর সাথে সাংঘর্ষিক উদাহরণগুলো ধারাবাহিকভাবে দলিলসহ উপস্থাপন করুন। তারপর এর অর্থ ব্যাখ্যা এবং এর থেকে শিক্ষণীয় বিষয় নিয়ে ছাত্রদের সাথে আলোচনা করুন এবং শিক্ষার্থীরা যা জানতে চায় সে সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সুযোগ দিন।
ফলাফল:
প্রতিটি ছাত্রকে পাঠের বিষয়বস্তু পুনারায় পাঠ করতে নির্দেশ দিন এবং তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপনের জন্য কয়েকজন ছাত্রকে নির্বাচন করুন।
শিক্ষার্থীদের সাথে পাঠের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারা এবং বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করুন, সাথে তারা কি শিখতে পেরেছে তা শুনুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ বিভিন্ন দিকগুলো ব্যাখ্যা করা।
লক্ষ্য নং ২, ৪
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রথম কার্যক্রমটি একাকী সম্পাদন করতে নির্দেশ দিন, সাথে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় পাঠ করার জন্য বলুন। তারপর কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের প্রস্তাবিত উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন, সাথে সেগুলো মূল্যায়ন করুন।
সূরা আল-বাকারাহ. আয়াত: ২৫৮
বাদশাহর নাম: নমরুদ ইবনু কিন‘আন। সে জীবনদান ও মৃত্যু প্রদানের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার সাথে বিতর্ক করেছিল। তখন নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তার বিরুদ্ধে সূর্যকে পশ্চিম থেকে উদয় করার কথা বলে প্রমাণ সাব্যস্ত করেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য ব্যক্তিগতভাবে, রিযিক লাভের পদ্ধতি সম্পর্কে জানা।
লক্ষ্য নং ৩
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি এককভাবে সম্পাদন করতে এবং একটি আলাদা কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ দিন। তারপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরগুলো সনাক্ত করে তাদের মূল্যায়ন করুন, সাথে সঠিক উত্তরদাতার নাম উল্লেখ করে প্রশংসা করুন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, শিরকের প্রকারসমূহের মধ্যে পার্থক্য করা এবং তার মোকাবিলা করার পদ্ধতি জানা।
লক্ষ্য নং ৫, ৬
শিক্ষক ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে তৃতীয় অনুশীলন কার্যক্রমের উত্তর দিতে নির্দেশ দিবেন।প্রত্যেক ছাত্র (অন্তত) একটি বিষয়ের উত্তর দিবে। আর তার সহপাঠীরা তা পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে।
শিক্ষক অনুশীলন কার্যক্রমের প্রতিটি বিষয় পর্যায়ক্রমে তুলে ধরবেন এবং এ সম্পর্কে প্রতিটি গ্রুপের উত্তর জানবেন। আর গ্রুপের মধ্যে যে ব্যক্তি এর উত্তর দিয়েছে তাকে চিহ্নিত করবেন এবং প্রত্যেক গ্রুপকে উপযুক্ত নাম্বার দিবেন।
শিক্ষক সর্বোচ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত গ্রুপটি চিহ্নিত করবেন এবং এর সদস্যদের প্রশংসা করবেন। অনুরূপভাবে প্রতিটি গ্রুপের মধ্যে যে সঠিক উত্তর দিয়েছে তার কর্মতৎপরতাকে সমর্থন করবেন।
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থী একাকী তার বইয়ে প্রশ্ন দুটির সমাধান করবেন। আর তাদের উত্তরগুলো অবগত হতে ও মূল্যায়ন করতে শিক্ষক তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবেন ।
প্রশ্ন ১: ( ) - - ( ) - ( )
প্রশ্ন ২: তার কর্ম দ্বারা - একমাত্র আল্লাহ - অদৃশ্যের জ্ঞান (ইলমুল গায়েব) দাবি করা
তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন। গ্রুপগুলোর উত্তরগুলো সংগ্রহ করুন এবং প্রতিটি গ্রুপের ভুল চিহ্নিত করে তাদের মূল্যায়ন করুন। তারপর সংশোধনের পদ্ধতিসহ তা ছাত্রদের সামনে প্রদর্শন করুন। সাথে সেরা উত্তরদাতা গ্রুপকে চিহ্নিত করে তার প্রতিটি সদস্যকে যথাযথ সমর্থন প্রদান করুন।
* শিক্ষণীয় এবং অনুভূতিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তাদের বাস্তব জীবন ও তাদের আচার আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিন:
প্রত্যেক ছাত্র তাওহীদুর রুবুবিয়্যার দলিলসমূহ পুনরায় পড়বে; যাতে তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ বাস্তবায়নের গুরুত্ব অনুভব করে।
প্রতিটি ছাত্র তার আশেপাশের লোকদের তাওহীদুর রুবুবিয়্যার সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো থেকে সতর্ক করবে।
তৃতীয় পাঠ: তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((توحيد الألوهية ) তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ - (العبادات القلبية) অন্তরের ইবাদতসমূহ)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক ছবি)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহ:
(পূর্বাভাস পদ্ধতি - সাদৃশ্য কৌশল - কল্পনামূলক কৌশল - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি)।
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
• আল্লাহ তা‘আলার উলূহিয়্যার প্রতি ঈমান।
• তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ বাস্তবায়নে আগ্রহী থাকা।
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ ও তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ এর মাঝে সম্পর্ক স্থাপন।
• উলূহিয়্যাতের ক্ষেত্রে শিরকের দিকগুলো থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা।
পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক! আরবরা আল্লাহকে সৃষ্টিকর্তা ও রিযিকদাতা হিসেবে মানা সত্ত্বেও তাদের কুফরী করার কারণ নিয়ে ছাত্রদের সাথে আলোচনা করে পাঠের ভুমিকা উপস্থাপন করুন। তারপর তাদেরকে পাঠের বিষয়বস্তুর দিকে নিয়ে যান এবং বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীরা পাঠের বিষয় জানার পরে, এই পাঠে অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারা সম্পর্কে তাদের অনুমান উপস্থাপন করতে বলুন। আর তাদের সাথে সে বিষয়ে আলোচনা করুন, সাথে বোর্ডে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লিখে রাখুন ।
ধাপ (২)
ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো পদ্ধতি ব্যবহার করে ছাত্রদেরকে তাওহীদুল উলুহিয়্যার অর্থ নির্ধারণ করতে এবং ইবাদতের প্রকারগুলো স্পষ্ট করতে বলুন। আর সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন।
ছাত্রদের তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ ও তাওহীদুর রুবুবিয়্যার মাঝে সম্পর্ক নির্ণয় করতে বলুন এবং চমৎকার উত্তরদাতা শিক্ষার্থীদের সমর্থন ও প্রশংসা করুন।
ধাপ (৩)
একটি শিক্ষামূলক বোর্ডের মাধ্যমে তাওহীদুল উলূহিয়্যার সাথে সাংঘর্ষিক উদাহরণগুলো পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করুন এবং কিছু ছাত্রকে তা পড়ার জন্য বেছে নিন। সাথে তাদের জন্য তা ব্যাখ্যা করুন ও এর অর্থ বর্ণনা করুন এবং শিক্ষার্থীরা যা জানতে চায় তার সম্পর্কে তাদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সুযোগ দিন।
ফলাফল:
দারস, এর বিষয়বস্তু এবং এতে উপস্থাপিত উদাহরণগুলো জানার আলোকে প্রতিটি ছাত্রকে ভূমিকায় উপস্থাপিত প্রশ্নের উত্তর পর্যালোচনা করার জন্য নির্দেশ দিন। আর কিছু ছাত্রকে তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন এবং সে বিষয়ে মন্তব্য করুন।
শিক্ষার্থীরা প্রথম ধাপে উপস্থাপিত পাঠের চিন্তাধারা এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের অনুমান পর্যালোচনা করবে এবং তারা যা উপস্থাপন করেছিল পাঠটি তা কী পরিমাণ পূরণ করেছে এবং তা থেকে কি শিক্ষা লাভ করেছে তা বর্ণনা করবে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, তাওহীদুল উলূহিয়্যাহ এবং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলো জানা।
লক্ষ্য নং ২, ৩
শিক্ষক প্রত্যেক দু’জন ছাত্রকে প্রথম কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিবেন এবং তারা শেষ করার পর তিনি প্রতিটি দলের উত্তর অবগত হবেন। তারপর শিক্ষার্থীদের সামনে একটি বোর্ড প্রদর্শন করবেন ও তা দুটি ভাগে ভাগ করবেন। প্রথম অংশে তাওহীদের ধরনগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং দ্বিতীয় অংশে থাকবে এমন চারটি ইবাদত লিপিবদ্ধকরণ , যা সে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদন করে।
তিনি সঠিক উত্তরগুলো গ্রহণ করবেন এবং সেগুলোকে বোর্ডে লিখে রাখবেন এবং তা সংরক্ষণ করার জন্য ও চারপাশের লোকদেরকে সেগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এটির একটি ছবি তুলে রাখতে বা লিখে রাখতে বলবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, তাওহীদের প্রকারগুলো মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা।
লক্ষ্য নং ৫
প্রত্যেক ছাত্রকে একাকী দ্বিতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদন করতে বলুন। সাথে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় অধ্যয়নের পরামর্শ দিন। কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের প্রস্তাবিত উত্তরগুলো সহপাঠীদের পক্ষ হতে মূল্যায়নসহ উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন।
কাজসমূহ তাওহীদুর রুবুবিয়্যার অন্তর্ভুক্ত তাওহীদুল উলূহিয়্যার অন্তর্ভুক্ত
মুহাম্মাদ আসর সালাত আদায় করল: তাওহীদুল উলূহিয়্যার অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ সূর্য সৃষ্টি করেছেন মর্মে স্বীকারোক্তি প্রদান: তাওহীদুল রুবুবিয়্যার অন্তর্ভুক্ত।
জায়েদ তার রবকে ডাকল: তাওহীদুল উলূহিয়্যার অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ তা‘আলা প্রাণীকে মানুষের অধীনস্থ করেছেন: তাওহীদুর রুবুবিয়্যার অন্তর্ভুক্ত।
হাসান আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি ছাগল যবেহ করার মান্নত করল: তাওহীদুল উলূহিয়্যার অন্তর্গত।
ফাতিমা ঈমান এনেছে যে, আল্লাহ তা‘আলাই মাখলূককে রিযিক প্রদান করেন: তাওহীদুল রুবুবিয়্যার অন্তর্ভুক্ত।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, তাওহীদুল উলূহিয়্যার সাথে সাংঘর্ষিক আচরণগুলো চিহ্নিত করা। লক্ষ্য নং ৪
প্রতি দু’জন ছাত্রকে তৃতীয় কার্যক্রমটির উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিন। তারপর দুটি দল বেছে নিন তাদের উত্তর উপস্থাপনের জন্য, সাথে বাকি দলগুলোর পক্ষ থেকে তাদের উভয় দলের মাঝে তুলনা করতে বলুন।
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থী একাকী তার বইয়ে প্রশ্ন দুটির উত্তর দিবে। আর তাদের উত্তরগুলো অবগত হতে ও মূল্যায়ন করতে তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করুন।
প্রশ্ন ১: (মহব্বত - মৃতদের নিকট প্রার্থনা করা - উলূহিয়্যাহ)
তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন। গ্রুপগুলোর উত্তরগুলো সংগ্রহ করুন এবং প্রতিটি গ্রুপের ভুল চিহ্নিত করে তাদের মূল্যায়ন করুন। তারপর সংশোধনের পদ্ধতিসহ তা ছাত্রদের সামনে প্রদর্শন করুন। অতঃপর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপকে চিহ্নিত করে তার প্রতিটি সদস্যকে যথাযথ সমর্থন প্রদান করুন।
* শিক্ষাগত ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তাদের বাস্তব জীবন ও তাদের আচার আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিন:
ছাত্ররা তাওহীদুল উলূহিয়্যার সাথে সাংঘর্ষিক অন্যান্য ধরন খুঁজতে পরস্পর সহযোগিতা করবে। তারপর তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা পর্যালোচনা ও অনুমোদনের জন্য শিক্ষকের কাছে উপস্থাপন করবে।
প্রতিটি ছাত্র তার আশেপাশের লোকদের তাওহীদুল উলূহিয়্যার সাথে সাংঘর্ষিক বিভিন্ন ধরন থেকে সতর্ক করবে।
চতুর্থ পাঠ: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((توحيد الأسماء والصفات) তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত - (الصفات الثبوتية) (ইতিবাচক) সাব্যস্তকৃত গুণাবলী।
শিক্ষামূলক উপকরণসমূহ:
(কম্পিউটার- ডিসপ্লে স্ক্রিন- শিক্ষামূলক বোর্ড- অডিও মাধ্যম- ব্ল্যাকবোর্ড)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহ:
(সূচনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন - পূর্বাভাস - চিন্তামূলক মানচিত্র - আত্ম-প্রশ্নকরণ - পরস্পর বিপরীত - পূর্ণকরণ - হট সিট)।
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
- আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর প্রতি ঈমান।
- আল্লাহর নাম এবং গুণাবলীর প্রতি ঈমানের গুরুত্ব অনুধাবন করা।
পাঠের ভূমিকা:
নীচের প্রশ্নটি বোর্ডে লিখুন এবং সহপাঠীদের সামনে পড়ার জন্য একজন ছাত্রকে বেছে নিন। সাথে এ সম্পর্কে তাদেরকে চিন্তা করতে ও উত্তরগুলো উপস্থাপন করতে বলুন। আর পাঠের ধাপগুলো অতিক্রম না করা পর্যন্ত তার মূল্যায়ন স্থগিত রাখুন।
প্রশ্ন: আল্লাহ তায়ালার রয়েছে সবচেয়ে সুন্দর নামসমূহ এবং মহৎ গুণাবলী। আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে তাঁর নাম এবং গুণের মধ্যে পার্থক্য কী?
পূর্ববর্তী পদ্ধতির অনুসরণের আলোকে; শিক্ষার্থীদের পাঠের শিরোনাম এবং এতে যা আলোচিত হবে সে সম্পর্কে পূর্বাভাস করতে নির্দেশ দিন। তারপর তাদের উত্তরগুলো জানুন ও তাদের সাথে মিলে পাঠের শিরোনাম নির্ধারণ করুন এবং তা বোর্ডে লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
চিন্তামূলক মানচিত্র পদ্ধতি ব্যবহারের সাহায্যে; একটি ডিসপ্লে স্ক্রীন বা বোর্ডের মাধ্যমে পাঠের বিষয়বস্তু প্রদর্শন করুন। তারপর সেই বিষয়বস্তু সম্পর্কে তারা যা জানতে চায় সে সম্পর্কে প্রশ্ন কারার জন্য প্রতি দুইজন ছাত্রকে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্নগুলো জানুন এবং ভিন্ন প্রশ্নগুলো বোর্ডে লিখুন যাতে তা আলোচনা ও ব্যাখ্যা করা যায়। তাদের কিছু প্রশ্ন করুন যাতে তারা তা থেকে দিকনির্দেশনা পেতে পারে এবং প্রশ্নগুলো গঠন করতে পারে।
ধাপ (২)
পাঠের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করার জন্য শিক্ষার্থীরা যে প্রশ্নগুলো উপস্থাপন করেছিল সেগুলো নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন এবং পাঠের সকল বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে তাকে সমৃদ্ধ করুন। নিম্নের প্রশ্নগুলো দ্বারা নির্দেশনা গ্রহণ ও তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে:
প্রশ্নঃ নামসমূহ ও গুণাবলীর তাওহীদ বলতে কী বোঝায়?
প্রশ্নঃ আল্লাহ্র সকল নাম সুন্দর বলতে কি বুঝায়?
প্রশ্নঃ আল্লাহর নামগুলো কি তাঁর গুণাবলীর নির্দেশ করে? বিষয়টি ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্ন: আল্লাহর নাম "আল-গাফুর" ........ গুণ নির্দেশ করে এবং "আর-রাহীম" নামটি ........ গুণ নির্দেশ করে।
প্রশ্নঃ আল্লাহর গুণাবলী বলতে কী বোঝায়?
উত্তর দেওয়ার সময় ছাত্রদেরকে অডিও মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শরয়ী দলিলগুলো শোনার নির্দেশ দিন, আর সেগুলো কী নির্দেশ করে তা স্পষ্ট করার জন্য তাদের সাথে তার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করুন।
ধাপ (৩)
শিক্ষার্থীদের সামনে চিন্তা করার জন্য একটি মানচিত্র প্রদর্শন করুন (তুলনামূলক চিত্রের মানচিত্র), যার মাধ্যমে সাব্যস্তকৃত গুণাবলী এবং যে গুণাবলী আল্লাহ নিজের থেকে অপনোদন করেছেন তা স্পষ্ট করবে। উভয় ধরনের গুণাবলী ও তার সাথে সম্পর্কিত দলিলগুলো ব্যাখ্যা করার পর, শিক্ষার্থীদেরকে দু‘ধরণের গুণাবলীর (সিফাত) মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করতে মানচিত্রটি নিয়ে চিন্তা করার নির্দেশ করুন।
* ফলাফল:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নের বাক্যগুলো পেশ করুন এবং পাঠের ধারণা ও বিষয়বস্তু অনুধাবনের আলোকে তা পূর্ণ করতে বলুন:
নামসমূহ এবং গুণাবলীর তাওহীদ বলতে কী বোঝায়...
আল্লাহ তায়ালার গুণাবলী দুটি ভাগে বিভক্ত, তা হল: ...................
আল্লাহ তায়ালা নিজের জন্য যেসব গুণাবলী সাব্যস্ত করেছেন তন্মধ্যে...
আল্লাহ তায়ালাকে যে গুণাবলীর দ্বারা বিশেষিত করা যায় না তন্মধ্যে...
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, আয়াতুল কুরসি থেকে আল্লাহ তায়ালার নাম ও গুণাবলী বের করা। লক্ষ্য নং ২, ৩
কার্যক্রমে উল্লিখিত কুরআনের আয়াতটি অডিও মাধ্যমে শোনার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিন এবং তাদের সাথে এর অর্থ ও তা কী নির্দেশ করে তা নিয়ে আলোচনা করুন।
প্রতি তিনজন ছাত্রকে তাদের বইয়ে থাকা ছকটি সম্পূর্ণ করার জন্যে পরস্পর সহযোগিতা করতে এবং সম্মানিত আয়াতটি থেকে আল্লাহর নামসমূহ, সাব্যস্তকৃত গুণাবলী এবং যেসব গুণাবলী আল্লাহ নিজের সম্পর্কে অপনোদন করেছেন তা সনাক্ত করতে নির্দেশ দিন।
তাদের সহপাঠীদের সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রতিটি দল থেকে একজনকে বেছে নিন, যাতে তাদের প্রত্যেকে তার দল কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন করতে পারে। সাথে তাদের মাঝে তুলনা করুন এবং সঠিক উত্তর নির্ণয়ে সবচেয়ে সক্ষম দলটি নির্ধারণ করুন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, আল্লাহ তায়ালার নামসমূহ লিখা ও তা প্রচার করা। লক্ষ্য নং ৬
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে তার পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় আল্লাহ তায়ালার দশটি নাম অন্তর্ভুক্ত করে একটি বোর্ড নকশা করার নির্দেশ দিবেন। সাথে আকর্ষণীয় নকশা তৈরিতে উৎসাহ প্রদান করবেন। তারপর তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এটির একটি ছবি প্রকাশ করবে৷
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশ করুন:
শিক্ষার্থীদের সামনে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্নটি পড়ুন। তাদের দু’জনকে যে কোন একটি বিষয়ের উত্তর প্রদানের জন্য বাছাই করুন। সাথে সঠিক উত্তরদাতা নির্ধারণের জন্য তাদের সহপাঠীদের মাধ্যমে উভয়ের উত্তরগুলোর মাঝে তুলনা করুন।
প্রশ্ন ১: ( ) - - ( ) - ( )
প্রশ্ন ২: (আল-কাবিয- মৃত্যু- ক্ষমতা)
দুইজন ছাত্রকে তৃতীয় প্রশ্নের একটি করে বিষয় পড়ার নির্দেশ দিন, সাথে তাদের একজন সহপাঠীকে বিষয় দু’টির উত্তর দিতে বেছে নিন এবং তিনি তাদের উত্তর মূল্যায়ন করবেন। এটি শিক্ষক ও বাকি সহপাঠীদের তত্ত্বাবধানে হবে এবং তারা তার উত্তরের ব্যাপারে তাদের মতামত প্রকাশ করবে।
* শিক্ষানীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে তারা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিবেন:
প্রত্যেক ছাত্র আল্লাহর নামসমূহ ও গুণাবলী জানতে, সেগুলোর প্রতি ঈমান ও সত্যায়নের গুরুত্ব অনুভব করতে এবং তার আমল ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের ক্ষেত্রে এর প্রভাব অনুভব করতে আগ্রহী থাকবে।
প্রতিটি শিক্ষার্থী বিভিন্ন উৎস ব্যবহার করে আল্লাহ তাআলার নাম সম্বলিত একটি শিক্ষামূলক গাছ প্রস্তুত করবে। প্রতিটি শিক্ষার্থী গাছটি প্রস্তুত ও নকশা করতে তার নকশা প্রণয়ন ও সৃজনশীল দক্ষতাকে কাজে লাগানোর জন্য কঠোর পরিশ্রম করবে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সেরা নকশা প্রস্তুতকারীর প্রশংসা করবেন।
পঞ্চম পাঠ: ইবাদত এবং তার প্রকারভেদ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((العبادة ) ইবাদত - (العبادة القولية) মৌখিক ইবাদত - (العبادة الفعلية) কর্মগত ইবাদত - (العبادة المالية) আর্থিক ইবাদত)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সমবায় শিক্ষা - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি)
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
- ইবাদতের গুরুত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
- ইবাদত আদায় করার প্রতি আগ্রহী থাকা।
- ইহকাল ও পরকালে ইবাদতের প্রভাব অনুভব করা।
পাঠের ভূমিকা:
তাদের সাথে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন যে, মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার ক্ষেত্রে একজন উত্তম আদর্শ। যেহেতু তিনি ইবাদতের প্রতি আগ্রহ ও তার উপর অবিচলতা এবং তাতে মধ্যপন্থা অবলম্বন ও মানুষের হকের ক্ষেত্রে অবহেলা না করার মাঝে সমন্বয় করেছিলেন। সুতরাং তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যিকার অর্থে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে আল্লাহ ভীরু এবং তাকওয়া অবলম্বনকারী ছিলেন। তারপর আপনি ছাত্রদেরকে পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান এবং বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি আপনার ছাত্রদের বইটি খুলতে বলুন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে একজনকে উচ্চস্বরে পাঠটি পড়ার জন্য বেছে নিন। বাকি সহপাঠীরা তার অনুসরণ করবে এবং প্রত্যেকে তার বোঝার প্রয়োজনীয় স্থানগুলো চিহ্নিত করবে।
তাদের সাথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করুন...???
ধাপ (২)
সমবায় শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলে ভাগ করুন।
প্রতিটি গ্রুপকে ইবাদতের অর্থ এবং এর প্রকারগুলো চিহ্নিত করার দায়িত্ব দিন। তারপর প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন; যেন এর অর্থ বর্ণনা করে ও প্রতিটি প্রকারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়।
তাদের মূল্যায়ন করুন এবং সঠিক উত্তর জানিয়ে দিন।
ধাপ (৩)
আপনি ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং প্রতিটি দলকে বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ ইবাদতের মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণ করতে বলুন।
তাদেরকে ইবাদতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল বের করতে সাহায্য করুন।
কিছু ছাত্রকে তা বোর্ডে লিখতে বলুন।
ফলাফল:
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাঠের কিছু বিষয় সাব্যস্ত করাকে অগ্রাধিকার দিন এবং তাতে থাকা ত্রুটিগুলো সংশোধন করে দিন।
তারপর আপনি বোর্ডে তা লিখুন, তাতে নিম্নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
ইবাদত হচ্ছে: প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কথা ও কাজসমূহের একটি সামগ্রিক নাম, যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হন।
ইবাদত দুটি ভাবে বিভক্ত: বাহ্যিক ইবাদত এবং অভ্যন্তরীণ ইবাদত।
মৌখিক ইবাদত যা বান্দা জিহ্বার মাধ্যমে আদায় করে থাকে।
কর্মগত ইবাদত যা বান্দা তার শরীর দিয়ে আদায় করে থাকে।
আর্থিক ইবাদত: এগুলো অর্থ ব্যয়ের সাথে সম্পর্কিত।
অভ্যন্তরীণ ইবাদত: এগুলোকে হৃদয়ের ইবাদত বলা হয়। কেননা তা অন্তরের সাথে সুনির্দিষ্ট এবং তা সর্বশ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
বাহ্যিক ইবাদতগুলো অভ্যন্তরীণ ইবাদাত থেকে বিছিন্ন নয়।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, ইবাদতের গুরুত্বের বর্ণনা ও তা সংরক্ষণ করা।
লক্ষ্য নং ৩
বাড়ির কাজ হিসেবে নিম্নের কার্যক্রমটির উত্তর দিতে প্রতিটি ছাত্রকে দায়িত্ব দিন।
উত্তরগুলো সামনের সাক্ষাতে আপনার সামনে উপস্থাপন করা হবে; সেগুলোর মূল্যায়ন ও সৃজনশীলকে সমর্থন করার জন্য।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, ইবাদতের প্রকার এবং তার প্রকৃতির মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করা।
লক্ষ্য নং ২
ছাত্রদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন এবং প্রতিটি দল একটি পৃথক কাগজে দ্বিতীয় কার্যক্রমের উত্তর দিবে।
প্রশ্নের উত্তর দেয়া সমাপ্ত হলে প্রতিটি দল থেকে একজন প্রতিনিধি নির্বাচন করবে; যাতে সে কার্যক্রমটির সম্পর্কে মৌখিকভাবে উত্তর দেয়।
প্রতিটি গ্রুপকে মূল্যায়ন করা হবে এবং সঠিক উত্তর দাতা গ্রুপটিই সেরা উত্তর দাতা হিসেবে গণ্য হবে।
ইবাদত দুইজনের মধ্যে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে। কথাগত কর্মগত
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, তিনটি উপায় প্রস্তাব করুন যা সময়মত সালাত আদায়ের হেফাযতের ক্ষেত্রে সাহায্য করবে। লক্ষ্য নং ৬
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তৃতীয় কার্যক্রমটি এককভাবে সম্পাদন করতে এবং একটি আলাদা কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ দিন। তারপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরগুলো সনাক্ত করে তাদের মূল্যায়ন করুন, সাথে সঠিক উত্তরদাতার নাম উল্লেখ করে প্রশংসা করুন।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
আপনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন এবং প্রতিটি দলকে নিম্নের প্রশ্নগুলোর সমাধানে অংশগ্রহণ করতে বলুন।
প্রতিটি শিক্ষার্থী তার কার্ডটি মূল্যায়ন করার জন্য একজন সহপাঠীর কার্ডের সাথে বিনিময় করবে।
আপনি আপনার ছাত্রদের পাশ দিয়ে হেঁটে যান, উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে।
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের উত্তর উপস্থাপনের জন্য একজন সদস্য বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দিন এবং সেগুলোর মূল্যায়ন করুন।
প্রশ্ন ১: (হৃদয়গত - আর্থিক - ইবাদতের ফল)।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
অধ্যয়কৃত বিষয়ের আলোকে শিক্ষার্থীদের নিম্নের বিষয়ে সতর্ক করা বাঞ্ছনীয়:
ফরয ইবাদতসমূহ পালনে আগ্রহী থাকা এবং মুস্তাহাব ইবাদতসমূহ পালনে প্রচেষ্টা করা।
ইবাদতের প্রকারভেদ এবং তার দলিল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা; যেন অধিকহারে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জিত হয়।
ষষ্ঠ পাঠ: ইবাদতের শর্ত ও রুকনসমূহ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ( (الإخلاص) ইখলাস - (المتابعة ) অনুসরণ - (الابتداع) নতুন উদ্ভাবন - (المحبة ) ভালবাসা - (الرجاء ) আশা - (الخوف) ভয়)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(গবেষণামূলক পদ্ধতি - ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো - গ্রুপ আলোচনা)।
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
- প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল কথা ও কাজে আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা।
- ইবাদত সত্তাগত, গুণগত ও সময়গত দিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার বিষয়ে আগ্রহী থাকা।
- আল্লাহ তায়ালার ভালবাসা অনুভব করা।
- আল্লাহর রহমতের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করা এবং তাঁর কল্যাণ ও অনুগ্রহে আনন্দিত হওয়া।
- আল্লাহকে ভয় করা এবং তাঁর শাস্তির বিষয়ে আতঙ্কিত থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
আপনি নিম্নলিখিত পরিস্থিতিটি উপস্থাপন করে আপনার শিক্ষার্থীদের সামনে পাঠের ভুমিকা উপস্থাপন করুন: (আহমদ স্কুলে গিয়ে তার সহপাঠীদেরকে খালেদের প্রশংসা করতে শুনল যে, সে সালাত পড়ে এবং আল-কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করে। খালেদ তাদের সাথে বসে ছিল, তাদের কথোপকথনে আনন্দিত ও গর্বিত হয়ে, এবং সে তাদের কাছে শপথ করে বলল যে, সে তাহাজ্জুদের কিয়াম করার কারণে গত রাতে ঘুমায়নি।
তারপর আপনার ছাত্রদের সাথে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করুন এবং তাদেরকে পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দলে ভাগ করুন। তারপর প্রতিটি দলকে দারসটির পাঠে অংশগ্রহণ করতে বলুন এবং প্রতিটি দল পাঠের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারাগুলো নিয়ে আলোচনা করবে।
ধাপ (২)
গ্রুপ আলোচনা কৌশল ব্যবহার করে; ছাত্রদের সাথে ইবাদতের শর্ত ও দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করুন।
তারপর আবিষ্কারমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষার্থীরা ইখলাস বা ইত্তিবা ত্যাগ করার প্রভাব সব্যস্ত করবে। সাথে তাদেরকে সমর্থন করুন এবং যে ভালো করবে তাকে উৎসাহিত করুন।
ধাপ (৩)
ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি ব্যবহার করে; ছাত্রদেরকে ইবাদতের তিনটি স্তম্ভ ((মহব্বত , ভয় এবং আশা)) এর মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে ভাবতে বলুন।
তারপর রোকনগুলোর দলিল বর্ণনা করে তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা নিয়ে আলোচনা করুন।
ফলাফল:
পাঠের বিষয়বস্তুর নির্দেশনামূলক মানচিত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সাথে পাঠের চিন্তাধারা নিয়ে পর্যালোচনা করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, জাহান্নামে প্রবেশের কারণগুলো সাব্যস্ত করা এবং তাদের পরিণতি এড়াতে আমাদের কী করা আবশ্যক? লক্ষ্য নং ১
প্রতিটি ছাত্র একটি পৃথক কাগজে এককভাবে নিম্নলিখিত কার্যক্রমটির উত্তর দিবে। তারপর আপনি উত্তরগুলো সংশোধন করবেন।
তাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিকে একটি বড় বোর্ডে কার্যক্রমটি অঙ্কন করতে বলুন এবং তারপর এটি শ্রেণীকক্ষে ঝুলিয়ে দিবে।
ইবাদাতের মধ্যে ইখলাসের বাস্তবায়ন ঘটেনি। সুতরাং তার ইবাদাতও কবূল হয়নি; যেহেতু সে ইলম অর্জন করেছিল এবং কুরআন পাঠ করেছিল এ জন্য যে, যেন তাকে আলিম ও ক্বারী বলা হয়।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, ইবাদতের স্তম্ভসমূহের ওপর দলিল পেশ করা।
লক্ষ্য নং ২
আপনি আপনার ছাত্রদের সামনে মৌখিকভাবে নিম্নের কার্যক্রমটি উপস্থাপন করুন, তারপর প্রতিটি ছাত্রকে তার উত্তর সম্পর্কে চিন্তা করতে বলুন।
আপনি তাদের একটি নির্দিষ্ট সময় দিন এবং যে সঠিক উত্তরটি প্রথমে বলবে সে-ই বিজয়ী।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
বোর্ডে পর্যায়ক্রমে প্রশ্নগুলো লিখার প্রস্তাব করা হবে।
নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পাশাপাশি থাকা দুজন ছাত্রকে অংশ গ্রহণ করতে বলুন।
অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য অপরিকল্পিতভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন।
ভুল উত্তরদাতাকে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় পড়তে ও তা থেকে সঠিক উত্তর বের করতে বলুন।
প্রশ্ন ১: (X) - (√) - (√)
সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম:
প্রত্যেক শিক্ষার্থী ইখলাসের সাথে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে আগ্রহী হবে।
প্রতিটি শিক্ষার্থী পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তার চারপাশের ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিবে।
ছাত্ররা কতগুলো বোর্ড ডিজাইন করতে পরস্পর সহযোগিতা করবে; যাতে ইবাদতের শর্ত ও স্তম্ভসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
পাঠ সপ্তম: ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((تفاضل) শ্রেষ্ঠত্ব - (الكبائر) কবিরা গুনাহ বা বড় পাপ)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - অডিও মাধ্যম)।
পাঠদান কৌশলসমূহ:
(দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ - সূচনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো - নির্দেশনামূলক মানচিত্র - বিপরীত চিন্তা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
- ঈমানের সর্বোচ্চ স্তরে আরোহনের প্রচেষ্টায় ইবাদত ও ভালো কাজে অধ্যবসায় করা।
- ঈমান বৃদ্ধি করে এমন আমল করার জন্য উৎসাহিত করা।
- ঈমান হ্রাস করে এমন আমল পরিহার করা।
পাঠের ভূমিকা:
বোর্ডে নিম্নলিখিত বাক্যটি লিখুন: (ঈমান প্রতিষ্ঠিত একটি জিনিস যা বৃদ্ধি বা হ্রাস হয় না), তারপর এটি সম্পর্কে ছাত্রদের মতামত জানাতে বলুন এবং তাদের প্রত্যেককে বাক্যটি সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি নোটবুকে লিখতে বলুন। সাথে তাদের অবহিত করুন যে, পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের মতামত মূল্যায়ন স্থগিত থাকবে।
শিক্ষার্থীদের পাঠের বিষয় ব্যাখ্যা করুন, তারপর বোর্ডে এর শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
নিম্নলিখিত বাক্য দুটি বোর্ডে লিখুন এবং এ সম্পর্কে ছাত্ররা কি জানে তা বর্ণনা করতে বলুন। সাথে তাদের সামনে বাক্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও তার নির্দেশনা সম্বলিত কিছু ব্যবহারিক উদাহরণ পেশ করুন।
(ঈমান হল বিশ্বাস, কথা ও কাজ) - (ইবাদতের কারণে ঈমান বৃদ্ধি পায় আর পাপের কারণে তা হ্রাস পায়)।
ধাপ (২)
ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো কৌশলের মাধ্যমে; ছাত্রদের এমন আমলগুলো উল্লেখ করতে বলুন যা ঈমান বৃদ্ধি করে এবং তাদেরকে সৃজনশীল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে উৎসাহিত করুন। আর তারা যা প্রস্তাব করেন তা গ্রহণ করুন এবং তাদের সাথে সে বিষয়ে আলোচনা করুন। তারপর তাদের সামনে একটি নির্দেশনামূলক মানচিত্র প্রদর্শন করুন যাতে সেই আমলগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সাথে তাদেরকে তা ব্যাখ্যা করুন এবং তার সাথে সম্পর্কিত দলিলগুলোর তাফসীর করুন।
ধাপ (৩)
বিপরীত চিন্তা কৌশল ব্যবহার করে; ঈমান হ্রাস করে এমন আমলগুলো সাব্যস্ত করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ করুন এবং সঠিক উত্তরগুলো নির্ধারণ করে তাদের সাথে সে বিষয়ে আলোচনা করুন ও তার সাথে প্রাসঙ্গিক শরয়ী দলিলগুলোা বর্ণনা করুন৷
*উপসংহার:
শিক্ষক পাঠের ভূমিকার সময় যে বাক্যটি উপস্থাপিত হয়েছিল সে সম্পর্কে ছাত্রদের প্রত্যেকের মতামত পর্যালোচনা করার জন্য নির্দেশ দিবেন। তার অভিজ্ঞতা অর্জন এবং বিষয়বস্তু জানার পর তার উত্তরে কী পরিবর্তন ঘটেছে তা নির্ণয় করবে। তারপর শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উত্তরগুলো জানবেন এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
শিক্ষক ছাত্রদের প্রত্যেককে তারা পাঠ থেকে যা জেনেছে সে সম্পর্কে তিনটি সংক্ষিপ্ত বাক্য গঠন করতে বলবেন; যা সে দারস থেকে কি অর্জন করেছেন এবং তা অর্জনের পর তার কী করা উচিত তা প্রকাশ করবে। আর আপনি কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন, সাথে সে সম্পর্কে মন্তব্য করুন এবং সেগুলোর মাঝে তুলনা করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য দুইজন দুইজন করে, ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস জানার পদ্ধতি।
লক্ষ্য নং ১, ২
শিক্ষক কিছু মেধাবী ছাত্রকে তাদের সহপাঠীদের সামনে কার্যক্রমে উল্লিখিত বর্ণনাটি পড়তে বলবেন এবং তাদের সাথে এর অর্থ নিয়ে আলোচনা করবেন। আর আছার (হাদীস) থেকে একজন মুসলিমের ঈমানের বৃদ্ধি বা হ্রাস জানার পদ্ধতি বের করতে তারা তাদের বিশ্লেষণ ও আবিষ্কারমূলক ক্ষমতাকে ব্যবহার করবে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের উত্তরগুলো গ্রহণ করবেন এবং তাদের সাথে সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে এটি সম্পর্কে আলোচনা করবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, ঈমান বৃদ্ধি করে এমন কিছু আমল সাব্যস্ত করা।
লক্ষ্য নং ২
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে এমন কিছু নিয়মিত সৎ আমলের কথা উল্লেখ করতে বলবেন যা তার ঈমানকে বৃদ্ধি করে। তিনি প্রতিটি ছাত্রের উত্তর গ্রহণ করবেন এবং ছাত্রদের মাঝে তুলনা করবেন; সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ও পুনরাবৃত্তিমূলক আমলগুলো চিহ্নিত করে। অনুরূপভাবে অনন্য এবং বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আমলগুলোও চিহ্নিত করবেন এবং উত্তরদাতাদের প্রশংসা করবেন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, কীভাবে ঈমান বাড়ানো যায় তার প্রশিক্ষণ দেয়া।
লক্ষ্য নং ৫
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তৃতীয় কার্যক্রমটি একাকী সম্পাদন করতে নির্দেশ দিন, সাথে ভিডিও ক্লিপের বিষয়বস্তু পুনরায় পর্যালোচনা করার জন্য বলুন। তারপর কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের প্রস্তাবিত উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন, সাথে সেগুলো মূল্যায়ন করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন এবং তাদের থেকে দু’টি দলকে বেছে নিন তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য, সাথে তাদের মাঝে তুলনা করুন ও সবচেয়ে সঠিক উত্তরদাতা দল নির্ধারণ করুন। আর প্রতিটি দল যে ভুলগুলো করেছে তা সংশোধন করার নির্দেশনা দিন।
প্রশ্ন ১: (×) - (✓) - (×) - (✓)
প্রশ্ন ২: বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস হয় - ঘন ঘন ক্ষমা চাওয়া - বড় পাপ
অপরিকল্পিতভাবে দুইজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন যেন তারা প্রত্যেকে তৃতীয় প্রশ্নের একটি বিষয়ের উত্তর দেয় এবং অন্য দুজনকে বেছে নিন যারা প্রত্যেকে তার একজন সহপাঠীর উত্তর মূল্যায়ন করবে।
* শিক্ষনীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
যে সমস্ত আমলে ঈমান বৃদ্ধি পায় সে সমস্ত ইবাদতনিয়মতি আদায়ে ছাত্রদেরকে উদ্বুদ্ধ করা এবং সাথে এমন আমল থেকে বিরত থাকা যা ঈমান হ্রাস করে। আর তা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষার্থীদেরকে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতে উৎসাহিত করা।
প্রতিটি ছাত্র তার পরিকল্পনা এবং সৃজনশীল দক্ষতার উপর নির্ভর করে যেসব আমল ঈমানকে বৃদ্ধি করে এবং যেসব আমল ঈমানকে হ্রাস করে সেগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি লিফলেট প্রস্তুত করবে। তারপর সে এটি তার বন্ধুদের উপহার দিবে যাতে তারা এ সম্পর্কে জানতে পারে এবং তা মেনে চলতে পারে।
সুন্নাহ এবং শামায়েল অধ্যায়
প্রথম পাঠ: স্বজনদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (صِنْوُ – أُسَرُّ– وَلِيُّهُمْ) (সমতুল্য - আনন্দদায়ক - তাদের অভিভাবক)।
শিক্ষা উপকরণ:
(শিক্ষামূলক পোস্টার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
পাঠদান কৌশলসমূহ:
("আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি K.W.L শিখেছি" - আখ্যান শৈলী - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো - সমস্যা সমাধান - হট চেয়ার)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
• আত্মীয়দের প্রতি ইহসানে ইসলামের গুরুত্বারোপকে সম্মান করা।
• আত্মীয়-স্বজনের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের অনুকরণ করা।
আত্মীয়দের প্রতি কোমল আচরণ ।
পাঠ ভূমিকা:
শিক্ষক ছাত্রদের কাছে নিচের বাক্যটি উপস্থাপন করবেন:(ইসলামে আত্মীয়দের অনেক অধিকার রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অধিকারগুলো পুরোপুরি আদায় করেছেন)। অতঃপর তাদেরকে পাঠটি "আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আচার-আচরণে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ" এই হাদিসের সাথে খাস করার কারণ উদঘাটন করতে বলা হবে।
শিক্ষার্থীদের সামনে পাঠ উপাদানের একটি স্পষ্ট চিত্র পেশ করবেন; যাতে পাঠ সম্পর্কে একটা মানসিক চিত্র তৈরি হয়।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তিন ভাগে বিভক্ত একটি ফ্ল্যাশ কার্ড বিতরণ করবেন:
প্রথম অংশে K অক্ষরটি রয়েছে (Know আমি জানি)।
দ্বিতীয় অংশে W অক্ষরটি রয়েছে (Want আমি জানতে চাই)।
তৃতীয় অংশে L অক্ষর রয়েছে (Learn শিখেছি)।
প্রতিটি অংশ দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে, শিক্ষক ছাত্রদেরকে তা ব্যাখ্যা করবেন। অতঃপর স্বজনদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচার-আচরণ সম্পর্কে তাদের পূর্বজ্ঞান উপস্থাপন করতে এবং তা প্রথম অংশে লিখতে বলবেন। সেই সাথে এ ব্যাপারে পর্যালোচনা করবেন; যাতে তারা তাদের জ্ঞানের অবস্থা অনুভব করতে পারে। অতঃপর পাঠ থেকে তারা যেসব তথ্য জানতে চায় তা উত্থাপন করতে এবং দ্বিতীয় অংশে লিখতে বলবেন।
ধাপ (২)
শিক্ষক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুসলিম স্বজনদের প্রতি আচার-আচরণের দিকগুলো উপস্থাপন করার জন্য বর্ণনামূলক পদ্ধতি অবলম্বন করবেন। সেই সাথে এ সংশ্লিষ্ট হাদিসগুলো ব্যাখ্যা ও শিক্ষা সহ তুলে ধরবেন।
ধাপ (৩)
ব্রেইন স্টর্মিং পদ্ধতির মাধ্যমে; একজন মুসলিম তার অমুসলিম স্বজনদের সাথে আচার-আচরণ কেমন হওয়া উচিত সে সম্পর্কে ছাত্রদেরকে তাদের ভাবনা তুলে ধরতে বলুন। অতঃপর অমুসলিম স্বজনদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আচার-আচরণ তুলে ধরুন, এবং এতদসংশ্লিষ্ট হাদীসগুলোর ব্যাখ্যা করুন।
ধাপ (৪)
সমস্যা-সমাধান পদ্ধতি ব্যবহার করুন; ছাত্রদের সামনে নিম্নলিখিত সমস্যাটি তুলে ধরুন এবং কিভাবে এটি সমাধান করবে তা ব্যাখ্যা করতে বলুন। তাদের উত্তরের আলোকেই নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ তুলে ধরার সূচনা করুন: (এক ব্যক্তির চারজন চাচা-ফুফু আছে। সে তার চাচাদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যত্নবান, কিন্তু ফুফুদের সাথে সম্পর্ক রাখে না। লোকটির এহেন কর্মে আপনার মতামত কী? এবং তাকে কী পরামর্শ দিবেন?
শিখনফল:
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের কাছে থাকা কার্ডের তৃতীয় তথা (L)অংশ পূরণ করতে বলুন, যেখানে তারা পাঠ শিক্ষাগুলো সাধারণ উপাদান আকারে লিখবে। কিছু কার্ড চয়ন করুন, এবং এগুলো পর্যালোচনা করুন, ছাত্রদের লিখার উপর আপনার মতামত দিন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নম্বর ১ ধরন ও লক্ষ্য দলগতভাবে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়দের সাথে আচরণ নির্দেশক দলীল বের করণ।
লক্ষ্য নম্বর: ২
ছাত্রদের দুটি দলে ভাগ করা বাঞ্ছনীয়; উভয় গ্রুপ প্রথম কার্যক্রমে উল্লিখিত একটি করে হাদীস সহপাঠীদের কাছে পাঠ করবে। অতঃপর তাদের সাথে দুটি হাদীস নিয়েই আলোচনা করবেন। অতঃপর প্রত্যেক গ্রুপকে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞান পরিপূর্ণ করার জন্য প্রতিটি হাদীস কী নির্দেশ করে সে সম্পর্কে অধিক তথ্য পেতে ইলেকট্রনিক উৎসের স্মরণাপন্ন হওয়ার নির্দেশ দিবেন। দলের পারফরম্যান্স এবং তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে পরবর্তী সাক্ষাতে তা পর্যবেক্ষণ করবেন।
যা প্রমাণ করে
অমুসলিম আত্মীয়দের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকম্পা।
মুসলিম আত্মীয়দের সন্তানদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তত্ত্বাবধান
কার্যক্রম নম্বর: ২ ধরন ও লক্ষ্য দলগত, অমুসলিমদেরকে দাওয়াতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় সম্পর্কে জানুন।
লক্ষ্য নম্বর: ৪
হট চেয়ার কৌশল ব্যবহার করে; ছাত্ররা গোলাকার হয়ে বসবে এবং মাঝখানে একটি চেয়ার রাখা হবে। শিক্ষক ছাত্রদের মধ্যে হতে একজনকে হট চেয়ারে বসতে বলবেন।
শিক্ষক তাকে তার সহপাঠীদের কাছে নিচের ইবারতটুকু পড়তে বলবেন। অতঃপর সে তা বিশ্লেষণ ও বোঝানোর বিষয়ে শিক্ষক এবং সহপাঠীদের প্রশ্ন গ্রহণ করবে; যাতে সমাজে অমুসলিমদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার তিনটি উপায়ের প্রস্তাবনা উঠে আসে।
শিক্ষক এবং সহপাঠীরা শিক্ষার্থীর উত্তর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে। এবং সঠিক উত্তর অবহিত হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর সাথে তথ্য ও মত বিনিময় করবে।
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিতে, উল্লিখিত উপাদানগুলো (শিরোনাম) ছাত্রদের নিকট ধারাবাহিকভাবে পড়ুন। ইবারত সঠিক হলে শিক্ষার্থী তার হাত উপরে তুলবে। শিক্ষার্থীদের উত্তর মূল্যায়ন করুন এবং তাদের সাথে ভুল-সঠিক চিহ্নিত করুন।
প্রশ্ন ১: (×) - (✓) - (✓) - (×) - (✓)
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এককভাবে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে বলুন। সকল শিক্ষার্থী তার সহপাঠীর সাথে উত্তর বিনিময় করবে; যাতে একে অন্যের উত্তর সংশোধন করতে পারে। প্রতিটি দলের জন্য থাকবে আপনার পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা।
প্রশ্ন ২: আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা - হামযাহ
তৃতীয় প্রশ্নের প্রতিটি বাক্য বোর্ডে লিখুন। তিনজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, যাদের প্রত্যেকেই এর উত্তর দিতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী ভুল করলে তাকে পাঠ পর্যালোচনা করতে এবং পুনরায় তা পড়তে বলুন; যেন সে নিজেই সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে পারে।
* শিক্ষাগত এবং মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন:
মুসলিম এবং অমুসলিম আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের অনুসরণ এবং উত্তম গুণাবলী ও প্রশংসনীয় চরিত্র আঁকড়ে ধরা।
নেতিবাচক আচরণ তথা আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন আচরণের মুখোমুখি হলে উপদেশ ও পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে এর মোকাবেলা করা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিক্ষা অনুসরণে উৎসাহিত করা।
দ্বিতীয় পাঠ: প্রতিবেশীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (الجار – الوصية – سَيُوَرِّثُهُ – فَأَصِبْهُمْ) (প্রতিবেশী - ওসিয়ত - তাকে উত্তরাধিকারী করবেন - অতঃপর তাদের দান করুন)।
শিক্ষা উপকরণ:
(শিক্ষামূলক পোস্টার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
পাঠদান কৌশল:
("আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি K.W.L" - বর্ণনামূলক পদ্ধতি - ব্রেইন স্টর্মিং - সমস্যা সমাধান)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
• প্রতিবেশীদের প্রতি ইহসানের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণ করা।
• প্রতিবেশীদের প্রতি অসদাচরণ এড়িয়ে চলা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষক ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে ছাত্রদের কাছে নিম্নলিখিত হাদীসটি উপস্থাপন করবেন। তাদেরকে এটি পড়তে এবং চিন্তা করতে বলবেন। হাদিসটির শিক্ষা উপস্থাপন করার জন্য তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিবেন। হাদিসের অর্থ এবং পাঠের সাথে তার সম্পর্ক স্পষ্ট করা হবে: জিব্রীল আলাইহিস সালাম সর্বদা আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসীয়ত করতে থাকেন। এমনকি আমার ধারণা হয় যে, শীঘ্রই তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারিস করে দিবেন।
শিক্ষার্থীদেরকে পাঠ উপাদানগুলোর একটি ব্যাখ্যামূলক চিত্র দেখান; যাতে করে পাঠে অন্তর্ভুক্ত বিষয়ে নিয়ে একটি সাধারণ মানসিক চিত্র তৈরি হয়।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তিন ভাগে বিভক্ত একটি ফ্ল্যাশ কার্ড বিতরণ করবেন:
প্রথম অংশ K অক্ষরটি অন্তর্ভুক্ত করেছে (Know আমি জানি)।
দ্বিতীয় অংশ W অক্ষরটি অন্তর্ভুক্ত করেছে (Want আমি জানতে চাই)
তৃতীয় অংশ L অক্ষরটি অন্তর্ভুক্ত করেছে (Learn শিখেছি)।
প্রতিটি অংশ দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে, শিক্ষক ছাত্রদেরকে তা ব্যাখ্যা করবেন। অতঃপর প্রতিবেশীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচার-আচরণ সম্পর্কে তাদের পূর্বজ্ঞান উপস্থাপন করতে এবং তা প্রথম অংশে লিখতে বলবেন। সেই সাথে এ ব্যাপারে পর্যালোচনা করবেন; যাতে তারা তাদের জ্ঞানের অবস্থা অনুভব করতে পারে। অতঃপর তারা যেসব তথ্য ও মত জানতে চায় তা উত্থাপন করতে এবং দ্বিতীয় অংশে লিখতে বলবেন।
ধাপ (২)
প্রতিবেশীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ তুলে ধরতে শিক্ষক বর্ণনামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। সেই সাথে সেসব পরিস্থিতি নির্দেশক হাদীসগুলো ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে তুলে ধরে এর শিক্ষাসমূহ ব্যাখ্যা করবেন।
ধাপ (৩)
ব্রেইন স্টর্মিং পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদেরকে প্রতিবেশীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে একজন মুসলিমের কর্তব্য উত্থাপন করতে বলুন। তাদের থেকে উত্তর নিন। অতঃপর প্রতিবেশীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা স্পষ্ট করুন এবং এতদসংশ্লিষ্ট হাদীসগুলোর ব্যাখ্যা করুনা।
ধাপ (৪)
সমস্যা-সমাধান পদ্ধতির সহায়তা নিন। নিচের সমস্যাটি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করুন। তাদেরকে এ ব্যাপারে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে বলুন এবং পাঠের আলোচ্য বিষয় একসাথে সমন্বয় করে এর সমাধান করতে বলুন: (একজন ধনী ব্যক্তি তার সন্তানদের জন্য খাবার এবং ফল নিয়ে আসত।তার পাশেই বাস করে একজন দরিদ্র ব্যক্তি, যে তার সন্তানদের জন্য প্রয়োজন পরিমাণ খাবার আনতে পারে না। ধনী লোকটি তার সন্তানদেরকে দরিদ্রের সন্তানদেরকে খাবার দিতে নিষেধ করত। এ ব্যাপারে তোমাদের মতামত কী? তাকে কী উপদেশ দিবে?
শিখনফল:
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের কাছে থাকা কার্ডের তৃতীয় তথা (L)অংশ পূরণ করতে বলুন, যেখানে তারা পাঠ শিক্ষাগুলো সাধারণ উপাদান আকারে লিখবে। কিছু কার্ড চয়ন করুন, এবং এগুলো পর্যালোচনা করুন। ছাত্রদের লিখার উপর আপনার মতামত দিন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিন:
কার্যক্রম নম্বর: ১ ধরন ও লক্ষ্য দলীয়, প্রতিবেশীদের প্রতি ইহসান করা বা কষ্ট দেয়ার চিত্রগুলো সনাক্ত করা।
লক্ষ্য নম্বর: ৩
প্রতিটি গ্রুপকে টেবিল পূরণে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে বলুন। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে একজনকে বেছে নিন যে তার সহপাঠীদের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াবে। শিক্ষক পর্যায়ক্রমে টেবিলের উপাদানগুলো উত্থাপন করবেন, আর প্রত্যেক গ্রুপ প্রতিনিধি এ ব্যাপারে তার গ্রুপের উত্তর উপস্থাপন করবে। আপনি গ্রুপগুলোর উত্তর তুলনা করুন। সেই সাথে সবচেয়ে সূক্ষ্ম বর্ণনা এবং বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণ সনাক্ত করুন।
প্রতিবেশীদেরকে গালি দেওয়া এবং তাদের সাথে মন্দ কথা বলা।
প্রতিবেশীদেরকে প্রয়োজনীয় বস্তু উপহার দেয়া।
তার সম্মান ও মর্যাদার উপর সীমালঙ্ঘন না করা:
উপকারী ও কল্যাণকর কাজে তাকে সহায়তা করা।
কার্যক্রম নম্বর: ২ ধরন ও লক্ষ্য: দলীয়, অনুগ্রহের কতিপয় ধরন উদ্ভাবনা।
লক্ষ্য নম্বর: ২
প্রত্যেক ছাত্রকে তার সহপাঠীর সাথে আলোচনা করে দ্বিতীয় কার্যক্রমে উল্লিখিত এহসানের ধরনগুলো থেকে প্রতিবেশীদের জন্য করা সম্ভব এমন কতিপয় এহসান প্রস্তাব করতে বলুন। আর শিক্ষার্থীরা কী করেছে এবং তার সহপাঠীদের সাথে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা পরবর্তী ক্লাসে জেনে নিতে ভুলবেন না।
কার্যক্রম নম্বর: ৩ ধরন ও লক্ষ্য: একাকী, প্রতিবেশীদের সাথে আচরণ মূল্যায়নের পদ্ধতির ওপর প্রশিক্ষণ।
লক্ষ্য নম্বর ৩
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছু কার্ড বিতরণ করবেন, যেন প্রতিটি কার্ডে নিম্নলিখিত শব্দগুলোর মধ্যে একটি থাকে: (সর্বদা - কখনও কখনও - কদাচিৎ)। তিনি কার্যক্রমে উল্লিখিত ইবারতের প্রতিটি বাক্য এক এক করে পড়বেন, এবং তাদেরকে বাক্যের সাথে উপযুক্ত কার্ডটি ওপরে তুলতে বলবেন। তাদের উত্তর জানবেন এবং তা মূল্যায়ন করবেন।
মূল্যায়ন:
আপনি মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিতে, প্রশ্নের উপাদানগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়ুন। ইবারত সঠিক হলে শিক্ষার্থী তার হাত উপরে তুলবে। শিক্ষার্থীদের উত্তর মূল্যায়ন করুন এবং একই সাথে সঠিক ও ভুল বাক্য চিহ্নিত করুন।
প্রশ্ন ১: (✓) - (✓) - (×) - (×)
সকল শিক্ষার্থীকে এককভাবে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে বলুন। প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার সহপাঠীর সাথে উত্তর বিনিময় করবে, যাতে একে অন্যের উত্তর সংশোধন করতে পারে। আর প্রতিটি গ্রুপেই থাকবে আপনার পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা।
প্রশ্ন ২: প্রতিবেশীর সাথে মন্দ আচরণ তথা খাবার দিয়ে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হারাম।
বোর্ডে তৃতীয় প্রশ্নটি লিখুন। তিনজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, যারা প্রত্যেকেই প্রতিবেশীর প্রতি ইহসানের একটি চিত্র উল্লেখ করবে। কোনো শিক্ষার্থী ভুল করলে তাকে পাঠ পর্যালোচনা করতে এবং পুনরায় তা পড়তে বলুন; যেন সে নিজেই সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে পারে।
* শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন:
প্রতিবেশীদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের অনুসরণ এবং উত্তম গুণাবলী ও প্রশংসনীয় চরিত্র আঁকড়ে ধরা।
প্রতিবেশীদের সাথে চারপাশের সমাজ এবং তার সদস্যদের নেতিবাচক আচরণ মোকাবিলা করা। আর এটা, যারা এই মন্দ কাজগুলো করে তাদের উপদেশ প্রদান এবং পাঠের বিষয়বস্তুতে যা অধ্যয়ন করা হয়েছে তা তাদেরকে জানানোর মাধ্যমে।
তৃতীয় পাঠ: ছোটদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (الْعِيَال – ضَمَّنِي – الأَشْيَاخ – الْقَزَع) (পরিবার - আমাকে আলিঙ্গন করেছেন - বৃদ্ধগণ - মেঘ)।
শিক্ষা উপকরণ:
(অডিও মাধ্যম - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক পোস্টার - ফ্ল্যাশকার্ড - ব্ল্যাকবোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সহযোগিতামূলক শিক্ষা - সমস্যা সমাধান - ব্রেইন স্টর্মিং)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
ছোটদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্ব প্রদানকে সম্মান করা।
শিশুদের প্রতি কোমল আচরণে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণ।
শিশুদের প্রতি দয়া।
পাঠ ভূমিকা:
সমস্যাসংকুল পরিস্থিতি দ্বারা শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ বিন্যস্তকরণ। যেমন: (খালেদ এবং তার সন্তানরা স্থল প্রমোদভ্রমণে বেরিয়েছে। তারা বসে আড্ডা দিচ্ছে, খেলাধুলা করছে, খাচ্ছে। হঠাৎ তারা দেখতে পেল তাদের পাশেই আহমেদ এবং তার সন্তানরা প্রমোদ করছে। তারা তাকে সালাম দিল, কিন্তু তারা লক্ষ্য করলো যখনই তার সন্তানদের একজন খেলতে যায়, তার বাবা তাকে ধমক দেয় এবং সবার সামনে তাকে অপমান করে। ব্যাপারটা পুরো সময় জুড়ে চলতে থাকে। এমনকি বাচ্চারা কান্নাকাটি করে এবং ঘুমিয়ে পড়ার উপক্রম হয়। অতঃপর আহমদ পুনরায় তাদেরকে গালমন্দ করে, অভিসম্পাত করে এবং প্রমোদভ্রমণ থেকে প্রস্থান করে, উপভোগ করেনি। এমতাবস্থায় খালেদ এবং তার সন্তানরা রেগে গেল এবং খালেদ জবাব দিল: যে দয়া করে না, তার প্রতি দয়া করা হয় না।
অতঃপর শিক্ষার্থীদের সাথে এই পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করুন, তাদের মতামত প্রকাশ করতে এবং পরামর্শ দিতে বলুন, যতক্ষণ না আপনি পাঠের বিষয়টিতে পৌঁছান এবং বোর্ডে তা লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ছাত্রদেরকে দলে দলে ভাগ করুন এবং সহযোগিতামূলক শিখন কৌশল ব্যবহার করুন। প্রতিটি গ্রুপকে কোমল আচরণের সংজ্ঞা ও গুরুত্ব নির্ধারণ করতে বলুন।
প্রত্যেক গ্রুপ থেকে একজনকে বেছে নিন, যাতে করে সে গ্রুপের সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করতে পারে। অতঃপর তাদেরকে সবচেয়ে সঠিক উত্তরটি জানিয়ে দিন।
ধাপ (২)
ব্রেইন স্টর্মিং পদ্ধতি ব্যবহার করুন। ছাত্রদেরকে শিশুদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ উদ্ভাবন করতে বলুন। অতঃপর তারা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা উপস্থাপন করতে এবং তা বোর্ডে লিখতে তাদের কাউকে বেছে নিন।
ধাপ (৩)
ছাত্রদেরকে দলে দলে ভাগ করুন। প্রত্যেক দলকে শিশুদের লালন-পালন ও শিক্ষাদান বিষয়ে কীভাবে যত্নবান হতে হয় তা উল্লেখ করতে এবং এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী দিয়ে প্রমাণ পেশ করতে বলুন ।
প্রত্যেক গ্রুপ থেকে একজনকে তাদের সিদ্ধান্ত তুলে ধরতে বেছে নিন। আর তাদেরকে উপযুক্ত মন্তব্য প্রদান করুন।
শিখনফল:
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের নোটবুকে উপাদান এবং চিন্তা আকারে পাঠটি লিখতে বলুন; যাতে মুখস্থ করার ক্ষেত্রে এর সাহায্য নিতে পারে।
কিছু ছাত্রকে লিখিত কাগজপত্রের সাহায্য ছাড়াই মৌখিকভাবে পাঠের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করতে বলুন এবং যারা এতে ভালো করবে তাদের প্রশংসা করুন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিন:
কার্যক্রম নম্বর: ১ ধরন ও লক্ষ্য: দলীয়, শিশুদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ পদ্ধতি উদ্ভাবন।
লক্ষ্য নম্বর: ২, ৩
প্রতি দু'জন শিক্ষার্থীকে প্রথম কার্যক্রম সম্পাদনে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিন। অতঃপর ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে কার্যক্রমে উল্লেখিত পরিস্থিতিগুলো একে একে প্রদর্শন করুন। প্রতিটি দলের উত্তর জানুন এবং পরিস্থিতি বর্ণনা প্রচেষ্টায় ও শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম দলটি চিহ্নিত করুন। শিক্ষার্থীরা তাদের বইয়ে লিখার জন্য সর্বোত্তম শব্দমালা (গঠন শৈলী) নির্ধারণ করুন।
স্নেহশীল হয়ে এবং ভালোবেসে শিশুদেরকে চুমু দেওয়া।
শিশুদেরকে সোহাগ করা এবং তাদের সাথে খেলা করা।
কার্যক্রম নম্বর: ২ ধরন ও লক্ষ্য: একক, আচরণ দ্বারা প্রকাশিত অনুভূতির বর্ণনা।
লক্ষ্য নম্বর: ৪, ৫
প্রত্যেক ছাত্রকে একাকী কার্যক্রমটি সম্পাদন করতে বলুন। সাথে পাঠ বিষয়বস্তু ফিরে দেখার পরামর্শ দিন। কিছু শিক্ষার্থীকে মূল্যায়নসহ তাদের লিখিত অনুভূতি ব্যক্ত করতে বেছে নিন।
মূল্যায়ন
নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
১. প্রতিটি ছাত্র তার নোটবুকে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিবে।
২. উত্তর মূল্যায়নের জন্য সে তার পাশে থাকা সহপাঠীর সাথে নোটবুক বিনিময় করবে।
৩. একজন ছাত্রকে বেছে নিন, যে তার অন্যান্য সহপাঠীদের সামনে তার উত্তর উপস্থাপন করবে। এবং আপনি তার উত্তর মূল্যায়ন করুন।
৪. প্রতিটি ছাত্রকে বাড়ির কাজ হিসেবে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে বলুন।
৫. সেরা উত্তরের প্রশংসা করুন, যে উত্তরটি পুনরাবৃত্তি করেননি।
প্রশ্ন ১: () - ()- () - () - ()
* শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন, আর এটা:
শিক্ষার্থীরা শিশুদের প্রতি সদয় হওয়ার চিত্রগুলো সংগ্রহে পরস্পর সহযোগিতা করবে। আর এগুলো ক্লাস রুমের লাইব্রেরিতে রাখা হবে।
চতুর্থ পাঠ: অমুসলিমদের সাথে আচরণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (الرشد – الغي – لعَّانًا – الأخشبان – تقسطوا – يبتغي) (হিদায়েত - গোমরাহী - লা‘নতকারী - দু’টি পাহাড় - ইনসাফ কর - অন্বেষণ করে)।
শিক্ষা উপকরণ:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রীন - শিক্ষামূলক পোস্টার - ফ্ল্যাশ কার্ড - ব্ল্যাকবোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(আত্ম-জিজ্ঞাসা - ভুল চিন্তার সংশোধন - শব্দার্থিক মানচিত্র)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
• নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালবাসা অনুভব।
অমুসলিমদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণ।
• ইসলামিক মূল্যবোধ, নীতিমালা ও আচার-আচরণকে সম্মান করা।
পাঠ ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের নিকট নিচের ইবারতটুকু তুলে ধরুন, যেখানে কতিপয় লোকের করা ভুল রয়েছে। তাদের এ নিয়ে চিন্তা করতে বলুন এবং এর সাথে তারা কতটা একমত বা দ্বিমত পোষণ করে তা বর্ণনা করতে বলুন। তাদের উত্তরকে কেন্দ্র করে পাঠে প্রবেশ করবেন এবং পাঠ উদ্দেশ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন।
(কিছু লোক মনে করে, ধর্মীয় ভিন্নতা বিরোধীদের সাথে খারাপ আচরণ এবং তাদের প্রতি নিপীড়নকে বৈধ মনে করার কারণ।)
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শব্দার্থিক মানচিত্র পদ্ধতির সাহায্যে ; শিক্ষক পাঠ উপাদান সম্পর্কে মুখস্থ জ্ঞান সুগঠিত করার জন্য বোর্ডের মাধ্যমে অমুসলিমদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের একটি সুবিন্যস্ত রূপ প্রদর্শন করবেন।
আত্ম-জিজ্ঞাসা পদ্ধতি ব্যবহার করে, শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে কতিপয় প্রশ্ন করতে বলবেন যার মাধ্যমে তারা (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর) আদর্শ জানতে পারবে। তিনি তাদের প্রশ্নগুলো একত্র করে বোর্ডে লিখবেন। পাঠ উপাদান পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে তিনি নিজে থেকে অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে সমৃদ্ধ করবেন। জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নগুলোর মধ্যে নিম্নের প্রশ্নগুলো হতে পারে:
প্রশ্ন: বিশ্বাসের স্বাধীনতা বলতে কী বোঝায়?
প্রশ্নঃ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কাউকে ইসলাম গ্রহণ করতে বাধ্য করেছিলেন?
প্রশ্নঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি কাফেরদের সাথে সদয় আচরণ করেছেন?
প্রশ্ন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদের কাছ থেকে যে শারীরিক ও নৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন তার বিনিময়ে কিরূপ আচরণ করেছেন?
প্রশ্ন: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন অ-যোদ্ধার ওপর সীমালঙ্ঘন করাকে কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য করেছেন, যা জান্নাত থেকে বঞ্চিত হওয়া আবশ্যক করে। এটা ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্নঃ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাঁর প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছেন?
প্রশ্নঃ ইসলাম কি অমুসলিমদের সাথে সাক্ষাত করা, তাদের রোগীদের সেবা করা এবং তাদেরকে উপহার প্রদান করতে অনুমতি দেয়?
প্রশ্নঃ কোন কোন পরিস্থিতি অমুসলিমদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শকে প্রকাশ করে?
ধাপ (২)
শিক্ষক অমুসলিমদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের দিকগুলো ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করবেন, সাথে সাথে পূর্ববর্তী প্রশ্নগুলো নিবেন এবং ব্যাখ্যার সাথে তার মিল করবেন। এই সময় শিক্ষক ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে হাদীস শরীফ এবং সুন্দর পদ্ধতিতে সেসব প্রমাণ পেশ করবেন যা অমুসলিমদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচার-আচরণের আদর্শকে নিশ্চিত করে। এটি পড়তে, বিশ্লেষণ এবং এর অর্থ ও শিক্ষণীয় বিষয় স্পষ্ট করতে শিক্ষার্থীদের অংশ গ্রহণ করতে বলবেন।
ধাপ (৩)
ভুল ধারণা সংশোধন পদ্ধতি ব্যবহার করে; নিম্নলিখিত পরিস্থিতি দুটো শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে পেশ করুন, এবং এ নিয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো মূল্যায়ন করার সময় সঠিক উত্তরটি ব্যাখ্যা করুন, এবং অমুসলিমদের সাথে আচার আচরণে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের সাথে তা সংযুক্ত করুন।
কিছু মুসলিম অমুসলিমদের সাথে লেনদেন এড়িয়ে চলেন। তারা তাদের উপহার গ্রহণ করেন না, তাদের কাছে বিক্রি করেন না বা তাদের কাছ থেকে ক্রয় করেন না।
কিছু লোক মনে করে যে, অমুসলিমদের প্রতি ন্যায়পরায়ণতা এবং তাদেরকে তাদের অধিকার দেয়া মানে তাদের ভুল বিশ্বাসকে স্বীকৃতি দেয়া।
* শিখনফল:
প্রতিটি শিক্ষার্থী পাঠের শুরুতে উপস্থাপিত ইবারতটুকু পুনরায় পড়বে, আরো একবার চিন্তা করবে এবং নিজেকে প্রশ্ন করবে: পাঠটি ব্যাখ্যা করার পরে কি ঐ বাক্যাংশ সম্পর্কে তার উপলব্ধি পরিবর্তিত হয়েছে কিনা ? এবং কেন? শিক্ষক তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিবেন, সাথে তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিন:
কার্যক্রম নম্বর: ১ ধরন ও লক্ষ্য: দলীয়, অমুসলিমদের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণের ওপর প্রমাণ পেশ করণ।
লক্ষ্য নম্বর: ২, ৩
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিচের নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিন:
প্রতিটি কার্ডে প্রথম কার্যক্রমে উল্লিখিত একটি দলিল লিখুন। দু'জন শিক্ষার্থী বেছে নিন, যাদের প্রত্যেকেই এলোপাতাড়ি একটি করে কার্ড বেছে নিবে এবং দু'জনেই কার্ডের প্রতিটি দলিল অমুসলিমদের সাথে আচরণ সম্পর্কে কী নির্দেশ করে তা উপস্থাপন করবে। সহপাঠীরা তাদের উত্তরগুলো পর্যবেক্ষণ করবে এবং মূল্যায়ন করবে। শিক্ষক ও মূল্যায়ন করবেন।
যা প্রমাণ করে
তাদের হিদায়াতের প্রতি আগ্রহী হওয়া এবং সর্বোত্তম পন্থায় ইসলামের পথে আহবান করা।
চুক্তি পূর্ণ করা এবং অ-যোদ্ধাদের উপর সীমা লঙ্ঘন না করা।
কার্যক্রম নম্বর: ২ ধরন ও লক্ষ্য: দলীয়, অমুসলিমদের সাথে আচরণ সম্পর্কিত (বিভিন্ন) অবস্থান নিয়ে মতামত প্রকাশ করা।
লক্ষ্য নম্বর: ৪, ৫
শিক্ষক কতগুলো কার্ড প্রস্তুত করবেন; যেগুলোর কিছুতে "আমি একমত" শব্দটি লেখা থাকবে, আর কিছুতে "আমি একমত নই" শব্দটি লেখা থাকবে এবং তা ছাত্রদের মাঝে বিতরণ করবেন।
কার্যক্রমে উল্লিখিত অবস্থানগুলো শিক্ষক একে একে উপস্থাপন করবেন। আর শিক্ষার্থী উক্ত অবস্থানে তার মতামতের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কার্ডটি উত্তোলন করবে।শিক্ষক কিছু ছাত্রকে তাদের মতামতের কারণ ব্যাখ্যা করতে বলবেন এবং উপযুক্ত মতামত প্রদান করবেন।
অবস্থান আমি একমত/ আমি একমত নই। কারণ:
তুমি দেখতে পেলে, তোমার মুসলিম প্রতিবেশী অন্যায়ভাবে একজন অমুসলিমকে প্রহার করছে; কেননা ইসলাম অন্যায়ভাবে অন্যের উপর আক্রমণ করা নিষিদ্ধ করেছে।
একজন অমুসলিম সহপাঠী তোমাকে একটি উপহার দিয়েছে এবং তার ধর্ম সম্পর্কে জানার আহ্বান করছে; কেননা এ উপহারটি আমাকে ধর্ম ত্যাগ করার উদ্দেশ্যে দেয়া হয়েছে। হতে পারে উপহারটি আমার অন্তরে প্রভাব ফেলবে।
একজন সহপাঠী তোমাকে গির্জা বা মন্দিরে তার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানাল; কেননা সেখানে আমার উপস্থিত হওয়া তার আকীদাকে স্বীকৃতি দেওয়ার নামান্তর।
কর্মস্থলে তোমার এক অমুসলিম সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছে, অতঃপর হাসপাতালে তাকে দেখতে যেতে এক ব্যক্তি তোমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে; কেননা এতে তাদের প্রতি উত্তম আচরণ করা হয় এবং তাদেরকে ইসলামের প্রতি আগ্রহী করে তোলার একটি পদ্ধতি।
মূল্যায়ন:
নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে বলুন:
প্রতিটি ছাত্র একাকী মূল্যায়নে উল্লিখিত প্রশ্নসমূহের উত্তর দিবে।
প্রত্যেক শিক্ষার্থী একজন সহপাঠীর সাথে তার উত্তর বিনিময় করবে, তারা একে অপরকে মূল্যায়ন করবে এবং ভুলগুলো উদঘাটন করবে।
কতক শিক্ষার্থী যে ভুলগুলো করেছে শিক্ষক সেগুলো সম্পর্কে এবং কিভাবে তা সংশোধন করা যায় সে সম্পর্কে অবগত হবেন।
মূল্যায়ন (প্রশ্নোত্তরে) যে সকল শিক্ষার্থী কোন ভুল করেনি, শিক্ষক তাদের নাম উল্লেখ করবেন, তাদের সমর্থন করবেন এবং তাদের কর্মকে উৎসাহিত করবেন।
প্রশ্ন ১: (✓) - (✖) - (✖) - (✖)
প্রশ্ন ২:
ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে স্বাধীনতা প্রদান পূর্বক অমুসলিমদেরকে (দ্বীনের ) দাওয়াত দেয়া।
ইসলাম ছাড়া সকল ধর্মই বাতিল।
* শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীদেরকে অমুসলিমদের সাথে ভালো ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরুন এবং এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের অনুকরণ করতে বলুন।
প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার সমাজে অমুসলিমদের সাথে আচরণগত অবস্থান নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে। সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের ব্যত্যয় ঘটলে, যেই তা করবে সে তাকে উপদেশ দিবে।
পঞ্চম পাঠ: মুসলিমের অধিকার
পাঠদান সময়: এক পিরিয়ড।
স্থান: শ্রেণীকক্ষ।
নতুন শব্দাবলী: (إجابة الدَّعْوة– تَشْمِيت الْعَاطِس) (নিমন্ত্রণে সাড়া দেয়া - হাঁচিদাতাকে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা।)
প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক পোস্টার - ফ্ল্যাশকার্ড)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
• একজন মুসলিমের অধিকারের সর্বোচ্চ মূল্য দেওয়া।
• মুসলমানদের অধিকার পূরণে ইতিবাচক প্রবণতা গড়ে তোলা।
শরীয়তের দৃষ্টিতে মুসলিমদের হক (অধিকার) এর গুরুত্ব।
পাঠ ভূমিকা:
- আপনার ছাত্রদেরকে নিচের প্রশ্নটি করুন:
যদি জানতে পারেন যে, আপনার বন্ধু বা প্রতিবেশী অসুস্থ, অথবা কোন বিপদে পড়েছে, সে ক্ষেত্রে আপনার কী করা উচিত? আপনার ছাত্রদের উত্তর বোর্ডে লিখুন। হতে পারে তাদের উত্তর হবে:
তাকে দেখতে যাওয়া, অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা পর্যন্ত তার পাশে দাঁড়ানো, এবং বিপদ দূর না হওয়া পর্যন্ত তাকে সাহায্য করা।
অতঃপর আপনি এক মুসলিমের উপর অপর মুসলিমের অধিকার উল্লেখ করে এবং তা বোর্ডে লিখে তাদের উত্তরগুলো পরিপূর্ণ করবেন। আর পাঠ শিরোনাম লিখবেন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ছাত্রদের হাদীসটি নীরবে পড়তে বলুন। তাদেরকে এর অর্থ এবং উদ্দেশ্য বুঝতে অনুপ্রাণিত করুন। অতঃপর তাদেরকে কঠিন শব্দাবলি চিহ্নিত করতে বলুন, যেগুলোর অর্থ তারা জানতে চায়।
ধাপ (২)
শিক্ষার্থীদেরকে হাদীসটি বর্ণনাকারীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। অতঃপর তার আমল থেকে কী শেখা যায় এবং কোথায় তাকে অনুকরণ করা যায় তা আলোচনা করুন।
শিক্ষার্থীদের কাছে হাদীসটির সামগ্রিক অর্থ এবং এর সাধারণ উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করুন। কঠিন শব্দাবলির অর্থের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিন।
ধাপ (৩)
শিক্ষার্থীদেরকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করুন। প্রত্যেক গ্রুপকে পারস্পরিক সহযোগিতায় পাঠ থেকে প্রাপ্ত অধিকারগুলো বের করতে বলুন। তারা যা বের করেছে তা বোর্ডে লিখতে গ্রুপের একজনকে দায়িত্ব দিন। তাদের কর্মের ওপর মন্তব্য করুন।
শিখনফল:
-প্রতি দু’জন ছাত্রকে পারস্পরিক সহযোগিতায় হাদীস থেকে শিষ্টাচার এবং শিক্ষণীয় বিষয়গুলো উদ্ভাবন করতে বলুন। প্রত্যেক দল তাদের উদ্ভাবিত বিষয় উপস্থাপন করবে। অতঃপর সবচেয়ে সঠিক এবং বর্ণনা শৈলীর দিক থেকে সর্বোত্তম উত্তরটি চয়ন করুন এবং বোর্ডে লিখে দিন; যাতে তারা নোটবুকে লিখে নিতে পারে।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে বলুন:
কার্যক্রম নম্বর: ১, ধরন ও লক্ষ্য: একক, মুসলিমদের অধিকার জানতে ছাত্রদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নম্বর: ৩
প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ফ্ল্যাশ কার্ড দিন, যাতে কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের উত্তর দেয়া শেষে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সংশোধন করুন। অতঃপর সেরা উত্তর নির্বাচন করুন এবং শিক্ষার্থীদেরকে জানানোর জন্য তা উপস্থাপন করুন।
হাদীস যার ইঙ্গিত করে / হাদীস যার ইঙ্গিত করেনা।
কার্যক্রম নম্বর: ২ ধরন ও লক্ষ্য: একক, মুসলিমদের হকসমূহের ওপর দলীল উপস্থাপন করা।
লক্ষ্য নম্বর: ১, ৪
ছাত্রদেরকে একটি শিক্ষামূলক পোস্টার দেখান, যাতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে। অতঃপর শিক্ষার্থীদের সামনে মূল পাঠ পড়েন। সহপাঠীদের কাছে পুনরায় পাড়টি পড়ার জন্য কিছু ভালো ছাত্রকে বেছে নিন। অতঃপর আপনি মূল পাঠ ব্যাখ্যা করুন এবং অর্থ স্পষ্ট করুন। শিক্ষার্থীদেরকে তাদের নোটবুকে এই কার্যক্রমের উত্তর দিতে বলুন। কতিপয় ছাত্রকে উত্তর দেয়ার জন্য বেছে নিন এবং তাদেরকে মূল্যায়ন করুন।
মুসলিমদের অধিকার
(৪)
(২)
(১)
(৩)
মূল্যায়ন:
মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য মূল্যায়নে থাকা প্রতিটি উপাদান ধারাবাহিকভাবে ছাত্রদের কাছে পড়ুন। বাক্যটি সঠিক হলে শিক্ষার্থী তার হাত উপরে তুলবে। আপনি শিক্ষার্থীদের উত্তর মূল্যায়ন করুন এবং তাদের সাথে সঠিক ও ভুল ব্যাক্য চিহ্নিত করুন।
প্রশ্ন ১: (×) - (✓) - (×) - (✓)
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একাকী দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে বলুন। প্রত্যেকেই একজন সহপাঠীর সাথে উত্তর বিনিময় করবে, যাতে একে অন্যের উত্তর সংশোধন করতে পারে। আর প্রত্যেক দলের জন্যে থাকবে আপনার পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা।
প্রশ্ন ২: অসুস্থ হলে সেবা করা - তার উপর থেকে অন্যায় প্রতিহত করা - উভয়ই
তৃতীয় প্রশ্নে উল্লিখিত প্রতিটি বাক্য বোর্ডে লিখুন। তিনজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, যাতে প্রত্যেকেই এর উত্তর দিতে পারে। যদি কোনো শিক্ষার্থী ভুল করে, তাকে পাঠে ফিরে যেতে এবং পুনরায় তা পড়তে বলুন; যেন সে নিজেই সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে পারে।
* শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন:
শিক্ষার্থীরা পাঠে উল্লিখিত অধিকার আদায়ে যত্নবান হবে।
প্রতিটি ছাত্র একটি কার্ড প্রস্তুত করবে; যাতে মুসলিমদের অধিকারগুলো বিধৃত থাকবে।
ষষ্ঠ পাঠ: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ফজিলত।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (يُبْسَطَ – يُنْسَأَ – وَصَلَنِي– أَثَرِه) (প্রসারিত করা হবে - ভুলে যাওয়া হবে - আমার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করেছে - তার প্রভাব)।
শিক্ষা উপকরণ:
(অডিও মাধ্যম - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক পোস্টার - ফ্ল্যাশকার্ড - ব্ল্যাকবোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(গ্রুপ আলোচনা - সমস্যা সমাধান - স্টাডি সার্কেল)
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
• আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার গুণকে গুরুত্ব দেয়া।
• আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকা।
• আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করতে মানুষকে উৎসাহিত করা।
পাঠ ভূমিকা:
আত্মীয়স্বজন এবং রক্ত সম্পর্কীয় লোকজনের অধিকার সম্পর্কে তারা যা জানে সে সম্পর্কে গ্রুপ আলোচনা করতে বলুন। তাদেরকে সহায়তা দিন এবং উপযুক্ত তথ্য সরবরাহ করুন। অতঃপর তাদেরকে নিয়ে হাদীসে পৌঁছেন, যা আজকের পাঠ।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ছাত্রদের হাদীসটি নীরবে পড়তে বলুন। তাদেরকে এর অর্থ এবং উদ্দেশ্য বুঝতে অনুপ্রাণিত করুন। অতঃপর তাদেরকে কঠিন শব্দাবলি চিহ্নিত করতে বলুন, যেগুলোর অর্থ তারা জানতে চায়।
ধাপ (২)
শিক্ষার্থীদেরকে হাদীসটি বর্ণনাকারীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। অতঃপর তার আমল থেকে কী শেখা যায় এবং কোথায় তাকে অনুকরণ করা যায় তা আলোচনা করুন।
শিক্ষার্থীদের কাছে হাদীসটির সামগ্রিক অর্থ এবং এর সাধারণ উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করুন। কঠিন শব্দাবলির অর্থের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিন।
ধাপ (৩)
শিক্ষার্থীদের কাছে নিম্নলিখিত সমস্যাটি উপস্থাপন করুন। এ সম্পর্কে তাদেরকে মতামত দিতে, কীভাবে এটি মোকাবেলা করা যায় এবং কাটিয়ে উঠা যায় তা বর্ণনা করতে বলুন। আর তাদের উত্তর থেকে আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার গুণ ব্যাখ্যা করুন।
(খালেদের বাবা-মা মারা গেছেন। অতঃপর সে অধিক ব্যস্ততার অজুহাতে তার বোনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। সে আর তাদের সম্পর্কে জানতে চায়না, এমনকি বিশেষ অনুষ্ঠান এবং ঈদের দিনেও না।)
ধাপ (৩)
স্টাডি সার্কেল পদ্ধতি ব্যবহার করে, শিক্ষক ছাত্রদেরকে বৃত্তাকারে বসতে এবং নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে বলবেন: "কিভাবে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার পরিণতি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করা যায় ?"
ছাত্রদের পারফরম্যান্স অনুসরণ করা হবে এবং প্রত্যেক সার্কেল এর একজন সদস্যকে তার সার্কেলের উত্তর উপস্থাপন করতে দায়িত্ব দেয়া হবে। তাদের উত্তরগুলো পর্যালোচনা করা হবে।
শিখনফল:
প্রতি দুইজন শিক্ষার্থীকে পারস্পরিক সহযোগিতায় পাঠ থেকে অর্জিত তিনটি উপকারী দিক এবং নির্দেশনা উল্লেখ করতে বলুন।
প্রতিটি দলের উত্তর জানুন এবং পর্যালোচনা করুন। তাদের উত্তরে কতটা মিল-অমিল তা স্পষ্ট করুন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে বলুন :
কার্যক্রম নম্বর: ১ ধরন ও লক্ষ্য: দলীয়, আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করা এবং বিচ্ছিন্ন করার প্রভাব বর্ণনা করা।
লক্ষ্য নম্বর: ১, ৪
শিক্ষার্থীদের নিকট (রেকর্ডকৃত) অডিও মাধ্যমে কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত মূল পাঠ উপস্থাপন করুন। দক্ষ একজনকে (পুনরায়) তা পড়তে বলুন। অতঃপর এর শব্দার্থ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করুন; যাতে করে এ থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বের করা যায়।
প্রত্যেক দু'জন ছাত্রকে কার্যক্রমের মূল পাঠগুলোর প্রতিটি পাঠ এক এক করে পড়তে বলুন। তাদের উত্তর ছাত্রদের সাথে পর্যালোচনা করুন; যাতে তাদেরকে সঠিক উত্তর অবহিত করতে পারেন এবং প্রত্যেকেই তার বইতে লিখে নিতে পারে।
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ফজিলত এবং ছিন্ন করার পরিণাম: যে ব্যক্তি সব ধরনের কল্যাণ দ্বারা নিজ আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে আল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখেন। সাদাকার পুরষ্কার কয়েকগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
জান্নাতে প্রবেশ থেকে বঞ্চিত হওয়া।
কার্যক্রম নম্বর: ২, ধরন ও লক্ষ্য: একক, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার পদ্ধতি অবগত করণ।
লক্ষ্য নম্বর: ৪
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একাকী কার্যক্রম সম্পাদনের দায়িত্ব দিন। তাদেরকে সৃজনশীল হতে এবং এমন উত্তর তৈরি করতে উৎসাহিত করুন যা তাকে অন্যদের থেকে শ্রেষ্ঠ করবে।
বেশ কিছু সংখ্যক ছাত্র বেছে নিন; যাদের প্রতি দু’জন উত্তর উপস্থাপন করবে; যাতে উত্তর দ্বয়ের মাঝে তুলনা করা যায়, সর্বোত্তম উত্তরটি নির্ধারণ করা যায় এবং এর প্রশংসা করা যায়।
মূল্যায়ন:
নিম্নলিখিত ধাপ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সাথে মূল্যায়ন প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন:
শিক্ষার্থীদেরকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করুন। প্রতিটি গ্রুপ পারস্পরিক সহযোগিতায় তাদের কিতাবে উল্লিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবে। প্রত্যেকেই একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে, আর সহপাঠীরা তাকে পর্যবেক্ষণ করবে।
উত্তর প্রদান এবং মূল্যায়নে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্রুপের কাজ পর্যবেক্ষণ করুন।
গ্রুপগুলোর উত্তর সংগ্রহ করুন এবং তা সংশোধন করুন। তারা যে ভুলগুলো করেছে তা নির্দিষ্ট করুন; যাতে সকলের কাছে তা তুলে ধরা যায় এবং শুদ্ধকরণ পদ্ধতি বলে দেয়া যায়।
উত্তরের দিক থেকে সর্বোত্তম গ্রুপকে চিহ্নিত করুন। এর সদস্যদের প্রশংসা করুন। তাদেরকে যেসব গ্রুপ ভুল করেছে তাদের ভুল সংশোধন পর্যবেক্ষণ করতে বলুন।
প্রশ্ন ১: ভুল -শুদ্ধ - শুদ্ধ - ভুল
প্রশ্ন ২: রিজিকের প্রাচুর্য - তার জীবন দীর্ঘায়িত হবে।
* শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন:
শিক্ষার্থীরা পারস্পরিক সহায়তায় আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার উপায় বর্ণনা এবং তা ছিন্ন বা অবহেলা করা থেকে সতর্ক করে কিছু পোস্টার তৈরি করে পরবর্তী ক্লাসে আপনার কাছে উপস্থাপন করবে; যাতে আপনি সেরাটি বেছে নিয়ে শ্রেণীকক্ষে ঝুলিয়ে রাখতে পারেন৷
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে তাদের পরিবারকে সতর্ক করা এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্ব বর্ণনা করা।
সপ্তম পাঠ: করুণা এবং সম্মান
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (لَيْسَ مِنَّا) (আমাদের দলভুক্ত নয়)
শিক্ষা উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক পোস্টার - ফ্ল্যাশ কার্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(উন্নত সংস্থা - পূর্বাভাস - সমস্যাসমূহের সমাধান - যৌথ তদন্ত)
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
• করুণার গুরুত্ব অনুভব করা, বিশেষত শিশুদের প্রতি।
• বয়স্ক এবং উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্মানপ্রদানের প্রতি যত্নবান হওয়া।
পাঠ ভূমিকা:
নিম্নলিখিত অবস্থানটি ছাত্রদের সামনে তুলে ধরুন: আপনি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখলেন এক যুবক বৃদ্ধের সাথে কন্ঠ উঁচু করছে। আপনি তাকে কী উপদেশ দিবেন? উপদেশ দেয়ার ক্ষেত্রে এই হাদীসটি থেকে উপকৃত হতে পারেন। অতঃপর বোর্ডে (পাঠ) শিরোনাম লিখুন।
* পাঠ উপস্থাপন :
ধাপ (১)
বোর্ডে হাদীসটি লিখুন, শিক্ষার্থীদের কাছে এটির উপর চিন্তা করতে বলুন। আলোচনাটি কী সম্পর্কে অনুমান করে তাদের উত্তরগুলো চিহ্নিত করুন এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
ধাপ (২)
শিক্ষার্থীদের কাছে হাদীসটির সামগ্রিক অর্থ এবং এর সাধারণ উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করুন। কঠিন শব্দাবলির অর্থের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিন।
ধাপ (৩)
শিক্ষার্থীদেরকে হাদীসটি বর্ণনাকারীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিন। অতঃপর তার আমল থেকে কী শেখা যায় এবং কোথায় তাকে অনুকরণ করা যায় তা আলোচনা করুন।
ধাপ (৪)
জ্ঞানবৃক্ষ (ট্রি অফ নলেজ) পদ্ধতি ব্যবহার করুন। আপনি একটি জ্ঞানবৃক্ষ আঁকবেন যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা অন্তর্ভুক্ত করবে। প্রতিটি ছাত্র হাদীসের একটি উপকারী দিক উপস্থাপন করবে এবং গাছের একটি শাখায় তা লিখে রাখবে। সব শেষে তারা চিত্রটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবে এবং হাদীসের সকল নির্দেশনা অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এটি কতটা পরিপূর্ণ ও ব্যাপক তা নির্ধারণ করবে।
*শিখন ফল:
পাঠটি অনুধাবনের পর প্রতিটি শিক্ষার্থী যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তার থেকে একটি ফায়দা উল্লেখ করতে বলুন। তারা যা পেশ করবে তা বোর্ডে লিখুন। এর ওপর মন্তব্য করুন এবং পাঠের সাথে এর সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট করুন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে বলুন:
কার্যক্রম নম্বর: ১, ধরন ও লক্ষ্য: দলীয়, পাঠের হাদীসের সাথে কার্যক্রমের হাদীসের সংযোগ স্থাপন করা।
লক্ষ্য নম্বর: ৩, ৪
পারস্পরিক সহযোগিতায় কার্যক্রমে উল্লিখিত চিত্রটি পূরণ করতে বলুন। প্রত্যেক গ্রুপ থেকে একজনকে বেছে নিন, যারা তাদের সহপাঠীদের মুখোমুখি দাঁড়াবে। শিক্ষক চিত্রে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি উপাদান নিয়ে প্রশ্ন করবেন, আর প্রত্যেক গ্রুপ প্রতিনিধি তার উত্তর উপস্থাপন করবে। গ্রুপ সমূহের উত্তরগুলো তুলনা করুন। সবচেয়ে সঠিক বর্ণনা ও বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণ করুন।
পাঠ্য হাদীসের সাথে মিল থাকবে: করুণা বা দয়া পরবশ আচরণের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং এ ব্যাপারে উৎসাহপ্রদান।
পাঠ্য হাদীস থেকে অতিরিক্ত রয়েছে:
১- করুণা বা দয়ার সওয়াব ও প্রতিদান আলোচনা করা।
২- রহমত (করুণা) শব্দটি ব্যাপক, এটা শুধুমাত্র ছোটদের জন্যেই খাস নয়।
কার্যক্রম নম্বর: ২, ধরন ও লক্ষ্য: একক, কীভাবে ছোটদের প্রতি করুণা করা যায় তার ব্যাখ্যা।
লক্ষ্য নম্বর: ৫,
প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একাকী দ্বিতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদন করতে বলুন। ঘুরে ঘুরে তাদের উত্তরগুলো মূল্যায়ন করুন। বিশুদ্ধ, ত্রুটিহীন এবং বাস্তবায়ন যোগ্য সেরা উত্তরটি বেছে নিন। এটি তারা সহপাঠীদের কাছে উপস্থাপন করবে যাতে করে সকলেই তাদের উত্তরগুলো সংশোধন ও সঠিক করে নিতে পারে।
কার্যক্রম ২: শিশুর দুর্বলতা এবং অন্যায় প্রতিহত করতে তার অক্ষমতা।
কার্যক্রম নম্বর: ৩, ধরন ও লক্ষ্য: একক, আচরণগুলো শ্রেণিবদ্ধ করার পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান।
লক্ষ্য নম্বর: ৫
শিক্ষক ছাত্রদের মাঝে কিছু কার্ড বিতরণ করবেন; প্রতিটি কার্ডে নিম্নলিখিত যে কোন একটি শব্দ উল্লেখ থাকবে: (ছোটদের প্রতি দয়া - বড়দের অধিকার পূর্ণ করা)। তিনি একে একে কার্যক্রমের প্রতিটি ধরন পড়বেন এবং তাদেরকে বাক্যের জন্য উপযুক্ত কার্ড তুলতে বলবেন। তাদের উত্তরগুলো জানবেন এবং মূল্যায়ন করবেন। যে বে-ঠিক উত্তর দিবে তার সাথে আলোচনা করবেন এবং কারণ বর্ণনাসহ সঠিক উত্তর জানিয়ে দিবেন।
ছোটদের প্রতি দয়া। বড়দের অধিকার পূর্ণ করা:
মূল্যায়ন
শিক্ষার্থীদেরকে নিচের নিয়মে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
শিক্ষার্থীদেরকে প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা বাঞ্ছনীয়। তাদের কতককে বেছে নিন; যাদের প্রত্যেকেই দু'টি প্রশ্নের উপাদান সমূহের একটির উত্তর দেয়। সহপাঠীরা তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করবে এবং তাদের উত্তর মূল্যায়ন করবে।
প্রশ্ন ১: ()- ()- ()
প্রশ্ন ২: সিয়াম - আমাদের শিষ্টাচার - রহমত
প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একাকী তৃতীয় ও চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে বলুন। তাদের মধ্য থেকে দু’জন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন; যারা নিজেদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করবে। উত্তরদ্বয়ের মাঝে তুলনা করুন এবং সঠিক উত্তরদাতাকে উৎসাহ দিন। অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদেরকে শুনে শুনে তাদের উত্তরগুলো সংশোধন করতে নির্দেশ দিন।
প্রশ্ন ৩:
- বড়দের প্রতি সম্মানের মধ্যে রয়েছে:
তার সামনে না হাঁটা
তার কাছে প্রবেশের পূর্বে অনুমতি নেয়া
কথা বলার সময় শিষ্টাচারিতা রক্ষা করা।
তার মতামত গ্রহণ করা।
- ছোটদের প্রতি দয়ার মধ্যে রয়েছে:
তার কষ্ট দূর করা ।
তাকে কষ্ট না দেয়া এবং প্রহার না করা।
তার সাথে খেলা করা।
তাকে লালন করা এবং শিক্ষা দেওয়া
* শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন:
হাদীসে উল্লিখিত নির্দেশাবলী বাস্তবায়নে যত্নবান হওয়া। বয়স্ক এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান করা। পরিবারের সদস্য এবং আশেপাশের লোকজনকে এসব নির্দেশনা জানানো; যাতে তারা এসব মেনে চলতে পারে।
অষ্টম পাঠ: প্রতিবেশী ও মেহমানের সম্মান করা।
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (لِيصْمُتْ– فَلْيُكْرِمْ جاره) (সে যেন চুপ থাকে - সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে)।
শিক্ষা উপকরণ:
(শিক্ষামূলক পোস্টার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশ কার্ড)।
পাঠদান কৌশল:
("আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি K.W.L" - আখ্যান শৈলী - ব্রেইন স্টর্মিং)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
• প্রতিবেশী এবং অতিথিদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা গুরুত্ব দেয়া।
• উত্তম ও উপকারী কথা বলতে উৎসাহ দেয়া।
• প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম আচরণের প্রয়োজনীয়তা:
• মেহমানকে সম্মান করার গুণের গুরুত্ব দেয়া।
পাঠ ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদেরকে একটি ব্যাখ্যামূলক চিত্র দেখান, যা পাঠ উপাদানগুলো ব্যাখ্যা করবে; যাতে পাঠে অন্তর্ভুক্ত বিষয় সম্পর্কে একটি সাধারণ মানসিক চিত্র তৈরি হয়।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে তিন ভাগে বিভক্ত একটি ফ্ল্যাশ কার্ড বিতরণ করবেন:
প্রথম অংশে K অক্ষরটি অন্তর্ভুক্ত করবে (Know আমি জানি)।
দ্বিতীয় অংশে W অক্ষরটি অন্তর্ভুক্ত করবে (Want আমি জানতে চাই)।
তৃতীয় অংশ L অক্ষরটি অন্তর্ভুক্ত করবে (Learn শিখেছি)।
শিক্ষক প্রতিটি অংশ দ্বারা কি বোঝানো হয়েছে তা ছাত্রদেরকে ব্যাখ্যা করবেন। অতঃপর আত্মীয় ও মেহমানদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ সম্পর্কে অতীতে তারা যা জানে তা উপস্থাপন করতে এবং প্রথম অংশ লিখে রাখতে বলবেন। তাদের পূর্বজ্ঞান যাচাই করতে বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন। অতঃপর তারা কোন তথ্য ও চিন্তা জানতে চায় তা প্রশ্ন করতে এবং দ্বিতীয় অংশে লিখতে বলবেন।
ধাপ (২)
প্রতিবেশীদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ এবং মেহমানকে সম্মান করার দিকগুলো উপস্থাপন করতে শিক্ষক বর্ণনামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। সেই সাথে পরিস্থিতি সংশ্লিষ্ট হাদীসগুলো ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে তুলে ধরবেন এবং এগুলোর নির্দেশনা ব্যাখ্যা করবেন।
ধাপ (৩)
ব্রেইন স্টর্মিং পদ্ধতিতে, একজন মুসলিমকে তার প্রতিবেশী এবং মেহমানদের সাথে কেমন আচরণ করা উচিত ? ছাত্রদেরকে এ নিয়ে তাদের ভাবনা তুলে ধরতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো জানুন। অতঃপর প্রতিবেশী এবং মেহমানদের সাথে আচার-আচরণে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা তুলে ধরুন, এবং এর সাথে সম্পর্কিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসগুলো ব্যাখ্যা করুন।
শিখন ফল:
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের কাছে থাকা কার্ডের তৃতীয় তথা (L) অংশ পূরণ করতে বলুন, যে অংশ তারা পাঠ থেকে সাধারণ উপাদান আকারে যা শিখেছে তা লেখার সাথে সম্পৃক্ত। কিছু কার্ড চয়ন করুন এবং তা পর্যালোচনা করুন। ছাত্ররা যা লিখেছে সে সম্পর্কে আপনার মতামত দিন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে বলুন :
কার্যক্রম নম্বর: ১, ধরন ও লক্ষ্য: একক, প্রতিবেশী এবং মেহমানদের সম্মান করার ধরনগুলো অবহিত হওয়া।
লক্ষ্য নম্বর: ৪
একজন ছাত্রকে কার্যক্রমটি সহপাঠীদের সামনে পড়তে বলুন। অতঃপর এ নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সারণির নির্ধারিত স্থানে কার্যক্রমের উদ্দিষ্ট নির্দেশনা সনাক্ত করতে বলুন।
হাদীস যার ইঙ্গিত করে /
হাদীসে যার ইঙ্গিত নেই
কার্যক্রম নম্বর: ২, ধরন ও লক্ষ্য: দলীয়, শিক্ষার্থীদেরকে সহযোগিতা এবং যোগাযোগের ওপর প্রশিক্ষণ দেয়া।
লক্ষ্য নম্বর: ৩
প্রত্যেক গ্রুপের ছাত্রদেরকে পারস্পরিক সহযোগিতায় সারণি পূরণ করতে বলুন। প্রতি গ্রুপ থেকে একজনকে বেছে নিন, যারা তাদের সহপাঠীদের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়াবে। শিক্ষক একে একে সারণির উপাদানগুলো উপস্থাপন করবেন। প্রত্যেক গ্রুপ প্রতিনিধি এই উপাদানগুলোর জন্য তার গ্রুপের উত্তর উপস্থাপন করবে। আপনি তাদের উত্তরগুলোর মাঝে তুলনা করুন। সবচেয়ে সঠিক বর্ণনা ও বাস্তবসম্মত সমাধান নির্ধারণ করুন।
বিষয়ের সাথে মিল রাখে হাদিসের এমন অংশ:
সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।
সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে।
সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।
কার্যক্রম নম্বর: ৩، ধরন ও লক্ষ্য: একক, জিহ্বার বিপদ অবগত হওয়া।
লক্ষ্য নম্বর: ৪
প্রতিটি ছাত্রকে কার্যক্রমে থাকা লিঙ্কটি অবগত হতে নির্দেশ দিন, যাতে তার সামনে জিহ্বার বিপদ স্পষ্ট হয়। অতঃপর এ থেকে গুরুত্বপূর্ণ যা কিছু শিখেছে তার সার-সংক্ষেপ লিখতে বলুন। ছাত্ররা কী করেছে এবং কী লিখেছে তা পরবর্তী সাক্ষাতে জানতে ভুলবেন না।
মূল্যায়ন:
মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিতে তার উপাদানগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়ুন। বাক্যটি সঠিক হলে শিক্ষার্থী তার হাত উপরে তুলবে। তাদের উত্তর মূল্যায়ন করুন এবং তাদের সাথে সিদ্ধান্ত নিন কোন ইবারতটি ভুল এবং সঠিক।
প্রশ্ন ১: (×) - (✓)- () - (✓) - (×)
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এককভাবে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে বলুন। সকল শিক্ষার্থী তার সহপাঠীর সাথে উত্তর বিনিময় করবে; যাতে একে অন্যের উত্তর সংশোধন করতে পারে। প্রতিটি দলের জন্য থাকবে আপনার পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনা।
মিম
আচরণ:
প্রতিবেশীদের গোপনীয়তা জানতে চাওয়া : বেঠিক আচরণ
অনুপস্থিত প্রতিবেশীর সন্তানদের খোঁজ-খবর নেয়া এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করা : সঠিক আচরণ
প্রতিবেশীর গোপনীয়তা সম্পর্কে কথা বলা এবং তার গোপনীয়তা প্রকাশ করা: বেঠিক আচরণ
প্রতিবেশীদের বাড়ির সামনে আবর্জনা ফেলা: বেঠিক আচরণ
মেহমানের জন্য ব্যয় করার বিনিময় চাওয়া: সঠিক আচরণ
আপনার বন্ধুকে সংবাদ দেওয়া যে অপর বন্ধু গতকাল তাকে গালমন্দ করেছে: বেঠিক আচরণ
অতিথিকে কেউ লাঞ্ছিত করলে তা প্রতিহত করা: সঠিক আচরণ
টেলিভিশনের ভলিউম এতটা বাড়ানো যা প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দেয় : বেঠিক আচরণ
শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একাকী তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে বলবেন। তাদের কাছে যেয়ে তাদের দেয়া উত্তর জানবেন, সেই সাথে ভুল উত্তরদাতাকে সঠিক উত্তরের নির্দেশনা দিবেন।
* শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন:
প্রতিবেশী ও মেহমানদের সাথে আচরণে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা অনুসরণে যত্নবান হওয়া। এবং মিথ্যা বলার চেয়ে চুপ থাকা উত্তম।
চারপাশের সমাজ এবং সমাজের মানুষদের মধ্যে যারাই প্রতিবেশী ও মেহমানদের সাথে খারাপ আচরণ করে, তাদেরকে উপদেশ এবং পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে এর মোকাবেলা করা। এবং পাঠ বিষয়বস্তুতে যা অধ্যয়ন করা হয়েছে, তাদেরকে তা অবহিত করা।
নবম পাঠ: ভারসাম্যতা এবং মধ্যপন্থা
পাঠের সময়: এক পিরিয়ড।
নতুন শব্দাবলী: (التوازن – الاعتدال) ভারসাম্যতা - মধ্যপন্থা
শিক্ষা উপকরণ:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(অগ্রিম সংগঠক - শব্দার্থিক মানচিত্র - সহযোগিতামূলক শিক্ষা)।
মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গি:
• অধিকারের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের গুরুত্ব অনুভব করা।
সাধ্যাতীত ইবাদাত করে নিজেকে কষ্ট না দেওয়া।
• অনুভব করা যে, ইসলাম মানব প্রকৃতি এবং তার আত্মিক ও শারীরিক চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখেছে।
• ইসলাম এবং এর বার্তা সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম (রা) এর বুঝার গভীরতাকে মূল্যায়ন করা।
পাঠ ভূমিকা:
অগ্রিম সংগঠক পদ্ধতি ব্যবহার করে, শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নের পরিস্থিতি এবং তৎপরবর্তী প্রশ্নগুলো তুলে ধরবেন। তাদের উত্তরগুলো অবহিত হবেন এবং ব্যতিক্রম উত্তরটি বোর্ডে লিখবেন। তাদেরকে ভালভাবে পাঠ অনুসরণ করতে উজ্জীবিত করবেন; কেননা এর মাধ্যমে তারা নিজেরাই সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে পারবে।
(একজন মহিলা যথাসময়ে সালাত আদায় করে, কিন্তু সে তার স্বামীর আনুগত্য করে না, স্বামীর অধিকার আদায় করেনা। সে মনে করে আল্লাহর অধিকার অন্য যেকোনো অধিকারের চেয়ে অগ্রগণ্য এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এর হুকুম কি? আপনি তাকে কী উপদেশ দিবেন?)
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ছাত্রদেরকে নীরবে হাদীসটি পড়তে বলুন। তাদের এর অর্থ এবং উদ্দেশ্য বুঝতে অনুপ্রাণিত করুন। অতঃপর তাদেরকে কঠিন শব্দাবলি চিহ্নিত করতে বলুন; যেগুলোর অর্থ তারা জানতে চায়।
ধাপ (২)
ছাত্রদেরকে হাদীসের বর্ণনাকারীর সাথে পরিচয় করিয়ে দিন (তার নাম, উপনাম, জীবন, গুণাবলী এবং মৃত্যু)।
অতঃপর একজন ছাত্র নির্বাচন করুন; যে হাদীসের বর্ণনাকারী সম্পর্কে যা জেনেছে, নিজস্ব ভঙ্গিতে তা বর্ণনা করবে।
ধাপ (৩)
শব্দার্থিক মানচিত্র পদ্ধতির মাধ্যমে; ব্যাখ্যাসহ হাদীসটি উপস্থাপন করুন।
বোর্ডের মাধ্যমে একটি স্পষ্টকরণ চিত্র প্রদর্শন করুন, যাতে ছাত্রদের সাথে আলোচনা করার জন্য নিম্নলিখিত ধারণাগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তা হল: (আল্লাহ তা'আলার অধিকার - পরিবারের অধিকার - নিজের অধিকার)।
শিক্ষার্থীদের এই ধারণাগুলো এবং হাদীসের সাথে তার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করুন। আর তাদের প্রশ্নের উত্তর দিন।
ধাপ (৪)
সহযোগিতামূলক শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করা।
দুনিয়া এবং আখিরাতের বিষয়ে কী করে ভারসাম্য রক্ষা করা যায় তা নির্ধারণ করতে ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে দায়িত্ব দিন। তাদেরকে অধিক সংখ্যক এবং বৈচিত্রপূর্ণ উত্তর দিতে উৎসাহিত করুন।
প্রত্যেক গ্রুপ পরিচালক তার গ্রুপের উত্তর উপস্থাপন করবে, এবং উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবে। প্রতিটি গ্রুপ অন্যান্য গ্রুপের উত্তর যা জেনেছে, সে আলোকে তার উত্তরটি পূর্ণ করবে।
শিখন ফল:
কতিপয় ছাত্রকে বেছে নিন। তাদের প্রত্যেককে হাদীস অনুধাবন লব্ধ যে কোন একটি নির্দেশনা বা শিক্ষা তুলে ধরে কিভাবে এটিকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করবে তা নিজস্ব ভঙ্গিতে বর্ণনা করতে বলুন। অতঃপর আপনি তাদের বর্ণনার উপর উপযুক্ত মতামত দিন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ দিন:
কার্যক্রম নম্বর: ১, ধরন ও লক্ষ্য: একক, অনুমোদিত এবং অননুমোদিত বিনোদনের ছবি তোলা।
লক্ষ্য নম্বর: ৩, ৪
প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে ফ্ল্যাশ কার্ড দিন, যাতে কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের উত্তর দেয়া শেষে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সংশোধন করুন। অতঃপর সেরা উত্তর নির্বাচন করুন এবং শিক্ষার্থীদেরকে জানানোর জন্য তা উপস্থাপন করুন।
কার্যক্রম নম্বর: ৩ ধরন ও লক্ষ্য: একক, স্ত্রী এবং নিকটাত্মীয়দের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান বর্ণনা করা।
লক্ষ্য নম্বর: ৩
একটি পোস্টারে তৃতীয় কার্যক্রমটি প্রদর্শন করুন। তা পড়ার জন্য একজন শিক্ষার্থী বেছে নিন। আলোচনার ফাঁকে কার্যক্রমের প্রশ্ন ছুঁড়ে দিন, যাতে তারা এর উত্তর দিতে পারে। এবং যে সমস্ত শিক্ষার্থী সচরাচর অংশগ্রহণ করেনা তাদেরকে উত্তর দিতে উৎসাহিত করুন। অতঃপর তাদের প্রত্যেককেই সঠিক উত্তরটি সংক্ষিপ্ত করতে এবং খাতায় লিখতে নির্দেশ দিন।
কার্যক্রম নম্বর: ৩, ধরন ও লক্ষ্য: দলীয়, অধিকারগুলোর মাঝে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করা যায়, তার প্রশিক্ষণ।
লক্ষ্য নম্বর: ৪, ৫
ছাত্রদেরকে দুটি গ্রুপে ভাগ করুন। তাদের মধ্যে প্রথম গ্রুপটিকে আয়াতে কারীমাগুলো পড়তে এবং পুনরাবৃত্তি করতে বলুন। আর দ্বিতীয় গ্রুপকে প্রথম গ্রুপের যেকোন ভুল পর্যালোচনা এবং সংশোধন করতে বলুন। উভয় গ্রুপ পর্যবেক্ষণ করুন এবং নির্দেশনা দিন। অতঃপর আয়াতের নির্দেশনার আলোকে অধিকারসমুহের মধ্যে ভারসাম্যের ধরনগুলো ব্যাখ্যা করুন।
আয়াত: (وَٱلَّذِينَ إِذَآ أَنفَقُواْ لَمۡ يُسۡرِفُواْ وَلَمۡ يَقۡتُرُواْ وَكَانَ بَيۡنَ ذَٰلِكَ قَوَامٗا) অর্থাৎ, আর যখন তারা ব্যয় করে, তখন অযথা ব্যয় করে না, কৃপণতাও করে না এবং তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী। (আল-ফুরকান : ৬৭)
এটি যা নির্দেশ করে: অর্থ ব্যয়ে ভারসাম্যতা।
(وَٱبۡتَغِ فِيمَآ ءَاتَىٰكَ ٱللَّهُ ٱلدَّارَ ٱلۡأٓخِرَةَۖ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ ٱلدُّنۡيَاۖ وَأَحۡسِن كَمَآ أَحۡسَنَ ٱللَّهُ إِلَيۡكَۖ) অর্থাৎ, আল্লাহ তোমাকে যা দান করেছেন, তদ্বারা পরকালের গৃহ অনুসন্ধান কর, এবং ইহকাল থেকে তোমার অংশ ভূলে যেয়ো না। তুমি অনুগ্রহ কর, যেমন আল্লাহ তোমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। [আল-কাসাস: ৭৭] এটি যা নির্দেশ করে: পরকালের জন্য আমল এবং (দুনিয়ার) জীবনের ভালো জিনিসগুলো উপভোগ করার মধ্যে ভারসাম্যতা।
মূল্যায়ন:
মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নিচের পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
শিক্ষার্থীদেরকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করুন; যাতে তারা পারস্পরিক সহযোগিতায় নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পারে।
প্রতিটি গ্রুপ প্রশ্নগুলো থেকে একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে।
মূল্যায়ন করার জন্য প্রত্যেক গ্রুপ একে অপরের সাথে উত্তর বিনিময় করবে।
সঠিক উত্তর দেয়া গ্রুপের প্রশংসা করুন।
প্রশ্ন ১: অধিকার সমূহের মাঝে ভারসাম্যতা - কিছু হাদীসের উপর আমল করবে- আমি মুসলিমদের উপদেশ দিব।
প্রশ্ন ২:
১- সাধ্যাতীত ইবাদাত করে নিজেকে কষ্ট দেওয়া মাকরূহ।
২- একজন মুসলিমের কর্তব্য হল, আল্লাহর অধিকার আদায়ের পাশাপাশি সন্তানদের অধিকারের প্রতি ও লক্ষ্য রাখবে।
ইসলাম আত্মিক এবং শারীরিক উভয় দিকের উপরে গুরুত্বারোপ করে।
* শিক্ষাগত ও মনোজাগতিক নির্দেশনা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিচের নিয়মে তা তাদের জীবন ও আচরণে প্রয়োগ করার গুরুত্ব তুলে ধরুন:
প্রত্যেক হকদারকে তার হক প্রদানে সর্বোচ্চ সচেষ্ট হওয়া। কোন হকের ক্ষেত্রে কমতি না করা।
সকল অধিকার এবং কর্তব্যের ক্ষেত্রে ভারসাম্যের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে একটি হ্যান্ড বিল তৈরিতে সহযোগিতা করা, এবং এর প্রসার ও পরিচিতকরণে প্রচেষ্টা করা; যাতে তা অন্যদেরকে প্রভাবিত করে এবং এমন সব কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে যা তাদেরকে মুত্তাকীদের পুরস্কার লাভ করতে সাহায্য করবে।
ফিকহী আহকাম সংক্রান্ত অধ্যায়
প্রথম পাঠ: অযুর আহকাম।
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলি: ((الموالاة) নিরবচ্ছিন্নভাবে করা - (سنن الوضوء) অযুর সুন্নাতসমূহ - (نواقض الوضوء) অযু বাতিলকারী বিষয়সমূহ - (إسباغ الوضوء) নিখুঁতভাবে অযু করা)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - ব্ল্যাকবোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সমস্যা সমাধান - K.W.L - ব্যবহারিক উপস্থাপনা - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো)।
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
- পবিত্রতার গুরুত্ব অনুধাবন করা
- সঠিকভাবে অযু করতে আগ্রহী থাকা।
দেহ ও স্থানের পবিত্রতার প্রতি ইসলামের গুরুত্বের মূল্যায়ন করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সামনে নিম্নলিখিত সমস্যাটি তুলে ধরুন। এটি সম্পর্কে তাদের মতামত, কীভাবে তা সমাধান করতে হবে ও তার সাথে কিরূপ আচরণ করতে হবে তা জানুন। আর তাদের নিকট সস্পষ্ট করুন যে পাঠটি অনুসরণ করে তারা এই সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হবে।
(আলী অযু করে যোহরের সালাত আদায় করলেন, তারপর তার ঘুম আসলে তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন এবং সরাসরি আসরের সালাতে উঠে গেলেন। তার ভাই তাকে অযু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি ঘুমানোর আগে অযু করেছিলেন, তারপর আর তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন সারেন নি।
তারপর বোর্ডে পাঠের শিরোনামটি লিখুন।
* পাঠ উপস্থাপন :
ধাপ (১)
শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে তিনটি ভাগে বিভক্ত একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করবেন: যার প্রথম অংশে K অক্ষর, দ্বিতীয় অংশে W অক্ষর এবং তৃতীয় অংশে L অক্ষর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তিনি তাদের নিকট প্রতিটি অংশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করবেন। তারপর পাঠ সম্পর্কে তাদের জানা পূর্ব তথ্য এবং উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে তারা যা চিন্তা করেছে তা উপস্থাপন করতে ও তা প্রথম কলামে লিখতে বলবেন। তিনি পাঠ সম্পর্কে তাদের পূর্ববর্তী জ্ঞানের অভিজ্ঞতা অবগত হওয়ার জন্য তাদের সাথে এটি নিয়ে আলোচনা করবেন। তারপর পাঠের মাধ্যমে তারা যে তথ্য ও জ্ঞান জানতে চায় তা উপস্থাপন করতে এবং তা দ্বিতীয় কলামে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দিবেন।
ধাপ (২)
শিক্ষক কয়েকজন ছাত্রকে বেছে নিবেন এবং তাদের কাছ থেকে অযু করার সময় তারা যে ফরজ ও সুন্নাতগুলো পালন করে তা অবগত হবেন। যা ব্যাখ্যা করা হবে তা অনুসরণ করার জন্য তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন; যেন তারা প্রত্যেকে অযুর সঠিক পদ্ধতি জানতে পারে।
শিক্ষক ছাত্রদের অযু করার জায়গায় নিয়ে যাবেন এবং প্রতিটি কর্মকে ব্যাখ্যা করে অযুর ফরয ও সুন্নাতগুলোর একটি ব্যবহারিক আমল উপস্থাপন করবেন। তারপর তিনি যা করেছেন তা প্রয়োগ করার জন্য দুইজন ছাত্রকে বেছে নিবেন, সাথে তাদের সহপাঠীরা তাদেরকে মূল্যায়ন করবে।
ধাপ (৩)
ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতির মাধ্যমে ছাত্রদেরকে যে অযু বাতিলকারী বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে নির্দেশ দিন , তারা যে উত্তরগুলো দেয় তা জানুন। আর এটি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করে তাদেরকে সঠিক উত্তরের দিকে নিয়ে যান, সাথে এ সম্পর্কিত শরয়ী দলিলগুলো বর্ণনা করুন।
* উপসংহার:
শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা কার্ডের তৃতীয় কলামটি সম্পূর্ণ করতে নির্দেশ করুন, যেটি হল কলাম (L), যা তাদের পাঠ থেকে অর্জিত শিক্ষা লেখার সাথে সম্পর্কিত। আর কিছু কার্ড বেছে নিন ও সে সম্পর্কে মন্তব্য করুন এবং ছাত্রদের লিখিত বিষয়ে আপনার মতামত স্পষ্ট করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য: সমষ্টিগতভাবে, অযুর ফরজ ও সুন্নতসমূহ খুঁজে বের করা।
লক্ষ্য নং ১
ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হাদীসটি প্রদর্শন করুন। আর এটি তার সহপাঠীদের সামনে পড়ার জন্য একজন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাদের সাথে এর অর্থ ও তা কী নির্দেশ করে তা নিয়ে আলোচনা করুন।
হাদীসের সাথে সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে প্রতি দুইজন শিক্ষার্থীকে পরস্পর সহযোগিতা করার দায়িত্ব দিন। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি প্রশ্ন উপস্থাপন করুন। আর সে সম্পর্কে প্রতিটি গ্রুপের উত্তর জানুন, সাথে গ্রুপের উত্তরগুলোর মাঝে তুলনা করুন এবং সেরা উত্তরদাতা দলটি নির্ধারণ করুন। শেষে প্রতিটি গ্রুপ বাকিদের সঠিক উত্তর সম্পর্কে জানার আলোকে তাদের উত্তর সংশোধন করে নিবে।
ফরযসমূহ: মুখমণ্ডল ধোয়া - কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধোয়া - মাথা মাসেহ করা - দুই পা ধোয়া।
সুন্নাহসমূহ: দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ধোয়া -কুলি করা - নাক থেকে পানি ঝেড়ে ফেলা - প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, সঠিকভাবে অযু সম্পাদন করা।
লক্ষ্য নং ৪
ছাত্রদের মধ্য থেকে একজনকে বেছে নিন এবং তাকে সঠিকভাবে অযুর পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে বলুন। বাকি সহপাঠীরা তাকে অনুসরণ করবে, তার অযুর মাঝে কোনো ত্রুটি বা অস্পূর্ণতা থাকলে তা চিহ্নিত করবে। সে ত্রুটি করলে সঠিক উপায়ে অযুর পদ্ধতি ব্যাখ্যা করার জন্য অন্য একজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, যতক্ষণ না ত্রুটি দূর হয় এবং সবার সামনে সঠিক পদ্ধতি সাব্যস্ত হয়।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, অযু বাতিলকারী বিষয়গুলো সম্পর্কে জানা।
লক্ষ্য নং ২, ৪
একটি বোর্ডে তৃতীয় কার্যক্রমটি প্রদর্শন করুন এবং এটি পড়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন। আর আলোচনা করার সময় তাদের সামনে কার্যক্রমের প্রশ্নগুলো পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করুন, যাতে তারা এটির উত্তর দিতে পারে এবং যে সমস্ত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে তৎপর নয় তাদেরকে উত্তর দিতে উৎসাহিত করুন। তারপর কারণ বর্ণনাসহ তাদের প্রত্যেককে নিজের বইয়ে সঠিক উত্তর লিখার জন্য নির্দেশ দিন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
শিক্ষার্থীদের সামনে প্রথম প্রশ্নটি উপস্থাপন করুন এবং অপরিকল্পিতভাবে দু’জন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, যেখানে তাদের প্রত্যেকে প্রশ্নের একটি বিষয়ের উত্তর দিবে, সাথে তাদের সহপাঠীরা তাদেরকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে।
প্রশ্ন ১: () - ()
প্রতি দু’জন ছাত্র দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে এবং মূল্যায়ন করার জন্য প্রতিটি দল তার উত্তর অন্য দলের সাথে বিনিময় করবে। শিক্ষক প্রতিটি দলকে অন্য দলে পাওয়া ত্রুটিগুলো উপস্থাপন এবং তা ঠিক করার পদ্ধতি বলার সুযোগ দিবেন।
প্রশ্ন ২: (ফরযসমূহ) - (সুন্নাহ) - (প্রস্রাব বের হওয়া)।
শিক্ষার্থীদের সামনে তৃতীয় প্রশ্নটি উপস্থাপন করুন এবং তাদের তিনজনকে এটির উত্তর দিতে বেছে নিন। যদি তারা ভুল করে ও শরয়ী দলিল উপস্থাপনে সক্ষম না হয়, তাহলে তাদেরকে নির্দেশ দিন যাতে পাঠের বিষয়বস্তু থেকে তারা নিজেরা এটি বের করে নেয়।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
ছাত্রদেরকে অযুর ফরজ ও সুন্নাতগুলো তারা পাঠ থেকে যেভাবে শিখেছে তার আলোকে সঠিকভাবে পালন করতে উদ্বুদ্ধ করা, সাথে তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে এর সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং অযুর সময় তাদের পর্যবেক্ষণ করতে উদ্বুদ্ধ করা, যেন তারা যে ভুলগুলো করবে তা চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে বিরত থাকা যায়।
দ্বিতীয় পাঠ: সালাতের শর্তসমূহ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((دَرَنِهِ ) তার ময়লা - (الْخَطَايَا) পাপসমূহ - (تزكِّي النفس) আত্মাকে শুদ্ধ করা - (عورة ) গোপনাঙ্গ - (استقبال القبلة) কেবলামুখী হওয়া)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(শিক্ষামূলক ছবি - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)
পাঠদান কৌশল:
(পারস্পরিক বিনিময় পদ্ধতিতে শিক্ষাদান: "ভবিষ্যদ্বাণী - প্রশ্ন করা - ব্যাখ্যাকরণ- সংক্ষিপ্তকরণ" - ব্যবহারিক প্রদর্শন - ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ)।
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
- সালাতের বিধানসমূহ শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করা।
- সালাতের শর্তাবলীর প্রতি যত্নশীল হতে আগ্রহী থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নের হাদীসটি উপস্থাপন করুন: "তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় কর"। আর তাদের এটি নিয়ে চিন্তা করতে বলুন এবং সালাতের পদ্ধতি ও এর বিধানগুলো শিক্ষার গুরুত্ব সাব্যস্ত করতে বলুন। তারা প্রত্যেকে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে তা তার নোটবুকে লিখে রাখবে, আর তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন যে, পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের উত্তর মূল্যায়ন স্থগিত থাকবে।
পাঠের উদ্দেশ্যগুলোর সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিন এবং তাদের এর শিরোনাম সাব্যস্ত করতে বলুন এবং তা বোর্ডে লিখুন।
* পাঠ উপস্থাপন :
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীরা পাঠের উদ্দেশ্য এবং শিরোনাম জানার আলোকে, পাঠে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্বাভাস করতে বলুন, তারপর তাদের সামনে পাঠের বিষয়বস্তুর একটি ব্যাখ্যামূলক মানচিত্র দেখান, যাতে তারা যা উপস্থাপন করছে এবং বাস্তবে পাঠ যা অন্তর্ভুক্ত করেছে তার মাঝে তুলনা করতে পারে।
ধাপ (২)
ব্যবহারিক উপস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে; শিক্ষার্থীদের সামনে সালাতের শর্তগুলো ব্যবহারিক আকারে দেখান এবং এই উপস্থাপনায় কিছু ব্যাখ্যামূলক চিত্র অন্তর্ভুক্ত করুন। তারপর দু’জন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাদের অযু থেকে নিশ্চিত হোন যে, তারা আপনার কাছ থেকে যেমন অযু শিখেছে সেভাবে সালাতের শর্তাবলী পালন করেছে। আর তাদের সহপাঠীরা তাদের উভয়ের অযু সম্পাদন অনুসরণ করবে, যাতে তার যথার্থতা প্রমাণিত হয়।
ধাপ (৩)
ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন, যাতে সেগুলোর মাঝে পার্থক্য নির্ণিত হয় এবং পাঠে উল্লিখিত সালাতের শর্তগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলীর ক্ষেত্রে সেগুলোর সামঞ্জস্যতা ও অসামঞ্জস্য সুস্পষ্ট হয়।
একজন ব্যক্তি বিশ্বাস করেন যে উন্মাদ ব্যক্তির সালাত পড়াতে কোন সমস্যা নেই।
কিছু মুসলিম সালাতের সময়ের ব্যাপারে অবহেলা করে এবং সমস্ত সালাত যথাযথভাবে আদায় করে না।
কিছু যুবক যে কোনো পোশাক পরিধান করে, যদিও তা সালাত এবং এর পবিত্রতার সাথে মানানসই না হয়।
* উপসংহার:
ভূমিকায় উপস্থাপিত সালাতের প্রভাব সম্পর্কে যে বিষয়গুলো শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করেছিল তা পর্যালোচনা করার জন্য শিক্ষক তাদেরকে নির্দেশ দিবেন এবং কিছু ছাত্রের পাঠ শেখার আগে ও পরের উত্তরগুলো জানবেন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার পাঠ থেকে কী শিখেছে এবং সেই জ্ঞানের আলোকে তাদের জীবনে কী প্রয়োগ করা উচিত তার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে তৈরি করতে বলুন এবং শিক্ষার্থীদের ভাল শব্দশৈলী ও বাস্তব প্রয়োগযোগ্য উত্তরগুলোকে উৎসাহিত করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, সালাতের শর্তাবলীর বাস্তব প্রয়োগ।
লক্ষ্য নং ১
একটি বোর্ডে প্রথম কার্যক্রমটি প্রদর্শন করুন এবং এটি পড়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন। আর আলোচনা করার সময় তাদের সামনে কার্যক্রমের প্রশ্নগুলো পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করুন, যাতে তারা এটির উত্তর দিতে পারে এবং যে সমস্ত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে তৎপর নয় তাদেরকে উত্তর দিতে উৎসাহিত করুন। তারপর তাদের প্রত্যেককে নিজের বইয়ে সঠিক উত্তর লিখার জন্য নির্দেশ দিন।
আল-ফেল (কর্ম) সঠিক ভূল শর্ত
কেউ মুয়াযযিন সালাতের আযান দেওয়ার আগেই সালাত আদায় করল।
একজন কিবলামুখী হল এবং যোহরের সালাতের নিয়ত করল।
একব্যক্তি তার প্রাকৃতিক হাজাত পূরণ করল, এরপর অযু না করেই সালাত আদায় করল।
রুকুর সময় কিবলার বিপরীত দিকে ঘুরে গেল।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, সঠিক পদ্ধতিতে সালাত আদায় করা।
লক্ষ্য নং 3
শিক্ষার্থীদের দুটি দলে বিভক্ত করুন এবং তাদের মধ্যে প্রথম দলকে কার্যক্রমের প্রথম অংশ এবং দ্বিতীয় দলকে এটির দ্বিতীয় অংশের উত্তর দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিন। সাথে আপনি তাদের প্রত্যেককে পর্যবেক্ষণ করুন ও দিকনির্দেশনা দিন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, কুরআন এবং সালাতের সময় প্রবেশের শর্তের সাথে সংযোগ স্থাপন করা।
লক্ষ্য নং ১, ২
প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করা হবে যাতে কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাদের উত্তর দেওয়া শেষ হলে কার্ডগুলো সংগ্রহ ও সংশোধন করুন, তারপর সেরা উত্তরটি চয়ন করুন। আর তার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তা উপস্থাপন করুন।
কার্যক্রম নং ৪ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, শিক্ষার্থীদের সঠিক হুকুম লিখতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
লক্ষ্য নং ৫
শিক্ষক প্রত্যেক ছাত্রকে একটি পৃথক কার্ডে যে ব্যক্তি উচ্চস্বরে বলল: نويتُ أن أصلي فرض الظهر أربع ركعات أداءً لله تعالى (আমি আল্লাহ তায়ালার জন্য যোহরের চার রাকাত ফরজ সালাত আদায় করার নিয়ত করছি।) তার বিধান লিখতে নির্দেশ দিবেন। আর প্রতিটি ছাত্র তার কার্ডটি সহপাঠীর কার্ডের সাথে বিনিময় করবে যাতে তারা পরস্পরের মূল্যায়ন করতে পারে এবং যে ভুলগুলো করেছে তা অবগত হতে পারে। আপনি ছাত্রদের ভুলগুলো চিহ্নিত করুন। তাদের সামনে সঠিক হুকুমটি স্পষ্ট করুন যাতে তারা এটি বুঝতে পারে ও তাদের বইয়ে লিখে নিতে পারে।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের খাতায় নিম্নের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলুন।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খাতাগুলো সংগ্রহ করুন, তারপর তাদেরকে মৌখিকভাবে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করুন, যেন সেগুলোর সমাধান করে নেয় এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
খাতাগুলো সংশোধন করুন এবং প্রতিটি প্রশ্নের জন্য উপযুক্ত নাম্বার প্রদান করুন।
সর্বোচ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করুন এবং তাকে যথাযথ উৎসাহ প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১: (×) - (✓) - (✓) - (×)
প্রশ্ন ২: বিবেক - (শর্তসমূহ) - অপবিত্রতা - অশুদ্ধ - অশুদ্ধ
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তাদের বাস্তব জীবন ও তাদের আচার আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিন:
সালাতের শর্তগুলো সঠিকভাবে প্রয়োগ করাসহ নিয়মিত সালাত আদায় করা এবং পরিবারের সদস্য ও আশেপাশের লোকদেরকে সেই শর্তগুলো সম্পর্কে অবহিত করা। এর জন্য সালাতের শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত করে একটি প্রচারপত্র তৈরি করা এবং নিজেদের ইলমের যাকাত স্বরূপ তাদের মধ্যে তা বিতরণ করা।
তাদের আশেপাশের লোকেদের মধ্যে পরিলক্ষিত সালাত সম্পর্কিত ভুল আচরণগুলো সংশোধন করা। সাথে উপযুক্ত শিক্ষামূলক পদ্ধতিতে ভুল সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করা ও তা সংশোধন করার পদ্ধতি বর্ণনা করার প্রতি যত্নবান হওয়া।
তৃতীয় পাঠ: সালাতের রুকন ও ওয়াজিবসমূহ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ( الترتيب بين الأركان )(রুকনসমূহের মধ্যে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা - ( الطمأنينة)) ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা)।
শিক্ষামূলক উপকরণসমূহ:
(শিক্ষামূলক ছবি - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)
পাঠদান কৌশল:
(পারস্পরিক বিনিময় পদ্ধতিতে শিক্ষাদান: "ভবিষ্যদ্বাণী - প্রশ্ন করা - ব্যাখ্যাকরণ- সংক্ষিপ্তকরণ" - ব্যবহারিক প্রদর্শন - ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ)।
মূল্যায়ন ও দিকনির্দেশনা:
• রুকন ও ওয়াজিবসহ সালাত কায়েম করা।
• সালাত ফরয হওয়ার মহত্ত্ব অনুধাবন করা।
* পাঠের ভূমিকা:
নিম্নের নিয়মে পাঠটির ভুমিকা প্রস্তুত করুন:
সালাতে করণীয় কাজগুলো রুকন, ওয়াজিব এবং সুন্নাতসমূহের ভিত্তিতে বিভক্ত করন:
রুকন হচ্ছে এমন বিষয় যা ছাড়া সালাত বিশুদ্ধ হয় না; এটা ইচ্ছাপূর্বক অথবা ভুলক্রমে কোনভাবেই রহিত হয় না। এগুলোর সংখ্যা ১৪টি।
ওয়াজিবগুলোও অবশ্য পালনীয়, সুতরাং কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এর কোন একটিকে ছেড়ে দেয়, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি তা ভুলক্রমে ছেড়ে দেয়, তবে সে সাহু সাজদাহ দেবে। এগুলোর সংখ্যা ৮টি।
আর সুন্নাতগুলো পালন করা উত্তম। যদি সেগুলো ছুটে যায়, তবুও সালাত সহীহ হয়ে যাবে। এগুলোর সংখ্যা অনেক।
* পাঠ উপস্থাপন :
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীদের পাঠটি পর্যবেক্ষণ করতে এবং এর বিষয়বস্তু বাছাই করতে তিন মিনিট সময় দিন। তারপর তাদেরকে পাঠের বিষয়বস্তু সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বলুন, তাদের প্রশ্নগুলো গ্রহণ করে সেগুলো নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন। আর এই সময় উত্তর সম্পর্কিত শরয়ী দলিলগুলো ব্যাখ্যা করুন। নিম্নবর্ণিত প্রশ্নগুলো তাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
প্রশ্নঃ সালাতের রুকনসমূহ ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্ন : সালাতের ওয়াজিবসমূহ উল্লেখ কর।
ধাপ (২)
ব্যবহারিক উপস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে; শিক্ষার্থীদের সামনে সালাতের রুকনসমূহ ব্যবহারিক আকারে দেখান এবং এই উপস্থাপনায় কিছু ব্যাখ্যামূলক চিত্র অন্তর্ভুক্ত করুন। তাদের মধ্যে থেকে দু’জন ছাত্রকে বেছে নিন, যেন তারা আপনার কাছ থেকে সালাতের রুকনসমূহ যেভাবে দেখেছে ঠিক সেভাবে আদায় করতে পারে। আর তাদের সহপাঠীরা তাদের উভয়ের সালাত সম্পাদন অনুসরণ করবে, যাতে তার যথার্থতা প্রমাণিত হয়।
ধাপ (৩)
ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন, যাতে সেগুলোর মাঝে পার্থক্য নির্ণিত হয় এবং পাঠে উল্লিখিত সালাতের ওয়াজিবসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলীর ক্ষেত্রে সেগুলোর সামঞ্জস্যতা ও অসামঞ্জস্য সুস্পষ্ট হয়।
কোন এক ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, তাড়াহুড়া করে সালাত আদায় করাতে কোন সমস্যা নেই।
সালাত আদায়কারী বাঁকা হবে যাতে সে রুকু করার সময় তার হাতদ্বয় তার হাঁটুর উপর রাখতে পারে।
কিছু বাবা-মা তাদের সন্তানদের সালাত পড়তে বাধ্য করেন।
কেউ কেউ মনে করেন যে, দুই সিজদার মাঝে বসা সালাতের একটি মুস্তাহাব বিষয়।
কেউ কেউ মনে করেন যে রুকু করার সময় "আল্লাহু আকবার" বলা সালাতের রুকনের অন্তর্ভুক্ত।
* উপসংহার:
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার পাঠ থেকে কী শিখেছে এবং সেই জ্ঞানের আলোকে তাদের জীবনে কী প্রয়োগ করা উচিত তার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে তৈরি করতে বলুন এবং শিক্ষার্থীদের ভাল শব্দশৈলী ও বাস্তব প্রয়োগযোগ্য উত্তরগুলোকে উৎসাহিত করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, সালাতের রুকনগুলো খুঁজে বের করা এবং যারা তাড়াহুড়া করে সালাত আদায় করে তাদেরকে উপদেশ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ২, ৫
সহপাঠীদের সামনে বইয়ে থাকা হাদীসটি পড়ার জন্য ছাত্রদের মধ্যে হতে একজনকে বেছে নিন এবং তাদের সবাইকে হাদীসটি অনুসরণ করতে ও এর উদ্দেশ্য নিয়ে চিন্তা করতে বলুন। তারপর তাদের প্রত্যেককে পৃথকভাবে হাদীসে উল্লিখিত সালাতের রুকনগুলো বের করার জন্য নির্দেশ করুন এবং সহপাঠীদের সামনে সঠিক উত্তর পড়ার জন্য একজন ছাত্রকে বেছে নিন।
তাকবিরে তাহরিমা- রুকু করা- রুকু থেকে উঠা- সিজদা করা- সিজদা থেকে সোজা হওয়া - দুই সিজদার মাঝখানে বসা- ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা।
হাদীসে বর্ণিত নির্দেশনার আলোকে যে ব্যক্তি সালাত আদায় করার সময় তাড়াহুড়া করে তার জন্য একটি বাক্য লিখতে প্রত্যেক ছাত্রকে নির্দেশ দিন। আর তাদের লেখাগুলো জানতে ছাত্রদের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করুন। শব্দচয়ন, চিন্তাভাবনা ও প্রভাবের দিক থেকে সেরা বাক্যটি চয়ন করুন এবং সেটি তার সহপাঠীদের সামনে পড়ার জন্য তার লেখককে দায়িত্ব দিন। শিক্ষার্থীদেরকে সেটি প্রচার করার জন্য নিজেদের মধ্যে বিনিময় করতে বলুন।
কার্যক্রম নং 2 ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে/দুইজন দুইজন করে, সঠিকভাবে সালাত আদায় করা।
লক্ষ্য নং ৪, ৫
একজন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাকে সালাতের প্রথম রাকাত আদায়ের পদ্ধতি বর্ণনা করতে বলুন। সাথে তার কর্ম অবগত হতে ও তাতে থাকা ত্রুটি নির্ণয় করতে তার সহপাঠীরা তাকে পর্যবেক্ষণ করবে। সে ভুল করলে অন্য একজনকে সালাতের সঠিক পদ্ধতি বর্ণনার জন্য বেছে নিন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের খাতায় নিম্নের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলুন।
খাতাগুলো সংগ্রহ করুন, তারপর ছাত্রদেরকে মৌখিকভাবে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করুন, যেন সেগুলোর সমাধান করে নেয় এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
খাতাগুলো সংশোধন করুন এবং প্রতিটি প্রশ্নের জন্য উপযুক্ত নাম্বার প্রদান করুন।
সর্বোচ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করুন এবং তাকে যথাযথ উৎসাহ প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১: (×) - (√) – (√) - (×) - (√)
প্রশ্ন ২: (সালাতের ওয়াজিবসমূহ) - (রুকনসমূহ) - (সাত অঙ্গ)।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তাদের বাস্তব জীবন ও তাদের আচার আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিন:
সালাতের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ সঠিকভাবে প্রয়োগ করাসহ নিয়মিত সালাত আদায় করতে ছাত্রদেরকে উৎসাহিত করা এবং পরিবারের সদস্য ও আশেপাশের লোকদেরকে সেই শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ সম্পর্কে অবহিত করা। এর জন্য সালাতের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি প্রচারপত্র তৈরি করা এবং নিজেদের ইলমের যাকাত স্বরূপ তাদের মধ্যে তা বিতরণ করা।
চতুর্থ পাঠ: সালাতের সুন্নাত ও সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((الاستفتاح ) আরম্ভ করা, (التعوُّذ ) আশ্রয় চাওয়া, (القهقهة) অট্ট হাসি)।
শিক্ষামূলক উপকরণ:
(শিক্ষামূলক ছবি - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)
পাঠদান কৌশল:
(পারস্পরিক বিনিময় পদ্ধতিতে শিক্ষাদান: "ভবিষ্যদ্বাণী - প্রশ্ন করা - ব্যাখ্যাকরণ- সংক্ষিপ্তকরণ" - ব্যবহারিক প্রদর্শন - ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ)।
মূল্যায়ন ও দিকনির্দেশনা:
সালাত ও তার সুন্নাতসমূহ সংরক্ষণ করা
সালাত বাতিলকারী বিষয়সমূহ বর্জন করা।
সালাতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা।
* পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক! আজকের পাঠকে (সালাতের হুকুম) সংক্রান্ত পূর্বের পাঠের সাথে যুক্ত করে দারসের ভুমিকা উপস্থাপন করুন। তাদেরকে বলুন যে আমরা পূর্বে সালাতের রুকন, ওয়াজিব ও শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা করেছি। সুতরাং কে আমাদেরকে সেগুলো স্মরণ করিয়ে দিতে পারবে? এরপর তাদের কাছ থেকে উত্তর গ্রহণ করুন। তারপর তাদের বলুন যে, আজকের পাঠে আমরা সালাতের সুন্নাত ও সালাত বাতিলকারী বিষয়সমূহ নিয়ে কথা বলব। অতঃপর আপনি বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
* পাঠ উপস্থাপন :
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীরা পাঠের উদ্দেশ্য এবং শিরোনাম জানার আলোকে, পাঠে অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে পূর্বাভাস করতে বলুন, তারপর তাদের সামনে পাঠের বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারার একটি ব্যাখ্যামূলক মানচিত্র দেখান, যাতে তারা যা উপস্থাপন করছে এবং বাস্তবে পাঠ যা অন্তর্ভুক্ত করেছে তার মাঝে তুলনা করতে পারে।
ধাপ (২)
শিক্ষার্থীদের পাঠটি পর্যবেক্ষণ করতে এবং এর বিষয়বস্তু বাছাই করতে তিন মিনিট সময় দিন। তারপর তাদেরকে পাঠের বিষয়বস্তু ও পাঠ থেকে তারা কি জানতে চায় সে সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বলুন। তাদের প্রশ্নগুলো গ্রহণ করুন এবং তা একটি বোর্ডে লিখুন। তারপর সেগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করুন, পাঠের সমস্ত উপাদানগুলোর সাথে পরিচিত করতে আপনার পক্ষ থেকে কিছু প্রশ্ন দিয়ে তাদেরকে সমৃদ্ধ করুন। এই সময় এই প্রশ্নের উত্তরগুলোর সাথে সম্পর্কিত শরয়ী দলিলগুলো ব্যাখ্যা করুন। নিম্নবর্ণিত প্রশ্নগুলো তাতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
প্রশ্নঃ সালাতের সুন্নাতের প্রকারভেদ উল্লেখ কর।
প্রশ্নঃ সালাতের মৌখিক সুন্নাতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হল,:.........,.........,........,.........,......
সালাতের কর্মগত সুন্নাতগুলোর অন্তর্ভুক্ত হল:.......,............,...........
প্রশ্নঃ সালাত ভঙ্গকারী বিষয়গুলো উপস্থাপন কর।
ধাপ (৩)
ব্যবহারিক উপস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে; শিক্ষার্থীদের সামনে সালাতের সুন্নাতসমূহ ব্যবহারিক আকারে দেখান এবং এই উপস্থাপনায় কিছু ব্যাখ্যামূলক চিত্র অন্তর্ভুক্ত করুন। তারপর দু’জন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাদের অযুর ব্যাপারে নিশ্চিত হোন, যাতে তারা আপনার কাছ থেকে সালাতের রুকনগুলো যেভাবে দেখেছে ঠিক সেভাবে আদায় করতে পারে। আর তাদের সহপাঠীরা তাদের উভয়ের কর্ম সম্পাদন পর্যবেক্ষণ করবে, যাতে তার যথার্থতা প্রমাণিত হয়।
ধাপ (৪)
ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন, যাতে সেগুলোর মাঝে পার্থক্য নির্ণিত হয় এবং পাঠে উল্লিখিত সালাতের বিশুদ্ধতার সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানাবলীর ক্ষেত্রে সেগুলোর সামঞ্জস্যতা ও অসামঞ্জস্য সুস্পষ্ট হয়।
একজন ব্যক্তি বিশ্বাস করেন যে, দুটি সিজদার মধ্যে একটি আদায় করাই যথেষ্ট।
কোন কোন মুসলিম তাসবীহ, তাসমীহ, তাহমীদ অবহেলা বশত পরিত্যাগ করে।
কিছু যুবক সালাত পড়ার সময় কিছু খাবার চিবান।
* উপসংহার:
ভূমিকায় উপস্থাপিত সালাতের প্রভাব সম্পর্কে যে বিষয়গুলো শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করেছিল তা পর্যালোচনা করার জন্য শিক্ষক তাদেরকে নির্দেশ দিবেন এবং কিছু ছাত্রের পাঠ শেখার আগে ও পরের উত্তরগুলো জানবেন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার পাঠ থেকে কী শিখেছে এবং সেই জ্ঞানের আলোকে তাদের জীবনে কী প্রয়োগ করা উচিত তার ওপর একটি সংক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে তৈরি করতে বলুন এবং শিক্ষার্থীদের ভাল শব্দশৈলী ও বাস্তব প্রয়োগযোগ্য উত্তরগুলোকে উৎসাহিত করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, ছাত্রদেরকে সালাত বাতিলকারী বিষয়গুলোর মাঝে পার্থক্য করার প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ৪
ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন এবং প্রতিটি গ্রুপকে কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন। দলগুলোর কার্যক্রমটি শেষ করার পর শিক্ষার্থীদের সামনে তালিকার কর্মগুলো পেশ করুন এবং তার সম্পর্কে প্রতিটি গ্রুপের উত্তর জানুন। তারপর সেরা উত্তরদাতা দলটিকে চিহ্নিত করে তার সদস্যদের উপযুক্ত সমর্থন দিন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, সালাত বাতিলকারী বিষয়গুলো সাব্যস্ত করা।
লক্ষ্য নং ৪, ৫
একজন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাকে দ্বিতীয় কার্যক্রমের হাদীসটি পড়তে বলুন। আর তার সহপাঠীরা তাকে অবশ্যই অনুসরণ করবে, সালাত বাতিলকারী বিষয় সাব্যস্ত করার জন্য। তার ভুল হলে, সঠিক উত্তর সাব্যস্ত করার জন্য অন্য একজন ছাত্রকে বেছে নিন।
কার্যক্রম নং: ৩ ধরন ও লক্ষ্য: সমষ্টিগতভাবে, সালাতের কিছু কর্মের হুকুম বর্ণনা করা।
লক্ষ্য নং: ২
প্রতিটি গ্রুপকে তৃতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদন করতে এবং এতে থাকা কর্মগুলোর হুকুম নির্ধারণ করতে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ করুন। আর পর্যায়ক্রমে প্রতিটি কর্মকে উপস্থাপন এবং তার ব্যাপারে প্রতিটি দলের হুকুম জানুন।
কোন দলটি সঠিক উত্তর দিতে অধিক সক্ষম তা নির্ধারণ করে দলগুলোর উত্তরমমূহের মাঝে তুলনা করুন।
কর্ম শর্ত রুকন সুন্নাত ওয়াজিব
কাপড়ের পবিত্রতা।
“রব্বানা- ওয়া লাকাল হামদ” (ربنا ولك الحمد) বলা।
সূরা ফাতিহা পড়া।
আমীন বলা।
সিজদাতে “সুবহানা রাব্বিয়াল ‘আলা” (سبحان ربي الأعلى) বলা।
সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের খাতায় নিম্নের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলুন।
খাতাগুলো সংগ্রহ করুন, তারপর ছাত্রদেরকে মৌখিকভাবে প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করুন, যেন সেগুলোর সমাধান করে নেয় এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
খাতাগুলো সংশোধন করুন এবং প্রতিটি প্রশ্নের জন্য উপযুক্ত নাম্বার প্রদান করুন।
সর্বোচ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করুন এবং তাকে যথাযথ উৎসাহ প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১: (না) - (হ্যাঁ) - (হ্যাঁ) - (হ্যাঁ)।
প্রশ্ন ২: (রাকাত) - (হাত উত্তলোন করা) - (সঠিক)।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তাদের বাস্তব জীবন ও তাদের আচার আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিন:
সালাতের সুন্নাতসমূহ সঠিকভাবে প্রয়োগ করা এবং সালাত বাতিলকারী বিষয়সমূহ জানাসহ নিয়মিত সালাত আদায় করতে ছাত্রদেরকে উৎসাহিত করা এবং পরিবারের সদস্য ও আশেপাশের লোকদেরকে সালাতের সেই সুন্নাতসমূহ ও বাতিলকারী বিষয় সম্পর্কে অবহিত করা। এর জন্য সালাতের সুন্নাত ও বাতিলকারী বিষয়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি প্রচারপত্র তৈরি করা এবং নিজেদের ইলমের যাকাত স্বরূপ তাদের মধ্যে তা বিতরণ করা।
তাদের আশেপাশের লোকেদের মধ্যে পরিলক্ষিত সালাত সম্পর্কিত ভুল আচরণগুলো সংশোধন করা। সাথে উপযুক্ত শিক্ষামূলক পদ্ধতিতে ভুল সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করা ও তা সংশোধন করার পদ্ধতি বর্ণনা করার প্রতি যত্নবান হওয়া।
পঞ্চম পাঠ: জামা‘আতে সালাত আদায়
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((الجماعة ) জামাত - (الفذ ) একাকী - (غدا ) আগামীকাল - (وَحُطَّ) ক্ষমা করা হবে।)।
পাঠদান উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ফ্ল্যাশকার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(আবিষ্কারের মাধ্যম শিক্ষা পদ্ধতি - নির্দেশনামূলক মানচিত্র - শিক্ষণীয় বৃত্ত পদ্ধতি)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
• জামাতের সাথে সালাত আদায়ের গুরুত্ব অনুধাবন করা।
• জামাতবদ্ধভাবে সালাত আদায় করতে আগ্রহী হওয়া।
• মর্যাদা বৃদ্ধি ও পাপ মোচনের বিষয়ে আগ্রহী হওয়া।
পাঠের ভূমিকা:
পূর্ববর্তী পাঠে যা অধ্যয়ন করা হয়েছে (শর্ত, রুকন, সুন্নাহ এবং সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ ) তা পুনরায় স্মরণ করতে এবং বর্তমান পাঠের সাথে তাকে সংযুক্ত করতে; একজন ছাত্রকে বেছে নিন এবং বইয়ে থাকা ছবিটি বোর্ডে প্রদর্শন করুন। সাথে ছবিটির বিষয়ে মন্তব্য করুন এবং আগের দারসগুলোতে কী অধ্যয়ন করা হয়েছে আর বর্তমান পাঠে কী উপস্থাপন করা হবে তা তুলে ধরুন। তারপর আপনি তাদের বলুন যে জামাতের সাথে সালাত হল একজন মুসলিমের জান্নাতে প্রবেশ করার অন্যতম উপায়। আজকের পাঠে আমরা এর কিছু প্রভাব এবং ফযীলত ব্যাখ্যা করব। তারপর আপনি বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আবিষ্কারের মাধ্যম শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষক নিম্নলিখিত হাদীস এবং এতে থাকা প্রশ্নটি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন:
“যে ব্যক্তি সকালে এবং সন্ধ্যায় সালাত আদায় করতে মসজিদে যায় এবং যতবার যায় আল্লাহ তা’আলা ততবারই তার জন্য জান্নাতের মধ্যে মেহমানদারীর উপকরণ প্রস্তুত করেন।” এর গুরুত্বপূর্ণ বিধান কি কি?)
তিনি তাদের কাছে উত্তরের সাথে সম্পর্কিত একাধিক বিকল্প উপস্থাপন করবেন, যেমন: (একজন বিবেকবান প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর জামাতের সাথে সালাত আদায় করা ওয়াজিব; সালাতের জামাত সংগঠিত হওয়ার জন্যে সর্বনিম্ন সংখ্যা হল ইমামসহ দু'জন)। তারা সঠিক উত্তর বেছে নেওয়ার পর তিনি তাদের জন্য জামাতের সাথে সালাতের সঠিক বিধান ব্যাখ্যা করবেন।
ধাপ (২)
শিক্ষক চারটি শিক্ষামূলক কার্ড প্রদর্শন করবেন। প্রতিটি কার্ড জামাতের সাথে সালাত আদায় করার একটি করে ফযীলত প্রকাশ করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের চারটি দলে বিভক্ত করবেন। প্রতিটি দল একটি কার্ড নিয়ে চিন্তা করবে এবং এতে কী আছে তা ব্যাখ্যা করবে। তারপর কার্ডটি যে ফযীলত নির্দেশ করে তা উল্লেখ করবে।
ধাপ (৩)
শিক্ষণীয় বৃত্ত পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষক ছাত্রদেরকে বৃত্তাকারে বসে জামাতের সাথে সালাত আদায় করার সবচেয়ে বড় সাওয়াব নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার নির্দেশ দিবেন এবং তিনি ছাত্রদের কর্মতৎপরতা পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রতিটি বৃত্তের একজন সদস্যকে তার দল কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন করার দায়িত্ব দেওয়া হবে, সাথে তাদের উত্তর নিয়ে পর্যলোচনা করা হবে। তারপর তাদের সামনে এই সাওয়াবের হাকিকত ব্যাখ্যা করবেন এবং কিছু ছাত্রকে বেছে নিবেন তাদের সহপাঠীদের সামনে মৌখিকভাবে এটি উল্লেখ করার জন্য।
ফলাফল:
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠের বিষয়বস্তুর জন্য একটি ফাঁকা নির্দেশনামূলক মানচিত্র উপস্থাপন করবেন। তারপর তাদের মধ্যে কাউকে এটিতে যে বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে তার মধ্যে একটি লিখতে বেছে নিন, সাথে সে বিষয়টির ব্যাখ্যা করবে এবং যদি সে সেই উপাদানটি খুঁজে পেতে অক্ষম হয়; অন্য কেউ বইটির বিষয়বস্তু পুনরায় অধ্যয়ন করে তার উত্তর দিবে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকার ফযীলত স্পষ্ট করা।
লক্ষ্য নং ৪
শিক্ষক ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিবেন এবং প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজনকে বাছাই করবেন হাদীস ও পাঠের মাঝে সম্পর্ক স্থাপন এবং তার থেকে শিক্ষণীয় বিষয় সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে তার গ্রুপ কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন করার জন্য।
শিক্ষক বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাই করতে সবচেয়ে সক্ষম গ্রুপটিকে চিহ্নিত করে গ্রুপগুলোর কর্মতৎপরতার বিষয়ে মন্তব্য করবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, জামাতের সাথে সালাত আদায়ে আগ্রহী হওয়া।
লক্ষ্য নং ৩, ৪
প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করুন যাতে কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাদের উত্তর দেওয়া শেষ হলে কার্ডগুলো সংগ্রহ ও সংশোধন করুন, তারপর সেরা উত্তরটি চয়ন করুন। আর তার সাথে ছাত্রদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তা উপস্থাপন করুন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য সমবেতভাবে, জামাতের সাথে সালাত ত্যাগ করার কারণগুলো জানা।
লক্ষ্য নং ৪
তৃতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য ছাত্রদের প্রতিটি দলকে নির্দেশ দিন এবং প্রতিটি গ্রুপের সদস্যদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্রুপগুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন। তারপর প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন ব্যক্তিকে বেছে নিন তার দল কী করেছে তা উপস্থাপন করতে; সাথে তাদের মধ্যে তুলনা করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরদাতা ও জামাতের সালাত পরিত্যাগ না করার জন্য উপযুক্ত সমাধান দিতে সক্ষম গ্রুপটি নির্ধারণ করুন। তাদেরকে সেই সমাধান পদ্ধতি জানতে এবং তা সমাজে প্রচার করার চেষ্টা করতে উদ্বুদ্ধ করুন।
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
আপনি পাঠে উল্লিখিত প্রশ্নগুলো পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করুন।
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বেছে নিন এবং তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন ও সেগেুলোর মাঝে তুলনা করে করুন। সাথে সহপাঠীদেরকে তাদের উত্তরগুলো মূল্যায়ন করার সুযোগ দিন।
উত্তর দেওয়া শেষ করার পর ছাত্রদেরকে তা বইয়ে লিখার নির্দেশ দিন এবং তারা কোন প্রশ্নে আটকে গেলে আপনার স্মরণাপন্ন হতে বলুন।
প্রশ্ন ১: (X) - (√) - (X) - (√)
প্রশ্ন ২: শিশু - ওয়াজিব - মধ্যরাত
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
অধ্যয়কৃত বিষয়ের আলোকে শিক্ষার্থীদের নিম্নের বিষয়ে সতর্ক করা বাঞ্ছনীয়:
প্রতিটি শিক্ষার্থী পাঠে অন্তর্ভুক্ত শরয়ী দলিলগুলো পুনরায় পড়বে; যা সালাতের ফযীলত নির্দেশ করে এবং বিভিন্ন উৎসের স্মরণাপন্ন হয়ে অন্যান্য দলিল সম্পর্কে শিখবে, সেগুলি ধর্মীয় বই, ধর্মীয় আলিম বা ইলেকট্রনিক উৎস হোক না কেন। যতক্ষণ না প্রতিটি ছাত্র এই দলিলগুলো উপলব্ধি করে এবং সেগুলোর মাধ্যমে জামাতের সাথে সালাত আদায় করার গুরুত্ব অনুভব করে। আর তার চারপাশের লোকদেরকে সেগুলো মেনে চলার ও প্রয়োগ করার দিকগুলো সম্পর্কে নির্দেশনা ও সতর্কতা দেওয়ার চেষ্টা করবে যাতে তারা সেগুলো অন্যদের কাছে পৌঁছে দিতে পারে... এবং এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না ব্যাপক জ্ঞান অর্জিত হয়।
ষষ্ঠ পাঠ: জুমু‘আর সালাত
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((التَّطيُّب ) সুগন্ধি - (مَسَّ الْحَصَى) নুড়ি (পাথর) স্পর্শ করা - (لَغَا) বেহুদা কর্ম করা।
শিক্ষা সামগ্রী:
(অডিও মাধ্যম - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড - ব্ল্যাকবোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সূচনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন - আবিষ্কারের মাধ্যম শিক্ষা - ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ পদ্ধতি
।)
মূল্যায়ন এবং দিকনির্দেশনা:
জুমাু‘আর সালাতের মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
জুমাু‘আর সালাত আদায়ে আগ্রহী থাকা।
জুমাবারের শিষ্টাচারের প্রয়োগ করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের একটি মসজিদের ছবি দেখান যেখানে জুমার দিনে লোকেরা চুপচাপ বসে খতীবের কথা শুনছে। তারপর তাদের নিম্নের প্রশ্নটি করুন: তুমি কি জুমার খুতবা দেওয়ার বিষয়ে কখনো চিন্তা করেছো? তাদের কাছ থেকে এর উত্তর নিন। তারপর তাদেরকে পাঠের বিষয়বস্তুতে নিয়ে যান এবং বোর্ডে এর শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
সূচনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষার্থীদের একটি ডিসপ্লে স্ক্রিনে পাঠের বিষয়বস্তুর একটি চিত্র দেখান এবং তাদের এটি নিয়ে চিন্তা করতে ও প্রতিটি উপাদানের বিষয়বস্তু সম্পর্কে অনুমান করতে বলুন।
জুমার সালাত এবং এর হুকুম সম্পর্কে ছাত্রদের জানা তথ্য নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন। এর আগে তাদের কেউ কি জুমার খুতবা দিয়েছে এবং দিয়ে থাকলে কি বিষয়ে কথা বলেছে? আর এ ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান প্রয়োগ করার পরিধি কতটুকু ছিল।
ধাপ (২)
আবিষ্কারের মাধ্যমে শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক নিম্নলিখিত বাক্যটি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন। তারপর এটি কী নির্দেশ করে তা তাদেরকে ব্যাখ্যা করতে বলবেন এবং তাদের সাথে জুমু‘আর সালাতের বিবরণ নিয়ে আলোচনা করবেন।
(এটি যোহরের সময় আদায় করা হয়। ইমাম এতে দুটি খুতবা দেন, তারপর লোকদেরকে নিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন; যেখানে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করেন।)
ধাপ (৩)
ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে; ছাত্রদের পর্যায়ক্রমে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলো দেখান এবং তার সম্পর্কে তাদের মতামত ও পাঠ থেকে তারা যা শিখেছে সে অনুসারে তা কতটা জায়েয তা ব্যাখ্যা করতে বলুন:
উসামা মসজিদে জুমার সালাত পড়েন না এই অজুহাতে যে তার বাড়ি মসজিদের পাশেই এবং সে বাড়িতে বসেই ইমামের পিছনে সালাত আদায় করবে।
একজন সহপাঠী মনে করেন যে জুমার দিন ঘুম এবং বিশ্রামের জন্য খাস।
জুমার দিন খালেদ গোসল করেন, সুগন্ধি লাগান এবং সালাত ও খুতবাতে অংশ নেওয়ার জন্য উত্তম পোশাক পরিধান করেন।
আহমাদ জুমার খুতবা শুনতে বসেছিলেন, এ সময় তার প্রতিবেশী তাকে সালাম জানাল এবং সে তার সালামের উত্তর দিল ও তার সাথে মুসাফাহ করল।
ফলাফল:
প্রতিটি ছাত্রকে একটি সুবিন্যাস্ত মানচিত্র তৈরি করার জন্য দায়িত্ব দিন যার মাধ্যমে পাঠ থেকে অর্জিত শিক্ষার আলোকে সে জুম‘আর সালাতের বিধান ও তার আদবগুলো ব্যাখ্যা করবে। আর ছাত্রদের নকশা সম্পর্কে জানতে তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করুন এবং সবার সামনে উপস্থাপন করার জন্য সবচেয়ে সঠিক, আকর্ষণীয় এবং স্পষ্ট নকশাটি চয়ন করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, জুমু‘আর আদবগুলো স্পষ্ট করা।
লক্ষ্য নং ১
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছু কার্ড বিতরণ করবেন, প্রতিটি কার্ডে নিম্নলিখিত শব্দগুলোর মধ্যে একটি থাকবে (أواظب عليها – أقوم بها أحيانًا – سأقوم بها) (আমি এটি নিয়মিত করি - আমি এটি কখনও কখনও করি - আমি এটি করব), এবং কার্যক্রমের প্রতিটি বাক্যাংশ পর্যায়ক্রমে পড়বেন এবং তাদেরকে বাক্যাংশের সাথে উপযুক্ত কার্ডটি উপরে তুলতে বলবেন। তাদের উত্তরগুলো অবগত হবেন এবং তা মূল্যায়ন করবেন। আর যে ভুল উত্তর দেয় তার সাথে আলোচনা করবেন এবং তাকে যুক্তিসহকারে সঠিক উত্তর জানাবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, জুমু‘আর খুতবা প্রদানের পদ্ধতি জানা।
লক্ষ্য নং ৩
ছাত্রদের তাদের বইতে থাকা নিম্নের কার্যক্রমটি পড়তে নির্দেশ দিন এবং কার্যক্রম পরবর্তী প্রশ্নগুলো তাদের সামনে পেশ করুন।
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য তাদের মধ্যে একজনকে বেছে নিন এবং তার উত্তরগুলো গ্রহণ করুন আর সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য সেগুলোর মাঝে তুলনা করুন। আর প্রত্যেককে তাদের বইয়ে উত্তরের জায়গায় তা লিখতে বলুন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, জুমু‘আর সালাত পরিত্যাগ করার ভয়াবহতা এবং তার সমাধান খুঁজে বের করা।
লক্ষ্য নং ৪, ৫
কার্যক্রমে থাকা হাদীসটি বোর্ডে লিখে রাখা উত্তম, আর এটি পড়ার জন্য একজন ছা্ত্রকে বেছে নিন, তারপর সে বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন। অতঃপর জুমু‘আর সালাত ছেড়ে দেওয়ার বিপদ এবং কিছু কিছু যুবকের তা পালনে অবহেলা করার সমাধান কিভাবে করা যায় সে বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য ইলেকট্রনিক উৎসগুলোর স্মরণাপন্ন হয়ে কার্যক্রমটি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানার্জনের জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নির্দেশ দিন। আর আপনি এই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মতৎপরতা ও পরবর্তী সাক্ষাতে তারা কী সিদ্ধান্তে পৌঁছে তা পর্যবেক্ষণ করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থী পৃথকভাবে তাদের উত্তর দিবে। তারপর শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে সঠিক উত্তর উপস্থাপন করবেন এবং প্রত্যেককে তার উত্তরের উপযুক্ত নাম্বার দিতে বলবেন। তারপর তিনি তাদের নাম্বারগুলো এবং তারা কি ভুলগুলো করেছে তা জানবেন।
প্রশ্ন ১: () - () - ()
প্রশ্ন ২: জুমু‘আ - গোসল করা এবং সুগন্ধি লাগানো - নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত পাঠ করা।
প্রতি দু’জন ছাত্র তৃতীয় ও চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে এবং মূল্যায়ন করার জন্য প্রতিটি দল তার উত্তর অন্য দলের সাথে বিনিময় করবে। শিক্ষক প্রতিটি দল অন্য দলের নিকট যে ভুলগুলো অবগত হয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো সংশোধন করা যায় সে সম্পর্কে জানবেন। আর ভুলকারী দলকে ত্রুটি সংশোধন করে উত্তরটি পুনরাবৃত্তি করতে বলবেন।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
প্রত্যেক ছাত্র তার সমাজের বাস্তবতা যাচাই করবে যেন স্পষ্ট হয় যে, তার সমাজ কতটুকু জুমু‘আর সালাতের হুকুমসমূহ ও আদব পালন করে ও প্রয়োগ করে। এই বিষয়টি কী হওয়া উচিত সে সম্পর্কে তার মতামত প্রকাশ করবে এবং তা নিয়ে তার পরিবারের কিছু সদস্যের সাথে আলোচনা করবে।
সপ্তম পাঠ: নফল সালাত
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((صلاة التطوع) নফল সালাত - (التطوع المطلق) সাধারণ নফল - (صلاة الوتر) বিতরের সালাত - (صلاة التراويح) তারাবির সালাত -(صلاة الضحى) চাশতের সালাত)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ফ্ল্যাশকার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
( ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি - কাল্পনিক মানচিত্র - সংক্ষিপ্তকরণ)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
o নফল সালাতের গুরুত্ব ও তার ফজিলতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
o সুন্নাত সালাতসমূহ আদায়ের প্রতি যত্নশীল থাকা।
o নিয়মিত নফল সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা।
o প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল পাপ ও অবাধ্যতা পরিহার করা।
নফল সালাতের ফযীলত অনুভব করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সামনে নিম্নোক্ত হাদীস পেশ করে পাঠের ভুমিকা উপস্থাপন করুন:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামতের দিন মানুষের ’আমলসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম তাদের সালাতের হিসাব নেয়া হবে। আমাদের মহান রব্ব বান্দার সালাত সম্পর্কে জানা সত্ত্বেও ফিরিশতাদের জিজ্ঞেস করবেন দেখো তো সে তা পরিপূর্ণভাবে আদায় করেছে নাকি তাতে কোন ত্রুটি রয়েছে? অতঃপর বান্দার সালাত পূণার্ঙ্গ হলে পূণার্ঙ্গই লিখা হবে। আর যদি তাতে ত্রুটি থাকে তাহলে মহান আল্লাহ ফিরিশতাদের বলবেন, দেখো তো আমার বান্দার কোন নফল সালাত আছে কিনা? যদি থাকে তাহলে তিনি বলবেনঃ আমার বান্দার ফরয সালাতের ঘাটতি তার নফল সালাত দ্বারা পরিপূর্ণ করো। অতঃপর সকল আমলই এভাবে গ্রহণ করা হবে (অর্থাৎ নফল দ্বারা ফারযের ত্রুটি দূর করা হবে)”। (আবূ দাঊদ, ৮৬৪, তিরমিযী ৪১৩)
তাদেরকে হাদীস থেকে নফল সালাতের গুরুত্ব সাব্যস্ত করতে বলুন এবং তাদের উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন। তারপর তাদেরকে পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান, অতঃপর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নফল সালাতের সংজ্ঞা এবং এর প্রকারগুলোর বিবরণ দিতে নির্দেশ দিবেন। তিনি তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করবেন, তারপর এই প্রকারগুলো অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সামনে একটি কাল্পনিক মানচিত্র উপস্থাপন করবেন; যাতে তারা সেগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারে এবং উপস্থাপিত বিষয়বস্তুর সাথে তাদের উত্তরগুলোর তুলনা করতে পারে।
ধাপ (২)
শিক্ষক ছাত্রদেরকে পাঠের বিষয়বস্তু নিরীক্ষণ করতে এবং এর উপাদানগুলো জানতে নির্দেশনা দিবেন।
প্রতি দু’জন ছাত্রকে পাঠের বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারার সাথে সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হবে; যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে তাদের নিকট থাকা অস্পষ্টতাগুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপনি প্রতিটি দলের প্রশ্নগুলো জানুন এবং তা বোর্ডে লিখুন।
ধাপ (৩)
শিক্ষক ছাত্রদের প্রশ্নের গঠন সংশোধন করবেন এবং পাঠের সমস্ত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিজ থেকে কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে সেগুলোকে সমৃদ্ধ করবেন।
তিনি প্রশ্নগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যাখ্যা ও আলোচনার করবেন। আর এর মাঝে উত্তর নির্দেশকারী শরয়ী দলিলগুলো উপস্থাপনা করবেন। এতে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো থাকতে পারে:
প্রশ্নঃ বিতর সালাত বলতে কী বুঝায়?
প্রশ্ন: সুনানে রাওয়াতিব বলতে কী বুঝায়?
প্রশ্ন: গুরুত্বপূর্ণ সুনানে রাওয়াতিবগুলো বর্ণনা করুন।
প্রশ্নঃ সেগুলো হলো আসরের সালাতের আগে চার রাকাত, মাগরিবের আগে দুই রাকাত এবং এশার সালাতের আগে দুই রাকাত। এই রাকাতগুলোকে কী বলা হয়?
প্রশ্নঃ তারাবীহর সালাত কখন পড়া হয়? এর হুকুম কি? এবং এটা কিভাবে পড়া হয়?
প্রশ্ন: সাধারণ নফল বলতে কি বুঝায়?
