Skip to content
شروط الصلاة وأركانها وواجباتها

شروط الصلاة وأركانها وواجباتها

সালাতের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ লেখক: শাইখুল ইসলাম মুজাদ্দিদ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব-রহিমাহুল্লাহ- (১১১৫-১২০৬) হিজরী এটি তাহকীক করেছেন, এতে যত্ন নিয়েছেন ও এর হাদীসসমূহের তাখরীজ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দা ড. সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহফ আল-কাহতানী পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

Language: lang_bn
Prepared by:
Version: 1.0

সালাতের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ

লেখক: শাইখুল ইসলাম মুজাদ্দিদ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব-রহিমাহুল্লাহ-

(১১১৫-১২০৬) হিজরী

এটি তাহকীক করেছেন, এতে যত্ন নিয়েছেন ও এর হাদীসসমূহের তাখরীজ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার প্রতি মুখাপেক্ষী বান্দা

ড. সাঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহফ আল-কাহতানী

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

তাহকীককারীর ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তার প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ইস্তেগফার করি। আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের নিজেদের নফসের অনিষ্টসমূহ এবং আমাদের কর্মের অকল্যাণ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ তা‘আলা যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্টকারী কেউ নেই আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ প্রদর্শনকারীও কেউ নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক, তার কোনো শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। আল্লাহ তার উপর, তার পরিবারবর্গ ও তার সাহাবীদের উপর অনেক অনেক সালাত ও সালাম নাযিল করুন। অতঃপর:

মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব কর্তৃক রচিত “সালাতের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ” কিতাবটি সবচেয়ে উপকারী কিতাবসমূহের একটি। বিশেষত: প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য, বরং আল্লাহ তার দ্বারা বিশেষ ও সাধারণ উভয় শ্রেণিকে উপকৃত করেছেন, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তার সমস্ত গ্রন্থ দ্বারা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তরে উপকৃত করেছেন আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ তার উপর ও সমস্ত মানুষের উপর।

সম্মানিত শাইখ ইমাম আবদুল আযীয ইবন আব্দুল্লাহ ইবন বায রাহিমাহুল্লাহ তার বাড়ির পাশের মসজিদে বরকতময় এই কিতাবটির ব্যাখ্যা করেছেন। তার সামনে এটি পাঠ করেছেন উক্ত মসজিদের ইমাম শাইখ মুহাম্মদ ইলিয়াস আব্দুল কাদির। আর তা ছিল আনুমানিক ১৪১০ হিজরী। শাইখ এশার সালাতের আযান ও ইকামতের মাঝে পাঁচ দিনের পাঁচটি মজলিসে কিতাবটি মুসল্লিদের জন্য ব্যাখ্যা করেন, যা ছিল বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, তাহকীককৃত, সংক্ষিপ্ত ও উপকারী। এই পাঁচটি দারসের সর্বমোট সময় ৯০ মিনিট, যা আনুমানিক ২৫ বছর ১৪৩৫ হিজরী মুহাররম মাস পর্যন্ত একটি ক্যাসেটে আমার কাছে সংরক্ষিত ছিল। এরপর আল্লাহ তা‘আলা তা উন্মুক্তকরণের তাওফীক দান করেছেন।

আর আমার কাজটি ছিল নিম্নরূপ:

১. আমি শাইখ রহিমাহুল্লাহর কথাগুলো ধারণকৃত অডিও হতে যত্ন সহকারে সূক্ষ্মভাবে শব্দে শব্দে তুলনা করেছি, চাই তা মূলপাঠ হোক অথবা ব্যাখ্যা। আর সকল প্রসংশা আল্লাহর জন্যই।

২. ‘সালাতের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ’ কিতাবটির মূল পাঠ চারটি পাণ্ডুলিপির মাঝে তুলনা করেছি: শাইখের কাছে পাঠকারী ব্যক্তির পাণ্ডুলিপি, যা তিনি শাইখের কাছে পড়েছিলেন আর শাইখ শুনছিলেন। আর আমি তা মূল বানিয়েছি। আর হাতে লেখা দুইটি পাণ্ডুলিপির ওপর: প্রথম পাণ্ডুলিপি: সুষ্পষ্ট ও সুন্দর লেখার পূর্ণাঙ্গ কপি, যা ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ আদ-দাওয়ীইয়ান ৬/৫/১৩০৭ হিজরী তারিখে লিপিবদ্ধ করেছেন, যা বাদশা ফয়সাল গবেষণা ও ইসলাম শিক্ষা ইন্সটিটিউটের মাইক্রোফিল্ম নং: ৫২৫৮ তে সংরক্ষিত আছে। এর মূল পান্ডুলিপি কাসীম শহরের জামে উনাইযাহর লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত আছে। আর এই পাণ্ডুলিপি কয়েকটি পাণ্ডুলিপির সঙ্গে একত্রে ছিল, আর তা হলো: সালাসাতুল উসূল, আল-কাওয়াইদুল আরবাআ ও ‘কাশফুশ শুবুহাত। সবগুলো কিতাবই লেখক রহিমাহুল্লাহর। আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিটি বাদশাহ ফয়সাল ইন্সটিটিউটে ৫২৬৫ নং মাইক্রোফিল্মে সংরক্ষিত। এর মূল পান্ডুলিপির স্থান হচ্ছে কাসীম শহরের জামে উনাইযাহর লাইব্রেরী। আর তাও কয়েকটি পাণ্ডুলিপির সঙ্গে রয়েছে, আর তা হলো: সালাসাতুল উসূল, আরবাউ কাওয়াইদ, কিতাবুত তাওহীদ ও আদাবুল মাশই লিস-সালাত’। সবগুলোই লেখক রহিমাহুল্লাহর। আর এর সাথে অনুরূপভাবে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহর ‘আল-আকাদাতুল ওয়াসিতিয়্যাহ’ এর হস্তলিপিও রয়েছে। আর এই দ্বিতীয় পান্ডুলিপিটি লেখা হয়েছে ১৩৩৮ হিজরীতে, কিন্তু তার অনুলিপিকারক নিজের নাম তাতে লেখেননি। আর তাও সুস্পষ্ট ও সুন্দর হাতের লেখা। কিন্তু সেখানে সামান্য ছেঁড়া রয়েছে, যা লেখকের কথা: «والدليل قوله تعالى: «ومن يبتغ غير الإسلام ديناً فلن ... থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: في الوقتين...» পর্যন্ত বিস্তৃত। আর এই পাণ্ডুলিপিটি আমি অন্যান্য পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করেছি। আর চতুর্থ পাণ্ডুলিপি হচ্ছে: ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সা‘ঊদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হতে প্রকাশিত, যার বিশুদ্ধকরণ ও হস্তলিখিত পান্ডুলিপি ৮৬/২৬৯ এর সাথে তুলনাকরণ করেছেন শাইখ আব্দুল আজিজ ইবন যায়েদ আর-রুমি ও শাইখ সালেহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-হাসান।

৩. আমি পাণ্ডুলিপিগুলোর পার্থক্য হাশিয়াতে (টিকায়) উল্লেখ করেছি।

৪. আয়াতগুলোকে তার সূরাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছি।

৫. সমস্ত হাদীস ও আছারের তাখরীজ করেছি।

৬. হাদীস, আয়াত ও আছারের জন্য সূচীপত্র তৈরি করেছি।

৭. আমি ব্যাখ্যটির নামকরণ করেছি: “আশ-শারহুল মুমতায লি সামাহাতিশ শাইখ আল-ইমাম ইবন বায।” আমি যখন উল্লিখিত আশ-শারহুল মুমতায সমাপ্ত করেছি ও তা ছাপানো হয়েছে, তখন ইচ্ছা করলাম যে, “সালাতের শর্ত, রুকন ও ওয়াজিবসমূহ” গ্রন্থটির মূল পাঠকে একটি স্বতন্ত্র কিতাবে আশ-শারহুল মুমতায থেকে আলাদা করি, তাতে ব্যয় করা সকল বৈশিষ্ট্যসহ। হয়তো আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লা তার দ্বারা উপকৃত করবেন। অধিকন্তু ব্যাখ্যা থেকে তা আলাদা করায় তা মুখস্ত করার জন্যে সহজ হবে, বিশেষভাবে প্রাথমিক শিক্ষার্থী ও অন্যান্যদের জন্য। আর যে উল্লেখিত আশ-শারহুল মুমতায’-এ যেতে চাইবে সে তাতে ফিরে যাবে।

আর আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যে, তিনি আমার এই কাজকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য গ্রহণ করুন। এর দ্বারা তার লেখক ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওহাহহাব রহিমাহুল্লাহ ও তার ব্যাখ্যকার আমাদের শাইখ ইবনু বাযকে রাহিমাহুল্লাহকে উপকৃত করুন। এবং তাদের দুজনের জন্যই তা উপকারী ইলম করুন। আর তিনি তার দ্বারা আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে আমাকে উপকৃত করুন এবং তা যার কাছে পৌঁছবে তাকেও তার দ্বারা উপকৃত করুন। কেননা তিনিই সর্বোত্তম প্রার্থনার আশ্রয়স্থল, সর্বোত্তম আকাংখাস্থল। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক! আর সুউচ্চ ও সুমহান আল্লাহর তাওফীক ব্যতীত (ভালো কাজ করা কিংবা খারাপ কাজ থেকে বাঁচার) কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। আল্লাহর পক্ষ হতে রহমত ও সালাম বর্ষিত হোক, আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপরে, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর।

লিখেছেন: আবূ আব্দুর রহমান

সা‘ঈদ ইবন আলী ইবন ওয়াহফ আল-কাহতানী

যুহরের সালাতের পর বুধবার ২৫/০৫/১৪৩৫ হিজরীতে লেখা হয়েছে।

ষষ্ঠ পৃষ্ঠাটি বাদশা ফয়সাল সেন্টারে বিদ্যমান ৫২৫৮ ক্রমিকের প্রথম পাণ্ডুলিপি থেকে, যা কাসীম শহরের জামে উনাইযাহর লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

পশ্চম পৃষ্ঠাটি বাদশা ফয়সাল সেন্টারে অবস্থিত ৫২৫৮ ক্রমিকের দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি থেকে।

তাও কাসীম শহরের জামে উনাইযাহর লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

[লেখক শাইখুল ইসলাম মুজাদ্দিদ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুল ওয়াহহাব -রহিমাহুল্লাহ- বলেন:

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

সালাতের শর্তসমূহ নয়টি:

ইসলাম, বিবেক, (ভালো-মন্দ) পার্থক্য করার জ্ঞান, অপবিত্রতা হতে মুক্ত হওয়া, নাপাকী দূর করা, সতর ঢাকা, সালাতের ওয়াক্ত হওয়া, ক্বিবলার দিকে মুখ ফিরানো এবং নিয়ত করা।

