“সব কাজ (এর প্রাপ্য) হবে নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে
আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস উমার ইবনুল খাত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি:
“সব কাজ (এর প্রাপ্য) হবে নিয়ত অনুযায়ী। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী প্রতিফল পাবে। কাজেই যার হিজরত হবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হয়েছে বলেই ধরা হবে। আর যার হিজরত হয় দুনিয়া অর্জনের জন্য বা কোন নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে, তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই হবে যে উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।”
«إنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَهِجْرَتُهُ إلَى مَا هَاجَرَ إلَيْهِ».
এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন যে, আমলসমূহ নিয়তের উপর নির্ভরশীল। ইবাদত ও লেনদেনসহ সকল কাজের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি তার আমলের দ্বারা শুধু পার্থিব উপকারিতা লাভের উদ্দেশ্য করবে সে শুধু উক্ত উপকারিতাই লাভ করবে, কোন সাওয়াব প্রাপ্ত হবে না। অপরদিকে যদি কেউ তার আমলের দ্বারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য উদ্দেশ্য করলে, সে উক্ত আমলের দ্বারা সাওয়াব ও প্রতিদান লাভ করবে; যদিও কাজটি সাধারণ কোন কাজ হয়, যেমন খাওয়া বা পান করা। অতপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাজের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রভাব বুঝাতে একটি উদাহরণ পেশ করেছেন; যদিও বাহ্যিক দৃষ্টিতে কাজ দুটি সমান। তিনি বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি স্বীয় দেশ ত্যাগ করে হিজরত করবে এবং সে উক্ত হিজরতের দ্বারা তার রবের সন্তুষ্টি তালাশ করবে, তাহলে তার হিজরত শরী‘য়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য হিজরত বলে বিবেচিত হবে এবং তার নিয়াতের বিশুদ্ধতার কারণে সে সাওয়াবের অধিকারী হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি পার্থিব সুযোগ-সবিধার জন্য যেমন, ধন-সম্পদ, সুনাম-সুখ্যাতি, ব্যবসা-বাণিজ্য বা স্ত্রী ইত্যাদি লাভের উদ্দেশ্যে হিজরত করবে, তবে সে উক্ত হিজরতের দ্বারা শুধু পার্থিব উদ্দেশ্যই হাসিল করবে, এতে তার কোন সাওয়াব এবং পুরস্কার প্রাপ্তি হবে না।
ইখলাসের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা একমাত্র সেই আমলটিই গ্রহণ করে থাকেন, যা তাঁর জন্যই সওয়াবের উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে।
বান্দাহ যেসব কাজের দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে থাকে, সেসব কাজ যদি সে (সাওয়াবের নিয়াত ব্যতীত) স্বাভাবিকভাবে করে , তবে তাতে কোন সাওয়াব অর্জিত হয় না; যতক্ষণ সে উক্ত কাজ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে না করবে।
নিয়ত ইবাদতের মাঝে একটিকে আরেকটি হতে পৃথক করে অনুরূপভাবে অভ্যাস হতে ইবাদতকেও পৃথক করে।
সহীহ বুখারী (9/ 22) (6953).
(1/ 6) (1).
সহীহ মুসলিম (3/ 1515) (1907).
আরও ... (8)
التحفة الربانية في شرح الأربعين حديثًا النووية (ص5).
شرح الأربعين النووية.
لابن عثيمين (ص5).
فتح القوي المتين في شرح الأربعين وتتمة الخمسين.
للعباد (ص8).
شرح النووي على مسلم (13/ 54).
تاج العروس من جواهر القاموس.
للزبيدي (7/ 196).
গ্রন্থসমূহে উদ্ধৃত
4 বইআরও ... (4)
- العلم الواجب بدون فقه وبدون زيادات1عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ -رَضِي اللَّهُ عَنْهُ- قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ- يَقُولُ: (إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَّا نَوَى، فَمَن كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى الله
- شرح الأربعين النووية«إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَنْكِحُهَا فَ
- ما لا يسع أطفال المسلمين جهله«إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ؛ فَهِجْرَتُهُ إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ لِدُنْيَا يُصِيبُهَا، أَوِ امْرَأَةٍ يَنْكِحُه
- مجموعة زاد الحديث (1)الحديث 1«فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إِلَى الله وَرَسُولِهِ فَهجْرَتُهُ إلى الله ورسوله»