ধাপ (৪)
শিক্ষক বোর্ডে নিম্নলিখিত বাক্য দুটি লিখবেন:
(তা হলো নফল সালাত যা সূর্য কিছুটা উপরে উঠার পরে পড়া হয় - সূর্যোদয়ের কয়েক মিনিট পরে)।
(তা এমন সালাত যার মাধ্যমে একজন মুসলিম আল্লাহ তা‘আলার কাছে কোন বিষয়ে কল্যাণ পার্থনা করে যার মন্দ বা ভাল আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।)
তিনি ছাত্রদেরকে দু’টি সালাতের প্রত্যেকটি দ্বারা কী উদ্দেশ্য তা বর্ণনা করতে বলবেন এবং সঠিক উত্তর স্পষ্ট করার জন্য তারা যা পেশ করবে তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন, সাথে উভয় সালাতের সাথে সম্পর্কিত শরয়ী দলিলগুলো উপস্থাপন করবেন।
ফলাফল:
শিক্ষক ছাত্রদের একটি অনুচ্ছেদ লিখতে নির্দেশ দিবেন, যাতে তারা পাঠ থেকে যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো শিখেছে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তাদের মধ্যে কাউকে সে যা লিখেছে তা তার সহপাঠীদের সামনে পড়ার জন্য বেছে নিবেন এবং তাদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, নফল সালাত শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার হিকমত বর্ণনা করা।
লক্ষ্য নং ৫
প্রথম কার্যক্রমে উল্লিখিত হাদীস শরীফটি শোনার জন্য ছাত্রদেরকে নির্দেশ দিন এবং তাদের সহপাঠীদের সামনে এটি পড়ার জন্য দু‘জন ছাত্রকে বেছে নিন। তাদের সাথে এর অর্থ ও এটি কী বোঝায় তা নিয়ে আলোচনা করুন। তারপর প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে কার্যক্রমের প্রশ্ন দুটির উত্তর দিতে বলুন এবং যারা সৃজনশীলতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে তাদের উৎসাহিত করুন।
ফরয সালাতের ঘাটতি পূর্ণ করা।
ফরয সালাতে মানুষ ত্রুটি-বিচ্যুতি করে থাকে। আল্লাহর রহমত যে, তিনি বান্দার জন্য এমন কিছু নির্ধারণ করেছেন যা দিয়ে সে এই ত্রুটিগুলো পূরণ করতে পারে, আর তা হলো নফল সালাত।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, নফল সালাত ত্যাগ করার নেতিবাচক দিকগুলো বের করা।
লক্ষ্য নং ৬
কার্যক্রমে উল্লিখিত বাক্যটি শিক্ষার্থীদের সামনে পড়ুন এবং এটি পড়ার জন্য একজন দক্ষ ছাত্রকে বেছে নিন। তারপর এটি কী শিক্ষা দেয় তা বের করার জন্য এর শব্দাবলীর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করুন।
কার্যক্রমের প্রশ্নটি নিন এবং সঠিক উত্তর সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে এর উত্তর নিয়ে আলোচনা করুন। আর তাদের প্রত্যেকে যেন সঠিক উত্তরটি তার বইয়ে লিখে নেয়।
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
আপনি পাঠে উল্লিখিত প্রশ্নগুলো পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করুন।
প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন এবং তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন ও সেগুলোর তুলনা করুন। সাথে তাদের সহপাঠীদেরকেতাদের উত্তর মূল্যায়ন করার সুযোগ দিন।
প্রশ্ন ১: (✖) - (√) - (X) - (√)
প্রশ্ন ২: গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত - আট রাকাত - এগারো রাকাত
উত্তর দেওয়া শেষ করার পর ছাত্রদেরকে তা বইয়ে লিখার নির্দেশ দিন এবং তারা কোন প্রশ্নে আটকে গেলে আপনার স্মরণাপন্ন হতে বলুন।
তীয় ও চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন। গ্রুপগুলোর উত্তরগুলো সংগ্রহ করুন এবং সেগুলোর মূল্যায়ন করুন। সবচেয়ে সঠিক উত্তরদাতা দলকে চিহ্নিত করুন, তারপর সহপাঠীদের সামনে সঠিক উত্তর পড়ার জন্য একজন সদস্যকে বেছে নিন; যাতে প্রতিটি ভুলকারী তার ভুল সংশোধন করে নিতে পারে।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক নির্দেশনাঃ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা তাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
নফল সালাত অনুশীলন করার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা ও তাগিদ দেওয়া। আর নফল সালাত ও এর প্রকারগুলো সম্পর্কিত শরয়ী বিধান, নীতিমালা এবং নির্দেশাবলী নিয়ে ইসলাম আগমন করেছে তা আশেপাশের ব্যক্তিদের অবহিত করা।
অষ্টম পাঠ: যাকাত
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((الزَّكاة ) যাকাত - (الحول ) বছর - (النِّصاب ) নিসাব - (بهيمة الأنعام ) গবাদি পশু - (الوسق ) এক ওয়াসাক - (صاع ) এক সা' - (المؤلَّفة قلوبهم ) যাদের হৃদয় আকৃষ্ট হয় - (في الرِّقاب) ক্রীতদাসদের মুক্ত করার জন্য - (الغارمين ) ঋণগ্রস্ত - (ابن السَّبيل) পথিক - (صدقة التَّطوُّع) নফল দান)।
শিক্ষামূলক উপকরণ:
(পাঠে উল্লেখিত কিছু আয়াতের রেকর্ড সংবলিত একটি অডিও মাধ্যম - একটি শিক্ষামূলক বোর্ড - ব্ল্যাকবোর্ড - কিছু ফসল এবং ফল যেমন: গম, যব, চাল, খেজুর এবং কিশমিশ - শিক্ষামূলক ছবি)।
পাঠদান কৌশল:
(আবিষ্কারের মাধ্যমে শিক্ষা -আখ্যানমূলক পদ্ধতি - পূর্বাভাস)।
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
• যাকাতের হকদারদের প্রতি ইসলামের যত্নে গর্বিত হওয়া।
• নফল সদকার ফযীলতের গুরুত্ব অনুধাবন করা এবং তা সম্পাদন করতে আগ্রহী হওয়া।
• সময়মত যাকাত আদায়ে আগ্রহী থাকা।
* পাঠের ভূমিকা:
বোর্ডে নিম্নলিখিত বাক্যটি লিখুন:
(এটি ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। যে শরীয়তে নির্দিষ্ট অর্থের মালিক হবে তার উপর এটি ফরয।)
তাদের বোঝার আলোকে তাদের পাঠের শিরোনাম এবং এতে যে বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার সম্পর্কে অনুমান করতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন এবং তাদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন। তারপর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
* পাঠ উপস্থাপন :
ধাপ (১)
গ্রুপ আলোচনা পদ্ধতি ব্যবহার করে ছাত্রদের সাথে যাকাতের হুকুম এবং ইসলামে এর মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনা করুন। তাদের সুযোগ দিন এবং তাদেরকে সমর্থন দিন ও উৎসাহিত করুন।
ধাপ (২)
ছাত্রদেরকে এমন একটি কার্ড দেখান যাতে যাকাত শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার হুকুম রয়েছে। আর ফলাফল উদ্ঘাটন পদ্ধতি ব্যবহার করে তাদের সাথে যাকাত প্রয়োগের ফলাফল এবং সমাজে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করুন।
তারপর তাদের বইয়ে থাকা অনুচ্ছেদটি দেখান, যাতে তারা এটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু বের করতে পারে।
ধাপ (৩)
ছাত্রদেরকে অডিও মাধ্যমে নিচের আয়াতটি শোনার নির্দেশ দিন এবং তাদের সাথে এর শব্দের অর্থ নিয়ে আলোচনা করুন। তারপর তাদের সামনে যাকাতের হকদার ব্যক্তিদের প্রকারগুলো ব্যাখ্যা করুন, যেমনটি আল্লাহ তা‘আলার বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে: (إِنَّمَا ٱلصَّدَقَٰتُ لِلۡفُقَرَآءِ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱلۡعَٰمِلِينَ عَلَيۡهَا وَٱلۡمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمۡ وَفِي ٱلرِّقَابِ وَٱلۡغَٰرِمِينَ وَفِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِۖ فَرِيضَةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ) (التَّوبة: 60). সদকা তো শুধু ফকীর, মিসকীন ও সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তিতে, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য, আল্লাহ্র পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহ্র পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। ( সূরা আত-তাওবা: ৬০।)
* উপসংহার:
ছাত্রদের দু’জন দু‘জন করে বেশ কয়েকটি জুটি চয়ন করুন; যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী অন্য শিক্ষার্থীর কাছে পাঠের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত একটি প্রশ্ন করতে পারে, এবং প্রত্যেকে অপরের উত্তর গ্রহণ করে তা মূল্যায়ন করবে। সাখে তাদের উত্তরের জন্য আপনার নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ এবং তাদের সহপাঠীদের পর্যবেক্ষণ অনুসরণ করবে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, যাকাতের বিধান সম্পর্কে শরয়ী দলিলগুলো যা নির্দেশ করে তা বের করা।
লক্ষ্য নং ১, ৩
কার্যক্রমে উল্লিখিত প্রতিটি ফায়দা দুটি কার্ডে লিখুন, কার্ডগুলো এলোমেলোভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করুন, তারপর ফায়দাগুলো পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করুন, যাতে আপনি প্রতিটি ফায়দার সাথে সম্পর্কিত কার্ডধারী দুই শিক্ষার্থীর উত্তর জানতে পারেন এবং তাদের উত্তরগুলো মূল্যায়ন করুন। সাথে তাদের সহপাঠীদেরকে মূল্যায়ন করতে, সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে এবং সেগুলো তাদের বইয়ের নির্ধারিত কলামে লিপিবদ্ধ করতে সুযোগ দিন।
ফায়েদাসমূহ আয়াতগুলো থেকে প্রমাণিত বিষয়সমূহ
দান করার সওয়াব বৃদ্ধি পাওয়া। “... তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে রয়েছে একশ শস্যদানা।”
আল্লাহর পথে দানকারীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ “ তারপর যা ব্যয় করে তা বলে বেড়ায় না এবং কোন প্রকার কষ্টও দেয় না।”
কিয়ামাতের দিনে দানকারীদের মর্যাদা: “তাদের প্রতিদান রয়েছে রাদের রব-এর নিকট। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।”
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, ফিকহী মাসায়েল ব্যাখ্যা করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান।
লক্ষ্য নং ৫
একজন ছাত্রকে তার সহপাঠীদের সামনে কার্যক্রমটি পড়ার জন্য বেছে নিন, তারপর তাদের সাথে এটি নিয়ে আলোচনা করুন। প্রতিটি ছাত্রকে ইসলামী সমাজের অবস্থার অনুমান করতে বলুন যদি ইসলাম ধনী ব্যক্তিদের যাকাত দেওয়ার আদেশ না দিত তাহলে কী হত; যা তারা পাঠ থেকে শিখেছে।
প্রতিটি ছাত্রকে তার পরিবারের সাথে তৃতীয় কার্যক্রমে উল্লিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করার নির্দেশ দিন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, শিক্ষার্থীদের অনুমান করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
লক্ষ্য নং ২
পরবর্তী সাক্ষাতে কার্যক্রমের উত্তর সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা কী করেছে এবং তাদের পরিবারের সাথে তারা কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা অবগত হোন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
ছাত্রদেরকে তিনজন তিনজন করে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন এবং প্রতিটি গ্রুপকে তাদের বইয়ের প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন; যাতে প্রত্যেক সদস্য একটি প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং তার দলের অন্য দুই সদস্য তাকে পর্যবেক্ষণ করে ও নির্দেশনা দেয়।
ছাত্রদের দুটি দল চয়ন করুন, তারা তাদের উত্তরগুলো পেশ করবে, যাতে বাকি দলগুলো তাদের সাথে মিল ও পার্থক্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে তাদেরকে মূল্যায়ন করতে পারে।
প্রতিটি উত্তরের জন্য উপযুক্ত নাম্বার নির্ধারণ করুন, যেন প্রতিটি গ্রুপ নিজেদেরকে উপযুক্ত নাম্বার দিতে পারে। সবশেষে সর্বোচ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত গ্রুপটি নির্বাচন করুন এবং এর সদস্যদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১: (√) - (√) - (×) - (×)
প্রশ্ন ২: যাকাতের হিকমত - এটি ফারযে আইন - যে তার ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তাদের বাস্তব জীবন ও তাদের আচার আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিন:
শিক্ষার্থীদেরকে যাকাত আদায়ে গুরুত্বারোপের প্রতি উৎসাহিত করা; হকদারদের প্রতিপালনে যাকাতের গুরুত্বের কারণে। অনুরূপভাবে এর ফযীলত অর্জনের লক্ষ্যে নফল দান করার উপায়গুলো সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করা।
আশপাশের লোকদের পাঠে থাকা তথ্যগুলো জানানোর চেষ্টা করা, যাতে কোন ত্রুটি বা ঘাটতি ছাড়াই যাকাত সঠিকভাবে আদায় করা যায়।
নবম পাঠ: সিয়াম
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((احتسابًا ) সাওয়াবের প্রত্যাশায় - (المني ) বীর্য - (القيء) বমি - (الاحتجام) সিঙ্গা লাগানো)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - রেকর্ডিং ডিভাইস)
পাঠদান কৌশল:
(সমবায় শিক্ষা - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি)
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
সিয়ামের মর্যাদা ও ফযীলত উপলব্ধি করা।
রমযান এবং তাতে ইবাদত করার মহত্ত্ব অনুভব করা।
রমযান মাসে ইবাদত-বন্দেগিতে আগ্রহী থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
যে রেকর্ডারে আল্লাহ তা‘আলার নিম্নের বাণীটি রেকর্ড করা আছে তা শিক্ষার্থীদের শুনতে বলে আপনার পাঠের ভূমিকা তৈরি করা উত্তম: (شَهۡرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِيٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلۡقُرۡءَانُ هُدٗى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَٰتٖ مِّنَ ٱلۡهُدَىٰ وَٱلۡفُرۡقَانِۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهۡرَ فَلۡيَصُمۡهُۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۗ يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلۡيُسۡرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ وَلِتُكۡمِلُواْ ٱلۡعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمۡ وَلَعَلَّكُمۡ تَشۡكُرُونَ) (রমযান মাস, এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং হিদায়াতের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ্ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং তোমাদের জন্য কষ্ট চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন সে জন্য তোমরা আল্লাহ্র মহিমা ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।) (সূরা আল-বাকারাহ : ১৮৫)
তারপর আপনি এটি পড়ার জন্য কিছু ছাত্রকে চয়ন করুন। অতঃপর তাদের সাথে এর অর্থ নিয়ে আলোচনা করে তাদের পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি আপনার ছাত্রদেরকে নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তকটি খুলতে বলুন, তারপর উচ্চস্বরে পাঠটি পড়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন। এরপর তাদেরকে পাঠের যে বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন তা লিপিবদ্ধ করতে বলুন।
ধাপ (২)
ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন। আর সিয়ামের ফযীলত ও শর্ত নির্ধারণের জন্য প্রতিটি দলকে দায়িত্ব দিন।
প্রতিটি দল কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা বোর্ডে লিখবে, সেগুলোর মাঝে তুলনা করার জন্য। তারপর তার সাথে সম্পর্কিত দলিলগুলো বর্ণনাসহ সঠিক উত্তরগুলো উপস্থাপন করবে।
ধাপ (৩)
আপনি আপনার ছাত্রদের সাথে একটি সহযোগিতামূলক শিক্ষার কৌশল ব্যবহার করুন এবং তাদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন, যাতে তাদের প্রত্যেকে সিয়ামের সুন্নাতসমূহ এবং তা ভঙ্গকারী বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতে পারে।
তারপর প্রতিটি গ্রুপ যে ফলাফলে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন ও মূল্যায়ন করার জন্য তাদের একজনকে বেছে নিবে।
ফলাফল:
শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে পাঠ সম্পর্কে তাদের পর্যবেক্ষণগুলো লিখতে বলুন, যার মধ্যে থাকবে: পাঠে অন্তর্ভুক্ত মূল চিন্তাধারা এবং পাঠ থেকে অর্জিত শিক্ষা।
ছাত্ররা যা লিখেছে তা উপস্থাপন করতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন এবং আপনি তা সংশোধন করুন।
তারপর আপনি একজন ছাত্রকে মৌখিকভাবে পাঠের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করতে বলুন এবং তার উপর মন্তব্য করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, রমযান মাসের নেক আমলগুলো সাব্যস্ত করা।
লক্ষ্য নং ৪, ৫
ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে সারণীটি পূরণ করতে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন এবং প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন ব্যক্তিকে বেছে নিন যাতে তারা তাদের সহপাঠীদের মুখোমুখি দাঁড়ায়। শিক্ষক সারণীর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি দলিল উপস্থাপন করবেন এবং প্রতিটি গ্রুপের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তি সে সম্পর্কে তাদের উত্তর উপস্থাপন করবে। আর আপনি গ্রুপগুলোর কর্মক্ষমতা তুলনা করুন, বাস্তবিক অর্থে সঠিক বর্ণনা ও বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে কোন দলটি সবচেয়ে নির্ভুল তা নির্ধারণ করুন।
কার্যক্রম ১:
আমল
বেশী বেশী সদাকাহ করা।
কুরআন পাঠ করা।
কিয়ামুল লাইল (রাতের নফল সালাত) আদায় করা।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সামষ্টিকভাবে, সিয়াম ভঙ্গকারী ও অন্যান্য বিষয়ের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় করা।
লক্ষ্য নং ৩, ৪
শিক্ষক ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করবেন। আর প্রতিটি দলকে কার্যক্রমটির উত্তর দেওয়ার জন্য পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিবেন এবং তিনি দলসমূহের উত্তরগুলো চিহ্নিত করে সবচেয়ে সঠিক উত্তরদাতা দলটিকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
কর্ম তার সিয়ামের হুকুম তার উপার কি করা আবশ্যক।
কেউ রমযানের দিনের বেলা ভুল বশত জুস পান করল।
কেউ শিরাতে পুষ্টি সরবরাহকারী ইঞ্জেকশন গ্রহণ করল।
কেউ রক্ত পরীক্ষার জন্য সামান্য রক্ত দিল।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, রমযান মাসে খারাপ অভ্যাসগুলোর একটি তালিকা তৈরি করুন। লক্ষ্য নং ৫
বন্ধুরা তাদের লেনদেনে যে ভুলগুলো করে সে সম্পর্কে আরও তথ্যে জানার জন্য ইলেকট্রনিক উৎসগুলোর স্মরণাপন্ন হয়ে প্রতিটি ছাত্রকে কার্যক্রমটি সম্পর্কে জ্ঞান সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দেশ করুন। আর আপনি ছাত্রদের কর্মক্ষমতা ও তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে পরবর্তীতে সাক্ষাতে তার উপস্থাপন পর্যবেক্ষণ করুন।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
বোর্ডে পর্যায়ক্রমে প্রশ্নগুলো লিখার প্রস্তাব করা হবে।
প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পাশাপাশি থাকা দুই শিক্ষার্থীকে অংশগ্রহণ করতে বলুন।
অপরিকল্পিতভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য ।
ভুল উত্তরদাতাকে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় পড়তে ও তা থেকে সঠিক উত্তর বের করতে বলুন।
প্রশ্ন ১: নিয়ত -সিঙ্গা লাগানো - কাঁচা-পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করা।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
- শিক্ষক শিক্ষার্থীদের রমযান মাসে বিশেষ করে শেষ দশদিন এবং লাইলাতুল কদরের রাতে ইবাদতে পরিশ্রমী হতে উদ্বুদ্ধ করবেন। কেননা লাইলাতুল কদরের কিয়াম হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম।
দশম পাঠ: হজ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((الفسوق ) পাপাচার - (المحرم ) মাহরাম ব্যক্তি - (الاستطاعة) সক্ষমতা)
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সমবায় শিক্ষা - "আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি" -ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো)।
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
• হজ ও ওমরাহর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
• ইসলামের মহানুভবতা এবং বান্দাদের প্রতি আল্লাহর করুণা অনুভব করা।
সক্ষম ব্যক্তিদের দ্রুত হজ করতে উৎসাহিত করা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে বায়তুল্লাহর একটি ছবি দেখান এবং এটি সম্পর্কে তাদের অনুভূতি জিজ্ঞাসা করুন। আর তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন। তারপর তাদের পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান ও পাঠের শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
পাঠের মৌলিক চিন্তাধারার সম্পর্কে জানার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদেরকে নীরবে পাঠটি পড়ার দায়িত্ব দিন।
প্রতিটি অনুচ্ছেদ পড়া শেষ করার পর, কঠিন শব্দাবলীর অর্থ ব্যাখ্যাসহ তা স্পষ্ট করা হবে।
ধাপ (২)
আপনি (আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি) পদ্ধতিটি ব্যবহার করুন।
প্রতিটি ছাত্রকে তার খাতাটি তিনটি বিভাগে ভাগ করতে বলুন:
প্রথম অংশে ইসলামে হজের হুকুম এবং এর ফযীলত লিখবে।
দ্বিতীয় অংশে হজের শর্ত সম্পর্কে যা জানতে চায় তা লিখবে।
আর তৃতীয় অংশের শিরোনাম হবে: হজের শর্ত সম্পর্কে যা জানা গেল।
শিক্ষার্থীরা যা লিখেছে তা উল্লেখ করতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন এবং তারা যা উল্লেখ করে তার কিছুৃ অংশ আপনি বোর্ডে লিখুন।
ধাপ (৩)
সমবায় শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং ছাত্রদের বিভিন্ন দলে ভাগ করুন।
প্রতিটি দলকে হজের রুকনগুলো ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব দিন।
প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজনকে বেছে নিন তারা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা উপস্থাপন করার জন্য এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
ফলাফল:
ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো কৌশল ব্যবহার করুন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো বের করতে শিক্ষার্থীদেরকে নিজেদের মধ্যে অংশগ্রহণ করতে বলুন। তারপর তা বোর্ডে লিখুন, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল:
হজ ইসলামের পঞ্চম রুকন এবং এটি প্রতিটি সক্ষম ব্যক্তির ওপর জীবনে একবার ফরয।
হজের সওয়াব মহান এবং আল্লাহ তা‘আলার নিকট এর প্রতিদান বিরাট। এর ফযীলতের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র দূরীকরণ, পাপের ক্ষমা এবং জান্নাতে প্রবেশ।
হজ শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার অন্যতম হিকমত হল, আল্লাহ তা‘আলার কাছে বিনয়ী হওয়া এবং দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া।
মক্কা বিজয়ের এক বছর পর হিজরীর নবম বর্ষে হজ ফরয করা হয়।
হজ ওয়াজিব হওয়ার শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে: সাবালক হওয়া; বিবেকবান হওয়া, সামর্থ্যবান হওয়া এবং নারীর জন্য মাহরামের উপস্থিতি।
হজ্জ হল, বিশেষ নিয়মে ইহরামের সাথে যিল-হজ মাসের দশ তারিখ রাতে আরাফাতে অবস্থান করা, সাত বার কাবা ঘর প্রদক্ষিণ করা এবং সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাত বার সায়ী করা।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে; হজের শর্তগুলো স্পষ্ট করা।
লক্ষ্য নং ৩
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন এবং তাদের বৃত্ত আকারে বসতে বলুন এবং প্রতিটি দল প্রথম কার্যক্রমের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে। প্রত্যেক দল তাদের সদস্যদের একজনকে নির্ধারণ করবে তার দলটি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন করার জন্য। আর যে বিষয়ে প্রত্যেকে একমত হবে তা একজন ছাত্রকে দিয়ে বোর্ডে লিখা হবে এবং যে বিষয়ে মতপার্থক্য হয়েছে তা নিয়ে আপনার সামনে ও আপনার তত্ত্বাবধানে আলোচনা করা হবে, যতক্ষণ না সঠিক সমাধানে পৌঁছানো যায়, তারপর তা বোর্ডে লিখবে।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, হজ আদায়ে সক্ষম ব্যক্তিদের উৎসাহিত করা।
লক্ষ্য নং ৫
শিক্ষক ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে দ্বিতীয় কার্যক্রমে উল্লিখিত হাদীস দুটি প্রদর্শন করবেন। আর সেগুলো পড়ার জন্য কিছু ছাত্রকে নির্বাচন করবেন। অতঃপর হাদীস দুটির অর্থ ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করবেন।
তারপর তিনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কার্যক্রমে নির্দেশিত বার্তাটি লিখতে এবং একটি পৃথক কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ দিবেন। তারপর কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন ও সবচেয়ে সঠিক উত্তরটি নির্ধারণ করে সেগুলোর মূল্যায়ন করুন, সাথে সঠিক উত্তরদাতার প্রশংসা করুন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, এমন আমলগুলোর বিবরণ দেওয়া যার সাওয়াব হজ এবং ওমরার সওয়াবের মত।
লক্ষ্য নং ৪
প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করা হবে যাতে কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাদের উত্তর দেওয়া শেষ হলে কার্ডগুলো সংগ্রহ ও সংশোধন করুন, তারপর সেরা উত্তরটি চয়ন করুন। আর তার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তা উপস্থাপন করুন।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
ছাত্রদেরকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করুন এবং প্রতিটি গ্রুপকে নিম্নের প্রশ্নগুলোর সমাধানে অংশগ্রহণ করতে বলুন।
উত্তর দেওয়ার সময় পরস্পরের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আপনার ছাত্রদের পাশ দিয়ে হেঁটে যান।
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের উত্তর উপস্থাপনের জন্য একজন সদস্য বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দিন এবং তার মূল্যায়ন সম্পূর্ণ করুন।
প্রশ্ন ১: (√) - (×) - (×)
প্রশ্ন ২: (তার পাপের ক্ষমা) - (এটি বিশুদ্ধ তবে যথেষ্ট নয়) - (মাহরাম) - (তার নিজের দেশে প্রত্যাবর্তন)।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
মানুষকে হজ পালনে উৎসাহিত করার জন্য পাঠে যেসব উপায় ও পদ্ধতি জানা হয়েছে সেগুলো এবং ক্ষেত্রে মসজিদ ও দায়ীদের ভূমিকা কার্যকর করা। যেখানে শিক্ষার্থীরা এই ফরযের ফযীলতের সাথে মানুষকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেটে এর ভিশন ও চিন্তাধারা উপস্থাপন করতে এবং নির্দেশনামূলক বাণী লিখতে পরস্পর সহযোগিতা করবে।
আদব ও আখলাক অধ্যায়
প্রথম পাঠ: উত্তম চরিত্র
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((حُسن الْخُلق) ভালো আচার-আচরণ - (صَالِح الْأَخْلَاقِ) আচরণের বিশুদ্ধতা - (الْفَاحِش الْبَذِيء) চরম অশ্লীল- (تَدَابَرُوا) পরস্পরের পিছনে লেগে থাকা)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড/শিক্ষামূলক কার্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(নির্দেশনামূলক মানচিত্র- স্ব-প্রশ্নকরণ - সাদৃশ্য কৌশল )।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
• উত্তম আচরণের মর্যাদার মূল্যায়ন করা।
• এই বিশ্বাস করা যে, ঈমান মানুষের সাথে ভালো আচরণ করা ছাড়া বাস্তবায়িত হয় না।
• ব্যক্তি এবং সমাজের উপর উত্তম আচরণের প্রভাবের প্রতি গুরুত্বারোপ করা।
• উত্তম আচরণের বিভিন্ন দিক বাস্তবায়নে আগ্রহী হওয়া।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের বলুন যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হল উত্তম আচরণের মহা আদর্শ। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তার নিম্নের বাণীতে মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করার প্রতি উৎসাহিত করেছেন: “তুমি মানুষের সাথে ভালো আচরণ কর।” তিরিমিযী : ১৯৮৭ আপনি তাদের সাথে এই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন, তারপর তাদেরকে পাঠের বিষয় নিয়ে যান এবং বোর্ডে এর শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
পাঠ থেকে যে জ্ঞান অর্জিত হয়েছে শিক্ষার্থীদেরকে তার একটি কাল্পনিক চিত্র দেওয়ার জন্য নিদের্শনামূলক মানচিত্র কৌশল ব্যবহার করুন।
সেই মানচিত্রে পাঠের বিষয়বস্তু এবং এর প্রধান শিরোনাম(উত্তম চরিত্র) টি লিখুন। আর এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে (উত্তম চরিত্রের অর্থ - উত্তম চরিত্রের ফযীলত - ঈমান এবংউত্তম চরিত্র -উত্তম চরিত্রের বিভিন্ন দিক - উত্তম চরিত্র এবং জান্নাতে প্রবেশ )।
ধাপ (২)
স্ব-প্রশ্নকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক প্রতি দুইজন শিক্ষার্থীকে এমন প্রশ্ন উপস্থাপন করতে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিবেন; যার উত্তর তারা পাঠের বিষয়বস্তু থেকে আশা করে।
প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করুন এবং এগুলো একটি বোর্ডে লিখুন যা শিক্ষার্থীদের সামনে টাঙ্গিয়ে রাখা হবে।
তারপর এই ধাপের অন্তর্ভুক্ত কিছু অতিরিক্ত প্রশ্নের দ্বারা উক্ত প্রশ্নগুলো সমৃদ্ধ করুন।
উত্তম আচরণের অর্থ কী?
ইসলামে উত্তম চরিত্রের মর্যাদা উল্লেখ কর।
ঈমান ও উত্তম চরিত্রের মাঝে সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।
উত্তম নৈতিকতার (চরিত্রের) কিছু দিক উল্লেখ কর।
ধাপ (৩)
সাদৃশ্য পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক ছাত্রদের সামনে উত্তম চরিত্রের নিম্নের দিকগুলো প্রদর্শন করবেন এবং তাদেরকে সে পরিস্থিতিটি ও তার ধরন নির্ধারণ করতে বলবেন।
যিনি সঠিকভাবে উত্তর দিবেন, তিনি এ জাতীয় বিষয় সম্পর্কে যা জানেন তা একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যে প্রকাশ করবেন।
এক ব্যক্তি নিজের সহপাঠীদের শুধুমাত্র ভালো বিষয়গুলোই উল্লেখ করে এবং কারো সম্পর্কে খারাপ কিছু উল্লেখ করে না।
আহমাদ একটি কোম্পানির একজন কর্মচারী, তার এক সহকর্মীর পদোন্নতিতে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ও তার জন্য কল্যাণের দোয়া করেছিলেন।
স্কুলে দুই সহপাঠীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল এবং আপনাকে সাক্ষ্য দিতে বলা হলে, আপনি যা সত্য তাই বলেছেন এবং কোন লুকোচুরি করেননি।
মুহাম্মদ সবসময় তার বন্ধুদের সাথে হাস্যেজ্জ্বল মুখে দেখা করেন।
এক ব্যক্তি তার মাদ্রাসার সহপাঠী সম্পর্কে ভাল কথা বলেছেন।
খালেদ গরিব-অভাবীদের খাবার দিতে আগ্রহী থাকেন।
ফলাফল:
শিক্ষক ছাত্রদের সামনে পাঠের উপাদানগুলোর একটি ফাঁকা নির্দেশনামূলক মানচিত্র পুনরায় উপস্থাপন করবেন, তারপর একজন ছাত্রকে বেছে নিবেন একটি বিষয় লিখার জন্য, সাথে তার ব্যাখ্যা করবেন। যদি তিনি তা করতে অক্ষম হন, তবে অন্য একজন সহপাঠী তা করবেন এবং এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না পাঠের সকল উপাদান সম্পন্ন হয়, আর শিক্ষক ছাত্রদের সমর্থন দিবেন ও উৎসাহিত করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, নসসমূহ থেকে উত্তম চরিত্রের দিকগুলো বের করা।
লক্ষ্য নং ২
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে প্রথম কার্যক্রমে উল্লিখিত নসগুলো পড়তে, এটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে এবং এর অর্থ শিখতে নির্দেশ দিবেন। তারপর তিনি তাদের প্রত্যেককে নস থেকে উত্তম আচরণের দিকগুলো বের করতে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে ব্যবহার করতে বলুন। আর কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন তারা কী লিখেছেন তা উপস্থাপন করার জন্য, সাথে সেগুলোর মাঝে তুলনা করুন ও সবচেয়ে সঠিক উত্তরটি নির্ধারণ করুন।
উত্তম চরিত্র
কোমলতা।
রহমত
সাহস এবং দানশীলতা।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, শিক্ষার্থীদের উত্তম কথাগুলো লিপিবদ্ধ করার প্রশিক্ষণ দেওয়া। লক্ষ্য নং ৩, ৪
শিক্ষক একটি গ্রুপ ভিত্তিক আলোচনার বৈঠক করবেন, যেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের একে অপরের মুখোমুখি হয়ে বৃত্তাকারে বসতে বলবেন এবং তাদেরকে বৈঠকের লক্ষ্য সম্পর্কে অবহিত করবেন; যা কার্যক্রমে উল্লিখিত উক্তিগুলোর জন্য উপযুক্ত উত্তম বাণী লেখার সাথে সম্পর্কিত। আর তাদেরকে এই বিষয়ে তাদের মতামত উপস্থাপন করতে বলা হবে এবং প্রতিটি পরিস্থিতির ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও সমাধান করা হবে।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষক ছাত্রদেরক সামনে তার প্রত্যেকটি বাক্য একে একে উপস্থাপন করবেন। আর বাক্যটি সঠিক হলে তাদের হাত তুলতে বলবেন এবং তাদের কর্মক্ষমতা নিরীক্ষণ করবেন ও তাদের ভুল সংশোধন করে দিবেন।
প্রশ্ন ১: (√) - (×) - (√)
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে তার উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দিবেন এবং তাদের উত্তর অবগত হতে তাদের পাশ দিয়ে যাবেন, আর তাদের মধ্যে ভুল উত্তরদাতাকে সঠিক উত্তরের নির্দেশনা দিবেন।
শিক্ষক ছাত্রদের সামনে তৃতীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন, বাক্যগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য তাদের মধ্যে থেকে তিনজনকে নির্বাচন করবেন। অন্য তিনজনকে তাদের সহপাঠীদের উত্তর মূল্যায়ন করার জন্য নির্বাচন করবেন। সবশেষে তাদের বইয়ে লেখার জন্য তাদেরকে সঠিক উত্তরটি জানিয়ে দিবেন।
* শিক্ষণীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
প্রত্যেক শিক্ষার্থী উত্তম চরিত্রের দিকনির্দেশকারী নববী হাদীসগুলো পুনরায় পাঠ করবে এবং বিভিন্ন উৎসের স্মরণাপন্ন হয়ে এ সম্পর্কে আরো জ্ঞান অর্জন করবে, হতে পারে সেগুলো ধর্মীয় বই, ধর্মীয় ব্যক্তি বা ইলেকট্রনিক উৎস। যাতে সে এই হাদীসগুলো ভালভাবে বুঝতে পারে এবং এর মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজের ওপর উত্তম আচরণের প্রভাব অনুভব করতে পারে। এরপর তারা এই প্রভাব সম্পর্কে তাদের চারপাশের লোকদের নির্দেশনা এবং পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করবে যাতে অন্যদের কাছে এই জ্ঞান পৌঁছে যায়... এভাবেই চলতে থাকবে যতক্ষণ না এই জ্ঞান ব্যাপকতা লাভ করে।
দ্বিতীয় পাঠ: সত্যবাদিতা
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দ: (– – – ) ((الصدق) সত্যবাদিতা - (الشهداء ) শহীদগণ - (البر ) সদাচারণ - (الطمأنينة) ধীরস্থিরতা )।
শিক্ষা সামগ্রী:
(অডিও মাধ্যম - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড - ব্ল্যাকবোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(K.W.L পদ্ধতি - আবিষ্কারের মাধ্যমে শিক্ষা - হট চেয়ার)
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
বিশ্বাস করা যে, সততা জান্নাতে প্রবেশের একটি কারণ।
কথায় ও কাজে সততা অবলম্বন করা।
সততা এবং সত্যবাদীদের ভালোবাসতে আগ্রহী হওয়া।
সততার ওপর বাচ্চাদের গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করা।
পাঠের ভূমিকা:
‘সততা হল অন্যতম শ্রেষ্ঠ নৈতিকতা যা ধারণ করতে আল্লাহ তা‘আলা আমাদের আদেশ করেছেন’ একথা ছাত্রদেরকে বলে পাঠের ভুমিকা প্রস্তুত করুন। তারপর তাদেরকে ঈমানের সাথে সততার সম্পর্ক এবং মুসলিমদের জীবনে এর প্রভাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। আপনি তাদের কাছ থেকে উত্তর গ্রহণ করুন। তারপর আপনি তাদের বলুন যে আমরা পাঠের মাধ্যমে এর উত্তর জানতে পারব, অতঃপর আপনি বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে তিনটি ভাগে বিভক্ত একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করবেন: যার প্রথম অংশে K অক্ষর, দ্বিতীয় অংশে W অক্ষর এবং তৃতীয় অংশে L অক্ষর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তাদের জন্য প্রতিটি অংশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করবেন, তারপর পাঠের উদ্দেশ্যে নিয়ে চিন্তা করার আলোকে সততা সম্পর্কে তাদের পূর্বের অর্জিত জ্ঞান উপস্থাপন করতে বলবেন, আর তা প্রথম অংশে লিখা হবে।
তারা পাঠের মাধ্যমে যে সব জ্ঞান ও চিন্তাধার শিখতে চায় তা উপস্থাপন করতে এবং তা দ্বিতীয় কলামে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দিবেন। আর পাঠ সম্পর্কে তাদের অতীত অভিজ্ঞতা জানার জন্য তারা যা লিখেছেন তার উপর মন্তব্য করবেন।
ধাপ (২)
আবিষ্কারের মাধ্যমে শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক নিম্নলিখিত বাক্যটি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন এবং এটি কী নির্দেশ করে তা ব্যাখ্যা করতে বলেন। তারপর তাদের উত্তরগুলোর মাধ্যমে সততার সংজ্ঞা এবং এর ক্ষেত্রগুলো ব্যাখ্যা করবেন।
কথা ও কাজ , ভিতর ও বাহির এবং কথার সাথে বাস্তবতার মিল থাকা।
ধাপ (৩)
হট চেয়ার কৌশল ব্যবহার করে; ছাত্ররা বৃত্তাকারে বসবে এবং মাঝখানে একটি চেয়ার রাখা হবে। শিক্ষক ছাত্রদের মধ্যে হতে একজনকে হট চেয়ারে বসতে বলবেন।
শিক্ষক তাকে তার সহপাঠীদের সামনে নিম্নলিখিত ফযীলতগুলো পড়ার নির্দেশ দিবেন। তারপর শিক্ষার্থী এই ফযীলতগুলো স্পষ্ট করা এবং ভালভাবে বোঝার জন্য শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশ্নগুলো গ্রহণ করা শুরু করবেন।
শিক্ষক ও সহপাঠীরা শিক্ষার্থীর উত্তর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবেন এবং সঠিক উত্তর জানার জন্য শিক্ষার্থীর সাথে তথ্য ও চিন্তাধারা বিনিময় করবেন।
সত্যবাদিতা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম একটি কারণ।
সত্যবাদিতা আল্লাহ তা‘আলার রসূলগণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, আর আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে তাদের অনুসরন করার আদেশ দিয়েছেন।
সত্যবাদিতা একজন মুসলিমের অন্তর ও হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়।
সত্যবাদিতা শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের প্রমাণ এবং আত্মবিশ্বাসের আলামত।
সততা একজন মুসলিমকে তার সমাজে জনপ্রিয় এবং মানুষের মধ্যে কল্যাণকামী হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
ফলাফল:
শিক্ষক ছাত্রদের নিকটে থাকা কার্ডের তৃতীয় অংশটি সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিবেন, যেটিতে (L) অক্ষর রয়েছে; যা প্রধান ও শাখা বিষয়বস্তু আকারে পাঠ থেকে তাদের অর্জিত শিক্ষা লেখার সাথে সম্পর্কিত।
কিছু কার্ড নির্বাচন করা হবে, সেগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করা এবং তার সঠিকতা বর্ণনা করার জন্য।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং: ১ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, সততার উপর প্রতিপালনের গুরুত্ব বর্ণনা করা।
লক্ষ্য নং ৩
প্রথম কার্যক্রমে উল্লিখিত কুরআনের নসটি বেশ কয়েকটি কার্ডে লিখুন। এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে বিতরণ করুন। তারপর তা পড়ার জন্য একজন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাদের সাথে এর অর্থ এবং এটি কী নির্দেশ করে তা নিয়ে আলোচনা করুন। তারপর তাদের প্রত্যেককে নসের সাথে সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দেশ করুন, সাথে আপনার পক্ষ হতে এবং তাদের সহপাঠীদের পক্ষ হতে মূল্যায়ন করুন।
কার্যক্রম নং: ২ ধরন ও লক্ষ্য: সম্মিলিতভাবে, সততার ফযীলত বের করা।
লক্ষ্য নং: ২
দ্বিতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য ছাত্রদের প্রতিটি দলকে নির্দেশ দিন এবং প্রতিটি গ্রুপের সদস্যদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্রুপগুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন। তারপর প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন ব্যক্তিকে বেছে নিন তার দল কী করেছে তা উপস্থাপন করতে; সাথে তাদের মধ্যে তুলনা করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরদাতা গ্রুপটি নির্ধারণ করুন।
সত্যবাদিতার ফযীলত
সত্যবাদিদের মহা পুরস্কার।
সত্যবাদিতা তাকওয়ার প্রমাণ।
সত্যবাদিতা বরকত লাভেল একটি অন্যতম কারণ।
কার্যক্রম নং: ৩ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, আল্লাহ তা‘আলার সাথে সততা অবলম্বনের পুরস্কার।
লক্ষ্য নং ১
কার্যক্রমে প্রদত্ত লিঙ্কের রেকর্ডিং থেকে যা বুঝেছে তার আলোকে আল্লাহ তা‘আলার সাথে সত্যবাদিতার সুফল তার নিজস্ব প্রকাশভঙ্গিতে উপস্থাপন করার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নির্দেশ দিন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা তার সহপাঠীদের সামনে পড়তে বলুন। সবচেয়ে সেরা প্রকাশভঙ্গি ও কার্যকর অভিব্যক্তি প্রকাশকারীর প্রশংসা করুন এবং সকালের সমাবেশে তা পড়ার জন্য একজনকে নির্বাচন করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশ করুন:
প্রতিটি ছাত্র স্বতন্ত্রভাবে বইয়ের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবে।
প্রতিটি ছাত্র তার সহপাঠীর সাথে নিজের উত্তর বিনিময় করবে; যেন তাদের প্রত্যেকে পরস্পরের উত্তর মূল্যায়ন করে।
কিছু ছাত্র বাছাই করুন, যেখানে তাদের প্রত্যেকে উপস্থাপন করবে; সে তার সহপাঠীকে কীভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং সে কোন ভুলগুলো খুঁজে পেয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো সংশোধন করেছে।
অবশেষে শিক্ষার্থীদের সঠিক উত্তর দেখান যাতে তারা প্রত্যেকে তার ভুল সংশোধন করতে পারে।
প্রশ্ন ১: (×) - (✓) - (×) - (✓) - (✓)
* শিক্ষাগত এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
অধ্যয়কৃত বিষয়ের আলোকে শিক্ষার্থীদের নিম্নের বিষয়ে সতর্ক করা বাঞ্ছনীয়:
সততা অবলম্বনের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর্থনির্দেশের বৈশিষ্ট্য ধারণ ও সততার ফযীলত সম্পর্কে পাঠ থেকে তারা যা শিখেছে তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দিকনির্দেশনা গ্রহণ করবে এবং পরিবার ও কর্মক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করার জন্য কাজ করবে।
তৃতীয় পাঠ: আমানতদারিতা
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((صُبْرَةِ ) স্তূপ - (أَصَابَتْهُ السَّمَاءُ) বৃষ্টি তাকে স্পর্শ করেছে - (الغش) প্রতারণা - (النفاق) কপটতা)
পাঠদান উপকরণ:
(অডিও মাধ্যম - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড - ব্ল্যাকবোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সূচনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন - ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ - আবিষ্কারের মাধ্যমে শেখা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
o এই বিশ্বাস করা যে আমানতদারিতা নবী ও রাসূলদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
o আমানতদারিতা লালন করা ও খিয়ানত করা পরিহার করা।
o সমাজে আমানতদারিতা অনুপস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত হাদিসের নসটি প্রদর্শন করুন: আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা স্তূপীকৃত খাদ্যশস্যের পাশ দিয়া যাচ্ছিলেন। তখন তিনি স্তূপের মধ্যে হাত ঢুকালেন। তার হাতের আঙ্গুলগুলো আদ্র দেখতে পান। তিনি বললেনঃ হে খাদ্যশস্যের মালিক! এটা কি? সে বলল, হে আল্লাহর রাসুল! এতে বৃষ্টি পড়েছিল। রাসুল বললেনঃ কেন তুমি ভিজা অংশ খাদ্যশস্যের উপরে রাখনি, যাতে লোকেরা তা দেখতে পায়। যে ব্যক্তি ধোকা দেয় সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (সহীহ মুসলিম: ১০২)
এই হাদীসটি চিন্তা করার পর (তাদের উদ্দেশ্যে বলুন); তোমাদের মধ্যে কে একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের সামনে উল্লেখ করতে পারবে? আপনি তাদের কাছ থেকে উত্তর গ্রহণ করুন ওবোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
সূচনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষার্থীদের একটি ডিসপ্লে স্ক্রিনে পাঠের বিষয়বস্তুর একটি চিত্র দেখান এবং তাদের চিত্রটি নিয়ে চিন্তা করতে ও তার জন্য একটি উপযুক্ত শিরোনাম দিতে বলুন।
ধাপ (২)
আবিস্কারের মাধ্যমে শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করে; ছাত্রদের সামনে নিম্নলিখিত বাক্যগুলো প্রদর্শন করুন এবং তা কী নির্দেশ করে তা ব্যাখ্যা করতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো জানার পর তাদের সামনে উদ্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য ও এর আকৃতি এবং এতে শরীয়তের অবস্থান ব্যাখ্যা করুন:
আল্লাহ তা‘আলার ফরযসমূহ আদায় করা, প্রতিশ্রুতি, অপরের গচ্ছিত সম্পদ, গোপন কথা ও মান-সম্মান হেফাযত করা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক হারামকৃত বিষয় থেকে হেফাযত করা .... বিষয়টা কী?
আমানতের অনেকগুলো ধরন আছে, তার মধ্যে থেকে কিছু উল্লেখ করুন।
ধাপ (৩)
ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে; ছাত্রদেরকে পর্যায়ক্রমে জীবন সংক্রান্ত নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলো প্রদর্শন করুন এবং তারা পাঠ যা শিখেছে তা অনুসারে তাদের মতামত বর্ণনা করতে বলুন:
একজন কর্মী যে তার কাজে খুব দক্ষ, কিন্তু সে যে কোম্পানিতে কাজ করে তার কিছু গোপনীয় বিষয় প্রকাশ করে।
একজন ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার বিক্রি করেন।
সাঈদ অনুমতি ছাড়াই তার কাছে রাখা তার আত্মীয়দের আমানতের বস্তু থেকে খরচ করে।
ফলাফল:
প্রতিটি ছাত্রকে একটি সুবিন্যাস্ত মানচিত্র তৈরি করার জন্য দায়িত্ব দিন যার মাধ্যমে পাঠ থেকে অর্জিত শিক্ষার আলোকে সে আমানতের বিভিন্ন ধরন ও তার ফযীলতসমূহ ব্যাখ্যা করবে। আর ছাত্রদের নকশা সম্পর্কে জানতে তাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করুন এবং সবার সামনে উপস্থাপন করার জন্য সবচেয়ে সঠিক, আকর্ষণীয় এবং স্পষ্ট নকশাটি চয়ন করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং: ১ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, আমানতের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে অবগত হওয়া।
লক্ষ্য নং ২
প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করুন যাতে কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাদের উত্তর দেওয়া শেষ হলে কার্ডগুলো সংগ্রহ ও সংশোধন করুন, তারপর সেরা উত্তরটি চয়ন করুন। আর তার সাথে ছাত্রদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তা উপস্থাপন করুন।
কার্যক্রম নং: ২ ধরন ও লক্ষ্য: সমষ্টিগতভাবে, কর্মক্ষেত্রে আমানতদারিতা রক্ষার ক্ষেত্রে সাহায্যকারী উপায়গুলো সম্পর্কে অবগত হওয়া।
লক্ষ্য নং: ৪, ৫
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন এবং তাদের বৃত্ত আকারে বসতে বলুন এবং প্রতিটি দল কার্যক্রমটির উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে। প্রত্যেক দল তাদের সদস্যদের একজনকে নির্ধারণ করবে তার দলটি যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন করার জন্য। আর তা একজন ছাত্রকে দিয়ে বোর্ডে লিখা হবে এবং যে বিষয়ে মতপার্থক্য হয়েছে তা নিয়ে আপনার সামনে ও আপনার তত্ত্বাবধানে আলোচনা করা হবে, যতক্ষণ না সঠিক সমাধানে পৌঁছানো যায়, তারপর তা বোর্ডে লিখবে।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশ করুন:
ছাত্রদের বিভিন্ন দলে ভাগ করুন এবং প্রতিটি দল তাদের বইয়ের প্রশ্নেগুলোর উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে।
দলগুলোর উত্তরসমূহ সংগ্রহ করুন এ ক্ষেত্রে সঠিক ও ভুল নির্ধারণ করার জন্য এবং জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি গ্রুপের সদস্যদের ভূমিকা নির্ধারণ করার জন্য।
প্রত্যেক দলের ভুলগুলোর উপর মন্তব্য করুন এবং সেগুলো সংশোধন করার উপায় বলে দিন।
উপস্থাপিত বিষয়ের আলোকে সংশোধন ও পরিবর্তন করার জন্য প্রতিটি গ্রুপের কাগজগুলো পুনরায় ফিরিয়ে দিন।
প্রশ্ন ১: () - () - ()
* শিক্ষাণীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
অধ্যয়কৃত বিষয়ের আলোকে শিক্ষার্থীদের নিম্নের বিষয়ে সতর্ক করা বাঞ্ছনীয়:
আমানতদারিতার চরিত্র ধারণ এবং এর বিভিন্ন ধরন মেনে চলার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা অনুসরণ করতে আগ্রহী থাকা।
আশেপাশের সমাজে বিদ্যমান আমানতদারিতা চরিত্রের বিপরীত দিকগুলোর প্রতিবাদ করা, মানুষদেরকে উপদেশ ও সঠিক নির্দেশনা প্রদান এবং পাঠে অধ্যয়নকৃত বিষয়ের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে ।
চতুর্থ পাঠ: সবর বা ধৈর্যধারণ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: (الصَّدْمَة الأُولَى) (প্রথম ধাক্কা )।
শিক্ষা সামগ্রী:
(অডিও মাধ্যম - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড - ব্ল্যাকবোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(K.W.L পদ্ধতি - আবিষ্কারের মাধ্যমে শিক্ষা - হট চেয়ার)
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
• এই বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তা‘আলা যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে ধৈর্য বাস্তবায়ন করা যায়।
• প্রতিকূল সময়ে ধৈর্যধারণ করা।
• আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের বিষয়ে ধৈর্যধারণে আগ্রহী হওয়া।
• ধৈর্যের ফযীলতের মূল্যায়ন করা।
পাঠের ভূমিকা:
ধৈর্য কেবল প্রতিকূলতার সময় ধৈর্যধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ধৈর্য অনেক বিষয়কে শামিল করে, এ কথা বলে দারসের ভুমিকা উপস্থাপন করুন এবং তাদেরকে বলুন যে, আজকের পাঠে আমরা এ বিষয়টিই শিখব। তারপর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন (ধৈর্যের গুণ)।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে তিনটি ভাগে বিভক্ত একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করবেন: যার প্রথম অংশে K অক্ষর, দ্বিতীয় অংশে W অক্ষর এবং তৃতীয় অংশে L অক্ষর অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তাদের জন্য প্রতিটি অংশের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করবেন, তারপর পাঠের উদ্দেশ্যে নিয়ে চিন্তা করার আলোকে ধৈর্য সম্পর্কে তাদের পূর্বের অর্জিত জ্ঞান উপস্থাপন করতে বলবেন, আর তা প্রথম অংশে লিখা হবে।
তারা পাঠের মাধ্যমে যে সব জ্ঞান ও চিন্তাধার শিখতে চায় তা উপস্থাপন করতে এবং তা দ্বিতীয় কলামে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দিবেন। আর পাঠ সম্পর্কে তাদের অতীত অভিজ্ঞতা জানার জন্য তারা যা লিখেছেন তার উপর মন্তব্য করবেন।
ধাপ (২)
আবিষ্কারের মাধ্যমে শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক নিম্নলিখিত বাক্যটি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন এবং এটি কী নির্দেশ করে তা ব্যাখ্যা করতে বলেন। তারপর তাদের উত্তরগুলোর মাধ্যমে ধৈর্যের সংজ্ঞা এবং এর প্রকারভেদগুলো ব্যাখ্যা করবেন।
(আল্লাহ তা‘আলা যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা, তিনি যা ফরয করেছেন তা পালন করা এবং আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকার মাধ্যমে ধৈর্য বাস্তবায়িত হয়।)
ধাপ (৩)
হট চেয়ার কৌশল ব্যবহার করে; ছাত্ররা বৃত্তাকারে বসবে এবং মাঝখানে একটি চেয়ার রাখা হবে। শিক্ষক ছাত্রদের মধ্যে হতে একজনকে হট চেয়ারে বসতে বলবেন।
শিক্ষক তাকে তার সহপাঠীদের সামনে ধৈর্যের নিম্নলিখিত প্রকারগুলো পড়ার নির্দেশ দিবেন। তারপর শিক্ষার্থী এই প্রকারগুলো স্পষ্ট করা এবং ভালভাবে বোঝার জন্য শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রশ্নগুলো গ্রহণ করা শুরু করবেন।
শিক্ষক ও সহপাঠীরা শিক্ষার্থীর উত্তর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করবেন এবং সঠিক উত্তর জানার জন্য শিক্ষার্থীর সাথে তথ্য ও চিন্তাধারা বিনিময় করবেন।
আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের উপর ধৈর্যধারণ করা।
আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকার বিষয়ে ধৈর্যধারণ করা।
বিপদের উপর ধৈর্যধারণ করা।
উপসংহার:
শিক্ষক ছাত্রদের নিকটে থাকা কার্ডের তৃতীয় অংশটি সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিবেন, যেটিতে (L) অক্ষর রয়েছে; যা প্রধান ও শাখা বিষয়বস্তু আকারে পাঠ থেকে তাদের অর্জিত শিক্ষা লেখার সাথে সম্পর্কিত।
কিছু কার্ড নির্বাচন করা হবে, সেগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করা এবং তার সঠিকতা বর্ণনা করার জন্য।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং: ১ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, ছাত্রদেরকে পড়া এবং একটির সাথে অপরটির সংযোগ করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং: ৪
দারসে উল্লিখিত কুরআনের নসগুলো বেশ কয়েকটি কার্ডে লিখুন। আর তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অপরিকল্পিতভাবে বিতরণ করুন। তারপর তা পড়ার জন্য একজন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাদের সাথে সেগুলোর অর্থ এবং তা কী নির্দেশ করে সে বিষয়ে নিয়ে আলোচনা করুন। তারপর তাদের প্রত্যেককে নসগুলোর সাথে সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দেশ করুন, সাথে আপনার পক্ষ হতে এবং তাদের সহপাঠীদের পক্ষ হতে মূল্যায়ন করুন।
ধৈর্যধারণের ক্ষেত্রে সাহায্যকারী কতিপয় উপায়
কল্যাণ কখনো মানুষ যা অপছন্দ করে তার মধ্যেও থাকতে পারে।
ধৈর্যের ফযীলত
ইবাদাত আদায় করা।
কার্যক্রম নং: ২ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, ধৈর্যধারণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা।
লক্ষ্য নং: ৫, ৬
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি এককভাবে সম্পাদন করতে এবং একটি আলাদা কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ দিন। তারপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরগুলো সনাক্ত করে তাদের মূল্যায়ন করুন, সাথে সঠিক উত্তরদাতার নাম উল্লেখ করে প্রশংসা করুন।
কার্যক্রম নং: ৩ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, অন্যের দেয়া কষ্টের উপর ধৈর্যধারণের পদ্ধতির বিষয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। লক্ষ্য নং: ৬
কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞান পূর্ণাঙ্গ করার জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ইলেকট্রনিক উৎসগুলোর শরণাপন্ন হতে নির্দেশ দিন। আর তাদের স্মৃতি থেকে এমন একটি পরিস্থিতি স্মরণ করতে বলুন যেখানে তারা কোনো অপ্রিয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে ধৈর্যধারণ করেছে, ফলে আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তাতে কল্যাণ পেয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মতৎপরতা পর্যবেক্ষণ করুন এবং পরবর্তী সাক্ষাতে তারা যে পরিস্থিতিগুলো শনাক্ত করেছে তা নিয়ে আলোচনা করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ করুন:
প্রতিটি ছাত্র স্বতন্ত্রভাবে বইয়ের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবে।
প্রতিটি ছাত্র তার সহপাঠীর সাথে নিজের উত্তর বিনিময় করবে; যেন তাদের প্রত্যেকে পরস্পরের উত্তর মূল্যায়ন করে।
কিছু ছাত্র বাছাই করুন, যেখানে তাদের প্রত্যেকে উপস্থাপন করবে; সে তার সহপাঠীকে কীভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং সে কোন ভুলগুলো খুঁজে পেয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো সংশোধন করেছে।
অবশেষে শিক্ষার্থীদের মডেল উত্তরের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন যাতে তারা প্রত্যেকে তাদের ভুল সংশোধন করতে পারে।
প্রশ্ন ১: (×) - (√) - (√)
প্রশ্ন ২: অবাধ্যতা - নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা - ধৈর্যের উপায়সমূহ
* শিক্ষণীয় ও অনুভূতিমূলক সতর্কতা:
অধ্যয়কৃত বিষয়ের আলোকে শিক্ষার্থীদের নিম্নের বিষয়ে সতর্ক করা বাঞ্ছনীয়:
সমাজে বিস্তৃত ধৈর্যহীনতার চিত্রগুলোকে প্রত্যাখ্যান করা। আর পাঠে উপস্থাপিত পদ্ধতিগুলোর সাহায্য নেয়া ও সেগুলো প্রয়োগ করার চেষ্টা করা; চায় তা ব্যক্তিগতভাবে বা সমষ্টিগতভাবে, বা আশেপাশের ব্যক্তি বা ধর্মীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে নির্দেশনা গ্রহণ করে হোক না কেন, যাতে এসব চিত্র ও অবস্থাগুলো দূরীভূত হয়; ধৈর্য ও তা মজবুতভাবে ধারণকারী একটি সমাজ গড়ার চেষ্টা স্বরূপ।
পঞ্চম পাঠ: লজ্জাশীলতা
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: (শালীনতা (الحياء) লজ্জা) - (وَمَا وَعَى) এবং যা সংরক্ষণ করেছে - (وَمَا حَوَى) এবং যা শামিল করেছে - (وَالبِلَى) এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়া - (خَصْلَتَيْنِ) দুটি গুণ - (شُعْبَةٌ ) একটি শাখা)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক ছবি)।
পাঠদান কৌশল:
(স্ব-প্রশ্নকরণ -ভুল ধারণা সংশোধন - নির্দেশনামূলক মানচিত্র)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
• লজ্জাশীলতার চরিত্র ধারণ করা।
• আল্লাহ তা‘আলার থেকে লজ্জা অনুভব করা।
• নিজের এবং মানুষের থেকে লজ্জাশীলতার প্রতি আগ্রহী হওয়া।
• লজ্জাশীলতার চরিত্রের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণ করা।
পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক, নিম্নোক্ত হাদীসটি পাঠ করার মাধ্যমে দারসের ভুমিকা উপস্থাপন করুন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পূর্বেকার নবুওয়াতের বাণীসমূহ থেকে লোকেরা যা লাভ করেছে তন্মধ্যে একটি হচ্ছে: যখন তুমি লজ্জা করবে না তখন তুমি যা ইচ্ছা তাই কর।” (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬১২০)
অতঃপর ছাত্রদেরকে হাদীসটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে বলুন কিভাবে লজ্জা একজন মুসলিমকে পাপ থেকে বিরত রাখে? তাদের কাছ থেকে উত্তর গ্রহণ করুন এবং সে সম্পর্কে মন্তব্য করুন। তারপর তাদের পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান এবং বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
নির্দেশনামূলক মানচিত্র পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং তাদের কাল্পনিক জ্ঞানকে সংগঠিত করতে; শিক্ষক ছবির মাধ্যমে লজ্জার অর্থ, প্রকার এবং ফযীলত বর্ণনা করার জন্য একটি পরিকল্পিত চিত্র প্রদর্শন করবেন।
স্ব-প্রশ্নকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কিছু প্রশ্ন উপস্থাপন করতে বলবেন, এই শাখাগুলো সম্পর্কিত যেগুলোর উত্তর তারা জানতে চায়। তিনি তাদের প্রশ্নগুলো একত্র করবেন এবং তা বোর্ডে লিখবেন। পাঠের সকল শিরোনামগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তিনি তাদেরকে কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে সমৃদ্ধ করতে পারেন। তাতে নিম্নের প্রশ্নগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
প্রশ্নঃ লজ্জা অর্থ কী?
প্রশ্ন : লজ্জাশীলতার প্রকারসমূহ কী কী?
প্রশ্নঃ আল্লাহর থেকে লজ্জা কিভাবে করতে হয়?
প্রশ্ন: একজন ব্যক্তি কীভাবে মানুষ ও নিজের থেকে লজ্জাশীলতা অবলম্বন করবে?
ধাপ (২)
শিক্ষক লজ্জাশীলতার প্রকারগুলো ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন, সাথে পূর্ববর্তী প্রশ্নেগুলো ব্যাখ্যায় অন্তর্ভুক্ত করবেন। এই সময়ে শিক্ষক ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে লজ্জার ফজিলত বর্ণনাকারী দলিলসমূহ প্রদর্শন করবেন এবং শিক্ষার্থীদের তাতে থাকা শব্দাবলীর অর্থ ও তা কী নির্দেশ করে তা ব্যাখ্যায় অংশগ্রহণ করতে বলবেন।
ধাপ (৩)
ভুল ধারণা সংশোধন পদ্ধতি ব্যবহার করে; নিম্নের পরিস্থিতি দুটি ছাত্রদের সামনে উপস্থাপন করুন এবং সে বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো মূল্যায়ন করার সময় সঠিক উত্তর ব্যাখ্যা করুন, সাথে লজ্জা স্বল্পতা নিরাময়ের উপায়গুলোর বিষয়ে পরামর্শ দিন।
কিছু মহিলার পুরোপুরিভাবে ইসলামী হিজাব অবলম্বন করা ছাড়াই বাইরে যাওয়া।
কিছু পুরুষ অন্যদের সাথে বৈবাহিক জীবনের গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে কথা বলে।
ফলাফল:
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের নোটবুকে পাঠটি বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারা আকারে লিখতে বলুন; মুখস্ত করার সময় তা দ্বারা সহযোগিতা পাওয়ার জন্য ।
কিছু ছাত্রকে লিখিত কাগজপত্র ব্যবহার না করে মৌখিকভাবে পাঠের সারসংক্ষেপ বর্ণনা করতে বলুন এবং যারা এতে ভালো করবে তাদের সমর্থন করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং: ১ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, লজ্জার ধরনগুলো বের করা।
লক্ষ্য নং: ২
ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে কার্যক্রমে উল্লিখিত নস দুটি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করুন এবং তা পড়ার জন্য একজন দক্ষ ছাত্রকে বেছে নিন। তারপর এগুলো কী শিক্ষা দেয় তা বের করার জন্য এর শব্দাবলীর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করুন।
সঠিক উত্তর সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে কার্যক্রমের উত্তর নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন। আর তাদের প্রত্যেকে যেন সঠিক উত্তরটি তার বইয়ে লিখে নেয়।
লজ্জার ধরন
একজন মহিলার লজ্জাশীলতা হল তার চলাফেরা এবং তার সমস্ত অবস্থায়।
সতর ঢেকে রাখা উচিত, যদিও ব্যক্তি একাকী থাকে।
কার্যক্রম নং: ২ ধরন ও লক্ষ্য: সমষ্টিগতভাবে, প্রশংসনীয় লজ্জা এবং নিন্দনীয় লজ্জার মাঝে তুলনা করা।
লক্ষ্য নং: ২, ৪
দ্বিতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য ছাত্রদের প্রতিটি দলকে নির্দেশ দিন এবং প্রতিটি গ্রুপের সদস্যদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্রুপগুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন। তারপর প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন ব্যক্তিকে বেছে নিন তার দল কী করেছে তা উপস্থাপন করতে; সাথে তাদের মধ্যে তুলনা করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরদাতা ও প্রশংনীয় লজ্জা এবং নিন্দনীয় লজ্জার মাঝে তুলনা করতে সক্ষম গ্রুপটি নির্ধারণ করুন।
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষক ছাত্রদের সামনে উভয় প্রশ্ন সংবলিত বাক্যগুলো জিজ্ঞাসা করবেন এবং কিছু ছাত্রকে তার উত্তর দেয়ার জন্য বেছে নিবেন। যদি তাদের মধ্যে একজন ভুল করে, তবে ভুল সংশোধন করার জন্য অন্য একজনকে বেছে নিবেন।
প্রশ্ন ১: ()-() - ()-()
তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন। গ্রুপগুলোর উত্তরগুলো সংগ্রহ করুন এবং প্রতিটি গ্রুপের ভুল চিহ্নিত করে তাদের মূল্যায়ন করুন। তারপর সংশোধনের পদ্ধতিসহ তা ছাত্রদের সামনে প্রদর্শন করুন। সাথে সেরা উত্তরদাতা গ্রুপকে চিহ্নিত করে তার প্রতিটি সদস্যকে যথাযথ সমর্থন প্রদান করুন।
* শিক্ষনীয় এবং অনুভূতিমুলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তাদের বাস্তব জীবন ও তাদের আচার আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিন:
একজন মুসলিম কীভাবে আল্লাহ তা‘আলার থেকে লজ্জাশীলতা অবলম্বন করতে পারে সে সম্পর্কে পাঠে তারা যা শিখেছে তা প্রয়োগ করতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা। আর তা কাজে লাগাতে এবং তাদের জীবনে প্রয়োগ করতে চেষ্টা করা; তা করবে প্রত্যেকেই তার যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুসারে।
লজ্জার ফযীলত এবং এর প্রকারের সাথে তাদের পরিবারকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
ষষ্ঠ পাঠ: ইনসাফ করা
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((العدل ) ন্যায় (ইনসাফ)-(الظلم) অন্যায় (জুলম))।
শিক্ষামূলক উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি - কাল্পনিক মানচিত্র- সংলাপ ও আলোচনা)।
মূল্যায়ন ও দিক নির্দেশনা:
- ইনসাফের গুরুত্ব অনুভব করা, বিশেষ করে লেনদেনের ক্ষেত্রে।
- ইনসাফের চরিত্র ধারণে আগ্রহী হওয়া।
- অত্যাচার ও অত্যাচারীদের পরিহার করা।
* পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সামনে নিম্নোক্ত পরিস্থিতি উপস্থাপন করে পাঠের ভুমিকা পেশ করুন: আপনি যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আপনি আপনার এক আত্মীয়কে শহরের বাইরে থেকে আসা এক অপরিচিত লোককে কষ্ট দিতে দেখেলেন, আপনি কী করবেন? আপনি কি আপনার আত্মীয়ের সাথে দাঁড়াবেন নাকি তিনি যা করছেন তা থেকে তাকে বাধা দিবেন? তারপর তাদের কাছ থেকে উত্তর গ্রহণ করুন এবং সে বিষয়ে মন্তব্য করুন। এরপর তাদেরকে পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান এবং বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন (ইনসাফ করা)।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ইনসাফের অর্থ এবং এর ধরনগুলো ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দিবেন। তিনি তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করবেন, তারপর এই অর্থ ও প্রকারগুলো অন্তর্ভুক্ত করে তাদের সামনে একটি কাল্পনিক মানচিত্র উপস্থাপন করবেন; যাতে তারা সেগুলো নিয়ে চিন্তা করতে পারে এবং উপস্থাপিত বিষয়বস্তুর সাথে তাদের উত্তরগুলোর তুলনা করতে পারে।
ধাপ (২)
শিক্ষক ছাত্রদেরকে পাঠের বিষয়বস্তু নিরীক্ষণ করতে এবং এর উপাদানগুলো জানতে নির্দেশনা দিবেন।
প্রতি দু’জন ছাত্রকে পাঠের বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারার সাথে সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হবে; যে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে তাদের নিকট থাকা অস্পষ্টতাগুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপনি প্রতিটি দলের প্রশ্নগুলো জানুন এবং তা বোর্ডে লিখুন।
ধাপ (৩)
শিক্ষক ছাত্রদের প্রশ্নের গঠন সংশোধন করবেন এবং পাঠের সমস্ত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নিজ থেকে কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে সেগুলোকে সমৃদ্ধ করবেন।
তিনি প্রশ্নগুলো নিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে ব্যাখ্যা ও আলোচনার করবেন। আর এর মাঝে উত্তর নির্দেশকারী শরয়ী দলিলগুলো উপস্থাপনা করবেন। এতে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো থাকতে পারে:
প্রশ্নঃ ইনসাফ কিভাবে বাস্তবায়িত হয়?
প্রশ্নঃ লিঙ্গ বা বর্ণের কারণে মানুষের মধ্যে পার্থক্য করার হুকুম কী?
প্রশ্নঃ ইনসাফ বাস্তবায়নের কিছু উপায় উল্লেখ কর।
ধাপ (৪)
গ্রুপ আলোচনা পদ্ধতির মাধ্যমে; ইনসাফের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফযীলত উপস্থাপন করতে ছাত্রদের নির্দেশ দিন এবং তারা যা প্রস্তাব করে সে বিষয়ে মন্তব্য করুন ও সেগুলোর ব্যাখ্যা করুন।
ফলাফল:
শিক্ষক ছাত্রদের একটি অনুচ্ছেদ লিখতে নির্দেশ দিবেন, যাতে তারা পাঠ থেকে যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো শিখেছে সেগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তাদের মধ্যে কিছু ছাত্রকে তারা যা লিখেছে তা সহপাঠীদের সামনে পড়ার জন্য বেছে নিবেন এবং তাদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং: ১ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, ইনসাফের পদ্ধতি এবং যুলুম পরিহারের বিষয়ে ছাত্রদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
লক্ষ্য নং: ১, ৩
কার্যক্রমে উল্লিখিত হাদীসে কুদসীটি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করুন এবং এটি পড়ার জন্য একজন দক্ষ ছাত্রকে বেছে নিন। তারপর এটি কী শিক্ষা দেয় তা বের করার জন্য এর শব্দাবলীর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করুন।
কার্যক্রমের প্রশ্নটি নিন এবং সঠিক উত্তর সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে এর উত্তর নিয়ে আলোচনা করুন। আর তাদের প্রত্যেকে যেন সঠিক উত্তরটি তার বইয়ে লিখে নেয়।
কার্যক্রম নং: ২ ধরন ও লক্ষ্য: সমষ্টিগতভাবে, ইনসাফের ধরনগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো থেকে উপকৃত হওয়া।
লক্ষ্য নং: ২
শিক্ষক একটি বোর্ডে কার্যক্রমের হাদীসটি প্রদর্শন করবেন এবং তা বিশুদ্ধভাবে পড়ার জন্য একজন ছাত্রকে বেছে নিবেন। তারপর ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করবেন। আর প্রতিটি দলকে কার্যক্রমটির উত্তর দেওয়ার জন্য পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিবেন এবং তিনি দলসমূহের উত্তরগুলো চিহ্নিত করে সবচেয়ে সঠিক উত্তরদাতা দলটিকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
কার্যক্রম নং: ৩ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, অন্যদের ওপর যুলুমকারীর উদ্দেশ্যে একটি চিঠি লিখতে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। লক্ষ্য নং: ৪, ৫
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে একটি ছোট বার্তা লিখতে নির্দেশ দিবেন; যাতে সে নিজেকে যুলুম না করতে, অনুশোচনা করতে এবং তা থেকে তাওবা করতে উদ্বুদ্ধ করবে। আর তিনি শব্দচয়ন, চিন্তাভাবনা ও প্রভাবের দিক থেকে সেরা লেখাটি চয়ন করতে শিক্ষার্থীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবেন এবং সর্বোত্তমগুলোকে নির্বাচন করবেন। তারপর লেখককে উদ্ধৃত করে সকল ছাত্রদেরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তাদের নিজস্ব পেজে তা লিখতে বলবেন৷
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য; প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে উত্তর দিতে নির্দেশ দিন, তারপর তাদের সাথে উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন। প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজেকে প্রত্যেক সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর করে দিবে। তারপর শিক্ষাথীদের মাঝে তুলনা করে তাদের প্রাপ্ত নম্বর অবগত হোন।
প্রশ্ন ১: (ইনসাফ - যুলুম - আল্লাহ তা‘আলার ভয় - আমি তাকে প্রতিরোধ করব)
প্রতি তিনজন শিক্ষার্থী দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে এবং তাদের উত্তর জানার জন্য শিক্ষক তাদের পাশ দিয়ে যাবেন। আর সহপাঠীদের সামনে সঠিক উত্তরটি পড়ার জন্য সেরা উত্তরদাতা দলকে বেছে নিবেন, যাতে প্রতিটি দল তাদের করা ত্রুটি সংশোধন করে নিতে পারে।
শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করুন এবং তাদের মধ্যে দুইজনকে এটির উত্তর দিতে বেছে নিন৷ যদি তারা ভুল করে এবং উত্তর দিতে অক্ষম হয়, তাহলে নিজে নিজে পাঠের বিষয়বস্তু থেকে এটি বের করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দিন৷
* শিক্ষাগত ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
নিম্নের পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশনা দিন:
ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং যুলুম পরিত্যাগের গুরুত্ব সম্পর্কে পাঠে যা বলা হয়েছে তা প্রচার করা, বিশেষ করে যা (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইন্টারনেট সাইট এবং মসজিদ ও দায়ীদের ভূমিকা) এর সাথে সম্পৃক্ত, যেখানে শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইন্টারনেটে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা উপস্থাপনে এবং শিক্ষামূলক বাণী লেখালেখিতে পরস্পরে সহযোগিতা করবে, মানুষদেরকে ইনসাফের ধরন, যুলুমের শাস্তি এবং তা দূর করার উপায় সম্পর্কে অবহিত করার জন্য।
দাও‘আতের ক্ষেত্র
প্রথম পাঠ: নসীহতের গুরুত্ব
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((النَّصيحة ) উপদেশ - (المبايعة) আনুগত্যের অঙ্গীকার)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সমবায় শিক্ষা - সমস্যা সমাধান - নির্দেশনামূলক মানচিত্র)
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
- সমাজে উপদেশের প্রভাব মূল্যায়ন করা।
- উপদেশের প্রয়োজনীয়তা এবং এর গুরুত্ব অনুভব করা।
- উপদেশে আগ্রহী হওয়ার ক্ষেত্রে নবীগণ ও সৎকর্মশীলদের অনুকরণ করা।
পাঠের ভূমিকা:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের (الدين النصيحة) (দ্বীন হল উপদেশ) হাদীসটি ছাত্রদের মনে করিয়ে দিন, সাথে একজন মুসলিমের তার অপর ভাইকে উপদেশ প্রদানের উপর গুরুত্বারোপ করুন। আর এটি এক মুসলিম ভাইয়ের উপর অপর মুসলিমের অন্যতম অধিকার, তা তার প্রতি ভালবাসা এবং তার জন্য শুভ কামনার প্রমাণ। দ্বীনে তার মহা গুরুত্ব রয়েছে এবং সমাজে ভালবাসা ছড়িয়ে দেওয়া ও মানুষের মাঝে সহযোগিতার প্রেরণা রোপণ করার ক্ষেত্রে এর বড় প্রভাব বিদ্যমান। এজন্য, আমরা এই পাঠটি উপদেশের গুরুত্ব এবং ইসলামে এর মর্যাদা বর্ণনার জন্য নির্ধারণ করেছি। তারপর আপনি পাঠের শিরোনামটি বোর্ডে লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি আপনার ছাত্রদেরকে নির্ধারিত পাঠ্যবই খুলতে বলুন এবং নীরবে পাঠটি পড়তে বলুন। তারপর তাদের পাঠ সম্পর্কে যেকোনো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন এবং সে বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন যতক্ষণ না পাঠের সমস্ত বিষয়গুলো তাদের কাছে স্পষ্ট হয়।
ধাপ (২)
সমস্যা সমাধানের কৌশল ব্যবহার করবেন এবং ছাত্রদের কাছে একটি সমস্যা সংবলিত পরিস্থিতি উপস্থাপন করবেন, আর তা হল: (মনে করুন যে আপনি মসজিদে সালাত পড়তে যাচ্ছেন। তখন আপনি দেখতে পেলেন যে আপনার সহকর্মী তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং যখন আপনি তাকে সালাতের জন্য যেতে বললেন, তখন তিনি বললেন: আমি কাজ শেষ করে আসব। সুতরাং আপনি এখন কী করবেন?)
শিক্ষার্থীদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন এবং এই সহকর্মীর সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোত্তম উপায় নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন।
ধাপ (৩)
আপনি তাদের সামনে পাঠের উপাদান সংবলিত একটি নির্দেশনামূলক মানচিত্র প্রদর্শন করুন । তারপর তা বর্ণনা করুন এবং তার সাথে সম্পর্কিত নসগুলোর ব্যাখ্যা করুন।
ফলাফল:
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পাঠের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করতে এবং তারা পাঠ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কি শিখেছে তা বর্ণনা করতে বলুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং: ১ ধরন ও লক্ষ্য: সম্মিলিতভাবে, আল্লাহ তা‘আলা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম, মুসলিমদের ইমামগণ ও তাদের সাধারণ জনগণকে উপদেশ দেওয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করা।
লক্ষ্য নং: ১,৩
পাঁচজন ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাদের প্রত্যেককে একটি কার্ড দিন যার উপর কার্যক্রমের উপদেশসমূহ হতে একটি উপদেশ লেখা আছে। প্রথম ছাত্রটি তার সহপাঠীদের সামনে তার নিকটে থাকা উপদেশটি পড়বে। তারপর একজন সহপাঠীকে প্রথমটির ধরন সম্পর্কে উত্তর দেওয়ার জন্য বেছে নিবে এবং তার উত্তরে নিজস্ব মতামত প্রকাশ করবে। আর দ্বিতীয়জন দ্বিতীয় পদ্ধতি সম্পর্কে উত্তর দেওয়ার জন্য তার একজন সহপাঠীকে বেছে নিবে, এভাবে চলতে থাকবে। আর শিক্ষক তাদের সকলকে মূল্যায়ন করবেন।
আল্লাহ তা‘আলার জন্য নসীহত হল, আল্লাহ তা‘আলার উপর ঈমান আনা, তাঁর সাথে শরীক স্থাপন না করা এবং আমলের ক্ষেত্রে ইখলাস অবলম্বনের মাধ্যমে।
আল্লাহর কিতাবের জন্য নসীহত হল, এই ঈমান রাখা যে, আল-কুরআনুল কারীমকে আল্লাহ তা‘আলার বাণী, সে অনুযায়ী আমল করা, তা নিজে শিক্ষা করা ও অপরকে শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নসীহত হল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন তার উপরে ঈমান আনা, তাকে মুহাব্বাত করা, তার সুন্নাতের উপরে আমল করা এবং মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।
মুসলিম শাসকদের জন্য নসীহত হল, তাদেরকে হকের ব্যাপারে সহযোগিতা করা, সেক্ষেত্রে তাদের অনুসরণ করা এবং তাদেরকে হকের আদেশ প্রদান করার মাধ্যমে।
মুসলিম জনসাধারণের জন্য নসীহত হল, তাদেরকে মুহাব্বাত করা, তাদের হক আদায় করা এবং তাদেরকে নসীহত (সদুপদেশ) করার মাধ্যমে।
কার্যক্রম নং: ২ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, ছাত্রদেরকে সম্পর্ক স্থাপন, বিশ্লেষণ এবং ফলাফল বের করার প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং: ২, ৪
একটি বোর্ডে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি প্রদর্শন করুন এবং এটি পড়ার জন্য একজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন। আর আলোচনা করার সময় তাদের সামনে কার্যক্রমের প্রশ্ন দু‘টি পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করুন, যাতে তারা উভয়টির উত্তর দিতে পারে এবং যে সমস্ত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে তৎপর নয় তাদেরকে উত্তর দিতে উৎসাহিত করুন। তারপর তাদের প্রত্যেককে নিজের বইয়ে সঠিক উত্তর লিখার জন্য নির্দেশ দিন।
নূহ আলাইহিস সালাম তার ছেলেকে বাঁচাতে চেষ্টা করলেন, তাই তিনি তাকে কুফর পরিত্যাগ করে জাহাজে চড়ার নসীহত করেন। তার পুত্র যদি সাড়া দিত তাহলে সে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেত, কিন্তু সে তার পিতার অবাধ্য হল এবং তার নসীহত গ্রহণ করল না; এ কারণে সে ডুবে গেল এবং কাফেরদের সাথে ধ্বংস হয়ে গেল।
২- মানুষকে উপদেশ দেওয়া এবং তাদের মুক্তিতে আগ্রহী হওয়া- উপদেশ গ্রহণ করা এবং সে ক্ষেত্রে অবহেলা না করা।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
পাঠ্যপুস্তকে নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনার ছাত্রদের দায়িত্ব দিন।
মৌখিকভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন, তারপর সঠিক উত্তরদাতাদের সমর্থন করুন।
ভুল উত্তরদাতাকে একজন ভালো ছাত্রের সহযোগিতায় পাঠের বিষয়বস্তু থেকে সঠিক উত্তর বের করার নির্দেশ দিন।
প্রশ্ন ১: (√) - (X) - (X) - (X) - (√)
* শিক্ষামূলক ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
অধ্যয়কৃত বিষয়ের আলোকে শিক্ষার্থীদের নিম্নের বিষয়ে সতর্ক করা বাঞ্ছনীয়:
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে জ্ঞানের বিভিন্ন উৎসে দ্বীনি বিষয়ে উপদেশের গুরুত্ব ও মর্যাদা সম্পর্কে অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দিন এবং পরবর্তী বৈঠকে সেগুলো আপনার সামনে উপস্থাপন করতে বলুন। আর যা লিখা হয়েছে তার মধ্যে সেরা লেখাটি বেছে নিন ও বাকি ছাত্রদের সামনে তা উপস্থাপন করুন।
দ্বিতীয় পাঠ: নসীহতের আদব
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((الإخلاص ) আন্তরিকতা - (الرفق ) দয়া - (الفقه ) ফিকহ- (الكِبْر) অহংকার)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
শিক্ষাদান কৌশল:
(ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো কৌশল- উদঘাটনমূলক পদ্ধতি- সমবায় শিক্ষা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
নসীহত করার আদবের (শিষ্টাচারের) প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা।
উপদেশের আদবসমূহ মেনে চলা।
সমাজের প্রতি দিকনিদের্শনা প্রদান ও সমাজ সংশোধনে আগ্রহী থাকা।
নসীহত প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তরিক এবং ধৈর্যশীল হওয়া।
পাঠের ভূমিকা:
ওসমান এবং আবদুল্লাহ ফ্যাক্টরিতে তাদের সহকর্মী সাঈদের দিকে তাকালেন, যিনি তার কাজ বাদ দিয়ে তার ফোন নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। ওসমান জোরে চিৎকার করলেন যাতে সাঈদ তার কাজে মনোযোগ দেয়। পক্ষান্তরে আবদুল্লাহ শান্তভাবে সাঈদের কাছে যায় ও উত্তম পদ্ধতিতে তাকে নসীহত করে; ফোন রেখে তার কাজ শেষ করার জন্য।
ওসমান এবং আবদুল্লাহ যা করেছে তা নিয়ে আপনার ছাত্রদের সাথে আলোচনা করুন, তাদের উভয়ে যা করেছেন তার বিধান এবং উপদেশ গ্রহণের ক্ষেত্রে ভালো আচরণের গুরুত্ব বর্ণনা করুন। তারপর দুটি পরিস্থিতিতে যা করা হয়েছিল সে সম্পর্কে তাদের উত্তর ও মতামতের বিষয়ে মন্তব্য করুন এবং তাদেরকে পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান আর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি ছাত্রদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করেন এবং ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি দলকে উপদেশদাতার কিছু শিষ্টাচার ব্যাখ্যা করার দায়িত্ব দিন। তারপর প্রতিটি দল কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা একটি কাগজে লিখবে৷
তারপর আপনি তাদের নিকট সঠিক তথ্য ব্যাখ্য করে তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা নিয়ে আলোচনা করুন।
ধাপ (২)
সমবায় শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে; প্রতিটি দল উপদেশ গ্রহীতার শিষ্টাচারসমূহ অনুসন্ধান করবে।
তারা যে ফলাফলে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন ও মূল্যায়ন করার জন্য প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন ছাত্রকে বেছে নিন।
ধাপ (৩)
এই ধাপে আপনি উদ্ঘাটনমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং আপনার ছাত্রদের কাছে নিম্নের বাণীটি উপস্থাপন করুন:
ফুদ্বাইল ইবনু ‘ইয়াদ্ব রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “মুমিন ব্যক্তি দোষ গোপন করে এবং নসীহত করে। আর পাপী ব্যক্তি দোষ প্রকাশ করে এবং তিরষ্কার করে।”
আপনি তাদের এটি পড়তে বলুন। আর এটি কী নির্দেশ করে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে বলুন এবং আপনি তাদের সাথে এটি নিয়ে আলোচনা করুন।
ফলাফল:
আপনি ছাত্রদেরকে চিন্তাধারা ও বিষয়বস্তু আকারে পাঠের সারসংক্ষেপ লিখতে বলুন
তারা পাঠ থেকে যা শিখেছে আপনি তা মৌখিকভাবে তাদের কাছ থেকে জানুন এবং তা বোর্ডে লিখে রাখা হবে।
একজন ছাত্রকে বেছে নিন তার সহপাঠীদের সামনে তা সংক্ষিপ্তভাবে পড়ার জন্য।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে, নিম্নলিখিত নিয়মে তাদেরকে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশ করুন:
কার্যক্রম নং: ১ ধরন ও লক্ষ্য: সম্মিলিতভাবে, উপদেশের শিষ্টাচার সম্পর্কে জানা।
লক্ষ্য নং: ১, ২
প্রথম কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষক ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে নির্দেশ দিবেন। তারপর পর্যায়ক্রমে কার্যক্রমের উপাদানগুলো উল্লেখ করবেন এবং প্রতিটি দলের উত্তরগুলো জানবেন। সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য তাদের সাথে আলোচনা করবেন। তারপর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপটি চিহ্নিত করে তার সদস্যদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
নসীহতের আদব
কোমলতা এবং নম্রতা
কল্যাণের দিকে দাও‘আত দেওয়া এবং নসীহতকৃত ব্যক্তির প্রতি কোমল হওয়া।
আল-ইখলাস
গোপন করা এবং গোপনীয়তা বজায় রাখা।
কার্যক্রম নং: ২ ধরন ও লক্ষ্য: স্বতন্ত্রভাবে, শিক্ষার্থীদের শ্রবণ করা এবং সংক্ষিপ্ত করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং: ৪, ৫
প্রতিটি ছাত্রকে ভিডিও ক্লিপটি দেখতে, তা নিয়ে চিন্তা করতে এবং তারা এটি থেকে কী শিখেছে তা ব্যাখ্যা করতে নির্দেশ করুন। শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছবে তা নিজেদের মধ্যে বিনিময় করবে। তারপর তাদেরকে বাড়িতে কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ করতে বলুন, যাতে তাদের প্রত্যেকে তার পরিবারের কাছে ফিরে যায়; যেন পরিবার তাকে ভিডিও ক্লিপ থেকে উপলব্ধ বিষয় লিখতে সাহায্য করে। আর তা মূল্যায়নের জন্য পরবর্তীতে উপস্থাপন করা হবে।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের বই থেকে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো সুন্দরভাবে পড়তে বলুন। আর তাদেরকে নির্দেশনা দিন যে, একটি আলাদা কার্ডে এগুলোর উত্তর প্রদান করতে হবে।
মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থী তার কার্ডটি একজন সহপাঠীর কার্ডের সাথে পরিবর্তন করবে, তারপর কার্ডগুলো একত্র করা হবে।
ছাত্রদের সামনে মূল্যায়ন করার জন্য সেগুলো থেকে অপরিকল্পিতভাবে কিছু কার্ড বেছে নিন; যেন তারা সঠিক উত্তর ও ভুল উত্তর সম্পর্কে জানতে পারে।
কার্ডটির মালিক শিক্ষার্থী এবং যিনি এটি সংশোধন করেছেন তার নাম উল্লেখ করুন।
প্রশ্ন ১: (উপদেশের লক্ষ্য) - (উপদেশ প্রদানে গোপনীয়তা) - (উপদেশ গ্রহণের ক্ষেত্রে অহংকার করা)
* শিক্ষনীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
প্রতিটি ছাত্র তার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের পারস্পরিক আচরণের বাস্তবতা যাচাই করবে; যাতে তারা উপদেশদাতা এবং উপদেশ গ্রহীতার শিষ্টাচার কতটা প্রয়োগ করে তা স্পষ্ট হয়। আর তাদের মাঝে কিছু নেতিবাচক বিষয় লক্ষ্য করা গেলে, উপদেশের শিষ্টাচার প্রয়োগ করে তাদের প্রত্যেকের জন্য উপযুক্ত উপদেশ দিবেন।
পাঠে উল্লেখিত শিষ্টাচারগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজে প্রচার করা।
মুখবন্ধ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে ইলম ও মনের ভাব ব্যক্ত করার দক্ষতা দিয়ে সম্মানিত করেছেন এবং কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন।
সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার, সম্মানিত সাহাবী ও যারা কিয়ামত অবধি ইহসানের সাথে তাদের অনুসরণ করবে তাদের ওপর।
অতঃপর, আমল বা ইবাদত করার আগে বান্দার ওপর যা জানা ওয়াজিব তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ইলম অন্বেষণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ) [কাজেই জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো সত্য ইলাহ নেই। আর ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ও মুমিন নর-নারীদের ক্রটির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।]
(সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৯)
শরয়ী ইলম এই জাতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং ইসলামী ব্যক্তিত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
ইলমের গুরুত্বের উপর ভিত্তি করে যেখান থেকে جمعية الدعوة وتوعية الجاليات بالروضة (দাওয়া এবং অভিবাসীদের শিক্ষাদান সোসাইটি, রাওদাহ, রিয়াদ) এর মানুষকে হিকমত ও উত্তম উপদেশ দ্বারা ইসলামের প্রতি দাওয়াত প্রদান এবং অভিবাসীদের শিক্ষা দান ও তাদেরকে শরয়ীভাবে প্রস্তুত করণ প্রোগ্রামের মাধ্যমে মুসলমানদের তাদের ধর্মের বিষয়ে শিক্ষিত করার মিশনের উদ্ভব হয়েছিল, তার একটি প্রকল্প হল (فقهني في ديني) (আমার দ্বীনে আমাকে শিক্ষিত করুন), যা সাতটি ভাষায় অভিবাসীদের জন্য শরয়ী কোর্স প্রদান করে। এই প্রকল্পটিকে এগিয়ে নেওয়ার ইচ্ছা নিয়ে সোসাইটিটি شركة بصائر للاستشارات التربوية (বাসায়ের এডুকেশনাল কনসালটিং কোম্পানি) এর সাথে যোগাযোগ করে, যেটি ইসলামি শিক্ষার পাঠ্যক্রম উন্নতকরণে বিশেষজ্ঞ। ফলে সোসাইটি প্রদত্ত চাহিদাপত্রের উপর ভিত্তি করে এই পাঠ্যক্রমের নথিটি উন্নত করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। তারপরে শিক্ষার্থীর বইগুলো নির্দিষ্ট স্তর অনুসারে লেখা হয়:
- প্রথম স্তর, যার মধ্যে (৪০) টি পাঠ রয়েছে।
-দ্বিতীয় স্তর, যার মধ্যে রয়েছে (৩০) টি পাঠ।
-তৃতীয় স্তর, যার মধ্যে রয়েছে (৩০) টি পাঠ।
শিক্ষার্থীর জন্য প্রতিটি বইয়ের সাথে শিক্ষকের জন্য একটি গাইড থাকবে যা তাকে কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতিতে পাঠ উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে। পাঠ্যক্রমের নথি উন্নতকরণ এবং শিক্ষার্থীদের বই ও শিক্ষকদের গাইড সংকলন প্রক্রিয়া ইলমী প্রস্তুতকরণ ও সূক্ষ্ম নিরীক্ষণ পর্যায়গুলোর মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে; যা শরয়ী শিক্ষা পাঠ্যক্রম বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের একটি নির্বাচিত দল বাস্তবায়ন করেছেন।
সমাপ্তিতে, আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি এই কাজ দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন। এবং যারা এই সুন্দর সিলেবাস প্রকাশে অবদান রেখেছেন তাদের সবাইকে কল্যাণ ও জান্নাত দান করুন। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংস্থার ফোন নাম্বারে এই শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রম সম্পর্কে আপনার পরামর্শ এবং উন্নয়নমূলক চিন্তাকে স্বাগত জানাই।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন।
দাওয়া সোসাইটি, রাওদাহ
ভূমিকা
সকল প্রশংসা এক আল্লাহর জন্যে নিবেদিত এবং সালাত ও সালাম সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ এবং তাঁর পবিত্র ও বিশুদ্ধ পরিবার, সকল সাহাবী এবং কিয়ামতের দিন পর্যন্ত যারা তাদের উত্তমরূপে অনুসরণ করবে সবার ওপর। সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষকতার পেশা সবচেয়ে সম্মানজনক একটি পেশা। এটি নবী ও সংস্কারকদের পেশা । সমাজ ও মুসলিম উম্মাহকে এগিয়ে নিতে এর বড় ভূমিকা রয়েছে।
আমরা আপনার মহান ভূমিকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে এই নির্দেশিকা উপস্থাপন করছি, যা আপনাকে আপনার দায়িত্ব সম্পাদনে সহায়তা করবে;
যাতে শিক্ষকতা পেশা আরও আনন্দদায়ক ও ফলপ্রসূ হয়; যেখানে এই নির্দেশিকাটি এমন একটি পাঠ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করেছে
যা শিক্ষার্থীদের স্তর ও তাদের পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীর বইয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষাদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতির সাথে সংযুক্ত।
শিক্ষক নির্দেশিকায় পাঠ উপাদান
এই গাইডের পৃষ্ঠাসমূহ প্রতিটি পাঠের কতগুলো শিরোনামকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা শিক্ষাগত অবস্থানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোকে উপস্থাপন করে, এরমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিরোনামগুলো হল নিম্নরূপ:
ডাটা বক্স
এতে পাঠের জন্য প্রস্তাবিত সময়, নতুন শব্দ শেখা, ব্যবহৃত শিক্ষা উপকরণ, পাঠ সমাধান করবে এমন কিছু মূল্যবোধ ও নিদের্শনা এবং প্রস্তাবিত শিক্ষাদান কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
খ- পাঠের অনুসরণীয় ধাপগুলো:
এটি নিম্নের ধাপগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে:
১) পাঠের ভূমিকা: পাঠের প্রতি শিক্ষার্থীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার উদ্দেশ্যে এবং এটি বিভিন্ন উপায়ে করা যায়, যার মধ্যে রয়েছে: পাঠের ভূমিকা হওয়ার উপযোগী ছোট প্রশ্ন, বা পাঠের সাথে সম্পর্কিত একটি বাস্তবসম্মত গল্প, বা আজকের পাঠকে আগের পাঠের সাথে সংযুক্ত করা, অথবা একটি শিক্ষামূলক মাধ্যম ব্যবহার করা...
২) ফলাফল: এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হল, বিষয়বস্তু অধ্যয়ন শেষে একজন শিক্ষার্থীর অর্জন করা জ্ঞান, চিন্তা, বাস্তবতা ও বিধান। গাইডটিতে শিক্ষার্থীদের ফলাফলের প্রত্যাশা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, শিক্ষকের উচিত সেগুলো নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের নোটবুকে সেগুলো লিখতে নির্দেশ দেওয়া।
৩) শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities) এখানে আমাদের উদ্দেশ্য হল, অনুশীলন বাস্তবায়নের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে অধ্যয়কৃত বিষয়ে যা কিছু শিখেছে ও অর্জন করেছে তা নতুন ক্ষেত্রে পয়োগ করার প্রশিক্ষণ দেয়া; যার অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হল, পাঠের বিষয়বস্তুর মাঝে যে ঘাটতি রয়েছে তা পূর্ণ করা। শিক্ষকের উচিত নিজের তত্ত্বাবধানে তার শিক্ষার্থীদের এই কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নের জন্য উদ্বুদ্ধ করা। উল্লেখ্য যে এই অনুশীলনগুলোর প্রতিটি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের সাথে যুক্ত এবং তা অর্জনে অবদান রাখবে। আমরা শিক্ষকদেরকে আহ্বান জানাই তারা যেন তাদের শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা কিভাবে প্রয়োগ করবে ও আঞ্জাম দিবে এবং বাস্তবে সম্পাদন করবে তার প্রশিক্ষণের দিকে মনোযোগ দেন।
৪) মূল্যায়ন: এটির লক্ষ্য পাঠের উদ্দেশ্যগুলো কতটা অর্জিত হয়েছে এবং কী অর্জিত হয়নি তা পরিমাপ করা। তদনুসারে পাঠের প্রশ্নগুলো হতে প্রতিটি প্রশ্ন তার উদ্দেশ্যগুলোর সাথে কতটা সম্পর্কিত তা লক্ষ্য করা। আর আমাদের প্রয়াসে শিক্ষকের সংস্কৃতি সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে এই নির্দেশিকাটি পাঠের প্রশ্নের কিছু উত্তর অন্তর্ভুক্ত করেছে।
৫) শিক্ষণীয় এবং অনুভূতিমুলক সতর্কতা: শিক্ষার্থী পাঠে যা শিখেছে তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো প্রয়োগ করা এবং তার পরিবারে, বন্ধুদের মাঝে ও সমাজে তা কার্যকর করা।
শিক্ষণীয় মুলনীতিসমূহ যার ওপর এই নির্দেশিকার ভিত্তি
প্রথমত: পাঠ্যক্রমের লক্ষ্যসমূহ:
প্রতিটি পাঠের জন্য পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এই উদ্দেশ্যগুলো প্রণয়নে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে:
- অবশ্যই মূল নথির প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।
-জ্ঞান, উপলব্ধি ও দক্ষতাগত দিক থেকে অবশ্যই তা বৈচিত্র্যময় হতে হবে।
- অবশ্যই বাস্তবসম্মত, বাস্তবায়নযোগ্য এবং শিক্ষার্থীদের স্তরের সাথে উপযুক্ত হতে হবে।
ইলমী (জ্ঞানগত) উদ্দেশ্যসমূহের স্তরগুলোর মধ্যে ক্রমোন্নতি থাকা: (মনে রাখা - অনুধাবন করা - প্রয়োগ করা - বিশ্লেষণ করা - সংযোজন করা - মূল্যায়ন)।
- একটি উন্নত লক্ষ্য বিন্যাসের শর্তগুলো প্রয়োগ করা করা, যেখানে একটি আচরণগত কর্মকে অন্তর্ভুক্ত করবে যা পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণ করা যায়।
শিক্ষার্থীর আচরণ বর্ণনা করার উপর লক্ষ্যকে সংহত করা এবং তাতে الخبرة (অভিজ্ঞতার) পরিভাষা নির্ধারণ করা।
দ্বিতীয়: বিষয়বস্তু তৈরি ও সমন্বয় করা:
বিষয় ভিত্তিক পাঠের উদ্দেশ্য অনুসারে এই পাঠ্যক্রমের বিষয়বস্তু তৈরি করা হয়েছে। এর অনুবাদটি হলো একটি প্রকৃত ও কার্যকর অনুবাদ। এতে নথির অন্তর্ভুক্ত প্রতিনিধিত্বের উপযোগিতা, ও শিক্ষার্থীদের স্তর অনুযায়ী তার উপযুক্ততা, সহজ থেকে গভীর বিষয়বস্তুর ক্রমান্বয়ে উপস্থাপন, উপস্থাপিত তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিষয়বস্তুর বিশুদ্ধতার দিকে মনোনিবেশ, বিষয়বস্তু উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কুরআনের আয়াত এবং নববী হাদীসের দলিল দেওয়া এবং শিক্ষার্থীর জন্য সহজতর করার লক্ষ্যে বিষয়বস্তুতে অন্তর্ভুক্ত কুরআনের পাঠ্য ও নববী হাদীসের কঠিন শব্দাবলীর ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অনুরূপভাবে কুরআনের আয়াতগুলোর সূরার নাম ও আয়াত নং এবং নববী হাদীসগুলোর তাখরীজ উল্লেখ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
তৃতীয়ত: শিক্ষামূলক কার্যক্রম প্রক্রিয়াকরণ:
শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বেশ কিছু মাপকাঠি বিবেচনা করা হয়েছে। তন্মধ্যে:
-পাঠের লক্ষ্যসমূহের সাথে শিক্ষামূলক কার্যক্রমকে সংযুক্তকরণ ও সেসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে এর অবদান বিবেচনা করা।
- শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে শিক্ষামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর প্রকৃতির প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং অন্যান্য কার্যক্রম বাস্তবায়নে তার সহপাঠীদের সাথে তার সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা।
-শিক্ষামূলক কার্যক্রমে বৈচিত্র্য আনয়ন করা। আর তা হল, অডিও ভিত্তিক কার্যক্রম, শিক্ষকের সাথে পুনরাবৃত্তি ও তার অনুকরণ নির্ভর কার্যক্রম, কোন বিষয়ভিক্তিক নির্দিষ্ট বস্তুসমূহ একত্রিককরণ বিষয়ক কার্যক্রম, ব্যাখ্যা, সংক্ষিপ্তকরণ, শ্রেণী-বিভাগকরণ ও পুর্বিন্যাসকরণ কার্যক্রম, মুখস্থ করা, শোনা ও পাঠ করা সম্পর্কিত কার্যক্রম এবং বিন্যস্তকরণ কার্যক্রম ও গাণিতিক কার্যক্রম।
চতুর্থত: পাঠদান উপকরণসমূহ, যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
-পাঠ্যপুস্তক এবং এতে থাকা ছবি ও উদাহরণসমূহ।
-শ্রেণীকক্ষে বড় ডিসপ্লে বোর্ড টাঙানো।
গ্রুপ অনুশীলন কার্যক্রমের জন্য কার্ডসমূহ।
-রেকর্ড করার যন্ত্র।
পঞ্চমত: মূল্যায়ন পদ্ধতির বৈচিত্র্য:
পাঠের বিষয়বস্তুর প্রশ্ন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পাঠের উদ্দেশ্যগুলোর সাথে তার যোগসূত্রকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং প্রশ্ন প্রণয়নে বৈচিত্র্য রাখা হযেছে, যা জ্ঞানের দিককে পরিমাপ করবে, যেমন- সত্য ও মিথ্যা নির্ণয়মূলক প্রশ্ন, এক পাশের সাথে অপর পাশ মিলকরণ, সঠিক উত্তর বাছাই, শূণ্যস্থান পূর্ণ করা ও বাক্য সাজানো ... অনুরূপভাবে উপলব্ধি ও দক্ষতাগত দিক মূল্যায়ন করারও অনুমোদন করা হয়েছে; জানা জ্ঞানকে একজন ছাত্রের আবশ্যকীয় আচরণে রূপান্তর করার মাধ্যমে। আমরা উল্লেখ করতে চাই যে, উপলব্ধি ও দক্ষতাগত দিকগুলো মূল্যায়নের সর্বোত্তম উপায়গুলোর মধ্যে একটি হল শ্রেণীকক্ষে শিক্ষকদের দ্বারা এবং বাড়িতে পিতামাতার দ্বারা পর্যবেক্ষণ ও ফলোআপ করা।
ষষ্ঠত: শিক্ষাদানের কৌশল:
প্রিয় শিক্ষক আপনার জন্য এই নির্দেশিকায় ব্যবহৃত কিছু শিক্ষাদান পদ্ধতি রয়েছে: যেন আপনি তার সম্পর্কে এবং তা অনুশীলন ও প্রয়োগ করার পদক্ষেপসমূহের ব্যাপারে সচেতন হোন।
(১) সমবায় শিক্ষণ:
আর তা হল, একটি শিক্ষাদান পদ্ধতি; এই চিন্তাধারার ভিত্তি হল ছাত্রদেরকে (২-৬ ছাত্রের) ছোট ছোট গ্রুপে বিভক্ত করার মাধ্যমে শিক্ষাদান, যেখানে ছাত্রদেরকে একসাথে কার্যকরভাবে কাজ করতে দেওয়া হবে এবং একে অপরকে সহায়তা করতে দেয়া হবে; তাদের প্রত্যেকের মানোন্নয়ন ও যৌথভাবে শিক্ষার লক্ষ্য অর্জনের জন্য। প্রত্যেক গ্রুপের জন্য গ্রুপের ভেতর কাজ বণ্টন করার সাথে একজন নেতা নির্বাচন করা হবে, যে তার গ্রুপের সদস্যদের কর্ম সম্পাদন তদারকি করবে এবং তাদের উত্তরগুলো জমা করবে ও উস্তাদের সামনে তা পেশ করবে।
(২) ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি:
এটি চিন্তা ও সৃজনশীলতায় উদ্বুদ্ধ করণের উপর নির্ভশীল একটি পদ্ধতি, যা জ্ঞানগত ও জীবন ঘনিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সমষ্টিগত অথবা এককভাবে চিন্তা করার একটি বুদ্ধিবৃত্তিক পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা হয়; মেধার ক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে।
এর জন্য প্রয়োজন হলো: সর্বাধিক পরিমাণে পরামর্শ অথবা সমাধান বা তথ্য উপস্থাপন করা, তারপর সঠিক সমাধান বা মতামতে পৌঁছানোর জন্য সেগুলোকে পরিমার্জন করা।
(৩) সমস্যা সমাধানের পদ্ধতি:
এটি একটি পদ্ধতি, এতে শিক্ষার্থী নতুন ও অপরিচিত পরিস্থিতির ওপর বিজয়ী হওয়া ও তা নিয়ন্ত্রণ করণে এবং তার একটি সমাধানে পৌঁছার লক্ষ্যে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা ব্যবহার করে।
এর ধাপগুলো হল সমস্যাটি উপলব্ধি করা, তা সনাক্ত করা ও এর সাথে সম্পর্কিত তথ্যগুলো একত্রিত করা, তারপর একাধিক সমাধান প্রস্তাব কর এবং তার মধ্যে সর্বোত্তমটি চয়ন করার জন্য সেগুলো অধ্যয়ন করা।
(৪) নির্দেশনামূলক মানচিত্র:
এটিকে জ্ঞানগত মানচিত্র, কাল্পনিক মানচিত্র, বোধগম্য মানচিত্র ও তথ্যগত মানচিত্র ও বলা হয়। এটি বিষয়টিকে তার বিভিন্ন অংশে বিশ্লেষণ করার ওপর নির্ভরশীল এবং বিভিন্ন চিত্র ও চার্টের মাধ্যমে তা ব্যক্ত করা হয়, যা বিভিন্ন জ্যামিতিক চিত্রের আকার ধারণ করে, যেমন: সারণী, অথবা বৃত্ত বা পিরামিড আকৃতির চিত্র; তথ্য অধ্যয়ন, সেগুলোর মাঝ সম্পর্ক নির্ণয় ও তা মনে রাখা সহজ করণার্থে।
(৫) সাদৃশ্য কৌশল:
এই কৌশলটি মনজাতিক ক্ষমতাকে সক্রিয় করতে ও বিবেককে কাজে লাগাতে কাজ করে; বস্তু ও তার উপাদানসমূহের মধ্যে সম্পর্ক স্পষ্ট করা এবং সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের দিকগুলো সনাক্ত করার জন্য। এই জাতীয় চিন্তাধারা উচ্চ সৃজনশীলতার দাবী রাখে। কারণ উত্তর প্রদান উপাদানগুলোর মধ্যে সর্বদা একটি নতুন কল্পনার দাবি করে।
(৬) গল্প বর্ণনা পদ্ধতি:
গল্প বর্ণনা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্যমতা, আকর্ষণ ও প্রভাব বিস্তারের বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন। গল্প কল্পনার বিকাশ ঘটায়, আবেগ জাগিয়ে তোলে এবং উপসংহারের সাথে ভূমিকাকে যুক্ত করার আহ্বান জানায় এবং বোধগম্য বিষয়কে বাস্তবে রূপান্তর করতে কাজ করে। গল্প মূলত ঘটনাপ্রবাহের সংযোগের উপর নির্ভর করে, সাথেসাথে শিক্ষার্থীকে তার সাথে আন্দোলিত হতে ও সম্পর্কযুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করে, ফলে সে তা শিখতে উদ্যোগী হয়। কাজেই গল্প পেশ করার ভাষা ও পদ্ধতির প্রতি এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তার উপযুক্ততার প্রতি খেয়াল রাখা জরুরি।
(৭) বাস্তব জীবনে প্রয়োগ পদ্ধতি:
এই পদ্ধতির লক্ষ্য হল, জীবনের সমস্যা ও পরিস্থিতির সাথে তথ্য-উপাত্তকে যুক্ত করার চেষ্টা করা; যেন তা শিক্ষার্থীকে গুরুত্বসহ বিষয়বস্তু পড়তে সাহায্য করে। কেননা সে এতে কিছু ভুল ও নেতিবাচক বিষয়ের সমাধান এবং ইতিবাচক দিকগুলোকে শক্তিশালী ও নিশ্চিতকরণ পাবে। ইসলাম যেসব বিধান ও চারিত্রিক নীতিমালা নিয়ে এসেছে তার সাথে সেগুলোকে যুক্ত করার প্রয়াস পাবে, ফলে শিক্ষার্থী অনুভব করবে ইসলাম তার জীবনকে শৃঙ্খলিত করেছে।
(৮) চিন্তা করুন - মিলিত হোন - সবাই অংশ গ্রহণ করুন কৌশল:
এই কৌশলটি আসলে একটি আলোচনা এবং সহযোগিতামূলক কৌশল, যা তিনটি ধাপ নিয়ে গঠিত। প্রথম ধাপে, শিক্ষক শিক্ষার্থীকে একাকী প্রশ্নের উত্তর প্রদান বা কার্যকলাপ সম্পর্কে চিন্তা করার সুযোগ দেন। দ্বিতীয় ধাপে, শিক্ষার্থী তার উত্তরটি একজন সহপাঠীর সাথে আলোচনা করে। তৃতীয় এবং চূড়ান্ত ধাপে, গ্রুপের সদস্যরা প্রাপ্ত উত্তরগুলো নিয়ে পরস্পর মত বিনিময় ও আলোচনা করে, যেন একটি যৌথ উত্তর নিয়ে আসা যায়, যা পুরো দলের মতামতকে উপস্থাপন করে।
শিক্ষা প্রক্রিয়ায় এই কৌশলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এটি সক্রিয়ভাবে তথ্যকে বিশ্লেষণ করতে শিক্ষার্থীদেরকে সাহায্য করে এবং তাদের যোগাযোগ দক্ষতা উন্নতি করে ও চিন্তাধারার ঘটায় বিকাশ করে।
(৯) অগ্রবর্তী পাঠ নিতিমালা:
অগ্রবর্তী পাঠ নিতিমালার পরিচয় হল, শিক্ষার্থীদের একটি ভূমিকামূলক বা সংক্ষিপ্ত পরিচায়কমূলক বর্ণনা সরবরাহ করা, যা পাঠের শুরুতে তাদের নিকট উপস্থাপন করা হবে; সে বিষয়ের কাঠামো ও সমাধান উদ্দিষ্ট তথ্য সম্পর্কে। বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত জ্ঞান, চিন্তাধারা ও বিষয়গুলো সহজতর করার লক্ষ্যে এবং শিক্ষার্থীর পূর্ববর্তী জ্ঞান এবং পরবর্তীতে তার কী জানা প্রয়োজন তার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করণার্থে।
অগ্রবর্তী পাঠ নীতিমালা প্রধান দুই ভাগে বিভক্ত: প্রথমত লিখিত অগ্রবর্তী পাঠ নীতিমালা এবং দ্বিতীয়ত অলিখিত অগ্রবর্তী পাঠ নীতিমালা। আবার লিখিত অগ্রবর্তী পাঠ নীতিমালাও দুই ভাগে বিভক্ত; ব্যাখ্যামূলক নীতিমালা এবং তুলনামূলক নীতিমালা।
অলিখিতগুলো অডিও, ভিজ্যুয়াল, অডিও-ভিজ্যুয়াল নীতিমালা এবং গ্রাফ নীতিমালায় বিভক্ত করা যায়; যা গ্রাফ আকারে ঘটনার অংশগুলো উপস্থাপনের উপর নির্ভর করে। যেমন গ্রাফিক ছক। আর এটি পাঠের শুরুতে শিক্ষার্থীদের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
(১০) পূর্বাভাস:
এই পদ্ধতিটি শিক্ষার্থীর নিকট থেকে, পাঠের যে বিষয়টি কী আলোচনা করা হবে সে সম্পর্কে অনুমান নির্ধারণ করা বা সম্ভবনাসমূহ বিন্যাস করার দাবী করে। এটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি লক্ষ্য প্রদান করে এবং বিষয়বস্তু শেখার সময় এর প্রতি গুরুত্বারোপ নিশ্চিত করে; ঐ সম্ভবনাসমূহকে নিশ্চিত বা খণ্ডন করার চেষ্টা স্বরূপ। অনুরূপভাবে এটি শিক্ষার্থীর জন্য নতুন তথ্যের সাথে পুরনো তথ্যের যোগসূত্র তৈরির সুযোগ করে দেয়।
শিক্ষক নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে পাঠ্য বিষয়টি কী অন্তর্ভুক্ত করবে তা অনুমান করতে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে পারেন:
বিষয়ের শিরোনাম পড়া, বা পাঠের উদ্দেশ্যগুলো জানা, বা প্রশ্নের দ্বারা সহায়তা গ্রহণ করা।
(১১) নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করা (প্রশ্ন তৈরি করা):
পদ্ধতিটির লক্ষ্য হল, শিক্ষার প্রক্রিয়ার আগে, চলাকালীন এবং পরে বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে আত্ম-সচেতনতা তৈরি করা, পাঠ্যের সাথে কর্মতৎপরতা সহজতর করা, অনুধাবন ও স্মরণ করার প্রক্রিয়া সহজতর করা। এর ভিত্তি হল অধ্যয়ন করা হাদীসের সাথে কার্যক্রম চলাকালীন শিক্ষার্থীকে নিজের প্রতি কিছু প্রশ্ন করার নির্দেশনা প্রদান করা; যা তাকে শিক্ষনীয় জ্ঞান এবং যে জ্ঞানে সে উপনীত হবে তার সাথে অধিক পরিমাণে সংযুক্ত করবে এবং ফলস্বরূপ তার মধ্যে চিন্তাশীলতার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করবে।
(১২) (আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি) KWL কৌশল:
এই কৌশলটি শিক্ষার্থীদেরকে বিষয়ের মধ্যে থাকা তথ্যের পূর্বাভাস দিতে এবং তাদের পূর্বের জ্ঞানের সাথে সংযুক্ত করতে সাহায্য করে। অনুরূপভাবে শিক্ষক এটিকে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ জাগিয়ে তুলতে, সেই বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উপলব্ধির ও তাদের নিকট থাকা উপলব্ধিগত ত্রুটিগুলোকে মূল্যায়ন করতে ব্যবহার করতে পারেন।
এই কৌশলটির প্রতীক হলো: KWL, যা নিম্নের শব্দাবলীর সংক্ষিপ্ত রূপ:
(K): Know (জানা), (W): Want (জানতে চাওয়া), (L): Learned (শিখেছি).
প্রথম শব্দটি প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ইতিমধ্যেই বিষয়টি সম্পর্কে যা জানে, দ্বিতীয় শব্দটি প্রকাশ করে সে বিষয়টি সম্পর্কে কী জানতে চায় এবং তৃতীয় শব্দটি প্রকাশ করে শিক্ষার্থী বিষয়টি সম্পর্কে কী শিখেছে।
(১৩) দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ কৌশল:
এই কৌশলটি শিক্ষার্থীকে তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশ্বাস সম্পর্কে চিন্তা করতে সাহায্য করে এবং তাকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে তার দৃষ্টিভঙ্গি, চিন্তাধারা, নীতি, মূল্যবোধ, বিশ্বাস ও মতামত প্রকাশ করতে উৎসাহিত করে; যা বিষয়গুলো সম্পর্কে তার দর্শন ও ঘটনার সাথে তার কর্মদক্ষতাকে প্রভাবিত করে। প্রকৃতপক্ষে এই কৌশল শিক্ষার্থীর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণের উপর নির্ভর করে; যা তাকে তার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে চিন্তা করা, তার দৃষ্টিভঙ্গির বিশুদ্ধতা ও পরিস্থিতির সাথে তার উপযুক্ততার বিষয় পর্যাবেক্ষণ করা বা কোন নির্দিষ্ট সমস্যা সমাধান করার সুযোগ করে দেয়। দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করার ফলে কখনো এটিকে সমর্থন ও গ্রহণ করা হয় (যদি এটি উপযুক্ত ও সঠিক হয়), বা এটি সংশোধন করা হয় (যদি প্রয়োজন হয়), বা এটি প্রত্যাখ্যান করা হয় (যদি অনুপযুক্ত ও ভুল হয়)।
প্রিয় শিক্ষক ভাই! উপসংহারে বলব:
আপনার হাতের এই নির্দেশিকাটি একটি মাধ্যম যা সুফল দেবে যদি তা ভালভাবে ব্যবহার করা হয়, অন্যথায় তা কাজে আসবে না। আমরা এর দ্বারা আপনার ক্ষমতা সীমিত করতে বা আপনার সৃজনশীলতাকে রদ্ধ করতে চাই না।
কুরআন ও তাফসীরের ক্ষেত্র
প্রথম পাঠ: কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষাদানের ফযীলত
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
[(القرآن الكريم) আল-কুরআনুল কারীম - (السَّفرة الكرام) সম্মানিত ভ্রমণকারী - (يتتعتع) তোতলায়)]
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশ কার্ড - শিক্ষামূলক প্লাকার্ড - রেকর্ডকৃত অডিও মাধ্যম,
আল-কুরআনুল কারীমের কিছু আয়াত)।
পাঠদান কৌশল:
(সহযোগিতামূলক শিক্ষা - আলোচনা ও সংলাপ -ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো)
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
কুরআনুল কারীমের মর্যাদাকে সম্মান করা:
• আল-কুরআনুল কারীম শিক্ষা করা এবং শিক্ষাদানের প্রতি আগ্রহ।
• আল-কুরআনুল কারীমের ধারকদের সম্মান করা।
• আল-কুরআনুল কারীম এবং তার ধারকদেরকে ভালবাসা।
আল-কুরআনুল কারীমের অর্থ নিয়ে গভীর চিন্তা করা।
পাঠের ভূমিকা:
পাঠের সূচনা হিসেবে নিম্নোক্ত হাদীসের ব্যাখ্যার আলোকে শিক্ষার্থীদের আল-কুরআনুল কারীম পড়তে উৎসাহিত করুন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি অক্ষর পড়বে তার জন্য একটি নেকী রয়েছে এবং একটি নেক আমল দশগুণ করা হবে ৷ আমি "الم" একটি অক্ষর বলি না, বরং أَلِفٌ একটি অক্ষর, لَامٌ একটি অক্ষর এবং مِيمٌ একটি অক্ষর।"
তারপর তাদের বলুন যে আল-কুরআনুল কারীম শিক্ষা করা এবং শিক্ষাদানের সওয়াব এটি তেলাওয়াতের চেয়েও বেশি। এরপর তাদের পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান, তারপর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপনা:
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীদেরকে নীরবে পাঠটি পড়তে বলুন, তারপর ব্ল্যাকবোর্ডে পাঠের মৌলিক শিরোনামগুলো লেখার জন্য কিছু শিক্ষার্থীকে দায়িত্ব দিন, যাতে প্রতিটি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যায়।
ধাপ (২)
সমবায় শিক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উত্তম এবং এ জন্য শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন দলে ভাগ করা হবে।
তারপর প্রতিটি গ্রুপকে আল-কুরআনুল কারীম শিক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন।
কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছালে তা বোর্ডে লিখতে গ্রুপের একজন ছাত্রকে দায়িত্ব দিন।
তাদের কর্মক্ষমতা সম্পর্কে মন্তব্য করুন।
ধাপ (৩)
কথোপকথন এবং আলোচনা পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করুন:
আল-কুরআনুল কারীম শিক্ষা করা এবং অন্যকে শিক্ষাদানের ফযিলত কি?
আল-কুরআনুল কারীম তেলাওয়াতের সওয়াব কি?
উপসংহার:
তাদের উত্তরগুলোর মাধ্যমে; আপনি তাদেরকে পাঠ থেকে গৃহীত উপসংহারে নিয়ে যান, তারপর সেগুলো বোর্ডে লিখুন।
১. প্রত্যেক মুসলিমের উপর সূরা আল-ফাতিহা পড়তে শেখা আবশ্যক; কেননা তা ছাড়া সালাত সহীহ হয় না।
২. একজন মুসলিমের আল-কুরআনুল কারীম পড়তে শিখতে আগ্রহী হওয়া এবং এর অর্থ বুঝার চেষ্টা করা উচিত।
3. যারা আল-কুরআনুল কারীম শিক্ষা ও অধ্যয়ন করার জন্য একত্রিত হয় নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য মহান ফযিলতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
৪. যারা আল-কোরআনুল কারীম নিজে শিক্ষা করে এবং অন্যদের শিক্ষা দেয় আল্লাহ তাদের উচ্চ মর্যাদা প্রদান করেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ এর ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, আল-কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত শিক্ষা করার জন্য সহজলভ্য উপায়গুলো স্পষ্ট করা। লক্ষ্য নং ২
পাঠের বিষয়বস্তু, বিশেষ করে আল-কুরআনুল কারীম তেলাওয়াত শিক্ষার জন্য সহজলভ্য উপায়গুলোর সাথে সম্পর্কিত অংশটি পুনরায় পাঠের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে প্রথম কার্যক্রমটি সম্পাদনের জন্য নির্দেশ করুন। আর কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের মূল্যায়ন করাসহ তারা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন।
কার্যক্রম নং:২ এর ধরন ও উদ্দেশ্য: এককভাবে, কুরআন শিক্ষার জন্য সর্বোত্তম উপযুক্ত প্রযুক্তি সম্পর্কে জানা। লক্ষ্য নং: ৪
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি এককভাবে সম্পাদন করতে এবং একটি আলাদা কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ দিন। তারপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল এবং সঠিক উত্তরগুলো সনাক্ত করে তাদের মূল্যায়ন করুন, সাথে সঠিক উত্তরদাতার নাম উল্লেখ করে প্রশংসা করুন।
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
১- প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দলে ভাগ করুন।
২- প্রতিটি দল একটি ফ্ল্যাশকার্ডে যেকোন একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে।
৩- প্রতিটি দল উত্তর মূল্যায়ন করার জন্য একে অপরের সাথে তা বিনিময় করবে।
৪- সঠিক উত্তরদাতা দলটিকে সমর্থন করুন।
প্রশ্ন ১: () - () - ( )- ()
প্রশ্ন ২: [(كلاهما) উভয় - (كثرة تلاوته) তার অধিক তিলাওয়াত - (ما تليتُ) আমি যা তিলাওয়াত করেছি]
* শিক্ষাগত ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
আল-কুরআনুল কারীম শিক্ষা করা ও শিক্ষাদানের জন্য হালাকার আয়োজন করা।
প্রত্যেকে নিজ পরিবারের সদস্যদের আল-কুরআনুল কারীম পাঠের পদ্ধতি শিক্ষা দান করা, তারপর তার কিছু অংশ তাদের মুখস্ত করানো।
দ্বিতীয় পাঠ: সূরা আল-বাকারার শেষ আয়াতগুলোর তাফসীর
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
[(لَا نُفَرِّقُ) আমরা পার্থক্য করি না - (الْمَصِيرُ) শেষ পরিণতি - (لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ) আল্লাহ চাপিয়ে দেন না -( وُسْعَهَا) তার সাধ্য - ( لَا تُؤَاخِذْنَا) আমাদের পাকড়াও করবেন না - (إِصْرًا) বোঝা]
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - কুরআনের আয়াতের অডিও রেকর্ডিং - কুরআনুল করীম - শিক্ষামূলক ছবি)।
পাঠদান কৌশলসমূহ:
(পূর্বাভাস পদ্ধতি - নির্দেশনামূলক মানচিত্র - গল্প পদ্ধতি - গবেষণা পদ্ধতি - আলোচনা পদ্ধতি)
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
• ইসলামী শরীয়ত সহজ হওয়ার নিয়ামত অনুভব করা।
• নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের মর্যাদাকে মহিমান্বিত করা।
সকল নবী ও রাসূলগণের ওপর ঈমান আনা।
• ইসলামী শরীয়ত সহজ হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা।
পাঠের ভূমিকা:
পূর্বাভাস পদ্ধতি ব্যবহার করে পাঠের ভূমিকা প্রস্তুত করুন। সূরা আল-বাকারার শেষ দুটি আয়াতে কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তা অনুমান করতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিন ও তাদের উত্তর গ্রহণ করুন এবং তাদের প্রতি উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া প্রদান করুন।
তারপর তাদের বলুন যে এতে দুটি জিনিস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে: প্রথম: ঈমানের রুকনসমূহের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুম- কর্তৃক সত্যায়ন বিষয়ে সাক্ষ্য প্রদান। দ্বিতীয়: আল্লাহ তা‘আলার কাছে প্রার্থনা করার পদ্ধতির বর্ণনা। অতঃপর বোর্ডে পাঠের শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
অডিও মাধ্যমে পাঠের আয়াতগুলো শোনার জন্য শিক্ষক ছাত্রদের নির্দেশনা দিবেন, তারপর তাদের মধ্যে থেকে তিনজনকে তেলাওয়াত করার জন্য বেছে নিবেন, সাথে কেউ কোন ভুলের সম্মুখীন হলে তা সংশোধন করতে উদ্যমী হবেন।
তারপর শিক্ষার্থীরা নীরবে আয়াতগুলো পড়বে ও তারা যেসকল কঠিন শব্দের সম্মুখীন হয় তা চিহ্নিত করবে এবং আয়াতের প্রেক্ষাপটের মাধ্যমে সেই শব্দগুলোর অর্থ জানা ও সেগুলোকে পৃষ্ঠার পার্শ্বটিকায় লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করবে।
ধাপ (২)
আপনি ছাত্রদের একটি নির্দেশনামূলক মানচিত্র দেখাতে পারেন; যাতে আয়াতগুলোর বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর এর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের প্রস্তুতি হিসেবে তাদেরকে এটিকে নিয়ে চিন্তা করতে বলুন।
শিক্ষক রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমানের সাথে সম্পর্কিত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন এবং ছাত্ররা এই অংশ সম্পর্কে কী জানতে চায় সে বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসা ও প্রশ্ন করার সুযোগ দিবেন।
ধাপ (৩)
গল্প বর্ণনামূলক পদ্ধতি ব্যবহার করে আয়াতে বর্ণিত আল্লাহ তা‘আলার নিকট দোয়ার বিষয়টি ছাত্রদের নিকট স্পষ্ট করুন।
ফলাফল:
প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীকে পরস্পর সহযোগিতা করতে এবং আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয় সনাক্ত করতে নির্দেশ করুন। আর প্রতিটি দলকে তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা বোর্ডে লিখতে বলুন। সবচেয়ে নির্ভুল উত্তর নির্ধারণের জন্য দলগুলোর সিদ্ধান্তসমূহের মাঝে তুলনা করা হবে এবং তাদের নোট বুকে তা লিপিবদ্ধ করার দায়িত্ব প্রদান করা হবে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, সূরা আল-বাকারার শেষের আয়াতগুলোর ফযীলত শিক্ষা করা।
লক্ষ্য নং ২
প্রথম কার্যক্রমে থাকা হাদীসটি একটি বোর্ডে উপস্থাপন করুন। এটি পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজনকে বেছে নিন এবং আলোচনার মাধ্যমে তাদের নিকট অনুশীলনীর প্রশ্ন পেশ করুন; যেন তারা এর উত্তর দিতে পারে এবং যে সমস্ত শিক্ষার্থী অংশগ্রহণে তৎপর নয় তাদেরকে উত্তর প্রদানে উৎসাহিত করুন। তারপর তাদের প্রত্যেককে নিজ বইয়ে সঠিক উত্তর লেখার নির্দেশ দিন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, উম্মতের ওপর আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ এবং তাঁর ক্ষমার বিষয়টি স্পষ্ট করা। লক্ষ্য নং ৪
ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন এবং প্রতিটি গ্রুপকে কার্যকলাপ সম্পাদনে সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন। আর আপনি গ্রুপগুলোর কাজের সময় তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করুন; যেন তাদের পরস্পর সহযোগিতা এবং উত্তর প্রদানের জন্য হাদীস শরীফে অনুসন্ধান নিশ্চিত করা যায়।
প্রতিটি গ্রুপের অনুশীলনীর উত্তর চিহ্নিত করুন, সাথে গ্রুপগুলোর উত্তরসমূহের মাঝে তুলনা করুন এবং সবচেয়ে সঠিক উত্তরগুলো সনাক্ত করুন; যাতে প্রতিটি গ্রুপ নিজেদের ভুলগুলো সংশোধন করে নেয়। আর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপের প্রশংসা করুন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, ইসলামী শরীয়ার বিধানে সহজের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা। লক্ষ্য নং ৪
আপনি ছাত্রদের পূর্ববর্তী জ্ঞানের উপর নির্ভর করতে এবং ইসলামী শরীয়ার সহজ ও সুবিধার বিষয়ে তারা যা জানে তাদেরকে তা স্মরণ করতে বলতে পারেন। এ লক্ষ্যে সালাত, যাকাত এবং সিয়ামের বিধান থেকে এর উদাহরণ দিতে পারেন। তারপর তাদের উত্তরগুলো চিহ্নিত করুন এবং তাদের নিকট সঠিক উত্তর স্পষ্ট করে তা মূল্যায়ন করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য; প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে উত্তর দিতে নির্দেশ দিন, তারপর তাদের সাথে উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রত্যেক সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর করে দেয়া হবে। তারপর শিক্ষাথীদের মাঝে তুলনা করে তাদের প্রপ্ত নম্বর নিশ্চিত করুন।
প্রশ্ন ১: - -
তিনজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, যারা প্রত্যেকে দ্বিতীয় প্রশ্নে সঠিক উত্তরটি বোর্ডে লিখবে, যেন তাদের সহপাঠীরা তাদের মূল্যায়ন করে এবং তাদের বইয়ে সঠিক উত্তর লিপিবদ্ধ করে।
প্রশ্ন ২: (النسيان) ভুলে যাওয়া -(شدة ظلمهم) তাদের অত্যাচারের তীব্রতা -(قيام الليل) রাতের সালাত
প্রতি দু’জন শিক্ষার্থী তৃতীয় ও চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে এবং তাদের উত্তর জানার জন্য শিক্ষক তাদের পাশ দিয়ে যাবেন। আর সহপাঠীদের সামনে সঠিক উত্তরটি পড়ার জন্য সেরা উত্তরদাতা দলকে বেছে নিবেন, যাতে প্রতিটি দল তাদের করা ত্রুটি সংশোধন করে নিতে পারে।
* শিক্ষাগত ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
সাহাবায়ে কেরামের ফযীলত সম্পর্কে এবং আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা শ্রবণ ও তাদের আনুগত্য ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে ব্যাপকভাবে জানতে জ্ঞানের যেকোন একটি উৎস অধ্যয়ন করা। এরপর উপলব্ধিকৃত বিষয় সংক্ষেপণ করে পরবর্তী সাক্ষাতে তা উপস্থাপন করা।
সংশ্লিষ্ট শরয়ী দলিল ব্যবহার করার মাধ্যমে ইসলামী শরীয়ার সুবিধা ও সহজতা সংক্রান্ত সর্বাধিক সংখ্যক উদাহরণ সংগ্রহ করতে ছাত্ররা পরস্পর সহযোগিতা করবে।
তৃতীয় পাঠ: সূরা আদ-দুহা, সূরা আলাম নাশরাহ এবং সূরা আত-ত্বীনের তাফসীর।
পাঠের সময়: দুই ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
[(سَجَى)নিঝুম -(قَلَى) অসন্তুষ্ট - (فَآوَى) আশ্রয় দেয়া - (فَهَدَى) পথনির্দেশনা দেয়া - (فَأَغْنَى) অভাবমুক্ত করা - (أَنْقَضَ ظَهْرَكَ) তোমার পিঠ ভেঙ্গে দিচ্ছিল -(ذِكْرَكَ) তোমার স্মরণ -(فَانْصَبْ) সাধনা কর -(التين ) ত্বীন - (الزيتون) যাইতুন - (وَطُور سِينِينَ) এবং সিনাই পাহাড় - (الْبَلَد الْأَمِينِ) নিরাপদ নগরী)]
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশ কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড- রেকর্ডকৃত অডিও মাধ্যম;
যাতে সম্মানীত সূরাগুলো রয়েছে)
পাঠদান কৌশল:
(পারস্পরিক বিনিময়মূলক শিক্ষাদান: "পূর্বাভাস করা - প্রশ্ন করা - ব্যাখ্যা করা - সংক্ষিপ্ত করা")।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা
• ইয়াতীম, দুর্বল ও দরিদ্রদের প্রতি ইহসান (দয়া) করা।
• নিশ্চিত বিশ্বাস করা যে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সমস্ত সৃষ্টির প্রতি দয়াবান।
• আল-বালাদ আল-হারাম তথা পবিত্র নগরীর মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদেরকে তাদের মুসহাফ তথা কুরআন বের করতে বলুন এবং সূরা আল-দুহা, আল-শারহ এবং আল-ত্বীন পড়তে বলুন। তারপর তাদের প্রত্যেককে সূরাগুলোতে আলোচিত তিনটি চিন্তাধারা বের করতে নির্দেশ দিন, আর প্রতিটি ছাত্র তার উত্তর খাতায় লিখবে। তারপর পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখুন, অতঃপর বোর্ডে পাঠের শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীরা অডিও মাধ্যমে সূরা তিনটি শুনবে, সেগুলো সম্পর্কে চিন্তা করবে এবং যেসব শব্দের ব্যাখ্যা জানা জরুরি সেগুলো সনাক্ত করবে।
ধাপ (২)
শিক্ষার্থীরা আয়াতের সাথে সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে এবং শিক্ষক তাদেরকে অন্যান্য প্রশ্ন দিয়ে সমৃদ্ধ করবে। যেমন:
প্রশ্ন: আয়াতের বর্ণনার আলোকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যদা ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্নঃ সূরা আল-দুহাতে কী কী ঐশী (রাব্বানী) আদেশ রয়েছে?
প্রশ্ন: সূরা আল-শরহে বর্ণনার আলোকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফযীলত বের করুন।
প্রশ্নঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি একজন মুসলিমের কর্তব্য কি?
প্রশ্ন: [(طور سنين) তূরে সিনীন -(البلد الأمين) নিরাপদ নগরী -(في أحسن تقويم) উত্তম আকৃতি] দ্বারা উদ্দেশ্য কি?
তারপর, কৌশলটির তৃতীয় পর্যায়টি বাস্তবায়ন করার জন্য শিক্ষক এই প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন এবং প্রশ্নগুলোকে কুরআনের আয়াতের সাথে সংযুক্ত করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করবেন।
ফলাফল:
(পারস্পরিক বিনিময়মূলক শিক্ষাদান) কৌশলের চতুর্থ পর্যায় বাস্তবায়ন করার জন্য, যা সংক্ষিপ্তকরণের সাথে সম্পর্কিত; শিক্ষক সম্মানীত আয়াত থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী এবং ফায়দাগুলো লিখতে শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দিবেন।
যেসব ফায়দা লেখা হয়েছে তা পাঠ করেতে কিছু ছাত্রকে বেছে নেয়া, তারপর আয়াতে অন্তর্ভুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী নিশ্চিত করতে সে বিষয়ে মন্তব্য করা।
শিক্ষক এবং অন্যান্য সহপাঠীদের দ্বারা এটির উপর মন্তব্য ও মূল্যায়ন করা হবে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, সূরা আল-দুহা, আল-শারহ এবং আল-ত্বীন থেকে যেসব শিক্ষা অর্জন হয় তা বের করা। লক্ষ্য নং ২
শিক্ষক একটি ফ্ল্যাশকার্ডে প্রথম কার্যকলাপে উল্লিখিত প্রতিটি আয়াত লিখবেন।
কিছু শিক্ষার্থী বেছে নেওয়া হবে, যেখানে তারা প্রত্যেকে অপরিকল্পিতভাবে একটি করে কার্ড বেছে নিবে তার অন্তর্ভুক্ত প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য।
অন্য একজন ছাত্রকে তার সহপাঠীর উত্তর মূল্যায়ন করার জন্য বেছে নেওয়া হবে, সাথে শিক্ষক তাকে পর্যবেক্ষণ করবেন ও নির্দেশনা দিবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, একজন মুসলিমের আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জনের উপায়গুলো সাব্যস্ত করা। লক্ষ্য নং ২
শিক্ষক ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে দ্বিতীয় কার্যক্রম সম্পাদনে সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিবেন এবং প্রতিটি দলের উত্তরটি জানবেন ও সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য তাদের সাথে আলোচনা করবেন। তারপর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপটি চিহ্নিত করবেন ও তার সদস্যদের উপযুক্ত প্রশংসা করবেন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য; প্রত্যেক শিক্ষার্থী পৃথকভাবে তার উত্তর দিবে।
শিক্ষক সঠিক উত্তরটি বোর্ডে প্রদর্শন করবেন।
তাদের প্রত্যেককে তার উত্তরের জন্য উপযুক্ত নাম্বার দিতে বলবেন।
তাদের নাম্বারগুলো অবগত হবেন এবং তাদের উপযুক্ত প্রশংসা করবেন।
প্রশ্ন ১: ()- () - ()।
প্রতি দুইজন শিক্ষার্থী তৃতীয় এবং চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে।
প্রতিটি দল তার উত্তর মূল্যায়ন করার জন্য অন্য দলের সাথে উত্তর বিনিময় করবে।
শিক্ষক সঠিক উত্তর উপস্থাপন করার সাথে প্রতিটি দলকে অন্য দলে কী ভুল লক্ষ্য করেছে তা প্রকাশ করার সুযোগ করে দিবেন।
* শিক্ষাগত ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
দুর্বলদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের গুরুত্ব সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি প্রবন্ধ লেখা।
ছাত্রদেরকে সূরাগুলোর ব্যাখ্যা থেকে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ ফায়দাসমূহ তাদের পরিবার ও বন্ধুদের কাছে প্রচার করতে দায়িত্ব দেওয়া।
চতুর্থ পাঠ: সূরা আল-‘আলাক ও সূরা আল-কদরের তাফসীর
পাঠের সময়: দুই ঘণ্ট।
নতুন শব্দাবলী:
[(العَلَق) জমাটরক্ত -(الرُّجْعَى) প্রত্যাবর্তন - (لَنَسْفَعَنْ) টেনে-হিঁচড়ে - (نَادِيَهُ) সভাসদ - (لَيْلَة القَدْرِ) লাইলাতুল কদর - (الرُّوحُ) রূহ]
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - রেকর্ডকৃত অডিও মাধ্যম-
সম্মানিত দু‘টি সূরা)।
পাঠদান কৌশল:
(সংলাপ ও আলোচনা - আবিষ্কারের মাধ্যম শিক্ষা - সহযোগিতামূলক শিক্ষা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
• ইলমের মর্যাদার সম্মান করা।
• বিনয় এবং তার ফযীলতের গুরুত্ব অনুভব করা।
• কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের প্রতি আগ্রহী হওয়া।
• লাইলাতুল কদরকে সম্মান করা ও তার মর্যাদা জানা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে (আল-আলাক ও আল-কদর) সূরা দুটি এবং তার আয়াত সংখ্যার সাথে পরিচয় করিয়ে দিবেন। তিনি তাদের সামনে কম্পিউটারে সূরা দুটি সম্পূর্ণ দেখাতে পারেন। তারপর বোর্ডে শিরোনাম লিখবেন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক পাঠের সূরা দুটিকে দুই ভাগে ভাগ করবেন: প্রথম অংশে: সূরা আল-আলাকের আয়াতগুলো এবং দ্বিতীয় অংশে: সূরা আল-কদরের আয়াতগুলো থাকবে।
শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে নির্ধারিত অডিও মাধ্যমে সূরার প্রথম অংশ শুনতে বলবেন।
তাদেরকে এটি নিচু স্বরে পুনরাবৃত্তি করতে এবং এর অর্থ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার চেষ্টা করতে বলা হবে।
ধাপ (২)
ছাত্রদের কাছ থেকে এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে জানুন যে তার সৃষ্টি ও জীবনের পর্যায়গুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে; যেন সে উপদেশ গ্রহণ করে ও আল্লাহ তা‘আলার কুদরতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে।
তাদের দারস আদায়ের প্রশংসা করা এবং এটিকে আয়াতগুলো ও তার তাফসীর শিক্ষার জন্য একটি সূচনা পয়েন্ট বানানো।
আপনি নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো দ্বারা সহযোগিতা নিতে পারেন, যেন ছাত্ররা এর সাথে তৎপরতা দেখায় এবং তারা আয়াতগুলো অনুধাবনের মাধ্যমে এগুলোর উত্তর দেয়:
প্রশ্নঃ সূরা আল-আলাকের আলোকে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট ওহীর সূচনা ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্নঃ পাচুর্যের নিয়ামতের কারণে মানুষের সীমালঙ্ঘন করা ও অহংকারী হওয়ার মাঝে সম্পর্ক বর্ণনা করুন। সূরা আলাকে সওয়াব পাওয়ার জন্য তার রবের কাছে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছে তা ব্যাখ্যা করুন।
প্রশ্নঃ আবু জাহেলের কাহিনী এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তার তীব্র শত্রুতা সম্পর্কে কি জানেন?
ধাপ (৩)
আবিষ্কারমূলক শিক্ষার মাধ্যমে ছাত্রদের কাছে সম্মানিত আয়াতগুলো উপস্থাপন করুন: (إنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ، وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ، لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ).অর্থ (নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে’; আর আপনাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল-কদর’ কী? ‘লাইলাতুল-কদর’ হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ)।
তাদেরকে এটি সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলুন এবং তাদের উত্তরগুলোকে সম্মানিত সূরাটির আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা করার জন্য একটি সূচনা পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করুন।
প্রতিটি আয়াতকে আলাদাভাবে তাদের সামনে পেশ করুন এবং তার শব্দগুলোর অর্থ বর্ণনা ও আয়াতের তাফসীর করুন।
ফলাফল:
প্রতি দুইজন ছাত্রকে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিন; যেন আয়াতগুলো থেকে কী শেখা যায় এবং সেগুলো কী নির্দেশ করে সেই বিষয়ে পৌঁছাতে পারে।
ছাত্রদের সামনে একটি বোর্ড পেশ করুন এবং এর ফায়দাগুলোর একটি দিক লিখতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, ইলম ও ইলম শিক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করা। লক্ষ্য নং ২
বাড়ীর কাজ তথা হোমওয়ার্কে নিম্নলিখিত অনুশীলনের উত্তর দিতে প্রতিটি ছাত্রকে নির্দেশ করুন।
কিছু ছাত্রকে পরবর্তী সাক্ষাতের জন্য বেছে নিন যাতে তাদের প্রত্যেকে যা অর্জন করেছে তা উপস্থাপন করে।
আপনার তত্ত্বাবধানে ও পরিচালনার অধীনে অন্যরা তাদের মূল্যায়ন করবে।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, লায়লাতুল কদরের মহান আমলসমূহ সম্পর্কে জানা। লক্ষ্য নং ৪
শিক্ষক প্রত্যেক ছাত্রকে দ্বিতীয় কার্যক্রমে থাকা হাদীসটি পড়ার নির্দেশ দিবেন এবং এতে অন্তর্ভুক্ত শব্দগুলোর অর্থের ব্যাখ্যা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন, সাথে প্রেক্ষাপটের আলোকে অর্থ উপস্থাপন করতে তাদের উৎসাহিত করবেন। তারপর তিনি তাদের সাথে এর ব্যাখ্যা ও অর্থ নিয়ে পর্যালোচনা করবেন। কার্যক্রমের পয়েন্টগুলোর উত্তর দিতে কিছু ছাত্র পর্যায়ক্রমে বেছে নিবেন এবং আপনি সেগুলো সংশোধন করে দিবেন। অতঃপর সেগুলো বোর্ডে লিখবেন যেন তারা তাদের বইয়ে লিখে নিতে পারে ৷
লাইলাতুল কদরের আমলসমূহ
শেষ দশকে নেক আমলের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা।
লাইলাতুল কদরে আমরা অধিক হারে দু‘আ করব, এই বলে : اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي অর্থ: “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।”
শেষ দশকে ইতিকাফ করা; যার মধ্যে লাইলাতুল কদর রয়েছে।
লাইলাতুল কদরে কিয়াম করা।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
তাদের বই থেকে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো সুন্দরভাবে পড়া। তারপর আলাদা কার্ডে তার উত্তর প্রদান করা।
মূল্যায়ন করার জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থী তার কার্ডটি অপর সহপাঠীর কার্ডের সাথে বিনিময় করবে।
কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন, তারপর সহপাঠীদের সামনে তার মূল্যায়ন করার জন্য অপরিকল্পিতভাবে কিছু কার্ড নির্বাচন করুন।
তাদেরকে সঠিক উত্তর এবং ভুল উত্তরের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন।
কার্ডধারী শিক্ষার্থী এবং যিনি তা সংশোধন করেছেন তার নাম উল্লেখ করুন।
* শিক্ষনীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
ইলম শিক্ষা করা ও শিক্ষাদানের প্রচেষ্টা করা এবং পরিবার ও চারপাশের লোকদেরকে তা পালন করতে উৎসাহিত করা।
আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ও ক্ষমা লাভের জন্য লাইলাতুল কদরে বেশি বেশী ইবাদত ও ইস্তেগফার করা।
পঞ্চম পাঠ: সূরা আল-বাইয়িনাহ এবং আয-যালযালাহ (যিলযাল) এর তাফসীর।
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
[(مُنْفَكِّينَ) বিরত - (البَيِّنَةُ) স্পষ্ট প্রমাণ - (البَريَّة) সৃষ্টি - (أشتاتًا) বিভিন্ন দল - (مثقال ذرة) অণু পরিমাণ]
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - রেকর্ডকৃত অডিও মাধ্যম
সম্মানিত সূরা দু‘টি )।
পাঠদান কৌশল:
(সংলাপ এবং আলোচনা - কল্পনা করা - নির্দেশনামূলক মানচিত্র)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
• একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য ইখলাসের সাথে ইবাদত পালনে আগ্রহী থাকা।
• কথা ও কাজে সততার ভূষণ গ্রহণ করা।
• মুমিনদের অনুকরণ করা; যারা ভাল আমল করেন।
• কেয়ামতের দিন হিসাবের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুরুতে কিভাবে আল্লাহ্র ইবাদতের জন্য দাওয়াত দিয়েছিলেন? এ দাওয়াতে তার কওমের অবস্থান কী ছিল? যারা তার রিসালাতকে অস্বীকার করেছিল তাদের পরিণতি কি হয়েছিল? এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। আপনি তাদের কাছ থেকে উত্তর গ্রহণ করুন এবং তার উপর মন্তব্য করুন। তারপর তাদেরকে পাঠের বিষয়ের দিকে নিয়ে যান।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক শিক্ষার্থীদেরকে পাঠের আয়াতগুলো অডিও মাধ্যমে শোনার নির্দেশ দিবেন।
শিক্ষার্থীরা ক্বারীর পিছনে আয়াতগুলো পুনরাবৃত্তি করবে, তারপর শিক্ষক তাদের মধ্য থেকে একজনকে তার সহপাঠীদের সামনে পড়ার জন্য বেছে নিবেন।
ধাপ (২)
আয়াতগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করার জন্য কিছু ছাত্রকে বেছে নেওয়া, তারপর সে বিষয়ে বাকি আয়াতের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণসহ তাদের সাথে আলোচনা করা।
ধাপ (৩)
ছাত্রদের একটি নির্দেশনামূলক মানচিত্র প্রদর্শন করুন যা আয়াতগুলোতে থাকা ইলাহী আদেশগুলোর ব্যাখ্যা করে।
তাদের সাথে সে বিষয়ে আলোচনা করুন, যাতে প্রতিটি আদেশ এবং আয়াতে তার নির্দিষ্ট স্থানের মাঝে সম্পর্ক স্থাপিত হয়।
ফলাফল:
প্রত্যেক ছাত্রকে আয়াতগুলো নিয়ে পুনঃচিন্তা করতে ও সেগুলো থেকে কী শিক্ষা করা যায় তা বের করতে বলুন, এভাবে যে, প্রত্যেকে ছাত্র তার বইয়ে সাব্যস্তকৃত বিষয়টি লিখবে, অতঃপর আপনি তাদের উত্তরগুলো সম্পর্কে জানুন।
তাদের সামনে একটি বোর্ড পেশ করুন, যেখানে ফায়দার দিকসমূহ এবং আয়াতগুলো কী নির্দেশ করে তা একত্রিত থাকবে ।
প্রতিটি ছাত্র যা লিখেছে তার সাথে বোর্ডে প্রদর্শিত বিষয়ের তুলনা করবে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, মুমিন এবং কাফিরদের মাঝে তুলনা করার পদ্ধতি জানা।
লক্ষ্য নং ২
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বই থেকে প্রথম কার্যক্রম পড়তে বলা হবে। তারপর তাদের প্রত্যেকে একটি বহিরাগত কাগজে তার উত্তর লিখবে।
তাদের উত্তর প্রদানের সমাপ্তি ঘোষণার পর, কিছু শিক্ষার্থীকে উত্তর নিয়ে আলোচনা করতে ও বোর্ডে সঠিক উত্তর লেখার জন্য বেছে নিন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, আয়াতগুলোর মাঝে কীভাবে সম্পর্ক যুক্ত করতে হবে সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদেরকে প্রশিক্ষণ দেয়া।
লক্ষ্য নং ৩, ৪
ছাত্রদের সামনে একটি বোর্ড প্রদর্শন করুন যার মাঝে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তারপর পর্যায়ক্রমে একজনকরে ছাত্র নির্ধারণ করুন যারা তাদের সহপাঠীদের সামনে কার্যক্রমের বিষয়গুলো পাঠ করবে।
শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিটি বিষয়ের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করুন তারপর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিষয়টির কারণ ব্যাখ্যাসহ সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য তার গবেষণা ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে বলুন এবং তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন সে বিষয়ে মন্তব্য করাসহ। সাথে তাদের নিকট সঠিক উত্তর ব্যাখ্যা করুন ও তা বোর্ডে লিখুন যেন তারা তা খাতায় লিখে নিতে পারে।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দলে ভাগ করুন, যাতে প্রতিটি দল তাদের বইয়ের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করে।
প্রতিটি দলের সদস্যদের উত্তরে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের পাশ দিয়ে চলাচল করুন।
প্রতি দুই দলকে তাদের উত্তর বিনিময় করতে বলুন, এভাবে যে, প্রতিটি দল অন্য দলের উত্তর সংশোধন করবে।
এক গ্রুপ কর্তৃক অন্য গ্রুপের আবিষ্কৃত ভুলগুলো চিহ্নিত করুন এবং সেগুলো সংশোধন করার পদ্ধতি বলুন।
অবশেষে তাদেরকে নমুনামূলক উত্তর দেখান।
প্রশ্ন ১: ()-()-()-()-()।
* শিক্ষনীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
ছাত্রদের ভালো কাজে অটল থাকার জন্য অনুপ্রাণিত করা; যেন তারা তাদের জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পায় এবং এর সুফলের স্বাদ অনুভব করে।
ছাত্ররা ব্যক্তি ও সমাজের উপর ঈমান এবং ভাল কাজের প্রভাব বিষয়ক পাঠ থেকে যা শিখেছে, তা তাদের পরিবার ও সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা।
ষষ্ঠ পাঠ: সূরা আল-‘আদিয়াত এবং আল-কারি‘আহ এর তাফসীর
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
[(العَادِيَات) ধাবমান - (ضَبْحًا) উর্ধ্বশ্বাসে - (المُورِيَات) বিচ্ছুরণ সৃষ্টিকারী - (المُغِيرَات ) হামলাকারী - (صُبْحًا) প্রভাতে - (كَنُودٌ) অকৃতজ্ঞ - (القَارِعَةُ) প্রলয়সংকেত - (المَبْثُوث) বিক্ষিপ্ত - (هَاوِيَةٌ) হাবিয়া]।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - রেকর্ডকৃত অডিও মাধ্যম
সম্মানিত দু‘টি সূরা)।
পাঠদান কৌশল:
(আলোচনা - কল্পনামূলক কৌশল - সহযোগিতামূলক শিক্ষা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
• আল্লাহ তা‘আলার নিয়ামতের সম্মান করা।
• কিয়ামতের দিনের মহত্ব অনুভব করা।
• সত্যকে আঁকড়ে ধরা এবং তার প্রতি আহ্বান করা।
• কাফির ও পাপীদের বৈশিষ্ট্যে গ্রহণ থেকে বিরত থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো জিজ্ঞাসা করুন: শেষ দিনের নামগুলো কী কী? আপনি সে দিনের ঘটনাবলী সম্পর্কে কী জানেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে পাঠের বিষয়বস্তুর দিকে নিয়ে যান।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক ছাত্রদের সামনে পাঠের সূরা দু’টি তেলাওয়াত করবেন, তারপর তাদেরকে আপনার সাথে পুনরাবৃত্তি করতে বলবেন।
সহপাঠীদের সামনে সেগুলো তেলাওয়াত করার জন্য দু'জন দক্ষ ছাত্রকে বেছে নিবেন, আর অন্য ছাত্ররা তাদের অনুসরণ করবে; শ্রুত আয়াতগুলো নিয়ে গভীর চিন্তা সহকারে।
ধাপ (২)
ছাত্রদের অনুপ্রাণিত করতে নিম্নের প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করুন এবং তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন, যার মধ্যে এটা হতে পারে যে, শ্রোতার নিকট বিষয়টি নিশ্চিত ও প্রমাণ করতে তিনি শপথ করবেন।
প্রশ্ন: আপনি যখন কারো নিকট কোন বিষয় নিশ্চিত করতে চান এবং সে যদি আপনার কথায় আশ্বস্ত না হয়, তখন আপনি কী করবেন?
শিক্ষক সূরা আল-আদিয়াতের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন।
প্রতিটি আয়াতকে পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করতে এবং তার অস্পষ্ট অর্থ ব্যাখ্যা করতে আগ্রহী থাকা।
শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তার অর্থ ব্যাখ্যা করতে সুযোগ করে দেয়া।
ধাপ (৩)
শিক্ষক কল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করে সূরা আল-কারিআহ এবং তাতে অন্তর্ভুক্ত কিয়ামতের দিনের ভয়াবহতা ব্যাখ্যার দিকে অগ্রসর হবেন।
ফলাফল:
ছাত্ররা শুরু থেকে পাঠের সাথে সম্পর্কিত যে চিন্তাধারাগুলো উপস্থাপন করেছে তা নিয়ে শিক্ষক তাদের সাথে পর্যালোচনা করবেন।
আয়াত অধ্যয়নের আলোকে তাদের নিজেদেরকে এটি মূল্যায়ন করতে বলা হবে।
আয়াতগুলো থেকে শিক্ষণীয় বিষয় ও উপদেশাবলী নির্ধারণে শিক্ষক তাদের প্রতি দু’জনকে পরস্পর সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিবেন
তাদের বইগুলোতে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষণীয় বিষয়গুলো জানতে নির্দেশ দেওয়া হবে।
এগুলো ও তাদের উপস্থাপিত বিষয়গুলোর মাঝে তুলনা করা, সাথে তাদের কাজের জন্য উপযুক্ত সমর্থন ও সাহস দেয়া।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাল কাজগুলো চিহ্নিত করা যা একজন মুসলিম তার নেকীর পাল্লায় দেখতে চায়। লক্ষ্য নং ২
ছাত্রদের সামনে প্রথম কার্যক্রম সংবলিত একটি বোর্ড প্রদর্শন করুন এবং সহপাঠীদের নিকট আমলের ধরন পাঠ করার জন্য পর্যায়ক্রমে একজন করে ছাত্রকে নির্বাচন করুন।
শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিটি প্রকারের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করুন তারপর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে যে সমস্ত আমল নেকীর পাল্লা ভারী করে তার উদাহরণে পৌঁছানোর জন্য তার গবেষণা ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে বলুন এবং তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন সে বিষয়ে মন্তব্য করাসহ। সাথে তাদের নিকট সঠিক উত্তর ব্যাখ্যা করুন ও তা বোর্ডে লিখুন যেন তারা তা খাতায় লিখে নিতে পারে।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য একাকভাবে, আয়াতগুলোর মাঝে কীভাবে সামঞ্জস্য বিধান করা যায় সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ২, ৩
শিক্ষক দ্বিতীয় কার্যক্রমে থাকা ইবারতগুলো প্রদর্শনী স্ক্রীনের মাধ্যমে প্রদর্শন করবেন। সেগুলো পড়ার জন্য কিছু শিক্ষার্থীকে নির্বাচন করবেন এবং তারপরে তার অর্থ ও লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা করবেন।
তারপর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কার্যক্রমে থাকা দ্বিতীয় অংশটি একা একা সম্পাদন করতে এবং একটি পৃথক কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ করবেন, অতঃপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং তাদের দেয়া সবচেয়ে সঠিক ও নির্ভুল উত্তরটি বাছাই করে উত্তরদাতার প্রশংসা করাসহ তার মূল্যায়ন করুন।
فَأمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِيْنُهُ (6) অতঃপর যার পাল্লাসমূহ ভারী হবে(৬), فَهُوَ فِيْ عِيْشَةٍ رَاضِيَةٍ (7) কাজেই সে যাপন করবে সন্তোষজনক জীবন(৭); وَ أمَا مَنْ خَفَتْ مَوَازِيْنُهُ (8) আর যার পাল্লাসমূহ হাল্কা হবে (৮) (فأمُّهُ هَاوِيةٌ). তার স্থান হবে ‘হাওয়িয়াহ্’।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
বোর্ডে পর্যায়ক্রমে প্রশ্নগুলো লিখার প্রস্তাব করা হবে।
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য একে অপরের পাশে থাকা দুই শিক্ষার্থীকে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
কিছু শিক্ষার্থীকে অপরিকল্পিতভাবে বেছে নেয়া হবে বাকি শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য ।
প্রস্তাব করা হচ্ছে যে, আপনি ভুল উত্তরদাতাকে পাঠের বিষয়বস্তুটি পুনরায় পাঠ করতে ও তা থেকে সঠিক উত্তর বের করতে বলুন।
প্রশ্ন ১: (✓)-(×) - (✓)- (✓)- (×)।
* শিক্ষাগত এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
আল-কুরআনুল কারীমের সতর্ক ও ভীতি প্রদর্শনমূলক আয়াতগুলোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে পথনির্দেশ দেয়া, আর তা হল বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করা এবং ইবাদতে দ্রুত অগ্রসর হওয়া।
পরিবারের সদস্যদের নিকট স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করা যে, বিচারের দিন দুই ধরণের লোক থাকবে: একটি দল যাদের নেক আমলের পাল্লা ভারী হবে ফলে তারা জান্নাত লাভ করে সফল হবেন। আর অন্য দলটি যাদের খারাপ কাজের পাল্লা ভারী হবে, তাই তাদের আবাস হবে জাহান্নাম। আর ভালো কাজ করতে ও খারাপ কাজ ত্যাগ করতে উৎসাহিত করা।
ঈমান ও তাযকিয়ার অধ্যায়
প্রথম পাঠ: তাওহীদ ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (কুফর এবং শিরক)
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((الكفر) কুফর - (الشرك) শিরক - (النفاق) নিফাক - (الردة) মুরতাদ হওয়া)
পাঠদান উপকরণ:
(অডিও মাধ্যম যেখানে পাঠে উল্লেখিত কুরআনের আয়াতগুলো রেকর্ড করা হয়েছে - কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(ভুল উপলব্ধি সংশোধন - নির্দেশনামূলক চিত্র - স্ব-প্রশ্নকরণ - সাদৃশ্য উপস্থাপন - সমবায় শিক্ষা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- সকল প্রকার কুফর ও শিরকের নিন্দা করা।
- মুসলিমদের ওপর কুফর ও শিরকের ভয়াবহতা অনুধাবন করা।
- সকল প্রকার কুফর ও শিরক পরিহার করা।
পাঠের ভূমিকা:
বোর্ডে নিম্নলিখিত বাক্যটি লিখুন: (কিছু লোক বিশ্বাস করে যে কুফর কেবল আল্লাহর অস্তিত্বকে অস্বীকার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ), তারপর এটি সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলুন এবং তার বিশুদ্ধতার পরিমাণ নির্ধারণ করুন এবং পাঠ ও তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিতে তাদের উত্তরগুলোকে একটি ভূমিকা হিসেবে ব্যবহার করুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি পাঠের চিন্তাধারা ও উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্তকারী একটি নির্দেশনামূলক চিত্র প্রদর্শন করে পাঠের বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানকে সংগঠিত করতে পারেন; যা মূলত ছোট ও বড় কুফর এবং তার প্রকারভেদ সম্পর্কিত। আর তাদেরকে মানচিত্রটিকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে বলুন।
ধাপ (২)
স্ব-প্রশ্ন পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক প্রতি দুই শিক্ষার্থীকে এমন প্রশ্ন উপস্থাপন করতে সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিতে পারেন যেগুলোর উত্তর তারা পাঠ থেকে পেতে চায়।
প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করুন এবং শিক্ষার্থীদের সামনে ঝুলানো একটি বোর্ডে তা লিখুন। এই ধাপের অন্তর্ভুক্ত কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে এই প্রশ্নগুলোকে সমৃদ্ধ করা যেতে পারে।
প্রশ্নঃ কুফর বলতে কি বুঝায়?
প্রশ্নঃ বড় কুফর ও ছোট কুফরের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্নঃ বড় ও ছোট কুফরের কিছু উদাহরণ দাও।
প্রশ্নঃ বড় ও ছোট কুফরের প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্নঃ শিরকের প্রকারভেদ এবং প্রতিটি প্রকারের সংজ্ঞা ও উদাহরণ পেশ কর।
প্রশ্নঃ ছোট শিরকের পরিণতি কি?
ধাপ (৩)
শিক্ষক বড় কুফর ও ছোট কুফরকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরারর সাথে সাথে সেগুলোর সাথে সম্পর্কিত দলিল এবং দ্বীনি প্রমাণগুলো উপস্থাপন করা এবং নির্দিষ্ট অডিও মাধ্যমে কুরআনের আয়াতগুলো পেশ করার প্রতি আগ্রহী থাকবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা সেগুলো শুনতে পারে। আর শিক্ষক তাদের জন্য তা স্পষ্ট করবেন, তার অর্থ নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন এবং তার ব্যাখ্যা করবেন, এটি কিসের দিকে নির্দেশনা দেয় তা বর্ণনা করা এবং কুফরের প্রকারগুলোর বিষয়ে দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তা কতটা সম্পর্কিত তা স্পষ্ট করার জন্য৷
ধাপ (৪)
সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষক ছাত্রদের কাছে শিরকের নিম্নলিখিত ধরনগুলো উপস্থাপন করতে পারেন এবং তাদেরকে শিরকের প্রকার ও তার ধরনগুলো শনাক্ত করতে বলবেন এবং যে সঠিক উত্তর দিবে সে একটি ছোট বাক্যে সেই প্রকার সম্পর্কে যা জানে তা সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করবে।
একজন মানুষ আল্লাহর অদৃশ্য জ্ঞান সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করে।
একজন মহিলা অহংকার এবং দাম্ভিকতা বশত আল্লাহর আদেশ অনুসরণ করতে অস্বীকার করে।
একজন ব্যক্তি তার পুত্রকে অন্য একজন নিঃসন্তান ব্যক্তির বংশের সাথে সম্পৃক্ত করলেন।
দুই ব্যক্তির ঝগড়ার মধ্যে একজন গাইরুল্লাহর নামে শপথ করল।
* উপসংহার:
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে পাঠের উপাদানগুলোর একটি ফাঁকা নির্দেশনামূলক মানচিত্র উপস্থাপন করবেন এবং তাদের মধ্যে কিছু ছাত্রকে পাঠের একটি করে উপাদান লিখতে এবং তার ব্যাখ্যা করতে বেছে নিবেন, যদি তিনি অক্ষম হন, তবে অন্য একজন শিক্ষার্থী তা করবেন, এভাবে চলতে থাকবে যতক্ষণ না পাঠের সমস্ত উপাদানের পুনঃপাঠ শেষ হয়।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, বড় ও ছোট কুফর এবং শিরকের মাঝে তুলনা করা। লক্ষ্য নং ৪
শিক্ষক ছাত্রদের দুটি দলে বিভক্ত করবেন এবং কার্যক্রমে উল্লিখিত তুলনাটি এক সেট কার্ডে লিখে রাখবেন ও তা এলোমেলোভাবে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করবেন। তারপরে সেই কার্ডগুলো পালাক্রমে উপস্থাপন করবেন, যাতে প্রথম দল তাদের কার্ডে যে প্রকারটি আছে তারা তার সঠিক তুলনা উল্লেখ করবে এবং দ্বিতীয় দল দ্বিতীয় তুলনাটি মূল্যায়ন করাসহ উল্লেখ করবে।অতঃপর তাদের বইয়ে সঠিক তুলনা লিখতে নির্দেশ দিবেন।
বড় কুফর ও বড় শিরক। তুলনার দিক ছোট কুফর ও ছোট শিরক।
রাসূলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং দ্বীন নিয়ে তাচ্ছিল্য করা। এর কতিপয় সূরত হল: একজন মুসলিমের সাথে যুদ্ধ করা এবং কারো বংশের বিষয়ে অপবাদ দেওয়া।
এর ধারককে মিল্লাত থেকে বের করে দেয়। এর ধারককে মিল্লাত থেকে বের করে দেওয়া। এর ধারককে মিল্লাত থেকে বের করে দেয় না।
এর ধারক চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে এর ধারকের জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম এর ধারক চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না
এর কর্তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা আবশ্যক এর কর্তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এর কর্তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা আবশ্যক নয়
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, শিরক বা কুফরের ধরন স্পষ্ট করা।
লক্ষ্য নং ২
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় কার্যকলাপটি একা সম্পাদন করতে নির্দেশ দিন এবং একটি আলাদা কার্ডে তার উত্তর লিখতে বলুন। তারপরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল এবং সঠিক উত্তরগুলো সনাক্ত করে তাদের মূল্যায়ন করুন, সাথে সঠিক উত্তরদাতার নাম উল্লেখ করে প্রশংসা করুন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে,দ্বীন বা আল-কুরআনুল কারীম নিয়ে উপহাস করা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা।
লক্ষ্য নং ৫
যারা আল্লাহ তা‘আলার দ্বীনকে নিয়ে উপহাস করে তাদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা লিখতে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নির্দেশ দিন, তারপর তাদের বার্তসম্বলিত একটি কার্ড ডিজাইন করার দায়িত্ব দিন। এখন কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং শিক্ষার্থীদের তৎপরতার মূল্যায়ন করুন ও তাদের উপযুক্ত উৎসাহ দিন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ করুন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষক ছাত্রদেরক সামনে তার প্রত্যেকটি বাক্য একে একে উপস্থাপন করবেন। আর বাক্যটি সঠিক হলে তাদের হাত তুলতে বলবেন এবং তাদের কর্মক্ষমতা নিরীক্ষণ করবেন ও তাদের ভুল সংশোধন করে দিবেন।
প্রশ্ন ১: (✖) - (✖) - (✓) - (✖) - (✓)
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে তার উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দিবেন এবং তাদের উত্তর অবগত হতে তাদের পাশ দিয়ে যাবেন, আর তাদের মধ্যে ভুল উত্তরদাতাকে সঠিক উত্তরের নির্দেশনা দিবেন।
কুফর সকল আমলকে বাতিল করে দেয়।
অহংকার করা
তাবিজ ঝুলানো।
গণকদের অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী বলে বিশ্বাস করা।
আমল বাতিল করা।
শিক্ষক ছাত্রদের সামনে তৃতীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন। এরপর তার উপাদানগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য দু’জন ছাত্রকে নির্বাচন করবেন। আর অন্য দু’জনকে তাদের সহপাঠীদের উত্তর মূল্যায়ন করার জন্য বেছে নিবেন। সবশেষে তাদের বইয়ে লেখার জন্য তাদেরকে সঠিক উত্তরটি জানিয়ে দিবেন।
* শিক্ষনীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
প্রতিটি শিক্ষার্থী পাঠে উল্লিখিত কুরআনের আয়াতগুলো পুনরায় পাঠ করবে যা ছোট ও বড় উভয় প্রকার কুফর এবং শিরকের আকৃতির প্রতি ইঙ্গিত দেয়। বিভিন্ন উৎসে থেকে এগুলো ছাড়াও অন্যান্যগুলো সম্পর্কে জানবে, যতক্ষণ না তা এই আয়াতগুলোকে পুরোপুরি আয়াত্ব করে এবং এর মাধ্যমে কুফর ও শিরকের ভয়াবহতা অনুধাবন করে। আর তার আশেপাশের লোকদের এই প্রকারগুলো সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করবে। এভাবে চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না তা সকলে জানতে পারে।
দ্বিতীয় পাঠ: তাওহীদ ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (নিফাক ও রিদ্দাহ)
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((النفاق) কপটতা - (الرِّدَّة) ধর্মত্যাগ)
শিক্ষা সামগ্রী:
(শিক্ষামূলক বোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড - অডিও মাধ্যম)
পাঠদান কৌশল:
( সূচনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন - কথোপকথন, আলোচনা- উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত উপস্থাপন)
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- কপটতা এবং ধর্মত্যাগের ভয়াবহতা অনুধাবন করা।
- নিফাক ও ধর্মত্যাগের ধরন ও প্রকারগুলো থেকে বিরত থাকা।
- একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছে সাহায্য চাওয়া এবং অন্য কারো কাছ নয়।
পাঠের ভূমিকা:
সূচনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন পদ্ধতি ব্যবহারের সাহায্যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নের অবস্থান এবং পরবর্তী প্রশ্নগুলো উপস্থাপন করবেন। তিনি তাদের উত্তরগুলো অবগত হবেন এবং তার ভেতর ব্যতিক্রমটি বোর্ডে লিখবেন। তাদেরকে পাঠটি ভালোভাবে পড়ার জন্য সতর্ক করবেন। কারণ এর মাধ্যমে তারা নিজেরাই সঠিক উত্তরে পৌঁছাতে পারবে।
(আমরা কিছু লোককে শরীয়ত নিয়ে উপহাস করতে দেখি, তারা মুসলিমদের তুচ্ছ জ্ঞান করে এবং দ্বীনের শত্রুদের প্রশংসা করে। এসব লোকের শরয়ী পরিচয় কি? আর কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাদের হুকুম কি?)
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি বোর্ডে নিম্নলিখিত বাক্যটি লিখতে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে এর অর্থ ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
(একজন ব্যক্তির অন্তরে যা লালন করেন তার বিপরীত প্রকাশ করা। যদি এটি ইসলামী মৌলিক আকিদার সাথে সম্পর্কিত হয় তবে এটি বড় নিফাক এবং যদি এটি কিছু আমলের সাথে সম্পর্কিত হয় তবে এটি ছোট নিফাক)।
শিক্ষার্থীদের পাঠে অন্তর্ভুক্ত উপাদানগুলোর একটি ব্যাখ্যমূলক চিত্র দেখান, যাতে তারা এই চিত্র এবং পূর্ববর্তী ইবারত থেকে যা বুঝেছে তার মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করে।
ধাপ (২)
কথোপকথন ও আলোচনার পদ্ধতি ব্যবহার করে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সমনে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো উপস্থাপন করবেন এবং তাদের সাথে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর উপস্থাপন করার সময় এর সাথে সম্পর্কিত দলিল উপস্থাপন করবেন:
প্রশ্নঃ আক্বীদাগত নিফাক কী?
প্রশ্নঃ আক্বীদাগত নিফাকের কিছু উদাহরণ দিন।
প্রশ্নঃ আক্বীদাগত নিফাকের হুকুম কী?
প্রশ্নঃ আমলগত নিফাক কাকে বলে?
প্রশ্ন: আক্বীদাগত নিফাক এবং আমলগত নিফাকের মধ্যে পার্থক্য কী?
ধাপ (৩)
উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত উপস্থাপন পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক ছাত্রদের কাছে ধর্মত্যাগ ও এর সংজ্ঞা সম্পর্কিত নিম্নলিখিত উদাহরণ ও পরিস্থিতিগুলো উপস্থাপন করবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা তার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে:
একজন ব্যক্তি সালাত ও সাওম আদায় করেন কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার সাথে একজন অংশীদার আছেন বলে বিশ্বাস করেন ।
একজন ব্যক্তি প্রায়শই দ্বীনকে গালমন্দ করে, এই অজুহাতে যে সে ইচ্ছাকৃতভাবে তা করে না।
অপরজন জাদু শিখেছেন; এই অজুহাতে যে সে তা দ্বারা মানুষের চিকিৎসা করবে।
উপসংহার:
শিক্ষক প্রত্যেক ছাত্রকে নামধারী মুসলিম যারা ইসলামী শরীয়ত নিয়ে উপহাস করে এমন ব্যক্তিদের শরয়ী পরিচয় সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে পাঠের শুরুতে কী লেখা হয়েছে তা পর্যালোচনা করতে বলবেন এবং তাদের মতামত জানবেন, যাতে তারা পাঠ থেকে কতটা উপকৃত হয়েছে তা স্পষ্ট হয়।
প্রতিটি ছাত্র তার নোটবুকে একটি অনুচ্ছেদ লিখবেন যাতে তিনি পাঠ থেকে যা শিখেছেন তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিবেন এবং নিফাক ও দ্বীন ত্যাগের প্রতি ঘৃণা তৈরি করে এমন একটি বাক্য লিখবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, নিফাকের ধরনগুলো সম্পর্কে জান।
লক্ষ্য নং ২
কার্যক্রমের কাজগুলো পড়ুন এবং শিক্ষার্থীদের তার উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন। প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন ব্যক্তিকে বেছে নিন তাদের দল কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন করার জন্য। তারপর তাদের উত্তরের তুলনা করুন। সঠিকভাবে উত্তর দিতে এবং তারা পাঠ থেকে যা শিখেছে ভালোভাবে তা বিশ্লেষণ ও প্রয়োগ করতে সবচেয়ে সক্ষম গ্রুপটি চিহ্নিত করুন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, এমন আমলগুলো চিহ্নিত করা যার দ্বারা ব্যক্তি ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে যায়। লক্ষ্য নং ৫
ছাত্রদেরকে বাড়িতে একটি পৃথক কাগজে নিম্নলিখিত কার্যক্রমের একাকী উত্তর দিতে বলুন ৷ উত্তরগুলো পরবর্তী ক্লাসে আপনার কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং আপনি তাদের সাথে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করবেন, সবচেয়ে সৃজনশীল ব্যক্তিকে একটি পুরস্কার দেবেন এবং সহপাঠীদের সামনে তাকে সম্মানিত করবেন।
মূল্যায়ন
নিচের নিয়মে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
শিক্ষার্থীদের মধ্যে ফ্ল্যাশ কার্ড বিতরণ করুন, যার অর্ধেকটি (✓) চিহ্ন এবং বাকি অর্ধেকটি (✖) চিহ্ন বিশিষ্ট হবে, তারপর প্রথম প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যগুলো পর্যায়ক্রমে জিজ্ঞাসা করুন, যাতে শিক্ষার্থীরা বাক্যের জন্য উপযুক্ত কার্ডটি ওপরে তুলতে পারে এবং যে ছাত্রটি ভুল করেছে তার ভুল নিয়ে আলোচনা করার জন্য তাকে চিনে রাখুন।
প্রশ্ন ১: (✓) - (×) - (×) - (✓) - (✓)
তিনজন শিক্ষার্থী বেছে নিন যারা প্রত্যেকে দ্বিতীয় প্রশ্নে উল্লিখিত উপাদানগুলোর একটির উত্তর দিবে এবং তাদের কেউ ভুল করলে তাকে বই থেকে সঠিক উত্তরটি বের করার নির্দেশ দিন।
প্রশ্ন ২: তার বিভিন্ন রূপ থেকে সতর্ক করা - মূর্তিকে সাজদা করা - আক্বিদাগত
প্রতিটি শিক্ষার্থী পৃথকভাবে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং তাদের মধ্যে কিছু ছাত্রকে উত্তর পড়ার জন্য বেছে নিন, সাথে তাদের সহপাঠীরা তাদের মূল্যায়ন করবে। আর তাদের কেউ ভুল করলে সঠিক উত্তরটির সাথে পরিচয় করিয়ে দিন।
* শিক্ষনীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তাদের বাস্তব জীবন ও তাদের আচার আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিন:
তারা তাদের সমাজে যে সকল ধরনের নিফাক ও দ্বীন ত্যাগ দেখেন তা প্রত্যাখ্যান করা এবং তাতে পতিত হওয়া থেকে লোকেদেরকে সতর্ক করা, তা এককভাবে হোক বা সমষ্টিগতভাবে হোক অথবা তাদের আশেপাশের মানুষ বা উলামাদের নিকট নির্দেশনা চাওয়ার মাধ্যমে হোক।
তৃতীয় পাঠ: বিদা‘আত এবং এর প্রকারসমূহ।
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((البدعة) বিদআত-(رَدٌّ) প্রত্যাখ্যান-(مُحْدَثَاتُهَا) নতুন আবিষ্কার-(ضَلَالَةٌ) পথভ্রষ্টতা)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক ছবি)।
পাঠদান কৌশল:
(সূচনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন - পর্বাভাস - নির্দেশনামূলক মানচিত্র - স্ব-প্রশ্নকরণ - আলোচনা)
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
বিদআতের অবস্থাকে ভয়ানক জানা।
শরী‘আত সম্মত নয় এমনভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করা থেকে দূরে থাকা।
-দ্বীনের মধ্যে নতুন সৃষ্টি এবং বিদআতের ভয়াবহতা অনুধাবন করা।
- বিদআত শনাক্তকরণের নীতিগুলো মেনে চলার ব্যাপারে আগ্রহী থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক, আপনি ডিসপ্লে স্ক্রিন ব্যবহার করে পাঠটির ভূমিকা উপস্থাপন করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের নিম্নের অনুচ্ছেদটি প্রদর্শন করুন। তাদের এটি নিয়ে চিন্তা করতে এবং তারা এটি সম্পর্কে কী অনুভব করে তা বলতে বলুন। পাঠের বিষয় সম্পর্কে পূর্বাভাস করার জন্য তাদের সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার ক্ষমতাকে ব্যবহার করবে।
ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো বিদ‘আত চালু করল এবং তাকে সুন্দর মনে করল, সে ধারণা করল যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালাতে খিয়ানত করেছেন; কেননা আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ( الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ ) (আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম)। [আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৩] সুতরাং সেদিন যে বিষয় দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তা আজও দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে না। (শাত্বিবীর আল-ই‘তিসাম, ১/৪৯)।
বিদ‘আতের ভয়াবহতা সম্পর্কে ইমাম মালিকের বক্তব্যের তাৎপর্য কী?