প্রথম শর্ত: ইসলাম আর তার বিপরীত হলো কুফর। আর কাফিরের আমল প্রত্যাখ্যাত, সে যে আমলই করুক না কেন[১], [২], দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “মুশরিকরা যখন নিজেরাই নিজেদের কুফরী স্বীকার করে তখন তারা আল্লাহর মসজিদসমূহের আবাদ করবে, এমন হতে পারে না। তারা এমন যাদের সব কাজই নষ্ট হয়েছে এবং তারা আগুনের মধ্যে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে থাকবে।” [৩], আল্লাহ তা‘আলার আরেকটি বাণী: “আর তারা যে কাজ করেছে আমি সেদিকে অগ্রসর হব। অতঃপর তাকে বিক্ষিপ্ত ধূলিকণায় পরিণত করে দেব।” [৪] [১] হস্তলিখিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: “আর কাফিরের আমল প্রত্যাখ্যাত, মুসলিম ছাড়া কারো থেকে সালাত কবুল করা হবে না। দলীল হলো আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “আর কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন অন্বেষণ করলে, তা কখনো তার পক্ষ থেকে কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।” আর কাফির ব্যক্তির আমল তার উপরে প্রত্যাখ্যাত হবে, সে যে আমলই করুক না কেন...” [২] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে এখানেই ছেঁড়ার শুরু হয় আর তার শেষ হলো নবম শর্তের মাঝামাঝিতে। [৩] সূরা তাওবাহ, আয়াত: ১৭। [৪] সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ২৩।

দ্বিতীয় (শর্ত) [৫]: বিবেক আর তার বিপরীত হচ্ছে পাগলামী। আর পাগলের উপর হতে কলম তুলে নেওয়া হয়, যতক্ষণ না সে জ্ঞানে ফিরে আসে। দলীল হচ্ছে, এই হাদীস [৬]: “তিন শ্রেণির উপর হতে কলম তুলে নেওয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, পাগল, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায় এবং নাবালক, যতক্ষণ না সে বালিগ হয়।” [৭] [৫] কারী ও জামি‘আর নুসখাতে ‘শর্ত’ শব্দ ছাড়াই ‘দ্বিতীয়’ শব্দটি রয়েছে। [৬] কারী ও জামি‘আর পাণ্ডুলিপিতে ‘আল-হাদীস’ শব্দ রয়েছে, আর প্রথম হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায়, কারণ হাদীসে এসছে... হাদীসটি বর্ণনা করেছেন আবূ দাউদ, কিতাবুল হুদূদ, বাবটি হলো পাগল প্রসঙ্গে, যে চুরি করে অথবা হদের উপযুক্ত হয়। হাদীস নং: ৪৪০৫, যার শব্দ হচ্ছে: আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করে বলেন, “তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, নাবালক যতক্ষণ না তার স্বপ্নদোষ ঘটে এবং পাগল যতক্ষণ না তার জ্ঞান ফিরে আসে।” ঘুমন্ত ব্যক্তি, পাগল এবং নাবালক এদের তারতীবের বিভিন্নতার সাথে কাছাকাছি শব্দে অন্যান্য হাদীসও রয়েছে। আর এগুলোর সবই আলী রাদিয়াল্লাহু তা'আলা ‘আনহু থেকে বর্ণিত। তিরমিজি বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত কিতাবুল হুদুদ, বাব: যাদের উপরে হদ্দ কায়েম হওয়া ওয়াজিব নয় এমন ব্যক্তিগণ, হাদীস নং: ১৪২৩, আহমাদ, ০২/৪৬১, হাদীস নং: ১৩৬২, হাকিম, ০২/৫৯, তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী এ ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন। ‘মুসনাদ’ এর অন্যান্য মুহাক্বিকগণও এটিকে সহীহ লিগাইরিহী বলেছেন, ০২/৪৬১, আল্লামা আলবানী ‘ইরওয়াউল গালীল’ গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন, ০২/০৫। এছাড়াও আয়িশাহ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তিন ব্যক্তি থেকে কলমকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি হতে, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, অসুস্থ ব্যক্তি হতে, যতক্ষণ না সে সুস্থ হয় এবং শিশু বা নাবালক হতে, যতক্ষণ না সে প্রাপ্ত বয়স্ক হয়।” আবূ দাউদ, কিতাবুল হুদূদ, বাব: যদি কোন পাগল চুরি করে অথবা হদ কায়েমযোগ্য এমন অপরাধে লিপ্ত হয়, হাদীস নং: ৪৪০০। আহমাদ আরো বর্ণনা করেছেন, ৪২/৫১, হাদীস নং: ২৫১১৪। এবং অন্যান্য স্থানেও রয়েছে কাছাকাছি শব্দে। মুসনাদের মুহাক্কিকগণ এর ইসনাদকে উত্তম বলেছেন, ৪২/৫১ এবং আলবানী ‘ইরওয়াউল গালীল’ গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন, ০২/০৪।

তৃতীয়: তামঈয (ভালো-মন্দ তফাৎ করার শক্তি) আর তার বিপরীত হচ্ছে শিশু হওয়া, যার সীমা হচ্ছে সাত বছর। অতঃপর তাকে সালাতের ব্যাপারে আদেশ করা হবে [৮]; কারণ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সাত বছরে উপনীত হলে, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সালাতের ব্যাপারে আদেশ কর। দশ বছরে উপনীত হলে তাদেরকে সালাতের জন্য প্রহার কর এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও।”[৯] [৮] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে আছে: «يؤمر بالصلاة» “তাকে সালাতের ব্যাপারে আদেশ করা হবে” ثم “অতঃপর” শব্দ ছাড়াই। [৯] হাদীসটি আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাত, বাব: সন্তানকে কখন সালাতের ব্যাপারে আদেশ করা হবে, হাদীস নং: ৪৯৫, হাদীসটির শব্দ হচ্ছে: “তোমাদের সন্তানদেরকে সালাতের আদেশ দাও, যখন তারা সাত বছরের হয় এবং তাদেরকে এ ব্যাপারে প্রহার কর, যখন তারা দশ বছরের হয়। আর তাদের মধ্যে বিছানাকে আলাদা করে দাও।” এছাড়াও আহমাদ, ১১/৩৬৯, হাদীস নং: ৬৭৫৬, যার শব্দগুলো এমন: “সাত বছরে উপনীত হলে, তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে সালাতের ব্যাপারে আদেশ কর। দশ বছরে উপনীত হলে তাদেরকে সালাতের জন্য প্রহার কর। এবং তাদের বিছানা আলাদা করে দাও। আর যদি তোমাদের মধ্য হতে কেউ তার দাস অথবা শ্রমিককে বিবাহ দেয়, তবে সে যেন তার গোপনাঙ্গের কোনো অংশের দিকে না তাকায়; যেহেতু তার নাভীর নিচ হতে তার দুই হাটু পর্যন্ত হচ্ছে তার গোপনাঙ্গ।” আহমাদ আরো বর্ণনা করেছেন, হাদীস নং: ৬৬৮৯, যার শব্দগুলো এমন: “তোমাদের শিশুদেরকে সালাতের ব্যাপারে আদেশ কর, যখন তারা সাত বছরে পৌঁছায়। তাদেরকে সালাতের ব্যাপারে প্রহার কর, যখন তারা দশ বছরে পৌঁছায়। আর তাদের বিছানাকে আলাদা করে দাও।” আমর ইবনু শু‘আইব তার পিতা হতে, তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেছেন। মুসনাদের মুহাক্কিকগণ এর ইসনাদকে হাসান বলেছেন, ১১/৩৬৯ এবং আলবানী ‘ইরওয়াউল গালীল’ গ্রন্থে এটিকে সহীহ বলেছেন, ০১/২৬৬।

চতুর্থ শর্ত[১০]: অপবিত্রতা দূর করা। আর তা হচ্ছে প্রসিদ্ধ অযু। অপবিত্রতা (হাদাস) অযুকে আবশ্যক করে। [১০] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে: “চতুর্থ” রয়েছে “শর্ত” ছাড়াই। আর তাই রয়েছে কারীর নুসখা ও জামি‘আহর প্রকাশনায়।

তার শর্ত দশটি: ইসলাম, আকল (বিবেক), তামঈয (ভালো মন্দ পার্থক্যের বয়স), নিয়ত এবং নিয়তের হকুম বলবৎ থাকা অর্থাৎ অযু পূর্ণ হওয়ার আগ পর্যন্ত তা ভাঙ্গার নিয়ত না করা [১১], অযু ওয়াজিব করে এমন কোনো বিষয় না থাকা, অযুর আগে ঢিলা-কুলুপ বা পানি ব্যবহার করা, পানির পবিত্রতা ও বৈধতা অক্ষুন্ন থাকা, চামড়াতে পানি পৌঁছতে বাধা দেয় এমন কিছু থাকলে তা সরিয়ে ফেলা এবং তার ফরযের ওয়াক্ত প্রবেশ করা [১২], এটি ঐ ব্যক্তির ওপর যার হাদাস বা অপবিত্রতা স্থায়ী। [১১] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে আছে: «طهارته» “তার পবিত্রতা” অর্থাৎ নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক আলিফ-লাম ছাড়া। তবে কারীর নুসখাতে ও জামি‘আহর প্রকাশনায় আলিফ-লাম রয়েছে। [১২] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে আছে: «ودخول الوقت» আর ‘ওয়াক্ত প্রবেশ করা’।

আর অযুর ফরজ ছয়টি: মুখমন্ডল ধোয়া, এর মধ্যে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া অন্তর্ভুক্ত, মুখমন্ডলের দৈর্ঘ্য সীমা হচ্ছে: চুল জন্মানোর স্থান হতে চিবুক পর্যন্ত, আর প্রস্থ সীমা হচ্ছে দুই কানের প্রশাখা পর্যন্ত। দুইহাত কনুই পর্যন্ত ধোয়া, সমস্ত মাথা মাসেহ করা, যার মধ্যে দুই কান অন্তর্ভুক্ত। দুই পা টাখনুসহ ধোয়া। তারতীব ও অবিচ্ছিন্নতা রক্ষা করা।[১৩] এর দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: “হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতে দণ্ডায়মান হতে চাও, তখন তোমাদের মুখ ও কনুই পর্যন্ত হাত ধৌত কর, মাথা মাসেহ কর এবং দুই টাখনু পর্যন্ত [১৪] পা (ধৌত কর)।[১৪]”(আয়াত)[১৫] [১৩] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে الموالاة এর পরে আছে: “এবং অযুর ওয়াজিব হচ্ছে: উচ্চারণ করে তাসমিয়াহ তথা বিসমিল্লাহ পড়া।” [১৪] সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ০৬। [১৫] (আয়াত) শব্দটি প্রথম পাণ্ডুলিপিতে নেই। দ্বিতীয়টিতেও নেই।

