Skip to content
হজের আমলসমূহ

হজের আমলসমূহ

এই পুস্তিকাটিতে অষ্টম দিনের ইহরাম থেকে শুরু করে আরাফার দিনের আমল, ঈদের দিনের শরয়ী আনুষ্ঠানিকতা, জামরাতে কঙ্কর নিক্ষেপ এবং পরিশেষে হজের (ইফাযা)তাওয়াফ ও বিদায় তাওয়াফ পর্যন্ত হজের নিয়ম-পদ্ধতি সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে।(আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজীদে বহু আয়াতে নিজ সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহার করেছেন,যা মূলত আরাবী ভাষারএকটি রীতি।বাংলায় এরীতির ব্যাবহার না থাকায় সে সব আয়াতের অনুবাদেএকবচনই ব্যবহার করা হয়।সম্পাদক,আব্দুর রব আফ্ফান)

Language: lang_bn
Prepared by: মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন
Version: 1.0

রাজকীয় সৌদি আরব

ইসলাম, দাওয়াহ ও ইরশাদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়

হজের আমলসমূহ

লেখক, সম্মানিত শাইখ:

মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন

রাহিমাহুল্লাহ

হজের প্রথম দিন অর্থাৎ অষ্টম দিনের আমল,

১- (যারা মক্কায় বা তার আশেপাশে অবস্থানকারী) নিজ স্থান থেকে হজ্জের ইহরাম বাঁধবে। সুতরাং এর জন্য গোসল করবে, সুগন্ধি ব্যবহার করবে, (পুরুষগণ) ইহরামের পোশাক পরিধান করবে এবং বলবে:

উচ্চারণ: “লাব্বাইকা হাজ্জান, লাব্বাইকাল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি‘মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারীকা লাক।" অর্থ: “আমি হজ্জের জন্য আপনার আনুগত্যের সাড়া দিয়ে হাযির, আমি হাযির হে আল্লাহ! আমি হাযির, আমি হাযির; আপনার কোনো অংশীদার নেই, আমি হাযির। নিশ্চয় সকল প্রশংসা ও সকল নি‘আমত আপনার এবং রাজত্ব কেবল আপনারই, আপনার কোনো অংশীদার নেই।” আর যে ব্যক্তি মীকাতের বাইরে থেকে আগমন করে কেবল এদিনই মক্কায় পৌঁছেছে, সে ইহরাম বাঁধা ব্যতীত মীকাত অতিক্রম করবে না। ২. মিনায় গিয়ে সেখানে ৯ তারিখ সূর্যোদয় পর্যন্ত অবস্থান করবে এবং সেখানে ৮ তারিখের যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ৯ তারিখের ফজর সালাত আদায় করবে। প্রত্যেক সালাত তার নির্দিষ্ট ওয়াক্তে আদায় করবে এবং চার রাকাতবিশিষ্ট সালাত কসর করবে।

দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ নবম দিনের আমল

১. সূর্যোদয়ের পর আরাফাতের দিকে রওনা হবে এবং সম্ভব হলে যোহরের পূর্বে নামিরায় অবস্থান করবে। এরপর যোহর ও আসর সালাত কসর ও জমা তাকদীম হিসেবে(আগে ভাগেই একত্র করে) আদায় করবে।

২- সালাতের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কিবলামুখী হয়ে ও উভয় হাত উত্তোলন করে যিকির ও দোয়ায় মনোনিবেশ করবে।

৩. সূর্যাস্তের পর মুযদালিফার দিকে রওনা হবে। সেখানে মাগরিব তিন রাক‘আত ও এশা দুই রাক‘আত আদায় করবে এবং ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত সেখানেই রাত্রি যাপন করবে।

৪. ফজর উদিত হওয়ার পর ফজর সালাত আদায় করবে। এরপর ভোর সুস্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত যিকির ও দোয়ায় মশগুল থাকবে।

৫- সূর্যোদয়ের পূর্বে মিনার দিকে রওয়ানা হবে।

তৃতীয় দিনের আমল, যা ঈদের দিন

১. মিনায় পৌঁছলে জামরাতুল আকাবা(বড় জামরা) যাবে এবং তাতে পরস্পর সাতটি কংকর নিক্ষেপ করবে এবং প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সময় ”আল্লাহু আকবার” বলবে।

২- তার হাদী(হজের কুরবানী) থাকলে হাদী যবেহ করবে।

৩- সে তার মাথা মুণ্ডন করবে বা চুল ছোট করবে, এবং এর মাধ্যমে সে প্রথম পর্যায়ের হালাল হবে। সুতরাং সে স্বাভাবিক পোশাক পরবে, সুগন্ধি ব্যবহার করবে এবং স্ত্রী সহবাস ব্যতীত ইহরামের সকল নিষিদ্ধ বিষয় তার জন্য হালাল হয়ে যাবে।

৪- মক্কায় গিয়ে বাইতুল্লাহর তাওয়াফে ইফাযা, যা হজের তাওয়াফ এবং হজের সায়ী করবে, যদি সে তামাত্তু হজ পালনকারী হয়, অনুরূপভাবে যদি ইফরাদ বা কিরান হজ পালনকারী হয়ে থাকে এবং তাওয়াফে কুদুমের সাথে সায়ী না করে থাকে।

এর মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ের হালাল সম্পন্ন হবে এবং স্ত্রী সহবাসসহ ইহরামের অবস্থায় নিষিদ্ধ সবকিছুই তার জন্য হালাল হয়ে যাবে।

৫. মিনায় ফিরে যাবে এবং সেখানে দশ তারিখ দিবাগত ১১ই জিলহজের রাত্রি যাপন করবে।

চতুর্থ দিবসের আমল যা একাদশ দিন:

১. তিনটি জামারায়—প্রথম, অতঃপর মধ্যম, অতঃপর জামরাতুল আকাবায়—কঙ্কর নিক্ষেপ করবে। প্রতিটিতে সাতটি করে কঙ্কর ধারাবাহিকভাবে নিক্ষেপ করবে এবং প্রতিটি কঙ্কর নিক্ষেপের সময় ”আল্লাহু আকবার” বলবে। যোহরের পর কঙ্কর নিক্ষেপ করবে, এর আগে নিক্ষেপ করা জায়েয নয়। আর প্রথম ও মধ্যম জামারায় পাথর নিক্ষেপের পর দোয়ার জন্য দাঁড়াবে।

২- মিনায় এগার তারিখ দিবাগত ১২ তারিখের রাত্রি যাপন করবে।

পঞ্চম দিনের আমল যা দ্বাদশ দিন

১. চতুর্থ দিনের মত তিনটি জামরায় পাথর নিক্ষেপ করবে।

২- তাড়াতাড়ি করতে চাইলে সূর্যাস্তের পূর্বে মিনা থেকে প্রস্থান করবে, অথবা বিলম্ব করতে চাইলে মিনায় রাত্রিযাপন করবে।

ষষ্ঠ দিনের আমল যা ত্রয়োদশ দিন

এই দিনটি তাদের জন্য যারা বিলম্ব করে এবং এ দিনের করণীয়সমূহ হল:

১- পূর্ববর্তী দুই দিনের মতোই তিনটি জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করবে।

২- এরপর মিনা থেকে প্রস্থান করবে।

আর সর্বশেষ কাজ হলো (মক্কা থেকে) সফরের সময় বিদায়ী তাওয়াফ করা। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।