তারপর শিক্ষার্থীদের পাঠের বিষয় সম্পর্কে পরিচয় করিয়ে দিন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
নির্দেশনামূলক মানচিত্র পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক ছাত্রদের সামনে একটি বোর্ড উপস্থাপন করবেন যাতে বিদআতের পরিচয়, তার প্রকারসমূহ ও হুকুমের একটি মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং তাদের এটি নিয়ে চিন্তা করতে বলবেন। তারপর তাদের প্রত্যেকে প্রতিটি উপাদান সম্পর্কে একটি করে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবেন। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে বিদআতের সাথে সম্পর্কিত তথ্যসমূহ তাদের কাছে স্পষ্ট হবে ও প্রকাশ পাবে।
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন গ্রহণ করবেন এবং বোর্ডের একপাশে তা লিখে রাখবেন।
ধাপ (২)
শিক্ষক পূর্ববর্তী ধাপে শিক্ষার্থীদের দ্বারা উত্থাপিত প্রশ্নগুলো এবং কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে তাদের সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে সহযোগিতা নিতে পারেন, যে প্রশ্নগুলো উত্তরের মাধ্যমে বিদআতের সংজ্ঞা এবং তার প্রকারগুলো সম্পর্কিত তথ্যসমূহ স্পষ্ট হবে। এতে নিম্নের প্রশ্নগুলো থাকতে পারে:
প্রশ্নঃ বিদআতের সংজ্ঞা দাও।
প্রশ্নঃ দ্বীনের ভেতর বহু প্রকারের বিদআত রয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি চিহ্নিত করুন।
প্রশ্ন: পাঠ থেকে যেমন বুঝেছেন তার আলোকে বিদআতের একটি উদাহরণ দিন।
প্রশ্নঃ উদাহরণসহ বিদআতের হুকুম বর্ণনা করুন।
ধাপ (৩)
ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে শিক্ষক ছাত্রদের সাথে দ্বীনের মাঝে বিদআত আবিস্কার থেকে সকর্ত করার পদ্ধতি নিয়ে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণসহ আলোচনা করবেন, সাথে বিদআত শনাক্তকরণের নীতিমালা উপস্থাপন করবেন। আর শিক্ষার্থীদের সামনে এই নীতিমালা নির্দেশক কিছু ছবি উপস্থাপন করবেন।
ফলাফল:
শিক্ষক বোর্ডে একটি বৃত্ত আঁকবেন ও এর ভিতরে লিখবেন (নির্দেশনা এবং পরামর্শ) এবং তার থেকে বেশ কয়েকটি তীরচিহ্ন বের করবেন। তারপর কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিবেন প্রতিটি তীরচিহ্নের পাশে পাঠ থেকে শিখেছে এমন একটি নির্দেশা এবং পরামর্শ লিখার জন্য, সাথে তাদেরকে সন্তোসজনক ও ভালো বাক্য তৈরির জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, বিদআতের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে পার্থক্য করার পদ্ধতি বিষয়ে ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দেয়া। লক্ষ্য নং ৪
শিক্ষক ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে প্রথম কার্যক্রমে বর্ণিত বিদআতগুলো প্রদর্শন করবেন, কিছু শিক্ষার্থীকে সেগুলো পড়ার জন্য নির্বাচন করে তার অর্থ ও লক্ষ্য নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন।
তারপর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কার্যক্রমের দ্বিতীয় অংশটি এককভাবে সম্পাদন করতে এবং একটি পৃথক কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশনা দেয়া হবে। অতঃপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে সঠিক ও নিখুঁত উত্তর চিহ্নিত করে সেগুলোর মূল্যায়ন করুন, সঠিক উত্তরদাতার নাম উল্লেখ করে প্রশংসা করাসহ।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, দ্বীনের মাঝে বিদআত ও নতুন আবিস্কারের থেকে সতর্ককরণ। লক্ষ্য নং ২
ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে কার্যক্রমে থাকা হাদীসটি শিক্ষার্থীদের সামনে প্রদর্শন করুন এবং এটি পড়ার জন্য একজন দক্ষ ছাত্রকে বেছে নিন। তারপর তাদের সাথে কার্যক্রমের দু’টি প্রশ্ন ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণসহ আলোচনা করুন; সেগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য এবং সঠিক উত্তরদাকে শক্তিশালী করুন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, বিদআতের ভয়াবহতার বিষয়ে অবগত হওয়া।
লক্ষ্য নং ২, ৫
তৃতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য শিক্ষক ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে নির্দেশ দিবেন। তারপর পর্যায়ক্রমে কার্যক্রমের উপাদানগুলো উল্লেখ করবেন এবং প্রতিটি দলের উত্তরগুলো জানবেন। সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য তাদের সাথে আলোচনা করবেন। তারপর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপটি চিহ্নিত করে তার সদস্যদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
বোর্ডে ধরাবাহিকভাবে প্রশ্নগুলো লিখার প্রস্তাব করা হবে।
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য পাশাপাশি থাকা দুইজন শিক্ষার্থীকে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলা উত্তম।
অপরিকল্পিতভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, যাতে তাদের উত্তরগুলো অবশিষ্ট সহপাঠীদের কাছে উপস্থাপন করে।
ভুল উত্তরদাতাকে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় পড়া ও তার থেকে সঠিক উত্তর বের করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
প্রশ্ন ১: (✓) - (×) - (✓)।
প্রশ্ন ২: প্রত্যাখ্যান - নতুন সৃষ্টি করা - কবর উঁচু করা - তারাবীহর সালাত।
* শিক্ষনীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
নিম্নের পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশনা দিন:
ছাত্ররা বিদআত সম্পর্কে যা শিখেছে তা তাদের পরিবারের সাথে শেয়ার করবে, সাথে সুন্নাহ মেনে চলার গুরুত্ব এবং আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার জন্য কুরআন ও সুন্নাহর দিকে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিবে।
চতুর্থ পাঠ: আত্মশুদ্ধির ফযীলত।
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((التزكية) শুদ্ধ করা - (الرشد) সঠিক পথ - (الرِّياء) লৌকিকতা)।
শিক্ষাদান উপকরণ: (ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)
পাঠদান কৌশল:
(গল্প বর্ণনা পদ্ধতি - আদর্শ পদ্ধতি - সমবায় শিক্ষা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
তাযকিয়াতুন নাফস বা আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব অনুধাবন করা।
- তাযকিয়াতুন নফসের জন্য চেষ্টা করা ও আগ্রহী হওয়া।
- অন্তরের রোগসমূহ থেকে দূরে থাকা। যেমন শিরক ও লৌকিকতা।
- তাযকিয়াতুন নফসের ব্যাপারে নবী ও সৎলোকদের অনুসরণ করা।
পাঠের ভূমিকা:
আত্মাকে শুদ্ধ, পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র করার ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের গুরুত্ব দেয়ার বিষয়টি ছাত্রদের জানান। কারণ তারা যুহদ ও রাকায়েক (অন্তরকে আখেরাত মুখী করা) বিষয়ে অসংখ্য একক গ্রন্থ রচনা করেছেন। বরং পূর্ববর্তী ইমামগণ আহলুস সুন্নাহর আচরণগত এবং নৈতিক গুণাবলীকে আকিদার কিতাবেও উল্লেখ করতেন। তারপর তারা এ থেকে কী শিক্ষা গ্রহণ করেছে তা জিজ্ঞাসা করুন। আর পাঠের বিষয়ে না পৌঁছা পর্যন্ত তাদের সাথে এটি নিয়ে আলোচনা করুন, তারপর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি একটি সমবায়মূলক শিক্ষার কৌশল দিয়ে শুরু করুন এবং ছাত্রদের কয়েকটি দলে ভাগ করুন। তারপর তাযকিয়ার অর্থ এবং কীভাবে এটি অর্জন করা যায় তা নির্ধারণ করার জন্য ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে দায়িত্ব দিন।
অতঃপর তারা কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা নিয়ে মৌখিকভাবে আলোচনা করুন; তাদেরকে মূল্যায়ন করা এবং সঠিক উত্তরটি জানানোর জন্য।
ধাপ (২)
আপনি আদর্শ পদ্ধতি ব্যবহার করুন। তাদের সাথে তাযকিয়াতুন নফস (আত্মশুদ্ধি) ও তা চর্চার গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করুন, যতক্ষণ না আত্মশুদ্ধির ফলাফল অর্জন এবং তাদের নিকট তা স্পষ্ট হয়।
কিছু ছাত্রকে তা বোর্ডে লিখতে বলুন।
ধাপ (৩)
পাঠের শেষে আপনি পাঠ এবং এর মৌলিক উপাদানগুলো সম্পর্কে একটি উন্মুক্ত সংলাপ পরিচালনা করুন।
এটি ছাত্ররা সম্পাদন করবে আর আপনি শুধু তাদের পরামর্শ প্রদান ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এটি পরিচালনা করবেন।
ফলাফল:
ছাত্রদেরকে পাঠের কিছু মৌলিক উপাদান ও পূর্ববর্তী কথোপকথনের সারমর্ম বোর্ডে লিখতে বলা হবে। আর নিম্নের বাক্যগুলোকে তাতে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে:
তাযকিয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হল : আত্মাকে মন্দ ও পাপ থেকে পবিত্র করা।
তাযকিয়া দুটি জিনিস দ্বারা অর্জিত হয়: অন্তরের রোগ থেকে আত্মাকে শুদ্ধ করা এবং আল্লাহ তা‘আলার জন্য তাওহীদের বাস্তবায়ন করা।
আত্মশুদ্ধি নবীদের অন্যতম কাজ - আত্মার পরিশুদ্ধি সাফল্যের একটি অন্যতম মাধ্যম।
আত্মশুদ্ধি উচ্চ মর্যাদা অর্জনের একটি মাধ্যম।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, আত্মপর্যালোচনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ৪
শিক্ষক প্রত্যেক ছাত্রকে কার্যক্রমে উল্লিখিত হাদীসটি পড়তে নির্দেশ দিবেন। আর তাদের সাথে এতে অন্তর্ভুক্ত শব্দাবলীর অর্থের ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবেন, সাথে সাথে প্রেক্ষাপটের আলোকে তার অর্থ উপস্থাপনে উৎসাহিত করবেন। তারপর তাদের সাথে তার ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করবেন। আর কার্যক্রমের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার জন্য কিছু ছাত্রকে বেছে নিবেন এবং তাদের উত্তরগুলো সংশোধন করে দিবেন। তারপর সেগুলো বোর্ডে লিখে দিবেন যেন তারা তাদের বইয়ে লিখে নিতে পারে।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, আত্মশুদ্ধির উপর ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দেয়া।
লক্ষ্য নং ৩
প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করুন যাতে কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। উত্তর দেওয়া শেষ হলে তাদের কার্ডগুলো সংগ্রহ করে তা সংশোধন করুন, তারপর সেরা উত্তরটি চয়ন করুন এবং তার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তা উপস্থাপন করুন।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
নিম্নের প্রশ্নগুলো সুন্দরভাবে পড়া, তারপর আলাদা কার্ডে তার উত্তর প্রদান করা।
মূল্যায়নের জন্য প্রতিটি শিক্ষার্থী তার কার্ডটি একজন সহপাঠীর কার্ডের সাথে পরিবর্তন করবে, তারপর কার্ডগুলো একত্র করা হবে।
ছাত্রদের সামনে মূল্যায়ন করার জন্য তার থেকে অপরিকল্পিতভাবে কিছু কার্ড বেছে নেওয়া হবে; যেন তারা সঠিক উত্তর ও ভুল উত্তর সম্পর্কে জানতে পারে।
কার্ডটির মালিক শিক্ষার্থী এবং যিনি এটি সংশোধন করেছেন তার নাম উল্লেখ করা।
প্রশ্ন ১: (X) - (√) - (√) - (√) - (X)
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
বই, প্রবন্ধ, বা লেকচার অধ্যয়নের মাধ্যমে পাঠের উপাদান সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করা; যাতে তিনি এই চিন্তাগুলো উপলব্ধি করতে পারেন এবং এর মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব অনুভব করেন। সাথে আত্মার অনিষ্ট ও মন্দ থেকে মুক্তির মাধ্যমে এটি অর্জনের জন্য আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য প্রার্থনা করবেন।
পঞ্চম পাঠ: তাযকিয়াতুন নাফস বা আত্মশুদ্ধির পদ্ধতিসমূহ:
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((التزكية) শুদ্ধি - (الرشد) সঠিক পথ - (الرِّياء) লৌকিকতা)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(স্ব-প্রশ্ন করা -সমবায় শিক্ষা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- মানুষের আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব অনুভব করা।
- নফসের দোষ সংশোধন করতে আগ্রহী থাকা।
- আত্মশুদ্ধির প্রতিবন্ধকতা এড়িয়ে চলা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের এই পরিস্থিতি জানিয়ে পাঠের প্রস্তুতি নিন: আবদুল্লাহ এবং মুহাম্মদ তাদের সমাজ সংস্কারের কথা ভাবতে বসলেন এবং তারা আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীতে সমাধান খুঁজে পেলেন: إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنفُسِهِمۡۗ: “নিশ্চয় আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে।” [সূরা আর-রা‘দ, আয়াত: ১১] ফলে তারা নিজেদের আত্মশুদ্ধি দিয়ে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিল, কিন্তু তারা পরস্পর জিজ্ঞাসা করল: একজন মুসলিম কীভাবে নিজেকে পরিবর্তন করবে? তারপর আপনি তাদের বলুন যে আজকের পাঠটি এটিই ব্যাখ্যা করবে এবং বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি সমবায় শিক্ষণ কৌশল দিয়ে শুরু করুন এবং পাঠকে বিভিন্ন অংশে ও ভাগে বিভক্ত করুন। তারপর ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে তাদের নির্ধারিত অংশটি পড়ার জন্য দায়িত্ব দিন।
আত্মা সংস্কারের উপায়গুলোর মধ্যে একটি ব্যাখ্যা করা এবং এভাবে প্রতিটি দলের জন্য একটি করে অংশ নির্ধারণ করা
তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা নিয়ে মৌখিকভাবে আলোচনা করা এবং মনে রাখার জন্য বোর্ডে সঠিকটি লেখা।
ধাপ (২)
স্ব-প্রশ্ন পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন যেন তারা প্রত্যেকে পাঠ থেকে কী জানতে চায় সে সম্পর্কে দুটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে।
আপনি বোর্ডে তাদের প্রশ্নগুলো লিখুন, তারপর তাদের সাথে প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে আলোচনা করুন।
ফলাফল:
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের নোটবুকে শিরোনাম ও চিন্তাধারা আকারে পাঠটি লিখতে বলুন, যেন মুখস্ত করার সময় তার সহযোগিতা গ্রহণ করা যায়।
কিছু ছাত্রকে লিখিত কাগজপত্রের সাহায্য ছাড়াই মৌখিকভাবে পাঠের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করতে বলুন এবং যারা এতে ভালো করবে তাদের সম্মানিত করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, তাযকিয়ার উপায়গুলো বের করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ১
ছাত্রদের সামনে প্রথম কার্যক্রম সম্বলিত একটি বোর্ড প্রদর্শন করুন। কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত সকল ধরণের কার্ড স্পষ্ট করতে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করুন। কার্ডের অন্তর্গত তাযকিয়ার সঠিক উপায়গুলো পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতিটি ছাত্রকে তার আবিষ্কার ক্ষমতা ব্যবহার করতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন ও তার উপর মন্তব্য করুন এবং তাদের জন্য সঠিক উত্তর ব্যাখ্যা করুন। আর তাদের নোট বুকে লিখে নেয়ার জন্য তা বোর্ডে লিখুন।
সিয়াম পালন করা।
যাকাত আদায় করা।
আল্লাহ তা‘আলার যিকির ও সালাত আদায় করা।
মৃত্যুকে স্মরণ করা।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, তাযকিয়ার প্রতিবন্ধকতাগুলো বের করতে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। লক্ষ্য নং ৪
শিক্ষক কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে নির্দেশ দিবেন। তারপরে কার্যক্রমের উপাদানগুলো উল্লেখ করবেন ও প্রতিটি দলের উত্তর জানবেন এবং সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য তাদের সাথে আলোচনা করবেন। তারপর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপটি চিহ্নিত করে তার সদস্যদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
অহংকার করা, সীমালঙ্ঘন করা, জুলুম করা এবং আল্লাহ তা‘আলার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা, সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং তা গ্রহণ না করা।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করতে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
বোর্ডে পর্যায়ক্রমে প্রশ্নগুলো লিখার সুপারিশ করা হবে।
প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য পাশাপাশি থাকা দুই শিক্ষার্থীকে পরস্পর অংশগ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া উত্তম।
অপরিকল্পিতভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, যাতে তাদের উত্তরগুলো অবশিষ্ট সহপাঠীদের কাছে উপস্থাপন করে।
তাদের ভুল উত্তরদাতাকে পাঠের অন্তর্ভুক্ত বিষয় পুনরায় পাঠ করতে ও তার থেকে সঠিক উত্তর বের করতে বলা হবে।
প্রশ্ন ১: (√) - (√) - (X)
প্রশ্ন ২: (আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ) - (পরিশ্রম করা) - (কবরসমূহ)
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
নিম্নের পদ্ধতি অনুসরণ করে শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার গুরুত্ব সম্পর্কে নির্দেশনা দিন:
ছাত্রদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা উত্তম। প্রতিটি দলকে একটি কাগজের বড় বোর্ড ডিজাইনে অংশগ্রহণ করতে বলুন যেখানে আত্মাকে সংস্কারের উপায়গুলোর একটি তালিকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং অন্য একটি বোর্ড ডিজাইন করবে যেখানে আত্মশুদ্ধির প্রতিবন্ধকগুলো থাকবে। সেরা বোর্ডগুলো বেছে নিয়ে তা তাদের শ্রেণীকক্ষে ঝুলিয়ে দিন।
ষষ্ঠ পাঠ: অন্তরের আমলসমূহ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((المحبة) মহব্বত-(الرجاء) আশা-(الخوف) ভয়)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(গল্প বর্ণনা পদ্ধতি - বুদ্ধি খাটানো বা ব্রেইন স্টর্মিং পদ্ধতি - সহযোগিতামূলক শিক্ষা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- অন্তরের কর্মসমূহের গুরুত্ব অনুভব করা।
- সমস্ত কাজের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভ করা।
- দৃঢ় বিশ্বাস করা যে আল্লাহ তা‘আলা প্রকাশ্য এবং গোপন সব কিছু সম্পর্কে অবগত।
- আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ও নিয়ামত স্বীকার করা।
পাঠের ভূমিকা:
আপনার ছাত্রদের বইটিতে থাকা ভূমিকা দ্বারা আরম্ভ করুন এবং তাদের বলুন যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: “নিশ্চয় শরীরের মধ্যে একটি মাংসের টুকরা রয়েছে, যখন সেটি ভাল হয়ে যায়, তখন সমস্ত শরীরই ভাল হয়ে যায়। আর যখন সেটি নষ্ট হয়ে যায়, তখন সমস্ত শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। সেটি হচ্ছে: ক্বলব তথা অন্তর।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন অন্তরকে এত মর্যাদা দিয়েছেন? আপনার শিক্ষার্থীদের সাথে তার উত্তর নিয়ে আলোচনা করুন, তারপর তাদের নতুন পাঠের বিষয়ের দিকে নিয়ে যান এবং শিরোনামটি বোর্ডে লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
বুদ্ধি খাটানো বা ব্রেইন স্টর্মিং কৌশল ব্যবহার করে; ছাত্রদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন। তারপর নিয়তের অর্থ এবং তার হুকুম নির্ধারণের জন্য ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে দায়িত্ব দিন।
উত্তরগুলোর মাঝে তুলনা করার জন্য প্রতিটি দল তাদের ফলাফল একটি পৃথক কাগজে লিখবে।
ধাপ (২)
কিছু শিক্ষার্থীকে কতিপয় অন্তরের আমল অন্তর্ভুক্তকারী একটি বোর্ড উপস্থাপন করার দায়িত্ব দিন।
তাদের সাথে তা নিয়ে আলোচনা করুন, তারপর ক্লাসরুমের দেয়ালে এই ফলকটি ঝুলিয়ে দিন।
ধাপ (৩)
সমবায় শিক্ষা কৌশল ব্যবহার করুন এবং প্রতিটি গ্রুপকে পাঠ পর্যালোচনার মাধ্যমে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন প্রস্তুত করতে বলুন।
এটি একটি পৃথক কাগজে লিখুন, তারপর প্রতিটি গ্রুপের তৈরি করা একটি প্রশ্ন তাদের নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী অন্য গ্রুপের কাছে পাঠাবে। তারপর গ্রুপগুলোর মধ্যে প্রশ্নগুলোর আদান-প্রদান করুন এবং তা শুনে তার মূল্যায়ন করুন।
এটিকে অন্যান্য আলোচনার ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার করুন। আর এই প্রশ্নগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণগুলো নিম্নরূপ:
মহব্বত, ভয় ও আশা: এগুলোর প্রত্যেকটির অর্থ কী?
আল্লাহ ভীতিকে সংজ্ঞায়িত করুন এবং এর স্ব-পক্ষে একটি দলিল দিন।
তাওয়াক্কুল এবং প্রত্যাবর্তনের অর্থ কি?
আল্লাহর নিদর্শনগুলো সম্মানিত করার পদ্ধতি বর্ণনা করুন।
ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করুন।
আপনি ছাত্রদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন এবং তাদের নিকট অস্পষ্ট বিষয়গুলো জানতে ও তার ব্যাখ্যা করতে তাদের সাথে আলোচনা করুন।
ফলাফল:
আপনার ছাত্রদের প্রত্যেককে পাঠ সম্পর্কে তাদের পর্যবেক্ষণগুলো লিখতে বলা উত্তম।
পর্যবেক্ষণগুলোতে পাঠের অন্তর্গত মূল বিষয়বস্তু এবং তা থেকে যা শিখেছে তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তাদের মধ্যে কিছু ছাত্রকে তারা যা লিখেছে তা উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিবে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, ভয় এবং আশার মর্যাদা জানা।
লক্ষ্য নং ১
আপনি প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করুন যাতে কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাদের উত্তর দেওয়া শেষ হলে কার্ডগুলো সংগ্রহ করে সেগুলো সংশোধন করুন এবং সেরা উত্তরটি চয়ন করুন। সঠিক উত্তরটির সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তা উপস্থাপন করুন।
কার্যক্রম ১: আশা ছাড়া কেবল ভয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে হতাশ হওয়ার দিকে নিয়ে যায়। আবার ভয় ছাড়া কেবল আশায় সীমাবদ্ধ থাকা অহংকার এবং পাপের দিকে নিয়ে যায়।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, অন্তরের আমলগুলো সাব্যস্ত করা।
লক্ষ্য নং ২
ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে শিক্ষক একগুচ্ছ কার্ডে কার্যক্রমে উল্লিখিত আয়াতগুলো প্রদর্শন করবেন এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তা এলোমেলোভাবে বিতরণ করবেন, যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী কার্ডে লেখা আয়াতটি উল্লেখ করে। তারপর শিক্ষার্থীদের উত্তরগুলো গ্রহণ করে তা মূল্যায়ন করবেন। অতঃপর তাদের বইয়ে সঠিক উপসংহার লিখতে নির্দেশ দিবেন।
অন্তরের আমলসমূহ
সবর (ধৈর্য)
আশ-শুকর (কৃতজ্ঞতা)
ইখলাস (একনিষ্ঠতা)
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, সালাতে একাগ্রতা অর্জনের উপায়গুলো জানা। লক্ষ্য নং ৩
প্রতিটি ছাত্রকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি উপায় সম্পর্কে চিন্তা করার নির্দেশ করুন যা তাকে সালাতে একাগ্রতা অর্জনে সাহায্য করবে। প্রতিটি ছাত্রকে সে যা লিখেছে তা তার সহপাঠীদের সামনে পড়তে বলুন। আর লিখিত বিষয়গুলোর মধ্যে সর্বোত্তম শব্দশৈলী ও আকর্ষনীয় লিখাটির প্রশংসা করুন। সকালের ক্লাসে পড়ার জন্য একজনকে চয়ন করুন।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্যগুলো অর্জন করতে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
আপনি শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন এবং প্রতিটি দলকে নিম্নের প্রশ্নগুলোর সমাধানে অংশগ্রহণ করতে বলুন।
আপনি আপনার ছাত্রদের পাশ দিয়ে হেঁটে যান, যাতে উত্তর প্রদানে তাদের পরস্পর সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারেন।
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের উত্তর উপস্থাপনের জন্য একজন সদস্য বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দিন এবং তার মূল্যায়ন সম্পূর্ণ করুন।
প্রশ্ন ১: (ভয়) - (আল্লাহ ভীতি ও প্রত্যাবর্তন ) - (নিদর্শনগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন)।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
আপনার ছাত্রদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করা উত্তম, যেখানে প্রথম দল আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনগুলোকে মহিমান্বিত করার পদ্ধতি সম্পর্কে, দ্বিতীয় দল সালাতে একাগ্রতা সম্পর্কে এবং তৃতীয় দল ভয় এবং আশা সম্পর্কে একটি করে সংলাপ তৈরিতে অংশ নিবে।। তারপর আপনার দায়িত্ব হল প্রস্তুত করা প্রশ্ন ও উত্তরসমূহ পর্যবেক্ষণ করা। আর সকালের ক্লাসে উপস্থাপন করার জন্য সেরা দল থেকে দু’জন ছাত্রকে বেছে নিন।
সুন্নাহ এবং শামায়েল অধ্যায়
প্রথম পাঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধিকার
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: (إِلَّا مَنْ أَبَى) যারা অস্বীকার করল তারা ব্যতীত - (توقير النبي وإجلاله ﷺ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড/শিক্ষামূলক কার্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(ব্রেইন স্টর্মিং (বুদ্ধি খাটানো) পদ্ধতি - উদঘাটনমূলক পদ্ধতি - নির্দেশনামূলক মানচিত্র পদ্ধতি )
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
উম্মতের উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
• রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার আদায়কারীর মহা পুরস্কার সম্পর্কে অনুভব করা।
জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার পরিপূর্ণভাবে আদায়ে আগ্র্রহী থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদেরকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তারা পূর্বে যা শিখেছিল তা স্মরণ করতে বলুন এবং এর আলোকে বর্তমান পাঠে যে উপাদানগুলো অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে সে বিষয়ে তাদের অনুমান পেশ করবে। তারপর বোর্ডে পাঠের শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
নির্দেশনামূলক মানচিত্রের সাহায্য গ্রহণ করা।
একটি বোর্ডের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠের উপাদান ও বিষয়বস্তুর একটি গঠনমূলক চিত্র দেখান।
সেই উপাদানগুলোর বিষয়ে তাদের পূর্ব জ্ঞান সম্পর্কে জানুন।
উপযুক্ত সমর্থন প্রদান পুর্বক তাদের উত্তরগুলো জানুন।
ধাপ (২)
ব্রেইন স্টর্মিং (বুদ্ধি খাটানো) পদ্ধতির মাধ্যমে; নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বাধিক সংখ্যক অধিকার উপস্থাপন করার জন্য শিক্ষক ছাত্রদের সাথে আলোচনা করবেন।
তিনি তাদের উত্তরগুলো জানবেন এবং তা নিয়ে তাদের সাথে সাধারণভাবে আলোচনা করবেন। তারপর তাদের সামনে একটি বোর্ড উপস্থাপন করবেন যাতে সংক্ষিপ্তাকারে সেই অধিকারগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে; যেন বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যাখ্যা করার আগে এটি নিয়ে তারা চিন্তা করে।
ধাপ (৩)
উদঘাটনমূলক পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে এবং একজন ছাত্রকে সহপাঠীদের সামনে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকারসমূহের ওপর কিছু দলিল উপস্থাপন করতে বলা হবে।
ব্যক্তি এবং সমাজের উপর এই অধিকারগুলোর প্রভাব সাব্যস্ত করতে তাদের সহায়তা করবেন এবং সেগুলো নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন।
ফলাফল:
প্রতিটি ছাত্র তার নোটবুকে পাঠ থেকে শিক্ষা করা তিনটি বিষয় লিখবে।
ছাত্ররা যা লিখেছে তা উপস্থাপন করার জন্য শিক্ষক তাদের কয়েকজনকে বেছে নিবে।
তিনি বোর্ডে ভিন্ন অর্থবোধকটি লিখবেন; যেন প্রত্যেকে যা লিখেছে তা সমৃদ্ধ করতে পারে, অন্যদের দ্বারা উপস্থাপিত বিভিন্ন বিষয়ে তারা যা জেনেছে সে অনুসারে।
শিক্ষার্থীরা পাঠের ভূমিকায় পাঠ সম্পর্কে যে প্রত্যাশিত উপাদানগুলো পেশ করেছিল তার সাথে মিলিয়ে দেখবে।
তারা যা জানতে চায় অথচ পাঠ তা অন্তর্ভুক্ত করবে তা নির্ধারণ করার জন্য এটিকে মূল্যায়ন করবে ।
পরবর্তীতে তারা তা অনুসন্ধান করতে ও অবগত হতে চেষ্টা করবে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহব্বত এবং যারা তাকে মহব্বত করবে কেয়ামতের দিন তাদের পুরস্কারের বর্ণনা। লক্ষ্য নং ২
আপনি প্রতিটি ছাত্রকে পৃথকভাবে নিম্নলিখিত কার্যক্রমটি সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ দিন।
তাদের উত্তরসমূহ উপস্থাপনে সৃজনশীল এবং সাবলীল হতে উৎসাহিত করুন।
শিক্ষার অভিজ্ঞতা বিনিময় করার জন্য প্রতি দু’জন ছাত্র তাদের উত্তর বিনিময় করবে।
তারা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন করার জন্য কিছু ছাত্রকে বেছে নিন এবং উত্তরগুলোর উপর তাদের পরস্পরের মন্তবকে ব্যাখ্যা করুন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, অংশগ্রহণ এবং মন্তব্য পেশ করার জন্য শিক্ষার্থীদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। লক্ষ্য নং ৪
শিক্ষার্থীদের পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য পাঠ্য বই খুলতে বলুন।
একটি পৃথক কাগজে সে বিষয়ের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনি তাদের পরস্পরকে সহযোগিতা করতে বলুন।
দুইজন ছাত্র বেছে নিন, যাদের একজন মৌখিকভাবে কার্যক্রমটি পড়বে এবং দ্বিতীয়জন উত্তর দেবে।
তারা সঠিক করলে তাদের কর্মতৎপরতাকে সমর্থন করুন এবং ভুল করলে তাদের বিকল্প বেছে নিন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের নোটবুকে নিম্নের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলুন।
শিক্ষার্থীদের পাশ দিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তাদের পর্যবেক্ষণ করুন এবং তাদেরকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন।
এর সম্পর্কে তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন এবং তাদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন, সাথে প্রতিটি প্রশ্নের জন্য উপযুক্ত নাম্বার নির্ধারণ করুন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তাদের উত্তর সংশোধন করতে ও নিজেকে উপযুক্ত নাম্বার দিতে বলুন।
তাদের সংশোধন সঠিক কিনা তা নিশ্চিত করতে তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করুন।
প্রশ্ন ১: () - () - () - () - ()
* শিক্ষনীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
শিক্ষার্থীদের নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নির্দেশ করেছেন তা অনুসরণ করার জন্য মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এবং যে তা পালন করবে আখিরাতে তার মহান বিনিময় রয়েছে মর্মে একটি উপদেশ লেখার দায়িত্ব দিন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকারগুলো জানা, এ গুলো নিয়ে গবেষণা করা এবং নিজ পরিবার ও সমাজের সদস্যদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা।
দ্বিতীয় পাঠ: আহলে বাইতের ফযীলত এবং তাদের হক বা অধিকারসমূহ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((الرجس) নাপাক-(الفواحش) অশ্লীলতা- (الإفك) অপবাদ- (كِبْره) সেটার প্রধান-(يقذف) অপবাদ দেওয়া -(الغلو) অত্যুক্তি করা)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(পাঠে উল্লেখিত কুরআনের আয়াতগুলো রেকর্ড সম্বলিত একটি অডিও মাধ্যম - একটি কম্পিউটার - একটি ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(আখ্যানমূলক ভূমিকা - সংলাপ ও আলোচনা - নির্দেশনামূলক মানচিত্র-ভুল ধারণা সংশোধন)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারকে মুহাব্বত করা।
- নবী পরিবারের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফযীলত উল্লেখ করা।
- নবী পরিবারের অধিকার আদায় করা।
-নবী পরিবার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে বিরত থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নের পরিস্থিতি উপস্থাপন করে পাঠটির ভূমিকা প্রস্তুত করুন: ওমর মসজিদের ইমামকে সালাতে আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীটি পাঠ করতে শুনলেন: إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذۡهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجۡسَ أَهۡلَ ٱلۡبَيۡتِ وَيُطَهِّرَكُمۡ تَطۡهِيرٗا: “হে নবী-পরিবার!আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।” [সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৩] সালাত শেষে সে ইমামকে জিজ্ঞাসা করল: শাইখ! আহলে বাইত কারা? এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের কেন বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করেছেন? তাদের জন্য কী কোন বিশেষ হক রয়েছে?
তারপর ছাত্রদের উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন, তারপর তাদেরকে পাঠের বিষয়বস্তুর দিকে নিয়ে যান।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
বোর্ডে দুটি অংশে বিভক্ত একটি ব্যাখ্যামূলক চিত্র আঁকুন: প্রথমটির শিরোনাম "নবী পরিবারের সংজ্ঞা,” এবং দ্বিতীয়টির শিরোনাম "নবী পরিবারের ফযীলত” এবং বিষয় দুটি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করুন।
শিক্ষার্থীদের অডিও মাধ্যমে নবী পরিবারের ফযীলতের সাথে সম্পর্কিত কুরআনের আয়াতগুলো শুনতে বলুন এবং তাদের সাথে তার অর্থ নিয়ে আলোচনা করুন; যাতে তারা এর উদ্দেশ্য জানতে পারে।
ধাপ (২)
নির্দেশনামূলক মানচিত্র পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক ছাত্রদের সামনে একটি বোর্ড উপস্থাপন করবেন যাতে আহলুল বাইতের সাথে সম্পর্কিত বিধান ও অধিকারগুলোর একটি মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং তাদের এটি চিন্তা করতে বলবেন, তারপর পর্যায়ক্রমে সেই বিধানগুলো ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করুন।
শিক্ষক কিছু ছাত্রকে তাদের বই থেকে নবী পরিবারের বিধান সম্পর্কিত কুরআনের দলীল ও নববী হাদীসগুলো পড়ার জন্য নির্বাচন করবেন এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য বর্ণনার জন্য তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন।
ধাপ (৩)
ভুল ধারণা সংশোধন কৌশলের মাধ্যমে; শিক্ষক নিম্নের পরিস্থিতিগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন এবং তার সম্পর্কে তাদের মতামত ও তার সংশোধন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইবেন:
কিছু লোক নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবারের মাজার যিয়ারত করতে যায়, মহব্বত ও যিয়ারতের উদ্দেশ্যে নয়; বরং এই বিশ্বাস করে যে এই যিয়ারত তাদের ভাগ্যকে আরও ভালোর দ্বারা বদলে দেবে।
কিছু সম্প্রদায় আছে যারা আবু বকর ও ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুুমার ওপর আহলে বাইতকে প্রধান্য দেয়।
ফলাফল:
শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পাঠের উপাদানগুলোর মধ্যে একটি বেছে নিতে এবং সে তা থেকে যা শিখেছেন ও উপকৃত হয়েছেন তা তার নিজের ভাষায় প্রকাশ করতে বলবেন। আর কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করতে বেছে নিবেন; তাদের উপযুক্ত সহায়তা প্রদান করে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, নবী পরিবারের ফযীলত সংজ্ঞায়িত করা এবং তার ওপর দলীল পেশ করা।
লক্ষ্য নং ২
আপনি শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী জ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে তাদের প্রথম কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হাদীসে উল্লেখিত নবী পরিবারের ফযীলত স্মরণ করতে বলতে পারেন। আর সঠিক উত্তরটি তাদের জন্য স্পষ্ট করে আপনি নবী পরিবারের ফযীলত ও অধিকার সম্পর্কে তাদের অনুভূতি জানবেন এবং তার মূল্যায়ন করবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, যারা আহলে বাইতকে অপবাদ দেয় তাদের প্রতিবাদ করা।
লক্ষ্য নং ৬
প্রতি দু’জন ছাত্রকে কার্যক্রমটি সম্পন্ন করতে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশনা দিন, তারপর ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কার্যক্রমে থাকা দলিলগুলো প্রদর্শন করুন। এর সম্পর্কে প্রতিটি দলের উত্তর অবগত হোন, যে দলটি উত্তর দিতে ও ভাল বাক্য প্রণয়নে অধিক পরিশ্রমী তাদের চিহ্নিত করুন এবং শিক্ষার্থীদের বইয়ে লেখার জন্য সর্বোত্তম বাক্যটি শনাক্ত করুন।
মূল্যায়ন
আপনি নিম্নলিখিত ধাপ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের সাথে মূল্যায়ন প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করতে পারেন:
প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে: শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে তার উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিবেন, তারপর তাদেরকে সঠিক উত্তর সম্পর্কে অবহিত করবেন, যেখানে তাদের প্রত্যেককে প্রতিটি বাক্যের উত্তরের জন্য একটি নাম্বার দিবেন এবং শিক্ষক ছাত্রদের প্রাপ্ত নাম্বার এবং তাদের করা ভুলগুলো চিহ্নিত করবেন।
প্রশ্ন ১:(✓) - (✖) - (✓)
প্রশ্ন ২: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ - খাদিজা এবং আলী - তাদেরকে সদকা গ্রহণ করতে বাধা দেওয়া।
শিক্ষার্থীদের তৃতীয় প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করুন এবং তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রশ্নের বিষয়বস্তুগুলোর উত্তর দিতে বেছে নিন এবং অন্য দু’জনকে তাদের উত্তরগুলোর মূল্যায়ন করার জন্য বেছে নিন; সাথে আপনি উভয় দলকে মূল্যায়ন করুন।
* শিক্ষনীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
অধ্যয়কৃত বিষয়ের আলোকে শিক্ষার্থীদের নিম্নের বিষয়ে সতর্ক করা বাঞ্ছনীয়:
বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে আহলে বাইতের ফযীলত সম্পর্কে আরও গভীর ও বিশদভাবে জানা। চায় তা ধর্মীয় বই থেকে হোক বা আহলুল ইলমকে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে হোক কিংবা ইলেকট্রনিক উৎস থেকে হোক। আর তাদের মহব্বত অনুভব করা ও তাদের অধিকারসমূহ আদায়ে আগ্রহী হওয়া। এ ছাড়া পরিবার ও সমাজে সেই ফযীলতগুলো প্রচার করা ও অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা।
তৃতীয় পাঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার আহলে বাইতের হকের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও অবহেলা করা।
পাঠের সময়: দুই ঘণ্ট।
নতুন শব্দাবলী:
((الغُلوّ) বাড়াবাড়ি -(الجفاء) অসদাচারণ - (الاستغاثة) সাহায্য চাওয়া - (الوسطية) মধ্যমপন্থা অবলম্বন - (العصمة) নিষ্পাপ - (الغيب) অদৃশ্য)
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষমূলক কার্ড - কম্পিউটার)
শিক্ষাদানের কৌশলসমূহ:
(সংলাপ এবং আলোচনা - নির্দেশনামূলক মানচিত্র - ভুল ধারণা সংশোধন)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
• নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
• সকল বিষয়ে মধ্যপন্থা ও ন্যায়সঙ্গত পন্থা মেনে চলতে আগ্রহী থাক।
• নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সম্মানিত পরিবারের প্রতি অতিরঞ্জন ও কঠোরতা পরিহার করা।
• আহলে বাইত এবং সাহাবীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শনের উপর অটল থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
এই হাদীসটি ছাত্রদের সামনে উপস্থাপন করার মাধ্যমে পাঠের ভূমিকা উপস্থাপন করুন: আবদুল্লাহ ইবনু আবি আওফা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মুআয রাঃ যখন শাম থেকে এলেন, তখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সাজদা করলেন। তখন তিনি বললেন: ”হে মু’আয! এ কী? তিনি বললেন, আমি সিরিয়ায় গিয়ে দেখতে পাই যে, তথাকার লোকেরা তাদের ধর্মীয় নেতা ও শাসকদেরকে সিজদা করে। তাই আমি মনে মনে আশা পোষণ করলাম যে, আমি আপনার সামনে তাই করবো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা তা করো না।”
হাদীসটি পড়ার পর তা কী নির্দেশ করে সে বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন ও তাদেরকে অতিরঞ্জনের বিপদ সম্পর্কে অবহিত হওয়ার দিকে নিয়ে যান এবং বলুন এটি অনেক লোকের গোমরাহ হওয়ার কারণ। তারপর বোর্ডে পাঠের শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
বোর্ডে দুটি অংশে বিভক্ত একটি ব্যাখ্যামূলক চিত্র আঁকুন; প্রথম অংশের শিরোনাম "চরমপন্থা ও কঠোরতার অর্থ" এবং দ্বিতীয় অংশের শিরোনাম "নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সম্মানিত পরিবারের ক্ষেত্রে চরমপন্থার দিকসমূহ। আর বিষয় দুটি নিয়ে ব্যাখ্যামূলক ও বিস্তারিত আলোচনা করুন।
ধাপ (২)
নির্দেশনামূলক মানচিত্র পদ্ধতি ব্যবহার করে, শিক্ষক ছাত্রদের কাছে একটি বোর্ড উপস্থাপন করবেন যাতে এই মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সম্মানিত পরিবারের প্রতি অসদাচারণের দিকসমূহ) এবং তাদের এটি চিন্তা করতে বলুন। তারপর পর্যায়ক্রমে এই দিকগুলো নিয়ে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা করুন।
শিক্ষক ছাত্রদের বই থেকে নবী পরিবারের বিধান সম্পর্কিত কুরআনের দলীল এবং নববী হাদীস পড়ার জন্য কিছু ছাত্রকে নির্বাচন করবেন এবং সেগুলোর উদ্দেশ্য বর্ণনার জন্য তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন।।
ধাপ (৩)
ভুল ধারণা সংশোধন কৌশলের মাধ্যমে শিক্ষক নিম্নের পরিস্থিতিগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন এবং সে বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করতে বলবেন। আর ‘নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও অসদাচারণ’ অধ্যয়নের আলোকে তা সংশোধনের পদ্ধতি উল্লেখ করতে বলবেন।
কিছু লোক দাবি করে যে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অদৃশ্য (গায়েব) জানেন এবং তিনি নূর থেকে সৃষ্ট।
একজন প্রতিবেশী অসুস্থ ব্যক্তির আরোগ্যের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন।
আপনি একজন নির্বোধ ব্যক্তিকে কিছু আহলে বাইত ও সাহাবীদের উপর আক্রমণ করতে শুনলেন।
ফলাফল:
শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পাঠে উপস্থাপিত বিষয়বস্তুগুলো মধ্যে একটি বেছে নিতে বলবেন এবং সে এটি সম্পর্কে যা শিখেছে ও অর্জন করেছে তা তার নিজস্ব ভাষায় প্রকাশ করতে বলবেন।
উপযুক্ত সহায়তা প্রদান পূর্বক কতক শিক্ষার্থীকে তাদের উত্তর উপস্থাপনের জন্যে নির্বাচন করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সম্মানিত পরিবার সম্পর্কে বাড়াবাড়ি এবং অসদাচরণের মধ্যে পার্থক্য করা। লক্ষ্য নং ২
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তাদের খাতায় নিম্নলিখিত কার্যক্রমের উত্তর দিতে বলুন।
আপনি তাদের একজনকে সে যা লিখেছেন তা উল্লেখ করার জন্য বেছে নিন এবং তার কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করুন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, আল-কুরআনুল কারীম থেকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে শিষ্টচার দিকগুলো বের করা।
লক্ষ্য নং ৪
প্রতি দু’জন ছাত্রকে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিন।
কম্পিউটার স্ক্রিনের মাধ্যমে কার্যক্রমে থাকা কুরআনের দলিল প্রদর্শন করুন।
প্রতিটি দলের উত্তর জানুন এবং সেই দলটিকে চিহ্নিত করুন যেটি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে শিষ্টচারের দিকগুলো বের করার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম পরিশ্রম করেছে।
শিক্ষার্থীদের বইয়ে লেখার জন্য সেরা উত্তরটি নির্বাচন করুন।
মূল্যায়ন
মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
শিক্ষার্থীদেরকে তাদের খাতায় নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলুন।
শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করুন।
তাদের মধ্যে কিছু ছাত্রকে তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন এবং প্রতিটি উত্তরের জন্য উপযুক্ত নাম্বার নির্ধারণ করুন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার উত্তর সংশোধন এবং তার নিজেকে উপযুক্ত নাম্বার প্রদান করার দায়িত্ব দিন।
উত্তরের সঠিকতা এবং সংশোধনের যথার্থতা জানতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে তাদের খাতগুলো বিনিময় করবে।
প্রশ্ন ১: নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে কসম করা - তার সিরাত সম্পর্কে অজ্ঞতা - কৃপণ - একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করা।
* শিক্ষাগত এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা তাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি বাড়াবাড়ি ও অসদাচরণের দিকগুলো সম্পর্কে গভীর ও বিশদভাবে জানা। চায় তা ধর্মীয় বই থেকে হোক বা আহলুল ইলমকে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে হোক কিংবা ইলেকট্রনিক উৎস থেকে হোক। আর তার মহব্বত অনুভব করা ও তার অধিকারসমূহ আদায়ে আগ্রহী হওয়া। এ ছাড়া পরিবার ও সমাজে সেই দিকগুলো প্রচার করা ও সে সম্পর্কে সচেতন করা।
চতুর্থ পাঠ: সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের ফযীলত এবং তাদের হকসমূহ।
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((الصحابي) সাহাবী - (يبتغون) তারা অন্বেষণ করেন - (سيماهم) তাদের নিদর্শন -(قَرْنِي) আমার যুগ - (قدح) নিন্দা করা-(يَلُونَهُمْ) তাদের সঙ্গে মিলিত হবে -(تبوءوا) তারা বানিয়ে নিল - (يؤثرون) তারা প্রাধান্য দেন -(خصاصة) অভাব -(يُوقَ) মুক্ত রাখা হয়েছে -(شُحَّ) কৃপণতা)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - পাঠে উল্লেখিত কিছু কুরআনের আয়াত রেকর্ড করা একটি অডিও মাধ্যম)
শিক্ষার কৌশলসমূহঃ
(অনুসন্ধানমূলক শিক্ষা - "আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি K.W.L" - ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো)। -
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের সংবাদ ও তাদের অবস্থা জানা, তাদের জীবনী অধ্যয়ন করা এবং মুসলিমদের মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা।
- সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের ভালো কাজের অনুকরণ করা।
- সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষক বোর্ডে নিম্নের বাক্যটি লিখবেন: (সাহাবী হলেন, প্রত্যেক এমন ব্যক্তি যিনি নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাত করেছেন, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং ইসলামের উপর মৃত্যুবরণ করেছেন)। একজন ছাত্রকে এটি পড়ার জন্য বেছে নিবেন, তারপর তাদেরকে এটি নিয়ে চিন্তা করতে ও তা কী নির্দেশ করে তা আবিষ্কার করতে বলবেন এবং তাদের উত্তরগুলো জানবেন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষক প্রতিটি ছাত্রকে তার নোটবুকের একটি পৃষ্ঠা তিনটি ভাগে ভাগ করতে বলবেন: প্রথম অংশে (K), দ্বিতীয় অংশে (W), এবং তৃতীয় অংশে (L) বর্ণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তারপর তিনি তাদেরকে সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের সম্পর্কে তারা পূর্বে থেকে কি জানে তা উপস্থাপন করতে বলবেন এবং তা প্রথম কলামে লিখতে বলবেন। অতঃপর তিনি তাদের পূর্ব জ্ঞান সম্পর্কে জানতে এ বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন।
তারপর তারা পাঠের মাধ্যমে যে সব জ্ঞান ও চিন্তাধার শিখতে চায় তা লিখতে নির্দেশনা দিবেন এবং তা দ্বিতীয় কলামে অন্তর্ভুক্ত করতে নির্দেশ দিবেন।
ধাপ (২)
ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো কৌশলের মাধ্যমে শিক্ষক ছাত্রদের সাথে সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের সর্বাধিক সংখ্যক ফযীলত ও অধিকার নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি তাদের উত্তরগুলো জানবেন এবং তা নিয়ে তাদের সাথে সাধারণভাবে আলোচনা করবেন।
তারপর তাদেরকে একটি বোর্ড প্রদর্শন করবেন যাতে সংক্ষিপ্ত আকারে এই ফযীলত এবং অধিকারগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে; যেন তারা এটির ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত আলোচনার পূর্বেই এটি নিয়ে চিন্তা করে।
ধাপ (৩)
শিক্ষক পর্যায়ক্রমে সাহাবীদের ফযীলত ও অধিকার ব্যাখ্যা করতে শুরু করবেন এবং সে সময় তিনি শিক্ষার্থীদেরকে এই ফযীলত ও অধিকার বিষয়ক পাঠে উল্লেখিত কুরআনের আয়াতগুলো শোনাতে পারেন।
শিক্ষকও ছাত্রদের সামনে পাঠে উল্লেখিত হাদীসগুলো পেশ করবেন এবং তা নিয়ে তাদের সাথে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন। এ ছাড়াও তা কী নির্দেশ করে তা বর্ণনা করবেন।
নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো ব্যবহার করে শিক্ষক সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের ফযীলত ও অধিকার ব্যাখ্যা করতে এবং শিক্ষার্থীদের সাথে তা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন:
প্রশ্নঃ সুন্দর আচরণ ও নেক আমলের কারণে আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের প্রশংসা করার স্বপক্ষে দলিল দিন।
প্রশ্নঃ কেন সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুমকে শ্রেষ্ঠ উম্মত বলে গণ্য করা হয়?
প্রশ্নঃ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী হলেন:…………………………………………(তারপর শিক্ষক ছাত্রদের কাছে একটি ব্যাখ্যামূলক চিত্র পেশ করবেন যাতে জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর নাম উল্লেখ থাকবে)।
প্রশ্নঃ সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদেরকে ভালোবাসা, তাদের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করা আবশ্যক কেন?
প্রশ্নঃ সাহাবায়ে কেরামগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুমকে গালি দেওয়া, তাদের তিরস্কার করা ও সম্মানহানী করার হুকুম কী?
প্রশ্নঃ কেন সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের অপবাদ দেওয়া দ্বীনের বিরুদ্ধে অপবাদ হিসেবে বিবেচিত হয়?
* ফলাফল:
আপনি শিক্ষার্থীদেরকে তাদের নোটবুকের তৃতীয় কলামটি সম্পূর্ণ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন; যা মূলত তারা পাঠ থেকে সাধারণ চিন্তাধারা ও বিষয়বস্তু আকারে যা শিখেছে তা লেখার সাথে সম্পর্কিত। কিছু শিক্ষার্থীকে তারা যা লিখেছে তা উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন এবং তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন দিয়ে সে বিষয়ে মন্তব্য করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, মুহাজির ও আনসারদের বৈশিষ্ট্য ও কর্ম সম্পর্কে জানা। লক্ষ্য নং ৩
প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে একটি শিক্ষামূলক কার্ড বিতরণ করা হবে যাতে কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাদের উত্তর দেওয়া শেষ হলে কার্ডগুলো সংগ্রহ ও সংশোধন করুন, তারপর সেরা উত্তরটি চয়ন করুন। আর তার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তা উপস্থাপন করুন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের ফযীলত বের করা।
লক্ষ্য নং ২,৩
দ্বিতীয় কার্যক্রমে উল্লিখিত দলিলগুলো পড়ার জন্য ছাত্রদের নির্দেশ দিন এবং তাদের সহপাঠীদের সামনে সেগুলো পড়ার জন্য দু’জনকে বেছে নিন। তাদের সাথে তার অর্থ এবং তা কী নির্দেশ করে তা নিয়ে আলোচনা করুন। তারপর তাদের সামনে কার্যক্রমের দ্বিতীয় অংশটি পর্যায়ক্রমে পেশ করুন। তাদের প্রত্যেক দু’জনকে প্রতিটি পয়েন্টের উত্তর দিতে বেছে নিন এবং তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন ও সেগুলোর মাঝে তুলনা করুন; সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য। তারপর তাদের সবাইকে বইয়ের নির্দিষ্ট জায়গায় এটি লিখতে বলুন।
সাহাবীদের ফযীলত
মু‘আয ইবনু জাবাল রদিয়াল্লাহু আনহুর ইলমের ফযীলত।
বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুমদের জন্য ক্ষমা।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
প্রতিটি ছাত্র স্বতন্ত্রভাবে বইয়ের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিবে।
প্রতিটি ছাত্র তার সহপাঠীর সাথে নিজের উত্তর বিনিময় করবে; যেন তাদের প্রত্যেকে পরস্পরের উত্তর মূল্যায়ন করে।
কিছু ছাত্র বাছাই করুন যাতে তাদের প্রত্যেকে উপস্থাপন করে যে, সে তার সহপাঠীকে কীভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং সে কোন ভুলগুলো খুঁজে পেয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো সংশোধন করেছে।
অবশেষে শিক্ষার্থীদের সঠিক উত্তর দেখান যাতে তারা প্রত্যেকে তার ভুল সংশোধন করতে পারে।
প্রশ্ন ১: (✖) - (✓) - (✖) - (✓)
প্রশ্ন ৩: (সাহাবায়ে কেরামের জন্য দোয়া করা মুস্তাহাব - উম্মতের উপর সাহাবীদেরকে প্রাধান্য দেওয়া)
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা তাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের সংবাদ ও তাদের অবস্থা জানা, তাদের জীবনী অধ্যয়ন করা এবং পরিবার ও সমাজের মধ্যে মধ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা।
পঞ্চম পাঠ: নিয়াত এবং তার গুরুত্ব
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((الأَعْمَالُ) আমলসমূহ - (النِّيَّة) নিয়ত - (هِجْرَتُهُ) তার দেশত্যাগ -(لِدُنْيَا يُصِيبُهَا) দুনিয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড/শিক্ষামূলক কার্ড)।
শিক্ষাদানের কৌশলসমূহঃ
(যুক্তিভিক্তিক শিক্ষাদান পদ্ধতি - ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো কৌশল- সহযোগিতামূলক শিক্ষা)
মূল্যায়ন এবং দিকনির্দেশনা:
• প্রতিটি কাজে আন্তরিকতা (ইখলাস) এর গুরুত্ব অনুভব করা।
• মুসলিমের দ্বীনের উপর ভ্রান্ত নিয়তের ভয়াবহতা অনুমান করা।
• আল্লাহ তা‘আলার জন্য নিয়তের বিশুদ্ধ করার ব্যাপারে আগ্রহী থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিচের অবস্থানটি উপস্থাপন করে পাঠের প্রস্তুতি গ্রহণ করুন: (মসজিদের ইমাম একটি হিফযখানা তৈরী করার জন্য মানুষের কাছে অনুদান চাইলেন, তখন তোমার দুইজন প্রতিবেশী মানুষের সামনে মোটা অংকের টাকা দান করলেন। প্রথমজনের নিয়ত ছিল- প্রতিবেশীরা তাকে দানশীল বলবে।আর দ্বিতীয়জনের নিয়ত ছিল- লোকেরা তাকে অনুকরণ করবে, ফলে একটি বড় অংকের অর্থ সংগ্রহ করা যাবে।)
এই অবস্থান সম্পর্কে তোমার মতামত কী? সৎকাজে সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও এই দু’জনের মধ্যে পার্থক্য কী? তাদের সাথে এটি নিয়ে আলোচনা করুন এবং তাদেরকে পাঠের বিষয়ের দিকে নিয়ে যান।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ছাত্রদের পাঠ ও এর মূল বিষয়বস্তুগুলো দ্রুত দেখে নিতে বলুন।
বোর্ডে মূল বিষয়বস্তু লিখার জন্য কিছু ছাত্রকে বেছে নিন।
তাদের সাথে এই বিষয়বস্তু ও তার অর্থ নিয়ে আলোচনা করুন।
ধাপ (২)
আপনি সহযোগিতামূলক শিক্ষার কৌশল ব্যবহার করে পাঠের অংশগুলোকে ছাত্রদের কয়েকটি দলের মধ্যে ভাগ করে দিন। আর প্রতিটি দলকে তার জন্য নির্ধারিত অংশ পড়তে বলুন।
প্রতিটি গ্রুপ বাকি গ্রুপের সামনে তার ফলাফল উপস্থাপন করবে।
তাদের উত্তরগুলো মূল্যায়ন করুন এবং বোর্ডে সঠিক উত্তরটি লিখুন; যেন শিক্ষার্থীদের মনে সেগুলো স্থির হয়ে যায়।
ধাপ (৩)
যুক্তিভিক্তিক শিক্ষাদান পদ্ধতি ব্যবহার করে, ছাত্রদেরকে নিয়ত ও আমলসমূহের উপর এর প্রভাব সম্পর্কিত কিছু শরয়ী দলিল বর্ণনা করতে দায়িত্ব দিন।
একজন মুসলিমের দ্বীনের উপর খারাপ নিয়তের প্রভাবের বের করতে তাদের সাহায্য করুন।
কিছু ছাত্রকে তা বোর্ডে লিখতে বলুন।
ফলাফল:
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের নোটবুকে পাঠটি বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারা আকারে লিখতে বলুন; মুখস্ত করার সময় তা দ্বারা সহযোগিতা পাওয়ার জন্য ।
কিছু ছাত্রকে হাদীস থেকে কি শিক্ষা অর্জন করা যায় তা উপস্থাপন করতে বলুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, আমলসমূহে সঠিক নিয়ত প্রয়োগের পদ্ধতি জানা।
লক্ষ্য নং ৫
আপনি প্রতিটি ছাত্রকে পৃথকভাবে নিম্নলিখিত কার্যক্রমটি সম্পাদন করার জন্য নির্দেশ দিতে পারেন।
কিছু ছাত্রকে তাদের উত্তর উপস্থাপনের জন্য বেছে নিন।
সৃজনশীলতা সম্পন্ন ও ভাল উত্তর প্রদানে সক্ষমদের প্রশংসা করুন।
তাদের প্রত্যেককে অন্যের উত্তর সম্পর্কে তারা যা জানে তার আলোকে তাদের উত্তর সম্পূর্ণ করতে বলুন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, বিশ্লেষণ ও সমাধান পদ্ধতি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ৫, ৬
প্রতি দুইজন ছাত্রকে পরস্পর সহযোগিতার মাধ্যমে নিম্নের কার্যক্রমটি সম্পাদনে দায়িত্ব দেওয়া ভাল।
কার্যক্রমের প্রতিটি বিষয়বস্তু পর্যায়ক্রমে উল্লেখ করুন; এভাবে যে প্রতিটি দলের উত্তর অবগত হোন ও তাদেরকে উপযুক্ত নাম্বার দিন।
আপনি সর্বোচ্চ নাম্বারপ্রাপ্ত দল নির্ধারণ করুন এবং অন্যান্য দল যে ভুলগুলো করেছে তা সংশোধন করার ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করতে বলার মাধ্যমে তার উত্তরকে সমর্থন করুন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, শিক্ষার্থীদের পড়া ও তা থেকে ফলাফল বের করার পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া। লক্ষ্য নং ৬
প্রতিটি ছাত্রকে কার্যক্রমটি ভালোভাবে পড়তে ও তা নিয়ে চিন্তা করতে এবং সঠিকভাবে তার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে নির্দেশ করুন। আর শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছে তা নিজেদের মধ্যে বিনিময় করবে। তারপর বাড়িতে কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ করতে বলুন; তারা প্রত্যেকে তার পরিবারের কাছে ফিরে যাবে যেন পরিবার তাকে এই বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে ও ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করতে পারে।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
তাদের বই থেকে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো সুন্দরভাবে পড়া এবং একটি আলাদা কার্ডে তার উত্তর প্রদান করা।
প্রতিটি শিক্ষার্থী তার কার্ডটি মূল্যায়ন করার জন্য একজন সহপাঠীর কার্ডের সাথে বিনিময় করবে।
কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন, তারপর শিক্ষার্থীদের সামনে মূল্যায়ন করার জন্য অপরিকল্পিতভাবে কিছু কার্ড বেছে নিন।
তাদেরকে সঠিক উত্তর এবং ভুল উত্তরের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন।
কার্ডটির মালিক শিক্ষার্থী এবং যিনি এটি সংশোধন করেছেন তার নাম উল্লেখ করুন।
প্রশ্ন ১: আল-ফারুক - সমস্ত আমল - পাপী হবে এবং তার আমলগুলো কবুল হয় না।
* শিক্ষাগত এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
যে কোন ব্যক্তি বা দলের সাথে যে কোন কর্ম সম্পাদন করার সময় নেক নিয়ত ধারণ করার জন্য তাদেরকে উৎসাহিত করা। সাথে বৈধ কর্মকাণ্ডে খালিস নিয়ত আবশ্যকভাবে ধারণ করা এবং নিষিদ্ধ সবকিছু পরিহার করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা।
ষষ্ঠ পাঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা আবশ্যক।
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((أحدَثَ) নতুনভাবে সৃষ্টি করল - (أمرنا) আমাদের দ্বীন - (ردٌّ) প্রত্যাখ্যাত)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড/শিক্ষামূলক কার্ড)।
শিক্ষাদানের কৌশলসমূহঃ
(ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো কৌশল- সহযোগিতামূলক শিক্ষা- পারস্পরিক আলোচনা)।
মূল্যায়ন এবং দিকনির্দেশনা:
• সমাজে কুসংস্কার বিস্তারে বিদআতের প্রভাব অনুভব করা।
• আমলগুলো সর্বদা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার চেষ্টা করা।
• একনিষ্ঠ শরীয়ত লঙ্ঘন করার দুঃসাহস না করা।
পাঠের ভূমিকা:
আপনি আজকের পাঠটিকে আগের পাঠের সাথে সংযুক্ত করতে পারেন। আর তা হলো শিক্ষার্থীদের বলা যে বিগত পাঠে আমরা আমল কবুল হওয়ার প্রথম শর্তটি অধ্যয়ন করেছি (তা হল: আল্লাহ তা‘আলার জন্য নিয়তকে খালিস করা) এবং এই পাঠে আমরা দ্বিতীয় শর্তটির ব্যাখ্যা করব। আর তা হল আমলটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশনা অনুযায়ী হওয়া। তারপর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
বাড়িতে যা রিভিশন দেওয়া হয়েছে তার স্মরণকরণার্থে প্রতিটি দলকে দারসটির পাঠে অংশগ্রহণ করতে বলুন।
গ্রুপগুলো কি বুঝেছে তা নিয়ে আলোচনা করুন, যেন গ্রুপের বেশিরভাগ সদস্য পাঠের বিষয়বস্তু বুঝতে পারে।
ধাপ (২)
আপনি ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন।
ছাত্ররা বিদআত এবং সুন্নাতের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় করবে।
ছাত্ররা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন করতে ও বোর্ডে লিখতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন।
ধাপ (৩)
ছাত্রদের সাথে একটি সহযোগিতামূলক শিক্ষার কৌশল ব্যবহার করুন এবং তাদের বিভিন্ন দলে ভাগ করুন, যেখানে প্রত্যেকটি দল নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য একটি আদর্শ উপায় অনুসন্ধান করবে।
তারা যে ফলাফলে পৌঁছেছে তা উপস্থাপন ও মূল্যায়ন করার জন্য প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন ছাত্রকে বেছে নিন।
ফলাফল:
শিক্ষার্থীদের প্রত্যেককে পাঠ সম্পর্কে তাদের মন্তব্যগুলো লিখতে বলুন, যার মধ্যে থাকবে: কঠিন শব্দগুলোর অর্থ, পাঠের অন্তর্ভুক্ত প্রধান বিষয়বস্তু এবং পাঠ থেকে অর্জিত শিক্ষা।
কিছু ছাত্রকে তারা যা লিখেছে তা উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন এবং আপনি তা সংশোধন করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, জ্ঞানকে গভীর করার পদ্ধতি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। লক্ষ্য নং ৩
সুপারিশ করা হচ্ছে যে আপনি কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হাদীসটি সঠিকভাবে পড়ুন।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কার্যক্রমটি সম্বলিত একটি কার্ড বিতরণ করুন।
সহপাঠীদের সামনে তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন।
তাদের সহপাঠীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের মূল্যায়ন করা।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, সমাজে প্রচলিত বিদআতগুলো চিহ্নিত করা এবং তার প্রভাবগুলো জানার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। লক্ষ্য নং ৬
বোর্ডে নিম্নের কার্যক্রমটি প্রদর্শন করা।
এর উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের দলবদ্ধভাবে কাজ করতে বলুন।
বোর্ডে উত্তর দেওয়ার জন্য গ্রুপ থেকে কিছু ছাত্র নির্বাচন করুন এবং তাদের দক্ষতা মূল্যায়ন করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
নিম্নের প্রশ্নগুলো পর্যায়ক্রমে বোর্ডে লিখা।
নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দিতে পাশাপাশি থাকা দুজন ছাত্রকে অংশ গ্রহণ করতে বলুন।
অপরিকল্পিতভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য ।
ভুল উত্তরদাতাকে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় পড়তে ও তা থেকে সঠিক উত্তর বের করতে বলুন।
প্রশ্ন ১: () - () - () - () - ()
* শিক্ষাগত এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
ছাত্রদেরকে সকল প্রকার হারাম বিদআতসমূহ পরিত্যাগ করতে উৎসাহিত করা। যদি তাদের মধ্যে কেউ এমন কোন বিদআতের সম্মুখীন হয় যা পাঠে উল্লিখিত বিষয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ বা ভুলবশত তাতে জড়িয়ে পড়ে; তাহলে সে নিজে বিষয়টি সমাধান করতে এবং ভুলগুলো সংশোধন করতে চেষ্টা করবে।
অর্জিত জ্ঞান জীবনঘনিষ্ঠ বিষয়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার কারণে; প্রতিটি শিক্ষার্থী পাঠ থেকে শেখা বিষয়গুলোকে উপযুক্ত মাধ্যম ব্যবহার করে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে; সে যা শিখেছে তার সাথে পরিবার ও বন্ধুদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য যেন সে অনুযায়ী তারা তাদের জীবন পরিচালনা করতে পারে।
সপ্তম পাঠ: ইবনু আব্বাসের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসীয়ত
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((احفظ اللهَ يحفظك- تجده تجاهك) আল্লাহকে সংরক্ষণ কর তাহলে তিনি তোমাকে সংরক্ষণ করবেন - (تجده تجاهك) তুমি তাকে তোমার সামনে দেখতে পাবে - ( رُفِعت الأقلام) কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে - (جَفَّت الصحف) সাহিফা শুকিয়ে গেছে)
শিক্ষা সামগ্রী:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - হোয়াইটবোর্ড - ফ্ল্যাশ কার্ড - অডিও মাধ্যম)।
পাঠদান কৌশলসমূহ:
(সমস্যার সমাধান - ভুল ধারণা সংশোধন - "চিন্তা করুন - মিল করুন - অংশ গ্রহণ করুন")।
মূল্যায়ন ও দিকনির্দেশনা:
দু‘আ ও প্রয়োজন নিয়ে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার স্মরণাপন্ন হওয়া।
- সৃষ্টির পরিবর্তে কেবল আল্লাহ তা‘আলার উপর তাওয়াক্কুল করা এবং তাঁরই নির্ভর করা আবশ্যক।
কাদ্বা ও কদরের (তথা তাকদীরের ভাল মন্দের) ওপর ঈমান রাখা ওয়াজিব।
- কল্যাণ অর্জনের চেষ্টা করা এবং মন্দ থেকে দূরে থাকা।
* পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষক ছাত্রদের সামনে এমন একজন ব্যক্তির সম্পর্কিত সমস্যা উপস্থাপন করবেন যিনি গুরুতর স্বাস্থ্য সংকটের মধ্য রয়েছেন এবং তার বন্ধু একটি মাজারে গিয়ে সেখানে প্রার্থনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ মাজারে শায়িত ব্যক্তি তার সমস্যার সমাধানে ও তিনি যে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা থেকে তার উত্তোরণের মাধ্যম হবেন।
তারপর তিনি শিক্ষার্থীদের এই অবস্থান সম্পর্কে তাদের মতামত জানাতে বলবেন এবং এ লোকের সংশোধন ও তার সাথে আচরণ করার পদ্ধতি বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করতে বলবেন। আর আপনি তাদের উত্তরগুলো অবগত হবেন। তারপর তিনি তাদের স্পষ্ট করবেন যে পাঠ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উত্তরগুলোর মূল্যায়ন স্থগিত থাকবে।
* পাঠ উপস্থাপন :
ধাপ (১)
ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে ছাত্রদের হাদীসটি দেখান এবং তাদেরকে নীরবে এটি পড়তে ও এর অর্থ চিন্তা করতে বলুন, সাথে তারা যে কঠিন শব্দাবলীর সম্মুখীন হয় তা চিহ্নিত করতে বলুন। তারপর আপনি তাদের সামনে হাদিসটি পড়ুন এবং সহপাঠীদের সামনে পড়ার জন্য তাদের মধ্য থেকে দুজনকে বেছে নিন।
ধাপ (২)
হাদীসের বর্ণনাকারী সাহাবী আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং তার ফযীলতের সাথে ছাত্রদের পরিচয় করিয়ে দিন। সেই ফযীলত সম্পর্কে তারা কী অনুভব করেন তা প্রকাশ করতে বলুন। তাদের মধ্যে দুজনকে বেছে নিন তারা যা অনুভব করছে তা সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করার জন্য। তাদেরকে ইলম অন্বেষণ ও আল-কুরআনুল কারীমের তাফসীরের ক্ষেত্রে তার অনুসরণ করার জন্য উৎসাহিত করুন।
ধাপ (৩)
সংক্ষেপে হাদীসটি উপস্থাপন করুন এবং এতে থাকা শব্দবলীর অর্থের সাথে ছাত্রদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে। প্রেক্ষাপটের আলোকে সেই অর্থ ও তাৎপর্যগুলো নির্ধারণ করার জন্য অংশগ্রহণে উৎসাহিত করুন। আর আপনার ব্যাখ্যার আলোকে তারা হাদীস থেকে যা আয়ত্ত করেছে ও বুঝেছে তা উপস্থাপন করার জন্য দুজন ছাত্রকে বেছে নিন।
হাদীসটির নির্দেশনা এবং এর উপকারী দিকগুলোতে পৌঁছানোর জন্য ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে কর্মসম্পাদনের নির্দেশ দিন, যাতে প্রতিটি দল একটি পৃথক কার্ডে তাদের সিদ্ধান্ত লিখবে। তারপর আপনি কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন ও দলগুলোর উত্তর জানুন। এরপর বিভিন্ন ফায়দা ও নির্দেশনা থেকে ব্যতিক্রমটি লিখার জন্য একজন ছাত্রকে বেছে নিন, যাতে সে তার সহপাঠীদের সামনে বোর্ডে তা লিখে এবং তারা সবাই এটা নিয়ে চিন্তা করে।
ধাপ (৪)
ছাত্রদের সামনে পর্যায়ক্রমে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলো দেখান এবং তাদের জানান যে এগুলো জীবনঘনিষ্ঠ পরিস্থিতি যার সম্মুখীন তারাও হতে পারে। এরপর এগুলো সম্পর্কে তাদের মতামত ও হাদীস যা নির্দেশ করে তার সাথে এগুলোর মিল-অমিলের পরিমাণ প্রকাশ করতে বলুন:
একটি মসজিদের ইমাম মানুষের সাথে রূঢ় আচরণ করেন, অথচ তিনি তাদেরকে দ্বীনের শিক্ষা দেন।
একজন মহিলা তার ছেলেকে সুস্থ করতে চান, তাই তিনি একটি মাজারে প্রার্থনা করার জন্য গেলেন।
একজন ছাত্র যে পরীক্ষার সময় ছাড়া সালাত আদায় ও আল্লাহ তা‘আলার কাছে দোয়া করতে আগ্রহী নয়।
একজন ব্যবসায়ী মাজারের পাশে জবেহ করেন; যার মাধ্যমে তিনি প্রতিটি কাজের শুরুতে বরকত কামনা করেন।
একজন মহিলা গণকের কাছে গেলেন যাতে সে তাকে গায়েব জানতে ও তা পরিবর্তনের চেষ্টা করতে সহায়তা করে।
ফলাফল:
শিক্ষক ছাত্রদের সাথে পাঠের ভূমিকার সময় উপস্থাপিত সমস্যাটির সমাধান সম্পর্কে তাদের মতামত পর্যালোচনা করবেন এবং তাদের সাথে হাদীস শেখার আগে ও পরে তাদের মতামতে সৃষ্ট পরিবর্তন ও বিকাশের মাত্রা নির্ধারণ করবেন।
আপনি প্রতিটি ছাত্রকে হাদীস থেকে যে হুকুম ও শিষ্টাচার শিখেছে তার মধ্য থেকে একটি উল্লেখ করতে নির্দেশ দিতে পারেন, যা তাকে অবশ্যই তার জীবনে প্রয়োগ করতে হবে এবং সে একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যে তা বর্ণনা করবে। তারপর আপনি ছাত্রদের উত্তরগুলো অবগত হোন এবং সবচেয়ে ভালো ফলাফল ও সুন্দর শব্দ চয়নে সক্ষম ব্যক্তির প্রশংসা করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে/দুইজনে সম্মিলিতভাবে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দোয়া করা নিষিদ্ধ মর্মে আল-কুরআনুল কারীম এবং নববী হাদীসে যা বলা হয়েছে তার মাঝে সম্পর্ক স্থাপন করা।
লক্ষ্য নং ৫
ছাত্রদের মধ্যে একজনকে তার সহপাঠীদের সামনে কার্যক্রমে উল্লিখিত আয়াতটি পড়ার জন্য বেছে নিন, যেন তাদের প্রত্যেকে হাদীস থেকে যা জেনেছে তার সাথে আয়াতটিকে সম্পর্কযুক্ত করার চেষ্টা করে। আর দুইজন ছাত্রকে তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন এবং তাদের মাঝে তুলনা করুন ও সঠিক উত্তরটি নির্ধারণ করুন।
আয়াত ও হাদিস উভয়টিতেই গাইরুল্লাহর নিকট দোয়া করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে/সম্মিলিতভাবে- হাদীসটি যা নির্দেশ করে তা জীবনঘনিষ্ঠ কিছু পরিস্থিতির উপর প্রয়োগ করা। লক্ষ্য নং ৫, ৬
দ্বিতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদন করার জন্য ("চিন্তা করুন - মিল করুন - অংশ গ্রহণ করুন") পদ্ধতিটি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেখানে প্রতিটি ছাত্র একাকি কার্যক্রমে উল্লিখিত পরিস্থিতিগুলোর সমাধান করবে। আর সে তাতে তার মতামত এবং হাদীসে উল্লিখিত নির্দেশাবলীর সাথে তার সামঞ্জস্যের পরিমাণ স্পষ্ট করবে। তারপর সে একজন সহপাঠীর সাথে তার মত বিনিময় করবে যাতে তাদের প্রত্যেকে পরস্পরের মূল্যায়ন করে। তারপর প্রত্যেক তিনজন ছাত্র পরস্পর সহযোগিতা করবে ও তাদের উত্তরগুলো নিজেদের মাঝে আদান-প্রদান করবে আর শিক্ষক তাদের পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে নিঁখুত কর্ম সম্পাদন এবং সঠিক উত্তর প্রদানে তাদের ক্ষমতা স্পষ্ট হয়। আর তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিতে: এতে থাকা প্রতিটি বাক্য শিক্ষার্থীদের কাছে পর্যায়ক্রমে পাঠ করুন এবং বাক্যটি সঠিক হলে শিক্ষার্থী তার হাত উপরে তুলবে আর আপনি ভুল ও সঠিক বাক্য চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীদের উত্তরগুলো মূল্যায়ন করুন।
প্রশ্ন ১:))। .))। ..
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একাকি দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থী তার উত্তর একজন সহপাঠীর সাথে বিনিময় করবে, যাতে প্রত্যেকে অন্যের উত্তর সংশোধন করে। সাথে আপনি প্রত্যেক দলকে পর্যবেক্ষণ করুন ও নির্দেশনা দিন।
প্রশ্ন ২: (তাকদীর লেখা) - (তারজুমানিল কুরআন) - (নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ দেওয়া হয়েছে)।
ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে তৃতীয় প্রশ্নটি প্রদর্শন করুন এবং কিছু শিক্ষার্থীকে প্রশ্নের প্রতিটি শূন্যস্থান পূরণ করতে বলুন। শিক্ষার্থী যদি ভুল করে, তাহলে সঠিক উত্তর জানতে তার বইয়ে থাকা হাদীসটি পড়তে বলুন।
প্রতি দু‘জন শিক্ষার্থীকে চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য পরস্পর সহযোগিতা করতে নির্দেশ দিন এবং তাদের উত্তর উপস্থাপন, সেগুলোর মাঝে তুলনা ও সবচেয়ে সঠিক উত্তর নির্ধারণ করার জন্য তাদের মধ্য থেকে দুটি দল বেছে নিন; যেন শ্রুত উত্তরের আলোকে প্রতিটি দল তার ভুল সংশোধন করতে পারে।
* শিক্ষনীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
সকল আমলের ক্ষেত্রে হাদীসের নির্দেশনা মেনে চলা, বিশেষ করে দোয়া, একমাত্র মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া, তাঁর উপর ভরসা করা, কাদ্বা ও কাদারের (তথা তাকদীরের) প্রতি ঈমান রাখার ক্ষেত্রে এবং হাদীস ও এর নির্দেশনা বিরোধী সবকিছু পরিহার করা।
আশেপাশের ব্যক্তিদের আচরণে বিদ্যমান হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক দিকগুলোর প্রতিবাদ করা; তাদেরকে উপদেশ ও নির্দেশনা প্রদান এবং হাদীস থেকে যা অধ্যয়ন করা হয়েছে তার সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।
অষ্টম পাঠ: ইস্তিকামাত (অবিচলতা)-এর গুরুত্ব
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((النصيحة) উপদেশ- (أئمة المسلمين) মুসলিমদের ইমাম-(عامَّتهم) সাধারণ জনগণ-(آمنتُ بالله) আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি -(استقم) অবিচল থাকো)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - শিক্ষামূলক বোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড/শিক্ষামূলক কার্ড)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহঃ
(গবেষণামূলক পদ্ধতি - ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো - সংলাপ ও আলোচনা)।
মূল্যায়ন ও দিকনির্দেশনা:
• পরকালে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য অবিচলতাকে আঁকড়ে ধরার গুরুত্ব অনুভব করা।
• ইস্তিকামাতের অর্থ জানা এবং সে অনুযায়ী আমল করা।
উপকারী ইলম অর্জন এবং সে সম্পর্কে প্রশ্ন করার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া।
• আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন তা বর্জন করা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত বাক্যটি দেখান: (قُلْ: آمَنْتُ بِالله، ثُمَّ اسْتَقِمْ)، (তুমি বল: আমি ঈমান এনেছি, তারপর এর উপর অবিচল থাক) তাদের এটি নিয়ে চিন্তা করতে বলুন এবং তাদের মধ্যে কিছু ছাত্রকে নির্বাচন করুন; এ বিষয়ে তার মন্তব্য ও এটি পড়ার সময় তার মনে যা উদয় হয়েছিল তা প্রকাশ করার জন্য। ছাত্রদের আগের বাক্যটির উদ্দেশ্য জানার আলোকে; আপনি তাদের প্রত্যেককে তাদের নোটবুকে পাঠ যে বিষয়বস্তু ও চিন্তাধারাগুলো উপস্থাপন করবে বলে অনুমান করা যায় তা লিখতে নির্দেশ দিন। আর দারস শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে বিষয়ে মন্তব্য করা স্থগিত রাখুন।
পাঠ উপস্থাপনা:
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীদের কম্পিউটারের মাধ্যমে হাদীসটি শোনার নির্দেশ দিন।
তারপর আপনি কয়েকটি লাইনে হাদীসের সংক্ষিপ্ত অর্থ তুলে ধরুন।
ধাপ (২)
আপনি প্রশ্নের আকারে পাঠ উপস্থাপন করুন; আর এই প্রশ্নগুলো নিম্নরূপ:
প্রশ্নঃ হাদীসটি বর্ণনাকারী সম্পর্কে আপনি কি জানেন?
প্রশ্নঃ ইস্তিকামাতের (অবিচলতার) অর্থ বর্ণনা কর।
প্রশ্নঃ অবিচলতা অর্জনের উপায়গুলো কি কি?
ধাপ (৩)
নিম্নের ফলাফল বের করতে ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো পদ্ধতি ব্যবহৃত করুন:
হাদীসটি বর্ণনাকারীর জীবন থেকে কি শিক্ষা গ্রহণ করা যায়?
হাদিসটি যে ইস্তিকামাতের দিকে আহবান করে তা অর্জনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমসমূহ।
ঈমান এবং সৎকাজে ইস্তিকামাত সম্পর্কিত কিছু হিকমত।
তাদেরকে উপযুক্ত রসদ প্রদান করুন।
ধাপ (৪)
ফলাফল:
শিক্ষক ছাত্রদেরকে ভূমিকার সময় তারা পাঠ যে চিন্তাধারাগুলো উপস্থাপন করবে বলে অনুমান করেছিল তা স্মরণ করতে বলবেন।
পাঠের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের আলোকে তারা যা লিখেছে সে বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য কিছু ছাত্রকে বেছে নিবেন।
ছাত্রদের একটি সংক্ষিপ্ত বাক্য লিখতে বলুন যা পাঠ থেকে অর্জিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরবে।
কিছু ছাত্রের বাক্যগুলো জানুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল এবং তাৎপর্যপূর্ণ বাক্যটি চিহ্নিত করে সেগুলো সম্পর্কে মন্তব্য করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, সংযোগ এবং ফলাফল বের করার পদ্ধতি সম্পর্কে ছাত্রদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ৫
শিক্ষার্থীদের সামনে কম্পিউটারের মাধ্যমে কার্যক্রমে উল্লিখিত কুরআনের আয়াতটি উপস্থাপন করুন।
একজন দক্ষ ব্যক্তিকে এটি পড়ার জন্য বেছে নিন।
এটি কী নির্দেশ করে তা বের করার জন্য তাদের সাথে এতে থাক শব্দাবলীর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ নিয়ে আলোচনা করুন।
অনুশীলনীর প্রশ্নটি নিন এবং সঠিক উত্তর সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে এর উত্তর নিয়ে আলোচনা করুন। আর তাদের প্রত্যেকে যেন সঠিক উত্তরটি তার বইয়ে লিখে নেয়।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, ইস্তিকামাত অর্জনের উপায় বের করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ৪
ছাত্রদের প্রতি গ্রুপকে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিন।
প্রতিটি গ্রুপের সদস্যদের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গ্রুপগুলো পর্যবেক্ষণ করুন।
প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন করে বেছে নিন তার গ্রুপ যা সম্পাদন করেছে তা উপস্থাপন করার জন্য ।
তাদের মাঝে তুলনা করা এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরতদাতা ও এই উপকারী কাজগুলো নির্বাচন, সাজানো এবং বাস্তবায়নে সর্বাধিক দক্ষ ব্যক্তিকে নির্ধারণ করা।
ইস্তিকামাত অর্জন ও তা সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার উপায়গুলো প্রস্তাব করার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে তাদেরকে উৎসাহিত করা।
ইস্তোকামাত (অবিচলতা) বাস্তবায়নের উপায়সমূহ
আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন তা পরিহার করা।
আল্লাহ তা‘আলা যা ফরয করেছেন, তা পালন করা।
সৎ সান্নিধ্য।
সার্বক্ষনিক তাওবাহ ও ইস্তেগফার করা।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দিতে উল্লিখিত বাক্যগুলো ধারাবাহিকভাবে পড়ুন। উত্তরটি সঠিক হলে শিক্ষার্থীদের হাত তুলতে বলুন এবং শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করুন; তাদের ত্রুটির স্থানগুলো সনাক্ত করা ও তাদেরকে সতর্ক করার জন্য।
প্রশ্ন ১: - -
যারা উত্তর প্রদানে তৎপর নয় এমন দু'জন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, তাদের সামনে দ্বিতীয় প্রশ্নের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করুন এবং তাদের উত্তরগুলো জানুন; যাতে তাদের সহপাঠীরা তাদেরকে মূল্যায়ন করতে পারে।
প্রতি তিনজন শিক্ষার্থীকে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিন। তাদের উত্তরের মাঝে তুলনা ও বিশুদ্ধ উত্তরটি নির্ধারণ করার সাথে সাথে তিনটি গ্রুপকে তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন; যাতে প্রতিটি গ্রুপ তার ভুল সংশোধন করে নিতে পারে।
* শিক্ষানীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
শিক্ষার্থীরা ইস্তিকামাত বাস্তবায়ন করার যেসব উপায় এবং পদ্ধতি পাঠে শিখেছে তা প্রয়োগ করতে তাদেরকে উৎসাহিত করা।
তাদের পরিবারের সদস্যদের ইস্তিকামাতের ওপর গড়ে তুলতে চেষ্টা করা এবং এতে তাদের সাহায্য করা।
নবম পাঠ: অনর্থক কাজ পরিহার করা
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী: (يَعْنِيهِ) (গুরুত্ববহ)
শিক্ষামূলক উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড)।
শিক্ষাদানের কৌশলসমূহঃ
(দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষণ - আবিষ্কারমূলক পদ্ধতি - নাটকীয় পদ্ধতি - শ্রবণ ত্রিভুজ - ভুল ধারণা সংশোধন - ব্যাখ্যামূলক চিত্র)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- ব্যক্তির নিজের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ দেয়া।
- মুসলিমের অনর্থক কাজ ত্যাগ করার প্রতি আগ্রহ থাকা।
এমনভাবে সময় ব্যয় করার ওপর উৎসাহ প্রদান করা যা কল্যাণ বয়ে আনে।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নলিখিত পরিস্থিতি উপস্থাপন করুন এবং এটি সম্পর্কে তাদের মতামত জিজ্ঞাসা করুন ও তাদের উত্তরগুলো চিহ্নিত করুন। আর এ কথা স্পষ্ট করুন যে তারা হাদীস অধ্যয়ন না করা পর্যন্ত উত্তরগুলোর মূল্যায়ন স্থগিত থাকবে।
(একজন নারী তার প্রতিবেশী মহিলাকে বাড়ির বারান্দায় বসে তার মেয়ের সাথে তার স্বামী সম্পর্কিত বিষয়ে কথা বলতে দেখলেন, তাই নারীটি তার প্রতিবেশীর নিকট ফোন করে তার মেয়ের স্বামীর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন।)
হাদীসটির শিরোনাম বোর্ডে লিখুন এবং শিক্ষার্থীদের এ বিষয়ে চিন্তা করতে বলুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ছাত্রদেরকে হাদীসটি নীরবে পড়ার নির্দেশনা দিন এবং এর অর্থ ও এটি কী নির্দেশ করে তা জানার চেষ্টা করতে বলুন।
অর্থের উপস্থাপনাকে বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে অনুকরণীয় ও অভিব্যক্তিপূর্ণভাবে হাদীসটি পড়ুন। তারপর তাদের সহপাঠীদের সামনে এটি পাঠ করার জন্য কিছু ছাত্রকে বেছে নিন এবং তাদেরকে বিশুদ্ধ ও সঠিকভাবে পড়ার নির্দেশনা দিন।
ধাপ (২)
ছাত্রদের হাদীস বর্ণনাকারী সম্পর্কে তাদের পূর্বের জ্ঞান সক্রিয় করতে বলুন এবং তাদের উত্তরগুলো অবগত হোন। এছাড়া তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
হাদীসের বর্ণনাকারী সম্পর্কে ছাত্রদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করুন। বিশেষ করে নববী সুন্নাহর বিষয়ে তার আগ্রহের প্রতি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষ্য প্রদান। এটিকে একটি আকর্ষণীয় গল্প আকারে উপস্থাপন করুন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে ছাত্রদের মতামত ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর ফযীলত অনুকরণ করার ক্ষেত্রে তাদের কী করা উচিত তা বর্ণনা করার সুযোগ করে দিন।
ধাপ (৩)
ছাত্রদের সামনে হাদীসের শব্দাবলীর অর্থ ও এর নির্দেশনাগুলো ব্যাখ্যা করুন এবং হাদীসটি যে নীতির প্রতি আহ্বান করে তা সাব্যস্ত করতে বলুন; যা ব্যক্তি ও সমগ্র জাতির উপর ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে আসবে। আর ছাত্রদের উত্তরগুলো অবগত হোন এবং তাদেরকে যথাযথ সমর্থন প্রদান করুন।
ধাপ (৪)
ছাত্রদেরকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করুন, প্রতিটি গ্রুপ তিনজন শিক্ষার্থী নিয়ে গঠিত হবে এবং গ্রুপের প্রথম সদস্যকে ব্যক্তির নিজেকে নিয়ে ব্যস্ততার পরিণতিগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য নির্দেশ দিন। দ্বিতীয় ছাত্র তার সহপাঠীর উত্তর শুনবে এবং তাকে এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে যা তাকে সেই ফলাফলগুলো সম্পর্কে আরও বিশদ ব্যাখ্যা উপস্থাপন করতে উদ্বুদ্ধ করবে। আর তৃতীয় ছাত্র তার দুই সহপাঠীর কর্মতৎপরতা অনুসরণ করবে এবং শিক্ষকের কাছে উপস্থাপন করার জন্য তাদের মধ্যে চলমান বিষয়গুলো লিখে রাখবে।
ফলাফল:
পাঠের শুরুতে যে পরিস্থিতি উপস্থাপন করা হয়েছিল শিক্ষার্থীদেরকে তা স্মরণ করতে বলুন এবং হাদীস সম্পর্কে তাদের জ্ঞানের আলোকে সে বিষয়ে তাদের উত্তর মূল্যায়ন করতে বলুন। আর তাদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রকে বেছে নিন পাঠের ধাপগুলোর আগে ও পরে তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য এবং উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করে তাদের উত্তরগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করুন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে/সম্মিলিতভাবে, দারসে যা উত্থাপিত হয়েছে তার আলোকে নসীহা করা।
লক্ষ্য নং ৪
দু’জন শিক্ষার্থীকে পর্যায়ক্রমে বেছে নেওয়াকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, যাতে তারা উভয়ে তাদের সহপাঠীদের সম্মুখে দাঁড়ায়।
আপনি কার্যক্রমে উল্লিখিত প্রতিটি অবস্থানকে পর্যায়ক্রমে উপস্থাপন করুন এবং উভয়ের প্রত্যেকের কাছ থেকে উত্তর গ্রহণ করুন; যেখানে তারা পাঠ থেকে যা শিখেছে তার আলোকে পরিস্থিতির সম্মুখীন ব্যক্তিকে পরামর্শ প্রদান করবে।
হাদীস থেকে যা শেখা হয়েছে তা প্রয়োগ করার মাধ্যমে সবচেয়ে সেরা ও কার্যকর পরামর্শগুলো চিহ্নিত করে ছাত্রদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন এবং সেগুলোর মাঝে তুলনা করুন, সাথে ছাত্রদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, মানুষের অঙ্গসমূহ সম্পাদন করে এমন অনর্থক কর্মসমূহ নির্ধারণ করা। লক্ষ্য নং ২, ৩
শিক্ষার্থীদের প্রতিটি গ্রুপকে কার্যক্রমটির উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিন। আর তাদের সকলে একটি পৃথক কার্ডে উল্লিখিত তালিকাটি আঁকবে এবং কার্ডে সে সম্পর্কে উত্তর দিবে।
শিক্ষার্থীদের কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং পর্যায়ক্রমে গ্রুপের কর্মতৎপরতা মূল্যায়ন করুন; যাতে প্রত্যেক গ্রুপের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো সবার সামনে প্রকাশ পায় এবং গ্রুপগুলো যাতে একে অপরের কর্মতৎপরতা থেকে উপকৃত হয়।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, হাদীস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো নির্ধারণ করা।
লক্ষ্য নং ২
শিক্ষক প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ভিডিও ক্লিপটি দেখতে এবং তা থেকে শিক্ষণীয় বিষয় সম্পর্কে শিক্ষকের সাথে আলোচনা করতে বলবেন। আর তাদের খাতায় লিখে নেয়ার জন্য তা ব্ল্যাকবোর্ডে লিখতে বলবেন।
মূল্যায়ন
নিম্নের নিয়ম অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার বইয়ে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর আলাদাভাবে দিবে।
প্রতিটি ছাত্র তার সহপাঠীর সাথে নিজের উত্তর বিনিময় করবে; যেন তাদের প্রত্যেকে পরস্পরের উত্তর মূল্যায়ন করে এবং তার ভুলগুলো খুঁজে বের করে। আর আপনি শিক্ষার্থীদের পরস্পরের উত্তর মূল্যায়ন পর্যবেক্ষণ করুন এবং সঠিকভাবে সম্পাদন করার পদ্ধতি সম্পর্কে তাদেরকে নির্দেশনা দিন।
সহপাঠীদের সামনে মূল্যায়ন পদ্ধতি, ভুলগুলো চিহ্নিতকরণ এবং তার সংশোধন পদ্ধতির বর্ণনা করার জন্য কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন।
যে সকল ছাত্রদের সহপাঠীরা তাদের উত্তরে কোনো ভুল খুঁজে পায়নি তাদের নাম উল্লেখ করুন এবং তাদেরকে যথাযথ উৎসাহ প্রদান করুন।
প্রশ্ন ১: (অর্থবহ - সময় সংরক্ষণ ও দ্বীনের নিরাপত্তা - মুখস্ত শক্তি - ইসলামের পরিপূর্ণতা - শিল্পীদের খবর অন্বেষণ করা)
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
তাদের জীবনে ও লেনদেনের ক্ষেত্রে হাদীস কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশাবলী প্রয়োগ করার চেষ্টা করা; যা তাদের উপকারী বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেওয়া ও অনর্থক বিষয় ত্যাগ করার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর অন্যদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে অনর্থক কথাবার্তা ও খেলতামাশা পরিহার করা।
প্রতিটি ছাত্র তার চারপাশের ব্যক্তিদের বাস্তবতা পরীক্ষা করবে, হাদীস শরীফ যা দাবি করে সে অনুযায়ী কাজ করার ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহের মাত্রা নির্ধারণ করবে এবং এর বিপরীত নেতিবাচক দিকগুলো নির্ধারণ করবে। আর সে যা পর্যবেক্ষণ করেছে ও কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সে সম্পর্কে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে আলোচনা করবে।
ফিকহী আহকাম সংক্রান্ত অধ্যায়
প্রথম পাঠ: হালাল উপার্জন এবং হারাম উপার্জন
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((الكسب الحلال) হালাল উপার্জন - (الكسب الحرام) হারাম উপার্জন -(الاحتكار) মজুত করে রাখা - (الغبن) ধোঁকা - (الرشوة) ঘুষ)
শিক্ষা সামগ্রী:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড)।
পাঠদানের কৌশলসমূহঃ
(আখ্যানমূলক পদ্ধতি - আবিষ্কার দ্বারা শেখা - ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো - সমবায় শিক্ষা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
হালাল উপার্জনের চেষ্টা করা।
- হারাম উপার্জন থেকে দূরে থাকা।
- হারাম উপার্জনের সকল উপায় প্রত্যাখ্যান করা ও তা থেকে পলায়ন করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের কাছে দুই বণিক ভাইয়ের গল্প উপস্থাপন করা হবে। তাদের একজন শরীয়ত অনুমোদিত উপায়ে অর্থ উপার্জন করতে আগ্রহী, তাই তিনি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করেন এবং তাঁর অধিকার সংরক্ষণ করেন। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে তার জীবিকায় এবং স্ত্রী-সন্তানদের মাঝে বরকত দান করেছেন, তাই তিনি সন্তোষজনক এবং প্রশান্তিময় জীবন যাপন করেন। আর দ্বিতীয়জন নিজের ব্যবসায় মজুতদারি এবং সুদের উপর নির্ভর করে। এর ফলে তার জীবন ও জীবিকা খারাপ ছিল এবং তার অর্থে বরকত ছিল না। তাই তার ব্যবসা বিপর্যস্ত হয়েছে এবং তাকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছে।
শিক্ষক ভালো আখ্যান পদ্ধতির প্রতি খেয়াল রাখবেন এবং ছাত্রদেরকে গল্প সম্পর্কে মতামত দিতে এবং আজকের পাঠটি কী হতে পারে তার অনুমান করতে বলবেন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আবিস্কারমূলক শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি বোর্ডে নিম্নলিখিত বাক্য দু’টি লিখতে পারেন এবং প্রতিটি বাক্য কী ইঙ্গিত করে তা নির্ধারণে ছাত্রদের চিন্তা করতে বলুন।
আর তা হলো শরীয়ত অনুমোদিত উপায় ও পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করা। সেটা কী?
আর তা হলো শরীয়ত নিষিদ্ধ উপায় ও পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করা। সেটা কি?
ধাপ (২)
ব্রেইন স্টর্মিং বা বুদ্ধি খাটানো পদ্ধতির মাধ্যমে; শিক্ষার্থীদেরকে হালাল উপার্জনের ফযীলত উপস্থাপন করার নির্দেশ দিন। অতঃপর তাদের উত্তরগুলো অবগত হওয়ার ও তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করার পর আপনি আল-কুরআনুল কারীম এবং হাদীস শরীফ থেকে দলিল সংযুক্ত করে তাদের সামনে ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে সেই প্রভাবগুলো পর্যায়ক্রমে দেখাতে পারেন। সাথে দলিলগুলোর ব্যাখ্যা এবং সেগুলো কী নির্দেশ করে তা বর্ণনা করতে পারেন।
ধাপ (৩)
ছাত্রদেরকে বিভিন্ন দলে ভাগ করুন এবং প্রতিটি দলকে অবৈধ উপার্জনের ধরন ব্যাখ্যা করতে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিন। আর প্রতিটি দল একটি কার্ডে তাদের উত্তর লিখবে এবং তাদের উত্তর জানতে ও তার ওপর মন্তব্য করতে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন।
ছাত্ররা কী প্রস্তাব করেছে তা নিয়ে আলোচনা করুন, তারপর এই উপায়গুলো পড়তে এবং তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন।
ফলাফল:
- আপনি সকল শিক্ষার্থীর মাঝে একটি করে কার্ড বিতরণ করতে পারেন যাতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর শুণ্যস্থান পূরণ করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আর আপনি তাদের উত্তরগুলো অবগত হতে তাদের মাঝ দিয়ে যান এবং ভুল উত্তরদাতাকে পাঠের বিষয়বস্তু অবগত হওয়ার মাধ্যমে উত্তরে পৌঁছার নির্দেশনা দিন।
হালাল উপার্জন হল ......................
হালাল উপার্জনের ফযীলত হল...................
হারাম উপার্জন হল................................
হারাম উপার্জনের উপায়গুলো হল.......................
কোনটা হালাল উপার্জন আর কোনটা হারাম উপার্জন তা জানার পর আপনার ভূমিকা....................................
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, ইসলামী শরীয়ায় উপার্জন ও ব্যয় করার প্রতি গুরুত্বারোপের পরিমাণ এবং হালাল উপার্জনে উৎসাহিত করার বর্ণনা।
লক্ষ্য নং ৪
শিক্ষক কার্যক্রমে থাকা হাদীসটি বোর্ডে লিখবেন, তারপর এটি পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নিবেন এবং তাদের সাথে এর অর্থ ও এটি কী নির্দেশ করে তা নিয়ে আলোচনা করবেন।
প্রতিটি ছাত্রকে তার নোটবুকে হাদীস সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিন এবং তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য কিছু ছাত্রকে বেছে নিন। আর যে সঠিক উত্তর দিতে এবং হালাল উপার্জনে আগ্রহের পরিমাণ নিরূপণকারী বাক্য প্রনয়ন করতে সক্ষম তার প্রশংসা করুন।
কেননা সম্পদের দুটি দিক রয়েছে: একটি উপার্জন করার আর অপরটি খরচ করার।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, কিছু জীবনঘনিষ্ঠ পরিস্থিতিতে অর্থ উপার্জনের হুকুম কারণসহ বর্ণনা করা।
লক্ষ্য নং ৩
প্রতি দুইজন ছাত্রকে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন এবং তাতে প্রদত্ত প্রতিটি উদাহরণে অর্থ উপার্জনের হুকুম কারণসহ বর্ণনা করুন।
পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উদাহরণ পড়ুন ও তার সম্পর্কে প্রতিটি দলের উত্তর অবগত হন এবং তাদেরকে উপযুক্ত নাম্বার দিন।
সেরা উত্তরদাতা দলকে চিহ্নিত করুন ও তার দলের সদস্যদের প্রশংসা করুন এবং দলের একজন সদস্যকে তার সহপাঠীদের সামনে সমস্ত উত্তরগুলো আরেকবার পড়ার জন্য দায়িত্ব দিন, যাতে ভুল উত্তরদাতা দল তাদের ভুল সংশোধন করে নিতে পারে।
উপার্জনের উদাহরণ উপার্জনের হুকুম কারণ
এক ব্যক্তি মারা গেলে তার সন্তানগণ পরিত্যাক্ত সম্পত্তি তাদের মধ্যে ভাগ করে নিল। হালাল কেননা তা মীরাছের সম্পদ।
কোন ব্যক্তি তার প্রতিবেশীর জন্য স্বীয় সম্পদের কিছুটা অসীয়ত করে গেল। হালাল কারণ এটি বৈধ অসিয়ত।
একজন ডাক্তার হাসপাতাল থেকে তার প্রাইভেট ক্লিনিকে কিছু চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে যান। হারাম কেননা এটা আত্মসাৎ।
এক ব্যক্তি বেশী লাভের আশায় দুধের সাথে পানি মেশালো। হারাম কেননা এটি একটি প্রতারণা।
একজন ব্যক্তি গবাদি পশু দেখাশুনার কাজ করেন এবং সেগুলোর দুধ বিক্রি করেন। হালাল কারণ এটি হল, ব্যবসা।
একজন যুবক কোন মানুষের সম্পদ জোর করে নিয়ে নিল। হারাম কারণ এটি জবরদখল।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ করুন:
প্রথম প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য শিক্ষক তার প্রতিটি বাক্য ছাত্রদের সামনে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরবেন এবং বাক্যটি সঠিক হলে তাদেরকে হাত তুলতে বলবেন। আর তিনি তাদের কর্মক্ষমতা নিরীক্ষণ করবেন এবং যারা ভুল করেছে তাদের প্রত্যেককে সঠিকটি জানার জন্য নির্দেশ দিবেন।
প্রশ্ন ১: (✖) - (✖) - (✓)
শিক্ষক প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পৃথকভাবে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিবেন এবং তাদের উত্তরগুলো জানার জন্য তাদের পাশ দিয়ে যাবেন। আর তাদের মধ্যে ভুল উত্তরদাতাকে সঠিক উত্তরের দিক-নির্দেশনা দিবেন।
ব্যবসা-প্রতারণা-ধোঁকা-ঘুষ
শিক্ষক দু'জন ছাত্রকে বেছে নিবেন; যেন তাদের প্রত্যেকে বোর্ডে তৃতীয় প্রশ্নের প্রয়োজনীয় শরয়ী দলীলগুলোর একটি লিখে এবং যদি তারা ভুল করে তবে তারা বই থেকে সঠিক দলীল বের করার চেষ্টা করবে।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক নির্দেশনাঃ
শিক্ষক ছাত্রদেরকে সর্বদা বৈধ উপার্জনে আঁকড়ে করতে অনুপ্রাণিত করবেন যাতে তারা এই উপার্জনের ইতিবাচক প্রভাব এবং সুবিধাগুলো পায় এবং তাদের জীবনে এর ফলাফলের আনন্দ অনুভব করতে পারে।
অনুরূপভাবে তারা ব্যক্তি ও সমাজের উপর বৈধ এবং অবৈধ উপার্জনের প্রভাব সম্পর্কে পাঠ থেকে যা শিখেছে তা তাদের পরিবার ও পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিবেন।
দ্বিতীয় পাঠ: ব্যবসার হুকুমসমূহ
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী: (الغرر) (ধোঁকা)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - ব্ল্যাকবোর্ড - অডিও মাধ্যম - শিক্ষামূলক ছবি)।
শিক্ষদানের কৌশলসমূহঃ
(আনুমানিক চিন্তা - সমস্যা সমাধান - নির্দিষ্ট প্রতীক- ইতিবাচক এবং নেতিবাচক উদাহরণ - গ্রুপ আলোচনা)।
মূল্যায়ন ও দিকনির্দেশনা:
- বিক্রয়ের বিধানাবলী পালন করার প্রতি আগ্রহী থাকা।
- বৈধ উপার্জনের দায়িত্ববোধ অনুভব করা।
- মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বিক্রয়ের শর্তগুলো শরীয়তের অনুমোদনের ক্ষেত্রে ইসলামের মহত্ত্বের মর্যাদা প্রকাশ করা।
পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক; ছাত্রদের নিচের আয়াতটি দেখান। আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন: (و أَحَلَّ اللهُ الْبَيْعَ). (এবং আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয় হালাল করেছেন)। তারপর তাদেরকে কল্পনা করতে বলুন যে, আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেননি আর এর ফলে কী হতে পারে তাও কল্পনা করতে বলুন। অতঃপর তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন এবং তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন, সাথে আল্লাহ তা‘আলা ক্রয়-বিক্রয়কে কেন হালাল করেছেন তার কারণ ব্যাখ্যা করুন।
তারপর বোর্ডে পাঠের শিরোনাম লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নলিখিত সমস্যাটি উপস্থাপন করুন ও এ সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করতে বলুন এবং ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হওয়ার পদ্ধতি ও এর শর্তাবলী সম্পর্কে তাদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তাদের উত্তরগুলোকে ভূমিকা হিসেবে ব্যবহার করুন।
(হাসান একজন ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বাড়ি কিনলেন, তারপর জানা গেল যে এই ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তার জন্য একা কেনা-বেচা করা জায়েজ নয়। বাড়িটিতে তার ও তার ভাইদের অংশীদারিত্ব ছিল। তিনি তাদের এই বিষয়টি না জানিয়ে হাসানের সাথে বিক্রয় সম্পন্ন করেছেন। ফলে এই ব্যক্তির ভাইয়েরা হাসানের কাছে গিয়ে তাকে এই বিক্রয় বাতিল করতে বলল।)
ধাপ (২)
শিক্ষক ডিসপ্লে স্ক্রিনে বিক্রির শর্তগুলীর সাথে সম্পর্কিত কিছু নির্দিষ্ট প্রতীক প্রদর্শন করবেন, যেমন: (একজন ব্যক্তির ছবি যিনি অন্যকে কিছু করতে বাধ্য করছেন - কোন দোকানে বিক্রয়কারী একটি ছোট শিশুর ছবি - একটি মদের দোকানের ছবি - লটারির টিকিট বিক্রি করা একজন ব্যক্তির ছবি), এবং তিনি ছাত্রদের এটি নিয়ে চিন্তা করতে এবং প্রতিটি প্রতীক কী বোঝায় তা বের করার চেষ্টা করতে বলবেন।
ছাত্রদের সাথে উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা কর এবং তাদেরকে ক্রয়-বিক্রয়ের সহীহ শর্তসমূহের আলোচনার দিকে নিয়ে যান। তারপর তাদের নিকট সেই শর্তগুলো ব্যাখ্যা করুন এবং ব্যাখ্যা করার সময় একটি বোর্ডের মাধ্যমে বা অডিও মাধ্যমে এ সম্পর্কিত শরয়ী দলিলগুলো উপস্থাপন করুন। আর তাদের সাথে এগুলোর অর্থ ও তা কি নির্দেশ করে সে বিষয়ে আলোচনা করুন।
ধাপ (৩)
আপনি নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন। আর সেগুলোর বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করতে এবং এ ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়া কতটা বৈধতা ও ক্রয়-বিক্রয়ের বর্ণিত শর্তগুলোর সাথে তা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ তা নির্ধারণ করতে বলুন।
একজন ব্যক্তি কেনাকাটা করতে গিয়ে একটি পণ্য দেখলেন এবং বিক্রেতার সাথে কথা না বলেই তা নিয়ে নিলেন ও এর অর্থ প্রদান করলেন।
এক ব্যক্তি শূকরের মাংস কিনতে গেল।
এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্পত্তি তার অনুমোদন ছাড়াই বিক্রি করে দিয়েছে।
এক যুবক বাবার অনুমতি না নিয়ে নিজের গাড়ি বিক্রি করে দিলেন।
এক ব্যক্তি জমির ফসল রোপণের আগে বিক্রি করে দিল।
*ফলাফলঃ
বিক্রয়ের শর্তাবলীর জন্য ব্ল্যাকবোর্ডে বা প্লাকার্ডে একটি পরিকল্পিত চিত্র আঁকুন। কিছু শিক্ষার্থী বাছাই করুন যাতে তাদের প্রত্যেকে চিত্রটির কাছে গিয়ে এতে বিক্রয়ের শর্তগুলোর একটি লিখবে এবং তার সহপাঠীদের সামনে নিজস্ব শৈলীতে শর্তটি ব্যাখ্যা করবে ও এর সাথে সম্পর্কিত শরয়ী দলিল উল্লেখ করবে। আর এই শর্তগুলো জানার পরে তাদের প্রত্যেক একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যে ক্রয়-বিক্রয়ের সময় অবশ্যই করণীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করবে।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
অনুশীলন নং: ১ এর ধরন ও উদ্দেশ্য: সম্মিলিতভাবে, বিক্রয়ের বিধি-বিধানসমূহ প্রয়োগ করার ফলাফলগুলো বের করা। লক্ষ্য নং: ২
শিক্ষার্থীদের সামনে কার্যক্রমে উল্লেখিত বাক্যটি পড়ুন, তারপর এই বাক্যটির কারণ ব্যাখ্যা করতে তাদের সাথে আলোচনা শুরু করুন। আর তাদেরকে ক্রয়-বিক্রয়ের বিধান সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের জ্ঞানের ফলাফল অনুমান করতে বলুন এবং এই ফলাফলগুলোর সর্বাধিক সংখ্যা উল্লেখ করার জন্য তাদের আবিষ্কারমূলক ও শৃজনশীল সক্ষমতা ব্যবহার করতে উৎসাহিত করুন।
শিক্ষার্থীদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন, সাথে তাদের কথোপকথন ও উত্তরগুলো সুবিন্যাস্ত করুন। আর তারা যা জিজ্ঞাসা করে তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন এবং বোর্ডে সংক্ষিপ্তভাবে তাদের সঠিক উত্তরগুলো লিখুন যাতে এগুলো তারা তাদের বইেয়র নির্ধারিত স্থানে লিখে নিতে পারে।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য দুইজন দুইজন করে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় বাতিল হওয়ার কারণগুলো সাব্যস্ত করা।
লক্ষ্য নং ১
তাদের সহপাঠীদের সামনে দাঁড়ানোর জন্য দুইজন করে ছাত্র বেছে নিন।
কার্যক্রমে উল্লিখিত প্রতিটি অবস্থাকে উভয় দলের সামনে পাঠ করুন এবং প্রতিটি দলকে নির্দিষ্ট হালতে বিক্রয় বাতিল হওয়ার কারণ নির্ধারণে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন।
প্রতিটি দলের উত্তর গ্রহণ করুন এবং তাদের সহপাঠীদেরকে তাদের মূল্যায়ন করা ও সর্বোত্তম উত্তর নির্ধারণ করার সুযোগ করে দিন। অন্যান্য দলগুলোর সাথে একই বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখুন যতক্ষণ না কার্যক্রমে থাকা সমস্ত হালত উপস্থাপন সম্পন্ন হয়।
কারণ বিক্রেতা জিনিসটির মালিক নয়।
কারণ বিক্রিত মাল অজানা।
কারণ মাদক বিক্রি করা হারাম এবং পণ্য অবশ্যই জায়েয হতে হবে।
কারণ বিক্রেতা ভালো-মন্দ জ্ঞানের অধিকারী নয়।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, বিক্রয়ের শর্ত পূরণ সম্পর্কিত কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করা।
লক্ষ্য নং ২
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রথম কর্যক্রমটি একাকী করতে এবং একটি পৃথক কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ করুন। তারপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ এবং সেগুলোর মূল্যায়ন করুন; সবচেয়ে সঠিক ও নিখুঁত উত্তর নির্ধারণ এবং সঠিক উত্তরদাতার প্রশংসা করাসহ ।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
মূল্যায়নে উল্লিখিত প্রশ্নগুলো উত্তর প্রত্যেক শিক্ষার্থী এককভাবে দিবে।
প্রতিটি ছাত্র তার উত্তর একজন সহপাঠীর উত্তরের সাথে বিনিময় করবে যাতে তারা প্রত্যেকে অন্যের মূল্যায়ন করে এবং তার ভুলগুলো খুঁজে বের করে। আর এটা হবে আপনার পর্যবেক্ষণের অধীনে, যাতে শিক্ষার্থীরা পরস্পরকে মূল্যায়ন করতে পারে, আর সঠিকভাবে সম্পাদন করার পদ্ধতি সম্পর্কে তাদেরকে নির্দেশনা দিন।
সহপাঠীদেরকে কীভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং তারা কী ভুল খুঁজে পেয়েছে ও কীভাবে সেগুলো সংশোধন করেছে তা উল্লেখ করার জন্য কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন।
উত্তরে কোনো ভুল করেনি এমন ছাত্রদের নাম উল্লেখ করুন এবং তাদের যথাযথ উৎসাহ দিন।
প্রশ্ন ১: () - () - (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
প্রশ্ন ২: (অনুমোদিত সুবিধা - বুদ্ধিমান - পবিত্র)
* শিক্ষণীয় ও উপলব্ধিমূলক নির্দেশনাঃ
পাঠ থেকে যা শিখেছে তার আলোকে শিক্ষক নিম্নলিখিত বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করবেন:
ক্রয়-বিক্রয়ের বিধি-বিধান সম্পর্কে তারা যা শিখেছে তা প্রয়োগ করতে শিক্ষক ছাত্রদেরকে নির্দেশনা দিবেন।
শিক্ষার্থীরা তাদের চারপাশের ক্রয়-বিক্রয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং ক্রয়-বিক্রয়ের শর্তগুলো কতটুকু পূরণ হয় তা যাচাই করবে। যদি এই শর্তগুলো পূরণ না হয় তবে তারা তাদের পরিবারের সাথে এর সমাধানের বিষয়ে আলোচনা করবে।
তৃতীয় পাঠ: সুদ এবং নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় (ব্যবসা)
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((الربا) সুদ - (ربا الفضْل) রিবা আল-ফাদল বা অতিরিক্তকরণ সুদ -(ربا النسيئة) রিবা আন-নাসীয়াহ বা বিলম্বের সুদ - (ربا الديون) রিবা আদ-দুয়ূন বা ঋনের সুদ - (الفوائد المصرفية) ব্যাংক মুনাফা)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - অডিও মাধ্যম - কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহঃ
(সমস্যা সমাধান - আবিষ্কারমূলক পদ্ধতি - চিন্তামূলক মানচিত্র - নির্দিষ্ট প্রতীক - ভুল ধারণা সংশোধন - গ্রুপ আলোচনা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- ব্যক্তি ও সমাজের উপর সুদের ভয়াবহতা অনুধাবন করা।
- সুদের সকল প্রকারকে প্রত্যাখ্যান করা।
- হালাল উপার্জনের উপর অবিচল থাকা।
- ব্যক্তি ও সমাজ সংরক্ষণে ইসলামী শরীয়ার ভূমিকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
- সুদ এবং নিষিদ্ধ বিক্রয় পরিহার করা।
পাঠের ভূমিকা:
সমস্যা সমাধানের পদ্ধতির সহযোগিতা নিয়ে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিটি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করে এই বিষয়ে তাদের মতামত প্রকাশ করার নির্দেশনা দিন এবং তাদের মধ্যে কোন একজন এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে সে কীভাবে কাজ করবে তার বর্ণনা করতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন এবং পাঠের ধাপগুলো অতিক্রম না করা পর্যন্ত তাদের মূল্যায়ন স্থগিত থাকবে মর্মে তাদেরকে জানিয়ে রাখুন।
(সালেহ আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন যাপন করার কারণে তার শহরের এমন এক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ ধার করতে গেলেন যিনি অনেক লোককে ধার দিতেন; কারণ তার প্রচুর সম্পদ ছিল। তবে এই ব্যক্তি তাকে জানাল যে তিনি তাকে টাকা ধার দেবেন, কিন্তু পরিশোধের সময় ১০% বাড়িয়ে দিতে হবে। সালেহ বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন যে তার সংকট দূর করার জন্য এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন নাকি প্রত্যাখ্যান করবেন?!)
- শিক্ষার্থীদের পাঠের বিষয়বস্তুর দিকে নিয়ে যান এবং তা বোর্ডে লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
নিচের বাক্যটি বোর্ডে লিখুন এবং ছাত্রদের বাক্যটি নিয়ে চিন্তা করতে ও এটি কী বুঝায় তা এক কথায় প্রকাশ করতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করার পর সুদ বলতে কী বুঝায় তা তাদের নিকট ব্যাখ্যা করুন।
(এটি কিছু লেনদেনের ক্ষেত্রে হারাম পন্থায় অর্থ বৃদ্ধি করা... তাহলে এটি কী?)
ধাপ (২)
তুলনামূলক চিন্তাধারার মানচিত্র পদ্ধতি ব্যবহার করে; ছাত্রদের সামনে একটি প্লাকার্ড প্রদর্শন করুন যেখানে সুদের দুইটি ধরনই থাকবে, আর তাদেরকে তুলনাসহ প্রতিটি প্রকারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিন এবং এ সম্পর্কিত উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করুন।
ধাপ (৩)
ছাত্রদেরকে নিম্নোক্ত হাদীসটি পড়ার নির্দেশ দিন এবং তারা এর অর্থ নিয়ে চিন্তা করার পর, তাদের দুই প্রকার সুদের প্রত্যেক প্রকারের বিধান বর্ণনা করতে বলুন এবং এ বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবনের বিনিময়ে লবন, একই পরিমাণে, সমান সমানে, হাতে হাতে (নগদে) হতে হবে। আর যদি এ শ্রেণির মধ্যে পরিবর্তন আসে, তখন তোমরা হাতে হাতে (নগদে) হলে যেমন খুশি বিক্রয় করতে পারবে।”
ধাপ (৪)
এমন কিছু ব্যক্তি সম্পর্কে ছাত্রদের মতামত জানতে পারেন যারা (মুনাফার) নামক বৃদ্ধির বিনিময়ে তাদের অর্থ ব্যাংকে জমা করতে আগ্রহী এবং তারা এটির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত এবং শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে এতে কোনো সমস্যা নেই। আপনি এই বিষয়ে তাদের মতামত গ্রহণ করুন এবং তাদের নিকট এর শরিয়া বিধান ব্যাখ্যা করুন।
ধাপ (৩)
বোর্ডে নিম্নলিখিত হাদীসটি লিখুন: “তোমাদের কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপর ক্রয়-বিক্রয় করবে না।” তারপর তাদের সে সম্পর্কে চিন্তা করতে এবং নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয়ের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ধরনগুলো বের করার চেষ্টা করতে বলুন। এ সময় ডিসপ্লে স্ক্রিনটির সাহায্যে এর সাথে সম্পৃক্ত কিছু নির্দিষ্ট প্রতীক প্রদর্শন করা যেতে পারে; শিক্ষার্থীদের নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয়সমূহে পৌঁছাতে সহায়তা করার জন্য।
*ফলাফলঃ
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে পাঠের ভূমিকার সময় উপস্থাপিত সমস্যার সমাধানগুলো পর্যালোচনা করবেন এবং তাদের শেখা চিন্তাধারা ও বিষয়বস্তু অনুসারে তাদের প্রতিটি উত্তর মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিন।
শিক্ষক তাদের প্রত্যেক দু’জনকে পাঠ থেকে কী শিক্ষা অর্জন করা যায় এবং সুদ ও এর ধরণগুলো সম্পর্কে তারা কী শিখেছে তা নির্ধারণে পরস্পর সহযোগিতা করার নির্দেশ দিবেন। আর তাদেরকে সুন্দর বাক্য প্রণয়নে উৎসাহিত করবেন, যা হবে বাস্তবায়ন ও প্রয়োগযোগ্য এবং তাদের প্রত্যেকের উত্তরগুলো জানবেন ও তাদের যথাযথ সমর্থন প্রদান করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, ছাত্রদেরকে চিন্তা করা এবং ফলাফল বের করার প্রশিক্ষণ দান।
লক্ষ্য নং ৫
আপনি শিক্ষার্থীদের পূর্ববর্তী জ্ঞানের উপর নির্ভর করতে পারেন এবং তাদেরকে সুদ ও নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে তারা যা জানে তা স্মরণ করতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো অবগত হোন এবং সঠিক উত্তর ব্যাখ্যাসহ সেগুলোর মূল্যায়ন করুন।
আরও তথ্য জানার জন্য ইলেকট্রনিক উৎসগুলো অধ্যয়ন করার মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কার্যক্রমটি সম্পর্কে জ্ঞান সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া উত্তম। আর এতে শিক্ষার্থীদের কর্মতৎপরতা এবং তারা কী অর্জন করেছে তা পরবর্তী মিটিংয়ে পর্যালোচনা করবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, সুদ খাওয়ার প্রভাবসমূহ ও তা থেকে তওবা করার পদ্ধতি বের করা।
লক্ষ্য নং ৪-৫
শিক্ষার্থীদের অডিও মাধ্যমে কার্যক্রমের আয়াত দুটি শ্রবণ করার নির্দেশ দিন। তারপর তাদেরকে সুদ খাওয়ার কুফল ও তা থেকে তাওবা করার পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত করতে তাদের সাথে একটি গ্রুপ আলোচনার আয়োজন করুন, তারা তাদের উপস্থাপনায় আয়াত দুটির অর্থ ও সেগুলোর শিক্ষণীয় বিষয়ের উপর ভিত্তি করবে। শিক্ষার্থীদের সচেতন গবেষণা ও নির্ভুল উপস্থাপনা প্রতি উদ্বুদ্ধ করুন। আর তাদের প্রত্যেকে আলোচনার সময় নিজের ভূমিকার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে এবং অন্যের মতামত শুনবে ও তাকে সম্মান করবে।
সুদ রিযিকের বরকত নষ্ট করে দেয় এবং দরিদ্রতা ও অকর্মণ্যতার প্রসার ঘটায়।
সুদগ্রহীতা যদি তাওবা করে, তবে সে কেবল তার মূলধনই নেবে এবং এর চেয়ে বেশি নেওয়া তার জন্য জায়েজ নয়।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, সুদের লেনদেনকারীদের জন্য চরম শাস্তির বিষয়ে সতর্ককরণ।
লক্ষ্য নং ৩-৪
প্রতিটি ছাত্রকে কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত হাদীসটি পড়া, এর অর্থ নিয়ে চিন্তা করা এবং এটি কী নির্দেশ করে তা ব্যাখ্যা করার নির্দেশ করুন। এ বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন এবং তাদের প্রশ্নের উত্তর দিন।
তারপর প্রত্যেক ছাত্রকে একটি বাক্য লিখতে বলুন যেখানে তিনি হাদীসে যা আছে তা উল্লেখ করে সুদখোরদেরকে সতর্ক করবেন। আর ছাত্রদের সন্তোষজনক বাক্য প্রণয়নে উৎসাহিত করুন এবং তাদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের নিয়ম অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
শিক্ষার্থীদের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা বাঞ্ছনীয় এবং কিছু ছাত্রকে বেছে নিন, যেন তাদের প্রত্যেকে প্রশ্ন দুটির বিষয়বস্তুর একটির উত্তর দেয়, এ সময় সহপাঠীরা তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করবে ও তাদের উত্তর মূল্যায়ন করবে।
প্রশ্ন ১: (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) - () - () - ()
প্রশ্ন ২: (শত্রুতা - নিষেধ - ঋণের সুদ)
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে এককভাবে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ করুন এবং তাদের মধ্য থেকে দু’জন ছাত্রকে বেছে নিন; তুলনাসহ তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য এবং সঠিক উত্তরদাতা ব্যক্তিকে উপযুক্ত উৎসাহ দিন।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
প্রতিটি ছাত্র দারসের বিধানগুলো প্রয়োগ করতে আগ্রহী হবে, বিশেষ করে যা ফলদায়ক কাজে অধ্যবসায়ের সাথে এবং গুনাহ দ্বারা কলঙ্কিত উপার্জন থেকে দূরে থাকার সাথে সম্পর্কিত, যেমন সুদ ও এর বিভিন্ন প্রকার।
প্রতিটি শিক্ষার্থীর উচিত তার আশেপাশের ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেনের বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করা; চায় তা তার পরিবারের মধ্যে হোক বা এর বাইরে হোক। বিশেষ করে যেগুলো সুদের সমসাময়িক রূপগুলোর সাথে সম্পর্কিত। যদি সে এর সাথে সম্পর্কিত কিছু নেতিবাচক বিষয় দেখতে পায়, তাহলে তাদের সাথে এর মধ্যে পতিত হওয়ার কারণ ও তা থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পারে।
চতুর্থ পাঠ: ইজারা/ভাড়ার চুক্তি
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((الإجارة) ইজারাহ - ( إجارة المنافع) শ্রম (ফায়দা) ইজারা দেওয়া - (خَصْمُهُمْ) তাদের বিবাদী)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - কাগজের ব্যানার)।
শিক্ষাদানের কৌশল:
(দৃষ্টিভঙ্গির বিশ্লেষণ - ধারণাগুলোর পরিকল্পিত চিত্র - স্ব-প্রশ্নকরণ - ইতিবাচক উদাহরণ এবং নেতিবাচক উদাহরণ - গরম চেয়ার)।
মূল্যায়ন এবং দিকনির্দেশনা:
- মালিক ও কর্মচারীর অধিকার রক্ষায় ইসলামের ভূমিকার গুরুত্ব।
- হারাম লেনদেন এড়িয়ে চলা।
ইজারার শর্তসমূহ পালন করা।
-ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ইজারা দেওয়ার গুরুত্ব অনুভব করা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিটি উপস্থাপন করুন এবং তাদের মতামত জিজ্ঞাসা করুন। আর আমরা কীভাবে সমস্যাটি কাটিয়ে উঠব? -তা জিজ্ঞেস করুন- । এরপর তাদের উত্তরগুলো জানুন এবং পাঠের ধাপগুলো সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মূল্যায়ন স্থগিত রাখুন।
একজন দক্ষ কৃষক আছে, কিন্তু চাষাবাদ করার জন্য তার জমি নেই। তোমার মতে ইজারা চুক্তি কিভাবে তার সমস্যার সমাধান হতে পারে?
পাঠের শিরোনামের সাথে শিক্ষার্থীদেরকে পরিচয় করিয়ে দিন, তারপর বোর্ডে তা লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি শিক্ষার্থীদের একটি বোর্ড দেখাতে পারেন যাতে পাঠের বিষয়বস্তুর একটি পরিকল্পিত চিত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু পরিষ্কারভাবে পড়ার জন্য একজন ভাল ছাত্রকে বেছে নিন।
ধাপ (২)
শিক্ষার্থীরা পাঠের বিষয়বস্তু নিয়ে চিন্তা করার পর স্ব-প্রশ্নকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে; প্রতি দুজন ছাত্রকে উত্তর জানতে চায় এমন সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রশ্ন উল্লেখ করতে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন; পাঠের বিষয়বস্তু যার উত্তর দিবে বলে আশা করা যায়। আর শিক্ষার্থীদের প্রশ্নগুলো গ্রহণ করুন এবং তা বোর্ডে লিখে রাখুন।
ধাপ (৩)
শিক্ষার্থীদের দ্বারা উত্থাপিত প্রশ্নগুলো পর্যালোচনার সাহায্য নিয়ে পাঠের বিষয়বস্তুকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লষণের করুন এবং প্রশ্নে পাঠের সকল চিন্তাধারার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার জন্য কিছু অতিরিক্ত প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের প্রশ্নগুলো সমৃদ্ধ করুন। আর প্রশ্ন ও উত্তর ব্যবহার করার দক্ষতার দিকে মনোযোগ দিন। নিম্নের প্রশ্নগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:
প্রশ্নঃ ইজারা বলতে কী বোঝায় তা ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্নঃ ইজারা চুক্তিতে সুবিধাভোগী কে? ইজারা দেওয়া জিনিসের মালিক নাকি ইজারাদার?
প্রশ্নঃ ইজারার প্রকারভেদ উল্লেখ কর।
প্রশ্ন: লাভের (ফায়দার) ইজারা বলতে কী বোঝায়?
প্রশ্নঃ ইজারা চুক্তির শর্তাবলী কি?
ধাপ (4)
ছাত্রদেরকে পাঠের বিষয়বস্তুর সাথে সম্পর্কিত নিম্নলিখিত বাক্যটি দেখান এবং এ সম্পর্কে তাদের মতামত প্রকাশ করতে ও তা দ্বারা ইজারা চুক্তির বিশুদ্ধতার পরিমাণ ব্যাখ্যা করতে বলুন। আর ইজারার শর্তাবলী ব্যাখ্যাসহ তাদের উত্তরগুলো নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন।
একজন লোক মদ বিক্রির জন্য একটি দোকান ভাড়া নিল।
হোসাইন একটি বাচ্চার কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিলেন।
আলী তার মালিকানাধীন নয় এমন জমি চাষ করার জন্য একজন কৃষককে নিয়োগ করলেন।
সাঈদ শ্রমিকের মজুরি ঠিক না করে একজন শ্রমিককে নিয়োগ করলেন, তারপর তাকে সামান্য মজুরি দিলেন।
* ফলাফল:
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাঠের শুরুতে জিজ্ঞাসিত সূচনামূলক প্রশ্নের উত্তর পর্যালোচনা করতে ও তাদের উত্তরগুলো মূল্যায়ন করতে নির্দেশ দিবেন। আর কিছু ছাত্রকে বেছে নিবেন তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন ও পাঠের বিষয়বস্তু অধ্যয়নের পর তাতে যে পার্থক্য ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য এবং তাদেরকে উপযুক্ত উৎসাহ প্রদান করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য দুইজন দুইজন করে, ইজারা চুক্তির শর্তাবলী লঙ্ঘন করার হুকুম বের করা।
লক্ষ্য নং ৪-৫
ক্রিয়াক্রমে অন্তর্ভুক্ত হাদীসটি ছাত্রদেরকে দেখান ও এটি পড়ার জন্য একজনকে বেছে নিন এবং তাদের সাথে এর অর্থ নিয়ে আলোচনা করুন।
প্রত্যেক দু’জন শিক্ষার্থীকে হাদীসটি কী নির্দেশ করে তা নির্ণয় করতে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিন, পাঠের লক্ষ্যের সাথে সম্পর্কিত বাক্যটি ভালভাবে প্রকাশ করার চেষ্টাসহ। আর সবচেয়ে বিশুদ্ধ উত্তরদাতা দল চিহ্নিত করে প্রতিটি দলের উত্তরগুলো অবগত হোন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য দুইজন দুইজন করে, বিক্রয় এবং ইজারা চুক্তি মধ্যে তুলনা করা। লক্ষ্য নং ১
শিক্ষক ছাত্রদের থেকে দুটি দল বেছে নিবেন; প্রতিটি দলে দু’জন করে ছাত্র থাকবে। তাদেরকে বাকি সহপাঠীদের মুখোমুখি দাঁড়াতে এগিয়ে আসতে বলুন এবং প্রতিটি দলকে একটি ব্যানার দিন, যার মধ্যে একটিতে লিখা থাকবে (বিক্রয়) এবং অন্যটিতে (ইজারা)৷
পর্যায়ক্রমে বিক্রি এবং ইজারার মধ্যে তুলনার দিকগুলো পেশ করুন। আর সঠিক উত্তর নির্ধারণের জন্য প্রতিটি দল উত্তর সম্পর্কে চিন্তা ও পরামর্শ করবে। আর শিক্ষক প্রতিটি দলের উত্তর গ্রহণ করবেন ও বাকি শিক্ষার্থীদের তুলনার সাহায্য নিয়ে সেগুলোর সাথে তুলনা করবেন এবং শেষে সেরা উত্তরদাতা দল নির্ধারণ করা হবে।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে/সম্মিলিতভাবে, ইজারার চুক্তিতে ত্রুটির দিকগুলো ব্যাখ্যা করা।
লক্ষ্য নং ২
এই কার্যক্রমটি সম্পাদন করতে হট চেয়ার কৌশল ব্যবহার করা যেতে পারে, যেখানে শিক্ষার্থীরা একটি বৃত্তে বসে থাকবে এবং একটি চেয়ার (গরম চেয়ার) বৃত্তের কেন্দ্রে স্থাপন করা হবে।
শিক্ষক চারজন ছাত্রকে পর্যায়ক্রমে গরম চেয়ারে বসতে বলবেন এবং তাদের প্রত্যেককে কার্যক্রমে উল্লিখিত ইজারা চুক্তি সম্পর্কিত বাক্যগুলোর একটি পড়তে এবং এতে থাকা ত্রুটিটি চিহ্নিত করতে নির্দেশ দিবেন।
শিক্ষক ও সহপাঠীরা ছাত্রদের উত্তরগুলো গ্রহণ করবেন এবং সেগুলি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন। আর ত্রুটিটি নির্ধারণ ও কীভাবে তা সংশোধন করা যায় তা নির্দেশ করার জন্য সে বিষয়ে মন্তব্য করবেন।
মূল্যায়ন
নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসারে শিক্ষার্থীদের সাথে মূল্যায়নের প্রশ্নগুলো গ্রহণ করা:
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে প্রথম এবং দ্বিতীয় প্রশ্নের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করবেন এবং তাদের মধ্যে কিছু ছাত্রকে বাছাই করা হবে যাতে প্রতিটি শিক্ষার্থী একটি বিষয়ের উত্তর দেয়; যদি তাদের একজন ভুল করে, তবে অন্য একজনকে তার সহপাঠীর ভুল সংশোধন করতে বেছে নেওয়া হবে।
প্রশ্ন ১: (×) - (×) - ()
প্রশ্ন ২: (বৈধ - বাতিল - ভাড়া)
দুইজন শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করবে, তাদের প্রত্যেকে একটি বিষয়ের উত্তর দিবে এবং অন্যজন তাকে পর্যবেক্ষণ করবে ও তার উত্তর মূল্যায়ন করবে। আর তাদের উত্তর ও প্রতিটি দল কী করেছে তা তাদের সাথে তুলনা করে উপস্থাপনের জন্য তিনটি দল বেছে নেওয়া হবে এবং সবচেয়ে সঠিক উত্তরগুলো নির্ধারণ করা হবে যাতে বাকি দলগুলো তাদের করা ভুলগুলো সংশোধন করতে পারে।
* শিক্ষনীয় এবং অনুভূতিমুলক সতর্কতা:
অধ্যয়নকৃত বিষয়ের আলোকে শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া বাঞ্ছনীয়:
ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়তের বিধান মেনে চলার গুরুত্ব সম্পর্কে তাদেরকে শিক্ষিত করে তোলা।
তাদের সমাজের বাস্তবতা পর্যবেক্ষণ করা এবং কোন কোন আত্মীয় বা বন্ধু ইজারা দেওয়ার বিধানে যে ত্রুটিগুলো করতে পারে তা সমাধান করা। আর তাদের সাথে সেই বিধান ও শর্তাবলীর বিবরণ নিয়ে আলোচনা করা যাতে তারা সেগুলো প্রয়োগ করতে পারে।
পঞ্চম পাঠ: বর্তমান যুগের মু‘আমালাত (লেনদেনসমূহ)
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((بطاقة الحسم الفوري) তাৎক্ষণিক ডেবিট কার্ড- (بطاقة الائتمان والحسم الآجل) ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড- (التأمين التجاري) বাণিজ্যিক বীমা- (التأمين التكافلي) তাকাফুল বীমা- (البيع بالتقسيط) কিস্তিতে বিক্রয়- (التجارة الرقمية) ডিজিটাল বাণিজ্য)।
শিক্ষা সামগ্রী:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক ছবি)।
শিক্ষাদানের কৌশল:
(পূর্বাভাস পদ্ধতি - নির্দেশনামূলক মানচিত্র - স্ব-প্রশ্নকরণ - আলোচনা পদ্ধতি)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- নতুন সমস্যা ও ঘটনাবলীকে শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত করার মহত্ব প্রকাশ করা।
- হালাল উপার্জনের মর্যাদার প্রতি সম্মান প্রদর্শন।
- প্রতারণা করা ও অন্যদের দ্বারা প্রতারিত হওয়া থেকে সাবধান থাকা।
- সকল লেনদেনে হালাল অনুসন্ধানের চেষ্টা করা।
পাঠের ভূমিকা:
নিম্নোক্ত বর্ণনা অনুসারে বর্তমান ও পূর্ববর্তী পাঠকে সংযুক্ত করে পাঠের ভূমিকা প্রস্তুত করুন: শিক্ষার্থীদের সাথে পূর্ববর্তী দুটি পাঠে যা উপস্থাপন করা হয়েছিল তা স্মরণ করুন, যার মধ্যে ছিল সুদ, নিষিদ্ধ বিক্রয় এবং ইজারা দেওয়ার বিধানের পরিচিতি। তাদের উত্তরগুলো জানুন এবং তারা যা উল্লেখ করেছে ও আজকের পাঠের মাধ্যমে যা উপস্থাপন করা হবে তার মাঝে তুলনা করার জন্য অপেক্ষা করতে বলুন।
তারপর তাদের বলুন যে আধুনিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় নতুন ব্যবস্থা ছড়িয়ে পড়েছে, তাই আমাদের অবশ্যই সেগুলো অধ্যয়ন করতে হবে, যাতে আমরা সে বিষয়ে শরীয়তের অবস্থান জানতে পারি। এই পাঠে আমরা এ ধরণের পাঁচটি বিষয় অধ্যয়ন করব। তারপর পাঠের শিরোনামটি বোর্ডে লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
নির্দেশনামূলক মানচিত্র পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক সমসাময়িক লেনদেনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিত্রগুলোর মানচিত্র সম্বলিত একটি বোর্ড শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন এবং তাদের এটি নিয়ে চিন্তা করতে বলবেন। যেখানে তাদের প্রত্যেকে এই চিত্রগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে দুটি করে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করবে, যার উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে তাদের কাছে এটি সম্পর্কিত তথ্য পরিষ্কার ও স্পষ্ট হয়ে যাবে।
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রশ্নগুলো গ্রহণ করবেন এবং বোর্ডের একপাশে তা লিখে রাখবেন।
ধাপ (২)
শিক্ষক পূর্ববর্তী ধাপে শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করা প্রশ্নগুলো ব্যবহার করতে পারেন এবং কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে সেগুলোকে সমৃদ্ধ করতে পারেন, যার মধ্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো থাকতে পারে:
প্রশ্নঃ ব্যাংক কার্ড ব্যবহারের হুকুম বর্ণনা কর।
প্রশ্ন: বাণিজ্যিক বীমা এবং সমবায় বীমার বিধানের মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা কর।
প্রশ্নঃ কিস্তিতে বিক্রির বিধান বর্ণনা কর।
প্রশ্নঃ ডিজিটাল বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলো ব্যাখ্যা কর।
ধাপ (৩)
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সাথে হালাল উপার্জনের চেষ্টা করার গুরুত্ব ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন; নতুন সমস্যা ও ঘটনাবলীকে শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত করার স্বপক্ষের দলিলগুলো উপস্থাপন করে এবং তা কী নির্দেশ করে তা বর্ণনা করার জন্যে তার বিশ্লেষণ করবেন। আর এটি করবেন ডিপ্লে স্কিনের মাধ্যমে।
ফলাফল:
শিক্ষক বোর্ডে একটি বৃত্ত আঁকবেন এবং এর ভিতরে লিখবেন (নির্দেশনা ও পরামর্শ) এবং বৃত্ত থেকে বেশ কয়েকটি তীর বের করবেন। কিছু শিক্ষার্থীকে প্রতিটি তীরের পাশে দারস থেকে শিক্ষা করা একটি নির্দেশা ও পরামর্শ লিখতে বেছে নিবেন। আর তাদেরকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য বাক্য তৈরির ওপর উদ্বুদ্ধ করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, কিছু লেনদেনের কারণ এবং হুকুমের ধরনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া। লক্ষ্য নং ১, ২, ৩
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রথম কর্যক্রমটি একাকী করতে এবং একটি পৃথক কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ করুন। তারপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ এবং সেগুলোর মূল্যায়ন করুন; সবচেয়ে সঠিক ও নিখুঁত উত্তর নির্ধারণ এবং সঠিক উত্তরদাতার প্রশংসা করাসহ ।
হুকুম কারণ
হারাম কারণ এটি বাণিজ্যিক বীমার একটি রূপ এবং তা হারাম।
জায়িয কেননা তা কিস্তিতে বিক্রি এবং তা জায়েয।
জায়িয কারণ এটি একটি দানের চুক্তি।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ডের মধ্যে তুলনা করা। লক্ষ্য নং ১
ছাত্রদের সামনে প্রথম কার্যক্রম সম্বলিত একটি বোর্ড প্রদর্শন করুন। কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত সকল ধরণের কার্ড স্পষ্ট করতে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করুন। আর সঠিক তুলনার দিকগুলোতে পৌঁছাতে প্রতিটি ছাত্রকে তার আবিষ্কার ক্ষমতা ব্যবহার করতে বলুন। তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন ও তার উপর মন্তব্য করুন এবং তাদের জন্য সঠিক উত্তর ব্যাখ্যা করুন। আর তাদের নোট বুকে লিখে নেয়ার জন্য তা বোর্ডে লিখুন।
তাৎক্ষণিক ডেবিট কার্ড: এটি হল একটি ব্যাংক কার্ড যেখানে মালিক তার কিছু অর্থ রাখে এবং তার মালিককে ধার দেওয়ার সম্ভাবনা ব্যতীত তিনি যখন চান তখন তা তুলতে অথবা এর দ্বারা কোন কিছু কিনতে পারেন। তার দ্বারা উদ্দেশ্য তুলনার দিক তার হুকুম: জায়িয
ক্রেডিট এবং ডেবিট কার্ড: এটি এমন ব্যাংক কার্ড, যার মালিক তার জমাকৃত অর্থ থেকে উত্তোলন করতে পারেন, সেই সাথে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ দেওয়ারও অনুমতি থাকে।
তার হুকুম: জায়িয নয়।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
আপনি ছাত্রদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করতে পারেন এবং প্রতিটি গ্রুপকে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন।
উত্তর প্রদানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের পাশ দিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তাদের উত্তর ও কর্মতৎপরতা পর্যবেক্ষণ করুন।
শিক্ষার্থীদের উত্তর সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরদাতা গ্রুপ চিহ্নিত করে সেগুলোর মূল্যায়ন করুন।
শিক্ষার্থীদের সঠিক উত্তরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য প্রশ্নগুলো নিয়ে তাদের সাথে মৌখিকভাবে আলোচনা করুন।
দলগুলোকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন এবং আলোচনায় তারা যে উত্তরগুলো শিখেছে তার আলোকে তাদের উত্তরগুলো সংশোধন ও লিপিবদ্ধ করতে বলুন।
প্রশ্ন ১: (×) - - (×)।
প্রশ্ন ২: বাণিজ্যিক বীমা - দান চুক্তি।
প্রশ্ন ৩: কারণ এটি আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীর সাধারণ অর্থের অন্তর্ভুক্ত: “আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।” ( সূরা বাকারাহ. আয়াত: ২৭৫)
* শিক্ষণীয় ও অনুভূতিমূলক সতর্কতা:
অধ্যয়কৃত বিষয়ের আলোকে শিক্ষার্থীদের নিম্নের বিষয়ে সতর্ক করা বাঞ্ছনীয়:
সমসাময়িক বিভিন্ন প্রকার লেনদেনের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়ার অবস্থান এবং তার অনুমোদন মেনে চলা। আশেপাশের কোন ব্যক্তি সেসব প্রকার ও তার বিধানের ক্ষেত্রে শরীয়ত লঙ্ঘন করলে তাকে সর্বোত্তম উপায়ে উপদেশ প্রদান করা।
দ্বীনি সঠিক তথ্য ও ইলম প্রচারের জন্য সমসাময়িক লেনদেনের বিধান বিষয়ে ছাত্ররা পাঠ থেকে যা জেনেছে তার সাথে তাদের বন্ধুদের পরিচয় করিয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তাদের নিজের পেজে উপদেশ প্রদান অথবা ব্যানার প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ করা।
ষষ্ঠ পাঠ: বিবাহের হুকুম
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((مشروعية الزواج) বিবাহের বৈধতা - (فانكحوا) বিয়ে করো - (الوليّ) অভিভাবক - (المهر) মোহর - (الشهادة) সাক্ষ্য)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(শিক্ষামূলক বোর্ড - ব্ল্যাকবোর্ড - অডিও মাধ্যম - শিক্ষামূলক কার্ড)
শিক্ষাদান কৌশলসমূহঃ
(পূর্বাভাস - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো - উদঘাটনমূলক পদ্ধতি - সমস্যা সমাধান - কাল্পনিক মানচিত্র - গরম চেয়ার)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
ইসলামের বিধানসমূহ ও তার শিক্ষাকে সম্মান করা।
- বিবাহ চুক্তির শর্তাবলী মেনে চলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা।
- বিবাহ অনুমোদনে শরীয়তের হিকমত অনুধাবন করা।
পাঠের ভূমিকা:
বোর্ডে পাঠের শিরোনামটি লিখুন এবং শিক্ষার্থীদের তিনটি বিষয় উপস্থাপন করতে বলুন যা তারা পাঠ থেকে শিখতে চায়। আর তাদের প্রত্যেকে তার নোটবুকে যে বিষয়গুলো শিখেছে তা লিখে রাখবে এবং পাঠের ধাপগুলো সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোর পরিচয় ও মূল্যায়ন স্থগিত থাকবে।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
ছাত্রদেরকে অডিও মাধ্যমে নিচের আয়াতটি শোনার জন্য নির্দেশ দিন এবং তাদেরকে এটি নিয়ে চিন্তা করতে ও এটি কী নির্দেশ করে তা বের করতে বলুন। আর তাদের উত্তরগুলোকে বিবাহ শরীয়তসিদ্ধ বিষয়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি সূচনা বিন্দু হিসেবে ব্যবহার করুন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, (فَانْكِحُوْا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلَاثَ وَ رُبَعَ ) “তবে বিয়ে করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে, দুই, তিন বা চার”। [আন-নিসা, আয়াত: ৩]
ধাপ (২)
ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো সেশন ব্যবহার করে; শিক্ষার্থীরা বিবাহ শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার হিকমত জানবে। আপনি বৈচিত্র্যতা ও স্বতন্ত্রতাসহ সর্বাধিক সংখ্যক উত্তর উপস্থাপনে তাদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করুন। আর তারা যা উপস্থাপন করেছে তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করার পর তাদেরকে একটি বোর্ড দেখান যাতে বিবাহকে শরীয়তসিদ্ধ হওয়ার যুক্তি এবং এর হিকমত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ধাপ (৩)
নিম্নের সমস্যা সম্পর্কে ছাত্রদেরকে মতামত জানাতে বলুন এবং তাদের উত্তরগুলোকে বিবাহের শর্তাবলীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য একটি সূচনা বিন্দু হিসেবে ব্যবহার করুন।
(একজন বাবা তার মেয়েকে তার চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু ঐ মেয়ে তা প্রত্যাখ্যান করল। কারণ সে তাকে তার ভাইয়ের মতো মনে করে, কিন্তু তার বাবা তাকে বিয়ে করতে বাধ্য করল যাতে তার ভাই রাগ না করে।)
ধাপ (৪)
ছাত্রদের সামনে বিবাহ বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তগুলো একটি কাল্পনিক মানচিত্র দেখান এবং প্রতিটি শর্তকে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করুন। আর ছাত্রদেরকে তাদের নিকট অস্পষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সুযোগ করে দিন।
* উপসংহার:
ভূমিকার সময় ছাত্ররা যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছিল এবং তারা যে বিষয়গুলো শিখতে চেয়েছিল তা পর্যালোচনা করার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ করুন। তারা দারসটি সেই বিষয়গুলো কতটা পূরণ করেছে তা মূল্যায়ন করবে। যদি এমন কিছু বিষয় থাকে যা দারস অন্তর্ভুক্ত করেনি, তাহলে সেগুলো জানতে যেসব উৎস অধ্যয়ন করা প্রয়োজন সে সম্পর্কে তাদেরকে জানাবে।
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পাঠের একটি বিষয় বেছে নিতে বলুন। অতঃপর তা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করবে। আর উপস্থাপনার সময় শিক্ষার্থীদের মৌখিক কর্মতৎপরতাকে উৎসাহিত করুন এবং তাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে/সম্মিলিতভাবে, বিবাহ চুক্তি সম্পর্কিত কিছু মাসআলা মূল্যায়ন করা। লক্ষ্য নং ২
কার্যক্রমটি সম্পাদন করার জন্য হট চেয়ার কৌশল প্রয়োগ করা বাঞ্ছনীয়, যেখানে শিক্ষার্থীরা বৃত্তাকার হয়ে বসবে এবং বৃত্তের কেন্দ্রে একটি চেয়ার রাখা হবে।
শিক্ষক তিনজন ছাত্রকে পর পর চেয়ারটিতে বসতে বলবেন ও তাদের প্রত্যেককে কার্যক্রমের মাসআলাগুলোর একটি শোনার জন্য নির্দেশ দিবেন এবং কারণ উল্লেখ করাসহ তার হুকুম বর্ণনা করতে বলবেন।
শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য তাদের সহপাঠীদের উত্তর নিয়ে আলোচনা করবে।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে/সম্মিলিতভাবে, বিবাহের শর্তসমূহের ওপর দলিল পেশ করা।
লক্ষ্য নং ১, ২
কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি বাক্য একটি কার্ডে লিখুন, তারপর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অপরিকল্পিতভাবে কার্ডগুলোর মধ্যে একটি বেছে নিতে ও এতে থাকা বাক্যটি পড়তে এবং তা বিবাহের যে শর্ত প্রমাণ করে তা বের করতে বলুন।
তার সহপাঠীর উত্তর মূল্যায়ন করার জন্য অন্য একজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন এবং তার সাথে সহমত বা ভিন্নমতের পরিমাণ বর্ণনা করতে বলুন। আর তাদের সাথে সঠিক উত্তর নিয়ে আলোচনা করুন যাতে তারা তাদের বইয়ের নির্দিষ্ট স্থানে উত্তরটি লিখে নিতে পারে।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
ছাত্রদেরকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করুন ও তাদেরকে একটি নম্বর দিন এবং প্রতিটি গ্রুপকে উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন, যেখানে গ্রুপের প্রত্যেক ব্যক্তি একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং তার দুই সহপাঠী তাকে পর্যবেক্ষণ করবে ও নির্দেশনা দিবে।
অপরিকল্পিতভাবে দুটি গ্রুপকে বেছে নিন, যার একটি গ্রুপ হবে বিজোড় সংখ্যক এবং অন্যটি হবে জোড় সংখ্যক; যাতে প্রতিটি গ্রুপ তার উত্তর উপস্থাপন করবে। আর আপনি সবচেয়ে সঠিক উত্তরদাতা গ্রুপ নির্ধারণ করে তাদের মাঝে তুলনা করুন।
প্রশ্ন ১: - (×) -
প্রশ্ন ২: (দুই জন পুরুষ - ধর্মের পার্থক্য - বাতিল)
* শিক্ষণীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
প্রতিটি ছাত্র তার পরিবারে বিবাহের বিধান প্রয়োগের বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করবে, যেন এই বিধানগুলোর প্রতি তাদের গুরুত্বের পরিধি জানতে পারে, তারপরে সে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে তার পর্যবেক্ষণ ও সে যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে সে সম্পর্কে তাদের মতামত জেনে তাদের সাথে আলোচনা করবেন।
সপ্তম পাঠ: দাম্পত্য জীবন
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((العِشْرة) সহাবস্থান, (القوامة) অভিভাবকত্ব, (الصداق) মোহরনা, (النفقة) ভরণপোষণ)।
পাঠদান উপকরণ:
(কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - হোয়াইটবোর্ড - ফ্ল্যাশকার্ড)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহঃ
(সূচনামূলক বক্তব্য উপস্থাপন - নির্দেশনামূলক মানচিত্র - সমবায় শিক্ষা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
ইসলামের বিধানগুলোকে সম্মান করা।
-স্বামীর অধিকার পালন নিশ্চিত করা।
- ভুল ক্ষমা করার ফজিলত অনুভব করা।
- ভালো চরিত্রের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস।
- ভুল ও ত্রুটিমূলক পরিস্থিতি সমাধানে ভুল করা থেকে সাবধানতা অবলম্বন।
পাঠের ভূমিকা:
আগের পাঠে শেখা বিবাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিধানগুলো শিক্ষার্থীদের সাথে পুনরায় স্মরণ করুন, তারপর তাদের বলুন যে বৈবাহিক জীবন সফল হওয়ার জন্য স্বামী-স্ত্রীর উভয়কে অবশ্যই পরস্পরের অধিকারগুলো আদায় করতে হবে এবং আমরা আজকের পাঠে সেই অধিকারগুলো সম্পর্কে শিখব, তারপর বোর্ডে এর শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
নির্দেশনামূলক মানচিত্রের পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক ছাত্রদের একটি বোর্ড প্রদর্শন করবেন যাতে স্ত্রীর উপর স্বামীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকারগুলোর একটি মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তারপর তাদেরকে এটি নিয়ে চিন্তা করতে বলুন, যাতে তাদের প্রত্যেকে এই অধিকারগুলোর প্রতিটি সম্পর্কে একটি করে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে; যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদানের মাধ্যমে অধিকার সম্পর্কিত তথ্য তাদের কাছে স্পষ্ট ও পরিষ্কার হবে।
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন গ্রহণ করবেন এবং বোর্ডের একপাশে তা লিখে রাখবেন।
ধাপ (২)
শিক্ষক পূর্ববর্তী ধাপে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলোকে আরো কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে সমৃদ্ধ করে তার সহযোগিতা নিতে পারেন, যার উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হকের সাথে সম্পর্কিত তথ্যসমূহ স্পষ্ট হবে, তার মধ্যে নিম্নের প্রশ্নগুলো থাকতে পারে:
প্রশ্নঃ স্ত্রীর উপর স্বামীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকারগুলো কি কি?
প্রশ্নঃ স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার ব্যাখ্যা কর।
প্রশ্নঃ স্বামী-স্ত্রীর অধিকার সম্পর্কে কিছু দলিল উল্লেখ কর।
ধাপ (৩)
শিক্ষক দাম্পত্য জীবনের সুন্দর চিত্রগুলোর ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করবেন, এর অবস্থান ও ক্ষেত্রগুলোকে সমর্থন করে এমন দলিলগুলোর ব্যাখ্যা করবেন এবং তা কি নির্দেশ করে তা বর্ণনা করবেন; এগুলো সম্পাদন করবেন ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে।
ফলাফল:
শিক্ষক বোর্ডে একটি বৃত্ত আঁকবেন এবং এর ভিতরে লিখবেন (নির্দেশনা ও পরামর্শ) এবং বৃত্ত থেকে বেশ কয়েকটি তীর বের করবেন। কিছু শিক্ষার্থীকে প্রতিটি তীরের পাশে দারস থেকে শিক্ষা করা একটি নির্দেশা ও পরামর্শ লিখতে বেছে নিবেন। আর তাদেরকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য বাক্য তৈরির ওপর উদ্বুদ্ধ করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, কীভাবে উপদেশ দিতে হয় সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ১
ছাত্রদের সামনে একটি বোর্ড প্রদর্শন করুন যার মাঝে প্রথম কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তারপর পর্যায়ক্রমে একজনকরে ছাত্র নির্ধারণ করুন যারা তাদের সহপাঠীদের সামনে কার্যক্রমের পরিস্থিতিগুলো পাঠ করবে।
শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতিটি পরিস্থিতির ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করুন তারপর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কারণ ব্যাখ্যাসহ সঠিক উপদেশে পৌঁছানোর জন্য তার গবেষণা ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে বলুন এবং তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন সে বিষয়ে মন্তব্য করাসহ। সাথে তাদের নিকট সঠিক উত্তর ব্যাখ্যা করুন ও তা বোর্ডে লিখুন যেন তারা তা খাতায় লিখে নিতে পারে।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে/সম্মিলিতভাবে, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সমাধানের গুরুত্ব স্পষ্ট করা।
লক্ষ্য নং ৪
প্রতিটি ছাত্রকে সে পাঠ থেকে যা শিখেছে তার আলোকে শরয়ী দলিল ব্যবহার করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সমাধান, পরিবার ও এর স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রত্যেকের অধিকার ও কর্তব্য ব্যাখ্যা করার জন্য একটি বাক্য লিখতে ও উপস্থাপন করতে নির্দেশনা দিন। আর কিছু ছাত্রকে সহপাঠীদের সামনে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য বেছে নিন এবং যে ভালভাবে উপস্থাপন করতে পারবে তাকে উৎসাহিত করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
বোর্ডে পর্যায়ক্রমে প্রশ্নগুলো লিখার প্রস্তাব করা হবে।
দু’টি প্রশ্নের প্রতিটির উত্তর দেওয়ার জন্য একে অপরের পাশে থাকা দুই শিক্ষার্থীকে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
অপরিকল্পিতভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য ।
ভুল উত্তরদাতাকে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় পড়া ও তার থেকে সঠিক উত্তর বের করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
প্রশ্ন ১: বাড়িতে থাকা - স্বামীর অর্থ রক্ষা করা - তার প্রতি সদাচরণ করবে।
* শিক্ষণীয় এবং অনুভূতিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তা প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
ছাত্ররা দুটি চিত্র আঁকবে যা স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার ও স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকারকে একত্রিত করবে এবং সেগুলোকে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হবে।
অষ্টম পাঠ: তালাকের বিধান
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((الطلاق الرجعي) রজয়ী তালাক -(الطلاق البائن) তালাকে বায়েন - (لطلاق الصريح) স্পষ্ট তালাক - ( الطلاق الكنائي) ইঙ্গিতবাহক তালাক - (الطلاق المُنجز) সম্পূর্ণ তালাক - (الطلاق المُعلَّق) ঝুলন্ত তালাক।
শিক্ষা উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড)।
শিক্ষদানের কৌশলসমূহঃ
(শিক্ষামূলক ধাঁধা - পূর্বাভাস - জীবনের পরিস্থিতি - পরস্পর বৈপরিত্য- সমস্যা সমাধান - পূর্ণকরণ- সম্পর্কের নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- তালাক শরীয়তসম্মত হওয়ার হিকমত মূল্যায়ন করা।
-তালাক সংক্রান্ত ভুল থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা।
-তালাকের ব্যাপারে অবহেলা না করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সামনে পর্যায়ক্রমে নিম্নলিখিত বাক্যগুলো উপস্থাপন করুন এবং প্রতিটি বাক্য শেষে এটি কী নির্দেশ করে তা বলতে বলুন। যদি তারা না জানে, তাহলে পরবর্তী বাক্যে যান, যতক্ষণ না তারা তালাক শব্দটি পর্যন্ত পৌঁছে।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহাবস্থান অসম্ভব হলে আল্লাহ এটিকে বৈধ করেছেন।
শরীয়ত পুরুষদের হাতে তালাক ন্যস্ত করেছে।
স্ত্রী তার ক্ষতি দূর করার জন্য এটি চাইতে পারেন।
পাঠের শিরোনামের সাথে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করুন, তারপর বোর্ডে তা লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
শিক্ষার্থীদেরকে পাঠের ভূমিকা জানার আলোকে, পাঠটিতে কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে তা পূর্বাভাস করতে তাদের বলুন এবং তাদের উত্তরগুলো অবগত হোন। তারপর তাদের পাঠের সাধারণ বিষয় সম্বলিত একটি চার্ট দেখান যাতে তারা তাদের উত্তরগুলো ও চার্টের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের মধ্যে তুলনা করতে পারে।
ধাপ (২)
আপনি ছাত্রদের সামনে নিম্নের পরিস্থিতি দুটি উপস্থাপন করুন এবং তালাকে রজয়ী ও তালাকে বায়েন বলতে কি বুঝায় তা বর্ণনা করতে বলুন। আর তাদের নিকট উভয় প্রকারের সংজ্ঞা ও প্রাার্থক্য স্পষ্ট করুন।
একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিলেন, তারপরে অনুশোচনা করলেন এবং নতুন বিবাহ করা ছাড়াই তাকে তার বন্ধনে ফিরিয়ে নিলেন।
একজন লোক তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে, কিন্তু সে তাকে তার বন্ধনে ফিরিয়ে নিতে পারবে না যতক্ষণ না সে অন্য পুরুষকে বিয়ে করে।
ধাপ (৩)
ছাত্রদেরকে নিম্নলিখিত পরিস্থিতিটি দেখান আর তাদের এটি সম্পর্কে চিন্তা করতে বলুন এবং তাদের জন্য সুস্পষ্ট তালাক এবং ইঙ্গিতমূলক তালাকের মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করে এটি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করার সময় এই পরিস্থিতিতে তালাক কতটা ঘটে তা নির্ধারণ করতে বলুন।
(এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করল, তারপর তাকে তার পরিবারের বাড়িতে চলে যেতে বলল। সে তাকে তালাক দিয়েছে ভেবে চলে গেলে। তখন তার বাবা তাকে বললেন: স্বামী যা বলেছে তা স্পষ্ট তালাক নয়।)
ধাপ (৪)
শিক্ষার্থীদের নিম্নলিখিত বাক্যটি দেখান এবং সঠিকভাবে এটি সম্পূর্ণ করতে বলুন। তারপর তাদের উত্তরগুলো নিয়ে আলোচনা করুন এবং তাদেরকে চূড়ান্ত তালাক এবং ঝুলন্ত তালাকে মধ্যে পার্থক্য বর্ণনার দিকে নিয়ে যান।
জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বললঃ যদি তুমি অনুমতি না নিয়ে তোমার বাপের বাড়িতে যাও তাহলে তোমার তালাক হয়ে যাবে, যদি স্ত্রী অনুমতি না নিয়ে সে বাড়িতে যায় তাহলে সে..., আর যদি সে তাতে প্রবেশ না করে..........
*ফলাফলঃ
প্রতিটি ছাত্রকে একটি কার্ড দিন এবং প্রতিটি প্রকারের সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞাসহ পাঠ থেকে শেখা তালাকে প্রকারগুলোর একটি গ্রিড মানচিত্র তৈরি করতে বলুন। তারপর কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সেরা ও নির্ভুলটি চিহ্নিত করে সেগুলোর মূল্যায়ন করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে/সম্মিলিতভাবে, তালাকের ধরন নির্ধারণ করা।
লক্ষ্য নং ৪
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে কতগুলো কার্ড বিতরণ করবেন, প্রতিটি কার্ডের উপর কার্যক্রমের একটি মাসয়ালা লেখা থাকবে।
কার্যক্রমে উল্লিখিত প্রতিটি মাসয়ালা ছাত্রদের কাছে উল্লেখ করা হবে, যাতে তারা মাসয়ালার সাথে মিলে যাওয়া তালাকের ধরনটি নির্ধারণ করবে এবং যে কার্ডটিতে এটি রয়েছে তা উপরে তুলবে।
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষমতা নিরীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবেন এবং যারা ভুল উত্তর দিবে তাদের কাছ থেকে কার্ড নিয়ে নিবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, যারা তালাক দেয়ার চিন্তা করে তাদেরকে পরামর্শ প্রদান।
লক্ষ্য নং ৫
শিক্ষক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হাদীসটি পড়বেন এবং ছাত্রদের সাথে এর অর্থ নিয়ে আলোচনা করবেন। তারপর যারা তাদের স্ত্রীদের সাথে যে কোন ধরণের সমস্যা দেখা দিলে তালাকের চিন্তা করে এমন পুরুষদের পরামর্শ দিতে বলবেন এবং তারা যা উপস্থাপন করবে তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করবেন; তাদেরকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করে।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, তাদের সামনে যেসব মাসয়ালা উপস্থাপিত হবে তাতে তালাকের হুকুম বর্ণনা করা। লক্ষ্য নং ৩, ৪
ছাত্রদের দুটি দলে বিভক্ত করুন এবং প্রথমটিকে কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত মাসয়ালাটি পড়ার দায়িত্ব দিন এবং দ্বিতীয় দলটিকে মাসয়ালাটির সঠিক হুকুম স্পষ্ট করার দায়িত্ব দিন, সাথে আপনি তাদের প্রত্যেককে পর্যবেক্ষণ করবেন ও নির্দেশনা দিবেন।
মূল্যায়ন
নিম্নের নিয়ম অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশনা দিন:
প্রতি দু’জন ছাত্রকে বেছে নেওয়া হবে, যাতে তারা প্রথম প্রশ্নের বিষয়বস্তুর উত্তর দেয়, সাথে তাদের উভয়ের উত্তরগুলোর মাঝে তুলনা করুন এবং সবচেয়ে সঠিক উত্তরদাতা নির্ধারণ করুন।
তিনজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন যাতে তাদের প্রত্যেকে দ্বিতীয় প্রশ্নে উল্লিখিত তালাকের প্রকারসমূহের প্রত্যেক প্রকারের একটি উদাহরণ পেশ করে। আর যদি সে ভুল করে তাহলে তাকে একজন সহপাঠীর কাছ থেকে সঠিক উত্তর জানার জন্য নির্দেশ দিন।
প্রতি দু‘জন শিক্ষার্থীকে তৃতীয় এবং চতুর্থ প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন এবং প্রতিটি দলের উত্তরের প্রকৃতি জানতে তাদের পাশ দিয়ে দিয়ে যান। আর মডেল উত্তর প্রদানকারী দলটিকে বাকি দলগুলোর সামনে তাদের উত্তর উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন।
প্রশ্ন ১: - (×) - (×)
* শিক্ষামূলক ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
প্রতিটি ছাত্র তার পরিবারের সদস্যদের সাথে তাদের সমাজের কিছু ব্যক্তির সাথে ঘটে যাওয়া তালাকের ঘটনা এবং সে বিষয়ে তাদের মতামত নিয়ে আলোচনা করবে; প্রতিটি ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট তালাকের প্রকার নির্ধারণ করে।
নবম পাঠ: হারাম খাবার, পানীয় এবং পোশাক
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((المُفَتِّر) অলসতা ও অবসাদ সৃষ্টিকারী - (الميتة) মৃত - (المُنخنقة) শ্বাসরোধে মৃত - (المَوقوذة) আঘাতে মৃত - (المُترَدِّيَة) উপর থেকে পড়ে মৃত - (النَّطِيحة) শিঙের আঘাতে মৃত - (الدم المسفوح) প্রবাহিত রক্ত - (إسبال الإزار) লুঙ্গি ঝুলিয়ে পরিধান করা)।
শিক্ষা উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(গল্প বর্ণনা পদ্ধতি - আত্ম-প্রশ্নকরণ - সমবায় শিক্ষা)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- হারাম খাবার এবং পানীয় বর্জন করা।
- বান্দাদের প্রতি সর্বশক্তিমান আল্লাহর করুণা অনুভব করা।
- ইসলামের সহজতা এবং মুসলমানদের জন্য উপকারী বিষয়ে তার আগ্রহ অনুভব করা।
- কিছু খাবার হারাম হওয়ার হিকমত মুল্যায়ন করা।
পোশাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা।
পাঠের ভূমিকা:
আপনি নিম্নলিখিত পাঠ্যটি পড়ার মাধ্যমে আপনার শিক্ষার্থীদের জন্য দারসের ভূমিকা উপস্থাপন করতে পারেন: (খাদ্য, পানীয় এবং পোশাক সম্পর্কে মৌলিক নীতি হল, শরিয়া যা নিষেধ করেছে তা ব্যতীত এগুলো বৈধ ও জায়েয। বস্তুত আত্মা ও শরীরের জন্য উপকারী সকল খাদ্য, পানীয় ও পোশাক-আশাক আল্লাহ হালাল করেছেন, যাতে বান্দা আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে এর মাধ্যমে সাহায্য নিতে পারে। আর যেসব জিনিসে ক্ষতি রয়েছে তার সবকিছুই আল্লাহ হারাম করেছেন। বৈধ ও হালাল হওয়ার স্বপক্ষে আল-কুরআনুল কারীম ও নবীর সুন্নাহতে প্রমাণ রয়েছে ।
আপনার ব্যাখ্যার মাধ্যমে আপনি তাদের পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান, তারপর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি আপনার ছাত্রদেরকে নির্ধারিত পাঠ্যবই খুলতে বলুন, তারপর তাদের দারসটি খুঁজে বের করার এবং নীরবে তা পাঠ করার সুযোগ দিন; যেন এতে থাকা প্রধান চিন্তাগুলো সম্পর্কে জানতে পারে।
ধাপ (২)
কিছু শিক্ষার্থীকে তাদের সহপাঠীদের সামনে পাঠটি উচ্চস্বরে পড়ার জন্যে বেছে নিন।
তাদের নিকট কঠিন এমন শব্দাবলীর অর্থ স্পষ্ট করুন।
ধাপ (৩)
স্ব-প্রশ্ন পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন যেন তারা প্রত্যেকে পাঠ থেকে কী জানতে চায় সে সম্পর্কে দুটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে।
আপনি বোর্ডে তাদের প্রশ্নগুলি লিখে রাখুন, তারপর তার সাথে এমন প্রশ্ন যোগ করুন যা তারা জিজ্ঞাসা করতে সক্ষম হবে না এবং যার উত্তর অবশ্যই জানা উচিত।
আপনি তাদের সাথে ঐ প্রশ্নগুলো নিয়ে আলোচনা করুন, যার মধ্যে নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলো থাকতে পারে:
প্রত্যেক প্রকারের হুকুম ব্যাখ্যাসহ নিষিদ্ধ খাবারের প্রকারগুলো উল্লেখ কর।
যে সমস্ত প্রাণী খাওয়া হারাম ও মাকরুহ তার কিছু উদাহরণ দাও।
নির্দিষ্ট কিছু খাবার নিষিদ্ধ করার পেছনের হিকমত ব্যাখ্যা কর।
অমুসলিমদের জবাই করা গোশত খাওয়ার হুকুম কি?
প্রয়োজনের সময় হারাম খাবার খাওয়ার হুকুম কি?
পোশাক ও অলংকার সম্পর্কিত হারামগুলো কী কী?
ফলাফল:
আপনার ছাত্রদের প্রত্যেককে পাঠ সম্পর্কে তাদের পর্যবেক্ষণগুলো লিখতে বলা উত্তম।
পর্যবেক্ষণগুলোতে পাঠের অন্তর্গত মূল বিষয়বস্তু এবং তা থেকে যা শিখেছে তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তাদের মধ্যে কিছু ছাত্রকে তারা যা লিখেছে তা উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, হারাম এবং হালাল হওয়ার দিক থেকে কিছু খাবারের হুকুম বর্ণনা করা। লক্ষ্য নং ২, ৩
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে প্রথম কর্যক্রমটি একাকী করতে এবং একটি পৃথক কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ করুন। তারপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ এবং সেগুলোর মূল্যায়ন করুন; সবচেয়ে সঠিক ও নিখুঁত উত্তর নির্ধারণ এবং সঠিক উত্তরদাতার প্রশংসা করাসহ ।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য কী পরিধান করা বা কিসের দ্বারা সৌন্দর্য গ্রহণ করা হারাম তা নির্ধারণ করা। লক্ষ্য নং ৩
শিক্ষক ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে দ্বিতীয় কার্যক্রম সম্পাদনে সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশ দিবেন, তারপর পর্যায়ক্রমে কার্যক্রমের বিষয়বস্তুগুলো উল্লেখ করবেন। প্রতিটি দলের উত্তরটি জানবেন ও সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য তাদের সাথে আলোচনা করবেন। তারপর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপটি চিহ্নিত করবেন ও তার সদস্যদের উপযুক্ত প্রশংসা করবেন।
যেগুলো পরিধান করা হারাম যাদের জন্য হরাম:
রেশম (সিল্ক) - খাঁটি রেশমের কাপড় (ব্রোকেড)। পুরুষ
পুরুষের সাথে নারীর এবং নারীর সাথে পুরুষের সাদৃশ্য। পুরুষ এবং নারী
কাপড় ঝুলিয়ে পরা পুরুষ
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
ছাত্রদেরকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করুন এবং প্রতিটি গ্রুপকে নিম্নের প্রশ্ন সমাধানে অংশগ্রহণ করতে বলুন।
আপনি আপনার ছাত্রদের পাশ দিয়ে হেঁটে যান, উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে।
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের উত্তর উপস্থাপনের জন্য একজন সদস্য বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দিন এবং তার মূল্যায়ন করুন।
প্রশ্ন ১: (×) - (√) - (×) - (√) - (×)
প্রশ্ন ২: বৈদ্যুতিক শক জবাই কৃত - বৈধ - ওয়াজিব - হারাম - তিন দিন
* শিক্ষনীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
তিনি প্রত্যেক ছাত্রকে হারাম ও মাকরুহ খাবার ও পোশাক গ্রহণ করা থেকে সতর্ক করবেন এবং যদি কাউকে তাতে লিপ্ত হতে দেখতে পান তবে তাকে উপদেশ দিবেন। কারণ একজন মুসলিম মানুষের জন্য কল্যাণকে ভালোবাসে এবং তাদের হিদায়াতের জন্য চেষ্টা করে।
দশম পাঠ: নেশা ও মাদকদ্রব্য এবং সেগুলোর ধ্বংসাত্মক প্রভাব
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দ: ((المُسْكِر) নেশা, (المُخدِّر) মাদক - (الخبائث) মন্দ জিনিস)।
পাঠদান উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - কম্পিউটার - ডিসপ্লে স্ক্রিন - ফ্ল্যাশ কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহঃ
(ব্যক্তিগত সংযোগ - পূর্বাভাস - চিন্তামূলক মানচিত্র - শ্রেণীবিভাগ এবং বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত করা - আবিষ্কারমূলক পদ্ধতি)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা:
- সমাজে নেশা এবং মাদকদ্রব্যের ভয়াবহতা অনুভব করা।
- নেশা ও মাদকদ্রব্য পরিহার করা।
- বিবেকের নিয়ামতকে মূল্যায়ন করা এবং তার সংরক্ষণ করা।
- হালাল পথসমূহে অর্থ ব্যয়ে আগ্রহী থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নোক্ত বাক্যটি উপস্থাপন করে পাঠটির ভূমিকা উপস্থাপন করুন: (আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদের ওপর সমস্ত পানীয় বৈধ করে অনুগ্রহ করেছেন, তবে দলিল যা হারাম হওয়া প্রমাণ করে তা ব্যতীত, যার মধ্যে রয়েছে: সকল ধরণের খারাপ পানীয়, অথবা যাতে মানুষের ক্ষতি রয়েছে- যেমন নেশা এবং মাদকদ্রব্য - যেমনটি হাদীসে এসছে: "আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রত্যেক নেশাদার এবং অবসাদ সৃষ্টিকারী জিনিস নিষিদ্ধ করেছেন।"
তারপর তারা নেশা এবং অবসাদ সৃষ্টিকারী জিনিস সম্পর্কে যা জানে তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করুন এবং তাদের নিয়ে পাঠের বিষয় বস্তুতে পৌঁছান, তারপর বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
পূর্বাভাস পদ্ধতি ব্যবহার করে ছাত্রদের পাঠের শিরোনাম ও উপস্থাপিত বাক্য জানার আলোকে; তাদেরকে পাঠে অন্তর্ভুক্ত বিষয়বস্তু সম্পর্কে পূর্বাভাস করতে বলুন এবং পাঠের বিষয়বস্তু থেকে প্রত্যাশিত বিষয় সম্পর্কে তাদের বইয়ে শাখাগত বিষয় ও কিছু মন্তব্য লিখতে বলুন। তারপর শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করে তাদের উত্তরগুলো জানুন।
ধাপ (২)
শিক্ষার্থীদের সামনে একটি ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে বা একটি চিন্তামূলক মানচিত্রের মাধ্যমে; নিষিদ্ধ পানীয় সম্পর্কিত পাঠে অন্তর্ভুক্ত সাধারণ বিষয়গুলো উপস্থাপন করুন এবং তারা সে সম্পর্কে যা জানে তা বলতে বলুন। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন, তাদের কেউ কি আগে কখনও এ ধরণের পরিস্থিতিতে পড়েছে? তারা যা পেশ করে তা নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা করে তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন।
ধাপ (৩)
আপনি নিম্নলিখিত মাসয়ালাগুলো ছাত্রদের সামনে উপস্থাপন করতে পারেন এবং চিন্তামূলক মানচিত্রে প্রদর্শিত নিষিদ্ধ পানীয়গুলোর নিচে তার হুকুম বর্ণনা করতে বলুন। সঠিক হুকুমটি বর্ণনার পর প্রতিটি মাসয়ালা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করা শুরু করুন:
এক ব্যক্তি কিছু মদ এই বিশ্বাসে পান করল যে তার অল্প পরিমাণে কোন সমস্যা নেই।
এক ব্যক্তি মজলিসে বসে মাদক পান করল এই ভেবে যে বিষয়টি অতি তুচ্ছ এবং তাতে কোন ক্ষতি নেই।
একজন ব্যক্তি তার প্রচুর অর্থ নেশা ও মাদকদ্রব্য কিনতে ব্যয় করল।
এই বিষয়গুলো উপস্থাপন করার সময় আপনি ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে বা কম্পিউটারের মাধ্যমে এই পানীয়গুলোকে হারাম সাব্যস্ত করে এমন দলিলগুলো প্রদর্শন করতে পারেন। আর ছাত্রদের সাথে এগুলোর অর্থ নিয়ে আলোচনা করুন এবং তা কী নির্দেশ করে তা বের করার জন্য নির্দেশ দিন।
ফলাফল:
শিক্ষক বোর্ডে একটি বৃত্ত আঁকবেন এবং এর ভিতরে লিখবেন (নির্দেশনা ও পরামর্শ) এবং বৃত্ত থেকে বেশ কয়েকটি তীর বের করবেন। কিছু শিক্ষার্থীকে প্রতিটি তীরের পাশে দারস থেকে শিক্ষা করা একটি নির্দেশা ও পরামর্শ লিখতে বেছে নিবেন; যা তাদের জীবনে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। আর তাদেরকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য বাক্য তৈরির ওপর উদ্বুদ্ধ করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, নেশা ও মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে দলিল পেশ করা।
লক্ষ্য নং ১
ছাত্রদের সামনে একটি বোর্ড প্রদর্শন করুন যার মাঝে প্রথম কার্যক্রমটি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তারপর পর্যায়ক্রমে একজনকরে ছাত্র নির্ধারণ করুন যারা তাদের সহপাঠীদের সামনে কার্যক্রমের হাদীসটি পাঠ করবে।
নেশা ও মাদকদ্রব্য হারাম হওয়ার সঠিক দলিলে পৌঁছানোর জন্য প্রতিটি ছাত্রকে তাদের আবিষ্কার ক্ষমতা ব্যবহার করতে বলুন। তারপর তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করুন এবং সে বিষয়ে মন্তব্য করুন। সাথে তাদের নিকট সঠিক উত্তর ব্যাখ্যা করুন ও তা বোর্ডে লিখুন যেন তারা তা খাতায় লিখে নিতে পারে।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, মাদকের হুকুম ও তার ক্ষতিকর দিকসমূহ স্পষ্ট করা।
লক্ষ্য নং ৩
প্রতিটি ছাত্রকে যারা মাদক ব্যবহার করে তাদের জন্য পরামর্শ লিখতে নির্দেশ দিন, যে পরামর্শের মধ্যে মাদকের বিধান এবং ব্যক্তি ও সমাজের জন্য তার ক্ষতিকর দিকসমূহ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। লেখার সময় ভাষা ও শৈলীগত বিশুদ্ধতার বিষয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করুন এবং তারা পাঠ থেকে যেসব নস শিখেছেন তা ব্যবহার করতে বলুন।
শিক্ষার্থীরা যা লিখেছে তা তাদের সহপাঠীদের সামনে পড়ুতে বলুন। সাথে তাদের মূল্যায়ন করুন এবং সবচেয়ে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য পরামর্শটি চিহ্নিত করুন। আর লেখকদেরকে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজে তা প্রকাশ করতে উৎসাহিত করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
আপনি ছাত্রদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করতে পারেন এবং প্রতিটি গ্রুপকে নিম্নের প্রশ্ন দুটির উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন।
উত্তর প্রদানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের পাশ দিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তাদের উত্তর ও কর্মতৎপরতা পর্যবেক্ষণ করুন।
শিক্ষার্থীদের উত্তর সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরদাতা গ্রুপ চিহ্নিত করে সেগুলোর মূল্যায়ন করুন।
শিক্ষার্থীদের সঠিক উত্তরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য প্রশ্ন দুটি নিয়ে তাদের সাথে মৌখিকভাবে আলোচনা করুন।
দলগুলোকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন এবং আলোচনায় তারা যে উত্তরগুলো শিখেছে তার আলোকে তাদের উত্তরগুলো সংশোধন ও লিপিবদ্ধ করতে বলুন।
প্রশ্ন ১: () () () ()
প্রশ্ন ২: বিবেক - মদ
* শিক্ষানীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
শরীয়ত কর্তৃক অনুমোদিত বিষয়গুলো এবং নিষিদ্ধ পানীয় যেমন মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিষয়ে এর অবস্থান মেনে চলা। আর তাদের আশেপাশের কোন সদস্যকে এই পানীয়গুলোর বিষয়ে শরিয়া আইন লঙ্ঘন করতে দেখলে সর্বোত্তম উপায়ে নির্দেশনা দেওয়া।
দ্বীনি সঠিক তথ্য ও ইলম প্রচারের জন্য ছাত্ররা পাঠ থেকে যেসব হুকুম জেনেছে তার সাথে তাদের বন্ধুদের পরিচয় করিয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তাদের নিজের পেজে উপদেশ প্রদান অথবা ব্যানার প্রকাশ করতে উদ্বুদ্ধ করা।
দাওয়াত বিষয়ক অধ্যায়
প্রথম পাঠ: দাওয়াতের গুরুত্ব ও ফযীলত
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী: (الدعوة إلى الله تعالى- هُدًى- ) ((الدعوة إلى الله تعالى) আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাওয়াত দেয়া - (هُدًى) পথ- (تَبِعَهُ) তাকে অনুসরণ করল)।
পাঠদান উপকরণ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - ডিসপ্লে স্ক্রিন - শিক্ষামূলক বোর্ড - শিক্ষামূলক ছবি)।
শিক্ষাদান কৌশলসমূহঃ
(সমস্যা সমাধান পদ্ধতি নির্দেশনামূলক মানচিত্র - স্ব-প্রশ্নকরণ - আলোচনা পদ্ধতি)।
মূল্যায়ন ও দিকনির্দেশনা:
- আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করার গুরুত্ব অনুভব করা।
- অনুধাবন করা যে দাওয়াত হল নবীগণ এবং সংস্কারকদের মিশন।
ইসলামী নৈতিকতাকে (আখলাককে) দৃঢ়ভাবে ধারণ করার প্রতি আগ্রহ।
পাঠের ভূমিকা:
শিক্ষার্থীদের সামনে নিম্নলিখিত সমস্যাটি উপস্থাপন করে পাঠের সূচনা করুন এবং এটি সম্পর্কে তাদের মতামত ও এর সমাধান পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যালোচনা করুন:
যদি ইসলামী শরী‘আতকে মানুষের নিকট পৌঁছানোর জন্য আল্লাহর দিকে কোন আহবানকারী না থাকে তাহলে কী ঘটবে?
তারপরে তাদের পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান এবং বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
নির্দেশনামূলক মানচিত্র পদ্ধতি ব্যবহার করে; শিক্ষক ছাত্রদের সামনে একটি বোর্ড উপস্থাপন করবেন যাতে দারসের বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং তাদেরকে প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে দুটি করে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে বলবেন; যেগুলোর উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে তাদের কাছে এটি সম্পর্কিত তথ্য পরিষ্কার ও স্পষ্ট হয়ে যাবে।
শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন গ্রহণ করবেন এবং বোর্ডের একপাশে তা লিখে রাখবেন।
ধাপ (২)
শিক্ষক পূর্ববর্তী ধাপে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলোকে আরো কিছু অতিরিক্ত প্রশ্ন দিয়ে সমৃদ্ধ করে তার সহযোগিতা নিতে পারেন, যেগুলোর উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর পথে দাওআত সম্পর্কিত তথ্যসমূহ স্পষ্ট হবে, তার মধ্যে নিম্নের প্রশ্নগুলো থাকতে পারে:
প্রশ্নঃ আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করার অর্থ স্পষ্ট কর।
প্রশ্নঃ আল্লাহর দিকে আহ্বান করার গুরুত্ব কি?