আর তারতীবের দলীল হচ্ছে, এই হাদীস: “তোমরা শুরু কর, যেটি দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন” [১৬] [১৬] নাসাঈ তা বর্ণনা করেছেন, কিতাবু মানাসিকিল হজ্জ, বাব: তাওয়াফের দুই রাকাত সালাতের পরে কথা বলা, হাদীস নং: ২৯৬২। জাবির রদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীস, আলবানী তামামুল মিন্নাহ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, পৃ.: ৮৮। মুসলিম কিতাবুল হজ্জ, বাব: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হজ্জ আদায়, হাদীস নং: ১২১৮, যার শব্দ এরূপ: “তুমি শুরু কর, যেটি দিয়ে আল্লাহ শুরু করেছেন।”

অবিচ্ছিন্নতার দলীল হচ্ছে: পা শুকনো থাকা ব্যক্তির হাদীস, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি একদা এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, তার পায়ে [১৭] এক দিরহাম পরিমাণ শুকনো একটি জায়গা রয়েছে, যেখানে পানি পৌঁছেনি। তখন তিনি তাকে আদেশ দিলেন [১৮] পুনরায় অযু করার জন্য। [১৯] [১৭] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে «في رجله» অর্থ্যাৎ ‘তার পায়ে’, শব্দটি [ في قَدَمِهِ] এর পরিবর্তে উল্লেখ রয়েছে। [১৮] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে «أمره بالإعادة», শব্দটি [فأمره بالإعادة] এর পরিবর্তে উল্লেখ রয়েছে। [১৯] আবূ দাঊদ, কিতাবুত ত্বহারাত, বাব: অযুর ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা, হাদীস নং: ১৭৫; আহমাদ: ২৪/২৫১, হাদীস নং ১৫৫৯৫, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কতিপয় সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একদা এক ব্যক্তিকে সালাত আদায় করতে দেখলেন, তার পায়ের উপরিভাগে এক দিরহাম সমপরিমাণ একটি শুকনো স্থান আছে, যেখানে পানি পৌঁছায়নি, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে আদেশ করলেন, সে যেন অযু এবং সালাত পুনরায় আদায় করে। মুসনাদের মুহাক্কিকগণ এটিকে সহীহ লি গায়রিহি বলেছেন, ২৪/২৫২। আলবানী সহীহু আবী দাঊদ গ্রন্থে, ০১/৩১০, হাদীস নং: ১৬৮। ইবনু দাক্বীকুল ঈদ তার ‘ইলমাম’ গ্রন্থের ১৫ পৃষ্ঠাতে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এর ইসনাদ জাইয়িদ (ভাল)। ইমাম ইবনু মাযাহ তার সুনান গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাত, বাব: যে ব্যক্তি অযু করে কিন্তু তার কোন একটি স্থানে পানি না পৌঁছায়, হাদীস নং: ৬৬৬। এটি উমার ইবনুল খত্তাব রদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত।

এবং অযুর ওয়াজিব হচ্ছে: উচ্চরণসহ তাসমিয়াহ তথা বিসমিল্লাহ পড়া। [২০] [২০] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে এই বাক্যটি «والموالاة». এর পরে উল্লেখিত হয়েছে।

অযু ভঙ্গকারী বিষয় আটটি: পেশাব-পায়খানার রাস্তা হতে কোনো কিছু বের হওয়া, শরীর থেকে কোনো নাপাকী বের হওয়া [২১], জ্ঞান হারানো, উত্তেজনাসহ নারীকে স্পর্শ করা [২২], পিছনের বা সামনের [২৩] গোপনাঙ্গ হাত দ্বারা স্পর্শ করা, উটের গোশত খাওয়া, মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো [২৪], এবং মুরতাদ হয়ে যাওয়া। আল্লাহ আমাদেরকে তা হতে হেফাযত করুন। [২১] «النجس» শব্দটি প্রথম পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ নেই। [২২] আমাদের শাইখ ইবনু বায রহিমাহুল্লাহ আশ-শারহুল মুমতায পৃ.৬৮-এ “স্ত্রীকে কামভাবসহ স্পর্শ করা যখন মযী বা অনুরুপ কিছু বের না হয় এই আলোচনাতে বলেন,: “সঠিক কথা হচ্ছে যে, তাতে অযু নষ্ট হবে না; কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার স্ত্রীদের চুমু খেতেন এরপরে তিনি অযু করতেন না।” [আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৪২/৪৯৯, হাদীস নং: ২৫৭৬৬, আবূ দাঊদ: হাদীস নং: ১৭৯, তিরমিযী, হাদীস নং: ৮৬ এবং অন্যান্য। মুসনাদের মুহাক্কিকগণ এর সানাদকে সহীহ বলেছেন, ৪২/৪৯৯। সহীহ আবী দাঊদ গ্রন্থে আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন: ০১/৩২২] আর আল্লাহর বাণী: “অথবা তোমরা যদি তোমাদের স্ত্রীদেরকে স্পর্শ কর।” [সূরা আন-নিসা: ৪৩], এটা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে সহবাস। [২৩] “كان” শব্দটি প্রথম নুসখাতে নেই। [২৪] আর সঠিক কথা হচ্ছে: মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো, অযু ভঙ্গের কারণ নয়। যদি না গোসল প্রদানকারীর হাত মৃতের গুপ্তাঙ্গ সরাসরি স্পর্শ করে থাকে। আশ-শারহুল মুমতায গ্রন্থে আমাদের শাইখ ইবনু বায এ মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। পৃষ্ঠা: ৭০।

পঞ্চম শর্ত [২৫]: তিনটি জিনিস থেকে নাজাসাত (অপবিত্রতা) দূর করতে হবে: শরীর, কাপড় এবং যমীন। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “আর আপনার পরিচ্ছদ পবিত্ৰ করুন।” [২৬] [২৫] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে ‘শর্ত’ শব্দটির উল্লেখ নেই। শুধু “পঞ্চম” উল্লেখ আছে। [২৬] সূরা আল-মুদ্দাচ্ছির, আয়াত: ০৪।

ষষ্ঠ শর্ত: সতর ঢাকা: আলেমগণ ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, সতর ঢাকতে সামর্থ ব্যক্তি উলঙ্গ হয়ে সালাত আদায় করলে, তার সালাত হবে না। পুরুষের সতরের সীমা হচ্ছে: নাভী হতে হাটু পর্যন্ত। দাসীর সতরও অনুরূপ, আর স্বাধীনা নারীর গোটা শরীরই সতর, শুধু তার মুখমণ্ডল ব্যতীত। দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “হে আদম সন্তান প্রত্যেক মসজিদের কাছে তোমরা তোমাদের সৌন্দর্যকে অবলম্বন করো।” [২৭] তথা প্রতিটি সালাতের সময়ে। [২৭] সূরা আল-আ‘রাফ, আয়াত: ৩১।

সপ্তম শর্ত: ওয়াক্ত হওয়া। সুন্নাহ থেকে এর দলীল হচ্ছে, জিবরীল-আলাইহিস সালামের হাদীস যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইমামতি করলেন প্রথম এবং শেষ ওয়াক্তে [২৮], এরপর বললেন: “হে মুহাম্মাদ! এই দুই ওয়াক্তের মধ্যবর্তী সময়ে সালাত আদয় করতে হবে।” [২৯]। [২৮] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে «في» ছাড়া শুধু «وآخره» শব্দ রয়েছে। [২৯] ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বাইতুল্লাহর নিকট জিবরীল আলাইহিস সালাম দু’বার আমার সালাতে ইমামতি করেছেন। (প্রথমবার) সূর্য (পশ্চিম আকাশে) ঢলে যাওয়ার পর আমাকে নিয়ে তিনি যুহর সালাত আদায় করলেন। তখন (পূর্ব দিকে) জুতার ফিতার সমান ছায়া দেখা দিয়েছিল। অতঃপর তিনি আমাকে নিয়ে ‘আসরের সালাত আদায় করলেন, যখন (প্রত্যেক বস্তুর) ছায়া তার সমান হয়। এরপর আমাকে নিয়ে তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন, যখন সিয়াম পালনকারী ইফতার করে থাকে। এরপর তিনি আমাকে নিয়ে ‘ইশার সালাত আদায় করলেন, যখন শাফাক্ব (লাল শুভ্র রং) অন্তর্হিত হয় এবং ফজরের সালাত আদায় করলেন, যখন সিয়াম পালনকারীর জন্য পানাহার হারাম হয়ে যায়। (দ্বিতীয়বারে) পরের দিন তিনি আমাকে নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন, (প্রত্যেক বস্তুর) ছায়া যখন সমান হলো। তিনি আমাকে নিয়ে ‘আসর সালাত আদায় করলেন, যখন ছায়া তার দ্বিগুণ হলো। তিনি আমাকে নিয়ে মাগরিবের সালাত আদায় করলেন, যখন সিয়াম পালনকারীর ইফতারের সময় হয়। তিনি আমাকে নিয়ে ‘ইশা সালাত আদায় করলেন রাতের তৃতীয়াংশে এবং ফজর সালাত আদায় করলেন ভোরের আলো ছড়িয়ে যাওয়ার পর। অতঃপর তিনি (জিবরীল) আমার দিকে ফিরে বললেন, হে মুহাম্মাদ! এটাই হচ্ছে আপনার পূর্ববর্তী নবীগণের সালাতের ওয়াক্ত এবং সালাতের ওয়াক্তসমূহ এই দু’ সময়ের মাঝখানেই নিহিত। আবু দাউদ, সালাত অধ্যায়, বাব: সালাত ফরয হওয়া, হাদীস নং: ৩৯৩। তিরমিযী, কিতাবুস সালাত, বাব: সালাতের ওয়াক্ত সমূহের বর্ণনা, হাদীস নং: ১৪৯। শাফিঈ তার মুসনাদ গ্রন্থে, ১/২৬। আহমদ, ৫/২০২, হাদীস নং: ৩০৮১।ইবনু খুযাইমাহ, ১/১৬৮, হাদীস নং: ৩২৫। হাকিম, ১/১৯৩। আর এই হাদীসের শব্দটি মূলত ইমাম আবু দাউদের এবং হাকিম এটিকে সহীহ বলেছেন, ১/১৯৩। এবং মুসনাদের মুহাক্কিকগণ এর ইসনাদকে হাসান বলেছেন, ৫/২০২। ইবনু আব্দুল বার তামহীদ গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, এবং যারা এ ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন তিনি তাদের প্রতিবাদ করেছেন, ৮/২৮। এছাড়াও আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন সহীহ আবী দাঊদ গ্রন্থে, হাদীস নং: ৩৭৭। হাদীসটি আরো সাব্যস্ত হয়েছে যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন, মসজিদ সমূহ এবং সালাতের স্থানসমূহের কিতাবে, বাব: পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের সময়, হাদীস নং: ৬১২, সালাতুল এশার ওয়াক্ত হচ্ছে মধ্যরাত পর্যন্ত। আবদুল্লাহ ইবন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমরা ফজরের সালাত আদায় করবে, সেটার ওয়াক্তের সীমা হচ্ছে সূর্যের প্রথম শিং উদিত হওয়া পর্যন্ত এবং যখন তোমরা যোহরের সালাত আদায় করবে তার সময় হচ্ছে আসর উপস্থিত হওয়ার আগ পর্যন্ত, আর যখন তোমরা আসরের সালাত আদায় করবে তার শেষ সীমা হচ্ছে যখন সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করে সে পর্যন্ত, যখন তোমরা মাগরিবের সালাত আদায় করবে তার শেষ ওয়াক্ত হচ্ছে যখন শাফাক গায়েব হয়ে যাওয়া পর্যন্ত, আর যখন তোমরা এশার সালাত আদায় করবে সেটা হচ্ছে মধ্যরাত পর্যন্ত।” সুতরাং এশার সালাতের ওয়াক্ত মধ্যরাত পর্যন্ত এটাই প্রাধান্যপ্রাপ্ত এবং নির্ভরযোগ্য মতামত।

আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “নিশ্চয় সালাত মুমিনদের উপরে ওয়াক্ত মোতাবেক লিখে দেওয়া হয়েছে।” [৩১]। অর্থাৎ: ওয়াক্তের মধ্যে ফরয করা হয়েছে। ওয়াক্তের দলীল [৩২] হচ্ছে, আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করুন, এবং ফজরের সালাত। নিশ্চয় ফজরের সালাত উপস্থিতির সময়।” [৩৩] [৩০] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির ছেঁড়া অংশ এখান থেকে শুরু হয়েছে। [৩১] সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১০৩। [৩২] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখিত রয়েছে: «الوقت» [৮৭] সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮৭।

অষ্টম শর্ত: কিববলার দিকে মুখ করা। দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “আমি অবশ্যই দেখছি আকাশের দিকে বার বার তোমার মুখ ফিরানোকে [৩৪]। অতএব আমি অবশ্যই তোমাকে এমন কিববলার দিকে ফিরাব, যাকে তুমি পছন্দ কর। সুতরাং তোমার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও এবং তোমরা যেখানেই থাক, তার দিকেই তোমাদের চেহারা ফিরাও।” [৩৫] [৩৪] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে শুধু «فولِّ وجهك شطر المسجد الحرام» উল্লেখ রয়েছে। আর আয়াতের বাকী অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে। আর হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির দ্বিতীয় নুসখাতে ﴿قَدْ نَرَى تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا﴾ কথার ওপর সংক্ষেপ করা হয়েছে। [৩৫] সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৪৪।

নবম শর্ত: নিয়ত করা। নিয়তের স্থান হচ্ছে অন্তর। এর উচ্চারণ করা বিদ‘আত। এর দলীল হচ্ছে এই হাদীস [৩৬]: “নিশ্চয় আমলসমূহ নিয়তের উপরে নির্ভরশীল। আর প্রতিটি ব্যক্তি তার নিয়ত অনুযায়ীই ফল পাবে।” [৩৭] [৩৬] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «حديث عمر، قال: قال رسول اللَّه -صلى الله عليه وسلم- :» আর দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে আছে: «والدليل: «إنما الأعمال بالنيات» [৩৭] বুখারী, নং: ০১, মুসলিম, নং: ১৯০৭। এর তাখরীজ আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সালাতের আরকান (রুকনসমূহ) চৌদ্দটি: সামর্থ থাকলে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা, তাকবীরে তাহরীমা বলা, সূরা ফাতিহা পড়া, রুকু করা, রুকু থেকে উঠে দাঁড়ানো, সাতটি অঙ্গের উপরে সিজদাহ করা [৩৭], সিজদা হতে সোজা হওয়া, দুই সিজদার মাঝখানে বসা[৩৯], প্রতিটি রুকনের মধ্যে প্রশান্ত থাকা, সেগুলির তারতীব ঠিক রাখা [৪০], শেষ তাশাহহুদ পড়া এবং তার জন্যে বসা, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপরে দরুদ পড়া এবং দুটি সালাম ফিরানো। [৩৮] এটি প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে আর দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে «والسجود على سبعة الأعضاء» রয়েছে। [৩৯] দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «والجلوس بين السجدتين». [৪০] দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত রয়েছে: «والموالاة».

প্রথম রুকন: সামর্থ থাকলে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা। দলীল হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ”তোমরা সালাতের প্রতি যত্নবান হবে [৪১], বিশেষত মধ্যবর্তী সালাতের এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তোমরা দাঁড়াবে বিনীতভাবে।”[৪২] [৪১] এটি প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে আর দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «وقوموا للَّه قانتين»، আয়াতটির বাকী অংশ উল্লেখ করা হয়নি। [৪২] সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৩৮।

দ্বিতীয় [৪৩]: তাকবীরে তাহরীমা বলা। দলীল হচ্ছে এই হাদীস [৪৪]: “সালাতের তাহরীমা হলো তাকবীর [৪৫] আর সালাত থেকে হালাল হওয়া হলো তাসলীম [৪৬]। এরপরে সূচনা করা, সেটি হচ্ছে -সুন্নাত- এ কথা বলা: [৪৭] «سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُكَ، وَلاَ إِلَهَ غَيْرك»যার অর্থ: “হে আল্লাহ! প্রশংসা ও পবিত্রতা আপনারই, আপনার নাম বরকতময়, আপনি সম্মানিত, আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই।” [৪৮] سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ ্তথা: আমি আপনার মর্যাদার সাথে উপযুক্ত এমন পবিত্রতা বর্ণনা করছি। [৪৯] وَبِحَمْدِكَ তথা: আপনার নিমিত্তেই প্রশংসা। وَتَبَارَكَ اسْمُكَ [৫০] তথা: আপনার যিকিরের মাধ্যমে বরকত অর্জিত হয়। وتعالى جدك :তথা আপনার সম্মান-মর্যদা উন্নীত হয়েছে। [৫১] ولا إله غيرك তথা: হে আল্লাহ! আপনি ছাড়া আসমান ও যমীনে সত্য কোনো [৫২] ইলাহ নেই। [৪৩] হাতের লেখা দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে «الثاني» উল্লেখ নেই। [৪৪] জামি‘আহর নুসখাতে রয়েছে: «الحديث» আর শাইখের কাছে পাঠ করা হযেছে: «حديث» আর প্রথম ও দ্বিতীয় নুসখাতে রয়েছে: والدليل من الحديث قوله -صلى الله عليه وسلم যার অর্থ: “আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস হতে দলীল:” [৪৫] «وتحليلها التسليم» হস্তলিখিত প্রথম নুসখাতে এটি নেই। আর দ্বিতীয় নুসখাতে রয়েছে: «يحرمها التكبير، ويحللها التسليم» “সালাতে (অন্য সব কিছু) হারাম করে তাকবীর, আর সেগুলো হালাল করে সালাম।” [৪৬] হাদীসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাত, বাব: ইমামের যখন শেষ রাকাতে সিজদার পরে অযু নষ্ট হয়ে যায়, হাদীস নং: ৬১৮। তার শব্দ হচ্ছে: আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সালাতের চাবি হচ্ছে পবিত্রতা। এর সূচনা (তাহরীম) হচ্ছে তাকবীর এবং এর সমাপ্তি (তাহলীল) হচ্ছে সালাম। তিরমিযী, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত ত্বাহারাত অধ্যায়ে, বাব: ত্বহারাত সালাতের চাবি হওয়া সংক্রান্ত যা কিছু এসেছে। হাদীস নং: ০৩। এবং তিনি বলেছেন: এটি হচ্ছে এই বিষয়ে বর্ণিত সবচেয়ে সহীহ হাদীস। ইবনু মাযাহ, কিতাব: ত্বহারাত এবং তার সুন্নাতসমূহ, বাব: পবিত্রতা হচ্ছে সালাতের চাবি। হাদীস নং: ২৭৫। শাফিঈ তার মুসনাদে: ১/৩৪। ইবনু আবী শাইবা, ১/২০৮; হাদীস নং ২৩৭৮। আহমাদ: ২/২৯২, হাদীস নং: ১০০৬। দারাকুতনী: ১/৩৬০। দ্বিয়া আল-মাকদিসী আল-মুখতারাহ গ্রন্থে: ২/৩৪১ এবং তিনি বলেছেন এর ইসনাদ হাসান, যা আলী রাদিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত। মুসনাদে আহমাদের মুহাক্কিকগণ এটিকে সহীহ লি-গাইরিহী বলেছেন, ২/২৯২। আর শায়খ আলবানী তার সহীহু আবী দাঊদ গ্রন্থে এর সানাদকে হাসান-সহীহ বলেছেন, ১/১০২, হাদীস নং: ৫৫। এবং হাফেজ ইবনু হাজার, হাকিম ও ইবনুস সাকানও অনুরূপই বলেছেন। আর ইমাম নববী এটাকে হাসান বলেছেন, যা আল-মাক্বদিসী তার আল-আহাদীসুল মুখতারাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। [৪৭] দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে:«قوله» [৪৮] হাদীসটি আবূ দাউদ বর্ণনা করেছেন, কিতাবুস সালাত, বাব: যে ব্যক্তি “সুবহানাকাল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা” এই দুআ দ্বারা সালাতের সূচনা করে, হাদীস নং: ৭৭৫। তিরমিযী, কিতাবুস সালাত, বাব: সালাতের সূচনাতে [মুসল্লী] যা বলবে, হাদীস নং: ২৪৩। ইবনু মাযাহ, কিতাব: সালাত, বাব: সালাতের সূচনা, হাদীস নং: ৮০৬, যা আয়িশাহ রদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। আল্লামাহ আলবানী সহীহু আবী দাঊদ গ্রন্থে ৩/৩৬১ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন, হাদীস নং: ৭৪৮।মুসলিম, কিতাবুস সালাত, বাব: যে বলে সালাতে বিসমিল্লাহ জোরে পড়তে হবে না তার প্রমাণ, হাদীস নং: ৩৯৯, যা উমার এর উপরে মাউক্বূফ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, যা এ রকম: আবদাহ উমার ইবনুল খত্ত্বাব হতে বর্ণনা করেন যে, তিনি এই কথাগুলো দ্বারা সালাত শুরু করতেন: «سُبْحَانَكَ اللهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، تَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ» যার অর্থ: “হে আল্লাহ! আপনার প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণা করি, আপনার নাম কতইনা বরকতময়, আপনি কতইনা সম্মানিত, আপনি ছাড়া সত্য কোনো ইলাহ নেই।” [৪৯] প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «بجلالك يا اللَّه» যার অর্থ: “হে আল্লাহ আপনার সম্মানের দ্বারা।” [৫০] দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «وتبارك اسمك، وتعالى جدك» যার অর্থ: “আপনার মর্যাদা উঁচু হয়েছে এবং আপনার অবস্থান মহিমান্বিত হয়েছে।” [৫১] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «وتعالى جدك» যার অর্থ: “আপনার মর্যাদা উঁচু হয়েছে।” [৫১] দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «حق» তথা الباء হরফ ব্যতিত।

আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। [৫৩] أَعُوذُ শব্দটির অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে পানাহ চাই, আশ্রয় চাই আর আপনাকেই আঁকড়ে ধরি [৫৪]: الرَّجِيمِ শব্দটির অর্থ: বিতাড়িত, আল্লাহর রহমত হতে বিদূরিত [৫৫], যে আমার দীন ও দুনিয়ার কোনো ক্ষতি করবে না।[৫৬] [৫৩] দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «أعوذ باللَّه من الشيطان الرجيم، المطرود، المبعد من رحمة اللَّه» যার অর্থ: “আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। যে বিতাড়িত ও আল্লাহর রহমত হতে বিদূরিত।” [৫৪] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «من هذا الشيطان» যার অর্থ: “এই শয়তান হতে।” [৫৫] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «المبعد عن رحمتك» যার অর্থ: “আপনার রহমত হতে বিদূরিত।” [৫৬] লেখকের কথা: «معنى أعوذ: ألوذ হতেে «في دنياي» পর্যন্ত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে নেই।

প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা একটি রুকন, হাদীসে যেমনটি এসেছে [৫৭]: “যে ব্যক্তি ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করবে না, তার সালাত নেই।” [৫৮], আর সেটি হল উম্মুল কুরআন। [৫৭] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে এবং জামি‘আহর প্রকাশনায় «كما في الحديث» রয়েছে। [৫৮]হাদীসটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব: ইমাম ও মুক্তাদির জন্য কিরআত আবশ্যক হওয়া, হাদীস নং: ৭৫৬। মুসলিম, কিতাবুস সালাত, বাব: প্রতি রাকাতে কিরআত ওয়াজিব হওয়া, যদি সে ফাতিহা সুন্দরভাবে পড়তে না পারে, এবং তার জন্য শিক্ষাও সম্ভব না হয়, তবে সে ফাতিহা ব্যতীত তার কাছে যা সহজ হয়, তাই পাঠ করবে, হাদীস নং: ৩৯৪।

﴿بسم الله الرحمن الرحيم﴾ [৫৯], হলো বরকত ও সাহায্য প্রার্থনা। [৫৯] কারীর নুসখা ও হস্তলিখিত প্রথম নুসখাতে রয়েছে: «بسم اللَّه الرحمن الرحيم» আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় নুসখাতে রয়েছে: «قوله: بسم اللَّه الرحمن الرحيم»

الحَمْدُ لله “সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্যই” الحَمْدُ শব্দটি প্রশংসা অর্থে। আলিফ ও লামটি সকল প্রকার প্রশংসিত বিষয়কে শামিল করার জন্য ব্যবহৃত। পক্ষান্তরে “الجميل” (সুন্দর) এমন বস্তু যাতে “الجمال” ও তার ন্যায় বিশেষণে বস্তুর নিজের কোনো কর্ম নেই। জামালের কারণে কাউকে প্রশংসা করাকে [৬০] “مدح” বলা হয়, “حمد” নয়। [৬০] «به» শব্দটি হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে নেই।

”رَبِّ العَالمَين” রব হলেন, যিনি [৬১]: মাবূদ, সৃষ্টিকর্তা, রিযিকদাতা [৬২], মালিক, কর্তৃত্বকারী এবং সমস্ত মাখলুককে নি‘আমাতের মাধ্যমে প্রতিপালনকারী [৬৩]। [৬১] «هو» শব্দটি হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে নেই। [৬২] «الخالق، الرازق» প্রথম ও দ্বিতীয় নুসখাতে নেই। [৬৩] প্রথম ও দ্বিতীয় নুসখাতে রয়েছে: «مربي جميع العالمين بالنعم» যার অর্থ: সমস্ত জগতকে নি‘আমাতের মাধ্যমে প্রতিপালনকারী।

العَالَمِينَ (বিশ্বজগত): আল্লাহ ছাড়া যা কিছু আছে, সবই عالم বা বিশ্বজগতের অন্তর্ভুক্ত। আর তিনি হচ্ছেন তাদের সকলের রব বা প্রতিপালনকারী।

الرَّحْمـَنِ “আর-রহমান”: সাধারণ রহমত, সমস্ত [৬৪] মাখলুকাতের জন্য। [৬৪] এটি জামি‘আহর প্রকাশনায় রয়েছে। আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «جميع المخلوقات» যার অর্থ: “সমস্ত মাখলূকাত”, অনুরূপ রয়েছে শাইখের কাছে পঠিত কারীর নুসখাতেও। তবে হস্তলিখিত প্রথম নুসখা বা পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «لجميع المخلوقات» যার অর্থ: সমস্ত মাখলূকাতের জন্য।

الرَّحِيمِ “আর-রহীম”: মুমিনদের জন্য বিশেষ রহমত। দলীল হচ্ছে, আল্লাহর বাণী: “আর তিনি মুমিনদের জন্যই রহীম বা দয়ালু।” [৬৫] [৬৫] সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৪৩।

مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ “বিচার দিনের মালিক”: হিসাব ও প্রতিদান দেওয়ার দিন। এমন দিন [৬৬] প্রত্যেকেই তার আমলের অনুপাতে প্রতিদান পাবে, যদি ভাল হয়, তবে ভাল, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ। দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “আর কিসে আপনাকে জানাবে : প্রতিদান দিবস কী?” “তারপর বলি, কিসে আপনাকে জানাবে : প্রতিদান দিবস কী?”[৬৭] “সেদিন কেউ কারও জন্য কিছু করার মালিক হবে না; আর সেদিন সব বিষয়ের কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর।” [৬৮] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীস হলো: “বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি যে নিজের নফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরবর্তী জীবনের জন্য কাজ করে। [৬৯] আর নির্বোধ ও অকর্মন্য সেই ব্যক্তি যে তার নফসের দাবির অনুসরণ করে এবং আল্লাহর নিকট বৃথা আশা করে।” [৭০] [৬৬] «يوم» শব্দটি হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে নেই। [৬৭] দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে পুরো আয়াতটির উল্লেখ নেই, শুধু «الآية» “আয়াত” শব্দটির উল্লেখ রয়েছে। [৬৮] সূরা আল-ইনফিতার, আয়াত: ১৭-১৯। [৬৯] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে পুরো হাদীসটির উল্লেখ নেই;বরং লিপিকার বলেছেন: “শেষ পর্যন্ত”। [৭০] তিরমিযী, কিতাবু সিফাতিল কিয়ামাহ ওয়ার রকাইক, বাব নং: ২৫, হাদীস নং: ২৪৫৯। ইবনু মাযাহ, কিতাবুয যুহদ, বাব: মৃত্যু ও তার প্রস্তুতি সংক্রান্ত অধ্যায়, হাদীস নং: ৪২৬০। আহমাদ মুসনাদ গ্রন্থে, ২৮/৩৫০, হাদীস নং: ১৭১২৩। হাকিম, ১/৫৭, এবং তিনি এটিকে সহীহ বলেছেন। শাদ্দাদ ইবনু আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিরমিযী তা হাসান বলেছেন, শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহ এটি দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন এবং তিনি তিরমিযীর হাসান বলাকে সমর্থন করেছেন, যখন তিনি তার মাজমু‘ঊল ফাতাওয়া গ্রন্থে [৮/২৮৫] বলেছেন: “এটি ইবনু মাযাহ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। আর তিনি তা হাসান হাদীস বলেছেন।

إِيَّاكَ نَعْبُدُ “আমরা আপনারই ইবাদাত করি”, তথা: আমরা আপনাকে ছাড়া কারো ইবাদাত করি না। এটি হচ্ছে বান্দা ও তার রবের মধ্যকার একটি চুক্তি, এ মর্মে যে: বান্দা আল্লাহকে ছাড়া কারো ইবাদাত করবে না। [৭১] [৭১] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «أن لا يعبد أحداً سواه» যার অর্থ: “সে তাকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত করবে না।” আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে আছে: «أن لا يستعين أحداً غيره» যার অর্থ: সে তাকে ছাড়া কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে না।”

وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ “আমরা আপনারই সাহায্য চাই”: এটিও হচ্ছে বান্দা ও তার রবের [৭২] মধ্যকার একটি চুক্তি, এ মর্মে যে, সে আল্লাহ ছাড়া কারো কাছে সাহায্য প্রার্থনা করবে না। [৭২] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে আছে: «عهد بين العبد وربه» “এমন একটি চুক্তি যা বান্দা ও তার রবের মধ্যে হয়ে থাকে।” আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে আছে: «عهد بين العبد وبين اللَّه أن لا يستعين أحداً غيره» “এমন একটি চুক্তি যা বান্দা ও আল্লাহর মধ্যে হয়ে থাকে এ মর্মে যে, সে তাঁর কাছে ছাড়া কারো কাছে সাহায্য চাইবে না।”

اهْدِنَا الصِّرَاطَ المُسْتَقِيمَ ”আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন।” اهْدِنَا অর্থ: আমাদেরকে দেখিয়ে দিন, পথ বাতলে দিন আর আমাদেরকে দৃঢ় রাখুন, [৭৩], الصِّرَاطُ হলো: ইসলাম, কেউ বলেন, রাসূল [৭৪], কেউ বলেন, কুরআন, আর সব অর্থই সঠিক। المُسْتَقِيَم: যাতে কোনো বক্রতা নেই। [৭৩] «اهدنا: دلنا، وأرشدنا، وثبتنا» অংশটি হস্তলিখিত দ্বিতীয় নুসখাতে (পাণউলিপিতে) নেই। [৭৪] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে «والصراط، قيل الرسول، وقيل الإسلام، وقيل القرآن».রয়েছে।

صِرَاطَ الذِّينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ “যাদের উপরে আপনি নি‘আমাত দান করেছেন, তাদের পথ” অর্থাৎ নি‘আমাতপ্রাপ্তদের পথ।” দলীল [৭৫] হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “আর যে আল্লাহ এবং রাসূলের আনুগত্য করবে সে নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মপরায়ণ, –যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন –তাদের সঙ্গী হবে এবং তারা কত উত্তম সঙ্গী।” [৭৬] [৭৫] লেখকের কথা:«والدليل – إلى قوله: غير المغضوب عليهم، و» অংশটুকু হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি হতে বাদ পড়েছে। [৭৬] সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৬৯।

غير المغضوب عليهم অর্থ: ‘যাদের উপরে গযব দেওয়া হয়নি।’: এরা হচ্ছে ইহুদী, তাদের কাছে ইলম বা জ্ঞান ছিল তবে তারা সে অনুযায়ী আমল করেনি। [৭৭] তুমি আল্লাহর কাছে তাদের পথ হতে দূরে রাখার জন্য প্রার্থনা করবে। [৭৭] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «ولا عملوا به» অর্থ: “এবং তারা সেটার উপরে আমল করেনি।”