ধাপ (৩)
শিক্ষক ছাত্রদের সাথে আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করার ফযীলত ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করবেন। আর একটি ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে তার স্বপক্ষের দলিলগুলো প্রদর্শন করবেন এবং তা কী নির্দেশ করে তা বর্ণনা করার জন্য তার বিশ্লেষণ করবেন।
উপসংহার:
শিক্ষক বোর্ডে একটি বৃত্ত আঁকবেন এবং এর ভিতরে লিখবেন (নির্দেশনা ও পরামর্শ) এবং বৃত্ত থেকে বেশ কয়েকটি তীর বের করবেন। কিছু শিক্ষার্থীকে প্রতিটি তীরের পাশে দারস থেকে শিক্ষা করা একটি নির্দেশা ও পরামর্শ লিখতে বেছে নিবেন; যা তাদের জীবনে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক। আর তাদেরকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য বাক্য তৈরির ওপর উদ্বুদ্ধ করবেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, দাওয়াতের ফযীলতগুলো বের করা।
লক্ষ্য নং ৩
শিক্ষক প্রথম কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে নির্দেশ দিবেন। তারপর কার্যক্রমের বিষয়বস্তু উল্লেখ করবেন ও প্রতিটি দলের উত্তর জানবেন এবং সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য তাদের সাথে আলোচনা করবেন। তারপর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপটি চিহ্নিত করে তার সদস্যদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বানে উদ্বুদ্ধ করতে কিছু উপায়ের প্রস্তাব করা।
লক্ষ্য নং ২
শিক্ষক একটি সম্মিলিত আলোচনার অধিবেশন আয়োজন করবেন, যেখানে তিনি ছাত্রদের একে অপরের মুখোমুখি হয়ে বৃত্তাকারে বসতে বলবেন এবং তাদেরকে অধিবেশনের লক্ষ্য জানিয়ে দিবেন; যা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি আহ্বানে গুরুত্বারোপের প্রতি লোকেদের উৎসাহিত করার উপায়সমূহ প্রস্তাবনার সাথে সম্পর্কিত। আর যে সঠিক উত্তর দিবে তাকে সমর্থন জানাবেন।
কার্যক্রম নং ৩ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বানের ফায়েদা স্পষ্ট করা।
লক্ষ্য নং ৫
শিক্ষক ডিসপ্লে স্ক্রীনের মাধ্যমে কার্যক্রমের ভিডিও ক্লিপটি প্রদর্শন করবেন। আর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কার্যক্রমটির প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দিবেন এবং শিক্ষার্থীদের উত্তরগুলো মূল্যায়ন করাসহ গ্রহণ করবেন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদেরকে মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
বোর্ডে পর্যায়ক্রমে প্রশ্ন দু’টি লেখার সুপারিশ করা হবে।
দু’টি প্রশ্নের প্রতিটির উত্তর দেওয়ার জন্য একে অপরের পাশে থাকা দুই শিক্ষার্থীকে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলাকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
অপরিকল্পিতভাবে কিছু শিক্ষার্থীকে বেছে নিন, অন্যান্য শিক্ষার্থীদের সামনে তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য ।
ভুল উত্তরদাতাকে পাঠের বিষয়বস্তু পুনরায় পড়া ও তার থেকে সঠিক উত্তর বের করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
প্রশ্ন ১: (✓) - (×) - (✓) - (✓) - (×)
* শিক্ষাণীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা তাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার জন্য নির্দেশনা দিন:
ছাত্ররা দাওয়াতের ফযীলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে যা শিখেছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিবে এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশ করবে।
দ্বিতীয় পাঠ: মক্কাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((آثار النبوة) নবুওয়তের চিহ্নসমূহ - (غار حراء) হেরা গুহা - (عام الحزن) দুঃখের বছর - (بيعة العقبة) আকাবার অঙ্গীকার [বায়আত])।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সমবায় শিক্ষা - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি)
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুমের দৃঢ়তা ও ধৈর্যের মূল্যায়ন করা।
- কাজে ও দায়িত্ব পালনে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুকরণ করা।
- আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহ্বান করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নীতি ও কর্মপদ্ধতিকে আঁকড়ে ধরা।
পাঠের ভূমিকা:
আপনি আজকের পাঠকে তাদের কাছে পূর্ববর্তী জ্ঞানের সাথে সংযুক্ত করে দারসের ভূমিকা প্রস্তুত করতে পারেন এবং আরবদের পরিবর্তন এবং মূর্তি পূজা পরিত্যাগ করার ক্ষেত্রে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাওয়াতের প্রভাবের বিষয়ে তাদের সাথে আলোচনা করতে পারেন। তারপর আপনি তাদেরকে পাঠের বিষয়ে নিয়ে যান এবং বোর্ডে শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি আপনার ছাত্রদেরকে নির্ধারিত পাঠ্যবই খুলতে বলুন এবং নীরবে পাঠটি পড়তে বলুন।
তাদেরকে পাঠে বিদ্যমান নমুনাটি দেখতে বলুন এবং তাদেরকে তাতে গভীর দৃষ্টি দিতে বলুন।
নমুনাটির বিবরণ পেশ করা এবং এর উপাদানগুলোকে পয়েন্ট আকারে তৈরি করার চেষ্টা করা।
ধাপ (২)
আপনি ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো কৌশল ব্যবহার করুন, তারপর ছাত্রদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করুন।
প্রতিটি গ্রুপ নমুনার একটি উপাদান ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করার জন্য বেছে নিবে।
তারা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা উপস্থাপন এবং সে সম্পর্কে একটি সংলাপ পরিচালনা করার জন্য প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজনকে বেছে নিন।
ধাপ (৩)
সমবায় শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং প্রতিটি গ্রুপকে মক্কায় দাওয়াতের ক্রমবিকাশের ধাপগুলো উল্লেখ করতে বলুন।
প্রতিটি গ্রুপ কী লিখেছে তা উপস্থাপন করার জন্য তার একজন সদস্যকে বেছে নিন এবং আপনি সে বিষয়ে মন্তব্য করুন ও তার মূল্যায়ন করুন।
ধাপ (৪)
- পাঠের সামগ্রিক অর্থ ব্যাখ্যা করুন।
- শিক্ষার্থীদের পাঠ থেকে যে ফায়দাগুলো শিখেছে তা বের করতে নির্দেশ দিন।
উপসংহার:
- আপনি ছাত্রদেরকে উপাদান ও পয়েন্ট আকারে পাঠের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিতে বলুন এবং তাদের মধ্যে কিছু ছাত্রকে সেগুলো বোর্ডে লেখার জন্য বাছাই করুন। সেগুলো নিম্নের আকারে হতে পারে:
শ্রেষ্ঠ মানব নবী মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব আল হাশেমী মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।
মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার শৈশবে ছাগল চরানোর কাজ করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচা আবু তালিবের সাথে বারো বছর বয়সে ব্যবসার কাজে জড়িত হলেন।
যৌবনকাল থেকেই মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ভালো চরিত্র ও মূর্তি পূজা পরিত্যাগ করার জন্য বিখ্যাত ছিলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন চল্লিশ বছর বয়সে উপনীত হলেন, তখন তিনি ইবাদত করার জন্য হেরা গুহায় আত্মনিয়োগ করতে শুরু করলেন।
তিন বছর গোপনে দাওয়াত চলতে থাকে।
দাওয়াতের গণ্ডি প্রসারিত হল, ফলে তা বনি হাশিম গোত্রের নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সব আত্মীয়কে দাওয়াতের আওতায় নিয়ে আসল।
দাওয়াতের প্রথম দিকেই শত্রুতা শুরু হয়, বিশেষ করে কুরাইশরা বেশ কয়েকজন সাহাবীর ইসলাম গ্রহণের কথা জানতে পারার পর।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল-আরকাম বিন আবি আল-আরকামের বাড়িতে কুরাইশদের দৃষ্টির আঁড়ালে তার সাহাবীদের সাথে দেখা করতেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমদের ওপর মুশরিকদের অত্যাচারের তীব্রতা দেথে তাদেরকে আবিসিনিয়ায় হিজরতের নির্দেশ দেন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাওয়াত প্রদানের পর্যায়গুলো সম্পর্কে জানা।
লক্ষ্য নং ৩
শিক্ষক প্রথম কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে নির্দেশ দিবেন। তারপর কার্যক্রমের বিষয় দুটি উল্লেখ করবেন ও সে সম্পর্কে প্রতিটি দলের উত্তর জানবেন এবং সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য তাদের সাথে আলোচনা করবেন। তারপর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপটি চিহ্নিত করে তার সদস্যদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, দায়ীর বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অবগত হওয়া।
লক্ষ্য নং ৬
প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় কার্যক্রমটি এককভাবে সম্পাদন করতে এবং একটি আলাদা কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ দিন। তারপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল এবং সঠিক উত্তরগুলো সনাক্ত করে তাদের মূল্যায়ন করুন, সাথে সঠিক উত্তরদাতার নাম উল্লেখ করে প্রশংসা করুন।
সঠিক উত্তর জানানোর জন্য তাদেরকে পরিচালনা ও পর্যাবেক্ষণ করুন এবং তাদের কর্মক্ষমতাকে উৎসাহিত করুন।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
ছাত্রদেরকে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করুন এবং প্রতিটি গ্রুপকে নিম্নের প্রশ্ন সমাধানে অংশগ্রহণ করতে বলুন।
আপনি আপনার ছাত্রদের পাশ দিয়ে হেঁটে যান, উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হতে।
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের উত্তর উপস্থাপনের জন্য একজন সদস্য বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দিন এবং তার মূল্যায়ন সম্পূর্ণ করুন।
প্রশ্ন ১: (×) - (✓) - (×) - (✓) - (✓)
প্রশ্ন ২: মক্কাবাসীদের হঠকারিতা - আল-আকাবার দু’টি বায়আত - বিলাল ইবন রাবাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু।
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক নির্দেশনাঃ
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নোক্ত উপায়ে তাদের নিজের জীবন ও আচার-আচরণে প্রয়োগ করতে নির্দেশনা দিন:
পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পাঠে উল্লেখ করা ব্যতীত দাওয়ার ভূমিকা ও সূচনা সম্পর্কে জ্ঞানের বিভিন্ন উৎস অনুসন্ধান করার দায়িত্ব দিন এবং পরবর্তী বৈঠকে সেগুলো আপনার সামনে উপস্থাপন করতে বলুন। আর যা লিখা হয়েছে তার মধ্যে সেরা লেখাটি বেছে নিন ও বাকি ছাত্রদের সামনে তা উপস্থাপন করুন।
মক্কার যুগে নবীর জীবনীর ঘটনাবলি থেকে ফায়দা এবং শিক্ষণীয় ও শরয়ী দিকনির্দেশনা বের করার জন্য ছাত্রদের নির্দেশনা প্রদান করা।
তৃতীয় পাঠ: মদীনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী:
((الأوس) আওস গোত্র - (الخزرج) খাজরাজ গোত্র -(الغزوة) যুদ্ধ)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সমবায় শিক্ষা - "আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি")।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুমের জিহাদের গুরুত্ব উপলব্ধি করা।
মসজিদের মর্যাদা এবং ইসলামে এর গুরুত্ব উপলব্ধি করা।
- দাওয়াতকে সমর্থন ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় আনসারদের ভূমিকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
সত্যিকারের ঈমান এবং দৃঢ়তার বিষয়ে আগ্রহী হওয়া।
পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক, আপনি পূর্ববর্তী পাঠের সাথে সংযুক্ত করে এই পাঠটি প্রস্তুত করতে পারেন এবং তাদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদীনায় হিজরত ও তার কারণসমূহ সম্পর্কে আলোচনা করতে পারেন। আর তাদের উত্তরগুলো গ্রহণ করে সেগুলোর পর্যালোচনা করুন। তারপর বোর্ডে পাঠের শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
আপনি আপনার ছাত্রদেরকে নির্ধারিত পাঠ্যবই খুলতে বলুন এবং নীরবে পাঠটি পড়তে বলুন।
তারপর আপনি তাদের নিকট কঠিন ও অস্পষ্ট শব্দাবলীর অর্থ ব্যাখ্যা করুন।
শব্দটির অর্থ বোঝার জন্য আপনি তাদের নিজের তৈরি বাক্যে এটি ব্যবহার করার দায়িত্ব দিন।
ধাপ (২)
সমবায় শিক্ষা পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন দলে ভাগ করুন।
মদীনায় আগমনের পর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজগুলো সম্পাদন করেছেন প্রতিটি দলকে তার একটি উল্লেখ করার দায়িত্ব দিন।
ব্ল্যাকবোর্ডে তাদের সিদ্ধান্তগুলো লিখতে প্রতিটি গ্রুপ থেকে একজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন।
আপনি তাদের মূল্যায়ন করুন এবং সঠিক উত্তর সম্পর্কে তাদের জানান।
ধাপ (৩)
(আমি জানি - আমি জানতে চাই - আমি শিখেছি) কৌশলটি ব্যবহার করুন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার খাতা তিনটি ভাগে ভাগ করতে নির্দেশ দিন:
মসজিদে নববী নির্মাণ এবং মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ সম্পর্কে যা জানে তা প্রথম অংশে লিখবে।
দ্বিতীয় অংশে মক্কা বিজয়ের পর মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পর্কে যা জানতে চায় তা লিখবে।
আর তৃতীয় অংশের শিরোনাম হবে: পাঠ থেকে যা জানা গেল।
ছাত্ররা যা লিখেছে তা উল্লেখ করতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন।
আপনি তারা যা উল্লেখ করবে তার কিছু অংশ বোর্ডে লিখে রাখুন।
উপসংহার:
- আপনি ছাত্রদেরকে পয়েন্ট ও বিষয় আকারে পাঠের সারসংক্ষেপ লিখতে বলুন, আর আপনি সেগুলোর সংশোধন করে দিন।
- তাদের নোটবুকে লিখে নেয়ার জন্য বোর্ডে পাঠের বিষয়বস্তুর একটি সারসংক্ষেপ লিখুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
পাঠ থেকে শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর মাধ্যমে প্রয়োগ করার জন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সম্মিলিতভাবে, মক্কা ও মদিনায় নববী দাওয়াতের পদ্ধতি সম্পর্কে জানা এবং আমাদের সমসাময়িক বাস্তবতায় মসজিদে নববী ও অন্যান্য মসজিদের ভূমিকার মাঝে তুলনা করা।
লক্ষ্য নং ১, ৩
সহপাঠীদের সামনে নিম্নলিখিত কার্যক্রমের উত্তর দিতে সহযোগিতা করার জন্য আপনার ছাত্রদের দুটি দলে ভাগ করুন।
আপনার তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণে বোর্ডে তার উত্তর লিখার জন্য প্রত্যেক দল থেকে একজন ছাত্রকে বেছে নিন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, ছাত্রদেরকে তাদের অন্তরের ভাব প্রকাশ করার পদ্ধতি এবং সঠিকভাবে প্রবন্ধ আবিষ্কার ও লিখার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ৫
বাড়িতে একটি পৃথক কাগজে নিম্নের কার্যক্রমের উত্তর দিতে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে দায়িত্ব দিন।
পরবর্তী দারসে উত্তরগুলো সংশোধনের জন্য সংলাপ ও আলোচনার আকারে আপনার কাছে উপস্থাপন করা হবে।
সকালের সমাবেশে সঠিক উত্তরদাতার লেখা উপস্থাপন করে তাকে সম্মানিত করুন।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
ছাত্রদের বিভিন্ন দলে ভাগ করুন।
নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তরে অংশ গ্রহণ করতে সকল দলকে নির্দেশ দিন।
উত্তর দেওয়ার সময় পরস্পরের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে আপনার ছাত্রদের পাশ দিয়ে হেঁটে যান।
প্রতিটি গ্রুপকে তাদের উত্তর উপস্থাপনের জন্য একজন সদস্য বেছে নেওয়ার দায়িত্ব দিন এবং সেগুলোর মূল্যায়ন করুন।
প্রশ্ন ১: ()(×)() (×)()
* শিক্ষণীয় ও উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে তা নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তাদের বাস্তব জীবন ও তাদের আচার আচরণে প্রয়োগ করার নির্দেশনা দিন:
পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যে, আপনি প্রতিটি ছাত্রকে শরয়ী দলিল দ্বারা প্রমাণ পেশ করে মসজিদে নববীর ফযীলত স্পষ্ট করে একটি প্রবন্ধ লিখতে বলুন; যেটা শেষ করবে মানুষকে আল্লাহর ঘরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনে উৎসাহিত করার জন্য কিছু পরামর্শ দিয়ে।
মাদানী যুগে সীরাতুন নবীর ঘটনাবলী থেকে কিছু ফায়দা এবং শিক্ষণীয় ও শরয়ী দিকনির্দেশনা বের করার জন্য ছাত্রদের নির্দেশনা প্রদান করা।
চতুর্থ পাঠ: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার মর্যাদা
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: (المعروف) সৎ কাজ-(المنكر) অসৎ কাজ-(اللعن) অভিস্পাত।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সমবায় শিক্ষা - শিক্ষামূলক ধাঁধা - ব্রেইন স্টর্মিং বা মাথা খাটানো পদ্ধতি।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
- সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ পরিত্যাগ করার ভয়াবহতা অনুভব করা।
- ব্যক্তি এবং সমাজের পরিশুদ্ধতার গুরুত্ব অনুভব করা; কারণ এটা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বার্তার অংশ।
- সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার প্রতি আগ্রহী হওয়া।
- বিপর্যয় এবং কল্যাণ বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকা।
পাঠের ভূমিকা:
প্রিয় শিক্ষক - আপনি ধাঁধা উপস্থাপন পদ্ধতির মাধ্যমে পাঠ শুরু করতে পারেন, যেমন: এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা নেকি লিখেন অথচ তারা তা করেনি; এবং এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের ওপর পাপ লিখা হয় অথচ তারা তা করেনি, তারা কারা? তারপর আপনি শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে সঠিক উত্তরের দিকে এগিয়ে যান। অতঃপর বোর্ডে পাঠের শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
বাড়িতে যা রিভিশন দেওয়া হয়েছে তা স্মরণার্থে প্রতিটি ছাত্রকে দারসটির পাঠে অংশগ্রহণ করতে বলুন।
পাঠের চিন্তাগুলো বের করা, তারপর বোর্ডে সেগুলো লেখা।
ধাপ (২)
প্রতিটি গ্রুপের চয়নকৃত প্রধান চিন্তাগুলোর তালিকা নিয়ে ছাত্রদের সাথে আলোচনা করুন।
প্রতিটি চিন্তাধারা নিয়ে আলোচনা করার পর; পরামর্শ হল, আপনি তাদের কাউকে সে চিন্তাধারার সাথে খাস অনুচ্ছেদটি পড়তে বলুন।
ধাপ (৩)
আপনি আপনার ছাত্রদের ব্রেইন স্টর্মিং পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করুন; যাতে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার ফযীলতসমূহে পৌঁছাতে পারেন।
উপনীত হওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে মৌখিকভাবে আলোচনা করা, তারপর এটি মনে রাখার জন্য খাতায় লিখে রাখা।
ধাপ (৪)
প্রতিটি দলকে ‘সৎকাজের নির্দেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ’ ত্যাগ করার প্রভাবগুলো বের করতে বলুন।
কিছু দলকে উত্তর উপস্থাপন করতে বলুন, তারপর পাঠের একটি কাল্পনিক মানচিত্র আঁকুন।
উপসংহার:
একটি পরামর্শ হল, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে একটি পৃথক কাগজে পাঠ থেকে তারা যা শিখেছে তা লিখতে দায়িত্ব দিন এবং তা মূল্যায়নের জন্য আপনার কাছে উপস্থাপন করতে বলুন। তারপর ভুল সংশোধন করাসহ আপনার শিক্ষার্থীরা যা শিখেছে তা নিয়ে আলোচনা করুন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের প্রভাবগুলো বর্ণনা করা। লক্ষ্য নং ২
শিক্ষক প্রথম কার্যক্রমটি সম্পাদনে পরস্পর সহযোগিতা করার জন্য ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে নির্দেশ দিবেন। তারপর কার্যক্রমের বিষয়বস্তু উল্লেখ করবেন ও প্রতিটি দলের উত্তর জানবেন এবং সঠিক উত্তরে পৌঁছানোর জন্য তাদের সাথে আলোচনা করবেন। তারপর সেরা উত্তরদাতা গ্রুপটি চিহ্নিত করে তার সদস্যদের উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করবেন।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, সৎকাজের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামকে অনুসরণ করা।
লক্ষ্য নং ৩
কার্যক্রমে উল্লিখিত নস দুটি পড়ার জন্য দুইজন শিক্ষার্থীকে বেছে নিন এবং তাদের কেউ উভয় নসের মধ্যে কোন অস্পষ্ট শব্দ পেলে, তা উল্লেখ করবে যাতে আপনি তা ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করতে পারেন। তারপর ছাত্রদের বিভিন্ন দলে ভাগ করুন যাতে প্রতিটি দল কার্যক্রমে থাকা প্রশ্নের উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করে। আর দলগুলো থেকে দু’জনকে বেছে নিন তাদের উত্তরগুলো উপস্থাপন করার জন্য। বাকি দলগুলো সবচেয়ে সঠিক এবং নির্ভুল উত্তরগুলো নির্ধারণ করতে তাদের উভয়ের মাঝে তুলনা করবে।
যদি একজন ব্যক্তি আনুগত্যে (ইবাদতে) সৎ ও ন্যায়পরায়ণ হয়, তবে অন্যদেরকে বিপর্যয় সৃষ্টিতে সুযোগ দেওয়া এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ না করায় তার কোন ক্ষতি নেই।
তিনি তাদের নিকট ভুল বুঝটি বর্ণনা করলেন, তারপর মন্দ কাজের নিষেধ পরিত্যাগ করার শাস্তির বিষয়ে প্রমাণ উল্লেখ করলেন।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
নিচের প্রশ্নগুলো একটি একটি করে বোর্ডে লিখুন।
এমন কিছু ছাত্রকে বেছে নিন যারা ক্লাসে খুব বেশি অংশ নেয় না।
বোর্ডে তাদেরকে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে বলুন।
তাদের উত্তর মূল্যায়ন করুন এবং তাদের সহপাঠীদেরকে আপনার সাথে মূল্যায়নে অংশ গ্রহণ করতে বলুন।
প্রশ্ন ১: (ওয়াজিব) - (তোমাদের দায়িত্ব তোমাদেরই উপর। তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথ ভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।)- ( জালিম শাসক)।
* শিক্ষণীয় এবং অনুভূতিমূলক সতর্কতা:
প্রত্যেক ছাত্রকে দলিলসহ সৎকাজরে আদেশ ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করার ফযীলত লিখে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে প্রকাশ করতে বলা উত্তম।
পঞ্চম পাঠ: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সংক্রান্ত ফিকহ
পাঠের সময়: এক ঘন্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((المعروف) সৎ কাজ - (المنكر) অসৎ কাজ - (المصالح والمفاسد) কল্যাণকর ও অকল্যাণকর বিষয়)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সমবায় শিক্ষা-সংলাপ ও আলোচনা- গল্প বর্ণনা পদ্ধতি)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
- সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা।
- শরয়ী বিধি মোতাবেক সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার প্রতি আগ্রহী থাকা।
- সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণ করা।
- মন্দের দিকে ধাবিতকারী বিষয়সমূহ এবং তার উপকরণগুলো বর্জন করা।
পাঠের ভূমিকা:
সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফযীলত ও প্রভাবগুলো পেশ করার মাধ্যমে নতুন পাঠটিকে আগের পাঠের সাথে সংযুক্ত করে দারসের ভূমিকা উপস্থাপন করুন। তারপর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে শরীয়াহ কর্তৃক নির্ধারিত নীতিমালা প্রয়োগ করা ব্যতীত সৎকাজের আদেশের ফলাফল অর্জন করা যায় না। তারপর ব্ল্যাকবোর্ডে পাঠের শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যে, আপনি পাঠটিকে তিনটি ভাগে ভাগ করুন এবং প্রতিটি দলকে একটি অংশ পড়তে বলুন।
সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ এর নীতিমালা বের করতে ছাত্রদেরকে অংশগ্রহণ করতে বলুন।
আপনি একটি তালিকায় এই নীতিমালাগুলো লিখুন। তারপর সেগুলো বাকি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করুন।
আপনি উত্তর মূল্যায়ন করুন, তারপর বোর্ডে সঠিক উত্তরগুলো লিখুন।
গ্রুপগুলোকে স্ব-শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করুন।
ধাপ (২)
আপনি পাঠের বিষয়বস্তু নিয়ে ছাত্রদের সাথে আলোচনা করুন এবং ক্লাসের বাকি অংশের জন্য প্রতিটি গ্রুপকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করাতে পারেন, যেমন গ্রুপটি যে অংশ পড়েছে তা থেকে কয়েকটি প্রশ্ন বের করবে।
আপনি তা ক্লাসের বাকিদের সামনে রাখুন, তারপর আলোচনাগুলো শুনুন এবং তা স্পষ্ট করার জন্য তাতে হস্তক্ষেপ করুন।
কিছু হাদিস ব্ল্যাকবোর্ডে লিখবেন, যাতে অসৎ কাজে নিষেধের পর্যায়গুলোর ওপর প্রমাণ পেশ করতে পারেন।
শিক্ষার্থীদের উপসংহার তৈরি করার পদ্ধতি শিক্ষা দিন।
উপসংহার:
আলোচনা পদ্ধতি ব্যবহার করে; আপনার ছাত্রদের সাথে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষেধ করার নীতিমালা নিয়ে আলোচনা করুন।
আপনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার খাতার শেষ অংশে পাঠ থেকে কী শিখেছে তা লিখতে দায়িত্ব দিন।
ছাত্ররা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা থেকে একটি বোর্ডে লিখতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য একাকী, সঠিক সমাধানের পদ্ধতির ওপর শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ২
শিক্ষক প্রথম কার্যক্রমে উল্লিখিত টেবলটি ডিসপ্লে স্ক্রিনের মাধ্যমে প্রদর্শন করবেন এবং কিছু শিক্ষার্থীতে তা পড়ার জন্য বেছে নিবেন, তারপর তাদের সাথে তা নিয়ে আলোচনা করবেন।
তারপর প্রতিটি শিক্ষার্থীকে কার্যক্রমে থাকা দ্বিতীয় অংশটি একা একা সম্পাদন করতে এবং একটি পৃথক কার্ডে তার উত্তর লিখতে নির্দেশ করবেন, অতঃপর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কার্ডগুলো সংগ্রহ করুন এবং তাদের দেয়া সবচেয়ে সঠিক ও নির্ভুল উত্তরটি বাছাই করে উত্তরদাতার প্রশংসা করাসহ তার মূল্যায়ন করুন।
এক ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে খারাপ কিছু করতে দেখল।√
আহমাদের একটি ১২ বছর বয়সী ছেলে আছে, যে সর্বদা সালাত ত্যাগ করে।√
মসজিদের ইমাম একজন মুসল্লীকে কিবলামুখী না হয়ে সালাত আদায় করতে দেখলনে।√
একজন শিক্ষক স্কুলে কয়েকজন ছাত্রকে সিগারেট খেতে দেখলেন।√√
পুলিশ কিছু অপরাধীকে রাস্তা অবরোধ করতে দেখল।√
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য এককভাবে, ছাত্রদেরকে আলোচনা ও উপসংহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ১, ৫
প্রতিটি ছাত্রকে কার্যক্রমটি ভালোভাবে পড়তে ও তা নিয়ে চিন্তা করতে এবং সঠিকভাবে তার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে নির্দেশ করুন। আর শিক্ষার্থীরা যে সিদ্ধান্তে পৌঁছে তা নিজেদের মধ্যে বিনিময় করবে। তারপর বাড়িতে কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ করতে বলুন; তারা প্রত্যেকে তার পরিবারের কাছে ফিরে যাবে যেন পরিবার তাকে এই বিষয়গুলো চিহ্নিত করতে ও ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করতে পারে।
যে মন্দ কাজ করতে দেখল, তাকে অবশ্যই তা থেকে নিষেধ করতে হবে, এমনকি যদিও তার প্রবল ধারণা হয় যে, তার কথা শোনা হবে না।
মূল্যায়ন
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে, আপনি নিম্নের কাজগুলো করতে পারেন:
পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যে, আপনি নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে ছাত্রদের প্রতিটি গ্রুপকে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন।
প্রতিটি ছাত্র একটি প্রশ্নের উত্তর দিবে এবং তারা একে অপরকে পর্যবেক্ষণ করবে।
আপনি তাদের কর্মতৎপরতা নিরীক্ষণ করতে তাদের পাশ দিয়ে যান এবং তাদের সাথে তাদের উত্তর নিয়ে আলোচনা করুন।
প্রশ্ন ১: √ - X- √ - √ - √
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
ছাত্রদেরকে অসৎকাজে বাধা প্রদানের পর্যায়সমূহ ও তার নীতিমালার সাথে সংশ্লিষ্ট ইসলামী শরীয়তের বিধান মেনে চলার গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করা এবং তাদের আশেপাশের ব্যক্তিদের অসৎকাজে বাধা প্রদানের শরয়ী নীতিমালা প্রয়োগ না করার সাথে সংশ্লিষ্ট ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধন করার চেষ্টা করা। আর তা করা হবে এই ব্যক্তিদের সেই নিয়ম ও শর্তাবলীর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মাধ্যমে; যাতে তারা তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে।
ষষ্ঠ পাঠ: সৎ কাজে আদেশকারী ও অসৎ কাজ থেকে বাধাদানকারীদের আদবসমূহ
পাঠের সময়: এক ঘণ্টা।
নতুন শব্দাবলী: ((الإخلاص) ইখলাস - (الرفق) দয়া - (التدرُّج) পর্যায়ক্রমে)।
শিক্ষা উপকরণসমূহ:
(ব্ল্যাকবোর্ড - শিক্ষামূলক কার্ড - শিক্ষামূলক বোর্ড)।
পাঠদান কৌশল:
(সমবায় শিক্ষা-সংলাপ ও আলোচনা- গল্প বর্ণনা পদ্ধতি)।
মূল্যায়ন ও নির্দেশনা
সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধের ক্ষেত্রে কোমলতার গুরুত্ব অনুধাবন করা।
সৎ কাজে আদেশদানকারী ও অসৎ কাজ থেকে বাধাদানকারীদের আদবসমূহ পালনের প্রতি আগ্রহী থাকা।
- উপদেশদানে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণ করা এবং প্রকাশ্যে না করে গোপনে নসিহত পেশ করা।
-সম্পর্কত্যাগ এবং বয়কটের দিকে ধাবিত করে এমন সব কিছু পরিহার করা।
পাঠের ভূমিকা:
ছাত্রদের সাথে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার ফিকহ ও তার গুরুত্বপূর্ণ নিধানাবলী নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে নতুন পাঠকে আগের পাঠের সাথে যুক্ত করুন। তারপর ছাত্রদেরকে শরীয়া কর্তৃক নির্ধারিত শিষ্টাচারগুলো মেনে চলার গুরুত্ব বুঝান, এরপর বোর্ডে পাঠের শিরোনামটি লিখুন।
পাঠ উপস্থাপন:
ধাপ (১)
পরামর্শ দেয়া হচ্ছে যে, আপনি পাঠটিকে তিনটি ভাগে ভাগ করুন এবং প্রতিটি দলকে একটি অংশ পড়তে বলুন।
সৎকাজের আদেশকারী এবং অসৎ কাজে নিষেধকারীর আদবসমূহ বের করতে ছাত্রদেরকে অংশগ্রহণ করতে বলুন।
আপনি একটি তালিকায় এই আদবসমূহ লিখুন। তারপর সেগুলো বাকি শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করুন।
আপনি উত্তর মূল্যায়ন করুন, তারপর বোর্ডে সঠিক উত্তরগুলো লিখুন।
ধাপ (২)
আপনি পাঠের বিষয়বস্তু নিয়ে ছাত্রদের সাথে আলোচনা করুন এবং ক্লাসের বাকি অংশের জন্য প্রতিটি গ্রুপকে আলোচনায় অংশগ্রহণ করাতে পারেন, যেমন গ্রুপটি যে অংশ পড়েছে তা থেকে কয়েকটি প্রশ্ন বের করবে।
আপনি তা ক্লাসের বাকিদের সামনে রাখুন, তারপর আলোচনাগুলো শুনুন এবং তা স্পষ্ট করার জন্য তাতে হস্তক্ষেপ করুন।
কিছু হাদিস ব্ল্যাকবোর্ডে লিখবেন; যাতে পাঠে বিদ্যমান শিষ্টাচারগুলোর ওপর প্রমাণ পেশ করতে পারেন।
শিক্ষার্থীদের উপসংহার তৈরি করার পদ্ধতি শিক্ষা দিন।
উপসংহার:
আলোচনা পদ্ধতি ব্যবহার করে; আপনার ছাত্রদের সাথে সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজে নিষধের আদবসমূহ নিয়ে আলোচনা করুন।
আপনি প্রতিটি শিক্ষার্থীকে তার খাতার শেষ অংশে পাঠ থেকে কী শিখেছে তা লিখতে দায়িত্ব দিন।
ছাত্ররা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে তা থেকে একটি বোর্ডে লিখতে কিছু ছাত্রকে বেছে নিন।
শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Activities)
শিক্ষার্থীরা পাঠ থেকে যা শিখেছে নিম্নলিখিত পদ্ধতিতে তা প্রয়োগ করার প্রতি নির্দেশনা দেয়াকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে:
কার্যক্রম নং ১ ধরন ও লক্ষ্য সমষ্টিগতভাবে, সৎ কাজের আদেশ করার শিষ্টাচার স্পষ্ট করা।
লক্ষ্য নং ১
শিক্ষক একটি সম্মিলিত আলোচনার অধিবেশন আয়োজন করবেন, যেখানে তিনি ছাত্রদের একে অপরের মুখোমুখি হয়ে বৃত্তাকারে বসতে বলবেন এবং তাদেরকে অধিবেশনের লক্ষ্য জানিয়ে দিবেন; যা কার্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত নসগুলো থেকে সৎ কাজের আদেশ দেওয়ার শিষ্টাচার নির্ধারণের সাথে সম্পর্কিত।
কার্যক্রম নং ২ ধরন ও লক্ষ্য স্বতন্ত্রভাবে, অন্যদের সঠিক উপদেশ প্রদানের পদ্ধতির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।
লক্ষ্য নং ৩, ৪
প্রতিটি ছাত্রকে স্ত্রীকে শাস্তি দেওয়ার ধাপগুলো ব্যাখ্যা করে একটি উপদেশ লিখতে নির্দেশ করুন এবং লেখার সময় ভাষা ও শৈলীগত বিশুদ্ধতার বিষয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করুন এবং তারা পাঠ থেকে যেসব নস শিখেছেন তা ব্যবহার করতে বলুন।
শিক্ষার্থীরা যা লিখেছে তা তাদের সহপাঠীদের সামনে পড়ুতে বলুন। সাথে তাদের মূল্যায়ন করুন এবং সবচেয়ে সঠিক ও গ্রহণযোগ্য প্রবন্ধটি চিহ্নিত করুন। আর এর লেখকদেরকে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পেজে তা প্রকাশ করতে উৎসাহিত করুন।
মূল্যায়ন
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন প্রশ্নের উত্তর দিতে নির্দেশ দিন:
আপনি ছাত্রদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করতে পারেন এবং প্রতিটি গ্রুপকে নিম্নের প্রশ্ন দুটির উত্তর দিতে পরস্পর সহযোগিতা করতে বলুন।
উত্তর প্রদানে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের পাশ দিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে তাদের উত্তর ও কর্মতৎপরতা পর্যবেক্ষণ করুন।
শিক্ষার্থীদের উত্তর সংগ্রহ করুন এবং সবচেয়ে নির্ভুল উত্তরদাতা গ্রুপ চিহ্নিত করে সেগুলোর মূল্যায়ন করুন।
শিক্ষার্থীদের সঠিক উত্তরের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য প্রশ্ন দুটি নিয়ে তাদের সাথে মৌখিকভাবে আলোচনা করুন।
দলগুলোকে উপযুক্ত সমর্থন প্রদান করুন এবং আলোচনায় তারা যে উত্তরগুলো শিখেছে তার আলোকে তাদের উত্তরগুলো সংশোধন ও লিপিবদ্ধ করতে বলুন।
প্রশ্ন ১: X - X - √.
প্রশ্ন ২: ধৈর্য - ওয়াজিব - ত্রুটি চিহ্নিত করা
* শিক্ষণীয় এবং উপলব্ধিমূলক সতর্কতা:
ছাত্রদেরকে সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ করার শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়তের বিধান মেনে চলার গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করা এবং তাদের আশেপাশের ব্যক্তিদের মাঝে পরিলক্ষিত ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংশোধন করা ও সেগুলোর সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা; যেন তারা তা সঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারে।
মুখবন্ধ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে ইলম ও প্রকাশ ভঙ্গি প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন।
আর আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার, সকল সম্মানীত সাহাবী ও কিয়ামাত পর্যন্ত যারা সর্বোত্তমরূপে তাদের অনুসরণ করবে সবার ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
আমলের আগে বান্দার ওপর সবচেয়ে বড় ফরজ হলো ইলম অন্বেষণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ “সুতরাং জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য মাবূদ নেই। আর ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ও মুমিন নর-নারীদের ক্রটির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।” সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৯
শরীয়তের ইলম এই উম্মতের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও ইসলামী ব্যক্তিত্বের সর্বাধিক গুরুত্বপুর্ণ উপাদান।
ইলমের এই গুরুত্বকে উপলক্ষ্য করে ”দাওয়াহ ও প্রবাসীদের শিক্ষা দান সংস্থা, রাওদাহ, রিয়াদ,সৌদি আরব” এর হিকমতপূর্ণ ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার বার্তার সূচনা হয়।সংস্থাটি প্রবাসীদের শিক্ষাদান ও শরয়ীভাবে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্যে তৈরিকৃত বহু প্রোগ্রাম ব্যবাহর করে মুসলিমদেরকে তাদের দীনি বিষয় শিক্ষা দান করে থাকে। তারই একটি প্রকল্প হলো: ”فقهني في ديني” (আমাকে দীনের সঠিক বুঝ দান করুন)। যার ফলে প্রবাসীদের জন্য সাতটি ভাষায় শরয়ী কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি উক্ত প্রকল্পের উন্নয়নের লক্ষে শিক্ষা পরামর্শ বিষয়ক কম্পানি "বাসায়ের" এর সাথে যোগাযোগ করে। এটি মূলত শরয়ী শিক্ষা সেলেবাস উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ সংস্থা। পরিশেষে কম্পানিটির রাওদাহ সংস্থার সাথে সেলেবাস উন্নয়ন কেন্দ্রিক কতিপয় মূল নীতি ভিত্তিক পাঠ্যক্রম উন্নত করার একটি চুক্তি সম্পাদন হয়। তারপর নির্দিষ্ট শিক্ষাস্তর মোতাবেক শিক্ষার্থীর জন্য বইগুলো সংকলন করা হয়:
- প্রথম স্তর, যার মধ্যে রয়েছে (৪০)টি পাঠ।
-দ্বিতীয় স্তর, যার মধ্যে রয়েছে (৩০)টি পাঠ।
-তৃতীয় স্তর: এতে রয়েছে ৩০ টি পাঠ।
আর শিক্ষার্থীর প্রত্যেক বইয়ের সাথে শিক্ষকের একটি নির্দেশনা বই থাকবে, যা তাকে শিক্ষানীতি ও কার্যকর শিক্ষার আদলে পাঠ উপস্থাপন করতে সহায়তা করবে। পাঠ্যক্রমের নথি উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের বই রচনা ও শিক্ষকদের নির্দেশনা প্রক্রিয়া সম্পাদিত হয়েছে একটি বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া ও সুক্ষভাবে সম্পাদনার মাধ্যমে, যা পরিচালনা করেছেন পাঠ্যক্রম বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল।
পরিশেষে, আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যে, তিনি এই কাজ দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন। এবং যারা এই সুন্দর পদ্ধতি প্রকাশে অবদান রেখেছেন তাদের সবাইকে কল্যাণ ও জান্নাত দান করুন। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংস্থার ফোন নাম্বারের মাধ্যমে এই শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রম সম্পর্কে আপনার পরামর্শ এবং উন্নয়নমূলক চিন্তাকে স্বাগত জানাই।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষন করুন।
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাওদাহ, রিয়াদ সৌদি আরব।
ভুমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
প্রিয় ছাত্র ! তোমার সামনে এখন রয়েছে পাঠ্যক্রমের দ্বিতীয় বই। এই শিক্ষা সেলেবাসের উদ্দেশ্য হলো :
একজন মুসলিমের দীনের ব্যাপারে যা জানা আবশ্যক তা শিক্ষা দেওয়া, ইসলামী সুষ্ঠু সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠাকরণ এবং ইসলামী শিক্ষা পদ্ধতির আলোকে শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব গঠন।
শরীয়ত শিক্ষার ক্ষেত্র অনুসারে বইটিকে বিভিন্ন শিক্ষা ইউনিটে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো:
- কুরআন ও তাফসীর ইউনিট: যাতে রয়েছে কুরআন তিলাওয়াতের আদবের বর্ণনা, কতিপয় ছোট সূরার সংক্ষিপ্ত তাফসীর সেই সাথে আয়াতসমূহ থেকে নির্গত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসমূহ।
-ঈমান ও তাযকিয়া ইউনিট: যাতে রয়েছে তাওহীদের গুরুত্ব ও প্রকারভেদ, ইবাদাতের রুকন ও শর্তসমূহ, সেই সাথে ঈমানের বৃদ্ধি পাওয়া ও কমতি হওয়ার আলোচনা; যাতে করে পাঠক ঈমানের মূলভিত্তি ও এর ফলাফলকে একত্রিত করতে পারে।
সুন্নাহ ও শামায়েল ইউনিট: এর দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন চরিত, যার মধ্যে রয়েছে: নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশী, ছোট এবং অমুসলিমদের সাথে তার আচরণের বর্ণনা; যাতে করে জ্ঞান ও দূরদর্শিতার ওপর ভিত্তি করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরন করা যায়। এরপরে শিক্ষার্থী (পাঠক) মুসলিমদের অধিকার সংক্রান্ত সামগ্রিক পাঁচটি হাদীস শিখবে। বিশেষভাবে তার আত্মীয়,বৃদ্ধ, ছোট, প্রতিবেশি ও মেহমানের অধিকার জানবে। সেই সাথে এগুলোতে রয়েছে নিজের হক, বান্দার হক এবং আল্লাহর হক আদায়ের মধ্যমপন্থা অবলম্বনের গুরুত্বের নির্দেশিকা।
- আহকাম সংক্রান্ত ফিকহ ইউনিট: যাতে রয়েছে চারটি বিশেষ ইবাদাত তথা: সালাত, যাকাত, সিয়াম ও হজ্জ সংক্রান্ত আহকামের সারকথা এবং বাস্তবজীবনে উক্ত আহকাম প্রয়োগের প্রতি গুরুত্বারোপ করা।
-আখলাক ইউনিট: যাতে রয়েছে ইসলামী আখলাকের এমন মৌলিক নীতিমালা, যার উপরে মুসলিম ব্যক্তিত্বের বিকাশ নির্ভর করে, আর তা হচ্ছে:
উত্তম চরিত্র, সত্যবাদীতা, আমানত, সবর, লজ্জা ও ন্যায়পরায়নতার গুণ।
-দাও‘আহ ইউনিট: এতে রয়েছে মুসলিমদের প্রতি নসীহত প্রদানের উৎসাহ , দীনে এর গুরুত্বের বর্ণনা এবং রয়েছে নসীহত যাতে উদ্দিষ্ট ফলাফল নিয়ে আসে এবং কল্যাণ প্রসারে ও অকল্যাণ রোধের ক্ষেত্রে তার উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য নসীহতকারী ও নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির আদবসমূহ।
আমরা এ বইগুলো প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি, যেন এগুলি বৈজ্ঞানিক মৌলিক পদ্ধতি, আধুনিক শিক্ষা মানদন্ডের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর তাই এটি প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে আমরা নিচের বিষয়সমূহ বিবেচনা করেছি:
- একটি ভূমিকা দিয়ে পাঠ শুরু করা -প্রয়োজন অনুসারে- যা পাঠ্য বিষয়কে শিক্ষার্থীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।
- ছবি ও মানচিত্রের ব্যবহার, যা শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ আয়ত্ব করতে সাহায্য করবে।
-সক্রিয় শিক্ষা কৌশল (Active learning strategies) অনুযায়ী পাঠদানের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক অনুশীলন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনায় রেখেছি:
- পাঠ্য বিষয়ের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বিষয়বস্তুর সাথে শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Learning Activities) অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিষয়বস্তুর প্রকৃতির সাথে শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সংযোগ স্থাপন।
- শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব এবং দক্ষতার বিভিন্ন দিক বিকশিত করা।
-এতে ব্যক্তি ও সমষ্টিগত পর্যায়ে তা বাস্তবায়নে রকমারি পদ্ধতির ব্যাবহার, অনুরূপ শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাস্তবায়নে স্থানের ভিন্নতা এবং লিখিত, মৌখিক, দৈহিক. মনস্তাত্বিক অনুশীলনের ধরনের ভিন্নতা এতে রয়েছে।
- পাঠটি অনুধাবন এবং এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের বিষয় পরীক্ষা করতে প্রতিটি পাঠের শেষে মূল্যায়ন প্রশ্ন রাখা হয়েছে।
আমরা এ বইটি শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থাপন করে আশা করছি, তাত্ত্বিক মৌলিক জ্ঞানের বিষয়সমূহ যেন সহজভাবে উপস্থাপন করা সফল হয়। অনুরূপ কামনা করি উপস্থাপনার পদ্ধতির স্পষ্টতা, অনুশীলনগুলোর কার্যকারিতা এবং মূল্যায়নের ব্যাপকতা।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে দু‘আ করি, তিনি যেন এ বইটি দ্বারা শিক্ষার্থীদের উপকৃত করেন এবং আমাদের এ কাজকে তিনি যেন কবুল করেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন!
কুরআন ও তাফসীর বিভাগ
প্রথম পাঠ: কুরআন কারীম তিলাওয়াতের আদবসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি করআন কারীম পাঠের সওয়াব সম্পর্কে দলীল পেশ করবে।
কুরআন তিলাওয়াতের আদবসমূহ বর্ণনা করবে।
কুরআন কারীম তিলাওয়াতের আহকাম শিখতে অগ্রসর হবে।
কুরআন কারীম তিলাওয়াতের আদবসমূহ প্রয়োগ করবে।
প্রারম্ভিক কার্যক্রম:
বহু মুসলিমকে তুমি কুরআন কারীম তিলাওয়াতে যত্নবান পাবে না। এমনকি তুমি দেখতে পাবে যে অনেক কুরআনের কপির উপরে ধুলা পড়ে গেছে। সুতরাং তুমি এ অধ্যায়ে যা শিখবে, তা দ্বারা এ সমস্ত মানুষকে নসীহত করবে।
কুরআন কারীম তিলাওয়াতের ফযীলত:
কুরআন কারীম তিলাওয়াত করা মহৎ একটি ইবাদাত, এটি আল্লাহর যিকিরের অন্যতম একটি প্রকার। আল্লাহ তা‘আলার কাছে এর সওয়াব অনেক, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে, তার জন্য এর কারণে একটি সাওয়াব আছে। আর প্রতিটি সওয়াব তার দশ গুণ বৃদ্ধি পায়। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম (الم) একটি হরফ; বরং (ا) আলিফএকটি হরফ, (ل) লাম একটি হরফ এবং (م) মীম একটি হরফ।” (তিরমিযী: 2910)|
কুরআন কারীম তিলাওয়াতের কতিপয় আদব:
আল্লাহর জন্যই খালিস হওয়া তথা ইখলাস সহকারে হওয়া, সুতরাং কুরআন তিলাওয়াতের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি এবং তাঁর আনুগত্য।
অযু করা, স্থান ও কাপড় পবিত্র থাকা।
সাধ্য মোতাবেক কিবলামুখী হওয়া।
আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় চাওয়া। তিলাওয়াতের আগে أعوذ بالله مِن الشَّيطان الرَّجيم তথা আ‘ঊযু বিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রজীম বলা মুস্তাহাব। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: فَإِذَا قَرَأۡتَ ٱلۡقُرۡءَانَ فَٱسۡتَعِذۡ بِٱللَّهِ مِنَ ٱلشَّيۡطَٰنِ ٱلرَّجِيمِ তথা: “সুতরাং যখন আপনি কুরআন পাঠ করবেন, তখন অভিশপ্ত শয়তান হতে আল্লাহ্র আশ্রয় প্রার্থনা করুন!” (আন-নাহল, আয়াত: ৯৮)।
কুরআন কারীম তিলাওয়াতের মজলিসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
তাজভীদের বিধানগুলো প্রয়োগ করা।
কুরআন কারীম তিলাওয়াতের সময় কণ্ঠকে সুন্দর করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: زَيِّنُوا الْقُرْآنَ بِأَصْوَاتِكُمْ তথা: “তোমরা তোমাদের কণ্ঠের মাধ্যমে কুরআনের সৌন্দর্য বর্ধিত কর।” (আবু দাঊদ, হাদীস নং: ১৪৭০)।
কুরআন কারীমের অর্থের অনুধাবনে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা।
কুরআন তিলাওয়াতের হালাকাতে অনর্থক কথা পরিহার করা, তবে কথা বলার কোন প্রয়োজন হলে ভিন্ন কথা, যেমন: সালামের জবাব দেওয়া, হাঁচির জবাব দেওয়া এবং মুয়াযযিনের জবাব দেওয়া ইত্যাদি।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (০১): আমি কুরআন তেলাওয়াতের আদবসমূহ প্রয়োগ করবো:
তুমি তোমার শিক্ষকের অধীনে তোমার সহপাঠীদের নিয়ে ছোট সূরাসমূহ তিলাওয়াতের একটি মজলিস তৈরী করে তিলাওয়াতের আদবসমূহ প্রয়োগ কর, আর যে এ ব্যাপারে কোন ভুল করবে, তার ভুল শুধরে দাও।
অনুশীলন (০২): আমি প্রস্তাব রাখছি:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কুরআনে পারদর্শী ব্যক্তি সম্মানিত আনুগত্যশীল দূত ফেরেশতাদের সাথে থাকবেন, আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং পড়তে বেধে বেধে যায় এবং এ কারণে তার উপরে কঠিন হয়ে যায়, তার জন্য দ্বিগুণ নেকী রয়েছে।” (সহীহ বুখারী: ২৮৫৬, সহীহ মুসলিম: ৩০)।
এ হাদীসটি প্রমাণ করে, কুরআন কারীম তিলাওয়াতকারী প্রতিটি ব্যক্তির জন্যই সওয়াব রয়েছে, কিন্তু এ হাদীসের আলোকে পারদর্শী ব্যক্তিরা অন্যদের থেকে মর্যাদায় সবথেকে উপরে। তুমি তোমার শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করে এমন কতিপয় পরামর্শ দাও, যা ভালোভাবে তাজভীদ শিখতে সহযোগিতা করবে, যেমন:
কুরআন তিলাওয়াতের হালাকাসমূহে যোগদান করা এবং মসজিদসমূহে যেয়ে কুরআন হিফয করা।
তাজভীদের বিধানসমূহ শিক্ষা করার ক্ষেত্রে কোন একজন পারদর্শী ও নির্ভরযোগ্য শাইখের সাথে সমঝোতা করা।
অ্যাপসমূহ (Apps) এবং ইলেক্ট্রোনিক কিরাআতের আসর থেকে সহযোগিতা নেওয়া।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
কুরআন তিলাওয়াত থেকে যিকির করা উত্তম।
সালামের উত্তর দেওয়ার জন্য মুসলিমের জন্য তিলাওয়াত বন্ধ করা জায়েয।
আমি অযু করব, পরিচ্ছন্ন কাপড় পরিধান করে কুরআন তিলাওয়াত করব।
কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব শুধুমাত্র এর (তিলাওয়াতের) বিধানে পারদর্শী ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট।
প্রশ্ন ২: নিচের হাদীসটি পূর্ণ কর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ তিলাওয়াত করে তার জন্য .............. আর প্রতিটি সওয়াব দশ ...................।”
প্রশ্ন ৩: কুরআন কারীম তিলাওয়াতের তিনটি আদব লেখ।
দ্বিতীয় পাঠ: মুসহাফ শরীফ ও তার সাথে আচরণ বিধি
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি কুরআন শরীফের পরিচয় তুলে ধরবে।
কুরআন শরীফকে সম্মান দেওয়ার বিধান বর্ণনা করবে।
কুরআন শরীফের সাথে আচরণের বিধিসমূহ বর্ণনা করবে।
কুরআন শরীফকে সম্মান করবে।
কোন ব্যক্তি কুরআন কে অসম্মান করলে, তাকে সতর্ক করবে।
মুসহাফের পরিচয়
কুরআন কারীম মহান আল্লাহ তা‘আলার বাণী।
আর মুসহাফ হচ্ছে এমন একটি কিতাব যা কুরআন কারীমকে শামেল করে।
মুসহাফে ১১৪টি সূরা রয়েছে।
যা সূরা আল-ফাতিহা দ্বারা শুরু হয়ে সূরা আন-নাস-এ যেয়ে সমাপ্ত হয়েছে।
মুসহাফকে সম্মান করা আবশ্যক
মুসহাফকে সম্মান জানানো প্রতিটি মুসলিমের ওপর ওয়াজিব; কেননা এতে আল্লাহ তা‘আলার কালাম রয়েছে। যে ব্যক্তি কুরআন কারীমকে সম্মান করল, সে আল্লাহ তা‘আলাকেই সম্মান করল। আর যে কুরআন কারীমকে ছোট মনে করল, সে আল্লাহ তা‘আলাকেই ছোট মনে করল।
যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক মুসহাফকে অসম্মান করল, সে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফুরী করল, যেমন: কেউ কুরআনকে নাপাক স্থানে নিক্ষেপ করল, পা দিয়ে আঘাত করল অথবা অনুরূপ যে কোন কাজ।
মুসহাফের সাথে আচরণ বিধিসমূহ
মুসহাফকে রক্ষা করা এবং পরিচ্ছন্ন রাখা।
সুন্দরভাবে ধরা এবং দেওয়া, তাই এটি মুসলিম ব্যক্তি যথাযথ গ্রহণ করবে আর ডান হাত দিয়ে আদান-প্রদান করবে।
মুসহাফের যত্ন নেওয়া ওয়াজিব, এবং নষ্ট হওয়ার দিকে ঠেলে না দেওয়া, যেমন: পানিতে রাখা অথবা ছোট বাচ্চাদের কাছে কুরআন রেখে দেওয়া।
পবিত্রতা ব্যতীত মুসহাফ স্পর্শ না করা, যেহেতু ঘটে যাওয়া অপবিত্রতা ও নাপাক অবস্থায় মুসহাফ স্পর্শ করা হারাম। এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لَا يَمَسُّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرٌ তথা: “পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউই কুরআনকে স্পর্শ করবে না।” (ইমাম মালিক বর্ণনা করেছেন: ৪৬৯)।
মুসহাফকে ওয়াশরুমে প্রবেশ না করানো, তবে তা হারানোর আশঙ্কা থাকলে ভিন্ন কথা। সুতরাং মুসহাফকে সুন্দর ভাবে ব্যাগে রেখে প্রবেশ করানো, অথবা অনুরূপ কিছু হলে তা বৈধ।
মুসহাফকে অসম্মান করা হারাম, এতে শামিল রয়েছে:
পায়ে লাগতে পারে এমনভাবে মাটিতে দীর্ঘসময় ফেলে রাখা।
মুসহাফ শরীফের উপরে ওঠা অথবা তাতে হেলান দেওয়া।
মুসহাফকে ছুঁড়ে ফেলা অথবা দূরে নিক্ষেপ করা।
মুসহাফের পাতায় মুসহাফের ক্ষেত্রে অনুপযোগী কোন কিছু লেখা অথবা আঁকা।
কোন কিছু পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে মুসহাফের পাতা ব্যবহার করা ইত্যাদি।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি চিন্তা করব এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হব:
তুমি যা শিখেছ, তার আলোকে নিচে উল্লেখিত মাসআলাগুলো নিয়ে চিন্তা কর ও তোমার অবস্থান নির্দিষ্ট কর, এরপরে মূলায়নের জন্য শিক্ষকের কাছে পেশ কর:
যখন মুসহাফের পাতাগুলি ব্যবহার অনুপযুক্ত হয়ে যাবে, তখন তা দাফন করা অথবা পুড়িয়ে ফেলা যাবে। (আমি একমত- আমি একমত নই)
দীনী বইপত্র ডাষ্টবিনে ফেলা হারাম। (আমি একমত-আমি একমত নই)
খাদ্যদ্রব্য কুরআনের আয়াত লেখা কাগজ দ্বারা ঢেকে রাখা মোড়ানো জায়েয আছে। (আমি একমত- আমি একমত নই)
অনুশীলন (২): আমি চিন্তা করে উত্তর দিব:
বর্তমানে কম্পিউটার ও মোবাইলে ইলেক্ট্রনিক মুসহাফ ব্যাপকতা লাভ করেছে, সুতরাং কাগজের মুসহাফের ন্যায় তা স্পর্শ করার আগে পবিত্রতাকে তুমি শর্তারোপ করবে কি?
এই লিঙ্কটি দেখ:
অনুশীলন (৩): আমি খুঁজে বের করে উত্তর দিব:
তোমার মুসহাফ সংক্রান্ত জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য তোমার সহপাঠীকে নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলি পূরণ করতে সহযোগিতা কর:
কুরআনের সবচেয়ে বড় সূরা হচ্ছে: সূরা ...................
সূরা ........... মুসহাফের মধ্যস্থানে রয়েছে, এটি জুমু‘আহর দিনে পাঠ করা মুস্তাহাব।
হিজরতের আগে নাযিল হওয়া সূরাসমূহকে ............ সূরা হিসেবে নামকরণ করা হয়।
হিজরতের পরে নাযিল হওয়া সূরাসমূহকে ............ সূরা হিসেবে নামকরণ করা হয়।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
মুসহাফের ছেঁড়া পাতাসমূহ পুড়িয়ে ফেলা জায়েয। (✓)
মুসহাফের উপরে কিছু না রাখা মুসহাফকে সম্মান জানানোর অন্তর্ভুক্ত। ✓
সূরা আল-বাকারা মুসহাফের প্রথম সূরা। (×)
ইলেক্ট্রনিক মুসহাফ স্পর্শ করতে পবিত্রতা শর্ত নয়। (✓)
দীনী কিতাবসমূহকে অসম্মান করা হারাম। (✓)
প্রশ্ন ২: নিচের হাদীসটি পূর্ণ কর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لَا يَمَسُّ الْقُرْآنَ إِلَّا ....... তথা: “............. ছাড়া কেউই কুরআনকে স্পর্শ করবে না।”
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
কুরআন কারীম ও মুসহাফ শরীফের মধ্যে পার্থক্য কী?
মুসহাফ শরীফকে অসম্মান করা হয় এমন তিনটি বিষয় উল্লেখ কর।
তৃতীয় পাঠ: আয়াতুল কুরসীর তাফসীর
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী ! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি সংক্ষিপ্তভাবে আয়াতুল কুরসীর তাফসীর করবে।
আয়াতুল কুরসীর ফযীলত ব্যাখ্যা করবে।
আয়াতুল কুরসী থেকে আল্লাহ তা‘আলার সিফাতসমূহ বের করবে।
আয়াতুল কুরসী থেকে প্রাপ্ত ফায়িদা উল্লেখ করবে।
আয়াতুল কুরসীর উপযুক্ত মর্যাদা দেবে।
আয়াতুল কুরসী
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ) “আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার রক্ষণা-বেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে , যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।” (আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৫৫)।
বর্ণনা ও তাফসীর:
আয়াতুল কুরসী হচ্ছে কুরআন কারীমের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত, এটি পাঠ করলে অনেক ফযীলত লাভ করা যায়। এটি মানুষকে শয়তান ও অকল্যাণ থেকে হেফাযত করে। নিচে এর অর্থ বর্ণনা করা হল:
ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ “আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই।” আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত সত্য কোন মাবূদ নেই।
ٱلۡحَيُّ “তিনি চিরঞ্জীব,” আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার শানেই প্রযোজ্য এমন পূর্ণাঙ্গ জীবন দ্বারা তিনি গুণান্বিত।
ٱلۡقَيُّومُۚ “সর্বসত্তার রক্ষণাবেক্ষণকারী।” যিনি তাঁর সৃষ্টিজগতের সকল বিষয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ “তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়।” তন্দ্রা অথবা ঘুম তার কাছে আসতে পারে না।
لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ “আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর।” প্রতিটি সৃষ্টিই তাঁর মালিকানাধীন এবং তাঁর পরিচালনাধীন।
مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦ، “কে সে, যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে?” কোন ব্যক্তিই অন্য কারো জন্য ক্ষমা চাইতে পারবে না, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ব্যতীত।
(يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ)، “তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন।” আল্লাহ তা‘আলার ইলম সমস্ত সময় ও স্থানের সমগ্র সৃষ্টিজগতের উপরে পরিব্যপ্ত।
(وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ)، “আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না।” আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারে না।
(وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ)، “তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে;” কুরসী হচ্ছে বৃহৎ একটি মাখলূক, যা আসমান ও যমীনসমূহকে পরিব্যপ্ত করে রেখেছে।
(وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ)، “আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না।” আসমান ও যমীন এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে সেগুলোর সংরক্ষণে আল্লাহ তা‘আলা অক্ষম নন।
(وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ)، “আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।” সত্তাগত এবং গুণগত দিক থেকে তিনি সমগ্র মাখলূক থেকে সুউচ্চ। তাঁর মালিকানা ও ক্ষমতায় তিনি সুমহান।
আয়াতে কারীমার কিছু শিক্ষনীয় বিষয়:
আয়াতুল কুরসী হচ্ছে ফযীলতের দিক থেকে কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সকল পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত আর যে কোন ধরণের কমতি অথবা ত্রুটি থেকে মুক্ত।
আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞান সর্বব্যাপি।
কুরসী হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার মাখলুকসমূহের মধ্য থেকে এক মহাসৃষ্টি।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি খুঁজে বের করব:
আয়াতুল কুরসী থেকে আল্লাহ তা‘আলার নিন্মোক্ত সিফাতের উপর ইঙ্গিতকারী শব্দাবলী খুঁজে বের কর:
সিফাত (গুণ) আয়াতুল কুরসী থেকে সে গুণের প্রতি ইঙ্গিতকারী শব্দ
আল্লাহ তা‘আলা সকল কিছু রক্ষণাবেক্ষণকারী।
আল্লাহ তা‘আলার ইলম সকল কিছুকে পরিব্যপ্ত করে রেখেছে।
কোন কিছুই আল্লাহ তা‘আলাকে অক্ষম করতে পারে না।
আল্লাহ তা‘আলা বিশ্রাম নেন না এবং কখনো ঘুমান না।
অনুশীলন (২): আমি নির্ধারণ এবং খুঁজে বের করব:
সালাতের পরে, ঘুমের আগে এবং সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী তিলাওয়াত করা মুস্তাহাব। সে আলোকে নিচে বর্ণিত হাদীসে আসা ওয়াক্তগুলো নির্ধারণ কর এবং এ সময়ে আয়াতুল কুরসী পাঠের সওয়াব বর্ণনা কর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ফরয সালাতের পরে আয়াতুল কুৃরসী তিলাওয়াত করবে, তাকে মৃত্যু ছাড়া কোন বস্তুই জান্নাতে প্রবেশে বাধা দেবে না।” (নাসায়ী আস-সুনানুল কুবরা গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদীস: ৯৮৪৮)।
পড়ার সময় হচ্ছে: .....................................
পড়ার সওয়াব হচ্ছে:......................................
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে প্রত্যেক সালাতে আয়াতুল কুরসী তিলাওয়াতের আদেশ করেছেন।
আল্লাহর তা‘আলার অনুমতি ছাড়া কারো শাফা‘আত গৃহিত হবে না।
আল্লাহ তা‘আলার ইলম শুধুমাত্র জিন ও মানুষের অবস্থার ব্যাপারে নির্দিষ্ট, অন্যদের ব্যাপারে নয়।
সালাতের পরে এবং ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসী পড়া সুন্নাত।
প্রশ্ন ২: আয়াতুল কুরসীর নিম্নোক্ত অংশগুলোর অর্থ লেখ:
(ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُ) “তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার রক্ষণাবেক্ষণকারী।”
لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ “তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়।”
(وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ)، “আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না।”
প্রশ্ন ৩: আয়াতুল কুরসী হচ্ছে কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত, ব্যাখ্যা কর।
চতুর্থ পাঠ: সূরা আত-তাকাছুর এবং আল-‘আসর-এর তাফসীর
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি আয়াতগুলোর সংক্ষিপ্ত তাফসীর করতে পারবে।
আয়াতসমূহের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করবে।
আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমাতসমূহের উপরে শুকরিয়া জ্ঞাপন করবে।
সূরা আত-তাকাছুর এবং সূরা আল-‘আসরের মর্যাদা বুঝতে পারবে।
সূরা আত-তাকাছুর
সূরা আত-তাকাছুর
“তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন রাখে প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা (১) যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও (২) কখনো নয়, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে, (৩) তারপর, কখনো নয়, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে: (৪) কখনো নয়! যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানে জ্ঞানী হতে, (৫) অবশ্যই তোমরা জাহান্নাম দেখবে; (৬)
তারপর অবশ্যই তোমরা তা দেখবে চাক্ষুষ প্রত্যয়ে। (৭) তারপর অবশ্যই সেদিন তোমাদেরকে নেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে। (৮)” (আত-তাকাছুর: ১-৮)
বর্ণনা ও তাফসীর:
আখিরাতের প্রতিদান এবং হিসাব বিমুখ হয়ে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়া থেকে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
“তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন রাখে প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা (১)” “যতক্ষণ না তোমরা কবরে উপনীত হও।” ধন-সম্পদ এবং সন্তান-সন্ততি নিয়ে গর্ব তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য থেকে বিমুখ করে রেখেছে।
“কখনো নয়, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে (৩)” “তারপর, কখনো নয়, তোমরা শীঘ্রই জানতে পারবে: (৪)” দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ততার পরিণাম কিয়ামাতের দিন অচিরেই জানতে পারবে। আর তোমরা জানতে পারবে যে, আখিরাতই তোমাদের জন্য উত্তম ও স্থায়ী ছিল।
“কখনো নয়! যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানে জ্ঞানী হতে (৫)” তোমরা যদি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করতে যে, আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই তোমাদের আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার এসব বিষয়ে হিসাব গ্রহণ করবে।*
“অবশ্যই তোমরা জাহান্নাম দেখবে; (৬)” “তারপর অবশ্যই তোমরা তা দেখবে চাক্ষুষ প্রত্যয়ে, (৭)” নিশ্চয় তোমরা কিয়ামাতের দিনে জাহান্নামকে সচক্ষে দেখবে আর তোমরা বারবার দেখতে থাকবে যাতে নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জিত হয়।
“তারপর অবশ্যই সেদিন তোমাদেরকে নি‘আমাত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে । (৮)” তারপরে তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে দুনিয়াতে যে সকল নি‘আমাত দিয়েছেন, তার প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন।
সূরা আল-‘আসর
“সময়ের শপথ, (১) নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মাঝে নিপতিত, (২) কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে আর পরস্পরকে হকের উপদেশ দিয়েছে এবং উপদেশ দিয়েছে ধৈর্যের। (৩)”
বর্ণনা ও তাফসীর:
এ সূরাটি আমাদেরকে এ জীবনের প্রকৃত লাভ ও ক্ষতির কথা বর্ণনা করছে। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন:
“সময়ের শপথ, (১)” আল্লাহ তা‘আলা আসরের সময় অথবা সকল সময়ের কসম করছেন।
“নিশ্চয় মানুষ ক্ষতির মাঝে নিপতিত , (২)” “কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে আর পরস্পরকে উপদেশ দিয়েছে হকের এবং উপদেশ দিয়েছে ধৈর্যের। (৩)” আল্লাহ তা‘আলা কসম করে জানাচ্ছেন যে, প্রতিটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থতার মধ্যে রয়েছে, তবে চার ধরনের গুণের লোকেরা ছাড়া, তারা হচ্ছে:
আল্লাহ তা‘আলার ওপর যারা ঈমান এনেছে।
যারা সৎকাজ করেছে।
যারা নিজেরা নিজেদের মধ্যে পরষ্পরকে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকার ব্যাপারে উপদেশ দিয়েছে। এখানে সত্য হচ্ছে দীন ইসলাম।
আর যারা নিজেরা পরষ্পরকে উপরোক্ত প্রতিটি বিষয়ের উপরেই সবরের উপদেশ দিয়েছে।
এ চারটি গুণে গুণান্বিত ব্যক্তিরাই আখিরাতে লাভবান হবেন।
আয়াতে কারীমা থেকে কিছু শিক্ষনীয় বিষয়:
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে কিয়ামাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন; যাতে করে তারা সৎকাজের মাধ্যমে তার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
কিয়ামাতের দিনে মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, আর নি‘আমাতের শুকরিয়া এবং নি‘আমাতকে আল্লাহর আনুগত্যের পথে ব্যবহার করা ছাড়া তাদেরকে কোন কিছুই মুক্তি দেবে না।
সেই জ্ঞানী যে আখিরাতের আযাব স্বচক্ষে দেখার আগেই আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করে।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির মধ্য হতে যে কোন বস্তুর কসম করতে পারেন, তবে কোন বান্দার জন্য আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারো নামে কসম করা বৈধ নয়।
প্রতিটি মানুষই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে, তবে যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার উপরে ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, সত্য ও কল্যাণের পতে আহবান করেছে এবং এর উপরে সবর করেছে, সে ব্যক্তি ছাড়া।
শিক্ষামূলক অনুশীলন
অনুশীলন (১): আমি সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করব:
ছাত্রদের কে দুইভাগে ভাগ করা হবে:
প্রথম দল এমন তিনটি দুনিয়াবী বিষয় নির্ধারণে আলোচনা করবে, যার দ্বারা অধিক প্রশংসা পাওয়া যায়।
দ্বিতীয় দল এমন তিনটি বিষয় নির্ধারণের আলোচনা করবে, যে বিষয়ে বেশি ভর্ৎসনা করা হয়।
তারপরে প্রতিটি দল যা লিখেছে মুল্যায়ণের জন্য তা শিক্ষকের কাছে উপস্থাপন করবে আর তিনি যা লিখা হয়েছে সে বিষয়গুলো নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করবেন।
অনুশীলন (২): আমি পড়ব এবং ব্যাখ্যা করব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ঐ বান্দাহর প্রতি সন্তুষ্ট, যে খাবার খায়, অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা করে অথবা পানি পান করে, অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা করে।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস: ২৭৩৪)
এ হাদীসের আলোকে আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমাতের ব্যাপারে আমাদের করণীয় সম্পর্কে ব্যাখ্যা কর।
অনুশীলন (৩): আমি আলোচনা করে ব্যাখ্যা করব:
সূরা আল-‘আসর সম্পর্কে ইমাম শাফিয়ী রহ. বলেছেন: “যদি মানুষ এ সূরাটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে , তবে তাই তাদের জন্য যথেষ্ট।”
তুমি শিক্ষকের সাথে সূরাতুল আসরের উক্ত ফযীলতের করণগুলো সম্পর্কে আলোচনা কর এবং সেই সাথে উক্ত সূরায় শামিলকৃত সৎআমল ও গুণাবলী উল্লেখ কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
মুসলিমের জন্য সব সময় ধন-সম্পদ সংগ্রহে ব্যস্ত থাকা জায়িয। (×)
নি‘আমাতসমূহের হিসাবের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা আবশ্যক। (✓)
মুসলিমের জন্য সময়ের কসম করা জায়িয; যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা সময়ের কসম করেছেন। (×)
ধন-সম্পদ একটি শাস্তি, যদি না সেটা কেউ হালালভাবে আয় করে এবং হালাল পথে ব্যয় করে। (✓)
প্রশ্ন ২: নিম্নলিখিত আয়াতসমূহের অর্থ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর:
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমাতের বিপরীতে আমাদের করণীয় কী?
তুমি সূরা আল-‘আসর এর তাফসীর থেকে যা উপকার পেয়েছ , তা ব্যাখ্যা কর।
পঞ্চম পাঠ: সূরা আল-হুমাযাহ এবং আল-ফীল এর তাফসীর
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি আয়াতগুলোর সংক্ষিপ্ত তাফসীর করবে।
আয়াতসমূহের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করবে।
তোমার পরিবারকে গীবত, চোগলখোরী বা অনুরূপ অপরাধ থেকে সতর্ক করবে।
তুমি মক্কা মুকাররামার মর্যাদা অনুধাবন করতে পারবে।
সূরা আল-হুমাযাহ
সূরা আল-হুমাযাহ
“দুর্ভোগ ও কঠিন আজাব প্রত্যেক ওই ব্যক্তির জন্য, যে লোকের খুব গিবত ও নিন্দা করে, (১) যে শুধু সম্পদ জমায় ও তা বার বার গণনা করে; (২)
সে ধারণা করে যে, তার অর্থ তাকে অমর করে রাখবে; (৩) কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামা জাহান্নামের আগুনে; (৪)
আর আপনাকে কিসে জানাবে হুতামা জাহান্নাম কী? (৫) এটা আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন, (৬) যা শরীর থেকে হৃদয়সমূহকে গ্ৰাস করবে; (৭)
বর্ণনা ও তাফসীর:
এ সূরাতে কঠোর সতর্কতা রয়েছে তাদের জন্য, যারা মুমিনদেরকে গাল-মন্দ করে এবং অহংকার প্রদর্শন করে। আল্লাহ তা আলা বলেনঃ
“দুর্ভোগ কঠিন আজাব প্রত্যেক সে ব্যক্তির জন্য, যে লোকের খুব গিবত ও নিন্দা করে।” (১) আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক সে ব্যক্তির জন্য কঠিন আজাবের হুশিয়ারী প্রদান করেন, যারা মানুষকে তার কাজের মাধ্যমে নিন্দা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে অথবা তাদের কথার মাধ্যমে নিন্দা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, যেমন: মুমিনদের গীবত করে এবং তাদের দীন অথবা সম্মানে আঘাত দেয়।
“যে শুধু সম্পদ জমায় ও তা বার বার গণনা করে;” (২) “সে ধারণা করে যে, তার অর্থ তাকে অমর করে রাখবে;” (৩) যে সম্পদ সংগ্রহ এবং তার হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকে আর চিন্তা করে যে, তার সম্পদ তাকে মৃত্যু এবং এর পরবর্তী হিসাব এবং প্রতিদান (শাস্তি) থেকে রক্ষা করবে।
“কখনও না, সে অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে হুতামা জাহান্নামে;” (৪) অথচ প্রকৃত ব্যাপার এ লোকের ধারণার মত নয়। তার সম্পদ তাকে আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে না। বরং অচিরেই তাকে এমন আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, যা প্রতিটি নিক্ষিপ্ত বস্তুকে ভেঙ্গেচুরে ফেলবে।
“আর আপনাকে কিসে জানাবে হুতামা জাহান্নাম কী?” (৫) “এটা আল্লাহর প্রজ্বলিত আগুন,” (৬) “যা হৃদয়কে গ্ৰাস করবে;” (৭) কি তোমাকে এ আগুনের প্রকৃতি সম্পর্কে অবহিত করবে? এটি আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক প্রজ্জলিত জ্বলন্ত অগ্নি, যার তীব্র শিখা দেহ থেকে অন্তরে প্রবেশ করে।
“নিশ্চয় এটা তাদেরকে সেখানেই পরিবেষ্টন করে রাখবে,” (৮) “দীর্ঘায়িত স্তম্ভসমূহে।” (৯) এ জাহান্নামের আগুনে তার অধিবাসীদের বদ্ধ করে রাখা হবে, তাদেরকে বেড়ী ও লম্বা শিকলে শৃঙ্খলিত করা হবে, এতে করে তারা সেখান থেকে বের হতে পারবে না।
সূরা আল-ফীল
“আপনি কি দেখেননি আপনার রব হাতিওয়ালাদের প্রতি কী করেছিলেন? (১) তিনি কি তাদের কৌশল ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে দেননি? (২)
যারা তাদের উপর শক্ত পোড়ামাটির কঙ্কর নিক্ষেপ করে। (৪) অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণ-সদৃশ করেন। (৫) (আল-ফীল: ১-৫)
বর্ণনা ও তাফসীর:
এ সূরাটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় কীভাবে হাতিওয়ালাদের থেকে পবিত্র ঘর (বাইতুল্লাহ)-কে রক্ষা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন:
“আপনি কি দেখেননি আপনার রব হাতিওয়ালাদের প্রতি কী করেছিলেন?” (১) আপনি কি জানেন না যে আল্লাহ তা‘আলা হাবশার আবরাহা এবং তার সেনাবাহিনীর সাথে কী আচরণ করেছিলেন, যখন তারা কা‘বাকে ধংস করার উদ্দেশ্যে হাতীতে সওয়ার হয়ে এসেছিল?
“তিনি কি তাদের কৌশল ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে দেননি?” (২) আল্লাহ তা‘আলা তারা যে সব মন্দ চক্রান্ত করেছিল সে গুলোকে বাতিল বা ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন, ফলত: তারা কা‘বাকে ধংস করতে সক্ষম হয়নি অথবা বাইতুল্লাহকে সম্মান করার থেকেও মানুষকে সরাতে পারেনি।
“আর তাদের বিরুদ্ধে তিনি ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি পাঠান।” (৩) এবং আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপরে দলে দলে একের পর এক পাখি পাঠিয়েছিলেন।
“যারা তাদের উপর শক্ত পোড়ামাটির কঙ্কর নিক্ষেপ করে।” (৪) তারা তাদের উপরে শক্ত মাটির কঙ্কর ছুড়ে মারছিল।
“অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণ-সদৃশ করেন।” (৫) সুতরাং তারা শুকনো ক্ষেতের এমন পাতার মত হয়ে গেল, যাকে পশুপ্রাণী খাওয়ার পর উগড়ে ফেলে দিয়েছে।
আয়াতে কারীমা থেকে কিছু শিক্ষনীয় বিষয়:
গীবত, চোগলখোরী এবং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা মানুষের মধ্যে ঘৃণার প্রসার ঘটায়।
গীবত, চোগলখোরী এবং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যতায় মগ্ন ব্যক্তির জন্য কঠিন আযাবের হুমকি রয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলার কাছে পবিত্র বাইতুল্লাহ মহা মর্যাদা।
যারা অহংকার করে এবং আল্লাহ তা‘আলার পবিত্রতা লঙ্ঘন করে তাদের ধ্বংস করার জন্য আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমতার বর্ণনা।
শিক্ষামূলক অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): যুক্ত করবো এবং ব্যাখ্যা করবো:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “হে ঈমানদারগণ ! কোন মুমিন সম্প্রদায় যেন অপর কোন মুমিন সম্প্রদায়কে উপহাস না করে; কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে এবং নারীরা যেন অন্য নারীদেরকে উপহাস না করে; কেননা যাদেরকে উপহাস করা হচ্ছে তারা উপহাসকারিণীদের চেয়ে উত্তম হতে পারে। আর তোমরা একে অন্যের প্ৰতি দোষারোপ করো না এবং তোমরা একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না; ঈমানের পর মন্দ নাম অতি নিকৃষ্ট। আর যারা তওবা করে না তারাই তো যালিম।” (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত : ১১)।
তোমার সহপাঠীদেরকে এ আয়াত তেলাওয়াতে অংশগ্রহণ করাও, এরপর নিচে উল্লেখিত বিষয়গুলোর বর্ণনা দেওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা কর:
মুমিন-মুমিনাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা থেকে নিষেধ করার কারণ কী?
যারা এসব কাজ করতেই থাকে অথচ এগুলো থেকে তাওবা করে না, তাদের হুকুম কী?
অনুশীলন (২): আমি খুঁজে বের করে উত্তর দিব:
আসহাবুল ফীল (হস্তিবাহিনীর ঘটনা) সম্পর্কে কোন একটি লেকচার অথবা চিত্রসহ ভিডিও ক্লিপ মনোযোগ দিয়ে দেখ, তারপরে নিচের প্রশ্নগুলোর জবাব দাও:
আবরাহা কে?
আবরাহা তার সৈন্যসহ মক্কায় আগমণের কারণ কী ছিল?
এ সৈন্য বাহিনীর ব্যাপারে মক্কার অধিবাসীদের অবস্থান কী ছিল?
উক্ত ঘটনায় আরবদের মাধে কুরাইশদের অবস্থান কেমন হয়েছিল?
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
হস্তিবাহিনীর ঘটনা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের কয়েক মাস আগে সংঘটিত হয়েছিল।
তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা এবং কারো নিন্দা করা মুমিনদের আখলাকের অন্তর্ভুক্ত নয়।
গীবত এবং চোগলখোরী সগীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন ২: নিন্মোক্ত আয়াতসমূহের অর্থ সংক্ষেপে লেখ:
“দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে লোকের পিছনে ও সামনে নিন্দা করে।” (১) “যে সম্পদ জমায় ও তা বার বার গণনা করে।” (২)
“যারা তাদের উপর শক্ত পোড়ামাটির কঙ্কর নিক্ষেপ করে। (৪) অতঃপর তিনি তাদেরকে ভক্ষিত তৃণ-সদৃশ করেন। (৫)”
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
তুমি পাঠ থেকে যেমন শিখেছ তার উপরে ভিত্তি করে হস্তিবাহিনীর ঘটনার সারমর্ম উল্লেখ কর।
যারা মানুষের সম্মানে আঘাত করে এবং তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে তাদের উদ্দেশ্যে নসীহতমূলক একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য পেশ করো।
ষষ্ঠ পাঠ: সূরা কুরাইশ এবং সূরা আল-মা‘ঊন এর তাফসীর
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি আয়াতগুলোর সংক্ষেপে তাফসীর করবে।
তুমি কুরাইশদের উপরে আল্লাহর দেওয়া নি‘আমাতের বিপরীতে তাদের অবস্থান বর্ণনা করবে।
আয়াতসমূহের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করবে।
আখিরাত সম্পর্কে মিথ্যাচারকারী এবং গাফেলদের বৈশিষ্ট্য থেকে দূরে থাকবে।
সূরা কুরাইশ
অতএব, তারা ‘ইবাদাত করুক এ ঘরের রবের, (৩) যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় খাদ্য দিয়েছেন এবং ভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন। (৪)”
বর্ণনা ও তাফসীর:
এই সূরাটি মক্কাবাসীদের উপর আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহের পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা প্রদান করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
কুরাইশের আসক্তির কারণে, (১) তাদের আসক্তি আছে শীত ও গ্রীষ্মে সফরের, (২) গ্রীষ্মকালে শামে এবং শীতকালে ইয়ামেনে বাণিজ্যিক সফরের প্রতি কুরাইশদের ভালবাসা এবং তাদের অভ্যাসের কারণে।
অতএব, তারা একমাত্র ইবাদাত করুক এ ঘরের রবের, (৩) সুতরাং তাদের উপর আবশ্যক যে, তারা এ পবিত্র বাইতুল্লাহর রব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করবে, যিনি তাদের জন্য উক্ত সফরগুলো সহজ করে থাকেন।
যিনি তাদেরকে ক্ষুধায় খাদ্য দিয়েছেন এবং ভীতি থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন। (৪) যিনি তাদেরকে তাদের শহরে রিযিক এবং নিরাপত্তা দান করেছেন।
সূরা আল-মা‘ঊন
“আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে দ্বীনকে অস্বীকার করে? (১) সে তো ঐ ব্যক্তি, যে ইয়াতীমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। (২)
আর মিসকীনকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না, (৩) কাজেই দুর্ভোগ সে সালাত আদায়কারীদের, (৪)
যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে, (৬) এবং সামান্য উপকারী বস্ত প্ৰদান করা থেকে বিরত থাকে। (৭)” (সূরা আল-মা‘ঊন: ১-৭)।
বর্ণনা ও তাফসীর:
এ সূরাটি আখিরাতে অবিশ্বাসীদের চরিত্র সম্পর্কে বর্ণনা দিচ্ছে, যাতে আমরা সেগুলো থেকে সতর্ক থাকতে পারি এবং ঐ কাজগুলো করা থেকে বিরত থাকি। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে দ্বীনকে অস্বীকার করে? (১) আপনি কি ঐ ব্যক্তির অবস্থা সম্পর্কে জানেন, যে ব্যক্তি পুনরুত্থান এবং কিয়ামাতের প্রতিদানকে অস্বীকার করে?
সে তো ঐ ব্যক্তি, যে ইয়াতীমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়। (২) সে ইয়াতিমকে কঠোরভাবে বিতাড়িত করে এবং অপমান করে।
আর মিসকীনকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না, (৩) মিসকীনকে খাবার দেওয়ার আদেশও দেয় না আবার এ ব্যাপারে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতাও করে না।
কাজেই দুর্ভোগ সে সালাত আদায়কারীদের, (৪) যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন, (৫) সুতরাং কঠিন শাস্তি রয়েছে তাদের জন্য, যারা তাদের নামাজে অবহেলা করে এবং সময়মত তা কায়েম (আদায়) করে না।
যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে। (৬) যারা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে মানুষের সামনে তাদের নেককাজগুলো প্রকাশ করে।
এবং সামান্য উপকারী বস্ত প্ৰদান করা থেকে বিরত থাকে। (৭) তারা মানুষের উপকার করা থেকে বিরত থাকে এবং তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এবং অন্যান্য জিনিস ধার দেয় না। এমনকি তারা তাদের রবের ইবাদতও সুন্দরভাবে করেনি আবার তাঁর সৃষ্টির প্রতিও সুন্দর ব্যবহার করেনি।
আয়াতে কারীমাগুলো থেকে কিছু শিক্ষনীয় বিষয়:
নিরাপত্তা এবং খাদ্য-পানীয়ের পর্যাপ্ততা আমাদের উপরে আল্লাহ তা‘আলার সর্বোত্তম নি‘আমাতগুলোর মধ্যে অন্যতম।
নি‘আমাতসমূহ স্থায়ী হয় আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করার মাধ্যমে। আর এ নি‘আমাত চলে যায় এর অস্বীকৃতি এবং অকৃতজ্ঞতার কারণে।
যারা আখিরাতকে অস্বীকার করে এবং আখিরাতের ব্যাপারে গাফিলতি করে তারা আল্লাহ তা‘আলার হক আদায় করে না আবার বান্দার হকও আদায় করে না। তারা মানুষের কল্যাণে বাধা দেয় এবং এতিম ও দুর্বলদের সম্মান করে না।
কোন ওযর ছাড়া সালাত ত্যাগ করা অথবা বিলম্বে আদায় করা এবং রিয়ার ভয়াবহতা।
শিক্ষামূলক অনুশীলন
অনুশীলন (১): আমি লক্ষ করব এবং ব্যাখ্যা করব:
বিপরীত দিকের মানচিত্র দেখ; যাতে করে কুরাইশদের বাণিজ্যিক সফরের অবস্থান জানতে পার।
উক্ত নি‘আমাতের বিপরীতে কুরাইশদের অবস্থান ব্যাখ্যা কর।
অনুশীলন (২): আমি পার্থক্য করব:
তালিকার চাহিদা অনুসারে সূরা আল মা‘ঊনের ঐ আয়াতগুলি লেখ, যেগুলো অস্বীকারকারীদের অবস্থার বর্ণনা করে।
ইয়াতিমদের সাথে তাদের ব্যবহার: “সে তো ঐ ব্যক্তি, যে ইয়াতীমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয়।”
মিসকীনদের সাথে তাদের ব্যবহার: “আর মিসকীনকে অন্নদানে উৎসাহিত করত না, (৩)”
সালাতের ক্ষেত্রে তাদের আচরণ: “কাজেই দুর্ভোগ সে সালাত আদায়কারীদের, (৪)” “যারা তাদের সালাত সম্বন্ধে উদাসীন, (৫)”
ইখলাসের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থা: “যারা লোক দেখানোর জন্য তা করে, (৬)”
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
মক্কা এবং মক্কার অধিবাসীদের ইসলাম আসার পূর্বেও সম্মানজনক অবস্থান ছিল।
আখিরাতের উপরে ঈমান একজন মুমিনকে দুর্বলদের প্রতি অনুগ্রহ করতে অনুপ্রাণিত করে।
সালাত ত্যাগ করা প্রকৃত বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক নয়।
রিয়া আমল ধংস করে এবং আখিরাতে আযাবের পথ খুলে দেয়।
প্রশ্ন ২: নিন্মোক্ত আয়াতসমূহের অর্থ সংক্ষেপে লেখ:
( ٱلَّذِينَ هُمۡ يُرَآءُونَ ٦ “-----------------------------------------------, (৬)” وَيَمۡنَعُونَ ٱلۡمَاعُونَ ٧). “---------------------------------------------। (৭)”
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
কুরাইশদের উপরে আল্লাহর নি‘আমাতসমূহের বর্ণনা দাও, সেই সাথে উক্ত নি‘আমাতসমূহে বিপরীতে তাদের অবস্থান র্বণনা কর।
সূরা আল-মা‘ঊনে বর্ণিত আখিরাতে অবিশ্বাসীদের আমলসমূহের বর্ণনা দাও।
ঈমান ও আত্মশুদ্ধির ক্ষেত্রসমূহ
প্রথম পাঠ: তাওহীদের ফযীলত ও মর্যাদা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তাওহীদের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করবে।
তাওহীদের ফযীলত বর্ণনা করবে।
তাওহীদের মর্যাদাকে খুব গুরুত্ব দিবে।
মানুষকে আল্লাহর তাওহীদের দিকে দাও‘আত দিবে।
আত-তাওহীদ:
তাওহীদের পরিচয়
ফযীলত ও মর্যদাঃ
আল্লাহ তা‘আলার হক
সকল সৃষ্টি ও রাসূলগণ কে প্রেরণের উদ্দেশ্য
আমল কবূলের শর্ত
গুণাহ এবং ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা
বান্দার উপরে প্রথম ফরজ হল তাওহীদ। আর এ তাওহীদের জন্যই আল্লাহ তা‘আলা রাসূলদের প্রেরণ করেছেন, কিতাব নাযিল করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতকে প্রস্তুত করেছেন তাওহীদপন্থীদের পুরষ্কার হিসেবে এবং জাহান্নামকে প্রস্তুত করেছেন মুশরিকদের শাস্তি স্বরূপ।
সুতরাং তাওহীদের উদ্দেশ্য কী? এর ফযীলত ও গুরুত্ব কী?
এগুলোই আমরা এ পাঠের মাধ্যমে শিখব।
প্রথমত: তাওহীদের পরিচয়:
তাওহীদ হচ্ছে:আল্লাহ তাআলার জন্য যা নির্ধারিত অর্থাৎ রুবুবিয়্যাত, উলূহিয়্যাত এবং আসমা ওয়াস সিফাতের ক্ষেত্রে তাঁকে একক সাব্যস্ত করা।
সুতরাং একজন মুসলিম অবশ্যই বিশ্বাস করবে যে, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কোন সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা এবং কোন পরিচালনাকারী নেই। আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবূদ নেই। আল্লাহ তা‘আলা সকল পূর্ণতার গুণে গুণাণ্বিত, সকল ধরণের ত্রুটি-বিচ্যুতি হতে পবিত্র। একমাত্র তাঁরই রয়েছে সুন্দর নামসমূহ এবং সুউচ্চ গুণাবলী।
দ্বিতীয়ত: তাওহীদের ফযীলত এবং গুরুত্বঃ
তাওহীদের মহা ফযীলত ও বড় গুরুত্ব রয়েছে। নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দ্বারা আমরা তা জানতে পারব:
তাওহীদ হচ্ছে বান্দার ওপর আল্লাহর হক:
মু‘আয ইবনু জাবাল রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন: আমাকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে মু‘আয! তুমি কি জানো আল্লাহর হক কী তাঁর বান্দাদের উপর ? এবং আল্লাহর উপরে বান্দাদের হক কী? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। তিনি বললেন: “বান্দাদের উপর আল্লাহর হক হল, তারা একমাত্র তাঁর ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না এবং আল্লাহর উপর তাঁর বান্দাদের হক হল, তাঁর সাথে যে ব্যক্তি কাউকে শরীক করে না, তিনি তাকে শাস্তি দেবেন না।” (এটি সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন: ২৮৫৬ ও এবং সহীহ মুসলিম বর্ণনা করেছেন: ৩০)।
তাওহীদই হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য, যে উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমারই ইবাদাত করবে।” (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬)।
তাওহীদের দাও‘আত দেওয়াই সমস্ত রাসূল প্রেরণের উদ্দেশ্য:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আর আপনার পূর্বে আমরা যে রাসূলই প্রেরণ করেছি তার কাছে এ ওহী পাঠিয়েছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন সত্য মাবূদ নেই, সুতরাং তোমরা আমরাই ইবাদাত কর।” (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৫)।
তাওহীদ আমল কবূলের একটি শর্ত:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আর যারা মুমিন হয়ে আখিরাতের কামনা করে এবং আখিরাতের জন্য যথাযথ চেষ্টা করে তাদের প্রচেষ্টা পুরস্কারযোগ্য।” (সূরা আল-ইসরা, আয়াত : ১৯)।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জানিয়েছেন যে, শিরক আমলকে বিনষ্টকারী। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আর আপনার প্রতি ও আপনার পুর্ববর্তীদের প্রতি অবশ্যই ওহী করা হয়েছে যে, 'যদি আপনি শির্ক করেন তবে আপনার সমস্ত আমল তো নিষ্ফল হবে এবং অবশ্যই আপনি হবেন ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” (আয-যুমার, আয়াত : ৬৫)।
তাওহীদ গুনাহের কাফফারার একটি কারণ:
হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, ‘‘হে আদম সন্তান, তুমি দুনিয়া ভর্তি গুনাহ নিয়ে যদি আমার কাছে হাজির হও, আর আমার সাথে কাউকে শরিক না করা অবস্থায় তুমি আমার সাথে সাক্ষাত করো, তাহলে আমি দুনিয়া পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার দিকে এগিয়ে আসবো।” (এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন: ৩৫৪০)।
এ ছাড়াও তাওহীদের গুরুত্ব ও ফযীলতের ব্যাপারে অসংখ্য দলীল রয়েছে। এখান থেকে আমাদের উপর আবশ্যক যে, আমরা শিরক ও রিয়া ইত্যাদি তাওহীদ ধংসকারী বিষয় থেকে তাওহীদ সংরক্ষণে সচেষ্ট থাকব; যাতে আমরা দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যবান হয়ে সফলতা অর্জন করতে পারি।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি ভেবে-চিন্তে বাছাই করব:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয বিন জাবাল রদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বলেছেন: “তুমি আহলে কিতাবদের একটি কওমের কাছে যাচ্ছ, সুতরাং প্রথম যে বিষয়ে তুমি তাদেরকে দাও‘আত দিবে তা হচ্ছে: তারা যেন আল্লাহ তা‘আলারই তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করে.....।” (এটি সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন:৭৩৭২)।
এ হাদীসটি তাওহীদের গুরুত্ব প্রমান করে, আর তা এ কারণে (সঠিক উত্তরটি বাছাই কর):
গুণাহ মিটিয়ে দেয়।
তাই প্রথম যার প্রতি আমরা মানুষকে দাও‘আত দেব।
আমল কবূলের একটি শর্ত।
অনুশীলন (২): আমি বর্ণনা করব:
তাওহীদের ফযীলত সম্পর্কে তিন লাইন লিখো, সেই সাথে আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণী দ্বারা দলীল পেশ কর: “নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে কৃত শিরককে ক্ষমা করবেন না, আর তার নিম্নে যা কিছু যার জন্য ইচ্ছা তিনি ক্ষমা করে দিবেন।” (আন-নিসা: ৪৮)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শিরক না করে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছু কে শিরক করা অবস্থায় মারা যাবে, সে (জাহান্নামের) আগুনে প্রবেশ করবে।” (মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: ৯৩)।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত আর কেউই ইবাদাতের উপযুক্ত নয়।
মানুষেরা দুনিয়া উপভোগ করবে, এটাই মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য।
আল্লাহ তা‘আলা মুমিন এবং কাফির সবার থেকেই সদকাকে গ্রহণ করবেন।
প্রশ্ন ২: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখো:
সালাত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ হক।
মানুষকে প্রতিপালন ও বিভিন্ন পেশা শিক্ষা দেওয়ার জন্য আল্লাহ তা‘আলা নবীদের প্রেরণ করেছেন।
কিয়ামাতের দিনে আল্লাহ তা‘আলা সকল মানুষকে ক্ষমা করে দিবেন।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
তাওহীদের সংজ্ঞা লেখ।
তাওহীদ জান্নাতে প্রবেশ করার কারণ, এ ব্যাপারে একটি দলীল লেখ।
দ্বিতীয় পাঠ: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত(কর্মসমূহে একক সাব্যস্তকরন)
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত(কর্মসমূহে একক সাব্যস্তকরন)এর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করবে।
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাতের উপরে দলীল পেশ করবে।
আল্লাহ তা‘আলার জন্যই নির্ধারিত এমন তিনটি কর্মের বর্ণনা দিবে।
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাতের বিরোধী এমন বিষয়ের উদাহরণ দিবে।
রুবুবিয়্যাত ক্ষেত্রে শিরকের ভয়াবহতা অনুধাবন করতে পারবে।
হিকমাতের সাথে তুমি রুবুবিয়্যাতের শিরককে মোকাবিলা করতে পারবে।
ভূমিকা:
জেনে রেখ -আল্লাহ তোমাকে সঠিক পথ প্রদর্শণ করুন- তাওহীদ তিন প্রকার: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত(আল্লাহর কর্মসমূহে একক সাব্যস্তকরন), তাওহীদুল উলূহিয়্যাত(ইবাদতসমূহে একক সাব্যস্তকরন) এবং তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত(নামসমূহ ও গুণাবলীতে একক সাব্যস্তকরন)। তবে এ পাঠে (তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত-আল্লাহর কর্মসমূহে একক সাব্যস্তকরন) এর আলোচনা রয়েছে:
যেমন (উপরের দিকে শাহাদত আঙ্গুল উঠানোর ছবি) তাওহীদের ঈশারা
তাওহীদের(আল্লাহর একত্তের) প্রকারভেদ:
রুবুবিয়্যাত(আল্লাহর কর্মসমূহে একক সাব্যস্তকরন)
উলূহিয়্যাত(ইবাদতসমূহে একক সাব্যস্তকরন)
আসমা ওয়াস সিফাত(নামসমূহ ও গুণাবলীতে একক সাব্যস্তকরন)
প্রথমত: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাতের পরিচয়:
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার সাথে খাস কর্মসমূহে তাঁকে একক সাব্যস্ত করা। যেমন: সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া এবং পরিচালনা করা ইত্যাদি।
এর ব্যাখ্যা হলোঃ এ ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা‘আলাই সব কিছুর রব, মালিক, সৃষ্টিকর্তা এবং রিযিকদাতা। প্রতিটি সৃষ্টিই তাঁর রাজত্ব, প্রভাব,ক্ষমতা ও পরিচালনার অধীন।
দ্বিতীয়ত: রুবুবিয়্যাতের উপরে ঈমান বাস্তবায়নের পদ্ধতি:
রুবুবিয়্যাতের উপরে ঈমান বাস্তবায়নে অবশ্যই দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা‘আলার জন্যই নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নির্দিষ্ট:
সৃষ্টি করা এবং রিযিক দেওয়া:
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কোন প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা এবং কোন রিযিকদাতা নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আল্লাহই সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা।” (আয-যুমার, আয়াত: ৬২)।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “যমীনের উপরে এমন কোন প্রাণী নেই, যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহর উপরে নেই।” (সূরা হুদ, আয়াত: ০৬)।
মালিকানা (রাজত্ব) এবং পরিচালনা:
বিশ্বজগতের প্রতিটি বস্তুর মালিক এবং পরিচালক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “একমাত্র আল্লাহই তোমাদের রব, রাজত্ব শুধুমাত্র তাঁরই।” (সূরা ফাত্বির: ১৩)। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “সব কিছু তিনিই পরিচালনা করেন।” (সূরা আর-র‘দ, আয়াত: ০২)।
সকল উপকার এবং ক্ষতি:
আল্লাহ তা‘আলাই নিরঙকুশ যত উপকার ও ক্ষতির মালিক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: “আর এ কথা জেনে রেখো যে, যদি সমগ্র উম্মত তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার পক্ষে (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার বিপক্ষে (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন।’’ (এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন: ২৫১৬)।
সকল জীবন ও মৃত্যুদান:
এ দুটি বিষয় একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার হাতে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আর একমাত্র আল্লাহই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দান করেন।” (সূরা আলে-ইমরান: ১৫৬)।
তৃতীয়ত: কতিপয় তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত বিরোধী কর্মকাণ্ড:
আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্ব অস্বীকার করা:
যেমন: নাস্তিকরা, যারা আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্ব অস্বীকার করে, এবং তারা দাবী করে যে সৃষ্টিজগত এমনিতেই সৃষ্টি হয়েছে।
ইলমুল গায়েবের দাবী করা:
সুতরাং যে ব্যক্তি গায়েব জানে বলে দাবী করে -যেমন গণক ও ভবিষ্যদ্বক্তা- সে আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফুরী করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “বলুন! আল্লাহ ছাড়া আসমানসমূহ ও যমীনে বিদ্যমান কেউ গায়েব জানে না।” (আন-নামল, আয়াত: ৬৫)।
আল্লাহ তা‘আলা ছাড়াও অন্য কেউ সৃষ্টিজগত পরিচালনা করে অথবা রিযিকের ব্যবস্থা করেন বলে দাবী করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি পড়ে জবাব দেব:
একটি মুসহাফ নাও, এরপরে সূরা আল-বাকারার ২৫৮ নং আয়াতটি লিখ, তারপরে নিচের প্রশ্নগুলির জবাব দাও:
বাদশাহ রুবুবিয়্যাতের কোন ধরণটির দাবী করেছিল?
নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম কীভাবে বাদশাহর বিরুদ্ধে প্রমাণ উপস্থাপন করেছিলেন?
তুমি এ অবস্থান থেকে কী শিক্ষা গ্রহণ করলে?
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: أَلَمۡ تَرَ إِلَى ٱلَّذِي حَآجَّ إِبۡرَٰهِۧمَ فِي رَبِّهِۦٓ أَنۡ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُ ٱلۡمُلۡكَ إِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِۧمُ رَبِّيَ ٱلَّذِي يُحۡيِۦ وَيُمِيتُ قَالَ أَنَا۠ أُحۡيِۦ وَأُمِيتُۖ قَالَ إِبۡرَٰهِۧمُ فَإِنَّ ٱللَّهَ يَأۡتِي بِٱلشَّمۡسِ مِنَ ٱلۡمَشۡرِقِ فَأۡتِ بِهَا مِنَ ٱلۡمَغۡرِبِ فَبُهِتَ ٱلَّذِي كَفَرَۗ وَٱللَّهُ لَا يَهۡدِي ٱلۡقَوۡمَ ٱلظَّٰلِمِينَ তথা: “আপনি কি ঐ ব্যক্তিকে দেখেননি , যে ইব্রাহীমের সাথে তাঁর রব সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল, যেহেতু আল্লাহ্ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন। যখন ইব্রাহীম বললেন: ‘আমার রব তিনিই যিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান, সে বলল: ‘আমিও তো জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই।‘ ইব্রাহীম বললেন: ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সূর্যকে পূর্ব দিক থেকে উদিত করেন, তুমি তাকে পশ্চিম দিক থেকে উদিত কর। তখন যে ব্যক্তি কুফরী করেছিল সে হতবুদ্ধি হয়ে গেল। আর আল্লাহ্ যালিম সম্প্রয়ায়কে হিদায়াত দেন না।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৮)।
বাদশাহর নাম: নমরুদ ইবনু কিন‘আন। সে জীবন দান ও মৃত্যু প্রদানের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার সাথে বিতর্ক করেছিল। তখন নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তার বিরুদ্ধে সূর্যকে অস্তাচল থেকে উদয় করার কথা বলে প্রমাণ উপস্থিত করেন।
অনুশীলন(২): আমি প্রত্যক্ষ করব এবং জবাব দেব:
রিযিক এমন একটি চাহিদা, যার প্রতি মানুষের ব্যস্ততা থাকবেই। ইতোমধ্যেই তুমি জানতে পেরেছ যে, আল্লাহ তা‘আলাই একমাত্র রিযিকদাতা, তাহলে আমরা তাঁর কাছ থেকে কিভাবে রিযিক অন্বেষণ করতে পারি?
তোমার সহপাঠীদের সাথে আলোচনা কর যে, কিভাবে রিযিক পাওয়া যায়, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: দু‘আ করা এবং আল্লাহর উপরে তাওয়াক্কুল করা।
অনুশীলন (৩): আমি পর্যবেক্ষন করে মূল্যায়ন করব:
রুবুবিয়্যাতের মধ্যে অনেক ধরণের শিরক রয়েছে। তোমার পরিবেশে নিম্নোক্ত কোন ধরণের শিরক বিদ্যমান রয়েছে? তুমি কিভাবে হিকমতের সাথে তার মোকাবিলা করবে?
এ বিশ্বাস রাখা যে, মানুষের জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে আল্লাহর অলী এবং নেককার ব্যক্তিদের ক্ষমতা রয়েছে।
জীনদেরকে ভয় পাওয়া, তাদের কাছে বিপদ উদ্ধারে সাহায্য চাওয়া এবং তাদের উদ্দেশ্যে কুরবানী করা।
ভাগ্য গণনা করা এবং গায়েব জানার দাবী করা।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্মের সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
নমরুদ মৃত্যু ব্যক্তিকে জীবন দান করে তার ক্ষমতার প্রমাণ পেশ করেছিল। (×)
ডাক্তারগণ রোগীদেরকে রোগ থেকে সুস্থ করে থাকেন। (×)
নাস্তিকতা তাওহীদুর রুবুবিয়্যাতের বিরোধী। (✓)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলাকে একক গণ্য করা:
(আনুগত্যের ক্ষেত্রে - ইবাদাতের ক্ষেত্রে - কর্মসমূহের ক্ষেত্রে)
মুমিন তার রিযিকের ব্যাপারে ভরসা করবেঃ
(পিতামাতার উপরে- একমাত্র আল্লাহর উপরে- কাজের পরিচালকের উপরে)
কতিপয় তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত বিরোধী কর্মকাণ্ড:
(গায়েব জানার দাবী করা -মৃত্যু ব্যক্তিদের দেখতে যাওয়া - নেককারদের অসীলা তথা মধ্যস্থতা গ্রহণ করা)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত কথাগুলোর পক্ষে দলীল পেশ করো:
উপকার ও ক্ষতি একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার হাতে।
ইলমুল গায়েবের দাবী করা হারাম।
তৃতীয় পাঠ: তাওহীদুল ইবাদাহ (ইবাদতসমূহে একক সাব্যস্তকরন)
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি তাওহীদুল ইবাদাহর (ইবাদতসমূহে একক সাব্যস্তকরন) উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করবে।
তাওহীদুল ইবাদাহর উপরে দলীল দিবে।
ইবাদাতসমূহের বিভন্ন প্রকার উল্লেখ করবে।
তাওহীদুল ইবাদাহর বিপরীত বিষয়ের উদাহরণ দিবে।
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত ও তাওহীদুল ইবাদাহর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করবে।
তাওহীদুল ইবাদাহর শিরকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অনুধাবন করতে পারবে।
হিকমাতের সাথে তাওহীদুল ইবাদাহর শিরকের ধরনগুলোর মোকাবিলা করবে।
ভূমিকা:
আল্লাহ তা‘আলাই সৃষ্টিকর্তা এবং রিযিকদাতা স্বীকার করা সত্ত্বেও আরবের লোকেরা মূর্তিপুজা করত। তাহলে তাদের কুফুরীর কারণ কী?
এটাই আমরা এ পাঠের মধ্য দিয়ে শিখতে পারবে।
তাওহীদের প্রকারভেদ:
রুবুবিয়্যাত-কর্মসমূহের একত্ব
উলূহিয়্যাত-ইবাদতসমূহের একত্ব
আসমা ওয়াস সিফাত (নাম ও গুণাবলীর একত্ব)
প্রথমত: তাওহীদুল ইবাদাহ- এর পরিচয়:
তাওহীদুল ইবাদাহ হলোঃ সকল প্রকার ইবাদাতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলাকে একক সাব্যস্ত করা।
অর্থ্যাৎ: এ ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা‘আলাই সকল প্রকার ইবাদাত প্রাপ্তির একমাত্র উপযুক্ত সত্তা। আর আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য যে কোন ধরণের ইবাদাত করা শিরক। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: قُلۡ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحۡيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ তথা: “বলুন, ‘আমার সালাত, আমার কুরবানী, আমার জীবন ও আমার মরণ সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহরই জন্য।” (সূরা আল-আনআম:১৬২)।
ইবাদাতের অনেকগুলো প্রকার রয়েছে, যার কোন একটিও আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে করা বৈধ নয়। যার মধ্যে অন্যতম হলোঃ
অন্তরের ইবাদাত, যেমন: ভয়, আশা, তাওয়াক্কুল, মনে মনে সাহায্য চাওয়া ইত্যাদি।
কথার ইবাদাত, যেমন: দু‘আ করা, যিকির করা, তাসবীহ পড়া এবং কুরআন পাঠ করা।
শারীরিক ইবাদাত, যেমন: সালাত আদায় করা, সিয়াম পালন করা, হজ্জ করা, জিহাদ করা এবং আরো অন্যান্য।
দ্বিতীয়ত: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত(কর্মসমূহের তাওহীদ) ও তাওহীদুল ইবাদাহ(ইবাদাতসমূহের তাওহীদ)এর মধ্যে সম্পর্ক:
নিন্মের বিষয়গুলোর মধ্য দিয়ে তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত এবং তাওহীদুল ইবাদাহর মধ্যকার সম্পর্ক বোঝা যাবে:
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত তাওহীদুল ইবাদাহ কে আবশ্যক করে:
সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার রুবুবিয়্যাতের স্বীকৃতি প্রদান করে, তার উপরে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে; কেননা যিনি রব, সৃষ্টিকর্তা, মালিক এবং পরিচালনাকারী, তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করা যায় না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ ٱعۡبُدُواْ رَبَّكُمُ ٱلَّذِي خَلَقَكُمۡ وَٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ তথা: “হে মানুষ! তোমরা তোমাদের একমাত্র সেই রব এর ‘ইবাদাত করো যিনি তোমাদেরকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হও।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১)।
শুধু রুবুবিয়্যাতের স্বীকৃতি দেওয়া, তাওহীদুল ইবাদাতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হয় নাঃ
যে ব্যক্তি তাওহীদুর রুবুবিয়্যাতে স্বীকৃতি দেয়, কিন্তু সেই সাথে আল্লাহ ছাড়া আবার অন্য কারো ইবাদাত করে(যেমন,কারো কাছে প্রার্থনা করে), সে ব্যক্তিকে উক্ত রুবুবিয়্যাতের স্বীকৃতি কোন উপকার করবে না যতক্ষণ না তার সমস্ত ইবাদাত আল্লাহ তা‘আলার জন্য না হবে।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুশরিকদেরকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: আসমান-যমীন কে সৃষ্টি করেছেন এবং চাঁদ-সূর্যকে কে বশীভূত করেছেন? তখন তারা জবাব দিয়েছিল: আল্লাহ। কিন্তু এরপরেও তারা কাফির হয়েছিল; কারণ তারা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্যদেরও ইবাদাত পালন করত, এবং আল্লাহর সাথে অন্যদেরও ইবাদাত করত। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَلَئِن سَأَلۡتَهُم مَّنۡ خَلَقَ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَ وَسَخَّرَ ٱلشَّمۡسَ وَٱلۡقَمَرَ لَيَقُولُنَّ ٱللَّهُۖ فَأَنَّىٰ يُؤۡفَكُونَ তথা: “আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন , 'কে আসমানসমূহ ও যমীনকে সৃষ্টি করেছেন এবং চন্দ্র-সূর্যকে নিয়ন্ত্রিত করেছেন?' তারা অবশ্যই বলবে, 'আল্লাহ্'। তাহলে কোথায় তাদের ফিরানো হচ্ছে !” (সূরা আল-‘আনকাবূত: ৬১)।
তৃতীয়ত: কতিপয় তাওহীদুল ইবাদাহ বিরোধী কর্মসমূহঃ
আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো ইবাদাত করা, যেমন: মূর্তি, গরু, ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালাম ইত্যাদি।
আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো কাছে দু‘আ করা, যেমন: সুস্থতা, রিযিক প্রাপ্তি অথবা অনুরূপ কিছুর জন্য কবরে শায়িত মৃত্যু ব্যক্তির কাছে দু‘আ বা আহবান করা।
আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে মানত অথবা যবাই করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি অন্যকে সাহায্য করব এবং খুঁজে বের করব:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَا خَلَقۡتُ ٱلۡجِنَّ وَٱلۡإِنسَ إِلَّا لِيَعۡبُدُونِ তথা: “আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমারই ইবাদাত করবে।” (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬)। আয়াতটির আলোকে নিন্মোক্ত বিষয়গুলির জবাব দাওঃ
আয়াতে উল্লেখিত তাওহীদের প্রকারটি নির্ধারণ কর।
আল্লাহ তা‘আলার চেহারা(দর্শন)এর উদ্দেশ্যে করবে, এমন চারটি ইবাদাতের নাম লেখ।
অনুশীলন (২): তাওহীদের দুটি প্রকারের মধ্যে আমি পার্থক্য নিরুপণ করব:
নিম্নোক্ত কর্মগুলো প্রযোজ্য ঘরে (√) চিহ্ন দিয়ে পার্থক্য কর:
কর্মসমূহ
মুহাম্মাদ আসরের সালাত আদায় করেছে।
সূর্যকে আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টি করেছেন বলে স্বীকৃতি দেওয়া।
যাইদ তার রব (আল্লাহ) তা‘আলা-কে ডাকল (দু‘আ করল)।
আল্লাহ তা‘আলা পশুপ্রাণীকে মানুষের অনুগত করে দিয়েছেন।
হাসান আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি ছাগল যবাই করার মানত করেছে।
ফাতিমা ঈমান এনেছে যে, আল্লাহ তা‘আলাই সৃষ্টিজগতের রিযিকের ব্যবস্থা করেন। তাওহীদুর রুবুবিয়্যাতের অন্তর্ভুক্ত তাওহীদুল ইবাদাহর অন্তর্ভুক্ত
অনুশীলন (৩): আমি পর্যবেক্ষণ করে শুদ্ধ করব:
তোমার পরিবেশে বিদ্যমান তাওহীদুল ইবাদাহর বিরোধী তিনটি বিষয় নিয়ে তোমার একজন সহপাঠীর সাথে আলোচনা কর, তারপরে সেগুলি শুদ্ধ কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
অন্তরের ইবাদাতসমূহের প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো:
(ভালোবাসা - তাসবীহ পাঠ করা - সিয়াম পালন করা)
তাওহীদুল ইবাদাহর বিরোধী কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে:
(সালাত - গায়েব জানার দাবী করা - মৃত্যু ব্যক্তিদেরকে আহবান করা)
আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে যবাই করা কোন প্রকারের তাওহীদের অন্তর্ভুক্ত :
(ইবাদাহ - রুবুবিয়্যাত - আসমা ওয়াস সিফাত)
প্রশ্ন ২: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখ:
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলাকে ইবাদাতের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করা।
কবর-মাজারের চারপাশে তাওয়াফ করা তাওহীদুল ইবাদাহর বিরোধী নয়।
যাকাত আল্লাহ তা‘আলার একটি ফরজ শারীরিক ইবাদাত।
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত তওহীদুল ইবাদাহ ছাড়াই যথেষ্ট হবে।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যই যাবতীয় ইবাদাত করা আবশ্যক, এ ব্যাপারে একটি দলীল লিখ।
তাওহীদুল ইবাদাহ বিরোধী দুটি আমল লিখ।
চতুর্থ পাঠ: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত-নামসমূহ ও গুণাবলীর একত্ব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করবে।
আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ থেকে তাঁর সিফাত-গুণাবলী বের করবে।
আল্লাহ তা‘আলার সিফাতসমূহের প্রকারগুলো আলাদা করবে।
তাওহীদের তিনটি প্রকারের মধ্যে পার্থক্য করবে।
আল্লাহ তা‘আলার আসমা এবং সিফাতের উপরে ঈমান আনার গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহের একটি চিত্র বোর্ড আঁকবে।
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত এবং তাওহীদুল ইবাদাহ শেখার পরে এ পাঠে তাওহীদের তৃতীয় প্রকার তথা তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের আলোচনা করা হবে।
তাওহীদের প্রকারভেদ:
রুবুবিয়্যাত(কর্মসমূহের তাওহীদ)
উলূহিয়্যাত(ইবাদতসমূহের তাওহীদ)
আল-আসমা ওয়াস সিফাত(নাম ও গুণাবলীসমূহের তাওহীদ)
প্রথমত: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের অর্থ:
তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত হচ্ছে: কুরআন কারীম ও সুন্নাহ-তে বর্ণিত আল্লাহ তা‘আলার পবিত্র নামসমূহ এবং সিফাত বা গুণাবলীসমূহের উপরে ঈমান আনা।
এতে শামিল রয়েছে: আল্লাহ তা‘আলার প্রতিটি নামই সুন্দর, তথা: উক্ত নামগুলোই সবচেয়ে সুন্দর এবং তা পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আর আল্লাহর জন্যই রয়েছে সর্বোত্তম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা সেগুলোর মাধ্যমে তাঁকে ডাক।” (সূরা আল-আরাফ: ১৮০)। আর অনুরূপভাবে এর ওপরও ঈমান আনা যে, আল্লাহ তা‘আলার সিফাতসমূহ মাখলূকের সিফাতের সাথে সাদৃশ্য রাখে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: لَيۡسَ كَمِثۡلِهِۦ شَيۡءٞۖ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡبَصِيرُ তথা: “কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্ৰষ্টা।” (সূরা আশ-শুরা: ১১)।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ:
এর পরিচয়:
আল্লাহ তা‘আলার আসমা তথা নামসমূহ হচ্ছে:সেই নামগুলো যা আল্লাহ তা‘আলা নিজের জন্য নির্ধারণ করেছেন। এর প্রতিটি নামই আল্লাহ তা‘আলার স্তুতি ও প্রশংসা প্রকাশক। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “তিনিই আল্লাহ সৃজনকর্তা, উদ্ভাবন কর্তা, রূপদাতা, তাঁরই সকল উত্তম নাম।” (আল-হাশর, আয়াত : ২৪)।
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: ““নিশ্চয় আল্লাহই হলেন সৃষ্টিকর্তা, সংকোচনকারী, সম্প্রসারণকারী এবং রিযিক দানকারী।” (এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন: ১৩১৪)।
আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ তাঁর সিফাতসমূহের প্রমাণ বহন করে:
আল্লাহ তা‘আলার প্রতিটি নামই তাঁর এমন সিফাতকে শামিল করে যা তার সিফতের প্রমাণ বহন কর , যেমন: আল্লাহর নাম “আল-গফূর (الغفور)” নামটি আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমার সিফাত প্রমাণ করে, “আর-রহমান (الرحمن)” নামটি আল্লাহ তা‘আলার রহমত সিফাত প্রমাণ করে,। এভাবে প্রতিটি নামের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
তৃতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার সিফাত(গুণ)সমূহ:
এগুলো হচ্ছে এমন সিফাতসমূহ, যেগুলো আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। যা পরিপূর্ণতার নির্দেশনা বহন করে। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার জন্য সেই সিফাতগুলো সাব্যস্ত করা আবশ্যক, ঠিক সেভাবে যেভাবে আল্লাহ তা‘আলার জন্য উপযুক্ত, উদাহরণস্বরূপ জীবন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আল্লাহ্, তিনি ব্যতীত কোন প্রকৃত মাবূদ নেই , তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক।” (সূরা বাকারাহ: ২৫৫)।
আল্লাহ তা‘আলার জন্য যে সিফাতসমূহ প্রযোজ্য নয়:
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের থেকে যাবতীয় ত্রুটি বা কমতির সিফাতকে নাকচ করেছেন; যেমন: মৃত্যু এবং ঘুম। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “আর আপনি নির্ভর করুন তাঁর উপর যিনি চিরঞ্জীব, যিনি মারা যাবেন না।” ( সূরা আল-ফুরকান : ৫৮)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা ঘুমান না, ঘুমানো তাঁর জন্য উপযোগীও নয়।” (ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন: ১৭৯)।
আল্লাহ তা‘আলা যুলুমকে তাঁর নিজ থেকে নাকচ করে বলেছেন: “আর আপনার রব কারো প্রতি যুলুম করেন না।” (সূরা আল-কাহফ, আয়াত: ৪৯)।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি খুঁজে বের করে পৃথক করব:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (ٱللَّهُ لَآ إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ ٱلۡحَيُّ ٱلۡقَيُّومُۚ لَا تَأۡخُذُهُۥ سِنَةٞ وَلَا نَوۡمٞۚ لَّهُۥ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ مَن ذَا ٱلَّذِي يَشۡفَعُ عِندَهُۥٓ إِلَّا بِإِذۡنِهِۦۚ يَعۡلَمُ مَا بَيۡنَ أَيۡدِيهِمۡ وَمَا خَلۡفَهُمۡۖ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيۡءٖ مِّنۡ عِلۡمِهِۦٓ إِلَّا بِمَا شَآءَۚ وَسِعَ كُرۡسِيُّهُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضَۖ وَلَا يَـُٔودُهُۥ حِفۡظُهُمَاۚ وَهُوَ ٱلۡعَلِيُّ ٱلۡعَظِيمُ) “আল্লাহ্, তিনি ছাড়া কোনো সত্য মাবূদ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার রক্ষণা-বেক্ষণকারী। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়। আসমানসমূহে যা রয়েছে ও যমীনে যা রয়েছে সবই তাঁর। কে সে , যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর কাছে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে ও পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। আর যা তিনি ইচ্ছে করেন তা ছাড়া তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুকেই তারা পরিবেষ্টন করতে পারে না। তাঁর ‘কুরসী’ আসমানসমূহ ও যমীনকে পরিব্যাপ্ত করে আছে; আর এ দুটোর রক্ষণাবেক্ষণ তাঁর জন্য বোঝা হয় না। আর তিনি সুউচ্চ সুমহান।” (সূরা আল-বাকারা,আয়াত: ২৫৫)।
তোমার একজন সহপাঠীর সহযোগিতায় আয়াতটি থেকে আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ, সিফাতসমূহ এবং তিনি যে সমস্ত সিফাত নিজের থেকে নাকচ করেছেন তা খুঁজে বের কর।
আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ:
আল্লাহ তা‘আলার সিফাতসমূহ:
নাকচকৃত সিফাতসমূহ:
অনুশীলন (২): আমি অন্যকে সহযোগিতা করব এবং বোর্ডে সাজাব :
আল্লাহর দশটি নাম একটি বোর্ডে সাজিয়ে লিখতে তোমার একজন সহপাঠীকে সহযোগিতা কর। এরপরে তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ সাইটে প্রচার কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
আমরা যে কোন সুন্দর নাম আল্লাহ তা‘আলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারি।
আল্লাহর নাম “আল-‘আলীম (العليم)” এর মধ্যে আল্লাহর ইলম সিফাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: لاَ تَأْخُذُهُ سنةٌ وَلَا نومٌ তথা: “তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না, নিদ্রাও নয়।” এখানে আল্লাহ তা‘আলার একটি সাব্যস্তকৃত সিফাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
সুন্নাহ নাবাবিয়্যাহ হতে সাব্যস্ত হওয়া আল্লাহ তা‘আলার নামের মধ্যে রয়েছে:
(সংকোচনকারী (القابض) - চিরঞ্জীব ( القيوم )- সুমহান (العظيم))
আল্লাহ তা‘আলার জন্য যে সিফাতসমূহ প্রযোজ্য নয়,তার মধ্যে রয়েছে:
(শ্রবণ করা - মৃত্যু - ইলম)
আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহের মধ্যে রয়েছে:
(আল-ক্বাদীম তথা: পুরাতন - আল-বাসীর তথা: সর্বদ্রষ্টা - কুদরাত তথা: ক্ষমতা)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত দ্বারা উদ্দেশ্য কী?
কোন কিছুই আল্লাহ তা‘আলার অনুরূপ নয়, এ ব্যাপারে একটি দলীল লেখ।
পঞ্চম পাঠ: ইবাদাত এবং তার প্রকারভেদ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য:
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
ইবাদাতের মর্মার্থ নির্ধারণ করবে :
ইবাদাতের প্রকারভেদ এবং এর স্বরূপসমূহ পৃথক করবে ।
ইবাদাতের গুরুত্বের উপরে প্রমাণ দিবে ।
ইবাদাতের ফলাফলের ওপর দলীল দিবে ।
ইবাদাতের মহত্ব প্রদান করবে ।
তোমার উপর ফরজ ইবাদাতগুলো আদায় করার ক্ষেত্রে তুমি আগ্রহী হবে।
ভূমিকা
ইতোপূর্বেই তুমি জেনেছ যে, তাওহীদুল ইবাদাহ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলাকে ইবাদাতের ক্ষেত্রে একক সাব্যস্ত করা। তাহলে ইবাদাত অর্থ কী? এটি কত প্রকার? এবং এর গুরুত্ব ও ফলাফল কী?
আগত পয়েন্টগুলোতে আমরা এগুলোই পড়ব:
ইবাদাত
ইবাদাতের পরিচয়:
তারপ্রকারভেদ:
অপ্রকাশ্য
প্রকাশ্য: অন্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট, কথার সাথে সংশ্লিষ্ট, কর্ম সংশ্লিষ্ট এবং অর্থ সংশ্লিষ্ট ইবাদত
ইবাদাতের গুরুত্ব
ইবাদাতের ফলাফল
প্রথমত: ইবাদাতের সংজ্ঞা
ইবাদাত হচ্ছে: প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ঐ সমস্ত কথা ও কর্সমমূহ যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হন।
দ্বিতীয়ত: ইবাদাতের প্রকারভেদ:
প্রথমত: অপ্রকাশ্য ইবাদাতসমূহঃ
এগুলোকে অন্তরের ইবাদাত বলা হয়; কেননা এগুলো অন্তরের সাথে নির্দিষ্ট। আর এগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত; কেননা অন্তর হচ্ছে সত্যায়ন এবং দৃঢ় বিশ্বাসের স্থান।
এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহ তা‘আলাকে ভালোবাসা, তাঁর কাছে আশা করা, তাঁকে ভয় করা, তাঁর ভয়ে ভীত হওয়া, তাঁর ওপর ভরসা করা, তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়া, তাঁর প্রতি প্রত্যাবর্তন করা ইত্যাদি। যকারিয়া আলাইহিস সালামের পরিবার সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “নিশ্চয় তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত এবং তারা আমাকে ডাকত আগ্ৰহ ও ভীতির সাথে এবং তারা ছিল আমার নিকট ভীত-অবনত।” (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৯০)।
দ্বিতীয়ত: প্রকাশ্য ইবাদাত:
এটি তিন প্রকার:
কথার ইবাদাত: যেমন: শাহাদাতাইন (আল্লাহর তাওহীদ এবং রাসূলের রিসালাতের সাক্ষ্য) মুখে উচ্চারণ করা, যিকির করা, কুরআন পাঠ করা এবং আল্লাহ তা‘আলার দিকে (মানুষকে) আহবান করা।
কর্ম সংশ্লিষ্ট ইবাদাত, যেমন: সিয়াম, সালাত, হজ্জ, জিহাদ, দুস্থ ও দূর্বলদের সহযোগিতা এবং মযলূম থেকে যুলুম প্রতিরোধ করা ইত্যাদি।
আর্থিক ইবাদাত, যেমন: যাকাত, সদকা, পরিবারের জন্য খরচ করা এবং কুরবানী করা ইত্যাদি।
তৃতীয়ত: ইবাদাতের গুরুত্ব:
ইবাদাতই হচ্ছে মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَا خَلَقۡتُ ٱلۡجِنَّ وَٱلۡإِنسَ إِلَّا لِيَعۡبُدُونِ তথা: “আর আমি সৃষ্টি করেছি জিন এবং মানুষকে এজন্যেই যে, তারা কেবল আমারই ইবাদাত করবে।” (আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬)।
ইবাদাতই হচ্ছে রাসূলদের প্রেরণের একমাত্র উদ্দেশ্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَآ أَرۡسَلۡنَا مِن قَبۡلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلَّا نُوحِيٓ إِلَيۡهِ أَنَّهُۥ لَآ إِلَٰهَ إِلَّآ أَنَا۠ فَٱعۡبُدُونِ তথা: “আর আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি তার কাছে এ ওহীই পাঠিয়েছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন সত্য মাবূদ নেই, সুতরাং তোমরা আমারাই ইবাদাত কর।” (সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২৫)।
চতুর্থত: ইবাদাতের ফলাফল:
ইবাদাত হচ্ছে দুনিয়াতে সৌভাগ্য অর্জন এবং আখিরাতে নি‘আমাত লাভের কারণ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: مَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَلَنُحۡيِيَنَّهُۥ حَيَوٰةٗ طَيِّبَةٗۖ وَلَنَجۡزِيَنَّهُمۡ أَجۡرَهُم بِأَحۡسَنِ مَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ তথা: “মুমিন হয়ে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকাজ করবে, অবশ্যই আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব। আর অবশ্যই আমি তাদেরকে তারা যা করত তার তুলনায় শ্রেষ্ঠ প্রতিদান দেব।” (সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯৭
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَنۡ عَمِلَ صَٰلِحٗا مِّن ذَكَرٍ أَوۡ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤۡمِنٞ فَأُوْلَٰٓئِكَ يَدۡخُلُونَ ٱلۡجَنَّةَ يُرۡزَقُونَ فِيهَا بِغَيۡرِ حِسَابٖ তথা: “এবং মুমিন হয়ে পুরুষ ও নারীর মধ্যে যে কেউ সৎকাজ করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে আর সেখানে তারা অগণিত রিযিকপ্রাপ্ত হবে।” (সূরা গাফির, আয়াত: ৪০)।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি চিন্তা করে উত্তর দিব:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: وَمَنۡ أَعۡرَضَ عَن ذِكۡرِي فَإِنَّ لَهُۥ مَعِيشَةٗ ضَنكٗا তথা: “আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে, নিশ্চয় তার জীবন-যাপন হবে সংকীর্ণ।” (সূরা ত্বহা, আয়াত: ১২৪)।
আয়াতে কারীমাটি কিসের প্রমাণ করে?
পাঠের আলোচ্য বিষয়ের সাথে এ আয়াতটির সম্পর্ক কী?
অনুশীলণ (২): আমি পৃথক করব এবং লিখব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সূর্য উদিত হয় এমন প্রতিটি দিনেই শরীরের প্রতিটি (হাড়ের) জোড়ার জন্য মানুষের সদকা করা আবশ্যক। দুই ব্যক্তির মধ্যে ন্যায় স্থাপন করা একটি সদকা, কোন ব্যক্তিকে তার বাহনে উঠতে সাহায্য করা সদকা, অথবা তার মাল বাহনে তুলে দেওয়া সদকা, ভালো কথা বলা সদকা, সালাতের জন্য প্রতিটি পদক্ষেপ সদকা এবং পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা সদকা।” (সহীহ বুখারী: ২৯৮৯ এবং সহীহ মুসলিম: ১০০৯)।
তোমার শিক্ষকের সাহায্য নাও এরপরে অন্তরের সাথে এবং কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট ইবাদাতগুলোকে সঠিক কলামে (√) চিহ্ন দিয়ে বিন্যস্ত কর:
ইবাদাত কথা সংশ্লিষ্ট ইবাদত কর্ম সংশ্লিষ্ট
দুজন মানুষের মধ্যে ন্যায় স্থাপন করা। কথা সংশ্লিষ্ট
অনুশীলন (৩): আমি বিভিন্ন পদ্ধতির পরামর্শ দেব:
সালাত সবচেয়ে মহান ইবাদাত। সালাতকে যথা সময়ে আদায় করতে যত্নবান হতে সাহায্য করবে এমন তিনটি পদ্ধতির পরামর্শ দাও।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
ভয় পাওয়া এবং আশা করা যে ধরণের ইবাদাত তা হলো:
(আর্থিক- অন্তর সংশ্লিষ্ট- কর্ম সংশ্লিষ্ট)
কুরবানী হলো ইবাদাতের মধ্যেঃ
(কর্ম সংশ্লিষ্ট- কথা সংশ্লিষ্ট - আর্থিক)
জান্নাতে প্রবেশ করা এবং অন্তরের প্রাশান্তি হচ্ছে:
(ইবাদাতের প্রকারসমূহ - ইবাদাতের ফলাফল - ইবাদাতের আবশ্যকতা)
প্রশ্ন ২: নিচের বাক্যদুটিকে পূর্ণ কর:
ইবাদাত হচ্ছে: প্রতিটি এমন বস্তু যা ................. এবং যা পছন্দ করেন, যা কথা ও কর্মসমূহ....................................................।
ইবাদাতই হচ্ছে মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য; যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (.......................................)।
প্রশ্ন ৩: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখ:
কথা সংশ্লিষ্ট ইবাদাত হচ্ছে বাকী ইবাদাতসমূহের মূলভিত্তি।
ইবাদাতের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া সংকীর্ণতা এবং বিরক্তির কারণ ঘটায়।
রাস্তাসমূহ পরিষ্কার করার মধ্যে কোন সওয়াব নেই।
ষষ্ঠ পাঠ: ইবাদাতের শর্ত ও রুকনসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য:
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
ইবাদাতের শর্তসমূহ ব্যাখ্যা করবে।
ইবাদাতের রুকনসমূহ বর্ণনা করবে।
ইবাদাতের শর্ত ও রুকনের ব্যাপারে দলীল পেশ করবে।
ইবাদাতের শর্তসমূহ ছুটে গেলে তার প্রভাব প্রকাশ পাবে।
ইবাদাতের শর্ত ও রুকনসমূহের সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে।
ইবাদাতে ইখলাস এবং আনুগত্যের এ দুটি শর্ত বাস্তবায়ন করবে।
(আল্লাহর) ভয় ও আশার মধ্যে ভারসাম্যতা বজায় রাখবে।
প্রথমত: ইবাদাতের শর্তসমূহ
প্রতিটি মুসলিমই আশা করে, আল্লাহ তা‘আলা যেন তার ইবাদাত কবূল করেন। তবে এটি বাস্তবায়িত হবে না, যতক্ষণ না প্রতিটি ইবাদাতে দুটি মৌলিক শর্ত একত্রিত হয়; ইখলাস এবং আনুগত্য।
প্রথম শর্ত: ইখলাস:
আর ইখলাস হচ্ছে: বান্দা তার অন্তরে তার সকল কাজ ও কথার মাধ্যমে শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলার চেহারা (দর্শন) উদ্দেশ্য করবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ তথা: “আর তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।” (সূরা আল-বাইয়িনাহ, আয়াত: ০৫)।
আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে হলে তা ইবাদাতকে নষ্ট করার পাশাপাশি সওয়াব থেকে বঞ্চিত করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: যার অর্থ: “যদি আপনি শির্ক করেন তবে আপনার সমস্ত আমল নিস্ফল হবে এবং অবশ্যই আপনি হবেন ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৬৫)।
দ্বিতীয় শর্ত: আনুগত্য:
এটির বাস্তবায়ন হবে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী আল্লাহর ইবাদত করার মাধ্যমে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: যার অর্থ: “আর রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্ৰহণ কর এবং যা থেকে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা থেকে বিরত থাক।” (আল-হাশর, আয়াত: ০৭)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসারে আল্লাহর ইবাদত না হলে, তা ইবাদাত নষ্ট করার পাশাপশি সওয়াব থেকে বঞ্চিত করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনের মধ্যে নতুন কিছু আবিষ্কার করল যা তাতে নেই তা প্রত্যাখ্যাত।” (এটি সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন: ২৬৯৭)।
দ্বিতীয়ত: ইবাদাতের রুকনসমূহ
ইবাদাত:
আল-মুহাব্বাহ (ভালোবাসা)
আশা
ভয়
প্রথম রুকন: আল্লাহ তা‘আলার মুহাব্বাত:
মুহাব্বাহ হচ্ছে যাকে মুহাব্বত করা হয়, তার প্রতি অন্তরের ঝোক। আল্লাহর মুহাব্বাহ হল, আল্লাহর কাছে যা কিছু আছে তা প্রাধান্য দেওয়া এবং আল্লাহর আনুগত্য করা ও তার নাফরমানী পরিহার করে তার সন্তুষ্টি অনুযায়ী আমল করা।
মুহাব্বত হচ্ছে ঈমানের অপরিহার্য এক বিষয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যার অর্থ: “কোন ব্যক্তি (প্রকৃত) মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ ও তাঁর রাসূল, ঔ ব্যক্তির কাছে অন্য সব কিছু থেকে প্রিয় না হবে।” (এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন: ১২৭৩৯)।
আল্লাহর মুহাব্বাতের সাথে যুক্ত হবে: রসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভালবাসা, কুরআন কারীমের ভালবাসা, মুসলমানদের ভালবাসা এবং ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য ভাল এবং উন্নয়নমূলক সমস্ত কিছুর প্রতি মুহাব্বাত বা ভালোবাসা।
দ্বিতীয় রুকন: আশা:
এর অর্থ হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার রহমতের সাথে সম্পৃক্ত থাকা, আল্লাহর বদান্যতা এবং অনুগ্রহের ব্যাপারে আত্মিক প্রশান্তি লাভ করা, প্রচেষ্টার সাথে তাঁর অনুকম্পা ও দানের প্রতি আগ্রহী হওয়া এবং আল্লাহর উপরে সুন্দরভাবে তাওয়াক্কুল করা।
সুতরাং মুমিন মাত্রই আশা করা, তাঁর রব আল্লাহ তা‘আলা তার গুণাহ ক্ষমা করবেন, যেমনটি নবী ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: وَٱلَّذِيٓ أَطۡمَعُ أَن يَغۡفِرَ لِي خَطِيٓـَٔتِي يَوۡمَ ٱلدِّينِ তথা: “এবং যার কাছে আশা করি যে, তিনি কিয়ামাতের দিন আমার অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।” (সূরা আশ-শু‘আরা, আয়াত: ৮২)।
তৃতীয় রুকন: ভয়:
এর অর্থ: আল্লাহ তা‘আলাহকে ভয় করা। তাঁকে ভালোবাসা ও সম্মানের পাশাপাশি তাঁর গযব ও আযাবকে ভয় করা। সুতরাং বান্দা দ্রুত গতিতে আল্লাহর আদেশ বাস্তবায়নে এবং তাঁর নিষেধ থেকে দূরে থাকার প্রতি ধাবিত হবে। যেমন কুরআন কারীমে এসেছে: “বলুন: আমি যদি আমার রব –এর অবাধ্যতা করি,তবে নিশ্চয় আমি ভয় করি এক মহাদিনের শাস্তির।” সূরা আল-আনআম: ১৫)।
আশা ও ভয়ের মধ্যে অবশ্যই ভারসাম্য থাকা জরূরী। আল্লাহ তা‘আলা জাকারিয়া আলাইহিস সালাম ও তার পরিবারের লোকদের প্রশংসা করে বলেছেন: “নিশ্চয় তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত এবং তারা আমাকে ডাকত আগ্ৰহ ও ভীতির সাথে এবং তারা ছিল আমার নিকট ভীত-অবনত।” (সূরা আল-আম্বিয়া: ৯০)।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন(১): আমি চিন্তা করে উত্তর দিব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামাতের দিনে প্রথম যার বিচার করা হবে, তার ব্যাপারে বলেছেন: “এক ব্যক্তি যে ইলম শিখেছে এবং শিখিয়েছে, কুরআন পাঠ করেছে, তাকে আনা হবে, আল্লাহ তাকে সকল নি‘আমাতের কথা বলবেন, সে সবগুলোই স্বীকার করবে। তখন তিনি বলবেন: এ জন্য তুমি কী করেছ? তখন সে বলবে: আমি ইলম শিখেছিলাম, তা শিখিয়েছিলাম আর আপনার জন্যই কুরআন পাঠ করেছিলাম। আল্লাহ বলবেন: তুমি মিথ্যা কথা বলছ। তুমি বরং এ কারণে ইলম শিখেছিলে যে, তোমাকে আলিম বলা হবে। তুমি কুরআন পাঠ করেছিলে, যাতে বলা হয়: সে একজন ক্বারী। তা বলা হয়েছে। এরপরে তার ব্যাপারে আদেশ করা হবে আর তাকে তার মুখের উপরে ভর করিয়ে টেনে নেওয়া হবে যতক্ষন না সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হয়।” (সহীহ মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: ১৯০৫)।
হাদীসটি নিয়ে চিন্তা কর, তারপরে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
হাদীস থেকে এ লোকটির আগুনে (জাহান্নামে) প্রবেশ করার কারণ খুঁজে বের কর।
ইবাদাতে ইখলাসের বাস্তবায়ন ঘটেনি। সুতরাং তার ইবাদাত কবূল হবে না; যেহেতু সে ইলম অর্জন করেছিল এবং কুরআন পাঠ করেছিল যেন তাকে আলিম ও ক্বারী বলা হয়।
হাদীসটি পাঠ করে তোমার অনুভূতি ব্যক্ত কর। তারপর আমরা যেন এ ব্যক্তির মত না হই, তার জন্য আমাদের কর্তব্য ব্যাখ্যা কর।
অনুশীলন(২): আমি প্রত্যক্ষ করব এবং জবাব দেব:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: أَمَّنۡ هُوَ قَٰنِتٌ ءَانَآءَ ٱلَّيۡلِ سَاجِدٗا وَقَآئِمٗا يَحۡذَرُ ٱلۡأٓخِرَةَ وَيَرۡجُواْ رَحۡمَةَ رَبِّهِۦۗ যার অর্থ: “যে ব্যক্তি রাতের বিভিন্ন প্রহরে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রবের অনুগ্রহ প্রত্যাশা করে।” ( সূরা আয-যুমার: ০৯)।
এ আয়াতে কারীমার শিক্ষণীয় বিষয় ব্যাখ্যা কর।
নিচের ভিডিও লিংক থেকে ভিডিওটি দেখ, তারপর এতে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে লেখ:
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও এবং সঠিক উত্তরটি লেখ:
ইখলাস না থাকলে সওয়াবের কমতি ঘটে। (X)
আনুগত্যের দাবী, আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসারেই হতে হবে। (√)
ইবাদাতের শর্তসমূহ বাস্তবায়িত হলে ইবাদাত শুদ্ধ ও কবূল হয়। (√)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
মুসলিমের জন্য আবশ্যক ভয়এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা:
(আনন্দ-চিন্তা-আশা)
আল্লাহর সাথে শুধু ভয় নিয়ে কাজ করলে, যা ঘটতে পার তা হলোঃ
(নৈরাশ্য-সফলতা-আশা)
আল্লাহ তা‘আলার মুহাব্বাতের সাথে যুক্ত মুহাব্বাত:
(মুসলিমদের - পাপীদের - কাফিরদের)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
আল্লাহ তা‘আলার জন্য নিয়ত খালেস করা ওয়াজিব হওয়া প্রমাণ করে এমন একটি কুরআনের আয়াত লেখ।
(ভালোবাসা- আশা - ভয়) প্রতিটি বিষয়ের উদ্দেশ্য সংক্ষেপে ব্যাখ্যা কর।
সপ্তম পাঠ: ঈমানের বৃদ্ধি এবং হ্রাস
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য:
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে:
ঈমান বৃদ্ধি ও হ্রাসের দলীল দিবে।
যা দ্বারা ঈমান বাড়ে এবং কমে তা বর্ণনা করবে।
ঈমানদারদের মর্যাদাগত পার্থক্যের কারণ দর্শাবে।
ঈমান হ্রাসের ভয়াবহতা বুঝতে পারবে।
তোমার ঈমান বৃদ্ধির প্রতি আগ্রহী হবে।
প্রারম্ভিক কর্ম:
তোমাকে একজন বন্ধু বলল: ঈমান একটি প্রতিষ্ঠিত বিষয়, যা বাড়েও না আবার কমেও না। নেককাজের সাথে ঈমানের সম্পর্ক জানার পর তোমার উত্তর কেমন হবে?
পাঠটি শেষ করে তোমার উত্তরটিকে মুল্যায়ন করবে।
ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস
দলীলসমূহ
যে আমলসমূহে ঈমান বাড়ে
যে আমলসমূহে ঈমান কমে
ঈমানদারদের মর্যাদাগত পার্থক্য
প্রথমত: ঈমান বৃদ্ধি এবং হ্রাসের দলীলসমূহ
ঈমান হচ্ছে দৃঢ় বিশ্বাস, কথা ও কাজের সমষ্টি। যখনই মুমিনের অন্তরে বিশ্বাস দৃঢ়তা লাভ করে, তথনই তার ঈমান বৃদ্ধি পাবে। আবার যখনই বান্দার জিহ্বা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহের মাধ্যমে ইবাদাত বাড়বে,তখনই তার ঈমান বৃদ্ধি পাবে; আর এ কারণেই ঈমান নেককাজের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং পাপাচারের দ্বারা হ্রাসপ্রাপ্ত হয়।
অন্তরে ঈমান ও ইয়াকিন (দৃঢ় বিশ্বাস) বৃদ্ধি পায়, এ কথার প্রমাণ বহন করে আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ وَإِذۡ قَالَ إِبۡرَٰهِـۧمُ رَبِّ أَرِنِي كَيۡفَ تُحۡيِ ٱلۡمَوۡتَىٰۖ قَالَ أَوَلَمۡ تُؤۡمِنۖ قَالَ بَلَىٰ وَلَٰكِن لِّيَطۡمَئِنَّ قَلۡبِيۖ যার অর্থ: “আর যখন ইবরাহীম বলল, “হে আমার রব! কিভাবে আপনি মৃতকে জীবিত করেন আমাকে দেখান, তিনি বললেন: তবে কি আপনি ঈমান আনেননি? তিনি বললেন: অবশ্যই হ্যাঁ, কিন্তু আমার মন যাতে পরিতৃপ্ত হয়!” (সূরা আল-বাকারা: ২৬০)।
নেককাজের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পাওয়ার দলীলের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী: إِنَّمَا ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ ٱللَّهُ وَجِلَتۡ قُلُوبُهُمۡ وَإِذَا تُلِيَتۡ عَلَيۡهِمۡ ءَايَٰتُهُۥ زَادَتۡهُمۡ إِيمَٰنٗا وَعَلَىٰ رَبِّهِمۡ يَتَوَكَّلُونَ তথা: “মুমিন তো তারাই যাদের হৃদয় আল্লাহকে স্মরণ করা হলে কম্পিত হয় এবং তাঁর আয়াতসমূহ তাদের নিকট পাঠ করা হলে তা তাদের ঈমান বর্ধিত করে। আর তারা তাদের রব –এর উপরই নির্ভর করে।” (সূরা আল-আনফাল: ০২)।
দ্বিতীয়ত: যে আমলসমূহে ঈমান বাড়ে:
নেক আমলসমূহের মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়। উদাহরণ স্বরূপ সেগুলো হলোঃ
আল্লাহ তা‘আলাকে জানা এবং তাঁর ব্যাপারে জ্ঞানার্জন করা: যখনই কোন মুমিন আল্লাহ তা‘আলার ব্যাপারে জ্ঞান লাভ করবে, তখনই তার ঈমান ও ভয় বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّمَا يَخۡشَى ٱللَّهَ مِنۡ عِبَادِهِ ٱلۡعُلَمَٰٓؤُاْۗ তথা: “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই কেবল তাকে ভয় করে;” (সূরা ফাত্বির: ২৮)।
আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসা। এ ব্যাপারে দলীল হচ্ছে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকে, সে তার দ্বারা ঈমানের মিষ্টতা লাভ করে: আল্লাহ ও তাঁর রসূল তার কাছে অন্য সব কিছু থেকে অধিক প্রিয় হবে; কাউকে ভালোবাসলে কেবল আল্লাহ’র জন্যই ভালবাসবে। আর কুফরী থেকে তাকে আল্লাহর বাঁচানোর পর পুনরায় তাতে ফিরে যাওয়াকে এমন অপছন্দ করবে, যেমন সে নিজেকে আগুনে নিক্ষিপ্ত করাকে অপছন্দ করে।” এটি বুখারী (১৬) ও মুসলিম (৪৩) বর্ণনা করেছেন।
উত্তম চরিত্র নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: أكمل المؤمنين إيماناً: أحسنهم خلقاً “ঈমানের দিক দিয়ে পরিপূর্ণ মু’মিন, তাদের মধ্যে যে চরিত্রের দিক দিয়ে সবচেয়ে উত্তম।” এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন (১১৬২)।
তৃতীয়ত: যে আমলসমূহে ঈমান কমে
প্রতিটি পাপাচার ঈমানের কমতি ঘটায়। কবীরা গুণাহের কারণে এ কমতি বাড়তে থাকে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لَا يَزْنِي الزَّانِي حِينَ يَزْنِي وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَشْرَبُ الخَمْرَ حِينَ يَشْرَبُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ، وَلَا يَسْرِقُ حِينَ يَسْرِقُ وَهُوَ مُؤْمِنٌ তথা: “ব্যভিচারী ব্যক্তি যখন ব্যভিচার করে তখন সে মুমিন থাকে না। আর যখন কোন মদ পানকারী মদ পান করে, তখন সে মুমিন থাকে না। কোন চোর যখন চুরি করে তখন সে মুমিন থাকে না।” এটি বুখারী (২৪৭৫) ও মুসলিম (৫৭) বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থত: ঈমানদারদের মর্যাদাগত পার্থক্য
মুমিনদের মধ্যে তাদের আমল ও আল্লাহ তা‘আলার প্রতি তাদের ইখলাসের তারতম্য অনুযায়ী ঈমানের মর্যাদাগত পার্থক্য রয়েছেঃ আর এ কারণেই জান্নাতের মধ্যে তাদের ঈমান ও আমলের কারণে মুমিনদের অবস্থানও বিভিন্ন পর্যায়ের হবে।
প্রতিটি মুসলিমের উপর আবশ্যক যে, সে কল্যাণ ও নেককাজের নিমিত্তে পরিশ্রম করবে; যাতে করে ঈমানের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উত্তীর্ণ হতে পারে।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি আলোচনা করব এবং বুঝব:
আবুদ দারদা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “নিশ্চয় বান্দার ফিকহের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: এটা জানা যে, কোন জিনিস তার ঈমানকে বৃদ্ধি করবে আর কোন জিনিস তা কমিয়ে দেয়।” (খাল্লাল তার আস-সুন্নাহ গ্রন্থে: ১৫৮৫ এটি বর্ণনা করেছেন)।
তোমার শিক্ষকের সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা কর যে, কিভাবে একজন মুসলিম জানতে পারবে যে, তার ঈমান বৃদ্ধি পাচ্ছে অথবা কমে যাচ্ছে।
অনুশীলন (২): আমি চিন্তা করব এবং নির্দিষ্ট করব:
তুমি যে সব নেক কাজ কর সেগুলোর ব্যাপারে চিন্তা কর, তারপরে এগুলোর মধ্য হতে পাঁচটি নেক কাজ নির্দিষ্ট কর, যাতে তুমি অনুভব কর যে তোমার ঈমান বৃদ্ধি পায়।
অনুশীলন (৩): পর্যবেক্ষণ করে সারামর্ম উল্লেখ করব:
নিচের ভিডিওটি দেখ, তারপরে তুমি যা বুঝতে পারলে পাঁচ লাইনে তার সারমর্ম লেখ।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১:নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
ভালো কাজের দ্বারা ঈমান বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু পাপের দ্বারা ঈমান কমে না। (×)
ইলম অর্জন ঈমান বৃদ্ধির দিকে ধাবিত করে। (✓)
জান্নাতে নি‘আমাত প্রাপ্তির দিক থেকে মুমিনরা সবাই সমপর্যায়ের হবে। (×)
মানুষের উপরে যুলুম করা ঈমানের দূর্বলতার প্রমাণ দেয়। (✓)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
শরীয়তের দলীলগুলো প্রমণ করে যে, ঈমান:
(বাড়ে কিন্তু কমে না - বাড়ে না তবে কমে - বাড়ে এবং কমে)
ঈমান বৃদ্ধির আমলের মধ্যে অন্যতম:
(বেশী পরিমাণে ইস্তিগফার করা - সৃষ্টিজীবের সাথে মন্দ আচরণ করা - কুরআনকে পরিত্যাগ করা)
প্রতিটি পাপই ঈমান কমিয়ে দেয়, এর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক হচ্ছে:
(কবীরা গুনাহসমূহ - সগীরা গুনাহসমূহ - ছোট ত্রুটি)।
প্রশ্ন ৩: নিচের দলীল দুটি কীসের প্রমাণ দেয়, ব্যাখ্যা কর:
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَيَزِيدُ ٱللَّهُ ٱلَّذِينَ ٱهۡتَدَوۡاْ هُدٗىۗ তথা: “আর যারা সৎপথে চলে আল্লাহ তাদের হিদায়াত বৃদ্ধি করে দেন।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “ঈমানের দিক দিয়ে পরিপূর্ণ মু’মিন, তাদের মধ্যে যে চারিত্রের দিক দিয়ে সর্বোত্তম।”
সুন্নাহ এবং শামায়েল(চারিত্রিক গুণাবলী) অধ্যায়
প্রথম পাঠ: নিকটাত্মীয়দের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
নিকটাত্মীয়দের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ ব্যাখ্যা করবে।
নিকটাত্মীয়দের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম ব্যবহারের দলীল উল্লেখ করবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে তুমি তোমার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে।
ইসলামে নিকটাত্মীয়দের সাথে উত্তম আচরণের গুরুত্ব বুঝতে পারবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে সবর এবং ক্ষমার মূল্য অনুধাবন করবে।
মুসলিম নিকটাত্মীয়দের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহ:
নিকটাত্মীয়দেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সম্মান করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাদের (সুখে) আনন্দিত হওয়া এবং (দুঃখে) দুঃখিত হওয়া।
তাদের সন্তানদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেয়াল রাখা
নিকট আত্মীয়দের ইসলামে অনেকগুলো অধিকার রয়েছে। এ সমস্ত অধিকারের প্রতিটিই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্ণ মাত্রায় আদায় করেছেন। মুসলিম নিকটাত্মীয়দের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহসমূহের বর্ণনা দিয়ে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হব।
নিকটাত্মীয়দেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সম্মান করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত আত্মীয়-স্বজনকে সম্মান করতেন, যার মধ্যে তিনি তাঁর চাচা আব্বাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহুর সাথে তার পিতার ন্যায় আচরণ করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজের বক্তব্যে এটি স্পষ্ট করেছেন: “ ব্যক্তির চাচা তার পিতার মতই।” (সহীহ মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, ৯৮৩)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতা আমিনাহ বিনতু ওয়াহবের চাচাত ভাই সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন: “ইনি হচ্ছেন আমার(উত্তম) মামা, সুতরাং কেউ যেন আমাকে তার এমন মামা দেখায়।” এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন (৩৭৫২)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের(সুখে) আনন্দিত হওয়া এবং (দুঃখে) তাদের ব্যাপারে দুঃখিত হওয়া।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জা‘ফার ইবনু আবী তালিব রদিয়াল্লাহু আনহুকে হাবশা থেকে প্রত্যাবর্তনের পরে চুমু দিয়ে বলেছিলেন: “আমি জানি না যে, দুটির মধ্যে কোনটির কারণে আমি বেশী আনন্দিত: খায়বার বিজয় নাকি জা‘ফারের আগমন।” এটি হাকিম বর্ণনা করেছেন (৪২৪৯)।
৩য় হিজরীতে উহুদ যুদ্ধে তাঁর চাচা হামযাহ রদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাত বরণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলেন।
তাদের সন্তানদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেয়াল রাখাঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আত্মীয়দের সন্তানদের যত্ন নিতেন/খেয়াল রাখতেন। তিনি তাঁর চাচাতো ভাই আলী ইবনু আবি তালিব রদিয়াল্লাহু আনহুকে লালন-পালন করেছিলেন। আর যখন তাঁর চাচাতো ভাই জা‘ফার রদিয়াল্লাহু আনহু ৮ম হিজরীতে মুতার যুদ্ধে শহীদ হন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তার সন্তানদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: “আমি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় স্থানেই তাদের ওলী বা অভিভাবক।” এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (১৭৫০)।
অমুসলিম আত্মীয়দের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহ:
তাদের ইসলাম গ্রহণে আগ্রহান্বিত থাকা।
তাদের দেওয়া কষ্টে সবর করা।
তাদেরকে অনুগ্রহ করা।
তাদের আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার অমুসলিম আত্মীয়-স্বজনদের সাথে করুণা ও কল্যাণের নীতির ভিত্তিতে আচরণ করেছেন। এটি নিম্মের পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হবে:
তাদের ইসলামে প্রবেশ করার ব্যাপারে আগ্রহী থাকতেন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আত্মীয়-স্বজন যারা ইসলাম গ্রহণ করেনি তাদের দেওয়া কষ্ট সহ্য করতেন এবং তাদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করতেন, যাতে তিনি তাদের কাছে ইসলামের মূলনীতি ও এর বিধানগুলো ব্যাখ্যা করতে পারেন।
একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি ওলীমার আয়োজন করেছেন এবং তাতে বনু হাশিমের চল্লিশজন লোককে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যার মধ্যে তার চাচারা ছিলেন: আবু তালিব, হামযাহ, আব্বাস এবং আবু লাহাব। তারা খাওয়া-দাওয়া শেষ করার পরে তিনি তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেন।
এভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চাচা আবু তালিবকে তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন।
তাদের কষ্ট দেয়ার ওপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবর করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অমুসলিম আত্মীয়দের দেওয়া কষ্টসমূহে সবর করতেন, যার মধ্যে রয়েছে: তার চাচা আবু লাহাবের দেওয়া কষ্টে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবর করা। আবু লাহাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে পিছনে বাজারে যেত, এরপর তাকে মিথ্যাবাদী বলত এবং মানুষকে তার কথা শোনা থেকে ভয় দেখাত।
আবু লাহাবের স্ত্রী ছিল উম্মে জামীল, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার পাশাপাশি তাকে গালিগালাজ করত এবং তার বাড়ীর সামনে আবর্জনা নিক্ষেপ করত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসব কিছুর উপর সবর করতেন।
তাদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগ্রহ এবং তাদের জন্য দু‘আ করা:
উহুদ যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য দু‘আ করেছিলেন, যদিও তারা তাকে হত্যার চেষ্ট অব্যাহত রেখেছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: ‘‘হে আল্লাহ! তুমি আমার জাতিকে ক্ষমা করে দাও। কেননা, তারা জানে না।” এটি সহীহ বুখারী (৩৪৭৭) ও সহীহ মুসলিম (১৭৯২) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অমুসলিম নিকটাত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতেন। আর এ ব্যাপারে তিনি বলেছেন: “তাদের আমার সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে, আমি তার সিক্ততা দ্বারা তা সিক্ত করে রাখি।” তথা: আমি সে কারণেই সম্পর্ক রক্ষা করি। এটি সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন (৫৯৯০)।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি সহযোগিতা করব এবং খুঁজে বের করব:
তোমার সহপাঠীদের সহযোগিতা কর এবং নিচের হাদীস থেকে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহসমূহ খুঁজে বের কর:
হাদীস যে অর্থের প্রতি নির্দেশ করে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি কুরাইশদের অত্যাচার যখন তীব্র হয়ে উঠল, তখন পাহাড়ের ফেরেশতা বললেন: হে মুহাম্মাদ! আপনি যদি চান, আমি মক্কার দুটি পাহাড় তাদের উপরে চাপিয়ে দিতে পারি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বলেছিলেন: "বরং, আমি আশা করি যে, আল্লাহ তাদের পরবর্তী বংশধরদের মধ্য থেকে এমন লোকদের বের করবেন, যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করবে আর তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না।" এটি বুখারী (৩২৩১) ও মুসলিম (১৭৯৫) বর্ণনা করেছেন। অমুসলিম আত্মীয়দের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগ্রহ:
ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে তাঁর বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন: “হে আল্লাহ! আপনি তাকে হিকমত শিক্ষা দিন।” এটি বুখারী (৩৭৫৬) ও মুসলিম (২৪৭৭) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুসলিম আত্মীয়দের সন্তানদের প্রতি খেয়াল রাখা:
অনুশীলন (২): আমি আলোচনা করে পরামর্শ দেব:
তোমার শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে পরামর্শ করে তোমার সমাজে থাকা অমুসলিমদের ইসলামের পথে দাও‘আত দেওয়ার তিনটি উপায় সম্পর্কে পরামর্শ দাও।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র তার মুসলিম আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতেন। (✖)
আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কল্যাণের দিকে আত্মীয়দের আহবান করার শিক্ষা দিয়েছেন। (✓)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আত্মীয়দের খুশিতে খুশি হতেন এবং তাদের দুঃখে দুঃখী হতেন। (✓)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অমুসলিম আত্মীয়দের সাথে উত্তম আচরণ থেকে দূরে থাকতেন। (✖)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আত্মীয়-স্বজনের সন্তানদের ধর্মীয় ও পার্থিব বিষয়ে খেয়াল রাখতেন। (✓)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ..................... এর জন্য দু‘আ করেছিলেন, ফলে তিনি কুরআন কারীমের জ্ঞানে জ্ঞানী হয়েছিলেন:
(আলী ইবনু আবী তালিব রদিয়াল্লাহু আনহু - আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহু - সা‘দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রদিয়াল্লাহু আনহু )
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ যুদ্ধে তাঁর চাচা ................. মারা যাওয়ায় দুঃখ পেয়েছিলেন।
(হামযাহ - আব্বাস - আবু তালিব)
প্রশ্ন ৩: আত্মীয়-স্বজনদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহর একটি উদাহরণ লিখো, যা নিম্নের বিষয়গুলিকে বুঝাবে:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের হিদায়াতের জন্য আগ্রহী ছিলেন।
আত্মীয়-স্বজনদের দেওয়া কষ্টের বিপরীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবর।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবার-পরিজনের ছোট সন্তানদের প্রতি যত্নবান ছিলেন।
দ্বিতীয় পাঠ: প্রতিবেশীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ত্বরীকাঃ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিবেশীদের ব্যাপারে তাঁর আচরণগত সুন্নাহ ব্যাখ্যা করবে।
ইসলামে প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম আচরণ করার গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম আচরণ করার মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করবে।
প্রতিবেশীদের সাথে খারাপ আচরণ করা হারাম, এ ব্যাপারে দলীল দিবে।
ভূমিকা:
আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অনেক বেশী অসিয়ত করেছেন। এবং তাদের অধিকারকে আবশ্যক করেছেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সর্বদা জিবরীল আমাকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসীয়ত করতেন, এমনকি আমি ধারণা করলাম অচিরেই হয়ত তাকে ওয়ারিস বানিয়ে দেওয়া হবে।” এটি বুখারী (6014) ও মুসলিম (2625) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত অসীয়ত পূর্ণতা সহকারে পালন করেছিলেন। যার প্রমাণ পাওয়া যায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে:
প্রতিবেশীদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহ:
প্রতিবেশীদের প্রতি ইহসান করা:
প্রতিবেশীদের সাহায্য করা
তাদের জন্য কল্যাণকে পছন্দ করা
তাদের সুখ-দুঃখে শরীক হওয়া
প্রতিবেশীর দেওয়া কষ্ট সহ্য করা
প্রতিবেশী থেকে কষ্ট প্রতিহত করা
প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করা এবং তাকে সম্মান করতে আদেশ করেছেন, একে আল্লাহ তা‘আলার উপরে পূর্ণ ঈমানের আলামত হিসেবে গণ্য করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: مَنْ كان يُؤْمِنُ باللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُحْسِنْ إِلَى جَارِهِ তথা: “যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং আখিরাতের উপরে ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করে।” মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন (৪৮)।
প্রতিবেশীর সাহায্য করা এবং তাদের কল্যাণ কামনা করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিবেশীর অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতেন, পার্থিব বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সাহায্য করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ঐ ব্যক্তি মুমিন নয়, যে তৃপ্তি সহকারে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।” (বাইহাকী: ২০১৬০)। অর্থ্যাৎ যে ব্যক্তি জানে যে, প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত রয়েছে এবং সে তাকে সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে কিন্তু সে সাহায্য করে না।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতিবেশীর কল্যাণ চাইতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার প্রতিবেশীর জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।” মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন (৪৫)।
প্রতিবেশীর সুখে-দুঃখে শরীক হওয়া:
প্রতিবেশীর এমন কাউকে প্রয়োজন হয়, যে ব্যক্তি তার আনন্দ অনুষ্ঠানে তার সাথে শরীক হবে, যেমন: বিবাহ, আকীকা এবং সফলতা ইত্যাদিতে। অনুরূপভাবে এমন এক ব্যক্তি যে সংকটময় পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়াবে এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে, যেমন: অসুস্থতার সময়ে অথবা তার আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যুতে অথবা অন্যান্য প্রতিকুল সময়ে।
প্রতিবেশীর দেওয়া কষ্ট সহ্য করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাতে তার কাফির প্রতিবেশীর দেওয়া কষ্ট সহ্য করেছিলেন। বিশেষভাবে যখন তিনি প্রকাশ্য দাও‘আতের কাজ শুরু করেছিলেন। যেমন: আবু লাহাব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি-গালাজ করত এবং তাকে মিথ্যা দোষে অভিযুক্ত করত। তার স্ত্রী উম্মু জামীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাড়ীর সামনে কাঁটা বিছিয়ে রাখত, এরপরেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত অত্যাচারের ব্যাপারে কোন প্রতিশোধ নেননি।
প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিবেশীদেরকে কষ্ট দিতেন না এবং প্রতিবেশীদের কষ্ট দিতেও তিনি নিষেধ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের ওপর ঈমান রাখে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয় ...।” এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন (৬০১৮)।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি খুঁজে বের করব এবং বাক্য রচনা করব:
তোমার সহপাঠীর সাথে সহযোগিতায় অংশগ্রহণ কর এবং নিচের দলীলসমূহ থেকে প্রতিবেশীর প্রতি উত্তম আচরণ এবং তাদের কষ্ট দেওয়ার স্বরূপ খুঁজে বের কর:
দলীল উত্তম আচরণের স্বরূপ অথবা কষ্ট দেওয়ার স্বরূপ
এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! এক মহিলার ব্যাপারে বলা হয় যে, সে অধিক পরিমাণে সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে এবং সদকা করে থাকে, তবে এর বাইরে সে তার জিহ্বা (ভাষার) দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সে জাহান্নামে যাবে।” এটি আহমাদ বর্ণনা করেছেন (৯৬৭৫)। প্রতিবেশীকে গালি দেওয়া এবং তাদেরকে খারাপ কথা বলা।
আবু যার রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: নিশ্চয় আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আদেশ করে বলেছেন: “তুমি যখন ঝোল তরকারী রান্না করবে, তখন তাতে বেশী পরিমাণে পানি যোগ কর। তারপরে তোমার প্রতিবেশীর ঘর দেখ, আর তাদেরকে সৌজন্যমূলকভাবে তাতে অংশীদার বানাও।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৬২৫)।
প্রতিবেশীর প্রয়োজনীয় বস্তু দেওয়া:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উল্লেখ করেছেন, এক কাবীরা গুনাহ হলোঃ “তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।” এটি বুখারী (৪৪৭৭) ও মুসলিম (৮৬) বর্ণনা করেছেন।
প্রতিবেশীর সম্মান ও ইজ্জতের ওপর সীমালঙ্ঘন করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “এক প্রতিবেশী অন্য প্রতিবেশীকে তার প্রাচীরে কাঠ পুঁততে যেন নিষেধ না করে।” এটি বুখারী (২৪৬৩) ও মুসলিম (১৬০৯) বর্ণনা করেছেন।
প্রতিবেশীর উপকার এবং সুবিধা হয় এমন কাজের সুযোগ করে দেয়া।
অনুশীলন (২): আমি সাহায্য করব এবং তুলনা করব:
প্রতিবেশীদের প্রতি উত্তম আচরণের ক্ষেত্রে তুমি তোমার সহপাঠীদেরকে এমন কিছু পন্থা বের করার ব্যাপারে সাহায্য কর, যেগুলো তোমরা তোমাদের প্রতিবেশীদের জন্য করতে পারবে এবং তাতে নিচের প্রতিটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
অনুশীলন (৩): আমি নিজের মূল্যায়ন করব:
তোমার প্রতিবেশীদের সাথে তোমার আচরণের আলোকে নিজের মূল্যায়ন কর আর এক্ষেত্রে তোমার উপযুক্ত পয়েন্টের পাশে একটি চিহ্ন দাও। জ্ঞাতব্য যে, মোট স্কোর (১৫)। স্কোর বণ্টন হবে এভাবে: (৩ স্কোর) “সর্বদা”(ভাল) এর জন্য, (২ স্কোর) “কখনো কখনো” এর জন্য এবং (১ স্কোর) “বিরল” এর জন্য।
মীম বাক্য উত্তরের স্তর:
সর্বদা কখনো কখনো বিরল:
১- আমি আমার প্রতিবেশীর সাথে উত্তম ব্যবহার করি।
২- আমি আমার প্রতিবেশীর কল্যাণকে পছন্দ করি।
৩- আমি আমার প্রতিবেশীকে উপঢৌকন পাঠাই।
৪- প্রয়োজনে আমি আমার প্রতিবেশীকে সাহায্য করি।
৫- প্রতিবেশীর সাথে ভালো ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করি।
সর্বমোট স্কোর
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতিবেশীর অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব প্রদান করার আদেশ দিয়েছেন। (✓)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার আত্মীয়দের খুশিতে খুশি হতেন এবং তাদের দুঃখে দুঃখী হতেন। (✓)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রতিবেশীদের সাথে চলাচল থেকে দূরেন থাকতেন, যাতে তিনি তাদের কষ্ট না দেন। (✖)
প্রতিবেশীদেরকে কোন উপঢৌকন দেওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকলেই হবে। (✖)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
হাদীস “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপরে ঈমান রাখে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।” এটি প্রমাণ করে:
(প্রতিবেশীর অকল্যাণ করা হারাম - প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করার প্রতি আদেশ - প্রতিবেশীকে নসীহতের আদেশ)
হাদীস “ঐ ব্যক্তি মুমিন নয়, যে তৃপ্তি সহকারে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।” হাদীসটি প্রতিবেশীকে সহযোগিতার উৎসাহ দেয়:
(পানি দ্বারা - খাদ্য দ্বারা - উদ্বেগ দ্বারা)
প্রতিবেশীদের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহর মধ্যে রয়েছে সহ্য করা:
(তাদের বোঝা- তাদের ঈমান - তাদের কষ্ট)
প্রশ্ন ৩: প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণের তিনটি উপায় লেখ।
তৃতীয় পাঠ: ছোটদের সাথে ব্যবহারের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য:
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
ছোটদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ সংক্রান্ত সুন্নাহসমূহ ব্যাখ্যা করবে।
ছোটদের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যবহারের ব্যাপারে দলীল উল্লেখ করবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরনে ছোটদের সাথে উত্তম আচরণ করবে।
ছোটদের লালন-পালনের ক্ষেত্রে ইসলামের গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
ছোটদের লালন-পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রম ব্যয় করতে পারবে।
ছোটদের সাথে ব্যাবহারের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহ:
জন্ম থেকেই তাদের প্রতি গুরুত্বারোপ।
তাদের সাথে অনুগ্রহ এবং কোমল আচরণ করা।
তাদের শিক্ষা-দীক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্ব প্রদান করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছোট বাচ্চারা অনেক গুরুত্ব পেত। তিনি তাদের প্রতি খুবই দায়ালু ছিলেন, তাদের শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী ছিলেন, তাদের সাথে উত্তম আচরণ করতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ছোট বাচ্চাদের সাথে আচরণের বিষয়টি নিম্নোক্ত পয়েন্টের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে:
প্রথমত: জন্ম থেকেই তাদের প্রতি গুরুত্বারোপ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদ্য প্রসূত বাচ্চাদের ব্যাপারে অতন্ত্য গুরুত্ব দিতেন, যার মধ্যে রয়েছে:
বাচ্চার কানে আযান দেওয়া: যেন তার কাছে তাওহীদ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় এবং শয়তান থেকে তাকে হিফাযত করা যায়। হাসান ইবনু আলী রদিয়াল্লাহু আনহুর জন্মের পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কানে আযান দিয়েছিলেন।
বাচ্চাদের তাহনীক করা। এটি একটি খেজুর চিবিয়ে বাচ্চার মুখের ভিতরে মুছে দেওয়া। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবাইর রদিয়াল্লাহু আনহুর জন্মের পরে তিনি করেছিলেন।
ছোট বাচ্চাদের ঝাড়ফুঁক করা এবং শয়তান থেকে তাদেরকে হিফাযতের জন্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশ্রয় চাওয়া। যেমন তিনি হাসান এবং হুসাইন রদিয়াল্লাহু আনহুমার ক্ষেত্রে করেছিলেন।
দ্বিতীয়ত: অনুগ্রহ, নম্রতা এবং স্নেহ সহকারে তাদের সাথে ব্যবহার করা:
আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেনঃ “আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা পরিবারের প্রতি অধিক অনুগ্রহশীল আর কাউকে দেখিনি।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৩১৬)।
নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর মধ্য দিয়ে শিশুদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটেঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক ছোটদেরকে কোলে নেওয়া:
এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অধিক পরিমাণে ঘটেছে তার দৌহিত্রদ্বয় হাসান, হুসাইন এবং তার মেয়ে যায়নাবের কন্যা উমামা বিনতু আবিল ‘আস রদিয়াল্লাহু আনহুমের ক্ষেত্রে।
তাদের সাথে খেলাধুলায় অংশ নেওয়া:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিনয়-নম্রতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে, তিনি তার স্বজনদের বাচ্চাদের একটি লাইনে দাঁড় করিয়ে বলতেন: “যে আমার কাছে আগে আসবে তাকে এ পরিমাণ এ পরিমাণ (পুরষ্কার) দেওয়া হবে।”
তখন তারা তাঁর দিকে দৌড়ে যেত এরপরে পিঠে ও বুকে উঠতেন। তখন তিনি তাদের চুমু দিতেন...। হাদীসটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন (১৮৩৬)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের সাথে খাবারে শরীক হতেন এবং তাদেরকে খাবারের আদব শিক্ষা দিতেন:
এর মধ্যে রয়েছে, যা তিনি উমার ইবনু আবী সালামাহ রদিয়াল্লাহু আনহু-কে বলেছিলেন: “হে বালক! আল্লাহর নাম নাও, তোমার ডান হাত দিয়ে খাও এবং তোমার সামনের থেকে খাও।” এটি বুখারী (৫৩৭৬) ও মুসলিম (২০২২) বর্ণনা করেছেন।
বাচ্চাদের স্নেহ এবং অধিকার সংরক্ষণ করা:
এর একটি উদাহরণ, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মজলিসে ছিলেন, তাঁর ডানে একটি বাচ্চা আর বামে বয়স্ক লোকেরা ছিলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাচ্চাটিকে উদ্দেশ্য করে বললেন: “হে বালক! তুমি কী আমাকে(তোমার পূর্বে পানপাত্রটি) বয়স্কদের দেওয়ার অনুমতি দিবে?” বালকটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার (বরকতের) অংশ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আমি অন্য কাউকে প্রাধান্য দিব না। তখন তিনি তাকে তা দিয়ে দিলেন। এটি বুখারী (২৩৫১) ও মুসলিম (২০৩০) বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয়ত: তাদের লালন-পালন ও শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ:
তাদেরকে লেখা-পড়া শিক্ষা দেওয়া:
এ বিষয়টি বদরের যুদ্ধের কতিপয় যুদ্ধবন্দীদের ব্যাপার থেকে প্রমান পাওয়া যায়, যারা মুক্তিপন আদায়ের জন্য কোন কিছু যোগাড় করতে পারেনি, তাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশজন মুসলিম বাচ্চাকে লেখাপড়া শিখানোর দায়িত্ব দিয়েছিলেন। (ত্ববাকাত ইবনি সা‘দ, ২/২২)।
তাদের সঠিক আকীদা শিক্ষা দেওয়া:
এর উদাহরণ হচ্ছে, যা তিনি ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন: “হে বালক! আমি তোমাকে কয়েকটি (গুরুত্বপূর্ণ) কথা শিক্ষা দিব (তুমি সেগুলো স্মরণ রেখো)। তুমি আল্লাহকে (বিধানসমূহকে) রক্ষা কর তাহলে আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহর হকসমূহ রক্ষা কর, তাহলে তুমি তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে। যখন তুমি চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে। আর যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তখন একমাত্র আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করবে।” এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন (২৫১৬)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তাদের কে ইবাদাত ও নৈতিকতায় অভ্যস্ত হওয়ার নির্দেশ প্রদান:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততিদের সালাতের আদেশ দাও; যখন তারা সাত বছরের হবে। আর তারা যখন দশ বছরের হবে, তখন তাদের সালাতের জন্য প্রহার কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।” এটি আবূ দাঊদ বর্ণনা করেছেন (৪৯৫)।
অনুরূপভাবে অন্যান্য ইসলামী আদব শিক্ষাদান, যেমন: সত্যবাদিতা, আমানত রক্ষা এবং বড়দের সম্মান করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাফিরদের সাথে ছোটদের সাদৃশ্য রাখাতে নিষেধ প্রদান:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবনের সকল ক্ষেত্রে, এমনকি পোশাক-পরিচ্ছদ, বিশেষভাবে সন্তান লালন-পালনের ক্ষেত্রে কাফেরদের অনুকরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন। এর মধ্যে একটি অন্যতম বিষয় হচ্ছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাযা‘ থেকে নিষেধ করেছেন। কযা‘ হচ্ছে: কোন বাচ্চার মাথার কিছু চুল মুণ্ডন করা এবং কিছু রেখে দেওয়া। এটি বুখারী (৫৯২০) ও মুসলিম (২১২০) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি সহযোগিতা করব এবং খুঁজে বের করব:
তোমার সহপাঠীদেরকে সহযোগিতা কর এবং নিচের বিষয়গুলি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিশুদের সাথে আচরণের কোন দিকগুলি ফুঁটিয়ে তোলে, তা খুঁজে বের কর:
অবস্থান যে দিকগুলি ফুঁটিয়ে তোলে
একদা আকরা ইবনু হাবিস রদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসান রদিয়াল্লাহু আনহুকে চুমু দিতে দেখে বললেন: আমার দশটি সন্তান রয়েছে আমি কখনও তাদের কাউকে চুমু দেইনি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দিকে তাকিয়ে বললেন: “যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না।” এটি বুখারী (৫৯৯৭) ও মুসলিম (২৩১৮) বর্ণনা করেছেন। স্নেহশীল হয়ে বাচ্চাদেরকে চুমু দেওয়া এবং তাদের মুহাব্বাত করা।
আনাস রদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের সাথে ব্যবহারের দিক থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন।আমার একটি ভাই ছিল, যার নাম আবু উমাইর। আর নবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে তাকে দেখে বললেন: “হে আবু উমাইর, নুগাইর (পাখি) কী করল?” এটি বুখারী (৬১২৯) ও মুসলিম (২১৫০) বর্ণনা করেছেন। নুগাইর: একটি ছোট পাখি। শিশুদেরকে আদর এবং তাদের সাথে খেলা করা।
অনুশীলন (২): আমি পড়ব এবং নির্ধারণ করব:
নিম্নে তোমার আচরণ এবং অনুভূতি প্রকাশ করে এমন বিষয়টির সামনে চিহ্ন দাও:
মীম আচরণ ও অনুভূতি আচরণ অথবা অনুভুতির স্তর
বড় মধ্যম দূর্বল
১- আমি যখন মুসলিম বাচ্চাদের কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য রাখতে দেখি, তখন চিন্তিত হয়ে পড়ি।
২- যখন আমি বাচ্চাদের কুরআন কারীম শিখতে দেখি, তখন ভালো লাগে।
৩- আমি আমার ছোট বোনদের ব্যাপারে গুরুত্ব দেই না।
৪- আমি আমার সন্তানদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহ শিক্ষা দেওয়ার উপর গুরুত্ব দিই।
৫- আমি আমার সন্তানদেরকে বাড়িতে রেখে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হব।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১:নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের সাথে খেলা থেকে বিরত থাকতেন। (×)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ছোটদেরকে ভালবাসার মধ্যে একটি অন্যতম বিষয় হচ্ছে তিনি শিশুদেরকে তার কাঁধে বহন করতেন। (✓)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের প্রতি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দয়ালু ছিলেন। (✓)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিশুদের কে চুম্বন করতে নিষেধ করেছেন। (×)
শিশুকে আকীদা সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তার যৌবনে পৌঁছানো পর্যন্ত বিলম্ব করা আবশ্যক। (×)
প্রশ্ন ২: নিম্নের ছকটি পূর্ণ করার মাধ্যমে শিশুদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের প্রতি প্রদত্ত গুরুত্বের পরিধি নির্ধারণ কর:
বয়সের পর্যায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বের স্বরূপ
শিশুদের জন্মের সময়।
সাত বছর বয়স এবং এর আগের সময়।
দশ বছর বয়স।
প্রশ্ন ৩: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণগত সুন্নাহ থেকে একটি করে বাস্তব উদাহরণ পেশ কর, যা নিম্নলিখিত বিষয়গুলির প্রমাণ বহন করে:
১. ছোটদের সাথে খেলাধুলা করা।
২. ছোটদেরকে উপকারী বিষয় শিক্ষা দেওয়া।
চতুর্থ পাঠ: অমুসলিমদের সাথে আচরণের দিক থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ থেকে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি অমুসলিমদের সাথে আচরণের পদ্ধতি সম্পর্কে জানবে।
তুমি অমুসলিমদের সাথে আচরণ করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্যাগুলো ব্যাখ্যা করবে।
বিরোধীদের সাথে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম ব্যবহারের দৃষ্টান্ত পেশ করবে।
অমুসলিমদের সাথে আচরণে নৈতিক মূল্যবোধের গুরুত্ব অনুভব করবে।
অমুসলিমদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুকরণ করবে।
কিছু লোক মনে করে, ধর্মের ভিন্নতার কারণে বিরোধীদের সাথে খারাপ আচরণ করা আর তাদের উপর যুলুম করা বৈধ। অমুসলিমদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত আচরণের বিষয়গুলি অধ্যয়ন করার মাধ্যমে এটি ভুল বলে প্রমাণিত হবে:
অমুসলিমদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ:
সর্বোত্তম উপায়ে তাদেরকে ইসলামের প্রতি দাও‘আত দেওয়া।
তাদের সাথে আচার-ব্যবহারকে উত্তম করা।
তাদের সাথে ন্যায়-বিচার নিশ্চিত করা এবং তাদের উপর যুলুমকে হারাম ঘোষণা করা।
তাদের ব্যক্তিগত অধিকার আদায় করা।
দীন গ্রহণে জবরদস্তি না করা।
প্রথমত: দীন গ্রহণে জবরদস্তি না করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকেই ইসলামে প্রবেশের জন্য জোর করেননি। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: لَآ إِكۡرَاهَ فِي ٱلدِّينِۖ قَد تَّبَيَّنَ ٱلرُّشۡدُ مِنَ ٱلۡغَيِّۚ তথা: “দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই, নিশ্চয় ভ্রান্তি হতে সুপথ প্রকাশিত হয়ে গেছে ।” (সূরা আল-বাকারাহ : ২৫৬)। যদি ঈমান আনয়নে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে জোর করতেন, তাহলে চাচা আবু তালিব ও পরিবারের অন্যান্য লোকদের উপরই করতেন।
বিশ্বাসের স্বাধীনতা মানে তাদের ভ্রান্ত বিশ্বাসকে অনুমোদন করা নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের পর, আল্লাহ তা‘আলা ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন মানুষের কাছ থেকে গ্রহণ করবেন না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ وَهُوَ فِي ٱلۡأٓخِرَةِ مِنَ ٱلۡخَٰسِرِينَ তথা: “আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা আলে-ইমরান : ৮৫)।
দ্বিতীয়ত: সর্বোত্তম পদ্ধতিতে তাদের কে ইসলামের দাও‘আত দেওয়া:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে উত্তম উপদেশের মাধ্যমে দাও‘আত দিয়েছেন। সেই সাথে কথার আদবও রক্ষা করেছেন। এ ব্যাপারে উতবাহ ইবনু রাবিয়াহ আল-কুরাশী এবং মদীনাতে আগত নাজরানের খ্রিস্টানদের সাথে তার বিতর্ক একটি অন্যতম উদাহরণ বটে।
অমুসলিমদের প্রতি দাও‘আতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি নমণীয় ও স্পষ্টতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত চমৎকার ছিল। একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনার ইহুদীদের কাছে গিয়ে তাদেরকে ডেকে বললেন: يَا مَعْشَرَ يَهُودَ، أَسْلِمُوا تَسْلَمُوا» فقالوا: قد بلغت يا أبا القاسم তথা: “হে ইহুদীগণ, তোমরা ইসলাম গ্রহণ করলে শান্তিতে থাকবে।” তথন তারা বলল: হে আবুল কাসিম! তুমি ইতোমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছ। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১৭৬৫)।
তৃতীয়ত: তাদের সাথে উত্তম আচরণ করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বে-সামরিক কাফেরদের সাথে করুণা করেছেন। তাকে বলা হয়েছিল: হে আল্লাহর রাসূল, মুশরিকদের বিরুদ্ধে বদ-দু‘আ করুন। তিনি বললেন: “আমি অভিসম্পাতকারী হিসেবে নয়, বরং রহমত হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (২৫৯৯)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ অবস্থানগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে: পাহাড়ের দায়িত্বশীল ফেরেশতা এসে বলেছিলেন: হে মুহাম্মাদ, যদি আপনি ইচ্ছা করেন, তাহলে আমি তাদের উপর মক্কার দুটি পাহাড়কে চাপিয়ে দিতে পারি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: "বরং, আমি আশা করি যে, আল্লাহ তাদের পরবর্তী বংশধরদের মধ্য থেকে এমন লোকদের বের করবেন, যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করবে আর তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না।" এটি বুখারী (৩২৩১) ও মুসলিম (১৭৯৫) বর্ণনা করেছেন।
অষ্টম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের দিনে যখন মক্কায় প্রবেশ করেছিলেন, সেদিন মক্কার অধিবাসীদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
চতুর্থত: তাদের সাথে ন্যায়-বিচার নিশ্চিত করা এবং তাদের উপর যুলুম করাকে হারাম ঘোষণা করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পত্তি, রক্ত, সম্মান, বা চুক্তিতে অমুসলিমদের উপর কখনো যুলুম করেননি। হুদায়বিয়াহর চুক্তির (৬ষ্ঠ হিজরী) পর তিনি মক্কার কুরাইশদের সাথে তার ওয়াদার পূর্ণ বাস্তবায়ন করেছিলেন আর তাদের খিয়ানাতের কারণেই মক্কা বিজয় হয়েছিল। আবার তিনি ইহুদীদের সাথে তার ওয়াদাসমূহের পূর্ণতার ক্ষেত্রে যত্নবান ছিলেন, তাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণ ছাড়া তিনি তাদেরকে সেখান থেকে বহিষ্কার করেননি।
পঞ্চমত: তাদের ব্যক্তিগত অধিকার আদায় করা।
যেমন: তাদের রোগী দেখতে যাওয়া, উপহার দেওয়া এবং ক্রয়-বিক্রয়ে তাদের সাথে লেনদেন করা। একবার জনৈক ইহুদী বালক অসুস্থ হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে দেখতে গিয়ে মাথার কাছে বসে বললেন: "ইসলাম গ্রহণ কর।" বালকটি তার পিতার দিকে তাকালে তার পিতা বললেন: আবুল কাসিমের আনুগত্য কর। তখন বালকটি ইসলাম গ্রহণ করল। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উঠে দাঁড়িয়ে বললেন: “আল্লাহরই সকল প্রশংসা যিনি তাকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে রক্ষা করেছেন।” এটি সহীহ বুখারী (১৩৫৬) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন(১): ফলাফল বের করবো:
তোমার শিক্ষককে অনুসরণ করে, অমুসলিমদের সাথে আচরণ করার উপায় সম্পর্কে নিম্নলিখিত দলীলগুলি কী নির্দেশ করে, তা খুঁজে বের কর:
দলীল যে অর্থের প্রতি নির্দেশ করে
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় মুশরিকদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করতে যেয়ে বলতেন: “হে মানুষেরা! তোমরা বল: ‘আল্লাহ ছাড়া কোন প্রকৃত মাবূদ নেই’, তাহলে তোমরা সফল হবে।” এটি আহমাদ (১৬০২৩) বর্ণনা করেছেন। তাদের হিদায়াতের জন্য এবং তাদেরকে সর্বোত্তম পন্থায় ইসলামের পথে দাও‘আত দেওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহী হওয়া:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোন চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।” এটি বুখারী (৩১৬৬) বর্ণনা করেছেন। চুক্তি পূর্ণ করা এবং বে-সামরিক জনগণের উপর চড়াও না হওয়া।
অনুশীলন (২): আমি একমত অথবা একমত নই:
একজন অমুসলিম ব্যক্তির সাথে ভালো আচরণ করা এবং তার মিথ্যা ধর্মকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এর মাধ্যমে, নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে কী করতে হবে তা ব্যাখ্যা কর:
অবস্থান আমি একমত আমি একমত নই কারণ
তুমি তোমার একজন মুসলিম প্রতিবেশীকে একজন অমুসলিম ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে প্রহার করতে দেখলে। কেননা ইসলাম অন্যায়ভাবে অন্যের উপরে চড়াও হওয়াকে নিষিদ্ধ করেছে।
একজন অমুসলিম সহপাঠী তোমাকে একটি উপহার দিয়েছে এবং তার ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য তোমাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। কেননা এ উপহারটি আমার দীন পরিত্যাগ করার উদ্দেশ্য নিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এতে আমার অন্তরে প্রভাব পড়তে পারে।
একজন সহপাঠী তোমাকে তার গির্জা বা মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানাল। কেননা আমার সেখানে উপস্থিত হওয়া তাদের আকীদাকে স্বীকৃতি দেওয়ার নামান্তর।
কাজের মধ্যে তোমার অমুসলিম সহপাঠী অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তাই কেউ তোমাকে হাসপাতালে তাকে দেখতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। কেননা এতে তাদের প্রতি উত্তম আচরণ করা হয়। এবং এটি তাদেরকে ইসলামের প্রতি আগ্রহী করে তোলার একটি পদ্ধতি।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
ন্যায়-বিচার মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ের সাথেই আবশ্যক। (✓)
চুক্তির পূর্ণতা বে-সামরিক লোকদের জন্য সংরক্ষিত। (✖)
মুশরিকদের ধংস করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাহাড়ের দায়িত্বশীল ফেরেশতার প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিলেন। (✖)
মুসলিমদের জন্য গীর্জাতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাওয়া বৈধ। (✖)
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত পয়েন্ট থেকে সঠিকটি বাছাই কর:
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: لَآ إِكۡرَاهَ فِي ٱلدِّينِۖ قَد تَّبَيَّنَ ٱلرُّشۡدُ مِنَ ٱلۡغَيِّۚ তথা: “দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কোন জোর-জবরদস্তি নেই, ভ্রান্তি থেকে সুপথ প্রকাশিত হয়ে গেছে।” আমাদেরকে নির্দেশ করে:
অমুসলিমদেরকে দাও‘আত দেয়া, তবে তাদের স্বাধীনতা প্রদান করা সাপেক্ষে।
বিশ্বাসের স্বাধীনতার নীতি বাস্তবায়নের জন্য অমুসলিমদের দাওয়াত দেওয়া থেকে বিরত থাকা।
ইসলামী বিশ্বাসের বর্ণনা করা এবং কাফিরদেরকে তা গ্রহণে বাধ্য করা।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَمَن يَبۡتَغِ غَيۡرَ ٱلۡإِسۡلَٰمِ دِينٗا فَلَن يُقۡبَلَ مِنۡهُ তথা: “যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন অন্বেষণ করবে, তার কাছ থেকে তা কখনোই গ্রহণ করা হবে না।” এতে দলীল রয়েছে:
ইসলাম ছাড়া পৃথিবীতে অন্য কোন দীন / ধর্ম নেই।
ইসলাম ছাড়া প্রতিটি ধর্মই বাতিল।
অমুসলিম ব্যক্তি মাত্রই হত্যা করা আবশ্যক।
প্রশ্ন ৩: অমুসলিম রোগীকে দেখতে যাওয়ার হুকুম কী? এ ব্যাপারে দলীল কী?