وَلاَ الضَّالِّينَ অর্থ: “আর তারা পথভ্রষ্টও নয়।”: এরা হচ্ছে: খৃস্টান। যারা আল্লাহর ইবাদাত করেছে [৭৮] মূর্খতা ও ভ্রষ্টতার উপরে থেকে। তুমি আল্লাহর কাছে তাদের পথ হতে দূরে রাখার জন্য প্রার্থনা করবে। আর [তারা] পথভ্রষ্ট, এ কথার দলীল হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলার বাণী: قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالاً অর্থ: বল! আমি কি তোমাদেরকে আমলের দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লোকদের ব্যাপারে সংবাদ দেব না?” “ওরাই তারা, ‘পার্থিব জীবনে যাদের প্রচেষ্টা পণ্ড হয়েগেছে [৭৯], যদিও তারা মনে করে যে, তারা সৎকাজই করছে।[৮০]”[৮১] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হাদীস হলো [৮২]: “তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেদের রীতি-নীতির অনুসরণ করবে। যেমন এক পালক অন্য পালকের সমান হয়। এমনকি তারা যদি দব্ব (গুইসাঁপ সদৃশ প্রাণীর) গর্তে ঢুকে, তাহলে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এরা কি ইয়াহূদী ও খৃস্টান? তিনি বললেন, আর কারা?” ইমাম বুখারী ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন [৮৩]। [৭৮] اللَّه শব্দটি হস্তলিখিত দ্বিতীয় পান্ডুলিপি হতে বাদ পড়েছে। [৭৯] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পান্ডুলিলিতে রয়েছে:«اختصر فقال: «الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا» الآية. إلى قوله: «فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا». “তিনি সংক্ষেপ করেছেন আর বলেছেন: الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا আয়াতের অর্থ “যাদের প্রচেষ্টাসমূহ দুনিয়ার জীবনে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।” এখান থেকে আল্লাহর বাণী: فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا অর্থ: “সুতরাং তাদের জন্য কিয়ামত দিবসে আমরা কোনো ওযন কায়েম করব না।” এ পর্যন্ত। [৮০] সূরা আল-কাহফ: ১০৩-১০৪ আয়াতদ্বয়। [৮১] জামি‘আহর প্রকাশনা ও প্রথম পান্ডুলিলিতে অতিরিক্ত এসেছে: أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا “তারাই ঐ সব লোক, যারা তাদের রবের আয়াতসমূহ ও তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয়কে অস্বীকার করেছে। এর ফলে তাদের আমলসমূহ বাতিল হয়ে গেছে। সুতরাং তাদের জন্য কিয়ামত দিবসে আমরা কোনো ওযন কায়েম করব না।” [আল-কাহফ: ১০৫], শাইখের কাছে কারীর পঠন হতে এটি সাব্যস্ত করা হয়েছে। [৮২] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: «وفي الحديث عن النبي-صلى الله عليه وسلم- أنه قال» আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «وفي الحديث عنه -صلى الله عليه وسلم- » [৮৩] বুখারী, কিতাবুল ই‘তিসাম, বাব: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা: “তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের পথ অনুসরণ করবে।” হাদীস নং: ৭৩২০, এবং মুসলিম, কিতাবুল ইলম, বাব: ইহুদী এবং নাসারাদের আদর্শের অনুসরণ, হাদীস নং: ২৬৬৯। মুসলিমের শব্দাবলী হচ্ছে: আবূ সাঈদ আল-খুদরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, “তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করবে, বিঘতে বিঘতে এবং বাহুতে বাহুতে, এমনকি যদি তারা গুইসাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তবে তোমরাও সেখানে তাদের অনুসরণ করবে। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রসূল! ইহুদী এবং নাসারাদের? তিনি বললেন: তাহলে আবার কারা? আহমাদ: ১৮/৩২২, হাদীস নং: ১১৮০০, মুসনাদের মুহাক্কিকগণ তার সনদকে সহীহ বলেছেন, ১৮/৩২২, সিলসিলাতুল আহাদীস আস-সহীহা গ্রন্থে আলবানীও তা সহীহ বলেছেন, ৬/৯৯৯।

আর দ্বিতীয় হাদীস [৮৪]: “ইহুদীরা একাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হয়েছে, নাসারাগণ বাহাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হয়েছে আর অচিরেই এই উম্মাত তিহাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হবে। তাদের একটি ছাড়া সকলেই জাহান্নামী। আমরা বললাম: [মুক্তিপ্রাপ্তরা] তারা কারা হে [৮৫] আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: যারা আমি ও আমার সাহাবাগণ যার উপরে রয়েছি[৮৬] অনুরুপ বিষয়ের উপরে থাকবে।” [৮৭] [৮৪] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «الحديث الثاني» সেখানে واو অব্যয়টির উল্লখ নেই। [৮৫] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে:«قلنا: يا رسول اللَّه من هي» “আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা?” সেখানে [সম্বোধনটি] আগ-পিছ করে উল্লেখ হয়েছে। [৮৬] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «من كان مثل ما أنا عليه اليوم وأصحابي» “যারা আমি ও আমার সাহাবারা আজকে যে পথের উপরে রয়েছি ঠিক অনুরূপ পথের উপরে থাকবে।”, আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডলিপিতে রয়েছে:«من كان على مثل ما أنا عليه وأصحابي اليوم».“যারা আমি যার উপরে আজকে রয়েছি এবং আমার সাহাবারা যার উপরে রয়েছে অনুরূপ বিষয়ের উপরেই থাকবে।” [৮৭] ইবনু মাজাহ বর্ণনা করছেন, কিতাবুল ফিতান, বাব: উম্মাতের বিভক্তি, হাদীস নং: ৩৯৯২, তার শব্দ হলো: আউফ ইবনু মালিক হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ইহুদীরা একাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে একটি ফিরকা জান্নাতী আর সত্তর ফিরকা জাহান্নামী। খৃস্টানরা বাহাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে একত্তরটিই জাহান্নামী ও একটি মাত্র দল জান্নাতী। ঐ সত্তার কসম! যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, আমার উম্মাত অবশ্যই তিহাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হবে, যাদের মধ্যে বাহাত্তরটিই জাহান্নামী আর একটি মাত্র জান্নাতী।” বলা হল: “হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা?” তিনি বললেন: “আল-জামা‘আত” তথা আমার দল। তিরমিযীর বর্ণনাতে এই হাদীসের শাহেদ বা সমর্থক বর্ণনা রয়েছে, কিতাবুল ঈমান, বাব: এই উম্মাতের বিভক্তির ব্যাপারে যা কিছু এসেছে, হাদীস নং: ২৬৪১। তার শব্দ হলো: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “অবশ্যই বানী ইসরাঈলের কাছে যা এসেছে তা জুতার একটি সাথে অপরটির সমান হওয়ার ন্যায় আমার উম্মাতের উপরেও আসবে। এমনকি যদি তাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে যিনা করে, তবে আমার উম্মাতের মধ্যেও কেউ কেউ তা করবে। বানী ইসরাঈল বাহাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হয়েছিল, আমার উম্মাত তিহাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হবে, তাদের একটি ছাড়া সকলেই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তারা কারা? তিনি বলেলেন: আমি ও আমার সাহাবারা যার উপরে রয়েছি।” আর দ্বিতীয় আরেকটি শাহেদ রয়েছে আবূ দাঊদের বর্ণনাতে, যা আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, হাদীস নং: ৪৫৯৬, তার শব্দ হলো: “ইহুদীরা একাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হয়েছিল, নাসারা বা খ্রিষ্টানরা বাহাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হয়েছিল আর আমার উম্মাত তিহাত্তরটি ফিরকাতে বিভক্ত হবে।” আর এটি তিরমিযীর ২৬৪০ নং হাদীস, ইবনু মাযাহর ৩৯৯১ নং হাদীস। মিশকাতুল মাসাবীহে আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন, হাদীস নং: ১৭১ (দ্বিতীয় তাহকীক), এবং এছাড়াও আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ গ্রন্থের হাদীস নং: ১৩৪৮ এবং সহীহু ইবনু মাযাহ, হাদীস নং: ৩৯৮২।