পঞ্চম পাঠ: মুসলিমদের অধিকার
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুুমি মুসলিমদের অধিকারসমূহ বর্ণনা করবে।
পাঠ্যাংশে উল্লেখিত হাদীসগুলোর শব্দার্থ ব্যাখ্যা করবে।
পাঠ্যাংশে উল্লেখিত হাদীসের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তুর সারমর্ম লিখবে।
মুসলিমদের হক (অধিকার) আদায় করবে।
হাদীসটি মুখস্ত করবে।
ভূমিকা:
নিম্নোক্ত প্রতিটি প্রেক্ষাপটে তোমার অনুভূতি বর্ণনা কর:
তুমি তোমার কোন প্রতিবেশীকে সালাম দিলে অথচ সে কোন জবাব দিল না।
তুমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে কিন্তু তোমার কোন সহপাঠী বন্ধু তোমাকে দেখতে আসলো না।
তুমি তোমার বন্ধুদেরকে একটি খাবার আয়োজনে দাও‘আত করলে, কিন্তু তাদের অনেকেই সেখানে আসলো না।
পূর্বের দেওয়া আচরণগুলো হাদীস শরীফে উল্লেখিত বিষয়ের সাথে তুলনা কর:
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাঁচটি: ১. সালামের জবাব দেওয়া, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ-খবর নেওয়া, ৩. জানাযায় শরীক হওয়া, ৪. দাও‘আত কবুল করা এবং ৫. হাঁচিদাতার জবাব দেওয়া।” এটি বুখারী (১২৪০) ও মুসলিম (২১৬২) বর্ণনা করেছেন।
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ তার অর্থ
عِيَادَةُ الْمَرِيضِ রোগীকে দেখতে যাওয়া।
إِجَابَةُ الدَّعْوَةِ (দাওয়াত কবূল করার অর্থ) কোন মুসলিম খাবারের জন্য আহবান করলে সেখানে উপস্থিত হওয়া।
تَشْمِيتُ الْعَاطِسِ (এর অর্থ হলো) يَرْحَمَكُمُ اللهُ (আল্লাহ তোমাদেরকে রহমত করুন) বলে তার জন্য দু‘আ করা।
হাদীসের বর্ণনাকারীর জীবনী:
তার নাম: আব্দুর রহমান ইবনু সখর আদ-দাউসী রদিয়াল্লাহু আনহু।
তিনি ৭ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত পর্যন্ত তিনি তাঁর সঙ্গ অপরিহার্য করেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্মরণশক্তি এবং মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় হওয়ার জন্য দু‘আ করেছিলেন। সাহাবীদের মধ্য তিনি সবচেয়ে বেশী হাদীসের হাফিজ ছিলেন, সবচেয়ে বেশী বর্ণনাও করেছেন। তিনি ৫০০০ এর বেশী হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তিনি আলিম সাহাবীদের একজন ছিলেন। আর মুসলিমদেরকে সর্বাধিক শিক্ষাদানকারী এবং সর্বাধিক দাও‘আত প্রদানকারী ছিলেন।
তিনি (রদিয়াল্লাহু আনহু) ৫৯ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
ইসলাম রয়েছে একটি সুদৃঢ় সমাজ গঠনের লক্ষ্য; এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলিমের উপর তার অন্য মুসলিম ভাইদের প্রতি এমন কিছু অধিকার দিয়েছেন, যা অবশ্যই আদায় করতে হবে। এই হাদিসটি সেই অধিকারগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
উপকারীতা এবং দিক-নির্দেশনা:
শারী‘আতের দৃষ্টিতে মুসলিমদের হক (অধিকার) এর গুরুত্ব।
মুসলিমদের হক আদায়ের উপরে উৎসাহ দেওয়া।
মুসলিমদের অন্তরকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারে এমন বিষয়সমূহে ইসলামের গুরুত্ব।
তার অন্য মুসলিম ভাইদের উপরে একজন মুসলিমের হক হচ্ছে:
সালাম দেওয়া হলে, সে সালামের জবাব দেবে।
অসুস্থ হলে দেখতে যাবে।
মারা গেলে জানাযাতে শরীক হবে।
আকীকা বা অনুরূপ কোন অনুষ্ঠানে তাকে দাও‘আত দিলে, সে সেখানে উপস্থিত হবে।
হাঁচি দিয়ে সে আল-হামদুলিল্লাহ বললে, তার জবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ (আল্লাহ তোমাকে রহমত করুন) বলা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি চিন্তা করে নির্দিষ্ট করব:
পাঠ্য হাদিসটি সম্পর্কে তোমার বুঝ অনুযায়ী, উপযুক্ত ক্ষেত্রে একটি টিক চিহ্ন (√) দিয়ে নিচের কোনটি হাদীস দ্বারা নির্দেশিত এবং কোনটি হাদীস দ্বারা নির্দেশিত নয়, তা বর্ণনা কর:
অর্থ হাদীসে যা প্রমাণ রয়েছে হাদীসে যা প্রমাণ হয় না
মুসলিমের অধিকার শুধু পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট।
এ পাঁচটি বিষয় ছাড়াও মুসলিমদের অন্য অধিকার রয়েছে।
মুসলিমদের অধিকারের মধ্যে রয়েছে, তোমাকে যখন তার কোন অনুষ্ঠানে দাও‘আত দেবে, তখন তুমি সেখানে উপস্থিত হবে।
অনুশীলন (২): আমি পড়ে জবাব দেব:
একজন মুসলিমের আরো অধিকার রয়েছে যা এ হাদীসে উল্লেখ করা হয়নি। নিম্নলিখিত দলীলগুলো বিবেচনা কর, তারপর একজন মুসলমানের অধিকার সম্পর্কে সেখানে কী নির্দেশ করা হয়েছে তা বাছাই কর। এবং নিম্নের ছকে তার নির্দেশিত সংখ্যাটি লিপিবদ্ধ কর:
শত্রু কর্তৃক বন্দী হলে তাকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা করা।
গীবত ও তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দাগিরী পরিহার করা।
তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং ঝগড়া না করা।
আইন সঙ্গত কারণ ব্যতীত তার সম্পদ গ্রহণ না করা।
মীম দলীল মুসলিমদের অধিকার
১-আল্লাহ তা‘আলার বাণী: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ তথা: “হে ঈমানদারগণ, তোমরা তোমাদের নিজেদের মধ্যে তোমাদের মালকে অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।” (সূরা আন-নিসা: ২৯)।
২-আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَلَا تَجَسَّسُواْ وَلَا يَغۡتَب بَّعۡضُكُم بَعۡضًاۚ তথা: “আর তোমরা গোয়েন্দাগিরী করো না এবং একে অপরের গীবত করো না।” (সূরা আল-হুজুরাত: ১২)।
৩- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “তোমরা বন্দীদের মুক্ত কর, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও এবং অসুস্থকে দেখতে যাও।” এটি বুখারী (৩০৪৬) বর্ণনা করেছেন।
৪- রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “কোন মুসলিমের জন্য তার ভাইকে তিন দিনের বেশী পরিত্যাগ করা বৈধ নয়।” এটি বুখারী (৬০৬৫) ও মুসলিম (২৫৫৯) বর্ণনা করেছেন।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
পাঠ্য হাদীসটি মুসলিমদের সকল অধিকার একত্রিত করেছে। (×)
একজন মুসলিমের জন্য তার মুসলিম ভাইয়ের অনুভূতির প্রতি খেয়াল রাখা কর্তব্য। (√)
হাঁচিদাতার জবাব দেওয়া আবশ্যক, যদিও সে আল-হামদুলিল্লাহ না বলে। (×)
ইলমের গুরুত্বের ব্যাপারে আমি হাদীসের বর্ণনাকারীকে অনুসরণ করব। (√)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
হাদীসে উল্লেখিত মুসলিমদের হক বা অধিকারের মধ্যে রয়েছে:
(বয়স্ক হলে তাকে সম্মান করা- অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া- তার ব্যাপারে ভালো ধারণা করা)
উপরোক্ত হাদীসে মুসলিমের যে অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়নি:
(সে অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া - তার সালামের জবাব দেওয়া - তার থেকে যুলুম দূর করা)
মুসলিমের অধিকারের মধ্যে রয়েছে- যখন সে মৃত্যুবরণ করবে:
(জানাযাতে শরীক হওয়া - তার জন্য দু‘আ করা - উভয়টি)
প্রশ্ন ৩: মুসলিমের কিছু অধিকার সম্পর্কে তোমার জানার ভিত্তিতে, নিম্নলিখিত প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি করে সমাধানের পরামর্শ দাও:
একজন গরীব লোক তোমার মসজিদে সালাত আদায় করে, এবং সে একটি সামান্য পেশায় কাজ করে।
কিছু তরুণ দূর্বলতা ও পুরাতন পোষাকের জন্য লোকটিকে ঠাট্টা করে থাকে।
কিছু লোকেরা তাদের প্রতিবেশীদের সাথে গর্ব করে থাকে; কেননা তারা অন্য রাষ্ট্র থেকে এসেছে।
ষষ্ঠ পাঠ: আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ফযীলত
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ফযীলত বর্ণনা করবে।
পাঠ্যাংশে উল্লেখিত হাদীসগুলোর শব্দার্থ ব্যাখ্যা করবে।
পাঠ্য হাদীসটির সাধারণ অর্থের সারমর্ম বর্ণনা করবে।
হাদীসটি যে সকল বিষয়ের প্রতি নির্দেশনা দেয়, তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করবে।
হাদীসটি মুখস্ত করবে।
তোমার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবে।
ইসলাম পিতামাতার প্রতি ভালো ব্যবহার ওয়াজিব করেছে। তবে কি শুধু পিতামাতার প্রতি ভালো ব্যাবহারের উপরেই সীমাবদ্ধ? নাকি মুসলিমদের মধ্যে এমন আরো রয়েছে, যাদের সাথে ভালো ব্যবহার এবং সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে? আর মুসলিম ব্যক্তি কি এর জন্য কোন সওয়াব পাবে?
আর এ বিষয়টিই এ পাঠের হাদীস তোমাকে জানিয়ে দেবে।
আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে ব্যক্তি চায় যে, তার রিযক প্রশস্ত হোক এবং আয়ু বর্ধিত হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে।” এটি বুখারী (৫৯৮৬) ও মুসলিম (২৫৫৭) বর্ণনা করেছেন।
হাদীসের বর্ণনাকারীর জীবনী:
নাম ও কুনিয়ত: আবু হামযাহ, আনাস ইবনু মালিক ইবনুন নাদার আল-আনসারী রদিয়াল্লাহু আনহু।
তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দশ বছর খিদমাত করেছেন।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু‘আ করে বলেছিলেন: «اللَّهُمَّ أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ، وَبَارِكْ لَهُ فِيمَا أَعْطَيْتَهُ» তথা: “ হে আল্লাহ! আপনি তার সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বাড়িয়ে দিন। এবং তাকে যা দান করেছেন, তাতে বরকত দিয়ে দিন।” এটি বুখারী (৬৩৩৪) ও মুসলিম (৬৬০) বর্ণনা করেছেন। এ কারণে আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সাহাবীদের মধ্যে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতিতে সবচেয়ে সমৃদ্ধ।
তিনি দীর্ঘ সময় যাবত সালাত আদায় করতেন এবং এমন একজন সাহাবী ছিলেন যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সর্বাধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তিনি ৯২ হিজরীতে বসরাতে মৃত্যুবরণ করেন।
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ তার অর্থ
يُبْسَطَ বৃদ্ধি করা হবে।
يُنْسَأَ দীর্ঘ করা হবে অথবা বরকত দেওয়া হবে।
أَثَرِه তার আয়ু বা বয়সে।
رَحِمَهُ পরিবার ও নিকটাত্মীয়।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে পারিবারিক বন্ধন বজায় রাখার গুরুত্ব এবং জীবনে এর ভালো প্রভাব প্রকাশ করেছেন। যে ব্যক্তি জীবনে বরকত এবং রিযিকে বৃদ্ধি চায়, তাকে অবশ্যই তার আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখতে হবে এবং তাদের প্রতি উত্তম আচরণ করতে হবে।
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার উৎসহ দেওয়া।
সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিকগুলিতে ইসলামের গুরুত্বারোপ।
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার অনেক ফযীলত এবং প্রভাব রয়েছে, সেগুলো হচ্ছে:
আয়ু বৃদ্ধি পাওয়া।
রিযিক বর্ধিত হওয়া।
একজন ব্যক্তি তার মৃত্যুর পরে সুনাম অর্জন করতে পারে।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি সাহায্য করব এবং তুলনা করব:
তোমার সহপাঠীকে সহযোগিতা কর এবং নিম্নলিখিত হাদীসগুলোর মাধ্যমে আত্মীয়তার বন্ধন এবং সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রভাবগুলোর তুলনা কর:
হাদীস সম্পর্ক বজায় রাখার ফযীলত সম্পর্ক বিচ্ছেদ করার পরিণাম
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী(শুরুতে) জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” এটি সহীহ বুখারী (৫৯৮৪) ও মুসলিম (২৫৫৬) বর্ণনা করেছেন। (শুরুতে)জান্নাতে প্রবেশ করা থেকে বঞ্চিত হওয়া।
হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “... আমি রহমান, আর এটি হচ্ছে রহেম (আত্মীয়তার সম্পর্ক), আমি এর নাম আমার নাম থেকে নির্গত করেছি। যে ব্যক্তি সম্পর্ক রাখবে আমি তার সাথে সম্পর্ক রাখব।” এটি আবূ দাঊদ (১৬৯৬) বর্ণনা করেছেন। যে ব্যক্তি তার আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে আল্লাহ তার সব ধরণের কল্যাণকে বজায় রাখেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “মিসকীনদেরকে সদকাহ করা একটি সদকাহ হিসেবে গণ্য আর আত্মীয়দেরকে সদকাহ করা দুটি (সদকাহ) হিসেবে গণ্য: সদকাহ এবং সম্পর্ক বহাল রাখা।” এটি নাসাঈ (২৫৮২) বর্ণনা করেছেন। সদকাহর পুরষ্কার কয়েকগুণ পর্যন্ত বর্ধিত হয়।
অনুশীলন (২): আমি পড়ব এবং নির্দিষ্ট করব:
আত্মীয়তা সম্পর্ক বজায় রাখার অনেকগুলো উপায় তোমার সামনে রয়েছে, তুমি যে উপায়টি অবলম্বন করবে, সেটি বাছাই কর:
(আত্মীয়দের দেখতে যাওয়া - আত্মীয়দেরকে মেহমানদারী করা - আত্মীয়দের সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেওয়া - আত্মীয়দেরকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া - তাদের মধ্য হতে বড়দের সম্মান করা - তাদের দূর্বলদের উপরে অনুগ্রহ করা - তাদের সুখ-দুঃখে শরীক হওয়া - তাদের অসুস্থদেরকে দেখতে যাওয়া - তাদের জানাযাতে শরীক হওয়া - তাদেরকে হিদায়াতের দিকে আহবান করা - তাদেরকে সৎকাজে আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা)।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিচে প্রদত্ত সঠিক উত্তরের নিচে দাগ দাও:
উত্তম ব্যবহার করার আদেশটি শুধুমাত্র পিতামাতার জন্য প্রযোজ্য, আত্মীয়দের জন্য নয়। সঠিক - ভুল
আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখা হল: তোমার নিকটতম ব্যক্তিদের প্রতি সদয় হওয়া এবং তাদের কল্যাণের ব্যবস্থা করা। সঠিক - ভুল
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর শাস্তি হচ্ছে: সে(শুরুতে) জান্নাতে প্রবেশ থেকে বঞ্চিত হবে। সঠিক - ভুল
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সাথে রিযিকের কোন সম্পর্ক নেই। সঠিক - ভুল
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
আনাস ইবনু মালিক রদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু‘আ করেছিলেন যে বিষয়ে:
(ইলমের অধিকারী হওয়া - রিযিকের প্রশস্ততা - শারিরীক শক্তি)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “তার চিহ্ন থাকবে।” এর অর্থ হচ্ছে:
(তার হায়াত দীর্ঘ হবে - তার সম্পদে বরকত হবে - তার কথা মানুষের মধ্যে বাকী থাকবে)
প্রশ্ন ৩: হাদীসের তিনটি নির্দেশনা ব্যাখ্যা কর।
সপ্তম পাঠ: স্নেহ এবং সম্মান
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি সংক্ষিপ্ত আকারে হাদীসের রাবীর জীবনী লিখবে।
পাঠ্যাংশে উল্লেখিত হাদীসগুলোর শব্দার্থ ব্যাখ্যা করবে।
পাঠ্য হাদীসটির মৌলিক অর্থের সারমর্ম উল্লেখ করবে।
হাদীসটি থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা বর্ণনা করবে।
বড়দের সম্মান করবে এবং ছোটদের স্নেহ করবে।
হাদীসটি মুখস্ত করবে।
প্রারম্ভিক কর্ম:
তোমার চলার পথে দেখতে পেলে যে, একটি যুবক বয়স্ক একটি লোকের উপরে গলা উঁচিয়ে কথা বলছে। তুমি তাকে কী নসীহত করবে?
নসীহতের ক্ষেত্রে তুমি নিম্নোক্ত হাদীস থেকে সাহায্য নিতে পার:
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ حَقَّ كَبِيرِنَا তথা “যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান জানে না সে আমার দলভুক্ত নয়।” এটি আবূ দাঊদ (৪৯৪৩) এবং তিরমিযী (১৯২০) বর্ণনা করেছেন।
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ তার অর্থ
لَيْسَ مِنَّا সে আমাদের সুন্নাতের অনুসারী নয় এবং আমাদের আদবের প্রতি যত্নবান নয়।
তিনি দয়া করবেন তার সাথে কোমল এবং স্নেহশীল আচরণ করবে।
বর্ণনাকারীর জীবনী:
‘আবদুল্লাহ ইবন ‘আমর ইবনুল ‘আস আল কুরাশী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু
তিনি ইসলাম গ্রহণ করে সপ্তম হিজরীর পরে হিজরত করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বেশ কয়েকটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।
তিনি জ্ঞানে একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ৭০০ এর অধিক হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তিনি ইবাদাতের ব্যাপারে কঠোর পরিশ্রমী ছিলেন। তিনি অধিক পরিমাণে সিয়াম পালনকারী এবং কুরআন পাঠে অভ্যস্ত ছিলেন।
তিনি (রদিয়াল্লাহু আনহু) ৬৩ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কিছু মহান চারিত্রীকগুণের কথা বর্ণনা করেছেন, যেগুলো মুসলিমদের মধ্যে প্রসার ঘটানো আবশ্যক। যার মধ্যে রয়েছে: দুর্বলদের জন্য অনুগ্রহ, বিশেষভাবে বয়সে ছোটদের প্রতি স্নেহ, বয়স্ক এবং উচ্চ মর্যাদার লোকদের প্রতি সম্মান করা। যে ব্যক্তি এগুলো মেনে চলে না, সে ব্যক্তি মুসলিমদের আচরণ ও তাদের নৈতিকতার বিরোধী কাজ করল।
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
অনুগ্রহ বা স্নেহের গুরুত্ব, বিশেষভাবে ছোটদের প্রতি।
বয়সে বড় ও সম্মানিত মানুষদের সম্মান এবং মর্যাদা দেওয়ার প্রয়োজনিয়তাঃ
স্নেহ ও সম্মান মুসলিম সমাজের অন্যতম বৈশিষ্টের অন্তর্ভুক্ত।
মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে তাদের নৈতিকতা ও ভালো ব্যবহারের ব্যাপারে সামঞ্জস্যতা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি সমাধান ও খুঁজে বের করব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: الرَّاحِمُونَ يَرْحَمُهُمُ الرَّحْمَنُ، ارْحَمُوا مَنْ فِي الأَرْضِ يَرْحَمْكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ তথা: “রহমান-আল্লাহ দয়াশীলদের প্রতি দয়া করেন। তোমরা যমীনবাসীদের প্রতি দয়া কর, যিনি আসমানের উপরে তিনি (আল্লাহ) তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।” এটি আবূ দাঊদ (৪৯৪৩) ও তিরমিযী (১৯২৪) বর্ণনা করেছেন।
এ হাদীসটির সাথে পাঠ্য হাদীসটির সম্পর্ক নির্ধারণ করার জন্য তোমার সহপাঠীকে আলোচনায় শামিল কর।
পাঠ্য হাদীসের সাথে এটি যে সব বিষয়ে মিল রাখে: অনুগ্রহ বা স্নেহের আচরণের প্রতি গুরুত্বারোপ এবং এর ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া।
পাঠ্য হাদীস থেকে অতিরিক্ত যা রয়েছে:
১- দয়ার সওয়াব এবং পুরষ্কার।
২- রহমত (অনুগ্রহ) ব্যাপক, এটা শুধুমাত্র ছোটদের প্রতি খাস নয়।
অনুশীলন (২): আমি দেখব এবং সম্পর্ক স্থাপন করব:
ছবি ও তার সাথে হাদীসের সম্পর্কের প্রতি লক্ষ্য রেখে ছোটদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগ্রহের ব্যাপারটি বিশেষায়িত করার সবচেয়ে যথার্থ কারণটি বাছাই কর:
ছোটরা দুর্বল এবং যুলুম প্রতিহতে তারা অক্ষম।
আকারে ছোট এবং বেড়ে ওঠায় দূর্বল।
ছোটদের সম্পদ ও ভরণ-পোষণের প্রয়োজন থাকা।
অনুশীলন (৩): আমি ভাগ করব:
চাহিদা অনুসারে সঠিক জায়গায় চিহ্ন দিয়ে নিম্নোক্ত আচরণসমূহকে শ্রেণিবদ্ধ কর:
ছবি ছোটদের প্রতি অনুগ্রহ বড়দের অধিকার পূর্ণ করা
এক ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে কোন শিশুকে প্রহারে বাধা দেয়।
একটি যুবক চেয়ার স্থাপন করছে; যাতে রাস্তায় কোন বৃদ্ধা বিশ্রাম নিতে পারেন।
একটি মেয়ে তার খালাকে অতিথিদের জন্য খাবার তৈরিতে সাহায্য করছে।
বাসে একজন যুবক তার সিট থেকে উঠে একজন বয়স্ক লোককে বসতে দিচ্ছে।
একজন ছাত্র তার উস্তাদের ব্যাগ বহন করছে।
একজন ডাক্তার একটি দুগ্ধপোষ্য শিশুর জরুরী চিকিৎসার জন্য রাত জেগেছেন।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
হাদীসটি বড়দের স্নেহ এবং ছোটদের সম্মান করার কথা বলছে।
বড়দের নসীহত গ্রহণ, তাকে সম্মান করা বুঝায়।
মা কর্তৃক তার বাচ্চাকে দেখাশোনা করা ছোটদের প্রতি স্নেহ করার পর্যায়ভুক্ত।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রদিয়াল্লাহু আনহুকে অনুসরণ করব তার যে বিষয়ে আগ্রহ ছিল সে ক্ষেত্রে:
(সিয়াম - সম্পদ জমানো - গরীবদের প্রতি খেয়াল রাখা)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়” তথা সে নয় :
(আমাদের দীনভুক্ত - আমাদের আদব রক্ষাকারী - আমাদের জাতীভুক্ত)
হাদীসটির নির্দেশনা অনুসরণের মাধ্যমে সমাজে যে আচরণ বাস্তবায়িত হবে তাঃ
(অনুগ্রহ - সত্যবাদিতা - ন্যায়)
প্রশ্ন ৩: উপযুক্ত ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বাক্যাংশগুলি রেখে ছকটি সম্পূর্ণ কর:
(তার সাথে খেলা করা - তার মত গ্রহণ করা - তার কাছে প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়া - কথার মাঝে তার সাথে আদব রক্ষা করা - তাকে লালন করা এবং শিক্ষা দেওয়া - তাকে প্রহার এবং কষ্ট না দেওয়া)
- বড়দের প্রতি সম্মানের অন্তর্ভুক্ত
তাঁর সামনে না হাঁটা
তার কাছে প্রবেশের আগে অনুমতি নেওয়া
কথার মাঝে তার সাথে আদব রক্ষা করা
তার মত গ্রহণ করা - ছোটদের প্রতি অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত তার কষ্ট দূর করা তাকে প্রহার করা এবং কষ্ট দেওয়া থেকে দূরে থাকা। তার সাথে খেলা করা তাকে লালন করা এবং শিক্ষা দেওয়া
প্রশ্ন ৪: কেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ্য হাদীসে রহমতের জন্য শিশুকে খাস করেছেন?
অষ্টম পাঠ: প্রতিবেশী এবং মেহমানের সম্মান।
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে :
সংক্ষিপ্ত আকারে হাদীসের বর্ণনাকারীর জীবনী লিখবে।
পাঠ্যাংশে উল্লেখিত হাদীসগুলোর শব্দার্থ বর্ণনা করবে।
পাঠ্য হাদীসটির মৌলিক অর্থের সারমর্ম উল্লেখ করবে।
হাদীসটির নির্দেশনাসমূহ প্রতিবেশী এবং মেহমানদের প্রতি প্রয়োগ করবে।
হাদীসটি মুখস্ত করবে।
প্রারম্ভিক কার্যক্রম:
তুমি তোমার বন্ধুর সাথে কোন একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গেলে, এবং তাকে দেখলে, সে নিজের বসার স্থান ছেড়ে দিয়ে কোন একজন ব্যক্তিকে হাঁসিমাখা মুখে বসতে দিচ্ছে এবং তাকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বলছে: আপনাকে স্বাগতম হে আবু মুহাম্মাদ! আবু মুহাম্মাদ আপনি এখানে বসুন। তখন তুমি আশ্চর্য হয়ে সম্মান করার বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে উত্তর দিল: সে আমার প্রতিবেশী। তোমার বন্ধুকে কোন বস্তু এ কাজটির প্রতি উদ্বুদ্ধ করেছিল?
এ হাদীসটিতে উক্ত আচরণটির ব্যাখ্যা রয়েছে।
হাদীসের মূলটেক্সট
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: مَنْ كانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيصْمُتْ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ তথা: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে সে যেন উত্তম কথা বলে, অথবা চুপ থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে । যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।” এটি সহীহ মুসলিম (৪৭) বর্ণনা করেছেন।
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ তার অর্থ
وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ [আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপরে ঈমান রাখে] যে ব্যক্তি পরিপূর্ণ ঈমান আনে, যা তাকে আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তিদান করবে এবং তাঁর সন্তুষ্টির দিকে পৌঁছে দেবে।
لِيصْمُتْ [যেন চুপ থাকে] চুপ থাকবে আর কোন কথা বলবে না।
فَلْيُكْرِمْ جاره [সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে] তার প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করে এবং তার কোন হক নষ্ট না করে।
বর্ণনাকারীর জীবনী:
আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী ইতোপূর্বে গত হয়েছে। তবে তার জীবনীর মধ্যে আরো রয়েছে:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আবু হুরাইরা উপাধী দিয়েছিলেন; কেননা তিনি বিড়াল সাথে নিয়ে চলতেন।
আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু অনেক দরিদ্রতার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি নিজেই বলেছেন: যার অর্থ: “(আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া আর কোন সত্য মাবূদ নেই, আমি উপুড় হয়ে মাটিতে ভর করতাম (অর্থাৎ, তিনি চরম ক্ষুধায় মাটিতে ঘুমাতেন) এবং আমার পেটে পাথর বেঁধে রাখতাম।)”
অতপর আল্লাহ তা‘আলা তাকে শেষ জীবনে অমুখাপেক্ষি করে দিয়েছিলেন। তথন তিনি সম্পদ, বাড়ী এবং সন্তানওয়ালা হয়েছিলেন।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
হাদীসটি মুমিনদের আখলাকের তিনটি বিষয়কে শামিল করে: ভালো কথা বলা অথবা চুপ থাকা, প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম আচরণ, মেহমানের সম্মান এবং তাঁর অধিকার আদায় করা।
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
ঈমানের আবশ্যক বিষয়: ভালো কথা বলা এবং প্রতিবেশী ও মেহমানের সাথে সম্মানসূচক ব্যাবহার করা।
উত্তম ও উপকারী কথা বলার উৎসাহ দেওয়া।
বাজে কথা বলা থেকে চুপ থাকা শ্রেয়।
সত্য ও উত্তম কথা, চুপ থাকা থেকে উত্তম।
প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম আচরণ এবং তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হারাম।
মেহমানদের আতিথীয়তার ফযীলত।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি ভাগ করব:
উপযুক্ত ক্ষেত্রে একটি চিহ্ন স্থাপন করে, হাদীসের অর্থ অনুসারে নিম্নলিখিত অর্থগুলিকে আলাদা কর:
মীম অর্থ হাদীসটি থেকে যা বুঝা যায় হাদীসটি থেকে যা বুঝা যায় না
১/ প্রতিবেশীকে মর্যাদা দেওয়া ঈমানের আলামতের অন্তর্ভুক্ত।
২/ মেহমানদের সম্মান করার গুরুত্ব।
৩/ প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক বহাল একটি সামাজিক ব্যাপার, এর সাথে ঈমানের কোন সম্পর্ক নেই।
৪/ ঈমানের অনেকগুলো আচরণ রয়েছে, যা তার বাস্তবায়নের প্রতি ইঙ্গিত করে।
অনুশীলন (২): আমি সাহায্য করব এবং সম্পর্ক স্থাপন করব:
হাদীসে উল্লেখিত বিষয়ের সাথে নিম্নোক্ত বাক্যসমূহ থেকে উপযুক্ত বিষয়গুলোর সম্পর্ক নির্ধারণে তোমার সহপাঠীদেরকে সাহায্য কর:
দলীল বিষয়গুলোর সাথে মিল রাখে হাদীসের এমন অংশ
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: مَّا يَلۡفِظُ مِن قَوۡلٍ إِلَّا لَدَيۡهِ رَقِيبٌ عَتِيدٞ তথা: “সে যে কথাই উচ্চারণ করে তার কাছে সদা উপস্থিত সংরক্ষণকারী রয়েছে।” (সূরা ক্ব-ফ, আয়াত: ১৮)।
সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “তোমাদের কেউ যেন তার প্রতিবেশীকে তার প্রাচীরে কাঠ পুঁততে নিষেধ না করে।” এটি সহীহ বুখারী (২৪৬৩) ও সহীহ মুসলিম (১৬০৯) বর্ণনা করেছেন।
فَلْيُكْرِمْ جاره [সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে]
আল্লাহ তাআলার বাণী: هَلۡ أَتَىٰكَ حَدِيثُ ضَيۡفِ إِبۡرَٰهِيمَ ٱلۡمُكۡرَمِينَ তথা: “আপনার কাছে ইবরাহীমের সম্মানীত মেহমানদের বৃত্তান্ত এসেছে কি?” (সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ২৪)। فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ [ সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।]
অনুশীলন (৩): আমি জেনে-বুঝে সারমর্ম বের করব:
তুমি জবান সম্পর্কে জানতে এ লিংকটি দেখতে পার, তারপর তুমি যা শিখলে তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংক্ষেপে তুলে ধর:
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১ঃনিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
فليصمت শব্দের অর্থ হচ্ছে: সে যেন জোরে কথা বলে।
মুমিন ব্যক্তি সৎকাজে আদেশের ক্ষেত্রে চুপ থাকবে না।
মেহমানদারী ঈমানের সত্যতার প্রমাণ বহন করে।
আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু দরিদ্রতা ও কঠোর অবস্থার মুখোমুখি হয়ে সবর করেছেন।
প্রতিবেশীকে সম্মান করার সাথে ঈমানের কোন সম্পর্ক নেই।
উপযুক্ত স্থানে চিহ্ন দিয়ে নিম্নে প্রদত্ত আচরণগুলোর মূল্যায়ন কর:
মীম আচরণ সঠিক আচরণ ভুল আচরণ
১- প্রতিবেশীর গোপন কথা জানতে উৎসুক হওয়া।
২- অনুপস্থিত প্রতিবেশীর সন্তানদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা এবং তাদের প্রয়োজন পূরণ করা।
৩- প্রতিবেশীর গোপনীয়তা সম্পর্কে আলোচনা করা এবং তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রকাশ করা।
৪- ময়লা আবর্জনা প্রতিবেশীদের বাড়ীর সামনে নিক্ষেপ করা।
৫- মেহমানের জন্য ব্যয় করার ক্ষেত্রে সওয়াবের আশা করা।
৬- কোন সহপাঠীকে এ ব্যাপারে সংবাদ দেওয়া, তাকে অন্য এক সহপাঠী গতকাল গালি দিয়েছে।
৭- কোন ব্যক্তি মেহমানের উপরে চড়াও হলে, তাকে রক্ষা করা।
৮- টেলিভিশনের শব্দ জোরে দেওয়া; যাতে প্রতিবেশীরা বিরক্ত হয়।
প্রশ্ন ৩: মানুষের দোষ-ত্রুটি নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তোমার এমন একজন সহপাঠীকে নসীহত কর।
নবম পাঠ: মধ্যমপন্থা এবং ভারসাম্যতা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে:
পাঠে উল্লিখিত হাদীসের মৌলিক অর্থের ব্যাখ্যা করবে।
পাঠ্য হাদীস থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো প্রকাশ করবে।
দুনিয়া ও আখিরাতের কাজগুলোর মধ্যে তুলনার পদ্ধতি স্পষ্ট করবে।
অধিকারসমূহের ভারসাম্যতা রক্ষার গুরুত্ব অনুভব করবে।
হাদীস শরীফটি মুখস্থ করবে।
শিক্ষার্থী ভাই, এ হাদীসটি পাঠ করে তুমি অধিকারের বিষয়গুলো থেকে উপযুক্ত শব্দ দ্বারা শুন্যস্থান পূরণ করবে:
আল্লাহ তা‘আলার হক:
নিজের হক:
পরিবারের হক:
সালমান আল-ফারিসী রদিয়াল্লাহু আনহু আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন: আপনার ওপর আপনার রবের হক (অধিকার) রয়েছে, আপনার নিজের উপরে নিজের হক রয়েছে, আপনার উপরে আপনার পরিবারের হক রয়েছে। সুতরাং প্রত্যেককে তার হক বুঝিয়ে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সালমান সত্য বলেছে।” এটি সহীহ বুখারী (১৯৬৮) বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
এ হাদীসটি আমাদেরকে শারী‘আতের মূলনীতিসমূহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি শিক্ষা দেয়, তা হচ্ছে: হক বা অধিকারসমূহ আদায়ে ভারসাম্যতা রক্ষা করা। সুতরাং আমরা একটি হক আদায় করতে যেয়ে অন্য হক বা অধিকার আদায়ে কমতি করব না; এ কারণে যখনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালমান রদিয়াল্লাহু আনহুর কথা শুনলেন, তখনই সেটিকে সমর্থন করলেন আর বললেন: “সালমান সত্য বলেছে।” তিনি হকসমূহকে তিনভাগে ভাগ করেছেন:
প্রথমত: আল্লাহ তা‘আলার হক। এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় হক। এর মধ্যে রয়েছে: আল্লাহর আদেশসমূহ বাস্তবায়ন এবং তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ থেকে দূরে থাকা।
দ্বিতীয়: নিজের হক। এর মধ্যে রয়েছে: মন ও শরীরের জন্য যা ভালো, যেমন: পোশাক, খাদ্য, পানীয়, বিশ্রাম এবং অন্যান্য জিনিস যাতে পাপ নেই।
তৃতীয়ত: পরিবারের হক, যেমন: স্ত্রী ও সন্তান। সুতরাং তাদের বিষয়াদির খেয়াল রাখা এবং তাদের কাজসমূহের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করা।
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
প্রতিটি হকের অধিকারী ব্যক্তিকে তার হক প্রদান। কোন হকের ক্ষেত্রে কমতি না করা।
সাধ্যাতীত ইবাদাত করে নিজেকে কষ্ট না দেওয়া।
সমস্ত হক ও করণীয় কাজগুলোর মধ্যে ভারসাম্যতা রক্ষার গুরুত্ব।
ইসলাম মানব প্রকৃতি এবং তার আধ্যাত্মিক ও শারীরিক চাহিদার ব্যাপারে খেয়াল রাখে।
ইবাদাতের ক্ষেত্রে শ্রম দেওয়া এবং আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত হালাল বিষয়সমূহের মাধ্যমে বিশ্রাম/বিনোদনের মধ্যে ভারসাম্যতা রক্ষার গুরুত্ব।
সাহাবাদের (রদিয়াল্লাহু আনহুম) ইসলাম ও রিসালাত সম্পর্কে বোঝার গভীরতার পরিচয়।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি পর্যবেক্ষণ করে জবাব দেব:
নিম্নলিখিত ছকে বৈধ বিনোদনের তিনটি রূপ এবং অবৈধ বিনোদনের তিনটি রূপ লিপিবদ্ধ কর:
বৈধ বিনোদনের উপায়সমূহ
অবৈধ বিনোদনের উপায়সমূহ
অনুশীলন (২): আমি খুঁজে বের করে সারমর্ম লিখব:
দাও‘আত এবং জিহাদের ব্যস্ততা সত্ত্বেও, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী এবং আত্মীয়দের হক আদায়ে কখনো অবহেলা করেননি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী থেকে দুটি পরিস্থিতি সন্ধান কর, যেগুলো উপরোক্ত বিষয়কে নির্দেশ করে এবং সেগুলিকে সংক্ষেপে তোমার নোটবুকে লেখ।
অনুশীলন (৩): ফলাফল বের করবো:
নিম্নলিখিত আয়াতগুলি নিয়ে চিন্তা কর ,তারপর এগুলো যেসব অধিকারগুলোর মধ্যে ভারসাম্যের কথা বলে, তা ব্যাখ্যা কর।
আয়াত/ যা প্রমণ করে
وَٱلَّذِينَ إِذَآ أَنفَقُواْ لَمۡ يُسۡرِفُواْ وَلَمۡ يَقۡتُرُواْ وَكَانَ بَيۡنَ ذَٰلِكَ قَوَامٗا তথা: “এবং যখন তারা ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না, কৃপনতাও করে না, আর তাদের পন্থা হয় এতদুভয়ের মধ্যবর্তী।” (সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৬৭)। সম্পদ ব্যয়ে ভারসাম্যতা।
وَٱبۡتَغِ فِيمَآ ءَاتَىٰكَ ٱللَّهُ ٱلدَّارَ ٱلۡأٓخِرَةَۖ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ ٱلدُّنۡيَاۖ তথা: “আর আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন তা দ্বারা আখেরাতের আবাস অনুসন্ধান কর এবং দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলো না।” (সূরা আল-ক্বাসাস, আয়াত: ৭৭)। পরকালের কাজ এবং জীবনের উত্তম জিনিসগুলো উপভোগ করার মধ্যে ভারসাম্যতা বজায় রাখা।
সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম:
শিক্ষক তার ছাত্রদেরকে সাহাবী সালমান আল-ফারসী রদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণ করার গল্পটি খুঁজতে বলবেন; কারণ এতে অনেকগুলো শিক্ষা ও উপকারিতা, যার মধ্যে রয়েছে: ইতিবাচকতা, সত্যের অনুসন্ধানে আগ্রহী হওয়া এবং সত্যের অনুসরণ করা।
বি.দ্র.: গল্পটি পরিপূর্ণভাবে বর্ণিত হয়েছে সিয়ারু আলামিন নুবালা গ্রন্থে (১/৪৪৯)।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
একটি উপযুক্ত বাক্য পছন্দ কর, যা উক্ত হাদীসটির শিরোনাম হতে পারে:
(আল্লাহর হকের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া - হকসমূহের মধ্যে ভারসাম্যতা রক্ষা - পরিবারের অধিকারসমূহ)
একজন মহিলা সময়মত সালাত আদায় করে, কিন্তু সে তার স্বামীর আনুগত্য করে না, তাহলে সে:
(হাদীসটির উপরে আমল করছে - হাদীসটির উপরে আমল করছে না - হাদীসের কিছু অংশের উপরে আমল করছে)
আমি সালমান রদিয়াল্লাহু আনহুর অবস্থান থেকে শিখলাম:
(আমি মুসলিমদেরকে নসীহত করব - আমি গোপনে দান করব - আমি কুরআন কারীমের তিলাওয়াত শিখব)
প্রশ্ন ২: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখ:
সাধ্যাতীত ইবাদাত করে নিজেকে কষ্ট দেওয়া মুস্তাহাব।
সাধ্যাতীত ইবাদাত করে নিজেকে কষ্ট দেওয়া মাকরূহ।
একজন মুসলিমকে সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে আল্লাহ তা‘আলার হকসমূহ আদায় করা আবশ্যক।
একজন মুসলিম আল্লাহর হক আদয়ের পাশাপাশি সন্তানদেরও খেয়াল রাখবে।
ইসলাম শুধুমাত্র আত্মিক দিকগুলির উপরে গুরুত্বারোপ করে।
ইসলাম আত্মিক এবং শারীরিক উভয় দিকের উপরে গুরুত্বারোপ করে।
প্রশ্ন ৩: নিচের হাদীসটি পূর্ণ কর:
«إِنَّ ....... عَلَيْكَ حَقًّا، وَ....... عَلَيْكَ حَقًّا، وَ........ عَلَيْكَ حَقًّا، فَأَعْطِ كُلَّ ......... حَقَّهُ» [নিশ্চয় ........ তোমার উপরে হক রয়েছে, ........ তোমার উপরে হক রয়েছে এবংতোমার উপরে হক রয়েছে........... । সুতরাং তুমি প্রত্যেক ............. তার হকসমূহ আদায় করো।]
প্রশ্ন ৪: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
হাদীসটির তিনটি দিক-নির্দেশনা উল্লেখ কর।
মুসলিম জীবনে ভারসাম্যতা বাস্তবায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে তিন লাইন লেখ।
আহকাম সংক্রান্ত ফিকহ অধ্যায়
প্রথম পাঠ: অযুর আহকাম
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য:
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে যা আশা করা হচ্ছে:
তুমি অযুর ফরয ও সুন্নাহগুলো বর্ণনা করবে।
অযু ভঙ্গের কারণগুলো ব্যাখ্যা করবে।
পবিত্রতার গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
শুদ্ধভাবে অযু করবে।
সালাত দীনের স্তম্ভ, এবং দুই সাক্ষের পর ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। আর এটির জন্য পবিত্রতা শর্ত; এ কারণেই আমরা সালাতের ফিকহী আহকাম বর্ণনার আগে পবিত্রতার মাধ্যমে পাঠ শুরু করছি।
প্রথমত: অযুর ফরযসমূহ।
অযুর ফরয ছয়টি, এ গুলো ছাড়া অযু শুদ্ধ হবে না, যথা:
সমস্ত মুখমণ্ডল ধোয়া।
কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া এর অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি এ দুটি অথবা যে কোন একটি ত্যাগ করে, তার অযু শুদ্ধ হবে না।
দুই হাত কনুইসহ ধোয়া।
পুরো মাথা মাসেহ করা, আর এটি হচ্ছে: ভেজা হাত মাথার উপরে (সামনে থেকে পিছনে এবং পিছন থেকে সামনে) অতিক্রম করানো, দুই কানও মাথার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
দুই পা টাখনুসহ ধোয়া।
অঙ্গসমূহের তারতীব (সিরিয়াল) ঠিক রাখা, যেমন: মুখ ধোয়ার পরে কনুই সহ দুই হাত ধোয়া, তারপরে মাথা মাসেহ করা এবং তারপরে দুই পা ধোয়া।
পরস্পরতা বজায়, তথা: অযুর এক অঙ্গ ধোয়া থেকে অন্য অঙ্গ ধোয়ার মধ্যে লম্বা সময়ের দূরত্ব তৈরী না হওয়া।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا قُمۡتُمۡ إِلَى ٱلصَّلَوٰةِ فَٱغۡسِلُواْ وُجُوهَكُمۡ وَأَيۡدِيَكُمۡ إِلَى ٱلۡمَرَافِقِ وَٱمۡسَحُواْ بِرُءُوسِكُمۡ وَأَرۡجُلَكُمۡ إِلَى ٱلۡكَعۡبَيۡنِۚ তথা: “হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াতে চাও তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাতগুলো কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও এবং তোমাদের মাথাসমূহ মাসেহ কর এবং পাগুলো টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে নাও।” [আল-মায়িদাহ, আয়াত: ০৬]
এখান থেকে অযুর ফরযগুলি দেখ:
দ্বিতীয়ত: অযুর সুন্নাতসমূহ
অযুর সুন্নত হল, সেসব কাজ যা একজন মুসলিম অযু করার সময় মুস্তাহাব হিসেবে করে থাকে এবং সেগুলোর জন্য সওয়াব হয়, কিন্তু যদি সে সেগুলো না আদায় করে তবুও তার অযু শুদ্ধ হয়ে যায়।
অযুর অনেকগুলো সুন্নাত, যার মধ্যে অন্যতম:
অযুর শুরুতে কব্জিদ্বয় তিনবার ধোয়া।
মুখমণ্ডল ধোয়ার আগেই কুলি এবং নাকে পানি দেওয়া, এবং সিয়ামপালনকারী ব্যতীত অন্যদের জন্য উভয়টি খুব যথাযথ আদায় করা।
মিসওয়াক করা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যদি আমার উম্মাতের উপরে কঠিন না হত, তাহলে আমি আদশে করতাম তারা যেন প্রত্যেক অযুর সাথেই মিসওয়াক করে।” এটি আহমাদ (৭৪০৬) বর্ণনা করেছেন।
অযুর প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া, তবে মাথা একবার মাসেহ করা।
প্রথমত ডান অর্থাৎ: (অঙ্গ ধোয়ার ক্ষেত্রে) বামপাশ ধোয়ার আগে ডানপাশ দিয়ে আরম্ভ করা। হাদীসে এসেছে: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত কাজে (যেমন) জুতা পরা, মাথা আঁচড়ানো,পবিত্রতা অর্জন করা ও ইত্যাদিতে ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।” এটি বুখারী (১৬৮) ও মুসলিম (২৬৮) বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয়ত: অযু ভঙ্গের কারণসমূহ
এগুলো হচ্ছে এমন কিছু , যার কারণে অযু ভেঙ্গে যায়, কারণগুলো হচ্ছে:
(প্রসাব ও পায়খানার) দুটি রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া, যেমন:বীর্য ও তার পূর্বে বের হয় এমন তরলরস, প্রসাব, পায়খানা এবং বাতাস। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا» তথা: “ শব্দ শোনা অথবা গন্ধ না পাওয়ার আগ পর্যন্ত (সালাত) ছেড়ে যাবে না।” এটি বুখারী (১৩৭) ও মুসলিম (৩৬১) বর্ণনা করেছেন।
কোন আবরণ - যেমন: কোন কাপড় বা অনুরূপ কিছু ছাড়া লিঙ্গ স্পর্শ করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি নিজের পুরুষাংগ স্পর্শ করবে সে যেন অযু করে।” এটি আবূ দাঊদ (১৮১) ও তিরমিযী (৮২) বর্ণনা করেছেন।
ঘুম, অজ্ঞান হওয়া অথবা পাগল হওয়া জনিত কারণে বোধশক্তি লোপ পাওয়া, তবে তন্দ্রাজনিত কারণে অযু ভাঙবে না।
উটের গোস্ত খাওয়া। হাদীসে এসেছে: “আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আমি কি ছাগলের গোস্ত খেলে অযু করব? তিনি বলেছিলেন: “যদি তুমি ইচ্ছা কর, তাহলে অযু করবে আর নাও করতে পার।” ঐ ব্যক্তি আবার জিজ্ঞাসা করল: আমি কি উটের গোস্ত খেলে অযু করব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, উটের গোস্ত খেলে অযু করবে।” হাদীসটি ইমাম মুসলিম (৩৬০) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি চিন্তা করে খুঁজে বের করব:
উছমান ইবনু আফফান রদিয়াল্লাহু আনহু অযুর পানি নিয়ে ডাকলেন। অতপর তিনি পাত্র থেকে (উক্ত পানি থেকে কিছুটা) তার হাতে ঢাললেন, এবং হাতদুটি তিনবার ধুলেন। তারপর তার ডান হাতটি অযুর পানিতে ঢুকালেন, তারপর কুলি ও নাকে পানি দিয়ে তা ঝেড়ে ফেললেন। তারপর তিনবার মুখ এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুলেন। তারপর মাথা একবার মাসেহ করলেন এবং প্রতিটি পা তিনবার ধুলেন। তারপর তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমার এ অযুর মত অযু করতে দেখেছি। এবং তিনি বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার মত এ রকম অযূ করবে, অতঃপর দু রাক‘আত সালাত আদায় করবে,(একান্ত ইখলাস ও মনযোগের সাথে) যাতে সে নিজের নফসের সঙ্গে কথা বলবে না, আল্লাহ তার পূর্বের গুনাহ্ ক্ষমা করে দেবেন।” এটি সহীহ বুখারী (১৬৪) ও মুসলিম (২২৬) বর্ণনা করেছেন।
এ হাদীসের আলোকে:
আমি হাদীসটিতে বর্ণিত অযুর ফরয ও সুন্নাতসমূহ খুঁজে বের করব।
ফরযসমূহ: মুখমন্ডল ধোয়া - কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধোয়া - পূর্ণমাথা মাসেহ করা - দুই পা ধোয়া।
সুন্নাতসমূহ: দুই কব্জি তিনবার ধোয়া - নাক ঝাড়া - প্রতিটি অঙ্গ তিনবার ধোয়া।
হাদীসটি অযুর ফযীলতসমূহের একটি ফযীলত প্রমাণ করে, সেটি কী?
অনুশীলন (২): আমি বর্ণনা করব এবং ব্যাখ্যা করব:
এই ভিডিও ক্লিপটি ব্যবহার করে তুমি যা অধ্যয়ন করেছ তার মাধ্যমে কীভাবে পূর্ণ অযু করতে হয়, তা তোমার পরিবারকে শেখাও:
অনুশীলন (৩): আমি পৃথক করব এবং জবাব দেব:
নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে কারণ উল্লেখসহ সঠিক এবং ভুলের প্রার্থক্য করঃ
একজন ব্যক্তি অযুতে তার মাথার কিছু অংশ মাসেহ করাকে যথেষ্ট মনে করে।
একটি যুবক তার মুখমন্ডল ধুয়ে মাথা মাসেহ করল, তারপরে কনুই পর্যন্ত দুই হাত ধুয়ে দুই পা ধুলো।
একটি মেয়ে অযু করছে, এমতাবস্থায় তার মোবাইল বেজে উঠলে সে ২০ মিনিট যাবত কথা বলল, এরপরে সে বাকী অযু সম্পন্ন করল।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
টাখনু পর্যন্ত দুই পা ধোয়া অযুর ফরযের অন্তর্ভুক্ত।
কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া অযুর সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
মুয়ালাত, তথা বিলম্ব না করা সঙ্গে সঙ্গে সেরে নেয়া অযুরঃ
(ফরয - মুস্তাহাব - সুন্নাত)
অযুতে ডান ও বাম হাতের মধ্যে তারতীব রক্ষা করা:
(ফরয - সুন্নাত - মুবাহ)
অযু ভঙ্গের কারণের মধ্যে রয়েছে:
(সামান্য ঘুম - প্রসাব বের হওয়া - অতিরিক্ত হাঁসি দেওয়া)
প্রশ্ন ৩: অযু ভঙ্গের তিনটি কারণ লেখ।
দ্বিতীয় পাঠ: সালাতের শর্তসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
সালাত শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ বর্ণনা করবে।
সালাত শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহের দলীল পেশ করবে।
পুরুষ ও নারীর সতরের মধ্যে পার্থক্য করবে।
সালাত ফরয হওয়ার মাহাত্ম্য অনুধাবন করবে।
সালাতের শর্তসমূহের প্রতি যত্নবান হবে।
ভূমিকা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আমাকে যেভাবে সালাত আদায় করতে দেখেছ সেভাবে সালাত আদায় কর।” এটি সহীহ বুখারী (৬৩১) বর্ণনা করেছেন।
এটি আমাদের সালাতের আহকামগুলো শিখতে আহবান করে, যাতে আমরা সালাতের শর্তগুলো পূরণ, রুকন এবং সুন্নাতসমূহ আদায় এবং সালাত বাতিল করে এমন বস্তু থেকে দূরে থাকার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করতে পারি। এখন আমরা এ পাঠে সালাতের শর্তসমূহ শিখব।
সালাতের শর্তসমূহ
ইসলাম, কেননা কাফিরের সকল আমল বাতিল হওয়ার কারণে তার সালাত শুদ্ধ হবে না।
জ্ঞান, সুতরাং পাগলের সালাত শুদ্ধ হবে না।
বড় ও ছোট উভয় ধরণের হাদাছ (নাপাকী) থেকে পবিত্র হওয়া:
বড় নাপাকী থেকে পবিত্রতা, যেমন: জানাবাত*, মেয়েদের মাসিক ও সন্তান প্রসবোত্তর স্রাব। এটি গোসলের মাধ্যমে অর্জিত হয়ে থাকে।
ছোট নাপাকী থেকে পবিত্রতা অর্জন, যেমন: প্রসাব-পায়খানা, বায়ু নির্গত হওয়া ইত্যাদি। এটি অযুর মাধ্যমে অর্জিত হয়ে থাকে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল হয় না।” এটি মুসলিম (২২৪) বর্ণনা করেছেন।
শরীর, কাপড় পবিত্র এবং সালাত আদায়ের স্থানের পবিত্রতা। সুতরাং সালাত আদয়কারী ব্যক্তির শরীরে, পোশাকে বা যে স্থানে সে সালাত আদায় করে সেখানে নাপাক থাকলে, সালাত শুদ্ধ হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ তথা: “আর আপনার পরিচ্ছদ পবিত্র করুন।” [আল-মুদ্দাচ্ছির, আয়াত: ০৪]
সালাতের ওয়াক্ত হওয়া, সুতরাং সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার আগে সালাত আদায় করলে তা শুদ্ধ হবে না। আবার ওয়াক্তের পরে আদায় করলেও হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتۡ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ كِتَٰبٗا مَّوۡقُوتٗا তথা: “নিশ্চয় নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০৩] অর্থ্যাৎ: সুনির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা।
সতর ঢাকা: ছেলেদের ক্ষেত্রে নাভী থেকে হাঁটু পর্যন্ত আর মেয়েদের ক্ষেত্রে মুখ ও দুইহাতের কব্জি পর্যন্ত ছাড়া সমগ্র শরীর (ঢেকে রাখা)।
কিবলামুখী হওয়া, সুতরাং সামর্থ থাকা সত্তেও কিবলামুখী না হলে সালাত শুদ্ধ হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: فَوَلِّ وَجۡهَكَ شَطۡرَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِۚ وَحَيۡثُ مَا كُنتُمۡ فَوَلُّواْ وُجُوهَكُمۡ شَطۡرَهُ তথা: “অতএব আপনি মসজিদুল হারামের দিকে চেহারা ফিরান। আর তোমরা যেখানেই থাক না কেন তোমাদের চেহারাসমূহকে এর দিকে ফিরাও।” [আল-বাকরা, আয়াত: ১৪৪]
নিয়ত করা, এটি সকল ইবাদাতের জন্যই শর্ত। এটি অন্তর থেকে সম্পাদিত হয়, এভাবে যে, সালাত আদায়কারী অন্তরে যে সালাত সে আদায় করতে চাচ্ছে, তার ইচ্ছাপোষণ করা, যেমন: ফজর অথবা যোহর, এটি উচ্চারণ করবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সব আমল শুদ্ধ হওয়া নিয়্যাতের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষ তার নিয়্যাত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে।” এটি সহীহ বুখারী (০১) ও সহীহ মুসলিম (১৯০৭) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি পড়ব এবং হুকুম বর্ণনা করব:
নিম্নোক্ত আমলসমূহের সঠিকতা বিচার কর। তারপর তুমি সালাতের যে শর্তগুলো শিখেছ, সে অনুসারে প্রতিটি কর্মের সাথে সম্পৃক্ত শর্ত নির্ধারণ কর:
আমল সঠিক ভুল শর্ত
মুয়াযযিন সালাতের আযান দেওয়ার আগেই সালাত আদায় করল। ওয়াক্ত হওয়া।
কিবলামুখী হল এবং যোহরের সালাতের নিয়ত করল। কিবলামুখী হওয়া এবং নিয়ত করা।
কেউ তার প্রাকৃতিক হাজত পূরণ করল, এরপর অযু না করে সালাত আদায় করল। হাদাছ (ছোট নাপাকী) থেকে পবিত্র হওয়া।
রুকুতে কিবলার বিপরীত দিকে মুখ ফিরানো। কিবলামুখী হওয়া।
অনুশীলন (২): আমি আলোচনা করে পরামর্শ দেব:
তোমার বন্ধুর সাথে নিম্নলিখিত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা কর, এবং এগুলোর হুকুম ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি কিছু উপযুক্ত সমাধান প্রস্তাব কর:
কিছু যুবক এমন স্বচ্ছ পোশাকে নামাজ পড়ছে, যা তাদের সতর প্রকাশ করে দিচ্ছে।
কিছু সালাত আদায়কারী ব্যক্তি অন্যদের সাথে খারাপ আচরণ করে।
অনুশীলন (৩): পড়ব এবং যুক্ত করবো:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: حَٰفِظُواْ عَلَى ٱلصَّلَوَٰتِ وَٱلصَّلَوٰةِ ٱلۡوُسۡطَىٰ وَقُومُواْ لِلَّهِ قَٰنِتِينَ তথা: “তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে, বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা দাঁড়াবে বিনীতভাবে।” [আল-বাকরাহ, আয়াত: ২৩৮]।
আয়াতে কারীমাটি পাঠ করে তুমি সালাতের ওয়াক্ত হওয়া শর্তের সাথে আয়াতটির সম্পর্ক স্থাপন কর।
অনুশীলন (৪): আমি হুকম লিখব:
এমন ব্যক্তির হুকুম লেখ, যে ব্যক্তি জোরে আওয়াজ করে বলে: আমি যোহরের চার রাকাত ফরয সালাত আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে আদায় করছি।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
সালাতের প্রারম্ভিক দু‘আ সালাতের অন্যতম একটি শর্ত। (×)
একজন মানুষের সতর নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। (✓)
অক্ষম হলে কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করলে শুদ্ধ হবে।(✓)
অমুসলিমের সালাত শুদ্ধ হবে। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
সালাতের শর্তের মধ্যে রয়েছে:
(জ্ঞান - প্রাশান্তি - তারতীব)
সালাতে সতর ঢাকা হচ্ছে:
(শর্ত - রুকন - সুন্নাত)
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ যার অর্থ: “আপনি আপনার পরিচ্ছদ পবিত্র করুন।” এটি প্রমাণ করে,সালাতের শর্তের একটি হলো নিম্নোক্ত বিষয় থেকে পবিত্র থাকা :
(ছোট নাপাকী - বড় নাপাকী - নাজাসাত তথা অপবিত্রতা)
সালাতের স্থানে অপবিত্রতা বা নাজাসাত থাকলে সালাত:
(বিশুদ্ধ হবে - অশুদ্ধ হবে - মাকরূহ হবে)
মুসাফিরের জন্য কিবলামুখী না হয়ে সালাত আদায় করা:
(জায়েয - মাকরূহ - অশুদ্ধ)
প্রশ্ন ৩: নিচের দুটি নস কিসের দলীল বুঝায়, লিখো ?
إِنَّ ٱلصَّلَوٰةَ كَانَتۡ عَلَى ٱلۡمُؤۡمِنِينَ كِتَٰبٗا مَّوۡقُوتٗا তথা: “নিশ্চয় নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।”
“পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল হয় না।”
প্রশ্ন ৪: সালাতের ক্ষেত্রে পুরুষ এবং মহিলার সতরের মধ্যে পার্থক্য কী?
তৃতীয় পাঠ: সালাতের রুকন এবং ওয়াজিবসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে:
তুমি সালাতের রুকনসমূহ বর্ণনা করবে।
সালাতের ওয়াজিবগুলোর দলীল পেশ করবে।
রুকন এবং ওয়াজিবের মধ্যে পার্থক্য করবে।
সালাত ফরয হওয়ার মাহাত্ম্য অনুধাবন করবে।
একাগ্রতা ও প্রশান্তির সাথে সালাত আদায় করবে।
ভূমিকা:
সালাতে করণীয় আমলগুলো রুকন (ফরয), ওয়াজিব এবং সুন্নাতে বিভক্ত:
রুকন হচ্ছে এমন বিষয় যা ছাড়া সালাত শুদ্ধ হবে না; এটা ইচ্ছাপূর্বক অথবা ভুলক্রমে কোনভাবেই রহিত হয় না। এগুলোর সংখ্যা ১৪টি।
ওয়াজিবগুলোও অবশ্য পালনীয়, তবে যদি কেউ ইচ্ছা করে এর মধ্য হতে একটিকে ছেড়ে দেয়, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি তা ভুলক্রমে ছেড়ে দেয়, সে সাহু সাজদাহ দেবে। এগুলোর সংখ্যা ০৮টি।
আর সুন্নাতগুলো পালন করা উত্তম। যদি সেগুলো ছুটে যায়, তবুও সালাত সহীহ হয়ে যাবে। এগুলো অনেক।
প্রথমত: সালাতের রুকনসমূহ
সামর্থ থাকলে দাঁড়িয়ে ফরয সালাত আদায় করা।
যদি অসুস্থতাজনিত কারণে দাঁড়াতে সক্ষম না হয়, তবে সাধ্য অনুযায়ী বসে অথবা শুয়ে সালাত আদায় করবে।
তাকবীরে তাহরীমা বলা, এটা হলো: মুসল্লী বলবে “আল্লাহু আকবার।”
সূরা ফাতিহা পড়া।
প্রতি রাকাতে রুকু করা। এটি হচ্ছে মুসল্লী নিচু হয়ে তার দুইহাত দুই হাঁটুর উপরে রাখবে।
রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
সিজদা করা, সিজদা সাতটি অঙ্গের উপর করতে হবে, অঙ্গগুলি নিম্নরূপ: নাকসহ কপাল, দুহাতের তালু, দুই হাঁটু এবং পায়ের আঙ্গুলসমূহ।
সিজদা হতে সোজা হওয়া।
দুই সিজদার মাঝখানে বসা।
শেষ তাশাহহুদের জন্য বৈঠকে বসা।
শেষ তাশাহহুদ পাঠ করা।
শেষ বৈঠকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ পাঠ করা।
রুকনগুলোর তারতীব-ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা।
সালাম ফিরানো। উত্তম হচ্ছে: السلام عليكم ورحمة الله তথা: ‘আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বলা।
প্রতিটি রুকন প্রশান্তু ভাবে আদায় করা।
সালাতের রুকনগুলো এখান থেকে দেখ:
দ্বিতীয়ত: সালাতের ওয়াজিবসমূহ
তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত সকল তাকবীর, যেমন: রুকুর তাকবীর এবং সিজদার তাকবীর।
রুকুতে “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম” (سبحان ربي العظيم) বলা।
সিজদাতে “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা” (سبحان ربي الأعلى) বলা।
ইমাম এবং একাকির জন্য রুকু থেকে উঠার সময় (سمع الله لمن حمده) সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ বলা।
রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময়ে (ربنا ولك الحمد) ‘রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ’ বলা।
দুই সিজদার মাঝখানে “রব্বিগফিরলী” (رب اغفر لي) বলা।
সালাতের ওয়াজিবগুলো এখান থেকে দেখ:
https://www.youtube.com/watch?v=DcLXOhquuOQ
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি খুঁজে বের করব এবং বাক্য রচনা করব:
আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, একবার আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করলেন, তারপর এক ব্যক্তিও প্রবেশ করে সালাত আদায় করলো। তারপর এসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিলো।আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জবাব দিয়ে বললেনঃ তুমি ফিরে যাও আবার সালাত আদায় কর; কেননা তুমি সালাত আদায় করনি। লোকটি ফিরে গিয়ে আবার যে ভাবে পূর্বে সলাত আদায় করেছিল সেভাবেই সলাত আদায় করলো, তারপরএসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিলো,অতপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ওয়া ‘আলাইকাস সালাম’ বলে সালামের জবাব দিয়ে বললেন: তুমি ফিরে যাও আবার সালাত আদায় কর; কেননা তুমি সালাত আদায় করনি। এভাবে করে তিনি তাকে তিনবার ফেরালেন। তারপরে লোকটি বললোঃ সেই মহান সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চেয়ে আর সুন্দর করে সালাত আদায় করতে পারি না, আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “যখন তুমি সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতপর কুরআন হতে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পাঠ করবে। তারপরে রুকুতে থাকবে যতক্ষণ না স্থিরতা অবলম্বন করবে। এরপর তুমি রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে ভালোভাবে দাঁড়াবে। তারপরে সিজদা করবে, যতক্ষণ না সিজদাতে স্থিরতা অবলম্বন হয়। এরপরে সিজদা থেকে উঠে বসবে যতক্ষণ না স্থিরতা অবলম্বন হয়। তারপরে তোমার পুরো সালাতেই এভাবে করতে থাকবে।” এটি সহীহ বুখারী (৭৫৭) ও মুসলিম (৩৯৭) বর্ণনা করেছেন।
হাদীসে উল্লেখিত সালাতের রুকনসমূহ খুঁজে বের কর।
তাকবীরে তাহরীমা - রুকু - রুকু থেকে উঠা - সিজদা - সিজদা থেকে সোজা হওয়া - দুই সিজদার মাঝে বসা - প্রশান্ত স্থিরতার সাথে রুকনগুলি আদায় করা।
এ হাদীস থেকে দলীল নিয়ে যে ব্যক্তি সালাতে তাড়াহুড়া করে, তার উদ্দেশ্যে একটি বাণী লিখ।
অনুশীলন (২): আমি অংশগ্রহণ করবো এবং মূল্যায়ন করব:
পরিবারের একজন সদস্য সালাতের প্রথম রাকাতের বর্ণনা দেবে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তার বর্ণনা মূল্যায়ন করবে, এবং এতে কোন ত্রুটি রয়েছে কিনা তা বর্ণনা দেবে।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
সূরা ফাতিহা পাঠ করা সালাতের শর্ত। (×)
দুই সিজদার মাঝখানে বসা সালাতের রুকন। (√)
প্রশান্তি স্থিরতা অবলম্বন করা সালাতেরিএকটি রুকন। (√)
রুকুর জন্য তাকবীর দেওয়া সালাতের রুকন। (×)
মুসলিমের উপরে ওয়াজিব যে, সে সিজদাতে তাসবীহ পাঠ করবে। (√)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
প্রথম তাশাহহুদ হচ্ছে:
(সালাতের শর্ত - সালাতের রুকন - সালাতের ওয়াজিব)
সালাম ফিরানো সালাতের:
(শর্ত - রুকন - ওয়াজিব)
সিজদা করতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আদেশ করেছেন:
(পাঁচটি অঙ্গের উপরে - ছয়টি অঙ্গের উপরে - সাতটি অঙ্গের উপরে)
প্রশ্ন ৩: উপযুক্ত শব্দ দিয়ে নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলি সম্পূর্ণ কর:
তাকবীরে তাহরীমা বলা সালাতের .............।
তাসমী‘ হচ্ছে: .............................. বলা।
দ্বিতীয় সিজদা সালাতের ......................।
প্রশ্ন ৪: সালাতের একটি ওয়াজিব ইচ্ছাকৃত ত্যাগ করা এবং ভুলবশত ত্যাগ করার হুকুমের মধ্যে তুলনা কর।
চতুর্থ পাঠ: সালাতের সুন্নাতসমূহ এবং সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যঃ
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
সালাতে উক্তি ও কর্সমূলক সুন্নাতের পার্থক্য করবে।
সালাতের সুন্নাতগুলো বাস্তবায়নে আগ্রহী হবে।
তোমার সালাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করবে।
সালাত ভঙ্গকারী বিষয়গুলি বর্ণনা করবে।
সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে দূরে থাকবে।
প্রথমত: সালাতের সুন্নাতসমূহ
এগুলো হচ্ছে এমন উক্তি ও কর্ম, যা মুসল্লীর সওয়াব বৃদ্ধি করে, কিন্তু যদি তা ত্যাগ করে, তবে তার কোন গুনাহ হবে না।
সুন্নাতগুলো দুই ভাগে বিভক্ত: উক্তি সংক্রান্ত সুন্নাহ এবং কর্ম সংক্রান্ত সুন্নাহ।
প্রথমত: উক্তি সংক্রান্ত সুন্নাহ, যার মধ্যে রয়েছে:
প্রারম্ভিক দু‘আ পাঠ করা, এটি তাকবীরে তাহরীমার পরে পড়তে হয়। আর মুসল্লী সেখানে পাঠ করবে: «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُكَ، وَلاَ إِلَهَ غَيْرك»যার অর্থ: “হে আল্লাহ! প্রশংসা ও পবিত্রতা আপনারই, আপনার নাম বরকতময়, আপনার সম্মান উচ্চ, আপনি ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই।” এটি সহীহ মুসলিম (৩৯৯) বর্ণনা করেছেন।
তা‘আওউয পড়া, এটি হচ্ছে: কিরাআতের আগে أعوذ بالله من الشيطان الرجيم তথা আউবিল্লাহি মিনাশ শাইত্বানির রজীম পাঠ করা।
সূরা ফাতিহার পরে কিছু আয়াত অথবা একটি সূরা পাঠ করা।
তা’মীন, এটি হচ্ছে: সূরা ফাতিহার পরে (آمين) আমীন বলা।
রুকু এবং সিজদার তাসবীহ একবারের অতিরিক্ত যা পড়া হয়।
শেষ তাশাহহুদের পরে দু‘আ করা।
দ্বিতীয়ত: কর্ম সংক্রান্ত সুন্নাত, যার মধ্যে রয়েছে:
তাকবীরে তাহরীমার সাথে দুই হাত উত্তোলন করা, অনুরূপ রুকুতে যাওয়ার সময়, রুকু থেকে উঠার সময় এবং প্রথম তাশাহহুদ থেকে উঠে দাঁড়ানোর সময় দুই হাত উত্তোলন করা।
দাঁড়ানো অবস্থায় ডান হাতকে বাম হাতের উপরে রাখা।
রুকুতে দুই হাত দুই হাঁটুর উপরে রাখা।
দুই সিজদার মাঝখানে ডান হাত ডান উরুর উপর এবং বাম হাত বাম উরুর উপর রাখা।
সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা।
এখান থেকে সালাতের সুন্নাতসমূহ দেখ:
দ্বিতীয়ত: সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
সালাত ভঙ্গকারী বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:
ইচ্ছাকৃতভাবে সালাতের রুকনগুলির কোন একটি ছেড়ে যাওয়া; যেমন রুকূ বা সিজদা। যদি সে ভুলবশত তা ছেড়ে দেয়, তবে অন্য রাকাত শুরু করার আগে তা মনে পড়ে এবং সে তা সম্পাদন করে, তাহলে সে তা আদায় করল বলে গণ্য হবে এবং তার সালাত সহীহ হবে। যদি সে অন্য রাকাত শুরু করার পর তার মনে পড়ে তাহলে রাকাতটি বাতিল হবে এবং পরের রাকাতটি তার স্থলাভিষিক্ত হবে। আর সে (মুসল্লী) এর জন্য সাহু সিজদা করে নেবে।
ইচ্ছাপূর্বক সালাতের কোন ওয়াজিব যেমন: তাসবীহ, তাসমী‘ এবং তাহমীদ বাদ দেওয়া।
সালাতের কোন শর্ত ত্যাগ করা, যেমন: কোন ব্যক্তির অযু ছাড়া সালাত আদায় করা।
সালাতের কোন কর্মমূলক রুকন ইচ্ছাপূর্বক বৃদ্ধি করা, যেমন: রুকু অথবা সিজদা, তবে যদি ভুলে করে থাকে, তাহলে সালাত বাতিল হবে না।
বেশী হোক আর কম ইচ্ছাপূর্বক পানাহার করা।
ইচ্ছাপূর্বক সালাতের কারণে নয় এমন কোন কথা বলা।
ইচ্ছাপূর্বক অট্টহাঁসি দেওয়া, অট্টহাাঁসি হচ্ছে: আশেপাশের মানুষ শুনতে পায় এমন শব্দ করে জোরে হাঁসা।
সালাত বহির্ভুত কোন কাজ অধিক পরিমাণে করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি হুকুম বলব এবং পার্থক্য নিরুপণ করব:
নিচে বর্ণিত যে কাজগুলো সালাতকে বাতিল করে এবং যে কাজগুলো সালাত বাতিল করে না, তার মধ্যে পার্থক্য কর:
কাজ যা সালাত বাতিল করে না যা সালাত বাতিল করে
ইমাম কোন একটি আয়াত ভুলে গেলে মুক্তাদি তাকে মনে করিয়ে দিল।
কেউ সালাতে ভুল করে সূরা ফাতিহা দুইবার তিলাওয়াত করল।
কেউ সালাতের মধ্যখানে ইচ্ছাপূর্বক কোন কিছু পান করল।
কেউ সালাতের মধ্যে জোরে শব্দ করে হাঁসি দিল।
অনুশীলন (২): আমি খুঁজে বের করব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “রুকু ও সিজদাতে পিঠকে সোজা না রাখা ব্যক্তির সালাত যথেষ্ট হবে না।” এটি আবূ দাঊদ (৮৫৫) ও তিরমিযী (২৬৫) বর্ণনা করেছেন।
আমি হাদীসটি থেকে সালাত বাতিলকারী বিষয়গুলো খুঁজে বের করব।
অনুশীলন (৩): আমি সাহায্য করব এবং শ্রেণিবিন্যাস করব:
ছকের সাথে মানানসই প্রতিটি কাজকে শ্রেণিবিন্যাস করতে তোমার সহপাঠীকে সাহায্য কর।
কাজ শর্ত রুকন সুন্নাত ওয়াজিব
কাপড় পাক।
“রব্বানা- ওয়া লাকাল হামদ” (ربنا ولك الحمد) বলা।
সূরা ফাতিহা পড়া।
আমীন বলা।
সিজদাতে “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা” (سبحان ربي الأعلى) বলা।
সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিচের অবস্থাগুলোতে সালাত বাতিল হয় নাকি বাতিল হয় না, তা নির্ধারণ কর:
সালাতরত অবস্থায় এক ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে কান্না করল। (হ্যাঁ - না)
কারো মা তাকে ডাকল, তখন সে সালাত আদায় করছে এটা জানানোর জন্য তাকবীর জোরে উচ্চারণ করল। (হ্যাঁ - না)
শেষ বৈঠকের তাশাহহুদে সজোরে হাাঁসি দেওয়া। (হ্যাঁ - না)
সালাতের প্রারম্ভিক দু‘আ ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া। (হ্যাঁ - না)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
ইচ্ছাকৃতভাবে বেশী করলে সালাত বাতিল হয়ে যায়:
(রাকাত - তাসবীহ - সূরা ফাতিহার পরে দ্বিতীয় সূরা)
সালাতের কর্মগত সুন্নাহর মধ্যে রয়েছে:
(আমীন বলা - দুই হাত উত্তোলন করা - তাসবীহ পড়া)
যদি কোন মুসলিম প্রথম তাশাহহুদ ভুলে ত্যাগ করে, তাহলে তার সালাত:
(বাতিল হবে - শুদ্ধ হবে - পুনরায় পড়া আবশ্যক হবে)
প্রশ্ন ৩: ভুলে সিজদা ত্যাগ করার হুকুম কী?
পঞ্চম পাঠ: জামা‘আতের সালাত
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য:
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি জামা‘আতে সালাতের হুকুম বর্ণনা করবে।
জামা‘আতের সালাতের ফযীলতের উপর দলীল পেশ করবে।
জামা‘আতের সাথে সালাত আদায় করার সওয়াবের মাহাত্ম অনুভব করবে।
জামা‘আতে সালাত আদায়ে যত্নবান হবে।
ভূমিকা:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: فِي بُيُوتٍ أَذِنَ ٱللَّهُ أَن تُرۡفَعَ وَيُذۡكَرَ فِيهَا ٱسۡمُهُ তথা: “সে সব ঘরে যাকে সমুন্নত করতে এবং যাতে তার নাম স্মরণ করতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন।” [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৩৬]।
এ আয়াতে ঘরসমূহ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
প্রথমত: জামা‘আতে সালাতের হুকুম
জ্ঞানবান ও বালেগ প্রতিটি পুরুষের উপরে জামা‘আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَإِذَا كُنتَ فِيهِمۡ فَأَقَمۡتَ لَهُمُ ٱلصَّلَوٰةَ فَلۡتَقُمۡ طَآئِفَةٞ مِّنۡهُم مَّعَكَ তথা: “আর আপনি যখন তাদের মধ্যে অবস্থান করবেন তারপর তাদের সাথে সালাত কায়েম করবেন, তখন তাদের একদল আপনার সাথে যেন দাঁড়ায়।” [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০২]।
জামা‘আতে সালাতের জন্য সর্বনিম্ন কম সংখ্যা দুইজন: একজন ইমাম এবং অপরজন মুক্তাদি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুই বা ততোধিক ব্যক্তি হলেই জামা‘আত হবে।” ইবন মাজাহ (৯৭২) এটি বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়ত: জামা‘আতে সালাতের ফযীলত
জামা‘আতের সাথে সালাতের ফযীলত:
একক ব্যক্তির সালাত অপেক্ষা উত্তম।
জান্নাতে প্রবেশ করা।
ফজর ও ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করার ফযীলত।
মর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়া এবং গুনাহের কাফফারা।
জামা‘আতে সালাত আদায় করা একক ব্যক্তির সালাত অপেক্ষা উত্তম:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জামা‘আতে সালাত আদায় একা সালাতের চেয়ে সাতাশ গুণ বেশী ফযীলত রাখে।” এটি সহীহ বুখারী (৬৪৫) ও মুসলিম (৬৫০) বর্ণনা করেছেন।
জান্নাতে প্রবেশ করার একটি কারণ:
আল্লাহ তা‘আলা মসজিদে জামা‘আতে সালাত আদায়কারীদের জন্য জান্নাতে রিযিক এবং আতিথীয়তার ব্যবস্থ করে রেখেছেন। নবী সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সকাল বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন।” হাদীসটি সহীহ মুসলিম (৬৬৯) বর্ণনা করেছেন।
ফজর ও এশার সালাত জামা‘আতে আদায়ের ফযীলত:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে জামা’আতে এশার সালাত আদায় করল, সে যেন রাতের অর্ধেক পর্যন্ত সালাত আদায় করল। আর যে ফজরের সালাত জামা‘আতের সাথে আদায় করল, সে যেন সারা রাত জেগে সালাত আদায় করল।” এটি মুসলিম (৬৫৬) বর্ণনা করেছেন।
মর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়া এবং গুনাহের কাফফারা:
যে ব্যক্তি তার ঘরে ভালভাবে অযু করে, তারপর সালাতের জামা‘আতের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, আল্লাহ তা‘আলা তাকে প্রতি পদক্ষেপে একটি করে মর্যাদার স্তর উন্নীত করবেন এবং তার থেকে একটি করে গুনাহ দূর করবেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “... এর কারণ হল যখন সে ভালোভাবে অযু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, এবং তাকে শুধুমাত্র সালাতই (ঘর থেকে) বের করে আনে, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপেই একটি করে মর্যাদা বৃদ্ধি পায় আর তার থেকে একটি করে পাপ দূরীভুত হয়।” এটি সহীহ বুখারী (৬৪৭) ও সহীহ মুসলিম (৬৪৯) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি সাহায্য করব এবং জবাব দেব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়াতলে ছায়া প্রদান করবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না ... আর সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে সংযুক্ত থাকে।” এটি বুখারী (৬৬০) ও মুসলিম (১০৩১) বর্ণনা করেছেন।
পাঠের বিষয়বস্তু এবং হাদীসটির মধ্যে সম্পর্ক নির্ধারণে তোমার সহপাঠীকে সহযোগিতা কর।
অনুশীলন ২: আমি ভাবব এবং উত্তর দিবো:
“জনৈক অন্ধ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন:হে আল্লাহর রসূল! আমাকে মসজিদে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমার কোন পথপ্রদর্শক নেই। অতপর লোকটি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুমতি চাইলেন যেন তিনি তাকে বাড়িতে সালাত আদায়ের অনুমতি দেন... তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: “তুমি কী সালাতের আহবান শুনতে পাও?” লোকটি বললেন: জ্বি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তাহলে জবাব দাও।” এটি সহীহ মুসলিম (৬৫৩) বর্ণনা করেছেন।
এ ঘটনা থেকে কী শিক্ষনীয় বিষয় পাওয়া যায়?
এ ঘটনাটির সাহায্যে জামা‘আতে সালাত আদায়ে অনীহাকারীকে একটি নসীহত কর।
অনুশীলন (৩): আমি পর্যবেক্ষণ করে জবাব দেব:
তোমার সামনে জামা‘আতে সালাত ত্যাগ করার কয়েকটি কারণ রয়েছে, প্রতিটি সমস্যার জন্য উপযুক্ত সমাধানের পরামর্শ দাও:
জামা‘আতে সালাত আদায় ত্যাগ করার কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে সমাধানের পরামর্শ
অলসতা
কাজে ব্যস্ত থাকা
এর ফযীলত না জানা
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১:নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
জামা‘আতের জন্য সবচেয়ে কম সংখ্যা ইমামের সাথে কমপক্ষে দুইজন পুরুষ থাকা।
জামা‘আতে সালাত আদায় করা একা সালাত আদায় থেকে সাতাশ গুণ বেশী ফযীলতপূর্ণ।
মহিলাদের উপর জামা‘আতের সালাত ওয়াজিব।
জামা‘আতে সালাত আদায় করা ইসলামের একটি অন্যতম বড় নিদর্শন।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
যাদের উপরে জামা‘আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব নয়:
(ব্যবসায়ী - যুবক - বালক)
পুরুষদের উপরে জামা‘আতে সালাত আদায়ের হুকুম:
(ওয়াজিব - সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ - পছন্দনীয়)
যে ব্যক্তি ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করে, তার জন্য সালাত আদায়ের সওয়াব রয়েছে :
(রাতের এক-তৃতীয়াংশ - অর্ধরাত - পুরো রাত)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত হাদীসটি যা প্রমাণ করে তা বর্ণনা করো:
“যে ব্যক্তি সকালে বা সন্ধ্যায় যতবার মসজিদে যায়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য জান্নাতে ততবার মেহমানদারীর ব্যবস্থা করেন।”
ষষ্ঠ পাঠ: জুমু‘আহর সালাত
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি জুমু‘আহর সালাতের গুরুত্বপূর্ণ আহকাম বর্ণনা করবে।
জুমু‘আহর সালাত আদায়ের ফযীলতের দলীল পেশ করবে।
জুমু‘আহর সালাতের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করবে।
জুমু‘আহর সালাতের গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
জুমু‘আহর সালাতের ব্যাপারে যত্নবান হবে ।
ভূমিকা:
জুমু‘আহর দিন হচ্ছে সপ্তাহের সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের শ্রেষ্ঠ দিনগুলির মধ্যে একটি হল জুমু‘আহর দিন (শুক্রবার)।" এটি আবূ দাউদ (১০৪৭) ও নাসাঈ (১৩৭৪) বর্ণনা করেছেন।
জুম‘আহর সালাত
জুম‘আহর সালাতের ফযীলত
জুমু‘আহর সালাতের হুকুম
জুমু‘আহর সালাতের পদ্ধতি
জুমু‘আহর সালাতের আদব
জুম‘আহর সালাতের ফযীলত:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অযু করল, অতপর জুমু‘আহ পড়তে এল এবং মনোযোগ সহকারে নীরব থেকে খুতবাহ শুনল, সে ব্যক্তির এই জুমআহ ও (আগামী) জুমআর মধ্যেকার এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (ছোট) পাপসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৮৫৭)।
জুমু‘আহর সালাতের হুকুম:
“জুমু‘আহর সালাত প্রত্যেক জ্ঞানবান, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য ফরয, যে মুসাফির নয় এবং অসুস্থ নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “হে ঈমানদারগণ! জুমুআহর দিনে যখন সালাতের জন্য ডাকা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং কেনা-বেচা ত্যাগ কর।” [আল-জুমু‘আহ, আয়াত: ০৯]।
জুমু‘আহর সালাতের পদ্ধতি :
সালাতের আগে ইমাম দুইটি খুত্ববা প্রদান করবেন, যাতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে: আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা, (তাওহীদ ও রিসালাতের) দুটি সাক্ষ্য, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে দরুদ, আল্লাহর তাকওয়ার ব্যাপারে নসীহত এবং কুরআন কারীম থেকে কিছু আয়াত পাঠ।
জোরে কিরাআতের সাথে মসজিদে দুই রাকাত জুমু‘আহর সালাত আদায় করা হয়।
সুন্নাত হলো যে, ইমাম প্রথম রাকাতে সূরা আল-জুমু‘আহ এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-মুনাফিকূন পড়বে। অথবা প্রথম রাকাতে সূরা আল-আ‘লা এবং দ্বিতীয় রাকাতে সূরা আল-গাশিয়াহ পড়বে।
এখান থেকে জুমু‘আহর আহকাম দেখ:
জুমু‘আহর সালাতের আদব:
গোসল করা, সুগন্ধি মাখা, সবচেয়ে সুন্দর পোষাক পরা এবং আগে আগেই মসজিদে যাওয়া।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে বেশী বেশী সালাত (দরুদ) পাঠ করা।
বেশী বেশী দু‘আ করা; কেননা জুমু‘আহর দিনে একটি সময় রয়েছে, যখন আল্লাহ তা‘আলা দু‘আ কবূল করেন।
খুত্ববার সময় চুপ থাকা। এর মধ্যে অনর্থক কাজ বর্জন করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অযূ করল, অতপর জুমু‘আহ পড়তে এল এবং মনোযোগ সহকারে নীরব থেকে খুতবাহ শুনল, সে ব্যক্তির এই জুমআহ ও (আগামী) জুমআর মধ্যেকার এবং অতিরিক্ত আরো তিন দিনের (ছোট) পাপসমূহ মাফ ক’রে দেওয়া হয় । আর যে ব্যক্তি (খুৎবাহ্ চলাকালীন সময়ে) কংকর স্পর্শও করল, সে অনর্থক কাজে লিপ্ত হল।” এটি মুসলিম (৮৫৭) বর্ণনা করেছেন।
জুমু‘আহর সালাতের আদবসমূহ এখানে দেখ:
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি আমার কাজ মূল্যায়ন করব:
জুমু‘আহর দিনের অনেক আদব রয়েছে, তুমি যে কাজগুলো আদায় করে থাক, সেগুলোকে চিহ্নিত করে নিচের ছকে তোমার আদায়কৃত আদবের বিষয়গুলো নির্ধারণ কর:
জুমু‘আহর দিনের আদবসমূহ আমি যেগুলো পালন করে থাকি আমি কখনো কখনো করে থাকি আমি অচিরেই করব
গোসল
সুন্দর কাপড় পরিধান।
আগে আগেই মসজিদে যাওয়া।
সুগন্ধি মাখা।
বেশী বেশী দু‘আ করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে বেশী বেশী সালাত (দরুদ) পাঠ করা।
অনুশীলন (২) মনে করে জবাব দেব:
তোমার উপস্থিত হওয়া সর্বশেষ খুত্ববার বিষয়বস্তু লেখ।
যদি তোমাকে জুমু‘আহর খুত্ববা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তুমি কোন বিষয়ে খুত্ববা দিতে পছন্দ করবে?
অনুশীলন (৩): আমি খুঁজে বের করে সমাধান পেশ করব:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “লোকেরা যেন জুমু‘আহ ত্যাগ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকে; নচেৎ আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দিবেন, অতপর তারা অবশ্যই উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।” এটি মুসলিম (৮৬৫) বর্ণনা করেছেন।
জুমু‘আহর সালাত পরিত্যাগের ভয়াবহতা বর্ণনা কর এবং যে সব যুবকেরা অলসতা করে তা পরিত্যাগ করে, তাদের সমাধান কিভাবে দেওয়া যাবে?
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
জুমু‘আহর সালাত মুসাফিরের উপরে ওয়াজিব।
জুমু‘আহর সালাত বাড়িতে আদায় করা যায়।
জুমু‘আহর খুত্ববার সময় চুপ থাকা আবশ্যক।
প্রশ্ন ২: বন্ধনী থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
ইমামের জন্য এটা সুন্নাত যে, তিনি জুমু‘আহর সালাতের প্রথম রাকাতে সূরা পাঠ করবেন:
(আল-জুমু‘আহ - আল-গাশিয়াহ - আল-মুনাফিকূন)
জুমু‘আহর সালাতের আদব:
(শিশুদের সাথে নিয়ে যাওয়া - গোসল করা এবং সুগন্ধি মাখা - মহিলাদের উপস্থিতি)
প্রতিটি মুসলিমের জন্য উচিত যে, সে জুমু‘আহর দিনে বেশী বেশী করবে:
(সিয়াম- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরূদ - ওয়াজ)
প্রশ্ন ৩: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখ:
জুমু‘আহর সালাত আদায় করা প্রতিটি মুসলিমের উপরে ওয়াজিব।
জুমু‘আহর সালাত আস্তে কিরআতের সাথে চার রাকাত আদায় করতে হয়।
জুমু‘আহর খুত্ববা সালাতের পরে দেওয়া মুস্তাহাব।
প্রশ্ন ৪: জুমুু‘আহর সালাত গুনাহ মাফের কারণ, এ ব্যাপারে দলীল পেশ কর।
সপ্তম পাঠ: নফল সালাত
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি নফল সালাতের উদ্দেশ্য বর্ণনা করবে।
তারাবীহ ও দুহার সালাতের ফযীলতের উপরে দলীল পেশ করবে।
সুন্নাতে রাতেবাগুলোর বর্ণনা দিবে ।
নফল সালাতের প্রকারভেদের পার্থক্য করবে ।
নফল সালাতের ফযীলত অনুধাবন করবে।
তুমি (সাধারণ) নফল ও রাতেবা সুন্নাতগুলোর ব্যাপারে যত্নবান হবে।
ভূমিকা:
অতিরিক্ত নফল সালাত হচ্ছে এমন সালাত, যেগুলো পাঁচ ওয়াক্তে ফরযকৃত সালাত ছাড়া শরীয়ত সম্মত সালাত। এগুলোর অনেক প্রকার রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম:
বিতরের সালাত:
এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ সালাত, যা ইশার পরে শুরু হয়ে ফজর উদিত হওয়ার সাথে সাথে (ওয়াক্ত) শেষ হয়।
এর সর্বনিম্ন পরিমাণ হচ্ছে এক রাকাত, সর্বোচ্চ হচ্ছে এগারো অথবা তেরো রাকাত।
মুসলিম ব্যক্তি দুই দুই রাকাত করে পড়তে থাকবে, এরপরে শেষে এক রাকাত পড়ে বেজোড় করে নিবে।
ফরয সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সুন্নত সালাতসমূহ / সুনানু রাতিবাহ
এগুলো হচ্ছে ফরয সালাতের আগে পরে মোট বারো রাকাত। এগুলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।
ইবনু উমার হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আমি দশ রাকাআত সালাত সংরক্ষণ করেছি। যোহরের পূর্বে দুই রাকাত, পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে তার ঘরে দুই রাকাত, ইশার পরে তার ঘরে দুই রাকাত, এবং সকালের (ফজরের) সালাতের পূর্বে দুই রাকাত।” এটি বুখারী (১১৮০) বর্ণনা করেছেন।
তারাবীহর সালাত:
এটি রমাদান মাসে সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। এটি ইশার পরে এবং বিতরের আগে জামা‘আতের সাথে আদায় করা উত্তম।
এর সংখ্যা এগারো রাকাত, তবে কেউ বেশী পড়লে কোন সমস্যা নেই। প্রতি দুই রাকাতে সালাম ফিরাবে, প্রতি চার রাকাতের পরে সামান্য একটু বসে বিশ্রাম নিবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ কথা থেকে এর ফযীলত জানা যায়: “যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় কিয়ামুল লাইল(রাত জেগে সালাত আদায় করল) পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।” এটি বুখারী (৩৭) ও মুসলিম (৭৫৯) বর্ণনা করেছেন।
সালাতুদ দুহা:
এটি সুন্নাত, এটি কমপক্ষে দুই রাকাত এবং সর্বোচ্চ আট রাকাত। সূর্য উদিত হয়ে তা উঁচু হয়ে সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে পড়ার সামান্য আগ পর্যন্ত (যোহরের আযানের ওয়াক্ত)।
এর ফযীলত সম্পর্কে আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু যা বলেছেন, তা হচ্ছে: “আমাকে আমার খলীল তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন, আমি সেগুলোকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছাড়ব না, সেগুলি হচ্ছে: “প্রতি মাসে তিনদিন সিয়াম পালন করা, সালাতুদ দুহা এবং বিতরের সালাত আদায় করে ঘুমনো।” এটি বুখারী (১১৭৮) ও মুসলিম (৭২১) বর্ণনা করেছেন।
সাধারণ নফল:
এগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে কিয়ামুল লাইল- তাহাজ্জুদ কেননা এটা ইখলাসের সবচেয়ে নিকটবর্তী।
সকল সময়ই নফল সালাত আদায় করা যায়, তবে সালাতের নিষিদ্ধ ওয়াক্ত ব্যতীত, সেগুলো হচ্ছে:
ফজরের সালাতের পর থেকে সূর্য উঁচু হওয়া পর্যন্ত।
সূর্য ঠিক মাথার উপরে থাকার সময় থেকে তা ঢলে পড়ার আগ (যোহরের সালাতের ওয়াক্তে সামান্য কিছুটা আগ) পর্যন্ত।
আসরের সালাত থেকে সূর্য ডুবে যাওয়ার আগ পর্যন্ত।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি ফলাফল বের করে বাক্য রচনা করব:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বান্দার প্রথম হিসাব হবে তার সালাতের। যদি সালাত পূর্ণ থাকে, তার জন্য পরিপূর্ণ লিখা হবে। যদি সালাত পূর্ণাঙ্গ না হয়, তখন আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: দেখ, তোমরা আমার বান্দার জন্য কোন নফল খুঁজে পাও কিনা, যাতে তোমরা সেগুলো দিয়ে তার ফরযটা পূর্ণ করতে পার।” এটি আহমাদ (১৬৬১৪) ও নাসাঈ (৪৬৬) বর্ণনা করেছেন।
এ হাদীসের আলোকে:
নফল সালাতের শরী‘আতসম্মত হওয়ার হিকমত খুঁজে বের কর।
ফরয সালাতের ত্রুটি পূর্ণ করা।
এ হাদীসের মধ্যে বান্দার উপরে আল্লাহ তা‘আলার রহমত প্রকাশ পায়, ব্যাখ্যা কর।
ফরয সালাতে মানুষ ত্রুটি-বিচ্যুতির শিকার হয়। আল্লাহর রহমত হচ্ছে, তিনি বান্দার জন্য এমন কিছু নির্ধারণ করেছেন যা দিয়ে তার এই ত্রুটিগুলো পূরণ করা যায়, আর তা হচ্ছে: নফল সালাত।
অনুশীলন (২): আমি চিন্তা করে উত্তর দিব:
সালাত হচ্ছে সর্বোত্তম ইবাদাত, যার মাধ্যমে মানুষ তার রব আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভ করে। আর এটি হচ্ছে বান্দাকে ভালোবাসার কারণ, এর ভিত্তিতে নফল সালাত ত্যাগ করার নেতিবাচক দিকসমূহ খুঁজে বের কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
বিতর সালাতের সর্বনিম্ন সংখ্যা হচ্ছে তিন রাকাত।
সূর্যোদয়ের সময়ে নফল সালাত আদায় করা হারাম।
সালাতুদ দুহা পুরুষদের জন্য ওয়াজিব।
সাধারণ নফলের মধ্যে কিয়ামুল লাইল সর্বোত্তম নফল সালাত।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
বিতরের সালাত:
(সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ - পছন্দনীয় - ফরযে কিফায়াহ)
দুহার সালাতের সর্বোচ্চ রাকাত সংখ্যা:
(চার রাকাত - ছয় রাকাত - আট রাকাত)
তারাবীহর সালাতের রাকাত সংখ্যা:
(আট রাকাত - পনের রাকাত - এগারো রাকাত)
ছকে চাওয়া বিষয়ের আলোকে সালাতুদ দুহা এবং সালাতুত তারাবীহর মধ্যে তুলনা কর:
তুলনার দিক সালাতুদ দুহা তারাবীহর সালাত
হুকুম
ওয়াক্ত
প্রশ্ন ৪: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
সালাতুত তারাবীহর ফযীলতের উপরে দলীল পেশ কর।
সুনানে রওয়াতিব (ফরজ সলাত সংশ্লিষ্ট সুন্নাত) এর সংখ্যা ও স্থান উল্লেখ কর।
অষ্টম পাঠ: যাকাত
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি ইসলামে যাকাতের হুকুম বর্ণনা করবে।
যাকাতের শরী‘আতসম্মত হওয়ার হিকমত খুঁজে বের করবে।
যে সম্পদগুলোতে যাকাত ফরয তা বর্ণনা করবে।
যাকাতের খাতসমূহের মধ্যে পার্থক্য করবে।
ইসলামে যাকাতের মহত্ত অনুধাবন করবে।
তোমার সম্পদের যাকাত আদায় করবে।
ভূমিকা:
আল্লাহ তা‘আলা সূরা আল-মু’মিনূনের প্রথমে মুমিনদের সফলতা নিয়ে আলোকপাত এবং তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো বর্ণনা করেছেন। যাকাতের সাথে সম্পর্কিত মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনাকারী আয়াতটি লেখ।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِلزَّكَوٰةِ فَٰعِلُونَ তথা: “এবং যারা যাকাতে সক্রিয়।” [সূরা আল-মুমিনূন, আয়াত: ০৪]।
যাকাতের হুকুম:
যাকাত দীনের একটি ফরয হুকুম। এটি ইসলামের রুকনসমূহের মধ্যে তৃতীয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ: شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالحَجِّ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ» “ইসলাম পাঁচটি বিষয়ের উপরে প্রতিষ্ঠিত: এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো মাবূদ নেই এবং নিশ্চয় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া, হজ করা এবং রমাদানের সাওম পালন করা।” এটি বুখারী (০৮) ও মুসলিম (১৬) বর্ণনা করেছেন।
যাকাতের বিধান প্রচলনের হিকমত :
যাকাতদানকারীকে যাকাত কৃপনতার মত বাজে স্বভাব থেকে এবং তার আমলসমূহকে পাপ ও ত্রুটি থেকে পবিত্র করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: “তাদের সম্পদ থেকে সাদকা (যাকাত) নাও। এর মাধ্যমে তাদেরকে তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।” [আত-তাওবাহ, আয়াত : ১০৩]।
দরিদ্র ও মিসকীনদের প্রয়োজন পূরণের মাধ্যমে তাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা, তাদেরকে চাওয়া থেকে রক্ষা করা। আর এতে তাদের সম্মানও রক্ষা হয়।
সম্পদ কে পবিত্র করা এবং সম্পদকে ধ্বংস ও নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি তার মালের যাকাত আদায় করল, তার থেকে অকল্যাণ দূরে চলে গেল।” এটি হাকিম (১৪৩৯) বর্ণনা করেছেন।
যেসব সম্পদের যাকাত ফরয:
মুল্যবান সম্পদ, যার অন্তর্ভুক্ত: সোনা, রুপা এবং নগদ অর্থ।
ব্যবসায়ের পণ্য, যেমন: রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, গাড়ী এবং যাবতীয় পণ্যের ব্যবসা।
শস্য ও ফল, যেমন: গম, ধান, খেজুর এবং আঙ্গুর।
গবাদি পশু, যার মধ্যে রয়েছে: উট, গরু এবং ছাগল।
তাদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা শর্ত রয়েছে, যার ভিত্তিতে যাকাত আবশ্যক হয়। এটি সম্পর্কে জানতে এই ক্লিপটি মনোযোগ সহকারে শোন:
যাকাত প্রদানের খাতসমূহ:
যাকাতের অধিকারীদের কথা আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করেছেন, তারা আট শ্রেণির, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّمَا ٱلصَّدَقَٰتُ لِلۡفُقَرَآءِ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱلۡعَٰمِلِينَ عَلَيۡهَا وَٱلۡمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمۡ وَفِي ٱلرِّقَابِ وَٱلۡغَٰرِمِينَ وَفِي سَبِيلِ ٱللَّهِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِۖ فَرِيضَةٗ مِّنَ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٞ তথা: “যাকাত তো শুধু ফকীর, মিসকীন ও যাকাত আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারীদের জন্য, যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য, দাসমুক্তিতে, ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য, আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৬০]।
ফকীর (দরিদ্র): তাদের জন্য যা যথেষ্ট হবে সে পরিমাণ খাদ্য তারা পায় না। অথবা তাদের কাছে কিছুটা মাত্র প্রয়োজন মেটানোর বস্তু থাকে।
মিসকীন: তাদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণের অর্ধেক বা কিছুটা বেশি পায়, তারা ফকীরদের (দরিদ্রদের) চেয়ে স্বচ্ছল।
যাকাতের জন্য নিযুক্ত কর্মচারী: শাসক যাদেরকে যাকাতের অর্থ সংগ্রহ করে তা উপযুক্তদের মধ্যে বিতরণ করার জন্য নিযুক্ত করেছেন।
যাদের অন্তর আকৃষ্ট করার প্রয়োজন হয় : যাকাত দেওয়ার কারণে যাদের ইসলাম গ্রহণের আশা আছে। অথবা যারা সম্প্রতি ইসলামে প্রবেশ করেছে, তাই তাদেরকে ইসলামে অবিচল থাকার জন্য যাকাত দেওয়া হয়।
দাসমুক্তিতে: দাসকে মুক্ত করা এবং মুসলিম কোন যুদ্ধবন্দীর মুক্তিপণ আদায় করা।
ঋনের ভারে ভারাক্রান্ত: যারা তাদের ঋণসমূহ পরিশোধে অক্ষম।
আল্লাহর পথে: যারা আল্লাহর পথে জিহাদকারী।
মুসাফির: সফরে থাকা এমন ব্যক্তি যার পাথেয় হারিয়ে গেছে অথবা শেষ হয়ে গেছে।
এরাই হচ্ছে যাকাতের হকদার। এরা ছাড়া অন্যদেরকে যাকাত দেওয়া বৈধ নয়। সুতরাং জনকল্যাণমূলক কাজে যেমন মসজিদ ও মাদরাসা তৈরীতে এর অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
যাকাত প্রদানের খাতসমূহ এখান থেকে দেখ:
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি পড়ে জবাব দেব:
নিচের আয়াতগুলো পাঠ কর, তারপরে আল্লাহর পথে দান করার সওয়াব বৃদ্ধি পাওয়া, আল্লাহর পথে দানকারীদের বৈশিষ্ট্য এবং কিয়ামাতের দিন তাদের অবস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলি খুঁজে বের কর।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: مَّثَلُ ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ كَمَثَلِ حَبَّةٍ أَنۢبَتَتۡ سَبۡعَ سَنَابِلَ فِي كُلِّ سُنۢبُلَةٖ مِّاْئَةُ حَبَّةٖۗ وَٱللَّهُ يُضَٰعِفُ لِمَن يَشَآءُۚ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٌ তথা: “যারা নিজেদের ধন সম্পদ আল্লাহ্র পথে ব্যয় করে তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে একশ শস্যদানা। আর আল্লাহ্ যাকে ইচ্ছে বহুগুণে বৃদ্ধি করে দেন। আর আল্লাহ্র ইলেম সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ।” ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ ثُمَّ لَا يُتۡبِعُونَ مَآ أَنفَقُواْ مَنّٗا وَلَآ أَذٗى لَّهُمۡ أَجۡرُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ وَلَا خَوۡفٌ عَلَيۡهِمۡ وَلَا هُمۡ يَحۡزَنُونَ তথা: “যারা আল্লাহ্র পথে ধন-সম্পদ ব্যয় করে তারপর যা ব্যয় করে তা বলে বেড়ায় না এবং কোন প্রকার কষ্টও দেয় না , তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের রব-এর নিকট। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।” [সূরা আল-বাকারা: ২৬১-২৬২]।
উপকারীতাসমূহ আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত স্থানসমূহ
দান করার সওয়াব বৃদ্ধি পাওয়া। “... তাদের উপমা একটি বীজের মত, যা সাতটি শীষ উৎপাদন করে, প্রত্যেক শীষে একশ শস্যদানা।”
আল্লাহর পথে দানকারীদের বৈশিষ্ট্যসমূহ “যারা আল্লাহ্র পথে ধন-সম্পদ ব্যয় করে তারপর যা ব্যয় করে তা বলে বেড়ায় না এবং কোন প্রকার কষ্টও দেয় না।”
কিয়ামাতের দিন দানকারীর অবস্থান “তাদের প্রতিদান রয়েছে তাদের রব-এর নিকট। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।”
অনুশীলন (২): আমি অনুমান করব:
যদি ইসলাম ধনীদেরকে যাকাত প্রদানের আদেশ না দিত, তাহলে ইসলামী সমাজের অবস্থা অনুমান কর।
অনুশীলন (৩): আমি কারণ দর্শাবো:
নিম্নের মাসআলাগুলোতে ভুলের কারণ দর্শাও:
এক ব্যক্তি মাদরাসা নির্মাণে তার যাকাতের অর্থ দান করল।
কোন ব্যক্তি তার ধনী ভাইকে যাকাতের অর্থ দিল।
কোন ব্যক্তি তার পিতাকে যাকাতের অর্থ দান করল।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
মুসাফির: এমন ব্যক্তি, যার পথ খরচ শেষ হয়ে গেছে। (√)
যাকাতের অন্যতম একটি হিকমত হচ্ছে: গরীবদের মর্যাদা রক্ষা করা। (√)
যাকাত ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। (×)
ফকীরের চেয়ে মিসকীনদের অভাব বেশি। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “যে ব্যক্তি তার মালের যাকাত আদায় করল, তার থেকে অকল্যাণ দূরে চলে গেল।” প্রমাণ করে যে:
(যাকাতের হিকমত - যাকাতের হুকুম - যাকাত ব্যয়ের খাত)
নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকের উপরে যাকাতের হুকুম:
(সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ - ফরযে কিফায়াহ - ফরযে আইন)
যাকাতের হকদার ব্যক্তিদের মধ্যে পড়ে:
(গরীব স্ত্রী - ঋণ পরিশোধে অক্ষম ব্যক্তি - ধনী অসুস্থ ব্যক্তি)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীটি কি প্রমাণ করে: خُذۡ مِنۡ أَمۡوَٰلِهِمۡ صَدَقَةٗ تُطَهِّرُهُمۡ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيۡهِمۡۖ “আপনি তাদের সম্পদ থেকে সদকা গ্রহণ করুন। এ দ্বারা আপনি তাদের পবিত্র করবেন এবং পরিশোধিত করবেন। আর আপনি তাদের জন্য দো'আ করুন।” [আত-তাওবাহ, আয়াত: ১০৩]।
মুয়াল্লাফাতুল কুলূব (যাদের হৃদয় আকর্ষণ করার প্রয়োজন) কারা?
তোমার সমাজে থাকা যাকাত প্রাপ্তির হকদার এমন প্রসিদ্ধ তিনটি শ্রেণিকে নির্দিষ্ট কর।
যেসব মালে যাকাত ওয়াজিব, তা সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা কর।
নবম পাঠ: সিয়াম
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural Objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি সাওমের শর্ত ও সুন্নাতসমূহ বর্ণনা করবে।
সওমের ফযীলত সম্পর্কে দলীল পেশ করবে।
সাওম ভঙ্গের কারণসমূহ বর্ণনা করবে।
রমাদান মাসের সিয়ামের গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
রামাদনের সিয়ামের ব্যাপারে যত্নবান হবে।
ভূমিকা:
একজন ব্যক্তি রমাদান মাসে পানাহার ও সহবাস থেকে সিয়াম (বিরত) থাকে, কিন্তু সে অন্যের ব্যাপারে খারাপ কথা বলে, এ সম্পর্কে তোমার কী মত?
রমাদান মাসের ফযীলতসমূহ:
রমাদানের সিয়ামের অনেক ফযীলত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে: গুনাহ ক্ষমা এবং ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় সাওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।” এটি বুখারী (৩৮) ও মুসলিম (৭৬০) বর্ণনা করেছেন।
রমাদানের সিয়ামের ফযীলতসমূহ এখান থেকে দেখ:
সিয়ামের শর্তসমূহ:
ইসলাম, সুতরাং কোন কাফিরের উপরে সিয়াম ওয়াজিব হবে না এবং তা শুদ্ধও হবে না।
বালিগ হওয়া, সুতরাং বালকদের উপরে এটি ওয়াজিব হবে না, তবে ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে পারে এমন বাচ্চার সিয়াম সহীহ হবে, এবং এটি তার জন্যে নফল হিসেবে গণ্য হবে।
জ্ঞানবান হওয়া, সুতরাং কোন পাগলের উপরে সিয়াম ওয়াজিব হবে না।
সিয়ামের সামর্থ রাখা, সুতরাং যে সিয়াম রাখতে অপারগ, এমন ব্যক্তির উপর তা ওয়াজিব হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۚ وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدۡيَةٞ طَعَامُ مِسۡكِينٖۖ তথা: “অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে। আর যাদের জন্য সিয়াম কষ্টসাধ্য তাদের কর্তব্য এর পরিবর্তে ফিদইয়া- একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করা।” [সূরা আল-বাকারা: ১৮৪]। যে ব্যক্তি সিয়াম পালনে অক্ষম, যেমন: একজন বয়স্ক ব্যক্তি বা অসুস্থ ব্যক্তি যার সুস্থতার আশা করা যায় না, সে সিয়াম ভাঙতে পারবে এবং (এক্ষেত্রে) প্রতিদিনের জন্য একজন মিসকিনকে খাওয়াতে হবে।
নারীদের মাসিক স্রাব ও সন্তান প্রসাবের পর রক্ত বন্ধ হওয়া।
নিয়াত করা, আর এটি ফজর উদিত হওয়ার আগ থেকে সিয়ামের নিয়ত করবে, নিয়তের স্থান হচ্ছে অন্তর।
সিয়ামের সুন্নাতসমূহ:
সূর্য অস্ত যাওয়া নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে দ্রুত ইফতার করা।
ইফতার করবে তাজা অথবা শুকনো খেজুর অথবা পানি দিয়ে।
ফজরের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সাহারীতে বিলম্ব করা।
ভালো কাজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া; যেমন: কুরআন পাঠ করা, বেশী বেশী যিকির করা এবং সদাকাহ করা।
ইফতারের সময়ে দু‘আ করা।
সাওম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ:
রমাদানে দিনের বেলায় সহবাস করলে, এর জন্য কাযা ও কাফফারা আবশ্যক হয়। কাফফারা হচ্ছে: একজন ঈমানদার দাসকে মুক্ত করা, সেটা সম্ভব না হলে টানা দুই মাস সিয়াম পালন করা। আর সেটাও সম্ভব না হলে ষাটজন মিসকীনকে খাওয়ানো।
চুম্বন, স্পর্শ বা হস্তমৈথুনের কারণে বীর্যস্খলন, এগুলো সিয়াম ভঙ্গ করে এবং এর জন্য কাযা আদায় করা ওয়াজিব হয়।
ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা। কিন্তু ভুলে যাওয়া ব্যক্তির কথা ভিন্ন, তার উপর কিছুই ওয়াজিব হবে না।
নাক দিয়ে পাকস্থলীতে পানি অথবা অনুরূপ কিছু পৌঁছানো এবং শিরায় পুষ্টি গ্রহণ করা।
ইচ্ছাপূর্বক বমি করা।
সিংগা লাগিয়ে রক্ত বের করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি অংশগ্রহণ করব এবং খুঁজে বের করব:
রমাদান মাসে সিয়াম পালনই একমাত্র ভালো কাজ নয়। তোমার সহপাঠীর অংশগ্রহণে, নিম্নলিখিত পাঠ্য দ্বারা নির্দেশিত নেক আমলগুলো বের কর:
দলীল আমল
হাদীস: “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ামাল্লাম ছিলেন সবচেয়ে দানশীল মানুষ। রমাদানে যখন জিবরীল তার সাথে সাক্ষাত করতেন, তখন তিনি আরো বেশী দানশীল হয়ে উঠতেন।” এটি বুখারী (৬) ও মুসলিম (২৩০৮) বর্ণনা করেছেন।
বেশী বেশী সদাকাহ করা।
হাদীস: “জিবরীল তার সাথে রমাদানের প্রত্যেক রাতেই সাক্ষাত করতেন এবং পরষ্পরে কুরআন পাঠ করতেন।” এটি বুখারী (৬) ও মুসলিম (২৩০৮) বর্ণনা করেছেন।
কুরআন পাঠ করা।
হাদীস: “যে ব্যক্তি রমযানে ঈমানের সাথে ও সাওয়াব লাভের আশায় সাওম পালন করে, তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ মাফ করে দেয়া হয়।” এটি বুখারী (৩৭) ও মুসলিম (৭৫৯) বর্ণনা করেছেন।
কিয়ামুল লাইল (রাতের নফল সালাত)।
অনুশীলন (২): আমি হুকুম ব্যাখ্যা করব:
সিয়ামের শুদ্ধতার উপরে নিম্নোক্ত আমলের প্রভাব এবং সিয়াম পালনকারীকে কি করতে হবে তা ব্যাখ্যা কর:
কাজ সিয়ামের হুকুম তার উপর কি ওয়াজিব
কেউ ভুলক্রমে রমাদানের দিনে জুস পান করল। সঠিক কোন কিছুই ওয়াজিব হবে না।
কেউ শিরাতে পুষ্টি সরবরাহকারী ইঞ্জেকশন গ্রহণ করল। সঠিক নয়। তাকে কাযা করতে হবে।
কেউ রক্ত পরীক্ষার জন্য সামান্য রক্ত দিল। সঠিক কোন কিছুই ওয়াজিব হবে না।
অনুশীলন (৩): আমি চিন্তা করে উত্তর দিব:
কিছু বদ অভ্যাসের তালিকা তৈরি কর, যে গুলো থেকে রমাদান মাসকে তুমি মুক্তি পাওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছ।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
সিয়ামের শর্তের মধ্যে রয়েছে:
(সাহারী করা - নিয়ত করা - দ্রুত ইফতার করা)
সিয়াম বিনষ্টকারী বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:
(সিংগা লাগিয়ে রক্ত বের করা- রাতে সহবাস করা - ভুলক্রমে খাওয়া)
সিয়ামের সুন্নাতের মধ্যে রয়েছে:
(রমাদানের দিনের বেলাতে খাবার ত্যাগ করা - তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করা - নাকে বেশী পরিমাণে পানি দেওয়া)
প্রশ্ন ২: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখ:
দ্রুত ইফতার করা সিয়ামের ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।
যার অনিচ্ছাকৃত বমি পায়, তার সিয়াম বাতিল হয়ে যাবে।
বালক বা বাচ্চাদের উপরে সিয়াম আবশ্যক।
রমাদান মাসের দিনের বেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে কাযা ওয়াজিব হবে।
প্রশ্ন ৩: রমাদান মাসের সিয়াম পালনের ফযীলত সংক্রান্ত একটি দলীল লেখ।
দশম পাঠ: হজ করা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি হজের হুকুম বর্ণনা করবে।
হজের ফযীলতের দলীল পেশ করবে।
হজ ফরযের শর্ত ও তার রুকনসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা করবে।
ইসলামে হজের গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
সাধ্য থাকলে তুমি হজের ফরযটি পালন করবে।
ভূমিকা:
তুমি যখন কাবাকে দেখ, তখন কেমন লাগে তোমার অনুভূতি ব্যক্ত কর।
হজের হুকুম:
হজ ইসলামের অন্যতম একটি ফরয, এবং ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। আল্লাহ তা‘আলা সক্ষম ব্যক্তির জন্য এটিকে জীবনে একবার ফরয করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَلِلَّهِ عَلَى ٱلنَّاسِ حِجُّ ٱلۡبَيۡتِ مَنِ ٱسۡتَطَاعَ إِلَيۡهِ سَبِيلٗاۚ তথা: “আর মানুষের মধ্যে যার সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর উদ্দেশ্যে ঐ ঘরের হজ করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য।” [সূরা আলে-ইমরান: ৯৭]।
হজের ফযীলত:
হজের অনেক ফযীলত রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম:
পাপ ও ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষমা হওয়া, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ্জ পালন করলো এবং অশালীন কথা-কর্ম ও গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে এমনভাবে (নিষ্পাপ অবস্থায়) ফিরে যাবে, যেন তার মা তাকে ঐদিনে প্রসব করেছে। এটি বুখারী (১৫২১) ও মুসলিম (১৩৫০) বর্ণনা করেছেন।
হাদীসে (رَّفَثُ শব্দটির অর্থ: সহবাস এবং এর প্রারম্ভিক কর্মসমূহ, অথবা অশালীন কথাবার্তা। فسق শব্দের অর্থ: অবাধ্যতা এবং মন্দ কাজসমূহ)।
এটি দীনের সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সবচেয়ে উত্তম কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেছিলেন: “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের উপরে ঈমান আনা।” তাকে জিজ্ঞাসা করা হল: তারপরে কোনটি? তিনি বললেন: “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা।” তাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হল: তারপরে কোনটি? তিনি বললেন: “মাবরুর হজ।” এটি বুখারী (২৬) ও মুসলিম (৮৩) বর্ণনা করেছেন।
এখান থেকে হজের ফযীলত দেখ:
হজের শর্তসমূহ:
ইসলাম, সুতরাং কোন কাফিরের উপরে হজ ওয়াজিব হবে না এবং তা শুদ্ধও হবে না।
বালেগ হওয়া, সুতরাং কোন বালকের উপরে হজ ফরয হবে না। তবে সে করলে তা সহীহ হবে এবং তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। তবে এ হজ তার জন্যে ইসলামের ফরয হজ হিসেবে যথেষ্ট হবে না।
জ্ঞানবান হওয়া, সুতরাং কোন পাগলের উপরে হজ ওয়াজিব হবে না এবং তার থেকে এটি শুদ্ধও হবে না।
সামর্থ্য, অর্থাৎ: হজের খরচ এবং এর কাজগুলো বহন করার আর্থিক ও শারীরিক সক্ষমতা।
মহিলাদের জন্য মাহরাম থাকা, যেমন: তার স্বামী, তার ভাই অথবা তার চাচা।
হজের রুকনসমূহ:
ইহরাম, এটি হচ্ছে হজের মধ্যে দাখিল হওয়ার নিয়ত করা, এটি ছাড়া হজ শুদ্ধ হবে না।
আরাফাতে অবস্থান করা, এটি হচ্ছে হজের সবচেয়ে বড় রুকন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হজ হচ্ছে আরাফা।” এটি তিরমিযী (৮৮৯) নাসাঈ (৩০১৬) বর্ণনা করেছেন।
তাওয়াফ আল-ইফাদাহ, যা সাতটি চক্কর। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَلْيَطَوَّفُوْا بِالْبَيْتِ العَتِيْقِ তথা: “আর তারা যেন প্রাচীন ঘরকে তাওয়াফ করে।” [সূরা আল-হাজ্জ : ২৯]।
সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাত চক্কর সা‘য়ী করা।
হজের রুকনসমূহ এখান থেকে দেখ:
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন(১): আমি খুঁজে বের করব:
নিচের দলীলগুলো থেকে হজের শর্তসমূহ খুঁজে বের কর:
দলীল শর্ত
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন কোন বালক হজ আদায় করবে, তখন সেটি তার জন্য এমন একটি হজ বটে, যতক্ষণ না সে জ্ঞানবান (বালেগ) হয়, তবে যখন সে বালেগ হবে, তখন তাকে অন্য একটি হজ করতে হবে।” ইবনু খুজাইমাহ (৩০৫০) এটি বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُسَافِرُ مَسِيرَةَ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ إِلَّا مَعَ ذِي مَحْرَمٍ عَلَيْهَا তথা: “আল্লাহর উপরে এবং আখিরাতের উপরে যে নারী ঈমান রাখে, তার জন্য একদিন ও এক রাতের দূরত্বে সফর করা হালাল হবে না, যদি না তার সাথে কোন মাহরাম (পুরুষ) থাকে “ এটি বুখারী (১০৮৮) ও মুসলিম (১৩৩৯) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলন (২): আমি একটি পত্র লিখব:
নিচের হাদীসগুলোর সাহায্য নিয়ে আমি তাদের উদ্দেশ্যে একটি পত্র লিখব, যারা সামর্থ থাকার পরেও হজ ও উমরা আদায় করতে অলসতা করে:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: الْحُجَّاجُ وَالْعُمَّارُ وَفْدُ اللهِ، إِنْ دَعَوْهُ أَجَابَهُمْ، وَإِنِ اسْتَغْفَرُوهُ غَفَرَ لَهُمْ তথা: “হাজী এবং উমরাহ আদায়কারীগণ হচ্ছেন আল্লাহর দল। যদি তারা আল্লাহর কাছে দু‘আ করেন, তাহলে তা কবূল করা হয়। আর যদি তারা ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাহলে তাদেরকে ক্ষমা করা হয়।” এটি ইমাম নাসাঈ (২৬২৫) এবং ইবনু মাজাহ (২৮৯২) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: الحَجُّ المبْرُورُ لَيْسَ لَهُ جَزَاءٌ إِلَّا الْجَنَّة তথা: “মাবরুর হজের জন্যে জান্নাত ব্যতীত কিছু নেই।” এটি বুখারী (১৭৭৩) ও মুসলিম (১৩৪৯) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলন (৩): আমি খুঁজে বের করব:
আল্লাহ তা‘আলা কিছু এমন মহা সওয়াবের আমল নির্ধারণ করেছেন যেগুলোর জন্য হজের মত বড় সওয়াব রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “... রমাদান মাসে উমরা করা হজের বরাবর অথবা আমার সঙ্গে হজের বরাবর।” এটি ইমাম বুখারী (১৮৬৩) এবং মুসলিম (১২৫৬) বর্ণনা করেছেন। তথা: এতে হজের সমান সওয়াব রয়েছে।
- তুমি তোমার মসজিদের ইমামের কাছে জিজ্ঞাসা করবে যে, আর কোন আমল রয়েছে, যাতে হজ অথবা উমরার সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
সামর্থবান ব্যক্তিদের জীবনে একবার হজ আদায় করা আবশ্যক। (√)
তাওয়াফ হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন। (×)
কাফিরদের উপরেও হজ ফরয। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
হাজীদের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “সে এমনভাবে (নিষ্পাপ অবস্থায়) ফিরে যাবে, যেন তার মা তাকে ঐদিনে প্রসব করেছে।”
এটি প্রমাণ করে:
(তার বয়সের তারণ্যতা - তার মায়ের সাথে উত্তম আচরণ করা - তার গুনাহসমূহের ক্ষমা)
বাচ্চার হজ আদায়ের হুকুম:
(সহীহ এবং যথেষ্ট হবে - সহীহ তবে যথেষ্ট হবে না - সহীহ নয়)
মহিলাদের হজের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত হচ্ছে:
(মাহরাম - স্বামী - সামর্থ)
হজ আদায়কারীর জন্য ব্যয়ের খরচ থাকা শর্ত:
(মক্কায় পৌঁছা পর্যন্ত - হজ পালন করা পর্যন্ত - তার নিজ ভুমিতে ফিরে আসা পর্যন্ত)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
একটি হাদীসের মাধ্যমে হজের ফযীলতের উপরে দলীল পেশ কর।
হজের রুকনসমূহ উল্লেখ কর।
আদব এবং আখলাক অধ্যায়
প্রথম পাঠ: উত্তম চরিত্র
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি উত্তম চরিত্রের অর্থ এবং এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করবে।
উত্তম চরিত্রের ফযীলতের ব্যাপারে দলীল পেশ করবে।
উত্তম চরিত্রের মূল্য অনুধাবন করবে।
উত্তম চরিত্র আঁকড়ে ধরবে।
ভূমিকা:
উত্তম চরিত্র হচ্ছে: মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করা এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা।
ইসলাম আমাদেরকে উত্তম চরিত্রের ব্যাপারে আদেশ করেছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তুমি যেখানেই থাক, আল্লাহকে ভয় কর এবং পাপের পরে পুণ্য কর, যা পাপকে মুছে ফেলবে। আর মানুষের সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর।” এটি তিরমিযী (১৯৮৭) বর্ণনা করেছেন।
উত্তম চরিত্রের ফযীলত:
জান্নাতে প্রবেশ করার কারণ।
মর্যাদা বৃদ্ধি পায় ।
ঈমানের পূর্ণতার আলামত।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরন করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুহাব্বাতের বাস্তবায়ন।
মানুষের ভালোবাসার বাস্তবায়ন।
জান্নাতে প্রবেশ করার কারণ:
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন বস্তু মানুষকে সবচেয়ে বেশী জান্নাতে প্রবেশ করবে? তিনি জবাব দিয়েছিলেন: “আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন ও উত্তম চরিত্র।” এটি তিরমিযী (২০০৪) বর্ণনা করেছেন।
কারণ আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করা(তাকওয়া) আল্লাহ তা‘আলার অধিকার আদায় করা। আর উত্তম চরিত্র মানুষের অধিকার আদায় করা। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলা ও মানুষের অধিকার দুটোই আদায় করবে, সে জান্নাত ও তার নি‘আমাত পেয়ে সফল হবে।”
মর্যাদা বৃদ্ধি:
উত্তম চরিত্র তার অধিকারীর মর্যাদাকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট উন্নিত করে, তার প্রতিদান ও সওয়াবকে বর্ধিত করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই মুমিন ব্যক্তি তার উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে (দিনের) সাওম পালনকারী ও (রাতের) তাহাজ্জুদ সালাত আদায়কারীর সমান মর্যাদা লাভ করবে।” এটি আবূ দাঊদ (৪৭৯৮) বর্ণনা করেছেন।
ঈমানের পূর্ণতার আলামত:
চরিত্রের পূর্ণতা ছাড়া ঈমানের পূর্ণতা লাভ হয় না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: أكمل المؤمنين إيماناً: أحسنهم خلقاً “ঈমানের দিক দিয়ে পরিপূর্ণ মু’মিন সেই, যে চরিত্রের দিক দিয়ে সবচেয়ে উত্তম ।” এটি আবূ দাঊদ (৪৬৮২) ও তিরমিযী (২৬১২) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা এবং তার সুন্নাতের অনুসরন করা:
আল্লাহ তা‘আলা স্বীয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসা করে বলেছেন: وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ “আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের উপর রয়েছেন।” [সূরা আল-ক্বলাম, আয়াত: ৪]।
আনাস রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقًا তথা: “রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সকল মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।” এটি সহীহ বুখারী (৬২০৩) ও মুসলিম (২৩১০) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুহাব্বাত অর্জন এবং কিয়ামাতের দিনে তার নৈকট্য লাভ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কিয়ামাতের দিন সেই আমার কাছে সবার প্রিয় এবং আমার খুব কাছে বসবে যে চরিত্রের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে সবার চেয়ে ভালো।” এটি তিরমিযী (২০১৮) বর্ণনা করেছেন।
মানুষের ভালোবাসা এবং তাদের সম্মান লাভ :
মানুষ উত্তম চরিত্রের অধিকারীকে ভালোবাসে, এবং তার নসীহত কবুল করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إِنَّكُمْ لَا تَسَعُونَ النَّاسَ بِأَمْوَالِكُمْ، وَلْيَسَعُهُمْ مِنْكُمْ بَسْطُ الْوَجْهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ তথা: “নিশ্চয় তোমরা মানুষকে সম্পদ দ্বারা খুশি করতে সক্ষম হবে না। বরং তাদেরকে হাস্যোজ্জল চেহারা ও উত্তম চরিত্র দ্বারা খুশি করো।” এটি হাকিম (৪২৮) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি চিন্তা করে খুঁজে বের করব:
উত্তম চরিত্রের অসংখ্য দিক রয়েছে, নিচের দলীলগুলো গভীরভাবে চিন্তা কর, এরপরে দলীলগুলো যে সমস্ত উত্তম চরিত্রের কথা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তা খুঁজে বের কর:
দলীল উত্তম চরিত্র
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয় আল্লাহ কোমল, তিনি কোমলতা পছন্দ করেন।” এটি বুখারী (৬৯২৭) ও মুসলিম (২৫৯৩) বর্ণনা করেছেন।
কোমলতা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দয়ালুদেরকে রহমান (আল্লাহ তা‘আলা) দয়া করেন।” এটি ইমাম তিরমিযী (১৮৪৭) বর্ণনা করেছেন। দয়া
আনাস রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বোত্তম, সবচেয়ে সাহসী এবং সবচেয়ে দানশীল মানুষ ছিলেন।” এটি বুখারী (২৮২০) ও মুসলিম (২৩০৭) বর্ণনা করেছেন।
সাহস এবং দানশীলতা।
অনুশীলন (২): আমি সাহায্য করব এবং প্রয়োগ করব:
ইসলাম তার অনুসারীদেরকে নৈতিকতার সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করার চেষ্টা করে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছেন: وَقُل لِّعِبَادِي يَقُولُواْ ٱلَّتِي هِيَ أَحۡسَنُۚ তথা: “আর আমার বান্দাদেরকে বলুন, তারা যেন এমন কথা বলে যা সবচেয়ে উত্তম।” [সূরা আল-ইসরা: ৫৩]।
নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সুন্দর কথাগুলো লেখার ক্ষেত্রে তোমার সহপাঠীদেরকে সহযোগিতা কর:
তোমাকে কেউ বলল: সুপ্রভাত।
তুমি তোমার কোন সহপাঠীকে তোমার চেয়ারে বসা দেখতে পেলে।
তোমাকে তোমার কোন সহপাঠী বলল: তুমি দ্রুত বুঝতে পার না।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
উত্তম চরিত্র জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম কারণ। (√)
কোমলতা দূর্বল ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। (×)
উত্তম আচরণ মানুষের মধ্যে ভালোবাসার প্রসার ঘটায়। (√)
প্রশ্ন ২: নিচের দুইটি বাক্য পূর্ণ কর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্যে করে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (و إنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ ............) তথা: “নিশ্চয় আপনি ............. চরিত্রের উপরে রয়েছেন।”
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ ..............» তথা: “তুমি মানুষের সাথে ......... আচরণ কর।”
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
উত্তম চরিত্র বলতে কী বোঝায়?
ঈমানের সাথে উত্তম চরিত্রের সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।
তিনটি আমল নির্দিষ্ট কর, যেগুলো তুমি সম্পাদনের প্রচেষ্টা করবে।
দ্বিতীয় পাঠ: সত্যবাদিতা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
আমাদের জীবনে সত্যবাদিতার মূল্যবোধ বর্ণনা করবে।
সত্যবাদিতার ফযীলত সম্পর্কে দলীল পেশ করবে।
ছোটদেরকে সততার উপর গড়ে তোলার গুরুত্ব বুঝতে পারবে।
তুমি তোমার কর্ম ও কথার মধ্যে সত্যবাদিতা/সততা অবলম্বন করবে।
সত্যবাদিতা/সততা হচ্ছে এমন একটি উত্তম চরিত্রের বৈশিষ্ট্য, যে ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে আদেশ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَكُونُواْ مَعَ ٱلصَّٰدِقِينَ তথা: “হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ্র তাকওয়া অবলম্বন কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।” [সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১৯]।
আল্লাহ তা‘আলা কেন মুমিনদেরকে সত্যবাদিদের সাথে থাকার আদেশ করেছেন? সত্যবাদিতা/সততার সাথে ঈমানের সম্পর্ক কী?
এ প্রশ্নগুলোর জবাবই আমরা এ পাঠের মধ্য দিয়ে জানতে পারব:
সত্যাবাদিতা/ সততা:
সত্যবাদিতার উদ্দেশ্য
সততার ক্ষেত্রসমূহ
আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্তরের সততা।
জিহ্বা বা ভাষার ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা
আমলের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা
সত্যবাদিতার ফযীলত
সত্যবাদিতা/সততার উদ্দেশ্য:
সত্যবাদিতা হচ্ছে: কথা ও কাজে এবং বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়ের মাঝে মিল থাকা এবং কথা বাস্তব সম্মত হওয়া।
সুতরাং সত্যবাদিতা নিয়তে, কথা ও কাজের মধ্যে বাস্তবায়ন হয়।
প্রথমত: সত্যবাদিতার ক্ষেত্র সমূহ:
সত্যবাদিতার তিনটি ক্ষেত্র রয়েছে যা একজন মুসলমানের অবশ্যই থাকতে হবে:
আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্তরের সত্যবাদিতা:
এটা করা হয় নিয়তের সংশোধন করে এবং আল্লাহর চেহারার (দর্শন) উদ্দেশ্য করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সত্তার সাথে আল্লাহর নিকট শাহাদাত প্রার্থনা করবে, তাকে আল্লাহ তা‘আলা শহীদদের মর্যাদায় পৌঁছাবেন; যদিও তার মৃত্যু নিজ বিছানায় হয়।” এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন (১৯০৯)। সর্বশ্রেষ্ঠ সততা হল একজন মুসলিম আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ইমান, তাঁর উপর তাওয়াক্কুল এবং তাঁকে ভালোবাসার ক্ষেত্রে সত্যবাদী হওয়া।
মুখের সত্যবাদিতা:
এটা হলো , কথা বাস্তব সম্মত হবে, সুতরাং এতে কোন মিথ্যা বা অতিরঞ্জণ থাকবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إنَّ الصِّدقَ يَهْدي إلى البِرِّ، وإنَّ البِرَّ يَهْدي إلى الجنَّةِ، وإنَّ الرَّجلَ لَيَصْدُقُ حتَّى يكونَ صِدِّيقًا “সত্যবাদিতা কল্যাণের পথ দেখায়, কল্যাণ জান্নাতের পথ দেখায়। এক ব্যক্তি সত্য বলতে থাকে, এক পর্যায়ে সে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হিসেবে পরিগণিত হয়ে যায়।” এটি বুখারী (৬০৯৪) ও মুসলিম (২৬০৭) বর্ণনা করেছেন।
আমলের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা:
একজন মুসলিমের জন্য উচিত হল, সে যা বলে তার বিপরীত কোন কিছু না করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفۡعَلُونَ “হে ঈমানদারগণ ! তোমরা যা কর না তা তোমরা কেন বল? (২) كَبُرَ مَقۡتًا عِندَ ٱللَّهِ أَن تَقُولُواْ مَا لَا تَفۡعَلُونَ “তোমরা যা কর না তোমাদের তা বলা আল্লাহর দৃষ্টিতে খুবই অসন্তোষজনক। (৩)” [সূরা আস-সফ, আয়াত: ০২-০৩]।
সত্যবাদিতার ফযীলত:
সত্যবাদিতা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম একটি কারণ।
সত্যবাদিতা আল্লাহ তা‘আলার রসূলগণের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, আর আল্লাহ তা‘আলা আমাদের তাদের অনুসরন করার আদেশ দিয়েছেন।
সত্যবাদিতা একজন মুসলিমকে অন্তরের শান্তি ও মানসিক প্রশান্তি দেয়।
সততা/সত্যবাদিতা শক্তিশালী ব্যক্তিত্বের প্রমাণ এবং আত্মবিশ্বাসের আলামত।
সততা একজন মুসলিমকে তার সমাজে জনপ্রিয় এবং মানুষের মধ্যে ভালো হিসেবে পরিচিত করে তোলে।
সততা সমাজের লোকদের মাঝে ভালবাসা এবং স্নেহ ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি পড়ব এবং সমাধান করব:
আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমির রদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাড়িতে বসা অবস্থায় আমার মা আমাকে ডেকে বললেন: এই যে, এসো! তোমাকে দিবো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: “আপনি তাকে কি দেয়ার ইচ্ছা করেছেন?” তিনি বললেন: “আমি তাকে একটি খেজুর দিবো।” তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: “যদি আপনি তাকে কিছু না দিতেন, তাহলে এ কারণে আপনার আমলনামায় একটি মিথ্যার পাপ লিপিবদ্ধ করা হত।” এটি আবূ দাঊদ (৪৯৯১) বর্ণনা করেছেন।
এই হাদীসের আলোকে সততার উপরে বাচ্চাদেরকে লালন-পালন করার গুরুত্ব এবং সমাজ সংস্কারে এর প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
অনুশীলন (২): ফলাফল বের করবো:
নিম্নলিখিত দলীলগুলোর আলোকে, সততা/সত্যবাদিতার কতিপয় ফযীলত খুঁজে বের কর:
দলীল সত্যবাদিতার ফযীলত
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: قَالَ ٱللَّهُ هَٰذَا يَوۡمُ يَنفَعُ ٱلصَّٰدِقِينَ صِدۡقُهُمۡۚ لَهُمۡ جَنَّٰتٞ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۖ رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُۚ ذَٰلِكَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ তথা: “আল্লাহ্ বলবেন: ‘এ সে দিন যেদিন সত্যবাদিগণ তাদের সত্যের জন্য উপকৃত হবে,তাদের জন্য আছে জান্নাত যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরস্থায়ী হবে; আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট; এটা মহাসফলতা।” [সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ১১৯]।
সত্যবাদিদের জন্য রয়েছে মহা পুরস্কার।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَٱلَّذِي جَآءَ بِٱلصِّدۡقِ وَصَدَّقَ بِهِۦٓ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُتَّقُونَ তথা: “আর যে সত্য নিয়ে এসেছে এবং যে তা সত্য বলে মেনেছে তারাই তো মুত্তাকী।” [সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৩৩]।
সত্যবাদিতা তাকওয়ার প্রমাণ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতার ইখতিয়ার থাকবে। যদি তারা উভয়ের সত্য বলে ও স্পষ্ট করে, তবে তাদের ক্রয়-বিক্রয়ে বরকত হবে।” এটি বুখারী (২০৮২) বর্ণনা করেছেন।
সততা/সত্যবাদিতা বরকতের একটি অন্যতম কারণ।
অনুশীলন (৩): আমি বর্ণনা করব:
আল্লাহ তা‘আলার সাথে সততার পরিণতির ব্যাপারে তুমি নিচের লিংকের রেকর্ডিং থেকে যা বুঝতে পেরেছ, তা তোমার নিজের ভাষায় প্রকাশ কর:
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
সততা শুধুমাত্র বাস্তবতার সাথে কথার মিলের ক্ষেত্রে সম্পর্কিত। (×)
সততা ঈমানী শক্তি এবং সাহসিকতার প্রমাণ। (✓)
উত্তম কাজে নিয়তের সওয়াব তা আমলে পরিণত করার পরে শুরু হয়। (×)
মিথ্যা বরকত নষ্ট হওয়া এবং রিযিক সঙ্কটের কারণ। (✓)
সত্যবাদিতা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম একটি কারণ। (✓)
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সততার পরিচয় দাও।
আল্লাহ তা‘আলার সাথে সত্যবাদিতা কেমন হবে তা ব্যাখ্যা কর।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে সততার উপরে গড়ে তুলেছিলেন, এ কথার দলীল দাও।
তৃতীয় পাঠ: আমানাতের গুণ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি আমানাতের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করবে।
আমানাতের গুরুত্বপূর্ণ স্বরূপগুলি বর্ণনা করবে।
আমানাতের ফযীলতের উপর দলীল পেশ করবে।
সমাজ থেকে আমানাত উঠে যাওয়ার ভয়াবহতা অনুধাবন করবে।
তোমার প্রতিটি কাজে তুমি আমানাতের সৌন্দর্য রক্ষা করবে।
ভূমিকা:
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটা ’খাদ্য-স্তুপের’ পাশ দিয়ে অতিক্রমের সময়ে তার হাত তাতে প্রবেশ করালেন। ফলত তার আঙ্গুলে কিছু ভিজা অনুভূত হল। তারপর তিনি বললেন: “হে খাদ্যের মালিক! এটা কি?” লোকটি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, এতে আসমান থেকে আপতিত হয়েছে (তথা: বৃষ্টির পানিতে তা ভিজে গেছে)। তখন তিনি বললেন: “তুমি ঐ ভিজা অংশটি কেন উপরে রাখলে না; যাতে করে লোকেরা তা দেখতে পেত। যে ব্যক্তি ধোকাবাজী করে, সে আমার (উম্মাতের) অন্তর্ভুক্ত নয়।” এটি মুসলিম (১০২) বর্ণনা করেছেন।
এ হাদীসটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে, একজন মুসলিম ব্যবসায়ীর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যাবলীর বর্ণনা দাও।
আমানাত:
এর উদ্দেশ্য
এর বিভিন্ন ধরন
তার ফযীলতসমূহ
প্রথমত: আমানাত বলতে যা বুঝায়ঃ
আমানাত হলোঃ আল্লাহ তা‘আলার ফরযসমূহ আদায় করা, চুক্তি, প্রতিজ্ঞা, অপরের গচ্ছিত রাখা সম্পদ, গোপনীয়তা এবং মানুষের মান-সম্মান হিফাযত করা। এছাড়াও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক হারামকৃত বিষয় থেকে হিফাযত করা।
দ্বিতীয়ত: আমানাতের ক্ষেত্রসমূহঃ
দীনের ব্যাপারে আমানাত: এটা হচ্ছে, একজন মুসলিম তার রব আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করবে এমনভাবে যেন সে তাঁকে দেখতে পাচ্ছে।
সম্মান-ইযযতের ব্যাপারে আমানাত: একজন মুসলিমের উচিত নয়, সে মানুষের ইযযতের (গোপন দোষ-ত্রুটির) ব্যাপারে মগ্ন হবে।
সম্পত্তির ক্ষেত্রে আমানাত: যেমন ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আমানাত, এবং অপরের গচ্ছিত রাখা সম্পদ এবং আমানাতকে সংরক্ষণ করা।
আমলের ক্ষেত্রে আমানাত: গোপনীয়তা রক্ষা এবং কাজগুলো সুন্দরভাবে সমাপ্ত করা।
ইলমের ব্যাপারে আমানাত: প্রতিটি মুসলিমকে ইলম (জ্ঞানবাচক কথা) বর্ণনা করার ক্ষেত্রে বিশ্বস্ত হওয়া।
চুক্তি ও গোপনীয়তার ব্যাপারে আমানাত: সুতরাং কোন মুসলিম কোন গোপন কথাকে ফাঁস করবে না এবং চুক্তির খিয়ানাত করবে না।
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়ের ব্যাপারে আমানাত: সে এগুলিকে কোন হারাম কাজে ব্যবহার করবে না, যেমন: কোন বেগানা নারীর দিকে তাকানো।
তৃতীয়ত: আমানাতের ফযীলত:
আমানাত নবী এবং রসূলদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি, এবং নবুয়তের আগে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপাধি দেওয়া হয়েছিল: “আল-আমীন” বা "বিশ্বস্ত"।
আমানাত পূর্ণ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত , এবং বিশ্বাসঘাতকতা নিফাকের অন্তর্ভুক্ত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: آيَةُ المُنَافِقِ ثَلَاثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ তথা: “মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি: যখন সে কথা বলে, তখন মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে, তখন তা ভঙ্গ করে, আর যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন সে তাতে খিয়ানাত করে।” এটি বুখারী (৩৩) ও মুসলিম (৫৯) বর্ণনা করেছেন।
একজন বিশ্বস্ত মুসলিমকে আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন এবং মানুষও তাকে পছন্দ করে।
আমানাত সম্মান, ইযযত এবং ধন-সম্পদকে বিনষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করে আর সমাজের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
আল্লাহ তা‘আলা আমানাতদারদের সফলতার ওয়াদা করেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা সফলদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেছেন: وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِأَمَٰنَٰتِهِمۡ وَعَهۡدِهِمۡ رَٰعُونَ তথা: “আর যারা তাদের আমানতও প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী।” [ সূরা আল-মু’মিনুন: ০৮]।
আমানাত নষ্ট হওয়া কিয়ামাতের আলামতের অন্তর্ভুক্ত বিষয়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন আমানাত নষ্ট হবে, তখন তোমরা কিয়ামাতের অপেক্ষা কর।” এটি সহীহ বুখারী (৬৪৯৬) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন(১): আমি পড়ে জবাব দেব:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “হে ঐ সব লোক যারা শুধুমাত্র মুখে ঈমান এনেছ, কিন্তু ঈমান এখনো অন্তরে প্রবেশ করেনি! তোমরা মুসলিমদের গীবত করবে না এবং দোষত্রুটি তালাশ করবে না। কারণ যারা তাদের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়াবে আল্লাহও তাদের দোষত্রুটি খুঁজবেন। আর আল্লাহ কারো দোষত্রুটি তালাশ করলে, তাকে তার বাড়ির মধ্যেই অপদস্থ করবেন।” এটি আবূ দাঊদ (৪৮৮০) বর্ণনা করেছেন।
তোমার শিক্ষকের সাহায্য নিয়ে নিচের প্রশ্নের উত্তর দাও:
আমরা এ হাদীসটি থেকে কী শিখলাম?
এ হাদীসের মধ্যে আমানাতের কোন ক্ষেত্রটি বিদ্যমান?
অনুশীলন (২): আমি শরীক হব এবং বাক্য রচনা করব:
লোকেরা অভিযোগ করে, শ্রমিকদের কাজের ক্ষেত্রে আমানাতদারীতার কমতি রয়েছে। বিষয়টি সামনে রেখে নিচের প্রশ্নের উত্তর দাও:
কাজের ক্ষেত্রে আমানাত রক্ষার ব্যাপারে কোন কোন বিষয়গুলো সাহায্য করে থাকে?
তোমার কাজের বর্ণনা দাও, তারপর সেখানে তুমি কেমন আমানাত রক্ষা করেছ তা বর্ণনা কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
গোপনীয়তা প্রকাশ করা আমানাতের প্রতি নির্দেশ করে। (×)
একজন আমানাতদার (বিশ্বস্ত) মানুষ মুসলিমদের দোষ-ত্রুটি অন্বেষণে মগ্ন থাকে না। (√)
আমানাত রক্ষাকারী সমাজই নিরাপদ সমাজ। (√)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
আমানাত নষ্ট করা .......... এর আলামত:
(সততা - পুণ্য - কিয়ামাত)
আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে যে সকল জিনিসের জন্য সৃষ্টি করেছেন তার মধ্যে:
(দুনিয়া উপভোগ করা - আমানত রক্ষা করা - প্রবৃত্তির বাস্তবায়ন করা)
একজন আমানাতদার (বিশ্বস্ত) মুসলিম:
(তিনি চুক্তি পূর্ণ করেন - তিনি নিজের সুবিধার জন্য মিথ্যা বলেন - তিনি গোপনীয়তা প্রকাশ করেন)
আল্লাহ তা‘আলার সদা পর্যবেক্ষণ অনুভব করা সাহায্য করে:
(কাজকে উপেক্ষা করা - কাজকে সুন্দর করা - কাজ পরিত্যাগ করা)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
আমানাতের সংক্ষিপ্ত পরিচয় লিখ।
ইলমের ক্ষেত্রে আমানাত বলতে কী বোঝায়, তা ব্যাখ্যা কর।
চতুর্থ পাঠ: সবরের গুণ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
সবর দ্বারা কি বুঝায় তা ব্যাখ্যা করবে।
সবরের ফযীলতের ব্যাপারে দলীল পেশ করবে।
সবরের প্রকারভেদ বর্ণনা করবে।
সবর অর্জনে সাহায্যকারী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বর্ণনা করবে।
সবরের ফযীলত বুঝতে পারবে।
সবরের গুণে গুণান্বিত হতে পারবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجۡرَهُم بِغَيۡرِ حِسَابٖ তথা “ধৈর্যশীলদেরকেই তো তাদের পুরস্কার পূর্ণরূপে দেয়া হবে বিনা হিসেবে।” [সূরা আয-যুমার : ১০]।
এ পাঠটি শেষ করে তুমি আল্লাহ তা‘আলা যার মাধ্যমে অফুরন্ত প্রতিদান দান করবেন এমন সবরের ফযীলত সম্পর্কে চিন্তা করবে।
সবর:
সবর দ্বারা কি বুঝায়
এর প্রকারভেদ
আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের উপরে সবর করা
আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতা থেকে সবর করা
বিপদে সবর
সবরের ফযীলত
প্রথমত: সবর দ্বারা যা বুঝায়:
সবর একটি মর্যাদাপূর্ণ উত্তম চরিত্র। যা মুসলিমকে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যে স্থির রাখে, তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট রাখে ও তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখে।
দ্বিতীয়ত: সবরের প্রকারভেদ:
সবরের তিন প্রকার: আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের ব্যাপারে সবর, আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতা থেকে সবর এবং বিপদ-আপদে সবর।
আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের উপর সবর:
আর এটি হলো, আনুগত্যের কাজসমূহ আদায় করা, এর উপরে টিকে থাকার মাধ্যমে, যাতে কষ্ট ও সবরের প্রয়োজন রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَأۡمُرۡ أَهۡلَكَ بِٱلصَّلَوٰةِ وَٱصۡطَبِرۡ عَلَيۡهَاۖ তথা: “আপনি আপনার পরিবারকে সালাতের ব্যাপারে আদেশ দিন এবং এর উপরে সবর করতে থাকুন।” [ত্বহা: ১৩২]।
আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতা থেকে সবর:
এটি আল্লাহ তা‘আলা যা নিষিদ্ধ করেছেন তা থেকে নিজেকে বিরত রাখা এবং প্রবৃত্তি ও নিষিদ্ধ আনন্দ ফুর্তি প্রতিরোধ করার মাধ্যমে হয়ে থাকে।
বিপদ ও পরীক্ষায় সবরঃ
পরীক্ষা হতে পারে ভালো ও মন্দ উভয়টির মাধ্যমে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَنَبۡلُوكُم بِٱلشَّرِّ وَٱلۡخَيۡرِ فِتۡنَةٗۖ তথা: “আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালো দ্বারা বিশেষভাবে পরীক্ষা করে থাকি।” [সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৩৫]।
মন্দের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় সবর হলো , রাগ, দুঃখ ও অভিযোগের সময়ে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার মাধ্যমে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إِنَّمَا الصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الأُولَى তথা: “আঘাতের শুরুতে সবর করাটাই হল প্রকৃত সবর।” এটি সহীহ বুখারী (১২৮৩) বর্ণনা করেছেন।
ভালোর ক্ষেত্রে পরীক্ষায় সবর হলো ,নি‘আমাতের শুকরিয়া আদায় করা। মুসলিমকে আল্লাহ তা‘আলা যা কিছু কল্যাণ প্রদান করেন, তাতে সে আত্ম-অহমিকতার শিকার হবে না। বরং সে স্মরণ করবে যে, এ সব নি‘আমাত শুধুমাত্র এক আল্লাহ তা‘আলার পক্ষে থেকেই।
তৃতীয়ত: সবরের ফযীলত:
আল্লাহ তা‘আলা সবরকারীদের জন্য বে-হিসাব প্রতিদানের ওয়াদা করেছেন।
সবর হচ্ছে নবী-রাসূলদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, সুতরাং তারাই মানুষের মধ্যে সর্বাধিক পরীক্ষার শিকার হয়ে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সবরের অধিকারী ছিলেন।
আল্লাহ তা‘আলা সবরকারীদের সাথে রয়েছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন: إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ তথা: “নিশ্চয় আল্লাহ সবরকারীদের সাথে।” [ সূরা আল-বাকারা: ১৫৩]।
সবর দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা ও কল্যাণ অর্জনের অন্যতম কারণ।
আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের উপরে এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত থাকার সবরের কারণে আল্লাহ তা‘আলার মুহাব্বাত ও সন্তুষ্টি অর্জিত হয়।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): পড়ব এবং মিলাব
বিপদের সময় একজন মুসলিমকে সবর করতে যেটা সাহায্য করে, তা হল ইবাদাত করা, আর সেই সাথে মনে রাখা যে, তার অপছন্দের মধ্যেই ভালো থাকতে পারে। আর সেই সাথে ধৈর্যশীলদের সওয়াব ও ফযীলতের আশা করা।
এই ছকে থাকা আয়াতগুলোর সাথে পূর্ববর্তী অর্থগুলোর সম্পর্ক স্থাপন কর:
দলীল সবরে সাহায্যকারী কতিপয় উপায়
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَعَسَىٰٓ أَن تَكۡرَهُواْ شَيۡـٔٗا وَهُوَ خَيۡرٞ لَّكُمۡۖ তথা: “কিন্তু তোমরা যা অপছন্দ কর, হতে পারে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।” [সূরা আল-বাকারা: ২১৬]। কল্যাণ বা ভালো কখনো কখনো মানুষ যা অপছন্দ করে, তার মধ্যেও থাকতে পারে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তথা: “আর তোমরা সবর কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা সবরকারীদের সাথে।” (সূরা আল-আনফাল: ৪৬)। সবরের ফযীলত।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ তথা: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা সাহায্য চাও সবর ও সালাতের মাধ্যমে। নিশ্চয় আল্লাহ্ সবরকারীদের সাথে আছেন।” [সূরা আল-বাকারা: ১৫৩]। ইবাদাত করা।
অনুশীলন (২): আমি খুঁজে বের করব এবং বাক্য রচনা করব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জীবনে অনেক মুসিবতে সবর করেছেন। আর তিনি ছিলেন একজন অতি উত্তম আদর্শ। তিনি আল্লাহর প্রতি আহবান করেন আর কষ্টের উপর সবর করেন, তিনি পরিবার ও সন্তান হারানো এবং স্বল্প সম্পদের উপর সবর করেছেন।
তুমি এ ভিডিও ক্লিপটি দেখ, তারপরে সেখান থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে লেখ:
অনুশীলন (৩): আমি পুনরায় পাঠ করব এবং বর্ণনা করব:
যারা সবর করে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ভালো প্রতিদান দেন। তুমি তোমার স্মৃতি থেকে এমন একটি পরিস্থিতি স্মরণ কর, যেখানে তুমি অপছন্দনীয় কিছুর জন্য সবর করেছিলে, এবং আল্লাহ তা‘আলা তোমার জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তাতেই তুমি কল্যাণ পেয়েছ।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১:নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
আল্লাহর আনুগত্যের কাজগুলো সহজ, এতে সবরের প্রয়োজন হয় না। (×)
আল্লাহর আনুগত্যের কাজগুলো পালন করা মুসলিমদেরকে সবর করতে সাহায্য করে। (√)
প্রকৃত সবরকারী অভিযোগ করা এবং উদ্বেগ পরিত্যাগ করে। (√)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
নিজেকে অশ্লীল ছবি এবং ক্লিপ দেখা থেকে বিরত রাখা কিসের থেকে সবর করা:
(বিপদ- আনুগত্য- অবাধ্যতা)
ভালোর ক্ষেত্রে পরীক্ষায় সবর করা হতে পারে:
(অভিযোগ না করা - নি‘আমাতের শুকরিয় আদায় করা - অতিরিক্ত কিছু চাওয়া)
সবরকারীদের ফযীলত স্মরণ করা হলো:
(সবরের উপায় - সবরের মুসিবত - সবরের প্রকারভেদ)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সবরের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থাসমূহ মুসলিমদেরকে সবর শিক্ষা দেয়, ব্যাখ্যা কর।
সবরকারীদের মহা পুরষ্কার প্রমাণ করে এমন একটি আয়াত লেখ।
পঞ্চম পাঠ: লজ্জা গুণ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি লজ্জার পরিচয় দিবে।
তুমি লজ্জার প্রকারসমূহের মধ্যে পার্থক্য করবে।
লজ্জার ফযীলতের দলীল পেশ করবে।
লজ্জার গুণে ভূষিত হবে।
ভূমিকা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إِنَّ مِمَّا أَدْرَكَ النَّاسُ مِنْ كَلَامِ النُّبُوَّةِ الأُولَى: إِذَا لَمْ تَسْتَحِي فَاصْنَعْ مَا شِئْتَ তথা: “পূর্বেকার নবুওয়াতের বাণীসমূহ থেকে লোকেরা যা লাভ করেছে তন্মধ্যে একটি হচ্ছে: যখন তুমি লজ্জা করবে না তখন যা ইচ্ছা তাই কর।” এটি বুখারী (৬১২০) বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ কর, তারপর চিন্তা কর, কিভাবে লজ্জা একজন মুসলিমকে পাপ থেকে বিরত রাখে।
লজ্জা:
লজ্জা বলতে যা বুঝায়
লজ্জার প্রকারভেদ
আল্লাহ থেকে লজ্জা
নিজের থেকে লজ্জা
মানুষ থেকে লজ্জা
লজ্জার ফযীলত
প্রথমত: লজ্জা বলতে যা বুঝায়
লজ্জা এমন একটি চারিত্রিক বিষয়, যা মানুষকে ভালো কাজ করতে এবং খারাপ কথা ও কাজ এড়িয়ে চলতে উৎসাহিত করে।
দ্বিতীয়ত: লজ্জার প্রকারভেদ:
আল্লাহ থেকে লজ্জা:
এটি হচ্ছে সর্বোত্তম লজ্জা, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আল্লাহ তা‘আলা থেকে যথাযথভাবে লজ্জা কর।” সাহাবীরা বললেন: হে আল্লাহর রসূল, আল-হামদুলিল্লাহ, আমরা লজ্জা করি। তিনি বললেন: “সেটা নয়, আল্লাহর থেকে লজ্জা করাটাই হচ্ছে প্রকৃত লজ্জা, তা হলো: তুমি তোমার মাথা ও এর সংশ্লিষ্ট(যেমন,চোখ কান) যা কিছু রয়েছে তা সংরক্ষণ করবে এবং পেট ও এর সংশ্লিষ্ট (যেমন,অন্তর) যা কিছু রয়েছে তা সংরক্ষণ করবে, মৃত্যুকে ও এরপর পচে-গলে নিছুক হাড্ডি হয়ে যাবার কথাও স্মরণ করবে। আর যে লোক আখিরাতের আশা করে, সে যেন দুনিয়াবী জাকজমক পরিহার করে। যে লোক এ কাজগুলি করতে পারে, সেই আল্লাহ্ তা’আলাকে যথাযথভাবে লজ্জা করে।” এটি তিরমিযী (২৪৫৮) বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলার সামনে লজ্জিত হওয়ার অর্থ হল, তোমার নিজেকে পাপের উপরে দেখে লজ্জিত হওয়া। তার নিষেধাজ্ঞাগুলো এড়িয়ে যাওয়া এবং মনে রাখা যে, তোমাকে কিয়ামাতের দিনে বিচারের জন্য তাঁর সামনে দাঁড়াতে হবে।
নিজের থেকে লজ্জা:
একজন মুসলিম ব্যক্তি সম্ভ্রান্ত আত্মার অধিকারী, নিজেকে এবং নিজের ইযযত রক্ষার জন্য তিনি অশ্লীল কথা বলতে বা খারাপ কাজ করতে লজ্জিত হন।
মানুষ থেকে লজ্জা:
একজন মুসলিম, লোকে তাকে মন্দ হিসাবে দেখলে লজ্জা পায়, সে পছন্দ করে, লোকে তাকে ভালো অবস্থাতে দেখুক; যাতে করে সে তার পরিবার ও সহকর্মীদের কাছে উত্তম আদর্শ বিবেচিত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি লোকেদের থেকে লজ্জাবোধ করে, সে খারাপ আচরণ এবং কুরুচিপূর্ণ কাজ থেকে বিরত থাকে যেগুলো মানুষের সামনে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে।
তৃতীয়ত: লজ্জার ফযীলত:
লজ্জাশীলতা এমন একটি গুণ যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন৷ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কোন একজন সাহাবীকে বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই তোমার মধ্যে এমন দু'টি গুণ আছে, যা আল্লাহ পছন্দ করেন: সহিষ্ণুতা ও লজ্জাশীলতা।” ইবন মাজাহ (৪১৮৮) এটি বর্ণনা করেছেন।
লজ্জাশীলতা রাসূলে কারীমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল, হাদীসে এসেছে: كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَشَدَّ حَيَاءً مِنَ العَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا তথা: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাস কামরাতে থাকা কুমারী বালিকা থেকেও অধিকতর লজ্জাশীল ছিলেন।” এটি বুখারী (৩৫৬২) ও মুসলিম (২৩২০) বর্ণনা করেছেন।
লজ্জা ঈমানের অঙ্গ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: الحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الإيمَانِ তথা: “লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।” এটি বুখারী (৯) ও মুসলিম (৩৫) বর্ণনা করেছেন।
লজ্জা শুধুমাত্র কল্যাণই বয়ে আনে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: الحَيَاءُ لَا يَأْتِي إِلَّا بِخَيْرٍ তথা: ”লজ্জা শুধুমাত্র কল্যাণই বয়ে আনে।” এটি বুখারী (৬১১৭) ও মুসলিম (৩৭) বর্ণনা করেছেন।
লজ্জা মুসলিম ব্যক্তিকে তার সমাজে তাকে এক আদর্শ মডেল বানিয়ে দেয়।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি খুঁজে বের করব:
নিম্নোক্ত দলীলগুলো থেকে লজ্জার ধরনসমূহ খুঁজে বের কর:
দলীল লজ্জার ধরন
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَجَآءَتۡهُ إِحۡدَىٰهُمَا تَمۡشِي عَلَى ٱسۡتِحۡيَآءٖ তথা: “তখন তার কাছে তাদের দুজনের মধ্য হতে একজন মেয়ে লজ্জাবনত অবস্থায় হেঁটে আসল।” [সূরা আল-ক্বসাস, আয়াত: ২৫]।
নারীদের হাঁটা চলাসহ সকল অবস্থাতে লজ্জাশীলতা আবশ্যক।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তুমি তোমার স্ত্রী অথবা তোমার দাসী ব্যতীত সবার কাছ থেকেই তোমার সতরকে হিফাযত করবে।” বলা হল: হে আল্লাহর রাসূল, যখন কওমের লোকেরা একে অপরের সাথে থাকে? তিনি বললেন: “যদি তুমি সক্ষম হও, কেউ দেখবে না, তাহলে দেখাবে না।” বলা হল: হে আল্লাহর নবী, যখন আমাদের কেউ একাকী থাকবে? তিনি বললেন: “মানুষের থেকেও আল্লাহ লজ্জার ক্ষেত্রে অধিকতর হকদার।” এটি তিরমিযী (২৭৯৪) বর্ণনা করেছেন।
সতর ঢেকে রাখা উচিত, যদিও কোন ব্যক্তি একাকী থাকে।
অনুশীলন (২): আমি তুলনা করব:
কয়েকটি অবস্থা রয়েছে, যেখানে লজ্জা করা নিন্দিত, যেমন: সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধের সময় এবং দীনী ইলমের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করার ব্যাপারে লজ্জাবোধ করা।
নিচের ভিডিও থেকে সাহায্য নিয়ে প্রসংশিত লজ্জা এবং নিন্দিত লজ্জার মধ্যে তুলনা কর:
এটি দ্বারা লিংকটি বদল করা হবে, কারণ এটি আল্লামাহ উছায়মীন রহিমাহুল্লাহর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক কাজের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল কাজের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
কোন ব্যক্তির অযূ চলে গেল, অথচ সে সালাত থেকে বের হতে লজ্জা পেল। (×)
কোন ব্যক্তি তার গাড়ি থামিয়ে রাস্তার উপরে পেশাব পায়াখানা করল। (×)
কোন কর্মচারী তার সহকর্মীদের সামনে তার পেষাক পরিবর্তন করতে লজ্জা পায়।
কোন একজন ছাত্র সে যেটা বুঝতে পারে না, সেটা তার শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করতে লজ্জা পায়। (×)
প্রশ্ন ২: নিচের দলীলগুলো পূর্ণ কর:
الحَيَاءُ لَا يَأْتِي إِلَّا ........ তথা: ”লজ্জা শুধুমাত্র ............ বয়ে আনে।”
الحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ ........... তথা: “লজ্জা ............ অঙ্গ।”
إِذَا لَمْ تَسْتَحْيِ فَاصْنَعْ مَا .......... তথা: “যখন তুমি লজ্জা করবে না তখন যা .......... তাই কর।“
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
লজ্জা দ্বারা কী বোঝায়?
কিভাবে মুসলিম আল্লাহ থেকে লজ্জা কে বাস্তবায়ন করবে
ষষ্ঠ পাঠ: ন্যায় পরায়ণতার গুণ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
ন্যায় পরায়ণতার ব্যাখ্যা করবে।
তুমি ন্যায় পরায়ণতার গুরুত্বপূর্ণ ধরনগুলো বর্ণনা করবে।
ন্যায় পরায়ণতার ফযীলতের দলীল দিবে।
সমাজে ন্যায়ের অনুপস্থিতির ভয়াবহতা অনুভব করবে।
তুমি ন্যায় পরায়ণতার গুণে নিজেকে সজ্জিত করবে।
ভূমিকা:
যদি তোমার কাছে স্পষ্ট হয়, তোমার ছেলে অন্য কোন প্রতিবেশীর সন্তানের উপর অন্যায় বা যুলুম করছে, তখন তুমি কী করবে?
এ পাঠ শেষ হওয়ার পরে তোমার অবস্থান সম্পর্কে মূল্যায়ন কর।
ন্যায় পরায়ণতা:
ন্যায় পরায়ণতা বলতে যা বুঝায়
ন্যায় পরায়ণতার বিুভন্নধরন
ন্যায় বাস্তবায়নের পদ্ধতি
ন্যায় পরায়ণতার ফযীলত
প্রথমত: ন্যায় পরায়ণতা বলতে যা বুঝায়:
ন্যায় হল জুলুমের বিপরীত, আর তা হল: কমতি ছাড়াই প্রতিটি ব্যক্তিকে তার অধিকার প্রদান করা এবং মানুষের মধ্যে বৈষম্য করা ছাড়াই আচরণের ক্ষেত্রে ইনসাফ করা এর অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়ত: ন্যায় পরায়ণতার বিভিন্নরূপঃ
(১) আবশ্যক দায়িত্বসমূহ পালন ও হকসমূহ আদায় করা হলোঃ
ব্যক্তি তার উপর অপরিহার্য অধিকার পালন করবে এবং তার অধিকার অর্জন করবে।অপরের অধিকারে সীমালঙ্ঘন করা ছাড়াই।
(২) মানুষের মধ্যে ন্যায় বিচার করা:
যদি মানুষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয় বা তাদের একে অন্যের উপর বাড়াবাড়ি করে, তাহলে তাদের মধ্যে ইনসাফের সাথে ফয়সালা করতে হবে, যাতে নির্যাতিত ব্যক্তির অধিকার পুনরুদ্ধার হয় এবং অত্যাচারী শাস্তি পায়।
সুতরাং মুসলিম ব্যক্তি মাত্রই মাযলুম (অত্যাচারিত) ব্যক্তির হক আদায় করে দেবে, যদিও অত্যাচারী ব্যক্তি তার বন্ধু অথবা নিকটতম কেউ হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের জনৈক মহিলা চুরি করলে, কতিপয় সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তার হাত না কাটার ব্যাপারে কথা বললে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: “যদি ফাতিমা বিনতু মুহাম্মাদও চুরি করত, তবে আমি তার হাত কেটে দিতাম।” এটি সহীহ মুসলিম (১৬৮৮) বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয়ত: ন্যায় পরায়ণতা বাস্তবায়নের পদ্ধতি:
বিভিন্ন পদ্ধতিতে ন্যায় পরায়ণতা বাস্তবায়ন হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
শরী‘আতের সাব্যস্ত আহকাম যা কুরআন কারীম ও সুন্নাতে নবীতে রয়েছে, তা প্রয়োগের মাধ্যমে।
প্রতিটি হকদারকে তার হক প্রদান করা এবং মানুষের মাঝে পার্থক্য বর্জন করা।
বিবাদের সময়ে মানুষের মধ্যে নায়সঙ্গতভাবে ফয়সালা করা।
আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করা এবং এ ব্যাপারে বদ্ধমুল জ্ঞান রাখা যে, আল্লাহ তা‘আলা অত্যাচারী থেকে কিয়ামাতের দিনে অবশ্যই বদলা গ্রহণ করবেন।
চতুর্থত: ন্যায় পরায়ণতার ফযীলত:
ন্যায় পরায়ণতা একটি আল্লাহপ্রদত্ত আদেশ, যা সকল ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলা আদেশ করেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন: إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُ بِٱلۡعَدۡلِ وَٱلۡإِحۡسَٰنِ তথা: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় ও ইহসান সম্পর্কে আদেশ করেছেন।” [সূরা আন-নাহল: ৯০]।
এবং তিনি মানুষের মধ্যে ন্যায়-বিচার করতে আদেশ করেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন: إِنَّ ٱللَّهَ يَأۡمُرُكُمۡ أَن تُؤَدُّواْ ٱلۡأَمَٰنَٰتِ إِلَىٰٓ أَهۡلِهَا وَإِذَا حَكَمۡتُم بَيۡنَ ٱلنَّاسِ أَن تَحۡكُمُواْ بِٱلۡعَدۡلِۚ إِنَّ ٱللَّهَ نِعِمَّا يَعِظُكُم بِهِۦٓۗ তথা: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন আমানত তার হকদারকে ফিরিয়ে দিতে। তোমরা যখন মানুষের মধ্যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে তখন ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচার করবে। আল্লাহ তোমাদেরকে যে উপদেশ দেন তা কত উৎকৃষ্ট!” [সূরা আন-নিসা: ৫৮]।
ন্যায়বিচার যুলুমের শাস্তি হতে বাঁচার কারণ হয়। আল্লাহ সুবহানাহু বলেন, وَلَا تَحۡسَبَنَّ ٱللَّهَ غَٰفِلًا عَمَّا يَعۡمَلُ ٱلظَّٰلِمُونَۚ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمۡ لِيَوۡمٖ تَشۡخَصُ فِيهِ ٱلۡأَبۡصَٰرُ তথা: “আর আপনি কখনো মনে করবেন না যে, যালিমরা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ্ গাফিল, তবে তিনি তাদেরকে সেদিন পর্যন্ত অবকাশ দেন যেদিন তাদের চক্ষু হবে স্থির।” [সূরা ইব্রাহীম, আয়াত: ৪২]।
ন্যায়বিচার সমাজে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনের একটি কারণ এবং মানুষের জীবনের নিরাপত্তার গ্যারান্টি।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি ভেবে-চিন্তে বাছাই করব:
হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: يَا عِبَادِي، إِنِّي حَرَّمْتُ الظُّلْمَ عَلَى نَفْسِي، وَجَعَلْتُهُ بَيْنَكُمْ مُحَرَّمًا، فَلَا تَظَالَمُوا তথা: “হে আমার বান্দাগণ! আমি নিজের উপর যুলুমকে হারাম করেছি, এবং তোমাদের মধ্যেও এটিকে হারাম করেছি, সুতরাং তোমরা পরষ্পরে যুলুম করো না।” এটি সহীহ মুসলিম (২৫৭৭) বর্ণনা করেছেন।
নিম্নে প্রদত্ত হাদীসটি যা প্রমাণ করে, তার সামনে (√) চিহ্ন দাও:
ন্যায় পরায়ণতা আল্লাহর সিফাতের অন্তর্ভুক্ত। ( )
যে মানুষের উপর যুলুম করবে না, সে মাজলুম (অত্যাচারিত) হবে। ( )
আল্লাহ তা‘আলা এক যাররাহ পরিমাণ যুলুমও করেন না। ( )
অনুশীলন (২): আমি সাহায্য করব এবং জবাব দেব:
নু‘মান ইবনু বাশীর রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আমার পিতা আমাকে তার সম্পদ থেকে কিছু সদকা (দান) করলেন। তখন আমার মা ‘আমরাহ বিনতু রওয়াহা বললেন: আপনি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাক্ষ্য না রাখা পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট হতে পারছি না। তারপরে আমার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন, যাতে তিনি আমাকে দেওয়া দানের ব্যাপারে সাক্ষ্য হন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: “তুমি কী তোমার প্রতিটি পুত্রের জন্য এটা করেছ?” তিনি বললেন: না। তখন তিনি বললেন: “আল্লাহকে ভয় কর! আর তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠা কর।” তখন আমার পিতা ফিরে আসেন এবং উক্ত সদকা (দান) প্রত্যাহার করে নেন।” এটি সহীহ বুখারী (২৫৮৭) ও মুসলিম (১৬২৩) বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি বুঝতে তোমার সহপাঠীর সাহায্য নাও, তারপরে নিচের প্রশ্নগুলোর জবাব দাও:
পাঠের বিষয়বস্তুর সাথে এ হাদীসটির সম্পর্ক বর্ণনা কর।
এ হাদীস থেকে যা শিক্ষণীয়, তা ব্যাখ্যা কর।
অনুশীলন (৩): আমি রচনা করব:
কোন মানুষই এমন পাওয়া যাবে না যে কখনো কারো উপরে যুলুম করেনি বা যুলুমের শিকার হয়নি। তুমি এমন একটি পরিস্থিতির কথা মনে কর, যেখানে তুমি অন্যের উপরে যুলুম করার কারণে লজ্জিত। তারপরে যার উপরে তুমি যুলুম করেছ, তার উদ্দেশ্যে একটি পত্র লিখ।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
অত্যাচারীকে শাস্তি প্রদান করা হলো :
(ন্যায় - যুলুম - বাতিল)
মানুষের মধ্যে জাতী ও বর্ণের ভিত্তিতে পার্থক্য করা হলো :
(ন্যায় - হক (সত্য) - যুলুম)
ন্যায় প্রতিষ্ঠার পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে:
(আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করা - শরী‘আতকে উপেক্ষা করা - মানুষের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করা)
আমি যখন দেখব যে ,আমার ভাই তার সহপাঠীর উপর যুলুম করছে, তখন আমি:
(তাকে নিষেধ করব - তাকে সাহায্য করব - তাদের ঐভাবে রেখে আমি চলে যাব)
প্রশ্ন ২: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখ:
আত্মীয়-স্বজনেরা ভুল করলেও তাদের পক্ষে ফয়সালা দেওয়াটা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মধ্যে গণ্য হবে।
শরী‘আত নির্ধারিত শাস্তি প্রয়োগ করা অন্যায়কে প্রসারের দিকে ধাবিত করে।
ন্যায় শুধু মুসলিমদের সাথে অন্যদের সাথে নয়।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
ন্যায় পরায়ণতার পরিচয় সংক্ষেপে লেখ।
মানুষের মধ্যে ন্যায় প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে একটি দলীল লেখ।
দাও‘আতের অধ্যায়
প্রথম পাঠ: নসীহতের গুরুত্ব ও মর্যাদা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি নসীহতের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করবে।
নসীহতের গুরুত্ব সম্পর্কে দলীল পেশ করবে।
সমাজে নসীহতের প্রভাব খুঁজে বের করবে।
নসীহতের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করবে।
নসীহত মুসলিমের উপরে তার অন্য মুসলিম ভাই এর অন্যতম একটি অধিকার, এটি তাকে ভালবাসার প্রমাণ, দীনে এর একটি বড় গুরুত্ব রয়েছে এবং সমাজে ভালবাসা ও সহযোগিতা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় এর ধরণের প্রভাব রয়েছে।
প্রথমত: নসীহতের তাৎপর্য:
নসীহত হচ্ছে: যে ব্যক্তিকে নসীহত বা উপদেশ দেওয়া হচ্ছে তার জন্য কল্যাণের ইচ্ছা করা, তাকে ভালো কাজের দিকে আহবান করা এবং যা খারাপ তা থেকে নিষেধ করা।
দ্বিতীয়ত: নসীহতের গুরুত্ব ও মর্যাদা:
নসীহতের গুরুত্ব ও মর্যাদা:
দীনের আসল হচ্ছে নসীহত বাস্তবায়ন ।
নবীদের পেশা
সমাজ সংশোধন করা
সুখ লাভের উপায়
নসীহত হচ্ছে জিহাদ
আযাব থেকে মুক্তি
দীনের আসল হচ্ছে নসীহত বাস্তবায়ন:
ইসলাম নসীহতের গুরুত্ব কে সমুন্নত করেছে; কারণ এটি দীন প্রতিষ্ঠা, টিকে থাকা এবং প্রসারের অন্যতম কারণ। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে দীন হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন: الدِّينُ النَّصِيحَةُ». قُلْنَا: لِمَنْ؟ قَالَ: «للهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ তথা: “ দীনের আসলই নসীহত।আমরা বললাম কার জন্য? তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য তার কিতাবের জন্য, তার রাসূলের জন্য এবং মুসলিম শাসক ও জনসাধারণের জন্য।” মুসলিম (৫৫) এটি বর্ণনা করেছেন। এর বিস্তারিত নিচে দেওয়া হল:
নসীহত করা নবীদের পেশা :
নবীগণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে দয়ালু ; তাই তারা তাদের কওমকে প্রতিটি ভালো কাজের ব্যাপারে আদেশ করেছেন এবং প্রতিটি মন্দ বা অকল্যাণকর কাজ থেকে নিষেধ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “এমন কোন বিষয় নেই যা তোমাদেরকে জান্নাতের নিকটবর্তী করবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে অথচ আমি সে ব্যাপারে তোমাদের আদেশ করিনি। আবার এমন কোন বিষয় নেই যা তোমাদের জাহান্নামের নিকটবর্তী করবে এবং জান্নাত থেকে দূরে রাখবে অথচ আমি তোমাদের তা থেকে নিষেধ করিনি।” এটি আব্দুর রাজ্জাক (৩৪৩৩২) বর্ণনা করেছেন।
নসীহত হচ্ছে সমাজ সংস্কারের পথ:
নসীহতের উদ্দেশ্য নবী শু‘আইব আলাইহিস সালামের এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়: إِنۡ أُرِيدُ إِلَّا ٱلۡإِصۡلَٰحَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُۚ তথা: “আমি তো আমার সাধ্যমত সংস্কারই করতে চাই।” [সূরা হুদ, আয়াত: ৮৮]।
সুতরাং নসীহত হল সৎকর্ম ও নৈতিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার এবং সমাজের লোকদের মধ্যে দুর্নীতি প্রতিরোধ করার একটি উপায়।
নসীহত হচ্ছে উভয় জগতে সৌভাগ্যের পথ:
মানুষের ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ নসীহত, একে অপরকে হকের উপদেশ এবং সবরের উপদেশ ছাড়া অর্জন করা যায় না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছন: “সময়ের শপথ, (১) নিশ্চয়ই সকল মানুষ ক্ষতির মাঝে নিপতিত, (২) কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে আর পরস্পরকে উপদেশ দিয়েছে হকের এবং উপদেশ দিয়েছে ধৈর্যের। (৩)” (আল-‘আসর: ১-৩)
নসীহত জিহাদের একটি প্রকার:
যে ব্যক্তি জিহাদে যেতে অপারগ, কিন্তু সে নসীহত করে, তবে সে যেন জিহাদ করল, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: لَّيۡسَ عَلَى ٱلضُّعَفَآءِ وَلَا عَلَى ٱلۡمَرۡضَىٰ وَلَا عَلَى ٱلَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُواْ لِلَّهِ وَرَسُولِهِۦۚ مَا عَلَى ٱلۡمُحۡسِنِينَ مِن سَبِيلٖۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ তথা: “যারা দুর্বল, যারা পীড়িত এবং যারা অর্থ সাহায্যে অসমর্থ, তাদের কোন অপরাধ নেই, যদি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ক্ষেত্রে নসীহত পালনকারী হয়। মুহসিনদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন পথ নেই; আর আল্লাহ্ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” [আত-তাওবাহ, আয়াত: ৯১]।
নসীহত আযাব থেকে রক্ষা করে:
নসীহত প্রয়োগ করা এমন এক ধরণের সংস্কার কার্যক্রম, যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন এবং বিপদ ও আযাব এর মাধ্যমে তুলে নেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَا كَانَ رَبُّكَ لِيُهۡلِكَ ٱلۡقُرَىٰ بِظُلۡمٖ وَأَهۡلُهَا مُصۡلِحُونَ তথা: “আর আপনার রব এরূপ নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে জনপদ ধ্বংস করবেন অথচ তাঁর অধিবাসীরা সংশোধনকারী।” [সূরা হুদ,আয়াত : ১১৭]।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): অংশগ্রহণ করব ও জবাব দেব:
আল্লাহ তা‘আলার জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য এবং মুসলিম শাসক ও জনসাধারণের জন্য নসীহতের পদ্ধতি সম্পর্কে তোমার শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে আলোচনায় অংশগ্রহণ কর:
নসীহত কার জন্য হবে? কিভাবে হবে?