এবং রুকু করা, রুকু হতে উঠা, সাতটি অঙ্গের উপরে সিজদা করা, তার থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, দুই সিজদার মাঝখানে বসা। দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা রুকু এবং সিজদা কর।” [৮৮] [৮৯] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীস হলো[৯০]: “সাতটি হাঁড়ের উপরে সিজদাহ করার জন্য আমাকে আদেশ করা হয়েছে।”[৯১] [৯২] প্রশান্ত থাকা [৯৩] প্রতিটি কাজে [৯৪] আর রুকনগুলো ধারাবাহিকভাবে আঞ্জাম দেয়া। দলীল হচ্ছে আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত সালাতে ভুল করা ব্যক্তির হাদীস, তিনি বলেছেন: “একদা আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বসা ছিলাম, তখন একটি লোক প্রবেশ করল [৯৫], এরপরে সে সালাত আদায় করল, [এরপরে সে দাঁড়ালো] [৯৬], তারপরে সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সালাম দিল, তখন তিনি বললেন [৯৭]: “তুমি যাও সালাত আদায় কর কারণ, তুমি সালাত আদায় করোনি।” সে তা তিনবার করলেন, এরপরে বলল: ঐ সত্তার কাসম! যিনি আপনাকে সত্য দীনসহ নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন, আমি এর থেকে[৯৯] আর সুন্দর করে সালাত আদায় করতে পারি না। তাই আমাকে শিক্ষা দিন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন [১০০]: “যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে, তখন তাকবীর বলবে। অতঃপর কুরআন হতে যা তোমার পক্ষে সহজ তা পড়বে। অতঃপর রুকু‘তে যাবে এবং ধীরস্থিরভাবে রুকূ‘ করবে। অতঃপর ওঠবে ও স্থিরভাবে দাঁড়াবে। অতঃপর সাজদাহ করবে ও সাজদাতে স্থির হবে। অতঃপর ওঠবে ও স্থির হয়ে বসবে। আর তোমার পুরো সলাতে তা বাস্তবায়ন করবে।” [১০২] আর শেষ তাশাহহুদ একটি অত্যাবশ্যক রুকন [১০৩], যেমনটি ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেছেন: আমাদের উপরে তাশাহহুদ ফরয হওয়ার আগে আমরা বলতাম: আল্লাহর উপরে তাঁর বান্দাদের পক্ষ হতে সালাম বর্ষিত হোক! জিবরীলের উপরে ও মিকাইলের উপরে সালাম বর্ষিত হোক! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন [১০৪]: “তোমরা বলবে না: আল্লাহর উপরে [১০৫] তাঁর বান্দাদের পক্ষ হতে সালাম বর্ষিত হোক! কেননা আল্লাহ তা‘আলা নিজেই সালাম [১০৬], বরং তোমরা বলবে: التَّحِيَّاتُ لله وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ الله الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَن لاَ إِلَهَ إِلاَّ الله، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورَسُولُهُ» অর্থ: ‘‘সমস্ত সন্মান-মর্যাদা[১০৭], সালাত এবং ভাল কাজ আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের প্রতি। আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোনো মাবূদ নাই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’’ [১০৮] التَّحِيَّاتُ অর্থ হলো: সকল ধরণের সন্মান আল্লাহর জন্যই [১০৯], মালিকানা ও উপযুক্ততার দিক থেকে, যেমন: বিনত হওয়া, রুকু করা [১১০], সিজদা করা, অবস্থান করা, ধারাবাহিকতা এবং সমস্ত [১১১] এমন কিছু যা দ্বারা বিশ্ব প্রতিপালক রবকে সম্মান করা হয়, তাঁর সকলটুকুই আল্লাহর জন্যে। যে এগুলো থেকে কোনো কিছু আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো জন্য বরাদ্দ করবে, সে মুশরিক ও কাফির [১১২], وَالصَّلَوَاتُ অর্থ: সমস্ত দো‘আ। কেউ বলেছেন: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। وَالطَّيِّبَاتُ لله [১১৩] আল্লাহ পবিত্র, আর তিনি কথা ও কাজের মধ্য হতে যা ভালো ও পবিত্র তা ছাড়া অন্য কিছুই গ্রহণ করেন না [১১৪]। السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيّ وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكَاتُهُ: তুমি এটা দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সালাম, রহমত [১১৫] ও বরকতের [১১৬] দু‘আ করবে। আর যার জন্য দু‘আ করা হবে, তাকে আল্লাহর সাথে ডাকা যাবে না। السَّلاَمُ[117] عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ الله الصَّالِحِينَ: তুমি তোমার জন্য সালামের দু‘আ করবে এবং আসমান [১১৮] ও যমীনের সকল নেককার বান্দাদের জন্য। সালাম হচ্ছে একটি দু‘আ, আর নেককারদের জন্য দু‘আ করা হয়, আর তাই তাদেরকে আল্লাহর সাথে আহবান করা যাবে না। أَشْهَدُ أَن لاَ إِلَهَ إِلاَّ الله وَحْدَهُ[119] لاَ شَرِيكَ لَهُ[120 আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ এক [১১৯], তিনি ব্যতীত আর কোনো মাবূদ নাই, তাঁর কোনো শরীকও নেই [১২০]: তুমি সাক্ষ্য প্রদান করবে, দৃঢ়তার সাথে যে, আসমানে এবং যমীনে [১২১] আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারভাবে অন্য কোনো মাবূদের ইবাদাত করা যাবে না। এবং এটারও সাক্ষ্য প্রদান করা যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর রসূল, সেটা এভাবে যে, [১২২] তিনি একজন বান্দা, তাই তার ইবাদাত করা যাবে না, তিনি একজন রসূল, যাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা যাবে না, বরং তার অনুগত হতে হবে এবং অনুসরণ করতে হবে। আল্লাহ তাকে [তাঁর] বান্দা হওয়ার মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। দলীল হচ্ছে আল্লাহর বাণী: “তিনি বরকতময় যিনি তাঁর বান্দার উপর [১২৩] ফুরকান নাযিল করেছেন যেন সে জগতবাসীর জন্য সতর্ককারী হতে পারে।[১২৪] اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وعلى آل إبراهيم إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ [অর্থ:] “হে আল্লাহ আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপর [১২৫] সালাত বর্ষণ করুন! যেমন আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের [১২৬] উপরে সালাত বর্ষণ করেছিলেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও মর্যাদাবান [১২৭]। আল্লাহর পক্ষ হতে সালাত হচ্ছে: কোনো বান্দার ব্যাপারে ফেরেশতাদের কাছে তাঁর প্রশংসা [১২৮], যেমনটি বুখারী রহিমাহুল্লাহ তার সহীহ গ্রন্থে আবুল আলিয়াহ হতে বর্ণনা করেছেন: তিনি বলেছেন, আল্লাহর সালাত হচ্ছে: কোনো বান্দার ব্যাপারে ফেরেশতাদের কাছে তাঁর প্রশংসা [১২৯] [১৩০], কেউ বলেছেন, রহমত, তবে প্রথম মতটিই সঠিক। আর ফেরেশতাদের পক্ষ হতে সালাত হচ্ছে: গোনাহ মাফের দু‘আ করা, আর মানুষের পক্ষ হতে সালাত হচ্ছে: দু‘আ। আর وَبَارِكْ ও তার পরবর্তী অংশ হচ্ছে [১৩১] কথা ও কাজের সুন্নাহসমূহ। [৯১] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: على سبعة الأعظم“সাতটি হাড়ের উপরে।” [১০৭] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে«والصلوات، والطيبات إلى قوله: «وأن محمداً عبده ورسوله» “এবং সালাতসমূহ ও ভালকাজসমূহ” এখান থেকে “এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রসূল।” এ পর্যন্ত বাদ পড়েছে। [৮৮] সূরা হজ্জ, আয়াত: ৭৭। [৮৯] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে বাড়তি বর্ণনা হিসেবে এসেছে: “তোমরা তোমাদের রবের ইবাদাত কর আর ভাল কাজ কর, আশা করা যায় যে, তোমরা সফলকাম হবে।” [৯০] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে আছে: «وفي الحديث عنه صلى الله عليه وسلم-». [৯২] বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব: সাতটি হাড়ের উপরে সিজদা করা, হাদীস নং: ৮১০। মুসলিম, কিতাবুস সালাত, বাব: সিজদার অঙ্গসমূহ এবং সালাতের মধ্যে চুল, কাপড় ও মাথার বেণী ধরা হতে নিষেধাজ্ঞা, হাদীস নং: ৪৯০, তার শব্দ: ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমাদেরকে আদেশ দেওয়া হয়েছে যেন আমরা সাতটি হাড়ের উপরে সিজদা করি, আর চুল ও কাপড়কে আটকে না রাখি।” [৯৩] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: «والترتيب كل ركن قبل الآخر، والطمأنينة في جميع الأركان» “অন্য একটি রুকনের আগেই আগেরটির তারতীব ঠিক রাখা, আর প্রতিটি রুকনই প্রশান্তচিত্তে আদায় করা।” আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে আছে: «والترتيب بين الأركان كل ركن قبل الآخر، والطمأنينة في جميع الأركان» রুকনসমূহের মধ্যে অন্যটির আগে প্রথমটি আদায় করা আর প্রতিটি রুকনই প্রশান্তচিত্তে আদায় করা।” [৯৪] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে এসেছে:«والطمأنينة في جميع الأركان» “আর প্রতিটি রুকনই প্রশান্তচিত্তে আদায় করা।” [৯৫] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: «إذ دخل علينا رجل فصلى» “তখন আমাদের কাছে একজন লোক প্রবেশ করল আর সালাত আদায় করল।” [৯৬] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত এসেছে এবং জামি‘আহর সংস্করণেও তা রয়েছে:«فقام» “এরপরে সে দাড়ালো।” কিন্তু তা কারীর পাণ্ডুলিপিতে ছিল না। [৯৭] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে এসেছে:«فقال له النبي -صلى الله عليه وسلم- صلِّ فإنك لم تصلِّ» “অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: সালাত আদায় কর; কেননা তুমি তা আদায় করনি।” আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে এসেছে:«فقال له النبي -صلى الله عليه وسلم- : «ارجع فصلِّ فإنك لم تصل» “ফিরে যাও আর সালাত আদায় কর; কেননা তুমি সালাত আদায় করনি।” [৯৮] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে এসেছে:«فقال: والذي بعثك بالحق» “তখন ঐ ব্যক্তি বলল: যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তার কসম!” [৯৯] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: «... لا أحسن غيرَهُ» “... আমি এর থেকে ভাল করে আদায় করতে পারি না।” [১০০] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে এসেছে:«قال: إذا قمت إلى الصلاة» “তিনি বললেন: যখন তুমি সালাতে দাড়াবে।” আর দ্বিতীয় নুসখাতে এসেছে:«فقال النبي -صلى الله عليه وسلم- : إذا قمت إلى الصلاة...» “তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যখন তুমি সালাতে দাড়াবে।” [১০১] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে আছে: «تطمئن قائماً» “প্রশান্তচিত্তে দন্ডায়মান হবে।” [১০২] বুখারী, হাদীস নং: ৬২৫১, আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। মুসলিম, হাদীস নং: ৩৯৭, তাখরীজটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। [১০৩]«مفروض» (অত্যাবশ্যক) শব্দটি প্রথম হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে নেই। দ্বিতীয়টিতেও নেই। [১০৪] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে আছে: «فقال -صلى الله عليه وسلم- »“তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।” [১০৫] জামি‘আহর প্রকাশনায় রয়েছে: «عن عباده» “তাঁর বান্দাদের থেকে”, হতে পারে এটি প্রকাশনাগত ত্রুটি। [১০৬] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: «لا تقولوا: السلام على اللَّه من عباده ولكن قولوا: التحيات للَّه»“তোমরা বলবে না: আল্লাহর উপরে তাঁর বান্দাদের পক্ষ হতে সালাম। বরং তোমরা বলবে: সমস্ত সন্মান-মর্যাদা আল্লাহর জন্যই।” [১০৮] বুখারী, কিতাবুল আযান, বাব: তাশাহহুদের পরে যে দু‘আর অবকাশ দেওয়া হয়েছে আর সেটা আবশ্যকও নয়, হাদীস নং: ৮৩৫। তাঁর শব্দ : আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেছেন: আমরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সালাতে থাকতাম, তখন বলতাম: আল্লাহর উপরে তাঁর বান্দাদের পক্ষ হতে সালাম বর্ষিত হোক! অমুকের উপরে, অমুকের উপরে সালাম বর্ষিত হোক! তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা এরূপ বলবে না: আল্লাহর উপরে তাঁর বান্দাদের পক্ষ হতে সালাম বর্ষিত হোক! কেননা আল্লাহ তা‘আলা নিজেই সালাম, বরং তোমরা বলবে: التَّحِيَّاتُ لله وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِبَاتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكَاتُهُ، السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ الله الصَّالِحِينَ، অর্থ: ‘‘সমস্ত সন্মান-মর্যাদা, সালাত এবং ভাল কাজ আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের প্রতি। তোমরা যখনই তা বলবে তখনই তা আসমান বা আসমান ও যমীনের মধ্যে আল্লাহর প্রত্যেক বান্দার নিকট তা পৌঁছে যাবে। [এরপরে বলবে:] أَشْهَدُ أَن لاَ إِلَهَ إِلاَّ الله، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورَسُولُهُ “আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোনো মাবূদ নাই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’’ এরপরে তোমাদের যার কাছে যে দু‘আ পছন্দ সে তাই দু‘আ করবে।” মুসলিম, কিতাবুস সালাত, বাব: সালাতে তাশাহহুদ পাঠ করা, হাদীস নং: ৪০২, তাঁর শব্দ হলো: আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা যখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পিছনে সালাত আদায়রত থাকতাম, তখন বলতাম: আল্লাহর উপরে হতে সালাম বর্ষিত হোক! অমুকের উপরে সালাম বর্ষিত হোক! এমনি একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বললেন: “নিশ্চয় আল্লাহই হচ্ছেন সালাম। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন সালাতের মধ্যে বৈঠক করে, সে যেন বলে: التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَوَاتُ، وَالطَّيِّبَاتُ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ অর্থ: ‘‘সমস্ত সন্মান-মর্যাদা, সালাত এবং ভাল কাজ আল্লাহর জন্য। হে নবী! আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাগণের প্রতি। তোমরা যখনই তা বলবে তখনই তা আসমান বা আসমান ও যমীনের মধ্যে আল্লাহর প্রত্যেক বান্দার নিকট তা পৌঁছে যাবে। [এরপরে বলবে:] أَشْهَدُ أَن لاَ إِلَهَ إِلاَّ الله، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ ورَسُولُهُ “আমি সাক্ষ্য প্রদান করছি যে, আল্লাহ্ ব্যতীত সত্য কোনো মাবূদ নাই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।’’ এরপরে তার যা ইচ্ছা সে চাইবে।” [১০৯] (لله) শব্দটি প্রথম হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে নেই। দ্বিতীয়টিতেও নেই। [110] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «والخضوع والركوع والسجود» অর্থ: “খুদূ বা বিনয়াবনত হওয়া, রুকু করা ও সিজদা করা।” [১১১] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «كل جميع ما يعظم به رب العالمين». “প্রত্যেক এমন জিনিস যার মাধ্যমে রাব্বুল আলামীন বা বিশ্ব প্রতিপালকের প্রশংসা করা হয়।” [১১২] «كافر» (কাফির) শব্দটি প্রথম হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে নেই। দ্বিতীয়টিতেও নেই। [১১৩] «للَّه» (আল্লাহর জন্যই) শব্দটি প্রথম হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপিতে নেই। দ্বিতীয়টিতেও নেই। [১১৪] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «من الأعمال والأقوال إلا أطيبها» অর্থ: “আমল ও কথার মধ্য হতে যা সবচেয়ে ভাল বা পবিত্র, তা ছাড়া।” আর দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: «من الأعمال والأقوال والأفعال إلا طيبها» অর্থ : “আমল, কথা ও কাজের মধ্য হতে যা ভাল বা পবিত্র, তা ছাড়া “ [১১৫] «الرحمة» শব্দটি প্রথম পাণ্ডুলিপিতে উল্লেখ নেই। [১১৬] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে আছে: «ورفع الدرجات»“এবং মর্যাদাসমূহ উঁচু হওয়ার” আর দ্বিতীয়টিতে আছে: «ورفع الدرجة»“মর্যাদা উঁচু হওয়ার”, ‘বরকত’ শব্দের ওপরে অতিরিক্ত হিসেবে। [১১৭] জামি‘আহর পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: «والسلام علينا» “এবং আমাদের উপরে সালাম বর্ষিত হোক!” অর্থ্যাৎ: ‘এবং’ শব্দ যোগে। [১১৮] প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে আছে:«من أهل السماء والأرض». “আসমান ও যমীনের অধিবাসীদের পক্ষ হতে।” [১১৯] «وحده لا شريك له» “আল্লাহ একক, যার কোনো শরীক নেই” এটি প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে নেই। [১২০] জামি‘আহর প্রকাশনাসহ প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত আছে:«وأشهد أن محمداً عبده رسوله».“আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।” [১২১] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «أن لا يعبد في السماء، ولا في الأرض»“আসমানে কেউ ইবাদাতপ্রাপ্ত বা মা‘বূদ নেই, আর না যমীনে।” আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: «أن لا يعبد في السماء والأرض»“আসমান ও যমীনে কেউ ইবাদাতপ্রাপ্ত বা মা‘বূদ নেই।” [১২২] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে আছে: «وشهادة أن محمداً عبده، ورسوله عبد لا يعبد». “এবং এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা এবং রসূল, এমন বান্দা যার ইবাদাত করা যায় না। [১২৩] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে আয়াতটিকে পুরো উল্লেখ করা হয়নি, বরং তিনি বলেছেন: «تبارك الذي نزل الفرقان على عبده»“কত বরকতময় তিনি! যিনি তাঁর বান্দার উপর ফুরকান নাযিল করেছেন।” [১২৪] সূরা আল-ফুরক্বান, আয়াত: ১০। [১২৫] وعلى آل محمد ‘মুহাম্মাদের পরিবারের উপরে’ অংশটুকু কারীর পাণ্ডুলিপিতে ছিল না, তবে জামি‘আহর প্রকাশনায় এবং প্রথম ও দ্বিতীয় ণ্ডুলিপিতে এটি রয়েছে। [১২৬] প্রথম পাণ্ডুলিপিতে এসেছে: «كما صليت على آل إبراهيم» “যেমন আপনি ইবরাহীমের পরিবারের উপরে সালাত বর্ষণ করেছিলেন।” আর দ্বিতীয়টিতে এসেছে:«كما صليت على إبراهيم، وعلى آل إبراهيم» “যেমন আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের [১২৬] উপরে সালাত বর্ষণ করেছিলেন।” আর কারীর পাণ্ডুলিপিতে এবং জামি‘আহর প্রকাশনায় রয়েছে: «كما صليت على إبراهيم» যেমন আপনি ইবরাহীমের পরিবারের উপরে সালাত বর্ষণ করেছিলেন।” [১২৭] বুখারী, কিতাবু আহাদীছিল আম্বিয়া, বাব: ১০, হাদীস নং: ৩৩৭০, মুসলিম, কিতাবুস সালাত, বাব: তাশাহহুদের পরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরে সালাত (দরুদ) পাঠ করা, হাদীস নং: ৪০৬। তাঁর শব্দ হলো: “কা‘ব ইবন উজরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনাদের তথা আহলে বাইতের উপরে কিভাবে সালাত পাঠ করতে হবে? যেহেতু আল্লাহ আমাদেরকে শিখিয়েছেন, কিভাবে আমরা আপনাদের উপরে সালাম দেব? তিনি বললেন: তোমরা বলবে: اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ “হে আল্লাহ আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপরে সালাত বর্ষণ করুন! যেমন আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের উপরে সালাত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও মর্যাদাবান। হে আল্লাহ আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের উপরে বরকত দান করুন! যেমন আপনি ইবরাহীম ও ইবরাহীমের পরিবারের উপরে বরকত দান করেছেন। নিশ্চয় আপনি প্রশংসিত ও মর্যাদাবান।” [১২৮] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «ثناءٌ على عبده في الملأ الأعلى» “ফেরেশতাদের কাছে তাঁর বান্দার ব্যাপারে প্রশংসা।” আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি ও জামি‘আহর প্রকাশনায় আছে: «ثناؤه على عبده» “তাঁর বান্দার উপর তাঁর প্রশংসা।” [১২৯] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «عن أبي العالية: ثناء اللَّه على عبده في الملأ الأعلى» “আবুল আলিয়াহ হতে বর্ণিত: ফেরেশতাদের কাছে বান্দার ব্যাপারে আল্লাহর প্রশংসা।” [১৩০] বুখারী, কিতাবুত তাফসীর, বাব: আল্লাহর বাণী:﴿إِنَّ اللَّهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا﴾ “নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রশংসা করেন এবং তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর জন্য দু‘আ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও নবীর উপর সালাত পাঠ কর এবং তাকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।” ৪৭৯৭ নাম্বারের আগে, যার শব্দ হলো: «قَالَ أَبُو العَالِيَةِ: «صَلاَةُ اللَّهِ: ثَنَاؤُهُ عَلَيْهِ عِنْدَ المَلاَئِكَةِ، وَصَلاَةُ المَلاَئِكَةِ الدُّعَاءُ»“আবুল আলিয়াহ বলেন: আল্লাহর সালাত: ফেরেশতাদের কাছে তাঁর প্রশংসা করা, আর ফেরেশতাদের সালাত হচ্ছে: দু‘আ।” [১৩১] হস্তলিখিত প্রথম পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে:«وما بعدها من الدعاء» “এর পরবর্তী যে দু‘আ রয়েছে।”