আল্লাহ তা‘আলার জন্য নসীহত আল্লাহ তা‘আলার উপর ঈমান আনা, তাঁর সাথে শিরক না করা এবং আমলের ক্ষেত্রে ইখলাস তাঁরই জন্য রাখার মাধ্যমে।
আল্লাহর কিতাবের জন্য নসীহত পবিত্র কুরআনকে আল্লাহ তা‘আলার বাণী বলে বিশ্বাস করা, এর উপর আমল করা, তা শেখা এবং শেখানোর মাধ্যমে।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নসীহত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু নিয়ে এসেছেন, তার উপরে ঈমান আনা, তাকে মুহাব্বাত করা, তার সুন্নাতের উপরে আমল করা এবং মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়া।
মুসলিম শাসকদের জন্য নসীহত করা তাদেরকে হকের ব্যাপারে সহযোগিতা, সেক্ষেত্রে তাদের অনুসরন করা এবং তাদেরকে এ ব্যাপারে অনুরোধ করার মাধ্যমে।
মুসলিম জনসাধারণের জন্য নসীহত তাদেরকে মুহাব্বাত করা, তাদের হক আদায় করা এবং তাদেরকে নসীহত (সদুপদেশ) করার মাধ্যমে।
অনুশীলন (২): আমি সমাধান করে খুঁজে বের করব:
কুরআন কারীমে নবী নূহ আলাইহিস সালামের সন্তানের প্রতি তার নসীহত উল্লেখিত হয়েছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَنَادَىٰ نُوحٌ ٱبۡنَهُۥ وَكَانَ فِي مَعۡزِلٖ يَٰبُنَيَّ ٱرۡكَب مَّعَنَا وَلَا تَكُن مَّعَ ٱلۡكَٰفِرِينَ 42 তথা: “নূহ তাঁর পুত্রকে, যে পৃথক ছিল, ডেকে বললেন, হে আমার পুত্র! আমাদের সাথে আরোহন কর এবং কাফিরদের সঙ্গী হয়ো না।” (৪২) قَالَ سَـَٔاوِيٓ إِلَىٰ جَبَلٖ يَعۡصِمُنِي مِنَ ٱلۡمَآءِۚ قَالَ لَا عَاصِمَ ٱلۡيَوۡمَ مِنۡ أَمۡرِ ٱللَّهِ إِلَّا مَن رَّحِمَۚ وَحَالَ بَيۡنَهُمَا ٱلۡمَوۡجُ فَكَانَ مِنَ ٱلۡمُغۡرَقِينَ 43 তথা: “সে বলল: ‘আমি এমন এক পর্বতে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে।’ তিনি বললেন, ‘আজ আল্লাহ্র হুকুম থেকে রক্ষা করার কেউ নেই, তবে যাকে আল্লাহ্ দয়া করবেন সে ছাড়া।’ আর তরঙ্গ তাদের মধ্যে অন্তরায় হয়ে গেল, ফলে সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হল।” (৪৩) [সূরা হুদ, আয়াত: ৪২-৪৩]।
আয়াতগুলোতে উপস্থাপিত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এবং পাঠের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে নিম্নলিখিত বিষয়ের উত্তর দাও:
নসীহতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা কর।
নূহ আলাইহিস সালাম তার ছেলেকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন, তাই তিনি তাকে কুফর পরিত্যাগ করে জাহাজে চড়ার নসীহত করেছিলেন। পুত্র যদি সাড়া দিত তাহলে সে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পেত, কিন্তু সে তার পিতার অবাধ্য হয়েছিল এবং তার নসীহত গ্রহণ করেনি; এ কারণে সে ডুবে গেল এবং কাফেরদের সাথে ধ্বংস হয়ে গেল।
এ ঘটনা থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো কী?
মানুষ কে নসীহত পেশ করা, এবং তাদের মুক্তির জন্য আগ্রহী হওয়া।
নসীহত কবূল করা এবং একে অবহেলা না করা।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১:নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
নসীহত হচ্ছে ইসলামের মূলনীতি ও মূলভিত্তির অন্তর্ভুক্ত। (√)
নূহ আলাইহিস সালামের পুত্র পিতার নসীহত গ্রহণ করেছিল। (X)
নসীহত শুধু দীনের বিষয়গুলোর সাথে নির্দিষ্ট। (X )
নসীহত হচ্ছে অন্যদের হক বা অধিকারের উপরে সীমালঙ্ঘন করা। (X)
নসীহত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার পথে একটি জিহাদ। (√)
প্রশ্ন ২: নিচের হাদীসটি পূর্ণ কর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الدِّينُ .........». قُلْنَا: لِمَنْ؟ قَالَ: «للهِ ........ وَلِرَسُولِهِ ........... الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ». “দীন হলো ............।” আমরা বললাম: কার জন্য? তিনি বললেন: আল্লাহর জন্য ............., তার রাসূলের জন্য এবং মুসলিম .......... ও জনসাধারণের জন্য।”
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
নসীহতের পরিচয় দাও।
মুসলিম জনসাধারণের জন্য নসীহত কিভাবে বাস্তবায়িত হবে?
সমাজে ভালোকাজ ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে নসীহতের গুরুত্ব খুঁজে বের কর।
দ্বিতীয় পাঠ: নসীহতের আদব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
নসীহতের আদবের দলীল পেশ করবে।
নসীহত করার আদব এবং তা গ্রহণ করার মধ্যে সম্পর্ক যুক্ত করবে।
যাকে নসীহত করা হবে, তার আদবসমূহ বর্ণনা করবে।
নসীহতের আদবের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করবে।
নসীহতের আদবসমূহ মেনে চলবে।
কখনো কখনো নসীহত মন্দভাবে উপস্থাপনের কারণে অথবা সঠিক সময়ে সেটি না দেওয়ার কারণে গ্রহণ করা হয় না । এ পাঠে আমরা নসীহতের আদবসমূহ শিখব, যাতে নসীহতের উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয় এবং ব্যক্তি ও সমাজ উপকারিতা লাভ করে।
প্রথমত: নসীহতকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট আদবসমূহ:
নসীহতকারীর আদব:
ইখলাস
সবর
আমানাত
কোমলতা
গোপনীয়তা
অনুগ্রহ বা রহমত
আমল
আল-ইলম (জ্ঞান)
ফিকহ
ইখলাস, নসীহতকারীর জন্য ওয়াজিব, তিনি নসীহতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলার চেহারা (দর্শন) উদ্দেশ্য করবেন তারপরে মানুষের উপকার উদ্দেশ্য করবেন।
সবর; কেননা কখনো কখনো সে কষ্টকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে, অথবা নসীহতকে পুনরাবৃত্তি করা এবং নসীহত প্রাপ্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করার প্রয়োজন হতে পারে।
আমানাত, নসীহতকে সর্বোত্তম পন্থায় পেশ করার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে।
আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করতঃ নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যাপারে কোমল হওয়া, কঠোরতা এবং হৃদয়ের কাঠিন্যতা পরিহার করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (فَبِمَا رَحۡمَةٖ مِّنَ ٱللَّهِ لِنتَ لَهُمۡۖ وَلَوۡ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ ٱلۡقَلۡبِ لَٱنفَضُّواْ مِنۡ حَوۡلِكَۖ) “আর আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল-হৃদয় হয়েছিলেন; যদি আপনি রূঢ় ও কঠোরচিত্ত হতেন তবে তারা আপনার আশপাশ থেকে সরে পড়ত।” [সূরা আলে-ইমরান: ১৫৯]।
নসীহত পেশ করার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করা, যাতে নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির কোন সমস্যা অথবা লজ্জায় না পড়তে হয়।
নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ব্যাপারে দয়ালু হওয়া, এবং তার দীন ও দুনিয়ার কল্যাণের দিকে আগ্রহী হওয়া।
নসীহতকারী অন্যকে যে বিষয়ে নসীহত করবে, তা নিজে আমলে পরিণত করবে, যাতে করে নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য সেটি আমলগত আদর্শ হিসেবে গণ্য হয়।
নসীহত করা হয় এমন বিষয়ে জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা থাকতে হবে, যাতে নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির কোন সমস্যা বা ক্ষতির কারণ না হয়।
নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিস্থিতি বিবেচনা করবে এবং উপযুক্ত সময় বেছে নিবে; যেন সে নসীহত গ্রহণ করতে পারে।
দ্বিতীয়ত: নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট আদবসমূহ:
নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির আদবসমূহ:
নসীহতের সঠিকতা যাচাই করা।
নসীহত গ্রহণ করা
নসীহত অনুযায়ী আমল করা
নসীহতকারীর কথার সঠিকতা যাচাই করা:
যখন নসীহতের মধ্যে কোন কল্যাণ প্রকাশ না পায়, অথবা কোন অদ্ভুত বিষয়কে শামিল করে, অথবা এমন কোন ব্যক্তির কাছ থেকে আসে, যার সে ব্যাপারে নির্ভরযোগ্যতা নেই, তাহলে নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য আবশ্যক যে, সে নসীহতের সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবে।
নসীহত গ্রহণ করা এবং অহংকার না করা:
নসীহত গ্রহণ না করা অহংকারের আলামত। এটি মানুষ থেকে কল্যাণকে দূরে রাখে। হাদীসে এসেছে: এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট তার বাম হাত দ্বারা খেল। তিনি বললেন: ’’তোমার ডান হাত দ্বারা খাও।’’ সে বলল: ’আমি পারি না।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি (যেন ডান হাতে খেতে) না পারো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা মানতে তাকে শুধুমাত্র অহংকারই বাধা দিয়েছিল। এরপর থেকে সে তার ডান হাত মুখে উঠাতে পারেনি। এটি মুসলিম (২০২১) বর্ণনা করেছেন।
নসীহত অনুযায়ী আমল করা হলো: নসীহত গ্রহণ করার পরে নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির কর্তব্য হচ্ছে তা আমলে পরিণত করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): ফলাফল বের করবো:
নিচের দলীলগুলো থেকে নসীহতের আদবসমূহ খুঁজে বের কর:
দলীল নসীহতের আদব
লুকমান (আলাইহিস সালাম) তার পুত্রকে বলেছিলেন: يَٰبُنَيَّ أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَٱنۡهَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَٱصۡبِرۡ عَلَىٰ مَآ أَصَابَكَۖ তথা: “হে পুত্র! সালাত কায়েম কর , সৎকাজে আদেশ কর, অসৎ কাজে নিষেধ কর এবং তোমার উপরে আপতিত বিপদে সবর কর।” [সূরা লুকমান : ১৭]।
কোমলতা এবং নম্রতা
ফিরআউনের পরিবার থেকে একজন মুমিন ব্যক্তি বলেছিলেন: وَيَٰقَوۡمِ مَا لِيٓ أَدۡعُوكُمۡ إِلَى ٱلنَّجَوٰةِ وَتَدۡعُونَنِيٓ إِلَى ٱلنَّارِ “আর হে আমার সম্প্রদায় ! এটি কেমন কথা যে, আমি তোমাদেরকে ডাকছি মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে ডাকছ আগুনের দিকে!” [সূরা গাফির/মুমিন: ৪১]।
কল্যাণের দিকে দাও‘আত দেওয়া এবং নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতি কোমল হওয়া।
নবী নূহ আলাইহিস সালাম তার কওমকে বলেছিলেন: وَيَٰقَوۡمِ لَآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ مَالًاۖ إِنۡ أَجۡرِيَ إِلَّا عَلَى ٱللَّهِۚ তথা: “হে আমার সম্প্রদায়! এর পরিবর্তে আমি তোমাদের কাছে কোন ধন-সম্পদ চাই না, আমার পারিশ্রমিক তো আল্লাহরই কাছে।” [সূরা হুদ: ২৯] ইখলাস।
ফুদ্বাইল ইবনু ‘ইয়াদ্ব রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “মুমিন দোষ গোপন করে এবং নসীহত করে। আর পাপী ব্যক্তি দোষ প্রকাশ করে এবং তিরষ্কার করে।”
গোপন করা এবং গোপনিয়তা।
অনুশীলন (২): আমি মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করে সারমর্ম বর্ণনা করব:
এ ক্লিপটি দেখ এবং এর থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাগুলোর সারমর্ম লেখ:
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
নবী শু‘আইব আলাইহিস সালামের বক্তব্য: إِنۡ أُرِيدُ إِلَّا ٱلۡإِصۡلَٰحَ مَا ٱسۡتَطَعۡتُۚ তথা: “আমি তো আমার সাধ্যমত সংস্কারই করতে চাই।” প্রমাণ করে:
(নসীহতের উদ্দেশ্য - নসীহতের সময় - নসীহতের পদ্ধতি)
ফুদ্বাইল ইবনু ‘ইয়াদ্ব রহিমাহুল্লাহর বক্তব্য “মুমিন দোষ গোপন করে এবং নসীহত করে” এ কথা থেকে শিক্ষা হলোঃ
(অন্যায় থেকে চুপ থাকা - পাপী ব্যক্তিকে নসীহত করা - নসীহতে গোপনীয়তা রক্ষা করা)
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَإِذَا قِيلَ لَهُ ٱتَّقِ ٱللَّهَ أَخَذَتۡهُ ٱلۡعِزَّةُ بِٱلۡإِثۡمِۚ তথা: “আর যখন তাকে বলা হয় ‘আল্লাহ্র তাকওয়া অবলম্বন কর’, তখন তার আত্মাভিমান তাকে পাপাচারে লিপ্ত করে।” প্রমাণ করে:
(নসীহতের মাধ্যমে গর্বিত হওয়া - নসীহতের ব্যাপারে অহংকার করা - নসীহত গ্রহণ করা)
প্রশ্ন ২: নিচের নসীহতগুলোর ফলাফল আশা কর, আর তোমার আশার স্বপক্ষে কারণ উল্লেখ কর:
নসিহত প্রত্যাশিত ফলাফল গ্রহণ করা হবে গ্রহণ করা যাবে না
কারণ
কোন যুবক তার সহপাঠীকে মানুষের সামনে উচ্চস্বরে মাদকদ্রব্য পরিহারের ব্যাপারে নসীহত করল।
শিক্ষক তার ছাত্রকে পড়া মুখস্থ করার ক্ষেত্রে পরিশ্রম করার নসীহত করলেন।
একজন ধুমপায়ী ডাক্তার তার রোগীতে ধুমপান ত্যাগ করার নসীহত করল।
পিতামাতার প্রতি অনুগত কোন যুবক তার ভাইকে পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহারের নসীহত করল।
একজন কর্মচারী তার প্রধানকে শ্রমিকদের সামনে কাজের পরামর্শ দিল।
প্রশ্ন ৩: নসীহতপ্রাপ্ত ব্যক্তির আদবসমূহ সংক্ষেপে লেখ।
প্রকাশ
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন , ইলম ও বয়ানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন এবং কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা তার ওপর প্রমাণ সাব্যস্ত করেছেন।
আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার, সকল সম্মানীত সাহাবী ও কিয়ামত পর্যন্ত যারা ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে সবার ওপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
আমল করার আগে বান্দার ওপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরয হলো ইলম অন্বেষণ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ “সুতরাং জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্য মাবূদ নেই। আর ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ও মুমিন নর-নারীদের ক্রটির জন্য। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন।”
[সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ১৯]
শর‘ঈ ইলম এই উম্মতের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ও ইসলামী ব্যক্তিত্ব মুল্যায়নের তাৎপর্যপূর্ণ উপাদান।
ইলমের এই গুরুত্বকে উপলক্ষ্য করে ”দাওয়াহ ও প্রবাসীদের শিক্ষা দান সংস্থা, রাওদাহ, রিয়াদ,সৌদি আরব” এর হিকমতপূর্ণ ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে মানুষদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করার বার্তার সূচনা হয়।সংস্থাটি প্রবাসীদের শিক্ষাদান ও শরয়ীভাবে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্যে তৈরিকৃত বহু প্রোগ্রাম ব্যবাহর করে মুসলিমদেরকে তাদের দীনি বিষয় শিক্ষা দান করে থাকে। তারই একটি প্রকল্প হলো: ”فقهني في ديني” (আমাকে দীনের সঠিক বুঝ দান করুন)। যার ফলে প্রবাসীদের জন্য সাতটি ভাষায় শরয়ী কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি উক্ত প্রকল্পের উন্নয়নের লক্ষে শিক্ষা পরামর্শ বিষয়ক কম্পানি "বাসায়ের" এর সাথে যোগাযোগ করে। এটি মূলত শরয়ী শিক্ষা সেলেবাস উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ সংস্থা। পরিশেষে কম্পানিটির রাওদাহ সংস্থার সাথে সেলেবাস উন্নয়ন কেন্দ্রিক কতিপয় মূল নীতি ভিত্তিক পাঠ্যক্রম উন্নত করার একটি চুক্তি সম্পাদন হয়। তারপর নির্দিষ্ট শিক্ষাস্তর মোতাবেক শিক্ষার্থীর জন্য বইগুলো সংকলন করা হয়:
- প্রথম স্তর, যার মধ্যে রয়েছে (৪০)টি পাঠ।
-দ্বিতীয় স্তর, যার মধ্যে রয়েছে (30)টি পাঠ।
-তৃতীয় স্তর: এতে রয়েছে ৩০ টি পাঠ।
আর শিক্ষার্থীর প্রতিটি বইয়ের সাথে সমন্বয় করে শিক্ষকের একটি নির্দেশিকা বই থাকবে, যা তাকে শিক্ষাদান পদ্ধতি অনুযায়ী ও কার্যকরভাবে পাঠদান করতে সহায়তা করবে। পাঠ্যক্রমটির উন্নয়ন ও নির্ভরযোগ্য করার কর্মসূচী, শিক্ষার্থীদের টেক্সবই ও শিক্ষক গাইড প্রণয়নে, তাত্ত্বিক ভাবে প্রস্তুতকরণ ও সূক্ষ্ম সম্পাদনার নানা স্তর অতিবাহিত হয়েছে। এটি আঞ্জাম দিয়েছেন শরয়ী শিক্ষা কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষজ্ঞ দল।
পরিশেষে, আমরা আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি এই কাজ দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের উপকৃত করুন। যারা এই সুন্দর কারিকুলাম প্রণয়নে ও প্রকাশে অবদান রেখেছেন, তাদের সবাইকে আল্লাহ মহাকল্যাণ ও জান্নাত দান করুন। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও সংস্থার ফোন নাম্বারে এই শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রম সম্পর্কে আপনার পরামর্শ এবং উন্নয়নমূলক চিন্তাকে স্বাগত জানাই।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম প্রেরণ করুন।
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাওদাহ
ভূমিকা
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যে, যিনি সৃষ্টিকুলের রব। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তার পরিবার ও সকল সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
প্রশংসা এবং সলাত ও সালাম পর:
প্রিয় শিক্ষার্থী! তোমার সামনে এ পাঠ্যক্রমের প্রথম বইটি তুলে দেয়া হলো। এ শিক্ষা বিষয়ক পাঠ্যক্রমের উদ্দেশ্য হলো একজন মুসলিমকে তার দীনের প্রয়োজনীয় বিষয়াদী শিক্ষা দেওয়া, ইসলামী সাংস্কৃতির ভিত্তি মজবুত করা এবং ইসলামী শিক্ষা কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব তৈরি করা।
শর‘য়ী শিক্ষার ক্ষেত্র অনুসারে বইটিকে বিভিন্ন শিক্ষা ইউনিটে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো:
- কুরআন ও তাফসীর ইউনিট: যাতে রয়েছে কুরআন কারীম শেখার ফযীলতের বর্ণনা, সূরা বাকারার শেষ কয়েকটি আয়াতসহ কতিপয় ছোট সূরার সংক্ষিপ্ত তাফসীর সেই সাথে আয়াতসমূহ থেকে নির্গত গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব ও শিক্ষাসমূহ।
- ঈমান ও তাযকিয়া-আত্মশুদ্ধি ইউনিটঃ যাতে রয়েছে তাওহীদ ভঙ্গের কারণ: (কুফর, শিরক, মোনাফেকী এবং মুরতাদ হওয়া) সাথে রয়েছে সেগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ধরনসমূহ ও সেগুলো থেকে সতর্কতা। অনুরূপভাবে এখানে রয়েছে তাযকিয়া-আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব, তাযকিয়া-আত্মশুদ্ধি বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ অন্তরের আমলসমূহ।
- নবীর সুন্নাহ ও সীরাত ইউনিট: এর দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের হকসমূহের বর্ণনা করা হবে। সেই সাথে তাঁদের হকের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও অবহেলা থেকে বিরত থাকতে সতর্ক করা হবে। এরপরে পাঁচটি এমন সামগ্রিক বিধিসম্বলিত হাদীস পড়া হবে, যা নিয়তের গুরুত্ব ও এতে ইখলাসের আবশ্যকতা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রকৃত আনুগত্য, আল্লাহ তা‘আলার হকসমূহ সংরক্ষণ, তাঁর ফয়সালা ও তাকদীর বিষয়ে ঈমান, নেক কাজে অটল থাকা, অনার্থক বিষয়াদি এবং যাতে দুনিয়া ও আখিরাতের কোন উপকার নেই, তা বর্জন করার প্রতি উৎসাহ থাকবে।
- হুকুম-আহকাম সংক্রান্ত ফিকহ ইউনিট: সংক্ষিপ্তসারে যাতে রয়েছে পারষ্পারিক লেন-দেন,পরিবার ও বিশেষভাবে পানাহার সংক্রান্ত হুকুম-আহকাম।
হুকুম-আহকাম বলতে বুঝায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়, ইজারাহ, বিবাহ ও তালাকের বিধান এবং হারাম পানাহারের বিধিবিধান।
- দাও‘আহ ইউনিট: এখানে রয়েছে আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহবান করার প্রতি উৎসাহ প্রদান। আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহবান করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন যাত্রার সংক্ষিপ্ত বিবরণ, সৎকাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধের অবস্থান বর্ণনা এবং এর আদবসমূহ; যাতে করে শিক্ষার্থী তার পরিবারে এবং সমাজে জ্ঞানের ভিত্তিতে আবশ্যকীয় তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দাও‘আতের অনুশীলন করতে পারে।
বইটি বৈজ্ঞানিক মূলনীতি ও আধুনিক শিক্ষাগত মানদণ্ড (Modern Educational Standards) অনুসারে প্রকাশ করতে আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করেছি।
আমরা এটি প্রণয়ন করতে নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ লক্ষ্য রেখেছি:
একটি ভূমিকা দিয়ে পাঠগুলো শুরু করা -বিষয়ের প্রয়োজন অনুসারে- যা পাঠটিকে শিক্ষার্থীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে।
ছবি ও মানচিত্রের ব্যবহার, যা বৈজ্ঞানিক বিষয়সমূহকে বুঝতে সাহায্য করে।
সক্রিয় শিক্ষা কৌশল (Active learning strategies) অনুযায়ী পাঠদানের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতে আমরা নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ লক্ষ্য রেখেছি:
পাঠের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বিষয়বস্তুর সাথে শিক্ষামূলক কার্যক্রম (Learning activities) অন্তর্ভুক্তকরণ এবং বিষয়বস্তুর প্রকৃতির সাথে তার কার্যক্রমের সংযোগ স্থাপন।
ব্যক্তিগত দিকসমূহ এবং বিভিন্ন দক্ষতার উন্নতি করণ।
ব্যক্তি ও গ্রুপ ভিত্তিক প্রয়োগ পদ্ধতিতে যেমন ভিন্নতা আনা, তেমন শ্রেণিকক্ষের ভিতরে ও বাইরে তা প্রয়োগ করার স্থান ভিত্তিক তারতম্য আনা হয়েছে।
কার্যক্রমগুলোকে বিভিন্ন ধরনে বিভক্ত করা। যেমন, লিখিত, মৌখিক, অঙ্গভঙ্গি এবং বদ্ধিমত্তা ইত্যাদি।
পাঠটি বোঝা এবং এর উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়ন হওয়ার পরিমাণ পরীক্ষা করতে প্রতিটি পাঠের শেষে মূল্যায়ন প্রশ্ন রাখা হয়েছে।
আমরা এ বইটি শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থাপন করে আশা করছি, এটি একাডেমিক বিষয়সমূহ সহজ করবে এবং পদ্ধতিগুলো স্পষ্ট করবে।
উপস্থাপন, বিভিন্ন কার্যক্রম এবং মূল্যায়নের ব্যাপকতার বাস্তবায়ন ঘটাবে।
আমরা মহান আল্লাহর কাছে দু‘আ করছি, তিনি যেন এ বইটি দ্বারা শিক্ষার্থীদের উপকৃত করেন এবং আমাদের এ কাজকে কবুল করেন। তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
”বাসায়ের” শিক্ষা ও একাডেমিক কনসালটেন্সি
কুরআন ও তাফসীরের অধ্যায়
প্রথম পাঠ: কুরআন শিখা ও শিখানোর ফযীলত
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
কুরআন কারীম শিক্ষা করার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করবে।
কুরআন কারীম শিখা ও শিখানোর ফযীলতের দলীল দিবে।
কুরআন কারীম শিখা ও শিখানোর ফযীলত সম্পর্কে একটি হাদীস শরীফ মুখস্থ করবে।
কুরআন কারীম শিখা ও শিখানোর ক্ষেত্রে তুমি অগ্রসর হবে।
ভূমিকা:
কুরআন কারীম তিলাওয়াত একটি ইবাদাত এবং আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভের উপায়।এর রয়েছে মহা সাওয়াব। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا، لَا أَقُولُ "الم" حَرْفٌ، وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ، وَلَامٌ حَرْفٌ، وَمِيمٌ حَرْفٌ তথা: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করবে তার জন্য এর একটি সাওয়াব আছে। আর সাওয়াবটি তার দশ গুণ বৃদ্ধি পায়। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ; বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ।” এটি তিরমিযী (২৯১০) বর্ণনা করেছেন।
এটি যদি কুরআন কারীম পড়ার সওয়াব হয়, তবে এটি শেখা এবং শেখানোর সওয়াব কতইনা মহান এবং আমরা এই পাঠে এটিই শিখব।
কুরআন কারীম পড়া শেখার গুরুত্ব:
সূরা আল-ফাতিহা শেখা প্রতিটি মুসলিমের ওপর ফরয; কারণ এটি ছাড়া সালাত শুদ্ধ হবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الكِتَابِ তথা: “যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব পড়ল না তার কোন সালাত নেই।” এটি সহীহ বুখারী (৭৫৬) ও মুসলিম (৩৯৪) বর্ণনা করেছেন।
মুসলিমের উচিত কুরআন কারীম পড়া শিখতে এবং তার অর্থসমূহ বুঝার চেষ্টা করতে আগ্রহী হওয়া। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: كِتَٰبٌ أَنزَلۡنَٰهُ إِلَيۡكَ مُبَٰرَكٞ لِّيَدَّبَّرُوٓاْ ءَايَٰتِهِۦ وَلِيَتَذَكَّرَ أُوْلُواْ ٱلۡأَلۡبَٰبِ তথা: “এক মুবারক কিতাব, এটা আমি আপনার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিরা গ্ৰহণ করে উপদেশ।” (সূরা সাদ, আয়াত: ২৯)।
কেননা কুরআনের বিধানগুলোকে প্রয়োগ করা এবং এর উপরে আমল করা সম্ভব নয়, যদি না তিলাওয়াত শিখা, অর্থ বোঝা এবং গভীর গবেষণা না করা হয়।
কুরআন কারীম শিখার ফযীলত:
আখিরাতে কুরআন কারীম শিখার মহা সওয়াব রয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: الْـمَاهِرُ بِالْقُرْآنِ مَعَ السَّفَرَةِ الْكِرَامِ الْبَرَرَةِ، وَالَّذِي يَقْرَأُ الْقُرْآنَ وَيَتَتَعْتَعُ فِيهِ وَهُوَ عَلَيْهِ شَاقٌّ لَهُ أَجْرَانِ তথা: “কুরআনে পারদর্শী ব্যক্তি সম্মানিত আনুগত্যশীল নৈকট্যলাভকারী ফেরেশতাদের সাথে থাকবেন, আর যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং সেখানে বেধে বেধে যায় এবং এ কারণে তার উপরে কুরআন কঠিন হয়ে যায়, তার জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে।” এটি সহীহ মুসলিম (৭৯৮) বর্ণনা করেছেন।
”সাফারাহ” হচ্ছেন ফেরেশতাগণ, আর দুটি পুরস্কার দ্বারা যা বোঝানো হয়েছে তা হল: তেলাওয়াতের সওয়াব এবং কষ্টের প্রতিদান।
যারা কুরআন কারীম শিখা বা পারষ্পারিক চর্চার জন্য একত্রিত হয়, তাদের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহা ফযীলতের ওয়াদা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَا اجْتَمَعَ قَوْمٌ فِي بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللهِ، يَتْلُونَ كِتَابَ اللهِ، وَيَتَدَارَسُونَهُ بَيْنَهُمْ، إِلَّا حَفَّتْهُمُ الْمَلَائِكَةُ، وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ، وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ، وَذَكَرَهُمُ اللهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ» “যখনই কোনো সম্প্রদায় আল্লাহর কোনো গৃহে একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে এবং পরস্পরে (কুরআন-হাদীস) অধ্যয়ন করতে থাকে, তখন তাদের উপর শান্তিধারা নাযিল হয়। আর আল্লাহর রহমত তাদেরকে ঢেকে ফেলে এবং ফিরিশতাগণ তাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলে। আর আল্লাহ তাঁর নিকটবর্তীদের কাছে তাদের কথা আলোচনা করেন।” এটি সহীহ মুসলিম (২৬৯৯) বর্ণনা করেছেন।
কুরআন কারীম শেখানোর ফযীলত:
যারা অন্যদের কুরআন কারীম শেখায়, আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য উচ্চস্তরের মর্যদা রেখেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ القُرْآنَ وَعَلَّمَهُ তথা: “তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে নিজে কুরআন শিখে ও অপরকে শিক্ষা দেয়।” এটি সহীহ বুখারী (৫০২৭) বর্ণনা করেছেন।
এর মধ্যে রয়েছে: পবিত্র কুরআন শিক্ষাদানকারীর সওয়াব পরকালে দ্বিগুণ হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: مَنْ عَلَّمَ آيَةً مِنْ كِتَاب اللهِ كَانَ لَهُ ثَوَابُهَا مَا تُلِيَتْ তথা: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত শিক্ষা দেবে, তার জন্য ঐ আয়াত যতদিন পড়া হবে ততদিন পর্যন্ত সওয়াব বরাদ্দ থাকবে।” (কানযুল ‘উম্মাল: ২৮৮৮৫)।
আমার প্রিয় শিক্ষার্থী ভাই, আপনাকে অবশ্যই কুরআন কারীম তিলাওয়াত শিক্ষা করা এবং শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।কিয়ামতের দিন কুরআন-ধারকের মর্যাদা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। : يُقَالُ لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ: اقْرَأْ وَارْتَقِ وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَأُ بِهَا তথা: “কুরআনের ধারককে বলা হবে: তুমি পাঠ কর এবং উপরে উঠতে থাক। তারতীল সহকারে সুন্দর করে পাঠ করবে যেভাবে তুমি দুনিয়াতে তারতীল সহকারে সুন্দর করে পাঠ করতে। নিশ্চয় তোমার সর্বশেষ পাঠকৃত আয়াতের স্থানেই তোমার আবাসস্থল।” এটি আবূ দাঊদ (১৪৬৪) ও তিরমিযী (২৯১৪) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলনসমূহ
(১): আমি সহপাঠীদের সাথে সংলাপ করব:
বর্তমানে কুরআন কারীম শেখার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। তোমার সহপাঠীদের সাথে আলোচনা করে কুরআন কারীম শিখার ক্ষেত্রে বিদ্যমান উপায়/পদ্ধতিগুলো নির্ণয় কর।
অনুশীলন (২): আমি চিন্তা-ভাবনা করব এবং পরামর্শ দেব:
সমসাময়িক প্রযুক্তি অনেক দূর সম্প্রসারিত হয়েছে আর পদ্ধতিগুলো ও বৈচিত্র্যময় হয়েছে৷ কুরআন কারীম শেখার জন্য সর্বোত্তম ও উপযুক্ত প্রযুক্তিগুলো সনাক্ত কর, এবং এমন একটি প্রযুক্তিগত পদ্ধতির পরামর্শ দাও, যা এখনো ব্যবহৃত হয়নি বলে তুমি মনে কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
সূরা আল-ফাতিহা শিক্ষা করা প্রতিটি মুসলিমের উপরে আবশ্যক।
কুরআন কারীম পাঠের সওয়াব শুধুমাত্র তিলাওয়াতে পারদর্শীদের জন্য।
যারা কুরআন কারীমের পাঠ - পঠন ব্যস্ত থাকে, আল্লাহ তাদের ব্যাপারে চর্চা করেন।
কুরআন কারীমের মধ্যে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা কুরআনের উপর আমলে সাহায্য করে।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
যারা কুরআন কারীম শিখার জন্য একত্রিত হয়:
(আল্লাহ তা‘আলার রহমত তাদের আবৃত করে - তাদের সাথে ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন - উভয়টি)
জান্নাতে কুরআনের অধিকারীর যা অনুযায়ী মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে তা :
(সম্পদের আধিক্য - তিলাওয়াতের আধিক্য - বয়সের আধিক্য)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ عَلَّمَ آيَةً مِنْ كِتَاب اللهِ كَانَ لَهُ ثَوَابُهَا .............» তথা: “যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাব থেকে একটি আয়াত শিক্ষা দেবে, তার জন্য ................. ততদিন পর্যন্ত সওয়াব বরাদ্দ থাকবে।”
(ما تليت - طوال حياته – إذا حفظها) (যতদিন পড়া হবে - তার জীবন ব্যাপি - যতদিন সে সংরক্ষণ করবে)
প্রশ্ন ৩: কুরআন কারীম শিখা ও শিখানোর ফযীলত সম্পর্কে একটি হাদীস শরীফ লেখ।
দ্বিতীয় পাঠ: সূরা আল-বাকারার শেষ আয়াতগুলোর তাফসীর
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি দারসের আয়াতগুলি সংক্ষিপ্তাকারে তাফসীর করবে।
পাঠের আয়াতগুলো থেকে প্রাপ্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসমূহ বর্ণনা করবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুম-দের ফযীলত সম্পর্কে দলীল দিবে।
ইসলামী শরী‘আত সহজ হওয়ার নি‘আমতটি অনুধাবন করবে।
পাঠের আয়াতগুলো প্রতি রাতে তিলাওয়াত করার ক্ষেত্রে যত্নবান হবে।
ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ তথা: “রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহ্র উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলেঃ আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।” لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ وَٱعۡفُ عَنَّا وَٱغۡفِرۡ لَنَا وَٱرۡحَمۡنَآۚ أَنتَ مَوۡلَىٰنَا فَٱنصُرۡنَا عَلَى ٱلۡقَوۡمِ ٱلۡكَٰفِرِينَ তথা: “আল্লাহ্ কারও উপর এমন কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়। ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না। হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না যার সামর্থ আমাদের নেই। আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন, আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আমাদের প্রতি দয়া করুন, আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৮৫-২৮৬)।
বর্ণনা ও তাফসীর:
এ আয়াতদ্বয় দুটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথমত: ঈমানের রুকনসমূহের উপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুম- এর সত্যায়নের সাক্ষ্য।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করার পদ্ধতির বর্ণনা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ): “রাসূল তার প্রভুর পক্ষ থেকে যা তার কাছে নাযিল করা হয়েছে তার উপর ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও।”, অর্থ্যাৎ: রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ থেকে তার উপরে নাযিল হওয়া অহীর উপর এবং অহীর অন্তর্ভুক্ত বিধানসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, এছাড়াও সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুম ও সেগুলোর উপর বিশ্বাস করেছিলেন।
(كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ): “প্রত্যেকেই ঈমান এনেছে আল্লাহ্র উপর, তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসূলগণের উপর। আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না।” তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতের একত্বে , ফেরেশতা, কিতাবসমূহ নাযিল হওয়া এবং রসূলগণের প্রেরণের উপর ঈমান এনেছিলেন, তারা আল্লাহর রসূলদের মধ্যে পার্থক্য করতেন না। এটা মুসলিমদের একটি বিশেষ বৈশিষ্ঠ্য, তারা ইহুদী-নাসারাদের মত করেনি, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কুফুরী করেছে।
(وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ): “আর তারা বলে: আমরা শুনেছি ও মেনে নিয়েছি। হে আমাদের রব! আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।” আর তারা আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং তারা আল্লাহ তা‘আলার কাছে গোনাহের জন্য ক্ষমা চাইতেন; কেননা আখিরাতে সমস্ত সৃষ্টিজগতের প্রত্যাবর্তনস্থল আল্লাহর দিকেই হবে।
(لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ): “আল্লাহ্ কারও উপর এমন কোন দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না যা তার সাধ্যাতীত। সে ভাল যা উপার্জন করে তার প্রতিফল তারই, আর মন্দ যা কামাই করে তার প্রতিফল তার উপরই বর্তায়।“ তারপরে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সুসংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনি কারো উপরে তার আমলের সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পণ করেন না, আর তার জন্য সে ভালো অথবা মন্দ যেটাই করুক তার প্রতিদান রয়েছে।
তারপরে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে শিখাচ্ছেন যে, কিভাবে তাঁর কাছে আমরা দু‘আ করব, তিনি আটটি দু‘আ উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হচ্ছে:
(رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ): ‘হে আমাদের রব! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের ভুলে যাওয়া এবং ভুল করে করা কাজের বিষয়ে শাস্তি দিবেন না।
(رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ): “হে আমাদের রব! আমাদের পূর্ববর্তীগণের উপর যেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের উপর তেমন বোঝা চাপিয়ে দিবেন না।” হে আমাদের রব, আপনি আমাদের উপর এমন বিষয়গুলোকে চাপিয়ে দিয়েন না, যার ওপর আমল করা আমাদের কঠিন হয়। যেমনটি পূর্ববর্তী কতিপয় জাতীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল; তাদের হটকারিতা ও ঔদ্ধত্যের কারণে।
(رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ): “হে আমাদের রব! আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ আমাদের নেই।” হে আমাদের রব! আমাদের যা করার শক্তি নেই, সে রকম কিছুর জন্য আমাদেরকে ফিতনা অথবা শাস্তির সম্মুখীন করাবেন না।
(وَاعْفُ عنَّا): “আর আপনি আমাদের পাপ মোচন করুন,” হে আমাদের রব! আমরা যে সব ঘাটতিতে নিপতিত হয়েছি, সেগুলোকে আপনি ক্ষমা করে দিন।
(وَاغْفِرْلَنَا): “আমাদেরকে ক্ষমা করুন,” হে আমাদের রব! আমরা যে সব গুনাহ করেছি, সেগুলো মিটিয়ে দিন।
(وَارْحَمْنَا ): “আমাদের প্রতি দয়া করুন,” হে আমাদের রব! আপনার রহমতের মাধ্যমে আমাদেরকে অনুগ্রহ করেন; যাতে অন্য কোন গুনাহে লিপ্ত না হয়ে পড়ি।
(أَنتَ مَوْلىنَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَفِرِيْنَ): “আপনি আমাদের অভিভাবক সাহায্যকারী। অতএব কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন।” হে আমাদের রব! আপনি আমাদের সকল বিষয়ের অভিভাবক, আমাদের সাহায্যকারী, সুতরাং আমাদেরকে কাফেরদের বিরুদ্ধে বিজয় দান করুন।
সুমহান আয়াত দুটি হতে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবা রদিয়াল্লাহু আনহুম-এর মহান মর্যাদা ও অবস্থান।
সকল নবী ও রসূলদের উপরে ঈমান আনা ওয়াজিব।
আল্লাহ তা‘আলা এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা ও তাদের আদেশ শ্রবণ করা-মানা ওয়াজিব।
ইসলামী শরী‘আতে সহজতা রয়েছে।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি ভেবে-চিন্তে বাছাই করব:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الْآيَتَانِ مِنْ آخِرِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ مَنْ قَرَأَهُمَا فِي لَيْلَةٍ كَفَتَاهُ» তথা: “সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত, যে ব্যক্তি রাতে এ দুটি আয়াতকে তিলাওয়াত করবে,তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।” এটি বুখারী (৩৭০৭) ও মুসলিম (১৯১৪) বর্ণনা করেছেন।
«كَفَتَاه» তথা: “তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে।” নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ বক্তব্যের অর্থ কী?
কিয়ামুল লাইলের পরিবর্তে যথেষ্ট হয়ে যাবে।
দুটি আয়াতের উপরে আমল যথেষ্ট হয়ে যাবে।
প্রতিটি মন্দ ও অকল্যাণ থেকে যথেষ্ট হবে।
পূর্বের সবগুলি।
পূর্বের সবগুলি।
অনুশীলন (২): আমি সাহায্য করব এবং জবাব দেব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِنَّ اللهَ قَدْ تَجَاوَزَ عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ، وَالنِّسْيَانَ، وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ» তথা: “নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মাতের ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক যা করানো হয় তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।” ইবন মাজাহ (২০৪৩) এটি বর্ণনা করেছেন।
নিচের দুটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে তোমার সহপাঠীকে সহযোগিতা কর:
পাঠের আয়াতগুলো সাথে আলোচ্য হাদীসটির সম্পর্ক কী?
কোন বিষয়টি হাদীসটির মধ্যে এসেছে, তবে পাঠ্য আয়াতটির মধ্যে নেই?
অনুশীলন (৩): আমি আলোচনা করব:
আমরা এ পাঠ থেকে শিখলাম যে, ইসলামী শরী‘আত সহজতার গুণে গুণান্বিত এবং মুসলিমদের থেকে কষ্টদায়ক বিষয়গুলো লাঘব করা হয়েছে।
তোমার শিক্ষকের সাথে সালাত, যাকাত এবং সিয়ামের উদাহরণ পেশ করার মাধ্যমে উক্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
পাঠ্য আয়াতলোর মধ্যে মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্যের আলোচনা এসেছে। (×)
মুসলিম ব্যক্তি সকল নবী ও রসূলদের উপরে ঈমান আনে। (✓)
শরী‘আতের বিধানসমূহ প্রয়োগ করা কঠিন। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
আলোচ্য আয়াত থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, মুসলিম ব্যক্তিকে যে জন্য পাকড়াও করা হবে না তা হলো:
(ইচ্ছাকৃত করা কাজ - স্মরণে থাকা কাজ - ভুলে করা কাজ)
পূর্বে গত হওয়া জাতীর উপরে বিধানের কাঠিন্যতা ছিল যে কারণে তা হলো:
(তাদের অতিরিক্ত জুলুম- তাদের দৈহিক শক্তি - তাদের ঈমান)
সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা মুসলিমের জন্য যে সালাতের জন্য যথেষ্ট হবে তা হলো:
(ইশা - বিতর - কিয়ামুল লাইল)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত শব্দাবলীর অর্থ ব্যাখ্যা কর:
(ما كسبتْ – ما اكْتَسَبَتْ - إصْراً) (যা কামাই করেছে- যা অর্জন করেছে- বোঝা)
প্রশ্ন ৪: পাঠ্য আয়াতগুলোর শিক্ষণীয় বিষয় থেকে দুটি শিক্ষা উল্লেখ কর।
তৃতীয় পাঠ: সূরা আদ-দুহা, সূরা আলাম নাশরাহ এবং সূরা আত-তীনের তাফসীর (দুই পিরিয়ড)
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি পাঠ্য সূরাগুলোর সংক্ষিপ্ত তাফসীর করবে।
পাঠ্য সূরাগুলোর শিক্ষাসমূহ বর্ণনা করবে।
আল্লাহ তা‘আলার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান বের করতে পারবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদার মহত্ত্ব বুঝবে।
ইয়াতিম ও মিসকীনদের উদ্দেশ্যে সদকা করবে।
পবিত্র মক্কা নগরীর মর্যাদা বুঝবে।
সূরা আদ-দুহা
وَٱلضُّحَىٰ ١: শপথ পূর্বাহ্নের (১), وَٱلَّيۡلِ إِذَا سَجَىٰ ٢: শপথ রাতের যখন তা হয় নিঝুম (২), مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَىٰ ٣: আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং ঘৃণাও করেননি (৩)। وَلَلۡأٓخِرَةُ خَيۡرٞ لَّكَ مِنَ ٱلۡأُولَىٰ ٤: আর অবশ্যই আপনার জন্য আখেরাত দুনিয়া চেয়ে শ্রেয় (৪)। وَلَسَوۡفَ يُعۡطِيكَ رَبُّكَ فَتَرۡضَىٰٓ ٥: আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে এমন অনুগ্রহ দান করবেন, ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন (৫)। أَلَمۡ يَجِدۡكَ يَتِيمٗا فََٔاوَىٰ ٦: তিনি কি আপনাকে ইয়াতীম অবস্থায় পান নি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন (৬); وَوَجَدَكَ ضَآلّٗا فَهَدَىٰ ٧: আর তিনি আপনাকে পেলেন ঈমান ও কিতাব সম্পর্কে অনবহিত, অতঃপর আপনি যা জানতেন না তা তিনিই শিখিয়েছেন (৭)। وَوَجَدَكَ عَآئِلٗا فَأَغۡنَىٰ ٨: আর তিনি আপনাকে পেলেন নিঃস্ব অবস্থায়, অতঃপর অভাব মুক্ত করলেন তিনিই (৮)। فَأَمَّا ٱلۡيَتِيمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ٩: কাজেই আপনি ইয়াতীমের প্রতি কঠোর হবেন না (৯)। وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ١٠: আর ভিক্ষুককে ধমক দিবে না (১০)। وَأَمَّا بِنِعۡمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثۡ ١١: আর আপনি আপনার রবের অনুগ্রহের কথা ব্যক্ত করতে থাকুন (১১)।
বর্ণনা ও তাফসীর:
আলোচ্য মহান সূরাটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার তত্ত্বাবধান ও তার মর্যাদার মাহাত্ম্য নির্দেশ করে৷ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
وَٱلضُّحَىٰ ١: শপথ পূর্বাহ্নের (১), وَٱلَّيۡلِ إِذَا سَجَىٰ ٢: শপথ রাতের যখন তা হয় নিঝুম (২), আল্লাহ তা‘আলা পূর্বাহ্নের শপথ করেছেন, এটি হচ্ছে দিনের প্রথম ভাগ, এবং শপথ করেছেন রাতের, যখন অন্ধকার গভীর হয়।
مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَمَا قَلَىٰ ٣: আপনার রব আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং ঘৃণাও করেননি (৩)। وَلَلۡأٓخِرَةُ خَيۡرٞ لَّكَ مِنَ ٱلۡأُولَىٰ ٤: আর অবশ্যই আপনার জন্য আখেরাত দুনিয়া চেয়ে শ্রেয় (৪)। وَلَسَوۡفَ يُعۡطِيكَ رَبُّكَ فَتَرۡضَىٰٓ ٥: আর অচিরেই আপনার রব আপনাকে এমন অনুগ্রহ দান করবেন, ফলে আপনি সন্তুষ্ট হবেন (৫)। আল্লাহ তা‘আলা কসম করেছেন যে, তিনি নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পরিত্যাগ করেননি, আবার তাকে ঘৃণাও করেননি, যেমনটি কুরাইশ কাফিররা দাবী করেছিল। তবে আখিরাতই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য দুনিয়া থেকে উত্তম। আর আল্লাহ তা‘আলা অচিরেই তাকে যা সন্তুষ্ট করবে, তা প্রদান করবেন।
أَلَمۡ يَجِدۡكَ يَتِيمٗا فََٔاوَىٰ ٦: তিনি কি আপনাকে ইয়াতীম অবস্থায় পান নি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন (৬); وَوَجَدَكَ ضَآلّٗا فَهَدَىٰ ٧: আর তিনি আপনাকে পেলেন ঈমান ও কিতাব সম্পর্কে অনবহিত, অতঃপর আপনি যা জানতেন না, তা তিনিই শিখিয়েছেন (৭)। وَوَجَدَكَ عَآئِلٗا فَأَغۡنَىٰ ٨: আর তিনি আপনাকে পেলেন নিঃস্ব অবস্থায়, অতঃপর অভাব মুক্ত করলেন (৮)। আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইয়াতিম অবস্থায় পেয়ে তাকে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছেন এবং তাকে তত্ত্বাবধানে রেখেছেন। তাকে রিসালাতের আলোয় হিদায়াত দিয়েছেন, তিনি তাকে ফকীর অবস্থায় পেয়েছেন, এরপরে তার রিযিক দিয়েছেন, এবং মানুষের কাছ থেকে তাকে অভাবমুক্ত রেখেছেন।
فَأَمَّا ٱلۡيَتِيمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ٩: কাজেই আপনি ইয়াতীমের প্রতি কঠোর হবেন না (৯)। وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ١٠: আর ভিক্ষুককে ধমক দিবেন না (১০)। وَأَمَّا بِنِعۡمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثۡ ١١: আর আপনি আপনার রবের অনুগ্রহের কথা ব্যক্ত করতে থাকুন (১১)। তুমি ইয়াতিমের উপরে জুলুম করবে না, কোন যাচনাকারীকে ধমক দেবে না এবং তোমার মহা সম্মানিত রব তোমার উপরে যে নি‘আমাত দিয়েছেন, তা ব্যক্ত করতে থাক।
সূরা আশ-শারহ (আলাম নাশরাহ)
রহমান, রহীম আল্লাহ্র নামে শুরু করছি
أَلَمۡ نَشۡرَحۡ لَكَ صَدۡرَكَ ١: আমি কি আপনার বক্ষ আপনার কল্যাণে প্রশস্ত করে দেইনি (১)? وَوَضَعۡنَا عَنكَ وِزۡرَكَ ٢: আর আমি অপসারণ করেছি আপনার(গুনাহর) ভার (২), ٱلَّذِيٓ أَنقَضَ ظَهۡرَكَ ٣: যা আপনার পিঠ ভেঙ্গে দিচ্ছিল (৩)। وَرَفَعۡنَا لَكَ ذِكۡرَكَ ٤: আর আমি আপনার (মর্যাদা বৃদ্ধির) জন্য আপনার চর্চা কে সমুন্নত করেছি (৪)। فَإِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرًا ٥: সুতরাং কষ্টের সাথেই তো স্বস্তি আছে (৫), إِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرٗا ٦: নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে (৬)। فَإِذَا فَرَغۡتَ فَٱنصَبۡ ٧: অতএব আপনি যখনই অবসর হন তখনই কঠোর ইবাদাতে রত হোন (৭)। وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَٱرۡغَب ٨: আর আপনার রবের প্রতিই গভীর মনোযোগী হোন (৮)।
বর্ণনা ও তাফসীর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক প্রদত্ত সম্মানের যে বিষয়গুলি সূরা আদ-দুহাতে বর্ণিত হয়েছে, এ সূরাটি তার পূর্ণাঙ্গতা দিয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
أَلَمۡ نَشۡرَحۡ لَكَ صَدۡرَكَ ١: আমি কি আপনার বক্ষ আপনার কল্যাণে প্রশস্ত করে দেইনি (১)? হে নবী! আমরা কি আপনার বক্ষকে দীনের শরী‘আত এবং আল্লাহ তা‘আলার দিকে আহবানের জন্য প্রশস্ত করে দেইনি?
وَوَضَعۡنَا عَنكَ وِزۡرَكَ ٢: আর আমি অপসারণ করেছি আপনার (গুনাহর) ভার (২), ٱلَّذِيٓ أَنقَضَ ظَهۡرَكَ ٣: যা আপনার পিঠ ভেঙ্গে দিচ্ছিল (৩)। যা আপনার পিঠকে ভারী করে রেখেছিল, তা হালকা করে দিয়েছি।
وَرَفَعۡنَا لَكَ ذِكۡرَكَ ٤: আর আমি আপনার (মর্যাদা বৃদ্ধির) জন্য আপনার চর্চা কে সমুন্নত করেছি (৪)। সমগ্র বিশ্বে আপনার চর্চাকে উঁচু করে দিয়েছি, সুতরাং আপনার নাম আযান, ইকামাতসহ আরো অন্যান্য ইবাদাতের মধ্যে উল্লেখ করা হবে।
فَإِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرًا ٥: সুতরাং কষ্টের সাথেই তো স্বস্তি আছে (৫), إِنَّ مَعَ ٱلۡعُسۡرِ يُسۡرٗا ٦: নিশ্চয় কষ্টের সাথেই স্বস্তি আছে (৬)। নিশ্চিতভাবে আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে কঠোরতা ও সংকীর্ণতার পরে সহজতা ও প্রশস্ততা আসে।
فَإِذَا فَرَغۡتَ فَٱنصَبۡ ٧: অতএব আপনি যখনই অবসর হন তখনই কঠোর ইবাদাতে রত হোন (৭)। وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَٱرۡغَب ٨: আর আপনার রবের প্রতিই গভীর মনোযোগী হোন (৮)। আর যখন আপনি কোন একটি ভালো কাজ থেকে ফারেগ হন, তখন অন্য আরেকটির দিকে মনোযোগী হন, এবং আল্লাহ তা‘আলার কাছে যা রয়েছে, সেগুলো প্রাপ্তির জন্য তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আগ্রহী হন।
সূরা আত-তীন
রহমান, রহীম আল্লাহ্র নামে শুরু করছি
وَٱلتِّينِ وَٱلزَّيۡتُونِ ١: শপথ ‘তীন’ ও ‘যায়তুন' এর (১) , وَطُورِ سِينِينَ ٢: শপথ ‘তুরে সীনীন’ এর (২) , وَهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ٱلۡأَمِينِ ٣: শপথ এই নিরাপদ (মক্কা) নগরীর- (৩), لَقَدۡ خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ فِيٓ أَحۡسَنِ تَقۡوِيمٖ ٤: অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে (৪), ثُمَّ رَدَدۡنَٰهُ أَسۡفَلَ سَٰفِلِينَ ٥: তারপর আমি তাকে হীনদের মধ্যে হীনতমে পরিণত করি (৫), إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَلَهُمۡ أَجۡرٌ غَيۡرُ مَمۡنُونٖ ٦: কিন্তু তাদেরকে নয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; এদের জন্য তো আছে অবিচ্ছিন্ন পুরস্কার (৬)। فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعۡدُ بِٱلدِّينِ ٧: কাজেই (হে মানুষ!) এরপর কিসে তোমাকে কৰ্মফল দিন সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে (৭)? أَلَيۡسَ ٱللَّهُ بِأَحۡكَمِ ٱلۡحَٰكِمِينَ ٨: আল্লাহ্ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন (৮)?
বর্ণনা ও তাফসীর:
এ সূরাটি আমাদেরকে শিক্ষা দেয় যে, মানুষের মূল্য তার ঈমান এবং ভালো আমলের সাথে সম্পৃক্ততা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
وَٱلتِّينِ وَٱلزَّيۡتُونِ ١: শপথ ‘তীন’ ও ‘যায়তুন' এর (১) , وَطُورِ سِينِينَ ٢: শপথ ‘তুরে সীনীন’ এর (২) , وَهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ٱلۡأَمِينِ ٣: শপথ এই নিরাপদ(মক্কা) নগরীর- (৩), আল্লাহ তা‘আলা তীন এবং যায়তুন গাছের শপথ করছেন এবং যার উপরে মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর সাথে কথা বলেছিলেন, সেই তূর পাহাড়ের শপথ করেছেন। তারপরে তিনি মক্কা মুকাররমার শপথ করেছেন।
لَقَدۡ خَلَقۡنَا ٱلۡإِنسَٰنَ فِيٓ أَحۡسَنِ تَقۡوِيمٖ ٤: অবশ্যই আমি সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে (৪), ثُمَّ رَدَدۡنَٰهُ أَسۡفَلَ سَٰفِلِينَ ٥: তারপর আমি তাকে হীনদের মধ্যে হীনতমে পরিণত করি (৫), আল্লাহ তা‘আলা শপথ করেছেন যে, তিনি মানুষকে সর্বোত্তম সূরতে সৃষ্টি করেছেন, এরপরে তিনি তাকে মারাত্মক পরিণতি জাহান্নামের দিকে ফিরিয়ে দিবেন; এটা হবে মানুষ যে শিরক এবং পাপ কাজ করেছে, তার কারণে।
إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَلَهُمۡ أَجۡرٌ غَيۡرُ مَمۡنُونٖ ٦: কিন্তু তাদেরকে নয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; এদের জন্য তো আছে অবিচ্ছিন্ন পুরস্কার (৬)। তবে যারা আল্লাহ তা‘আলার উপরে ঈমান এনেছে, ভালো আমল করেছে, তাদের জন্য থাকবে জান্নাতে অবিচ্ছিন্ন ও বাধাহীন পুরস্কার।
فَمَا يُكَذِّبُكَ بَعۡدُ بِٱلدِّينِ ٧: কাজেই (হে মানুষ!) এরপর কিসে তোমাকে কৰ্মফল দিন সম্পর্কে অবিশ্বাসী করে (৭)? أَلَيۡسَ ٱللَّهُ بِأَحۡكَمِ ٱلۡحَٰكِمِينَ ٨: আল্লাহ্ কি বিচারকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বিচারক নন (৮)? সুতরাং হে মানুষ, কোন বস্তু তোমাকে পুনরুত্থান, প্রতিদান বিষয়ে মিথ্যাচার করতে উদ্বুদ্ধ করল? অথচ তুমি আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রিসালাত প্রমাণকারী দলীল সম্পর্কে জানতে। আল্লাহ তা‘আলা কি সর্বশ্রেষ্ট বিচারক নন?
মহান সূরাসমূহ হতে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়:
আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং তাকে স্বীয় তত্ত্বাবধানে রাখা।
ইয়াতীম, দূর্বল এবং দরিদ্রদের প্রতি ইহসান করা ওয়াজিব।
আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমাত প্রকাশ করা শোকরগুজার বান্দাদের গুণ।
আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পৃথিবীতে তার চর্চা বুলন্দ (উঁচু) করা।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সৃষ্টির ব্যাপারে অত্যন্ত দায়ালু, তিনিই কঠিন অবস্থার পরে আনন্দের মুহুর্ত নির্ধারণ করে দেন।
আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সর্বোত্তম সূরতে সৃষ্টি করে সম্মানিত করেছেন।
ঈমান এবং সৎআমল দুনিয়া এবং আখিরাতে মানুষের মর্যাদাকে উঁচু করে।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি আয়াতসমূহের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করব:
সূরা আদ-দুহা, আশ-শারহ (আলাম নাশরাহ) অথবা আত-তীন থেকে ছকে উল্লেখিত আয়াতের অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়াত উল্লেখ কর:
আয়াতসমূহ সূরা আদ-দুহা, আশ-শারহ অথবা আত-তীন থেকে যে আয়াতগুলো সামঞ্জস্যতা রাখে
إِذۡ يَقُولُ لِصَٰحِبِهِۦ لَا تَحۡزَنۡ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَنَاۖ তথা: “যখন তিনি তার সাথীকে বলেছিলেন, আপনি চিন্তা করবেন না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” (আত-তাওবাহ: ৪০)।
ٱلَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّىٰكَ فَعَدَلَكَ তথা: “যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসামঞ্জস্য করেছেন।” (সূরা আল-ইনফিত্বার: ০৭)।
قَوۡلٞ مَّعۡرُوفٞ وَمَغۡفِرَةٌ خَيۡرٞ مِّن صَدَقَةٖ يَتۡبَعُهَآ أَذٗىۗ وَٱللَّهُ غَنِيٌّ حَلِيمٞ তথা: “উত্তম কথা ও ক্ষমা প্রদর্শন সে দানের চেয়ে অনেক ভালো, যে দানের পর কষ্ট দেয়া হয়। আর আল্লাহ অভাবমুক্ত, সহনশীল।” (আল-বাকারা: ২৬৩)। فَأَمَّا ٱلۡيَتِيمَ فَلَا تَقۡهَرۡ ٩: কাজেই আপনি ইয়াতীমের প্রতি কঠোর হবেন না (৯)। وَأَمَّا ٱلسَّآئِلَ فَلَا تَنۡهَرۡ ١٠: আর ভিক্ষুক কে ধমক দিবেন না (১০)। وَأَمَّا بِنِعۡمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثۡ ١١: আর আপনি আপনার রবের নেয়ামত প্রকাশ করুন (১১)।
وَٱعۡبُدۡ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأۡتِيَكَ ٱلۡيَقِينُ তথা: “আর আপনার মৃত্যু আসা পর্যন্ত আপনি আপনার রবের ইবাদাত করুন।” (আল-হিজর: ৯৯)।
فَإِذَا فَرَغۡتَ فَٱنصَبۡ ٧: অতএব আপনি যখনই অবসর হন তখনই কঠোর ইবাদাতে রত হোন (৭)। وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَٱرۡغَب ٨: আর আপনার রবের প্রতিই গভীর মনোযোগী হোন (৮)।
لَآ أُقۡسِمُ بِهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ তথা: “আমি শপথ করছি এ নগরের,” (আল-বালাদ: ০১)। وَهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ ٱلۡأَمِينِ ٣: শপথ এই নিরাপদ নগরীর- (৩),
অনুশীলন (২): আমি অংশগ্রহণ করব এবং খুঁজে বের করব:
তোমার শিক্ষকের সহযোগিতা নিয়ে সূরা আত-তীন এবং আশ-শারহের মধ্যে বর্ণিত বিষয়বস্তুর আলোকে একজন মুসলিমের আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রাপ্তির পদ্ধতি/উপায়সমূহ খুঁজে বের কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
মিসকীনদের প্রতি ইহসান করা নি‘আমাতের শুকরিয়ার প্রমাণ।
তাকওয়া হচ্ছে বান্দার ভালো কাজে তাওফীক লাভের কারণ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মক্কাবাসীদের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।
প্রশ্ন ২: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখ:
আল্লাহ তাআলার বাণী: وَوَضَعۡنَا عَنكَ وِزۡرَكَ ٢: আর আমি অপসারণ করেছি আপনার ভার (২), তথা: আমি আপনার গোনাহসমূহ ক্ষমা করেছি।
সূরা আশ-শারহ-এ মানব সৃষ্টির স্তরসমূহের বর্ণনা করা হয়েছে।
নিরাপদ নগরী বলতে বাইতুল মাকদিসকে বোঝানো হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: নিচে যে যে বিষয় প্রমাণ করে, এমন আয়াত লেখ:
মুসলিমের জন্য কর্তব্য হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমাতের প্রকাশ করা।
মুমিন ব্যক্তি সব সময় উপকারী কাজে ব্যস্ত থাকে।
জান্নাতের নি‘আমাতসমূহ বিচ্ছিন্ন হবে না।
প্রশ্ন ৪: সূরা আদ-দুহা এবং সূরা আশ-শারহ এ যেভাবে বর্ণিত হয়েছে, সে আলোকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান ব্যাখ্যা কর।
চতুর্থ পাঠ: সূরা আল-‘আলাক এবং সূরা আল-কদরের তাফসীর
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি আল-‘আলাক এবং সূরা আল-কদর সূরাদ্বয়ের সংক্ষিপ্ত তাফসীর করবে।
ইলমের মূল্যের ব্যাপারে দলীল উল্লেখ করবে।
আয়াতসমূহের শিক্ষণীয় বিষয়গুলো বর্ণনা করবে।
লাইলাতুল কদরের মর্যাদা বুঝতে পারবে।
সূরা আল-‘আলাক।
ٱقۡرَأۡ بِٱسۡمِ رَبِّكَ ٱلَّذِي خَلَقَ ١: পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন (১), خَلَقَ ٱلۡإِنسَٰنَ مِنۡ عَلَقٍ ٢: সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিন্ড হতে (২)। ٱقۡرَأۡ وَرَبُّكَ ٱلۡأَكۡرَمُ 3: “পড়ুন, আর আপনার রব মহামহিমান্বিত। (৩)” ٱلَّذِي عَلَّمَ بِٱلۡقَلَمِ 4: “যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। (৪)” عَلَّمَ ٱلۡإِنسَـنَ مَا لَمۡ يَعۡلَمۡ 5: “শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। (৫)” كَلَّآ إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَيَطۡغَىٰٓ ٦: বাস্তবেই, মানুষ সীমালঙ্ঘনই করে থাকে (৬), أَن رَّءَاهُ ٱسۡتَغۡنَىٰٓ ٧: কারণ সে নিজকে অমুখাপেক্ষী মনে করে (৮)। إِنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلرُّجۡعَىٰٓ ٨: নিশ্চয় আপনার রবের কাছেই ফিরে যাওয়া (৮)। أَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي يَنۡهَىٰ ٩: তুমি কি তাকে দেখছো, যে বাধা দেয় (৯), عَبۡدًا إِذَا صَلَّىٰٓ ١٠: এক বান্দা, যখন তিনি সালাত আদায় করেন (১০)। أَرَءَيۡتَ إِن كَانَ عَلَى ٱلۡهُدَىٰٓ ١١: তুমি লক্ষ করেছো কি, যদি তিনি হিদায়াতের উপর থাকেন (১১), أَوۡ أَمَرَ بِٱلتَّقۡوَىٰٓ ١٢: অথবা তাক্ওয়ার নির্দেশ দেন (১২);* أَرَءَيۡتَ إِن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰٓ ١٣: আমাকে বল! যদি সে (নিষেধকারী) মিথ্যারোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয় (১৩), أَلَمۡ يَعۡلَم بِأَنَّ ٱللَّهَ يَرَىٰ ١٤: সে কি জানে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ্ দেখেন (১৪)। كَلَّا لَئِن لَّمۡ يَنتَهِ لَنَسۡفَعَۢا بِٱلنَّاصِيَةِ ١٥: কখনো নয় (যা সে মনে করে) , সে যদি বিরত না হয় তবে আমি তাকে অবশ্যই হেঁচড়ে নিয়ে যাব, মাথার সামনের চুলের গুচ্ছ ধরে (১৫)। نَاصِيَةٖ كَٰذِبَةٍ خَاطِئَةٖ ١٦: মিথ্যাচারী, পাপিষ্ঠ সম্মুখ-চুলের-গুচ্ছ ওয়ালা (১৬)। فَلۡيَدۡعُ نَادِيَهُۥ ١٧: অতএব সে তার পারিষদকে ডেকে আনুক (১৭) ! سَنَدۡعُ ٱلزَّبَانِيَةَ ١٨: শীঘ্রই আমি ডাক দিবো জাহান্নামের দারোয়ানদের কে (১৮)। كَلَّا لَا تُطِعۡهُ وَٱسۡجُدۡۤ وَٱقۡتَرِب۩ ١٩: কখনো নয়(যা সে মনে করে)! আপনি তার অনুসরণ করবেন না। আর আপনি সিজ্দা করুন এবং নিকটবর্তী হোন।”
বর্ণনা ও তাফসীর:
সূরাটি শুরু হয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে নাযিলের দিক থেকে কুরআনের প্রথম আয়াতগুলোর মাধ্যমে, আল্লাহ তা‘আলা বলছেন:
ٱقۡرَأۡ بِٱسۡمِ رَبِّكَ ٱلَّذِي خَلَقَ ١: পড়ুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন (১), হে রাসূল, আপনি পড়ুন, কুরআন কারীমের মধ্য হতে যা আপনার কাছে আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করেছেন, যা আপনি সূচনা করবেন আপনার রব মহান সৃষ্টিকর্তার নামে।
خَلَقَ ٱلۡإِنسَٰنَ مِنۡ عَلَقٍ ٢: সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিন্ড হতে (২)। যিনি মানুষকে ”আলাক” থেকে সৃষ্টি করেছেন, এটি হচ্ছে জমাটবদ্ধ রক্তের একটি পিন্ড, যা মায়ের জরায়ুর সাথে লেগে থাকে।
ٱقۡرَأۡ وَرَبُّكَ ٱلۡأَكۡرَمُ 3: “পড়ুন, আর আপনার রব মহামহিমান্বিত। (৩)” ٱلَّذِي عَلَّمَ بِٱلۡقَلَمِ 4: “যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। (৪)” عَلَّمَ ٱلۡإِنسَـنَ مَا لَمۡ يَعۡلَمۡ 5: “শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না। (৫)” আপনি পড়ুন অধিক অনুগ্রহশীল ও করুণার অধিকারী আপনার সেই রবের নামে, যিনি মানুষকে কলম দ্বারা লিখা শিখিয়েছেন, এবং তা দুনিয়া ও আখিরাতের বিষয়াগুলো থেকে এমন বিষয়সমূহ শিক্ষা দিয়েছেন, যা তারা জানত না।
كَلَّآ إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَيَطۡغَىٰٓ ٦: বাস্তবেই, মানুষ সীমালঙ্ঘনই করে থাকে (৬), أَن رَّءَاهُ ٱسۡتَغۡنَىٰٓ ٧: কারণ সে নিজকে অমুখাপেক্ষী মনে করে (৮)। সেই সাথে, মানুষ আল্লাহ তা‘আলার সীমা অতিক্রমকারী, যখন সে তার সম্পদ ও শক্তির দ্বারা নিজের অমুখাপেক্ষিতার কথা অনুভব করে।
إِنَّ إِلَىٰ رَبِّكَ ٱلرُّجۡعَىٰٓ ٨: নিশ্চয় আপনার রবের কাছেই ফিরে যাওয়া (৮)। নিশ্চয় মানুষের প্রত্যবর্তনস্থল আল্লাহ তা‘আলার কাছেই, আর তিনিই প্রতিটি ব্যক্তিকে তার আমল মোতাবেক প্রতিদান দিবেন।
أَرَءَيۡتَ ٱلَّذِي يَنۡهَىٰ ٩: তুমি কি তাকে দেখেছো, যে বাধা দেয় (৯), عَبۡدًا إِذَا صَلَّىٰٓ ١٠: এক বান্দা, যখন তিনি সালাত আদায় করেন (১০)। তুমি কি দেখেছ আবু জেহেলকে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাত আদায়ে বাধা দিয়েছিল?
أَرَءَيۡتَ إِن كَانَ عَلَى ٱلۡهُدَىٰٓ ١١: তুমি লক্ষ করেছো কি! যদি তিনি হিদায়াতের উপর থাকেন (১১), أَوۡ أَمَرَ بِٱلتَّقۡوَىٰٓ ١٢: অথবা তাক্ওয়ার নির্দেশ দেন (১২); নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিদায়াতের উপরেই ছিলেন আর তিনি আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য (নেক কাজ) এর আদেশ দিতেন।
أَرَءَيۡتَ إِن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰٓ ١٣: আমাকে বল! যদি সে (নিষেধকারী) মিথ্যারোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয় (১৩), أَلَمۡ يَعۡلَم بِأَنَّ ٱللَّهَ يَرَىٰ ١٤: সে কি জানে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ্ দেখেন (১৪)। তুমি কি দেখেছ আবু জেহেলকে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাও‘আতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত, এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত, সে কি জানত না যে আল্লাহ তা‘আলা তার কাজসমূহ প্রত্যক্ষ করছেন?
كَلَّا لَئِن لَّمۡ يَنتَهِ لَنَسۡفَعَۢا بِٱلنَّاصِيَةِ ١٥: কখনো নয়(সে যা মনে করে), সে যদি বিরত না হয় তবে আমি তাকে অবশ্যই হেঁচড়ে নিয়ে যাব, মাথার সামনের চুলের গুচ্ছ ধরে (১৫)। نَاصِيَةٖ كَٰذِبَةٍ خَاطِئَةٖ ١٦: মিথ্যাচারী, পাপিষ্ঠ সম্মুখ-চুলের-গুচ্ছ ওয়ালা (১৬)। যদি এই মুশরিক ক্ষ্যান্ত না হয়, তাহলে আমি চরম অপমানজনক অবস্থায় তার মাথা ধরে আগুনের দিকে নিয়ে যাব, যে মাথা কথায় মিথ্যুক এবং কাজে অপরাধী।
فَلۡيَدۡعُ نَادِيَهُۥ ١٧: অতএব সে তার পারিষদকে ডেকে আনুক (১৭) ! سَنَدۡعُ ٱلزَّبَانِيَةَ ١٨: শীঘ্রই আমি ডাক দিবো জাহান্নামের দারোয়ানদের কে (১৮)। সে যেন তখন তার পরিবার পরিজনকে ডেকে নেয়, যারা তাকে সাহায্য করতে পারে, যদি তারা জবাব দিতে সক্ষম হয়। কিন্তু আযাবের ফেরেশতা ছাড়া কখনো আর কেউই তার কাছে উপস্থিত হবে না।
كَلَّا لَا تُطِعۡهُ وَٱسۡجُدۡۤ وَٱقۡتَرِب۩ ١٩: কখনো নয়!(যা তারা মনে করে) আপনি তার অনুসরণ করবেন না। আর আপনি সিজ্দা করুন এবং নিকটবর্তী হোন। (১৯)” হে আল্লাহর রসূল! আপনি তাকে অনুসরণ করবেন না। আপনি আপনার রবের উদ্দেশ্যে সিজদা করুন এবং তাঁর ইবাদাতে কঠোর পরিশ্রমী হোন।
সূরা আল-কদর
إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةِ ٱلۡقَدۡرِ ١: নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে’; (১) وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ ٢: আর আপনাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল-কদর’ কী? (২) لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ٣: ‘লাইলাতুল-কদর’ হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (৩) تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ ٤: সে রাতে ফিরিশ্তাগণ ও রূহ্ (জিবরীল) নাযিল হয় তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে। (৪) سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ ٥: শান্তিময় সে রাত, ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত। (৫)
বর্ণনা ও তাফসীর:
মহান সূরাটি খাস ভাবে লাইলাতুল কদরের ফযীলত এবং এর মাহাত্মকে ফুঁটিয়ে তোলে। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন:
إِنَّآ أَنزَلۡنَٰهُ فِي لَيۡلَةِ ٱلۡقَدۡرِ ١: নিশ্চয় আমি কুরআন নাযিল করেছি ‘লাইলাতুল কদরে’; (১) وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ ٢: আর আপনাকে কিসে জানাবে ‘লাইলাতুল-কদর’ কী? (২) প্রকৃতপক্ষে, আমি সর্বনিম্ন আকাশে কুরআন কারীম নাযিল করেছি এবং আমি রমাদান মাসের একটি মহান রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে নাযিলের সূচনা করেছি। আর সেটি হচ্ছে কদরের রাত। আপনি কি জানেন - হে নবী - এই রাতে কি কল্যাণ ও বরকত রয়েছে?
لَيۡلَةُ ٱلۡقَدۡرِ خَيۡرٞ مِّنۡ أَلۡفِ شَهۡرٖ ٣: ‘লাইলাতুল-কদর’ হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। (৩) এই বরকতময় রাতে ইবাদাতের ফযীলত এক হাজার মাসে যে ব্যক্তি ঈমান এবং সওয়াবের আশায় কিয়ামুল লাইল করবে, তার থেকেও অধিক।
تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ ٤: সে রাতে ফিরিশ্তাগণ ও রূহ্ (জিবরীল ) নাযিল হয় তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে। (৪) লাইলাতুল কদরে আল্লাহ তা‘আলার আদেশে ঐ বছরে সংঘটিত প্রতিটি বিষয়ের ফয়সালা নিয়ে অসংখ্য ফেরেশতারা আগমন করেন, তাদের সাথে থাকেন জিবরীল আলাইহিস সালাম।
سَلَٰمٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطۡلَعِ ٱلۡفَجۡرِ ٥: শান্তিময় সে রাত, ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত। (৫) রাতের শুরু হতে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা উক্ত রাতকে শান্তি ও কল্যাণের রাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।
এ সুমহান সূরাদ্বয় থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়:
ইসলামে ইলমের অনেক বড় অবস্থান রয়েছে।
মুমিন ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার অধিক নি‘আমাতের কারণে বিনয়ী হয়ে ওঠে।
কুরআন কারীম হচ্ছে সর্বশ্রেষ্ট কালাম, এটি নিয়ে এসেছেন সবচেয়ে শ্রেষ্ট ফেরেশতা, সবচেয়ে শ্রেষ্ট মানুষের কাছে, সবচেয়ে শ্রেষ্ট রাতে।
লাইলাতুল কদর আমাদের উপরে আল্লাহর একটি নি‘আমাত। সুতরাং আমাদের উচিত ঐ রাতে ঈমান এবং সওয়াবের আশায় কিয়ামুল্লাইল করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): শিখবো এবং পরিকল্পনা করবো:
সূরা আল-আলাকের মধ্যে ইলম শিক্ষা করা এবং শিক্ষা দেওয়ার স্পষ্ট আহবান রয়েছে, সে অনুযায়ী:
সূরা আল-আলাক থেকে ইলমের দিকে আহবান এবং এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপের ইসলামী দাওয়াতের নিদর্শনগুলো খুঁজে বের কর।
তিনটি বিষয় নির্দিষ্ট করে পরিকল্পনা কর, যা তুমি এ বছরে শিখবে।
অনুশীলন (২): আমি অংশগ্রহণ করব এবং ফলাফল বের করব:
লাইলাতুল কদরে আল্লাহ তা‘আলা অনেকগুলো আমল শরীয়তসম্মত করেছেন, যার সওয়াব অসংখ্য। সে আলোকে, তোমার সহপাঠীদের সাথে নিচের হাদীসগুলি পাঠ করতে অংশগ্রহণ কর, এবং যে আমলগুলোর নির্দেশ রয়েছে তা খুঁজে বের কর:
হাদীসসমূহ লাইলাতুল কদরের আমলসমূহ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ রমাদানের শেষ দশদিনে তোমরা লাইলাতুল কদর অন্বেষণ কর।” এটি বুখারী (২০২০) বর্ণনা করেছেন।
শেষ দশকে নেক আমলের মাধ্যমে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করা।
আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু আনহা জিজ্ঞাসা করেছিলেন: হে আল্লাহর রসূল, আপনি কি মনে করেন, যদি আমি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর. তাহলে আমি ঐ রাতে কী বলব? তিনি জবাব দিলেন: তুমি বলবে: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي তথা: “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।” এটি তিরমিযী (৩৫১৩) বর্ণনা করেছেন।
আমরা অধিক হারে দু‘আ করব, এভাবে: اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي তথা: “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল। আপনি ক্ষমা করতে পছন্দ করেন। অতএব আপনি আমাকে ক্ষমা করুন।”
হাদীস: “আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাদানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করতেন।” এটি মুসলিম (১১৭২) বর্ণনা করেছেন। রমাদানের শেষ দশকে ই‘তিকাফ করা।যাতে রয়েছে লাইলাতুল কদর।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরে কিয়াম (সালাত আদায়) করবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে।” এটি বুখারী (৩৭) ও মুসলিম (৭৫৯) বর্ণনা করেছেন। লাইলাতুল কদরে কিয়ামুল্লাইল করা।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ২: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখো:
কুরআন কারীমের প্রথম নাযিলকৃত সূরা হচ্ছে সূরা আল-কদর।
কুরআন কারীম রমাদানের প্রথম রাতে নাযিল হয়েছে।
মুমিন ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে প্রদত্ত তার উপরে বিদ্যমান নি‘আমাতসমূহ নিয়ে গর্ববোধ করে।
প্রশ্ন ২: নিচের প্রতিটি বিষয় প্রমাণ করে এমন একটি করে আয়াত লেখ:
ইসলাম জ্ঞান ও শিক্ষা গ্রহণের মর্যাদাকে উঁচু করেছে।
হাজার মাসের ইবাদাত করা থেকে লাইলাতুল কদরে ইবাদাত করা উত্তম।
কিয়ামাতের দিনে প্রতিটি মাখলুক আল্লাহ তা‘আলার কাছে ফিরে যাবে।
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
সূরা আল-আলাক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষে অবস্থানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, ব্যাখ্যা কর।
লাইলাতুল কদরের বৈশিষ্ট্যের সারমর্ম লেখ, তারপরে মুসলিমদের জন্য ঐ রাতে সম্ভবপর ইবাদাতগুলোর বর্ণনা দাও।
পঞ্চম পাঠ: সূরা আল-বাইয়িনাহ এবং আয-যালযালাহ (যিলযাল) (দুই পিরিয়ড )
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
সূরা দু’টির সংক্ষিপ্ত তাফসীর করবে।
আখিরাতে মুমিন ও কাফিরদের অবস্থার মধ্যে তুলনা করবে।
সূরা দু‘টি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা বর্ণনা করবে।
কিয়ামাতের দিনে হিসাবের জন্য প্রস্তুত হবে।
সূরা আল-বাইয়িনাহ
لَمۡ يَكُنِ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ وَٱلۡمُشۡرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأۡتِيَهُمُ ٱلۡبَيِّنَةُ ١: আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে এবং মুশরিকরা, তারা (কুফুর থেকে) বিচ্ছিন্ন হবে না যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসবে, (১) رَسُولٞ مِّنَ ٱللَّهِ يَتۡلُواْ صُحُفٗا مُّطَهَّرَةٗ ٢:(তা হলো) আল্লাহর কাছ থেকে এক রাসূল, যিনি তিলাওয়াত করেন পবিত্ৰ সহীফাসমূহ, (২) فِيهَا كُتُبٞ قَيِّمَةٞ ٣: যাতে আছে সঠিক বিধিবদ্ধ বিধান। (৩) وَمَا تَفَرَّقَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَةُ ٤: আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তারা তো বিভক্ত হল তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর। (৪) وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ ٥: আর তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে এবং সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্ৰদান করে। আর এটাই সঠিক দ্বীন। (৫) إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ وَٱلۡمُشۡرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَآۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمۡ شَرُّ ٱلۡبَرِيَّةِ ٦: নিশ্চয়ই কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই (কুফুরীর জন্য) সৃষ্টির অধম। (৬) إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُوْلَٰٓئِكَ هُمۡ خَيۡرُ ٱلۡبَرِيَّةِ ٧: নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই সৃষ্টির শ্ৰেষ্ঠ। (৭) جَزَآؤُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ جَنَّٰتُ عَدۡنٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۖ رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُۚ ذَٰلِكَ لِمَنۡ خَشِيَ رَبَّهُۥ ٨: তাদের রবের কাছে আছে তাদের পুরষ্কারঃ স্থায়ী জান্নাত, যার নিচে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সস্তুষ্ট। এটি তার জন্য, যে তার রবকে ভয় করে। (৮)
বর্ণনা ও তাফসীর:
আলোচ্য সূরাটির মধ্যে মুহাম্মাদী রিসালাতের মর্যাদা প্রস্ফুটিত হয়েছে, এবং এর উপরে ঈমান আনার ফযীলত আর তা অস্বীকারকারীদের পরিণামও বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
لَمۡ يَكُنِ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ وَٱلۡمُشۡرِكِينَ مُنفَكِّينَ حَتَّىٰ تَأۡتِيَهُمُ ٱلۡبَيِّنَةُ ١: আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে এবং মুশরিকরা, তারা কুফুরী থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না, যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসবে, (১) ইয়াহুদী ও নাসারাদের মধ্য হতে যারা কাফির এবং মুশরিকরা তাদের কুফুরী ছাড়তে পারেনি, যতক্ষণ না তা বাতিল হওয়ার ব্যাপারে তাদের কাছে সুস্পষ্ট দলীল চলে এসেছে।
رَسُولٞ مِّنَ ٱللَّهِ يَتۡلُواْ صُحُفٗا مُّطَهَّرَةٗ ٢:(তা হলো) আল্লাহর কাছ থেকে এক রাসূল, যিনি তিলাওয়াত করেন পবিত্ৰ সহীফাসমূহ, (২) فِيهَا كُتُبٞ قَيِّمَةٞ ٣: যাতে আছে সঠিক বিধিবদ্ধ বিধান। (৩) এই দলীল হলো, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এবং তিনি কুরআন কারীম থেকে যে পবিত্র আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেছেন এবং এতে থাকা সত্য পথের হিদায়াত।
وَمَا تَفَرَّقَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعۡدِ مَا جَآءَتۡهُمُ ٱلۡبَيِّنَةُ ٤: আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল তারা তো বিভক্ত হল তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর। (৪) ইয়াহুদী এবং নাসারাগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অচিরেই যে পাঠানো হবে, এ ব্যাপারে তারা কোন দ্বিমত পোষণ করেনি, কিন্তু তারা ভেবেছিল যে, তিনি তাদের মধ্য থেকেই আসবেন। যখন তিনি আরবদের মধ্য হতে আগমন করলেন, তখন তারা বিভক্ত হয়ে গেল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঈমান আনল আবার কেউ কেউ কুফুরী করল।
وَمَآ أُمِرُوٓاْ إِلَّا لِيَعۡبُدُواْ ٱللَّهَ مُخۡلِصِينَ لَهُ ٱلدِّينَ حُنَفَآءَ وَيُقِيمُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَيُؤۡتُواْ ٱلزَّكَوٰةَۚ وَذَٰلِكَ دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ ٥: আর তাদেরকে কেবল এ নির্দেশই প্রদান করা হয়েছিল যে, তারা যেন একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করে তাঁরই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে এবং সালাত কায়েম করে ও যাকাত প্ৰদান করে। আর এটাই সঠিক দ্বীন। (৫) কুরআন কারীমে ইয়াহুদী ও নাসারাদেরকে শুধুমাত্র সেই আদেশগুলিই দেওয়া হয়েছিল, যা তাদের কিতাবে বিদ্যমান ছিল, যেমন: ইবাদাতের ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য ইখলাস রাখা, সালাত কায়েম করা, যাকাত প্রদান করা ইত্যাদি আর এটাই ইসলামের সুদৃঢ় সঠিক জীবন বিধান।
إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ مِنۡ أَهۡلِ ٱلۡكِتَٰبِ وَٱلۡمُشۡرِكِينَ فِي نَارِ جَهَنَّمَ خَٰلِدِينَ فِيهَآۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمۡ شَرُّ ٱلۡبَرِيَّةِ ٦: নিশ্চয়ই কিতাবীদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তারা এবং মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে; তারাই সৃষ্টির অধম। (৬) আহলে কিতাবদের মধ্য হতে কাফিরগণ এবং মূর্তিপুজকদের আবাসস্থল হবে জাহান্নামের আগুন। এরাই হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টি জগতের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্য।
إِنَّ ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ وَعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ أُوْلَٰٓئِكَ هُمۡ خَيۡرُ ٱلۡبَرِيَّةِ ٧: নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই সৃষ্টির শ্ৰেষ্ঠ। (৭) جَزَآؤُهُمۡ عِندَ رَبِّهِمۡ جَنَّٰتُ عَدۡنٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۖ رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُۚ ذَٰلِكَ لِمَنۡ خَشِيَ رَبَّهُۥ ٨: তাদের রবের কাছে আছে তাদের পুরষ্কারঃ স্থায়ী জান্নাত, যার নিচে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও তাঁর প্রতি সস্তুষ্ট। এটি তার জন্য, যে তার রবকে ভয় করে। (৮) আর যারা ঈমান এনেছে নেক কাজ করেছে, তারাই আল্লাহ তা‘আলার উত্তম সৃষ্টি; এ কারণেই আল্লাহ তা‘আলা তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, চিরস্থায়ী নি‘আমাত প্রদান করবেন, আল্লাহ তাদের ব্যাপারে সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহর উপরে সন্তুষ্ট। উক্ত নি‘আমাত আল্লাহ তা‘আলাকে যে ভয় করে এবং অবাধ্যতা থেকে দূরে থাকে এমন প্রতিটি ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট।
সূরা আয-যালযালাহ (আয-যিলযাল)
إِذَا زُلۡزِلَتِ ٱلۡأَرۡضُ زِلۡزَالَهَا ١: যখন প্ৰবল কম্পনে যমীন প্ৰকম্পিত করা হবে, (১) وَأَخۡرَجَتِ ٱلۡأَرۡضُ أَثۡقَالَهَا ٢: আর যমীন তার ভিতরের ভারসমূহ বের করে দেবে, (২) وَقَالَ ٱلۡإِنسَٰنُ مَا لَهَا ٣: আর মানুষ বলবে, ‘এর কী হল?’ (৩)
وَقَالَ ٱلۡإِنسَٰنُ مَا لَهَا ٣: সেদিন যমীন তার সকল বৃত্তান্ত বৰ্ণনা করবে, (৪) بِأَنَّ رَبَّكَ أَوۡحَىٰ لَهَا ٥: কারণ আপনার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন, (৫)
يَوۡمَئِذٖ يَصۡدُرُ ٱلنَّاسُ أَشۡتَاتٗا لِّيُرَوۡاْ أَعۡمَٰلَهُمۡ ٦: সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে বের হবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখান যায়, (৬) فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧: কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখবে। (৭) وَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ شَرّٗا يَرَهُۥ ٨: আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে সে তাও দেখবে। (৮) (সূরা আয-যালযালাহ: ১-৮)।
বর্ণনা ও তাফসীর:
মহান সূরাটি কিয়ামাতের কিছু ঘটনা এবং এর আগের ভয়াবহতার বর্ণনা দেয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
إِذَا زُلۡزِلَتِ ٱلۡأَرۡضُ زِلۡزَالَهَا ١: যখন প্ৰবল কম্পনে যমীন প্ৰকম্পিত করা হবে, (১) وَأَخۡرَجَتِ ٱلۡأَرۡضُ أَثۡقَالَهَا ٢: আর যমীন তার ভিতরের ভারসমূহ বের করে দেবে, (২) আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামাতের দিনের কিছু চিত্র তুলে ধরেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: যমীন প্রচণ্ডভাবে কম্পিত হবে, এবং এ কারণে যমীনে দাফনকৃত মুর্দাগণ বেরিয়ে পড়বে।
وَقَالَ ٱلۡإِنسَٰنُ مَا لَهَا ٣: আর মানুষ বলবে, ‘এর কী হল?’ (৩) وَقَالَ ٱلۡإِنسَٰنُ مَا لَهَا ٣: সেদিন যমীন তার সকল বৃত্তান্ত বৰ্ণনা করবে, (৪) بِأَنَّ رَبَّكَ أَوۡحَىٰ لَهَا ٥: কারণ আপনার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন, (৫)
মানুেষেরা যমীনের ঘটে যাওয়া এ ঘটনা দেখে বিস্মিত হবে, বিশেষ করে যখন আল্লাহ তা‘আলার আদেশে পৃথিবী তার উপরে ভালো অথবা মন্দ যা করা হয়েছে তা বলে দেবে।
يَوۡمَئِذٖ يَصۡدُرُ ٱلنَّاسُ أَشۡتَاتٗا لِّيُرَوۡاْ أَعۡمَٰلَهُمۡ ٦: সেদিন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন দলে বের হবে, যাতে তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম দেখান যায়, (৬) সেদিন মানুষ দলে দলে হিসাব-নিকাশের জন্য বের হবে। এই দুনিয়ায় তারা কী কাজ করেছে তা দেখার জন্য।
فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧: কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখবে। (৭) وَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ شَرّٗا يَرَهُۥ ٨: আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে সে তাও দেখবে। (৮) কিয়ামাতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তি ভালো অথবা মন্দ যাই করুক না কেন, ছোট হলেও তা দেখতে পাবে এবং এর উপরে সে প্রতিদান পাবে।
আলোচ্য সূরাদ্বয় থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়সমূহঃ
ইবাদাতের ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইখলাস রাখা আবশ্যক।
নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যতা এবং কুরআন কারীমের মাহাত্ম, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়তের বিশুদ্ধতার সবচেয়ে বড় দলীল।
মুমনিগণ যারা নেক কাজ করে, তারাই আল্লাহ তা‘আলার শ্রেষ্ট সৃষ্টি, তাদের পুরষ্কার হচ্ছে জান্নাত।
কিয়ামাতের দিন অত্যন্ত ভয়াবহ একটি দিন, যতই ছোট হোক না কেন, প্রতিটি বিষয়ের উপরে সেদিন মানুষের হিসাব নেওয়া হবে।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন(১): আমি তুলনা করব:
তুমি সূরা আল-বাইয়িনাহ যেভাবে বুঝেছ, তার উপরে ভিত্তি করে মুমিন এবং কাফিরদের মধ্যে ছকের চাহিদা অনুযায়ী তুলনা কর:
তুলনার দিক যে ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আদেশ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার আদেশের ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান আখিরাতে তাদের অবস্থা
মুমিনগণ
কাফিররা
অনুশীলন (১): আমি আয়াতসমূহের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করব:
আল্লাহ তা‘আলার বাণীর মধ্যে সম্পর্ক বর্ণনা কর: وَقَالَ ٱلۡإِنسَٰنُ مَا لَهَا ٣: আর মানুষ বলবে, ‘এর কী হল?’ (৩) وَقَالَ ٱلۡإِنسَٰنُ مَا لَهَا ٣: সেদিন যমীন তার সকল বৃত্তান্ত বৰ্ণনা করবে, (৪) بِأَنَّ رَبَّكَ أَوۡحَىٰ لَهَا ٥: কারণ আপনার রব তাকে নির্দেশ দিয়েছেন, (৫)
আর আল্লাহ তা‘আলার বাণী: (يَوۡمَ تَشۡهَدُ عَلَيۡهِمۡ أَلۡسِنَتُهُمۡ وَأَيۡدِيهِمۡ وَأَرۡجُلُهُم بِمَا كَانُواْ يَعۡمَلُونَ): “যেদিন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের জিহ্বা, তাদের হাত ও তাদের পা তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে।“ [সূরা আন-নূর, আয়াত: ২৪]।
একজন মুসলিমের কি করা উচিত যাতে এই সাক্ষ্যগুলো কিয়ামাতের দিন তার বিপক্ষে না হয়ে বরং তার পক্ষে হয়?
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
ইয়াহুদীরা নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অস্বীকার করেছিল তাঁর ব্যাপারে তাদের সন্দেহ থাকার কারণে।
যে ব্যক্তি দুনিয়াতে আল্লাহকে ভয় পাবে, আল্লাহ তা‘আলা তাকে আখিরাতে সন্তুষ্ট করে দিবেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (دِينُ ٱلۡقَيِّمَةِ) তথা: “আর এটাই সঠিক দীন”, তথা: আহলুল কিতাবদের দীন।
(ইবাদাতকে) আল্লাহ তা‘আলার জন্য খালেস করা (ইখলাস) সৎআমলসমূহ কবুল হওয়ার শর্ত।
যমীন মুমিনদের দেহসমূহ তারা জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত সংরক্ষণ করবে।
প্রশ্ন ২: নিন্মোক্ত আয়াতসমূহের অর্থ সংক্ষিপ্তসারে লেখ:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧: কেউ অণু পরিমাণ সৎকাজ করলে সে তা দেখবে। (৭) وَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ شَرّٗا يَرَهُۥ ٨: আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকাজ করলে সে তাও দেখবে। (৮)
প্রশ্ন ৩: সূরা বাইয়িনাহ এবং যিলযাল এ বর্ণিত তথ্যের আলোকে মুমিন ও কাফিরদের অবস্থাসমূহের তুলনা কর।
ষষ্ঠ পাঠ: সূরা আল-‘আদিয়াত এবং আল-কারি‘আহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
সূরা দু’টির সংক্ষিপ্ত তাফসীর করবে।
সূরা দু‘টি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা বর্ণনা করবে।
কিয়ামাতের ভয়াবহতা বর্ণনা করার কতিপয় হিকমত খুঁজে বের করবে।
তোমার উপরে থাকা আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমাত অনুমান করবে।
সূরা আল-‘আদিয়াত
وَٱلۡعَٰدِيَٰتِ ضَبۡحٗا ١: শপথ ঊর্ধ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্বরাজির (১) , فَٱلۡمُورِيَٰتِ قَدۡحٗا ٢: অতঃপর শপথ সেই অশ্বরাজির, যারা ক্ষুরের আঘাতে অগ্নি-স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত করে তাদের (২), فَٱلۡمُغِيرَٰتِ صُبۡحٗا ٣: অতঃপর শপথ যারা অভিযান চালায় প্রভাতকালে তাদের(৩),
فَأَثَرۡنَ بِهِۦ نَقۡعٗا ٤: ফলে তারা তা দ্বারা ধূলি উৎক্ষিপ্ত করে (৪); فَوَسَطۡنَ بِهِۦ جَمۡعًا ٥: অতঃপর তা দ্বারা শত্রু দলের অভ্যন্তরে ঢুকে যায় (৫)। إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لِرَبِّهِۦ لَكَنُودٞ ٦: নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ (৬), وَإِنَّهُ عَلَى ذَلِكَ لَشَهِيدٌ: আর নিশ্চয়ই সে নিজেই এ বিষয়ের সাক্ষী। (৭) وَإِنَّهُۥ لِحُبِّ ٱلۡخَيۡرِ لَشَدِيدٌ ٨: আর নিশ্চয়ই সে ধন-সম্পদের আসক্তিতে প্রবল (৮)। أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِ: তবে কি সে জানে না, যখন কবরে যা আছে তা উত্থিত হবে (৯)। وَحُصِّلَ مَا فِي ٱلصُّدُورِ ١٠: আর অন্তরে যা আছে তা প্ৰকাশ করা হবে (১০)। إِنَّ رَبَّهُمْ بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَخَبِيرٌ: নিশ্চয়ই তাদের রব সেদিন তাদের ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত।” (১১) (আল-‘আদিয়াত: ০১-১১)।
বর্ণনা ও তাফসীর:
মহান সূরাটিতে মানুষের বৈশিষ্ট্যাবলী এবং আখিরাতের পরিণামের উপরে তার প্রভাব আলোচিত হয়েছে। সূরাটি কসমের মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলছেন:
وَٱلۡعَٰدِيَٰتِ ضَبۡحٗا ١: শপথ ঊর্ধ্বশ্বাসে ধাবমান অশ্বরাজির (১) , আল্লাহ তা‘আলা এমন ঘোড়ার কসম করেছেন, যে ঘোড়াগুলি আল্লাহর রাস্তায় ছুটে চলে, এবং তার ছুটে চলার ক্ষিপ্রতার কারণে তার আওয়াজ ছড়িয়ে পড়ে।
فَٱلۡمُورِيَٰتِ قَدۡحٗا ٢: অতঃপর শপথ সেই অশ্বরাজির যারা ক্ষুরের আঘাতে অগ্নি-স্ফুলিঙ্গ বিচ্ছুরিত করে (২), আর তার ছুটে চলার ক্ষিপ্রতার কারণে খুরসমূহ থেকে আগুনের ফুলকি বের হয়।
فَٱلۡمُغِيرَٰتِ صُبۡحٗا ٣: অতঃপর শপথ সেই অশ্বরাজির, যারা অভিযান চালায় প্রভাতকালে (৩), তারা সকাল-ভোরে আল্লাহ তা‘আলার শত্রুদের উপরে ঝাপিয়ে পড়ে।
فَأَثَرۡنَ بِهِۦ نَقۡعٗا ٤: ফলে তারা তা দ্বারা ধূলি উৎক্ষিপ্ত করে (৪); তাদের চারপাশে ধুলা ছড়িয়ে দেয়।
فَوَسَطۡنَ بِهِۦ جَمۡعًا ٥: অতঃপর তা দ্বারা শত্রু দলের অভ্যন্তরে ঢুকে যায় (৫)। আর তাদের উপরে থাকা আল্লাহর বাহিনী নিয়ে তারা শত্রুদের দলের মধ্যে ঢুকে পড়ে।
إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لِرَبِّهِۦ لَكَنُودٞ ٦: নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ (৬), وَإِنَّهُ عَلَى ذَلِكَ لَشَهِيدٌ: আর নিশ্চয়ই সে নিজেই এ বিষয়ের সাক্ষী। (৭) وَإِنَّهُۥ لِحُبِّ ٱلۡخَيۡرِ لَشَدِيدٌ ٨: আর নিশ্চয়ই সে ধন-সম্পদের আসক্তিতে প্রবল (৮)। আল্লাহ তা‘আলা কসম করছেন যে, মানুষেরা তার উপরে থাকা আল্লাহ তা‘আলার নি‘আমাতসমূহকে অস্বীকার করে, আর মানুষ এ অস্বীকারকে স্বীকৃতিও দিয়ে থাকে; কেননা তার সম্পদের প্রতি চরম ভালোবাসা রয়েছে আর তাই সে কৃপণতা করে থাকে।
أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِ: তবে কি সে জানে না, যখন কবরে যা আছে তা উত্থিত হবে (৯)। وَحُصِّلَ مَا فِي ٱلصُّدُورِ ١٠: আর অন্তরে যা আছে তা প্ৰকাশ করা হবে (১০)। সম্পদের ধোকায় নিমজ্জিত মানুষেরা কী জানে না যে, কিয়ামাতের দিনে কী ঘটবে, যেদিন মৃত্যু ব্যক্তিরা কবর থেকে উঠে আসবে, আর তাদেরকে তাদের আমল ও তাদের অন্তরে ভালো-মন্দ যা লুকায়িত আছে সব কিছুর হিসাব নেওয়া হবে।
إِنَّ رَبَّهُمْ بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَخَبِيرٌ: নিশ্চয়ই তাদের রব সেদিন তাদের ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত।” (১১) আল্লাহ তা‘আলা তাদের সকল কিছু সম্পর্কে নিশ্চিত জানেন আর তিনি তাদেরকে সে অনুযায়ী কিয়ামাতের দিনে অচিরেই প্রতিদান দিবেন।
সূরা আল-ক্বারি‘আহ
ٱلۡقَارِعَةُ ١:অন্তরে প্রচন্ড আঘাতকারী (কিয়ামত) (১), مَا ٱلۡقَارِعَةُ ٢: অন্তরে প্রচন্ড আঘাতকারী (কিয়ামত) কী ? (২) وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا ٱلۡقَارِعَةُ ٣: আর অন্তরে প্রচন্ড আঘাতকারী (কিয়ামত) সম্পর্কে আপনাকে কিসে জানাবে ? (৩) يَوۡمَ يَكُونُ ٱلنَّاسُ كَٱلۡفَرَاشِ ٱلۡمَبۡثُوثِ ٤: সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত, (৪)
فَأَمَّا مَن ثَقُلَتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٦: অতঃপর যার পাল্লাসমূহ ভারী হবে, (৬) فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ: সে তো থাকবে সন্তোষজনক জীবনে। (৭)
وَأَمَّا مَنۡ خَفَّتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٨: আর যার পাল্লাসমূহ হাল্কা হবে (৮)। فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ: তার স্থান হবে ‘হাওয়িয়াহ’। (৯)
وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا هِيَهۡ ١٠: আর আপনাকে কিসে জানাবে সেটা কী? (১০) نَارٌ حَامِيَةٌ: অত্যন্ত উত্তপ্ত আগুন।” (১১) (আল-ক্বারি‘আহ: ১-১১)।
বর্ণনা ও তাফসীর:
মহান সূরাটিতে কিয়ামাতের ভয়াবহতার কতিপয় বর্ণনা এবং মানুষের আমলসমূহ ওজন হওয়ার পরে তাদের বিভক্ত হওয়ার বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
ٱلۡقَارِعَةُ ١: অন্তরে প্রচন্ড আঘাতকারী (কিয়ামত) (১), مَا ٱلۡقَارِعَةُ ٢: সেই অন্তরে প্রচন্ড আঘাতকারী (কিয়ামত) কী ? (২) وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا ٱلۡقَارِعَةُ ٣: আর অন্তরে প্রচন্ড আঘাতকারী (কিয়ামত) সম্পর্কে আপনাকে কিসে জানাবে ? (৩) আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে কিয়ামাতের ভয়াবহতা থেকে ভীতি প্রদর্শন করেছেন, যে ভয়াবহতা অন্তরসমূহকে চরম ভীত করে তুলবে এবং তাতে আঘাত করবে, আর কোন বস্তু আপনাকে সেই কিয়ামাত ও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে জানাবে?
يَوۡمَ يَكُونُ ٱلنَّاسُ كَٱلۡفَرَاشِ ٱلۡمَبۡثُوثِ ٤: সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত, (৪) সেদিনে মানুষেরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কীট-প্রতঙ্গের ন্যায় হয়ে যাবে।
وَتَكُونُ ٱلۡجِبَالُ كَٱلۡعِهۡنِ ٱلۡمَنفُوشِ ٥: এবং পর্বতসমূহ হবে ধূনিত রঙ্গীন পশমের মত, (৫) আর সেদিন পাহাড়সমূহ ধূনিত এমন পশমের ন্যায় হবে, যা জট থেকে আলাদা করে হাত দিয়ে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, আর তা ধুলিতে পরিণত হয়। আর তা এমনভাবে মিশে যাবে, মনে হবে তা কখনোই ছিল না।
فَأَمَّا مَن ثَقُلَتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٦: অতঃপর যার পাল্লাসমূহ ভারী হবে, (৬) فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ: সে তো থাকবে সন্তোষজনক জীবনে। (৭) সেদিন মানুষ দুইভাগে বিভক্ত হবে: এক শ্রেণির মানুষের নেকীর পাল্লা ভারী হবে এবং গুনাহের পাল্লার চেয়ে প্রাধান্য পাবে। এরাই জান্নাতের মধ্যে সুখ, শান্তি ও স্বাচ্ছন্দের জীবন যাপন করবে।
وَأَمَّا مَنۡ خَفَّتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٨: আর যার পাল্লাসমূহ হাল্কা হবে (৮)। فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ: তার স্থান হবে ‘হাওয়িয়াহ’। (৯) আরেক শ্রেণি হচ্ছে: যাদের নেকীর পাল্লা হালকা হয়ে গুনাহের পাল্লা প্রাধান্য পাবে, তাদের স্থান হবে জাহন্নাম, সেখানেই তারা পতিত হবে।
وَمَآ أَدۡرَىٰكَ مَا هِيَهۡ ١٠: আর আপনাকে কিসে জানাবে সেটা কী? (১০) نَارٌ حَامِيَةٌ: অত্যন্ত উত্তপ্ত আগুন।” (১১) আর আপনাকে উক্ত হাওয়িয়াহ বা অতল গহ্বর সম্পর্ক কোন বস্তু অবহিত করবে? এটা হচ্ছে প্রচণ্ড উত্তপ্ত আগুন।
আলোচ্য সূরাদ্বয় থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়:
অধিকাংশ মানুষই নি‘আমাতসমূহকে অস্বীকার করে, তবে তারা ব্যতীত, যারা আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করে এবং এর হক আদায় করে।
তাওফীকপ্রাপ্ত ব্যক্তি হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যে তার অন্তরকে ঈমান, ইখলাস এবং আল্লাহ তা‘আলা, তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের মুহাব্বাতের মাধ্যমে সংশোধন করে।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে কিয়ামাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন; যাতে করে তারা সৎকাজের মাধ্যমে তার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
কিয়ামাতের দিন মানুষ দুইভাগে বিভক্ত হবে: এক শ্রেণির নেকীর পাল্লা ভারী হবে, ফলত তারা জান্নাতের মাধ্যমে সফলকাম হবে। পক্ষান্তরে আরেক শ্রেণির গুনাহের পাল্লা ভারী হবে, ফলত তাদের আবাস হবে জাহান্নাম।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি কিছু নেকীর আমলসমূহ লিখব:
নিচের ছকটি এমন কতিপয় নেক আমলের উদাহরণ দ্বারা পূরণ কর, যা একজন মুসলিম তার নেকীর পাল্লাতে দেখতে পছন্দ করে:
আমলের প্রকার/ এমন আমলের উদাহরণ যা নেকীর পাল্লাকে ভারী করে
মানুষের সাথে ব্যবহার
অন্তরের আমল
জিহ্বার আমল
হাতের আমল
চোখের আমল
কানের আমল
অনুশীলন (২): আমি আয়াতসমূহের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করব:
সূরা আল-‘আদিয়াত এবং আল-ক্বারি‘আহ -এর এমন আয়াতসমূহ লিখ, যা ছকে থাকা আয়াতসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ:
আয়াতসমূহ সূরা আল-‘আদিয়াত ও আল-ক্বারি‘আহ - এর সাথে আয়াতসমূহের যে সামঞ্জস্য
وَتُحِبُّونَ ٱلۡمَالَ حُبّٗا جَمّٗا : আর তোমরা ধন-সম্পদ খুবই ভালবাস (২০); (সূরা আল-ফাজর: ২০)। وَإِنَّهُۥ لِحُبِّ ٱلۡخَيۡرِ لَشَدِيدٌ : আর নিশ্চয় সে ধন-সম্পদের আসক্তিতে প্রবল।
وَبُسَّتِ ٱلۡجِبَالُ بَسّٗا 5: এবং চূৰ্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়বে পর্বতমালা (৫), فَكَانَتۡ هَبَآءٗ مُّنۢبَثّٗا : অতঃপর তা পর্যবসিত হবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণায়; (সূরা আল-ওয়াকিয়া: ৫-৬)। وَتَكُونُ ٱلۡجِبَالُ كَٱلۡعِهۡنِ ٱلۡمَنفُوشِ : এবং পর্বতসমূহ হবে ধূনিত রঙ্গীন পশমের মত,
وَنَضَعُ ٱلۡمَوَٰزِينَ ٱلۡقِسۡطَ لِيَوۡمِ ٱلۡقِيَٰمَةِ فَلَا تُظۡلَمُ نَفۡسٞ شَيۡـٔٗاۖ وَإِن كَانَ مِثۡقَالَ حَبَّةٖ مِّنۡ خَرۡدَلٍ أَتَيۡنَا بِهَاۗ وَكَفَىٰ بِنَا حَٰسِبِينَ 47: আর কিয়ামতের দিনে আমি ন্যায়বিচারের পাল্লাসমূহ স্থাপন করব, সুতরাং কারো প্রতি কোন যুলুম করা হবে না এবং আমল যদি শস্য দানা পরিমাণ ওজনেরও হয় তবুও তা আমি উপস্থিত করব; আর হিসেব গ্রহণকারীরূপে আমিই যথেষ্ট (৪৭)। (সূরা আল-আম্বিয়া : ৪৭)।
فَأَمَّا مَن ثَقُلَتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٦: অতঃপর যার পাল্লাসমূহ ভারী হবে, (৬) فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ: সে তো থাকবে সন্তোষজনক জীবনে। (৭) وَأَمَّا مَنۡ خَفَّتۡ مَوَٰزِينُهُۥ ٨: আর যার পাল্লাসমূহ হাল্কা হবে (৮)। فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ: তার স্থান হবে ‘হাওয়িয়াহ’। (৯)
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
রিসালাতের ভিত্তি হচ্ছে অনুগতদের সুসংবাদ প্রদান এবং অবাধ্যদেরকে ভীতি প্রদর্শন করার উপরে।
আল-ক্বারি‘আহ জান্নাত ও এতে থাকা নি‘আমাতের উপরে ইঙ্গিত করে। (×)
ঘোড়া আল্লাহ তা‘আলার এক মহা নিদর্শন।
মুসলিম ব্যক্তি তার উপরে থাকা আল্লাহর নি‘আমাতের স্বীকৃতি দেয় এবং এর উপরে শুকরিয়া আদায় করে।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী (وَالْعَادِيَاتِ ) অর্থ: দ্রুতগামী পাখিসমূহ। (×)
প্রশ্ন ২: সংক্ষেপে নিম্নোক্ত আয়াতসমূহের অর্থ লেখ:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: أَفَلَا يَعْلَمُ إِذَا بُعْثِرَ مَا فِي الْقُبُورِ: তবে কি সে জানে না, যখন কবরে যা আছে তা উত্থিত হবে (৯)। وَحُصِّلَ مَا فِي ٱلصُّدُورِ ١٠: আর অন্তরে যা আছে তা প্ৰকাশ করা হবে (১০)। إِنَّ رَبَّهُمْ بِهِمْ يَوْمَئِذٍ لَخَبِيرٌ: নিশ্চয়ই তাদের রব সেদিন তাদের ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত।” (১১) আল্লাহ তা‘আলা বলেন: يَوۡمَ يَكُونُ ٱلنَّاسُ كَٱلۡفَرَاشِ ٱلۡمَبۡثُوثِ ٤: সেদিন মানুষ হবে বিক্ষিপ্ত পতঙ্গের মত, (৪) وَتَكُونُ ٱلۡجِبَالُ كَٱلۡعِهۡنِ ٱلۡمَنفُوشِ ٥: এবং পর্বতসমূহ হবে ধূনিত রঙ্গীন পশমের মত, (৫)
প্রশ্ন ৩: কুরআন কারীমের মধ্যে কিয়ামাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে অধিক বর্ণনা কেন রয়েছে?
ঈমান ও তাযকিয়ার-আত্মশুদ্ধী অধ্যায়
প্রথম পাঠ: তাওহীদ ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (কুফর এবং শিরক)
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি কুফর এবং শিরক বলতে যা বোঝায় তা বর্ণনা করবে।
তুমি কুফর ও শিরকের প্রকারভেদ বর্ণনা করবে।
বড় ও ছোট কুফর এবং শিরকের সূরতসমূহ পেশ করবে।
ছোট-বড় শিরক ও ছোট-বড় কুফরের মধ্যে পার্থক্য করবে।
মুসলিম ব্যক্তির জন্য কুফর ও শিরকের ভয়াবহতা অনুধাবন করবে।
কুফর ও শিরকের সকল প্রকার থেকে দূরে থাকবে।
ভূমিকা:
ঈমান বান্দার জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে মুক্তির পথ। অতএব, একজন মুসলিমকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে; যাতে ঈমান ভঙ্গকারী কোন বিষয়ে জড়িয়ে না পড়ে । অতএব ঈমান ভঙ্গ করে এমন জিনিস কি?
ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ:
আল-কুফর
আশ-শিরক
আন-নিফাক
আর-রিদ্দাহ(মুরতাদ হয়ে যাওয়া)
প্রথমত: আল-কুফর
কুফরের পরিচয়:
কুফর হচ্ছে: প্রতিটি এমন বিশ্বাস, আমল অথবা কথা, যা আসল তথা মূল ঈমান অথবা ঈমানের পূর্ণাতা কে নষ্ট করে দেয়।
কুফরের প্রকারভেদ:
বড় কুফর: এটি হচ্ছে এমন কিছু , যা ঈমানের মূলকেই নষ্ট করে দেয়।
ছোট কুফর: এটি হচ্ছে এমন কিছু যা ঈমানের পূর্ণাতাকে নষ্ট করে দেয়।
বড় কুফরের উদাহরণ:
আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা, অথবা ঈসা আলাইহিস সালাম ইবাদতের হক রাখে এমন কথা বলা।
রসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা অথবা তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা।
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা কুরআন কারীমের সত্যতার ব্যাপারে সন্দেহ করা।
আল্লাহ তা‘আলার আদেশকে নাকচ করা অথবা এর উপরে অহংকার প্রকাশ করা, যেমন: ইবলীসের কুফর।
বড় কুফরের জঘন্য প্রভাব:
বড় কুফর আমলসমূহকে ধবংস করে এবং এর ধারক (তথা কাফির) ব্যক্তির জন্য স্থায়ীভাবে জাহান্নাম অবধারিত হয় । যে এতে লিপ্ত থাকে, তার সাথে অন্তর সম্পর্কহীনতা আবশ্যক। তাকে সাহায্য করা অথবা মুহাব্বাত করা নিষিদ্ধ । সে কোন মুসলিম আত্মীয়ের ওয়ারেশী সম্পত্তি পাবে না। কোন মুসলিম নারীকে বিবাহ করবে না। যখন সে মারা যাবে, তখন জানাযার সালাত আদায় করা যাবে না এবং মুসলিমদের কবরস্থানে তাকে দাফন করাও যাবে না।
ছোট কুফরের কতিপয় উদাহরণ:
এটি হচ্ছে প্রতিটি এমন গুনাহ, যার ব্যাপারে শরী‘আত “কুফর” শব্দটি প্রয়োগ করেছে, অথচ এটি তার কর্তাকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না, যেমন:
মুসলিম ব্যক্তির সাথে লড়াই করা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «سِبَابُ المُسْلِمِ فُسُوقٌ، وَقِتَالُهُ كُفْرٌ» তথা: “মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফুরী।” এটি সহীহ বুখারী (৪৮) ও মুসলিম (৬৪) বর্ণনা করেছেন। এখানে কুফর বলতে ছোট কুফর।
কারো বংশে দোষারোপ করা অথবা মৃত ব্যক্তির জন্য আর্তনাদ করা: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «اثْنَتَانِ فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفْرٌ: الطَّعْنُ فِي النَّسَبِ، وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ» “মানুষের মধ্যে এমন দু’টি স্বভাব আছে,যার কারণে তাদের ভেতর কুফুরী রয়েছে: বংশের দোষারোপ করা এবং মৃতের ওপর বিলাপ-আহাজারী করা।” এটি মুসলিম (৬৭) বর্ণনা করেছেন।
ছোট কুফরের জঘন্য প্রভাব:
ছোট কুফরে পতিত ব্যক্তি মিল্লাত তথা ইসলাম থেকে বের হয় না, কিন্তু এটি একটি বড় ধরণের কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। এ কাজে জড়িত ব্যক্তি যদি তাওবাহ না করে, তবে আখিরাতে সে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন থাকবে, তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন আর যদি তিনি ইচ্ছা করেন, তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
দ্বিতীয়ত: আশ-শিরক
বড় শিরক হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার জন্য নিম্নোল্লিখিত বিষয়ে শরীক নির্ধারণ করা:
আল্লাহ তা‘আলার কাজসমূহে; যেমন: সৃষ্টি করা অথবা রিযিক দেওয়া।
অথবা আল্লাহ তা‘আলার সিফাত-গুণাবলীর মধ্যে; যেমন: গায়েবের জ্ঞান।
অথবা আল্লাহ তা‘আলার কোন ইবাদাতের মধ্যে; যেমন: মূর্তিকে সিজদা করা।
সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি দাবী করে যে, আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্য কোন সৃষ্টিকর্তাও আছে, অথবা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কেউ গায়েব-অদৃশ্য সম্পর্কে জানে, অথবা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য কোন ধরণের ইবাদাত করে, যেমন: যবাই করা, মান্নত করা, দু‘আ করা অথবা সিজদা করা, তাহলে সে বড় শিরক করল। আর সে তখন ইসলামের মিল্লাত (উম্মাত) থেকে বের হয়ে যাবে, এবং তার উপরে বড় কুফরের হুকুম প্রযোজ্য হবে।
ছোট শিরক হচ্ছে: এমন প্রতিটি পাপ, যাকে কুরআন কারীম অথবা সুন্নাতে নববীতে সাধারণত একটি শিরক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, কিন্তু তা বড় শিরক পর্যন্ত পৌঁছে না।
ছোট শিরকের কতিপয় উদাহরণ: আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো নামে কসম করা, অথবা ভালো কাজ করার সময়ে রিয়া(প্রদর্শনেচ্ছা) করা,অথবা তাবীজ ঝুলানো।
ছোট শিরকের কতিপয় প্রভাব: এটা কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত, যদি এতে পতিত ব্যক্তি তাওবা না করে, তবে কিয়ামাতের দিন সে আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন থাকবে, যদি তিনি ইচ্ছা করেন, তাকে শাস্তি দিবেন, আবার যদি ইচ্ছা করেন, তাহলে তাকে ক্ষমা করে দিবেন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি তুলনা করব:
নিচে প্রদত্ত বড় কুফর ও বড় শিরক এবং ছোট কুফর ও ছোট শিরকের মধ্যে তুলনা কর:
বড় কুফর ও বড় শিরক তুলনার দিক ছোট কুফর ও ছোট শিরক
রসূলদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং দীন নিয়ে তাচ্ছিল্য করা এর কতিপয় ধরন হলো : মুসলিম ব্যক্তির সাথে লড়াই করা এবং বংশের দোষারোপ করা।
এতে পতিত ব্যক্তি মিল্লাত থেকে বের হয়ে যাবে এতে পতিত ব্যক্তিকে মিল্লাত থেকে বের করে দিবে এতে পতিত ব্যক্তি মিল্লাত থেকে বের হয়ে যাবে না
এতে পতিত ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে এতে পতিত ব্যক্তির জন্য চিরস্থায়ী জাহান্নাম এতে পতিত ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না
এতে পতিত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করা আবশ্যক এতে পতিত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করা এতে পতিত ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক বিচ্ছেদ করা আবশ্যক নয়
অনুশীলন (২): আমি চিন্তা করে উত্তর দিব:
নিম্নোক্ত দুটি দলীলে যে শিরক বা কুফরের ধরন নির্দেশ করে, তা বর্ণনা কর:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: إِلَّآ إِبۡلِيسَ أَبَىٰ وَٱسۡتَكۡبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلۡكَٰفِرِينَ: তখন ইবলিস ছাড়া সকলেই সিজদা করল; সে অস্বীকার করল ও অহংকার করল। আর সে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হল। (সূরা বাকারাহ: ৩৪)।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللهِ فَقَدْ أَشْرَكَ»: “যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর শপথ করল সে শিরক করল।” এটি আবূ দাঊদ (৩২৫১) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলন(৩): আমি একটি পত্র পাঠাবো:
যারা আল্লাহ তা‘আলার দীন অথবা কুরআন কারীমকে তাচ্ছিল্য করে, আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীর সাহায্য নিয়ে একটি পত্র লেখ:
وَلَئِن سَأَلۡتَهُمۡ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلۡعَبُۚ قُلۡ أَبِٱللَّهِ وَءَايَٰتِهِۦ وَرَسُولِهِۦ كُنتُمۡ تَسۡتَهۡزِءُونَ: আর আপনি তাদেরকে প্রশ্ন করলে অবশ্যই তারা বলবে, ‘আমরা তো আলাপ-আলোচনা ও খেলা-তামাশা করছিলাম।‘ বলুন, ‘তোমরা কি আল্লাহ্, তাঁর আয়াতসমূহ ও তাঁর রাসূলকে বিদ্রূপ করছিলে?’ لَا تَعۡتَذِرُواْ قَدۡ كَفَرۡتُم بَعۡدَ إِيمَٰنِكُمۡۚ: তোমরা ওজর পেশ করোনা তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরী করেছ। (সূরা আত-তাওবাহ: ৬৫-৬৬)।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
মুসলিমদেরকে গালি দেওয়া ও তাদের লা‘নত (অভিশাপ) দেওয়া বড় কুফর। (×)
কাফির ব্যক্তি মুসলিমের ওয়ারিশ হতে পারে কিন্তু মুসলিম ব্যক্তি কাফিরের ওয়ারিশ হতে পারে না। (×)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাচ্ছিল্য করা আসল ঈমানকেই নষ্ট করে দেয়। (✓)
ছোট শিরক সমস্ত আমল নষ্ট করে দেয়। (×)
আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্যের শপথ করা ছোট শিরক। (✓)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
আল্লাহ তা‘আলার (নিম্নোক্ত) বাণী: وَمَن يَكۡفُرۡ بِٱلۡإِيمَٰنِ فَقَدۡ حَبِطَ عَمَلُهُۥ: “আর কেউ ঈমানের সাথে কুফরী করলে তার কর্ম অবশ্যই নিষ্ফল হবে।” প্রমাণ করে যে:
(কুফর সমস্ত আমলকে বাতিল করে-ছোট কুফরের ভয়াবহতা - কাফিরদের আমলের কমতি ঘটায় )
ইবলীসের কুফর কোন ধরণের কুফরীর উদাহরণ:
(মিথ্যা প্রতিপন্ন করা- নিফাক- অহংকার)
ছোট শিরকের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে:
(আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যের কাছে দু‘আ করা- তাবীজ ঝুলানো- গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করা)
বড় শিরকের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে:
(তাবীজ ঝুলানো- গোণকের গায়েব জানার বিশ্বাস করা- মাখলূকের নামে শপথ করা)
বড় কুফর ও বড় শিরকের কুপ্রভাবের মধ্যে রয়েছে:
(আমল ধ্বংস হওয়া- তাওবা কবূল না হওয়া - প্রতিদানের ঘাটতি হওয়া)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
বড় শিরক এবং ছোট শিরকের মধ্যে তুলনা কর।
ছোট কুফরের একটি উদাহরণ দাও।
দ্বিতীয় পাঠ: তাওহীদ ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ (নিফাক ও রিদ্দাহ-মুরতাদ হওয়া)
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি নিফাকের পরিচয় তুলে ধরবে।
নিফাকের প্রকারসমূহের মধ্যে পার্থক্য করবে।
রিদ্দাহ তথা মুরতাদ হয়ে যাওয়ার কারণসমূহ বর্ণনা করবে।
মুসলিমদের জীবনে নিফাকের ভয়াবহতা অনুধাবন করবে।
নিফাক ও রিদ্দাহর কারণসমূহ থেকে দূরে থাকবে।
ভূমিকা:
আমরা পূর্ববর্তী পাঠে পড়েছি যে, কুফর এবং শিরক ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়, বর্তমান পাঠে আমরা অবশিষ্ট ঈমান ভঙ্গের কারণসমূহ পড়ব। তবে পাঠ শুরু করার আগে তোমার শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বড় কুফর ও ছোট কুফর এবং বড় শিরক ও ছোট শিরকের মধ্যকার পার্থক্যের সার-সংক্ষেপ বর্ণনা কর।
ঈমান ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ:
আল-কুফর
আশ-শিরক
আন-নিফাক
আর-রিদ্দাহ-মুরতাদ হওয়া
তৃতীয়ত: নিফাক
নিফাকের পরিচয়:
নিফাক হচ্ছে: কুফর গোপন করা ঈমান প্রকাশ করা।
নিফাক হচ্ছে একটি জঘন্য রোগ, যা উম্মাতের শক্তিকে দূর্বল করে দেয়; কেননা মুনাফিকরা তাদের ঈমানকে প্রকাশ করে বিধায় আমরা তাদের ক্ষতি সম্পর্কে জানতে পারি না; এ জন্যই আল্লাহ তা‘আলা তাদের কে হুঁশিয়ার করে বলেছেন: إِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ فِي ٱلدَّرۡكِ ٱلۡأَسۡفَلِ مِنَ ٱلنَّارِ وَلَن تَجِدَ لَهُمۡ نَصِيرًا: মুনাফিকরা তো জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে থাকবে এবং তাদের জন্য আপনি কখনো কোন সাহায্যকারী পাবেন না। (সূরা আন-নিসা: ১৪৫)।
নিফাকের প্রকারভেদ:
আকীদাগত নিফাক:
এটিকে বড় নিফাক বলা হয়, এটা হচ্ছে- অন্তরে কুফর গোপন রেখে ইসলামের বাহ্যিক আমলসমূহকে প্রকাশ করা। এ ধরণের নিফাক ব্যক্তিকে ইসলাম (মিল্লাত) থেকে বের করে দেয়, এবং এতে (আকীদাগত মুনাফিক) পতিত ব্যক্তি স্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকবে।
এর উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, ইসলাম অথবা কুরআনকে অপছন্দ করা। অথবা মুসলিমদের বিজয়কে অপছন্দ করা এবং কাফিরদের বিজয়ে আনন্দিত হওয়া।
আমলের সাথে সম্পর্কিত নিফাক:
এটিকে ছোট নিফাক বলে। এটি মুনাফিকদের আখলাক যা মুমিনদের থেকে (কখনো কখনো) প্রকাশ পেতে পারে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: آيَةُ المُنَافِقِ ثَلَاثٌ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ তথা: “মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি: যখন সে কথা বলে, তখন মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে, তখন তা ভঙ্গ করে, আর যখন তার কাছে আমানত রাখা হয় তখন সে তাতে খিয়ানাত করে।” এটি বুখারী (৩৩) ও মুসলিম (৫৮) বর্ণনা করেছেন।
আমলী মুনাফিক ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় না, কিন্তু তার উপরে তাওবা ওয়াজিব হয়, নতুবা কিয়ামাতের দিন সে আল্লাহ তা‘আলার আযাবের সম্মুখীন হবে।
চতুর্থত: রিদ্দাহ-মুরতাদ হয়ে যাওয়া
রিদ্দাহর পরিচয়:
রিদ্দাহ হচ্ছে: কথা, কাজ অথবা বিশ্বাসের দিক থেকে কোন মুসলিম ব্যক্তির ঈমান থেকে কুফরের দিকে প্রত্যাবর্তন করা।
রিদ্দাহর ধরনসমূহ
আকীদাগত রিদ্দাহ:
যেমন: আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্য কোন শরীক আছে বলে বিশ্বাস করা, অথবা বিশ্বাস করা যে, যিনা-ব্যভিচার, সুদ খাওয়া হালাল। সালাতের আবশ্যকতা অথবা মুসলিমদের ঐক্যমতে যা হালাল, হারাম অথবা ওয়াজিব তা অস্বীকার করা।
কথার মাধ্যমে রিদ্দাহ:
যেমন: আল্লাহ তা‘আলা, তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, তাঁর ফেরেশতাগণ অথবা তাঁর কোন একজন রসূলকে গালি দেওয়া, অথবা গায়েবের জ্ঞানের দাবী করা, নবুয়ত দাবী করা, অথবা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যা করতে কেউ সক্ষম নয়, সে বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে কিছু চাওয়া, যেমন: রোগ থেকে সুস্থতা কামনা করা।
কাজের মাধ্যমে রিদ্দাহ: যেমন: কোন কবর অথবা মূর্তির জন্য সিজদা দেওয়া এবং যাদু করা অথবা যাদু শিক্ষা দেওয়া।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি সাহায্য করব এবং লিখব:
কারণ উল্লেখ করে নিচের কাজগুলো থেকে নিফাকের প্রকারভেদ নির্দিষ্ট কর:
কাজ নিফাকের প্রকার কারণ
সালাতে সর্বদা অলসতা করা।
ইসলামের আহকাম নিয়ে তাচ্ছিল্য করা।
বন্ধুদেরকে ধোঁকা দেওয়া, এবং তাদের গোপনীয়তা প্রকাশ করা।
মুসলিম ব্যক্তি নিহত হলে আনন্দ পাওয়া।
নেক কাজে রিয়া বা প্রদর্শনেচ্ছা।
অনুশীলন (২): আমি পড়ব এবং নির্দিষ্ট করব:
নিচের কাজগুলো পড়ে দেখ, তারপরে কোন কাজগুলো করলে তাতে পতিত ব্যক্তি ইসলাম থেকে মুরতাদ হয়ে যাবে, তা নির্দিষ্ট কর:
কোন ব্যক্তি কুরআনকে কোন নাপাক স্থানে নিক্ষেপ করল।
কোন ব্যক্তি তার কোন মুসলিম প্রতিবেশীকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করল।
কোন ব্যক্তি দাবী করল যে, আল্লাহ তা‘আলা মদ পান করাকে হারাম করেননি।
কোন ব্যক্তি গণকের কাজ করে।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
ঈমানের আমল সংক্রান্ত পড়াশোনার মাধ্যমে মুসলিম ব্যক্তি রিদ্দাহ থেকে দূরে থাকতে পারে। (✓)
ওয়াদা ভঙ্গ করা বড নিফাকের অন্তর্ভুক্ত। (×)
রিদ্দাহ কেবল কাজের মাধ্যমে হয়, কথার মাধ্যমে হয় না। (×)
নিফাক উম্মাতের শক্তিকে দূর্বল করে দেয়, এবং তাদের ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে দেয়। (✓)
যে ব্যক্তি কুরআন কারীমের সত্যতা সম্পর্কে সন্দেহ করে সে মুরতাদ। (✓)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
নিফাকের প্রসার বন্ধ করার একটি উপায় হচ্ছে:
(এর ধরনগুলো সম্পর্কে সতর্ক করা- মুনাফিকদের সাথে মেলামেশা করা - মুনাফিকদের হত্যা করা)
কাজের মাধ্যমে রিদ্দাহর কারণসমূহ হচ্ছে:
(সিয়াম ত্যাগ করা- মূর্তির উদ্দেশ্যে সিজদা করা - দীনকে গালি দেওয়া)
যে নিফাক তার মধ্যে পতিত ব্যক্তি কে মিল্লাত থেকে বের করে দেয়, তা হচ্ছে:
(ছোট - কর্মগত- আকীদাগত)
প্রশ্ন ৩: তিনটি কর্মগত নিফাকের আলামত বর্ণনা কর।
তৃতীয় পাঠ: বিদা‘আত ও তার প্রকারভেদ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি বিদ‘আতের সংজ্ঞা দিবে।
বিদ‘আতের ভয়াবহতার দলীল দিবে।
বিদ‘আতের মূলনীতির ব্যাখ্যা করবে।
বিদ‘আতের প্রকারভেদ বর্ণনা করবে।
বিদ‘আতের হুকুম বর্ণনা করবে।
শরী‘আত সম্মত নয়,আল্লাহ তা‘আলার এমন ধরণের ইবাদাত থেকে দূরে থাকতে পারবে।
ভূমিকা:
ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: ইসলামের মধ্যে যদি কেউ কোন বিদ‘আতের আবিষ্কার করে সেটা কে উত্তম মনে করে, তাহলে সে ধারণা করে যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রিসালাতের খিয়ানত করেছেন; যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: ٱلۡيَوۡمَ أَكۡمَلۡتُ لَكُمۡ دِينَكُمۡ: “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করলাম।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ০৩)।
সুতরাং সেদিন যা দীনের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তা আজও দীনের মধ্যে গণ্য হবে না।
(শাত্বিবীর আল-ই‘তিসাম, ১/৪৯)।
বিদ‘আতের ভয়াবহতা সম্পর্কে ইমাম মালিক রহিমাহুল্লাহর বক্তব্য কী প্রমাণ করে?
বিদ‘আত:
বিদ‘আতের পরিচয়:
বিদ‘আত চেনার মূলনীতি
বিদ‘আতের প্রকারভেদ
বিদ‘আতের হুকুম
দীনের মধ্যে বিদ‘আত সৃষ্টি করা থেকে সতর্ক করা।
প্রথমত: বিদ‘আতের পরিচয়:
বিদ‘আতের প্রয়োগ হয় দীনের মধ্যে প্রতিটি এমন নবসৃষ্ট আকীদা ও ইবাদাতের ব্যাপারে যা কিতাব, সুন্নাহ অথবা পূর্ববর্তী উম্মাতের ইজমার খেলাফ।
দ্বিতীয়ত: দীনের মধ্যে বিদ‘আতের হুঁশিয়ারি:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদ‘আত সৃষ্টি করা থেকে সতর্ক করেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ»: “যে কেউ এমন কোনো আমল করবে যার উপরে আমাদের কোনো আদেশ (নির্দেশনা) নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।” এটি মুসলিম (১৭১৮) বর্ণনা করেছেন।
অন্য বর্ণনায় এসেছে: من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه، فهو ردٌّ “যে ব্যক্তি আমাদের এ দীনের মধ্যে নতুন কোন বিষয় সৃষ্টি করবে, যা তাতে নেই তা প্রত্যাখ্যাত।”
এটি বুখারী (২৬৯৭) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «... وَشَرَّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكَلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ»: “... সবচেয়ে জঘন্য বিষয় হচ্ছে (দীনের মধ্যে) নতুন বিষয়, প্রতিটি নতুন বিষয় বিদ‘আত আর প্রতিটি বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা।” এটি নাসাঈ (১৫৭৮) বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয়ত: বিদ‘আত চেনার মূলনীতি:
কোন কাজকে বিদ‘আত হিসাবে নির্ধারণ করার জন্য এমন কিছু মূলনীতি রয়েছে যা বিদ্যমান থাকা আবশ্যক, সেই মূলনীতিসমূহ হচ্ছে:
নতুনত্ব, এটি হচ্ছে কোন নতুন উদ্ভাবিত বস্তুকে (দীনের মধ্যে) নিয়ে আসা।
দীনের মধ্যে নতুনত্ব, সুতরাং দুনিয়াবী বিষয়ে বিদ‘আত প্রবেশ করবে না।
শরী‘আতের কোন দলীল না থাকা, সুতরাং শরী‘আতের দলীল থাকা বিষয়গুলো বিদ‘আত নয়।
চতুর্থত: দীনের মধ্যে বিদ‘আতের প্রকারভেদ:
আকীদাগত বিদ‘আত, যেমন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন সাহাবীকে অপবাদ দেওয়া, অথবা কবীরা গোনাহে লিপ্ত ব্যক্তিকে কুফরের হুকুম প্রদান করা।
কর্মগত বিদ‘আত, যেমন: মসজিদে মাযার নির্মাণ করা, এবং তার চারপাশে তাওয়াফ বা ঘোরাফেরা করা।
উক্তিমূলক বিদ‘আত, যেমন: জানাযার সাথে যাওয়ার সময়ে জোরে জোরে তাকবীর অথবা ”লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলা।
পঞ্চমত: বিদ‘আতের হুকুম:
দীনের মধ্যে প্রতিটি বিদ‘আতই হারাম এবং ভ্রষ্টতা, তবে এর হারাম হওয়ার স্তর নিম্নে বর্ণিত বিদ‘আতের শ্রেণি/প্রকার অনুযায়ী আলাদা হয়ে থাকে:
এমন বিদ‘আত যার কারণে তাতে পতিত ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে। যেমন: আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে যবাই বা মানত করা।
এমন বিদ‘আত যার কারণে তাতে পতিত ব্যক্তি ফাসিক হবে। যেমন: খারিজীদের মতাদর্শে বিশ্বাস করা।
এমন বিদ‘আত, যাতে পতিত ব্যক্তি গোনাহগার, যেমন: বৈরাগ্যতা গ্রহণ করা এবং আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য বিবাহ পরিত্যাগ করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি গভীরভাবে চিন্তা করে পার্থক্য করব:
সঠিক স্থানে চিহ্ন দিয়ে বিদ‘আতের প্রকারভেদের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর:
বিদ‘আত আমল সংশ্লিষ্ট আকীদা সংশ্লিষ্ট
কবীরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিকে খারেজীদের কাফির বলা।
নিষিদ্ধ ওয়াক্তে সালাত আদায়ে আগ্রহী হওয়া।
আমল সংঘটিত হওয়ার আগে বান্দার আমলের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার ইলমকে অস্বীকার করা।
বছরের প্রতিটি দিন সিয়াম পালন করা।
অলীগণ এবং আহলে বাইতের কাছে বিপদে আশ্রয় প্রার্থনা করা।
অনুশীলন (৩): আমি চিন্তা করে উত্তর দিব:
ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন: بَيْنَمَا النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ قَائِمٍ فِي الشَّمْسِ، فَسَأَلَ عَنْهُ، قَالُوا: هَذَا أَبُو إِسْرَائِيلَ نَذَرَ أَنْ يَقُومَ وَلَا يَقْعُدَ، وَلَا يَسْتَظِلَّ، وَلَا يَتَكَلَّمَ، وَيَصُومَ. قَالَ صلى الله عليه وسلم: «مُرُوهُ فَلْيَتَكَلَّمْ وَلْيَسْتَظِلَّ وَلْيَقْعُدْ، وَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ»: একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা বা বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন একজন ব্যক্তিকে দেখা গেল, সে সূর্যের তাপে দাঁড়িয়ে ছিল, তিনি তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তারা বললেন: সে হচ্ছে আবু ইসরাঈল, সে মানত করেছে যে, সে দাঁড়িয়ে থাকবে, বসবে না, ছায়া গ্রহণ করবে না, কথা বলবে না এমন অবস্থায় সিয়াম পালন করবে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তাকে কথা বলতে, ছায়া গ্রহণ করতে এবং বসতে আদেশ কর, এবং সে সিয়াম পূর্ণ করুক।” এটি আবূ দাঊদ (৩৩০২) বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি নিয়ে চিন্তা কর, তারপরে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আমরা এ হাদীসটি থেকে কী শিখলাম?
হাদীসে বর্ণিত লোকটি কী ধরণের বিদ‘আতে লিপ্ত হয়েছিল?
অনুশীলন (৩): আমি আলোচনা করব এবং অন্যদেরকে সতর্ক করব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিম্নোক্ত হাদীসের ভিত্তিতে বিদ‘আতের ভয়াবহতা সম্পর্কে তোমার শিক্ষকের সাথে আলোচনা কর: «مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً سَيِّئَةً، فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ كُتِبَ عَلَيْهِ مِثْلُ وِزْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا، وَلَا يَنْقُصُ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ»: “যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন মন্দ রীতিনীতির প্রচলন করবে, এবং তার পরে সেই রীতিনীতির উপরে আমল করা হলে ঐ ব্যক্তির উপরে যারা ঐ রীতিনীতির উপরে আমল করবে তাদের সমপরিমাণ গোনাহ লেখা হবে, তবে এর কারণে তাদের (আমলকারীদের) গোনাহ থেকে কোন কমতি করা হবে না।”
এটি মুসলিম (১০১৭) বর্ণনা করেছেন।
বিদ‘আত থেকে সতর্ক করে পাঁচটি লাইন লেখ।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
বিদ‘আত দীন ও শরী‘আতের সাথে নির্দিষ্ট।
শীয়া এবং খারেজীদের মতামত কর্মমূলক বিদ‘আতের মধ্যে গণ্য।
দীনের মধ্যে যাবতীয় বিদ‘আত হারাম এবং ভ্রষ্টতা।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ عَمِلَ عَمَلًا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ ..........» “যে কেউ এমন আমল করল যা আমাদের শরী‘আতে নেই তা ............।”
(ফরয- মাকরূহ - প্রত্যাখ্যাত)
বিদ‘আত চেনার মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত:
(নতুনত্ব- ইলম/জ্ঞান- মূর্খতা)
নিন্দিত বিদ‘আতের মধ্যে রয়েছে:
(গাড়ীতে আরোহন করা- কুরআনকে একটি মুসহাফে একত্রিত করা- কবর উঁচু করা)
এমন আমল যার শরী‘আতের দলীল রয়েছে এবং তা বিদ‘আতের মধ্যে প্রবেশ করবে না, এর মধ্যে রয়েছে:
(তারাবীহর সালাত- ধারাবাহিক বছর ব্যাপী সিয়াম পালন করা- যিনাকারীকে কাফির বলা)
প্রশ্ন ৩: বিদ‘আতের পরিচয় লেখ।
চতুর্থ পাঠ: তাযকিয়াতুন নাফস-আত্মপরিশুদ্ধির গুরুত্ব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি তাযকিয়াতুন নাফস দ্বারা কি বোঝায় তা ব্যাখ্যা করবে।
তাযকিয়াতুন নাফসের গুরুত্ব ও ফলাফলের উপরে দলীল পেশ করবে।
তোমার নিজের তাযকিয়াতুন নাফসের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করবে।
তোমার নিজের তাযকিয়াতুন নাফসের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
মানুষ তার বাহ্যিক সৌন্দর্য নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকে, এটি একটি ভালো বিষয়, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, তাযকিয়াতুন নাফস- নিজের আত্মশুদ্ধি বিষয়ে যত্নবান হওয়া। এ পাঠে আমরা তাযকিয়াতুন নাফসের অর্থ, গুরুত্ব ও ফলাফল শিখব।
প্রথমত: তাযকিয়াতুন নাফস বলতে কি বোঝানো হয় :
তাযকিয়াতুন নাফস বলতে বোঝায়: পাপ এবং খারাপ চেতনা থেকে অন্তরকে পবিত্র রাখা, এবং সেখানে কল্যাণকর সহজাত বিষয়ের বিকাশ ঘটানো; যা নাফসকে কল্যাণের উপরে টিকে থাকার দিকে ধাবিত করে এবং ইহসান ও আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণ পর্যবেক্ষনের (অনুভূতির) স্তরে উন্নীত করে।
দ্বিতীয়ত: তাযকিয়াতুন নাফসের গুরুত্ব:
তাযকিয়া নবীদের একটি দায়িত্ব:
নবীগণ আলাইহিমুস সালামের দাও‘আত শুধুমাত্র তাওহীদে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং মানুষকে তাযকিয়াতুন নাফসের উপরে গড়ে তোলাও তাদের দাও‘আতের অন্তর্ভুক্ত বিষয় ছিল। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: كَمَآ أَرۡسَلۡنَا فِيكُمۡ رَسُولٗا مِّنكُمۡ يَتۡلُواْ عَلَيۡكُمۡ ءَايَٰتِنَا وَيُزَكِّيكُمۡ وَيُعَلِّمُكُمُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحِكۡمَةَ وَيُعَلِّمُكُم مَّا لَمۡ تَكُونُواْ تَعۡلَمُونَ: “যেমন আমি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের কাছে একজন রসূল পাঠিয়েছি, যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করেন, তোমাদেরকে পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেন। আর তা শিক্ষা দেন যা তোমরা জানতে না। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৫১)।
তাযকিয়া সফলতার একটি কারণ:
আল্লাহ তা‘আলা পরকালের সফলতাকে আত্মশুদ্ধির সাথে যুক্ত করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (قَدۡ أَفۡلَحَ مَن زَكَّىٰهَا): “সেই সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে।” (সূরা আশ-শামস, আয়াত: ০৯)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন: (قَدۡ أَفۡلَحَ مَن زَكَّىٰهَا): “অবশ্যই সাফল্য অর্জন করবে যে পরিশুদ্ধ হয়।” (সূরা আল-আ‘লা, আয়াত: ১৪)।
তাযকিয়া বান্দার ঈমানকে বৃদ্ধি করে:
যে ব্যক্তি নেক আমল করে এবং পাপ পরিহার করে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে, তার ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «ثَلَاثٌ مَنْ فَعَلَهُنَّ فَقَدْ طَعِمَ طَعْمَ الْإِيمَانِ: مَنْ عَبَدَ اللهَ وَحْدَهُ، فَإِنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا الله، وَأَعْطَى زَكَاةَ مَالِهِ طَيِّبَةً بِهَا نَفْسُهُ... وَزَكَّى عَبْدٌ نَفْسَهُ»، فَقَالَ رَجُلٌ: مَا تَزْكِيَةُ الْمَرْءِ نَفْسَهُ يَا رَسُولَ اللهِ؟ قَالَ: «يَعْلَمُ أَنَّ اللهَ مَعَهُ حَيْثُ مَا كَانَ»: “তিনটি বিষয় এমন রয়েছে, যে ব্যক্তি সেগুলিকে পালন করবে, সে ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে: যে একমাত্র আল্লাহর ইবাদাত করবে; যেহেতু তিনি ব্যতীত কোন প্রকৃত মাবূদ নেই, অন্তর থেকে সন্তুষ্টচিত্তে তার সম্পদের যাকাত প্রদান করবে, ... এবং ব্যক্তি তার নিজেকে পরিশুদ্ধ করবে।” তখন এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রসূল, কোন ব্যক্তির নিজেকে পরিশুদ্ধ করার অর্থ কী? তিনি বললেন: “সে জানবে যে, সে যেখানেই থাকুক না কেন, আল্লাহ তার সাথে রয়েছেন।” এটি বাইহাকী সুনানে কুবরাতে (৭২৭৫) বর্ণনা করেছেন।
তাযকিয়াতুন নাফস বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্ব প্রদান:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিজের আত্মশুদ্ধির জন্য আগ্রহী ছিলেন, এবং এ ব্যাপারে তিনি আল্লাহর সাহায্য চাইতেন, এ সংক্রান্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দু‘আর মধ্যে রয়েছে: «اللهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا»: “হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরকে তাকওয়া দিন, একে পরিশুদ্ধ করুন, আপনিই সর্বোত্তম পরিশুদ্ধকারী, আপনিই তার মালিক এবং আপনিই তার অভিভাবক।” এটি সহীহ মুসলিম (২৭২২) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাফসের অনিষ্টতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন: «اللَّهُمَّ أَلْهِمْنِي رُشْدِي، وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي»:“হে আল্লাহ, আপনি আমাকে সঠিক পথ দেখান এবং আমাকে আমার নাফসের অনিষ্ট থেকে হিফাযত করুন।” এটি তিরমিযী (৩৪৮৩) বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয়ত: তাযকিয়াতুন নাফসের ফলাফল:
মুসলিম তাযকিয়াতুন নাফস দ্বারা আখিরাতে জান্নাত নিশ্চিত করতে পারে । আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: وَأَمَّا مَنۡ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِۦ وَنَهَى ٱلنَّفۡسَ عَنِ ٱلۡهَوَىٰ: “আর যে তার রবের অবস্থানকে ভয় করে এবং কুপ্রবৃত্তি হতে নিজকে বিরত রাখে। (৪০)” فَإِنَّ ٱلۡجَنَّةَ هِيَ ٱلۡمَأۡوَىٰ: “জান্নাতই হবে তার আবাস। (৪১)” (সূরা আন-নাযি‘আত, আয়াত: ৪০-৪১)।
আত্মাকে পরিশুদ্ধকারী জান্নাতের উঁচু স্তরে উন্নীত হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَن يَأۡتِهِۦ مُؤۡمِنٗا قَدۡ عَمِلَ ٱلصَّٰلِحَٰتِ فَأُوْلَٰٓئِكَ لَهُمُ ٱلدَّرَجَٰتُ ٱلۡعُلَىٰ: “আর যারা তাঁর কাছে সৎকর্ম করে মুমিন অবস্থায় আসবে, তাদের জন্যই রয়েছে উচ্চতম মর্যাদা।” جَنَّٰتُ عَدۡنٖ تَجۡرِي مِن تَحۡتِهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَاۚ وَذَٰلِكَ جَزَآءُ مَن تَزَكَّىٰ: স্থায়ী জান্নাত, যার পাদদেশে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা স্থায়ী হবে এবং এটা তাদেরই পুরস্কার যারা পরিশুদ্ধ হয়। (সূরা ত্বহা, আয়াত: ৭৫-৭৬)।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি পাঠ করব এবং আলোচনা করব:
উমার ইবনুল খত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: “তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগেই তোমরা নিজের হিসাব নাও, মহা উপস্থাপনের জন্য নিজেদেরকে সজ্জিত কর। নিশ্চয় যে ব্যক্তি দুনিয়াতেই নিজের হিসাব নিবে, কিয়ামাতের দিন সেই ব্যক্তির হিসাব হালকা হবে।” এটি তিরমিযী (২৪৫৯) বর্ণনা করেছেন।
আলোচ্য হাদীসের আলোকে তোমার শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে নিম্নোক্ত বিষয়ে আলোচনা কর:
তাযকিয়া (আত্মশুদ্ধি) বাস্তবায়নে মুহাসাবাতুন নাফস তথা আত্মসমালোচনার গুরুত্ব।
যখন মুমিন নিজের কোন কমতি বা পাপ দেখতে পাবে, তখন সে কী করবে?
অনুশীলন (২): আমি ব্যাখ্যা করব এবং চিন্তা করব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দু‘আ করতেন: «اللهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا»: “হে আল্লাহ! আপনি আমার অন্তরকে তাকওয়া দিন, একে পরিশুদ্ধ করুন, আপনিই সর্বোত্তম পরিশুদ্ধকারী, আপনিই তার মালিক এবং আপনিই তার অভিভাবক।” এটি সহীহ মুসলিম (২৭২২) বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা কর, তারপরে সঠিক পছন্দের সামনে চিহ্ন দাও:
প্রাপ্তি হাদীস যা প্রমাণ করে হাদীস যা প্রমাণ করে না
প্রতিটি মানুষের তাযকিয়াতুন নাফসের প্রয়োজন রয়েছে।
দু‘আ তাযকিয়াতুন নাফসের একটি মাধ্যম।
পাপীদের তাযকিয়াতুন নাফসের প্রয়োজন নেই।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১:নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
তাযকিয়ার অর্থ: মানুষের সামনে নিজের প্রশংসা করবে। (×)
তাযকিয়াতুন নাফসের মধ্যে রয়েছে উত্তম আচরণ করা এবং সত্য কথা বলা। (√)
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: (قَدۡ أَفۡلَحَ مَن زَكَّىٰهَا): “সেই সফলকাম হয়েছে, যে নিজেকে পবিত্র করেছে।”, তাযকিয়াতুন নাফসের উপরে ইঙ্গিত করে। (√)
আল্লাহ তা‘আলার সাথে কাউকে শিরক করা থেকে সর্বপ্রথম আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা আবশ্যক। (√)
অন্তরের রোগসমূহ তাযকিয়াতুন নাফসের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে না। (×)
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত কথাগুলোর পক্ষে একটি করে দলীল পেশ কর:
তাযকিয়াতুন নাফস নবীদের দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নাফসের অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
তাযকিয়াতুন নাফস জান্নাতে পৌঁছানোর রাস্তাসমূহের মধ্যে অন্যতম।
প্রশ্ন ৩: তাযকিয়াতুন নাফসের মর্ম ব্যাখ্যা কর।
পঞ্চম পাঠ: তাযকিয়াতুন নাফসের পদ্ধতিসমূহ:
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
আত্ম-সংশোধনের পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করবে।
আত্ম-সংশোধনের পদ্ধতিসমূহের দলীল পেশ করবে।
আত্ম-সংশোধনের গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
নিজের দোষ-ত্রুটি সংশোধন করবে।
ভূমিকা:
আব্দুল্লাহ এবং মুহাম্মাদ সমাজ সংশোধনের চিন্তা করছিল, তারা আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণী থেকে সমাধান খুঁজে পেল: إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوۡمٍ حَتَّىٰ يُغَيِّرُواْ مَا بِأَنفُسِهِمۡۗ: “আল্লাহ কোনো কওমের অবস্থার পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের পরিবর্তন ঘটায়।” (সূরা আর-রা‘দ: ১১)।
তখন তারা শুরুতে নিজেদের সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিল। কিন্তু তারা একে অপরকে জিজ্ঞাসা করতে লাগল: একজন মুসলিম ব্যক্তি কিভাবে তার নিজেকে পরিবর্তন করবে? এটাই আমরা এ পাঠ থেকে জানতে পারব।
আত্ম-সংশোধনের পদ্ধতিসমূহ:
আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ-একত্ব
সাহায্য চাওয়া এবং দু‘আ করা
পাপ থেকে দূরে থাকা
ফরযসমূহ আদায় করা
কুরআন কারীম তিলাওয়াত ও যিকর করা
আত্মসমালোচনা
নেককারদের সাথে উঠাবসা করা
তাযকিয়াতুন নাফস প্রতিটি মুসলিমের উপরে ওয়াজিব। এ ব্যাপারে সবচেয়ে সাহায্যকারী পথ হচ্ছে:
আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ:
কোন বান্দার নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সর্বপ্রথম পদ্ধতি হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার হকসমূহে তাওহীদ-একত্ব সাব্যস্থ করণ ও একমাত্র মহান রবের সাথে মুহাব্বাত, ভয় এবং আশার মাধ্যমে সম্পৃক্ত থাকা। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা যাকে হিদায়াত দান করবেন, তার বক্ষকে এ জন্য উন্মুক্ত করে দিবেন, ফলে সে সুন্দর নাফস বা আত্মা নিয়ে জীবন যাপন করতে পারবে।
আল্লাহ তা‘আলার কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর কাছে দু‘আ করা:
অন্তরকে পবিত্র করা এবং নিজেকে সংশোধন করার ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সে আল্লাহর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করবে; কেননা তাযকিয়াতুন নাফস অথবা আত্মার সংশোধন আল্লাহ তা‘আলার হাতেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَلَوۡلَا فَضۡلُ ٱللَّهِ عَلَيۡكُمۡ وَرَحۡمَتُهُۥ مَا زَكَىٰ مِنكُم مِّنۡ أَحَدٍ أَبَدٗا وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يُزَكِّي مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٞ: “আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া না থাকলে তোমাদের কেউই কখনো পবিত্র হতে পারতে না, তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছে পবিত্র করেন এবং আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (সূরা আন-নূর: ২১)।
পাপ থেকে দূরে থাকা:
যাবতীয় গুনাহ ও পাপ থেকে দূরে থাকা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য, হোক তা অন্তর অথবা বাহ্যিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে সংশ্লিষ্ট পাপ। পরনারীদের প্রতি তাকানোর নিষেধাজ্ঞা পর আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِمۡ وَيَحۡفَظُواْ فُرُوجَهُمۡۚ ذَٰلِكَ أَزۡكَىٰ لَهُمۡۚ: “মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করে; এটাই তাদের জন্য পবিত্রতম পন্থা।” (সূরা আন-নূর: ৩০)।
ফরযসমূহ আদায় করা:
শরী‘য়তে ইবাদাত ফরয করার অন্যতম একটি হিকমত হচ্ছে, সেগুলো অবশ্যই অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। যাকাতের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (خُذۡ مِنۡ أَمۡوَٰلِهِمۡ صَدَقَةٗ تُطَهِّرُهُمۡ وَتُزَكِّيهِم بِهَا): “তাদের সম্পদ থেকে সাদকা (যাকাত) নাও। এর মাধ্যমে তাদেরকে তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।” (আত-তাওবাহ: ১০৩)।
সুতরাং যাকাত অন্তরকে লোভ-লালসা, কৃপণতা, দুনিয়ার ভালোবাসা এবং এতে আগ্রহী হওয়া থেকে পবিত্র করে।
আল্লাহ তা‘আলার যিকর করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা:
অন্তরের উপরে আল্লাহ তা‘আলার যিকর এবং কুরআন কারীম তিলাওয়াত করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কুরআনকে নাযিল করেছেন অন্তরের রোগসমূহের শিফা এবং অন্তরের হিদায়াত স্বরূপ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ قَدۡ جَآءَتۡكُم مَّوۡعِظَةٞ مِّن رَّبِّكُمۡ وَشِفَآءٞ لِّمَا فِي ٱلصُّدُورِ وَهُدٗى وَرَحۡمَةٞ لِّلۡمُؤۡمِنِينَ) (يونس:57).: হে লোকসকল! তোমাদের প্রতি রবের কাছ থেকে এসেছে উপদেশ ও অন্তরসমূহে যা আছে তার আরোগ্য এবং মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত। (সূরা ইউনুস: ৫৭)।
আত্মসমালোচনা এবং এর নসীহত:
এমন কি তুমি আল্লাহ তা‘আলা যে কাজে সন্তুষ্ট হন, এমন কাজে প্রচেষ্টা চালাতে থাকো, আল্লাহ সুবহানাহু বলেছেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَلۡتَنظُرۡ نَفۡسٞ مَّا قَدَّمَتۡ لِغَدٖۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ خَبِيرُۢ بِمَا تَعۡمَلُونَ : “হে ঈমানদারগণ ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর ; এবং প্ৰত্যেকের উচিত চিন্তা করে দেখা আগামী কালের জন্য সে কী অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; তোমরা যা কর নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।” (সূরা আল-হাশর : ১৮)।
নেক লোকদের সাথে উঠাবসা করা এবং তাদের সান্নিধ্য লাভ:
আল্লাহ তা‘আলা নিম্নোক্ত বাণীর মাধ্যমে এ ব্যাপারে আমাদেরকে আদেশ করেছেন: وَٱصۡبِرۡ نَفۡسَكَ مَعَ ٱلَّذِينَ يَدۡعُونَ رَبَّهُم بِٱلۡغَدَوٰةِ وَٱلۡعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجۡهَهُ: “আর আপনি নিজকে ধৈর্যের সাথে রাখবেন তাদেরই সংসর্গে যারা সকাল ও সন্ধ্যায় ডাকে তাদের রবকে, তার চেহারার(দর্শন) উদ্দেশ্যে।” (সূরা আল-কাহাফ: ২৮)।
নেককার ও আত্মার অবস্থা ও দোষ-ত্রুটি সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিকে সঙ্গী হিসেবে গ্রহণ করা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা এবং তা সংশোধনের প্রচেষ্টার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি খুঁজে বের করব:
নিম্নোক্ত দলীলগুলো থেকে তাযকিয়াতুন নাফসের উপায়গুলি খুঁজে বের কর:
দলীল তাযকিয়ার উপায়সমূহ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ كُتِبَ عَلَيۡكُمُ ٱلصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِكُمۡ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ: “হে মুমিনগণ ! তোমাদের জন্য সিয়ামের বিধান লিখে দেওয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়ার অধিকারী হতে পার।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৩)।
সিয়াম পালন করা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: وَسَيُجَنَّبُهَا ٱلۡأَتۡقَى 17: “আর তা থেকে দূরে রাখা হবে পরম মুত্তাকীকে, (১৭)” ٱلَّذِي يُؤۡتِي مَالَهُۥ يَتَزَكَّىٰ: “যে স্বীয় সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির জন্য। (১৮)” (সূরা আল-লাইল: ১৭-১৮)।
যাকাত আদায় করা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: قَدۡ أَفۡلَحَ مَن تَزَكَّىٰ: “অবশ্যই সাফল্য লাভ করবে যে পরিশুদ্ধ হয়। (১৪) وَذَكَرَ ٱسۡمَ رَبِّهِۦ فَصَلَّىٰ: এবং তার রবের নাম স্মরণ করে ও সালাত কায়েম করে। (১৫)” (সূরা আল-আ‘লা: ১৪-১৫)।
আল্লাহ তা‘আলার যিকর করা এবং সালাত আদায় করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أَكْثِرُوا ذِكْرَ هَاذِمِ اللَّذَّاتِ»: “তোমরা উপভোগ বিনষ্টকারী(মৃত্যু)কে বেশী বেশী স্মরণ কর।” এটি তিরমিযী (২৩০৭) বর্ণনা করেছেন। মৃত্যুকে স্মরণ করা।
অনুশীলন (২): আমি অংশগ্রহণ করব এবং খুঁজে বের করব:
তাযকিয়াতুন নাফসের অনেক পথ ও পদ্ধতি রয়েছে, আবার এর সামনে অনেক বাধা এবং সমস্যাও রয়েছে, যেমন আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীতে কতিপয় উল্লেখ করা হয়েছে: سَأَصۡرِفُ عَنۡ ءَايَٰتِيَ ٱلَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ بِغَيۡرِ ٱلۡحَقِّ وَإِن يَرَوۡاْ كُلَّ ءَايَةٖ لَّا يُؤۡمِنُواْ بِهَا وَإِن يَرَوۡاْ سَبِيلَ ٱلرُّشۡدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلٗا وَإِن يَرَوۡاْ سَبِيلَ ٱلۡغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلٗاۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمۡ كَذَّبُواْ بِـَٔايَٰتِنَا وَكَانُواْ عَنۡهَا غَٰفِلِينَ: “যমীনে যারা অন্যায় ভাবে অহংকার করে বেড়ায় আমার নিদর্শনসমূহ থেকে আমি তাদের অবশ্যই ফিরিয়ে রাখব। আর তারা প্রত্যেকটি নিদর্শন দেখলেও তাতে ঈমান আনবে না এবং তারা সৎপথ দেখলেও সেটাকে পথ বলে গ্রহণ করবে না, কিন্তু তারা ভ্রান্ত পথ দেখলে সেটাকে পথ হিসেবে গ্রহণ করবে। এটা এ জন্য যে ,তারা আমার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করেছে এবং সে সম্বন্ধে তারা ছিল গাফেল।” (সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৪৬)।
তোমার শিক্ষকের সাহায্য নিয়ে উপরোক্ত আয়াতে উল্লেখিত তাযকিয়াতুন নাফসের বাধাসমূহ খুঁজে বের কর।
অহংকার, সীমালঙ্ঘন, জুলুম, আল্লাহ তা‘আলার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা, সত্যকে প্রত্যাখ্যান করা এবং তা গ্রহণ না করা।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ করা তাযকিয়াতুন নাফসের একটি অন্যতম পদ্ধতি। (√)
আত্মসংশোধন সমাজ সংশোধনের দিকে ধাবিত করে। (√)
তাযকিয়া একটি অভ্যন্তরীণ বিষয় যা বাহ্যিক কারণ দ্বারা প্রভাবিত হয় না। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
আনুগত্যসমূহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আমল যা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে:
(নফল সালাত- ফকীরদেরকে সদকা করা- আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ)
তাযকিয়াতুন নাফসের একটি অন্যতম মাধ্যম:
(প্রচেষ্টা (সাধনা)- রুখসত গ্রহণ করা- সম্পদ ভোগ ত্যাগ করা)
আত্ম সংশোধনের একটি উপায় হল মৃত্যুকে স্মরণ এবং যিয়ারত করা :
(আত্মীয় স্বজন- বন্ধুগণ- কবর)
প্রশ্ন ৩: তাযকিয়াতুন নাফসের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে নিচে প্রদত্ত এমন প্রতিটি কাজের একটি করে দলীল লেখ:
সালাত কায়েম করা।
কুরআন কারীম তিলাওয়াত করা।
পাপ থেকে দূরে থাকা।
প্রশ্ন ৪: আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে এবং ত্রুটি সংশোধনে নেককার লোকদের সাথে উঠা-বসার প্রভাব ব্যাখ্যা কর।
ষষ্ঠ পাঠ: অন্তরের আমলসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
অন্তরের গুরুত্বপূর্ণ আমলসমূহ বর্ণনা করবে।
অন্তরের আমলসমূহের দলীল দিবে।
অন্তরের আমলসমূহের গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
তুমি অন্তরের আমলসমূহের প্রতি যত্নবান হবে।
ভূমিকা:
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ألا وإن في الجسد مضغة (قطعة لحم) إذا صلحت صلح الجسد كله، وإذا فسدت فسد الجسد كله، ألا وهي القلب»: “নিশ্চয় শরীরের মধ্যে একটি মাংসের টুকরা রয়েছে, যখন সেটি ভাল হয়ে যায়, তখন সমস্ত শরীরই ভাল হয়ে যায়। আর যখন সেটি নষ্ট হয়ে যায়, তখন সমস্ত শরীরই নষ্ট হয়ে যায়। সেটি হচ্ছে: ক্বলব-অন্তর।” এটি সহীহ বুখারী (৫২) ও মুসলিম (১৫৯৯) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন ক্বলব বা অন্তরকে এতটা গুরুত্ব দিয়েছেন?
প্রশ্নটির উত্তর দাও, তারপরে পাঠটি সমাপ্ত করে তোমার উত্তটির মূল্যায়ন কর।
অন্তরের আমলসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১- নিয়ত
২- আল্লাহ ও তাঁর রসূলের ভালোবাসা।
৩- ভয় এবং আশা
৪- মুরাকাবাহ(সারাক্ষণ আল্লাহর নজরদারি অনুভাব করা)
৫- তওবা-প্রত্যাবর্তন করা
৬- তাওয়াক্কুল-ভরসা করা
৭- আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করা
ক্বলব ( অন্তর) হচ্ছে মানুষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটা হচ্ছে অন্তরের আমলের এমন একটি স্থান, যা নেক আমল করার জন্য শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহকে আন্দোলিত করে। অন্তরের আমলসমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো:
নিয়ত এবং আল্লাহ তা‘আলার জন্য ইখলাস:
নিয়ত হল: সকল ধরণের নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভের ইচ্ছা এবং এটি সকল আমল কবুল হওয়ার একটি শর্ত। এছাড়াও বান্দার উপর ওয়াজিব হচ্ছে, সে সকল ইবাদাতে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য ইখলাস বজায় রাখবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى»: “নিশ্চয়ই সব আমল (কবূলের নির্ভরতা) নিয়তের উপর। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে।” এটি সহীহ বুখারী (১) ও মুসলিম (১৯০৭) বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে মুহাব্বাত:
এ মুহাব্বাত হবে, আল্লাহ তা‘আলার কাছে যা রয়েছে, সেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া,পাপ ত্যাগ ও নেক আমলের দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টির প্রচেষ্টায় রত থাকা এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণের মাধ্যমে। আল্লাহ তা‘আলা এবং তাঁর রসূলের মুহাব্বাত ঈমানের সাথে জড়িত একটি বিষয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ اللهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا»: যার অর্থ: “কোন ব্যক্তি (প্রকৃত) মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ঔ ব্যক্তির কাছে অন্য সব কিছু থেকে প্রিয় না হবে।” এটি আহমাদ (১২৭৩৯) বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ ও তাঁর রসূলের মুহাব্বাতের সাথে জড়িত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে: কুরআন কারীমের মুহাব্বাত, মুসলিমদের মুহাব্বাত, ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য কল্যাণকর এবং তাদের মর্যাদা উঁচুকারী প্রতিটি বিষয়কে মুহাব্বাত করা।
ভয় এবং আশা:
ভয় হচ্ছে: সম্মান এবং মুহাব্বাত সহকারে আল্লাহ তা‘আলাকে ও তাঁর আযাবকে ভয় পাওয়া এবং পাপ কাজ ত্যাগ করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: قُلۡ إِنِّيٓ أَخَافُ إِنۡ عَصَيۡتُ رَبِّي عَذَابَ يَوۡمٍ عَظِيمٖ: “বলুন, 'আমি যদি আমার রবের অবাধ্য হই, তবে আমি অবশ্যই ভয় করি মহাদিবসের শাস্তির।'” (সূরা আল-আন‘আম: ১৫)।
আশা হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার রহমতের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া। তাঁর ইহসান কামনা করা, সেই সাথে তার আনুগত্যে প্রচেষ্টা রত থাকা। যেমন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: وَٱلَّذِيٓ أَطۡمَعُ أَن يَغۡفِرَ لِي خَطِيٓـَٔتِي يَوۡمَ ٱلدِّينِ তথা: “এবং যার কাছে আশা করি যে, তিনি কিয়ামাতের দিন আমার অপরাধ ক্ষমা করে দেবেন।” (সূরা আশ-শু‘আরা: ৮২)।
মুরাকাবাহ:(সারাক্ষণ আল্লাহর নজরদারি অনুভাব করা)
মুরাকাবাহ হচ্ছে: বান্দার একথা জানা ও দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহ তা‘আলা তার প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য সকল কিছু সম্পর্কে অবহিত। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (إِنَّ ٱللَّهَ كَانَ عَلَيۡكُمۡ رَقِيبٗا): “নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপরে পূর্ণ পর্যবেক্ষক।” (সূরা আন-নিসা: ০১)।
তওবা-প্রত্যাবর্তন করা:
এটি হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার কাছে তাওবা এবং তাঁর কাছে ফিরে আসা। আর অধিক পরিমাণে নেক আমল করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَأَنِيبُوٓاْ إِلَىٰ رَبِّكُمۡ وَأَسۡلِمُواْ لَهُۥ مِن قَبۡلِ أَن يَأۡتِيَكُمُ ٱلۡعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنصَرُونَ: “আর তোমরা তোমাদের রবের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর তোমাদের কাছে শাস্তি আসার আগে; তার পরে তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।” (আয-যুমার: ৫৪)।
তাওয়াক্কুল-ভরসা করা:
এটি হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার উপরে নির্ভর করা, তাঁর কুদরত, হিকমাত এবং অনুগ্রহের উপরে আস্থা রাখা। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপরে তাওয়াক্কুল করে, তিনি তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَن يَتَوَكَّلۡ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسۡبُهُ: “আর যে আল্লাহর উপরে তাওয়াক্কুল করবে, তিনিই তাঁর জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন।” (সূরা আত-ত্বলাক: ০৩)।
আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করা:
এটি হবে আল্লাহ তা‘আলার মাহাত্মকে অনুধাবন করা, তাঁর ইবাদাত করা এবং তাঁর আদেশকৃত বিষয়ের মর্যাদা উঁচু রাখা। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ذَٰلِكَۖ وَمَن يُعَظِّمۡ شَعَٰٓئِرَ ٱللَّهِ فَإِنَّهَا مِن تَقۡوَى ٱلۡقُلُوبِ: “এটাই আল্লাহর বিধান এবং কেউ আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে এ তো তার হৃদয়ের তাকওয়াপ্রসূত।” (সূরা আল-হাজ্জ: ৩২)।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি চিন্তা করে জবাব দেব:
নবী যাকারিয়া আলাইহিস সালাম ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রশংসা করে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (إِنَّهُمۡ كَانُواْ يُسَٰرِعُونَ فِي ٱلۡخَيۡرَٰتِ وَيَدۡعُونَنَا رَغَبٗا وَرَهَبٗاۖ وَكَانُواْ لَنَا خَٰشِعِينَ): “নিশ্চয়ই তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত এবং তারা আমাকে ডাকত আগ্ৰহ ও ভীতির সাথে এবং তারা ছিল আমার নিকট ভীত-অবনত।” (সূরা আল-আম্বিয়া: ৯০)।
যদি কোন ব্যক্তি আশা ছেড়ে দিয়ে শুধু ভয় করে, তাহলে কী ঘটবে?
যদি কোন ব্যক্তি ভয় ছেড়ে দিয়ে শুধু আশা করে, তাহলে কী ঘটবে?