(সালাতের) ওয়াাজিব আটটি: তাকবীরে তাহরীমা বাদে অন্য সকল তাকবীর, রুকুতে سُبْحَانَ رَبِيَ العَظِيمِ বলা, (অর্থ: আমার সুমহান রবের পবিত্রতা ঘোাষণা করছি।) ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য سَمِعَ الله لِمَنْ َحِمدَهُ বলা, (অর্থ: যে আল্লাহর প্রশংসা করেছে, তার প্রশংসা আল্লাহ শুনেছেন।) সবার জন্যই رَبَنَا وَلَكَ الحَمْدُ বলা, (অর্থ: হে আমাদের রব! প্রশংসা আপনারই।) সিজদাতে سُبْحَانَ رَبِيَ الأَعْلَى বলা, (অর্থ: আমার সুউচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোাষণা করছি।) দুই সিজদার মাঝখানে رَبِّ اغْفِرْ لِي বলা, (অর্থ: হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন!) প্রথম তাশাহহুদ পাঠ করা এবং তার জন্যে প্রথম বৈঠক করা।

আর রুকনসমূহ [১৩২] হচ্ছে এমন: যার থেকে ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃত কোনো কিছু ছুটে গেলে সালাত বাতিল হয়ে যায়। আর ওয়াজিব হচ্ছে এমন: যার থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ছুটে গেলে সালাত বাতিল হয়ে যায়, আর ভুলক্রমে হলে সাহু সিজদা তার ক্ষতিপূরণ করবে[১৩৩]। আল্লাহই অধিক জ্ঞাত। [আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর, তার পরিবার ও তার সাহাবীদের উপর আল্লাহর অসংখ্য সালাত ও সালাম নাযিল হোক।] [১৩৪] [১৩২] হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «والأركان» “রুকনসমূহ।” [১৩৩] হস্তলিখিত প্রথম ও দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপির মূলপাঠ হচ্ছে: «والواجبات ما سقط منها سهواً، جبره سجود السهو، وعمداً بطلت الصلاة» “ওয়াজিব হচ্ছে যা ভুলক্রমে ছুটে গেলে সাহু সিজদা আবশ্যক হয়, আর ইচ্ছাকৃত হলে সালাত বাতিল হয়ে যায়।” আর হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে বেশী আছে: «بتركه»“তা ত্যাগ করার দ্বারা”। [১৩৪] বন্ধনীর মধ্যে উল্লেখিত অংশটুকু হস্তলিখিত দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপিতে বাড়তি বর্ণনা হিসেবে রয়েছে।