আশা ব্যতীত শুধুমাত্র ভয় করলে, তা মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার প্রতি ধাবিত করবে।
ভয় ব্যতীত শুধুমাত্র আশা করলে, তা মানুষকে আত্মপ্রতারণা এবং পাপে লিপ্ত হওয়ার প্রতি ধাবিত করবে।
অনুশীলন (২): আমি চিন্তা করে ফলাফল বের করব:
নিচের দলীলগুলো গভীর ভাবে চিন্তা কর, তারপরে সেখানে ইঙ্গিত রয়েছে এমন অন্তরের আমলসমূহ বের কর:
দলীল অন্তরের আমলসমূহ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (وَٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى ٱلۡخَٰشِعِينَ): “আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর নিশ্চয়ই তা বিনয়ীরা ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন।” (সূরা আল-বাকারাহ: ৪৫)।
সবর
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ذَٰلِكَ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ عَلَيۡنَا وَعَلَى ٱلنَّاسِ وَلَٰكِنَّ أَكۡثَرَ ٱلنَّاسِ لَا يَشۡكُرُونَ: “এটা আমাদের ও সমস্ত মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।” (সূরা ইউসুফ: ৩৮)।
আশ-শুকর (কৃতজ্ঞতা)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: (قُلۡ إِنِّيٓ أُمِرۡتُ أَنۡ أَعۡبُدَ ٱللَّهَ مُخۡلِصٗا لَّهُ ٱلدِّينَ): “বলুন, 'আমি তো আদেশপ্রাপ্ত হয়েছি, আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠ(ইখলাস নিয়ে) হয়ে তাঁর ইবাদাত করতে;” (সূরা আয-যুমার: ১১)। ইখলাস
অনুশীলন (৩): আমি চিন্তা করব এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হব:
একজন মুসলিমের জীবনে বার বার ঘটে থাকে এমন আমলের মধ্যে রয়েছে: সালাতে খুশু বা বিনত হওয়া এবং কুরআন কারীম তিলাওয়াতের সময়ে আন্তরিকভাবে মনোসংযোগ করা। এর ভিত্তিতে, তোমাকে সালাতের মধ্যে খুশু আনতে সাহায্য করবে এমন পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি সম্পর্কে চিন্তা কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
আশা প্রায়ই যার সাথে সংযুক্ত থাকে তা:
(মুহাব্বাত- তাওয়াক্কুল- ভয়)
আল্লাহর বাণী: مَّنۡ خَشِيَ ٱلرَّحۡمَٰنَ بِٱلۡغَيۡبِ وَجَآءَ بِقَلۡبٖ مُّنِيبٍ: “যারা গায়েব অবস্থায় দয়াময় আল্লাহকে ভয় করেছে এবং তার প্রতি ধাবিত চিত্তে উপস্থিত হয়েছে।” প্রমাণ করে:
(আশা ও ভয়- ভয় ও প্রত্যাবর্তন হওয়া- খুশু এবং সাহায্য চাওয়া)
সময়মত সালাত আদায় করা যার প্রতি ইঙ্গিত করে:
(আশা- নিদর্শনসমূহের সম্মান- তাওয়াক্কুল)
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর পক্ষে একটি করে দলীল পেশ কর:
ইবাদাতে ইখলাস থাকার অপরিহার্যতা।
ঈমানের সাথে মুহাব্বাতের সম্পর্ক।
ভয় ও আশা একত্র হওয়া।
প্রশ্ন ৩: “প্রত্যাবর্তন হাওয়া - মুরাকাবাহ/পর্যবেক্ষণ” দ্বারা উদ্দেশ্য কী তা ব্যাখ্যা কর।
সুন্নাহ এবং শামায়েল-গুণাবলী অধ্যায়
প্রথম পাঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ থেকে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
উম্মাতের উপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকসমূহ বর্ণনা করবে।
উম্মাতের উপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকসমূহের দলীল পেশ করবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকসমূহ আদায়ের গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকসমূহ আদায় করবে।
ভূমিকা:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (ٱلنَّبِيُّ أَوۡلَىٰ بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ مِنۡ أَنفُسِهِمۡۖ): “নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়েও ঘনিষ্টতর।” (সূরা আল-আহযাব: ০৬)।
এ আয়াতের অর্থ সম্পর্কে তোমার শিক্ষকের সাথে আলোচনা কর।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকসমূহ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুহাব্বাত করা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করা এবং মর্যাদা দেওয়া
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরন করা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে দরুদ (সালাত) পাঠ করা
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে শুধু ঈমান আনায়ন করাই আমাদের একমাত্র কর্তব্য নয়, বরং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের মধ্যে আরো রয়েছে, কুরআন কারীম ও সুন্নাহ নববীতে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যাবতীয় হকসমূহ আদায় করা, উক্ত হকসমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হক হচ্ছে:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করার অর্থ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করা, আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ : “যে ব্যক্তি রসূলের আনুগত্য করবে, সে আল্লাহর আনুগত্য করবে।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য জান্নাতে প্রবেশ করার কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার সকল উম্মাত জান্নাতে যাবে, যে অস্বীকার করবে সে ব্যতীত।” তারা জিজ্ঞেস করলেন, কে অস্বীকার করবে? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “যারা আমার আনুগত্য স্বীকার করেছে তারা জান্নাতে যাবে। আর যে আমার নাফরমানী করল সেই অস্বীকার করল।” এটি সহীহ বুখারী (৭২৮০) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুহাব্বাত করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুহাব্বাত করা ওয়াজিব, এটি ছাড়া ঈমান বাস্তবায়িত হতে পারে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ»: “তোমাদের মধ্যে কেউ (পূর্ণ) মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান-সন্ততি এবং অন্যান্য সকল মানুষ হতে প্রিয়তম হই।” এটি সহীহ বুখারী (১৫) ও সহীহ মুসলিম (৪৪) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করা এবং মর্যাদা দেওয়া:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করা, তাকে মর্যাদা দেওয়া এবং তার সাথে আদব বজায় রাখার বিষয়টি আল্লাহ তা‘আলা আবশ্যক করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَرۡفَعُوٓاْ أَصۡوَٰتَكُمۡ فَوۡقَ صَوۡتِ ٱلنَّبِيِّ وَلَا تَجۡهَرُواْ لَهُۥ بِٱلۡقَوۡلِ كَجَهۡرِ بَعۡضِكُمۡ لِبَعۡضٍ أَن تَحۡبَطَ أَعۡمَٰلُكُمۡ وَأَنتُمۡ لَا تَشۡعُرُونَ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তার সাথে সেরূপ উচ্চস্বরে কথা বলো না; এ আশঙ্কায় যে, তোমাদের সকল কাজ বিনষ্ট হয়ে যাবে অথচ তোমরা উপলব্ধিও করতে পারবে না।” (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ০২)।
ইমাম মালিক ইবনু আনাস রহিমাহুল্লাহ যখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের সম্মানে তিনি অযু করতেন এবং সবচেয়ে সুন্দর পোষাক পরতেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুহাব্বাতের সত্যতার দলীল, এবং আল্লাহ তা‘আলার মুহাব্বাতের মাধ্যমে সফলতার পথ। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: قُلۡ إِن كُنتُمۡ تُحِبُّونَ ٱللَّهَ فَٱتَّبِعُونِي يُحۡبِبۡكُمُ ٱللَّهُ وَيَغۡفِرۡ لَكُمۡ ذُنُوبَكُمۡۚ وَٱللَّهُ غَفُورٞ رَّحِيمٞ: “বলুন, ‘তোমরা যদি আল্লাহকে ভালবাস তবে আমাকে অনুসরণ কর, আল্লাহ্ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৩১)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরুদ) পাঠ করা এবং সালাম দেওয়া:
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরুদ) পাঠ করা এবং সালাম দেওয়ার আদেশ করেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (إِنَّ ٱللَّهَ وَمَلَٰٓئِكَتَهُۥ يُصَلُّونَ عَلَى ٱلنَّبِيِّۚ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ صَلُّواْ عَلَيۡهِ وَسَلِّمُواْ تَسۡلِيمًا) নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফিরিশতাগণ নবীর জন্য দো‘আ-ইসতেগফার করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর উপর সালাত (দরুদ) পাঠ করো এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও। (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৫৬)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরুদ) পাঠ করার অনেক বড় সওয়াব রয়েছে, এছাড়াও কাজ সহজ হওয়া, হাজত পূর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে এর প্রভাব রয়েছে। এর ফযীলত সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য: «مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا»: “কেউ আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করলে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন।” এটি সহীহ মুসলিম (৩৮৪) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলন কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি পড়ে জবাব দেব:
এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম, আপনি আমার কাছে আমার নিজের থেকেও অধিক প্রিয়। আপনি আমার কাছে আমার পরিবার এবং আমার সম্পদ থেকেও অধিক প্রিয়। আপনি আমার কাছে আমার সন্তান থেকেও অধিক প্রিয়। আমি যখন আমার বাড়িতে থাকি আর আপনার কথা মনে পড়ে, তখন আপনার কাছে এসে আপনাকে না দেখা পর্যন্ত সবর করতে পারি না।যখন আমি আমার মৃত্যু ও আপনার মৃত্যুর কথা মনে করি, তখন আমি বুঝতে পারি যে, আপনি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তখন নবীদের সাথে (উচ্চস্তরে) উন্নীত হবেন, আর আমি যখন জান্নাতে যাব, তখন আমার ভয় হয় যে, আমি আপনাকে দেখতে পাব না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কোন উত্তর দিলেন না, যতক্ষণ না জিবরীল আলাইহিস সালাম এ আয়াত নিয়ে আগমন করেন: وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَأُوْلَٰٓئِكَ مَعَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ وَٱلصِّدِّيقِينَ وَٱلشُّهَدَآءِ وَٱلصَّٰلِحِينَۚ وَحَسُنَ أُوْلَٰٓئِكَ رَفِيقٗا “আর কেউ আল্লাহ এবং রসূলের আনুগত্য করলে সে নবী, সিদ্দীক (সত্যনিষ্ঠ), শহীদ ও সৎকর্মপরায়ণ, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন- তাদের সঙ্গী হবে এবং তারা কত উত্তম সঙ্গী!” (সূরা আন-নিসা: ৬৯) (ত্বাবারানী (৪৭৭) বর্ণনা করেছেন তার আল-আউসাত্ব গ্রন্থে)।
এ ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষন কর, তারপর ঘটনাটির বাক্যাংশগুলি তালিকাটিতে নির্দেশিত অর্থের সাথে মিল কর:
বাক্য যার প্রতি ইঙ্গিত করে
إِنَّكَ لَأَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ نَفْسِي، وَإِنَّكَ لَأَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَهْلِي وَمَالِي، وَأَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ وَلَدِي. আপনি আমার কাছে আমার নিজের থেকেও অধিক প্রিয়। আপনি আমার কাছে আমার পরিবার এবং সম্পদ থেকেও অধিক প্রিয়। আপনি আমার সন্তান থেকেও অধিক প্রিয়।
জান্নাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উচ্চ মর্যাদা।
أَنَّكَ إِذَا دَخَلْتَ الْجَنَّةَ رُفِعَتْ مَعَ النَّبِيِّينَ. “আপনি যখন জান্নাতে প্রবেশ করবেন, তখন নবীদের সাথে (উচ্চস্তরে) উন্নীত হবেন।”
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অতিরিক্ত মুহাব্বাত করা।
وَمَن يُطِعِ ٱللَّهَ وَٱلرَّسُولَ فَأُوْلَٰٓئِكَ مَعَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمَ ٱللَّهُ عَلَيۡهِم مِّنَ ٱلنَّبِيِّـۧنَ: “আর কেউ আল্লাহ এবং রাসূলের আনুগত্য করলে সে নবীগণ ... ... ... যাদের প্রতি আল্লাহ্ অনুগ্রহ করেছেন- তাদের সঙ্গী হবে।” এমন একটি বিষয় যা সাহাবীকে বিচলিত করে আর তিনি বিষয়টি না হওয়ার ব্যাপারে ভয় করেন।
إِنِّي إِذَا دَخَلْتُ الْجَنَّةَ خَشِيتُ أَلَّا أَرَاكَ: “আর আমি যখন জান্নাতে যাব, তখন আমার ভয় হয় যে, আমি আপনাকে দেখতে পাব না।”
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসারীদের প্রতিদান।
অনুশীলন (২): পরস্পর সহযোগিতা করব ও মতামত পেশ করব:
তুমি তোমাদের পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকের ব্যাপারে সচেতন করার উপায় বের করার ব্যাপারে তোমার সহপাঠীদেরকে সাহায্য কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম গুণাবলী ও আমাদের উপরে তার মর্যাদার কারণে তাকে ভালোবাসি।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর দরুদ ও সালামের জন্য নির্দিষ্ট সময় রয়েছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ আল্লাহ তা‘আলাকে মুহাব্বাত করার সত্যতা প্রমাণ করে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করার বিষয়টি সাহাবাদের মধ্যে যারা তাকে দেখেছেন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হচ্ছেন মানবতার পূর্ণাঙ্গ এমন মডেল, যাকে অনুসরণ করা যায়।
প্রশ্ন ২: নিম্নে প্রদত্ত বাক্যগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যে হকসমূহ প্রমাণ হয় সেগুলো বর্ণনা কর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَبَى»: “যে ব্যক্তি আমার অনুসরণ করল, সে জান্নাতে প্রবেশ করল। আর যে ব্যক্তি আমার অবাধ্য হল, সে অস্বীকার করল।”
ইমাম মালিক যখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন, তখন তিনি অযু করতেন এবং সুন্দর পোষাক পরিধান করতেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ»: “তোমাদের মধ্যে কেউ (পূর্ণ) মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান-সন্ততি এবং অন্যান্য সকল মানুষ হতে প্রিয়তম হই।”
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
মুসলিমদের উপরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি তিনটি আবশ্যকীয় করণীয় উল্লেখ কর।
একজন মুসলিমের করা উচিত এমন তিনটি দৈনিক কাজ লেখ, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে পূর্ণতার প্রতিফলন ঘটায়।
দ্বিতীয় পাঠ: আহলে বাইতের ফযীলত এবং তাদের হক বা অধিকারসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ থেকে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইত (পরিবারবর্গ) বলতে কী বোঝায়, তুমি তা ব্যাখ্যা করবে।
আহলে বাইতের ফযীলতের ব্যাপারে দলীল দিবে।
আহলে বাইতের বিশেষ হুকুমসমূহ ব্যাখ্যা করবে।
নবী পরিবারের অধিকারসমূহ বর্ণনা করবে।
আহলে বাইতের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসীয়ত বাস্তবায়ন করবে।
আহলে বাইতের মর্যাদা অনুধাবন করবে।
উমার একবার সালাতের মধ্যে ইমামকে আল্লাহ তা‘আলার নিচের বাণী পাঠ করতে শুনল: إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذۡهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجۡسَ أَهۡلَ ٱلۡبَيۡتِ وَيُطَهِّرَكُمۡ تَطۡهِيرٗا: “ হে নবীপরিবার , আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।” (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৩)।
তখন সালাত শেষে সে ইমামকে জিজ্ঞাসা করল: শাইখ! আহলে বাইত কারা? এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাদের কেন নির্দিষ্ট করেছেন? তাদের জন্য কী আলাদা বিশেষ কিছু হক রয়েছে?
প্রিয় পাঠক ভাই, তুমি বক্ষমাণ পাঠে এসব প্রশ্নেরই জবাব পেতে যাচ্ছ।
প্রথমত: আহলে বাইত কারা?
আরবী «آل» শব্দটির অর্থ হচ্ছে: কোন ব্যক্তির পরিবার, সন্তান ও স্ত্রীগণ।
«آل البيت» বা আহলে বাইত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে: নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার-পরিজন যেমন: বনু হাশিম এবং বনু আব্দিল মুত্তালিব ও তাদের সন্তান-সন্ততিগণের মধ্য হতে যারা ঈমান এনেছে এবং অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ।
দ্বিতীয়ত: আহলে বাইতের ফযীলত:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান এবং তার সাথে বংশগত সম্পর্কের কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার সম্মান পাওয়ার হকদার; এর স্বরূপসমূহ:
আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অনৈতিকতা এবং শয়তানের জঘন্য কাজ থেকে পবিত্র রেখেছিলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: إِنَّمَا يُرِيدُ ٱللَّهُ لِيُذۡهِبَ عَنكُمُ ٱلرِّجۡسَ أَهۡلَ ٱلۡبَيۡتِ وَيُطَهِّرَكُمۡ تَطۡهِيرٗا: “হে নবী পরিবার, আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।” (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৩৩)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সম্মানে আল্লাহ তা‘আলা তাদের ভালোবাসতে এবং আন্তরিক হতে আদেশ করেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: قُل لَّآ أَسۡـَٔلُكُمۡ عَلَيۡهِ أَجۡرًا إِلَّا ٱلۡمَوَدَّةَ فِي ٱلۡقُرۡبَىٰۗ: “বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছ থেকে আত্মীয়তার সৌহার্দ্য ছাড়া অন্য কোন প্রতিদান চাই না।” (সূরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৩)।
তথা হে আল্লাহর রসূল, আপনি তাদের বলে দিন: হে মানুষ, তোমাদের আমি যে দাও‘আত দিচ্ছি, তার বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না শুধুমাত্র আমার আহলে বাইতের প্রতি আন্তুরিকতা রাখবে এবং তাদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে।
আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদেরকে উম্মাহাতুল মুমিনীন (মুমিনদের মা) হিসেবে ঘোষনা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ٱلنَّبِيُّ أَوۡلَى بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ مِنۡ أَنفُسِهِمۡۖ وَأَزۡوَجُهُۥٓ أُمَّهَتُهُمۡۗ “নবী মুমিনদের কাছে তাদের নিজেদের চেয়েও ঘনিষ্টতর এবং তার স্ত্রীগণ তাদের মা।” (সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ০৬)।
তৃতীয়ত: আহলে বাইতের সাথে খাস বা নির্দিষ্ট বিধানসমূহ:
তাদের যাকাত দেওয়া হারাম:
আহলে বাইতের কোন লোককে যাকাত প্রদান হারাম; তাদের উঁচু মর্যাদার কারণে এবং তাদের সম্মানকে সমুন্নত করার জন্য। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যাকাতের অর্থ হলো মানুষের (সম্পদের) আবর্জনা। তাই এটা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার বংশধরদের জন্য হালাল নয়।" এটি সহীহ মুসলিম (১০৭২) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের উপরও সালাত (দরূদ) পড়া:
এটা সালাতের মধ্যে তাশাহহুদের পরে এবং অন্যান্য সময়ে পড়তে হয়, আর সেটি এভাবে: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، وبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ : “হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের উপর এবং মুহাম্মাদের বংশধরদের উপর বরকত দান করুন, যেরূপ আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের বংশধরদের উপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।” এটি সহীহ বুখারী (৩৩৭০) বর্ণনা করেছেন।
তাদের ব্যাপারে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসীয়ত:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি উম্মাতকে তার আহলে বাইত সম্পর্কে উত্তম ব্যবহারের অসীয়ত করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «وَأَهْل بَيْتِي، أُذَكِّرُكُمُ اللهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي، أُذَكِّرُكُمُ اللهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي، أُذَكِّرُكُمُ اللهَ فِي أَهْلِ بَيْتِي»: “আর আমার আহলে বাইত। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমি তোমাদেরকে আমার আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।” এটি মুসলিম (২৪০৮) বর্ণনা করেছেন।
চতুর্থত: আহলে বাইত বা নবী পরিবারের অধিকারসমূহ:
আহলে বাইতের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ হকসমূহ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইত তথা পরিবার-পরিজনকে ভালোবাসা, সাহায্য করা এবং তাদের সাথে মুহাব্বত রাখা ওয়াজিব।
তাদেরকে অপছন্দ করা, তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা অথবা তাদের অকল্যাণ কামনা করা হারাম।
তাদেরকে মর্যাদা দেওয়া এবং কুরআন-সুন্নাহতে উল্লেখিত তাদের ফযীলতসমূহ সাব্যস্ত করা ওয়াজিব।
তাদেরকে অপমান করা, মন্দ বলা, গাল ও অভিশাপ দেওয়া ইত্যাদি হারাম।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিশেষ সম্মানার্থে এবং তার ইজ্জতের কারণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের বিবাহ করা হারাম।
কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা উম্মুল মুমিনীন ‘আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু আনহার অপবাদ থেকে মুক্তির ঘোষণার পরও যদি কেউ তাকে যিনার অপবাদ আরোপ করে, তাহলে সে ব্যক্তি কাফির।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি পড়ব এবং বাক্য রচনা করব:
নিচের হাদীসসমূহ পাঠ কর, তারপর আহলে বাইতের ফযীলত ও অধিকার সম্পর্কে সেখানে যা নির্দেশ করা হয়েছে তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও, তারপরে এ সম্পর্কে তোমার অনুভূতি ব্যক্ত কর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী বিন আবু তালিব রদিয়াল্লাহু আনহুকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন: «أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى عَلَيْهِمَا السَّلَامُ، إِلَّا أَنَّهُ لَا نَبِيَّ بَعْدِي»: “তুমি কী এতে সন্তুষ্ট নও যে, মূসার কাছে হারুন আলাইহিমাস সালাম যেমন, তুমি আমার কাছে মর্যাদায় তেমন। তবে পার্থক্য এটুকুই যে, আমার পরে আর কোন নবী আসবে না।” এটি সহীহ বুখারী (৩৭০৬) ও মুসলিম (২৪০৪) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাতিমাকে বলেছেন: «أَمَا تَرْضَيْنَ أَنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ»: “তুমি কী এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি জান্নাতী নারীদের সর্দারনী হবে।” এটি সহীহ বুখারী (৩৬২৪) ও মুসলিম (২৪৫০) বর্ণনা করেছেন।
‘আমর ইবনুল আ‘স রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: سألتُ النبيَّ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ: «عَائِشَةُ». فَقُلْتُ: مِنْ الرِّجَالِ؟ فَقَالَ: «أَبُوهَا»: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি জিজ্ঞাসা করলাম: মানুষের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে? তিনি বললেন: “আয়িশাহ।” তারপরে আমি বললাম: পুরুষদের মধ্যে? তিনি বললেন: “তার পিতা।” এটি বুখারী (৩৬৬২) ও মুসলিম (২৩৮৪) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলন (২): আমি চিন্তা করব এবং দলীল গ্রহণ করব:
যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরেও তাঁর প্রতি ঈমান আনেনি, তার কী সেটা কোন উপকারে আসবে?
নিম্নলিখিত আয়াতের সাথে এই অর্থের সম্পর্ক কী:
(تَبَّتۡ يَدَآ أَبِي لَهَبٖ وَتَبَّ 1 مَآ أَغۡنَىٰ عَنۡهُ مَالُهُۥ وَمَا كَسَبَ 2 سَيَصۡلَىٰ نَارٗا ذَاتَ لَهَبٖ): “ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দুহাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও (০১)। তার ধন-সম্পদ ও তার উপার্জন তার কোন কাজে আসেনি (০২)। অচিরেই সে দগ্ধ হবে লেলিহান আগুনে (০৩)।” (সূরা আল-মাসাদ: ১-৩)।
(وَنَادَىٰ نُوحٌ ٱبۡنَهُۥ وَكَانَ فِي مَعۡزِلٖ يَٰبُنَيَّ ٱرۡكَب مَّعَنَا وَلَا تَكُن مَّعَ ٱلۡكَٰفِرِينَ 42 قَالَ سَـَٔاوِيٓ إِلَىٰ جَبَلٖ يَعۡصِمُنِي مِنَ ٱلۡمَآءِۚ قَالَ لَا عَاصِمَ ٱلۡيَوۡمَ مِنۡ أَمۡرِ ٱللَّهِ إِلَّا مَن رَّحِمَۚ وَحَالَ بَيۡنَهُمَا ٱلۡمَوۡجُ فَكَانَ مِنَ ٱلۡمُغۡرَقِينَ): “নূহ তাঁর পুত্রকে, যে পৃথক ছিল, ডেকে বললেন: হে আমার প্রিয় পুত্র! আমাদের সাথে আরোহন কর এবং কাফিরদের সঙ্গী হয়ো না (৪২)। সে বলল: আমি এমন এক পর্বতে আশ্রয় নেব যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে। তিনি বললেন: আজ আল্লাহর হুকুম থেকে রক্ষা করার কেউ নেই, তবে যাকে আল্লাহ দয়া করবেন সে ছাড়া। আর তরঙ্গ তাদের মধ্যে অন্তরায় হয়ে গেল, ফলে সে নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হল (৪৩)।” (সূরা হুদ, আয়াত: ৪২-৪৩)।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্ত। (✓)
আহলে বাইতের ফযীলত ফাতিমা রদিয়াল্লাহু আনহা এবং তার সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট। (×)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যুর পর তার স্ত্রীদের বিবাহ করা হারাম ঘোষণার মাধ্যমে তাদের বিশেষায়িত করা হয়েছে। (✓)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
যারা আহলে বাইতের অন্তর্ভুক্তঃ
(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মামাগণ, স্ত্রীগণ, দাদাগণ)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যারা প্রথম ঈমান এনেছিলেন:
(খাদীজা এবং আলী- খাদীজা এবং আয়িশাহ- খাদীজা ও ফাতিমাহ)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আহলে বাইতের সম্মান উচ্চ করার ধরণগুলোর অন্তর্ভুক্ত হলোঃ
(তাদের স্ত্রীদের কে বিবাহে নিষেধাজ্ঞা , তাঁদেরকে সদাকাহ (যাকাত) গ্রহণে এবং মানুষের সাথে মেলামেশার নিষেধাজ্ঞা)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আহলে বাইত কারা?
আহলে বাইতের তিনটি হক লেখ।
আহলে বাইতের ফযীলতসমূহ থেকে দুটি ফযীলত দলীল সহ লেখ।
তৃতীয় পাঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার আহলে বাইতের হকের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও অবহেলাঃ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্যসমূহ (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার নিকট থেকে যা আশা করা হচ্ছে:
১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার পরিবারের হকের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন ও অবহেলার মর্ম ব্যাখ্য করবে।
২- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সম্মানিত পরিবারের হকের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন ও অবহেলার নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করবে।
৩- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার আহলে বাইতের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন ও অবহেলা থেকে সতর্ক করবে।
৪- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার আহলে বাইতের ব্যাপারে উদারতা ও মধ্যমপন্থার আহবান করবে।
ভুমিকা:
আব্দুল্লাহ বিন আবু ‘আওফা রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: মু‘আয রদিয়াল্লাহু আনহু শাম থেকে ফিরে এসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সিজদা করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: হে মু’আয ! এটা কী? তিনি বললেন: আমি শামে গিয়ে দেখতে পেয়েছি যে, সেখানকার লোকেরা তাদের ধর্মীয় নেতা ও শাসকদেরকে সিজদা করে। তাই আমি আমার অন্তরে ভালো লেগেছে যে, আমরা আপনার সামনে সেটাই করব। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা তা করবে না।” ইবন মাজাহ (১৮৫৩) এটি বর্ণনা করেছেন।
হাদীসের অর্থ নিয়ে তোমার শিক্ষকের সাথে আলোচনা কর, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সিজদা করতে নিষেধ করার কারণ উল্লেখ কর।
প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হক বা অধিকারের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনের দৃশ্যসমূহ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার প্রশংসা ও গুণ বর্ণনার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করা থেকে আমাদের কে সতর্ক করেছেন; কেননা এটা সীমালঙ্ঘনের দিকে ধাবিত করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا تُطْرُونِي كَمَا أَطْرَتْ النَّصَارَى ابْنَ مَرْيَمَ، فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُهُ، فَقُولُوا: عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ»: “তোমরা আমার বিষয়ে বাড়াবাড়ি করো না, যেমনটি খৃস্টানরা ঈসা বিন মারইয়াম সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করেছে। আমি তো কেবল তাঁর (আল্লাহর) বান্দা। তাই তোমরা বল, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।” এটি বুখারী (৩৪৪৫) বর্ণনা করেছেন।
এর উদাহরণ: এ দাবী করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গায়েব জানেন অথবা তিনি নূরের সৃষ্ট।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিপদে সাহায্য চাও:
আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কেউ ক্ষমতা রাখে না, এমন ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে চাওয়া, যেমন: গোনাহের ক্ষমা, রোগ থেকে সুস্থতা বা অনুরূপ বিষয়সমূহ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে চাইতে নিষেধ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللهَ، وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللهِ»: “তুমি যখন কিছু চাইবে আল্লাহর কাছেই চাইবে, আর সাহায্য চাইলে একমাত্র আল্লাহর কাছেই চাইবে।” এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন(২৫১৬)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে শপথ করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أَلَا إِنَّ اللهَ يَنْهَاكُمْ أَنْ تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ كَانَ حَالِفًا فَلْيَحْلِفْ باللهِ أَوْ لِيَصْمُتْ»: “সাবধান! নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের পিতাদের নামে শপথ করতে নিষেধ করছেন। যে ব্যক্তি শপথ করবে, সে (শুধুমাত্র) আল্লাহর নামেই শপথ করবে অথবা চুপ থাকবে।” এটি সহীহ বুখারী বর্ণনা করেছেন(৬৬৪৬)।
দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকের ব্যাপারে অবহেলার বহিপ্রকাশঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কম সম্মান করা:
কতিপয় মানুষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অন্তর হতে সম্মান করে না, তাঁর সুন্নাহকে মর্যাদা দেয় না, তাঁর ব্যাপারে কথা বলার ক্ষেত্রে আদব রক্ষা করে না। কিছু মানুষ এমনও রয়েছে যারা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর মধ্যে উল্লেখিত কাজকে তাচ্ছিল্য করে।
আল্লাহ তা‘আলা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে অন্যান্য মানুষের সাথে কথা বলার মত কথা বলা, আচরণ করা থেকে নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (لَّا تَجۡعَلُواْ دُعَآءَ ٱلرَّسُولِ بَيۡنَكُمۡ كَدُعَآءِ بَعۡضِكُم بَعۡضٗاۚ): “তোমরা রাসূলের আহ্বানকে তোমাদের একে অপরের আহবানের মত গণ্য করো না;” (সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান এবং তার অনুসরণ পরিত্যাগ করা:
আর সেটা হয়ে থাকে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসকে আকল (বিবেক) বিরোধী অথবা বাস্তবতার সাথে অমিল ইত্যাদি বলে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে। অনুরূপভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে অহংকার প্রদর্শণ করা, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণে অথবা সমসাময়িক অন্য কোন প্রসিদ্ধ ব্যক্তির অন্ধ অনুকরণের কারণে তার অনুসরণ ত্যাগ করার মাধ্যমে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরুদ) এবং সালাম পরিত্যাগ করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর সালাত (দরুদ) পাঠ আমাদের পক্ষে সর্বনিম্ন সম্ভবপর কাজ যা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হক থেকে আদায় করতে পারি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «الْبَخِيلُ الَّذِي مَنْ ذُكِرْتُ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيَّ»: “প্রকৃত কৃপণ সেই, যার কাছে আমি উল্লিখিত হলাম [আমার নাম উচ্চারিত হল], অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করল না।” এটি তিরমিযী (৩৫৪৬) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত এবং তার ফযীলত সম্পর্কে জ্ঞান না রাখা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত, জীবনী ও ফযীলত সম্পর্কে জ্ঞান নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান এবং তার অনুসরণকে বৃদ্ধি করে।
তৃতীয়ত: আহলে বাইতের হকের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন ও অবহেলা
আহলে বাইতকে মর্যাদা দেওয়া এবং সম্মান করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করার পরিপূরক। একজন মুসলিমের জন্য আহলে বাইতের কারো সমালোচনা করা বা গালি দেওয়া অথবা অভিশাপ দেওয়া বৈধ নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এগুলো করতে নিষেধ করেছেন।
এবং সাথে সাথে আহলে বাইতের ব্যাপারে কোন ধরণের বাড়াবাড়িও করা যাবে না। এর কতিপয় ধরণ হলো:
আহলে বাইতের প্রতিটি সদস্যকে মা‘ছুম (বে-গোনাহ) মনে করা:
এটা কুরআন কারীম ও সুন্নাতে নববীর বিপরীত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ»: “প্রত্যেক আদম সন্তানই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তাওবাকারীগণ উত্তম।” এটি তিরিমিযী (২৪৯৯) ও আহমাদ (১৩০৪৯) বর্ণনা করেছেন।
তাদের গায়েব জানার দাবী করা:
এটা কুরআন কারীমের বিরোধী। কেননা গায়েব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই জানেন। কতিপয় নবীগণ আলাইহিমুস সালাম-কে কিছু গায়েবের সংবাদ জানিয়ে তাদের উপর অহী নাযিল হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: عَٰلِمُ ٱلۡغَيۡبِ فَلَا يُظۡهِرُ عَلَىٰ غَيۡبِهِۦٓ أَحَدًا: “তিনিই গায়েবী বিষয়ের জ্ঞানী, তিনি তাঁর গায়েবের জ্ঞান কারও কাছে প্রকাশ করেন না, إِلَّا مَنِ ٱرۡتَضَىٰ مِن رَّسُولٖ: তাঁর মনোনীত রাসূল ছাড়া।” (সূরা আল-জিন, আয়াত:২৬-২৭)।
তাদের কাছে বিপদে উদ্ধার কামনা/সাহায্য চাওয়া:
উপকার লাভ অথবা ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য তাদের আহবান করা, আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া যে কাজ কেউ করতে সক্ষম নয়, এমন কাজে আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে আহবান করা শিরক, যেহেতু দু‘আ করা ইবাদাত।
তাদের কবরের পাশে তাওয়াফ করা এবং সেখানে সিজদা করা:
সিজদা করা একটি ইবাদাত, এটি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য করা জায়েয নয়। আর তাওয়াফ করা সম্মানিত কা‘বার জন্যই নির্দিষ্ট।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): আমি আমলসমূহের মধ্যে পার্থক্য করব:
নিম্নলিখিত প্রতিটি উপযুক্ত আমলের সামনে চিহ্ন দাও:
আমল বাড়াবাড়ি অবহেলা সুন্নাহ
(সা.) শব্দটি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর পরিবর্তে লেখা হলো। অবহেলা
টয়লেটে প্রবেশ করার আগের যিকিরসমূহ নিয়ে ঠাট্টা করা। অবহেলা
পোষাক পরিধান ও পানাহার করার ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শের অনুসরণ করা। সুন্নাহ
আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সমগ্র সৃষ্টি জগতকে সৃষ্টি করেছেন। সীমালঙ্ঘন
সকাল-সন্ধ্যায় যিকিরের মধ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরুদ) পড়া। সুন্নাহ
কোন ব্যক্তি বিশ্বাস করে, হাসান এবং হুসাইন (রদিয়াল্লাহু আনহুমা) জান্নাতীদের নেতা। সুন্নাহ
কোন ব্যক্তি বিশ্বাস করে যে, আলী ইবনু আবী ত্বালিব (রদিয়াল্লাহ আনহু) গায়েব জানেন। সীমালঙ্ঘন
কোন ব্যক্তি হুসাইন রদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতের কথা স্মরণ করে নিজেকে আহত করল। সীমালঙ্ঘন
অনুশীলন (২): আমি ফলাফল বের করব:
তোমার শিক্ষক ও গ্রুপের সহযোগিতা নিয়ে আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীর মধ্যে উল্লেখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আদব রক্ষার দিকসমূহ বের কর: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُقَدِّمُواْ بَيۡنَ يَدَيِ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٞ : “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে তোমরা কোন বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না, আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর; নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَرۡفَعُوٓاْ أَصۡوَٰتَكُمۡ فَوۡقَ صَوۡتِ ٱلنَّبِيِّ وَلَا تَجۡهَرُواْ لَهُۥ بِٱلۡقَوۡلِ كَجَهۡرِ بَعۡضِكُمۡ لِبَعۡضٍ أَن تَحۡبَطَ أَعۡمَٰلُكُمۡ وَأَنتُمۡ لَا تَشۡعُرُونَ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করো না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তার সাথে সেরূপ উচ্চস্বরে কথা বলো না; এ আশঙ্কায় যে, তোমাদের সকল কাজ বিনষ্ট হয়ে যাবে অথচ তোমরা উপলব্ধিও করতে পারবে না।” (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১-২)।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হক বা অধিকারের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘনের ধরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অতিরিক্ত মুহাব্বাত করা- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে শপথ করা- সকাল ও সন্ধ্যায় তার উপরে সালাত (দরুদ) পাঠ করা)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হক বা অধিকারের ক্ষেত্রে অবহেলারে ধরণসমূহের মধ্যে রয়েছে:
(তার সীরাত সম্পর্কে অজ্ঞতা- তার নামে নাম রাখা পরিত্যাগ করা- তাকে মানুষ বলা)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিপদে সাহায্য চাওয়া যাবে না; কারণ:
(এটা অলীদের জন্য খাস- খারাপ অভ্যাস- আল্লাহ তা‘আলার জন্য নির্দিষ্ট একটি ইবাদাত)
প্রশ্ন ২: উপযুক্ত শব্দাবলী দ্বারা নিচের বাক্যগুলি পূরণ কর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের তার প্রশংসার ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করতে নিষেধ করে বলেছেন: ................................
তাওয়াফ .......................... এর সাথে নির্দিষ্ট।
সিজদা ........................ ছাড়া কারো জন্য বৈধ নয়।
আহলে বাইতের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘনের ধরন হচ্ছে: ............... এবং .....................
প্রশ্ন ৩: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথা বলা বা তার থেকে হাদীস বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তাকে সম্মান জানানোর আবশ্যকতা সম্পর্কে একটি দলীল লেখ।
প্রশ্ন ৪: নিচে আসা বিষয়গুলির কারণ উল্লেখ কর:
আহলে বাইতের লোকেরা গুনাহ থেকে মা‘ছুম বা মুক্ত নন।
আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যা কেউ করতে সক্ষম নয়, এমন বিষয়ে আহলে বাইতের কাছে সাহায্য চাওয়া শিরক।
চতুর্থ পাঠ: সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুমদের ফযীলত এবং তাদের হকসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ অধ্যায়ন শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে:
তুমি নির্ধারণ করতে পারবে, সাহাবী দ্বারা উদ্দেশ্য কী?
সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুমদের ফযীলত সম্পর্কে দলীল বর্ণনা করবে।
কতিপয় সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুম এর জন্য খাস ফযীলত সম্পর্কে মূলকথা প্রস্তুত করতে পারবে।
মুসলিমদের উপরে সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুম-এর হকসমূহ বর্ণনা করতে পারবে।
সাহাবা রাদিয়াল্লাহু আনহুম বিশেষভাবে খুলাফায়ে রাশিদীনের অনুসরণ করবে।
সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মহান মর্যাদা অনুধাবন করতে পারবে।
ভূমিকা:
সাহাবী হচ্ছেন: এমন ব্যক্তি যিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়ামাল্লামের প্রতি ঈমান আনা অবস্থায় তার সাথে সাক্ষাত করেছেন, এবং ইসলামের উপর মারা গেছেন।
সাহাবীগণের (রদিয়াল্লাহু আনহুম) ফযীলত
সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুম-এর অসংখ্য ফযীলত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
সাহাবীদের ফযীলত:
আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গ লাভের মাধ্যমে ধন্য করেছেন এবং তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।
আল্লাহ তা‘আলা তাদের আমল ও আখলাকের প্রশংসা করেছেন।
সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুম হচ্ছেন উম্মাতের শ্রেষ্ট মানব।
তারা আমাদের কাছে কুরআন এবং নবীর সুন্নাতকে নকল করেছেন।
তাঁরা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সহযোগিতা এবং তাঁর সাথে মিলে জিহাদ করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁদের কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গ লাভের মাধ্যমে ধন্য করেছেন এবং জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَٱلسَّٰبِقُونَ ٱلۡأَوَّلُونَ مِنَ ٱلۡمُهَٰجِرِينَ وَٱلۡأَنصَارِ وَٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُم بِإِحۡسَٰنٖ رَّضِيَ ٱللَّهُ عَنۡهُمۡ وَرَضُواْ عَنۡهُ وَأَعَدَّ لَهُمۡ جَنَّٰتٖ تَجۡرِي تَحۡتَهَا ٱلۡأَنۡهَٰرُ خَٰلِدِينَ فِيهَآ أَبَدٗاۚ ذَٰلِكَ ٱلۡفَوۡزُ ٱلۡعَظِيمُ: “আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা যথাযথ উত্তমরূপে তাদের অনুসরণ করে, আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর উপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। আর তিনি তাদের জন্য তৈরী করেছেন জান্নাত, যার নিচে নদী প্রবাহিত, সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে। এ তো মহাসাফল্য।” (সূরা আত-তাওবাহ: ১০০)।
আল্লাহ তা‘আলা সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুম-এর আমল ও তাদের আখলাকের প্রশংসা করেছেন:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (مُّحَمَّدٞ رَّسُولُ ٱللَّهِۚ وَٱلَّذِينَ مَعَهُۥٓ أَشِدَّآءُ عَلَى ٱلۡكُفَّارِ رُحَمَآءُ بَيۡنَهُمۡۖ تَرَىٰهُمۡ رُكَّعٗا سُجَّدٗا يَبۡتَغُونَ فَضۡلٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٰنٗاۖ سِيمَاهُمۡ فِي وُجُوهِهِم مِّنۡ أَثَرِ ٱلسُّجُودِۚ): “মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর তার সহচরগণ কাফেরদের প্রতি কঠোর, তাদের পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল; আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখবেন। তাদের লক্ষণ তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে স্পষ্ট হয়” (সূরা আল-ফাতহ: ২৯)।
সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুম হচ্ছেন উম্মাতের সবচেয়ে মর্যাদাবান মানুষ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ»:“আমার উম্মাতের সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ হচ্ছে আমার যুগ। অতপর এর পরবর্তী যুগ। অতপর এর পরবর্তী যুগ। “ এটি সহীহ বুখারী (2652) ও মুসলিম (২৫৩৩) বর্ণনা করেছেন।
সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুম, তাঁরাই আমাদের কাছে কুরআন কারীম এবং নবীর সুন্নাত নকল করেছেন, সুতরাং আমরা ইসলাম তাঁদের মাধ্যমই শিখতে পেরেছি।
সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করেছিলেন, এবং তাঁর সাথে জিহাদ করেছেন এবং তাদের দীন হিফাযতের জন্য কষ্ট-মুসিবত সহ্য করেছেন।
মুসলিমদের উপর সাহাবীদের -রদিয়াল্লাহু আনহুম- হকসমূহ:
মুসলিমদের উপরে সাহাবা রদিয়াল্লাহু আনহুমের অসংখ্য হক রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
সাহাবীদের হক:
তাদের মুহাব্বাত, সম্মান এবং মর্যাদা দেওয়া ওয়াজিব
তাদের জন্য দু‘আ এবং ইস্তেগফার করা এবং তাদের জন্য ‘রদিয়াল্লাহু আনহুম’ বলা।
তাদের গাল দেওয়া, মন্দ কথা বলা অথবা তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা কে হরাম মনে করা।
তাদের সাধারণ ও বিশেষ ফযীলতসমূহ সাব্যস্ত করা
তাদের পক্ষে কথা বলা এবং যারা তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারী কোন কাজ করে, তাদের জবাব দেওয়া।
তাদের মুহাব্বাত, সম্মান এবং মর্যাদা দেওয়া জরুরীঃ
এটা তাঁদের ইসলামে প্রবেশে অগ্রগামীতা সম্মান লাভ , আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং যমীনে ইসলাম প্রসার করার কারণে।
তাঁদের জন্য দু‘আ এবং ইস্তেগফার করা এবং ‘রদিয়াল্লাহু আনহুম’ বলা:
আল্লাহ তা‘আলা মুহাজির ও আনসারদের প্রশংসা করে বলেছেন: “وَالَّذِیۡنَ جَآءُوۡ مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ”: “আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও ঈমানে যারা অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন।” (সূরা আল-হাশর: ১০)।
তাদের কে গালি দেওয়া, মন্দ কথা বলা অথবা তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা কে হারাম মনে করাঃ
কেননা এগুলো কবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত; হাদীসে রয়েছে: «لَا تَسُبُّوا أَصْحَابِي...»: “তোমরা আমার সাহাবীদের কে গালি দিও না, ....“ এটি বুখারী (৩৬৭৩) ও মুসলিম (২৫৪০) বর্ণনা করেছেন।
কুরআন ও সুন্নাহতে উল্লেখিত ফযীলত সাব্যস্ত করা:
হোক সেটা আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ) ফযীলত, তাদের অবস্থা ও সীরাত সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া, সেগুলো মুসলিমদের মধ্যে প্রচার করা এবং তাদের নেক কাজসমূহের অনুসরণ করা।
তাদের পক্ষে কথা বলা এবং তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণকারীদের সমোচিত জবাব দেওয়া:
এর কারণ হলো: তাদের দুর্নাম করা মূলত দীনেরই দুর্নাম, কারণ তারাই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে আমাদের কাছে দীন নকল করেছেন।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (১): পড়ব এবং যুক্ত করব:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: لِلۡفُقَرَآءِ ٱلۡمُهَٰجِرِينَ ٱلَّذِينَ أُخۡرِجُواْ مِن دِيَٰرِهِمۡ وَأَمۡوَٰلِهِمۡ يَبۡتَغُونَ فَضۡلٗا مِّنَ ٱللَّهِ وَرِضۡوَٰنٗا وَيَنصُرُونَ ٱللَّهَ وَرَسُولَهُۥٓۚ أُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلصَّٰدِقُونَ: “এ সম্পদ নিঃস্ব মুহাজিরদের জন্য যারা নিজেদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি হতে উৎখাত হয়েছে। তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সস্তুষ্টির অন্বেষণ করে এবং আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের সাহায্য করে। এরাই তো সত্যাশ্রয়ী।” وَٱلَّذِينَ تَبَوَّءُو ٱلدَّارَ وَٱلۡإِيمَٰنَ مِن قَبۡلِهِمۡ يُحِبُّونَ مَنۡ هَاجَرَ إِلَيۡهِمۡ وَلَا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمۡ حَاجَةٗ مِّمَّآ أُوتُواْ وَيُؤۡثِرُونَ عَلَىٰٓ أَنفُسِهِمۡ وَلَوۡ كَانَ بِهِمۡ خَصَاصَةٞۚ وَمَن يُوقَ شُحَّ نَفۡسِهِۦ فَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ: “আর তাদের জন্যও, মুহাজিরদের আগমনের আগে যারা এ নগরীকে নিবাস হিসেবে গ্রহণ করেছে ও ঈমান গ্রহণ করেছে, তারা তাদের কাছে যারা হিজরত করে এসেছে তাদের ভালবাসে এবং মুহাজিরদেরকে যা দেয়া হয়েছে তার জন্য তারা তাদের অন্তরে কোন (না পাওয়া জনিত) হিংসা অনুভব করে না, আর তারা তাদেরকে নিজেদের উপর অগ্ৰাধিকার দেয় নিজেরা অভাবগ্ৰস্ত হলেও। বস্তুতঃ যাদেরকে অন্তরের কার্পণ্য থেকে মুক্ত রাখা হয়েছে, তারাই সফলকাম।” “وَالَّذِیۡنَ جَآءُوۡ مِنۡۢ بَعۡدِهِمۡ یَقُوۡلُوۡنَ رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ”: “আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে, হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও ঈমানে আমাদের অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন।” (সূরা আল-হাশর: ৮-১০)।
পূর্ববর্তী আয়াতের আলোকে, গ্রুপ (ক) থেকে প্রতিটি বাক্যকে গ্রুপ (খ) এর উপযুক্ত বাক্যের সাথে মিলাও:
গ্রুপ (ক) বাক্য
গ্রুপ (খ) আয়াতের সাথে তার যা সামঞ্জস্যপূর্ণ
মুহাজিরদের বৈশিষ্ট্য ও আমলসমূহ।
তারা মুহাজিরদেরকে ভালোবাসে- তারা অন্যকে নিজেদের থেকে প্রাধান্য দিতেন।
আনসারদের বৈশিষ্ট্য ও তাদের আমলসমূহ। হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছিল তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে বিদ্বেষ রাখবেন না।
মুহাজির ও আনসারদের জন্য মুসলিমদের দু‘আ করা। তারা আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে- আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহায্য করা- সততা
অনুশীলন (১): আমি অন্যকে সাহায্য করব এবং খুঁজে বের করব:
তোমার সহপাঠীদের সাহায্য নিয়ে নিচে প্রদত্ত দলীলসমূহ থেকে প্রাপ্ত সাহাবীদের (রদিয়াল্লাহু আনহুম) ফযীলত বের কর:
দলীল/সাহাবাদের ফযীলত
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أَعْلَمُ أُمتِي بِالْحَلَالِ وَالْحَرَامِ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ»: “হালাল ও হারামের বিধানের দিক থেকে আমার উম্মাতের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি হচ্ছে মু‘আয ইবনু জাবাল।” এটি আহমাদ (১২৯০৪) বর্ণনা করেছেন। মু‘আয ইবনু জাবাল রদিয়াল্লাহু আনহুর ইলমের ফযীলত।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَعَلَّ اللهَ اطَّلَعَ إِلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ: اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ، فَقَدْ وَجَبَتْ لَكُمُ الجَنَّةُ، أَوْ: فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ»: “অবশ্যই বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদেরকে অবলোকন করে আল্লাহ বলেছেন: ‘তোমাদের যা ইচ্ছে কর, তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত’ অথবা ‘আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি’।” এটি বুখারী (৩৯৮৩) ও মুসলিম (২৪৯৪) বর্ণনা করেছেন।
বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের (রদিয়াল্লাহু আনহুমের) ক্ষমা করা হয়েছে।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১:নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
সাহাবীগণ (রদিয়াল্লাহু আনহুম) হচ্ছেন এমন সকল ব্যক্তিগণ, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ পেয়েছিলেন। (×)
আল্লাহ তা‘আলা ইখলাস ও দীনকে সহযোগিতার কারণে মুহাজিরদের প্রশংসা করেছেন। (✓)
সাহাবীগণ (রদিয়াল্লাহু আনহুম) গুনাহ থেকে মুক্ত, প্রতিটি মুসলিমের জন্য এমন বিশ্বাস রাখা আবশ্যক। (×)
আনসারদেরকে আল্লাহ তা‘আলা অপরকে প্রাধান্য দেওয়া এবং সফলতার গুণে গুণান্বিত করেছেন। (✓)
প্রশ্ন ২: নিচে প্রদত্ত দলীলগুলো যা প্রমাণ করে তা বাছাই কর:
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “رَبَّنَا اغۡفِرۡ لَنَا وَ لِاِخۡوَانِنَا الَّذِیۡنَ سَبَقُوۡنَا بِالۡاِیۡمَانِ”: “হে আমাদের রব! আমাদেরকে ও ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভাইদেরকে ক্ষমা করুন এবং যারা ঈমান এনেছিল।” প্রমাণ করে:
(সাহাবাদের ইবাদাতের আধিক্যতা- সাহাবাদের জন্য দু‘আ করা মুস্তাহাব- সাহাবাদের গালি দেওয়া হারাম হওয়া)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ» সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ আমার যুগের মানুষ।তারপর যারা তাদের পরবর্তীকালের ” প্রমাণ করে:
(সাহাবাদের সংখ্যাধিক্য- সাহাবাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান- উম্মাতের উপরে সাহাবাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া)
প্রশ্ন ৩: সাহাবা (রদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর তিনটি হকের ব্যাখ্যা কর।
পঞ্চম পাঠ: নিয়াত এবং তার গুরুত্ব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে :
হাদীস শরীফটি মুখস্থ করবে।
হাদীসের রাবীর জীবনী লিখবে।
হাদীস শরীফে উল্লেখিত কতিপয় (আরবী) শব্দের অর্থ বর্ণনা করবে।
হাদীস শরীফটির সাধারণ অর্থ ব্যাখ্যা করবে।
প্রতিটি আমলে ইখলাসের মূল্য অনুধাবন করবে।
মুসলিমদের দীন সংক্রান্ত বিষয়ে মন্দ নিয়তের ভয়াবহতা সম্পর্কে অন্যকে সতর্ক করবে।
ভূমিকা:
মাসজিদের ইমাম একটি হিফযখানা তৈরী করার জন্য মানুষের কাছে অনুদান চাইলেন, তখন তোমার দুইজন প্রতিবেশী লোকদের সামনে মোটা অংকের টাকা দান করলেন। প্রথমজনের উদ্দেশ্য ছিল- প্রতিবেশীরা তাকে দানশীল বলবে। এবং দ্বিতীয়জনের উদ্দেশ্য ছিল- লোকেরা তাকে অনুকরণ করবে এবং একটি বড় অংক সংগ্রহ করা যাবে।
এই পরিস্থিতি সম্পর্কে তোমার মতামত কী? কাজের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য থাকার পরেও দু‘জনের মধ্যে পার্থক্য কী?
হাদীস শরীফের টেক্সট :
উমার রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّة، وَإِنَّمَا لِامْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ ورَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ ورَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ: “সব আমল (বিশুদ্ধ) হবে নিয়াত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়াত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। কাজেই যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হয়েছে বলেই ধরা হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া অর্জনের জন্য বা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।” এটি বুখারী (১) ও মুসলিম (১৯০৭) বর্ণনা করেছেন।
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ এর অর্থ
আমলসমূহ একজন মুসলিম কথায় ও কাজে যা করে।
নিয়াত তা হলো, দৃঢ় ইচ্ছা যা কর্মসম্পাদনের জন্য ধাবিত করে।
তার হিজরত: উদ্দিষ্ট হিজরত মক্কা থেকে মদীনাতে স্থানান্তরিত হওয়া।
لِدُنْيَا يُصِيبُهَا দুনিয়া অর্জনের জন্য- কোন দুনিয়াবী উপকার অথবা লাভ প্রাপ্তির জন্য।
فَهِجْرَتُهُ إِلَى مَا هَاجَرَ إِلَيْهِ তার হিজরত সে যে জন্য হিজরত করেছে, সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে: সুতরাং তার হিজরতের ফলাফল এবং সওয়াব তাকে হিজরত করতে যা উদ্বুদ্ধ করেছে সেই উদ্দেশ্য অনুযায়ীই হবে।
হাদীসের বর্ণনাকারীর পরিচিতি:
আবু হাফস উমার ইবনুল খত্তাব আল-‘আদাওয়ী আল-কুরাইশী।
তিনি নবুয়তের ষষ্ঠ বছরে ইসলাম গ্রহণ করেন, তার ইসলাম গ্রহণ মক্কার দূর্বল মুসলিমদের জন্য সহযোগিতার কারণ হিসেবে গণ্য হয়েছিল; এটা তার শক্তি, সাহসিকতা এবং কওমের কাছে তার মর্যাদাগত অবস্থানের কারণে।
তিনি খুলাফায়ে রাশিদীনের দ্বিতীয় খলীফা এবং দশজন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবীদের একজন।
তিনি সালাতরত অবস্থায় আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং এতে ২৩ হিজরীর জিলহজ্ব মাসের শেষ দিকে শাহাদাত বরণ করেন।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
হাদীস শরীফটি নিয়াত ও আমলের মাঝে সম্পর্কের প্রতি গুরুত্বারোপ করে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য করা ছাড়া কোন কাজই কবুল করেন না। সুতরাং যার হিজরত বা অন্য কোন সৎকাজের উদ্দেশ্য মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা হয়, তার কাজ কবুল হবে। তার জন্য রয়েছে আল্লাহ তা‘আলার নিকট পুরস্কার।
কিন্তু যদি তার হিজরত বা অন্যান্য সৎকাজের উদ্দেশ্য কোন মহিলাকে বিয়ে বা অর্থ উপার্জন বা পার্থিব কোন বিষয় অর্জন হয়, তবে তার হিজরত সে যে উদ্দেশ্যে করেছে তার জন্য হবে। উক্ত হিজরত বা সৎকাজের জন্য তাকে আখিরাতে কোন সওয়াবই দেওয়া হবে না।
এছাড়াও, যে কেউ আল্লাহ তা‘আলার চেহারা(দর্শন ) উদ্দেশ্য ব্যতীত কোন ইবাদাত করবে, সে অচিরেই নিজেকে আল্লাহ তা‘আলার ক্রোধ এবং আযাবের মুখোমুখি করবে।
হাদীস শরীফ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ:
কোন আমল কবুল হওয়ার শর্ত হলো আল্লাহর তাআলার জন্য নিয়ত খালেস করতে হবে।
কাজের সময়েই সঠিক নিয়াতের উপস্থিতি আবশ্যক।
মুসলিম সৎকাজের সওয়াব আল্লাহ তা‘আলার জন্য নিয়াত খালেস করার ভিত্তিতেই প্রাপ্ত হবেন।
নেক আমলের পরিমাণ কম হলেও সঠিক নিয়াতের কারণে পুরস্কার বড় হয়।
মন্দ নিয়াত ভালোকাজকে নষ্ট এবং এর সওয়াবকে বিদূরিত করে।
প্রকৃত মুসলিম ব্যক্তি তার প্রতিটি আমলের ক্ষেত্রেই আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে স্বীয় নিয়াতকে খালেস করে থাকে।
অনুশীলনমূলক কার্যক্রম (Activities)
অনুশীলন (০১): আমি প্রস্তাব পেশ করব:
তুমি জানতে পেরেছ যে, কাজগুলো কবুল করার জন্য এবং তাদের পুরস্কার বৃদ্ধির জন্য নিয়াত একটি শর্ত, সুতরাং এমন একটি সুন্দর নিয়াতের পরামর্শ দাও যা নিম্নোক্ত কাজগুলোর সাথে হতে পারে:
আমল নিয়াত
স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণ-পোষণের উদ্দেশ্যে কাজ করা।
কুরআন কারীমের হিফয করানো হয় এমন প্রতিষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা।
সাহাবা কেরামের (রদিয়াল্লাহু আনহুম) জীবন সম্পর্কে প্রবন্ধ লেখা।
নিজের খাবার ও দেহের সুস্থতার জন্য মানুষের গুরুত্ব প্রদান।
অনুশীলন (২): আমি সমাধান করব এবং সম্প্রসারিত করব:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَرَّ رَجُلٌ بِغُصْنِ شَجَرَةٍ عَلَى ظَهْرِ طَرِيقٍ، فَقَالَ: وَاللهِ لَأُنَحِّيَنَّ هَذَا عَنِ الْمُسْلِمِينَ لَا يُؤْذِيهِمْ، فَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ»: “এক লোক রাস্তার উপর পড়ে থাকা একটি গাছের ডালের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল।সে বলল, আল্লাহর কসম! এটি আমি অবশ্যই দূরে সরিয়ে ফেলব। যেন এর কারণে মুসলিমগণ কষ্ট না পায়। ফলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করালেন।” এটি মুসলিম (১৯১৪) বর্ণনা করেছেন।
এ হাদীস শরীফের আলোকে:
লোকটি কোন কাজ সম্পাদন করল?
এ কাজে তাকে উদ্বুদ্ধকারী বিষয় কী ছিল?
আল্লাহ তা‘আলার জন্য সঠিক নিয়তের সাথে মিলিত এই নেক কাজের ফলাফল কী?
অনুশীলন (৩): আমি পড়ব এবং খুঁজে বের করব:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বাস্তবিক অর্থে দুনিয়া চার শ্রেণির লোকের জন্য:
এমন বান্দা- আল্লাহ যাকে সম্পদ ও ইলম উভয়টি দিয়েছেন, সে এতে স্বীয় রবকে ভয় করে(শরীয়ত মত খরচ করে), এতে আত্মীয়-স্বজনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে(দান করে) এবং সে জানে যে এতে আল্লাহর একটি হক রয়েছে(যাকাত দেয়)।আর এটি হলো সর্বোত্তম স্তর।
এমন বান্দা- যাকে আল্লাহ ইলম দিয়েছেন, কিন্তু সম্পদ দেননি, তবে নিয়তে সে খাঁটি, সে বলে, যদি আমার ধন-সম্পদ থাকত তাহলে আমি অমুকের মত কাজ করতাম(হক বুঝে)।সে তার খাঁটি নিয়ত অনুসারে হবে(প্রতিদান পাবে)। এ দু’ ব্যক্তির সাওয়াব একই।
এমন বান্দা- যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, কিন্তু ইলম দেননি। তার ইলম না থাকার কারণে সে নিজের সম্পদ স্বেচ্ছাচারিতায় খরচ করে , এতে সে তার রবকে ভয় করে না। আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আর্থিক সদাচরণ করে না এবং ঐ সম্পদে আল্লাহ তা‘আলার হক রয়েছে, এটাও জানে না । এ ব্যক্তি হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
এমন বান্দা- যার কাছে সম্পদও নেই ইলমও নেই। সে আকাঙ্ক্ষা করে বলে, যদি আমার কাছে সম্পদ থাকত, তাহলে আমি তা অমুক ব্যক্তির মত (ইচ্ছা মত মন্দ পথে) খরচ করতাম। আর সে (এমন মন্দ) নিয়াতের ফল পাবে, এই উভয় ব্যক্তির পাপের বোঝা সমান।” এটি আহমাদ (১৮০৩১) ও তিরমিযী (২৩২৫) বর্ণনা করেছেন।
হাদীস শরীফ থেকে আগত বিষয়গুলো খুঁজে বের কর:
যে ব্যক্তি কোন ভালো কাজের জন্য দৃঢ় নিয়াত করে অথচ সে তা করল না, তার জন্য (ঐ কাজের) পুরস্কার লেখা হয়।
যে ব্যক্তি কোন পাপ কাজের জন্য দৃঢ় নিয়াত করে অথচ সে তা করতে পারলো না, তার জন্য (ঐ কাজের) পাপের বোঝা লেখা হয়।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
উমার ইবনুল খত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহুর লকব (ডাকনাম) হচ্ছে:
(সিদ্দীক- ফারুক- আদিল)
নিয়াত হচ্ছে: কাজের পিছনের ইচ্ছা, যার সংশ্লিষ্টতা:
(ওয়াজিসমূহের সাথে- মুস্তাহাব বিষয়সমূহের সাথে- সকল আমলের সাথে)
যখন কোন মুসলিম কোন আমল করে, যাতে আল্লাহ তা‘আলার চেহারা(দর্শন) উদ্দেশ্য রাখে না; তাহলে সে:
(গোনাহগার হবে এবং আমল কবুল হবে না- তার ভালো প্রভাবের কারণে সওয়াব পাবে- তা কবুলও হবে না আবার এতে তার গোনাহও হবে না)
প্রশ্ন ২: নিচের হাদীসটি পূর্ণ কর:
«إِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّة، وَإِنَّمَا لكل ِامْرِئٍ ..........، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى ............ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللهِ ورَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ ............ أَوِ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا فَهِجْرَتُهُ ............». “সব কাজ (বিশুদ্ধ) হবে নিয়াত অনুযায়ী। আর মানুষ --------- প্রতিফল পাবে। কাজেই যার হিজরত হবে --------- উদ্দেশ্যে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হয়েছে বলেই ধরা হবে। আর যার হিজরত হবে ---------- বা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তার হিজরত ---------------।”
প্রশ্ন ৩: নিম্নলিখিত বিবৃতিগুলোর প্রতিটির জন্য একটি মন্তব্য লেখ:
শুধুমাত্র ভালো ইচ্ছাই আমল কবূলের জন্য যথেষ্ট নয়।
মন্দ নিয়াতের অধিকারী দুনিয়ায় প্রতারিত এবং আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্ত।
নেক নিয়ত সৎকাজের পুরস্কারকে বর্ধিত করে।
ষষ্ঠ পাঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণের অপরিহার্যতা।
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
হাদীসের নর্ণনাকারীর সংক্ষিপ্ত জীবনী লিখবে।
হাদীস শরীফে উল্লেখিত কতিপয় (আরবী) শব্দের অর্থ বর্ণনা করবে।
দীনের মধ্যে বিদ‘আত করার ভয়াবহতা ব্যাখ্যা করবে।
বিদ‘আতের প্রকারসমূহের উদাহরণ পেশ করবে।
সুন্নাতে নববীকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা করবে।
সমাজে কুসংষ্কার প্রচার-প্রসারে বিদ‘আতের প্রভাব অনুধাবন করবে।
ভূমিকা:
‘আমলসমূহ(বিশুদ্ধ) নিয়াত অনুযায়ী হয়,’ অতিবাহিত হাদীসে আমরা আমল কবুলের প্রথম শর্ত কি তা জানতে পেরেছি, অথাৎ: আল্লাহ তা‘আলার জন্যই নিয়তের ইখলাস। এই পাঠে আমল কবুল হওয়ার দ্বিতীয় শর্ত আলোচনা হবে, আর তা হল: আমল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরীকা অনুযায়ী হতে হবে।
হাদীস শরীফের নস:
আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه، فهو ردٌّ “যে ব্যক্তি আমাদের এ কাজে (দীনের মধ্যে) নতুন কোন কিছু সৃষ্টি করবে, যা তাতে নেই তা প্রত্যাখ্যাত।” এটি বুখারী (২৬৯৭) ও মুসলিম (১৭১৮) বর্ণনা করেছেন।
শব্দার্থসমূহ: শব্দ এর অর্থ
أحدث: কোন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করল।
أمرنا দীনের বিষয়, এটি দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে: ইবাদাত, আকীদা এবং শরী‘আতের কোন বিষয়।
ردٌّ: তার উপর এটি প্রত্যাখ্যাত,তার থেকে কবুল করা হবে না এবং এজন্য কোন সওয়াবও দেওয়া হবে না।
হাদীসের বর্ণনাকারীর জীবনী:
উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ বিনতু আবু বাকর আস-সিদ্দীক, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী। তাঁর লকব: আস-সিদ্দীকাহ।
হিজরতের নয় বছর আগে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ছোট অবস্থাতেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ৫৮ হিজরীতে মারা যান।
তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একমাত্র কুমারী স্ত্রী, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রিয়ভাজন ছিলেন।
তিনি বদান্যতা ও দানশীলতায় প্রসিদ্ধ ছিলেন। তিনি সবার মধ্যে সবচেয়ে বেশী ফিকহের জ্ঞানসম্পন্ন ও সর্বোত্তম রায়ের অধিকারিণী ছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম রদিয়াল্লাহু আনহুম তার কাছে দীনের আহকাম সংক্রান্ত বিষয় জিজ্ঞাসা করতেন।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খালেস শরী‘আত অমান্য করার দুঃসাহসের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন এবং আমাদের কে জানিয়েছেন যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করে এমন একটি নতুন বিষয় দিয়ে যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্ধারণ করেননি, নিশ্চিতভাবে তার আমল প্রত্যাখ্যাত এবং সেটা কবুল করা হবে না।
হাদীস শরীফ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ:
নতুন কিছু তৈরী করা অথবা দীনের মধ্যে বিদ‘আত সৃষ্টি করা হারাম।
শরী‘আতের ভিত্তি নেই এমন আমল কবুল হবে না।
বিদ‘আত এবং এর ভয়াবহতা থেকে সতর্কতা।
সুন্নাহ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত হিদায়াত বা তরীকা সংরক্ষণের প্রতি উৎসাহ প্রদান।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমার জ্ঞানকে পরিপক্ক করব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর খুতবায় বলতেন: «إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللهِ، وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ، وَشَرَّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلَّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ، وَكَلَّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ»: “নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব। সবচেয়ে সুন্দর জীবন আদর্শ হচ্ছে মুহাম্মাদ-এর জীবন আদর্শ। সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হচ্ছে (নবীর জীবন আদর্শের মধ্যে) নতুন কিছু তৈরী করা। প্রতিটি নবসৃষ্ট বিষয় হচ্ছে বিদ‘আত আর প্রতিটি বিদ‘আত হচ্ছে ভ্রষ্টতা।” এটি নাসাঈ (১৫৭৮) বর্ণনা করেছেন।
এ হাদীসটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনার পর:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য করেছেন, তা ব্যাখ্যা কর।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদ‘আতকে কেন ভ্রষ্টতা বলেছেন?
অনুশীলন (২): সহযোগিতা করব ও মতামত পেশ করব:
সমাজের উপর বিদ‘আতের অনেক খারাপ প্রভাব রয়েছে; কারণ এটি কুসংস্কার এবং অজ্ঞতা বিস্তারের একটি কারণ। এছাড়াও সমাজে কোন বিদ‘আত দেখা যায় না, যতক্ষণ না লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতকে পরিত্যাগ করে। জনৈক আলিম বলেছেন:ঔ ”কোন উম্মাত তাদের দীনের মধ্যে একটি বিদ‘আত চালু করলেই আল্লাহ তা‘আলা উক্ত বিদ‘আতের কারণে তাদের থেকে একটি সুন্নাতকে সরিয়ে নেন।”
তোমার সমাজে ছড়িয়ে থাকা কতিপয় বিদ‘আত খুঁজে পেতে সহপাঠীদেরকে সাহায্য কর, এবং উক্ত বিদ‘আতগুলির নেতিবাচক প্রভাবগুলি উল্লেখ কর এবং এগুলো সংশোধনের কতিপয় উপায় প্রস্তাব কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
আয়িশাহ ইলমের প্রসার না করে ইবাদাতে মশগুল ছিলেন।
ইসলাম বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশের প্রতি আহবান জানায়।
বিদ‘আতসমূহ সমাজে অজ্ঞতা ও কুসংস্কারের বিস্তার ঘটায়।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «فِي أَمْرِنَا» তথা: দীনের বিষয়সমূহ।
বিদ‘আতী ব্যক্তি তার ভালো নিয়াতের কারণে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভ করতে পারে।
প্রশ্ন ২: এ পাঠে উল্লিখিত হাদীসটি তোমার মুখস্থ থেকে লিখ।
প্রশ্ন ৩: বিদ‘আত এবং বিদ‘আতীদের মোকাবেলা করতে হবে সহীহ সুন্নাহর প্রসারের মাধ্যমে। এটার গুরুত্ব সম্পর্কে লেখ, সেই সাথে তোমার সমাজে নবীর সুন্নাহর কিভাবে প্রচার করা যায়, সে ব্যাপারে কয়েকটি উপায় প্রস্তাব কর।
সপ্তম পাঠ: ইবনু আব্বাসের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসীয়ত
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি পাঠ্য হাদীসটি মুখস্থ করবে।
হাদীসে উল্লিখিত কঠিন শব্দাবলীর অর্থ বর্ণনা করবে।
সংক্ষেপে হাদীসের বর্ণনাকারীর পরিচয় দিবে।
হাদীসের সংক্ষিপ্ত অর্থ বর্ণনা করবে।
হাদীসটি থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা বর্ণনা করবে।
তাকদীরের প্রতি ঈমানের গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
প্রারম্ভিক কর্ম:
তোমার একজন সহপাঠী আছে, যে তার জীবনে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে, তবুও সে পাপ করে এবং নেককাজে অবহেলা করে। পাঠ্য হাদীসটির মাধ্যমে তোমার সহপাঠীকে নসীহত কর।
হাদীসের নস:
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ এর অর্থ
احفظ اللهَ يحفظك: “আল্লাহর হিফাযত করবে, তাহলে তিনি তোমার হিফাযত করবেন।” আল্লাহর হিফাযত করবে, তিনি যেসব কাজে সন্তুষ্ট হন তার মাধ্যমে। তাহলে তিনি তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে হিফাযত করবেন।
تجده تجاهك: “তুমি তাঁকে সামনে পাবে।” তিনি তোমাকে ভালোকাজে সাহায্য করবেন এবং তোমার থেকে মন্দ বা অকল্যাণকে দূরে রাখবেন।
رُفِعت الأقلام، وجَفَّت الصحف: “কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং লিখিত কলমও শুকিয়ে গেছে।” তাকদীরসমূহ লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে, সুতরাং তা পরিবর্তিত হবে না।
হাদীসের বর্ণনাকারীর জীবনী:
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস ইবনু আব্দিল মুত্তালিব। তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাত ভাই।
তিনি হিজরতের তিন বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের সময়ে তার বয়স ছিল ১৩ বছর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দু‘আ করে বলেছিলেন: «اللَّهُمَّ فَقِّهْهُ فِي الدِّينِ، وَعَلِّمْهُ التَّأْوِيلَ»: “হে আল্লাহ! তাকে দীনের ফকীহ বানিয়ে দিন এবং তাকে ব্যাখ্যা (তাফসীর) শিক্ষা দিন।” এটি আহমাদ (২৩৯৭) বর্ণনা করেছেন।
তিনি ইলম অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করে একজন বড় আলেমে পরিনত হন। ইলমী ব্যপ্তির কারণে তাকে “বাহর” তথা: “সমুদ্র” হিসেবে আখ্যায়িত করা হত। আবার তার তাফসীর শাস্ত্রের জ্ঞানের কারণে তাকে “তরজুমানুল কুরআন” তথা “কুরআনের ভাষ্যকার” ও বলা হত। তিনিই সাহাবীদের মধ্যে কুরআন কারীমের সবচেয়ে বেশী তাফসীরকারী সাহাবী।
ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহু ৬৮ হিজরীতে তায়েফে মারা যান। তখন তার বয়স ছিল ৭০ বছর।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
তুমি আল্লাহ তা‘আলাকে হিফাযত করবে, তাঁর আদেশসমূহ পালন এবং তাঁর নিষেধ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে, তাহলে তিনি তোমাকে দুনিয়াতে অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন এবং আখিরাতে আযাব থেকে রক্ষা করবেন।
যখন তুমি চাইবে তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে; তিনিই তো দানকারী। যদি তুমি কোন মাখলুকের কাছে চাও, যা সে দিতে সক্ষম, তাহলে জেনে রেখ, সেটা হচ্ছে একটি কারণ মাত্র। আর আল্লাহ তা‘আলাই হচ্ছেন এই কারণ সৃষ্টিকারী।
যদি তুমি কোন মাখলুকের কাছে সাহায্য চাও, যা সে করতে পারে, তবে জেনে রেখ, সে একটি কারণ, এবং প্রকৃত সাহায্য একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছ থেকেই আসে।
যদি সমগ্র সৃষ্টিজগত তোমার উপকার করতে সমবেত হয়, তবে আল্লাহ তা‘আলা তোমার জন্য যা লিখে রেখেছেন, সেটা ব্যতীত তারা কখনোই তোমার কোন উপকার করতে পারবে না। আবার আল্লাহ তা‘আলা তোমার বিপক্ষে যা লিখে রেখেছেন, সেটা ব্যতীত তারা তোমার কখনোই কোন ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ প্রতিটি বস্তুই লিখিত এবং নির্দিষ্ট।
হাদীস শরীফ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ‘জাওয়ামি‘উল কালিম’(ব্যাপক ভাবসমৃদ্ধ অল্প কথা)প্রদান করা হয়েছিল, এ কারণে তার কথার শব্দ সংখ্যা কম কিন্তু তাতে রয়েছে বহু মর্ম ।
ছোটদেরকে আকীদাহ শিক্ষা দানের গুরুত্ব; কেননা মুসলিম ব্যক্তিত্ব গঠনে এর গুরুত্ব রয়েছে।
দু‘আর ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার দিকে মনোযোগী হওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও তার সীমা ।
ওসীলা উপকরণ গ্রহণ করার পাশাপাশি আল্লাহর উপরে তাওয়াক্কুল করার আবশ্যকতা।
তাকদীর ও (আল্লাহর) ফয়সালার উপরে ঈমান আনা এবং কল্যাণকর কিছু (নেকী) অর্জনের লক্ষ্যে গড়িমসি -অলসতা পরিহার করা আবশ্যক।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি চিন্তা করব এবং সম্পর্ক স্থাপন করব:
আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীর সাথে পাঠ্য হাদীসটির সম্পর্ক নির্ধারণ কর: وَأَنَّ ٱلۡمَسَٰجِدَ لِلَّهِ فَلَا تَدۡعُواْ مَعَ ٱللَّهِ أَحَدٗا: “আর নিশ্চয়ই মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্যই। কাজেই আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।” (সূরা আল-জিন, আয়াত: ১৮)।
হাদীস শরীফ ও আয়াতে কারীমা উভয়টিই আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো কাছে কিছু চাওয়া বা দু‘আ করা থেকে নিষেধ করছে।
অনুশীলন (২): আমি চিন্তা করব এবং কারণ দর্শাব
হাদীস শরীফে যা এসেছে, নিচের বর্ণিত এ লোকদের উপরে কী তা কার্যকর হবে? এবং কেন?
একটি যুবক ওযর ব্যতীত সালাত আদায়ে বিলম্ব করে।
এক ব্যক্তি নেককার ব্যক্তিদের কবরের কাছে যেয়ে তাদের কাছ তার প্রয়োজন মেটানোর জন্য প্রার্থনা করে ।
এক ব্যক্তি তার উপরে কোন মুসীবত আসলে অস্থির ও রাগান্বিত হয়ে পড়ে।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
এক ব্যক্তি যাদুকরের কাছে তার বিপদ কাটানোর জন্য সাহায্য চায়।
আকীদাহর মূলভিত্তির উপরে বাচ্চাদের প্রতিপালন করা আবশ্যক।
কারণ/উপকরণ গ্রহণ করা তাওয়াক্কুল-ভরসা বিরোধী।
চিকিৎসা নেয়া তাকদীর ও ফয়সালার উপরে ঈমান আনাকে নাকচ করে না।
মৃত ব্যক্তিদেরকে আহবান করা অথবা তাদের কাছে প্রয়োজন পূরণের প্রার্থনা শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: رُفِعت الأقلام، وجَفَّت الصحف: “কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং লিখিত কলমও শুকিয়ে গেছে।” এখানে পরোক্ষ ভাবে বুঝায়ঃ
(তাকদীর লেখনী- আল্লাহ তা‘আলাকে চাওয়ার ক্ষেত্রে একক গণ্য করা- মাখলুকের কাছে সাহায্য প্রার্থনা ত্যাগ করা)
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুর লকব ছিল:
(ফকীহুল উম্মাহ- হাফিযুল হাদীস- তরজুমানুল কুরআন)
পাঠ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষনীয় বিষয়সমূহ:
(হিফযুল কুরআনের আবশ্যকতা- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাওয়ামি‘উল কালিম(ব্যাপক ভাবসমৃদ্ধ অল্প কথা) দেওয়া হয়েছিল- মানুষের জমায়েত থেকে ভয় পাওয়া)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত হাদীসের শুন্যস্থানগুলো পূরণ কর:
«احْفَظِ اللهَ ........، احْفَظِ اللهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ، إِذَا سَألْتَ .................، وإِذَا اسْتَعَنْتَ .....................»: “আল্লাহর (বিধানসমূহের) হিফাযত করবে, তাহলে .................। আল্লাহর হিফাযত করবে, তাঁকে তোমার সামনে পাবে। যখন কিছু চাইবে .................., যখন সাহায্য চাইবে তখন ................ সাহায্য চাইবে।”
প্রশ্ন ৪: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “আল্লাহর হিফাযত করবে, তাহলে তিনি তোমার হিফাযত করবেন;” এবং “তাঁকে তোমার সামনে পাবে।” এর উদ্দেশ্য কী?
আলোচ্য হাদীস থেকে পাওয়া যায় যে, উপকার এবং ক্ষতি শুধুমাত্র আল্লাহ তা‘আলার হাতে।এর ব্যাখ্যা কর।
অষ্টম পাঠ: ইস্তিকামাত (অবিচল ও দৃঢ় থাকা)-এর গুরুত্ব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠে তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে :
হাদীস শরীফটি মুখস্থ করবে।
হাদীসের বর্ণনাকারীর জীবনী সংক্ষিপ্তাকারে লিখবে।
ইস্তেকামাতের অর্থ ব্যাখ্যা করবে।
ইস্তোকামাত (অবিচলতা) বাস্তবায়নের উপায় খুঁজে বের করবে।
আখিরাতে আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জন পর্যন্ত অবিচলতাকে আকড়ে ধরবে।
হাদীসের নস:
সুফিয়ান ইবনু আব্দুল্লাহ আছ-ছাকাফী রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রসূল! আমাকে ইসলামের এমন একটি কথা বলে দিন, যা আপনার পরে আমি আর কাউকে জিজ্ঞাসা করব না। তিনি বললেন: “তুমি বল: আমি আল্লাহর উপরে ঈমান এনেছি , তারপরে অবিচল থাক।” এটি মুসলিম (৩৮) বর্ণনা করেছেন।
শব্দার্থসমূহ:
শব্দ এর অর্থ
قولًا لا أسأل عنه أحدًا بعدك: এমন একটি কথা, যা আপনার পরে আমি কাউকে জিজ্ঞাসা করব না। একটি সুস্পষ্ট সুস্পষ্ট কথা, যাতে অন্যকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন না হয়।
قل: آمنت بالله: “তুমি বল: আমি আল্লাহর উপরে ঈমান এনেছি।” ঈমানের মর্ম তোমার কলবের মধ্যে উপস্থিত রেখে, মুখে উচ্চারণ করে আল্লাহ তা‘আলার উপরে তোমার ঈমানের ঘোষণা দাও।
استقم: “তুমি অবিচল থাক।” নেকআমলসমূহ পালন ও পাপাচার থেকে দূরে থাকা সদাঅব্যাহত রাখ ।
হাদীসের বর্ণনাকারী পরিচিতি:
আবু আমরাহ সুফিয়ান ইবনু আব্দিল্লাহ আছ-ছাকাফী।
তিনি তায়েফের এক প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন, যারা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসেছিলেন।
রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং কতিপয় সাহাবী থেকে তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন। সাহাবীদের মধ্যে রয়েছেন: উমার ইবনুল খত্তাব এবং আবু আইয়ুব আল-আনসারী সহ আরো অন্যান্য সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুম আজমা‘ঈন।
তিনি উমার ইবনুল খত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহুর খিলাফাত আমলে তায়েফের গভর্ণর নিযুক্ত হয়েছিলেন।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
এ হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জাওয়ামি‘উল কালিমের(অল্প শব্দমালায় ব্যাপক ভাবসম্পন্ন হাদীসের) অন্তর্ভুক্ত। এখানে ঈমান এবং ইসলামের কাজগুলোর বর্ণনা রয়েছে। যখন সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন একটি বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, যাতে ইসলামী শরী‘আতের বিষয়সমূহ একত্রিত হবে, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে তার ঈমানের ঘোষণা দিতে বললেন, তার অন্তরে ঈমানকে নবায়ন করতে এবং নেককাজ করা ও পাপাচার থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে ঈমানের উপরে অবিচল থাকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জন্য আদেশ করলেন।
হাদীস শরীফ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ:
সৎকাজ করা এবং পাপ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে দীনের উপর অবিচল থাকা ওয়াজিব।
দীনের উপর অবিচল থাকার ফযীলত এবং দীনে এর অবস্থান।
উপকারী ইলম অর্জন এবং সে ব্যাপারে প্রশ্ন করার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া।
একজন মুসলিমের জন্য আল্লাহ তা‘আলার উপরে ঈমান আনা এবং তার দীন ও ইসলামকে প্রকাশ করা গর্বের বিষয়।
দৃঢ় সংকল্প, সততা এবং আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য কামনা করে দীনের উপর অবিচলতা অর্জনের জন্য প্রচেষ্টা করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি সম্পর্ক স্থাপন করব এবং ফলাফল খুঁজে বের করব:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (إِنَّ ٱلَّذِينَ قَالُواْ رَبُّنَا ٱللَّهُ ثُمَّ ٱسۡتَقَٰمُواْ تَتَنَزَّلُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةُ أَلَّا تَخَافُواْ وَلَا تَحۡزَنُواْ وَأَبۡشِرُواْ بِٱلۡجَنَّةِ ٱلَّتِي كُنتُمۡ تُوعَدُونَ ): “নিশ্চয়ই যারা বলে, ‘আমাদের রব আল্লাহ’, তারপর অবিচল থাকে, তাদের কাছে নাযিল হয় ফেরেশতা (এ বলে) যে, 'তোমরা ভীত হয়ে না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার জন্য আনন্দিত হও।” (ফুসসিলাত: ৩০)। আয়াতে বর্ণিত দীনের উপর অবিচলতার প্রতিদান কী?
অনুশীলন (২): আমি অন্যকে সাহায্য করব এবং খুঁজে বের করব:
নিম্নোক্ত হাদীসগুলো থেকে অবিচলতা বাস্তবায়নের উপায় বের কর:
হাদীসসমূহ অবিচলতা বাস্তবায়নের উপায়সমূহ
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «اتَّقِ الْمَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ»: “তুমি হারাম থেকে বেঁচে থাক, আর মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ইবাদাতগুজার হয়ে যাও।” এটি তিরমিযী (২৩০৫) বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন, তা থেকে দূরে থাকা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রব্বুল ইযযাত আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে বর্ণনা করছেন: «مَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ»: “আমার বান্দার উপরে আমি যা ফরয করেছি, তা পালন করা ব্যতীত অন্য কোন মাধ্যমে সে আমার কাছে অধিকতর প্রিয় হতে পারেনি।” এটি বুখারী (৬৫০২) বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা যা ফরয করেছেন, তা পালন করা।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «الْمَرْءُ عَلَى دِينِ خَلِيلِهِ، فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ مَنْ يُخَالِلْ»: “মানুষ তার বন্ধুর দীনের উপর হয়। অতএব তোমাদের প্রত্যেককে দেখা উচিত কাকে বন্ধু বানাবে।” এটি তিরমিযী (২৩৭৮) বর্ণনা করেছেন। সৎ সান্নিধ্য।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «كُلُّ ابْنِ آدَمَ خَطَّاءٌ، وَخَيْرُ الخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ» : “প্রত্যেক আদম সন্তানই গুনাহগার। আর গুনাহগারদের মধ্যে তাওবাকারীগণ উত্তম।” এটি তিরমিযী (২৪৯৯) বর্ণনা করেছেন। তাওবাহ এবং ইস্তেগফারের উপরে অবিচল থাকা।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
শরী‘আতের বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকা ইস্তেকামাতের মূল ভিত্তির অন্যতম। (✓)
ফেরেশতাগণ ইস্তেকামাতের অধিকারীদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করে থাকেন। (✓)
সহচার্য এবং ইস্তেকামাতের মধ্যে কোন সম্পর্ক নাই। (×)
প্রশ্ন ২: এ পাঠে উল্লিখিত হাদীসটি তোমার মুখস্থ থেকে লিখ।
প্রশ্ন ৩: তোমার হাদীসটি বোঝার ভিত্তিতে নিচের প্রশ্নগুলোর জবাব দাও:
ইস্তেকামাতের অর্থ বর্ণনা কর।
ঈমানের আদেশ ইস্তেকামাতের আদেশের আগে এসেছে, এটি কিভাবে ব্যাখ্যা করবে?
হাদীসটি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ হতে দুটি শিক্ষা লেখ।
নবম পাঠ: অনর্থক কাজ পরিহার করা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
সংক্ষেপে হাদীসটির ব্যাখ্যা করবে।
হাদীসটি থেকে প্রাপ্ত উপকারিতা বর্ণনা করবে।
মুসলিম ব্যক্তি কর্তৃক অনর্থক কাজ পরিত্যাগ করার ফায়েদা বর্ণনা করবে।
তোমার জন্য উপকারী বিষয়সমূহ অর্জনে আগ্রহী হবে।
হাদীস শরীফটি মুখস্থ করবে।
ভূমিকা:
নিম্নলিখিত পরিস্থিতি সম্পর্কে তোমার মতামত কী: (সাঈদ তার বন্ধু আহমাদকে তার পরিবারের খাস বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল, এতে আহমাদ রাগান্বিত হয়ে তাকে বলল: তোমার নিজের বিষয়ে যত্নবান হও, আর তোমার অনর্থক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করো না।)।
দুই বন্ধুর মধ্যে চলমান বিষয়ে তোমার মতামত কী? এ পাঠটি শেষে তোমার জবাবের মূল্যায়ন কর।
হাদীসের নস:
আবূ হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ» “কোন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হচ্ছে: যা তাকে উপকার করে না, তা পরিত্যাগ করা।” এটি তিরমিযী (২৩১৭) ও ইবন মাজাহ (৩৯৬৭) বর্ণনা করেছেন।
বর্ণনাকারীর জীবনী:
আব্দুর রহমান ইবন সাখর আদ-দাওসী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উপাধি দিয়েছেন আবূ হুরাইরা বলে। কেননা, তিনি বিড়ালছানা বহন করতেন।
তিনি ৭ম হিজরীতে ইসলাম গ্রহণ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু পর্যন্ত তার সহবত অর্জন করেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্মরণশক্তি এবং মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় হওয়ার দু‘আ করেছিলেন। ফলে তিনি সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী হাদীসের হাফিজ ছিলেন, সবচেয়ে বেশী বর্ণনাও করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ৫০০০ এরও বেশী হাদীস বর্ণনা করেছেন।
তিনি আলিম সাহাবীদের একজন ছিলেন। আর মুসলিমদেরকে সর্বাধিক শিক্ষাদানকারী এবং সর্বাধিক দাও‘আত প্রদানকারী ছিলেন।
তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ৫৯ হিজরীতে মারা যান।
হাদীসটির সাধারণ অর্থ:
এই হাদীসটিতে অন্যদের সাথে একজন মুসলিমের আচরণের ব্যাপারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি রয়েছে। যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ইরশাদ করেছেন: একজন মুমিনের ইসলামের পরিপূর্ণতার একটি অংশ হল যে, সে গুরুত্ব দিবে তার নিজের এমন বিষয়গুলোতে, যা দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে উপকৃত করবে, আর অন্য মানুষের বিষয়গুলোতে সে হস্তক্ষেপ করবে না। হাদীসটিতে উম্মাহর জন্য যা উপকার করে এবং যা তার রবের নিকটবর্তী করে,সে ব্যাপারে মগ্ন হওয়ার একটি বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।
হাদীস শরীফ থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ:
ব্যক্তির ইসলামের পূর্ণতার অংশ হচ্ছে, তার নিজের জন্য উপকারী বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা।
মুসলিম ব্যক্তি তার অনর্থক কাজ পরিহার করে, তার দীনকে হিফাযত করবে।
অনর্থক কথা-কর্ম ও খেল-তামাশা পরিত্যাগ করা ইসলাম ও বিবেকের পরিপূর্ণতার প্রমাণ।
এমনভাবে সময় ব্যয় করা, যাতে তা লাভ নিয়ে আসে, এ ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করা।
হাদীসটি ভালো কাজে সহযোগিতায় নিষেধ করে না, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুদের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতেও নিষেধ করে না, তবে যা বোঝানো হয়েছে তা হল- মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি একটি নসিহতনামা পেশ করব:
নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকলে সময় বাঁচে, ভালো কাজ বৃদ্ধি পায়, গাম্ভীর্যতা ও কাজের চেতনা ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষের মধ্যে মতানৈক্য ও দ্বন্দ্ব কমে যায়। এর আলোকে, নিম্নের প্রত্যেক কে নসীহত পেশ কর:
একটি মেয়ে তার সহপাঠীরা যে পোশাক পরে তার সে পর্যবেক্ষণ করে, আর সে তাদের পছন্দের উপর মন্তব্য করে।
একটি যুবক তার নিজেকে ফুটবল খেলোয়াড়দের খবরাখবর ও তাদের ব্যক্তি জীবনে ব্যস্ত রাখে।
একজন ব্যক্তি তার সামনে উপস্থাপিত সকল বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেয়, হোক সে তা জানুক অথবা না জানুক।
এক প্রতিবেশী তার প্রতিবেশীরা সকালে এবং রাতে কী খেয়েছে, তা জিজ্ঞাসা করে।
অনুশীলন (২): আমি চিন্তা করে উত্তর দিব:
আমরা হাদীস থেকে শিখেছি যে, যা উপকারী নয়, তা পরিত্যাগ করতে হবে। আর এর মধ্যে চিন্তা করা, কথা বলা, শোনা ইত্যাদি সবই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিচের অঙ্গসমূহ যে সকল উপকারবিহীন কাজ করে থাকে, তার উদাহরণ পেশ করতে তোমার সহপাঠীদেরকে সাহায্য কর:
অঙ্গ এ অঙ্গ যে উপকারবিহীন কাজ করে থাকে
বিবেক
চোখ
কান
জিহ্বা
অনুশীলন (৩): আমি দেখব এবং আলোচনা করব:
এ ভিডিও ক্লিপটি দেখ, তারপরে তোমার শিক্ষকের সাথে এটা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষণীয় বিষয়ে আলোচনা কর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا .........»: “কোন ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে: যা তাকে .............. না, তা ত্যাগ করা।”
(বুঝতে পারে- উপকার করে- ভালবাসে)
একজন মুসলিম যা তার জন্য উপকারী নয় তা ত্যাগ করে, যেভাবে লাভবান হয়:
(সময় বাঁচানো- দীনকে নিরাপদ রাখা- সময় বাঁচানো এবং দীনকে নিরাপদ রাখা)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আবু হুরাইরা রদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য দু‘আ:
(হিফয শক্তির ব্যাপারে- সম্পদ বৃদ্ধির ব্যাপারে- জিহাদে বীরত্ব প্রকাশের ব্যাপারে)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: (কোন ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য), তথা:
(ইসলামকে জানা- ইসলামের পূর্ণতা- ইসলামে প্রবেশ করা)
অনর্থক কাজে লিপ্ত হওয়ার উদাহরণের মধ্যে রয়েছে:
(অভিনয় শিল্পীদের খোঁজ খবর রাখা- রোগীদের দেখতে যাওয়া- মুসলিমদের সংবাদ রাখা)
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সংক্ষেপে হাদীসটি ব্যাখ্যা কর: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ» “কোন ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হচ্ছে: যা তাকে উপকার করে না, তা পরিত্যাগ করা।”
ভালো কাজে সাহায্য করা মুসলিমের অনর্থক কাজ পরিত্যাগ করার সাথে সাংঘর্ষিক নয়, ব্যাখ্যা কর।
হাদীসটি থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাসমূহ হতে দুটি শিক্ষা লেখ।
আহকাম সংক্রান্ত ফিকহ অধ্যায়
প্রথম পাঠ: হালাল ও হারাম উপার্জন
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
হালাল উপার্জন এবং হারাম উপার্জনের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে।
হালাল উপার্জনের ফযীলতের উপরে দলীল পেশ করবে।
হালাল উপার্জন থেকে হারাম উপার্জন কে পৃথক করবে।
হারাম উপার্জন হতে দূরে থাকবে।
ভূমিকা:
ইসলাম অর্থ উপার্জন করার জন্য উৎসাহিত করেছে; কারণ এটি মানুষের চাহিদা পূরণের একটি মাধ্যম। যাতে মানুষ অন্য কোন মানুষের কাছে না চেয়ে বা তাদের নিকট অপদস্থ না হয়ে মর্যাদার সাথে জীবনযাপন করতে পারে।
প্রথমত: হালাল উপার্জন
হালাল উপার্জন হল: শরী‘আত কর্তৃক অনুমোদিত পথ এবং পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা, যেমন: বাণিজ্য, কৃষি, শিল্প, উত্তরাধিকার, অসীয়ত ইত্যাদি।
হালাল উপার্জনের ফযীলত:
দুনিয়াতে সুখ এবং আখিরাতে সফলতা অর্জনঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «قَدْ أَفْلَحَ مَنْ أَسْلَمَ، وَرُزِقَ كَفَافًا، وَقَنَّعَهُ اللهُ بِمَا آتَاهُ»: “সে ব্যক্তি সফলকাম যে ইসলাম গ্রহণ করেছে এবং তাকে পরিমিত রুযী দেওয়া হয়েছে, আর আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তাতে তাকে তুষ্ট করেছেন।” এটি মুসলিম (১০৫৪) বর্ণনা করেছেন।
كفافًا: শব্দটির অর্থ: এ পরিমাণ রিযিক, যা তাকে অন্যের কাছে চাওয়া থেকে যথেষ্ঠ করে।
জীবিকা অর্জনের প্রচেষ্টা করা, আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য অর্জনের একটি কারণ:
হালাল উপার্জন করাকে ইসলাম ইবাদাতের অন্তর্ভুক্ত করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (وَءَاخَرُونَ يَضۡرِبُونَ فِي ٱلۡأَرۡضِ يَبۡتَغُونَ مِن فَضۡلِ ٱللَّهِ وَءَاخَرُونَ يُقَٰتِلُونَ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِۖ): “আর অন্যান্যরা আল্লাহ্র অনুগ্রহ সন্ধানে দেশ ভ্ৰমন করবে এবং কেউ কেউ আল্লাহর পথে লড়াইয়ে লিপ্ত হবে।” (সূরা আল-মুযযাম্মিল: ২০)।
হারাম থেকে বিরত থাকা:
যখন কোন মুসলিম তার প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট হালাল রিযিক উপার্জনে ব্যস্ত থাকে, তখন এটা তাকে হারাম সম্পদ খোঁজা থেকে ফিরিয়ে রাখে।
দ্বিতীয়ত: হারাম উপার্জন
হারাম উপার্জন হল: শরী‘য়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ পথ ও পদ্ধতির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা, যেমন: ধোঁকাবাজি, মজুতদারি, ঘুষ, জুয়া, সুদ এবং হারাম জিনিসের ব্যবসা।
শরীয়ত সম্মত নয় এমন উপার্জনের পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে:
ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা:
এটি হল: বিক্রেতা কর্তৃক পণ্যের ত্রুটি লুকিয়ে রাখা বা এমনভাবে উপস্থাপন করা যা সত্য নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যে খাদ্য বিক্রি করছিল। তিনি খাদ্যের মধ্যে তার হাত ঢুকিয়ে খাবারে ভিজে দেখতে পেলেন, তখন তিনি বললেন: “হে খাদ্য বিক্রেতা, এটা কী?” সে বলল: হে আল্লাহর রসূল! আসমান থেকে পানি পড়েছে। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি কী সেটা খাদ্যের উপরিভাগে রাখতে পারতে না, যাতে করে মানুষ তা দেখতে পায়? যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মাতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।” এটি মুসলিম (১০২) বর্ণনা করেছেন।
প্রতারণা বা ধোঁকার সবচেয়ে মারাত্মক রূপগুলোর অন্যতম হল: কর্মক্ষেত্রে প্রতারণা করা, এটা এভাবে যে, একজন ব্যক্তি তার কাজকে পূর্ণভাবে করে না। অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে এতে কিছু ত্রুটি রেখে যায়, বা নিয়োগকর্তার অজ্ঞতার সুযোগ নেয় এবং দাবি করে যে সে কিছু বিষয় সংশোধন করেছে, অথচ সে সেটা সংশোধন করেনি।
প্রবঞ্চনা:
এটি হলো, যে ব্যক্তি পণ্যের মূল্য সম্পর্কে জানে না, এমন ব্যক্তির কাছে জিনিসটি তার স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি করা, যেমন: একটি পোশাকের দাম যদি ১০০ দিরহাম হয়, সেটিকে বিক্রেতার ২০০ দিরহামে বিক্রি করা।
মজুতদারী:
এটি হচ্ছে: প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র - যেমন: খাদ্য এবং পানীয় - মানুষের কাছ থেকে সেগুলোর বড় ধরনের মূল্য বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত আটকে রাখা, তারপরে উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা।
ঘুষ:
ঘুষ হচ্ছে: কোন ব্যক্তি কর্তৃক অন্য কাউকে এ কারণে অর্থ প্রদান করা, যাতে সে তার অধিকার বহির্ভূত কোন জিনিস গ্রহণ করতে পারে।
উদাহরণ: একজন ব্যক্তি মিথ্যা রায় দেওয়ার জন্য একজন বিচারককে ঘুষ দেয়া, অথবা তার প্রাপ্য নয় এমন কিছু দেওয়ার জন্য একজন কর্মকর্তাকে ঘুষ দেয়া। এটি কবীরা গুনাহের (বড় পাপ) অন্তর্ভুক্ত। হাদীসে রয়েছে: «لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الرَّاشِيَ وَالمُرْتَشِيَ»: “ঘুষখোর ও ঘুষ প্রদানকারীকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিসম্পাত করেছেন।” এটি আবূ দাঊদ (৩৫৮০) ও তিরমিযী (১৩৩৭) বর্ণনা করেছেন।
হারাম বস্তু বিক্রয় এবং এর মূল্য গ্রহণ করা:
এটার ধরন, একজন ব্যক্তি এমন দ্রব্য বিক্রি করে যা আল্লাহ তা‘আলা হারাম করেছেন, যেমন: মদ এবং নেশাদার দ্রব্যাদি, চটকদার ছবি এবং অশ্লীল ক্লিপ ইত্যাদি। অথবা এ কাজগুলো সম্পাদনের জন্য মজুরী গ্রহণ করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি চিন্তা করে উত্তর দিব:
কিয়ামাতের দিন বিশেষভাবে দুটি প্রশ্ন সম্পদের বিষয়ে করার কারণ নির্ণয় কর।
কেননা সম্পদের দুটি দিক থাকে: একটি হচ্ছে: অর্জন করা আর অপরটি হচ্ছে: তা খরচ করা।
পাঠে উল্লেখ নেই এমন তিনটি কাজের নাম লেখ, যা থেকে তুমি হালাল মাল উপার্জন করতে পারবে।
অনুশীলন (২): আমি ব্যাখ্যা করব এবং কারণ উল্লেখ করব:
কারণ উল্লেখপূর্বক নিচের উদাহরণগুলো থেকে সম্পদ উপার্জনের হুকুম লেখ:
উপার্জনের উদাহরণ উপার্জনের হুকুম কারণ
এক ব্যক্তি মারা গেলে তার সন্তানগণ তার পরিত্যাক্ত সম্পত্তি তাদের মধ্যে ভাগ করে নিল। হালাল কেননা এটি মীরাস হতে প্রাপ্ত।
কোন ব্যক্তি তার প্রতিবেশীর জন্য স্বীয় সম্পদের কিছুটা অসীয়ত করে গেল। হালাল কেননা অসীয়ত জায়িয।
একজন ডাক্তার হাসপাতাল থেকে তার প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে যান। হারাম কেননা এটা আত্মসাৎ।
লাভ বেশী করার জন্য কোন ব্যক্তি দুধের সাথে পানি মেশালো। হারাম কেননা এটি একটি প্রতারণা।
একজন ব্যক্তি গবাদি পশু পালন এবং সেগুলোর দুধ বিক্রির কাজ করেন। হালাল কেননা এটি একটি ব্যবসা।
জনৈক যুবক একজন ব্যক্তির সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নিল। হারাম কেননা এটি জবরদখল।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
বিক্রি করার সময় জিনিসের কিছু ত্রুটি লুকিয়ে রাখা জায়িয বা বৈধ। (✖)
প্রবঞ্চনা হল: পণ্যের দাম বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত আটকে রাখা। (✖)
হারাম জিনিসের ব্যবসা করা হারাম। (✓)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
হালাল উপার্জনের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে:
(ব্যবসা- গণকের গণনা- মজুতদারি)
“যে ব্যক্তি ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মাতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।” হাদীসটি কীসের হারাম হওয়া প্রমাণ করে?
(মজুতদারি- জুয়া- ধোঁকাবাজি)
যে ব্যক্তি পণ্যের মূল্য জানে না, তার কাছে স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করা হল:
(ধোঁকাবাজি- প্রবঞ্চনা- মজুতদারি)
যদি একজন ব্যক্তি তার প্রাপ্য না, এমন কিছু পাওয়ার জন্য অর্থ প্রদান করে, তাহলে সেটা:
(ঘুষ- প্রবঞ্চনা- প্রতারণা)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
হালাল উপার্জন ও হারাম উপার্জনের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয় কর।
হালাল উপার্জনের ফযীলত সম্পর্কে একটি দলীল লেখ।
দ্বিতীয় পাঠ: ব্যবসার হুকুমসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি ব্যবসা সম্পন্ন হওয়ার প্রদ্ধতি ব্যাখ্যা করবে।
ব্যবসা বিশুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ বর্ণনা করবে।
হালাল উপার্জনের দায়িত্বের ব্যাপারটি অনুধাবন করবে।
তুমি তোমার লেনদেনে ব্যবসার শর্তাবলী মেনে চলবে।
প্রথমত: ব্যবসা সম্পন্ন হওয়ার পদ্ধতি
ব্যবসা সম্পন্ন হয় দুটি বিষয়ের যে কোন একটির মাধ্যমে:
কথা, যেমন: বিক্রেতা বলল: আমি আপনার কাছে এই পণ্যটি এত দামে বিক্রি করলাম, এবং ক্রেতা বলল: আমি গ্রহণ করলাম বা কিনলাম।
কাজ (লেন-দেন): যেমন: কোন ক্রেতা বিক্রেতার সামনে পণ্য নিয়ে বিক্রেতাকে পণ্যের উপরে লিখিত মূল্য পরিশোধ করে দিল, অথচ তাদের মধ্যে কোন বাক্য বিনিময় হল না।
দ্বিতীয়ত: ব্যবসার শর্তসমূহ
প্রথম শর্ত: চুক্তিকারী উভয়ের সম্মতিঃ
চুক্তিকারী হচ্ছে: ক্রেতা ও বিক্রেতা। সুতরাং যদি কোন এক পক্ষের উপরে জবরদস্তি করা হয়, তবে সেই ব্যবসা বা ক্রয়-বিক্রয় শুদ্ধ হবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَأۡكُلُوٓاْ أَمۡوَٰلَكُم بَيۡنَكُم بِٱلۡبَٰطِلِ إِلَّآ أَن تَكُونَ تِجَٰرَةً عَن تَرَاضٖ مِّنكُمۡۚ ) “হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করলে তা বৈধ।” (সূরা আন-নিসা: ২৯)।
দ্বিতীয় শর্ত: চুক্তিকারী উভয় পক্ষের জ্ঞানসম্পন্ন, (ভাল-মন্দ) পার্থক্য করার যোগ্যতা সম্পন্ন এবং পরিপক্ক হওয়া আবশ্যক:
তাই বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয়কেই জ্ঞানসম্পন্ন, (ভাল-মন্দ) পার্থক্য করার যোগ্যতা সম্পন্ন এবং পরিপক্ক হতে হবে, অতএব পাগল, শিশু বা নির্বোধের পক্ষ থেকে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়।
তৃতীয় শর্ত: চুক্তিকৃত মালের মালিকানা:
অর্থাৎ, বিক্রেতাকে অবশ্যই বিক্রিত জিনিসের মালিক হতে হবে। কোন ব্যক্তির জন্য অন্য কারো সম্পত্তি বিক্রি করা জায়েয নয়, যদি মালিক তাকে অনুমতি না দেয়। হাকীম ইবনু হিযামকে উদ্দেশ্য করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন: «لَا تَبِعْ مَا لَيْسَ عِنْدَكَ»: “তোমার কাছে যা নেই, তা বিক্রয় করো না।” এটি আবূ দাঊদ (৩৫০৩) ও তিরমিযী (১২৩২) বর্ণনা করেছেন।
তথা: যা তোমার মালিকানায় নেই, তা বিক্রয় করো না।
চতুর্থ শর্ত: পণ্যের বৈধতা:
হারাম দ্রব্য যেমন: মদ, শূকর বা অন্যান্য হারাম জিনিস বিক্রি করা জায়েয নয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِنَّ اللهَ تعالى إِذَا حَرَّمَ أَكْلَ شَيْءٍ حَرَّمَ ثَمَنَهُ»: “আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন বস্তুকে খাওয়া হারাম করেন, তখন তার মূল্যও হারাম করে থাকেন।” এটি আহমাদ (২৬৭৮) বর্ণনা করেছেন।
পঞ্চম শর্ত: পণ্য ও মূল্য সম্পর্কে জ্ঞান:
সুতরাং কোন অজ্ঞাত বস্ত ক্রয় করা বৈধ নয়, যেমন: এমন একটি গাড়ী, যা ক্রেতা দেখেনি। অথবা সে এর মান বা বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানে না অথবা সে একটি গাড়ী ক্রয় করল এমন নগদের মাধ্যমে, যার সংখ্যা অজানা।
ষষ্ট শর্ত: বিক্রিত পণ্যদ্রব্য এবং মূল্য সরবরাহের ক্ষমতা থাকাঃ
কারণ হলো, যা সরবরাহ করা সম্ভব নয় তা বিক্রি করা অস্তিত্বহীন পণ্য বিক্রির হুকুমের মধ্যে পড়ে, আর অস্তিত্বহীন পণ্য বিক্রি করা বৈধ নয়। যেমন: শিকারের পূর্বেই পানিতে থাকা মাছ বিক্রি করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি আলোচনা করব এবং উত্তর দেব:
উমার ইবনুল খত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: لَا يَبِعْ في سُوقِنا إلَّا مَنْ قَدْ تَفَقَّه في الدِّينِ: “দীনের ব্যাপারে গভীর জ্ঞান অর্জন করেনি, এমন কোন ব্যক্তি আমাদের বাজারে ব্যবসা করতে পারবে না।” এটি তিরমিযী (৪৮৭) বর্ণনা করেছেন।
এ বক্তব্যের কারণ আলোচনা কর। এবং ক্রয়-বিক্রয়ের নিয়ম সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের জ্ঞানের ফলাফল ব্যাখ্যা কর।
অনুশীলন (২): আমি চিন্তা করব এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হব:
নিচে উল্লেখিত অবস্থায় ক্রয়-বিক্রয় বাতিল হওয়ার কারণ খুঁজে বের কর:
অবস্থাসমূহ এখানে ক্রয়-বিক্রয় বাতিল হওয়ার কারণ হচ্ছে, বিক্রেতা পণ্যের মালিক নয়।
এক ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই তার প্রতিবেশীর বাড়ি বিক্রি করে দিল। কারণ বিক্রিত বস্তু অজ্ঞাত।
এক ব্যক্তি গরুর পেটে থাকা বাছুর বিক্রি করল। কারণ নেশাদ্রব্য বিক্রি করা হারাম, এবং (ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে) পণ্য অবশ্যই বৈধ হতে হবে।
এক ব্যক্তি যুবকদের কাছে নেশাদ্রব্য বিক্রি করে। কারণ বিক্রেতা এখানে ভালো-মন্দের পার্থক্যকারী নয়।
এক ব্যক্তি একটি ছোট বাচ্চা থেকে একটি গাড়ী ক্রয় করল।
অনুশীলন (৩): আমি পৃথক করব:
ক্রয়-বিক্রয়ের শর্তাবলী সম্পর্কে তোমার জানার ভিত্তিতে, এই শর্তগুলোকে নিম্নোক্ত ভাগে ভাগ কর: চুক্তিকারীদের শর্তাবলী এবং চুক্তিকৃত বিষয়ের শর্তগুলি:
চুক্তিকারীদের শর্তাবলী চুক্তিকৃত বিষয়ের শর্তাবলী
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
অনুমতি পাওয়ার পর কারো সম্পত্তি বিক্রয় করা জায়িয।
ব্যবসার ক্ষেত্রে বিক্রিত বস্তু হস্তান্তর করার সামর্থ্য থাকার শর্তারোপ করা হয়েছে ।
বিক্রেতার জন্য চুক্তির শব্দাবলী ব্যবহার করে কথা বলা আবশ্যক।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
মদ বিক্রি শুদ্ধ নয়; বিক্রয়কৃত বস্তুটির নিম্নোক্ত শর্তের কারণে:
(জড়বস্তু হওয়া- নির্দিষ্ট হওয়া- উপকারিতার বৈধতা থাকা)
পাগলের ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়; চুক্তিকারী ব্যক্তির নিম্নোক্ত শর্তের কারণে:
(মুসলিম হওয়া- জ্ঞানবান হওয়া- বালিগ হওয়া)
মদ বিক্রি বৈধ নয়; বিক্রয়কৃত বস্তুটির নিম্নোক্ত শর্তের কারণে:
(জীবিত থাকা- পবিত্র হওয়া- নির্দিষ্ট হওয়া)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
কথা ছাড়া কাজের মাধ্যমে কিভাবে ক্রয়-বিক্রয় সম্পাদিত হতে পারে?
ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতার পরষ্পরে সম্মত থাকা ব্যবসা শুদ্ধ হওয়ার জন্য একটি শর্ত, ব্যাখ্যা কর।
তৃতীয় পাঠ: সুদ এবং নিষিদ্ধ ক্রয়-বিক্রয় (ব্যবসা)
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি সুদের প্রকারভেদ বর্ণনা করবে।
হারাম ব্যবসাসমূহের বর্ণনা দিবে।
সুদ হারামের দলীল পেশ করবে।
সামাজিক ও ব্যক্তিজীবনে সুদ ও হারাম ব্যবসার ভয়াবহতা অনুধাবন করবে।
নিষিদ্ধ ব্যবসা ও সুদ থেকে দূরে থাকবে।
প্রারম্ভিক কর্ম:
আহমাদ একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একটি গাড়ী কেনার চুক্তি করল এবং সে তাকে দাম দেওয়ার আগেই অন্য একজন এসে দাম বাড়িয়ে দিল, যাতে গাড়িটি সে নিতে পারে। এটা কি জায়িয? পাঠ্যটির মাধ্যমে এর উত্তর জানতে পারবে।
প্রথমত: সুদ
সুদ:
রিবা আল-ফাদ্ল-বৃদ্ধিকরণ সুদ
রিবা আন নাসীয়াহ-বিলম্বগত সুদ
পরবর্তীতে হস্তান্তর করার ভিত্তিতে একই জাতীয় দুটি পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় করা।
রিবা আদ দুয়ূন (ঋনের সুদ)
রিবা (সুদ) সকলের ঐক্যমতে হারাম। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (وَأَحَلَّ ٱللَّهُ ٱلۡبَيۡعَ وَحَرَّمَ ٱلرِّبَوٰاْۚ): “এবং আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন আর সুদকে করেছেন হারাম।” (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদের লেনদেনকারী উভয় ব্যক্তির উপরে লা‘নত প্রদান করেছেন, আর সেটা দুই প্রকার:
প্রথমত: রিবা আল-ফাদ্ল: এটি হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্যে থাকা ছয় শ্রেণির মধ্য হতে দুটি বিনিময়কৃত বস্তুর একটিতে বৃদ্ধি করে দেওয়া। ছয়টি বস্তু হচ্ছে: «الذَّهَبُ بِالذَّهَبِ، وَالْفِضَّةُ بِالْفِضَّةِ، وَالْبُرُّ بِالْبُرِّ، وَالشَّعِيرُ بِالشَّعِيرِ، وَالتَّمْرُ بِالتَّمْرِ، وَالْمِلْحُ بِالْمِلْحِ، مِثْلًا بِمِثْلٍ، سَوَاءً بِسَوَاءٍ، يَدًا بِيَدٍ، فَإِذَا اخْتَلَفَتْ هَذِهِ الْأَصْنَافُ، فَبِيعُوا كَيْفَ شِئْتُمْ إِذَا كَانَ يَدًا بِيَدٍ»: (স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর এবং লবনের বিনিময়ে লবন, সমপর্যায়ভুক্ত ও সমান সমানে, হাতে হাতে (নগদে) হতে হবে। আর যদি এ শ্রেণির মধ্যে পরিবর্তন আসে, তখন তোমরা হাতে হাতে হলে যেমন খুশি বিক্রয় করতে পারবে।” এটি সহীহ মুসলিম (১৫৮৭) বর্ণনা করেছেন ।
সুতরাং ১০০ গ্রাম নতুন স্বর্ণের দ্বারা ১১০ গ্রাম পুরাতন স্বর্ণের ক্রয়-বিক্রয় হারাম হবে।
দ্বিতীয়ত: রিবা আন নাসীয়াহ- বিলম্বগত সুদ: এটা দুই প্রকার:
ক - উভয়টি বা উভয়ের এক বিলম্বে হস্তগত করার শর্তে উপরোক্ত ছয় শ্রেণিভুক্ত পণ্য থেকে একই ধরণের দুটি পণ্য বিক্রি করা, যেমন: বিলম্বে হস্তাগতের শর্তে স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ বিক্রি করা, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: مِثْلًا بِمِثْلٍ، سَوَاءً بِسَوَاءٍ، يَدًا بِيَدٍ: “একই সমপর্যায়ভুক্ত , সমান সমান এবং হাতে হাতে।”
খ - রিবা আদ-দুয়ূন (ঋনের সুদ): এটি হচ্ছে বৃদ্ধি করে দেওয়ার শর্তে পরিশোধের সময় পিছিয়ে দেওয়া। যেমন: কোন ব্যক্তির উপরে কিছু ঋণ ছিল, যখন তার পরিশোধের সময় আসল, তখন সে তা আদায় করতে অক্ষম হওয়ায় ঋণদাতাকে বলল: আমাকে আরো সুযোগ দিন আর এ কারণে আমি আপনার ঋণের মধ্যে (কিছু পরিমাণ) বৃদ্ধি করে পরিশোধ করব।
বর্তমান যুগে সুদ:
বর্তমান যুগে সুদের অনেক প্রকার বিদ্যমান, যার মধ্যে প্রসিদ্ধ হচ্ছে: ব্যাংকের লাভ গ্রহণ করা : যেহেতু এ ব্যাংকগুলো মানুষকে সুদ বৃদ্ধির বিনিময়ে ঋণে মাল প্রদান করে, আর একে “লাভ (interest)” বলে নামকরণ করে, আর এটা হারাম।
অথবা কোন ব্যক্তিকে নগদ টাকা ব্যাংকে রাখার বিনিময়ে সুদী লাভ প্রদান করে।
দ্বিতীয়ত: নিষিদ্ধ ব্যবসা
একজন মুসলিম কর্তৃক তার ভাইয়ের বিক্রয়ের উপরে বিক্রয় করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: لَا يَبِعْ بَعْضُكُمْ عَلى بَيْعِ بَعْضٍ: “তোমাদের কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির উপরে ক্রয়-বিক্রয় করবে না।” এটি বুখারী (২১৫০) ও মুসলিম (১৫১৫) বর্ণনা করেছেন।
যেমন: বিক্রেতা এমন একজনকে বলবে যে দশ টাকায় একটি জিনিস কিনলো: আমি তোমাকে নয় টাকার বিনিময়ে একই পরিমাণ দেব।
মুসলিম তার ভাইয়ের ক্রয়ের উপরে ক্রয় করা:
যেমন: ক্রেতা এমন একজনকে বলবে যে তার পণ্য নয় টাকায় বিক্রি করেছে: আমি তোমার কাছ থেকে সেটি দশ টাকায় কিনব।
বিক্রেতার বিক্রয়ের উপরে বিক্রয় করা অথবা ক্রেতার ক্রয়ের উপরে ক্রয় করা হারাম হওয়ার কারণ হচ্ছে, এটির কারণে মুসলিমদের মধ্যে পারষ্পারিক বিদ্বেষ ও শত্রুতার প্রসার ঘটবে।
জুমু‘আহর আযানের পরে ক্রয়-বিক্রয় করা:
যাদের উপরে জুমু‘আহর সালাত ওয়াজিব, তাদের জন্য জুমু‘আহর আযান হওয়ার পরে ক্রয়-বিক্রয় করা আল্লাহ তা‘আলা নিষেধ করেছেন। (জুমু‘আহ) যাদের উপরে ওয়াজিব তারা হচ্ছে: মুসলিম, বালিগ, পুরুষ, জ্ঞানবান, মুকীম এবং সুস্থ ব্যক্তিবর্গ। এখানে আযান দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে: দ্বিতীয় আযান, যেটি ইমামের মিম্বারে উঠার পরে দেওয়া হয়। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَوٰةِ مِن يَوۡمِ ٱلۡجُمُعَةِ فَٱسۡعَوۡاْ إِلَىٰ ذِكۡرِ ٱللَّهِ وَذَرُواْ ٱلۡبَيۡعَۚ ذَٰلِكُمۡ خَيۡرٞ لَّكُمۡ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ: “হে ঈমানদারগণ ! জুমু’আর দিনে যখন সালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং কেনা-বেচা ত্যাগ কর, এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।” (সূরা আল-জুমু‘আহ: ০৯)।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি চিন্তা করব এবং সিদ্ধান্তে উপনীত হব:
পাঠ থেকে নিচের বিষয়গুলো থেকে যা প্রমাণিত হয়, খুঁজে বের কর:
ব্যবসা-বাণিজ্যে মগ্ন হওয়ার কারণে ফরজ ইবাদত পরিত্যাগ করা বৈধ নয়।
মুসলিমদের মাঝে শত্রুতার জন্ম দেয়, এমন প্রতিটি কাজকে শরী‘আত হারাম করেছে।
অনুশীলন (২) আমি আলোচনা করব এবং ফলাফল খুঁজে বের করব:
সুদের এমন হুকুম খুঁজে বের কর, নিম্ন বর্ণিত দলীল দুটি যার প্রতি ইঙ্গিত করে:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: يَمۡحَقُ ٱللَّهُ ٱلرِّبَوٰاْ وَيُرۡبِي ٱلصَّدَقَٰتِۗ: “আল্লাহ্ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত করেন।” (সূরা আল-বাকারা: ২৭৬)।
সুদ রিযিকের বরকত নষ্ট করে দেয়, এবং দরিদ্রতা ও অকর্মণ্যতার প্রসার ঘটায়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: وَإِن تُبۡتُمۡ فَلَكُمۡ رُءُوسُ أَمۡوَٰلِكُمۡ لَا تَظۡلِمُونَ وَلَا تُظۡلَمُونَ: “আর যদি তোমরা তাওবা কর, তবে তোমাদের মূলধন তোমাদেরই। তোমরা যুলুম করবে না এবং তোমাদের উপরও যুলুম করা হবে না।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৯)।
সুদগ্রহীতা যদি তাওবা করে, তবে সে কেবল তার মূলধনই নেবে এবং এর চেয়ে বেশি কিছু নেওয়া তার জন্য জায়েয নয়।
অনুশীলন (৩): আমি গভীরভাবে চিন্তা করব এবং বর্ণনা করব:
সুদের লেনদেনকারীদের ব্যাপারে প্রদত্ত ভয়াবহ হুমকির ব্যাপারে গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা কর, তারপরে নিচে প্রদত্ত হাদীসকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করে সুদ হতে সতর্ক করে এমন একটি বক্তব্য লেখ, তারপরে তোমার বক্তব্য পরিবারের সামনে পেশ কর:
لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم آكِلَ الرِّبا وَمُوكِلَهُ وَكاتِبَهُ وَشاهِدَيْهِ: “আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদ গ্রহীতা, সুদ প্রদানকারী, সুদের লেখক এবং সুদের দুজন সাক্ষীর উপরে লা‘নত করেছেন।” এটি সহীহ মুসলিম (১৫৯৮) বর্ণনা করেছেন।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
জুমু‘আহর আযানের পর একজন নারীর জন্য অন্য নারীর কাছে কোন কিছু বিক্রয় করা হারাম।
ব্যাংকের লাভ (Banking interest) হচ্ছে সুদের একটি আধুনিক পদ্ধতি।
মুসলিম কর্তৃক তার ভাইয়ের ক্রয়ের উপর ক্রয় করা হারাম।
সুদ সমাজে অত্যাচার ও দরিদ্রতাকে ছড়িয়ে দেয়।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
ওই লেনদেন নিষিদ্ধ যা মুসলিমদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়:
(সহযোগিতা- শত্রুতা- সম্পদ)
ফরয আমল নষ্ট করে এমন ব্যবসা-বাণিজ্যের হুকুম:
(হারাম- মাকরুহ- জায়িয)
বেশী দেওয়ার বিনিময়ে ঋণ পরিশোধের সময় বাড়িয়ে নেওয়া হচ্ছে:
(বিলম্বের মাশুল- রিবা আল-ফাদল(বৃদ্ধিকরণ সুদ)- রিবা আদ দুয়ূন(ঋনের সুদ) )
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
সুদ হারাম হওয়ার একটি দলীল লেখ।
সুদের প্রকার রিবা আল-ফাদল(বৃদ্ধিকরণ সুদ) এবং রিবা আদ-দুয়ূন(ঋনের সুদ), এর মাঝে তুলনা কর।
চতুর্থ পাঠ: ইজারা/ভাড়ার চুক্তি
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
ইজারা বা ভাড়ার চুক্তি দ্বারা কী বোঝায়, তা বর্ণনা করবে।
ইজারা বা ভাড়ার শর্তসমূহ বর্ণনা করবে।
ইজারার দুটি পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করবে।
ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে ইজারার গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
হারাম লেনদেন থেকে দূরে থাকবে।
প্রারম্ভিক কর্ম:
একজন দক্ষ কৃষক আছে, কিন্তু চাষাবাদ করার জন্য তার জমি নেই। তোমার মতে ইজারা চুক্তি কিভাবে তার সমস্যার সমাধান হতে পারে?
ইজারা বা ভাড়া হচ্ছে মানুষের প্রয়োজনীয় চুক্তির মধ্যে অন্যতম; কেননা এটি তাদের মালিকানায় নেই এমন বস্তুর মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার সুযোগ তৈরী করে। যেমন: আবাসন এবং পরিবহন সুবিধা। ইজারা/ভাড়ার মধ্যে মানুষের জন্য সহজলভ্যতা রয়েছে। এই পাঠে ইজারা বা ভাড়ার হুকুমসমূহ আলোচনা করা হয়েছে।
ইজারা/ভাড়া:
ইজারার পরিচয়:
ইজারার হুকুম
ইজারার প্রকারভেদ
ইজারার শর্তসমূহ
প্রথমত: ইজারার পরিচয়:
ইজারা হচ্ছে: নির্দিষ্ট ভাড়ায়, কোন বৈধ বস্তু বা কাজ থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উপকারিতা লাভের একটি চুক্তি।
উদাহরণ: ইবরাহীম আহমাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০০ রিয়ালের বিনিময়ে থাকার জন্য একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিল৷ অ্যাপার্টমেন্টটির মালিক আহমাদ, কিন্তু ভাড়ার সময়কালে এটির উপকার গ্রহণ করবে ইবরাহীম।
দ্বিতীয়ত: ইজারার হুকুম:
ইজারা জায়িয, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: فَإِنۡ أَرۡضَعۡنَ لَكُمۡ فَـَٔاتُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ: “অতপর যদি তারা তোমাদের সন্তানদেরকে স্তন্য দান করে তবে তাদেরকে পারিশ্রমিক দেবে।” (সূরা আত-ত্বলাক: ০৬)।
তথা: বাচ্চাকে দুধ পান করানোর পারিশ্রমিক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের সময়ে মদীনার পথ দেখানোর জন্য আব্দুল্লাহ ইবনু উরাইকিত্বকে ভাড়া করেছিলেন।
তৃতীয়ত: ইজারার প্রকারভেদ:
কোন বস্তু হতে উপকার লাভের জন্য ইজারা: যেমন: নির্দিষ্ট সময় কোন ব্যক্তির কাছে বসবাস করার জন্য অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া দেওয়া অথবা ব্যবহারের জন্য গাড়ী ভাড়া দেওয়া।
নির্দিষ্ট কাজ করানোর জন্য ইজারা: যেমন: মুহাম্মাদ একজন কাঠমিস্ত্রিকে তার একটি চেয়ার তৈরী করার জন্য ভাড়া নিল।
চতুর্থত: ইজারার শর্ত:
ইজারা চুক্তিতে কয়েকটি শর্ত প্রয়োজন হয়, যথা:
ইজারাকৃত/ভাড়াকৃত বস্তু অথবা যে কাজের জন্য ইজারা নেওয়া হবে, তা মৌলিকভাবে বৈধ হওয়া; সুতরাং মদ বিক্রির জন্য কোন স্থান ভাড়া দেওয়া অথবা নেশাদার দ্রব্য বিক্রয়ের জন্য কোন ব্যক্তিকে ইজারা/ভাড়া নেওয়া।
উপকারিতা/লাভ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা; কেননা উপকারই হচ্ছে যা চুক্তিকৃত বিষয়, অতএব এ ব্যাপারে জ্ঞান থাকা একটি শর্ত।
নির্দিষ্ট উপকারিতা লাভের উপরে ইজারার মেয়াদ নির্দিষ্ট হওয়া; যেমন: একদিন, একমাস অথবা উভয় পক্ষ সম্মত এমন যে কোন মেয়াদ।
ভাড়ার পরিমাণ সম্পর্কে জ্ঞাত হতে হওয়া।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি পড়বো এবং খুঁজে বের করবো:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «قَالَ اللهُ تَعَالَى: ثَلَاثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ...»: “আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: তিনজন এমন রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে আমি কিয়ামাতের দিনে বাদী হব.......” এদের মধ্যে রয়েছে: «وَرَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ، وَلَمْ يُعْطِهِ أَجْرَهُ»: “কোন ব্যক্তি কাউকে শ্রমিক হিসেবে নিযুক্ত করল, তার থেকে কাজ পূর্ণভাবে বুঝে নিল অথচ তাকে তার পারিশ্রমিক প্রদান করল না।” এটি সহীহ বুখারী (২২২৭) বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি ভালোভাবে পড়, তারপরে এখান থেকে শিক্ষণীয় বিষয়গুলি খুঁজে বের কর।
অনুশীলন (২): আমি তুলনা করব:
বিক্রয় ও ইজারার মধ্যে তুলনা কর, নিচের ছকে যেভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে তা থেকে :
তুলনার দিক বিক্রয় ইজারা/ভাড়া
হুকুম
দুই পক্ষের নাম
অনুশীলন (৩): আমি আলোচনা ও পর্যালোচন করব:
নিম্নলিখিত ইজারা চুক্তিগুলোর ত্রুটির দিকগুলি বর্ণনা করার ক্ষেত্রে তোমার শিক্ষকের সাথে আলোচনা কর:
বিদ্যমান ত্রুটির দিক ইজারার চুক্তি
এক ব্যক্তি একটি স্থান নৈশক্লাবের জন্য ভাড়া দিল।
কাজের সময় নির্ধারণ না করে এক ব্যক্তি কাউকে ভাড়া করল।
পারিশ্রমিকের কথা উল্লেখ না করে কোন ব্যক্তি একজন শ্রমিক ভাড়া করল।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
বিনিময় সম্পর্কে অজানা থাকলে ইজারা বৈধ। (×)
উপকারিতার বিষয়টি বৈধ না হলেও ইজারা জায়িয হবে। (×)
উপকারিতা/লাভের বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা ইজারার ক্ষেত্রে শর্ত।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
ইজারা হল: এমন একটি চুক্তি যা উপকৃত হওয়ার জন্য:
(বৈধ- মুস্তাহাব- ওয়াজিব)
যে ব্যক্তি কোন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ না করে কোন বাড়ী ভাড়া দিল, তাহলে তার চুক্তিটি:
(বিলম্বে আদায় যোগ্য- শুদ্ধ- বাতিল)
ইজারা চুক্তির ফলে শ্রমিক অধিকারী হয়:
(ভাড়াকৃত বস্তু- পারিশ্রমিক- কাজ ছেড়ে দেওয়া)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
ইজারা/ভাড়া দ্বারা উদ্দেশ্য কী?
ইজারার দুটি প্রকারের মধ্যে পার্থক্য কর।
পঞ্চম পাঠ: বর্তমান যুগের কতিপয় লেনদেন
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী ! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
ব্যাংকিং কার্ড ব্যবহারের হুকুম বর্ণনা করবে।
বাণিজ্যিক বীমা এবং সমবায় বীমার হুকুমের মধ্যে পার্থক্য করবে।
কিস্তি আকারে মূল্য পরিশোধের হুকুম বর্ণনা করবে।
ডিজিটাল মার্কেটিং এর গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহের সারমর্ম বর্ণনা করবে।
হালাল উপার্জনের উপর গুরুত্ব প্রদান করবে।
আধুনিক মাসআলা ও ঘটনাপ্রবাহের ক্ষেত্রে শরী‘আত কতটা পরিব্যাপ্ত, তা অনুধাবন করবে।
বাস্তবমুখী আধুনিক অর্থনৈতিক বহু নতুন নতুন পদ্ধতি প্রচলন হয়েছে। আমাদের অবশ্যই সেগুলি অধ্যয়ন করতে হবে; যাতে আমরা এগুলো সম্পর্কে শরী‘আতের অবস্থান জানতে পারি। এ পাঠে আমরা এগুলো থেকে পাঁচটি বিষয় অধ্যয়ন করব।
প্রথমত: ব্যাংকিং কার্ডসমূহ
ব্যাংক যে কার্ডসমূহ ইস্যূ করে, তা দুই ধরণের:
প্রথম প্রকার: ডেবিট কার্ড (Debit Card)
এটি একটি ব্যাংক কার্ড যেখানে মালিক কিছু অর্থ জমা রাখেন এবং তিনি যখনই চান এই অর্থটি তুলতে পারেন, বা শপিং সেন্টারে কেনাকাটার জন্য এটি দিয়ে অর্থ প্রদান করতে পারেন, তবে তিনি কেবল ব্যাংকে তার প্রকৃত ব্যালেন্সের পরিমাণই দিতে/উত্তোলন করতে পারেন। .
ডেবিট কার্ড ব্যবহার করা জায়িয; কেননা এখানে মানুষ তার জমাকৃত অর্থ থেকেই গ্রহণ করে।
দ্বিতীয় প্রকার: ক্রেডিট কার্ড (Credit Card)
এটি একটি ব্যাংক কার্ড, যা দিয়ে মালিক নগদ তুলতে পারেন, বা শপিং সেন্টার থেকে তার কেনাকাটার জন্য অর্থ প্রদান করতে পারেন, যদিও তা তার জমাকৃত অর্থের চেয়ে বেশি হয় ৷ কার্ডের মালিককে একটি নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়, এবং যখন মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তখন ব্যাংক তাকে একটি ব্যাংকিং ইন্টারেস্ট (সুদ) ধার্য করে।
এর মাধ্যমে লেনদেন করা জায়েয নয়; কারণ এতে সুদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।তবে যদি একজন মুসলিম প্রয়োজনে এটির মাধ্যমে লেনদেন করে, তবে তাকে নির্দিষ্ট সময় থেকে ঋণ পরিশোধে দেরি করা উচিত নয়। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হচ্ছে কিছু ইসলামিক ব্যাংকের দ্বারা ইস্যুকৃত কার্ড, যাতে ব্যাংকিং ইন্টারেস্ট বা সুদ অন্তর্ভুক্ত নেই।
দ্বিতীয়ত: বাণিজ্যিক বীমা
এটি এমন একটি চুক্তি যেখানে বীমাকৃত ব্যক্তি বীমা সংস্থাকে অর্থের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে, বিনিময়ে যদি তার ক্ষতি হয়ে থাকে, তখন বীমা সংস্থা তাকে ক্ষতিপূরণ দেবে।
যেমন গাড়ীর বীমা, যেখানে গ্রাহক মাসিক কিস্তি প্রদান করে, এবং গাড়ীতে কোন দুর্ঘটনা না ঘটলে সে এখান থেকে কোন প্রকারের লাভবান হয় না, এ ক্ষেত্রে (দূর্ঘটনা ঘটলে) বীমা কোম্পানি এই দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করে।
এটা শরী‘আতে নিষিদ্ধ একটি চুক্তি; কারণ এটি একটি প্রতারণামূলক চুক্তি। গ্রাহক অর্থ প্রদান করবে অথচ সে তা ফেরত পাবে কি না, তা জানে না এবং কোম্পানি তাকে যে অর্থ প্রদান করবে, তাও চুক্তির সময় অজানা।
তৃতীয়ত: তাকাফুল (সমবায়) বীমা
এটি একটি চুক্তি যেখানে একদল লোক একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদানে অংশগ্রহণ করে; যাতে তারা তাদের মধ্য হতে যে ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাকে সাহায্য করতে পারে।
এটি একটি শরী‘আতসম্মত জায়িয চুক্তি; কারণ এটি একটি দান চুক্তি, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা স্বেচ্ছায় এই পরিমাণ অর্থ প্রদান করে, যাদের এটি প্রয়োজন তাদের দান করে।
চতুর্থত: কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয়
এটি এমন একটি বিক্রয় যেখানে ক্রেতা অবিলম্বে পণ্যটি গ্রহণ করে এবং চুক্তিবদ্ধ উভয় পক্ষের সম্মতিতে কিস্তির ভিত্তিতে পরবর্তীতে মূল্য পরিশোধ করে।
উদাহরণ: আহমাদ ১০০০০ দিরহামের বিনিময়ে একটি বাড়ী ক্রয় করল, এবং সে দশ বছর মেয়াদে প্রতি বছরে ১০০০ দিরহাম করে প্রদান করবে।
এটি একটি জায়িয বিক্রয়; কারণ এটি সাধারণভাবে আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীর অন্তর্ভুক্ত: وَأَحلَّ اللهُ البيعَ: “আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন।” (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৫)।
পঞ্চমত: ডিজিটাল মার্কেটিং
ডিজিটাল মার্কেটিং হচ্ছে: কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট, ইলেকট্রনিক অ্যাপ্লিকেশন ইত্যাদি ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে পণ্য ও পরিষেবাসমূহের ব্যবসায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া।
ডিজিটাল মার্কেটিং-এর প্রকারভদ:
ডিজিটাল মার্কেটিং-বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম:
বস্তুগত উৎপাদিত সামগ্রী অথবা পণ্য যেমন: ডিভাইস বা অনুরূপ কিছু বিনিময় করা, এভাবে যে, ক্রেতা এর মূল্য কোম্পানির ওয়েবসাইটে পরিশোধ করবে, ফলে কোম্পানি তার পণ্যটি ব্যক্তির কাছে পণ্য পরিবহন কোম্পানি বা কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়।
পরিসেবা বিনিময় করা, যেমন: বিভিন্ন ধরণের যানবাহন, ট্রাভেল টিকিট এবং হোটেলের রুম বুকিং এর জন্য ব্যবহৃত অ্যাপসমূহ।
ডিজিটাল পণ্যগুলো যেমন প্রোগ্রাম, অ্যাপ্লিকেশন, চলচ্চিত্র বা অনুরূপ কিছু বিনিময় করা, যেখানে ক্রেতা সেগুলির জন্য অর্থ প্রদান করে, তারপর সেগুলিকে তার ব্যক্তিগত ডিভাইসে ইনস্টল করে অথবা সেগুলি ব্যবহারের জন্য একটি লাইসেন্স পায়৷
ডিজিটাল মার্কেটিং-এর হুকুম:
ডিজিটাল মার্কেটিং জায়িয আছে, যদি না এতে নিষিদ্ধ কিছু জড়িত থাকে, যার মধ্যে রয়েছে:
ধোঁকা এবং প্রতারণা।
গুণগত মান না জেনে কোন পণ্য অথবা পরিসেবা ক্রয় করা।
মালিকানার অধিকার লঙ্ঘন; যেমন: কপিরাইটযুক্ত প্রোগ্রাম অথবা বইসমূহ তাদের মালিকের অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা।
অনুশীনসমূহ
অনুশীন (১): আমি হুকুম লিখব এবং কারণ দর্শাব:
কারণ উল্লেখসহ নিচের লেনদেনসমূহের হুকুম লেখ:
লেনদেন হুকুম কারণ
আহমাদ একটি দোকান কিনল এবং কোম্পানিকে বার্ষিক কিস্তির বিনিময়ে আগুন এবং চুরির বিপরীতে বীমা করল।
হারাম
কেননা, এটি বাণিজ্যিক বীমা, আর এটি হারাম।
দশ হাজার রিয়ালের বিনিময়ে মুহাম্মাদ একটি গাড়ী ক্রয় করল, এবং বিক্রেতার সাথে সে দশ মাসে পরিশোধ করার চুক্তি সম্পন্ন করল।
জায়িয
কেননা এটি কিস্তির ভিত্তিতে বিক্রয়, আর এটা জায়িয।
ফাতিমা তার সহকর্মীদের সাথে ফ্যাক্টরিতে একটি সমবায় বীমাতে অংশ গ্রহণ করল। এটি জায়িয; কারণ এটি একটি অনুদান চুক্তি।
অনুশীন (২): আমি তুলনা করব:
নিচে প্রদত্ত ছকে প্রদেয় তথ্যের ভিত্তিতে ক্রেডিট কার্ড ও ডেবিট কার্ডের মধ্যে তুলনা কর:
ডেবিট কার্ড তুলনার দিক ক্রেডিট কার্ড
এটি হল একটি ব্যাংক কার্ড যেখানে মালিক তার একটি ব্যালেন্স জমা রাখে এবং মালিককে বাড়তি ধার দেওয়া ব্যতীত তিনি যখনই চান তখন তা তুলতে অথবা এর দ্বারা কোন কিছু কিনতে পারেন।
এর দ্বারা এমন ব্যাংক কার্ডগুলিকে বোঝানো হয়, যার মালিক তার জমাকৃত ব্যালেন্স থেকে উত্তোলন করতে পারেন, সেই সাথে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঋণ দেওয়ারও অনুমতি থাকে৷
জায়িয এর হুকুম জায়িয নয়
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
বাণিজ্যিক বীমা জায়িয আছে, কেননা এটি একটি অনুদান চুক্তি। (×)
কিস্তিতে বিক্রয়ের জন্য কিস্তির সময়সীমা নির্দিষ্ট করা আবশ্যক। (✓)
ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার করে ক্রয়-বিক্রয় করা মাকরূহ। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
হাদীস: «نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعِ الْغَرَرِ» “রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধোঁকাপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করেছেন।” হাদীসটি যা হারাম প্রমাণ করে তা হলো :
(বন্ড - কিস্তি বিক্রয় - বাণিজ্যিক বীমা)
সমবায় বীমা জায়িয হওয়ার দলীলের মধ্যে রয়েছে:
(অনুদান চুক্তি- অত্যাবশ্যক নয় - মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচলন)
ডিজিটাল মার্কেটিং-এর হুকুম হচ্ছে:
জায়িয- মাকরূহ- হারাম কিছু না থাকা সাপেক্ষে জায়িয)
প্রশ্ন ৩: কিস্তিতে বিক্রির বৈধতাকে তুমি কিভাবে ব্যাখ্যা করবে?
কারণ এটি আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত আয়াতের সাধারণ অর্থের মধ্যে পড়ে: و أحل الله البيع و حرم الربوا: “আর আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম।” (সূরা আল-বাকারাহ: ২৭৫)।
প্রশ্ন ৪: এই পাঠটি অধ্যয়ন করার পরে, তুমি কিভাবে দলীল পেশ করবে যে, শরী‘আ আইন মুসলিমদের জীবনে আগত আধুনিক এবং সমসাময়িক সমস্যাগুলির সমাধান নির্দেশ করেছে।
ষষ্ট পাঠ: বিবাহের হুকুম
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
বিবাহ শরী‘আতসম্মত হওয়ার দলীল পেশ করবে।
বিবাহের আকদ সম্পাদনের শর্তগুলো বর্ণনা করবে।
ইসলামের শিক্ষা ও হুকুমসমূহের মহত্ত তুলে ধরবে ।
বিবাহ করতে ইচ্ছুক এমন প্রত্যেককে অবশ্যই তার শরয়ী বিধান সম্পর্কে জানতে হবে। এ পাঠে আমরা সেই বিধানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি শিখব৷
প্রথমত: বিবাহ শরী‘আতসম্মত হওয়া
আল্লাহ তা‘আলা প্রতি বস্তুকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। মানুষকে বিবাহের প্রতি ভালোবাসা এবং সেদিকে তার ঝোঁক তৈরী করে দিয়েছেন। এবং এ ব্যাপারে তিনি আদেশ করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: فَٱنكِحُواْ مَا طَابَ لَكُم مِّنَ ٱلنِّسَآءِ مَثۡنَىٰ وَثُلَٰثَ وَرُبَٰعَۖ: “তবে বিয়ে করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে, দুই, তিন বা চার।” (সূরা আন-নিসা: ০৩)।
বিবাহ শরী‘আতসম্মত হওয়ার হিকমত: সম্মান রক্ষা করা, মানব জাতিকে রক্ষা করা, জীবনের ভার বহনে সহযোগিতা করা এবং পৃথিবীকে উত্তম বংশধর দিয়ে আবাদ করা।
বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ
প্রথম শর্ত: সন্তুষ্টি:
সন্তুষ্টি হল: বিবাহের চুক্তিতে স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের সম্মতি। কোন নারী বা পুরুষকে বিবাহের ক্ষেত্রে জোর-জবরদস্তি করা যাবে না।
দ্বিতীয় শর্ত: স্বামী ও স্ত্রী নির্দিষ্ট হওয়া।
যাকে বিবাহ করা হবে, তার দিকে ইশারা করা, তার নাম উল্লেখ করা অথবা যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে তাকে আলাদা করা যায়, তা উল্লেখ করার মাধ্যমে অর্জিত হবে।
তৃতীয় শর্ত: অলী ( শরয়ী অভিভাবক) উপস্থিত থাকা:
অলী বা শরয়ী অভিভাবক হল: মহিলার নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে একজন পুরুষ, যিনি তার পক্ষ থেকে বিবাহের চুক্তি সম্পাদন করেন। মহিলার জন্য নিজেকে বিবাহ দেওয়া জায়িয নয় এবং একজন মহিলার জন্য অন্য মহিলাকে বিবাহ দেওয়াও বৈধ নয়। যদি কোন নারী তা করে থাকে, তবে তার বিবাহ বাতিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أَيُّمَا امْرَأَةٍ نَكَحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ، فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ، فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ»: “যদি কোন নারী তার অলীর অনুমতি ছাড়া বিবাহ করে থাকে, তাহলে তার বিবাহ বাতিল, তাহলে তার বিবাহ বাতিল, তাহলে তার বিবাহ বাতিল।” এটি তিরমিযী (১১০২) বর্ণনা করেছেন।
ইসলাম নারীর সুরক্ষা এবং তার অধিকার নিশ্চিত করার জন্য একজন অলী বা শরয়ী অভিভাবকের উপস্থিতির শর্তারোপ করেছে। অলী হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে: পুরুষ হওয়া, বালিগ হওয়া, বিবেকবান হওয়া, ন্যায়পরায়ণতা এবং পরিপক্কতা থাকা।
চতুর্থ শর্ত: স্বামী ও স্ত্রী পারষ্পারিক নিষিদ্ধকারী বিষয়সমূহ থেকে মুক্ত হওয়া।
স্বামী ও স্ত্রী অথবা তাদের একজনের মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারবে না, যা (শরয়ীভাবে) বিয়েতে বাধা দান করে, যেমন:
নসব ও দুধ সম্পর্কের কারণে হারাম হওয়া, যেমন: তারা আপন ভাইবোন অথবা দুধ সম্পর্কের ভাইবোন হওয়া।
দীন বা ধর্মের ভিন্নতার কারণে হারাম হওয়া, যেমন: কোন মহিলা মুসলিম কিন্ত পুরুষটি নাসারা হওয়া।
অস্থায়ী কোন কারণে হারাম হওয়া, যেমন:তালাক বা স্বামী মারা যাওয়ার কারণে স্ত্রীর ইদ্দত পালন করার সময়ে।
পঞ্চম শর্ত: সাক্ষী:
বিবাহ আকদের ব্যাপারে দুজন ন্যায়পরায়ণ পুরুষ সাক্ষী না থাকলে বিবাহ হবে না। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: «لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ وَشَاهِدَيْ عَدْلٍ»: “অলী এবং দুজন ন্যায়পরায়ন ব্যক্তির সাক্ষ্য ছাড়া বিবাহ হবে না।” এটি দারেকুতনী (৩৫৩১) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি হুকুম বর্ণনাপূর্বক কারণ নির্ণয় করব:
কারণ উল্লেখপূর্বক নিন্মোক্ত মাসআলাতে বিবাহের আকদের হুকুম বর্ণনা কর:
মাসআলা হুকুম কারণ
কোন একজন মুসলিম ব্যক্তি তার কন্যাদের মধ্যে কাউকে নির্দিষ্ট করা ব্যতীতই বিবাহ দিল।
স্বামীর ওফাতের ইদ্দত পালনকালীন সময়ে কোন একজন মহিলা বিবাহ করল।
কোন একটি মেয়ে তার পরিবারকে না জানিয়েই তার এক সহপাঠী/সহকর্মীকে বিবাহ করে নিল।
অনুশীলন (২): আমি ফলাফল বের করব:
নিম্নলিখিত দলীলসমূহ বিবাহের যে শর্তগুলির উপর ইঙ্গিত করে, দলীল থেকে সেগুলো বের কর:
দলীল শর্ত
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ، وَلَا تُزَوِّجُ الْمَرْأَةُ نَفْسَهَا»: “কোন মহিলা অন্য কোন মহিলাকে বিবাহ দিতে পারবে না, আবার কোন মহিলা নিজেও বিবাহ করতে পারবে না।” ইবন মাজাহ (১৮৮২) এটি বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا تُنْكَحُ الأَيِّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ، وَلَا تُنْكَحُ البِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ»: “বিধবা নারীকে তার মতামত ব্যতীত বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কুমারীকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেওয়া যাবে না।” এটি বুখারী (৫১৩৬) ও মুসলিম (১৪১৯) বর্ণনা করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: وَلَا تَنكِحُواْ ٱلۡمُشۡرِكَٰتِ حَتَّىٰ يُؤۡمِنَّۚ: “আর তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিবাহ করবে না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।” (সূরা আল-বাকারা: ২২১)।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
যার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর নির্দিষ্টতা অর্জিত হতে পারে, এর মধ্যে রয়েছে বিবাহ করা হবে এমন ব্যক্তির দিকে ইশারা করা।
পিতার জন্য তার বালিগাহ (সাবালিকা) কন্যাকে বিবাহের ক্ষেত্রে জোর করা বৈধ। (×)
আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নারীকে বিবাহ করা মুসলিম ব্যক্তির জন্য বৈধ।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
বিবাহের সাক্ষীদ্বয় হওয়া শর্ত:
(দুজন পুরুষ- একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা- নিকটাত্মীয়দের মধ্য হতে দুজন)
বিবাহ নিষিদ্ধ হওয়ার কারণের মধ্যে রয়েছে:
(বয়সের ব্যবধান- ধর্মীয় ভিন্নতা- দেশের ভিন্নতা)
যদি কোন নারী অন্য নারীকে বিবাহ প্রদান করে, তাহলে উক্ত বিবাহ:
(বাতিল- মাকরূহ- শুদ্ধ)
প্রশ্ন ৩: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখ:
অলী অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে বিবাহ সহীহ হবে।
কোন মুসলিম নারীর জন্য অমুসলিম পুরুষকে বিবাহ করা বৈধ।
প্রশ্ন ৪: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
বিবাহ শরী‘আতসম্মত হওয়ার একটি দলীল লেখ।
বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার শর্তের মধ্যে রয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর পরষ্পরকে নিষিদ্ধ করে, এমন বিষয় থেকে মুক্ত হওয়া, এটি ব্যাখ্যা কর।
সপ্তম পাঠ: দাম্পত্য জীবন
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ থেকে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
স্ত্রীর উপর স্বামীর হক বর্ণনা করবে।
স্বামীর উপর তার স্ত্রীর হক বর্ণনা করবে।
স্বামী-স্ত্রীর হকসমূহের উপর দলীল পেশ করবে।
ইসলামের হুকুমসমূহের গুরুত্ব অনুধাবন করবে।
ভূমিকা:
স্বামীর উপর স্ত্রীর তিনটি অধিকার উল্লেখ কর, তারপর পাঠ শেষ করে তোমার উত্তরটি মূল্যায়ন কর।
প্রথমত: স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
আনুগত্যের হক:
ইসলাম স্ত্রীকে স্বামীর অধিকার ও পরিবারের অধিকারের ব্যাপারে আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছে। স্বামী পরিবারের পরিচালক, তবে শর্ত হচ্ছে আনুগত্যটি আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতার ক্ষেত্রে হবে না।
বাড়ীতে অবস্থান করা এবং তার রক্ষণাবেক্ষণ করা:
ইসলাম নারীকে তার স্বামীর ঘরে থাকা আবশ্যক করেছে এবং তার অনুমতি ছাড়া বের হওয়া হারাম করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: (وَ قَرْنَ فِيْ بُيُوْتِكُنَّ ): “আর নারীরা তোমাদের বাড়ীতে অবস্থান করবে।” (সূরা আল আহযাব: ৩৩)। স্বাভাবিকভাবে স্ত্রীকে তার পিতামাতাকে দেখতে যেতে নিষেধ করা স্বামীর উচিত নয়।
স্ত্রীর কর্তব্য হচ্ছে তার বাড়ী দেখাশোনা করা। স্বামীর সম্পদ রক্ষা ও তার সন্তানদের খেয়াল রাখার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া।
পরিচালনার অধিকার:
পরিচালনা অর্থ: পুরুষ বাড়ীতে অভিভাবকত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারী। আর তার উপরেই খরচ-খরচা, পোষাক-আশাক ও বাসস্থান ব্যবস্থার যাবতীয় দায়িত্ব রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ٱلرِّجَالُ قَوَّٰمُونَ عَلَى ٱلنِّسَآءِ بِمَا فَضَّلَ ٱللَّهُ بَعۡضَهُمۡ عَلَىٰ بَعۡضٖ وَبِمَآ أَنفَقُواْ مِنۡ أَمۡوَٰلِهِمۡۚ: “পুরুষরা নারীদের পরিচালক; এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের একের উপরে অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজেদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৪)।
দ্বিতীয়ত: স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার
মোহরানা বা দেনমোহর
এটি মালের একটি পরিমান, যা পুরুষকে অবশ্যই বিবাহের চুক্তি অনুসারে মহিলাকে দিতে হয়৷ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَءَاتُواْ ٱلنِّسَآءَ صَدُقَٰتِهِنَّ نِحۡلَةٗۚ: “তোমরা নারীদেরকে তাদের মোহর সন্তুষ্টচিত্তে দিয়ে দাও।” (সূরা আন-নিসা: ০৪)।
মোহর নারীকে এ কথার অনুভূতি জাগ্রত করে যে, তার অবস্থানটি সম্মান ও মর্যাদার।
ভরণ পোষণের হক:
ভরণপোষণের মধ্যে পানাহার, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। স্বামীর অবস্থার উপর ভিত্তি করে ভরণপোষণের ব্যয়ের বিষয়টি নির্ধারিত হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: لِيُنفِقۡ ذُو سَعَةٖ مِّن سَعَتِهِۦۖ وَمَن قُدِرَ عَلَيۡهِ رِزۡقُهُۥ فَلۡيُنفِقۡ مِمَّآ ءَاتَىٰهُ ٱللَّهُۚ لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا مَآ ءَاتَىٰهَاۚ: “বিত্তবান নিজ সমৰ্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে এবং যার জীবনোপকরণ সীমিত সে আল্লাহ যা দান করেছেন তা থেকে ব্যয় করবে। আল্লাহ যাকে যে সামথ্য দিয়েছেন তার চেয়ে গুরুতর বোঝা তিনি তার উপর চাপান না।” (সূরা আত-ত্বলাক: ০৭)।
উত্তম পন্থায় সহাবস্থান:
উত্তমভাবে জীবন যাপনের জন্য আল্লাহ তা‘আলা স্বামীকে আদেশ করেছেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَعَاشِرُوهُنَّ بِٱلۡمَعۡرُوفِۚ فَإِن كَرِهۡتُمُوهُنَّ فَعَسَىٰٓ أَن تَكۡرَهُواْ شَيۡـٔٗا وَيَجۡعَلَ ٱللَّهُ فِيهِ خَيۡرٗا كَثِيرٗا: “আর তোমরা তাদের সাথে স্দ্ভাবে জীবন যাপন করবে; তোমরা যদি তাদেরকে অপছন্দ কর তবে এমন হতে পারে যে, আল্লাহ যাতে প্রভূত কল্যাণ রেখেছেন তোমরা তাকেই অপছন্দ করছ।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৯)। সুতরাং স্ত্রীর কাছ থেকে অপছন্দনীয় কিছু দেখতে পেলেও স্বামীর উচিত তার সাথে উত্তম আচরণ করা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي»: “তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি সে যে তোমাদের পরিবারের কাছে উত্তম। তোমাদের মাঝে আমি আমার পরিবারের কাছে সবচেয়ে উত্তম।” এটি তিরমিযী (৩৮৯৫) ও ইবনু মাজাহ (১৯৭৭) বর্ণনা করেছেন।
উত্তমভাবে জীবন যাপনের কতিপয় পন্থা নিম্নরূপ:
কমনীয়তা, হাঁসি এবং হাস্যোজ্জল মুখে থাকা।
স্ত্রীর সাথে কথাবার্তা বলা, তার সাথে মেলামেশা করা এবং তাকে সময় দেওয়া।
ইহসানের অবস্থানে এবং কাজের দক্ষতার জন্য প্রশংসা করা।
তার বিচ্যুতি ক্ষমা করা এবং সেগুলো উপেক্ষা করা।
ভুল এবং কমতির পরিস্থিতি উত্তমভাবে বিবেচনা করা, দোষারোপ করা এবং নিষ্ঠুরতা এড়িয়ে চলা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি উপদেশ দেব:
নিচে প্রদত্ত ব্যক্তির প্রত্যেকের জন্য নসীহত তুলে ধর:
অবস্থান কারণ
একজন পিতা তার সম্পদ জমা করে রাখে, অথচ তার পরিবারের জন্য খরচ করে না।
একজন স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া বের হয়।
জনৈক পিতা তার সন্তানদেরকে ইসলামের আদব শিক্ষা দেয় না।
অনুশীলন (২): আমি একটি বক্তব্য দেব:
মনে কর যে, তোমাকে দুজন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মীমাংসা করার জন্য একটি বৈঠকে আহবান করা হয়েছে, এবং তোমাকে তাদের মধ্যে সমাধান, পরিবারের প্রতি যত্নশীল হওয়া, এর স্থিতিশীলতা রক্ষা, এবং তাদের প্রত্যেকের অধিকার ও কর্তব্যগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য একটি বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তুমি কী বলবে তা লেখ এবং তারপর বক্তব্যটি তোমার সহপাঠীদের কাছে পেশ কর।
অনুশীলন (৩): আমি খুঁজে বের করব:
নিচের নসগুলি পাঠ কর, আর তারপরে সেখান থেকে স্বামী ও স্ত্রীর অধিকারসমূহ খুঁজে বের কর:
নস (কুরআন ও হাদীসের প্রমাণ) স্বামী ও স্ত্রীর অধিকার
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «وَالمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ فِي بَيْتِ زَوْجِهَا وَمَسْؤُولَةٌ عَنْ رَعِيَّتِهَا»: “এবং নারী তার স্বামীর বাড়ীর ব্যাপারে দায়িত্বশীল, এবং সে তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।” এটি সহীহ বুখারী (৮৯৩) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا يَفْرَكْ (يبغض ويَكرَهُ) مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً، إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ»: “কোন মুমিন পুরুষ কোন মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃণা পোষণ করবে না; যদিও তার কোন চরিত্রকে অপছন্দ করে, তবুও তার অন্য কোন চরিত্রের দিক সে পছন্দ করবে।” এটি সহীহ মুসলিম (১৪৬৯) বর্ণনা করেছেন।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য হতে সঠিক উত্তরটি বাছাই কর:
(وَقَرْنَ فِيْ بُيُوْتِكُنَّ) তথা: “তোমরা নারীরা তোমাদের বাড়ীতে অবস্থান করবে।” আয়াতটি স্বামীর একটি বিশেষ হকের উপরে ইঙ্গিত করে, সেটি হচ্ছে:
(আনুগত্যের আবশ্যকতা- বাড়ীতে অবস্থান করা- ব্যয়বহন করা)
স্ত্রীর উপরে আবশ্যকীয় বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:
(পিতামাতাকে দেখতে যাওয়া- স্বামীর সম্পদ হেফাযত করা- সন্তানদের ব্যাপারে খরচ করা)
যদি স্বামী তার স্ত্রীর কাছ থেকে কোন অপছন্দনীয় কিছু দেখতে পায়, তবে সে:
(তাকে তালাক দেবে- প্রহার করবে- তার সাথে উত্তম আচরণ করবে)
প্রশ্ন ২: নিম্নলিখিত বাক্যগুলির মধ্যে বিদ্যমান ত্রুটি সংশোধন করে পরে পুনরায় লেখ:
স্বামী যাই আদেশ করুক, তা মানা আবশ্যক।
সন্তানদের ব্যাপারে অর্থ খরচ করা মায়ের দায়িত্ব।
প্রশ্ন ৩: নিচে বর্ণিত দলীলগুলো যেসব বিষয়ের ইঙ্গিত দেয়, তা স্পষ্ট কর:
وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً : “আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান কর।”
প্রশ্ন ৪: ইসলামে (সংসার) অভিভাবকত্ব অধিকারের ধারণা ব্যাখ্যা কর।
অষ্টম পাঠ: তালাকের হুকুম (বিধান)
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি তালাকের সংজ্ঞা দিবে।
তালাক শরী‘আতসম্মত হওয়ার হিকমত বর্ণনা করবে।
তালাকের হিকমত বর্ণনা করবে।
তালাকের প্রকারভেদের মধ্যে পার্থক্য করতে পারবে।
তালাকের ব্যাপারে শিথিলতার বিরুদ্ধে সতর্ক করবে।
তালাকের সংজ্ঞা: তালাক হচ্ছে: বিবাহের সমস্ত অথবা রজয়ী (প্রত্যাহারযোগ্য) হলে আংশিক বন্ধনকে অপসারণ করা।
তালাকের অনুমতি দেয়ার হিকমত:
বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষা করার ব্যাপারে শরী‘আত অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, শয়তান «يَبْعَثُ سَرَايَاهُ، فَأَدْنَاهُمْ مِنْهُ مَنْزِلَةً أَعْظَمُهُمْ فِتْنَةً، يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: فَعَلْتُ كَذَا وَكَذَا. فَيَقُولُ: مَا صَنَعْتَ شَيْئًا... ثُمَّ يَجِيءُ أَحَدُهُمْ فَيَقُولُ: مَا تَرَكْتُهُ حَتَّى فَرَّقْتُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ امْرَأَتِهِ. قَالَ: فَيُدْنِيهِ مِنْهُ وَيَقُولُ: نِعْمَ أَنْتَ»: “ তার বাহিনী প্রেরণ করে। তন্মধ্যে তার সর্বাধিক নৈকট্য অর্জনকারী সেই যে সবচেয়ে বেশী ফিতনাহ সৃষ্টিকারী। তাদের একজন এসে বলে: আমি অমুক অমুক কাজ করেছি। সে বলে: তুমি কিছুই করনি।... অতপর অন্যজন এসে বলে: আমি এক ব্যক্তি থেকে তার স্ত্রীকে আলাদা না করা পর্যন্ত তাকে ছেড়ে দেইনি। তারপর শয়তান তাকে তার নিকটবর্তী করে নেয় এবং বলে হ্যাঁ, তুমি কতইনা ভাল।” এটি সহীহ মুসলিম (২৮১৩) বর্ণনা করেছেন।
শয়তানের বনী আদমকে তালাকে পতিত করার প্রতি যে আগ্রহ, তা থেকে তালাকের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। মূলনীতি হচ্ছে দাম্পত্য বন্ধনকে টিকিয়ে রেখে সমস্যাগুলোকে হিকমাত বা প্রজ্ঞার সাথে সমাধান করা। যদি এতে কোন কাজ না হয়, আর বিবাহ বহাল রাখার ক্ষতিকর দিক যদি বিবাহের উপকারিতার দিক থেকে বেশী মারাত্মক হয়ে ওঠে, তখন তালাক শরী‘আতসম্মত হয়ে থাকে।
তালাকের হুকুম
মুবাহ: যখন স্ত্রীর খারাপ আচরণের কারণে অথবা তার দ্বারা ক্ষতি হওয়ার কারণে স্বামীর প্রয়োজন হবে।
মাকরূহ: কোন প্রয়োজন ছাড়া তালাক দেওয়া, যখন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকে।
হারাম: যখন মাসিক স্রাব বা সন্তান প্রসাবোত্তর স্রাব অবস্থায় অথবা সহবাস করা হয়েছে এমন তুহুরে অথবা একই শব্দে তিন তালাক প্রদান করা হলে।
মুস্তহাব: যখন স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ফাটল স্থায়ী হয় অথবা স্ত্রী তার স্বামীকে অপছন্দ করে।
ওয়াজিব: যদি স্ত্রী যিনাতে লিপ্ত হয় অথচ তাওবা করে না।
তালাকের প্রকারভেদ:
তালাকের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
তালাকে রজয়ী (প্রত্যাহারযোগ্য তালাক) এবং তালাকে বায়িন (একেবারে পৃথককারী তালাক):
রজয়ী বা প্রত্যাহারযোগ্য তালাক হল: এমন তালাক, যেখানে স্বামী তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারে এবং এ ফিরিয়ে নেওয়া হয়ে থাকে প্রথম বা দ্বিতীয় তালাকের পরে ইদ্দত চলাকালীন সময়ে নতুনভাবে বিবাহের আকদ করা এবং মোহরানা নির্ধারণ ছাড়াই।
তালাকে বায়িন, আর তা দুই প্রকার:
ছোট বায়িন তালাক: এটি হচ্ছে কোন ব্যক্তির তার স্ত্রীকে এক তালাক অথবা দুই তালাক দেয়া এবং ইদ্দত শেষ হওয়া পর্যন্ত তাকে পরিত্যাগ করা। এক্ষেত্রে স্ত্রীর সন্তুষ্টির শর্তে নতুন মোহর ও নতুন আকদের মাধ্যমে স্ত্রীকে ফেরত নিতে পারবে।
বড় বায়িন তালাক: যা তৃতীয়বার তালাকের পরে সংঘটিত হয়, যেখানে একজন স্ত্রীর জন্য অন্য পুরুষকে বিয়ে না করে তার পূর্বের স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়া জায়েয নয়। এটি সন্তুষ্টচিত্তে স্বাভাবিক হওয়া বিয়ে, হালাল করার উদ্দেশ্যে হালালাহ না। (فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُۥ مِنۢ بَعۡدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوۡجًا غَيۡرَهُۥۗ): “সুতরাং যদি সে তাকে তালাক দেয়, তাহলে সে পুরুষের জন্য হালাল হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত ভিন্ন একজন স্বামী সে গ্রহণ না করে।” (সূরা আল-বাকারা: ২৩০)।
কার্যকরী তালাক এবং ঝুলন্ত তালাক:
কার্যকর তালাক হচ্ছে: যার দ্বারা পুরুষ স্ত্রীকে তাৎক্ষণিক তালাক দিয়ে থাকে। যেমন: সে তার স্ত্রীকে বলল: তুমি তালাকপ্রাপ্তা।
ঝুলন্ত তালাক: ভবিষ্যতে কোন কিছু ঘটলে তার সাথে তালাককে শর্তযুক্ত করা, যেমন স্বামী বলবে: তুমি যদি অমুকের ঘরে প্রবেশ কর, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্ত । এ বাড়িতে স্ত্রী প্রবেশ করলে তালাক হয়ে যাবে।
তালাকের প্রকারভেদ:
প্রত্যাহারের দৃষ্টিকোণ থেকে
বায়িন
রজয়ী-প্রত্যাহারযোগ্য: ছোট বায়িন, বড় বায়িন
সংঘটিত হওয়ায় বিলম্বের দৃষ্টিকোন থেকে
ঝুলন্ত
কার্যকর
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১) আমি নির্দিষ্ট করব:
তোমার পড়ার উপরে ভিত্তি করে, নিচের তালাকগুলোর শ্রেণি নির্দিষ্ট কর:
মাসআলা তালাকের প্রকারভেদ
কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে একবার তালাক দিল, তারপর তাকে দ্বিতীয়বার তালাক দিল, তারপর তাকে তৃতীয়বার তালাক দিল।
জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: তুমি যদি আমার আদেশ পালন না কর, তবে তুমি তালাকপ্রাপ্তা।
এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: তুমি তালাকপ্রাপ্তা।
অনুশীলন (২): আমি উপদেশ দেব:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «لَا يَفْرَكْ (يبغض ويَكرَهُ) مُؤْمِنٌ مُؤْمِنَةً، إِنْ كَرِهَ مِنْهَا خُلُقًا رَضِيَ مِنْهَا آخَرَ»: “কোন মুমিন পুরুষ কোন মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃণা পোষণ করবে না; যদি তার কোন চরিত্রকে অপছন্দ করে, তবুও তার অন্য কোন চরিত্রের দিক সে পছন্দ করবে।” [এটি মুসলিম (১৪৬৯) বর্ণনা করেছেন।]
এই হাদীসের আলোকে যেসব পুরুষদের স্ত্রীর সাথে কোন সমস্যা দেখা দেওয়ায় তালাকের চিন্তা করছে, তাদেরকে পরামর্শ দাও।
অনুশীলন (৩): আমি আলোচনা করব:
নিম্নোক্ত মাসআলাসমূহে তালাকের হুকুম বর্ণনার ক্ষেত্রে তোমার সহপাঠীর সাথে আলোচনা কর:
মাসআলা তালাকের বিধান
একজন স্ত্রী তার সম্মানের ক্ষেত্রে কমতি করল।
কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে মাসিক চলাকালীন তালাক দিল।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
স্ত্রী সালাত বর্জনের উপর অটল থাকলে তাকে তালাক দেওয়া ওয়াজিব।
নিফাসের সময়ে তালাক প্রদান করা মাকরূহ। (×)
কোন ব্যক্তির জন্য তার স্ত্রীকে তিনবার তালাক দেওয়ার পর ফিরিয়ে নেওয়া জায়িয আছে। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
স্ত্রী স্বামীকে অপছন্দ করলে, তখন তালাক:
(মুবাহ- মুস্তাহাব- মাকরূহ)
কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে দুই তালাক প্রদান করে ইদ্দত পার হওয়া পর্যন্ত ছেড়ে রাখল, তাহলে তালাকটি:
(রজয়ী- ছোট বায়িন- বড় বায়িন)
এক শব্দে তিন তালাক প্রদান করা:
(মুবাহ- মাকরূহ- হারাম)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি বিষয়ে তালাক সংঘটিত হওয়ার হুকুম বর্ণনা কর:
স্বামী তার স্ত্রীকে বলল: তুমি বাড়ী থেকে বের হলে, তুমি তালাকপ্রাপ্তা। তবে স্ত্রী বাড়ী থেকে বের হল না।
এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: তুমি তালাকপ্রাপ্তা।
প্রশ্ন ৪: তালাক শরী‘আতসম্মত হওয়ার হিকমাত কী?
নবম পাঠ: নিষিদ্ধ খাদ্য, পানীয় এবং পোশাকসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
খাদ্য ও পানীয়ের মূলনীতি ব্যাখ্যা করবে।
হারাম খাদ্য ও পানীয়সমূহের বর্ণনা দিবে।
পোশাক ও সাজসজ্জার ক্ষেত্রে যা হারাম তা স্পষ্ট করবে।
হারাম খাদ্য,পানীয় ও পোষাক থেকে দূরে থাকবে।
আল্লাহর বান্দাদের উপরে তাঁর রহমতের অনুধাবন করবে।
আব্দুর রহমান তার বন্ধুদের সাথে শিকার করতে বের হল, তারা একটি খরগোশ পেল, আব্দুর রহমান একটি পাথর ছুড়ে মারলে, যবাই করার আগেই খরগোশটি মারা গেল। খরগোশটি খাওয়া কী বৈধ হবে? পাঠটি আমাদের কাছে এ বিষয়টিই স্পষ্ট করবে।
প্রথমত: খাদ্য ও পানীয়ের হুকুম
খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে:
হারাম হওয়ার দলীল এসেছে, এমন কিছু ছাড়া যাবতীয় খাদ্যকে আল্লাহ তা‘আলা বৈধ করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেছেন: (يَٰٓأَيُّهَا ٱلنَّاسُ كُلُواْ مِمَّا فِي ٱلۡأَرۡضِ حَلَٰلٗا طَيِّبٗا): “হে মানুষেরা, যমীন থেকে তোমরা উত্তম হালাল বস্তুসমূহ ভক্ষণ কর।” (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৮)।
অনুরূপভাবে তিনি প্রতিটি পানীয় বৈধ করেছেন, তবে নেশাসৃষ্টিকারী, দূর্বলতা আনায়নকারী এবং ক্ষতিকর পানীয়সমূহ ছাড়া। যেমন: নেশাসৃষ্টিকারীর মধ্যে রয়েছে মদ, দূর্বলতা আনায়নকারীর মধ্যে রয়েছে মাদকদ্রব্য আর ক্ষতিকরের মধ্যে রয়েছে: সিগারেটের ধোঁয়া।
হারাম খাদ্যসমূহ:
মানুষের ক্ষতি করে বলে সাব্যস্ত হয়েছে এমন খাদ্যদ্রব্য এবং কুরআন কারীম ও সুন্নাতে নববীতে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে এমনও হারাম হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: حُرِّمَتۡ عَلَيۡكُمُ ٱلۡمَيۡتَةُ وَٱلدَّمُ وَلَحۡمُ ٱلۡخِنزِيرِ وَمَآ أُهِلَّ لِغَيۡرِ ٱللَّهِ بِهِۦ وَٱلۡمُنۡخَنِقَةُ وَٱلۡمَوۡقُوذَةُ وَٱلۡمُتَرَدِّيَةُ وَٱلنَّطِيحَةُ وَمَآ أَكَلَ ٱلسَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيۡتُمۡ وَمَا ذُبِحَ عَلَى ٱلنُّصُبِ: “তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত জন্তু, রক্ত, শূকরের গোস্ত, আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা পশু, গলা চিপে মারা যাওয়া জন্তু, প্রহারে মারা যাওয়া জন্তু, উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া জন্তু, অন্য প্রাণীর শিং এর আঘাতে মারা যাওয়া জন্তু এবং হিংস্র পশুতে খাওয়া জন্তু; তবে যা তোমরা যবেহ করতে পেরেছ তা ছাড়া, আর যা মূর্তি পূজার বেদীর উপর বলী দেয়া হয়।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ০৩)।
বিস্তারিত বর্ণনা:
الميتة বা মৃত জন্তু: পশু বা পাখি যা বৈধভাবে যবাই ছাড়াই মারা গেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
যাকে শরী‘আত বহির্ভুত পন্থায় হত্যা করা হয়েছে, যেমন: বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা অথবা ডুবিয়ে মেরে ফেলা।
যা শরয়ীভাবে যবাই করা ব্যতীতই হটাৎ মারা গেছে।
المنخنقة বা গলা টিপে হত্যাকৃত: যে প্রাণীকে গলা টিপে (দম বন্ধ করে) হত্যা করা হয়েছে।
الموقوذة বা প্রহারে মারা যাওয়া জন্তু: পাথর বা অনুরূপ কোন ভারী বস্তু দ্বারা আঘাত করার কারণে যে প্রাণী মারা যায়।
المترَدِّيَة বা উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া জন্তু: যে প্রাণি উঁচু জায়গা থেকে পড়ে যেয়ে মারা যায়।
النَّطِيحة বা শিঙের আঘাতে মৃত: যাকে অন্য কোনপ্রাণী শিং দিয়ে আঘাত করায় সেটি মারা যায়।
ما أكل السبع বা হিংস্র প্রাণির ভক্ষণকৃত: যে প্রাণিকে কোন হিংস্র প্রাণি হত্যা করেছে।
الدم المسفوح বা প্রবাহিত রক্ত: এটি হচ্ছে যবাইকৃত প্রাণির শরীর থেকে স্ববেগে বের হওয়া রক্ত।
শূকর: শূকরের শরীরের প্রতিটি অংশই হারাম।
যে প্রাণি যবাই করার সময়ে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন: মূর্তি, অলী বা অন্য কোন মাখলূকের নাম।
গৃহপালিত গাধা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «إِنَّ اللهَ وَرَسُولَهُ يَنْهَيَانِكُمْ عَنْ لُحُومِ الحُمُرِ الأَهْلِيَّةِ»: “নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর রসূল তোমাদেরকে গৃহপালিত গাধার গোশত থেকে নিষেধ করছেন।” এটি বুখারী (৪১১৯) ও মুসলিম (১৯৪০) বর্ণনা করেছেন।
কর্তনদাঁতযুক্ত প্রতিটি হিংস্র প্রাণি, হোক তা বন্য যেমন: সিংহ অথবা গৃহপালিত যেমন: কুকুর।
নখযুক্ত বা থাবা দিয়ে শিকার করে এমন প্রতিটি পাখি, যেমন: বাজপাখি ও অন্যান্য। হাদীসে রয়েছে: «نَهَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنَ السِّبَاعِ، وَعَنْ كُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنَ الطَّيْرِ»: “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তনদাঁতযুক্ত জন্তু এবং নখ বিশিষ্ট পাখি খেতে নিষেধ করেছেন।” এটি সহীহ মুসলিম (১৯৩৪) বর্ণনা করেছেন।
জাল্লালাহ: এটি হচ্ছে এমন প্রাণি, যার অধিকাংশ খাদ্য নাপাক, তবে যদি একে তিনদিনে আঁটকে রাখা যায় আর পবিত্র খাবার খায়, তাহলে তা খাওয়া হালাল হবে।
যে সমস্ত প্রাণীকে শরী‘আত প্রণেতা হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন, যেমন: বিচ্ছু। আবার যে প্রাণীকে হত্যা করা থেকে নিষেধ করা হয়েছে, যেমন: পিঁপড়া এবং মৌমাছি।
প্রয়োজনে হারাম বস্তু খাওয়ার বৈধতা:
প্রয়োজনের সময়ে হারাম খাদ্যদ্রব্য ও পানীয় গ্রহণ করা বৈধ, যেমন: কোন মানুষ ক্ষুধা ও পিপাসায় তার নিজের মৃত্যুর আশংকা করলে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: فَمَنِ ٱضۡطُرَّ غَيۡرَ بَاغٖ وَلَا عَادٖ فَلَآ إِثۡمَ عَلَيۡهِۚ: “কিন্তু যে নিরূপায় (হারামে)ইচ্ছুক নয় এবং সীমালংঘনকারী নয় তার কোন পাপ হবে না।” (সূরা আল-বাকারাহ: ১৭৩)।
দ্বিতীয়ত: হারাম সাজসজ্জা ও পোষাক-পরিচ্ছদ
সতর প্রকাশ করে এমন পোষাক:
আর এটা পোষাকের আঁটসাঁট হওয়া, পাতলা হওয়া ছোট হওয়ার কারণে হতে পারে। সুতরাং প্রতিটি পুরুষ-মহিলার জন্য সতরকে ঢেকে রাখে এবং সতরকে বুঝতে দেয় না এমন পোষাক পরিধান করা ওয়াজিব।
নারী পুরুষের সাথে অথবা পুরুষ নারীর সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন পোষাক :
সাজসজ্জা ও পোষাকের ক্ষেত্রে পুরুষদের জন্য নারীর সাথে সাদৃশ্য রাখা হারাম, যেমনিভাবে নারীদের জন্য পোষাক পরিচ্ছদে পুরুষদের সাথে সাদৃশ্য রাখা হারাম।
পুরুষের জন্য সোনা এবং রেশমী কাপড় পরিধান করা:
পুরুষদের জন্য রেশমী কাপড় পরিধান করা বা স্বর্ণ দিয়ে সাজসজ্জা করা হারাম, তবে মহিলাদের জন্য তা করা জায়িয।
পুরূষদের জন্য ইযার (লুঙ্গি বা পাজামা) ঝুলিয়ে পরা:
একজন পুরুষের জন্য টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান হারাম।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: مَا أَسْفَلَ مِنَ الكَعْبَيْنِ مِنَ الإِزَارِ فَفِي النَّارِ: “লুঙ্গির (কাপড়ের) যে অংশ টাখনুর নিচে হবে তা জাহান্নামে যাবে।” এটি বুখারী (৫৭৮৭) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি পড়বো এবং উদ্ভাবন করবো:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «أُحِلَّتْ لَكُمْ مَيْتَتَانِ وَدَمَانِ؛ فَأَمَّا الْمَيْتَتَانِ: فَالْحُوتُ وَالْجَرَادُ، وَأَمَّا الدَّمَانِ: فَالْكَبِدُ وَالطِّحَالُ»: “তোমাদের জন্য দু’প্রকারের মৃতজীব ও দু’ধরনের রক্ত হালাল করা হয়েছে। মৃতজীব দু’টি হলো মাছ ও টিড্ডি। আর দু’প্রকারের রক্ত হলো কলিজা ও প্লীহা।” এটি ইবনু মাজাহ (৩৩১৪) ও আহমাদ (৫৭২৩) বর্ণনা করেছেন।
উপরোক্ত হাদীসটি ........... ও ........... হারাম এবং ........... , ............ , ............. ও ........... হালাল হওয়া প্রমাণ করে।
অনুশীলন (২): আমি খুঁজে বের করব:
নিচের হাদীসগুলো থেকে বের কর কোনটি পরা বা কোনটির মাধ্যমে সজ্জিত হওয়া হারাম, তারপর নির্ধারণ কর কোনটি পুরুষদের জন্য হারাম, কোনটি মহিলাদের জন্য হারাম এবং কোনটি উভয়ের জন্য হারাম:
হাদীস যেগুলো পরা হারাম যার উপরে হারাম
হুযাইফা রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: «نَهَانَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عَنْ لُبْسِ الحَرِيرِ وَالدِّيبَاجِ، وَأَنْ نَجْلِسَ عَلَيْهِ»: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে রেশমী কাপড় এবং অলঙ্কার খচিত রেশম পরিধান করতে এবং এর উপর বসা থেকে নিষেধ করেছেন।" এটি সহীহ বুখারী (৫৮৩৭) বর্ণনা করেছেন।
রেশমী কাপড় অলঙ্কার খচিত রেশম পুরুষ
ইবনু আব্বাস রদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: «لَعَنَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الْمُتَشَبِّهِينَ مِن الرِّجَالِ بِالنِّسَاءِ، وَالْمُتَشَبِّهَاتِ مِن النِّسَاءِ بِالرِّجَالِ»: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করেছেন।” এটি তিরমিযী (২৭৮৫) বর্ণনা করেছেন। পুরুষের সাথে নারীর এবং নারীর সাথে পুরুষের সাদৃশ্য। পুরুষ এবং নারী
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ جَرَّ ثَوْبَهُ خُيَلَاءَ لَمْ يَنْظُر اللهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»: “যে ব্যক্তি অহংকার বশতঃ পরিধেয় ঝুলিয়ে দেয় কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তার দিকে তাকাবেন না।” এটি সহীহ বুখারী (৩৬৬৫) ও মুসলিম (২০৮৫) বর্ণনা করেছেন।
কাপড় ঝুলিয়ে পরা পুরুষ
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
যে প্রাণীকে মুসলিমদের জন্য হত্যা করা হারাম করা হয়েছে, তা খাওয়া জায়িয। (×)
المتردية বা পতিত বস্তু হচ্ছে: যে প্রাণী কোন উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে মারা যায়। (√)
المنخنقة বা প্রহারে মৃত বস্ত: প্রহারের কারণে যে প্রাণী মারা যায়। (×)
গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া হারাম। (√)
বাজপাখি খাওয়া বৈধ। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
হারাম খাদ্যের মধ্যে রয়েছে:
(যা বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মারা হয়েছে- আহলে কিতাবদের খাদ্য- বন্য গাধা)
নারীর জন্য সোনা পরিধান করা:
(মুস্তাহাব- মুবাহ- হারাম)
যা সতর ঢেকে ফেলে, তা পরিধান করা:
(ওয়াজিব- মুস্তাহাব- মুবাহ বা বৈধ)
পুরুষের জন্য কাপড় ঝুলিয়ে পরা:
(হারাম- মাকরূহ- বৈধ)
------- দিন পর্যন্ত পবিত্র খাবার খেলে জাল্লাল্লাহ খাওয়া বৈধ হবে:
(অর্ধেক দিন- একদিন ও একরাত- তিনদিন)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
পুরুষের জন্য হারাম পোষাক ও হারাম সাজসজ্জা নির্দিষ্ট কর।
বাক্যটি ব্যাখ্যা কর: “খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে বৈধতা।”
দশম পাঠ: মাদক, নেশাদ্রব্য এবং এগুলোর ধ্বংসাত্মক প্রভাব
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে যে:
তুমি মাদকদ্রব্য ও নেশাদ্রব্যের হুকুম বর্ণনা করবে।
মাদকদ্রব্য ও নেশাদ্রব্যের মন্দ প্রভাব বর্ণনা করবে।
সমাজে মাদকদ্রব্য ও নেশাদ্রব্যের ভয়াবহতা অনুভব করবে।
মাদকদ্রব্য ও নেশাদ্রব্য হতে দূরে থাকবে।
ভূমিকা:
সমস্ত পানীয়ের বৈধতা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা তার বান্দাদের উপরে নি‘আমাত দান করেছেন, তবে সেই পানীয়গুলো এর বাইরে, যেগুলো হারাম হওয়ার দলীল রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে: প্রতিটি অনিষ্টকর পানীয় অথবা মানুষের ক্ষতি হয় এমন পানীয় যেমন: মাদক ও নেশাদার পানীয়।
উম্মু সালামাহ রদিয়াল্লাহু আনহা বলেছেন: نَهَى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ كُلِّ مُسْكِرٍ وَمُفَتِّرٍ: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেশা সৃষ্টিকারী সব ধরণের বস্তু এবং দূর্বল করে দেয় এমন বস্তু থেকে নিষিদ্ধ করেছেন।” হাদীসটি আহমাদ (২৬৬৩৪) এবং আবু দাঊদ (৩৬৮৬) বর্ণনা করেছেন।
মাদকতা হলো এমন পানীয় যেমন: মদ এবং দূর্বলকারী পানীয় বলতে প্রতিটি এমন পানীয় যা মানুষের মধ্যে দূর্বলতা ও অবসন্নতা আনায়ন করে যেমন: নেশাসৃষ্টিকারী পানীয়।
তোমার কাছে হারাম পানীয়সমূহের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে:
মদ (মাদক জাতীয় পানীয়) পান করা:
মদ হচ্ছে সবচেয়ে কঠিন নিষিদ্ধ পানীয়। এতে শামিল হবে প্রতিটি এমন পানীয় যা মানুষের বিবেক লোপ করে দেয় অথবা বিবেকের উপরে প্রভাব বিস্তার করে। হোক তা তার পুরানো নামে পরিচিত, যেমন: মদ, অথবা নতুন নামে পরিচিত হোক , যেমন: অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡخَمۡرُ وَٱلۡمَيۡسِرُ وَٱلۡأَنصَابُ وَٱلۡأَزۡلَٰمُ رِجۡسٞ مِّنۡ عَمَلِ ٱلشَّيۡطَٰنِ فَٱجۡتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ: “হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণয় করার শর তো কেবল ঘৃণার বস্তু, শয়তানের কাজ। কাজেই তোমরা সেগুলোকে বর্জন কর; যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার।” (সূরা আল-মায়িদাহ: ৯০)।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা মদ হারাম করেছেন; কারণ এটি বিবেক বিলোপ করে দেয় এবং এটি পান করার ফলে ব্যক্তি ও সমাজের ক্ষতি হয়, হোক তা ধর্ম, ব্যক্তি, ইজ্জত, বিবেক বা অর্থের দিক থেকে।
প্রতিটি মাদক হারাম, হোক তা অল্প অথবা বেশী। সেটা যে ধরণ বা রঙেরই হোক না কেন, অথবা মানুষ তাকে যে নাম বা উপনামেই ডাকুক না কেন।
নেশাদ্রব্য:
এটা ইন্দ্রীয় ও বিবেকের উপর প্রভাব ফেলে। এটাও কখনো কখনো মাদকের ন্যায় উচ্ছাস ও আনন্দ দিতে পারে।
নেশাদার বস্তু হারাম, হোক তা কম বা বেশী, হোক তা কোন উদ্ভিদ থেকে যেমন -গাঁজা ও আফিম- বা কোন কৃত্রিম ঔষধ যেমন: কোন বড়ি বা ইঞ্জেকশন (মর্ফিন, হিরোইন অথবা কোকেইন)।
নেশাদার বস্তু হারাম; কেননা এটি ক্ষতিকর (জঘন্য), যা ইসলামী শরী‘আহর উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিক। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَيُحِلُّ لَهُمُ ٱلطَّيِّبَٰتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيۡهِمُ ٱلۡخَبَٰٓئِثَ: “তিনি তাদের জন্য উত্তম বস্তু হালাল করেছেন এবং মন্দ বস্তু তাদের উপরে হারাম করেছেন।” (সূরা আল-আ‘রাফ: ১৫৭)।
কেননা এগুলো বিবেক নষ্ট করা এবং প্রভাবের দিক থেকে মদের সাথে সাদৃশ্য রাখে। কখনো কখনো এর ক্ষতিকর দিক মাদকদ্রব্যের থেকেও বেশী; কেননা এটি আসক্ত করে ফেলে যা থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
নেশাদ্রব্য ও মাদকের মন্দ প্রভাব:
বিবেকশুন্য করে দেয়, যার ফলে ব্যক্তি ও সমাজের জন্য বড় হুমকি।
শরী‘আত সংরক্ষন করতে নির্দেশ করেছে এমন পাঁচটি বিষয়কে বিনষ্ট করে দেয়, সুতরাং নেশাদ্রব্য দীন, জীবন, বংশ, বিবেক এবং সম্পদ নষ্ট করে।
এটা শারিরীক বিভিন্ন ধরণের সমস্যা তৈরী করে, যেমন: স্মৃতিশক্তির দূর্বলতা, শ্বাসযন্ত্রের অস্থিরতা এবং শরীর প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দূর্বল করে দেওয়া।
সম্পদ নষ্ট করা এবং আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন, সে পথে ব্যয় করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি দলীল পেশ করব:
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: لَا ضَرَرَ وَلَا ضِرَارَ: “নিজের ও অন্যের ক্ষতি করা যাবে না।” ইবন মাজাহ (২৩৪০) এটি বর্ণনা করেছেন।
উক্ত হাদীস দ্বারা মাদক ও নেশাদ্রব্য হারাম হওয়ার দলীল গ্রহণ পদ্ধতি বর্ণনা কর।
অনুশীলন (২): আমি উপদেশ দেব:
যারা মাদকাসক্ত, তাদের উদ্দেশ্যে মাদকের হুকুম এবং ব্যক্তি ও সমাজের উপর তার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কিক একটি নসীহত তুলে ধর।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
প্রতিটি জঘন্য (ক্ষতিকর) পানীয় হারাম।
মাদক অল্প হলে বৈধ হবে।
দূর্বলতা এনে দেয়, এমন কিছু পান করা হারাম।
মাদক সমাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
প্রতিটি নেশাদার বস্তু হারাম আর এটি বিলোপ করে:
(বিবেক- ইন্দ্রিয় অনুভুতি- সম্পদ)
নিচের কোনটি কুরআনের কারীমে সুস্পষ্ট হারাম করা হয়েছে:
(মদ- নেশাদ্রব্য- দূর্বলকারী বস্তু)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
ইসলাম কেন মাদক ও নেশাদার বস্তু হারাম করেছে?
ব্যক্তি ও সমাজের উপর মাদক ও নেশাদার দ্রব্যের তিনটি প্রভাব বর্ণনা কর।
দাও‘আতের অধ্যায়
প্রথম পাঠ: দাও‘আতের গুরুত্ব ও ফযীলত
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছে আশা করা হচ্ছে:
আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আত দ্বারা কি উদ্দেশ্য,তা ফুটিয়ে তুলবে।
আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের গুরুত্ব বর্ণনা করবে।
আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের ফযীলত সম্পর্কে দলীল পেশ করবে।
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি দাও‘আতের গুরুত্ব মুল্যায়ন করবে।
তোমার আশেপাশে থাকা লোকদের কাছে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি দাও‘আতের ফযীলত পৌঁছে দিবে।
ভূমিকা:
তোমার মতে, যদি ইসলামী শরী‘আতকে পৌঁছানোর জন্য আল্লাহর দিকে কোন আহবানকারী না থাকত, তাহলে কী ঘটত?
আল্লাহর দিকে দা‘ওআত:
এটি দ্বারা যা বুঝায়
এর গুরুত্ব
এর ফযীলত
দাও‘আত রসূল ও নবীদের কাজ
দা‘য়ী হচ্ছেন কথায় সর্বোত্তম মানুষ
দাও‘আত হচ্ছে সফলতা ও মুক্তির পথ
দা‘য়ীর জন্য রয়েছে অনেক বড় পুরস্কার
দাও‘আত হচ্ছে ধ্বংস থেকে পরিত্রাণের উপায়
প্রথমত: আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আত দ্বারা যা উদ্দেশ্যঃ
আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আত হচ্ছে: মানুষের কাছে ইসলামকে পৌঁছে দেওয়া, যার মধ্যে রয়েছে আকীদা, শরী‘আত, আখলাক বা নৈতিক চরিত্র।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের গুরুত্ব:
ইসলামে দাও‘আতের গুরুত্ব অনেক; নিচের বিষয়গুলির মধ্য দিয়ে তা প্রকাশ পায়:
দাও‘আত হল ইসলাম প্রচারের ভিত্তি। এমনকি এখন পর্যন্ত মুসলমানের সংখ্যা দেড়শত কোটি ছাড়িয়েছে।
দাও‘আতের মাধ্যমে এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদাত করা হয়, মানুষ হিদায়াত পায়, তারা দীনের বিষয়সমূহ শিখতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে: তাদের রবের তাওহীদ, তাঁর ইবাদাত এবং হালাল ও হারামের জ্ঞান।
দাও‘আতের মাধ্যমে মানুষের মু‘আমালাত সঠিকভাবে পরিচালিত হয়, যেমন: ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ ইত্যাদি।
দাও‘আতের মাধ্যমে মানুষের সামাজিক ও পারিবারিক অবস্থাগুলোর সংশোধন হয়।
দাও‘আতের মাধ্যমেই মানুষের আখলাক সুন্দর হয়, তাদের মতবিরোধ কমে, তাদের মধ্যকার হিংসা ও বিদ্বেষ বিদূরিত হয়।
তৃতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের ফযীলত:
দাও‘আত রসূল এবং নবীদের কাজ:
দাও‘আত হল নবী, রসূল, আলিম এবং সংস্কারকগণের কাজ। وَلَقَدۡ بَعَثۡنَا فِي كُلِّ أُمَّةٖ رَّسُولًا أَنِ ٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَٱجۡتَنِبُواْ ٱلطَّٰغُوتَۖ: “আর অবশ্যই আমি প্রত্যেক জাতির কাছে এ নির্দেশ দিয়ে রাসূল পাঠিয়েছি যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহ্র ইবাদত কর এবং তাগুতকে বর্জন কর।” (সূরা আন-নাহল: ৩৬)।
দায়ী ব্যক্তিই কথায় সবচেয়ে উত্তম:
দায়ী ব্যক্তিই সবচেয়ে উত্তম কথার অধিকারী, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَمَنۡ أَحۡسَنُ قَوۡلٗا مِّمَّن دَعَآ إِلَى ٱللَّهِ وَعَمِلَ صَٰلِحٗا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ ٱلۡمُسۡلِمِينَ: “আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম যে আল্লাহর দিকে আহবান জানায় এবং সৎকাজ করে। আর বলে, 'অবশ্যই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।” (সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৩)।
দাও‘আত হচ্ছে সফলতা ও মুক্তির পথ:
দাও‘আত হচ্ছে আখিরাতে সফলতা ও মুক্তির পথ, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَلۡتَكُن مِّنكُمۡ أُمَّةٞ يَدۡعُونَ إِلَى ٱلۡخَيۡرِ وَيَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۚ وَأُوْلَٰٓئِكَ هُمُ ٱلۡمُفۡلِحُونَ: “আর তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল যেন থাকে যারা কল্যাণের দিকে আহবান করবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর তারাই সফলকাম।” (সূরা আলে ইমরান: ১০৪)।
দা‘য়ীর জন্য রয়েছে অনেক বড় পুরস্কার:
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার দিকে ডাকে সে সৎকর্মে তাকে অনুসরণকারীদের পুরস্কারের সমান পুরস্কার পাবে। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি কোন সুন্নাতের দিকে আহবান করে, সে তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে এবং এতে অনুসারীদের পুরস্কারে কোনরূপ ঘাটতি হবে না।” এটি মুসলিম (২৬৭৪) বর্ণনা করেছেন।
দাও‘আত হচ্ছে ধ্বংস থেকে পরিত্রানের উপায়:
দায়ীগণ যদি সংস্কারে, দীন প্রচারে, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধে তাদের ভূমিকা পালন করে, তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের সমাজকে এই পৃথিবীতে ধ্বংস হওয়া ও শাস্তি থেকে রক্ষা করবেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: فَلَوۡلَا كَانَ مِنَ ٱلۡقُرُونِ مِن قَبۡلِكُمۡ أُوْلُواْ بَقِيَّةٖ يَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡفَسَادِ فِي ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا قَلِيلٗا مِّمَّنۡ أَنجَيۡنَا مِنۡهُمۡۗ وَٱتَّبَعَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مَآ أُتۡرِفُواْ فِيهِ وَكَانُواْ مُجۡرِمِينَ: “অতএব তোমাদের পূর্বের প্রজন্মসমুহের মধ্যে এমন প্রজ্ঞাবান কেন হয়নি, যারা যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি থেকে নিষেধ করত? অল্প সংখ্যক ছাড়া, যাদেরকে আমি তাদের মধ্যে নাজাত দিয়েছিলাম। আর যারা যুলুম করেছে তারা বিলাসিতার পেছনে পড়ে ছিল, আর তারা ছিল অপরাধী।” (সূরা হুদ, আয়াত: ১১৬)।
আল্লাহ তা‘আলার পথে দাও‘আতের উপরোক্ত ফযীলত ছাড়াও আরো অনেক ফযীলত রয়েছে, যা একজন মুসলিমকে আল্লাহ তা‘আলার পথে দাও‘আত এবং সঠিক-সুদৃঢ় পথের হিদায়াতের দিকে আহবান করতে উৎসাহী করে তোলে।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীন (১): অংশগ্রহণ করব ও জবাব দেব:
তোমার সহপাঠীদের সহযোগিতায়, নিচের দলীলসমূহে যে সব দাও‘আতের ফযীলতের ইঙ্গিত রয়েছে, তা স্পষ্ট কর:
দলীল দাও‘আতের ফযীলত
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَٱلۡعَصۡرِ: সময়ের শপথ (১), إِنَّ ٱلۡإِنسَٰنَ لَفِي خُسۡرٍ: “নিশ্চয়ই সমস্ত মানুষ ক্ষতির মাঝে নিপতিত , (২)” إِلَّا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ َعَمِلُواْ ٱلصَّٰلِحَٰتِ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلۡحَقِّ وَتَوَاصَوۡاْ بِٱلصَّبۡرِ: “কিন্তু তারা নয়, যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে আর পরস্পরকে উপদেশ দিয়েছে হকের এবং উপদেশ দিয়েছে ধৈর্যের। (৩)” (সূরা আল-‘আসর, আয়াত: ১-৩)
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: فَوَاللهِ لَأَنْ يُهْدَى بِكَ رَجُلٌ وَاحِدٌ خَيْرٌ لَكَ مِنْ حُمْرِ النَّعَم : “আল্লাহর কসম, তোমার দ্বারা একজন ব্যক্তির হিদায়াত পাওয়া তোমার জন্য লাল উট অপেক্ষা উত্তম।” এটি তিরমিযী (২৬৮৫) বর্ণনা করেছেন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: إِنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ حَتَّى النَّمْلَةَ فِي جُحْرِهَا، وَحَتَّى الْحُوتَ فِي الْبَحْرِ لَيُصَلُّونَ عَلَى مُعَلِّمِ النَّاسِ الْخَيْرَ: “আল্লাহ্ তা’আলা এবং তাঁর ফিরিশতাগণ, এমনকি গর্তের পিঁপীলিকা ও সমুদ্রের মাছ পর্যন্ত মানুষকে কল্যাণের শিক্ষাদানকারী শিক্ষকের জন্য অবশ্যই দু’আ করে থাকেন।“ এটি তিরমিযী (২৬৮৫) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীন (২): আমি আলোচনা করে পরামর্শ দেব:
আল্লাহর দিকে দাও‘আতের ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে মানুষকে উৎসাহী করার উপায়সমূহ পরামর্শ দেওয়ার জন্য তোমার সহপাঠীদের সাথে আলোচনা কর।
অনুশীন (৩): আমি প্রত্যক্ষ করব এবং জবাব দেব:
এই ভিডিয়ো ক্লিপটি দেখ, তারপর আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের ক্ষেত্রে ভিডিও থেকে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাসমূহ বর্ণনা কর:
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
আল্লাহ তা‘আলার পথে দাও‘আত হচ্ছে ইসলাম প্রচারের ভিত্তি।
দাও‘আত শুধুমাত্র ইবাদাতের বিষয়সমূহের সাথে নির্দিষ্ট। (×)
আল্লাহ তা‘আলার পথে আহবানকারী দায়ীর সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
দায়ীগণ নবীদের পথে বিচরণ করে।
সমাজের সংশোধন শুধুমাত্র রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সাথে সম্পর্কিত। (×)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্যে যা প্রয়োজন সে অনুযায়ী উত্তর দাও:
আল্লাহর দিকে দাও‘আত হচ্ছে নবীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। (বাক্যটির ব্যাখ্যা কর)
আল্লাহর দিকে দাও‘আত হচ্ছে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার কারণ। (শরয়ী নস দ্বারা দলীল পেশ কর)
আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের কার্যক্রম যেসব সমাজে চলমান, সেগুলিকে আল্লাহ তা‘আলা হিফাযত করেন। (কারণ উল্লেখ কর)
দ্বিতীয় পাঠ: মক্কাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
পবিত্র মক্কাতে দাও‘আতের পর্যায়সমূহ সম্পর্কে জানতে পারবে।
দাও‘আতের ক্ষেত্রে মুশরিকদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
মক্কাতে ইসলামী দাও‘আতের পদ্ধতি থেকে শিক্ষা ফুটিয়ে তুলবে।
যে সব গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী একজন দায়ীর থাকা উচিত, তা বর্ণনা করবে।
তুমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবী রদিয়াল্লাহু আনহুমের দৃঢ়তা ও সবর সম্পর্কে অনুমান করতে পারবে।
আল্লাহ তা‘আলার পথে দাও‘আতের ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি ও আখলাক-চরিত্রি আঁকড়ে ধরবে।
আরবদের ধর্মীয় বিশৃংখলা, সামাজিক অন্যায় ও রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদির মধ্যে আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে প্রেরণ করেছিলেন; যাতে তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারেন। এ পাঠের মধ্য দিয়ে আমরা মক্কায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাও‘আতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ সম্পর্কে জানতে পারব।
মক্কাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাঃ
১- দাও‘আতের প্রারম্ভিকা ও সূচনা
২- গোপন দাও‘আত
৩- প্রকাশ্য দাও‘আত
৪- দাও‘আতের বিরুদ্ধে মুশরিকদের অবস্থান
৫- মুশরিকদের অত্যাচারের বিপরীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান
৬- তায়েফের অধিবাসীদেরকে দাও‘আত
৭- মদীনাবাসীদেরকে দাও‘আত
৮- মদীনায় হিজরত
দাও‘আতের প্রারম্ভিকা ও সূচনা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাল্য ও যুবক বয়সে তার উত্তম চরিত্রের কারণে প্রসিদ্ধ ছিলেন। চল্লিশ বছর বয়সের কাছাকাছি সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেরা গুহাতে আল্লাহর ইবাদাত ও গভীরভাবে চিন্তা ভাবনা করার জন্য একাকীত্ব বেছে নিয়েছিলেন। চল্লিশ বছর বয়সে তার ইবাদাতকালীন সময়ে আল্লাহ তা‘আলা তাকে নবুয়তের মাধ্যমে সম্মানিত করলেন, তখন তার কাছে জিবরীল আলাইহিস সালাম সূরা আল-‘আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নিয়ে আগমন করলেন।
গোপন দাও‘আত:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষকে দাও‘আত শুরু করার পদ্ধতি ছিল গোপনীয় ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এ পর্যায়ের দাও‘আতের মধ্যে ছিল আকীদার সংশোধন, মানুষকে ইসলামের দিকে আহবান ও মুশরিকদের কষ্টের উপরে সবরের প্রয়োজনীয়তা ইত্যাদি। প্রথম প্রথম যাঁরা মুসলিম ছিলেন: তার স্ত্রী খাদীজা রদিয়াল্লাহু আনহা, চাচাত ভাই আলী ইবনু আবী ত্বালিব, বন্ধু আবু বাকর ও আযাদকৃত দাস যাইদ ইবনু হারিছাহ রদিয়াল্লাহু আনহুম।
প্রকাশ্য দাও‘আত
তিন বছর অতিক্রম করার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রকাশ্যে দাও‘আত শুরু করেন। এমনকি তিনি সাফা পাহাড়ের উপর উঠে কুরাইশদের প্রতিটি গোত্র কে ডেকে ইসলামের পথে আহবান করলেন। তখন তার চাচা আবু লাহাব ও কুরাইশদের নেতৃবৃন্দ তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিরাশ হলেন না বরং তিনি তার দাও‘আত চালিয়ে যেতে লাগলেন।
দাও‘আতের বিরুদ্ধে মুশরিকদের অবস্থান:
কুরাইশ নেতারা বিভিন্ন উপায়ে দাও‘আত চালিয়ে যাওয়া থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বাধা প্রদানের চেষ্টা করেছিল, যেমন :
তারা তার চাচা আবু ত্বালিবের কাছে তার দাও‘আত বন্ধ করার ব্যাপারে আবেদন করলেও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাও‘আতকে অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উপহাস করা, অবমাননা করা, তাকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করা; যেমন পাগল, জাদুকর এবং মিথ্যাবাদী বলা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুম বিশেষভাবে দাস এবং দূর্বল সাহাবীদেরকে শারীরিক নির্যাতন করা : যেমন: বিলাল ইবনু রাবাহ, খাব্বাব ইবনুল আরাত এবং আম্মার ইবনু ইয়াসির রদিয়াল্লাহু আনহুম হলেন অন্যতম ।
বনু হাশিম গোত্র থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আত্মীয়-স্বজনদেরকে অবরোধ করা হয় , যারা তাঁকে সমর্থন করেছিল। কুরাইশের কাফেররা বনু হাশিমের কাছে কোন জিনিস বিক্রি করত না, আবার তাদের কাছ থেকে ক্রয়ও করত না। তাদের কারো কাছে বিবাহ করত না। আর তাদের সাথে মেলামেশাও করত না ... ইত্যাদি। এই অবরোধ তিন বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। তারপর কতিপয় নেতৃবৃন্দের বিরোধিতার কারণে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
মুশরিকদের অত্যাচারের বিপরীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুম দীনের উপরে দৃঢ় ছিলেন আর তারা সবরের সাথে আল্লাহর আদেশ পালন করতেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের চোখ ফাঁকি দিয়ে তার সাহাবীদের সাথে আরকাম ইবনু আবিল আরকামের বাড়ীতে মিলিত হওয়ার চেষ্টা করতেন।
নবুয়তের পঞ্চম বছরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দেখলেন যে, সাহাবীদের উপরে মুশরিকদের আযাবের পরিমাণ অত্যন্ত কঠোর হয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি তার দূর্বল সাহাবীদেরকে হাবশাতে হিজরত করার আদেশ দিয়েছিলেন। কুরাইশরা তাদেরকে মক্কায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
‘আমুল হুযনে (দুশ্চিন্তার বছর) তায়েফের অধিবাসীদের দাও‘আত:
নবুয়তের দশম বছরটি ‘আমুল হুযন বা দুঃখের বছর হিসেবে পরিচিত ছিল। এতে নবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী খাদিজা রদিয়াল্লাহু আনহা মারা যান এবং তার চাচা আবু তালিবও মারা যান, ফলে কুরাইশরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কষ্ট দেওয়ার সাহস পায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বছরে তায়েফে দাও‘আতের সিদ্ধান্ত নেন, তারাও তার দাও‘আতে সাড়া না দিয়ে তাকে কষ্ট দেয়। এসব বিপদাপদের কারণেই আলিমগণ এই বছরটিকে ‘আমুল হুযন বা দুঃখের বছর হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তখন আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মানিত করা, তার দুঃখে সান্তনা দেয়া এবং দাও‘আতী কাজে অব্যাহত রাখতে সাহস যোগাতে, তাকে ইসরা এবং মি‘রাজের সফরের জন্য বাছাই করলেন। আর এটা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মু‘জিযাসমূহের মধ্যে অন্যতম।
হজের মওসুমে মদীনাবাসীর উদ্দেশ্যে দাও‘আত:
এ সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাতে আগমণকারীদেরকে দাও‘আত দেওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন, বিশেষভাবে হজের মওসুমে, নবুয়তের একাদশ বছরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনা মুনাওয়ারাহর ছয়জন যুবককে দাও‘আত প্রদান করলে, তারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তারা মদীনাতে ফিরে যেয়ে মদীনাবাসীদেরকে ইসলামের পথে আহবান করতে থাকেন।
নবুয়তের দ্বাদশ বছরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে (মদীনার) বারোজন লোক বাই‘আত গ্রহণ করেন। আর এটাই হচ্ছে: প্রথম আকাবার বাই‘আত।
নবুয়তের ত্রয়োদশ বছরে তিহাত্তর জন পুরুষ ও দুইজন নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বাই‘আত গ্রহণ করেন। তারা মদীনাতে আগমণ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিফাযত এবং সহযোগিতার ওয়াদা করেন। এটা হচ্ছে: দ্বিতীয় আকাবার বাই‘আত।
মদীনায় হিজরত:
আকাবার দ্বিতীয় বাই‘আতের পর, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীদেরকে মদীনায় হিজরত করার নির্দেশ দেন, তখন তারা একে একে হিজরত করতে আরম্ভ করেন। যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হিজরত করার জন্য অনুমতি দিলেন, তখন তিনি আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে গেলেন এবং তাকে জানালেন যে, তারা একসঙ্গে হিজরত করবেন। এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রস্তুত করলেন। কুরাইশদের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য তারা সাওর নামক গুহায় তিনদিন অবস্থান করতে থাকেন, যতক্ষণ না তারা কুরাইশদের দৃষ্টির আড়ালে চলে যান। তারপর তারা গুহা থেকে একটি অপরিচিত রাস্তা দিয়ে মদীনার দিকে রওয়ানা করেন এবং তাদেরকে আব্দুল্লাহ ইবনু উরাইকিত নামে পরিচিত একটি মুশরিক ব্যক্তি পথ দেখান। তারা আট দিন পর মদীনাতে পৌঁছেছিলেন, এবং মদীনার লোকেরা তাদের উষ্ণভাবে অভ্যর্থনা জানায়, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাথী আবু বকর রদিয়াল্লাহু আনহুর আগমনে তারা স্বাগত জানায় এবং অত্যন্ত আনন্দিত হয়।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি অংশগ্রহণ করব এবং ফলাফল বের করব:
তুমি যা অধ্যয়ন করেছ তা থেকে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বর্ণনা করতে তোমার সহপাঠীদের সাথে অংশগ্রহণ কর:
একজন দায়ী কখন তার দাও‘আত গোপন রাখবে আর কখন তা প্রকাশ্যে করবে?
আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের ক্ষেত্রে সফল হওয়ার ব্যাপারে সঠিক কর্মপরিকল্পনার গুরুত্ব কী?
অনুশীলন (২): আমি একটি পত্র পাঠাবো:
(সবর ও অধ্যাবসায় এমন গুণাবলীর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ তা‘আলার পথে আহবানকারী দায়ীর অবশ্যই থাকতে হবে), এর আলোকে:
তোমার পড়ার আলোকে এ বাক্যটির সঠিকতার প্রমাণ পেশ কর।
প্রথমে বিপদে পড়েই যারা দাও‘আতের আবশ্যক কর্মকে পরিত্যাগ করে, এমন দায়ীদের উদ্দেশ্যে একটি পত্র লেখ।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্মিলিতভাবে মানুষকে আল্লাহ্ তা‘আলার দিকে ডাকতে শুরু করেন। (×)
ইসরা এবং মি‘রাজের ভ্রমনের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মানিত করেছেন।
মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাও‘আতকে আলোচনা ও পর্যালোচনা মাধ্যমে মুকাবিলা করেছিল। (×)
হাবশার হিজরত দুর্বল মুসলিমদের উপর বোঝা কমিয়ে দিয়েছিল।
আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের সফলতার মূলভিত্তির মধ্যে সবর ও কর্মপরিকল্পনা অন্যতম।
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কারণে তায়েফবাসীকে দাওয়াত দিতে বের হয়েছিলেন, তা হল:
(তায়েফবাসীরা মক্কাবাসীদের চেয়ে উত্তম ছিল- মক্কাবাসীদের একগুয়েমী- তায়েফবাসীদের বদান্যতা/সম্মান)
মদীনায় হিজরতের পথ প্রশস্ত করে এমন ঘটনাগুলির মধ্যে রয়েছে:
(দুই আকাবার বাই‘আত- তায়েফে গমন- ইসরা ও মি‘রাজ)
ইসলামে আগে আগে প্রবেশকারীদের মধ্যে রয়েছেন:
(বিলাল ইবনু রাবাহ রদিয়াল্লাহু আনহু- খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ রদিয়াল্লাহু আনহু- মু‘আবিয়া ইবনু আবী সুফিয়ান রদিয়াল্লাহু আনহু)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
পাঠে উল্লিখিত সীরাতের ঘটনাগুলো থেকে তিনটি উপকারিতা খুঁজে বের কর।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদীনাতে হিজরতের সফলতার কারণসমূহ স্পষ্ট কর।
নবুয়তের দশম বছরকে কেন ‘আমুল হুযন বা দুঃখের বছর বলা হয়?
তৃতীয় পাঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদীনায় দাও‘আতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
মদীনা মুনাওয়ারাতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মূলভিত্তিসমূহ বর্ণনা করবে।
মাদানী যুগে সংঘটিত গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসমূহের বর্ণনা দিবে।
মক্কা ও মদীনার দাও‘আতের মানহাজ-পদ্ধতির মধ্যে তুলনা করবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবা কেরাম রদিয়াল্লাহু আনহুম এর জিহাদের মূল্য অনুমান করবে।
বিদায় হজ সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, তার সারাংশ তৈরী করবে।
আমরা পূর্বে মাক্কী যুগের দাও‘আতের বৈশিষ্ট্যগুলি অধ্যয়ন করেছি এবং এ পাঠে আমরা নিম্নলিখিত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে মাদানী যুগের দাও‘আতের বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে জানব:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদীনায় দাও‘আতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
১- আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের ক্ষেত্রে মসজিদের ভূমিকা
২- দাও‘আতের পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে কাজ করা।
৩- দাও‘আতকে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের ভূমিকা
৪- সামরিক অভিযান সফল হওয়ার পরে দাও‘আতের প্রসার।
৫- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত
আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের ক্ষেত্রে মসজিদের ভূমিকা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রবিউল আউয়াল মাসে মদিনায় প্রবেশ করেন এবং সর্বপ্রথম যে কাজটি তিনি শুরু করেছিলেন তা হল মসজিদে নববী নির্মাণ। এটি মুসলিমদের জীবনে মসজিদের গুরুত্বের কারণে। মসজিদ শুধুমাত্র সালাত আদায়ের স্থান ছিল না, বরং এটি একটি ধর্মীয় বিদ্যাপীঠ ছিল, যেখান থেকে ইতিহাসের সেরা প্রজন্ম শিক্ষাগ্রহণ করেছে এবং বেড়ে উঠেছে। মসজিদটি তখন ছিল বিচার ব্যবস্থা, জনগণের মধ্যকার বিবাদ মিমাংসা, জনসাধারণের বিষয়ে পরামর্শ, প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানানো এবং আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদের জন্য সেনাবাহিনী প্রেরণ করার একটি দপ্তর।
দাও‘আতের পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে কাজ করা:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাকে স্থিতিশীল রাখার জন্য কাজ করেছিলেন। আর এ কারণেই তিনি নিম্নলিখিত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করেছিলেন:
তিনি আউস ও খাযরাজের মধ্যে ইসলাম পূর্ব বিদ্যমান শত্রুতা ও যুদ্ধ সংক্রান্ত দ্বন্দের ব্যাপারে সন্ধি স্থাপন করেন। যার ফলে শত্রুতা শেষ হয় এবং তাদের মধ্যে ভালোবাসা ও ইসলামী ভ্রাতৃত্ব বিরাজ করতে থাকে।
এরপরে তিনি আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন তৈরী করে দেন। তাদের প্রত্যেকেরই বংশ বা অনুরূপ ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করার ন্যায় অধিকার ছিল আর এরপরে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব রক্ত ও বংশের ভ্রাতৃত্বকে ছাড়িয়ে ঊর্ধে অবস্থান করতে লাগল।
তিনি মদীনার ইহুদিদের সাথে একটি চুক্তি করেছিলেন (বনু কাইনুকা, বনু আল-নাদ্বীর এবং বনু কুরাইজা); যাতে তিনি মুসলিম ও ইহুদিদের মধ্যকার সম্পর্ক সুশৃঙ্খলভাব সাজাতে ও মন্দ কাজ বন্ধ করতে পারেন এবং মদীনার নিরাপত্তা ও শান্তি উপভোগ নিশ্চিত করতে পারেন এবং সেই সাথে মুসলিমগণ ইসলামের দিকে আহবানে আত্মনিয়োগ করতে পারেন।
দাও‘আতকে সংরক্ষণ করার ক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের ভূমিকা:
গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধসমূহ
দাও‘আতকে সংরক্ষণের জন্য একটি শক্তি প্রয়োজন; তাই, যখন মুসলিমরা মদীনাতে একটি শক্তিতে পরিণত হল, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শত্রুদের সাথে লড়াই করার অনুমতি দিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ এবং অভিযানের মধ্যে অন্যতম ছিল:
- বদরের যুদ্ধ
- বনু কাইনুকার যুদ্ধ
- উহুদের যুদ্ধ,
- বনু নাদ্বীরের যুদ্ধ
- খন্দকের যুদ্ধ
- বনু কুরাইজার যুদ্ধ
- হুদাইবিয়াহর যুদ্ধ
- খায়বার যুদ্ধ
- মক্কা বিজয়
- হুনাইনের যুদ্ধ
২য় হিজরীর ১৭ রমাদানে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এটি ছিল মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বড় যুদ্ধসমূহের মধ্যে প্রথম যুদ্ধ।
কুরাইশ কাফিরদের বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের সহযোগিতা করেছিলেন, যদিও মুসলিমরা সংখ্যায় অল্প ছিলেন।
৩য় হিজরীর শাওয়াল মাসে উহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যুদ্ধটি মুসলিমদের জয়লাভের মাধ্য দিয়ে শুরু হয়, কিন্তু শেষে তাদের পরাজয় দিয়ে যুদ্ধটি শেষ হয়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুসলিমদের জন্য দিনটি অত্যন্ত কঠিন ছিল।
৫ম হিজরীর শাওয়াল মাসে আহযাবের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। মদীনার চারপাশে খন্দক খননের পরে এ যুদ্ধে মুসলিমরা জয়লাভ করেন। এরপরে আল্লাহ তা‘আলা কাফিরদের উপরে প্রচণ্ড বাতাস প্রবাহিত করেন, ফলে তারা পরাজিত ও ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায়।
২য় হিজরীর শাওয়াল মাসে বনু কাইনুকার ইহুদীরা চুক্তি ভঙ্গ করে। তখন তাদেরকে মদীনা হতে বহিষ্কার করা হয়। আর বনু আন-নাদ্বীর চতুর্থ হিজরীতে কুরাইশদেরকে মুসলিমদের উপরে আক্রমনের জন্য উৎসাহ দেওয়ার কারণে বহিষ্কার করা হয়। এবং সবশেষে ৫ম হিজরীর শেষের দিকে বনু কুরাইজা খন্দকের যুদ্ধে মুশরিকদের সাথে মৈত্রীবদ্ধ হলে তাদের সাথে মুসলিমরা যুদ্ধে লিপ্ত হন।
৬ষ্ঠ হিজরীর যুল ক্বা‘দাহ মাসে হুদাইবিয়ার সন্ধি সংঘটিত হয়। যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুম উমরাহ আদায়ের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে বের হন; তারা হুদাইবিয়া নামক এলাকায় পৌঁছালে কুরাইশরা তাঁদের কে বাধা দেয়। তখন এ সন্ধি সংঘটিত হয়। এ সন্ধির শর্তাবলীর মধ্যে ছিল: মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যে দশ বছর পর্যন্ত যুদ্ধ স্থগিত রাখা।
৭ম হিজরির মুহাররম মাসে খায়বার বিজয় হয়েছিল, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদিদেরকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য বের হয়েছিলেন, যারা ইতোপূর্বে বিভিন্ন গোত্রকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উস্কানি দিয়েছিল, তাই মুসলিমরা তাদেরকে অবরোধ করে এবং তারা আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত তাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকে।
কুরাইশরা হুদাইবিয়ার সন্ধির শর্ত ভেঙ্গে ফেলার কারণে ৮ম হিজরীর রমাদান মাসে মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়। এ বিজয়ের কারণে মানুষেরা দলে দলে আল্লাহর দীনের মধ্যে প্রবেশ করতে থাকে।
৮ম হিজরীর শাওয়াল মাসে হুনাইনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইন উপত্যকায় হাওয়াযিন ও সাকীফ গোত্রদ্বয়ের বিরুদ্ধে মুখোমুখি যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, তাঁর সাথে ছিল12 হাজার মুসলিম যোদ্ধা। এ যুদ্ধে মুসলিমরা বিজয়ী হন এবং প্রচুর গণীমত লাভ করেন।
সামরিক অভিযান সফল হওয়ার পরে দাও‘আতের প্রসার:
মুশরিক ও ইহুদীদের সাথে সামরিক অভিযানের সফলতার সাথে সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরব উপদ্বীপের অবশিষ্ট অঞ্চলে এবং এর বাইরেও এই দাও‘আতকে ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছিলেন। যার মধ্যে অন্যতম একটি বিষয় ছিল যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-
ইসলামের দিকে আহবান জানিয়ে জাযীরাতুল আরব বা আরব উপদ্বীপের বড় বড় দেশের রাজাদের কাছে পত্র প্রেরণ করেছিলেন। যাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পত্র প্রেরণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে রয়েছে: পারস্য সম্র্রাট কিসরা, রোমান সম্রাট কায়সার, হাবশার বাদশা নাজ্জাশী এবং মিসরের বাদশা আল-মুকাওকিস।
মুসলিমরা মক্কা বিজয় করার পরে, ৯ম হিজরীতে আরবদের প্রতিনিধি দলসমূহেএসে তাদের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিতে লাগল। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে: সাকীফ, নাজরান ও আশ‘আরীদের প্রতিনিধিদলসমূহ।
১০ম হিজরীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ করেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এই বরকতময় হজে মানুষকে হজের নিয়মাবলী শিক্ষা দিয়েছিলেন এবং আরাফার ময়দানে বিশ্বখ্যাত বিদায়ী বক্তব্যটি প্রদান করেছিলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত:
এ লম্বা দাও‘আতী সফর পাড়ি দেওয়ার পর, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন তিনি আবু বাকর আস-সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহুকে মুসলিমদের ইমাম হিসেবে সালাত আদায় করার আদেশ দেন। ১১ হিজরীর ১২ রবিউল আউয়ালের সোমবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুবরণ করেন।
আল্লাহ তা‘আলা ইসলাম ও সকল মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন! আল্লাহ তা‘আলা তাঁর উপর, তাঁর পরিবারের উপর, সাহাবীদের উপর এবং যাঁরা উত্তমরূপে কিয়ামাত পর্যন্ত সাহাবীদের অনুসরণ করেছেন, তাদের উপরে শান্তি, রহমত ও বরকত দান করুন।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি অংশগ্রহণ করব এবং তুলনা করব:
তোমার পাঠের উপর ভিত্তি করে তোমার সহপাীদের সাথে নিয়ে নিম্নোক্ত কাজগুলো কর (তোমার উত্তর নিচের ছকে লিপিবদ্ধ কর):
নবীর দাও‘আতের মক্কায় অবস্থানকালীন মানহাজ এবং মদীনাতে অবস্থানকালীন মানহাজের মধ্যে তুলনা কর।
আমাদের বর্তমান যুগের মসজিদ ও মসজিদে নববীর ভূমিকার মধ্যে তুলনা কর।
মক্কায় মদীনায়
দাও‘আতের মানহাজ/পদ্ধতি
মসজিদে নববী বর্তমান যুগের মসজিদ
মসজিদের ভূমিকা
অনুশীলন(২): চিন্তা-ভাবনা করে সারমর্ম বের করব:
বিদায়ী খুত্ববাটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ কর, তারপর এতে উল্লেখিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সারমর্ম পেশ কর:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের উপরে হারাম। যেমন তা হারাম (পবিত্র) তোমাদের এ দিনে, তোমাদের এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে।” "সাবধান! জাহিলী যুগের সকল বিষয় আমার দুটি পায়ের নিচে। এবং জাহিলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল করা হল। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি, তা হল: আমাদের বংশের রবী‘আহ ইবনু হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বানূ সা’দ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। জাহিলী যুগের সুদও বাতিল করা হল। আমি প্রথমে যে সুদ বাতিল করছি তা হল: আমাদের বংশের আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল করা হল। তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর... আর আমি তোমাদের মধ্যে এমন একটি বস্তু রেখে যাচ্ছি, তোমরা যতক্ষণ তা আঁকড়ে ধরবে, ততক্ষণ তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না, তা হচ্ছে: আল্লাহর কিতাব। “আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে, তখন তোমরা কী বলবে?” তারা বললেন: আমরা সাক্ষ্য দিব যে, আপনি পৌঁছিয়েছেন, আপনার হক আদায় করেছেন এবং উত্তম উপদেশ দিয়েছেন। তারপর তিনি তর্জনী আকাশের দিকে তুলে লোকদের দিকে ইশারা করে বললেন: “হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকেন, হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকেন।” তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। এটি সহীহ মুসলিম (১২১৮) বর্ণনা করেছেন।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
হুদাইবিয়ার সন্ধিকে ইসলামী দাওয়াতের সুস্পষ্ট বিজয় হিসেবে গণ্য করা হয়।
খন্দকের যুদ্ধ তৃতীয় হিজরীতে সংঘটিত হয়েছিল। (×)
সামরিক সফলতার পরে দাও‘আতী সফলতা আসে।
মক্কা বিজয় ও উহুদের যুদ্ধ দুটি দাওয়াতের উপরে প্রভাবের ক্ষেত্রে সাদৃশ্য রাখে। (×)
আল্লাহ তা‘আলার সাথে সম্পর্ক হচ্ছে একজন দায়ীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর অন্যতম।
প্রশ্ন ২: নিম্নলিখিত যুদ্ধগুলো আগে ও পরে সংঘটিত হওয়ার ক্রম অনুসারে সাজাও:
(হুনাইনের যুদ্ধ- বদরের যুদ্ধ- বনু আন নাদ্বীরের যুদ্ধ- বনু কাইনুকার যুদ্ধ- খায়বারের যুদ্ধ)
প্রশ্ন ৩: ভুল সংশোধন করে বাক্যগুলো পুনরায় লিখ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মৃত্যু পর্যন্ত আউস ও খাযরাজের শত্রুতা বিদ্যমান ছিল।
মুহাজিরদের জন্য আনসারগণ মদীনার উপকণ্ঠে বিশেষ আবাসন তৈরী করে দিয়েছিলেন।
ইহুদীরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের কৃত ওয়াদা পূরণ করেছিল।
প্রশ্ন ৪: নিচের বিষয়গুলোর উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর:
মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব কায়েম।
মদীনাতে ইহুদী ও মুসলিমদের মধ্যকার চুক্তি।
চতুর্থ পাঠ: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার মর্যাদা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার বিধান বর্ণনা করবে।
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ফযীলতসমূহ বর্ণনা করবে।
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের মর্যাদার গুরুত্বের ওপর দলীল পেশ করবে।
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা ছেড়ে দেয়ার ভয়াবহতা অনুধাবন করতে পারবে।
তুমি সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: كُنتُمۡ خَيۡرَ أُمَّةٍ أُخۡرِجَتۡ لِلنَّاسِ تَأۡمُرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَتَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَتُؤۡمِنُونَ بِٱللَّهِۗ ... “তোমরাই শ্রেষ্ঠ উম্মত, মানব জাতির জন্য যাদের বের করা হয়েছে; তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দিবে, অসৎকাজে নিষেধ করবে এবং আল্লাহর উপর ঈমান আনবে...।” (সূরা আলে ইমরান: ১১০)।
আয়াতে কারীমাটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা কর, তারপর উত্তর দাও:
আল্লাহ তা‘আলা মুসলিম উম্মাহর মর্যাদাকে উঁচু করেছেন এবং শ্রেষ্ট উম্মাত হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; কেননা তারা দুটি মহান বৈশিষ্ট্যের কারণে অন্যদের থেকে আলাদা। সে বৈশিষ্ট্য দুটি কী?
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার মর্যাদা
ব্যক্তি ও সমাজের সংশোধন ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য। এ মহান উদ্দেশ্যটি বাস্তবায়ন করার জন্য ইসলাম সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করার কাজটি বিধিবদ্ধ করেছে। সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধের গুরুত্বপূর্ণ ফযীলতের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে:
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার মর্যাদা
১- নবী ও রসূলদের কাজ।
২- এ দুটির ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার আদেশ
৩- তাদের জন্য মহা পুরস্কার
৪- মুমিনের অন্যতম একটি গুণ
৫- উম্মাতের বিজয় লাভের উপায়
৬- আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের একটি রাস্তা।
৭- নাজাতের পথ ও আযাব থেকে মুক্তির উপায়।
নবী ও রসূলদের কাজ:
আল্লাহ তা‘আলা রসূলদেরকে প্রেরণ করেছেন মানুষদেরকে হিদায়াত, তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার জন্য। আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে বলেন: ٱلَّذِينَ يَتَّبِعُونَ ٱلرَّسُولَ ٱلنَّبِيَّ ٱلۡأُمِّيَّ ٱلَّذِي يَجِدُونَهُۥ مَكۡتُوبًا عِندَهُمۡ فِي ٱلتَّوۡرَىٰةِ وَٱلۡإِنجِيلِ يَأۡمُرُهُم بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَيَنۡهَىٰهُمۡ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ : “যারা অনুসরণ করে এমন রাসূল, উম্মী নবীর, যার উল্লেখ তারা তাদের কাছে তাওরাত ও ইঞ্জীলে লিপিবদ্ধ পায়, যিনি তাদেরকে সৎকাজের আদেশ দেন, অসৎকাজ থেকে নিষেধ করেন।” (সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ১৫৭)।
এ দুটির ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার আদেশ:
এ দুটিকে আল্লাহ তা‘আলা ইসলামের একটি মূলনীতি এবং মুসলিমদের জন্য এক আবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ»: “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ দেখতে পাবে, সে উক্ত অন্যায়কে তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করবে। যদি সে তা না করতে সক্ষম হয়, তবে তার জিহ্বা দ্বারা [নসীহত করবে]। যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দিয়ে [তা ঘৃণা করবে]। আর এটিই হচ্ছে ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর।” এটি মুসলিম (৪৯) বর্ণনা করেছেন।
এদুটির রয়েছে মহা পুরস্কার:
যারা ভালো কাজের আদেশ দেয় এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা মহা পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: لَّا خَيۡرَ فِي كَثِيرٖ مِّن نَّجۡوَىٰهُمۡ إِلَّا مَنۡ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوۡ مَعۡرُوفٍ أَوۡ إِصۡلَٰحِۭ بَيۡنَ ٱلنَّاسِۚ وَمَن يَفْعَلْ ذَٰلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا: “তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোন কল্যাণ নেই, তবে কল্যাণ আছে যে নির্দেশ দেয় সাদকাহ, সৎকাজ ও মানুষের মধ্যে সংশোধনের; আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কেউ তা করলে তাকে অবশ্যই আমি মহা পুরস্কার দেব।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১১৪)।
সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজে নিষেধ করার সওয়াব কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ، لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْئًا»: “যে ব্যক্তি কোন সুন্নাতের দিকে আহবান করে, সে তার অনুসারীদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে এবং এতে তার অনুসারীদের পুরস্কারে কোনরূপ ঘাটতি হবে না।” এটি মুসলিম (২৬৭৪) বর্ণনা করেছেন।
মুমিনের গুণসমূহের অন্তর্ভুক্তঃ
জান্নাতের উপযুক্ত ব্যক্তিদের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ٱلتَّٰٓئِبُونَ ٱلۡعَٰبِدُونَ ٱلۡحَٰمِدُونَ ٱلسَّٰٓئِحُونَ ٱلرَّٰكِعُونَ ٱلسَّٰجِدُونَ ٱلۡأٓمِرُونَ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَٱلنَّاهُونَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَٱلۡحَٰفِظُونَ لِحُدُودِ ٱللَّهِۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ: “তারা তাওবাহকারী, ইবাদাতকারী, আল্লাহ্র প্রশংসাকারী, সিয়াম পালনকারী, রুকূ’কারী, সিজদাকারী(মুসাল্লী), সৎকাজের আদেশদাতা, অসৎকাজের নিষেধকারী এবং আল্লাহ্র নির্ধারিত সীমারেখা সংরক্ষণকারী; আর আপনি মুমিনদেরকে শুভ সংবাদ দিন।” (সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১২)।
السائحون শব্দটির অর্থ হচ্ছে: সিয়াম পালনকারীগণ।
উম্মাতের বিজয় লাভের উপায়:
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ٱلَّذِينَ إِن مَّكَّنَّٰهُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ أَقَامُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُاْ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَمَرُواْ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَنَهَوۡاْ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۗ وَلِلَّهِ عَٰقِبَةُ ٱلۡأُمُورِ: “তারা এমন লোক যাদেরকে আমি যমীনের বুকে প্রতিষ্ঠিত করলে সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের নির্দেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে; আর সব কাজের চুড়ান্ত পরিণতি আল্লাহ্র ইখতিয়ারে।” (সূরা আল-হাজ, আয়াত: ৪১)।
আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের দরজাসমূহের একটি দরজা :
এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: কোন জিহাদ সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন: «كَلِمَةُ حَقٍّ عِنْدَ سُلْطَانٍ جَائِرٍ»: “অত্যাচারী শাসকের সামনে হক কথা বলা।” এটি নাসাঈ (৪২০৯) বর্ণনা করেছেন।
নাজাতের পথ ও আযাব থেকে মুক্তির উপায়:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَلَوۡلَا كَانَ مِنَ ٱلۡقُرُونِ مِن قَبۡلِكُمۡ أُوْلُواْ بَقِيَّةٖ يَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلۡفَسَادِ فِي ٱلۡأَرۡضِ إِلَّا قَلِيلٗا مِّمَّنۡ أَنجَيۡنَا مِنۡهُمۡۗ وَٱتَّبَعَ ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ مَآ أُتۡرِفُواْ فِيهِ وَكَانُواْ مُجۡرِمِينَ: “অতএব তোমাদের পূর্বের প্রজন্মসমুহের মধ্যে এমন প্রজ্ঞাবন কেন হয়নি, যারা যমীনে বিপর্যয় সৃষ্টি থেকে নিষেধ করত? অল্প সংখ্যক ছাড়া, যাদেরকে আমি তাদের মধ্যে নাজাত দিয়েছিলাম। আর যারা যুলুম করেছে তারা বিলাসিতার পেছনে পড়ে ছিল, আর তারা ছিল অপরাধী।” (সূরা হূদ, আয়াত: ১১৬)।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১) আমি আলোচনা করব এবং ফলাফল খুঁজে বের করব:
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা, ব্যক্তি ও সমাজের উপর ভালো প্রভাব ফেলে। নিম্নলিখিত আয়াত ও হাদীসের সাহায্য নিয়ে তোমার শিক্ষক এবং সহপাঠীদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা কর:
আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فَلَمَّا نَسُواْ مَا ذُكِّرُواْ بِهِۦٓ أَنجَيۡنَا ٱلَّذِينَ يَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلسُّوٓءِ وَأَخَذۡنَا ٱلَّذِينَ ظَلَمُواْ بِعَذَابِۭ بَـِٔيسِۭ بِمَا كَانُواْ يَفۡسُقُونَ: “অতঃপর যে উপদেশ তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন যারা অসৎকাজ থেকে নিষেধ করত তাদেরকে আমি উদ্ধার করি। আর যারা যুলুম করেছিল তাদেরকে আমি কঠোর শাস্তি দেই, কারণ তারা ফাসেকী করত।” (সূরা আল-আ‘রাফ: ১৬৫)।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَتَأْمُرُنَّ بِالمَعْرُوفِ وَلَتَنْهَوُنَّ عَنِ المُنْكَرِ، أَوْ لَيُوشِكَنَّ اللهُ أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عِقَابًا مِنْهُ، ثُمَّ تَدْعُونَهُ فَلَا يُسْتَجَابُ لَكُمْ: “তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমরা অবশ্যই ভাল কাজের আদেশ এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে, তা না হলে শীঘ্রই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের উপর আযাব পাঠাবেন । অতপর তোমরা তাঁর কাছে দু‘আ করবে; কিন্তু তোমাদের দু‘আ কবুল করা হবে না।” এটি তিরমিযী (২১৬৯) বর্ণনা করেছেন।
অনুশীলন (২): অংশগ্রহণ করব ও জবাব দেব:
আবু বাকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: হে মানুষেরা! তোমরা নিশ্চয় এ আয়াত পাঠ করে থাক: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ عَلَيۡكُمۡ أَنفُسَكُمۡۖ لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا ٱهۡتَدَيۡتُمۡۚ: “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের দায়িত্ব তোমাদের উপরে, তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও তবে যে পথ ভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।” (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১০৫)। তোমরা এটিকে এর সঠিক স্থান থেকে অন্য স্থানে ব্যবহার করছ, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “নিশ্চয়ই মানুষেরা যখন কোন খারাপ কাজ প্রত্যক্ষ করে অথচ তারা তাকে খারাপ মনে করে না (অথবা বাধা দেয় না), তখন হতে পারে তাদের সবাইকে আল্লাহর আযাব ঘিরে ফেলবে।” এটি আহমাদ (১৬) ও ইবন মাজাহ (৪০০৫) বর্ণনা করেছেন।
তোমার সহপাঠীর অংশগ্রহণে এবং আবু বাকর আস-সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তির আলোকে, নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উত্তর দাও:
আয়াতে কারীমার অর্থ বুঝতে কিছু লোক যে ভুলে পতিত হয়েছে, তা ব্যাখ্যা কর।
যদি একজন ব্যক্তি ইবাদাত পালনের ক্ষেত্রে সঠিক পথে থাকে, তবে অন্যকে অনাচারের মধ্যে ছেড়ে দেওয়াতে তার কোন ক্ষতি হবে না, সুতরাং সে তাদেরকে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করবে না।
আবু বাকর আস-সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু কিভাবে তাদের এই ভুলকে ভেঙ্গে দিয়েছিলেন?
তিনি তাদের বোঝার ত্রুটি ব্যাখ্যা করেন, তারপর অসৎ কাজের নিষেধ পরিত্যাগ করার শাস্তির দলীল উল্লেখ করেন।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় দেখবে, সে যেন তা হাত দ্বারা পরিবর্তন করে” এটি প্রমাণ করে যে, অসৎ কাজে বাধা দেওয়া:
(মুস্তাহাব- ওয়াজিব- মুবাহ)
যে আয়াতটি তে আবু বাকর আস-সিদ্দীক রদিয়াল্লাহু আনহু কিছু লোকের ভুল বোঝাবুঝির বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, সেটি ছিল আল্লাহ তা‘আলার এই বাণীটি:
عَلَيۡكُمۡ أَنفُسَكُمۡۖ لَا يَضُرُّكُم مَّن ضَلَّ إِذَا ٱهۡتَدَيۡتُمۡۚ: “তোমাদের দায়িত্ব তোমাদের উপরে, তোমরা যদি সৎপথে পরিচালিত হও, তবে যে পথ ভ্রষ্ট হয়েছে সে তোমাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না।”
فَلَمَّا نَسُواْ مَا ذُكِّرُواْ بِهِۦٓ أَنجَيۡنَا ٱلَّذِينَ يَنۡهَوۡنَ عَنِ ٱلسُّوٓءِ: “অতঃপর যে উপদেশ তাদেরকে দেয়া হয়েছিল, তারা যখন তা ভুলে গেল, তখন যারা অসৎকাজ থেকে নিষেধ করত তাদেরকে আমি উদ্ধার করি।”
সবচেয়ে উত্তম সৎকাজের আদেশের স্বরূপ হচ্ছে ---------- এর কাছে সত্য কথা বলা:
(গণ সমাবেশ- জুমু‘আহর খুত্ববা- জালিম শাসক)
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
আল্লাহ তা‘আলা কেন মুসলিম উম্মাহকে শ্রেষ্ট উম্মাহ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন?
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের তিনটি ফযীলত ব্যাখ্যা কর।
কারণ উল্লেখ কর: অসৎ কাজের নিষেধ না করা অসৎ কাজ আরো বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ।
পঞ্চম পাঠ: সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ সংক্রান্ত সঠিক নীতিমালা
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে যে:
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার নিয়ম-নীতি বর্ণনা দিবে।
অসৎ কাজকে পরিবর্তন করার স্তরসমূহ ব্যাখ্যা করবে।
উপকারিতা ও ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে দলীল পেশ করবে।
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা সংক্রান্ত সঠিক জ্ঞানের (ফিকহের) প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করতে পারবে।
শরী‘আতের নিয়ম-নীতি অনুযায়ী সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করবে।
ভূমিকা:
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ করার জন্য শরী‘আহর জ্ঞান এবং তা প্রয়োগে প্রজ্ঞার প্রয়োজন। এই পাঠে, তুমি সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধ সংক্রান্ত ফিকহী সঠিক জ্ঞান অর্জন করবে।
প্রথমত: সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার নিয়ম-নীতি:
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার নিয়ম-নীতি।
শারী‘য়তই সৎ কাজ ও অসৎ কাজ নির্ধারণ করে।
ইজতিহাদী মাসায়েলকে নাকচ না করা।
অসৎ কাজ প্রকাশ পাওয়া।
অন্যায় কাজে পতিত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া।
উপকারিতা ও ক্ষতির দিক বিবেচনায় রাখা।
আমরা মানুষকে যা করতে আদেশ করি অথবা নিষেধ করি তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
শারী‘য়তই সৎ ও অসৎ নির্ধারণ করবে:
সুতরাং কোন অভ্যাস, আচার বা ব্যক্তিগত চিন্তা-ভাবনা এটি নির্ধারণ করবে না।
ইজতিহাদি মাসআলার ক্ষেত্রে প্রতিবাদ না করা:
এ গুলি হচ্ছে এমন সব মাসআলা, যাতে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। আবার কুরআন অথবা সুন্নাহর মধ্যে এর হুকুমের ব্যাপারে কোন স্পষ্ট দলীল আসেনি। অথবা দলীল সুন্নাহর মধ্যে এসেছে, তবে সেটির বিশুদ্ধতা বা ইঙ্গিতগত অর্থের মধ্যে মতভেদ বিদ্যমান, ইত্যাদি জাতীয় মাসআলাকে নাকচ করা যাবে না।
অসৎ কাজের প্রকাশ:
গোপনে করা অথবা লুকিয়ে রাখা কোন বিষয়ে বাধা না দেওয়া, যেমন: বাড়ীর মধ্যে কোন পাপে লিপ্ত হওয়া।
অন্যায় কাজে পতিত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া:
যাতে করে সৎ কাজে আদেশকারী এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধকারীর ব্যাপারে মিথ্যার অভিযোগ না আসে। সুতরাং অন্যায় কাজ সংঘটিত হওয়ার সময়ে তা বাধা দেওয়া আবশ্যক। আবার যদি অতীতে সংঘটিত কোন অন্যায় সম্পর্কে জানা যায় অথবা ভবিষ্যতে ঘটবে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাহলে নসীহত করা আবশ্যক।
উপকারিতা ও ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা:
যদি কোন অন্যায় থেকে নিষেধ করার কারণে সেখানে এমন অন্যায় এসে পড়ে, যা প্রথম অন্যায়ের চেয়ে বেশী মারাত্মক, তবে প্রথম অন্যায় থেকে নিষেধ করা জায়িয নেই। এর একটি উদাহরণ হল: উমার ইবনুল খত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু মুনাফিকদের প্রধান আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালুলকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বাধা দিয়েছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন: «دَعْهُ، لَا يَتَحَدَّثُ النَّاسُ أَنَّ مُحَمَّدًا يَقْتُلُ أَصْحَابَهُ»: “তাকে ছেড়ে দাও; যাতে মানুষ এটা না বলে যে, মুহাম্মাদ তার সাথীদেরকে হত্যা করে।” এটি বুখারী (৩৩৩০) ও মুসলিম (৬৩) বর্ণনা করেছেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যা করা থেকে বিরত রেখেছিলেন; যাতে বাকি আরবরা ইসলাম গ্রহণ করতে ভয় না পায়।
অসৎ কাজ থেকে নিষেধের স্তরসমূহ
অন্যায়কে প্রতিহত করার তিনটি স্তর রয়েছে, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বাণীতে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَرًا فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ، فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ، وَذَلِكَ أَضْعَفُ الْإِيمَانِ»: “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন অন্যায় কাজ দেখবে, সে উক্ত অন্যায়কে তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করবে। যদি সে তা করতে সক্ষম না হয়, তবে জিহ্বা দ্বারা [তা প্রতিহত করবে]। যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে অন্তর দিয়ে [তা ঘৃণা করবে]। আর এটিই হচ্ছে ঈমানের সবচেয়ে দুর্বল স্তর।” এটি মুসলিম (৪৯) বর্ণনা করেছেন।
উক্ত স্তরসমূহের বর্ণনা নিচে প্রদান করা হল:
প্রথম স্তর: অন্যায়কে হাত দ্বারা পরিবর্তন করা:
এটি তাদের জন্য খাস, যাদের অভিভাবকত্ব বা কর্তৃত্ব রয়েছে, যেমন: রাষ্ট্রের শাসক, বিচারক তার আদলতে, সেনাপতি তার বাহিনীর সেনাদের মধ্যে, পরিচালক তার কার্যক্ষেত্রে, পিতা তার গৃহে এবং যাদেরকে সৎ কাজের আদেশ প্রদান ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার জন্য শাসক রাষ্ট্রীয়ভাবে নিযুক্ত করেছেন।
দ্বিতীয় স্তর: অন্যায়কে জিহ্বা ও ভাষার দ্বারা পরিবর্তন করা:
যদি কোন ব্যক্তির এমন কোন কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা না থাকে, যা তাকে অন্যায় কাজ হাত দ্বারা প্রতিহত করতে সাহায্য করতে পারে, তখন এ স্তরটি প্রযোজ্য হবে, আর এটি হতে পারে উত্তম কথা এবং সুন্দর নসীহতের মাধ্যমে।
তৃতীয় স্তর: অন্যায়কে অন্তর দ্বারা পরিবর্তন করা:
এটি হচ্ছে সবচেয়ে দূর্বলতম স্তর। এটি সকল মুসলিম পুরুষ ও নারীর ক্ষেত্রে ওয়াজিব, এটি কোন সময়ই রহিত হয় না। অন্তর দ্বারা অন্যায়কে প্রতিহত করার বিষয়টি এভাবে কার্যকর হয়ে থাকে যে, মুসলিম ব্যক্তি যখনই কোন পাপাচার দেখে অথবা শ্রবণ করে, তখন সে তা ঘৃণা করে।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি বিশ্লেষন করব এবং নির্দিষ্ট করব:
নিম্নোক্ত প্রেক্ষাপটগুলি বিশ্লেষণ কর, তারপরে নিচের অন্যায়/অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার ব্যাপারগুলো কোন স্তরের অন্তর্ভুক্ত হবে তা নির্দিষ্ট কর:
প্রেক্ষাপট অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার স্তর
হাত ভাষা
কোন ব্যক্তি তার প্রতিবেশীকে অন্যায় করতে দেখল। ভাষা
আহমাদের ১২ বছরের একজন ছেলে রয়েছে, সে প্রায়ই সালাত ত্যাগ করে থাকে। হাত
মসজিদের ইমাম দেখলেন যে কোন একজন মুসল্লী কিবলামুখী না হয়ে সালাত আদায় করছে। হাত
একজন শিক্ষক তার কতিপয় ছাত্রকে বিদ্যালয়ের মধ্যে সিগারেট বা ধুমপান করতে দেখল। হাত এবং ভাষা
কতিপয় পুলিশ সদস্য একজন অপরাধীকে রাস্তা অবরোধ করতে দেখল। হাত
অনুশীলন (২) আমি আলোচনা করব এবং ফলাফল খুঁজে বের করব:
সৎকাজের আদেশদানকারী এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধকারীর যদি প্রবল ধারণা হয় যে, তার কথায় কোন কাজ হবে না, তাহলে সে কী সৎকাজে আদেশ অথবা অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে নাকি ছেড়ে দেবে?
আল্লাহ তা‘আলার নিম্নোক্ত বাণীর আলোকে তোমার শিক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে আলোচনা কর: (وَذَكِّرۡ فَإِنَّ ٱلذِّكۡرَىٰ تَنفَعُ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ) “আর আপনি উপদেশ দিতে থাকুন; কারণ নিশ্চয়ই উপদেশ মুমিনদের উপকারে আসে।” (সূরা আয-যারিয়াত: ৫৫)।
যে কেউ মন্দ কাজ দেখে, তাকে অবশ্যই তা নিষেধ করতে হবে, এমনকি যদিও তার প্রবল ধারণা হয় যে, তার কথায় কোন কাজ হবে না।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
প্রতিটি মুসলিমের উপরেই অন্যায়কে অন্তর থেকে ঘৃণা করা ফরযে আইন। (√)
ইজতিহাদী মাসআলাকে অন্যায় হিসেবে প্রতিহত করা ওয়াজিব। (X)
হাত দ্বারা প্রতিহত করা অন্যায় প্রতিরোধের সবচেয়ে উত্তম স্তর। (√)
অন্যায় থেকে নিষেধ করার ক্ষেত্রে শর্ত হচ্ছে অন্যায় প্রকাশিত হওয়া অথবা এটি ঘটা। (√)
অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করা যদি আরো মারাত্মক অন্যায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন উক্ত অন্যায় কাজ থেকে নিষেধ করা হারাম। (√)
প্রশ্ন ২: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
অন্যায় কাজ প্রতিহত করার ক্ষেত্রে উপকারিতা ও ক্ষতির দিক বিবেচনার গুরুত্ব সম্পর্কে উদাহরণসহ একটি দলীল পেশ কর।
অন্যায় থেকে নিষেধের স্তরসমূহ ব্যাখ্যার পাশাপাশি যাদের হাত দ্বারা অন্যায় প্রতিরোধের ক্ষমতা রয়েছে, তাদের কথা উল্লেখ কর।
ষষ্ঠ পাঠ: সৎ কাজে আদেশকারী ও অসৎ কাজ থেকে বাধাদানকারীদের আদবসমূহ
এ পাঠের পদ্ধতিগত উদ্দেশ্য (Procedural objectives):
প্রিয় শিক্ষার্থী! এ পাঠ শেষে তোমার কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে :
সৎ কাজে আদেশকারী ও অসৎ কাজ থেকে বাধাদানকারীদের আদবসমূহ ব্যাখ্যা করবে।
অন্যায় কাজকে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক সাজাবে।
সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ কাজে নিষেধের ক্ষেত্রে কোমলতার গুরুত্ব অনুমান করবে।
সৎ কাজে আদেশদানকারী ও অসৎ কাজ থেকে বাধাদানকারীদের আদবসমূহ প্রয়োগ করবে।
সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের ফল শরি‘আহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত নীতিগুলোর প্রয়োগ করা ছাড়া বাস্তবায়িত হবে না, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ হল:
সৎ কাজে আদেশদানকারী ও অসৎ কাজ থেকে বাধাদানকারীর আদবসমূহ
ইখলাস
আল-ইলম (জ্ঞান)
কাজ
কোমলতা
পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপ
সৎ কাজের আদেশদানকারী এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধকারীর জন্য অবশ্যই নিচের গুণাবলী থাকা উচিত:
আল্লাহর তা‘আলার জন্যে নিয়াতকে বিশুদ্ধ করা:
ইখলাস হচ্ছে আমল কবুল হওয়া, সওয়াব প্রাপ্তি ও আল্লাহ তা‘আলার তাওফীক প্রাপ্তির মূলভিত্তি।
যে বিষয় সম্পর্কে আদেশ বা নিষেধ করবে সে বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা জানা:
এটি হবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণে। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নবীর সুন্নাতের (পথ) বর্ণনা করে বলেছেন: قُلۡ هَٰذِهِۦ سَبِيلِيٓ أَدۡعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِۚ عَلَىٰ بَصِيرَةٍ أَنَا۠ وَمَنِ ٱتَّبَعَنِيۖ: “বলুন, এটাই আমার পথ, আল্লাহর প্রতি মানুষকে আমি ডাকি জেনে-বুঝে, আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারাও।” (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮)।
এ কারণে সৎকাজের আদেশদাতার জন্য জেনে-বুঝে (জ্ঞানের ভিত্তিতে) শরী‘আত যেটা করতে বলেছে, সে বিষয়ের আদেশ করা ওয়াজিব এবং অনুরূপভাবে অসৎ কাজ থেকে নিষেধকারীর জন্যও শরী‘আতে যা নিষিদ্ধ, তা থেকে জেনে-বুঝে নিষেধ করা আবশ্যক।
যা আদেশ করবে, তা মেনে চলা এবং যা থেকে নিষেধ করবে, তা থেকে বিরত থাকা:
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব, যা একজন দায়ীকে অবশ্যই মানতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفۡعَلُونَ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা যা কর না তা তোমরা কেন বল?” كَبُرَ مَقۡتًا عِندَ ٱللَّهِ أَن تَقُولُواْ مَا لَا تَفۡعَلُونَ: “তোমরা যা কর না তোমাদের তা বলা আল্লাহর দৃষ্টিতে খুবই অসন্তোষজনক।” (সূরা আস-সফ: ২-৩)। কিন্তু যদি দায়ী কখনো কোন নেককাজ করতে ব্যর্থ হয় অথবা কোন পাপাচারে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তার মানে এটা নয় যে, এ ব্যক্তি উক্ত নেককাজটির আদেশ বা পাপ থেকে নিষেধ করা পরিত্যাগ করবে।
কোমলতা ও নম্রতা অবলম্বন করা এবং কঠোরতা পরিহার করা:
যাতে তার কাছ থেকে মানুষ বিরক্ত হয়ে ফিরে না যায়। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: وَلَوۡ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ ٱلۡقَلۡبِ لَٱنفَضُّواْ مِنۡ حَوۡلِكَۖ: “আর আপনি যদি কঠোর হৃদয়ের অধিকারী হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত।” (সূরা আলে-ইমরান: ১৫৯)।
পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপ:
অন্যায়কারীকে পরিত্যাগ করা বা তাকে শাস্তি দেওয়ার জন্য প্রথমেই তাড়াহুড়া করা উচিত নয়, বরং নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো অনুসারে ধীরে ধীরে তা প্রয়োগ করা উচিত:
প্রথমত: ভুলটি জানিয়ে দেওয়া। বিশেষভাবে যখন ভুলে পতিত ব্যক্তি বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে অথবা বয়সে সে ছোট হয়।
দ্বিতীয়ত: প্রকাশ্যে না বলে গোপনে উপদেশ দেওয়া ও নসীহত করা।
তৃতীয়ত: তাকে কঠোরভাবে বলা এবং শাস্তির ভয় দেখানো।
চতুর্থত: ভুলটি বারবার করতে থাকলে তাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং সম্পর্ক না রাখা।
পঞ্চমত: আদেশকারী যদি পিতা অথবা স্বামীর ন্যায় বিচার করতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত বা অভিভাবক হন, তাহলে শাস্তি প্রদান করা।
অনুশীলনসমূহ
অনুশীলন (১): আমি অন্যকে সাহায্য করব এবং খুঁজে বের করব:
নিচের দলীলগুলোতে বর্ণিত সৎকাজের আদেশকারীর আদবসমূহ খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে সহপাঠীকে সাহায্য কর:
লুকমান আলাইহিস সালাম কর্তৃক তার ছেলেকে প্রদত্ত অসীয়তের মধ্যে এসেছে: يَٰبُنَيَّ أَقِمِ ٱلصَّلَوٰةَ وَأۡمُرۡ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَٱنۡهَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَٱصۡبِرۡ عَلَىٰ مَآ أَصَابَكَۖ তথা: “হে পুত্র! সালাত কায়েম কর, সৎকাজে আদেশ দাও, অসৎ কাজে নিষেধ কর এবং তোমার উপরে আপতিত বিপদে সবর কর।” (সূরা লুকমান, আয়াত: ১৭)।
সুফিয়ান আছ-ছাউরী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন: “তিনটি গুণের অধিকারী ব্যক্তি ছাড়া কেউ সৎকাজের আদেশ দেবে না এবং মন্দ কাজের নিষেধ করবে না: সে যা আদেশ করে বা যা নিষেধ করে সে বিষয়ে কোমল। যা সে আদেশ করে বা যা সে নিষেধ করে, সে বিষয়ে ন্যায়পরায়ণ। যা সে আদেশ করে বা যা সে নিষেধ করে সে বিষয়ে জ্ঞানী।”
অনুশীলন (২): আমি একটি নসীহতনামা লিখব:
কিছু লোক রয়েছে যারা নিচে উল্লেখিত আল্লাহ তা‘আলার বাণীতে নির্দেশিত পদক্ষেপগুলি না নিয়েই তাদের স্ত্রীদেরকে শাস্তি দিতে তাড়াহুড়া করে: وَٱلَّٰتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَٱهۡجُرُوهُنَّ فِي ٱلۡمَضَاجِعِ وَٱضۡرِبُوهُنَّۖ فَإِنۡ أَطَعۡنَكُمۡ فَلَا تَبۡغُواْ عَلَيۡهِنَّ سَبِيلًاۗ: “আর স্ত্রীদের মধ্যে যাদের অবাধ্যতার আশংকা কর তাদেরকে সদুপদেশ দাও, তারপর তাদের শয্যা বর্জন কর এবং তাদেরকে প্রহার কর। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয় তবে তাদের বিরুদ্ধে কোন পথ অন্বেষণ করো না। নিশ্চয় আল্লাহ শ্ৰেষ্ঠ, মহান।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৩৪)।
এ সমস্ত লোকদের উদ্দেশ্যে আয়াতে উল্লেখিত বিষয় এবং তুমি যা এ পাঠ থেকে শিখেছ, তার ভিত্তিতে একটি নসীহত লেখ।
মূল্যায়ন
প্রশ্ন ১: নিম্নে সঠিক উত্তরের সামনে টিকচিহ্ন (√) এবং ভুল উত্তরের সামনে (×) চিহ্ন দাও:
একজন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমেই শয্যা ত্যাগ করবে। (X)
অসৎ কাজ থেকে নিষেধকারীর জন্য এটা শর্ত যে, সে পাপে লিপ্ত হবে না। (X)
সৎকাজের নির্দেশ দেওয়ার আগে এ সংক্রান্ত ফিকহ জানা আবশ্যক। (√)
প্রশ্ন ২: বন্ধনীর মধ্য থেকে সঠিক উত্তরটি বেছে নাও:
আল্লাহ তা‘আলার বাণী: وَأۡمُرۡ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَٱنۡهَ عَنِ ٱلۡمُنكَرِ وَٱصۡبِرۡ عَلَىٰ مَآ أَصَابَكَۖ তথা: “সৎকাজে আদেশ করবে, অসৎ কাজে নিষেধ করবে এবং তোমার উপরে আপতিত বিপদে সবর করবে।” আয়াতটি যে বিষয়ের গুরুত্বের উপরে ইঙ্গিত প্রদান করে:
(শক্তি প্রয়োগ- কোমলতা- সবর)
সৎ কাজে আদেশের ক্ষেত্রে ইখলাস হলো:
(ওয়াজিব- মুস্তাহাব- মুবাহ)
সৎ কাজে আদেশের প্রথম ধাপ:
(গোপনে নসীহত করা- ভুলের ব্যাপারে জানানো- তিনদিন পর্যন্ত তাকে পরিত্যাগ করা)
প্রশ্ন ৩: নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর দাও:
সৎ কাজের আদেশ দানকারীর তিনটি আদব বর্ণনা কর।
ভুলে নিপতিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমিক পদক্ষেপসমূহ লেখ।
প্রথম ইউনিট: আল-কুরআন ও তাফসীর:
১- কুরআনুল কারীমের মর্যাদা:
কুরআনুল কারীম মহান আল্লাহর বাণী।
কুরআনুল কারীমের মু‘জিযা
কুরআনুল কারীম বিশ্ববাসীর জন্য নুর (আলো) ও হিদায়েত (পথনির্দেশ)।
মহান আল্লাহ স্বয়ং কুরআনুল কারীম সংরক্ষণ করেছেন।
কুরআনুল কারীমের ধারকগণ দুনিয়ায় ও আখিরাতে সম্মানিত হবেন।
কুরআনের ধারক হলেন, কুরআনুল কারীমের তিলাওয়াতকারীগণ, এর হাফেযগণ, এর তাফসীর ও উলূমুত তাফসীরের আলেমগণ।
কুরআনুল কারীমের ধারকগণই উম্মতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ট।
কুরআনুল কারীম তার ধারক বাহকদের জন্যে কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে।
২-সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর
সূরা ফাতিহা কুরআনুল কারীমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূরা।
শব্দার্থসমূহ:
আর-রহমান (الرحمن): এমন ব্যাপক অনুগ্রহদাতা, যার রহমত সমস্ত সৃষ্টিকুলকে পরিব্যাপ্ত করে রেখেছে।
আর-রহীম (الرحيم): যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের প্রতি রহমত দানকারী।
ইয়াওমুদ দ্বীন (يوم الدين): কিয়ামত দিবস
আল-মাগদূবি আলাইহিম (المغضوب عليهم): যারা হক চিনেছে; কিন্তু হকের অনুসরণ করেনি, যেমন ইয়াহুদিরা।
আদ-দল্লীন (الضالين): যারা সত্যের ব্যাপারে অজ্ঞতার কারণে পথভ্রষ্ট হয়েছে, যেমন খৃস্টানরা।
২-সূরা আল-ফাতিহার তাফসীর
সূরা ফাতিহার ফযীলতসমূহ:
এ সূরার বৈশিষ্ট্য হল, সালাতে এ সূরা পাঠ করা ওয়াজিব।
এটি আল-কুরআনের সর্বাধিক গুরুত্ব ও ফযীলতপূর্ণ সূরা।
এ সূরার ফযীলত সম্পর্কে হাদীসে এসেছে, ‘আমি সালাতকে (অর্থাৎ এ সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মাঝে দু’ভাগে ভাগ করেছি’।
আয়াতে কারীমাগুলো থেকে কিছু শিক্ষণীয় বিষয়:
কিয়ামত দিবসের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক।কেননা তা প্রতিদান দিবস।
একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো জন্য ইবাদত করা জায়েয নেই।
নবী-রাসূলদের অনুসরণ করা এবং কাফিরদের পথ পরিহার করা ওয়াজিব।
সূরা কাওসার ও কাফিরূনের তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
আল-কাওসার (): দুনিয়া ও আখেরাতের অফুরন্ত কল্যাণ, তার অন্তর্গত হল: জান্নাতের কাওসার নামক নহর।
ওয়ানহার (وانحر): আপনি আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে কুরবানী করুন এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবেন না।
শানিআ’কা (شانئك): আপনার প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণকারীরা।
আল-আবতার (الأبتر): যারা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের নাম-নিশানা ও কল্যাণ থেকে বিচ্ছিন্ন।
আয়াতে কারীমাগুলো থেকে কিছু শিক্ষণীয় বিষয়:
আল্লাহ তা‘আলার কাছে রয়েছে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুমহান মর্যাদা।
তাওহীদে একনিষ্ঠ হওয়া এবং যাবতীয় ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যেই সম্পাদন করা ওয়াজিব।
মুসলিমের উপর ওয়াজিব হল কাফির ও তাদের উপাস্যগুলো থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা।
৪- সূরা আন-নাসর ও সূরা আল-মাসাদ এর তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
তাব্বাত (تبت): ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
হাম্মালাতাল হাতাব (حمالة الحطب): যে নারী কাঁটা ও কষ্টদায়ক জিনিস বহন করে সেগুলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথে রেখে দিতো।
জীদিহা (جيدها): তার ঘাড়ে বা গলায়।
মাসাদ (مسد): মজবুত পাকানো রশি।
আয়াতে কারীমাগুলো থেকে কিছু শিক্ষণীয় বিষয়:
আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ ও তাঁর প্রশংসা করা এবং বার বার তাওবা ও ইসতেগফার করা ওয়াজিব।
আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং নিজে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষে প্রতিরোধ করেন এবং যারা তাঁকে কষ্ট দেয়, তাদের শাস্তি দেন।
যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনেনি ও সৎকর্ম করেনি তার ধন-সম্পদ, এমনকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে আত্মীয়তাও কোন উপকারে আসবে না।
৫- সূরা আল-ইখলাস এবং আল-মু‘আউভিযাতাইনের (নাস ও ফালাকের) তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
আস-সামাদ (الصمد): এমন সাইয়্যেদ যার কাছে বান্দাগণ তাদের সকল প্রয়োজন মিটাতে আশ্রয় গ্রহণ করে।
কুফুওয়ান (كفوًا): সমকক্ষ ও সাদৃশ্য।
আ‘উযু (أعوذ): আমি আশ্রয় চাই এবং আঁকড়ে ধরি।
আল-ফালাক (الفلق): সকালে উপনীত হওয়া ও আলো।
গাসিকিন ইযা ওয়াকাব (غاسق إذا وقب): রাত্রি যখন তার অন্ধকার নিয়ে আগমন করে।
নাফফাসাত (النفاثات): সকল নারী যাদুকর, যারা যাদু করার সময় গিরায় ফুঁ দেয়।
হাসিদ (حاسد): হিংসুক, যে অন্যের নিয়ামত দূর হওয়া কামনা করে।
আল-খাননাস (الخناس): যে আল্লাহ তা`আলার যিকিরের সময় লুকিয়ে যায়।
আল-জিন্নাহ (الجنة): জিন।
আয়াতে কারীমাগুলো থেকে কিছু শিক্ষণীয় বিষয়:
আল্লাহ তা‘আলাই হলেন একমাত্র এমন সত্য মাবূদ, যিনি সকল প্রকার ইবাদত পাওয়ার একমাত্র উপযুক্ত।
একজন মুসলিম যখন আল্লাহর কাছে জিন ও মানুষের ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তখন তিনি তাকে হেফাযত করেন।
যাদু ও হিংসার ক্ষতি বাস্তবিক অর্থেই রয়েছে। মুসলিম আল্লাহকে মজবুতভাবে ধারণ করলে এবং তাঁর উপর তাওয়াক্কুল করলে আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করেন।
দ্বিতীয় ইউনিট: ঈমান ও আত্মশুদ্ধি
১- ঈমান ও তার গুরুত্ব
হাদীসে জিবরীল দ্বীনের তিনটি স্তর অন্তর্ভুক্ত করে:
প্রথম স্তর: ইসলাম। আর এর রুকন হল পাঁচটি:
দ্বিতীয় স্তর হচ্ছে: ঈমান ও এর ছয়টি রুকন:
তৃতীয় স্তর: ইহসান। আর এর দুটি স্তর।
১- আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তার প্রভাব
প্রথম: আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান: আল্লাহর প্রতি ঈমান চারটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। সেগুলো হল:
আল্লাহর অস্তিত্বের প্রতি ঈমান।
আল্লাহ তা‘আলার রুবূবিয়্যাতের(তাঁর একমাত্র রব হওয়া) প্রতি ঈমান।
আল্লাহ তা‘আলার উলূহিয়্যাতের প্রতি ঈমান
আল্লাহ তা‘আলার সুন্দর নাম ও উৎকৃষ্ট সিফাতসমূহের প্রতি ঈমান।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার ওপর ঈমানের প্রভাব:
আল্লাহর প্রতি ঈমান মুমিনের অন্তরকে আল্লাহ তা‘আলার সাথে সম্পৃক্ত রাখে।
আল্লাহর প্রতি ঈমান ব্যক্তির অন্তর থেকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য সকলের ভয় দূরীভূত করে দেয়।
আল্লাহর প্রতি ঈমান মুমিনকে ইবাদত (আল্লাহর হক) ও বান্দার হক আদায়ে অনুপ্রাণিত করে।
২- ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাব
প্রথমত: ফিরিশতা দ্বারা উদ্দেশ্য:
ফিরিশতাগণ (আল্লাহর) বিস্ময়কর মাখলুক। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নূর থেকে সৃষ্টি করেছেন। তারা আল্লাহর নির্দেশ পালন করেন এবং তাঁর নাফরমানী করেন না।
দ্বিতীয়ত: ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনার অর্থ:
ফিরিশতাদের অস্তিত্বের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।
তাদের যেসব নাম আমরা জানতে পেরেছি, সেগুলোর উপর ঈমান আনা।
তাদের যেসব গুণাবলী ও কর্ম সম্পর্কে আমরা জানতে পেরেছি, সেগুলোর ওপর ঈমান আনা।
২- ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাব
তৃতীয়ত: ফিরিশতাদের কার্যাবলী:
অহী নিয়ে জমিনে অবতরণ করা। আর এটি হল জিবরীল ‘আলাইহিস সালামের কাজ।
বান্দাহর আমল লিপিবদ্ধ করা।
রূহ কবয করা। আর এটি হলো মালাকুল মাউত ‘আলাহিস সালামের কাজ।
চতুর্থত: ফিরিশতাদের প্রতি ঈমান আনার প্রভাব:
ফিরিশতাদের অনুসরণ করে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করার ব্যাপারে সর্বাত্মক সচেষ্ট হওয়া।
আমল নিয়ে অহংকার ও গর্ব থেকে দূরে থাকা।
হারাম থেকে বিরত থাকা; প্রথমত আল্লাহর ভয়ে, অতঃপর ফিরিশতাদের থেকে লজ্জাবোধের কারণে।
৩- কিতাব ও রাসূলদের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাবসমূহ
প্রথমত: কিতাবসমূহের ওপর ঈমান:
আর তা হল: মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ তা‘আলা এসব কিতাব মানব জাতির হিদায়েতের জন্য নাযিল করেছেন।
সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব:
তা হল, আল-কুরআনুল কারীম: যা পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে মুক্ত এবং পূর্ববর্তী সমস্ত কিতাবের উপরে তত্ত্বাবধায়ক।
৩- কিতাব ও রাসূলদের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাবসমূহ
দ্বিতীয়ত: রাসূলগণের ওপর ঈমান:
তা হল: এই স্বীকৃতি দেওয়া যে, আল্লাহ তাদেরকে মানব জাতিকে একমাত্র তাঁর ইবাদতের দিতে আহ্বান করার জন্য প্রেরণ করেছেন।
সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল:
সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল হলেন পাঁচজন। তারা হলেন রাসূলগণের মধ্যে দৃঢ় প্রত্যয়ের অধিকারীগণ। তাদের সকলের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলেন আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
৩- কিতাব ও রাসূলদের প্রতি ঈমান এবং তার প্রভাবসমূহ
তৃতীয়ত: কিতাবসমূহ ও রাসূলগণের ওপর ঈমান আনার প্রভাবসমূহ:
আল্লাহ তা‘আলার রহমতের ওপর দৃঢ় বিশ্বাসী হওয়া। যেহেতু তিনি আমাদের হিদায়েতের জন্য রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন এবং কিতাবসমূহ নাযিল করেছেন।
এসব কিতাব সুস্পষ্টভাবে যা বর্ণনা করেছে এবং রাসূলগণ যা ব্যবহারিকভাবে শিক্ষা দিয়েছেন সেগুলোর আলোকে জেনে বুঝে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা।
রাসূলগণের চরিত্র, গুণাবলী ও তাঁদের কর্মসমূহের অনুসরণ করা।
৪- আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমান ও এর প্রভাবসমূহ
প্রথমত: আখিরাত দিবসের ওপর ঈমান আনার অর্থ:
মহান আল্লাহ পরকাল সম্পর্কে যা বলেছেন এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর পরে ঘটিতব্য বিষয় সম্পর্কে যেসব সংবাদ দিয়েছেন, সেগুলোকে বিশ্বাস করা ও স্বীকৃতি দেওয়া।
দ্বিতীয়ত: পরকাল দিবসের স্তরসমূহ:
(কবরের ফিতনা - পুনরুত্থান - হাশর- সুহুফ ও মিযান- পুলসীরাত- জান্নাত ও জাহান্নাম)।
তৃতীয়ত: পরকাল দিবসের ওপর ঈমান আনার প্রভাবসমূহ:
পরকালের বিবেচনায় দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়া থেকে রক্ষা করে।
আনুগত্যের কাজে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং পাপের কাজে লিপ্ত হতে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করে।
দুনিয়াতে মুসলিমের যা কিছু হারাবে, সে ব্যাপারে তার দু:খ থাকবে না। যেহেতু সে পরকালের নিয়ামতের আশা করে।
৫- কাদ্বা ও তাকদীরের ওপর ঈমান ও এর প্রভাবসমূহ
প্রথমত: তাকদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থ:
দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করা যে মহাবিশ্বে ভালো বা মন্দ যা কিছু ঘটে তা সর্বশক্তিমান আল্লাহ যা জেনেছেন, লিখেছেন এবং ইচ্ছা করেছেন তারই প্রতিফলন।
দ্বিতীয়ত: তাকদীরের প্রতি ঈমান এবং উপকরণ গ্রহণ:
তাকদীরের প্রতি ঈমানের সাথে (কর্মের ক্ষেত্রে) সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ও উপকরণ গ্রহণ করা সাংঘর্ষিক নয়।
হাদীস: اعملوا فكلٌ مُيسرٌ لما خلق له “তোমরা কাজ সম্পাদন করতে থাক। কেননা, যাকে যে কাজের উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সেই কাজকে সহজ করে দেয়া হয়।”
তৃতীয়ত: তাকদীরের প্রতি ঈমানের প্রভাবসমূহ:
আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নির্ধারিত ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা ও ধৈর্যধারণ করা এবং ক্রোধ ও উদ্বেগ-অস্থিরতা পরিহার করা।
বিনয়ী হওয়া; কেননা তাকদীরের ওপর ঈমানদার ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস করে যে, সে যে কোন নিয়ামত প্রাপ্ত হয়, তার সবগুলোই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে।
তৃতীয় ইউনিট: সুন্নাহ ও শামাইলে নববী (নবীর চারিত্রিক গুণাবলী)
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয় ও তাঁর উল্লেখযোগ্য গুণাবলী
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয়:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশনামা ও তাঁর নামসমূহ:
তিনি হচ্ছেন: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামের মধ্যে রয়েছে: আহমাদ, আল-হাশির, আল-‘আকিব।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম ও মৃত্যু:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৫৭১ খৃস্টাব্দে হস্তীর বছরে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। আর তিনি সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ১১ হিজরীর ১২ রবিউল আউয়াল মৃত্যুবরণ করেন।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ:
খাদীজা, সাওদা, আয়েশা, হাফসা, যাইনাব বিনতু খুযাইমা, উম্মু সালামা, যায়নব বিনতু জাহাশ, জুওয়াইরিয়্যা, উম্মু হাবীবা, সাফিয়্যা ও মাইমূনা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুন্না।
১- নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচয় ও তাঁর উল্লেখযোগ্য গুণাবলী
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সন্তান ও নিকটাত্মীয়গণ:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের পুত্র সন্তানরা হলেন: কাসিম, আব্দুল্লাহ ও ইবরাহীম রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম।
আর তাঁর কন্যা সন্তানরা হলেন: যাইনাব, রুকাইয়্যা, উম্মু কুলসুম ও ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুন্না।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখযোগ্য আত্মীয়-স্বজন হলেন: হামযা, আব্বাস, ‘আলী ও ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুম।
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৈহিক গুণাবলী:
তিনি ছিলেন ফর্সা বর্ণের, উজ্জল চেহারার, মাঝারি উচ্চতার, প্রশস্ত বুকের ও ঘন দাড়ির অধিকারী।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারিত্রিক গুণাবলী:
বদান্যতা ও বীরত্ব-সহিষ্ণুতা ও কোমলতা- বিনয়- ধৈর্য- মার্জনা ও ক্ষমাশীলতা।
দুনিয়া ও আখিরাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্যাবলী:
দুনিয়াতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীর সকল মানুষের জন্যে প্রেরণ করা হয়েছে-তিনি সর্বশেষ নবী-তাঁকে জাওয়ামে‘উল কালিম তথা সংক্ষিপ্ত; অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে-তাঁর জন্য গোটা পৃথিবীর ভূমি বা মাটিকে পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ এবং মসজিদ করা হয়েছে-শত্রুর মনে ভীতি সঞ্চারের মাধ্যমে তাঁকে সাহায্য করা হয়েছে- এবং তাঁর জন্য গণীমতের (যুদ্ধলব্ধ) অর্থ হালাল করা হয়েছে।
আখিরাতে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যাদা:
কিয়ামতের দিন তিনি হবেন সমস্ত আদম সন্তানদের সরদার- তিনিই প্রথম ব্যক্তি যার কবর সবার আগে খুলে যাবে- তিনি প্রথম সুপারিশকারী ও প্রথম সুপারিশ গৃহীত ব্যক্তি- তিনি সবচেয়ে বড় হাউযে কাউসারের মালিক- এবং তিনি প্রথম ব্যক্তি যার জন্য জান্নাতের দরজা খোলা হবে।
৩- কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের ফযীলত
হাদীসের নস:
বর্ণনাকারী:
তিনি আবূ আব্দুর রহমান আব্দুল্লাহ বিন মাস‘ঊদ আল-হুযালী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু।
শব্দার্থসমূহ:
আলিফ লাম মীম (الم): এগুলো হলো হুরূফে মুকাত্তা‘আত, যার দ্বারা কুরআনুল কারীমের কপিতয় সূরা শুরু করা হয়েছে।
৩- কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের ফযীলত
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান এবং অধিকহারে কুরআন তিলাওয়াত করতে অনুপ্রাণিত করা।
প্রমাণিত যে, সাওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।
অল্প আমলেও অধিক সাওয়াব প্রদান মূলত মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া।
৪- পাপ মোচনকারী আমলসমূহ
হাদীসের নস:
শব্দার্থসমূহ:
মুকাফফারাত (مكفرات): গুনাহসমূহ মাফের কারণ।
আল-কাবায়ের (الكبائر): যেসব বড় গুণাহের কারণে শরী‘আত দুনিয়াতে হদ এবং আখিরাতে শাস্তির ব্যবস্থা করেছে।
বর্ণনাকারী:
আবু হুরায়রা আব্দুর রহমান ইবন সাখর আদ-দাওসী।
৪- পাপ মোচনকারী আমলসমূহ
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
ইবাদতের উপর অবিচলতার ফযীলত।
গুনাহ দু’প্রকার: ছগীরা গুনাহ: যা ভালো আমলের দ্বারা মাফ হয়ে যায়। কবীরাহ গুনাহ: যার জন্য বিশেষ তাওবা অত্যাবশ্যকীয়।
কবীরাহ গুনাহে পতিত হওয়ার ভয়াবহতা।
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারণা পোষণ
হাদীসের নস:
মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন (হাদিসে কুদসী): «أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ حِينَ يَذْكُرُنِي، إِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَأ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَأ هُمْ خَيْرٌ مِنْهُمْ، وَإِنْ تَقَرَّبَ مِنِّي شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ مِنْهُ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً» আমি সেরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে, আমিও তাকে মনে মনে স্মরণ করি। আর যদি সে লোক-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে, তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। আর যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দুহাত অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই।”
শব্দার্থসমূহ:
باعًا (দুই হাত): মানুষের দুহাতের সমান দূরত্ব।
هرولة (দৌঁড়ে আসা): দ্রুত গতিতে দৌড়ে আসা।
বর্ণনাকারী:
আবু হুরায়রা আব্দুর রহমান ইবন সাখর আদ-দাওসী।
৫- আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারণা পোষণ
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি সুধারণা পোষণ করার গুরুত্ব বর্ণনা এবং তাঁর ইবাদত ও নৈকট্যের কাজে এগিয়ে আসা।
গোপনে এবং প্রকাশ্যে আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করা উত্তম ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
কাজের ধরণ অনুযায়ী বিনিময় হয়ে থাকে।
৬- সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দিবেন
হাদীসের নস:
«سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ: الْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَشَابٌّ نَشَأَ بِعِبَادَةِ اللهِ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ، وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ، فَقَالَ: إِنِّي أَخَافُ اللهَ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ» “সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা এমন একদিন (কিয়ামতের দিন) তাঁর ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন, যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া অবশিষ্ট থাকবে না। (১) ন্যায়পরায়ণ ইমাম (জনগণের নেতা), (২) ঐ যুবক, যে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতে মশগুল থেকে বড় হয়েছে, (৩) সে ব্যক্তি, যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে রয়েছে (অর্থাৎ জামা’আতের সাথে সালাত আদায়ে যত্নবান), (৪) সে দু’ব্যক্তি, যারা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালোবাসে; এ জন্যই পরস্পর মিলিত হয় এবং (পরস্পর) বিচ্ছিন্ন হয়, (৫) যে ব্যক্তিকে কোন অভিজাত এবং সুন্দরী রমণী (ব্যভিচারের জন্য) আহ্বান জানায় আর তার জবাবে সে বলে, আমি আল্লাহকে ভয় করি, (৬) যে ব্যক্তি এতটা গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত কী দান করে তা তার বাম হাত টের পায় না এবং (৭) যে ব্যক্তি একাকী বসে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তার চোখ দু’টো (আল্লাহর ভয় বা ভালোবাসায়) অশ্রুপাত করে।”
শব্দার্থসমূহ:
دعته (তাকে আহ্বান করেছে): তাকে যিনার জন্য ডেকেছে।
خالياً (নির্জনে): লোকালয় থেকে দূরে, নির্জনে।
৬- সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর ছায়ায় আশ্রয় দিবেন
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
ন্যায়পরায়ণতা, পুতঃপবিত্রতা, ইখলাস এবং অন্তরকে একমাত্র এক আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত রাখা মুমিনদের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।
আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাউকে ভালোবাসা দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্য লাভের উপায়।
হারাম প্রবৃত্তি থেকে দূরে থাকলে পরকালে রয়েছে এর মহা প্রতিদান।
চতুর্থ ইউনিট: বিধিবিধান বিষয়ক ফিকহ:
১- পবিত্রতা ও অযুর বিবরণ
পবিত্রতা অর্জন সালাত শুদ্ধ হওয়ার একটি শর্ত।
পবিত্রতা দুই প্রকার:
শরীর, কাপড় ও জায়গার পবিত্রতা।
বড় ও ছোট উভয় ধরণের হাদাছ (নাপাকী) থেকে পবিত্রতা অর্জন।
পবিত্রতার ফযীলত:
পবিত্রতা আল্লাহ কর্তৃক বান্দাকে ভালবাসার কারণ।
পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।
অযু গুনাহ মাফের কারণ।
১- পবিত্রতা ও অযুর বিবরণ
অযুর বিবরণ:
মুসলিম অন্তরে অযুর নিয়াত করবে-উভয় হাতের কব্জিদ্বয় তিনবার করে ধৌত করবে-তিনবার গড়গড়াসহ কুলি করবে ও নাক পানি দিবে-মুখমণ্ডল তিনবার ধৌত করবে-তারপর দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার করে ধৌত করবে-একবার মাথা মাসেহ করবে, মাথা মাসেহের সাথে সাথে কানদ্বয় মাসেহ করবে-তারপর টাখনু পর্যন্ত দুই পা তিনবার করে ধৌত করবে। অতঃপর অযু শেষে বলবে:
(أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله، وأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُ اللهِ وَرَسُولُهُ). “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।”
২- দেয়ালের উপর মাসাহ ও তায়াম্মুম করা
প্রথমত: তায়াম্মুম
তায়াম্মুম হল. পবিত্রতা অর্জনের নিয়তে পবিত্র মাটি দ্বারা মুখ ও দু হাতের কব্জি মাসাহ করা।
যেসব অবস্থায় তায়াম্মুম করা জায়েয:
তায়াম্মুমের পদ্ধতি:
২- দেয়ালের উপর মাসেহ ও তায়াম্মুম করা
দ্বিতীয়: মোজার উপর মাসাহ করা
খুফ: চামড়া ও চামড়া সদৃশ যা পায়ে পরিধান করা হয়।
মোজার উপর মাসাহ করার শর্তাবলী:
মোজার উপর মাসাহ করার পদ্ধতি:
২- দেয়ালের উপর মাসাহ ও তায়াম্মুম করা
তৃতীয়: ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ
ব্যান্ডেজ হল: শরীরের ভাঙ্গা ও ক্ষতস্থানে আরোগ্য লাভের জন্য প্লাস্টার, পট্টি ও এ জাতীয়স যা কিছু পেঁচানো হয়।
মুসলিম তার প্রয়োজন অনুসারে ব্যান্ডেজের উপরে মাসাহ করবে।
ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করার ক্ষেত্রে মোজার ন্যায় পবিত্র অবস্থায় পরিধান করা শর্ত নয়।
ব্যান্ডেজের উপর মাসাহ করার কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
৩- গোসল
গোসলের দ্বারা উদ্দেশ্য:
গোসল হল: পবিত্রতার নিয়তে শরীরের সমস্ত অঙ্গে পানি ব্যবহার করা।
যেসব অবস্থায় গোসল করা ওয়াজিব:
যেসব আমলের জন্য গোসল করা ওয়াজিব:
গোসল করার পদ্ধতি:
৪- সালাতের মর্যাদা
সালাত দ্বীনের স্তম্ভ।
সালাত ইসলামের আলামত।
তাওহীদের পরে প্রথম ফরযকৃত ইবাদত।
সালাত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের শেষ ওয়াসিয়াত।
কিয়ামতের দিন বান্দার থেকে সর্বপ্রথম সালাতের হিসাব নেওয়া হবে।
আল্লাহ তা‘আলা এর দ্বারা গুনাহ ও ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন।
৫- সালাতের পদ্ধতি
সালাতের পদ্ধতি:
পবিত্রতা অর্জন, সতর ঢাকা, ক্বিবলার দিকে মুখ ফিরানো।
সালাতের নিয়াত করা, দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা, তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাত পড়া।
রুকু করা ও রুকু থেকে উঠা।
দুটি সিজদা দেওয়া ও তার মাঝে বসা।
দ্বিতীয় রাক‘আত সমাপ্ত হলে তাশাহহুদের জন্য বসা ও তাশাহহুদ পড়া।
শেষ রাকাতের পর বসা এবং দরূদে ইবরাহীম পড়া।
সালাম ফিরানো।
সালাতের প্রতিটি কাজ ধীরস্থিরতার সাথে করা।
পঞ্চম ইউনিট: নৈতিকতা
১- পানাহারের শিষ্টাচার
প্রথমত: যেসব শিষ্টাচার পালন করা শরীয়া অনুমোদিত:
পানাহারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা।
ডান হাতে পানাহার করা।
তোমার সামনের অংশের খাবার খাওয়া।
পানাহারের পরে মহান আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করা।
দ্বিতীয়ত: পানাহারের ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ কাজসমূহ:
হেলান দিয়ে খাদ্য গ্রহণ করা।
অপচয় ও অতিরিক্ত ভোজন করা।
গরম খাবারে ফুঁ দেওয়া।
পান করার সময় পানিতে নি:শ্বাস ফেলা।
২- অনুমতি চাওয়ার আদবসমূহ:
অনুমতি চাওয়ার হুকুম:
অনুমতি চাওয়ার হিকমত:
অনুমতি চাওয়ার আদব:
প্রথমে সালাম দেওয়া অতঃপর ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাওয়া।
অনুমতি প্রার্থী নাম উল্লেখ করে অনুমতি চাইবে এবং দরজার ডান বা বাম পাশে দাঁড়াবে
২- অনুমতি চাওয়ার আদবসমূহ:
গৃহের অভ্যন্তরে অনুমতি চাওয়া:
অনুমতি চাওয়ার সময়: ফজরের আগে, দুপুরের সময় এবং ইশার সালাতের পর।
৩- কথাবার্তা ও মজলিসের শিষ্টাচার
প্রথমত: কথাবার্তার শিষ্টাচার:
সালাম দিয়ে কথাবার্তা শুরু করা।
উত্তম কথা ব্যতীত অন্য কিছু না বলা। মিথ্যা, গীবত, পরচর্চা, অশ্লীল কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা।
অনর্থক কথাবার্তা বলা বর্জন করা।
তিন ব্যক্তি একত্রে থাকলে তৃতীয় জনকে বাদ দিয়ে দুজনের মধ্যে গোপনে কথা বলা জায়েয নেই।
মজলিসের আদব:
মজলিসে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার সময় সালাম দেওয়া।
যেখানে মজলিসের লোকজনের বসা শেষ হয়, সেখানেই বসে পড়া।
অন্যদের বসার জন্যে মজলিসে জায়গা করে দেওয়া।
নেককারদের সাথে উঠাবসা করা।
নিষিদ্ধ বিনোদন ও গুনাহের মজলিস বর্জন করা।
মজলিসের কাফফারার দোয়া পড়া।
৪- পেশাব-পায়খানার আদবসমূহ:
প্রথমত: পেশাব-পায়খানার শুরুতে আদবসমূহ:
বাম পা দিয়ে টয়লেটে প্রবেশ করা।
দ্বিতীয়: পেশাব পায়খানা করা অবস্থায় আদবসমূহ:
মানুষের চক্ষুর আড়ালে পেশাব পায়খানা করা।
মানুষ চলাচলের রাস্তায় বা ছায়ায় পেশাব পায়খানা করা থেকে বিরত থাকা।
পেশাব পায়খানা করার সময় কিবলার দিকে মুখ বা পিঠ করা থেকে বিরত থাকা।
৪- পেশাব-পায়খানার আদবসমূহ:
তৃতীয়: পেশাব পায়খানা করার পরের আদবসমূহ:
পেশাব পায়খানা করার পরে জায়গাটি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা।
দুহাত উত্তমরূপে ধৌত করা।
ডান পা দিয়ে বাথরুম থেকে বের হওয়া।
বের হয়ে غفرانك (গুফরা-নাকা) বলা, যার অর্থ: “আপনার ক্ষমা (চাই)।”
প্রথম ইউনিট: আল-কুরআন ও তাফসীর
১- আল-কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের আদব
কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের ফযীলত:
কুরআনুল কারীম তিলাওয়াতের কতিপয় আদব:
আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ থাকা।
শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া।
কুরআন কারীমের অর্থসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা।
তাজবীদের বিধান প্রয়োগ করা।
সুন্দর কন্ঠে কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত করা।
২- মুসহাফ শরীফ ও তার সাথে আচরণ বিধি
মুসহাফের পরিচয়:
আর মুসহাফ হচ্ছে এমন একটি কিতাব যা কুরআন কারীমকে ধারণ করে।
এতে ১১৪টি সূরা রয়েছে। যা সূরা আল-ফাতিহা দ্বারা শুরু হয়ে সূরা আন-নাস দ্বারা সমাপ্ত হয়েছে।
মুসহাফকে সম্মান করা আবশ্যক:
মুসহাফের সম্মান করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ওয়াজিব।
মুসহাফকে অসম্মান করা আল্লাহর তা‘আলার সাথে কুফুরী করা।
২- মুসহাফ শরীফ ও তার সাথে আচরণ বিধি
মুসহাফের সাথে আচরণ বিধিসমূহ:
মুসহাফকে রক্ষা করা, পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নষ্ট হওয়ার দিকে ঠেলে না দেওয়া।
পবিত্রতা ব্যতীত মুসহাফ স্পর্শ না করা।
মুসহাফকে অসম্মান করা হারাম।
৩- আয়াতুল কুরসীর তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
আল-কাইয়্যূম (القيوم): যিনি তাঁর সৃষ্টিজগতের সকল বিষয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
আস-সিনাহ (السِّنَة): হালকা ঘূম।
ইয়া‘ঊদুহু (يؤوده): তাকে অক্ষম করে।
আয়াতে কারীমার কিছু শিক্ষা:
আয়াতুল কুরসী হচ্ছে ফযীলতের দিক থেকে কুরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত।
এ আয়াতটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলার সকল পূর্ণতার গুণে গুণান্বিত হওয়া ও যে কোন ধরণের ঘাটতি অথবা ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া প্রমাণ করে।
কুরসী হচ্ছে বৃহৎ একটি মাখলূক, যা আসমান ও জমিনসমূহকে পরিব্যপ্ত করে রেখেছে।
৪- সূরা আল-তাকাসুর এবং আল-আসরের তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
আল-হাকুম (ألهاكم): তোমাদেরকে ব্যস্ত করে রেখেছে।
আত-তাকাসুর (التكاثر): ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি নিয়ে পারষ্পারিক গর্ববোধ করা।
ঝুরতুম (زرتم): তোমরা মারা যাবে এবং তোমাদের কবরে প্রবেশ করবে।
আয়াতে কারীমার কিছু শিক্ষা:
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে কিয়ামাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন।
কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তা‘আলা মানুষদের থেকে সেসব নিয়ামতের হিসাব গ্রহণ করবেন যেসব নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা হয়নি।
প্রতিটি মানুষই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে, তবে যে ব্যক্তি নিম্নোক্ত চারটি কাজ করেছে, সে ব্যতীত। (সেগুলো হলো: আল্লাহ তা‘আলার উপরে ঈমান- সৎকাজ করা- আল্লাহর পথে আহ্বান করা- ও ধৈর্যধারণ করা)।
৫- সূরা আল-হুমাযাহ এবং আল-ফীল এর তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
হুমাযাহ লুমাযাহ (هُمَزة لُمَزة): মানুষের (সম্মুখে) নিন্দা করে ও (পশ্চাতে) গিবত করে।
লায়ুমবাযান্না (ليُنبذن): অবশ্যই নিক্ষিপ্ত হবে।
হুতামাহ (الحطمة): যে আগুন তার মধ্যে নিক্ষিপ্ত সব কিছুকে পিষে ফেলে।
মু’সাদাহ (مؤصدة): (তালা) বদ্ধ।
তাইরান আবাবীল (طيرًا أبابيل): ধারাবাহিক ভাবে প্রেরিত ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি।
সিজ্জীল (سجيل): শক্ত মাটির কঙ্কর।
কা‘আসফ্ (كعصف): শুকনো ক্ষেতের এমন পাতা, যা পশু খাওয়ার পর উগড়ে ফেলে দিয়েছে।
৫- সূরা আল-হুমাযাহ এবং আল-ফীল এর তাফসীর
আয়াতে কারীমার কিছু শিক্ষা:
গীবত, চোগলখোরী এবং তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা মানুষের মধ্যে ঘৃণার প্রসার ঘটায়।
নিকৃষ্ট চরিত্র আখিরাতে শাস্তির কারণ।
যারা আল্লাহ তা‘আলার পবিত্রতা লঙ্ঘন করে তাদের ধ্বংস করার জন্য আল্লাহ তা‘আলার ক্ষমতা।
৬- সূরা কুরাইশ এবং সূরা আল-মা‘ঊন এর তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
লিইলাফি কুরাইশ (لإيلاف قريش): তাদের অভ্যাস এবং আসক্তির কারণে।
ইয়াদু‘য়ু (يدع): রূঢ়ভাবে ও অপমান করে তাড়িয়ে দেয়।
ইউরাঊনা (يراءون): তারা তাদের ভাল কাজগুলো লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে প্রকাশ করে।
আল-মা‘ঊন (الماعون): মানুষের প্রয়োজনীয় তৈজসপত্র ও অনুরূপ জিনিস।
আয়াতে কারীমার কিছু শিক্ষা:
নিরাপত্তা এবং খাদ্য-পানীয়ের পর্যাপ্ততা আল্লাহ তা‘আলার সর্বোত্তম নিয়ামতগুলোর মধ্যে অন্যতম।
আখিরাতকে অস্বীকারকারী আল্লাহ তা‘আলার হক আদায় করে না এবং বান্দার হকও আদায় করে না।
লৌকিকতা ও বিলম্বে সালাত আদায় করার ভয়াবহতা।
দ্বিতীয় ইউনিট: ঈমান ও আত্মশুদ্ধি
১- তাওহীদের ফযীলত ও মর্যাদা
প্রথমত: তাওহীদের পরিচয়:
তাওহীদ হচ্ছে: রুবুবিয়্যাত, উলূহিয়্যাত এবং আসমা ওয়াস সিফাত থেকে যা তাঁর সাথে নির্দিষ্ট করা হয়েছে তাতে আল্লাহ তাআলাকে একক জানা।
দ্বিতীয়ত: তাওহীদের ফযীলত ও মর্যাদা:
তাওহীদ হচ্ছে বান্দার ওপর আল্লাহর হক।
তাওহীদই হচ্ছে সেই উদ্দেশ্য, যার জন্য আল্লাহ তা‘আলা সৃষ্টিজগতকে সৃষ্টি করেছেন।
তাওহীদের দাও‘আত দেওয়াই সমস্ত রাসূল প্রেরণের উদ্দেশ্য।
তাওহীদ আমল কবুলের শর্ত।
তাওহীদ গুনাহ মাফের কারণ।
২- তাওহীদুর রুবূবিয়্যাহ
প্রথমত: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাতের পরিচয়:
তা হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার সাথে খাস কাজসমূহে তাকে একক জানা। যেমন: সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া এবং পরিচালনা করা ইত্যাদি।
দ্বিতীয়ত: রুবুবিয়্যাতের উপরে ঈমান বাস্তবায়নের পদ্ধতি:
আমরা ঈমান আনয়ন করবো যে, আল্লাহ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিজের জন্যে নির্দিষ্ট করেছেন:
সৃষ্টি করা এবং রিযিক দেওয়া-মালিকানা (রাজত্ব) এবং পরিচালনা-উপকার এবং ক্ষতি-জীবন ও মৃত্যুদান।
তৃতীয়ত: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত বিরোধী কতিপয় কর্মকাণ্ড:
আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্ব অস্বীকার করা।
ইলমুল গায়েবের দাবী করা।
আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কেউ সৃষ্টিজগত পরিচালনা করে বলে দাবী করা, যেমন রিযিকের ব্যবস্থা অথবা কারো উপকার ও ক্ষতি করতে পারা।
৩- তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ
প্রথমত: তাওহীদুল উলূহিয়্যাত- এর পরিচয়:
তা হচ্ছে: সকল প্রকার ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলাকে একক গণ্য করা। ইবাদতগুলো হল:
অন্তরের ইবাদত- মৌখিক ইবাদত-শারীরিক ইবাদত।
দ্বিতীয়ত: তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত ও তাওহীদুল উলূহিয়্যাতের মধ্যে সম্পর্ক:
তাওহীদুর রুবুবিয়্যাত তাওহীদুল উলূহিয়্যাতকে আবশ্যক করে।
শুধুমাত্র রুবুবিয়্যাতের স্বীকৃতি দেওয়া তাওহীদুল উলূহিয়্যাতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয়।
৩- তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ
তৃতীয়ত: তাওহীদুল উলূহিয়্যাতের বিরোধী কতিপয় কর্মকাণ্ড:
আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারো উদ্দেশ্যে ইবাদত করা।
আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্য কারো কাছে দোয়া করা।
আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে মানত অথবা যবাই করা।
৪- তাওহীদুল আসমা ও সিফাত
প্রথমত: তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাতের অর্থ:
তা হচ্ছে: কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহ-তে বর্ণিত আল্লাহ তা‘আলার পবিত্র নামসমূহ এবং গুণাবলীর উপরে ঈমান আনা।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ:
তা হল: এমন নামসমূহ, যা দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা নিজেই তাঁর নিজেকে বিশেষায়িত করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলার নামসমূহ তাঁর সিফাতের উপরে প্রমাণ করে। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার প্রতিটি নামই তার অর্থবোধক সিফাতকে শামিল করে।
তৃতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার সিফাতসমূহ:
এগুলো হচ্ছে এমন সিফাতসমূহ, যেগুলো আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন। আর তা পূর্ণতার প্রমাণ বহন করে। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার জন্য সে সিফাতগুলো সাব্যস্ত করা আবশ্যক।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নিজের থেকে যাবতীয় ত্রুটি বা ঘাটতির সিফাতকে নাকচ করেছেন; যেমন: ঘুম, যুলুম, ইত্যাদি।
৫- ইবাদত এবং এর প্রকারভেদ
প্রথমত: ইবাদতের পরিচয়:
ইবাদত হচ্ছে: প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য ঐ সমস্ত কথা ও কাজ যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন এবং তাতে সন্তুষ্ট হোন।
দ্বিতীয়ত: ইবাদতের প্রকারভেদ:
অভ্যন্তরীণ ইবাদত: এগুলো হল হৃদয়ের ইবাদত। যেমন: ভালবাসা, ভয়, আশা, ইত্যাদি।
প্রকাশ্য ইবাদত: আর তা তিন প্রকার:
মৌখিক ইবাদত-কর্মগত ইবাদত-আর্থিক ইবাদত।
৫- ইবাদত এবং এর প্রকারভেদ
তৃতীয়ত: ইবাদতের গুরুত্ব:
ইবাদতই হচ্ছে মানুষ সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য।
ইবাদত নবী-রাসূলদের প্রেরণ উদ্দেশ্য।
চতুর্থত: ইবাদতের ফলাফল:
ইবাদত হচ্ছে দুনিয়া এবং আখিরাতে সৌভাগ্যের কারণ।
৬- ইবাদতের শর্ত ও রুকনসমূহ
প্রথমত: ইবাদতের শর্তসমূহ:
প্রথম শর্ত: ইখলাস:
তা হল: বান্দা তার অন্তর দিয়ে সকল কাজ ও কথায় আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি কামনা করবে।
দ্বিতীয় শর্ত: আনুগত্য:
এটির বাস্তবায়ন হবে এভাবে যে, বান্দা তাঁর রবের ইবাদত করবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী।
৬- ইবাদতের শর্ত ও রুকনসমূহ
দ্বিতীয়ত: ইবাদতের রুকনসমূহ:
প্রথম রুকন: আল্লাহ তা‘আলার মুহাব্বাত।
দ্বিতীয় রুকন: আশা।
তৃতীয় রুকন: ভয়।
৭- ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাস
প্রথমত: ঈমানের বৃদ্ধি ও হ্রাসের দলীলসমূহ:
দ্বিতীয়ত: যেসব কাজে ঈমান বাড়ে:
আল্লাহ তা‘আলাকে জানা ও তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।
আল্লাহ তা‘আলার ভালবাসা।
উত্তম চরিত্র
তৃতীয়ত: যেসব কাজে ঈমান হ্রাস পায়:
প্রতিটি পাপাচার ঈমানের হ্রাস ঘটায়। কবীরা গুণাহের কারণে এ হ্রাস আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে।
চতুর্থত: ঈমানদারদের মর্যাদাগত পার্থক্য:
মুমিনদের মধ্যে তাদের আমল ও আল্লাহ তা‘আলার প্রতি তাদের ইখলাসের তারতম্য অনুযায়ী তাদের ঈমানের মর্যাদাগত পার্থক্য হয়।
তৃতীয় ইউনিট: সুন্নাহ ও শামাইলে নববী
১- নিকটাত্মীয়দের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
প্রথমত: মুসলিম নিকটাত্মীয়দের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ:
নিকটাত্মীয়দেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সম্মান করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের আনন্দে আনন্দিত হওয়া এবং দুঃখে দুঃখিত হওয়া।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদের সন্তানদের খেয়াল রাখা।
দ্বিতীয়: অমুসলিম নিকটাত্মীয়দের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ:
তাদের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহী থাকা।
তাদের দেওয়া কষ্টে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সবর করা।
তাদের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগ্রহ এবং তাদের জন্য দোয়া করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা।
২- প্রতিবেশীর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম আচরণ করা।
প্রতিবেশীদের সাহায্য করা এবং তাদের কল্যাণ কামনা করা।
প্রতিবেশীদের সুখে-দুঃখে শরীক হওয়া।
প্রতিবেশীর দেওয়া কষ্ট সহ্য করা।
প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া।
৩- ছোটদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
প্রথমত: জন্ম থেকেই তাদের প্রতি গুরুত্বারোপ:
নবজাতকের কানে আযান দেওয়া।
বাচ্চাদের তাহনীক করা। (১)
ছোট বাচ্চাদের রুকিয়্যাহ করা এবং শয়তান থেকে তাদেরকে হিফাযতের জন্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশ্রয় চাওয়া।
দ্বিতীয়ত: অনুগ্রহ, নম্রতা এবং স্নেহ সহকারে তাদের সাথে ব্যবহার করা:
ছোটদেরকে কোলে নেওয়া।
তাদের সাথে খেলাধুলায় অংশ নেওয়া।
তাদের সাথে একত্রে খাবার খাওয়া এবং তাদেরকে খাবারের আদব শিক্ষা দেওয়া।
বাচ্চাদেরকে স্নেহ করা এবং তাদের অধিকার সংরক্ষণ করা।
৩- ছোটদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
তৃতীয়ত: তাদের লালন-পালন ও শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ:
তাদেরকে লেখা-পড়া শিক্ষা দেওয়া।
তাদেরকে সঠিক আকীদা শিক্ষা দেওয়া।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদেরকে ইবাদত ও নৈতিকতায় অভ্যস্ত করানোর ব্যাপারে নির্দেশ প্রদান।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক তাদেরকে কাফিরদের সাথে সাদৃশ্য রাখাতে নিষেধাজ্ঞা প্রদান।
৪- অমুসলিমদের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আচরণ
প্রথমত:দ্বীন গ্রহণে জবরদস্তি না করা:
দ্বিতীয়ত: সর্বোত্তম উপায়ে তাদেরকে ইসলামের দিকে দাও‘আত দেওয়া:
তৃতীয়ত: তাদের সাথে উত্তম আচরণ করা:
চতুর্থত: তাদের ব্যাপারে ন্যায়-বিচার নিশ্চিত করা এবং তাদের উপর যুলুম করাকে হারাম ঘোষণা করা:
পঞ্চমত: তাদের ব্যক্তিগত অধিকার আদায় করা:
৫- মুসলিমদের অধিকার
হাদীসের নস:
শব্দার্থসমূহ:
‘ইয়াদাহ (عيادة): দেখতে যাওয়া।
তাশমীতুল ‘আতিস (تشميت العاطس): হাঁচিদাতার জন্য এ বলে দোয়া করা: يَرْحَمَكُمُ اللهُ (আল্লাহ আপনার প্রতি রহমত করুন)।
বর্ণনাকারী:
আবু হুরায়রা, তার নাম আব্দুর রহমান ইবন সাখর আদ-দাওসী।
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
৫- মুসলিমদের অধিকার
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
শারী‘আত কর্তৃক মুসলিমদের অধিকারের প্রতি গুরুত্বারোপ।
মুসলিমদের অন্তরকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করতে পারে এমন বিষয়সমূহে ইসলামের গুরুত্বারোপ।
এ পাঁচটি বিষয় ইসলামী ভ্রাতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার।
৬- আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার ফযীলত
হাদীসের নস:
«مَنْ أَحَبَّ أَنْ يبْسَطَ لَه فِّي رِزْقهِ وَ ينْسَأَ لَه فِّي أَثَرِهِ، فَلْيَصِلْ رَحِّمَه». “যে ব্যক্তি চায় যে, তার রিযক প্রশস্ত করা হোক এবং আয়ু বর্ধিত করা হোক, সে যেন তার আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখে।”
শব্দার্থসমূহ:
ইয়ানসা’ (ينسأ): দীর্ঘ করা হবে অথবা বরকত দেওয়া হবে।
আসারুহ (أثره): তার বয়স।
বর্ণনাকারী:
আনাস ইবন মালিক আল-আনসারী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু।
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
৬- আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখার ফযীলত
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে উৎসাহ দেওয়া।
সামাজিক জীবনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ইসলামের গুরুত্বারোপ।
আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ব্যক্তির বয়স বৃদ্ধি, রিযিক প্রশস্ত হওয়া এবং উত্তম প্রশংসা পাওয়ার উপায়।
৭- স্নেহ এবং সম্মান
হাদীসের নস:
«مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا، وَيَعْرِفْ حَقَّ كَبِيرِنَا فَلَيْسَ مِنَّا». “যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদের প্রতি স্নেহ করে না এবং আমাদের বড়দের সম্মান জানে না সে আমার দলভুক্ত নয়।”
শব্দার্থসমূহ:
লাইছা মিন্না (ليس منا): সে আমাদের সুন্নাতের অনুসারী নয়।
বর্ণনাকারী:
আব্দুল্লাহ ইবন আমর ইবন ‘আস আল-কুরাশী।
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
৭- স্নেহ এবং সম্মান
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
দয়ার গুরুত্ব, বিশেষ করে ছোটদের প্রতি।
বয়সে বড় ও সম্মানিত মানুষদের সম্মান এবং মর্যাদা দেওয়া।
স্নেহ ও সম্মান মুসলিম সমাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত।
৮- প্রতিবেশী এবং মেহমানকে সম্মান করা
হাদীসের নস:
«مَنْ كانْ يؤْمنْ باللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقلْ خَيْرًا أَوْ ليصْمتْ، وَمَنْ كَانَ يؤْمن باللهِ وَالْيَوْمِ ا لْآخرِ فَلْيكْرِمْ جَاره، وَمَنْ كَانَ يؤْمن باللهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيكْرمْ ضَيْفَه». “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে সে যেন উত্তম কথা বলে, অথবা চুপ থাকে। যে আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে । যে লোক আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে।”
শব্দার্থসমূহ:
লিইয়াসমুত (ليصمت): সে যেন চুপ থাকে।
ফালইয়ুকরিম জারাহু (فليكرم جاره): যেন তার সাথে ভাল আচরণ করে।
বর্ণনাকারী:
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
৮- প্রতিবেশী এবং মেহমানকে সম্মান করা
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
উত্তম কথা বলতে এবং অনর্থক ও মিথ্যা কথা পরিহার করতে উৎসাহ দেওয়া।
প্রতিবেশীদের সাথে উত্তম আচরণ করা ঈমানের পরিপূর্ণতার পরিচায়ক।
মেহমানদের আতিথেয়তার ফযীলত।
৯- মধ্যমপন্থা এবং পরিমিত হওয়া
হাদীসের নস:
সালমান আল-ফারিসী রদিয়াল্লাহু আনহু আবুদ দারদা রদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছিলেন: «إنَّ لِربّكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَلِنَفْسِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، وَلِأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا، فَأعْطِ كلَّ ذِي حَقٍ حَقَّه »، فقال النَّبِّيُ : «صَدَقَ سَلْمَان». আপনার উপরে আপনার রবের হক (অধিকার) রয়েছে, আপনার নিজের উপরে নিজের হক রয়েছে, আপনার উপরে আপনার পরিবারের হক রয়েছে। সুতরাং প্রত্যেককে তার হক বুঝিয়ে দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “সালমান সত্য বলেছে।”
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
উপকারিতা এবং দিক-নির্দেশনা:
প্রতিটি হকদারকে তার হক প্রদান করা। কোন হকের ক্ষেত্রে ঘাটতি না করা।
সাধ্যাতীত ইবাদত করে নিজেকে কষ্ট না দেওয়া।
ইসলাম মানব প্রকৃতি এবং তার আধ্যাত্মিক ও শারীরিক চাহিদার ব্যাপারে খেয়াল রাখে।
চতুর্থ ইউনিট: বিধিবিধান বিষয়ক ফিকহ:
১- অযুর বিধিবিধান
প্রথমত: অযুর ফরয ছয়টি:
মুখমণ্ডল ধৌত করা, এর অন্তর্ভুক্ত হল, কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া।
দুই হাত কনুইসহ ধোয়া।
সমস্ত মাথা মাসাহ করা।
দুই পা টাখনুসহ ধোয়া।
ধারাবাহিকতা রক্ষা করা।
অবিচ্ছন্নতা রক্ষা করা অর্থাৎ এক অঙ্গ ধুয়ে অন্য অঙ্গ ধৌত করতে বিলম্ব না করা।
১- অযুর বিধিবিধান
দ্বিতীয়ত: অযুর সুন্নাতসমূহ
অযুর শুরুতে দুই হাত কব্জিসহ তিনবার ধোয়া।
মুখমণ্ডল ধৌত করার আগে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া। সিয়ামপালনকারী ব্যতীত অন্যদের জন্য উভয়টি ভালভাবে আদায় করা।
মিসওয়াক করা।
প্রতিটি অঙ্গ তিনবার ধোয়া।
ডান দিক থেকে শুরু করা।
১- অযুর বিধিবিধান
তৃতীয়ত: অযু ভঙ্গের কারণসমূহ
(প্রসাব ও পায়খানার) দুটি রাস্তা দিয়ে কোন কিছু বের হওয়া।(১)
কোন আবরণ ছাড়া যৌনাঙ্গ স্পর্শ করা।
অজ্ঞান হওয়া।
উটের গোস্ত খাওয়া।
২- সালাতের শর্তসমূহ
সালাতের শর্তসমূহ:
আল-ইসলাম
বিবেক (আকল) থাকা।
বড় ও ছোট উভয় ধরণের হাদাছ (নাপাকী) থেকে পবিত্র হওয়া।
শরীর, কাপড় ও জায়গা পবিত্র হওয়া।
সালাতের ওয়াক্ত হওয়া।
সতর ঢাকা।
কিবলামুখী হওয়া।
নিয়ত করা।
৩- সালাতের রুকন এবং ওয়াজিবসমূহ
প্রথমত: সালাতের রুকনসমূহ:
১- ফরয সালাত দাঁড়িয়ে আদায় করা।
২- তাকবীরে তাহরীমা বলা।
৩- সূরা ফাতিহা পড়া।
৪- রুকু করা।
৫- রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো।
৬- সিজদা করা।
৭- সিজদা হতে সোজা হওয়া।
৮- দুই সিজদার মাঝে বসা।
৩- সালাতের রুকন এবং ওয়াজিবসমূহ
প্রথমত: সালাতের রুকনসমূহ:
তাশাহহুদের জন্য শেষ বৈঠকে বসা।
শেষ তাশাহহুদ পাঠ করা।
১১- শেষ বৈঠকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে দরুদ পাঠ করা।
১২- রুকনগুলোর ধারাবাহিকতা ঠিক রাখা।
১৩- সালাম ফিরানো।
১৪- প্রতিটি রুকন ধীরস্থিরতার সাথে আদায় করা।
৩- সালাতের রুকন এবং ওয়াজিবসমূহ
দ্বিতীয়ত: সালাতের ওয়াজিবসমূহ:
তাকবীরে তাহরীমা ব্যতীত সকল তাকবীর।
রুকুতে “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আযীম” (سبحان ربي العظيم) বলা।
সিজদাতে “সুবহানা রব্বিয়াল ‘আলা” (سبحان ربي الأعلى) বলা।
ইমাম এবং একাকী সালাত আদায়কারীর রুকু থেকে উঠার সময় সামি‘আল্লাহু লিমান হামিদাহ (سمع الله لمن حمده) বলা।
রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর সময়ে ‘রব্বানা- ওয়ালাকাল হামদ’ (ربنا ولك الحمد) বলা।
দুই সিজদার মাঝখানে “রব্বিগফিরলী” (رب اغفر لي) বলা।
প্রথম তাশাহহুদ পাঠ করা এবং এর জন্য বসা।
৪- সালাতের সুন্নাতসমূহ এবং সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
প্রথমত: সালাতের সুন্নাতসমূহ:
১- মৌখিক সুন্নাহ, যার মধ্যে রয়েছে:
সালাত শুরু করার দু‘আ (সানা) পড়া-তা‘আউয়ুয (আ‘ঊযুবিল্লাহ) পড়া-সূরা ফাতিহার পরে অন্য একটি সূরা পড়া- আমীন বলা-একের অধিক তাসবীহ পড়া-শেষ তাশাহহুদের পরে দু‘আ করা।
২- সালাতের কর্মগত সুন্নাত, যার মধ্যে রয়েছে:
তাকবীর বলার সময় রফ‘উল ইয়াদাইন (দুই হাত উত্তোলন) করা।
দাঁড়ানো অবস্থায় ডান হাতকে বাম হাতের উপরে রাখা।
রুকুতে দুই হাত দুই হাঁটুর উপরে রাখা।
দুই সিজদার মাঝখানে উরুদ্বয়ের উপর হাত দুটিকে রাখা।
সিজদার স্থানে দৃষ্টি রাখা।
৪- সালাতের সুন্নাত এবং সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ
দ্বিতীয়ত: সালাত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ:
তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: ইচ্ছাপূর্বক সালাতের কোন রুকন বাদ দেওয়া-ইচ্ছাপূর্বক সালাতের কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করা-ইচ্ছাপূর্বক সালাতের কোন শর্ত বাদ দেওয়া-ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা-ইচ্ছাপূর্বক সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোন কথা বলা-ইচ্ছাপূর্বক অট্টহাসি দেওয়া-সালাত বহির্ভূত কোন কাজ অধিক পরিমাণে করা।
৫-জামা‘আতে সালাত
প্রথমত: জামা‘আতে সালাতের বিধান:
জ্ঞানবান ও বালেগ প্রতিটি পুরুষের উপর জামা‘আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব।
জামা‘আতে সালাত আদায়ের জন্য সর্বনিম্ন সংখ্যা হচ্ছে দুইজন।
দ্বিতীয়ত: জামা‘আতে সালাতের ফযীলত:
জামা‘আতে সালাত আদায় করা একাকী সালাত আদায় অপেক্ষা উত্তম।
জান্নাতে প্রবেশ করার কারণ।
ফজর ও ইশার সালাত জামা‘আতে আদায় করার ফযীলত।
মর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়া এবং গুনাহ মাফ হওয়া।
৬-জুমু‘আর সালাত
জুমু‘আর সালাতের ফযীলত:
জুমু‘আর সালাতের হুকুম:
জুমু‘আর সালাতের বিবরণ:
সালাতের আগে ইমাম দুইটি খুত্ববা প্রদান করবেন।
স্বরবে কিরাআতের সাথে মসজিদে দুই রাকাত জুমু‘আর সালাত আদায় করা হয়।
প্রথম রাক‘আতে সূরা আল-জুমু‘আহ এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা আল-মুনাফিকূন পড়বে। অথবা প্রথম রাক‘আতে সূরা আল-আ‘লা এবং দ্বিতীয় রাক‘আতে সূরা আল-গাশিয়াহ পড়বে।
৬-জুমু‘আর সালাত
জুমু‘আর সালাতের আদব:
গোসল করা, সুগন্ধি লাগানো, উত্তম পোষাক পরিধান করা এবং সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে বেশী বেশী দরুদ পাঠ করা।
দু‘আ কবুল হওয়ার সময়ে বেশী বেশী দু‘আ করা।
খুত্ববার সময় চুপ থাকা। এ সময় অনর্থক কথা ও কাজ বর্জন করা।
৭- নফল সালাত
বিতরের সালাত:
ফরয সালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সুন্নত সালাতসমূহ তথা সুনানে রাতেবাঃ
তারাবীহর সালাত:
সালাতুদ দোহা:
সাধারণ নফল সালাত:
সবচেয়ে উত্তম নফল সালাত হল, কিয়ামুল লাইল (রাতের নফল সালাত)।
৭- নফল সালাত
সকল সময়ই নফল সালাত আদায় করা যায়, তবে নিম্ন উল্লিখিত সময় ব্যতীত:
ফযরের সালাতের পর থেকে সূর্য উঁচু হওয়া পর্যন্ত।
যোহরের সালাতের ওয়াক্তের সামান্য কিছুটা আগে।
আসরের সালাতের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত।
৮- যাকাত
যাকাতের হুকুম:
যাকাত দ্বীনের একটি ফরয বিধান। এটি ইসলামের তৃতীয় রুকন।
যাকাত শরীয়তসম্মত হওয়ার হিকমত:
যেসমস্ত সম্পদে যাকাত ওয়াজিব:
মূল্যবান বস্তু, যার মধ্যে রয়েছে: সোনা, রুপা এবং নগদ অর্থ।
ব্যবসায়িক সম্পদ, যেমন: রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, গাড়ী এবং যাবতীয় পণ্যের ব্যবসা।
শস্য ও ফল, যেমন: গম, ধান, খেজুর এবং আঙ্গুর।
চতুষ্পদ জন্তু, যার মধ্যে রয়েছে: উট, গরু এবং ছাগল।
যাকাত ব্যয়ের খাতসমূহ:
যাকাত প্রাপ্যের অধিকারী আট শ্রেণির লোক। তারা হল: ফকীর- মিসকীন- সদকা আদায়ের কাজে নিযুক্ত কর্মচারী- যাদের অন্তর আকৃষ্ট করতে হয় তাদের জন্য- দাসমুক্তি- ঋণ ভারাক্রান্তদের জন্য- আল্লাহর পথে- মুসাফির।
৯- সিয়াম
রমাদান মাসের ফযীলত:
রমাদানের ফযীলতের মধ্যে রয়েছে: গুনাহ ক্ষমা এবং ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা।
সিয়ামের শর্তসমূহ:
-ইসলাম।
-বালিগ হওয়া।
-বিবেক সম্পন্ন হওয়া।
-সিয়ামের সামর্থ্য রাখা।
-নারীদের হায়েয ও নিফাসের রক্ত বন্ধ হওয়া।
-নিয়ত করা।
৯- সিয়াম
সিয়ামের সুন্নাতসমূহ:
দ্রুত ইফতার করা।
তাজা খেজুর অথবা শুকনো খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা।
বিলম্বে সাহরী খাওয়া।
ভাল কাজ বেশি পরিমাণে করা।
ইফতারের সময় দু‘আ করা।
৯- সিয়াম
সাওম বিনষ্টকারী বিষয়সমূহ:
১- সহবাস করা।
২- বীর্যপাত ঘটানো।
৩- ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা।
৪- পাকস্থলীতে পানি অথবা অনুরূপ কিছু পৌঁছানো।
৫- ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করা।
৬- হিজামা (শিঙ্গা) লাগানো।
১০- হজ
হজের হুকুম:
হজ ইসলামের পঞ্চম রুকন। এটি সামর্থবান ব্যক্তির উপর জীবনে একবার পালন করা ওয়াজিব।
হজের ফযীলত:
পাপ ও ত্রুটি-বিচ্যুতির ক্ষমা হওয়া-এটি দ্বীনের সর্বোত্তম আমলসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
হজের শর্তসমূহ:
ইসলাম-বালিগ হওয়া- জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া- সামর্থবান হওয়া- নারীদের সাথে মুহরিম থাকা।
১০- হজ
হজের রুকনসমূহ:
ইহরাম বাঁধা।
আরাফায় অবস্থান করা।
তাওয়াফে ইফাদ্বাহ করা।
সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সা‘ঈ করা।
পঞ্চম ইউনিট: শিষ্টাচার ও নৈতিকতা
১- উত্তম চরিত্র
উত্তম চরিত্র:
তা হল: মানুষের সাথে উত্তম আচরণ করা এবং কথা ও কাজের মাধ্যমে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা।
উত্তম চরিত্রের ফযীলতসমূহ:
জান্নাতে প্রবেশ করার কারণ।
মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ।
ঈমানের পূর্ণতার আলামত।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুকরণ ও তার সুন্নাতের অনুসরণ করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভালবাসা অর্জন এবং কিয়ামাতের দিন তার নৈকট্য লাভ।
মানুষের ভালবাসা এবং তাদের থেকে সম্মান লাভ।
২- সত্যবাদিতা
সত্যবাদিতার পরিচয়:
তা হল: কথা ও কাজ , ভিতর ও বাহির এবং কথার সাথে বাস্তবতার মিল থাকা।
প্রথমত: সত্যবাদিতার ক্ষেত্রসমূহ:
আল্লাহ তা‘আলার সাথে অন্তরের সত্যবাদিতা: নিয়ত ও ইচ্ছার সংশোধন দ্বারা অর্জিত হয়।
ভাষার ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা: বাস্তবতার সাথে কথার মিল থাকবে।
আমলের ক্ষেত্রে সত্যবাদিতা: কথা অনুযায়ী কাজ হবে।
২- সত্যবাদিতা
সত্যবাদিতার ফযীলতসমূহ:
সত্যবাদিতা জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম একটি কারণ।
সত্যবাদিতা সকল রাসূলদের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য, আর আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে তাদের অনুসরণ করার আদেশ দিয়েছেন।
সততা সমাজের সদস্যদের মধ্যে ভালবাসা এবং মমতা ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখে।
৩-আমানতদারিতা
প্রথমত: আমানতদারিতার পরিচয়:
তা হল: আল্লাহ তা‘আলার হকসমূহ এবং বান্দার হকসমূহ আদায় করা।
দ্বিতীয়ত: আমানতদারিতার কিছু ধরন:
দ্বীনের ব্যাপারে আমানতদারিতা-সম্মান-ইযযতের ব্যাপারে আমানতদারিতা-সম্পত্তির ক্ষেত্রে আমানতদারিতা- ইলমের ক্ষেত্রে আমানতদারিতা-চুক্তি ও গোপনীয়তার ব্যাপারে আমানতদারিতা-অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও ইন্দ্রিয়ের ব্যাপারে আমানতদারিতা।
৩-আমানতদারিতা
তৃতীয়ত: আমানতদারিতার ফযীলত:
আমানতদারিতা হল. নবী-রাসূলদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে একটি।
আমানতদারিতা ঈমানের শাখাসমূহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা।
কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে আমানতদারিতা উঠে যাওয়া।
৪- ধৈর্য
প্রথমত: ধৈর্যের পরিচয়:
ধৈর্য এমন একটি চরিত্র, যা মুসলিমকে আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রাখে, তাঁর অবাধ্যতা থেকে বিরত রাখে এবং তাঁর ফয়সালার উপর সন্তুষ্ট রাখে।
দ্বিতীয়ত: ধৈর্যের প্রকারভেদ:
আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্যের উপর সবর করা।
আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতা থেকে সবর করা।
বিপদে সবর করা।
৪- ধৈর্য
তৃতীয়ত: ধৈর্যের ফযীলতসমূহ:
ধৈর্যশীলদেরকে তাদের পুরস্কার পূর্ণরূপে দেয়া হবে বিনা হিসেবে।
সবর হচ্ছে নবীগণের অন্যতম গুণ।
আল্লাহ তা‘আলা সবরকারীদের সাথে রয়েছেন।
৫- লজ্জাশীলতা
প্রথমত: লজ্জাশীলতার পরিচয়:
তা এমন একটি চারিত্র, যা একজন ব্যক্তিকে ভালো কাজ সম্পাদন করতে এবং খারাপ কথা ও কাজ বর্জন করতে উৎসাহিত করে।
দ্বিতীয়ত: লজ্জাশীলতার প্রকারভেদ:
আল্লাহর থেকে লজ্জা করা।
নিজের থেকে লজ্জা করা।
মানুষদের থেকে লজ্জা করা।
৫- লজ্জাশীলতা
তৃতীয়ত: লজ্জাশীলতার ফযীলত:
লজ্জাশীলতা এমন একটি গুণ যা আল্লাহ তা‘আলা পছন্দ করেন।
লজ্জাশীলতা ঈমানের শাখাসমূহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।
লজ্জাশীলতা শুধু কল্যাণই বয়ে আনে।
৬- ন্যায়পরায়ণতা
প্রথমত: ন্যায়পরায়ণতার পরিচয়:
তা হল, প্রতিটি ব্যক্তিকে তার অধিকার প্রদান করা এবং মানুষের মধ্যে বৈষম্য করা ছাড়াই আচরণের ক্ষেত্রে ইনসাফ করা।
দ্বিতীয়ত: ন্যায়পরায়ণতার স্বরূপসমূহ:
আবশ্যক দায়িত্বসমূহ পালন ও হকসমূহ আদায় করা।
মানুষের মধ্যে ন্যায় বিচার করা।
তৃতীয়ত: ন্যায়পরায়ণতা বাস্তবায়নের পদ্ধতি:
শরী‘আতের বিধিবিধান প্রয়োগ করা।
প্রতিটি হকদারকে তার হক প্রদান করা এবং মানুষের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি না করা।
আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করা এবং এ ব্যাপারে বদ্ধমুল জ্ঞান রাখা যে, আল্লাহ তা‘আলা অত্যাচারী থেকে কিয়ামাতের দিন অবশ্যই বদলা গ্রহণ করবেন।
৬- ন্যায়পরায়ণতা
চতুর্থত: ন্যায়পরায়ণতার ফযীলতসমূহ:
আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতার নির্দেশ দিয়েছেন।
ন্যায়বিচার সমাজের স্থিতিশীলতার কারণ।
ষষ্ঠ ইউনিট: দ্বীনের পথে দাওয়াত
১- নসীহতের গুরুত্ব:
প্রথমত: নসীহতের দ্বারা উদ্দেশ্য:
তা হল: উপদেশকৃত ব্যক্তির কল্যাণ কামনা, তাকে ভাল কাজের দিকে আহ্বান করা এবং খারাপ থেকে নিষেধ করা।
দ্বিতীয়ত: নসীহতের গুরুত্ব :
দ্বীন হচ্ছে কল্যাণ কামনা করা। সুতরাং তা দ্বীন কায়েম থাকার কারণ।
নসীহত করা নবীদের কাজ।
নসীহত সমাজ সংস্কারের পথ।
নসীহত দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের সৌভাগ্যের পথ।
নসীহত জিহাদের একটি প্রকার।
নসীহত আযাব থেকে রক্ষাকবচ।
২- নসীহতের আদব
প্রথমত: নসীহতকারীর সাথে সংশ্লিষ্ট আদবসমূহ:
১- ইখলাস।
২-ধৈর্য।
৩- আমানতদারিতা।
৪- নসীহতকৃত ব্যক্তির সাথে কোমলতা।
৫- নসীহত পেশ করার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করা।
৬- নসীহতকৃত ব্যক্তির ব্যাপারে রহম করা।
৭- নসীহতকারী অন্যকে যে বিষয়ে নসীহত করবে, তা নিজে আমল করা।
৮- যে বিষয়ে নসীহত করছে সে বিষয়ে জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা থাকা।
৯- নসীহতকৃত ব্যক্তির পরিস্থিতি বিবেচনা করা।
২- নসীহতের আদব
দ্বিতীয়ত: নসীহতকৃত ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট আদবসমূহ:
নসীহতকারীর কথার সঠিকতা যাচাই করা।
নসীহত গ্রহণ করা এবং অহংকার না করা।
নসীহত অনুযায়ী আমল করা।
প্রথম ইউনিট: আল-কুরআন ও তাফসীর
১- কুরআন শেখা ও শেখানোর ফযীলত
কুরআনুল কারীম তিলাওয়াত শেখার গুরুত্ব:
কুরআনুল কারীম শেখার ফযীলত:
কুরআনুল কারীম শেখানোর ফযীলত:
কুরআনুল কারীম শিখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করার ফযীলত:
২- সূরা আল-বাকারার শেষ আয়াতগুলোর তাফসীর
বর্ণনা ও তাফসীর:
এ আয়াতে কারিমাদ্বয় দুটি বিষয়কে শামিল করে:
ঈমানের রুকনসমূহের বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তার সাহাবীগণ রদিয়াল্লাহু আনহুম- এর সত্যায়নের সাক্ষ্য।
আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করার পদ্ধতির বর্ণনা।
আয়াতে কারীমা দুটি থেকে কিছু শিক্ষা:
সকল নবী ও রাসূলদের উপরে ঈমান আনায়ন করা ওয়াজিব।
আল্লাহ তা‘আলা এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য ও তাদের আদেশ মান্য করা ওয়াজিব।
ইসলামী শরী‘আতের সহজতার প্রমাণ।
৩- সূরা আদ-দুহা, সূরা আলাম নাশরাহ এবং সূরা আত-তীনের তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
সাজা (سجى): অন্ধকার হয়।
কালা (قلى): ঘৃণা করা।
‘আয়িলান (عائلًا): ফকির।
আনকাদা (أنقض): অতিরিক্ত বোঝা চাপানো।
ফানসাব (فانصب): নেক কাজের চেষ্টা করুন।
তূরে সীনীন (طور سينين): তূর পর্বত, যেখানে আল্লাহ মূসা ‘আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছেন।
মামনূন (ممنون): বিচ্ছিন্ন।
৩- সূরা আদ-দুহা, সূরা আলাম নাশরাহ এবং সূরা আত-তীনের তাফসীর
আয়াতে কারীমাগুলো থেকে কিছু শিক্ষা:
আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মানিত করা এবং তাকে স্বীয় তত্ত্বাবধানে রাখা।
বান্দার জন্য দ্বীনের বিষয়গুলো সহজ করার মাধ্যমে তাদের প্রতি মহান আল্লাহর দয়া করা।
আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সম্মানিত করেছেন, ফলে তিনি মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর সূরতে সৃষ্টি করেছেন।
৪- সূরা আল-‘আলাক এবং সূরা আল-কদরের তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
আলাক (علق): জমাটবদ্ধ রক্তপিণ্ড।
লানাসফা‘আন (لنسفعاً): অবশ্যই আমি ধরবো।
যাবানিয়্যাহ (الزبانية): আযাবের ফিরিশতা।
রূহ (রূহ): জিবরীল ‘আলাইহি সালাম।
আয়াতে কারীমাগুলো থেকে কিছু শিক্ষা:
ইসলামে ইলমের বিশাল মর্যাদা রয়েছে।
কুরআন কারীম নাযিল হয়েছে সবচেয়ে মর্যাদাবান ফিরিশতার মাধ্যমে, সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মানুষের কাছে, সবচেয়ে শ্রেষ্ট রাতে।
লাইলাতুল কদর আমাদের উপর আল্লাহর একটি মহান নিয়ামত।
৫- সূরা আল-বাইয়িনাহ এবং আয-যালযালাহ (যিলযাল)-এর তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
মুনফাক্কীন (منفكين): তারা যে কুফুরীতে আছে, সেগুলো ত্যাগ করে।
আল-বাইয়্যিনাহ (ألبينة): সুস্পষ্ট দলীল। এখানে উদ্দেশ্য হল রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
আল-বারিয়্যাহ (البرية): সৃষ্টি।
আস-কালাহা (أثقالها): যেসব মৃতদেহ জমিনে দাফন করা হয়েছে।
আয়াতে কারীমাগুলো থেকে কিছু শিক্ষা:
আল-কুরআনুল কারীম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নবুয়াতের সত্যতার সবচেয়ে বড় দলীল।
মুমনিগণ যারা নেক কাজ করে, তারাই আল্লাহ তা‘আলার শ্রেষ্ট সৃষ্টি।
কিয়ামাতের দিন অত্যন্ত ভয়াবহ একটি দিন, সেদিন মানুষের প্রতিটি বিষয়ের হিসাব নেওয়া হবে।
৬- সূরা আল-‘আদিয়াত এবং আল-কারি‘আহ-এর তাফসীর
শব্দার্থসমূহ:
আল-আদিয়াত (ألعاديات): যে ঘোড়া আল্লাহর রাস্তায় ছুটে চলে।
দ্ববহান (ضبحًا): ছুটে চলার সময় উটের আওয়াজ।
আল-মূরিয়াতি কাদহান (الموريات قدحًا): ঘোড়া ছুটে চলার ক্ষিপ্রতার কারণে খুরসমূহ থেকে বের হওয়া আগুনের ফুলকি।
আল-মাবসূস (المبثوث): বিক্ষিপ্ত।
আয়াতে কারীমাগুলো থেকে কিছু শিক্ষা:
নিয়ামতে শুকরিয়া করা এবং এ ব্যাপারে আল্লাহর হক আদায় করা ওয়াজিব।
আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে কিয়ামাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন; যাতে করে তারা সৎকাজের মাধ্যমে তার জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
দ্বিতীয় ইউনিট: ঈমান ও আত্মশুদ্ধি
১- (কুফর ও শিরক)
প্রথমত: কুফর
তা হল: প্রতিটি এমন বিশ্বাস, কাজ অথবা কথা, যা ঈমানের মূলভিত্তি অথবা ঈমান পূর্ণাঙ্গতাকে নষ্ট করে দেয়।
কুফরের প্রকারভেদ:
কুফরে আকবার (বড় কুফর): এটি হচ্ছে এমন বিষয়, যা ঈমানের মূলভিত্তি নষ্ট করে দেয়।
কুফরে আসগার (ছোট কুফর): এটি হচ্ছে এমন বিষয় যা ঈমানের পূর্ণাঙ্গতাকে নষ্ট করে দেয়।
কুফরে আকবারের কিছু উদাহরণ:
আল্লাহ তা‘আলার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা।
ঈসা আলাইহিস সালামের উলূহিয়্যাতের কথা বলা।
কুফরে আকবারের জঘন্য প্রভাব:
১- (কুফর ও শিরক)
কুফরে আসগারের কতিপয় উদাহরণ:
মুসলিম ব্যক্তির সাথে লড়াই করা।
কারো বংশের প্রতি অপবাদ দেয়া।
কুফরে আসগারের জঘন্য প্রভাব:
দ্বিতীয়ত: শিরক
শিরকে আকবার:
তা হল: আল্লাহ তা‘আলার জন্য শরীক নির্ধারণ করা।
ছোট শির্ক:
তা হল: এমন প্রতিটি পাপ, যাকে কুরআন কারীম অথবা সুন্নাতে নববীতে শিরক বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, কিন্তু তা শিরকে আকবারের পর্যায়ে পৌঁছেনি।
২- (নিফাক ও রিদ্দাহ)
তৃতীয়ত: নিফাকের পরিচয়:
তা হল: কুফরকে গোপন করে ঈমানকে প্রকাশ করা।
নিফাকের প্রকারভেদ:
ই‘তিক্বাদী নিফাক (আকীদাগত নিফাক):
আমলী নিফাক (আমলগত নিফাক) :
২- (নিফাক ও রিদ্দাহ)
চতুর্থত: রিদ্দাহ
তা হল: কথা, কাজ অথবা বিশ্বাসের দিক থেকে কোন মুসলিম ব্যক্তির ঈমান থেকে কুফরের দিকে প্রত্যাবর্তন করা।
রিদ্দাহর স্বরূপ:
আকীদার মাধ্যমে রিদ্দাহ:
কথার মাধ্যমে রিদ্দাহ:
কাজের মাধ্যমে রিদ্দাহ:
৩- বিদ‘আত এবং এর প্রকারভেদ
প্রথমত: বিদ‘আতের পরিচয়:
দ্বিতীয়ত: দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আত সৃষ্টি থেকে সতর্ক করা:
তৃতীয়ত: বিদ‘আত চেনার মূলনীতি:
৩- বিদ‘আত এবং এর প্রকারভেদ
চতুর্থত: দ্বীনের মধ্যে বিদ‘আতের প্রকারভেদ:
আকীদাগত বিদ‘আত।
আমলগত বিদ‘আত।
বক্তব্যগত বিদ‘আত।
পঞ্চমত: বিদ‘আতের হুকুম:
দ্বিতীয়ত: তাযকিয়াতুন নাফসের গুরুত্ব:
প্রথমত: তাযকিয়াতুন নাফসের পরিচয়:
দ্বিতীয়ত: তাযকিয়াতুন নাফসের গুরুত্ব:
তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি হচ্ছে নবীদের অন্যতম একটি কাজ।
তাযকিয়া সফলতার কারণ।
তাযকিয়া বান্দার ঈমানকে বৃদ্ধি করে।
তাযকিয়াতুন নাফস বা আত্মশুদ্ধির প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের গুরুত্বারোপ।
তৃতীয়ত: তাযকিয়াতুন নাফসের ফলাফল:
৫- তাযকিয়াতুন নাফসের পদ্ধতিসমূহ:
আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ।
আল্লাহ তা‘আলার কাছে সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর কাছে দু‘আ করা।
পাপ থেকে দূরে থাকা।
ফরযসমূহ আদায় করা।
আল্লাহ তা‘আলার যিকর এবং কুরআন তিলাওয়াত করা।
আত্মসমালোচনা করা এবং একে উপদেশ দেওয়া।
নেককারদের সাথে উঠাবসা করা।
৬- অন্তরের আমলসমূহ
নিয়ত করা এবং আল্লাহ তা‘আলার প্রতি একনিষ্ঠ হওয়া।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লামকে মুহাব্বাত করা।
ভয় এবং আশা করা।
মুরাকাবাহ বা পর্যবেক্ষণ।
প্রত্যাবর্তন করা।
তাওয়াক্কুল করা।
আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে সম্মান করা।
তৃতীয় ইউনিট: সুন্নাহ ও শামাইলে নববী (নবীর চারিত্রিক গুণাবলী)
১- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকারসমূহ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মুহাব্বাত করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মান করা এবং মর্যাদা দেওয়া।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরুদ) পাঠ করা এবং সালাম পেশ করা।
২- আহলে বাইতের ফযীলত এবং তাদের হক বা অধিকারসমূহ
প্রথমত: আহলে বাইতের পরিচয়:
দ্বিতীয়ত: আহলে বাইতের ফযীলতসমূহ:
তৃতীয়ত: আহলে বাইতের সাথে খাস বা নির্দিষ্ট বিধানসমূহ:
তাদের যাকাত দেওয়া হারাম।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাদের উপরেও সালাত (দরূদ) পড়া।
আহলে বাইতের ব্যাপারে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসীয়ত।
২- আহলে বাইতের ফযীলত এবং তাদের হক বা অধিকারসমূহ
চতুর্থত: আলে বাইতের অধিকারসমূহ:
তাদের প্রতি মুহব্বাত ও সম্মান প্রদর্শন।
তাদের গালি দেওয়া অথবা তাদের অভিশাপ দেওয়া হারাম।
যে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহার বিরুদ্ধে অপবাদ দিবে তাকে কাফির হিসেবে সাব্যস্ত করা হবে।
৩- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার আহলে বাইতের হকের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন করা
প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হক বা অধিকারের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির দিকসমূহ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাত্রাতিরিক্ত প্রশংসা করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বিপদ থেকে উদ্ধার কামনা করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামে শপথ করা।
দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকের ব্যাপারে অসদাচারণের ক্ষেত্রসমূহ:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সম্মানে ঘাটতি করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে প্রত্যাখ্যান এবং অনুসরণ পরিত্যাগ করা।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরুদ) পাঠ করা এবং সালাম দেওয়া ছেড়ে দেওয়া।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ও তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা।
৩- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার আহলে বাইতের হকের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও সীমালঙ্ঘন করা
তৃতীয়ত: আহলে বাইতের হকের ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন ও উদাসীনতা:
আহলে বাইতের সবাইকে মা‘ছুম (বে-গোনাহ) মনে করা।
তাদের গায়েব জানে বলে দাবী করা।
তাদের কাছে বিপদ থেকে উদ্ধারে সাহায্য চাওয়া।
তাদের কবরের পাশে তাওয়াফ করা এবং সেখানে সিজদা করা।
৪- সাহাবীদের ফযীলত এবং তাদের অধিকারসমূহ
প্রথমত: সাহাবীদের ফযীলত:
আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহচর্যের মাধ্যমে ধন্য করেছেন এবং তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন।
আল্লাহ তা‘আলা তাদের আখলাক ও আমলের প্রশংসা করেছেন।
সাহাবীগণ হচ্ছেন উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানব।
তারা আমাদের কাছে কুরআন এবং নবীর সুন্নাতকে বর্ণনা করেছেন।
তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সহযোগিতা করেছেন এবং তার সাথে মিলে জিহাদ করেছেন।
৪- সাহাবীদের ফযীলত এবং তাদের অধিকারসমূহ
দ্বিতীয়ত: সাহাবীদের অধিকারসমূহ:
তাদের ভালবাসা, সম্মান এবং মর্যাদা দেওয়া আবশ্যক।
তাদের জন্য দু‘আ ও ইস্তেগফার করা এবং তাদের জন্য ‘রাদিয়াল্লাহু আনহুম’ বলা।
তাদেরকে গালি দেওয়া, মন্দ কথা বলা অথবা তাদের মর্যাদাহানী করা হারাম।
তাদের সাধারণ ও বিশেষ ফযীলতসমূহ সাব্যস্ত করা।
তাদের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ করা এবং যারা তাদের মর্যাদাহানী করে, তাদের জবাব দেওয়া।
৫- নিয়ত ও এর গুরুত্ব
হাদীসের নস:
শব্দার্থসমূহ:
নিয়ত: কাজ করার ইচ্ছা ও অনুপ্রেরণা।
ইউসীবুহা (يُصِيبُهَا ): দুনিয়াবী কোন উপকার বা লাভ প্রাপ্তির জন্য কিছু করা।
বর্ণনাকারী:
আবু হাফস উমার ইবনুল খত্তাব, খুলাফায়ে রাশিদীনের দ্বিতীয় খলীফা।
৫- নিয়ত ও এর গুরুত্ব
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
হাদীসের কতিপয় শিক্ষা:
ভাল কাজ কবূল হওয়ার জন্য আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে নিয়তের স্বচ্ছতা পূর্বশর্ত।
নেক নিয়তের কারণে ভাল কাজের পুরস্কার বর্ধিত হয়ে থাকে, যদিও তার পরিমাণ অল্প হয়।
মন্দ নিয়ত ভাল কাজকে নষ্ট করে দেয় এবং এর সওয়াবকে বিদূরিত করে।
৬- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা ওয়াজিব
হাদীসের নস:
من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه، فهو ردٌّ “যে ব্যক্তি আমাদের এ দ্বীনের মধ্যে নতুন কোন বিষয় প্রবেশ করাবে, যা তাতে নেই তা প্রত্যাখ্যাত।”
শব্দার্থসমূহ:
আহদাসা (أحدث): কোন নতুন বস্তু উদ্ভাবন করা।
আমরিনা (أمرنا): দ্বীনের বিষয়।
রাদ্দ (رد): প্রত্যাখ্যাত।
বর্ণনাকারী:
উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ বিনতু আবু বাকর আস-সিদ্দীক, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী।
৬- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ করা ওয়াজিব
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
হাদীসের কতিপয় শিক্ষা:
দ্বীনের মধ্যে নতুন কিছু তৈরী করা অথবা বিদ‘আত সৃষ্টি করা হারাম।
শরী‘আতের ভিত্তি নেই এমন আমল কবুল হবে না।
৭- ইবনু আব্বাসের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসীয়ত
হাদীসের নস:
«يَا غُلَامُ إِ نِي أُعَلِمُكَ كَلِمَاتٍ، أحْفَظِ ألَّلَّه يَحْفَظْكَ، أحْفَظِ ألَّلَّه تَجِدْهُ تُجَاهَكَ، إذا سَاَلْتَ فَاسْاَ لِ ألَّلَه، وإذا أسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِالَّلِّه، وَأعْلَمْ أَنَّ الأمة لَوْ اجتمعت عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ ألَّلُّه لَكَ، وَلَوْ اجتمعوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ ألَّلُّه عَلَيْكَ، رُفِعَتِ الأقلام وَجَفَّتْ الصحف». “ওহে কিশোর! আমি তোমাকে কয়েকটি (গুরুত্বপূর্ণ) কথা শিক্ষা দিব (তুমি সেগুলো স্মরণ রেখো)। তুমি আল্লাহর বিধানসমূহকে রক্ষা করো তাহলে আল্লাহ তোমাকে রক্ষা করবেন। তুমি আল্লাহর হকসমূহ রক্ষা কর, তাহলে তুমি তাঁকে তোমার সম্মুখে পাবে। যখন তুমি চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে। আর যখন তুমি প্রার্থনা করবে, তখন একমাত্র আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করবে। আর এ কথা জেনে রেখো যে, যদি সমগ্র উম্মত তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই উপকার করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। আর তারা যদি তোমার ক্ষতি করার জন্য একত্রিত হয়ে যায়, তবে ততটুকুই ক্ষতি করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার (তাকদীরে) লিখে রেখেছেন। কলমসমূহ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং খাতাসমূহ (তাকদীরের লিপি) শুকিয়ে গেছে।’’
শব্দার্থসমূহ:
تجاهك: তিনি তোমাকে ভালো কাজে সাহায্য করবেন।
رفعت الأقلام: তাকদীরসমূহ লিপিবদ্ধ হয়ে গেছে।
বর্ণনাকারী:
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস ইবনু আব্দিল মুত্তালিব, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচাত ভাই।
৭- ইবনু আব্বাসের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসীয়ত
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
হাদীসের কতিপয় শিক্ষা:
নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জাওয়ামে‘উল কালিম তথা সংক্ষিপ্ত; অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
ছোটদেরকে আকীদাহ শিক্ষা দানের গুরুত্ব।
দু‘আর ক্ষেত্রে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার দিকে মনোনিবেশের গুরুত্ব।
৮- ইস্তিকামাত (অবিচল ও দৃঢ় থাকা)-এর গুরুত্ব
হাদীসের নস:
«قُلْ: أمَنْتُ بِاللهِ، فَاسْتَقِمْ». “তুমি বল: আমি আল্লাহর উপরে ঈমান এনেছি, তারপর অবিচল থাকো।”
শব্দার্থসমূহ:
أستقم: নেককাজ সম্পাদন এবং পাপাচার বর্জনের উপর অবিচল থাকো।
বর্ণনাকারী:
আবূ আমরাহ সুফিয়ান ইবনু আব্দিল্লাহ আছ-ছাকাফী।
৮- ইস্তিকামাত (অবিচল ও দৃঢ় থাকা)-এর গুরুত্ব
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
হাদীসের কতিপয় শিক্ষা:
সৎকাজ সম্পাদন করা এবং পাপ থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে ইস্তেকামাত করা (অবিচল থাকা) ওয়াজিব।
উপকারী ইলম অর্জন এবং সে সম্পর্কে প্রশ্ন করার ব্যাপারে আগ্রহী হওয়া।
৯- অনর্থক কাজ পরিহার করা
হাদীসের নস:
বর্ণনাকারী:
আবু হুরায়রা আব্দুর রহমান ইবন সাখর আদ-দাওসী।
৯- অনর্থক কাজ পরিহার করা
হাদীসটির সার্বিক অর্থ:
হাদীসের কতিপয় শিক্ষা:
মুসলিম ব্যক্তি তার অনর্থক কাজ পরিহার করার মাধ্যমে তার দ্বীনকে হিফাযত করে।
অনর্থক কথাবার্তা ও খেল-তামাশা পরিত্যাগ করা ইসলাম ও বিবেকের পরিপূর্ণতার প্রমাণ।
একজন মুসলিমের উপকারী বিষয়ে সময়কে কাজে লাগাতে উৎসাহিত করা।
চতুর্থ ইউনিট: বিধিবিধান বিষয়ক ফিকহ:
১- হালাল উপার্জন ও হারাম উপার্জন
প্রথমত: হালাল উপার্জন
হালাল উপার্জনের ফযীলত:
দুনিয়াতে সৌভাগ্য এবং আখিরাতের সফলতা।
জীবিকা উপার্জনের প্রচেষ্টা করা আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভের মাধ্যমে।
হারাম থেকে বিরত থাকা।
১- হালাল উপার্জন ও হারাম উপার্জন
দ্বিতীয়ত: হারাম উপার্জন
শরী‘আহ বহির্ভূত উপার্জনের কয়েকটি পদ্ধতি:
ধোঁকাবাজি ও প্রতারণা।
প্রবঞ্চনা।
মজুতদারী।
ঘুষ।
হারাম বস্তু বিক্রয় করা এবং এর মূল্য গ্রহণ করা।
২- ব্যবসার বিধিবিধান
প্রথমত: ব্যবসা সংঘটিত হওয়ার পদ্ধতি:
কথার মাধ্যমে বেচাকেনা সংঘটিত হয়।
কর্মের (লেনদেনের) মাধ্যমে বেচাকেনা সংঘটিত হয়।
দ্বিতীয়ত: ব্যবসার শর্তসমূহ
প্রথম শর্ত: চুক্তিকারী উভয়ের (ক্রেতা-বিক্রেতার) সন্তুষ্টি।
দ্বিতীয় শর্ত: চুক্তিকারী উভয়ের মাঝে জ্ঞান, পৃথক করার যোগ্যতা এবং পরিপক্কতা থাকা।
২- ব্যবসার বিধিবিধান
দ্বিতীয়ত: ব্যবসার শর্তসমূহ:
তৃতীয় শর্ত: বিক্রিত মালের মালিকানা থাকা।
চতুর্থ শর্ত: পণ্যটি বৈধ হওয়া।
পঞ্চম শর্ত: পণ্য ও মূল্য সম্পর্কে জ্ঞান থাকা।
ষষ্ঠ শর্ত: বিক্রিত পণ্য এবং মূল্য সরবরাহের ক্ষমতা থাকা।
৩- সুদ এবং হারাম ব্যবসাসমূহ
প্রথমত: সুদ
সুদের প্রকারভেদ:
রিবা আল-ফাদল (পরিমাণে অতিরিক্ত প্রদানের সুদ)।
রিবা আন-নাসীয়াহ (তথা: বিলম্বের সুদ): এটা দুই প্রকার:
পরবর্তীতে হস্তান্তর করার ভিত্তিতে একই জাতীয় দুটি পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় করা।
রিবা আদ-দুয়ূন (ঋণের সুদ)।
৩- সুদ এবং হারাম ব্যবসাসমূহ
বর্তমান যুগে সুদ:
দ্বিতীয়ত: নিষিদ্ধ ব্যবসাসমূহ
একজন মুসলিম কর্তৃক তার ভাইয়ের বিক্রয়ের উপরে বিক্রয় করা।
মুসলিম কর্তৃক তার ভাইয়ের ক্রয়ের উপরে ক্রয় করা।
জুমু‘আর আযানের পরে ক্রয়-বিক্রয় করা।
৪- ইজারার চুক্তি
প্রথমত: ইজারার পরিচয়:
দ্বিতীয়ত: ইজারার হুকুম:
তৃতীয়ত: ইজারার প্রকারভেদ:
কোন বস্তু হতে উপকার লাভের জন্য ইজারা।
নির্দিষ্ট কাজ করানোর জন্য ইজারা।
৪- ইজারার চুক্তি
চতুর্থত: ইজারার শর্ত:
ইজারাকৃত বস্তু এবং যে কাজের জন্য ইজারা নেওয়া হবে, তা বৈধ হওয়া।
লাভের বিষয়টি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা।
ইজারার মেয়াদ নির্দিষ্ট হওয়া।
ইজারার ভাড়া নির্দিষ্ট হওয়া।
৫- আধুনিক লেনদেনসমূহ
প্রথমত: ব্যাংকিং কার্ড
ডেবিট কার্ড
ক্রেডিট কার্ড (Credit Card)
দ্বিতীয়ত: বাণিজ্যিক বীমা
তৃতীয়ত: তাকাফুল (সমবায়) বীমা
চতুর্থত: কিস্তিতে ক্রয়-বিক্রয়:
পঞ্চমত: ডিজিটাল মার্কেটিং:
৫- আধুনিক লেনদেনসমূহ
ডিজিটাল মার্কেটিং-এর প্রকারভেদ:
উৎপাদিত সামগ্রী অথবা পণ্য বিনিময়।
পরিষেবা বিনিময় করা।
ডিজিটাল পণ্য বিনিময়।
ডিজিটাল মার্কেটিং-এর হুকুম:
৬- বিবাহের বিধিবিধান
প্রথমত: বিবাহ শরী‘আতসম্মত হওয়ার দলীল:
দ্বিতীয়: বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার শর্তসমূহ:
প্রথম শর্ত: সন্তুষ্টি।
দ্বিতীয় শর্ত: স্বামী ও স্ত্রী নির্দিষ্ট হওয়া।
তৃতীয় শর্ত: অলী (শরয়ী অভিভাবক) উপস্থিত থাকা।
চতুর্থ শর্ত: স্বামী ও স্ত্রী পারষ্পারিক নিষিদ্ধকারী বিষয়সমূহ থেকে মুক্ত হওয়া।
বংশীয় ও দুধ সম্পর্কের কারণে হারাম হওয়া।
দ্বীন বা ধর্মের ভিন্নতার কারণে হারাম হওয়া।
অস্থায়ী কোন কারণে হারাম হওয়া।
পঞ্চম শর্ত: সাক্ষী
৭- দাম্পত্য জীবন
প্রথমত: স্ত্রীর উপর স্বামীর অধিকার
আনুগত্যের অধিকার
বাড়িতে অবস্থানের অধিকার।
পরিচালনার অধিকার।
দ্বিতীয়ত: স্বামীর উপর স্ত্রীর অধিকার:
মোহরানা বা দেনমোহর
ভরণ পোষণের অধিকার।
উত্তম পন্থায় সহাবস্থান।
৭- দাম্পত্য জীবন
উত্তমভাবে জীবন যাপনের কতিপয় পন্থা নিম্নরূপ:
কমনীয়তা, হাসি এবং হাস্যোজ্জল মুখে থাকা।
স্ত্রীর সাথে কথাবার্তা বলা, তার সাথে মেলামেশা করা এবং তাকে কিছুটা সময় দেওয়া।
সুন্দর অবস্থান এবং কাজের দক্ষতার জন্য প্রশংসা করা।
তার বিচ্যুতি ক্ষমা করা এবং সেগুলো উপেক্ষা করা।
৮- তালাকের বিধিবিধান
তালাক শরী‘আতসম্মত হওয়ার হিকমাত:
তালাকের হুকুম:
তালাক কখনো বৈধ- কখনো মাকরূহ- কখনো হারাম- কখনো মুস্তাহাব- কখনো ওয়াজিব।
তালাকের প্রকারভেদ:
রাজ‘ঈ তালাক
তালাকে বায়িন
তালাকে বায়িন দুপ্রকার: ছোট বায়িন তালাক-বড় বায়িন তালাক।
পূর্ণাঙ্গ তালাক।
ঝুলন্ত তালাক।
৯- নিষিদ্ধ খাদ্য, পানীয় এবং পোশাকসমূহ
প্রথমত: খাদ্য ও পানীয়ের হুকুম:
খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে মূলনীতি হচ্ছে:
হারাম খাদ্যের মধ্যে রয়েছে:
মৃত জন্তু-গলা টিপে হত্যাকৃত প্রাণি- প্রহারে মারা যাওয়া জন্তু -উপর থেকে পড়ে মারা যাওয়া জন্তু- অন্য প্রাণীর শিং এর আঘাতে মারা যাওয়া জন্তু- হিংস্র প্রাণির ভক্ষণকৃত জন্তু-প্রবাহিত রক্ত-শুকর-আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে যবেহ করা পশু-গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া-দাঁত বিশিষ্ট সকল হিংস্র জন্তু-নখ বিশিষ্ট হিংস্র পাখি-যে প্রাণি অধিকাংশ ক্ষেত্রে মল ভক্ষণ করে- যে সমস্ত প্রাণীকে শরী‘আত প্রণেতা হত্যা করার আদেশ দিয়েছেন।
৯- নিষিদ্ধ খাদ্য, পানীয় এবং পোষাকসমূহ
প্রয়োজনে হারাম বস্তু খাওয়ার বৈধতা:
দ্বিতীয়ত: হারাম পোষাক-পরিচ্ছদ ও সাজসজ্জা:
সতর প্রকাশ করে এমন পোষাক-নারী পুরুষের সাথে অথবা পুরুষ নারীর সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন পোষাক-পুরুষের জন্য সোনা এবং রেশমী কাপড় পরিধান করা-পুরুষদের জন্য ইযার (লুঙ্গি বা পাজামা) ঝুলিয়ে পরা।
১০- মাদক, নেশাদ্রব্য এবং এদের ধ্বংসাত্মক প্রভাব
মদ (মাদক জাতীয় পানীয়) পান করা।
নেশাদ্রব্য।
নেশাদ্রব্য ও মাদকের মন্দ প্রভাব:
বিবেকশূন্য করে দেয়, যা ব্যক্তি ও সমাজের জন্য হুমকি স্বরূপ।
পাঁচটি অতিপ্রয়োজনীয় বিষয়কে বিনষ্টকারী।
এটা শারীরিক বিভিন্ন ধরণের সমস্যা তৈরী করে।
সম্পদকে নষ্ট করা এবং আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন, সে পথে ব্যয় করা।
পঞ্চম ইউনিট: দাওয়াহ
দাওয়াহ
১- আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দেওয়ার গুরুত্ব ও ফযীলত
প্রথমত: আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের পরিচয়:
দ্বিতীয়: আল্লাহর দিকে দা‘ওয়াত দেওয়ার গুরুত্ব।
তৃতীয়ত: আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের ফযীলত:
দাও‘আত নবী- রাসূলদের কাজ।
দায়ী ব্যক্তিই সবচেয়ে উত্তম কথার অধিকারী।
দাও‘আত হচ্ছে সফলতা ও মুক্তির পথ।
দা‘য়ীর জন্য রয়েছে অনেক বড় পুরস্কার।
দাও‘আত হচ্ছে ধ্বংস থেকে পরিত্রাণের উপায়।
২-মক্কাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
দাও‘আতের প্রারম্ভিকা ও সূচনা
গোপনে দাও‘আত
প্রকাশ্যে দাও‘আত
দাও‘আতের ক্ষেত্রে মুশরিকদের অবস্থান।
মুশরিকদের অত্যাচারের বিপরীতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থান।
তায়েফের অধিবাসীদেরকে দাও‘আত
হজের মওসুমে মদীনাবাসীদেরকে দাও‘আত।
মদীনায় হিজরত
৩- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদীনায় দাও‘আতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলার দিকে দাও‘আতের ক্ষেত্রে মসজিদের ভূমিকা
দাও‘আতের পরিবেশকে স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে কাজ করা।
দাও‘আতকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে সামরিক অভিযানের ভূমিকা:
(বদরের যুদ্ধ- বনু কাইনুকার যুদ্ধ- ওহুদের যুদ্ধ- বনু নাদ্বীরের যুদ্ধ- খন্দকের যুদ্ধ- বনু কুরাইজার যুদ্ধ- হুদাইবিয়াহর যুদ্ধ- খায়বার যুদ্ধ- মক্কা বিজয়-হুনাইনের যুদ্ধ)
সামরিক অভিযান সফল হওয়ার পরে দাও‘আতের প্রসার।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত
৪- সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার গুরুত্ব
নবী-রাসূলদের কাজ।
আল্লাহ তা‘আলা উভয়টির আদেশ করেছেন।
এ দুটি পালনে মহা পুরস্কার
মুমিনদের গুণাবলীর অন্তর্ভুক্ত।
উম্মাহর রাষ্ট্রক্ষমতা লাভের উপায়।
আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের একটি মাধ্যম।
নাজাতের পথ ও আযাব থেকে মুক্তির উপায়।
৫- সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার ফিকহ
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার নীতিমালা:
শারী‘আতই সৎ ও অসৎ নির্ধারণ করবে।
ইজতিহাদি মাসআলার ক্ষেত্রে কারো মততে অস্বীকার না করা।
অসৎ কাজ প্রকাশ পাওয়া।
৬- অন্যায় কাজে পতিত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া।
ব্যাপক কল্যাণ ও ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা।
দ্বিতীয়: অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার স্তরসমূহ:
প্রথম: অন্যায়কে হাতের দ্বারা পরিবর্তন করা।
দ্বিতীয়: অন্যায়কে জিহ্বা ও ভাষার দ্বারা পরিবর্তন করা।
তৃতীয়: অন্যায়কে অন্তরের দ্বারা পরিবর্তন করা।
সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার আদব
আল্লাহর তা‘আলার জন্য নিয়তকে বিশুদ্ধ করা।
যে বিষয় সম্পর্কে আদেশ বা নিষেধ করবে সে বিষয়ের প্রকৃত অবস্থা জানা।
আদিষ্ট বিষয়টি নিজে আমল করা এবং নিষেধকৃত বিষয়টি থেকে নিজে বিরত থাকা।
৭- সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার আদব
কোমলতা ও নম্রতা অবলম্বন করা এবং কঠোরতা পরিহার করা।
নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করা:
প্রথমত: তার ভুল সম্পর্কে জানা।
দ্বিতীয়ত: গোপনে ওয়াজ ও নসিহত করা।
তৃতীয়ত: কথায় কঠোরতা দেখানো।
চতুর্থত: তাকে ত্যাগ করা ও সম্পর্ক ছিন্ন করা।
পঞ্চমত: ভুলকারীকে শাস্তি দেওয়া।
Related books
All books
ইসলামী আক্বীদার সংক্ষিপ্ত বিবরণ47 ভাষাইসলামী আক্বীদার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
কিতাবটি ঈমানের রুকনসমূহ ব্যাখ্যা করেছে—যা আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাব, তাঁর রাসূলগণ, শেষ দিবস এবং তাকদীরের ভালো ও মন্দের উপর ঈমান-কে অন্তর্ভুক্ত করে। এছাড়া এতে এমন মৌলিক নীতিসমূহ উপস্থাপিত হয়েছে, যেগুলোর প্রতি একজন মুসলিমের বিশ্বাস করা ও সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক। একই সঙ্গে ইসলামী আকিদাকে গভীরভাবে অনুধাবনের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার গুরুত্বও এতে তুলে ধরা হয়েছে।
সাধারণ মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ40 ভাষাসাধারণ মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ
সম্মানিত শাইখ আবদুল আযীয ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ রচিত “সাধারণ মুসলিমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ" সংক্ষিপ্ত অথচ অত্যন্ত উপকারী একটি পুস্তিকা। লেখক এটি রচনা করেছেন—যেন সাধারণ মুসলিমের জন্য তা জ্ঞানের পাথেয় হয়। এতে তিনি সহজ-সরল ও স্পষ্ট ভাষায়,প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে সহিহ আকীদা ও ইবাদত সহজবোধ্য করে তোলার লক্ষ্যে দ্বীনের মূলনীতি ও রুকনসমূহ আলোচনা করেছেন—তাওহীদ, ঈমান ও ইসলাম থেকে শুরু করে পবিত্রতা ও সালাতের বিধানাবলি, ইসলামের আদব, এবং শিরক ও গুনাহের বিপদ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। (আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে সম্মানার্থে নিজের জন্য বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী…
সালাতের উদ্দেশ্যে হাঁটার আদব11 ভাষাসালাতের উদ্দেশ্যে হাঁটার আদব
লেখক: শাইখুল ইসলাম, অন্যতম জ্ঞানী, ইমাম ও মুজাদ্দিদ শাইখ মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল ওহাহ্হাব রহিমাহুল্লাহু তা‘আলা সৌদি গ্রন্থাগারের ২৬৯/৮৬ নং এ সংরক্ষিত হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি ও অন্যান্য কতিপয় প্রকাশিত সংস্করণের মধ্য হতে কিতাবটিকে বিশুদ্ধকরণ ও তুলনামুলক পর্যালোচনা করার ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন তারা হলেন: আব্দুল কারীম ইবন মুহাম্মাদ আল-লাহিম, নাসির ইবন আব্দুল্লাহ আত-ত্বুরাইম এবং সা‘উদ ইবন মুহাম্মাদ আল-বাশার। পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে পরিচ্ছেদ: সালাতের উদ্দেশ্যে হাঁটার আদাব বিনয়ের সাথে পবিত্র অবস্থায় সালাতের দিকে গমন করা সুন্নাত। যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন…
কিতাবুত তাওহীদ14 ভাষাকিতাবুত তাওহীদ
যা বান্দার ওপর আল্লাহর হক রচনায়: শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবন আব্দুর রাহমান আত-তামীমী, ১২০৬ হিজরী তত্ত্বাবধানে: